🧠 🔖
Free Topic

প্রাচীন বাংলার/ বাঙ্গালির ইতিহাস ও প্রাচীন জনপদ

◉ সাধারণ জ্ঞান-বাংলাদেশ বিষয়াবলী›প্রাচীন বাংলার/ বাঙ্গালির ইতিহাস ও প্রাচীন জনপদ

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚63মোট প্রশ্ন
🎯4মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

"০১. ইতিহাসের উৎস নয় কোনটি? (বেরোবি: ১২–১৩ / বিআরডিবি’র মোটরযান পরিদর্শক: ১৭)"

ক

পাঠ্যবই

খ

মুদ্রা

গ

শিলালিপি

ঘ

দলিল

✅ সঠিক উত্তর:ক. পাঠ্যবই

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: পাঠ্যবই — সাধারণত ইতিহাসের গৌণ উৎস (Secondary Source)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ইতিহাস (History) হলো অতীতের মানবসমাজ, সভ্যতা, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, যুদ্ধ, শাসনব্যবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে প্রমাণভিত্তিক আলোচনা।
❖ ইতিহাস রচনার জন্য যেসব তথ্য ও প্রমাণ ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে ইতিহাসের উপাদান বা ঐতিহাসিক উৎস (Historical Sources) বলা হয়।
❖ ইতিহাসের উৎস প্রধানত দুই ধরনের—প্রাথমিক উৎস (Primary Source) এবং গৌণ উৎস (Secondary Source)।
❖ মুদ্রা, শিলালিপি ও সমসাময়িক মূল দলিল প্রাচীন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস। অন্যদিকে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সংকলন করে রচিত পাঠ্যবই সাধারণত গৌণ উৎস।
❖ পাঠ্যবই সম্পূর্ণভাবে ইতিহাসের উৎসের বাইরে নয়। তাই প্রশ্নটির আরও নির্ভুল ভাষা হবে—‘নিচের কোনটি ইতিহাসের প্রাথমিক উৎস নয়?’ প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে উত্তর পাঠ্যবই।
◉ ১. মুদ্রা ও মুদ্রাবিজ্ঞান (Numismatics)
❖ মুদ্রা অতীতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রাচীন মুদ্রা থেকে শাসক, রাজবংশ, অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং ধর্মীয় প্রতীক সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
❖ মুদ্রার ওপর কখনো শাসকের নাম, উপাধি, প্রতিকৃতি, রাজবংশের প্রতীক, মুদ্রা তৈরির সময় এবং প্রচলিত ভাষা ও লিপি উৎকীর্ণ থাকত।
❖ মুদ্রার গঠন, প্রচলন, ধাতু, মূল্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে গবেষণাকে মুদ্রাবিজ্ঞান (Numismatics) বলা হয়।
❖ প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে বিভিন্ন যুগের ছাপাঙ্কিত মুদ্রা (Punch-marked Coins), গুপ্তযুগের মুদ্রা, সুলতানি মুদ্রা ও মুঘল মুদ্রা গুরুত্বপূর্ণ।
◉ ২. শিলালিপি ও লিপিবিদ্যা (Epigraphy)
❖ পাথর বা অন্য স্থায়ী উপাদানে উৎকীর্ণ লেখাকে শিলালিপি (Inscription) বলে। শিলালিপি পাঠ ও গবেষণার শাস্ত্র হলো লিপিবিদ্যা (Epigraphy)।
❖ মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রাচীন লিখিত প্রত্ননিদর্শন। এটি বগুড়ার মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত এবং সাধারণত খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের বলে বিবেচিত।
❖ শিলালিপিটি প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস বোঝার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
❖ দেওপাড়া প্রশস্তি সেনরাজ বিজয়সেনের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শিলালিপি। এটি সেন যুগের রাজকীয় বংশপরিচয় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দেয়।
◉ ৩. তাম্রশাসন ও ঐতিহাসিক দলিল
❖ প্রাচীনকালে রাজারা ভূমিদান, করমুক্তি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অনুদান এবং প্রশাসনিক আদেশ সংরক্ষণের জন্য তামার ফলকে নির্দেশ উৎকীর্ণ করতেন। এগুলো তাম্রশাসন (Copperplate Charter) নামে পরিচিত।
❖ দামোদরপুর তাম্রশাসন গুপ্তযুগের প্রশাসন, ভূমিব্যবস্থা ও রাজস্বসংক্রান্ত ইতিহাসের মূল্যবান উৎস।
❖ খালিমপুর তাম্রশাসন পালরাজ ধর্মপালের শাসনকাল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে।
❖ পুরোনো চিঠিপত্র, চুক্তি, আদালতের নথি ও সরকারি রেকর্ডও ঐতিহাসিক গবেষণার মূল দলিল হতে পারে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ইতিহাসের প্রাথমিক উৎস — সমসাময়িক বা প্রত্যক্ষ প্রমাণবাহী উপাদান।
➤ ইতিহাসের গৌণ উৎস — প্রাথমিক উপাদান বিশ্লেষণ করে রচিত ইতিহাসগ্রন্থ ও গবেষণা।
➤ পাঠ্যবই — সাধারণভাবে ইতিহাসের গৌণ উৎস।
➤ Numismatics — মুদ্রাবিজ্ঞান।
➤ Epigraphy — লিপিবিদ্যা।
➤ Archaeology — প্রত্নতত্ত্ব।
➤ Palaeography — প্রাচীন হস্তলিপি ও লিপির বিকাশসংক্রান্ত অধ্যয়ন।
➤ Inscription — উৎকীর্ণ লিপি বা শিলালিপি।
➤ Copperplate Charter — তাম্রশাসন।
➤ মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি — প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রাচীন লিখিত নিদর্শন।
➤ মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপির আনুমানিক সময় — খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক।
➤ মহাস্থানগড়ের অবস্থান — শিবগঞ্জ উপজেলা, বগুড়া।
➤ দেওপাড়া প্রশস্তি — বিজয়সেনের ইতিহাসসংক্রান্ত শিলালিপি।
➤ খালিমপুর তাম্রশাসন — ধর্মপালের ইতিহাসের উৎস।
➤ দামোদরপুর তাম্রশাসন — গুপ্তযুগের ভূমি ও প্রশাসনিক ইতিহাসের উৎস।"
02
🎯 Level 1

০৪. কোন প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্যে ‘বঙ্গ’ জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়? (ইবি: ০৯–১০ / বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক: ২৩)

ক

চর্যাপদ

খ

মহাভারত

গ

ঋগ্বেদ

ঘ

আইন-ই-আকবরী

✅ সঠিক উত্তর:খ. মহাভারত

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: মহাভারত (Mahabharata)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মহাভারত প্রাচীন ভারতের অন্যতম প্রধান সংস্কৃত মহাকাব্য। এতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ, কৌরব-পাণ্ডবদের সংঘর্ষ, ধর্ম, রাজনীতি, সমাজ ও বিভিন্ন জনপদের বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ মহাভারতে বঙ্গ, পুণ্ড্র, অঙ্গ, সুহ্ম প্রভৃতি পূর্বভারতীয় জনগোষ্ঠী ও জনপদের উল্লেখ রয়েছে। এগুলো প্রাচীন পূর্বভারতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক সূত্র।
❖ প্রাচীন বঙ্গের ইতিহাস জানতে মহাভারতের উল্লেখ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও মহাকাব্যের সব বিবরণকে সরাসরি সমসাময়িক ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। সাহিত্যিক বর্ণনা, পৌরাণিক উপাদান ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পৃথকভাবে বিচার করতে হয়।
❖ মূল বইয়ে ঋগ্বেদকে উত্তর দেখানো হলেও বঙ্গ নামের সরাসরি উল্লেখের বিষয়ে ঐতরেয় আরণ্যক গুরুত্বপূর্ণ। ঐতরেয় আরণ্যক ঋগ্বেদের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও ঋগ্বেদের মূল সংহিতা থেকে পৃথক।
◉ ১. মহাভারতের রচয়িতা ও গঠন
❖ প্রথাগত রচয়িতা: মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস।
❖ মূল ভাষা: সংস্কৃত।
❖ সাহিত্যের ধরন: মহাকাব্য।
❖ প্রধান পর্ব: ১৮টি।
❖ প্রধান কাহিনি: হস্তিনাপুরের সিংহাসনকে কেন্দ্র করে কৌরব ও পাণ্ডবদের বিরোধ এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ।
❖ মহাভারত বহু শতাব্দী ধরে রচিত ও সম্পাদিত হয়েছে বলে গবেষকেরা মনে করেন। তাই এর বর্তমান পাঠকে কোনো একক বছরে রচিত গ্রন্থ হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়।
◉ ২. মহাভারতে পূর্বভারতের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ
❖ বঙ্গ (Vanga): প্রাচীন পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলার সঙ্গে সম্পর্কিত জনপদ।
❖ পুণ্ড্র (Pundra): উত্তরবঙ্গের প্রাচীন জনগোষ্ঠী ও জনপদ। এর গুরুত্বপূর্ণ নগর ছিল পুণ্ড্রনগর।
❖ অঙ্গ (Anga): বর্তমান বিহারের পূর্বাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রাচীন জনপদ। এর রাজধানী ছিল চম্পা।
❖ সুহ্ম (Suhma): প্রাচীন পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল।
❖ প্রাগজ্যোতিষ (Pragjyotisha): প্রাচীন উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঞ্চলের পরিচয়।
◉ ৩. মহাভারত ও ভগবদ্গীতা
❖ ভগবদ্গীতা (Bhagavad Gita) মহাভারতের ভীষ্মপর্বের অংশ।
❖ এতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের কথোপকথনের মাধ্যমে কর্ম, জ্ঞান, ধর্ম ও কর্তব্যবোধ আলোচনা করা হয়েছে।
❖ ভগবদ্গীতায় প্রচলিতভাবে ১৮টি অধ্যায় ও ৭০০টি শ্লোক রয়েছে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মহাভারতের প্রথাগত রচয়িতা — কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস।
➤ মহাভারতের মূল ভাষা — সংস্কৃত।
➤ মহাভারতের প্রধান পর্বসংখ্যা — ১৮টি।
➤ মহাভারতের কেন্দ্রীয় যুদ্ধ — কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ।
➤ কৌরব-পাণ্ডবদের যুদ্ধক্ষেত্র — কুরুক্ষেত্র।
➤ ভগবদ্গীতা যে মহাকাব্যের অংশ — মহাভারত।
➤ ভগবদ্গীতা মহাভারতের যে পর্বে রয়েছে — ভীষ্মপর্ব।
➤ ভগবদ্গীতার অধ্যায় — ১৮টি।
➤ ভগবদ্গীতার প্রচলিত শ্লোকসংখ্যা — ৭০০টি।
➤ মহাভারতে উল্লেখিত পূর্বাঞ্চলীয় জনপদ — বঙ্গ, পুণ্ড্র, অঙ্গ ও সুহ্ম।
➤ অঙ্গ জনপদের রাজধানী — চম্পা।
➤ পুণ্ড্রের গুরুত্বপূর্ণ নগর — পুণ্ড্রনগর।
➤ পুণ্ড্রনগরের বর্তমান প্রত্নস্থল — মহাস্থানগড়।
➤ বঙ্গ নামের প্রাচীনতম উল্লেখের প্রচলিত গ্রন্থ — ঐতরেয় আরণ্যক।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৯. ‘রাজতরঙ্গিণী’ ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা কে? (বেরোবি: ১০–১১ / নির্বাচন কমিশনের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর: ২১)

ক

হিরোডোটাস

খ

কলহন

গ

আবুল ফজল

ঘ

জিয়াউদ্দিন

✅ সঠিক উত্তর:খ. কলহন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: কলহন বা কল্হণ (Kalhana)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ রাজতরঙ্গিণী (Rajatarangini) প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় কাশ্মীরের রাজাদের ইতিহাসবিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃত গ্রন্থ। এর রচয়িতা কলহন (Kalhana)।
❖ গ্রন্থটি দ্বাদশ শতকে, আনুমানিক ১১৪৮–১১৫০ খ্রিষ্টাব্দে, রচিত হয়।
❖ রাজতরঙ্গিণী শব্দের অর্থ ‘রাজাদের তরঙ্গমালা’ বা River of Kings।
❖ গ্রন্থটিতে কাশ্মীরের বিভিন্ন রাজবংশ, রাজাদের শাসনকাল, যুদ্ধ, রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রশাসন এবং সমাজজীবনের বিবরণ রয়েছে।
❖ এটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাসচর্চার একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। তবে এর প্রাথমিক অংশে কিংবদন্তি ও পৌরাণিক উপাদানও রয়েছে।
◉ ১. কলহনের জীবন ও পরিচয়
❖ নাম: কলহন (Kalhana)।
❖ সময়কাল: দ্বাদশ শতক।
❖ অঞ্চল: কাশ্মীর।
❖ পিতা: চম্পক (Champaka)।
❖ তাঁর পিতা কাশ্মীরের রাজা হর্ষের সঙ্গে প্রশাসনিকভাবে যুক্ত ছিলেন।
❖ এই পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ কলহনকে কাশ্মীরের শাসকদের ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করেছিল।
◉ ২. রাজতরঙ্গিণীর গঠন
❖ রাজতরঙ্গিণী সংস্কৃত ভাষায় পদ্যরূপে রচিত একটি ঐতিহাসিক বিবরণ।
❖ গ্রন্থটি ৮টি তরঙ্গ (Taranga) বা বিভাগে বিভক্ত।
❖ এতে প্রায় ৮,০০০ সংস্কৃত শ্লোক রয়েছে।
❖ গ্রন্থের প্রথম দিককার বর্ণনায় কিংবদন্তি ও ঐতিহ্যনির্ভর তথ্যের পরিমাণ বেশি। পরবর্তী অংশে সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসের বিবরণ তুলনামূলকভাবে বিস্তারিত।
◉ ৩. কলহনের ইতিহাস রচনার পদ্ধতি
❖ কলহন আগের ইতিহাসগ্রন্থ, রাজকীয় দলিল, শিলালিপি, বংশতালিকা, স্থানীয় ঐতিহ্য এবং অন্যান্য উপলব্ধ তথ্য ব্যবহার করেন।
❖ ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি পক্ষপাতমুক্ত অবস্থান গ্রহণের গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন।
❖ তাঁর মতে, অতীতের ঘটনা বর্ণনায় ইতিহাসলেখকের ব্যক্তিগত অনুরাগ বা বিরাগ বিচারকে প্রভাবিত করা উচিত নয়।
❖ এজন্য ভারতীয় ঐতিহাসিক গ্রন্থগুলোর মধ্যে রাজতরঙ্গিণী একটি স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করেছে।
◉ ৪. রাজতরঙ্গিণীর পরবর্তী ইতিহাসলেখক
❖ কলহনের পরে কাশ্মীরের ইতিহাস রচনার ধারায় জোনরাজ (Jonaraja) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ তাঁর পরে শ্রীবর (Srivara) এবং অন্যান্য ইতিহাসলেখক কাশ্মীরের রাজাদের ইতিহাস রচনার ধারা অব্যাহত রাখেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ রাজতরঙ্গিণীর রচয়িতা — কলহন।
➤ রাজতরঙ্গিণীর মূল ভাষা — সংস্কৃত।
➤ রাজতরঙ্গিণীর রচনাকাল — আনুমানিক ১১৪৮–১১৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ রাজতরঙ্গিণীর অর্থ — রাজাদের তরঙ্গমালা বা River of Kings।
➤ রাজতরঙ্গিণীর প্রধান বিভাগ — ৮টি তরঙ্গ।
➤ রাজতরঙ্গিণীর শ্লোকসংখ্যা — প্রায় ৮,০০০।
➤ রাজতরঙ্গিণীতে বর্ণিত অঞ্চলের ইতিহাস — কাশ্মীর।
➤ কলহনের পিতা — চম্পক।
➤ কলহনের পিতা যে শাসকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন — কাশ্মীরের রাজা হর্ষ।
➤ কলহনের পরে কাশ্মীরের ইতিহাস রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি — জোনরাজ।
➤ জোনরাজের পরবর্তী ইতিহাসলেখক — শ্রীবর।
➤ রাজতরঙ্গিণীর ইংরেজি অনুবাদক হিসেবে বিখ্যাত — এম. এ. স্টাইন (M. A. Stein)।
➤ রাজতরঙ্গিণীর সমালোচনামূলক ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ — ১৯০০ সালে।
➤ ইতিহাসের জনক হিসেবে পরিচিত — হিরোডোটাস।
➤ চীনা ইতিহাসচর্চার জনক — সিমা ছিয়েন।
04
🎯 Level 1

১২. ‘তাম্রলিপি’ কী? / ‘তাম্রশাসন’ মানে— (বিকেবির অফিসার (ক্যাশ): ১০ / রাবি: ২০–২১)

ক

প্রাচীন ভাষা

খ

প্রাচীন জনপদ

গ

প্রাচীন গ্রন্থ

ঘ

তামার পাতে খোদাই করা শাসনাদেশ

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. তামার পাতে খোদাই করা শাসনাদেশ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: তামার পাতে খোদাই করা শাসনাদেশ বা ঐতিহাসিক দলিল।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ তাম্রলিপি (Copperplate Inscription) হলো তামার ফলক বা পাতের ওপর উৎকীর্ণ লেখা।
❖ প্রাচীন ও মধ্যযুগে রাজারা ভূমিদান, করমুক্তি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান, সম্পত্তির অধিকার এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক আদেশ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য তামার পাতে লেখা খোদাই করতেন।
❖ রাজকীয় আদেশ বা ভূমিদানসংক্রান্ত এ ধরনের দলিলকে বিশেষভাবে তাম্রশাসন (Copperplate Charter) বলা হয়।
❖ তামা দীর্ঘকাল সংরক্ষণযোগ্য হওয়ায় এ ধরনের দলিল থেকে বহু শতাব্দী আগের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
◉ ১. প্রাচীন বাংলার তাম্রশাসনের গুরুত্ব
❖ তাম্রশাসন থেকে শাসকদের নাম, বংশপরিচয়, প্রশাসনিক পদ, ভূমির সীমানা, জমির পরিমাণ, করব্যবস্থা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস জানা যায়।
❖ অনেক তাম্রশাসনে দানকারীর পরিচয়, দানপ্রাপকের নাম, ভূমির অবস্থান, জমির সীমানা এবং রাজকীয় সাক্ষ্য সংরক্ষিত থাকত।
❖ এসব তথ্যের মাধ্যমে প্রাচীন বাংলার ভূমিব্যবস্থা, গ্রামীণ অর্থনীতি, প্রশাসন ও ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
◉ ২. দামোদরপুর তাম্রশাসন
❖ দামোদরপুর তাম্রশাসনসমূহ গুপ্তযুগের প্রশাসনিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
❖ এগুলো বর্তমান বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ঐতিহাসিক পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তি সম্পর্কিত তথ্য দেয়।
❖ তাম্রশাসন থেকে ভুক্তি (Bhukti), বিষয় (Vishaya) এবং অন্যান্য প্রশাসনিক একক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
❖ ভূমি ক্রয়, বিক্রয়, দান ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভূমিকা সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়।
◉ ৩. খালিমপুর তাম্রশাসন
❖ খালিমপুর তাম্রশাসন পালরাজ ধর্মপালের শাসনকাল সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
❖ এটি পাল রাজবংশের রাজনৈতিক ইতিহাস, শাসকের বংশপরিচয়, ভূমিদান এবং রাজকীয় কর্তৃত্ব সম্পর্কে তথ্য দেয়।
❖ ধর্মপাল পাল সাম্রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী শাসক ছিলেন। তাঁর রাজত্বকালে পাল সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক প্রভাব উত্তর ভারতে বিস্তার লাভ করে।
◉ ৪. শিলালিপি ও তাম্রলিপির পার্থক্য
❖ শিলালিপি: পাথর বা অন্য কঠিন স্থায়ী উপাদানে উৎকীর্ণ লেখা।
❖ তাম্রলিপি: তামার ফলক বা পাতের ওপর উৎকীর্ণ লেখা।
❖ তাম্রশাসন: সাধারণত তাম্রফলকে লিখিত রাজকীয় আদেশ, ভূমিদান বা প্রশাসনিক সনদ।
❖ তাম্রলিপি ও তাম্রশাসন সম্পর্কিত পরিভাষা হলেও প্রতিটি তাম্রলিপিই রাজকীয় ভূমিদানসংক্রান্ত সনদ হওয়া আবশ্যক নয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ তাম্রলিপি — তামার পাত বা ফলকে উৎকীর্ণ লেখা।
➤ তাম্রশাসন — তামার ফলকে লিখিত রাজকীয় শাসনাদেশ বা ভূমিদানসংক্রান্ত দলিল।
➤ Copperplate Inscription — তাম্রলিপি।
➤ Copperplate Charter — তাম্রশাসন।
➤ তাম্রশাসন থেকে জানা যায় — ভূমিদান, প্রশাসন, কর ও জমির সীমানা।
➤ দামোদরপুর তাম্রশাসন — গুপ্তযুগের ইতিহাসের উৎস।
➤ দামোদরপুর তাম্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল — পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তি।
➤ খালিমপুর তাম্রশাসন — পালরাজ ধর্মপালের ইতিহাসের উৎস।
➤ পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা — গোপাল।
➤ পাল রাজবংশের বিখ্যাত শাসক — ধর্মপাল ও দেবপাল।
➤ পাল রাজবংশের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকতা — বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধবিহার।
➤ পালযুগের বিখ্যাত প্রত্নস্থল — সোমপুর মহাবিহার, পাহাড়পুর।
➤ পাহাড়পুরের অবস্থান — বদলগাছী, নওগাঁ।
➤ শিলালিপি ও তাম্রলিপি পাঠের শাস্ত্র — Epigraphy।
➤ প্রাচীন লিপির গঠন ও বিবর্তনসংক্রান্ত অধ্যয়ন — Palaeography।
05
🎯 Level 1

১৬. নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত কোন নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত? (নিবন্ধন অধিদপ্তরের সাব-রেজিস্ট্রার: ০৩ / ডাক বিভাগের পোস্টাল অপারেটর: ২৩ / পিএসসি’র আঞ্চলিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী: ২৩)

ক

আলপাইন

খ

নর্ডিক

গ

মঙ্গোলীয়

ঘ

আদি-অস্ট্রেলীয়

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. আদি-অস্ট্রেলীয়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর: আদি-অস্ট্রেলীয় (Proto-Australoid)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ আদি-অস্ট্রেলীয় (Proto-Australoid) পুরোনো নৃতাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগে ব্যবহৃত একটি পরিভাষা।
❖ প্রচলিত ইতিহাস ও সাধারণ জ্ঞান বইয়ে বাংলাদেশের প্রাচীন জনগোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানকে আদি-অস্ট্রেলীয় নামে চিহ্নিত করা হয়েছে।
❖ এজন্য প্রথাগত নৃতাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী প্রশ্নটির উত্তর ঘ. আদি-অস্ট্রেলীয়।
❖ তবে আধুনিক নৃতত্ত্ব ও জনমিতিক গবেষণায় আদি-অস্ট্রেলীয়, আলপাইন, নর্ডিক ও মঙ্গোলীয়—এসব পুরোনো শারীরিক বৈশিষ্ট্যনির্ভর মানবশ্রেণিকে বৈজ্ঞানিকভাবে কঠোর ও পৃথক জৈবিক জাতি হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।
❖ বাংলাদেশের মানুষের জিনগত, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। আধুনিক জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক পরিচয় কোনো একক পুরোনো নরগোষ্ঠীর নাম দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না।
◉ ১. আদি-অস্ট্রেলীয় পরিভাষার ঐতিহাসিক পরিচয়
❖ বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে দক্ষিণ এশিয়ার জনসমাজ নিয়ে গবেষণায় Proto-Australoid শব্দটি ব্যবহৃত হতো।
❖ পুরোনো গবেষণায় মাথার আকৃতি, নাকের গঠন, উচ্চতা, ত্বকের রং, চুলের প্রকৃতি প্রভৃতি শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানবগোষ্ঠী শ্রেণিবদ্ধ করার চেষ্টা করা হতো।
❖ পরবর্তী গবেষণায় দেখা যায়, মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও জিনগত বৈচিত্র্য এত জটিল যে এ ধরনের কঠোর শ্রেণিবিভাগ দিয়ে মানুষের উৎস বা পরিচয় নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা যায় না।
◉ ২. বাঙালি জনগোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস
❖ বাংলার প্রাচীন জনগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে বহু পর্যায়ের অভিবাসন, বসতি বিস্তার ও জনমিশ্রণের মাধ্যমে।
❖ বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের ফলে স্থানীয় সমাজ, খাদ্যাভ্যাস, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ভাষার পরিবর্তন ঘটেছে।
❖ প্রাচীন বঙ্গভূমির জনগোষ্ঠীর গবেষণায় অস্ট্রো-এশীয়, দ্রাবিড়, ইন্দো-আর্য এবং তিব্বতী-বর্মী ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও যোগাযোগ বিবেচিত হয়।
◉ ৩. নৃতত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ শাখা
❖ Anthropology (নৃতত্ত্ব): মানুষ, মানবসমাজ, সংস্কৃতি এবং মানববিবর্তনের অধ্যয়ন।
❖ Biological Anthropology: মানুষের জৈবিক বিবর্তন, বৈচিত্র্য এবং জনসংখ্যার জৈবিক ইতিহাসের গবেষণা।
❖ Cultural Anthropology: মানুষের সংস্কৃতি, বিশ্বাস, আচার, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও জীবনযাত্রার গবেষণা।
❖ Linguistic Anthropology: ভাষা ও মানবসমাজের পারস্পরিক সম্পর্কের অধ্যয়ন।
❖ Archaeology: বস্তুগত নিদর্শন, প্রত্নস্থল ও প্রাচীন বসতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অতীতের মানবজীবন অনুসন্ধান।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রচলিত নৃতাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগে বাংলাদেশের মানুষের প্রধান নরগোষ্ঠী — আদি-অস্ট্রেলীয়।
➤ Proto-Australoid — আদি-অস্ট্রেলীয়।
➤ Anthropology — নৃতত্ত্ব।
➤ Biological Anthropology — জৈবিক নৃতত্ত্ব।
➤ Cultural Anthropology — সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্ব।
➤ Linguistic Anthropology — ভাষাগত নৃতত্ত্ব।
➤ Archaeology — প্রত্নতত্ত্ব।
➤ মানুষের জিনগত বৈচিত্র্য অধ্যয়নের গুরুত্বপূর্ণ শাখা — Population Genetics।
➤ আদি-অস্ট্রেলীয় — পুরোনো নৃতাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগের পরিভাষা।
➤ নর্ডিক ও আলপাইন — পুরোনো ইউরোপকেন্দ্রিক শারীরিক শ্রেণিবিভাগের পরিভাষা।
➤ মঙ্গোলীয় বা Mongoloid — আধুনিক নৃতত্ত্বে পরিত্যক্ত জাতিগত শ্রেণিবিভাগের পরিভাষা।
➤ ভাষাগত ও জিনগত পরিচয় — এক নয়।
➤ বাঙালি জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য — দীর্ঘকালীন জনমিশ্রণ।
➤ বাঙালি জাতির ভাষাগত ঐক্যের প্রধান ভিত্তি — বাংলা ভাষা।
Advertisement
06
🎯 Level 1

০১. প্রাচীন বাংলার পৃথক পৃথক অংশ কী নামে পরিচিত ছিল? (রাবি: ১৪–১৫ / ডাক বিভাগের উপজেলা পোস্টমাস্টার: ১৩ / পিটিআই’র ইনস্ট্রাক্টর: ১৯)

ক

জনপদ

খ

সমতট

গ

বঙ্গ

ঘ

হরিকেল

✅ সঠিক উত্তর:ক. জনপদ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: জনপদ (Janapada)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ জনপদ (Janapada) বলতে প্রাচীনকালে কোনো জনগোষ্ঠীর স্থায়ী বসতি, সামাজিক সংগঠন, অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত ভূখণ্ডকে বোঝানো হতো।
❖ প্রাচীন বাংলা বর্তমান বাংলাদেশের মতো একটি নির্দিষ্ট সীমানাবিশিষ্ট একক রাষ্ট্র ছিল না। বিভিন্ন সময়ে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক জনগোষ্ঠী, রাজ্য ও প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়ে ওঠে।
❖ এসব অঞ্চল বঙ্গ, পুণ্ড্র, গৌড়, রাঢ়, সমতট, হরিকেল ও বরেন্দ্র প্রভৃতি নামে পরিচিত ছিল।
❖ জনপদগুলো প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে রাজনৈতিক সংগঠন, কৃষি উৎপাদন, নগরায়ণ, বাণিজ্য, ধর্মীয় বিস্তার এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল।
◉ ১. জনপদ শব্দের অর্থ ও উৎপত্তি
❖ জনপদ একটি সংস্কৃত শব্দ, যা জন (Jana) এবং পদ (Pada)—এই দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত।
❖ জন: জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়।
❖ পদ: পদচিহ্ন, অবস্থান বা বসতির সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থ প্রকাশ করে।
❖ ঐতিহাসিক অর্থে জনপদ বলতে কোনো জনগোষ্ঠীর অধিকারভুক্ত বা স্থায়ীভাবে বসবাসকৃত ভূখণ্ড বোঝানো হয়।
❖ প্রাচীন ভারতে জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক বসতি ধীরে ধীরে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হয়। কোনো কোনো জনপদ রাজতন্ত্র, আবার কোনো কোনো জনপদ গণসংঘ বা অলিগার্কিক শাসনব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হতো।
◉ ২. প্রাচীন বাংলার প্রধান জনপদ
❖ পুণ্ড্র বা পুণ্ড্রবর্ধন: প্রাচীন উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এর নগরকেন্দ্র ছিল পুণ্ড্রনগর, যা বর্তমান বগুড়ার মহাস্থানগড়ের সঙ্গে শনাক্ত করা হয়।
❖ বঙ্গ (Vanga): প্রাচীন পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলার গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এর বিস্তৃতি সময়ভেদে পরিবর্তিত হয়েছে।
❖ গৌড় (Gauda): প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঞ্চল। সপ্তম শতকে শশাঙ্কের শাসনামলে এটি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে।
❖ রাঢ় (Radha): প্রাচীন পশ্চিম বাংলার জনপদ। সাধারণভাবে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান, বীরভূম ও সংলগ্ন অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ সমতট (Samatata): প্রাচীন পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার জনপদ। বর্তমান কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং মেঘনার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।
❖ হরিকেল (Harikela): প্রাচীন পূর্বাঞ্চলীয় বাংলার জনপদ। চট্টগ্রাম এবং বৃহত্তর পূর্ববাংলার কিছু অঞ্চলের সঙ্গে এর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ বরেন্দ্র (Varendra): প্রাচীন উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলার অঞ্চল। বর্তমান রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া ও সংলগ্ন অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
◉ ৩. প্রাচীন ভারতের ষোড়শ মহাজনপদ
❖ খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের দিকে উত্তর ভারতে একাধিক শক্তিশালী জনপদ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বৌদ্ধ ও জৈন সাহিত্য থেকে ষোড়শ মহাজনপদের পরিচয় পাওয়া যায়।
❖ বৌদ্ধগ্রন্থ অঙ্গুত্তর নিকায় (Anguttara Nikaya)-এ ষোড়শ মহাজনপদের উল্লেখ রয়েছে।
❖ ষোড়শ মহাজনপদ হলো—
অঙ্গ, মগধ, কাশী, কোশল, বজ্জি, মল্ল, চেদি, বৎস, কুরু, পাঞ্চাল, মৎস্য, শূরসেন, অস্মক, অবন্তী, গান্ধার ও কম্বোজ।
❖ প্রাচীন বঙ্গ ও পুণ্ড্র গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হলেও বৌদ্ধ সাহিত্যের প্রচলিত ষোড়শ মহাজনপদের তালিকায় এগুলো পৃথক নামে অন্তর্ভুক্ত নয়।
◉ ৪. জনপদ থেকে নগর ও রাজ্য গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া
❖ স্থায়ী কৃষিজীবন ও অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন বড় জনবসতি গঠনে সহায়তা করে।
❖ উৎপাদন ও পণ্যবিনিময় বৃদ্ধির ফলে বাজার, কারুশিল্প, বাণিজ্যকেন্দ্র ও নগর গড়ে ওঠে।
❖ রাজস্ব সংগ্রহ, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থেকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও শাসনব্যবস্থার বিকাশ ঘটে।
❖ প্রাচীন বাংলায় নদীপথ ছিল যোগাযোগ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া ও অন্যান্য নদনদী জনবসতি ও বাণিজ্যকেন্দ্রের বিকাশে ভূমিকা রাখে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রাচীন বাংলার পৃথক পৃথক ভূখণ্ডের পরিচয় — জনপদ।
➤ জনপদ শব্দের গঠন — জন + পদ।
➤ প্রাচীন বাংলার উল্লেখযোগ্য জনপদ — পুণ্ড্র, বঙ্গ, গৌড়, রাঢ়, সমতট, হরিকেল ও বরেন্দ্র।
➤ প্রাচীন উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ — পুণ্ড্রবর্ধন।
➤ পুণ্ড্রবর্ধনের নগরকেন্দ্র — পুণ্ড্রনগর।
➤ পুণ্ড্রনগরের বর্তমান প্রত্নস্থল — মহাস্থানগড়।
➤ প্রাচীন পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলার জনপদ — বঙ্গ।
➤ প্রাচীন পশ্চিম বাংলার জনপদ — রাঢ়।
➤ প্রাচীন দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার জনপদ — সমতট।
➤ প্রাচীন পূর্বাঞ্চলীয় বাংলার জনপদ — হরিকেল।
➤ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলার ঐতিহাসিক অঞ্চল — বরেন্দ্র।
➤ ষোড়শ মহাজনপদের সময়কাল — প্রধানত খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকে।
➤ ষোড়শ মহাজনপদের অন্যতম প্রাচীন সাহিত্যিক উৎস — অঙ্গুত্তর নিকায়।
➤ মগধ মহাজনপদের প্রাথমিক রাজধানী — রাজগৃহ।
➤ মগধের পরবর্তী রাজধানী — পাটলিপুত্র।
➤ অঙ্গ মহাজনপদের রাজধানী — চম্পা।
➤ কাশী মহাজনপদের রাজধানী — বারাণসী।
➤ বৎস মহাজনপদের রাজধানী — কৌশাম্বী।
➤ অবন্তীর গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী — উজ্জয়িনী।
07
🎯 Level 1

০৯. ‘মহাস্থানগড় এবং প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন নগরী একই’—এটি শনাক্ত করেন কে? (কর্মসংস্থান ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ): ১৫)

ক

কানিংহাম

খ

মার্শাল

গ

রাখালদাস

ঘ

রেনেল

✅ সঠিক উত্তর:ক. কানিংহাম

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম (Sir Alexander Cunningham)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ছিলেন ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও প্রত্নতত্ত্ববিদ। তাঁকে ভারতীয় উপমহাদেশের আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপব্যবস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
❖ ১৮৭৯ সালে তিনি মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষকে প্রাচীন পুণ্ড্রনগর বা পুণ্ড্রবর্ধনের প্রধান নগর হিসেবে শনাক্ত করেন।
❖ এই শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাংয়ের ভ্রমণবিবরণ এবং স্থানীয় ভূগোলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১. আলেকজান্ডার কানিংহামের জীবন ও পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: Sir Alexander Cunningham।
❖ জন্ম: ২৩ জানুয়ারি ১৮১৪।
❖ জন্মস্থান: লন্ডন, ইংল্যান্ড।
❖ মৃত্যু: ২৮ নভেম্বর ১৮৯৩।
❖ জাতীয়তা: ব্রিটিশ।
❖ পেশা: সেনা প্রকৌশলী, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও গবেষক।
❖ বিশেষ পরিচিতি: ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের অগ্রদূত।
❖ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান: Archaeological Survey of India (ASI)।
❖ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: The Ancient Geography of India (১৮৭১)।
২. Archaeological Survey of India-এর প্রতিষ্ঠা
❖ ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের জন্য Archaeological Survey of India প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ কার্যকর হয়।
❖ আলেকজান্ডার কানিংহাম প্রথম Archaeological Surveyor হিসেবে দায়িত্ব পান।
❖ ১৮৭১ সালে পুনর্গঠিত প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপব্যবস্থায় তিনি Director General হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
❖ তাঁর কাজের মধ্যে ছিল প্রাচীন স্থাপনা শনাক্তকরণ, শিলালিপি পর্যবেক্ষণ, ঐতিহাসিক মানচিত্র ও ভ্রমণবিবরণের তুলনা এবং প্রত্নস্থলের অবস্থান নির্ধারণ।
৩. পুণ্ড্রনগর শনাক্তকরণের ঘটনাপ্রবাহ
◉ ১৮০৮ সাল — প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ
❖ ফ্রান্সিস বুকানন হ্যামিলটন মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ পর্যবেক্ষণ ও বর্ণনা করেন।
◉ ১৮৭৯ সাল — প্রাচীন নগর শনাক্তকরণ
❖ কানিংহাম মহাস্থানগড় পরিদর্শন করে হিউয়েন সাংয়ের বর্ণনার সঙ্গে স্থানটির ভৌগোলিক মিল খুঁজে পান।
❖ তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে মহাস্থানগড়ই প্রাচীন পুণ্ড্রনগর।
◉ ১৯২৮–১৯২৯ সাল — নিয়মিত খনন
❖ প্রত্নতাত্ত্বিক কে. এন. দীক্ষিতের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত খনন শুরু হয়।
◉ ১৯৩১ সাল — ব্রাহ্মী শিলালিপি আবিষ্কার
❖ মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত ব্রাহ্মী শিলালিপিতে পুণ্ড্রনগরের প্রাচীন নামের উল্লেখ পাওয়ায় স্থানটির ঐতিহাসিক পরিচয় আরও সুদৃঢ় হয়।
৪. কানিংহামের গবেষণার গুরুত্ব
❖ কানিংহাম প্রাচীন ভারতীয় নগরগুলোর অবস্থান নির্ণয়ে সাহিত্যিক, ভৌগোলিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্যের সমন্বয় করেন।
❖ বিশেষত চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজকদের ভ্রমণবিবরণ তাঁর গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ তাঁর গবেষণার ফলে প্রাচীন ভারতের বহু ঐতিহাসিক স্থানের শনাক্তকরণে অগ্রগতি ঘটে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মহাস্থানগড়কে পুণ্ড্রনগর হিসেবে শনাক্ত করেন — আলেকজান্ডার কানিংহাম।
➤ শনাক্তকরণের সাল — ১৮৭৯।
➤ আলেকজান্ডার কানিংহামের জন্ম — ২৩ জানুয়ারি ১৮১৪।
➤ মৃত্যু — ২৮ নভেম্বর ১৮৯৩।
➤ কানিংহামের জাতীয়তা — ব্রিটিশ।
➤ Archaeological Survey of India-এর সূচনা — ১৮৬১ সালে।
➤ ASI-এর প্রথম Archaeological Surveyor — আলেকজান্ডার কানিংহাম।
➤ ASI-এর পুনর্গঠিত কার্যক্রমে কানিংহামের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব শুরু — ১৮৭১ সালে।
➤ কানিংহামের বিখ্যাত গ্রন্থ — The Ancient Geography of India।
➤ গ্রন্থটি প্রকাশিত — ১৮৭১ সালে।
➤ মহাস্থানগড় প্রথম পর্যবেক্ষণ ও বর্ণনা করেন — ফ্রান্সিস বুকানন হ্যামিলটন, ১৮০৮।
➤ মহাস্থানগড় শনাক্তকরণে সহায়ক চীনা পর্যটক — হিউয়েন সাং।
➤ হিউয়েন সাংয়ের বাংলায় আগমন — আনুমানিক ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ মহাস্থানগড়ের প্রথম নিয়মিত খনন — ১৯২৮–১৯২৯।
➤ মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি আবিষ্কার — ১৯৩১।
➤ বিশেষ পার্থক্য: বুকানন হ্যামিলটন—১৮০৮ সালে পর্যবেক্ষণ; কানিংহাম—১৮৭৯ সালে পুণ্ড্রনগর হিসেবে শনাক্তকরণ।
08
🎯 Level 1

১১. মৌর্য ও গুপ্ত বংশের রাজধানী কোথায় ছিল? / বাংলার প্রাচীন রাজধানীর নাম কী? (মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ০৬; বিআরইবি’র সহকারী পরিচালক: ১৩; কম্পিউটার অপারেটর: ২৩)

ক

সোনারগাঁও

খ

পাহাড়পুর

গ

মহাস্থানগড়

ঘ

ময়নামতি

✅ সঠিক উত্তর:গ. মহাস্থানগড়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: মহাস্থানগড় (প্রাচীন পুণ্ড্র অঞ্চলের প্রধান নগর)।
◈ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনী:
❖ প্রশ্নটিতে মৌর্য ও গুপ্ত বংশের রাজধানী বলতে আসলে প্রাচীন বাংলায় তাদের প্রশাসনিক কেন্দ্রকে বোঝানো হয়েছে।
❖ মৌর্য সাম্রাজ্য ও গুপ্ত সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র, মহাস্থানগড় নয়।
❖ মহাস্থানগড় ছিল প্রাচীন পুণ্ড্রনগর, যা মৌর্য যুগে প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং গুপ্ত যুগে পুণ্ড্রবর্ধন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর ছিল।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মহাস্থানগড় বাংলাদেশের বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত প্রাচীন নগর প্রত্নস্থল। এটি প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ।
❖ মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে মৌর্য, গুপ্ত, পাল এবং পরবর্তী বিভিন্ন ঐতিহাসিক যুগের বসতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়।
১. মৌর্য যুগে মহাস্থানগড়
❖ মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
❖ তাঁর রাজত্বকালে ভারতীয় উপমহাদেশে বৃহত্তর সাম্রাজ্যিক প্রশাসন গড়ে ওঠে।
❖ মৌর্য আমলে পুণ্ড্রনগর ছিল বাংলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র।
❖ মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি, যা খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর, এই অঞ্চলে মৌর্যযুগীয় প্রশাসনিক উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
❖ শিলালিপিতে দুর্যোগকালে স্থানীয় জনসাধারণকে খাদ্য ও অর্থসহায়তার বিষয়ে প্রশাসনিক নির্দেশনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
২. গুপ্ত যুগে পুণ্ড্রবর্ধন
❖ গুপ্ত সাম্রাজ্য (Gupta Empire) চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতাব্দীতে উত্তর ভারতীয় উপমহাদেশে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি ছিল।
❖ গুপ্ত যুগে পুণ্ড্রবর্ধন একটি প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে পরিচিত হয়।
❖ এই বিভাগের নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তি (Pundravardhana Bhukti)।
❖ গুপ্ত যুগের তাম্রশাসন ও অন্যান্য শিলালিপি থেকে এই অঞ্চলের ভূমি প্রশাসন, করব্যবস্থা এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
৩. মৌর্য সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শাসক
◉ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
❖ মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
❖ শাসনকাল — আনুমানিক ৩২২/৩২১–২৯৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
❖ রাজধানী — পাটলিপুত্র।
❖ তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত নাম — চাণক্য বা কৌটিল্য।
◉ বিন্দুসার
❖ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পুত্র ও উত্তরসূরি।
❖ শাসনকাল — আনুমানিক ২৯৭–২৭৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
◉ সম্রাট অশোক
❖ মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্যতম বিখ্যাত শাসক।
❖ শাসনকাল — আনুমানিক ২৬৮–২৩২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
❖ বিখ্যাত যুদ্ধ — কলিঙ্গ যুদ্ধ।
❖ কলিঙ্গ যুদ্ধের প্রচলিত সাল — ২৬১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
৪. গুপ্ত সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শাসক
◉ প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
❖ গুপ্ত সাম্রাজ্যের শক্তিশালী রাজবংশীয় শাসনের সূচনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ আনুমানিক ৩১৯–৩২০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে গুপ্তাব্দ গণনার প্রচলন হয়।
◉ সমুদ্রগুপ্ত
❖ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী শাসক।
❖ তাঁর সামরিক অভিযান ও রাজনৈতিক সাফল্যের বিবরণ পাওয়া যায় এলাহাবাদ স্তম্ভলিপি বা প্রয়াগ প্রশস্তিতে।
❖ প্রশস্তিটির রচয়িতা ছিলেন হরিষেণ।
◉ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
❖ বিক্রমাদিত্য উপাধির সঙ্গে সম্পর্কিত বিখ্যাত গুপ্ত সম্রাট।
❖ তাঁর শাসনকালে চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারতীয় উপমহাদেশে ভ্রমণ করেন।
৫. মহাস্থানগড়ের প্রশাসনিক গুরুত্ব
❖ পুণ্ড্রনগরে দুর্গবেষ্টিত নগরব্যবস্থা, প্রশাসনিক স্থাপনা এবং দীর্ঘকালীন বসতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
❖ করতোয়া নদীর তীরে অবস্থান করায় কৃষি, বাণিজ্য ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে নগরটি সুবিধাজনক ছিল।
❖ মৌর্য ও গুপ্ত যুগের প্রশাসনিক ইতিহাসে মহাস্থানগড়ের গুরুত্ব এই কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রাচীন পুণ্ড্র অঞ্চলের প্রধান নগর — মহাস্থানগড়।
➤ মহাস্থানগড়ের প্রাচীন নাম — পুণ্ড্রনগর।
➤ মৌর্য সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজধানী — পাটলিপুত্র।
➤ গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রধান রাজধানী — পাটলিপুত্র।
➤ পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তি — গুপ্ত যুগের প্রশাসনিক বিভাগ।
➤ মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা — চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
➤ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উপদেষ্টা — চাণক্য বা কৌটিল্য।
➤ কৌটিল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত গ্রন্থ — অর্থশাস্ত্র।
➤ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উত্তরসূরি — বিন্দুসার।
➤ মৌর্য সাম্রাজ্যের বিখ্যাত সম্রাট — অশোক।
➤ অশোকের শাসনকাল — আনুমানিক ২৬৮–২৩২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
➤ গুপ্ত যুগের বিখ্যাত সম্রাট — সমুদ্রগুপ্ত।
➤ সমুদ্রগুপ্তের সামরিক অভিযানের বিবরণ — প্রয়াগ প্রশস্তি।
➤ প্রয়াগ প্রশস্তির রচয়িতা — হরিষেণ।
➤ গুপ্ত যুগের বিখ্যাত পর্যটক — ফা-হিয়েন।
➤ ফা-হিয়েন ছিলেন — চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক।
➤ মহাস্থানগড়ের ব্রাহ্মী শিলালিপি — মৌর্যযুগীয় প্রত্নপ্রমাণ।
➤ বিশেষ পার্থক্য: মৌর্য ও গুপ্ত সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজধানী পাটলিপুত্র; প্রাচীন পুণ্ড্র অঞ্চলের প্রশাসনিক নগর মহাস্থানগড়।
Advertisement
09
🎯 Level 1

১৪. মহাস্থানগড় কোন নদীর তীরে অবস্থিত? / বাংলাদেশের মহাস্থানগড়ের পূর্বদিক দিয়ে প্রবাহিত নদীটির নাম কী? / মহাস্থানগড় কোন নদীর তীরে গড়ে উঠেছে? (বেবিচকের উচ্চমান সহকারী: ২১; ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন; এমআইএস ডাটা এন্ট্রি অপারেটর: ২৩; বেবিচকের সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরী: ২৪)

ক

করতোয়া

খ

গঙ্গা

গ

ব্রহ্মপুত্র

ঘ

মহানন্দা

✅ সঠিক উত্তর:ক. করতোয়া

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: করতোয়া নদী (Karatoya River)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। অর্থাৎ করতোয়া নদী প্রাচীন দুর্গনগরীর পূর্বদিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
❖ করতোয়া নদী প্রাচীন উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ, কৃষি, বাণিজ্য, জনবসতি এবং ধর্মীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১. করতোয়া নদীর ঐতিহাসিক পরিচিতি
❖ করতোয়া প্রাচীন বাংলার একটি ঐতিহাসিক নদী।
❖ অতীতে করতোয়া উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
❖ নদীটি বর্তমান বগুড়া অঞ্চলের সঙ্গে প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
❖ ঐতিহাসিকভাবে করতোয়া নদীর প্রবাহ ও বিস্তৃতি বর্তমানের তুলনায় অনেক বড় ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ পাওয়া যায়।
২. করতোয়া নদী ও মহাস্থানগড়ের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা
❖ মহাস্থানগড় ছিল দুর্গবেষ্টিত নগর।
❖ নগরের পূর্বদিকে প্রবাহিত করতোয়া নদী একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারত।
❖ নগরের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে প্রতিরক্ষামূলক পরিখা ছিল।
❖ নদী ও পরিখার সমন্বয় নগরটির সামরিক প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করেছিল।
৩. করতোয়া নদীর বাণিজ্যিক গুরুত্ব
❖ প্রাচীনকালে নদীপথ ছিল পণ্য পরিবহন ও যাত্রী চলাচলের প্রধান মাধ্যমগুলোর একটি।
❖ করতোয়া নদীর মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে পুণ্ড্রনগরের যোগাযোগ স্থাপিত ছিল।
❖ কৃষিজ পণ্য, মৃৎশিল্প এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক দ্রব্য পরিবহনে নদীপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।
৪. করতোয়া নদীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
❖ প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্যে করতোয়া নদীকে পবিত্র নদী হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
❖ নদীর তীরে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের ইতিহাস রয়েছে।
❖ শীলাদেবীর ঘাট মহাস্থানগড় অঞ্চলের করতোয়া নদীতীরবর্তী একটি পরিচিত ঐতিহাসিক স্থান।
❖ করতোয়া নদীর উল্লেখ স্থানীয় কিংবদন্তি, প্রত্নতাত্ত্বিক বিবরণ এবং মধ্যযুগীয় ইতিহাসেও পাওয়া যায়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
➤ মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর — পশ্চিম তীরে।
➤ করতোয়া নদী মহাস্থানগড়ের — পূর্বদিকে।
➤ মহাস্থানগড়ের জেলা — বগুড়া।
➤ মহাস্থানগড়ের উপজেলা — শিবগঞ্জ।
➤ প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের গুরুত্বপূর্ণ নদী — করতোয়া।
➤ করতোয়া নদী প্রাচীনকালে গুরুত্বপূর্ণ ছিল — নৌবাণিজ্য ও যোগাযোগের জন্য।
➤ মহাস্থানগড়ের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা — নগরপ্রাচীর, পরিখা ও নদী।
➤ করতোয়ার তীরবর্তী ঐতিহাসিক স্থান — শীলাদেবীর ঘাট।
➤ করতোয়ার তীরবর্তী প্রাচীন নগর — পুণ্ড্রনগর।
➤ পুণ্ড্রনগরের বর্তমান পরিচিতি — মহাস্থানগড়।
10
🎯 Level 1

১৯. প্রাচীনকালে এদেশের নাম ছিল— (নিবন্ধন অধিদপ্তরের সাব-রেজিস্ট্রার: ০১)

ক

বাংলাদেশ

খ

বঙ্গ

গ

বাংলা

ঘ

বাঙ্গালা

✅ সঠিক উত্তর:খ. বঙ্গ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: বঙ্গ (Vanga)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বঙ্গ (Vanga) ছিল প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ও ভৌগোলিক পরিচিতি। পরবর্তী সময়ে বঙ্গ, বঙ্গাল, বাঙ্গালা এবং বাংলা নামের দীর্ঘ ঐতিহাসিক বিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক বাংলার আঞ্চলিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে ওঠে।
❖ প্রাচীনকালে বর্তমান বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সমগ্র অঞ্চল একক কোনো নামে পরিচিত ছিল না। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অংশ পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, গৌড়, বঙ্গ, সমতট, হরিকেল, রাঢ়, সুহ্ম ও তাম্রলিপ্তি নামে পরিচিত ছিল।
❖ তাই প্রাচীন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম হিসেবে ‘বঙ্গ’ সঠিক, কিন্তু প্রাচীনকাল থেকেই সমগ্র বর্তমান বাংলাদেশের একমাত্র নাম বঙ্গ ছিল—এভাবে বলা ঐতিহাসিকভাবে অতিসরলীকরণ।
১. বঙ্গ জনপদের ঐতিহাসিক পরিচিতি
❖ বঙ্গ ছিল প্রাচীন বাংলার পূর্ব ও দক্ষিণাংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ।
❖ এই অঞ্চলের মানুষকে প্রাচীন বিভিন্ন সাহিত্যিক উৎসে বঙ্গ জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
❖ প্রাচীন সাহিত্যে বঙ্গের পরিচয় পাওয়া যায় এবং পরবর্তী বিভিন্ন রাজবংশের সময়ে এর ভূখণ্ডগত সীমা পরিবর্তিত হয়।
২. বঙ্গ জনপদের অবস্থান
❖ বঙ্গ জনপদ প্রধানত বর্তমান বাংলাদেশের মধ্য, পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
❖ ঐতিহাসিকভাবে বৃহত্তর ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল এবং পার্শ্ববর্তী বদ্বীপ অঞ্চলের সঙ্গে এর অবস্থানের সম্পর্ক পাওয়া যায়।
❖ বিভিন্ন সময়ে বঙ্গের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম সীমা পরিবর্তিত হয়েছে।
৩. বঙ্গ নামের প্রাচীন সাহিত্যিক উল্লেখ
◉ ঐতরেয় আরণ্যক
❖ প্রাচীন বৈদিক সাহিত্যে বঙ্গ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ বঙ্গ নামের প্রাচীন সাহিত্যিক উৎস হিসেবে ঐতরেয় আরণ্যক বিশেষভাবে আলোচিত।
◉ মহাভারত
❖ মহাভারতে বঙ্গসহ পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জনপদের উল্লেখ রয়েছে।
❖ মহাভারতের দিগ্বিজয়-সংক্রান্ত বিবরণে পুণ্ড্র ও বঙ্গের মতো অঞ্চলগুলোর পরিচয় পাওয়া যায়।
◉ রঘুবংশ
❖ সংস্কৃত কবি কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যে রঘুর দিগ্বিজয়ের প্রসঙ্গে বঙ্গ অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ এতে বঙ্গের ভৌগোলিক ও সামরিক পরিচয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
৪. বঙ্গ নামের ঐতিহাসিক বিবর্তন
❖ বঙ্গ (Vanga): প্রাচীন জনপদের নাম।
❖ বঙ্গাল বা বঙ্গালা (Vangala/Bangala): মধ্যযুগের ঐতিহাসিক উৎসে ব্যবহৃত নামরূপ।
❖ বাংলা (Bangla): অঞ্চল ও ভাষার পরবর্তী প্রতিষ্ঠিত নাম।
❖ Bengal: ইংরেজি ও অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষায় প্রচলিত নাম।
❖ বাংলাদেশ: আধুনিক স্বাধীন রাষ্ট্রের নাম।
৫. মধ্যযুগে বাংলার রাজনৈতিক পরিচিতি
❖ চতুর্দশ শতকে শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার পৃথক রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোকে একত্রিত করে একটি বৃহত্তর স্বাধীন সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ তাঁর সময় থেকে বাংলা একটি সুসংহত রাজনৈতিক পরিচিতি লাভ করতে থাকে।
❖ মুঘল যুগে বাংলা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল বা সুবাহ বাংলা (Subah Bangalah) হিসেবে পরিচিত হয়।
❖ পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ শাসনামলেও Bengal নামটি প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক পরিচিতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম — বঙ্গ।
➤ বঙ্গের ইংরেজি ঐতিহাসিক নাম — Vanga।
➤ বঙ্গ ছিল — প্রাচীন জনপদ।
➤ বঙ্গ জনপদের প্রধান অবস্থান — প্রাচীন বাংলার পূর্ব ও দক্ষিণাংশ।
➤ বঙ্গ নামের প্রাচীন সাহিত্যিক উল্লেখ — ঐতরেয় আরণ্যক।
➤ মহাভারতে উল্লেখিত প্রাচীন জনপদ — বঙ্গ ও পুণ্ড্র।
➤ রঘুবংশ কাব্যের রচয়িতা — কালিদাস।
➤ রঘুবংশে উল্লেখিত জনপদ — বঙ্গ।
➤ প্রাচীন বাংলার গুরুত্বপূর্ণ জনপদ — পুণ্ড্র, বঙ্গ, গৌড়, রাঢ়, সমতট, হরিকেল, তাম্রলিপ্তি।
➤ পুণ্ড্রের অবস্থান — উত্তরবঙ্গ।
➤ সমতটের অবস্থান — দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা।
➤ হরিকেলের অবস্থান — দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা।
➤ রাঢ়ের অবস্থান — প্রাচীন বাংলার পশ্চিমাংশ।
➤ বঙ্গ থেকে বিকশিত মধ্যযুগীয় নামরূপ — বঙ্গাল ও বঙ্গালা।
➤ বাংলার ইংরেজি নাম — Bengal।
➤ বাংলাকে একক রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অধীনে আনার সঙ্গে সম্পর্কিত শাসক — শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
➤ বাংলা একীকরণের গুরুত্বপূর্ণ সাল — ১৩৫২।
➤ মুঘল যুগে বাংলার প্রশাসনিক পরিচয় — সুবাহ বাংলা।
➤ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা — ১৯৭১ সালে।
➤ বিশেষ পার্থক্য: বঙ্গ—প্রাচীন জনপদ; বাংলা—ঐতিহাসিক ও ভাষাগত অঞ্চল; বাংলাদেশ—স্বাধীন রাষ্ট্র।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন