🧠 🔖
👑 Premium Topic

উপমহাদেশে/বাংলায় মুসলিম শাসন, দিল্লি সালতানাতের শাসন, স্বাধীন সুলতানি শাসন

◉ সাধারণ জ্ঞান-বাংলাদেশ বিষয়াবলী›উপমহাদেশে/বাংলায় মুসলিম শাসন, দিল্লি সালতানাতের শাসন, স্বাধীন সুলতানি শাসন

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚78মোট প্রশ্ন
🎯5মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০২. কত খ্রিষ্টাব্দে আরবরা সিন্ধু আক্রমণ করে? (বেনাপি: ০৮–০৯)

ক

৭১০ খ্রি.

খ

৭১২ খ্রি.

গ

৭১৪ খ্রি.

ঘ

৭১৬ খ্রি.

✅ সঠিক উত্তর:খ. ৭১২ খ্রি.

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ৭১২ খ্রিষ্টাব্দ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে আরব সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে সিন্ধু অঞ্চলে আরবদের বিজয় সুসংহত হয়। সাধারণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আরবদের সিন্ধু বিজয়ের সাল ৭১২ খ্রিষ্টাব্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
❖ তবে সামরিক অভিযানটির সূচনা ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে হয়েছিল বলে বহু ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যায়। তাই সামগ্রিক অভিযানটির সময়কাল ৭১১–৭১২ খ্রিষ্টাব্দ বলা অধিক নির্ভুল।
১. আরবদের সিন্ধু অভিযানের রাজনৈতিক পটভূমি
❖ সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে উমাইয়া খিলাফতের ক্ষমতা পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়।
❖ তখন সিন্ধু অঞ্চলে স্থানীয় শাসক রাজা দাহির (Raja Dahir) ক্ষমতায় ছিলেন।
❖ সিন্ধু নদ ও আরব সাগরসংলগ্ন অঞ্চল বাণিজ্যিক ও সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ আরব বণিকদের সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের পশ্চিম উপকূলের যোগাযোগ আরবদের সামরিক অভিযানের আগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
২. অভিযানের কারণ
◉ বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা
❖ আরব বণিকদের সঙ্গে সিন্ধু উপকূলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল।
❖ প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা থেকে আগত আরব জাহাজ জলদস্যুদের আক্রমণের শিকার হলে সেই ঘটনা সিন্ধু অভিযানের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
◉ উমাইয়া সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণ
❖ উমাইয়া খিলাফত পূর্বদিকে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তার করতে আগ্রহী ছিল।
❖ সিন্ধু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্য এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
৩. অভিযানের প্রধান ব্যক্তিত্ব
❖ মুহাম্মদ বিন কাসিম
✦ তিনি ছিলেন উমাইয়া খিলাফতের একজন আরব সেনাপতি।
✦ সিন্ধু অভিযানের সময় তাঁর বয়স আনুমানিক ১৭ বছর ছিল বলে প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
✦ তিনি উমাইয়া গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের অধীনে অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ হাজ্জাজ বিন ইউসুফ
✦ তিনি উমাইয়া খিলাফতের একজন শক্তিশালী গভর্নর।
✦ সিন্ধু অভিযানের পরিকল্পনা, সেনাবাহিনী সংগঠন ও সামরিক সহায়তায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
❖ খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদ
✦ পূর্ণ নাম আল-ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিক।
✦ শাসনকাল — ৭০৫–৭১৫ খ্রিষ্টাব্দ।
✦ তাঁর শাসনামলেই সিন্ধু অভিযান পরিচালিত হয়।
❖ রাজা দাহির
✦ তিনি ছিলেন আরব অভিযানের সময় সিন্ধুর স্থানীয় শাসক।
✦ মুহাম্মদ বিন কাসিমের বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
✦ ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে যুদ্ধে নিহত হন।
৪. সিন্ধু অভিযানের ঘটনাপ্রবাহ
◉ ৭১১ খ্রিষ্টাব্দ — অভিযানের সূচনা
❖ মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে আরব বাহিনী সিন্ধু অঞ্চলে অগ্রসর হয়।
❖ প্রথম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল দেবল (Debal) নামের বন্দরনগর।
◉ ৭১২ খ্রিষ্টাব্দ — রাজা দাহিরের পরাজয়
❖ আরব সেনাবাহিনী সিন্ধুর অভ্যন্তরে অগ্রসর হয়।
❖ রাজা দাহিরের বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আরব বাহিনী জয়লাভ করে।
❖ এর ফলে সিন্ধু অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উমাইয়া সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে আসে।
◉ মুলতান বিজয়
❖ মুহাম্মদ বিন কাসিম পরবর্তী অভিযানে মুলতান অঞ্চলেও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ মুলতান বর্তমান পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত।
৫. সিন্ধু বিজয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ সিন্ধু বিজয়ের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অংশে আরব মুসলিম রাজনৈতিক শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ এর ফলে আরব ও ভারতীয় উপমহাদেশের প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হয়।
❖ তবে সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
❖ পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে গজনভি, ঘুরি ও দিল্লি সালতানাতের শাসকেরা উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব সম্প্রসারণ করেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ আরবদের সিন্ধু বিজয়ের প্রচলিত সাল — ৭১২ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ সিন্ধু অভিযানের সামগ্রিক সময়কাল — ৭১১–৭১২ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ সিন্ধু বিজয়ী আরব সেনাপতি — মুহাম্মদ বিন কাসিম।
➤ সিন্ধু অভিযানের সময় মুহাম্মদ বিন কাসিমের প্রচলিত বয়স — ১৭ বছর।
➤ মুহাম্মদ বিন কাসিম ছিলেন — উমাইয়া খিলাফতের সেনাপতি।
➤ অভিযানের পরিকল্পনাকারী গুরুত্বপূর্ণ গভর্নর — হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।
➤ সিন্ধু অভিযানের সময় উমাইয়া খলিফা — প্রথম আল-ওয়ালিদ।
➤ প্রথম আল-ওয়ালিদের শাসনকাল — ৭০৫–৭১৫।
➤ সিন্ধু অভিযানের সময় স্থানীয় শাসক — রাজা দাহির।
➤ রাজা দাহির নিহত হন — ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ সিন্ধু অভিযানের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর — দেবল।
➤ দেবল অবস্থিত ছিল — সিন্ধু অঞ্চলের আরব সাগরসংলগ্ন উপকূলে।
➤ অভিযানে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিজিত শহর — মুলতান।
➤ মুলতান বর্তমানে অবস্থিত — পাকিস্তানে।
➤ আরবদের সিন্ধু অভিযান সংঘটিত হয় — অষ্টম শতাব্দীতে।
➤ উমাইয়া খিলাফতের ঐতিহাসিক রাজধানী — দামেস্ক।
➤ উমাইয়া খিলাফতের শাসনকাল — ৬৬১–৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ বিশেষ পার্থক্য: সিন্ধু অভিযান শুরু ৭১১; প্রচলিত বিজয়ের সাল ৭১২।"
02
🎯 Level 1

০৫. ভারতে প্রথম মুসলিম অভিযান পরিচালনা করেন— (জাবি: ১৫–১৬; বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা: ১৮)

