🧠 🔖
Free Topic

প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন শাসনআমল-মৌর্য সাম্রাজ্য, গুপ্ত সাম্রাজ্য, মাৎস্যন্যায়, পালবংশ, সেন বংশ

◉ সাধারণ জ্ঞান-বাংলাদেশ বিষয়াবলী›প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন শাসনআমল-মৌর্য সাম্রাজ্য, গুপ্ত সাম্রাজ্য, মাৎস্যন্যায়, পালবংশ, সেন বংশ

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚79মোট প্রশ্ন
🎯5মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

"০১. গঙ্গারিডাই রাজ্যের অস্তিত্বকাল — (ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এমটিও: ১২)"

ক

খ্রিষ্টপূর্ব ৯ম শতক

খ

খ্রিষ্টপূর্ব ৮ম শতক

গ

খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতক

ঘ

খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতক

✅ সঠিক উত্তর:গ. খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতক

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতক।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ গঙ্গারিডাই (Gangaridai) ছিল প্রাচীন বাংলার একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র বা জনপদ, যার অস্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সাক্ষ্য পাওয়া যায় খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকে আলেকজান্ডারের ভারত অভিযানসংক্রান্ত গ্রিক বিবরণে। গ্রিক ঐতিহাসিকেরা গঙ্গারিডাইকে গঙ্গা অববাহিকার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
❖ প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন জনপদ সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন রাজবংশের শাসনাধীন ছিল। গ্রিক লেখকদের বিবরণ থেকে জানা যায়, গ্রিক সেনাপতি আলেকজান্ডারের সময়ে বাংলায় গঙ্গারিডাই নামে একটি শক্তিশালী রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল। গঙ্গারিডাইয়ের বৃহৎ হস্তীবাহিনী তার সামরিক শক্তির অন্যতম পরিচায়ক ছিল।
❖ গঙ্গারিডাই নামটি প্রাচীন গ্রিক ও লাতিন সাহিত্যে Gangaridai, Gangaridae, Gangarides প্রভৃতি রূপে পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, নামটির সঙ্গে গঙ্গা নদী ও গঙ্গা বদ্বীপের ভৌগোলিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ মৌর্য সাম্রাজ্যের উত্থানের পর গঙ্গারিডাইয়ের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সীমিত। প্রচলিত ইতিহাসে অঞ্চলটি মৌর্য প্রভাববলয়ে চলে যাওয়ার কথা বলা হলেও সম্পূর্ণ গঙ্গারিডাই রাষ্ট্র কীভাবে মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না।
◉ ১. গঙ্গারিডাই রাজ্যের ঐতিহাসিক পটভূমি
❖ প্রাচীন বাংলায় বঙ্গ, পুণ্ড্র, গৌড়, রাঢ় ও সমতটসহ বিভিন্ন জনপদের বিকাশ ঘটেছিল। এসব অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবেশ, নদীপথ, উর্বর ভূমি এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ রাষ্ট্রগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
❖ গঙ্গারিডাই ছিল গঙ্গা অববাহিকা ও বদ্বীপ অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাচীন রাজনৈতিক শক্তি।
❖ নদীনির্ভর কৃষি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে গঙ্গা বদ্বীপ প্রাচীনকাল থেকেই অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ গ্রিক লেখকদের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকে গঙ্গারিডাইয়ের সামরিক শক্তির খ্যাতি উত্তর-পশ্চিম ভারত পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
❖ তবে গঙ্গারিডাইয়ের রাজধানী, রাজবংশের পূর্ণ তালিকা এবং সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সীমানা সম্পর্কে পর্যাপ্ত সমসাময়িক দেশীয় দলিল পাওয়া যায়নি।
◉ ২. আলেকজান্ডারের ভারত অভিযান ও গঙ্গারিডাই
❖ আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট (Alexander the Great) ছিলেন প্রাচীন ম্যাসিডোনিয়ার রাজা এবং অন্যতম বিখ্যাত সামরিক বিজেতা।
❖ তাঁর জন্ম খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫৬ সালে এবং মৃত্যু খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৩ সালে।
❖ তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭–৩২৬ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬ সালে হিদাস্পিসের যুদ্ধে আলেকজান্ডার ভারতীয় রাজা পুরুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।
❖ যুদ্ধের পর আলেকজান্ডার আরও পূর্বদিকে অগ্রসর হতে চাইলেও তাঁর সেনাবাহিনী হাইফেসিস বা বিপাশা নদীর তীরে অগ্রযাত্রা চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়।
❖ প্রাচীন গ্রিক বিবরণে পূর্বাঞ্চলের গঙ্গারিডাই ও প্রাসি (Prasii) জনগোষ্ঠীর শক্তিশালী সেনাবাহিনীর কথা উল্লেখ রয়েছে।
❖ বৃহৎ সেনাবাহিনী ও যুদ্ধহস্তীর সম্ভাব্য প্রতিরোধ, দীর্ঘ অভিযানের ক্লান্তি, বর্ষাকাল এবং স্বদেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা—এসব কারণে সৈন্যদের মধ্যে অগ্রসর হওয়ার অনীহা সৃষ্টি হয়।
❖ ফলে আলেকজান্ডার গঙ্গারিডাইয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান পরিচালনা করেননি।
◉ ৩. গঙ্গারিডাইয়ের সামরিক শক্তি ও হস্তীবাহিনী
❖ গঙ্গারিডাইয়ের সামরিক শক্তির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য ছিল বৃহৎ যুদ্ধহস্তীবাহিনী।
❖ প্রাচীন ভারতে হাতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ। যুদ্ধক্ষেত্রে হাতি শত্রুর পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতো।
❖ যুদ্ধহস্তী (War Elephant) শত্রুর প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেঙে দেওয়া, ভয় সৃষ্টি করা এবং সেনাবাহিনীর আক্রমণক্ষমতা বৃদ্ধি করার কাজে ব্যবহৃত হতো।
❖ গ্রিক লেখকদের বিবরণে গঙ্গারিডাইয়ের সেনাবাহিনীর বিপুল শক্তির উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে বিভিন্ন লেখকের বর্ণনায় সৈন্য ও হাতির সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।
❖ এসব সংখ্যা সমসাময়িক সামরিক নথি দিয়ে যাচাই করা সম্ভব নয়। তাই এগুলোকে প্রাচীন সাহিত্যিক বিবরণ হিসেবে বিবেচনা করতে হয়।
❖ তবুও গঙ্গারিডাইয়ের হস্তীবাহিনীর খ্যাতি থেকে বোঝা যায় যে পূর্বভারতের সামরিক শক্তি সম্পর্কে গ্রিকদের ধারণা ছিল।
◉ ৪. গঙ্গারিডাইয়ের ভৌগোলিক অবস্থান
❖ গঙ্গারিডাইয়ের অবস্থান নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
❖ টলেমির (Ptolemy) বিবরণ অনুসারে গঙ্গারিডাইয়ের অবস্থান গঙ্গার একাধিক মোহনার আশপাশে ছিল।
❖ অনেক গবেষক গঙ্গারিডাইকে বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা বদ্বীপ অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত করেন।
❖ গঙ্গারিডাইয়ের সঙ্গে প্রাচীন বঙ্গ জনপদের সম্পর্কও ইতিহাসচর্চায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
❖ কিছু গবেষক চন্দ্রকেতুগড় ও তাম্রলিপ্ত অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সঙ্গে প্রাচীন গঙ্গা বদ্বীপের রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সম্পর্ক আলোচনা করেছেন।
❖ তবে গঙ্গারিডাইয়ের সুনির্দিষ্ট রাজধানী কোথায় ছিল, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।
◉ ৫. গ্রিক লেখকদের বিবরণ
❖ ডিওডোরাস সিকুলাস (Diodorus Siculus) ছিলেন গ্রিক ঐতিহাসিক। তাঁর রচিত Bibliotheca Historica গ্রন্থে গঙ্গারিডাইয়ের উল্লেখ রয়েছে।
❖ কুইন্টাস কার্টিয়াস রুফাস (Quintus Curtius Rufus) আলেকজান্ডারের ইতিহাস রচনার সময় গঙ্গারিডাই ও প্রাসি জনগোষ্ঠীর উল্লেখ করেন।
❖ স্ট্রাবো (Strabo) ছিলেন গ্রিক ভূগোলবিদ ও ঐতিহাসিক। তাঁর Geographica গ্রন্থে গঙ্গা নদী ও গঙ্গারিডাই সম্পর্কে বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ প্লিনি দ্য এল্ডার (Pliny the Elder) তাঁর Naturalis Historia গ্রন্থে গঙ্গা অঞ্চলের জনগোষ্ঠী ও ভূগোলের উল্লেখ করেন।
❖ টলেমি (Ptolemy) তাঁর ভূগোলবিষয়ক রচনায় গঙ্গার মোহনা অঞ্চলের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পরিচয় তুলে ধরেন।
❖ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব লেখকের অধিকাংশই আলেকজান্ডারের সমসাময়িক ছিলেন না; তাঁরা পূর্ববর্তী তথ্য ও প্রচলিত বিবরণ ব্যবহার করেছেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ গঙ্গারিডাই রাজ্যের অস্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ সময় — খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতক।
➤ গঙ্গারিডাই সম্পর্কে জানার প্রধান উৎস — গ্রিক লেখকদের বিবরণ।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের অবস্থান — প্রাচীন বাংলায়।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নদী — গঙ্গা।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের প্রধান সামরিক বৈশিষ্ট্য — শক্তিশালী হস্তীবাহিনী।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের সময়কার বিখ্যাত গ্রিক সেনাপতি — আলেকজান্ডার।
➤ আলেকজান্ডারের জন্মসাল — খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫৬।
➤ আলেকজান্ডারের মৃত্যুসাল — খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৩।
➤ আলেকজান্ডারের ভারত অভিযান — খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭–৩২৬ সাল।
➤ হিদাস্পিসের যুদ্ধ — খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬ সাল।
➤ হিদাস্পিসের যুদ্ধে আলেকজান্ডারের প্রতিপক্ষ — রাজা পুরু।
➤ আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনী অগ্রসর হতে অস্বীকৃতি জানায় — বিপাশা বা হাইফেসিস নদীর তীরে।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের সঙ্গে গ্রিক বিবরণে উল্লেখিত অন্য রাজনৈতিক শক্তি — প্রাসি।
➤ গঙ্গারিডাই সম্পর্কে লিখেছেন — ডিওডোরাস, স্ট্রাবো, প্লিনি, কার্টিয়াস রুফাস ও টলেমি।
➤ ডিওডোরাসের বিখ্যাত গ্রন্থ — Bibliotheca Historica।
➤ স্ট্রাবোর বিখ্যাত গ্রন্থ — Geographica।
➤ প্লিনির বিখ্যাত গ্রন্থ — Naturalis Historia।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ভৌগোলিক অঞ্চল — গঙ্গা বদ্বীপ।
➤ গঙ্গারিডাইয়ের রাজধানী ও সুনির্দিষ্ট সীমানা — নিশ্চিতভাবে নির্ধারিত নয়।"
02
🎯 Level 1

০৫. ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম সাম্রাজ্যের নাম — / ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহৎ সাম্রাজ্যের নাম কী? (ডাক বিভাগের উপজেলা পোস্টমাস্টার: ১০)

ক

গুপ্ত সাম্রাজ্য

খ

চন্দ্র সাম্রাজ্য

গ

মৌর্য সাম্রাজ্য

ঘ

কুষাণ সাম্রাজ্য

✅ সঠিক উত্তর:গ. মৌর্য সাম্রাজ্য

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: মৌর্য সাম্রাজ্য (Mauryan Empire)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মৌর্য সাম্রাজ্য ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে প্রথম বৃহৎ ও সুসংগঠিত সাম্রাজ্যগুলোর অন্যতম। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য (Chandragupta Maurya)। তিনি আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২/৩২১ সালে মগধকে কেন্দ্র করে মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার আগে ভারতীয় উপমহাদেশে ষোড়শ মহাজনপদ, মগধ রাজ্য, নন্দবংশ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজশক্তির অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু মৌর্যদের অধীনে প্রথমবারের মতো উত্তর ভারত থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারত এবং পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অধীনে আসে।
❖ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ভারতের প্রথম বৃহৎ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। তিনি আলেকজান্ডারের উত্তরসূরি সেলিউকাস প্রথম নিকেতরের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পরবর্তী চুক্তির মাধ্যমে উত্তর-পশ্চিম ভারতে মৌর্য সাম্রাজ্যের কর্তৃত্ব সুসংহত করেন।
❖ মৌর্য সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র (Pataliputra), যা বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা নগরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
◉ ১. মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পটভূমি
❖ খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের দিকে উত্তর ভারতে বিভিন্ন রাজনৈতিক জনপদ ও মহাজনপদের বিকাশ ঘটে।
❖ ষোড়শ মহাজনপদ ছিল প্রাচীন ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংগঠনগুলোর একটি ঐতিহাসিক সমষ্টি।
❖ এসব মহাজনপদের মধ্যে মগধ ক্রমশ শক্তিশালী রাজনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
❖ মগধের উত্থানে হর্যঙ্ক, শিশুনাগ ও নন্দবংশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ হর্যঙ্ক বংশের বিম্বিসার মগধের শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ অজাতশত্রু মগধের সামরিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব সম্প্রসারণ করেন।
❖ পরবর্তী সময়ে নন্দবংশ মগধে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ও বিশাল সেনাবাহিনী গড়ে তোলে।
❖ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দবংশের শাসনের অবসান ঘটিয়ে মৌর্য সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন।
◉ ২. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা
❖ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের শেষভাগে রাজনৈতিক ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হন।
❖ তাঁর সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার সঙ্গে চাণক্য বা কৌটিল্যের নাম বিশেষভাবে সম্পর্কিত।
❖ ঐতিহ্যগত বিবরণ অনুযায়ী, চাণক্যের রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও চন্দ্রগুপ্তের সামরিক নেতৃত্বের ফলে নন্দবংশের পতন ঘটে।
❖ মগধের ক্ষমতা দখলের পর চন্দ্রগুপ্ত উত্তর ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে কর্তৃত্ব বিস্তার করেন।
❖ আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর উত্তর-পশ্চিম ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতা মৌর্য সাম্রাজ্যের বিস্তারের সুযোগ তৈরি করে।
❖ সেলিউকাস প্রথম নিকেতরের সঙ্গে আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩০৫–৩০৩ সালের সংঘর্ষ ও চুক্তি চন্দ্রগুপ্তের সাম্রাজ্য বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
❖ এই চুক্তির ফলে মৌর্যদের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে কর্তৃত্ব সুসংহত হয়।
◉ ৩. মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রধান শাসক
❖ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২/৩২১–২৯৭): মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম সম্রাট।
❖ বিন্দুসার (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ২৯৭–২৭৩): চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পুত্র এবং মৌর্য সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট।
❖ সম্রাট অশোক (প্রচলিত রাজত্বকাল খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩–২৩২): মৌর্য বংশের শ্রেষ্ঠ ও অন্যতম বিখ্যাত সম্রাট।
❖ দশরথ মৌর্য: অশোকের পরবর্তী শাসকদের একজন, যাঁর নাম বারাবর পাহাড়ের গুহালিপির সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ বৃহদ্রথ: মৌর্য বংশের শেষ সম্রাট।
❖ পুষ্যমিত্র শুঙ্গ বৃহদ্রথকে হত্যা করে মৌর্য শাসনের অবসান ঘটান এবং শুঙ্গবংশের প্রতিষ্ঠা করেন বলে প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
◉ ৪. মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো
❖ সম্রাট: সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ শাসক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের কেন্দ্র।
❖ মন্ত্রীপরিষদ: রাষ্ট্রীয় নীতি, অর্থনীতি, প্রশাসন ও সামরিক কার্যক্রমে সম্রাটকে পরামর্শ প্রদান করত।
❖ প্রাদেশিক প্রশাসন: বিস্তীর্ণ সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়।
❖ রাজস্বব্যবস্থা: কৃষি, ভূমিরাজস্ব, বাণিজ্য ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল।
❖ সামরিক বাহিনী: পদাতিক, অশ্বারোহী, রথ ও যুদ্ধহস্তী মৌর্য সামরিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
❖ গুপ্তচরব্যবস্থা: অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শত্রুর কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে গুপ্তচর ব্যবহারের ধারণা অর্থশাস্ত্রে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।
❖ যোগাযোগব্যবস্থা: প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সড়ক ও যোগাযোগের উন্নয়ন বৃহৎ সাম্রাজ্য পরিচালনায় সহায়ক ছিল।
◉ ৫. মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রধান ঐতিহাসিক উৎস
❖ অর্থশাস্ত্র (Arthashastra): কৌটিল্যের নামে প্রচলিত রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতিবিষয়ক গ্রন্থ।
❖ ইন্ডিকা (Indica): গ্রিক দূত মেগাস্থিনিসের রচনা, যেখানে মৌর্য যুগের ভারত সম্পর্কে বিবরণ রয়েছে।
❖ অশোকের শিলালিপি ও স্তম্ভলিপি: মৌর্য প্রশাসন, ধর্মনীতি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ঐতিহাসিক তথ্য প্রদান করে।
❖ পুরাণ ও বৌদ্ধ-জৈন সাহিত্য: মৌর্য শাসকদের পরিচয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী সাহিত্যিক উৎস।
❖ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: প্রাচীন নগর, মুদ্রা, স্থাপত্য, মৃৎপাত্র ও শিলালিপি মৌর্য যুগের ইতিহাস পুনর্গঠনে সহায়তা করে।
◉ ৬. প্রাচীন বাংলায় মৌর্য শাসনের নিদর্শন
❖ বগুড়ার মহাস্থানগড় প্রাচীন বাংলায় মৌর্য যুগের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক কেন্দ্র।
❖ মহাস্থানগড়কে প্রাচীন পুণ্ড্রনগর বা পুণ্ড্রবর্ধন নগরের সঙ্গে শনাক্ত করা হয়।
❖ মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি প্রাচীন বাংলায় মৌর্য যুগের প্রশাসনিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
❖ শিলালিপিতে দুর্যোগ ও খাদ্যসংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় উঠে এসেছে বলে গবেষকেরা ব্যাখ্যা করেন।
❖ এ নিদর্শন থেকে বোঝা যায়, মৌর্য যুগে উত্তরবঙ্গের অন্তত কিছু অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোর উপস্থিতি ছিল।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম বৃহৎ সাম্রাজ্য — মৌর্য সাম্রাজ্য।
➤ মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা — চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
➤ মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাকাল — আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২/৩২১ সাল।
➤ মৌর্য সাম্রাজ্যের রাজধানী — পাটলিপুত্র।
➤ পাটলিপুত্রের বর্তমান অবস্থান — পাটনা, বিহার।
➤ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধান উপদেষ্টা — চাণক্য।
➤ চাণক্যের অপর নাম — কৌটিল্য ও বিষ্ণুগুপ্ত।
➤ মৌর্য সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট — বিন্দুসার।
➤ মৌর্য বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট — অশোক।
➤ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পুত্র — বিন্দুসার।
➤ বিন্দুসারের পুত্র — সম্রাট অশোক।
➤ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সমসাময়িক গ্রিক শাসক — সেলিউকাস প্রথম নিকেতর।
➤ চন্দ্রগুপ্তের দরবারে গ্রিক দূত — মেগাস্থিনিস।
➤ মেগাস্থিনিসের গ্রন্থ — ইন্ডিকা।
➤ মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি — কৃষি ও ভূমিরাজস্ব।
➤ মৌর্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ — অর্থশাস্ত্র।
➤ প্রাচীন বাংলায় মৌর্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থান — মহাস্থানগড়।
➤ মহাস্থানগড়ের প্রাচীন পরিচয় — পুণ্ড্রনগর।
➤ মৌর্য বংশের শেষ সম্রাট — বৃহদ্রথ।
➤ মৌর্য বংশের পর প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ — শুঙ্গবংশ।
➤ শুঙ্গবংশের প্রতিষ্ঠাতা — পুষ্যমিত্র শুঙ্গ।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৯. চাণক্য কার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন? (কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর: ২১ / ডাক অধিদপ্তরের পরিদর্শক: ২৪ / বাংলাদেশ রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান: ২৪)

ক

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য

খ

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত

গ

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত

ঘ

সমুদ্রগুপ্ত

✅ সঠিক উত্তর:ক. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ চাণক্য বা কৌটিল্য ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধান রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীসদৃশ কর্মকর্তা। মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় তাঁর কৌশলগত পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে প্রাচীন সাহিত্যিক ঐতিহ্যে উল্লেখ রয়েছে।
❖ প্রশ্নে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, প্রথম চন্দ্রগুপ্ত এবং দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত—এই তিনজনের পরিচয় পৃথক। এদের নামের মিল থাকলেও তাঁরা একই রাজবংশের শাসক ছিলেন না।
❖ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন মৌর্যবংশের প্রতিষ্ঠাতা। অন্যদিকে প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্তবংশের শাসক।
◉ ১. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সঙ্গে চাণক্যের সম্পর্ক
❖ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২/৩২১ সালে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে চাণক্যের নাম ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
❖ চাণক্য রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সামরিক সংগঠন, রাজস্বব্যবস্থা, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
❖ মগধের নন্দবংশের পতনের বিবরণে চাণক্যকে রাজনৈতিক পরিকল্পনাকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
❖ চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় প্রশাসন সুসংহত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
◉ ২. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও প্রথম চন্দ্রগুপ্তের পার্থক্য
❖ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের শাসক।
❖ প্রথম চন্দ্রগুপ্ত (Chandragupta I) ছিলেন গুপ্ত সাম্রাজ্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ শাসক।
❖ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের শাসনকাল সাধারণত ৩১৯/৩২০–৩৩৫ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি ধরা হয়।
❖ তাঁর শাসনামলে গুপ্তবংশের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
❖ তিনি মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেন বলে প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
❖ লিচ্ছবি রাজকন্যা কুমারদেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ গুপ্তদের রাজনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের পুত্র — সমুদ্রগুপ্ত।
◉ ৩. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের পরিচয়
❖ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (Chandragupta II) ছিলেন গুপ্তবংশের একজন বিখ্যাত সম্রাট।
❖ তিনি বিক্রমাদিত্য উপাধির সঙ্গে বিশেষভাবে পরিচিত।
❖ তাঁর শাসনকাল সাধারণত খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চম শতকের প্রথমভাগ পর্যন্ত ধরা হয়।
❖ তিনি পশ্চিম ভারতের শক ক্ষত্রপদের শক্তির অবসান ঘটিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণ করেন।
❖ তাঁর শাসনামলে চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারত ভ্রমণ করেন।
❖ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন সমুদ্রগুপ্তের পুত্র।
◉ ৪. সমুদ্রগুপ্তের পরিচয়
❖ সমুদ্রগুপ্ত (Samudragupta) ছিলেন গুপ্তবংশের অন্যতম শক্তিশালী সম্রাট।
❖ তাঁর শাসনকাল সাধারণত খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতকের মধ্যভাগে স্থাপন করা হয়।
❖ তিনি উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ তাঁর সামরিক সাফল্যের কারণে তাঁকে অনেক সময় ভারতের নেপোলিয়ন বলা হয়।
❖ ইতিহাসবিদ ভিনসেন্ট আর্থার স্মিথ সমুদ্রগুপ্তকে এই বিশেষণে অভিহিত করেন।
❖ তাঁর বিজয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস এলাহাবাদ স্তম্ভলিপি বা প্রয়াগ প্রশস্তি।
❖ এই প্রশস্তির রচয়িতা ছিলেন হরিষেণ।
◉ ৫. চাণক্য ও গুপ্ত যুগের সময়গত পার্থক্য
❖ চাণক্য ও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের ব্যক্তিত্ব।
❖ প্রথম চন্দ্রগুপ্ত, সমুদ্রগুপ্ত ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন খ্রিস্টীয় চতুর্থ-পঞ্চম শতকের শাসক।
❖ ফলে চাণক্যের সময় এবং গুপ্ত সম্রাটদের সময়ের মধ্যে কয়েক শতাব্দীর ব্যবধান রয়েছে।
❖ তাই চাণক্যকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের কোনো চন্দ্রগুপ্তের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ চাণক্য ছিলেন — চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রীসদৃশ প্রধান উপদেষ্টা।
➤ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য — মৌর্যবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
➤ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজত্বকাল — আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২/৩২১–২৯৭।
➤ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজধানী — পাটলিপুত্র।
➤ চাণক্যের অপর নাম — কৌটিল্য।
➤ চাণক্যের নামে প্রচলিত গ্রন্থ — অর্থশাস্ত্র।
➤ প্রথম চন্দ্রগুপ্ত — গুপ্তবংশের শাসক।
➤ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের স্ত্রী — কুমারদেবী।
➤ কুমারদেবী ছিলেন — লিচ্ছবি রাজকন্যা।
➤ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের পুত্র — সমুদ্রগুপ্ত।
➤ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের উপাধি — মহারাজাধিরাজ।
➤ সমুদ্রগুপ্তকে বলা হয় — ভারতের নেপোলিয়ন।
➤ সমুদ্রগুপ্তের বিখ্যাত প্রশস্তি — এলাহাবাদ স্তম্ভলিপি।
➤ এলাহাবাদ প্রশস্তির রচয়িতা — হরিষেণ।
➤ সমুদ্রগুপ্তের পুত্র — দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।
➤ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের উপাধি — বিক্রমাদিত্য।
➤ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনামলে ভারত ভ্রমণ করেন — ফা-হিয়েন।
➤ মৌর্য সাম্রাজ্য — খ্রিষ্টপূর্ব যুগের সাম্রাজ্য।
➤ গুপ্ত সাম্রাজ্য — প্রধানত খ্রিস্টীয় চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতকের সাম্রাজ্য।
04
🎯 Level 1

১৪. বৌদ্ধ ধর্মের কনস্ট্যানটাইন কাকে বলা হয়? / মৌর্য বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট কে? (জবি: ০৯–১০)

ক

অশোক

খ

চন্দ্রগুপ্ত

গ

মহাবীর

ঘ

গৌতম বুদ্ধ

✅ সঠিক উত্তর:ক. অশোক

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: সম্রাট অশোক (Ashoka the Great)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ সম্রাট অশোককে ‘বৌদ্ধ ধর্মের কনস্ট্যানটাইন’ (Constantine of Buddhism) বলা হয়। কারণ রোমান সম্রাট কনস্ট্যানটাইন যেমন খ্রিস্টধর্মের প্রসার ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তেমনি মৌর্য সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রচার-প্রসারে অসামান্য অবদান রাখেন।
❖ সম্রাট অশোক ছিলেন মৌর্য বংশের তৃতীয় সম্রাট এবং এই বংশের সর্বাধিক খ্যাতিমান শাসক। তাঁর পিতা ছিলেন বিন্দুসার এবং পিতামহ ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, যিনি আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২/৩২১ সালে মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ সম্রাট অশোকের প্রচলিত রাজত্বকাল খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩–২৩২ অব্দ। তবে আধুনিক ইতিহাসচর্চায় তাঁর রাজ্যাভিষেক সাধারণত খ্রিষ্টপূর্ব ২৬৮ সালের কাছাকাছি ধরা হয়।
❖ অশোকের শাসনামলে মৌর্য সাম্রাজ্য রাজনৈতিক বিস্তার, প্রশাসনিক সংগঠন ও ধর্মনৈতিক কার্যক্রমের দিক থেকে বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে। তিনি শুধু সামরিক বিজয়ের জন্য নয়, বরং কলিঙ্গ যুদ্ধের পর তাঁর নৈতিক ও প্রশাসনিক নীতির পরিবর্তনের জন্যও ইতিহাসে বিখ্যাত।
❖ কলিঙ্গ যুদ্ধের (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ২৬১ সাল) ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় অশোকের জীবন ও শাসননীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। যুদ্ধের পর তিনি অহিংসা, মানবকল্যাণ, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং ধম্মবিজয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
❖ অশোক বৌদ্ধ সংঘকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন এবং তাঁর সময়ে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে বিস্তারের ঐতিহ্য গড়ে ওঠে। এই ঐতিহাসিক অবদানের কারণেই তাঁকে ‘বৌদ্ধ ধর্মের কনস্ট্যানটাইন’ বলা হয়।
◉ ১. সম্রাট অশোকের পরিচয় ও বংশপরিচয়
❖ পূর্ণ পরিচিতি: সম্রাট অশোক (Ashoka the Great)।
❖ রাজবংশ: মৌর্যবংশ (Maurya Dynasty)।
❖ পিতা: বিন্দুসার।
❖ পিতামহ: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
❖ রাজধানী: পাটলিপুত্র, বর্তমান পাটনা।
❖ প্রচলিত রাজত্বকাল: খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩–২৩২ অব্দ।
❖ আধুনিক গবেষণায় প্রচলিত রাজ্যাভিষেককাল: আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ২৬৮ সাল।
❖ মৃত্যুসাল: খ্রিষ্টপূর্ব ২৩২ অব্দ।
❖ শিলালিপিতে ব্যবহৃত উপাধি: দেবানাম্পিয় পিয়দসি (Devanampiya Piyadasi)।
❖ দেবানাম্পিয় শব্দের অর্থ দেবতাদের প্রিয় এবং পিয়দসি শব্দের অর্থ প্রিয়দর্শী।
❖ বৌদ্ধ ঐতিহ্যে তাঁর প্রাথমিক কঠোর শাসনের পরিচয়ে চণ্ডাশোক এবং ধর্মনৈতিক পরিবর্তন-পরবর্তী পরিচয়ে ধর্মাশোক নাম ব্যবহৃত হয়েছে।
◉ ২. অশোককে বৌদ্ধ ধর্মের কনস্ট্যানটাইন বলার কারণ
❖ কনস্ট্যানটাইন প্রথম (Constantine I) ছিলেন রোমান সাম্রাজ্যের একজন বিখ্যাত সম্রাট। তাঁর শাসনকাল ছিল ৩০৬–৩৩৭ খ্রিস্টাব্দ।
❖ কনস্ট্যানটাইন রোমান সাম্রাজ্যে খ্রিস্টধর্মের প্রতি রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটান।
❖ ৩১২ খ্রিস্টাব্দে মিলভিয়ান ব্রিজের যুদ্ধে (Battle of the Milvian Bridge) তিনি ম্যাক্সেনটিয়াসকে পরাজিত করেন।
❖ ৩১৩ খ্রিস্টাব্দে কনস্ট্যানটাইন ও লিসিনিয়াসের মিলান-সমঝোতার (Edict of Milan) মাধ্যমে খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ধর্মাচরণের স্বাধীনতা স্বীকৃতি পায়।
❖ কনস্ট্যানটাইনের পৃষ্ঠপোষকতায় খ্রিস্টধর্ম রোমান সাম্রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি অর্জন করে।
❖ অন্যদিকে সম্রাট অশোক খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ তিনি বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে সমর্থন দেন এবং ধম্মনীতির মাধ্যমে নৈতিক আচরণ, দয়া, সংযম ও সহনশীলতার প্রচার করেন।
❖ এভাবে কনস্ট্যানটাইনের সঙ্গে খ্রিস্টধর্ম এবং অশোকের সঙ্গে বৌদ্ধধর্মের প্রসারের ঐতিহাসিক তুলনা করা হয়।
❖ তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, কনস্ট্যানটাইন খ্রিস্টধর্মকে রোমান সাম্রাজ্যের সরকারি ধর্ম ঘোষণা করেননি। এই ধর্মকে সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে পরবর্তীকালে ৩৮০ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট প্রথম থিওডোসিয়াসের শাসনামলে।
◉ ৩. কলিঙ্গ যুদ্ধ ও অশোকের ধর্মনৈতিক পরিবর্তন
❖ অশোকের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি হলো কলিঙ্গ যুদ্ধ (Kalinga War)।
❖ যুদ্ধটি আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ২৬১ সালে সংঘটিত হয়।
❖ কলিঙ্গ ছিল বর্তমান ভারতের ওডিশা ও সংলগ্ন পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি।
❖ মৌর্য সাম্রাজ্যের পূর্ব উপকূলীয় যোগাযোগ ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের জন্য কলিঙ্গের অবস্থান ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ অশোক কলিঙ্গ জয় করার উদ্দেশ্যে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ যুদ্ধে মৌর্য বাহিনী বিজয়ী হলেও ব্যাপক প্রাণহানি, বন্দিত্ব ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
❖ অশোকের ত্রয়োদশ প্রধান শিলালিপিতে যুদ্ধের পর তাঁর অনুশোচনা ও মানবিক বেদনার কথা উল্লেখ রয়েছে।
❖ যুদ্ধের পর অশোক সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধম্মবিজয় (Dhamma-vijaya)-কে অধিক মূল্যবান বলে বিবেচনা করতে শুরু করেন।
❖ প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক ইতিহাসে এই যুদ্ধকে অশোকের বৌদ্ধধর্ম গ্রহণের প্রধান প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে তাঁর বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক যুদ্ধের আগেই শুরু হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
◉ ৪. বৌদ্ধধর্ম প্রচারে অশোকের অবদান
❖ অশোকের আগে বৌদ্ধধর্ম প্রধানত উত্তর ভারতীয় অঞ্চলে বিকশিত ধর্মীয় ও দার্শনিক ধারাগুলোর একটি ছিল।
❖ অশোকের শাসনামলে বৌদ্ধধর্ম রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে এবং এর প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তারের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
❖ তিনি বৌদ্ধ সংঘ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি সমর্থন প্রদান করেন।
❖ তাঁর সঙ্গে স্তূপ, ধর্মীয় স্মৃতিস্তম্ভ এবং বৌদ্ধ তীর্থস্থানের উন্নয়নের ঐতিহ্য সম্পর্কিত।
❖ বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী, অশোক বহু বৌদ্ধ স্তূপ নির্মাণ ও সংস্কারে সহায়তা করেন।
❖ সাঁচি স্তূপ (Sanchi Stupa) ভারতের মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ স্থাপত্য। এর প্রাথমিক নির্মাণের ঐতিহ্য অশোকের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ সারনাথ বৌদ্ধধর্মের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান, যেখানে গৌতম বুদ্ধ প্রথম ধর্মদেশনা প্রদান করেন।
❖ লুম্বিনী গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান। অশোকের রুম্মিনদেই স্তম্ভলিপি লুম্বিনী সফর ও সেখানে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
◉ ৫. তৃতীয় বৌদ্ধ সংঘীতি ও অশোক
❖ প্রচলিত থেরবাদী বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী, সম্রাট অশোকের পৃষ্ঠপোষকতায় তৃতীয় বৌদ্ধ সংঘীতি (Third Buddhist Council) অনুষ্ঠিত হয়।
❖ এই সংঘীতির স্থান হিসেবে পাটলিপুত্রের নাম উল্লেখ করা হয়।
❖ সংঘীতির নেতৃত্বের সঙ্গে মোগ্গলিপুত্ত তিস্স (Moggaliputta Tissa)-এর নাম সম্পর্কিত।
❖ সংঘীতির প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে বৌদ্ধ সংঘের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ধর্মীয় মতবাদের বিশুদ্ধতা বজায় রাখার কথা বৌদ্ধ ঐতিহ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
❖ বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই সংঘীতির পর বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মপ্রচারকদের পাঠানো হয়।
❖ তবে তৃতীয় সংঘীতির পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহের প্রধান বিবরণ পরবর্তী বৌদ্ধ ধর্মীয় গ্রন্থে সংরক্ষিত; অশোকের শিলালিপিতে এর বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না।
◉ ৬. শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধধর্ম প্রচার
❖ বৌদ্ধ ঐতিহ্যে সম্রাট অশোকের পুত্র মহিন্দ (Mahinda) এবং কন্যা সংঘমিত্রা (Sanghamitta)-র ধর্মপ্রচার বিশেষভাবে পরিচিত।
❖ প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, মহিন্দ শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেন।
❖ তখন শ্রীলঙ্কার শাসক ছিলেন দেবানাম্পিয় তিস্স (Devanampiya Tissa)।
❖ শ্রীলঙ্কার রাজদরবারে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণের ঐতিহ্য মহিন্দের ধর্মপ্রচারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ সংঘমিত্রা শ্রীলঙ্কায় ভিক্ষুণী সংঘের প্রতিষ্ঠার ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ তাঁর মাধ্যমে বোধিবৃক্ষের একটি শাখা শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়।
❖ অনুরাধাপুর পরবর্তী সময়ে শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ শিক্ষা, ধর্মীয় স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়।
◉ ৭. অশোকের ধম্মনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কার
❖ ধম্ম (Dhamma) ছিল অশোকের প্রচারিত নৈতিক ও সামাজিক আচরণবিষয়ক নীতিসমষ্টি।
❖ অশোকের ধম্মনীতির মধ্যে বৌদ্ধ নৈতিক শিক্ষার প্রভাব থাকলেও এটি শুধু বৌদ্ধদের জন্য প্রযোজ্য ধর্মীয় বিধান ছিল না।
❖ অহিংসা: অপ্রয়োজনীয় প্রাণহানি ও সহিংসতা পরিহারের ওপর গুরুত্ব।
❖ মানবিক দয়া: মানুষ ও অন্যান্য জীবের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ।
❖ ধর্মীয় সহনশীলতা: বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
❖ পিতামাতা ও গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা: পারিবারিক ও সামাজিক নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব।
❖ প্রজাকল্যাণ: সাধারণ মানুষের কল্যাণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ।
❖ ধর্মমহামাত্র: ধম্মনীতি ও সামাজিক কল্যাণসংক্রান্ত কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের জন্য নিযুক্ত বিশেষ কর্মকর্তা।
❖ অশোকের শিলালিপিতে মানুষ ও পশুর চিকিৎসা, বৃক্ষরোপণ, কূপ খনন এবং পথিকদের সুবিধার জন্য গৃহীত ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে।
◉ ৮. সম্রাট অশোকের শিলালিপি ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ সম্রাট অশোক তাঁর শাসননীতি ও প্রশাসনিক নির্দেশনা শিলা, স্তম্ভ ও গুহার দেয়ালে উৎকীর্ণ করান।
❖ অধিকাংশ অশোকলিপিতে প্রাকৃত ভাষা ও ব্রাহ্মী লিপি ব্যবহৃত হয়েছে।
❖ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু শিলালিপিতে খরোষ্ঠী লিপি পাওয়া যায়।
❖ আফগানিস্তানের কিছু অশোকলিপিতে গ্রিক ও আরামীয় ভাষার ব্যবহার রয়েছে।
❖ জেমস প্রিন্সেপ (James Prinsep) ১৮৩৭ সালে ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন।
❖ ত্রয়োদশ প্রধান শিলালিপি: কলিঙ্গ যুদ্ধ, প্রাণহানি এবং অশোকের অনুশোচনার বিবরণ।
❖ দ্বাদশ প্রধান শিলালিপি: ধর্মীয় সহনশীলতা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান।
❖ পঞ্চম প্রধান শিলালিপি: ধর্মমহামাত্রদের দায়িত্ব ও কার্যক্রম।
❖ দ্বিতীয় প্রধান শিলালিপি: মানুষ ও পশুর চিকিৎসা এবং কল্যাণমূলক ব্যবস্থার উল্লেখ।
❖ এসব শিলালিপি প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্রনীতি, প্রশাসন, সামাজিক জীবন ও ধর্মনৈতিক চিন্তা বোঝার প্রত্যক্ষ ঐতিহাসিক উৎস।
◉ ৯. মৌর্য বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট হিসেবে অশোকের গুরুত্ব
❖ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, কিন্তু অশোকের শাসনামলে সাম্রাজ্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিস্তারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
❖ অশোকের বিশেষত্ব ছিল সামরিক বিজয়ের পর নৈতিক শাসন ও প্রজাকল্যাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ।
❖ তিনি শিলালিপির মাধ্যমে বিস্তীর্ণ সাম্রাজ্যে প্রশাসনিক বার্তা প্রচার করেন।
❖ তাঁর শাসনামলে বৌদ্ধধর্ম রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করে।
❖ ধম্মনীতি, ধর্মীয় সহনশীলতা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ তাঁকে প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্রাটে পরিণত করেছে।
❖ এসব কারণে প্রচলিত ইতিহাস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অশোককে মৌর্য বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বৌদ্ধ ধর্মের কনস্ট্যানটাইন — সম্রাট অশোক।
➤ মৌর্য বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট — অশোক।
➤ মৌর্য বংশের তৃতীয় সম্রাট — অশোক।
➤ মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা — চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
➤ অশোকের পিতা — বিন্দুসার।
➤ অশোকের পিতামহ — চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
➤ অশোকের রাজধানী — পাটলিপুত্র।
➤ অশোকের প্রচলিত রাজত্বকাল — খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩–২৩২।
➤ অশোকের রাজ্যাভিষেকের আধুনিক প্রচলিত সাল — খ্রিষ্টপূর্ব ২৬৮।
➤ অশোকের মৃত্যুসাল — খ্রিষ্টপূর্ব ২৩২।
➤ অশোকের বিখ্যাত যুদ্ধ — কলিঙ্গ যুদ্ধ।
➤ কলিঙ্গ যুদ্ধের প্রচলিত সাল — খ্রিষ্টপূর্ব ২৬১।
➤ অশোকের ধর্মনৈতিক আদর্শ — ধম্ম।
➤ অশোকের ধর্মনৈতিক বিজয়ের ধারণা — ধম্মবিজয়।
➤ অশোকের শিলালিপিতে ব্যবহৃত উপাধি — দেবানাম্পিয় পিয়দসি।
➤ অশোকের প্রাথমিক কঠোর শাসনের ঐতিহ্যগত পরিচয় — চণ্ডাশোক।
➤ অশোকের পরবর্তী ধর্মপ্রাণ পরিচয় — ধর্মাশোক।
➤ অশোকের সঙ্গে সম্পর্কিত বৌদ্ধ সংঘীতি — তৃতীয় বৌদ্ধ সংঘীতি।
➤ তৃতীয় বৌদ্ধ সংঘীতির ঐতিহ্যগত স্থান — পাটলিপুত্র।
➤ তৃতীয় বৌদ্ধ সংঘীতির ঐতিহ্যগত প্রধান ব্যক্তিত্ব — মোগ্গলিপুত্ত তিস্স।
➤ শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধধর্ম প্রচারের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি — মহিন্দ।
➤ শ্রীলঙ্কায় ভিক্ষুণী সংঘের ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি — সংঘমিত্রা।
➤ মহিন্দ ও সংঘমিত্রা — বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী অশোকের সন্তান।
➤ অশোকের সঙ্গে সম্পর্কিত বিখ্যাত স্তূপ — সাঁচি স্তূপ।
➤ সাঁচি স্তূপ অবস্থিত — মধ্যপ্রদেশ, ভারত।
➤ গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান — লুম্বিনী।
➤ গৌতম বুদ্ধের প্রথম ধর্মদেশনার স্থান — সারনাথ।
➤ অশোকের শিলালিপির প্রধান লিপি — ব্রাহ্মী।
➤ ব্রাহ্মী লিপি পাঠোদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি — জেমস প্রিন্সেপ।
➤ ব্রাহ্মী লিপি পাঠোদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ সাল — ১৮৩৭।
➤ অশোকের ধর্মনৈতিক কর্মকর্তা — ধর্মমহামাত্র।
➤ রোমান সম্রাট কনস্ট্যানটাইনের শাসনকাল — ৩০৬–৩৩৭ খ্রিস্টাব্দ।
➤ মিলভিয়ান ব্রিজের যুদ্ধ — ৩১২ খ্রিস্টাব্দ।
➤ মিলান-সমঝোতা — ৩১৩ খ্রিস্টাব্দ।
➤ কনস্ট্যানটাইনের পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে সম্পর্কিত ধর্ম — খ্রিস্টধর্ম।
➤ অশোকের পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে সম্পর্কিত ধর্ম — বৌদ্ধধর্ম।
05
🎯 Level 1

১৮. গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে? / গুপ্ত বংশের প্রথম রাজা কে? (পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবার পরিকল্পনা সহকারী: ০৩)

ক

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত

খ

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত

গ

সমুদ্রগুপ্ত

ঘ

কুমার গুপ্ত

✅ সঠিক উত্তর:ক. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক — সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে।
◈ সঠিক উত্তর: প্রথম চন্দ্রগুপ্ত (Chandragupta I) — গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
◈ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনী:
❖ এখানে দুটি প্রশ্নকে একসঙ্গে দেওয়া হলেও ঐতিহাসিকভাবে দুটি উত্তরের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
❖ গুপ্ত রাজবংশের প্রথম পরিচিত প্রতিষ্ঠাতা — শ্রীগুপ্ত (Sri Gupta)।
❖ গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা — প্রথম চন্দ্রগুপ্ত (Chandragupta I)।
❖ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের আগে শ্রীগুপ্ত এবং ঘটোৎকচ গুপ্ত নামে দুজন শাসকের পরিচয় পাওয়া যায়।
❖ তাই ‘গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা’ প্রশ্নে ক. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত সঠিক; কিন্তু ‘গুপ্ত বংশের প্রথম রাজা’ প্রশ্নে শ্রীগুপ্ত সঠিক, যিনি ছবির অপশনগুলোতে নেই।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ গুপ্ত সাম্রাজ্য (Gupta Empire) প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য।
❖ আনুমানিক চতুর্থ শতাব্দীর শুরুতে প্রথম চন্দ্রগুপ্ত গুপ্ত শাসনের রাজনৈতিক ক্ষমতা সম্প্রসারণ করে সাম্রাজ্যিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ গুপ্ত যুগে সংস্কৃত সাহিত্য, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, শিল্পকলা, স্থাপত্য ও ধর্মীয় দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ ঘটে।
১. গুপ্ত রাজবংশের আদি প্রতিষ্ঠাতা শ্রীগুপ্ত
❖ নাম: শ্রীগুপ্ত (Sri Gupta)।
❖ আনুমানিক সময়কাল: তৃতীয় খ্রিষ্টীয় শতাব্দী।
❖ রাজবংশ: গুপ্ত।
❖ ঐতিহাসিক পরিচিতি: গুপ্ত রাজবংশের প্রথম পরিচিত প্রতিষ্ঠাতা।
❖ উপাধি: মহারাজা।
❖ শ্রীগুপ্তের নির্দিষ্ট জন্ম-মৃত্যুসাল এবং শাসনকালের তারিখ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে।
❖ তাঁর শাসনক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল এবং সাম্রাজ্যিক ক্ষমতা তখনো সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি।
২. ঘটোৎকচ গুপ্ত
❖ শ্রীগুপ্তের উত্তরসূরি ছিলেন ঘটোৎকচ (Ghatotkacha)।
❖ তাঁর উপাধিও ছিল মহারাজা।
❖ তিনি গুপ্ত রাজবংশের ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
❖ তাঁর পুত্র প্রথম চন্দ্রগুপ্ত পরবর্তী সময়ে গুপ্তদের শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
৩. প্রথম চন্দ্রগুপ্তের পরিচিতি
❖ নাম: প্রথম চন্দ্রগুপ্ত (Chandragupta I)।
❖ রাজবংশ: গুপ্ত।
❖ শাসনকাল: আনুমানিক ৩১৯/৩২০–৩৩৫ খ্রিষ্টাব্দ; কিছু গবেষণায় সামান্য ভিন্ন তারিখ ব্যবহৃত।
❖ পিতা: ঘটোৎকচ গুপ্ত।
❖ পিতামহ: শ্রীগুপ্ত।
❖ স্ত্রী: কুমারদেবী (Kumaradevi)।
❖ পুত্র ও উত্তরসূরি: সমুদ্রগুপ্ত।
❖ উপাধি: মহারাজাধিরাজ।
❖ প্রধান রাজনৈতিক কেন্দ্র: পাটলিপুত্র ও মগধ অঞ্চল।
৪. লিচ্ছবি রাজকন্যা কুমারদেবীর সঙ্গে বিবাহ
❖ প্রথম চন্দ্রগুপ্ত লিচ্ছবি রাজবংশের রাজকন্যা কুমারদেবীকে বিবাহ করেন।
❖ এই বিবাহ গুপ্ত রাজবংশের রাজনৈতিক মর্যাদা ও আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ চন্দ্রগুপ্ত-কুমারদেবীর যুগল প্রতিকৃতিসংবলিত স্বর্ণমুদ্রা পাওয়া গেছে।
❖ মুদ্রাগুলো গুপ্ত যুগের রাজনীতি, রাজবংশীয় জোট এবং শিল্পকলার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
৫. মহারাজাধিরাজ উপাধি
❖ শ্রীগুপ্ত ও ঘটোৎকচের পরিচিত উপাধি ছিল মহারাজা।
❖ প্রথম চন্দ্রগুপ্ত মহারাজাধিরাজ (Maharajadhiraja) উপাধি ব্যবহার করেন।
❖ এর অর্থ রাজাদের মহারাজা বা সম্রাট।
❖ এই উপাধি তাঁর বর্ধিত রাজনৈতিক ও সাম্রাজ্যিক ক্ষমতার পরিচায়ক।
৬. গুপ্তাব্দের সূচনা
❖ ৩১৯–৩২০ খ্রিষ্টাব্দে গুপ্তাব্দ (Gupta Era)-এর সূচনা ধরা হয়।
❖ সাধারণ পাঠ্যবইয়ে প্রথম চন্দ্রগুপ্তের সিংহাসনে আরোহণ বা সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার সঙ্গে গুপ্তাব্দের সূচনাকে যুক্ত করা হয়।
❖ ঐতিহাসিক গণনায় গুপ্তাব্দের প্রারম্ভিক যুগ সাধারণত ৩১৯–৩২০ খ্রিষ্টাব্দ।
৭. গুপ্ত সাম্রাজ্যের বিস্তার
❖ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের সময় গুপ্ত শাসনের ভিত্তি মগধ, প্রয়াগ এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী হয়।
❖ পরবর্তী সম্রাট সমুদ্রগুপ্ত ব্যাপক সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের সীমানা সম্প্রসারণ করেন।
❖ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে সাম্রাজ্য আরও সমৃদ্ধ হয়।
৮. গুপ্ত সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শাসক
❖ শ্রীগুপ্ত: গুপ্ত রাজবংশের প্রথম পরিচিত প্রতিষ্ঠাতা।
❖ ঘটোৎকচ: শ্রীগুপ্তের উত্তরসূরি।
❖ প্রথম চন্দ্রগুপ্ত: সাম্রাজ্যিক শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠাতা।
❖ সমুদ্রগুপ্ত: মহান বিজেতা ও ভারতের নেপোলিয়ন নামে পরিচিত।
❖ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত: বিক্রমাদিত্য উপাধিধারী শক্তিশালী শাসক।
❖ প্রথম কুমারগুপ্ত: নালন্দা মহাবিহারের প্রাথমিক পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ স্কন্দগুপ্ত: হূণ আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য বিখ্যাত।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা — প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।
➤ গুপ্ত বংশের প্রথম পরিচিত প্রতিষ্ঠাতা — শ্রীগুপ্ত।
➤ গুপ্ত রাজবংশের প্রাথমিক সময় — তৃতীয় খ্রিষ্টীয় শতাব্দী।
➤ গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাকাল — ৩১৯–৩২০ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ গুপ্তাব্দের সূচনা — ৩১৯–৩২০।
➤ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের শাসনকাল — আনুমানিক ৩১৯/৩২০–৩৩৫।
➤ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের পিতা — ঘটোৎকচ।
➤ পিতামহ — শ্রীগুপ্ত।
➤ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের স্ত্রী — কুমারদেবী।
➤ কুমারদেবীর রাজবংশ — লিচ্ছবি।
➤ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের পুত্র — সমুদ্রগুপ্ত।
➤ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের উপাধি — মহারাজাধিরাজ।
➤ মহারাজাধিরাজ অর্থ — রাজাদের মহারাজা।
➤ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের বিখ্যাত স্বর্ণমুদ্রা — চন্দ্রগুপ্ত-কুমারদেবী মুদ্রা।
➤ গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রধান ঐতিহাসিক রাজধানী — পাটলিপুত্র।
➤ পাটলিপুত্রের বর্তমান নাম — পাটনা।
➤ পাটনা অবস্থিত — বিহার, ভারত।
➤ গুপ্ত সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিজেতা — সমুদ্রগুপ্ত।
➤ বিক্রমাদিত্য উপাধিধারী গুপ্ত সম্রাট — দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।
➤ বিশেষ পার্থক্য: শ্রীগুপ্ত—বংশের প্রতিষ্ঠাতা; প্রথম চন্দ্রগুপ্ত—গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা; চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য—মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
Advertisement
06
🎯 Level 1

২১. মহাকবি কালিদাস যে যুগের কবি ছিলেন— (বেরোবি: ১২–১৩; গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহকারী তথ্য অফিসার: ১৩)

ক

পাল

খ

সেন

গ

মৌর্য

ঘ

গুপ্ত

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. গুপ্ত

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: গুপ্ত যুগ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মহাকবি কালিদাস (Kalidasa) ছিলেন সংস্কৃত সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও নাট্যকার। তাঁর সাহিত্যজীবনকে সাধারণভাবে গুপ্ত যুগ, বিশেষত চতুর্থ–পঞ্চম খ্রিষ্টীয় শতাব্দীর সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়।
❖ তিনি মহাকাব্য, গীতিকাব্য ও নাটক রচনায় অসামান্য খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে অভিজ্ঞানশকুন্তলম, মেঘদূত, রঘুবংশ, কুমারসম্ভব, বিক্রমোর্বশীয়ম এবং মালবিকাগ্নিমিত্রম।
১. মহাকবি কালিদাসের জীবন ও পরিচিতি
❖ নাম: কালিদাস (Kalidasa)।
❖ ভাষা: সংস্কৃত।
❖ পরিচয়: মহাকবি ও নাট্যকার।
❖ আনুমানিক সাহিত্যিক সময়কাল: চতুর্থ–পঞ্চম খ্রিষ্টীয় শতাব্দী।
❖ সংশ্লিষ্ট যুগ: গুপ্ত যুগ।
❖ সংশ্লিষ্ট রাজদরবার: প্রচলিত মতে বিক্রমাদিত্য উপাধিধারী দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের দরবার।
❖ জন্মতারিখ ও জন্মস্থান: নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত নয়।
❖ মৃত্যুর সাল ও স্থান: নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত নয়।
❖ বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম: অভিজ্ঞানশকুন্তলম, মেঘদূত, রঘুবংশ, কুমারসম্ভব।
❖ কালিদাসের জীবনী সম্পর্কে নানা কিংবদন্তি প্রচলিত থাকলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের খুব অল্প তথ্য ঐতিহাসিকভাবে নিশ্চিত।
২. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের দরবারের সঙ্গে সম্পর্ক
❖ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্ত সাম্রাজ্যের বিখ্যাত বিক্রমাদিত্য উপাধিধারী শাসক।
❖ তাঁর আমলে সংস্কৃত সাহিত্য ও শিল্পকলার গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ ঘটে।
❖ প্রচলিত ঐতিহ্যে কালিদাসকে বিক্রমাদিত্যের নবরত্নের অন্যতম বলা হয়।
❖ তবে কালিদাসের সঙ্গে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের প্রত্যক্ষ রাজদরবারি সম্পর্ক সমসাময়িক দলিল দ্বারা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
৩. কালিদাসের মহাকাব্য
◉ রঘুবংশ (Raghuvamsha)
❖ সংস্কৃত ভাষার বিখ্যাত মহাকাব্য।
❖ এতে রঘুবংশের রাজাদের ইতিহাস ও কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
❖ দিলীপ, রঘু, অজ, দশরথ ও রামসহ বিভিন্ন রাজা এই কাব্যের বিষয়বস্তু।
❖ কাব্যে রাজধর্ম, বীরত্ব, রাজনৈতিক আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিক অনুভূতির প্রকাশ রয়েছে।
❖ বাংলার প্রাচীন বঙ্গ জনপদের উল্লেখও রঘুবংশে পাওয়া যায়।
◉ কুমারসম্ভব (Kumarasambhava)
❖ সংস্কৃত মহাকাব্য।
❖ প্রধান বিষয় — শিব ও পার্বতীর বিবাহ এবং তাঁদের পুত্র কার্তিকেয়ের জন্ম।
❖ এতে হিমালয়, প্রকৃতি, তপস্যা ও দেবদেবীর কাহিনি বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে।
৪. কালিদাসের বিখ্যাত নাটক
◉ অভিজ্ঞানশকুন্তলম (Abhijnanashakuntalam)
❖ কালিদাসের সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক।
❖ প্রধান চরিত্র — রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলা।
❖ নাটকের কাহিনি মহাভারতের শকুন্তলা-দুষ্মন্ত উপাখ্যানের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
❖ প্রেম, বিচ্ছেদ, অভিশাপ, স্মৃতিচিহ্ন এবং পুনর্মিলন নাটকের প্রধান বিষয়।
◉ বিক্রমোর্বশীয়ম (Vikramorvashiyam)
❖ প্রধান চরিত্র — পুরুরবা ও উর্বশী।
❖ কাহিনিতে মানব রাজা ও অপ্সরীর প্রেম এবং বিচ্ছেদের ঘটনা রয়েছে।
◉ মালবিকাগ্নিমিত্রম (Malavikagnimitram)
❖ প্রধান চরিত্র — অগ্নিমিত্র ও মালবিকা।
❖ অগ্নিমিত্র ছিলেন শুঙ্গ রাজবংশের একজন ঐতিহাসিক শাসক।
❖ নাটকটিতে রাজদরবারের প্রেম ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা রয়েছে।
৫. কালিদাসের গীতিকাব্য
◉ মেঘদূত (Meghaduta)
❖ বিখ্যাত সংস্কৃত দূতকাব্য।
❖ নির্বাসিত যক্ষ মেঘের মাধ্যমে দূরবর্তী স্ত্রীর কাছে প্রেমের বার্তা পাঠানোর কল্পনা করে।
❖ প্রকৃতিবর্ণনা, প্রেম, বিরহ ও কাব্যিক সৌন্দর্য এই গ্রন্থের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
◉ ঋতুসংহার (Ritusamhara)
❖ ছয় ঋতুর প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতির কাব্যিক বর্ণনা।
❖ গ্রন্থটি প্রচলিতভাবে কালিদাসের নামে পরিচিত, যদিও এর রচয়িতা সম্পর্কে গবেষণায় কিছু মতভেদ রয়েছে।
৬. কালিদাসের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য
❖ প্রকৃতির মনোরম ও সূক্ষ্ম বর্ণনা।
❖ উপমা ও অলংকারের অসাধারণ প্রয়োগ।
❖ প্রেম ও বিরহের গভীর প্রকাশ।
❖ পৌরাণিক কাহিনির শিল্পসম্মত পুনর্নির্মাণ।
❖ রাজকীয় জীবন ও মানবিক আবেগের সমন্বয়।
❖ সংস্কৃত নাটক ও কাব্যের ভাষাশৈলীতে উচ্চমানের শৈল্পিক উৎকর্ষ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মহাকবি কালিদাস — গুপ্ত যুগের কবি।
➤ কালিদাসের সাহিত্যভাষা — সংস্কৃত।
➤ কালিদাসের আনুমানিক সময় — চতুর্থ–পঞ্চম খ্রিষ্টীয় শতাব্দী।
➤ কালিদাসের জন্ম ও মৃত্যুর নির্দিষ্ট সাল — ঐতিহাসিকভাবে অনিশ্চিত।
➤ কালিদাসের সঙ্গে প্রচলিতভাবে সম্পর্কিত সম্রাট — দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত্য।
➤ কালিদাসের বিখ্যাত নাটক — অভিজ্ঞানশকুন্তলম।
➤ অভিজ্ঞানশকুন্তলমের প্রধান চরিত্র — দুষ্মন্ত ও শকুন্তলা।
➤ বিক্রমোর্বশীয়মের প্রধান চরিত্র — পুরুরবা ও উর্বশী।
➤ মালবিকাগ্নিমিত্রমের প্রধান চরিত্র — অগ্নিমিত্র ও মালবিকা।
➤ অগ্নিমিত্র ছিলেন — শুঙ্গ বংশের শাসক।
➤ কালিদাসের বিখ্যাত মহাকাব্য — রঘুবংশ।
➤ রঘুবংশের বিষয় — রঘুবংশীয় রাজাদের কাহিনি।
➤ রঘুবংশে উল্লেখিত প্রাচীন বাংলার জনপদ — বঙ্গ।
➤ কালিদাসের আরেক মহাকাব্য — কুমারসম্ভব।
➤ কুমারসম্ভবের বিষয় — কার্তিকেয়ের জন্ম।
➤ কালিদাসের বিখ্যাত দূতকাব্য — মেঘদূত।
➤ মেঘদূতের বার্তাবাহক — মেঘ।
➤ কালিদাসের ঋতুবিষয়ক কাব্য — ঋতুসংহার।
➤ কালিদাসের প্রধান স্বীকৃত নাটক — তিনটি।
➤ কালিদাসের প্রধান মহাকাব্য — দুটি।
➤ বিশেষ পরীক্ষার পার্থক্য: রঘুবংশ—মহাকাব্য; অভিজ্ঞানশকুন্তলম—নাটক; মেঘদূত—দূতকাব্য।
07
🎯 Level 1

২৫. কোন যুগ প্রাচীন ভারতের স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিচিত? / ভারতবর্ষের কোন যুগের ভাস্কর্যকে ধ্রুপদী ভাস্কর্য বলা হয়? (রাবি: ১১–১২; রাবি: ১৩–১৪; রাবি: ১৯–২০; বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক: ২৩)

ক

মৌর্য যুগ

খ

পাল যুগ

গ

কুষাণ যুগ

ঘ

গুপ্ত যুগ

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. গুপ্ত যুগ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: গুপ্ত যুগ (Gupta Period)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ গুপ্ত যুগকে প্রাচীন ভারতের স্বর্ণযুগ (Golden Age of Ancient India) বলা হয়। এই যুগে সংস্কৃত সাহিত্য, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, শিল্পকলা, স্থাপত্য, দর্শন ও ধর্মীয় চিন্তায় গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি ঘটে।
❖ বিশেষত চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ খ্রিষ্টীয় শতাব্দী পর্যন্ত সময়কে গুপ্ত যুগের প্রধান রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
❖ গুপ্ত যুগের ভাস্কর্যকে ভারতীয় শিল্পকলার ধ্রুপদী বা Classical Sculpture-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়।
১. গুপ্ত যুগকে স্বর্ণযুগ বলার কারণ
❖ সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ।
❖ গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
❖ ধর্মীয় দর্শন ও পাণ্ডিত্যচর্চার সমৃদ্ধি।
❖ মন্দির স্থাপত্যের বিকাশ।
❖ বুদ্ধ ও হিন্দু দেবদেবীর মূর্তিশিল্পে নতুন রীতির প্রতিষ্ঠা।
❖ স্বর্ণমুদ্রা ও সাম্রাজ্যিক শিল্পকলার উৎকর্ষ।
❖ এই অর্জনগুলোর জন্য গুপ্ত যুগকে স্বর্ণযুগ বলা হয়, যদিও সমগ্র জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থা সমানভাবে সমৃদ্ধ ছিল—এমনটি ধরে নেওয়া যায় না।
২. গুপ্ত যুগের সাহিত্য
❖ কালিদাস: অভিজ্ঞানশকুন্তলম, মেঘদূত, রঘুবংশ ও কুমারসম্ভব।
❖ অমরসিংহ: অমরকোষ।
❖ বিশাখদত্ত: মুদ্রারাক্ষস এবং দেবীচন্দ্রগুপ্তমের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ শূদ্রক: মৃচ্ছকটিক নাটকের প্রচলিত রচয়িতা; তাঁর নির্দিষ্ট কাল ও পরিচয় নিয়ে গবেষণায় মতভেদ রয়েছে।
৩. গুপ্ত যুগের গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞান
◉ আর্যভট্ট (Aryabhata)
❖ জন্ম — ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ বিখ্যাত গ্রন্থ — আর্যভটীয় (Aryabhatiya)।
❖ গ্রন্থ রচনা — ৪৯৯ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
❖ পৃথিবীর ঘূর্ণন এবং গ্রহ-নক্ষত্রের আপাত গতিবিষয়ক আলোচনা করেন।
◉ বরাহমিহির (Varahamihira)
❖ ষষ্ঠ শতাব্দীর বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পণ্ডিত।
❖ বিখ্যাত গ্রন্থ — বৃহৎসংহিতা।
❖ অন্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ — পঞ্চসিদ্ধান্তিকা।
৪. গুপ্ত যুগের ভাস্কর্য
❖ গুপ্ত যুগে বুদ্ধ, বিষ্ণু, শিব এবং জৈন তীর্থংকরদের মূর্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পরীতি গড়ে ওঠে।
❖ মানবদেহের সমানুপাতিক গঠন, শান্ত মুখাবয়ব, সূক্ষ্ম অলংকরণ এবং আধ্যাত্মিক ভাবপ্রকাশ এই শিল্পরীতির বৈশিষ্ট্য।
❖ গুপ্ত যুগের গুরুত্বপূর্ণ ভাস্কর্যকেন্দ্র ছিল—
❖ মথুরা: লালচে বেলেপাথরের মূর্তিশিল্প।
❖ সারনাথ: কোমল ভঙ্গি, শান্ত মুখাবয়ব ও সূক্ষ্ম বস্ত্ররীতির বুদ্ধমূর্তি।
৫. গুপ্ত যুগের স্থাপত্য
◉ দশাবতার মন্দির
❖ অবস্থান — দেওগড়, উত্তর প্রদেশ।
❖ গুপ্ত যুগের গুরুত্বপূর্ণ মন্দির স্থাপত্য।
◉ ভিতরগাঁও মন্দির
❖ অবস্থান — উত্তর প্রদেশ।
❖ প্রাচীন ইটনির্মিত মন্দির স্থাপত্যের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
◉ উদয়গিরি গুহা
❖ অবস্থান — বিদিশা অঞ্চল, মধ্যপ্রদেশ।
❖ গুপ্ত যুগের গুরুত্বপূর্ণ শিলাখোদাই ও ধর্মীয় স্থাপত্যের নিদর্শন।
৬. গুপ্ত যুগের চিত্রকলা
❖ অজন্তা গুহাচিত্র প্রাচীন ভারতীয় চিত্রকলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
❖ অজন্তার শিল্পকর্ম বিভিন্ন সময়ে নির্মিত হয়েছে; এর গুরুত্বপূর্ণ চিত্রকলার অংশ গুপ্ত ও বাকাটক যুগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ চিত্রগুলোয় বৌদ্ধ জাতককাহিনি, ধর্মীয় জীবন, রাজদরবার ও সমাজজীবনের বিষয়বস্তু পাওয়া যায়।
৭. গুপ্ত যুগের সীমাবদ্ধতা ও ঐতিহাসিক মূল্যায়ন
❖ স্বর্ণযুগ শব্দটি মূলত শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও অভিজাত সংস্কৃতির উৎকর্ষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
❖ এ যুগে সমাজে বিভিন্ন ধরনের শ্রেণি ও বর্ণভিত্তিক বৈষম্য বিদ্যমান ছিল।
❖ তাই গুপ্ত যুগকে সাংস্কৃতিক স্বর্ণযুগ বললেও সব মানুষের জন্য সমান সামাজিক সমৃদ্ধির যুগ বলা যথার্থ নয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রাচীন ভারতের স্বর্ণযুগ — গুপ্ত যুগ।
➤ গুপ্ত যুগের প্রধান সময়কাল — চতুর্থ–ষষ্ঠ খ্রিষ্টীয় শতাব্দী।
➤ গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা — প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।
➤ গুপ্ত বংশের আদি প্রতিষ্ঠাতা — শ্রীগুপ্ত।
➤ ভারতের নেপোলিয়ন — সমুদ্রগুপ্ত।
➤ বিক্রমাদিত্য — দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।
➤ গুপ্ত যুগের বিখ্যাত কবি — কালিদাস।
➤ কালিদাসের বিখ্যাত কাব্য — মেঘদূত ও রঘুবংশ।
➤ কালিদাসের বিখ্যাত নাটক — অভিজ্ঞানশকুন্তলম।
➤ অমরকোষের রচয়িতা — অমরসিংহ।
➤ মুদ্রারাক্ষসের রচয়িতা — বিশাখদত্ত।
➤ গুপ্ত যুগের বিখ্যাত গণিতজ্ঞ — আর্যভট্ট।
➤ আর্যভট্টের জন্ম — ৪৭৬।
➤ আর্যভটীয় রচিত — ৪৯৯।
➤ বরাহমিহিরের বিখ্যাত গ্রন্থ — বৃহৎসংহিতা।
➤ বরাহমিহিরের আরেক গ্রন্থ — পঞ্চসিদ্ধান্তিকা।
➤ গুপ্ত যুগের গুরুত্বপূর্ণ ভাস্কর্যকেন্দ্র — মথুরা ও সারনাথ।
➤ সারনাথের বিখ্যাত ভাস্কর্য — বুদ্ধমূর্তি।
➤ দশাবতার মন্দির অবস্থিত — দেওগড়।
➤ উদয়গিরি গুহা অবস্থিত — মধ্যপ্রদেশ।
➤ গুপ্ত যুগের চিত্রকলার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র — অজন্তা।
➤ গুপ্ত যুগের শেষ শক্তিশালী শাসকদের অন্যতম — স্কন্দগুপ্ত।
➤ বিশেষ পার্থক্য: গুপ্ত যুগ—প্রাচীন ভারতের স্বর্ণযুগ ও ধ্রুপদী ভাস্কর্য; পাল যুগ—বাংলার বৌদ্ধ মূর্তিশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিকাশপর্ব।
08
🎯 Level 1

২৯. কত শতকে বঙ্গ ও গৌড় দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে? (রাবি: ৯৫–৯৬; নিবন্ধন অধিদপ্তরের সাব-রেজিস্ট্রার: ০১)

ক

ষষ্ঠ

খ

অষ্টম

গ

দশম

ঘ

একাদশ

✅ সঠিক উত্তর:ক. ষষ্ঠ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ষষ্ঠ শতাব্দী (6th Century CE)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ষষ্ঠ খ্রিষ্টীয় শতাব্দীতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
❖ এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সঙ্গে বঙ্গ ও গৌড় রাজ্যের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বিকাশ সম্পর্কিত।
❖ ষষ্ঠ শতাব্দী বলতে ৫০১–৬০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বোঝায়।
১. গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের প্রেক্ষাপট
❖ পঞ্চম শতাব্দীর শেষভাগ থেকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতা দুর্বল হতে থাকে।
❖ হূণদের আক্রমণ, রাজবংশীয় দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রাদেশিক শাসকদের ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
❖ ষষ্ঠ শতাব্দীতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ বহু অঞ্চল স্বাধীন হতে শুরু করে।
২. বাংলায় স্বাধীন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান
❖ গুপ্ত শাসনের শেষ পর্যায়ে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় শাসকেরা ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন।
❖ বৈন্যগুপ্ত (Vainyagupta)-এর শাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বাংলায় গুপ্ত কর্তৃত্বের শেষ পর্যায় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।
❖ তাঁর পরবর্তী সময়ে বঙ্গ অঞ্চলে গোপচন্দ্র ও অন্যান্য স্বাধীন শাসকদের উত্থান ঘটে।
৩. স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের বিকাশ
❖ গোপচন্দ্র ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বঙ্গের স্বাধীন শাসক হিসেবে পরিচিত।
❖ তাঁর তাম্রশাসন থেকে বোঝা যায়, তিনি বিস্তৃত অঞ্চলে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
❖ বঙ্গ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত প্রশাসনিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে বর্ধমানভুক্তি ও নব্যাবকাশিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের শাসকদের সময়কাল ইতিহাসবিদদের মতে আনুমানিক ৫২৫–৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দ।
৪. গৌড় রাজ্যের বিকাশ
❖ গুপ্ত শাসনের অবসানের পর বাংলার পশ্চিমাঞ্চলেও স্থানীয় শাসকদের রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
❖ এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গৌড় রাজ্যের উত্থান ঘটে।
❖ সপ্তম শতাব্দীর প্রথমদিকে শশাঙ্ক গৌড়কে শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্যে পরিণত করেন।
❖ তাই গৌড়ের রাজনৈতিক বিকাশ ষষ্ঠ শতাব্দীতে শুরু হলেও শশাঙ্কের উত্থান সপ্তম শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
৫. শশাঙ্কের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ড
❖ শশাঙ্ক গৌড়ের শাসনকর্তা হিসেবে উত্তর ভারতের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেন।
❖ তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ ছিলেন কনৌজের মৌখরি রাজবংশ এবং হর্ষবর্ধনের রাজবংশ।
❖ তিনি মালবের শাসক দেবগুপ্তের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
❖ কনৌজের রাজা গ্রহবর্মণ এবং হর্ষবর্ধনের ভাই রাজ্যবর্ধনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঐতিহাসিক বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ রাজ্যবর্ধনের মৃত্যুর ঘটনায় শশাঙ্কের ভূমিকা সম্পর্কে বিভিন্ন সমসাময়িক বর্ণনা থাকলেও বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে।
৬. বঙ্গ ও গৌড়ের ইতিহাসে তাম্রশাসন ও মুদ্রা
❖ গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেবের তাম্রশাসন স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের তথ্য প্রদান করে।
❖ শশাঙ্কের স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা গৌড় রাজ্যের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
❖ এসব প্রত্ননিদর্শন বাংলার স্বাধীন রাষ্ট্রব্যবস্থা, ভূমি প্রশাসন ও আঞ্চলিক অর্থনীতি সম্পর্কে ধারণা দেয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বঙ্গ ও গৌড়ের স্বাধীন রাজনৈতিক উত্থান — ষষ্ঠ শতাব্দীতে।
➤ ষষ্ঠ শতাব্দী — ৫০১–৬০০ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ পঞ্চম শতাব্দী — ৪০১–৫০০।
➤ সপ্তম শতাব্দী — ৬০১–৭০০।
➤ বাংলায় স্বাধীন রাজ্যের উত্থানের প্রধান পটভূমি — গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন।
➤ গুপ্ত সাম্রাজ্যের শেষ স্বীকৃত শাসক — বিষ্ণুগুপ্ত।
➤ গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের প্রচলিত সময় — ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যভাগ।
➤ স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের প্রধান শাসক — গোপচন্দ্র।
➤ গোপচন্দ্রের শাসনকাল — ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রথমার্ধ।
➤ বঙ্গ রাজ্যের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শাসক — ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব।
➤ স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের শাসকদের আনুমানিক সময় — ৫২৫–৫৭৫।
➤ গৌড় রাজ্যের বিখ্যাত শাসক — শশাঙ্ক।
➤ শশাঙ্কের উত্থান — ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে সপ্তম শতাব্দীর প্রথমভাগে।
➤ শশাঙ্কের শাসনকাল — আনুমানিক ৬০০–৬২৫।
➤ শশাঙ্কের রাজধানী — কর্ণসুবর্ণ।
➤ কর্ণসুবর্ণের জেলা — মুর্শিদাবাদ।
➤ শশাঙ্কের সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ উত্তর ভারতীয় শাসক — হর্ষবর্ধন।
➤ হর্ষবর্ধনের শাসনকাল — ৬০৬–৬৪৭ খ্রিষ্টাব্দ (প্রচলিত)।
➤ শশাঙ্কের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজবংশ — মৌখরি।
➤ বিশেষ পার্থক্য: ষষ্ঠ শতাব্দী—স্বাধীন বঙ্গের উত্থান; সপ্তম শতাব্দী—শশাঙ্কের শক্তিশালী গৌড় রাজ্য।
Advertisement
09
🎯 Level 1

৩২. প্রাচীন জনপদগুলোকে একত্রিত করে গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন কে? / স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন কে? (১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন)

ক

ধর্মপাল

খ

লক্ষ্মণ সেন

গ

শশাঙ্ক

ঘ

ইলিয়াস শাহ

✅ সঠিক উত্তর:গ. শশাঙ্ক

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: শশাঙ্ক (Shashanka)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শশাঙ্ক ছিলেন প্রাচীন বাংলার অন্যতম শক্তিশালী স্বাধীন রাজা এবং সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে স্বাধীন গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
❖ তাঁর শাসনকাল সাধারণত আনুমানিক ৬০০–৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ ধরা হয়। তবে তাঁর রাজত্বের শেষসাল ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিক অনিশ্চয়তা রয়েছে।
❖ গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শশাঙ্ক গৌড়ে স্বাধীন শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি অঞ্চলে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বিস্তার করেন।
১. শশাঙ্কের রাজনৈতিক উত্থান
❖ প্রাথমিক জীবনে শশাঙ্কের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না।
❖ বিহারের রোহতাসগড় (Rohtasgarh) অঞ্চলে পাওয়া একটি সিলমোহরে ‘শ্রী মহাসামন্ত শশাঙ্ক’ নাম উল্লেখ রয়েছে।
❖ এ থেকে ধারণা করা হয়, স্বাধীন রাজা হওয়ার আগে তিনি কোনো উচ্চতর শাসকের অধীন সামন্তশাসক ছিলেন।
❖ ষষ্ঠ শতকের শেষভাগে গুপ্ত-উত্তর রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগে তিনি নিজস্ব সামরিক শক্তি গড়ে তোলেন।
❖ পরে গৌড় অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন।
২. গৌড় রাজ্যের ভৌগোলিক বিস্তৃতি
❖ প্রাচীন গৌড় (Gauda) ছিল বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঞ্চল।
❖ এর কেন্দ্র ছিল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও সংলগ্ন অঞ্চলে।
❖ শশাঙ্কের শাসনামলে তাঁর কর্তৃত্ব গৌড়ের বাইরেও বিস্তৃত হয়।
❖ ঐতিহাসিক বিবরণে মগধ, উত্তর উড়িষ্যা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার কিছু অঞ্চলে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবের উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ তবে সমগ্র বর্তমান বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি অংশ তাঁর সরাসরি অধীন ছিল—এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
৩. শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ
❖ শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ (Karnasuvarna)।
❖ এর অবস্থান বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার চিরুটি ও রাজবাড়িডাঙা প্রত্নস্থানের কাছে নির্ধারণ করা হয়েছে।
❖ কর্ণসুবর্ণ ছিল রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নগর।
❖ চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং কর্ণসুবর্ণ অঞ্চলের জনবসতি, কৃষি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাচর্চার বিবরণ দিয়েছেন।
৪. শশাঙ্কের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
❖ শশাঙ্কের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন উত্তর ভারতের শাসক হর্ষবর্ধন (Harshavardhana)।
❖ তাঁর আরেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কামরূপের রাজা ভাস্করবর্মণ (Bhaskaravarman)।
❖ শশাঙ্ক মালবের শাসক দেবগুপ্তের সঙ্গে রাজনৈতিক মৈত্রী গড়ে তোলেন।
❖ উত্তর ভারতের মৌখরি রাজবংশের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল।
❖ এই ঘটনাগুলো উত্তর ভারতের সপ্তম শতকের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
৫. শশাঙ্কের ধর্মীয় পরিচিতি
❖ শশাঙ্ক ছিলেন শৈবধর্মের অনুসারী, অর্থাৎ শিবের উপাসক।
❖ তাঁর মুদ্রায় শিব ও শৈবধর্মীয় প্রতীক পাওয়া যায়।
❖ চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাংয়ের বিবরণে শশাঙ্কের বিরুদ্ধে বৌদ্ধধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
❖ তবে আধুনিক ইতিহাসবিদেরা এই বিবরণ সতর্কতার সঙ্গে বিচার করেন, কারণ হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের অনুগৃহীত ব্যক্তি ছিলেন এবং শশাঙ্ক ছিলেন হর্ষবর্ধনের প্রতিদ্বন্দ্বী।
❖ শশাঙ্কের রাজ্যের কর্ণসুবর্ণ অঞ্চলে বৌদ্ধবিহারের অস্তিত্বও পাওয়া যায়। তাই তাঁর ধর্মনীতি নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ স্বাধীন গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা — শশাঙ্ক।
➤ প্রাচীন বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন সার্বভৌম রাজা হিসেবে পরিচিত — শশাঙ্ক।
➤ শশাঙ্কের শাসনকাল — আনুমানিক ৬০০–৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ শশাঙ্কের রাজবংশীয় রাজনৈতিক কেন্দ্র — গৌড়।
➤ শশাঙ্কের রাজধানী — কর্ণসুবর্ণ।
➤ কর্ণসুবর্ণের বর্তমান অবস্থান — মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ।
➤ শশাঙ্কের স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠার পটভূমি — গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন।
➤ শশাঙ্কের পূর্ববর্তী উপাধি — মহাসামন্ত।
➤ ‘মহাসামন্ত শশাঙ্ক’ লেখা সিলমোহরের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থান — রোহতাসগড়।
➤ শশাঙ্কের প্রধান উত্তর ভারতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী — হর্ষবর্ধন।
➤ শশাঙ্কের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী — ভাস্করবর্মণ।
➤ ভাস্করবর্মণ ছিলেন — কামরূপের রাজা।
➤ শশাঙ্কের রাজনৈতিক মিত্র — মালবের দেবগুপ্ত।
➤ শশাঙ্কের ধর্মীয় পরিচয় — শৈবধর্মাবলম্বী।
➤ শশাঙ্কের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উৎস — শিলালিপি, মুদ্রা, হর্ষচরিত ও চীনা পরিব্রাজকের বিবরণ।
➤ শশাঙ্ক → সপ্তম শতক → গৌড় → কর্ণসুবর্ণ।
10
🎯 Level 1

৩৭. হর্ষবর্ধনের সভাকবি ছিলেন কে? (বিআরইবি’র সহকারী এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর: ১৭; সেতু কর্তৃপক্ষের সাঁটলিপিকার: ২৫; কারা অধিদপ্তরের শিক্ষক: ২৫)

ক

কালিদাস

খ

বানভট্ট

গ

মেঘাস্থিনিস

ঘ

সন্ধ্যাকর নন্দী

✅ সঠিক উত্তর:খ. বানভট্ট

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: বাণভট্ট (Banabhatta)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাণভট্ট (Banabhatta/Bana) ছিলেন সপ্তম শতকের বিখ্যাত সংস্কৃত গদ্যসাহিত্যিক, কবি ও সম্রাট হর্ষবর্ধনের রাজসভার সাহিত্যিক।
❖ তিনি সংস্কৃত সাহিত্যের অলংকারসমৃদ্ধ গদ্যরীতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচয়িতা।
❖ তাঁর দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো হর্ষচরিত (Harshacharita) এবং কাদম্বরী (Kadambari)।
১. বাণভট্টের জীবন ও পরিচিতি
❖ নাম: বাণভট্ট।
❖ ইংরেজি নাম: Banabhatta।
❖ সময়কাল: সপ্তম খ্রিষ্টীয় শতক।
❖ পিতা: চিত্রভানু (Chitrabhanu)।
❖ বংশ: বাৎস্যায়ন গোত্রীয় ব্রাহ্মণ পরিবার।
❖ আদি নিবাস: প্রীতিকূট (Pritikuta), শোণ নদীর তীরবর্তী অঞ্চল।
❖ পৃষ্ঠপোষক শাসক: হর্ষবর্ধন।
❖ প্রধান গ্রন্থ: হর্ষচরিত ও কাদম্বরী।
❖ বাণভট্টের জন্ম ও মৃত্যুর নির্দিষ্ট সাল নির্ভরযোগ্যভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়; তাঁকে হর্ষবর্ধনের সমসাময়িক সপ্তম শতকের সাহিত্যিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
২. হর্ষচরিত (Harshacharita)
❖ হর্ষচরিত বাণভট্টের অন্যতম বিখ্যাত সংস্কৃত গদ্যগ্রন্থ।
❖ এটি সম্রাট হর্ষবর্ধনের জীবন ও রাজনৈতিক উত্থানকে কেন্দ্র করে রচিত।
❖ সংস্কৃত সাহিত্যে একে একটি গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িকা (Akhyayika) বলা হয়।
❖ গ্রন্থটিতে মোট আটটি উচ্ছ্বাস (Ucchvasa) বা অধ্যায় রয়েছে।
❖ এতে হর্ষবর্ধনের বংশপরিচয়, পিতা প্রভাকরবর্ধন, ভাই রাজ্যবর্ধন, বোন রাজ্যশ্রী এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ গ্রন্থে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
❖ শশাঙ্কের বিরুদ্ধে বাণভট্টের অভিযোগ ও ভাষা বিশ্লেষণ করার সময় মনে রাখতে হবে, তিনি হর্ষবর্ধনের রাজসভার অনুগৃহীত সাহিত্যিক ছিলেন।
৩. হর্ষচরিতের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ সপ্তম শতকের উত্তর ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস পুনর্গঠনে হর্ষচরিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক উৎস।
❖ তবে এটি আধুনিক অর্থে নিরপেক্ষ ইতিহাসগ্রন্থ নয়।
❖ এতে ঐতিহাসিক তথ্যের পাশাপাশি রাজকীয় প্রশস্তি, সাহিত্যিক অলংকার ও কাব্যিক অতিশয়োক্তি রয়েছে।
❖ তাই গবেষকেরা হর্ষচরিত-এর তথ্যের সঙ্গে হর্ষবর্ধনের শিলালিপি, হিউয়েন সাংয়ের বিবরণ এবং অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ তুলনা করেন।
৪. কাদম্বরী (Kadambari)
❖ কাদম্বরী বাণভট্টের আরেকটি বিখ্যাত সংস্কৃত গদ্যকাব্য।
❖ এটি প্রেম, পুনর্জন্ম, রহস্য এবং চরিত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে রচিত।
❖ সংস্কৃত গদ্যসাহিত্যে এটি অন্যতম প্রসিদ্ধ আখ্যানমূলক গ্রন্থ।
❖ বাণভট্ট তাঁর জীবদ্দশায় কাদম্বরী সম্পূর্ণ করতে পারেননি বলে প্রচলিত সাহিত্য-ঐতিহ্যে উল্লেখ রয়েছে।
❖ পরবর্তী অংশ তাঁর পুত্র ভূষণভট্ট (Bhushanabhatta) সম্পন্ন করেন বলে সাধারণভাবে স্বীকৃত।
৫. বাণভট্টের সাহিত্যরীতি
❖ সংস্কৃত গদ্যে দীর্ঘ সমাসবদ্ধ বাক্য ও অলংকার ব্যবহার তাঁর লেখার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
❖ উপমা, রূপক, অতিশয়োক্তি ও প্রকৃতিবর্ণনা তাঁর রচনায় বিশেষ স্থান পেয়েছে।
❖ তিনি চরিত্রের মানসিক অবস্থা এবং রাজদরবারের জীবনযাত্রা বর্ণনায় দক্ষ ছিলেন।
❖ তাঁর সাহিত্য থেকে সপ্তম শতকের সমাজ, শিক্ষা, রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক জীবন সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়।
৬. বাংলার ইতিহাসে বাণভট্টের গুরুত্ব
❖ বাণভট্ট গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের সমসাময়িক ছিলেন।
❖ তাঁর গ্রন্থে শশাঙ্ক ও হর্ষবর্ধনের রাজনৈতিক বিরোধের বিবরণ রয়েছে।
❖ রাজ্যবর্ধনের মৃত্যুর সঙ্গে শশাঙ্কের সম্পর্ক সম্পর্কে হর্ষচরিত গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
❖ তবে শশাঙ্কের প্রতি বাণভট্টের বিরূপ মনোভাব থাকায় তাঁর বিবরণের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ হর্ষবর্ধনের সভাকবি — বাণভট্ট।
➤ বাণভট্টের ইংরেজি নাম — Banabhatta।
➤ বাণভট্টের সময়কাল — সপ্তম খ্রিষ্টীয় শতক।
➤ বাণভট্টের পিতা — চিত্রভানু।
➤ বাণভট্টের আদি নিবাস — প্রীতিকূট।
➤ বাণভট্টের পৃষ্ঠপোষক — হর্ষবর্ধন।
➤ বাণভট্টের বিখ্যাত গ্রন্থ — হর্ষচরিত।
➤ বাণভট্টের অপর বিখ্যাত গ্রন্থ — কাদম্বরী।
➤ হর্ষচরিতের প্রধান বিষয় — হর্ষবর্ধনের জীবন ও রাজনৈতিক উত্থান।
➤ হর্ষচরিত গ্রন্থে অধ্যায় — ৮টি উচ্ছ্বাস।
➤ হর্ষচরিতের সাহিত্যিক ধরন — সংস্কৃত আখ্যায়িকা।
➤ কাদম্বরীর সাহিত্যিক ধরন — সংস্কৃত গদ্যকাব্য।
➤ কাদম্বরীর অসমাপ্ত অংশ সম্পন্ন করেন — ভূষণভট্ট, প্রচলিত সাহিত্য-ঐতিহ্য অনুযায়ী।
➤ বাণভট্টের গ্রন্থে উল্লেখিত গৌড়রাজ — শশাঙ্ক।
➤ হর্ষবর্ধনের জ্যেষ্ঠ ভাই — রাজ্যবর্ধন।
➤ হর্ষবর্ধনের বোন — রাজ্যশ্রী।
➤ বাণভট্ট → হর্ষচরিত → হর্ষবর্ধন।
➤ বাণভট্ট → কাদম্বরী → ভূষণভট্ট।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন