01
🎯 Level 1
"০১. ইতিহাসের উৎস নয় কোনটি? (বেরোবি: ১২–১৩ / বিআরডিবি’র মোটরযান পরিদর্শক: ১৭)"
✅ সঠিক উত্তর:ক. পাঠ্যবই
ব্যাখ্যা:
"উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: পাঠ্যবই — সাধারণত ইতিহাসের গৌণ উৎস (Secondary Source)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ইতিহাস (History) হলো অতীতের মানবসমাজ, সভ্যতা, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, যুদ্ধ, শাসনব্যবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে প্রমাণভিত্তিক আলোচনা।
❖ ইতিহাস রচনার জন্য যেসব তথ্য ও প্রমাণ ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে ইতিহাসের উপাদান বা ঐতিহাসিক উৎস (Historical Sources) বলা হয়।
❖ ইতিহাসের উৎস প্রধানত দুই ধরনের—প্রাথমিক উৎস (Primary Source) এবং গৌণ উৎস (Secondary Source)।
❖ মুদ্রা, শিলালিপি ও সমসাময়িক মূল দলিল প্রাচীন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস। অন্যদিকে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সংকলন করে রচিত পাঠ্যবই সাধারণত গৌণ উৎস।
❖ পাঠ্যবই সম্পূর্ণভাবে ইতিহাসের উৎসের বাইরে নয়। তাই প্রশ্নটির আরও নির্ভুল ভাষা হবে—‘নিচের কোনটি ইতিহাসের প্রাথমিক উৎস নয়?’ প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে উত্তর পাঠ্যবই।
◉ ১. মুদ্রা ও মুদ্রাবিজ্ঞান (Numismatics)
❖ মুদ্রা অতীতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রাচীন মুদ্রা থেকে শাসক, রাজবংশ, অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং ধর্মীয় প্রতীক সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
❖ মুদ্রার ওপর কখনো শাসকের নাম, উপাধি, প্রতিকৃতি, রাজবংশের প্রতীক, মুদ্রা তৈরির সময় এবং প্রচলিত ভাষা ও লিপি উৎকীর্ণ থাকত।
❖ মুদ্রার গঠন, প্রচলন, ধাতু, মূল্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে গবেষণাকে মুদ্রাবিজ্ঞান (Numismatics) বলা হয়।
❖ প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে বিভিন্ন যুগের ছাপাঙ্কিত মুদ্রা (Punch-marked Coins), গুপ্তযুগের মুদ্রা, সুলতানি মুদ্রা ও মুঘল মুদ্রা গুরুত্বপূর্ণ।
◉ ২. শিলালিপি ও লিপিবিদ্যা (Epigraphy)
❖ পাথর বা অন্য স্থায়ী উপাদানে উৎকীর্ণ লেখাকে শিলালিপি (Inscription) বলে। শিলালিপি পাঠ ও গবেষণার শাস্ত্র হলো লিপিবিদ্যা (Epigraphy)।
❖ মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রাচীন লিখিত প্রত্ননিদর্শন। এটি বগুড়ার মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত এবং সাধারণত খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের বলে বিবেচিত।
❖ শিলালিপিটি প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস বোঝার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
❖ দেওপাড়া প্রশস্তি সেনরাজ বিজয়সেনের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শিলালিপি। এটি সেন যুগের রাজকীয় বংশপরিচয় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দেয়।
◉ ৩. তাম্রশাসন ও ঐতিহাসিক দলিল
❖ প্রাচীনকালে রাজারা ভূমিদান, করমুক্তি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অনুদান এবং প্রশাসনিক আদেশ সংরক্ষণের জন্য তামার ফলকে নির্দেশ উৎকীর্ণ করতেন। এগুলো তাম্রশাসন (Copperplate Charter) নামে পরিচিত।
❖ দামোদরপুর তাম্রশাসন গুপ্তযুগের প্রশাসন, ভূমিব্যবস্থা ও রাজস্বসংক্রান্ত ইতিহাসের মূল্যবান উৎস।
❖ খালিমপুর তাম্রশাসন পালরাজ ধর্মপালের শাসনকাল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে।
❖ পুরোনো চিঠিপত্র, চুক্তি, আদালতের নথি ও সরকারি রেকর্ডও ঐতিহাসিক গবেষণার মূল দলিল হতে পারে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ইতিহাসের প্রাথমিক উৎস — সমসাময়িক বা প্রত্যক্ষ প্রমাণবাহী উপাদান।
➤ ইতিহাসের গৌণ উৎস — প্রাথমিক উপাদান বিশ্লেষণ করে রচিত ইতিহাসগ্রন্থ ও গবেষণা।
➤ পাঠ্যবই — সাধারণভাবে ইতিহাসের গৌণ উৎস।
➤ Numismatics — মুদ্রাবিজ্ঞান।
➤ Epigraphy — লিপিবিদ্যা।
➤ Archaeology — প্রত্নতত্ত্ব।
➤ Palaeography — প্রাচীন হস্তলিপি ও লিপির বিকাশসংক্রান্ত অধ্যয়ন।
➤ Inscription — উৎকীর্ণ লিপি বা শিলালিপি।
➤ Copperplate Charter — তাম্রশাসন।
➤ মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি — প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রাচীন লিখিত নিদর্শন।
➤ মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপির আনুমানিক সময় — খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক।
➤ মহাস্থানগড়ের অবস্থান — শিবগঞ্জ উপজেলা, বগুড়া।
➤ দেওপাড়া প্রশস্তি — বিজয়সেনের ইতিহাসসংক্রান্ত শিলালিপি।
➤ খালিমপুর তাম্রশাসন — ধর্মপালের ইতিহাসের উৎস।
➤ দামোদরপুর তাম্রশাসন — গুপ্তযুগের ভূমি ও প্রশাসনিক ইতিহাসের উৎস।"
◈ সঠিক উত্তর: পাঠ্যবই — সাধারণত ইতিহাসের গৌণ উৎস (Secondary Source)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ইতিহাস (History) হলো অতীতের মানবসমাজ, সভ্যতা, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, যুদ্ধ, শাসনব্যবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে প্রমাণভিত্তিক আলোচনা।
❖ ইতিহাস রচনার জন্য যেসব তথ্য ও প্রমাণ ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে ইতিহাসের উপাদান বা ঐতিহাসিক উৎস (Historical Sources) বলা হয়।
❖ ইতিহাসের উৎস প্রধানত দুই ধরনের—প্রাথমিক উৎস (Primary Source) এবং গৌণ উৎস (Secondary Source)।
❖ মুদ্রা, শিলালিপি ও সমসাময়িক মূল দলিল প্রাচীন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস। অন্যদিকে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সংকলন করে রচিত পাঠ্যবই সাধারণত গৌণ উৎস।
❖ পাঠ্যবই সম্পূর্ণভাবে ইতিহাসের উৎসের বাইরে নয়। তাই প্রশ্নটির আরও নির্ভুল ভাষা হবে—‘নিচের কোনটি ইতিহাসের প্রাথমিক উৎস নয়?’ প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে উত্তর পাঠ্যবই।
◉ ১. মুদ্রা ও মুদ্রাবিজ্ঞান (Numismatics)
❖ মুদ্রা অতীতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রাচীন মুদ্রা থেকে শাসক, রাজবংশ, অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং ধর্মীয় প্রতীক সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
❖ মুদ্রার ওপর কখনো শাসকের নাম, উপাধি, প্রতিকৃতি, রাজবংশের প্রতীক, মুদ্রা তৈরির সময় এবং প্রচলিত ভাষা ও লিপি উৎকীর্ণ থাকত।
❖ মুদ্রার গঠন, প্রচলন, ধাতু, মূল্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে গবেষণাকে মুদ্রাবিজ্ঞান (Numismatics) বলা হয়।
❖ প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে বিভিন্ন যুগের ছাপাঙ্কিত মুদ্রা (Punch-marked Coins), গুপ্তযুগের মুদ্রা, সুলতানি মুদ্রা ও মুঘল মুদ্রা গুরুত্বপূর্ণ।
◉ ২. শিলালিপি ও লিপিবিদ্যা (Epigraphy)
❖ পাথর বা অন্য স্থায়ী উপাদানে উৎকীর্ণ লেখাকে শিলালিপি (Inscription) বলে। শিলালিপি পাঠ ও গবেষণার শাস্ত্র হলো লিপিবিদ্যা (Epigraphy)।
❖ মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রাচীন লিখিত প্রত্ননিদর্শন। এটি বগুড়ার মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত এবং সাধারণত খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের বলে বিবেচিত।
❖ শিলালিপিটি প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস বোঝার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
❖ দেওপাড়া প্রশস্তি সেনরাজ বিজয়সেনের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শিলালিপি। এটি সেন যুগের রাজকীয় বংশপরিচয় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দেয়।
◉ ৩. তাম্রশাসন ও ঐতিহাসিক দলিল
❖ প্রাচীনকালে রাজারা ভূমিদান, করমুক্তি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অনুদান এবং প্রশাসনিক আদেশ সংরক্ষণের জন্য তামার ফলকে নির্দেশ উৎকীর্ণ করতেন। এগুলো তাম্রশাসন (Copperplate Charter) নামে পরিচিত।
❖ দামোদরপুর তাম্রশাসন গুপ্তযুগের প্রশাসন, ভূমিব্যবস্থা ও রাজস্বসংক্রান্ত ইতিহাসের মূল্যবান উৎস।
❖ খালিমপুর তাম্রশাসন পালরাজ ধর্মপালের শাসনকাল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে।
❖ পুরোনো চিঠিপত্র, চুক্তি, আদালতের নথি ও সরকারি রেকর্ডও ঐতিহাসিক গবেষণার মূল দলিল হতে পারে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ইতিহাসের প্রাথমিক উৎস — সমসাময়িক বা প্রত্যক্ষ প্রমাণবাহী উপাদান।
➤ ইতিহাসের গৌণ উৎস — প্রাথমিক উপাদান বিশ্লেষণ করে রচিত ইতিহাসগ্রন্থ ও গবেষণা।
➤ পাঠ্যবই — সাধারণভাবে ইতিহাসের গৌণ উৎস।
➤ Numismatics — মুদ্রাবিজ্ঞান।
➤ Epigraphy — লিপিবিদ্যা।
➤ Archaeology — প্রত্নতত্ত্ব।
➤ Palaeography — প্রাচীন হস্তলিপি ও লিপির বিকাশসংক্রান্ত অধ্যয়ন।
➤ Inscription — উৎকীর্ণ লিপি বা শিলালিপি।
➤ Copperplate Charter — তাম্রশাসন।
➤ মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি — প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রাচীন লিখিত নিদর্শন।
➤ মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপির আনুমানিক সময় — খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক।
➤ মহাস্থানগড়ের অবস্থান — শিবগঞ্জ উপজেলা, বগুড়া।
➤ দেওপাড়া প্রশস্তি — বিজয়সেনের ইতিহাসসংক্রান্ত শিলালিপি।
➤ খালিমপুর তাম্রশাসন — ধর্মপালের ইতিহাসের উৎস।
➤ দামোদরপুর তাম্রশাসন — গুপ্তযুগের ভূমি ও প্রশাসনিক ইতিহাসের উৎস।"