ক

হাজ্জাজ বিন ইউসুফ

খ

মুহম্মদ বিন কাসিম

গ

মুহম্মদ ঘুরী

ঘ

বখতিয়ার খলজি

✅ সঠিক উত্তর:খ. মুহম্মদ বিন কাসিম

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: মুহাম্মদ বিন কাসিম (Muhammad bin Qasim)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজনৈতিক শাসন প্রতিষ্ঠাকারী প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানের নেতা ছিলেন মুহাম্মদ বিন কাসিম।
❖ তিনি ৭১১–৭১২ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খিলাফতের পক্ষে সিন্ধু অভিযান পরিচালনা করেন এবং ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে রাজা দাহিরকে পরাজিত করেন।
❖ তবে প্রশ্নে ব্যবহৃত ‘প্রথম মুসলিম অভিযান’ কথাটি ঐতিহাসিকভাবে কিছুটা বিস্তৃত। মুহাম্মদ বিন কাসিমের আগেও আরবদের ভারতীয় উপকূলে সামরিক তৎপরতা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ তাই তাঁকে ভারতীয় উপমহাদেশে সফল প্রাথমিক আরব সামরিক বিজয়ের প্রধান নেতা বলা অধিক নির্ভুল।
১. মুহাম্মদ বিন কাসিমের জীবন ও পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আল-সাকাফি।
❖ ইংরেজি নাম: Muhammad ibn al-Qasim al-Thaqafi।
❖ জন্ম: আনুমানিক ৬৯৫ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ মৃত্যু: আনুমানিক ৭১৫ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জাতিগত পরিচয়: আরব।
❖ গোত্র: সাকিফ (Thaqif)।
❖ সামরিক পরিচয়: উমাইয়া খিলাফতের সেনাপতি।
❖ অভিযানের সময় বয়স: প্রচলিত মতে প্রায় ১৭ বছর।
❖ প্রধান অভিযান: সিন্ধু বিজয়।
❖ সংশ্লিষ্ট গভর্নর: হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।
❖ সংশ্লিষ্ট খলিফা: প্রথম আল-ওয়ালিদ।
২. অভিযানের রাজনৈতিক পটভূমি
❖ অষ্টম শতাব্দীতে উমাইয়া খিলাফত সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছিল।
❖ উমাইয়া গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সিন্ধু অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা করেন।
❖ প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণে জাহাজে জলদস্যুদের আক্রমণ এবং স্থানীয় শাসকের সঙ্গে বিরোধকে অভিযানের একটি তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
❖ এর পাশাপাশি বাণিজ্যপথ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারও অভিযানের বৃহত্তর পটভূমিতে ছিল।
৩. মুহাম্মদ বিন কাসিমের সামরিক অভিযান
◉ দেবল বিজয়
❖ সিন্ধু উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর দেবল আরব বাহিনীর প্রথম দিককার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল।
❖ বন্দরটি দখলের পর আরব বাহিনী সিন্ধুর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
◉ রাজা দাহিরের সঙ্গে যুদ্ধ
❖ ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে আরব বাহিনী রাজা দাহিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
❖ যুদ্ধে রাজা দাহির নিহত হন এবং সিন্ধুর একটি বড় অংশ আরব নিয়ন্ত্রণে আসে।
◉ মুলতান অভিযান
❖ সিন্ধুর অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে সামরিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর আরব বাহিনী মুলতানের দিকে অগ্রসর হয়।
❖ মুলতান বিজয় উত্তর-পশ্চিম উপমহাদেশে উমাইয়া শাসনের পরিসর সম্প্রসারণ করে।
৪. সিন্ধু বিজয়ের পর প্রশাসন
❖ আরব বাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সমঝোতা ও করব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে।
❖ সিন্ধু বিজয়ের ফলে আরব শাসনব্যবস্থা ও ভারতীয় সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়।
❖ তবে এই বিজয়ের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের সব অঞ্চলে একই সময়ে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
৫. মুহাম্মদ বিন কাসিম ও পরবর্তী মুসলিম বিজেতাদের পার্থক্য
❖ মুহাম্মদ বিন কাসিম অষ্টম শতাব্দীতে সিন্ধু বিজয় করেন।
❖ সুলতান মাহমুদ একাদশ শতাব্দীতে উত্তর-পশ্চিম ভারতে একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ মুহাম্মদ ঘুরি দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগে উত্তর ভারতে স্থায়ী মুসলিম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করেন।
❖ বখতিয়ার খলজি ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাথমিক সফল আরব বিজয়ের সেনাপতি — মুহাম্মদ বিন কাসিম।
➤ মুহাম্মদ বিন কাসিমের পূর্ণ নাম — মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আল-সাকাফি।
➤ মুহাম্মদ বিন কাসিমের জন্ম — আনুমানিক ৬৯৫ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ মৃত্যু — আনুমানিক ৭১৫ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ মুহাম্মদ বিন কাসিম ছিলেন — আরব সেনাপতি।
➤ তাঁর খিলাফত — উমাইয়া।
➤ অভিযানের সময় খলিফা — আল-ওয়ালিদ।
➤ তাঁর সামরিক অভিযানের পৃষ্ঠপোষক — হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।
➤ সিন্ধু বিজয়ের প্রচলিত সাল — ৭১২ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ দেবল ছিল — সিন্ধু উপকূলের বন্দরনগর।
➤ সিন্ধুর পরাজিত রাজা — দাহির।
➤ মুহাম্মদ বিন কাসিমের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিজয় — মুলতান।
➤ সুলতান মাহমুদের গুরুত্বপূর্ণ অভিযান — সোমনাথ, ১০২৫–১০২৬।
➤ দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধ — ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা — বখতিয়ার খলজির নদীয়া বিজয়ের মাধ্যমে, ১২০৪–১২০৫।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৮. সুলতান মাহমুদ কত বার ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক: ১২; ইসলামী ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার: ২৪)

ক

১৫ বার

খ

১৭ বার

গ

১৮ বার

ঘ

২০ বার

✅ সঠিক উত্তর:খ. ১৭ বার

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ১৭ বার।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ গজনভি সাম্রাজ্যের সুলতান মাহমুদ ভারতীয় উপমহাদেশে ১৭ বার সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন—এটি প্রচলিত সাধারণ জ্ঞান ও ইতিহাসভিত্তিক পরীক্ষার উত্তর।
❖ তাঁর অভিযানের সময়কাল সাধারণত ১০০০–১০২৭ খ্রিষ্টাব্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে কোন অভিযানকে পৃথক আক্রমণ হিসেবে গণনা করা হবে, তা নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে পার্থক্য রয়েছে।
❖ সুলতান মাহমুদের সবচেয়ে আলোচিত অভিযানগুলোর একটি হলো ১০২৫–১০২৬ সালে গুজরাটের সোমনাথ মন্দির আক্রমণ।
১. সুলতান মাহমুদের জীবন ও পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: ইয়ামিনউদ্দৌলা আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে সবুক্তগীন।
❖ প্রচলিত নাম: সুলতান মাহমুদ গজনভি।
❖ ইংরেজি নাম: Mahmud of Ghazni।
❖ জন্ম: ৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ মৃত্যু: ৩০ এপ্রিল ১০৩০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ পিতা: সবুক্তগীন (Sabuktigin)।
❖ রাজবংশ: গজনভি বংশ।
❖ শাসনকাল: ৯৯৮–১০৩০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ রাজধানী: গজনি (Ghazni)।
❖ গজনির বর্তমান অবস্থান: আফগানিস্তান।
❖ জাতিগত ঐতিহাসিক পরিচয়: তুর্কি উৎসসম্পন্ন গজনভি শাসক।
❖ গুরুত্বপূর্ণ অভিযান: উত্তর-পশ্চিম ভারত, পাঞ্জাব ও সোমনাথ অভিযান।
২. গজনভি রাজবংশের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
❖ গজনভি রাজবংশ ছিল মধ্য এশীয় তুর্কি সামরিক ঐতিহ্য থেকে গড়ে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম রাজবংশ।
❖ আলপ্তগীন (Alp Tigin) ৯৬২ সালে গজনিতে সামরিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ পরবর্তী সময়ে সবুক্তগীন গজনভি শক্তিকে সুসংহত করেন।
❖ সবুক্তগীনের পুত্র সুলতান মাহমুদ ৯৯৮ সালে ক্ষমতায় এসে সাম্রাজ্যের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটান।
❖ তাঁর আমলে গজনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
৩. ভারতবর্ষে সুলতান মাহমুদের অভিযান
◉ উত্তর-পশ্চিম ভারতের অভিযান
❖ সুলতান মাহমুদ ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে একাধিকবার সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ তিনি পাঞ্জাব, মুলতান, কনৌজ এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালান।
❖ প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণে তাঁর অভিযানের সংখ্যা ১৭টি বলা হয়।
◉ ওয়াইহিন্দের যুদ্ধ, ১০০১
❖ গজনভি বাহিনীর সঙ্গে হিন্দুশাহী শাসক জয়পালের সংঘর্ষ হয়।
❖ এই যুদ্ধে সুলতান মাহমুদের বাহিনী জয়লাভ করে।
❖ এর ফলে উত্তর-পশ্চিম ভারতের রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটে।
◉ আনন্দপালের বিরুদ্ধে অভিযান
❖ জয়পালের উত্তরসূরি আনন্দপাল গজনভি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
❖ গজনভি বাহিনী পরবর্তী অভিযানগুলোতে হিন্দুশাহী শক্তিকে আরও দুর্বল করে।
৪. সোমনাথ মন্দির অভিযান
❖ সুলতান মাহমুদের সবচেয়ে বিখ্যাত সামরিক অভিযানগুলোর একটি ছিল সোমনাথ অভিযান।
❖ সোমনাথ মন্দির বর্তমান ভারতের গুজরাটের প্রভাস পাটন অঞ্চলে, আরব সাগরের উপকূলের কাছে অবস্থিত।
❖ মন্দিরটি হিন্দুধর্মের গুরুত্বপূর্ণ শিব উপাসনাকেন্দ্র।
❖ ১০২৫–১০২৬ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মাহমুদ সোমনাথে অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ অভিযানে মন্দিরের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সম্পদ লুণ্ঠিত হয়।
❖ সোমনাথ অভিযান নিয়ে বিভিন্ন যুগে বহু কাহিনি গড়ে ওঠায় গবেষকেরা সমসাময়িক ও পরবর্তী ঐতিহাসিক বিবরণের পার্থক্য গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করেন।
৫. সুলতান মাহমুদের দরবার ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড
❖ গজনভি শাসনামলে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ ঘটে।
❖ সুলতান মাহমুদের আমলের সঙ্গে বিখ্যাত পণ্ডিত আল-বিরুনি (Al-Biruni) এবং কবি ফেরদৌসীর (Ferdowsi) নাম সম্পর্কিত।
❖ আল-বিরুনি
✦ জন্ম — আনুমানিক ৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দ।
✦ মৃত্যু — আনুমানিক ১০৪৮ খ্রিষ্টাব্দ।
✦ বিখ্যাত গ্রন্থ — কিতাবুল হিন্দ (Kitab al-Hind)।
✦ ভারতীয় ধর্ম, দর্শন, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সমাজ সম্পর্কে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ।
❖ ফেরদৌসী
✦ জন্ম — আনুমানিক ৯৪০ খ্রিষ্টাব্দ।
✦ মৃত্যু — আনুমানিক ১০২০ খ্রিষ্টাব্দ।
✦ বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম — শাহনামা (Shahnameh)।
✦ শাহনামা ফারসি ভাষার অন্যতম বিখ্যাত মহাকাব্য।
৬. সুলতান মাহমুদের অভিযানের ঐতিহাসিক মূল্যায়ন
❖ তাঁর সামরিক অভিযানগুলো গজনভি সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি করে।
❖ বিভিন্ন অভিযানে বিপুল সম্পদ লুণ্ঠন, যুদ্ধ ও ধ্বংস সংঘটিত হয়েছিল।
❖ কিছু অঞ্চল গজনভি কর্তৃত্বে এলেও তাঁর অধিকাংশ ভারতীয় অভিযান সাময়িক সামরিক আক্রমণ ও সম্পদ আহরণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
❖ তাই সুলতান মাহমুদের অভিযান এবং পরবর্তী ঘুরি শাসকদের অধীনে উত্তর ভারতে স্থায়ী প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সুলতান মাহমুদ ভারতবর্ষে আক্রমণ করেন — প্রচলিত মতে ১৭ বার।
➤ সুলতান মাহমুদের জন্ম — ৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ মৃত্যু — ৩০ এপ্রিল ১০৩০।
➤ শাসনকাল — ৯৯৮–১০৩০।
➤ সুলতান মাহমুদের রাজবংশ — গজনভি।
➤ সুলতান মাহমুদের পিতা — সবুক্তগীন।
➤ গজনভি শক্তির প্রাথমিক প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত — আলপ্তগীন।
➤ আলপ্তগীনের গজনি দখল — ৯৬২ সালে।
➤ গজনভি সাম্রাজ্যের রাজধানী — গজনি।
➤ গজনি বর্তমানে অবস্থিত — আফগানিস্তানে।
➤ সুলতান মাহমুদের ভারতীয় অভিযান — একাদশ শতাব্দী।
➤ অভিযানগুলোর প্রচলিত সময়কাল — ১০০০–১০২৭।
➤ ওয়াইহিন্দের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ — ১০০১ সালে।
➤ ১০০১ সালের যুদ্ধে হিন্দুশাহী প্রতিপক্ষ — জয়পাল।
➤ জয়পালের উত্তরসূরি — আনন্দপাল।
➤ সুলতান মাহমুদের বিখ্যাত সোমনাথ অভিযান — ১০২৫–১০২৬।
➤ সোমনাথ মন্দির অবস্থিত — গুজরাট, ভারত।
➤ সোমনাথ মন্দির সম্পর্কিত — শিব উপাসনার সঙ্গে।
➤ সুলতান মাহমুদের সময়ের বিখ্যাত পণ্ডিত — আল-বিরুনি।
➤ আল-বিরুনির বিখ্যাত গ্রন্থ — কিতাবুল হিন্দ।
➤ আল-বিরুনির জন্ম — আনুমানিক ৯৭৩।
➤ আল-বিরুনির মৃত্যু — আনুমানিক ১০৪৮।
➤ গজনভি দরবারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিখ্যাত কবি — ফেরদৌসী।
➤ ফেরদৌসীর বিখ্যাত মহাকাব্য — শাহনামা।
➤ শাহনামা রচিত — ফারসি ভাষায়।
➤ বিশেষ পার্থক্য: সুলতান মাহমুদ—১৭ বার ভারত অভিযান; মুহাম্মদ ঘুরি—১১৯২ সালের দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধ।
04
🎯 Level 1

১২. ভারতবর্ষে মুসলিম শাসন আমলে রাজভাষা ছিল— (১০ম প্রভাষক নিবন্ধন; সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক: ১১)

ক

বাংলা

খ

আরবি

গ

সংস্কৃত

ঘ

ফারসি

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ফারসি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ফারসি (Persian)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ভারতীয় উপমহাদেশে দিল্লি সালতানাত ও মুঘল শাসনামলে ফারসি ভাষা ছিল গুরুত্বপূর্ণ রাজদরবারি ও প্রশাসনিক ভাষা।
❖ ১২০৬ সালে দিল্লি সালতানাত প্রতিষ্ঠার পর ফারসি ভাষার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
❖ ফারসি ভাষা ব্যবহৃত হতো রাজদরবার, প্রশাসনিক নির্দেশ, রাজস্বব্যবস্থা, ঐতিহাসিক গ্রন্থ, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সাহিত্যচর্চায়।
১. ফারসি ভাষার পরিচিতি
❖ বাংলা নাম: ফারসি।
❖ ইংরেজি নাম: Persian।
❖ নিজস্ব নাম: Farsi (فارسی)।
❖ ভাষাপরিবার: ইন্দো-ইউরোপীয়।
❖ ভাষাশাখা: ইন্দো-ইরানীয়।
❖ উপশাখা: ইরানীয় ভাষাসমূহ।
❖ প্রধান ব্যবহারকারী অঞ্চল: ইরান, আফগানিস্তান ও তাজিকিস্তানসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল।
❖ ফারসি ভাষার ইরানি, দারি ও তাজিকসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও আধুনিক রূপ রয়েছে।
২. দিল্লি সালতানাতে ফারসি ভাষা
❖ ১২০৬ সালে কুতুবউদ্দিন আইবক দিল্লি সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ দিল্লি সালতানাতের শাসকেরা প্রশাসনিক ও সাহিত্যিক কার্যক্রমে ফারসি ভাষাকে গুরুত্ব দেন।
❖ আদালত, রাজস্ব, সামরিক প্রশাসন এবং রাজদরবারের বহু নথি ফারসি ভাষায় রচিত হতো।
❖ এই সময় ফারসি ভাষার মাধ্যমে মধ্য এশিয়া, ইরান ও ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে জ্ঞান ও সাহিত্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়।
৩. মুঘল যুগে ফারসি ভাষা
❖ ১৫২৬ সালে বাবর মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ মুঘল আমলে ফারসি রাজদরবার ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
❖ সম্রাট আকবরের শাসনামলে প্রশাসনিক নথি, রাজস্বব্যবস্থা এবং ঐতিহাসিক গ্রন্থ রচনায় ফারসির ব্যাপক ব্যবহার ছিল।
❖ সম্রাট আকবরের সভাসদ আবুল ফজল ফারসি ভাষায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন—
১. আকবরনামা (Akbarnama): সম্রাট আকবরের শাসন ও রাজনৈতিক ইতিহাস।
২. আইন-ই-আকবরি (Ain-i-Akbari): মুঘল প্রশাসন, রাজস্ব, সামরিক ব্যবস্থা ও সমাজের বিবরণ।
৪. বাংলায় ফারসি ভাষার বিস্তার
❖ বাংলায় তুর্কি মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠার পর ফারসি ভাষার প্রশাসনিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
❖ মধ্যযুগের বাংলার রাজদরবার, ভূমি প্রশাসন এবং সরকারি যোগাযোগে ফারসি ব্যবহৃত হতো।
❖ ফারসি ভাষার প্রভাবে বাংলা শব্দভান্ডারেও বহু শব্দ যুক্ত হয়।
❖ যেমন— দরবার, দফতর, খাজনা, জমিদার, নামাজ, বাজার, কারখানা, কাগজ, রসিদ ইত্যাদি। এসব শব্দের উৎস ও বাংলায় প্রবেশের পথ সব ক্ষেত্রে এক নয়; কিছু শব্দ ফারসি থেকে, কিছু আরবি উৎস থেকে ফারসির মাধ্যমে এসেছে।
৫. বাংলার মধ্যযুগীয় ফারসি ইতিহাসগ্রন্থ
❖ তবকাত-ই-নাসিরি (Tabaqat-i-Nasiri)
✦ রচয়িতা — মিনহাজ-ই-সিরাজ জুজজানি।
✦ রচনাকাল — আনুমানিক ১২৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
✦ বিষয় — মুসলিম রাজবংশ ও শাসকদের ইতিহাস।
✦ বাংলায় বখতিয়ার খলজির অভিযান সম্পর্কে এটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উৎস।
❖ রিয়াজ-উস-সালাতিন (Riyaz-us-Salatin)
✦ রচয়িতা — গোলাম হোসেন সলিম।
✦ রচনাকাল — ১৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দ।
✦ বিষয় — বাংলার মুসলিম শাসনের ইতিহাস।
৬. সরকারি ভাষা হিসেবে ফারসির বিলুপ্তি
❖ ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৩৭ সালে আদালত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে ফারসি ভাষার আনুষ্ঠানিক মর্যাদা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
❖ ১ ডিসেম্বর ১৮৩৭ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পরিবর্তন কার্যকর করার আইনি সুযোগ সৃষ্টি হয়।
❖ ফলে দীর্ঘদিনের সরকারি ও আদালতের ভাষা হিসেবে ফারসির প্রাধান্য ক্রমে হ্রাস পায়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ভারতে মুসলিম শাসনামলের রাজভাষা — ফারসি।
➤ ফারসির ইংরেজি নাম — Persian।
➤ ফারসি ভাষা belongs to — ইন্দো-ইরানীয় ভাষাশাখা।
➤ দিল্লি সালতানাত প্রতিষ্ঠিত — ১২০৬ সালে।
➤ দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা — কুতুবউদ্দিন আইবক।
➤ দিল্লি সালতানাতের প্রথম বংশ — মামলুক বা দাস বংশ।
➤ দিল্লি সালতানাতের শেষ বংশ — লোদি বংশ।
➤ মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত — ১৫২৬ সালে।
➤ মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা — বাবর।
➤ মুঘল প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভাষা — ফারসি।
➤ আকবরনামার রচয়িতা — আবুল ফজল।
➤ আইন-ই-আকবরির রচয়িতা — আবুল ফজল।
➤ তবকাত-ই-নাসিরির রচয়িতা — মিনহাজ-ই-সিরাজ।
➤ তবকাত-ই-নাসিরির রচনাকাল — আনুমানিক ১২৬০।
➤ রিয়াজ-উস-সালাতিনের রচয়িতা — গোলাম হোসেন সলিম।
➤ রিয়াজ-উস-সালাতিন রচিত — ১৭৮৮ সালে।
➤ রাজভাষা হিসেবে ফারসির মর্যাদা প্রত্যাহারের গুরুত্বপূর্ণ সাল — ১৮৩৭।
➤ বিশেষ পার্থক্য: আরবি—ইসলামের ধর্মীয় গ্রন্থের প্রধান ভাষা; ফারসি—দিল্লি ও মুঘল শাসনের গুরুত্বপূর্ণ রাজভাষা; বাংলা—স্থানীয় জনগণের ভাষা।
05
🎯 Level 1

১৭. বখতিয়ার খলজি বঙ্গ বিজয়ের সময় বাংলার শাসক ছিলেন— (পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক: ১৪)

ক

লক্ষ্মণ সেন

খ

বিজয় সেন

গ

বল্লাল সেন

ঘ

কেউই নন

✅ সঠিক উত্তর:ক. লক্ষ্মণ সেন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: লক্ষ্মণ সেন (Lakshmana Sena)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ লক্ষ্মণ সেন ছিলেন বাংলার সেন রাজবংশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাসক। বখতিয়ার খলজি যখন নদীয়া আক্রমণ করেন, তখন লক্ষ্মণ সেন বাংলার শাসক ছিলেন।
❖ লক্ষ্মণ সেনের শাসনকাল সাধারণত আনুমানিক ১১৭৮–১২০৬ খ্রিষ্টাব্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
❖ তাঁর পিতা ছিলেন বল্লাল সেন (Ballala Sena) এবং পিতামহ ছিলেন বিজয় সেন (Vijaya Sena)।
১. লক্ষ্মণ সেনের রাজনৈতিক পরিচিতি
❖ লক্ষ্মণ সেনের শাসনামলে সেন রাজ্যের রাজনৈতিক প্রভাব বাংলা অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল।
❖ তাঁর রাজত্বকালে নদীয়া বা নবদ্বীপ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সেন শাসনের প্রশাসনিক যোগাযোগ বিক্রমপুর ও পূর্ব বাংলার সঙ্গেও ছিল।
❖ সেন রাজারা ব্রাহ্মণ্য ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃত সাহিত্যচর্চার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
❖ লক্ষ্মণ সেনের রাজসভা বিশেষভাবে সাহিত্যিক ও পণ্ডিতদের জন্য পরিচিত ছিল।
২. লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার কবি ও সাহিত্যিক
◉ জয়দেব (Jayadeva)
❖ জয়দেব ছিলেন সংস্কৃত সাহিত্যের বিখ্যাত কবি।
❖ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ গীতগোবিন্দ (Gita Govinda)।
❖ গীতগোবিন্দ রাধা ও কৃষ্ণের প্রেম এবং ভক্তিমূলক কাব্যের জন্য প্রসিদ্ধ।
❖ প্রচলিত সাহিত্যিক ঐতিহ্যে জয়দেবকে লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়; তবে তাঁর জীবনের সব ঐতিহাসিক বিবরণ নিশ্চিত নয়।
◉ ধোয়ী (Dhoyi)
❖ ধোয়ী ছিলেন সেন যুগের সংস্কৃত কবি।
❖ তাঁর বিখ্যাত রচনা পবনদূত (Pavanaduta)।
❖ পবনদূত একটি দূতকাব্য, যা কালিদাসের মেঘদূত-এর সাহিত্যিক ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।
◉ উমাপতিধর (Umapatidhara)
❖ উমাপতিধর ছিলেন সেন যুগের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃত সাহিত্যিক ও রাজসভার পণ্ডিত।
❖ তাঁর নাম সেন রাজবংশের শিলালিপি ও সংস্কৃত সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
◉ শরণ (Sharanna) ও গোবর্ধন (Govardhana)
❖ প্রচলিত বিবরণে শরণ ও গোবর্ধনকেও লক্ষ্মণ সেনের সভাসংলগ্ন কবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
❖ গোবর্ধনের সঙ্গে আর্যাসপ্তশতী (Aryasaptashati) নামক সংস্কৃত কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কিত।
৩. লক্ষ্মণ সেন ও বখতিয়ার খলজির সংঘর্ষ
❖ ১২০৪–১২০৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে বখতিয়ার খলজি নদীয়া আক্রমণ করেন।
❖ তাঁর আকস্মিক অভিযানের মুখে লক্ষ্মণ সেন পূর্ব বাংলার দিকে সরে যান।
❖ এর ফলে নদীয়া ও উত্তর-পশ্চিম বাংলার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সেন শাসনের পতন ঘটে এবং মুসলিম রাজনৈতিক শাসনের সূচনা হয়।
❖ কিন্তু সেন বংশের কর্তৃত্ব সম্পূর্ণভাবে একই দিনে বিলুপ্ত হয়নি। পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলার কিছু অঞ্চলে লক্ষ্মণ সেন এবং তাঁর উত্তরসূরিদের প্রভাব আরও কিছু সময় বজায় ছিল।
৪. সেন রাজবংশের গুরুত্বপূর্ণ শাসক
❖ হেমন্ত সেন: সেন রাজবংশের প্রাথমিক শক্তিবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ বিজয় সেন: বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সেন রাজ্যের শক্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ বল্লাল সেন: ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত শাসক।
❖ লক্ষ্মণ সেন: সেন রাজ্যের শেষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সম্রাট; তাঁর আমলে বখতিয়ার খলজির নদীয়া বিজয় সংঘটিত হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বখতিয়ার খলজির বঙ্গ বিজয়ের সময় বাংলার শাসক — লক্ষ্মণ সেন।
➤ লক্ষ্মণ সেনের রাজবংশ — সেন বংশ।
➤ লক্ষ্মণ সেনের শাসনকাল — আনুমানিক ১১৭৮–১২০৬ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ লক্ষ্মণ সেনের পিতা — বল্লাল সেন।
➤ লক্ষ্মণ সেনের পিতামহ — বিজয় সেন।
➤ লক্ষ্মণ সেনের গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় কেন্দ্র — নদীয়া বা নবদ্বীপ।
➤ লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার বিখ্যাত কবি — জয়দেব।
➤ জয়দেবের বিখ্যাত কাব্য — গীতগোবিন্দ।
➤ ধোয়ীর বিখ্যাত কাব্য — পবনদূত।
➤ গোবর্ধনের কাব্য — আর্যাসপ্তশতী।
➤ সেন যুগের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক — উমাপতিধর।
➤ বখতিয়ার খলজির নদীয়া বিজয় — আনুমানিক ১২০৪–১২০৫।
➤ নদীয়া বিজয়ের পর লক্ষ্মণ সেন সরে যান — পূর্ব বাংলায়।
➤ সেন শাসনের পতনের মাধ্যমে উত্তর-পশ্চিম বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয় — তুর্কি মুসলিম শাসন।
➤ বিজয় সেন → বল্লাল সেন → লক্ষ্মণ সেন।
Advertisement
06
🎯 Level 1

২১. হযরত শাহজালাল কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন? (চবি: ০৫-০৬; বেরোবি: ১৭-১৮)

ক

আফগানিস্তান

খ

ইরান

গ

আরাকান

ঘ

তুরস্ক

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. তুরস্ক

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: তুরস্ক (Turkey)—ঐতিহাসিকভাবে আনাতোলিয়ার কোনিয়া অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
◈ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনী:
❖ হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর উৎপত্তিস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে ইয়েমেন, তুর্কিস্তান এবং বর্তমান তুরস্কের কোনিয়া (Konya) অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ তবে বাংলাপিডিয়ার গবেষণামূলক বিবরণ অনুযায়ী, ১৮৭৩ সালে সিলেটে আবিষ্কৃত শিলালিপির তথ্য তাঁর ‘কুনিয়ায়ী’ বা কোনিয়া-সম্পর্কিত পরিচয়কে সমর্থন করে। সে কারণে প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে তুরস্ক সঠিক উত্তর।
❖ তাঁর পরিচিত ‘মুজাররদ-ই-ইয়ামানি’ উপাধিকে সরাসরি ইয়েমেনে জন্মের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ হযরত শাহজালাল (রহ.) ছিলেন ত্রয়োদশ–চতুর্দশ শতকের একজন বিখ্যাত সুফি সাধক ও ইসলাম প্রচারক।
❖ তিনি বিশেষভাবে সিলেট অঞ্চলে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও ১৩০৩ সালের সিলেট বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ তাঁর পূর্ণ নাম সাধারণত শেখ জালালউদ্দিন মুজাররদ (Shaikh Jalaluddin Mujarrad) হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
১. হযরত শাহজালালের উৎপত্তিস্থান
❖ প্রাচীন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় জীবনীগ্রন্থে তাঁর জন্মস্থান নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যায়।
❖ গুলজার-ই-আবরার (Gulzar-i-Abrar) গ্রন্থে তাঁকে তুর্কিস্তানি বলা হয়েছে।
❖ পরবর্তী সুহাইল-ই-ইয়ামান (Suhail-i-Yaman) গ্রন্থে তাঁকে ইয়েমেনের সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে।
❖ তবে গবেষণায় তাঁর কুনিয়ায়ী (Kuniyayi) পরিচয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি আনাতোলিয়ার কোনিয়া (Konya) অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ বর্তমানে কোনিয়া তুরস্কের একটি ঐতিহাসিক শহর।
❖ চতুর্দশ শতকে আধুনিক তুরস্ক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিল না। তাই ঐতিহাসিকভাবে তাঁর জন্মস্থানকে সরাসরি বর্তমান রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্বের ভাষায় বর্ণনা করার পরিবর্তে কোনিয়া বা আনাতোলিয়াসংলগ্ন অঞ্চল বলা অধিক নির্ভুল।
২. হযরত শাহজালালের বাংলায় আগমন
❖ হযরত শাহজালালের বাংলায় আগমনের সঙ্গে সিলেট বিজয়ের ঘটনা বিশেষভাবে সম্পর্কিত।
❖ সে সময় সিলেট অঞ্চলের স্থানীয় শাসক ছিলেন গৌড় গোবিন্দ (Gaur Govinda)।
❖ প্রচলিত ঐতিহাসিক ও লোককাহিনিভিত্তিক বর্ণনায় বলা হয়, স্থানীয় মুসলিম অধিবাসী বুরহানউদ্দিনের ওপর অত্যাচারের ঘটনা সিলেটে সামরিক অভিযানের অন্যতম পটভূমি তৈরি করে।
❖ বাংলার সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ সিলেট অভিযানে সৈন্য প্রেরণ করেন।
❖ এই অভিযানে হযরত শাহজালাল এবং তাঁর অনুসারীরা অংশগ্রহণ করেন।
৩. ১৩০৩ সালের সিলেট বিজয়
❖ ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে (৭০৩ হিজরি) সিলেট বিজয়ের ঘটনা ঘটে।
❖ অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব—
শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ: বাংলার সুলতান।
সিকান্দার খান গাজী: সিলেট অভিযানের অন্যতম প্রধান সামরিক নেতা।
নাসিরউদ্দিন: সুলতানের পক্ষ থেকে অভিযানে নেতৃত্বদানকারী সামরিক কর্মকর্তা।
হযরত শাহজালাল: সুফি সাধক ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।
গৌড় গোবিন্দ: সিলেট অঞ্চলের স্থানীয় শাসক।
❖ প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল ৩৬০ জন আউলিয়া বা অনুসারী নিয়ে সিলেট অঞ্চলে আগমন করেন।
❖ এই ঐতিহ্যের কারণে সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।
৪. ইবনে বতুতার সঙ্গে সাক্ষাৎ
❖ মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা (Ibn Battuta) ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভ্রমণ করেন।
❖ তিনি সিলেট অঞ্চলে হযরত শাহজালালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে।
❖ ইবনে বতুতা হযরত শাহজালালের খানকাহে প্রায় তিন দিন অবস্থান করেন।
❖ তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে হযরত শাহজালালের জীবনযাপন, ধর্মীয় সাধনা এবং স্থানীয় জনগণের শ্রদ্ধার বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ শাহজালালের সঙ্গে ইবনে বতুতার সাক্ষাতের ঘটনা তাঁর ঐতিহাসিক অস্তিত্ব ও চতুর্দশ শতকের সিলেটে কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
৫. শাহজালালের মাজার ও ঐতিহাসিক নিদর্শন
❖ হযরত শাহজালালের মাজার বাংলাদেশের সিলেট শহরে অবস্থিত।
❖ মাজারসংলগ্ন এলাকায় তাঁর ব্যবহৃত বলে ঐতিহ্যগতভাবে পরিচিত কয়েকটি দ্রব্য সংরক্ষিত রয়েছে।
❖ সিলেট জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্যে তলোয়ার, খড়ম, প্লেট ও বাটি সংরক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
❖ এগুলোর ঐতিহাসিক উৎস ও সংরক্ষণের যথাযথ পদ্ধতি যাচাই এবং প্রত্নসম্পদ হিসেবে সুরক্ষার বিষয় বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ হযরত শাহজালালের উৎপত্তিস্থান হিসেবে পরীক্ষার উত্তর — তুরস্ক।
➤ হযরত শাহজালালের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক শহর — কোনিয়া (Konya)।
➤ কোনিয়া বর্তমানে অবস্থিত — তুরস্কে।
➤ শাহজালালের ঐতিহাসিক পরিচয়ের একটি রূপ — কুনিয়ায়ী (Kuniyayi)।
➤ তাঁর অপর পরিচিতি — মুজাররদ-ই-ইয়ামানি।
➤ তাঁর জন্মস্থান নিয়ে — ঐতিহাসিক সূত্রে মতভেদ রয়েছে।
➤ হযরত শাহজালালের পূর্ণ নাম — শেখ জালালউদ্দিন মুজাররদ।
➤ শাহজালালের সঙ্গে সম্পর্কিত শহর — সিলেট।
➤ সিলেট বিজয় — ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ সিলেট বিজয়ের হিজরি সাল — ৭০৩ হিজরি।
➤ সিলেট বিজয়ের সময় বাংলার সুলতান — শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ।
➤ সিলেটের তৎকালীন শাসক — গৌড় গোবিন্দ।
➤ সিলেট অভিযানের প্রধান সামরিক নেতাদের একজন — সিকান্দার খান গাজী।
➤ শাহজালালের সঙ্গে আগত আউলিয়ার প্রচলিত সংখ্যা — ৩৬০ জন।
➤ সিলেটের ঐতিহাসিক পরিচিতি — ৩৬০ আউলিয়ার দেশ।
➤ শাহজালালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারী বিদেশি পরিব্রাজক — ইবনে বতুতা।
➤ ইবনে বতুতার বাংলায় আগমন — ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ শাহজালালের মাজার — সিলেট শহরে।
➤ শাহজালালের ব্যবহৃত বলে পরিচিত সংরক্ষিত দ্রব্য — তলোয়ার ও খড়মসহ কয়েকটি নিদর্শন।
07
🎯 Level 1

০১. ভারতীয় উপমহাদেশে স্থায়ী মুসলিম শাসনের সূচনা ঘটে— / কখন ভারতীয় উপমহাদেশে স্থায়ী মুসলিম শাসনের সূচনা ঘটে? (পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবার পরিকল্পনা সহকারী: ০৩)

ক

খ্রিষ্টীয় একাদশ শতকে

খ

খ্রিষ্টীয় নবম শতকে

গ

খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতকে

ঘ

খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতকে

✅ সঠিক উত্তর:গ. খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতকে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতকে।
◈ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনী:
❖ ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লি সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন। তাই দিল্লিকেন্দ্রিক স্থায়ী মুসলিম শাসনের সূচনা ত্রয়োদশ শতকে হয়েছিল বলে পরীক্ষায় উত্তর দেওয়া হয়।
❖ তবে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজনৈতিক শাসনের ইতিহাস ১২০৬ সালের অনেক আগে শুরু হয়েছিল। ৭১১–৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন, যার পর সেখানে দীর্ঘকাল আরব মুসলিম শাসন বিদ্যমান ছিল। সুতরাং ‘স্থায়ী মুসলিম শাসনের সূচনা’ কথাটি এখানে মূলত দিল্লি সালতানাত প্রতিষ্ঠার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ দিল্লি সালতানাত (Delhi Sultanate) ছিল মধ্যযুগীয় ভারতীয় উপমহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম শাসনব্যবস্থা, যা ১২০৬ থেকে ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজবংশের অধীনে টিকে ছিল।
❖ দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কুতুবউদ্দিন আইবেক (Qutbuddin Aibak)। তিনি প্রথমে মুহাম্মদ ঘুরীর সেনাপতি ও ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রশাসনিক প্রতিনিধি ছিলেন।
❖ ১২০৬ সালে মুহাম্মদ ঘুরীর মৃত্যুর পর কুতুবউদ্দিন আইবেক স্বাধীন রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দিল্লি সালতানাতের সূচনা হয়।
১. ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম সামরিক অভিযানের প্রাথমিক ইতিহাস
◉ ৭১১–৭১২ খ্রিষ্টাব্দ — সিন্ধু অভিযান
❖ উমাইয়া খিলাফতের শাসনামলে মুহাম্মদ বিন কাসিম (Muhammad bin Qasim) সিন্ধু অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ তাঁর অভিযানের ফলে বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু অঞ্চলে মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠা ঘটে।
❖ এই অভিযানকে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
◉ একাদশ শতক — মাহমুদ গজনীর অভিযান
❖ মাহমুদ গজনী (Mahmud of Ghazni) ছিলেন গজনভি সাম্রাজ্যের শক্তিশালী শাসক।
❖ তাঁর শাসনকাল ছিল ৯৯৮–১০৩০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ তাঁর অভিযানগুলো গজনভি শাসনের সম্প্রসারণ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সম্পদ আহরণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
◉ দ্বাদশ শতক — মুহাম্মদ ঘুরীর অভিযান
❖ মুহাম্মদ ঘুরী (Muhammad Ghori) ছিলেন ঘুরিদ সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শাসক।
❖ তিনি উত্তর ভারতে সামরিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ ১১৯২ সালের তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে তিনি রাজপুত শাসক পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত করেন।
❖ এই বিজয় উত্তর ভারতে ঘুরিদ কর্তৃত্ব বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
◉ ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দ — দিল্লি সালতানাত প্রতিষ্ঠা
❖ মুহাম্মদ ঘুরীর মৃত্যুর পর তাঁর প্রাক্তন সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেক স্বাধীন শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ এই সময় থেকেই দিল্লি সালতানাতের শাসনামল গণনা করা হয়।
২. দিল্লি সালতানাতের পাঁচটি প্রধান রাজবংশ
১. দাস বা মামলুক বংশ (Mamluk Dynasty): ১২০৬–১২৯০
❖ প্রতিষ্ঠাতা — কুতুবউদ্দিন আইবেক।
❖ গুরুত্বপূর্ণ শাসক — শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ, রাজিয়া সুলতানা ও গিয়াসউদ্দিন বলবন।
২. খলজি বংশ (Khalji Dynasty): ১২৯০–১৩২০
❖ প্রতিষ্ঠাতা — জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি।
❖ গুরুত্বপূর্ণ শাসক — আলাউদ্দিন খলজি।
৩. তুঘলক বংশ (Tughlaq Dynasty): ১৩২০–১৪১৪
❖ প্রতিষ্ঠাতা — গিয়াসউদ্দিন তুঘলক।
❖ গুরুত্বপূর্ণ শাসক — মুহাম্মদ বিন তুঘলক ও ফিরোজ শাহ তুঘলক।
৪. সৈয়দ বংশ (Sayyid Dynasty): ১৪১৪–১৪৫১
❖ প্রতিষ্ঠাতা — খিজির খান।
৫. লোদী বংশ (Lodi Dynasty): ১৪৫১–১৫২৬
❖ প্রতিষ্ঠাতা — বহলুল লোদী।
❖ শেষ শাসক — ইব্রাহিম লোদী।
৩. দিল্লি সালতানাতের অবসান
❖ ২১ এপ্রিল ১৫২৬ প্রথম পানিপথের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
❖ এই যুদ্ধে মধ্য এশীয় শাসক জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর (Babur) দিল্লির শেষ লোদী সুলতান ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করেন।
❖ ইব্রাহিম লোদী যুদ্ধে নিহত হন।
❖ এর মাধ্যমে দিল্লি সালতানাতের অবসান এবং উত্তর ভারতে মুঘল শাসনের সূচনা হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ দিল্লি সালতানাত প্রতিষ্ঠা — ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা — কুতুবউদ্দিন আইবেক।
➤ দিল্লি সালতানাতের সময়কাল — ১২০৬–১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ দিল্লি সালতানাতের শাসনকাল — প্রায় ৩২০ বছর।
➤ স্থায়ী দিল্লিকেন্দ্রিক মুসলিম শাসনের সূচনার শতক — ত্রয়োদশ শতক।
➤ ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাথমিক আরব মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় — সিন্ধু অঞ্চলে।
➤ সিন্ধু বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সেনাপতি — মুহাম্মদ বিন কাসিম।
➤ সিন্ধু অভিযান — ৭১১–৭১২ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ মাহমুদ গজনীর শাসনকাল — ৯৯৮–১০৩০ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ মুহাম্মদ ঘুরীর গুরুত্বপূর্ণ বিজয় — তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ, ১১৯২।
➤ তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পরাজিত শাসক — পৃথ্বীরাজ চৌহান।
➤ দিল্লি সালতানাতের প্রথম রাজবংশ — দাস বা মামলুক বংশ।
➤ দিল্লি সালতানাতের মোট প্রধান রাজবংশ — ৫টি।
➤ দাস বংশ — ১২০৬–১২৯০।
➤ খলজি বংশ — ১২৯০–১৩২০।
➤ তুঘলক বংশ — ১৩২০–১৪১৪।
➤ সৈয়দ বংশ — ১৪১৪–১৪৫১।
➤ লোদী বংশ — ১৪৫১–১৫২৬।
➤ দিল্লি সালতানাতের শেষ শাসক — ইব্রাহিম লোদী।
➤ দিল্লি সালতানাতের অবসান — ১৫২৬ সালে।
➤ প্রথম পানিপথের যুদ্ধ — ২১ এপ্রিল ১৫২৬।
➤ প্রথম পানিপথের যুদ্ধে বিজয়ী — বাবর।
➤ ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা — বাবর।
08
🎯 Level 1

০৪. ভারতে দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে? / কোন শাসক ভারতে মুসলিম শাসন স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করেন? / উপমহাদেশে স্থায়ী মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে? / ভারতে মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন করেন কে? (চবি: ০৪-০৫; দুদকের সহকারী পরিদর্শক: ০৪; রাবি: ১১-১২)

ক

মুহাম্মদ বিন কাসিম

খ

মাহমুদ গজনী

গ

মুহাম্মদ ঘুরী

ঘ

কুতুবউদ্দিন আইবেক

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. কুতুবউদ্দিন আইবেক

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: কুতুবউদ্দিন আইবেক (Qutbuddin Aibak)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ কুতুবউদ্দিন আইবেক ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের দিল্লি সালতানাতের প্রথম শাসক এবং দাস বা মামলুক রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
❖ তিনি ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীন শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উত্তর ভারতে দিল্লি সালতানাতের সূচনা করেন।
❖ দাস বংশ (Slave Dynasty)-কে মামলুক বংশ (Mamluk Dynasty) নামেও অভিহিত করা হয়।
১. দাস বংশ নামকরণের কারণ
❖ মামলুক (Mamluk) শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে। এর অর্থ ঐতিহাসিকভাবে মালিকানাধীন দাস বা দাসসৈনিকের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ মধ্যযুগীয় মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে বিশেষ প্রশিক্ষিত দাসসৈনিকদের অনেক সময় সামরিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিযুক্ত করা হতো।
❖ এ ধরনের দাসসৈনিকদের মধ্যে অনেকে পরবর্তী সময়ে উচ্চপদস্থ সেনাপতি বা স্বাধীন শাসক হয়ে ওঠেন।
❖ কুতুবউদ্দিন আইবেক, ইলতুৎমিশ এবং বলবনের প্রাথমিক জীবনের সঙ্গে দাসত্ব ও সামরিক প্রশিক্ষণের সম্পর্ক ছিল।
❖ এ কারণে দিল্লি সালতানাতের প্রথম রাজবংশটি দাস বা মামলুক বংশ নামে পরিচিত হয়।
❖ তবে এ বংশের সব শাসকই ব্যক্তিগতভাবে দাস ছিলেন—এমন নয়।
২. দাস বংশের গুরুত্বপূর্ণ শাসক
◉ কুতুবউদ্দিন আইবেক (১২০৬–১২১০)
❖ দাস বংশ ও দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
❖ তাঁর উপাধি ছিল লাখবখশ।
❖ দিল্লিতে কুতুব মিনারের নির্মাণ শুরু করেন।
❖ ১২১০ সালে চৌগান খেলার সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
◉ শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ (১২১১–১২৩৬)
❖ দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত।
❖ দিল্লিকে শক্তিশালী রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন।
❖ রৌপ্য টঙ্কা ও জিতল মুদ্রাব্যবস্থার জন্য প্রসিদ্ধ।
❖ ১২২৯ সালে আব্বাসীয় খলিফার স্বীকৃতি লাভ করেন।
❖ চাহালগানি নামে পরিচিত অভিজাত গোষ্ঠীর সংগঠনের সঙ্গে তাঁর শাসনামল সম্পর্কিত।
◉ রাজিয়া সুলতানা (১২৩৬–১২৪০)
❖ রাজিয়া ছিলেন ইলতুৎমিশের কন্যা।
❖ তিনি দিল্লি সালতানাতের প্রথম ও একমাত্র নারী সুলতান হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
❖ তিনি নারী শাসকের প্রচলিত উপাধি ‘সুলতানা’ অপেক্ষা সুলতান উপাধি ব্যবহার করতে পছন্দ করতেন বলে ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ তাঁর শাসনামলে তুর্কি অভিজাতদের সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘর্ষ দেখা দেয়।
◉ গিয়াসউদ্দিন বলবন (১২৬৬–১২৮৭)
❖ বলবন দাস বংশের অন্যতম শক্তিশালী শাসক ছিলেন।
❖ তাঁর শাসননীতি কঠোর রাজতান্ত্রিক কর্তৃত্ব ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য পরিচিত।
❖ ঐতিহাসিকভাবে তাঁর শাসনব্যবস্থাকে রক্ত ও লৌহনীতি (Blood and Iron Policy) হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
❖ তিনি অভিজাতদের ক্ষমতা সীমিত করে সুলতানের কর্তৃত্ব বৃদ্ধির চেষ্টা করেন।
৩. দাস বংশের প্রশাসনিক ও সামরিক গুরুত্ব
❖ দাস বংশের শাসনামলে দিল্লি সালতানাতের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী হয়।
❖ ভূমি রাজস্ব সংগ্রহ, সামরিক সংগঠন এবং গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে সংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
❖ ইলতুৎমিশের সময় ইকতা ব্যবস্থা আরও সুসংহত হয়।
❖ দিল্লি সালতানাতের রাজস্ব সংগ্রহ, সামরিক ব্যয় এবং আঞ্চলিক শাসন পরিচালনায় ইকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ এই শাসনামলে ইসলামি স্থাপত্যধারার বিকাশ ঘটে, যার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন কুতুব মিনার ও কুওয়াত-উল-ইসলাম মসজিদ।
৪. দিল্লি সালতানাতের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
❖ দাস বংশের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উত্তর ভারতে একটি স্থায়ী রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার নতুন পর্যায় শুরু হয়।
❖ এই প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে খলজি, তুঘলক, সৈয়দ ও লোদী বংশ দিল্লি সালতানাত শাসন করে।
❖ ১২৯০ সালে দাস বংশের অবসান ঘটে এবং জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি খলজি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ এ পরিবর্তনের মাধ্যমে দিল্লি সালতানাতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন পর্যায় শুরু হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ভারতে দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা — কুতুবউদ্দিন আইবেক।
➤ দাস বংশের অপর নাম — মামলুক বংশ।
➤ মামলুক শব্দের অর্থ — দাস বা দাসসৈনিকের সঙ্গে সম্পর্কিত।
➤ দাস বংশের শাসনকাল — ১২০৬–১২৯০ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ দাস বংশের প্রথম শাসক — কুতুবউদ্দিন আইবেক।
➤ কুতুবউদ্দিন আইবেকের শাসনকাল — ১২০৬–১২১০।
➤ কুতুবউদ্দিন আইবেকের উপাধি — লাখবখশ।
➤ কুতুবউদ্দিন আইবেকের মৃত্যু — ১২১০ সালে।
➤ কুতুবউদ্দিন আইবেকের মৃত্যুর কারণ — চৌগান খেলায় দুর্ঘটনা।
➤ দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা — শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ।
➤ ইলতুৎমিশের শাসনকাল — ১২১১–১২৩৬।
➤ ইলতুৎমিশের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা — টঙ্কা ও জিতল।
➤ ইলতুৎমিশ আব্বাসীয় খলিফার স্বীকৃতি পান — ১২২৯ সালে।
➤ ইলতুৎমিশের কন্যা — রাজিয়া সুলতানা।
➤ দিল্লি সালতানাতের বিখ্যাত নারী শাসক — রাজিয়া।
➤ রাজিয়ার শাসনকাল — ১২৩৬–১২৪০।
➤ দাস বংশের শক্তিশালী শাসক — গিয়াসউদ্দিন বলবন।
➤ বলবনের শাসনকাল — ১২৬৬–১২৮৭।
➤ বলবনের বিখ্যাত শাসননীতি — রক্ত ও লৌহনীতি।
➤ দাস বংশের অবসান — ১২৯০ সালে।
➤ দাস বংশের পরবর্তী রাজবংশ — খলজি বংশ।
➤ খলজি বংশের প্রতিষ্ঠাতা — জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি।
➤ দিল্লি সালতানাতের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠাতা → কুতুবউদ্দিন আইবেক।
➤ দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা → শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ।
➤ দাস বংশের বিখ্যাত নারী শাসক → রাজিয়া সুলতানা।
➤ দাস বংশের কঠোর শাসক → গিয়াসউদ্দিন বলবন।
Advertisement
09
🎯 Level 1

০৭. কার শাসনামলে সুউচ্চ কুতুব মিনারের নির্মাণ কাজ শেষ হয়? (মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ০৯)

ক

মুহাম্মদ ঘুরী

খ

শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ

গ

বলবন

ঘ

কুতুবউদ্দিন আইবেক

✅ সঠিক উত্তর:খ. শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ কুতুব মিনারের প্রাথমিক প্রধান নির্মাণকাজ ইলতুৎমিশের শাসনামলে সম্পন্ন হয়। তিনি মিনারটির প্রথম তলার ওপর আরও তিনটি তলা সংযোজন করেন।
❖ কুতুবউদ্দিন আইবেক মিনারটির নির্মাণ শুরু করলেও তিনি সম্পূর্ণ করতে পারেননি।
১. কুতুব মিনারের নির্মাণের ঘটনাপ্রবাহ
◉ প্রথম পর্যায় — কুতুবউদ্দিন আইবেক
❖ ১১৯৯ খ্রিষ্টাব্দে মিনারের ভিত্তি স্থাপন ও প্রথম তলা নির্মাণের কথা ভারত সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক বিবরণে পাওয়া যায়।
❖ আইবেকের মৃত্যু হয় ১২১০ সালে।
◉ দ্বিতীয় পর্যায় — শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ
❖ ১২১১–১২৩৬ সালে ইলতুৎমিশ দিল্লি শাসন করেন।
❖ তিনি কুতুব মিনারের আরও তিনটি তলা নির্মাণ করেন।
❖ তাঁর আমলে মিনারটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে।
◉ তৃতীয় পর্যায় — ফিরোজ শাহ তুঘলক
❖ চতুর্দশ শতকে বজ্রপাতের ফলে মিনারের উপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
❖ ফিরোজ শাহ তুঘলক ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ করেন।
❖ তাঁর সংস্কারের ফলে বর্তমান মিনারের ওপরের অংশের রূপ গড়ে ওঠে।
◉ পরবর্তী সংস্কার — সিকান্দার লোদি
❖ পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে সিকান্দার লোদি মিনারটির সংস্কার করেন।
২. কুতুব মিনারের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
❖ অবস্থান: মেহরৌলি, দিল্লি।
❖ উচ্চতা: প্রায় ৭২.৫ মিটার।
❖ বর্তমান তলা: পাঁচটি।
❖ ভিত্তির ব্যাস: প্রায় ১৪.৩২ মিটার।
❖ শীর্ষের ব্যাস: প্রায় ২.৭৫ মিটার।
❖ স্থাপত্য উপাদান: বেলেপাথর ও মার্বেল।
❖ মিনারের বিভিন্ন অংশে আরবি ও নাগরী অক্ষরে শিলালিপি রয়েছে।
৩. কুতুব কমপ্লেক্সের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা
❖ কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদ: প্রাথমিক দিল্লি সালতানাতের মসজিদ।
❖ ইলতুৎমিশের সমাধি: কুতুব কমপ্লেক্সের গুরুত্বপূর্ণ সমাধি স্থাপনা।
❖ লোহস্তম্ভ (Iron Pillar): গুপ্ত যুগের ঐতিহাসিক ধাতব স্তম্ভ।
❖ আলাই দরওয়াজা: আলাউদ্দিন খলজির আমলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য।
❖ আলাই মিনার: আলাউদ্দিন খলজির অসমাপ্ত বৃহৎ মিনার নির্মাণপ্রকল্প।
৪. বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে কুতুব মিনার
❖ ১৯৯৩ সালে UNESCO কুতুব মিনার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে।
❖ এটি মধ্যযুগের দিল্লির রাজনৈতিক ইতিহাস, ইসলামি স্থাপত্য এবং নির্মাণপ্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ কুতুব মিনারের প্রধান নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন — শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ।
➤ কুতুব মিনারের নির্মাণ শুরু করেন — কুতুবউদ্দিন আইবেক।
➤ ভিত্তি স্থাপন — ১১৯৯ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ প্রথম তলা নির্মাতা — আইবেক।
➤ আরও তিনটি তলা সংযোজনকারী — ইলতুৎমিশ।
➤ ইলতুৎমিশের শাসনকাল — ১২১১–১২৩৬।
➤ পরবর্তী সংস্কারকারী — ফিরোজ শাহ তুঘলক।
➤ ফিরোজ শাহ তুঘলকের শাসনকাল — ১৩৫১–১৩৮৮।
➤ কুতুব মিনারের উচ্চতা — ৭২.৫ মিটার।
➤ বর্তমান তলা — পাঁচটি।
➤ অবস্থান — মেহরৌলি, দিল্লি।
➤ UNESCO স্বীকৃতি — ১৯৯৩।
➤ কুতুব কমপ্লেক্সের বিখ্যাত মসজিদ — কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদ।
➤ কুতুব কমপ্লেক্সের বিখ্যাত দরওয়াজা — আলাই দরওয়াজা।
➤ আলাই দরওয়াজা নির্মাণের সঙ্গে সম্পর্কিত — আলাউদ্দিন খলজি।
➤ মনে রাখুন: নির্মাণ শুরু—আইবেক; প্রধান নির্মাণ সম্পন্ন—ইলতুৎমিশ; ঊর্ধ্বাংশ সংস্কার—ফিরোজ শাহ তুঘলক।
10
🎯 Level 1

১১. ‘সুলতান-ই-আজম’ উপাধি কে লাভ করেছিলেন? (বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের অফিসার: ০১)

ক

কুতুবউদ্দিন আইবেক

খ

শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ

গ

ফিরোজ শাহ তুঘলক

ঘ

আলাউদ্দিন খলজি

✅ সঠিক উত্তর:খ. শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ দিল্লি সালতানাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাসক। তিনি সুলতান-ই-আজম (Sultan al-A'zam) উপাধির জন্য পরিচিত।
❖ সুলতান-ই-আজম অর্থ মহান সুলতান বা সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন সুলতান।
❖ ইলতুৎমিশের মুদ্রায় এই উপাধির ব্যবহার পাওয়া যায়।
১. ইলতুৎমিশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা
❖ ইলতুৎমিশ ছিলেন কুতুবউদ্দিন আইবেকের জামাতা ও পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শাসক।
❖ ১২১১ সালে আরাম শাহকে পরাজিত করে তিনি সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
❖ তাঁর শাসনামলে দিল্লি সালতানাত সামরিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে শক্তিশালী হয়।
❖ উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে তিনি দিল্লির কেন্দ্রীয় শাসন সুসংহত করেন।
২. আব্বাসীয় খলিফার স্বীকৃতি
❖ ইলতুৎমিশের রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১২২৯ সালে আব্বাসীয় খলিফার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ।
❖ তৎকালীন আব্বাসীয় খলিফা ছিলেন আল-মুস্তানসির (Al-Mustansir)।
❖ বাগদাদ থেকে আগত প্রতিনিধির মাধ্যমে ইলতুৎমিশকে সম্মানসূচক পোশাক ও রাজকীয় স্বীকৃতিপত্র দেওয়া হয়।
❖ এই স্বীকৃতি দিল্লির সুলতানি কর্তৃত্বকে বৃহত্তর মুসলিম রাজনৈতিক পরিসরে মর্যাদা প্রদান করে।
৩. ইলতুৎমিশের উপাধিসমূহ
◉ সুলতান-ই-আজম (Sultan al-A'zam)
❖ অর্থ — মহান সুলতান।
❖ তাঁর মুদ্রায় এই উপাধির ব্যবহার পাওয়া যায়।
◉ নাসির আমিরুল মুমিনিন (Nasir Amir al-Mu'minin)
❖ অর্থ — আমিরুল মুমিনিনের সাহায্যকারী বা সমর্থক।
❖ আব্বাসীয় খলিফার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্কের পরিচায়ক।
◉ ইয়ামিন খলিফাতুল্লাহ (Yamin Khalifat Allah)
❖ অর্থ — আল্লাহর প্রতিনিধির ডান হাত, অর্থাৎ খলিফার সহায়ক হিসেবে সম্মানসূচক পরিচিতি।
৪. ইলতুৎমিশের মুদ্রায় উপাধির ব্যবহার
❖ ইলতুৎমিশের রৌপ্য টঙ্কায় আরবি ভাষায় তাঁর নাম, উপাধি এবং ধর্মীয়-রাজনৈতিক পরিচয় উৎকীর্ণ ছিল।
❖ এসব মুদ্রার মাধ্যমে তাঁর সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রকাশ করা হতো।
❖ মুদ্রা ছিল মধ্যযুগে শাসকদের বৈধতা ও ক্ষমতা প্রদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
৫. ইলতুৎমিশের শাসনের অন্যান্য সাফল্য
❖ দিল্লিকে শক্তিশালী প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত করেন।
❖ সামরিক অভিজাত গোষ্ঠী চেহেলগানি সংগঠিত করেন।
❖ রৌপ্য টঙ্কা ও জিতল মুদ্রাব্যবস্থা সুসংহত করেন।
❖ কুতুব মিনারের প্রধান নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন।
❖ কন্যা রাজিয়াকে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করার উদ্যোগ নেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সুলতান-ই-আজম উপাধিধারী — শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ।
➤ Sultan al-A'zam অর্থ — মহান সুলতান।
➤ ইলতুৎমিশের শাসনকাল — ১২১১–১২৩৬।
➤ ইলতুৎমিশের রাজবংশ — মামলুক।
➤ ইলতুৎমিশের শ্বশুর — কুতুবউদ্দিন আইবেক।
➤ আব্বাসীয় খলিফার স্বীকৃতি লাভ — ১২২৯।
➤ স্বীকৃতি প্রদানকারী খলিফা — আল-মুস্তানসির।
➤ নাসির আমিরুল মুমিনিন — ইলতুৎমিশের সম্মানসূচক উপাধি।
➤ ইয়ামিন খলিফাতুল্লাহ — ইলতুৎমিশের সম্মানসূচক উপাধি।
➤ রৌপ্যমুদ্রা — টঙ্কা।
➤ ক্ষুদ্র মুদ্রা — জিতল।
➤ ইলতুৎমিশের প্রতিষ্ঠিত অভিজাত গোষ্ঠী — চেহেলগানি।
➤ ইলতুৎমিশের কন্যা — সুলতানা রাজিয়া।
➤ বিশেষ পার্থক্য: লাখবখশ—কুতুবউদ্দিন আইবেক; সুলতান-ই-আজম—ইলতুৎমিশ; তুত-ই-হিন্দ—আমির খসরু।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন