01
🎯 Level 1
"০১. গঙ্গারিডাই রাজ্যের অস্তিত্বকাল — (ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এমটিও: ১২)"
✅ সঠিক উত্তর:গ. খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতক
ব্যাখ্যা:
"উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতক।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ গঙ্গারিডাই (Gangaridai) ছিল প্রাচীন বাংলার একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র বা জনপদ, যার অস্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সাক্ষ্য পাওয়া যায় খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকে আলেকজান্ডারের ভারত অভিযানসংক্রান্ত গ্রিক বিবরণে। গ্রিক ঐতিহাসিকেরা গঙ্গারিডাইকে গঙ্গা অববাহিকার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
❖ প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন জনপদ সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন রাজবংশের শাসনাধীন ছিল। গ্রিক লেখকদের বিবরণ থেকে জানা যায়, গ্রিক সেনাপতি আলেকজান্ডারের সময়ে বাংলায় গঙ্গারিডাই নামে একটি শক্তিশালী রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল। গঙ্গারিডাইয়ের বৃহৎ হস্তীবাহিনী তার সামরিক শক্তির অন্যতম পরিচায়ক ছিল।
❖ গঙ্গারিডাই নামটি প্রাচীন গ্রিক ও লাতিন সাহিত্যে Gangaridai, Gangaridae, Gangarides প্রভৃতি রূপে পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, নামটির সঙ্গে গঙ্গা নদী ও গঙ্গা বদ্বীপের ভৌগোলিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ মৌর্য সাম্রাজ্যের উত্থানের পর গঙ্গারিডাইয়ের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সীমিত। প্রচলিত ইতিহাসে অঞ্চলটি মৌর্য প্রভাববলয়ে চলে যাওয়ার কথা বলা হলেও সম্পূর্ণ গঙ্গারিডাই রাষ্ট্র কীভাবে মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না।
◉ ১. গঙ্গারিডাই রাজ্যের ঐতিহাসিক পটভূমি
❖ প্রাচীন বাংলায় বঙ্গ, পুণ্ড্র, গৌড়, রাঢ় ও সমতটসহ বিভিন্ন জনপদের বিকাশ ঘটেছিল। এসব অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবেশ, নদীপথ, উর্বর ভূমি এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ রাষ্ট্রগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
❖ গঙ্গারিডাই ছিল গঙ্গা অববাহিকা ও বদ্বীপ অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাচীন রাজনৈতিক শক্তি।
❖ নদীনির্ভর কৃষি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে গঙ্গা বদ্বীপ প্রাচীনকাল থেকেই অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ গ্রিক লেখকদের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকে গঙ্গারিডাইয়ের সামরিক শক্তির খ্যাতি উত্তর-পশ্চিম ভারত পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
❖ তবে গঙ্গারিডাইয়ের রাজধানী, রাজবংশের পূর্ণ তালিকা এবং সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সীমানা সম্পর্কে পর্যাপ্ত সমসাময়িক দেশীয় দলিল পাওয়া যায়নি।
◉ ২. আলেকজান্ডারের ভারত অভিযান ও গঙ্গারিডাই
❖ আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট (Alexander the Great) ছিলেন প্রাচীন ম্যাসিডোনিয়ার রাজা এবং অন্যতম বিখ্যাত সামরিক বিজেতা।
❖ তাঁর জন্ম খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫৬ সালে এবং মৃত্যু খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৩ সালে।
❖ তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭–৩২৬ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬ সালে হিদাস্পিসের যুদ্ধে আলেকজান্ডার ভারতীয় রাজা পুরুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।
❖ যুদ্ধের পর আলেকজান্ডার আরও পূর্বদিকে অগ্রসর হতে চাইলেও তাঁর সেনাবাহিনী হাইফেসিস বা বিপাশা নদীর তীরে অগ্রযাত্রা চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়।
❖ প্রাচীন গ্রিক বিবরণে পূর্বাঞ্চলের গঙ্গারিডাই ও প্রাসি (Prasii) জনগোষ্ঠীর শক্তিশালী সেনাবাহিনীর কথা উল্লেখ রয়েছে।
❖ বৃহৎ সেনাবাহিনী ও যুদ্ধহস্তীর সম্ভাব্য প্রতিরোধ, দীর্ঘ অভিযানের ক্লান্তি, বর্ষাকাল এবং স্বদেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা—এসব কারণে সৈন্যদের মধ্যে অগ্রসর হওয়ার অনীহা সৃষ্টি হয়।
❖ ফলে আলেকজান্ডার গঙ্গারিডাইয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান পরিচালনা করেননি।
◉ ৩. গঙ্গারিডাইয়ের সামরিক শক্তি ও হস্তীবাহিনী
❖ গঙ্গারিডাইয়ের সামরিক শক্তির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য ছিল বৃহৎ যুদ্ধহস্তীবাহিনী।
❖ প্রাচীন ভারতে হাতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ। যুদ্ধক্ষেত্রে হাতি শত্রুর পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতো।
❖ যুদ্ধহস্তী (War Elephant) শত্রুর প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেঙে দেওয়া, ভয় সৃষ্টি করা এবং সেনাবাহিনীর আক্রমণক্ষমতা বৃদ্ধি করার কাজে ব্যবহৃত হতো।
❖ গ্রিক লেখকদের বিবরণে গঙ্গারিডাইয়ের সেনাবাহিনীর বিপুল শক্তির উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে বিভিন্ন লেখকের বর্ণনায় সৈন্য ও হাতির সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।
❖ এসব সংখ্যা সমসাময়িক সামরিক নথি দিয়ে যাচাই করা সম্ভব নয়। তাই এগুলোকে প্রাচীন সাহিত্যিক বিবরণ হিসেবে বিবেচনা করতে হয়।
❖ তবুও গঙ্গারিডাইয়ের হস্তীবাহিনীর খ্যাতি থেকে বোঝা যায় যে পূর্বভারতের সামরিক শক্তি সম্পর্কে গ্রিকদের ধারণা ছিল।
◉ ৪. গঙ্গারিডাইয়ের ভৌগোলিক অবস্থান
❖ গঙ্গারিডাইয়ের অবস্থান নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
❖ টলেমির (Ptolemy) বিবরণ অনুসারে গঙ্গারিডাইয়ের অবস্থান গঙ্গার একাধিক মোহনার আশপাশে ছিল।
❖ অনেক গবেষক গঙ্গারিডাইকে বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা বদ্বীপ অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত করেন।
❖ গঙ্গারিডাইয়ের সঙ্গে প্রাচীন বঙ্গ জনপদের সম্পর্কও ইতিহাসচর্চায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
❖ কিছু গবেষক চন্দ্রকেতুগড় ও তাম্রলিপ্ত অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সঙ্গে প্রাচীন গঙ্গা বদ্বীপের রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সম্পর্ক আলোচনা করেছেন।
❖ তবে গঙ্গারিডাইয়ের সুনির্দিষ্ট রাজধানী কোথায় ছিল, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।
◉ ৫. গ্রিক লেখকদের বিবরণ
❖ ডিওডোরাস সিকুলাস (Diodorus Siculus) ছিলেন গ্রিক ঐতিহাসিক। তাঁর রচিত Bibliotheca Historica গ্রন্থে গঙ্গারিডাইয়ের উল্লেখ রয়েছে।
❖ কুইন্টাস কার্টিয়াস রুফাস (Quintus Curtius Rufus) আলেকজান্ডারের ইতিহাস রচনার সময় গঙ্গারিডাই ও প্রাসি জনগোষ্ঠীর উল্লেখ করেন।
❖ স্ট্রাবো (Strabo) ছিলেন গ্রিক ভূগোলবিদ ও ঐতিহাসিক। তাঁর Geographica গ্রন্থে গঙ্গা নদী ও গঙ্গারিডাই সম্পর্কে বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ প্লিনি দ্য এল্ডার (Pliny the Elder) তাঁর Naturalis Historia গ্রন্থে গঙ্গা অঞ্চলের জনগোষ্ঠী ও ভূগোলের উল্লেখ করেন।
❖ টলেমি (Ptolemy) তাঁর ভূগোলবিষয়ক রচনায় গঙ্গার মোহনা অঞ্চলের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পরিচয় তুলে ধরেন।
❖ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব লেখকের অধিকাংশই আলেকজান্ডারের সমসাময়িক ছিলেন না; তাঁরা পূর্ববর্তী তথ্য ও প্রচলিত বিবরণ ব্যবহার করেছেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ গঙ্গারিডাই রাজ্যের অস্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ সময় — খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতক।
➤ গঙ্গারিডাই সম্পর্কে জানার প্রধান উৎস — গ্রিক লেখকদের বিবরণ।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের অবস্থান — প্রাচীন বাংলায়।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নদী — গঙ্গা।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের প্রধান সামরিক বৈশিষ্ট্য — শক্তিশালী হস্তীবাহিনী।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের সময়কার বিখ্যাত গ্রিক সেনাপতি — আলেকজান্ডার।
➤ আলেকজান্ডারের জন্মসাল — খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫৬।
➤ আলেকজান্ডারের মৃত্যুসাল — খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৩।
➤ আলেকজান্ডারের ভারত অভিযান — খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭–৩২৬ সাল।
➤ হিদাস্পিসের যুদ্ধ — খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬ সাল।
➤ হিদাস্পিসের যুদ্ধে আলেকজান্ডারের প্রতিপক্ষ — রাজা পুরু।
➤ আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনী অগ্রসর হতে অস্বীকৃতি জানায় — বিপাশা বা হাইফেসিস নদীর তীরে।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের সঙ্গে গ্রিক বিবরণে উল্লেখিত অন্য রাজনৈতিক শক্তি — প্রাসি।
➤ গঙ্গারিডাই সম্পর্কে লিখেছেন — ডিওডোরাস, স্ট্রাবো, প্লিনি, কার্টিয়াস রুফাস ও টলেমি।
➤ ডিওডোরাসের বিখ্যাত গ্রন্থ — Bibliotheca Historica।
➤ স্ট্রাবোর বিখ্যাত গ্রন্থ — Geographica।
➤ প্লিনির বিখ্যাত গ্রন্থ — Naturalis Historia।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ভৌগোলিক অঞ্চল — গঙ্গা বদ্বীপ।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের রাজধানী ও সুনির্দিষ্ট সীমানা — নিশ্চিতভাবে নির্ধারিত নয়।"
◈ সঠিক উত্তর: খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতক।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ গঙ্গারিডাই (Gangaridai) ছিল প্রাচীন বাংলার একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র বা জনপদ, যার অস্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সাক্ষ্য পাওয়া যায় খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকে আলেকজান্ডারের ভারত অভিযানসংক্রান্ত গ্রিক বিবরণে। গ্রিক ঐতিহাসিকেরা গঙ্গারিডাইকে গঙ্গা অববাহিকার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
❖ প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন জনপদ সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন রাজবংশের শাসনাধীন ছিল। গ্রিক লেখকদের বিবরণ থেকে জানা যায়, গ্রিক সেনাপতি আলেকজান্ডারের সময়ে বাংলায় গঙ্গারিডাই নামে একটি শক্তিশালী রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল। গঙ্গারিডাইয়ের বৃহৎ হস্তীবাহিনী তার সামরিক শক্তির অন্যতম পরিচায়ক ছিল।
❖ গঙ্গারিডাই নামটি প্রাচীন গ্রিক ও লাতিন সাহিত্যে Gangaridai, Gangaridae, Gangarides প্রভৃতি রূপে পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, নামটির সঙ্গে গঙ্গা নদী ও গঙ্গা বদ্বীপের ভৌগোলিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ মৌর্য সাম্রাজ্যের উত্থানের পর গঙ্গারিডাইয়ের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সীমিত। প্রচলিত ইতিহাসে অঞ্চলটি মৌর্য প্রভাববলয়ে চলে যাওয়ার কথা বলা হলেও সম্পূর্ণ গঙ্গারিডাই রাষ্ট্র কীভাবে মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না।
◉ ১. গঙ্গারিডাই রাজ্যের ঐতিহাসিক পটভূমি
❖ প্রাচীন বাংলায় বঙ্গ, পুণ্ড্র, গৌড়, রাঢ় ও সমতটসহ বিভিন্ন জনপদের বিকাশ ঘটেছিল। এসব অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবেশ, নদীপথ, উর্বর ভূমি এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ রাষ্ট্রগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
❖ গঙ্গারিডাই ছিল গঙ্গা অববাহিকা ও বদ্বীপ অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাচীন রাজনৈতিক শক্তি।
❖ নদীনির্ভর কৃষি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে গঙ্গা বদ্বীপ প্রাচীনকাল থেকেই অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ গ্রিক লেখকদের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকে গঙ্গারিডাইয়ের সামরিক শক্তির খ্যাতি উত্তর-পশ্চিম ভারত পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
❖ তবে গঙ্গারিডাইয়ের রাজধানী, রাজবংশের পূর্ণ তালিকা এবং সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সীমানা সম্পর্কে পর্যাপ্ত সমসাময়িক দেশীয় দলিল পাওয়া যায়নি।
◉ ২. আলেকজান্ডারের ভারত অভিযান ও গঙ্গারিডাই
❖ আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট (Alexander the Great) ছিলেন প্রাচীন ম্যাসিডোনিয়ার রাজা এবং অন্যতম বিখ্যাত সামরিক বিজেতা।
❖ তাঁর জন্ম খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫৬ সালে এবং মৃত্যু খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৩ সালে।
❖ তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭–৩২৬ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬ সালে হিদাস্পিসের যুদ্ধে আলেকজান্ডার ভারতীয় রাজা পুরুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।
❖ যুদ্ধের পর আলেকজান্ডার আরও পূর্বদিকে অগ্রসর হতে চাইলেও তাঁর সেনাবাহিনী হাইফেসিস বা বিপাশা নদীর তীরে অগ্রযাত্রা চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়।
❖ প্রাচীন গ্রিক বিবরণে পূর্বাঞ্চলের গঙ্গারিডাই ও প্রাসি (Prasii) জনগোষ্ঠীর শক্তিশালী সেনাবাহিনীর কথা উল্লেখ রয়েছে।
❖ বৃহৎ সেনাবাহিনী ও যুদ্ধহস্তীর সম্ভাব্য প্রতিরোধ, দীর্ঘ অভিযানের ক্লান্তি, বর্ষাকাল এবং স্বদেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা—এসব কারণে সৈন্যদের মধ্যে অগ্রসর হওয়ার অনীহা সৃষ্টি হয়।
❖ ফলে আলেকজান্ডার গঙ্গারিডাইয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান পরিচালনা করেননি।
◉ ৩. গঙ্গারিডাইয়ের সামরিক শক্তি ও হস্তীবাহিনী
❖ গঙ্গারিডাইয়ের সামরিক শক্তির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য ছিল বৃহৎ যুদ্ধহস্তীবাহিনী।
❖ প্রাচীন ভারতে হাতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ। যুদ্ধক্ষেত্রে হাতি শত্রুর পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতো।
❖ যুদ্ধহস্তী (War Elephant) শত্রুর প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেঙে দেওয়া, ভয় সৃষ্টি করা এবং সেনাবাহিনীর আক্রমণক্ষমতা বৃদ্ধি করার কাজে ব্যবহৃত হতো।
❖ গ্রিক লেখকদের বিবরণে গঙ্গারিডাইয়ের সেনাবাহিনীর বিপুল শক্তির উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে বিভিন্ন লেখকের বর্ণনায় সৈন্য ও হাতির সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।
❖ এসব সংখ্যা সমসাময়িক সামরিক নথি দিয়ে যাচাই করা সম্ভব নয়। তাই এগুলোকে প্রাচীন সাহিত্যিক বিবরণ হিসেবে বিবেচনা করতে হয়।
❖ তবুও গঙ্গারিডাইয়ের হস্তীবাহিনীর খ্যাতি থেকে বোঝা যায় যে পূর্বভারতের সামরিক শক্তি সম্পর্কে গ্রিকদের ধারণা ছিল।
◉ ৪. গঙ্গারিডাইয়ের ভৌগোলিক অবস্থান
❖ গঙ্গারিডাইয়ের অবস্থান নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
❖ টলেমির (Ptolemy) বিবরণ অনুসারে গঙ্গারিডাইয়ের অবস্থান গঙ্গার একাধিক মোহনার আশপাশে ছিল।
❖ অনেক গবেষক গঙ্গারিডাইকে বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা বদ্বীপ অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত করেন।
❖ গঙ্গারিডাইয়ের সঙ্গে প্রাচীন বঙ্গ জনপদের সম্পর্কও ইতিহাসচর্চায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
❖ কিছু গবেষক চন্দ্রকেতুগড় ও তাম্রলিপ্ত অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সঙ্গে প্রাচীন গঙ্গা বদ্বীপের রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সম্পর্ক আলোচনা করেছেন।
❖ তবে গঙ্গারিডাইয়ের সুনির্দিষ্ট রাজধানী কোথায় ছিল, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।
◉ ৫. গ্রিক লেখকদের বিবরণ
❖ ডিওডোরাস সিকুলাস (Diodorus Siculus) ছিলেন গ্রিক ঐতিহাসিক। তাঁর রচিত Bibliotheca Historica গ্রন্থে গঙ্গারিডাইয়ের উল্লেখ রয়েছে।
❖ কুইন্টাস কার্টিয়াস রুফাস (Quintus Curtius Rufus) আলেকজান্ডারের ইতিহাস রচনার সময় গঙ্গারিডাই ও প্রাসি জনগোষ্ঠীর উল্লেখ করেন।
❖ স্ট্রাবো (Strabo) ছিলেন গ্রিক ভূগোলবিদ ও ঐতিহাসিক। তাঁর Geographica গ্রন্থে গঙ্গা নদী ও গঙ্গারিডাই সম্পর্কে বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ প্লিনি দ্য এল্ডার (Pliny the Elder) তাঁর Naturalis Historia গ্রন্থে গঙ্গা অঞ্চলের জনগোষ্ঠী ও ভূগোলের উল্লেখ করেন।
❖ টলেমি (Ptolemy) তাঁর ভূগোলবিষয়ক রচনায় গঙ্গার মোহনা অঞ্চলের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পরিচয় তুলে ধরেন।
❖ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব লেখকের অধিকাংশই আলেকজান্ডারের সমসাময়িক ছিলেন না; তাঁরা পূর্ববর্তী তথ্য ও প্রচলিত বিবরণ ব্যবহার করেছেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ গঙ্গারিডাই রাজ্যের অস্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ সময় — খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতক।
➤ গঙ্গারিডাই সম্পর্কে জানার প্রধান উৎস — গ্রিক লেখকদের বিবরণ।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের অবস্থান — প্রাচীন বাংলায়।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নদী — গঙ্গা।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের প্রধান সামরিক বৈশিষ্ট্য — শক্তিশালী হস্তীবাহিনী।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের সময়কার বিখ্যাত গ্রিক সেনাপতি — আলেকজান্ডার।
➤ আলেকজান্ডারের জন্মসাল — খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫৬।
➤ আলেকজান্ডারের মৃত্যুসাল — খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৩।
➤ আলেকজান্ডারের ভারত অভিযান — খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭–৩২৬ সাল।
➤ হিদাস্পিসের যুদ্ধ — খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬ সাল।
➤ হিদাস্পিসের যুদ্ধে আলেকজান্ডারের প্রতিপক্ষ — রাজা পুরু।
➤ আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনী অগ্রসর হতে অস্বীকৃতি জানায় — বিপাশা বা হাইফেসিস নদীর তীরে।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের সঙ্গে গ্রিক বিবরণে উল্লেখিত অন্য রাজনৈতিক শক্তি — প্রাসি।
➤ গঙ্গারিডাই সম্পর্কে লিখেছেন — ডিওডোরাস, স্ট্রাবো, প্লিনি, কার্টিয়াস রুফাস ও টলেমি।
➤ ডিওডোরাসের বিখ্যাত গ্রন্থ — Bibliotheca Historica।
➤ স্ট্রাবোর বিখ্যাত গ্রন্থ — Geographica।
➤ প্লিনির বিখ্যাত গ্রন্থ — Naturalis Historia।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ভৌগোলিক অঞ্চল — গঙ্গা বদ্বীপ।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের রাজধানী ও সুনির্দিষ্ট সীমানা — নিশ্চিতভাবে নির্ধারিত নয়।"