🧠 🔖
👑 Premium Topic

প্রাচীনকালে বাংলায় বিদেশী পরিব্রাজক

◉ সাধারণ জ্ঞান-বাংলাদেশ বিষয়াবলী›প্রাচীনকালে বাংলায় বিদেশী পরিব্রাজক

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚27মোট প্রশ্ন
🎯3মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০১. পরিব্রাজক কে? (জাবি: ০৯-১০)

ক

পর্যটক

খ

পরিদর্শক

গ

পরিচারক

ঘ

কোনোটিই নয়

✅ সঠিক উত্তর:ক. পর্যটক

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: পর্যটক।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ পরিব্রাজক বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি বিভিন্ন দেশ, অঞ্চল বা জনপদ ভ্রমণ করেন। ইতিহাসে পরিব্রাজক শব্দটি বিশেষভাবে ধর্মীয়, জ্ঞানান্বেষণমূলক, শিক্ষামূলক ও অনুসন্ধানমূলক উদ্দেশ্যে ভ্রমণকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
❖ পরিব্রাজক শব্দের সঙ্গে পর্যটক, ভ্রমণকারী, তীর্থযাত্রী ও অনুসন্ধানকারী শব্দগুলোর অর্থগত সম্পর্ক রয়েছে। তবে সব পর্যটক ধর্মীয় পরিব্রাজক নন। প্রাচীনকালে বহু পরিব্রাজক ধর্মগ্রন্থ সংগ্রহ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, রাজদরবারে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন দেশের সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ যাত্রা করতেন।
❖ প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশ ও বাংলার ইতিহাস পুনর্গঠনে বিদেশি পরিব্রাজকদের বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উৎস।
❖ মেগাস্থিনিস (Megasthenes) ছিলেন একজন গ্রিক কূটনীতিক ও লেখক। তিনি মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজদরবারের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন। তাঁর রচিত Indica গ্রন্থে প্রাচীন ভারতের ভূগোল, সমাজ ও প্রশাসন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
❖ ফা-হিয়েন (Fa-Hien/Faxian) ছিলেন পঞ্চম শতকের চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক। তিনি গুপ্ত যুগে ভারতীয় উপমহাদেশ ভ্রমণ করেন।
❖ হিউয়েন সাং (Hiuen Tsang/Xuanzang) ছিলেন সপ্তম শতকের চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক। তিনি হর্ষবর্ধনের আমলে ভারতবর্ষ ভ্রমণ করেন এবং নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন।
❖ ইবনে বতুতা (Ibn Battuta) ছিলেন চতুর্দশ শতকের মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক। তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত রিহলা (Rihla) মধ্যযুগের ভারত ও বাংলার ইতিহাসের মূল্যবান উৎস।
❖ মার্কো পোলো (Marco Polo) ছিলেন ইতালির ভেনিসের বিখ্যাত পর্যটক। তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত মধ্যযুগের এশিয়া সম্পর্কে ইউরোপীয়দের জ্ঞান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ পরিব্রাজক — পর্যটক বা ভ্রমণকারী।
➤ ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ভ্রমণকারী পরিব্রাজক — তীর্থযাত্রী।
➤ মেগাস্থিনিস — গ্রিক কূটনীতিক ও প্রাচীন ভারতবিষয়ক লেখক।
➤ মেগাস্থিনিসের গ্রন্থ — Indica।
➤ মেগাস্থিনিসের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্রাট — চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
➤ ফা-হিয়েন — পঞ্চম শতকের চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক।
➤ ফা-হিয়েনের ভারতভ্রমণ — দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনামলে।
➤ হিউয়েন সাং — সপ্তম শতকের চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক।
➤ হিউয়েন সাংয়ের ভারতভ্রমণ — হর্ষবর্ধনের শাসনামলে।
➤ হিউয়েন সাংয়ের প্রধান শিক্ষক — শীলভদ্র।
➤ ইবনে বতুতা — মরক্কোর পরিব্রাজক।
➤ ইবনে বতুতার ভ্রমণবৃত্তান্ত — রিহলা।
➤ মার্কো পোলো — ইতালীয় পরিব্রাজক।"
02
🎯 Level 1

০৩. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সময়ে গ্রিসের রাষ্ট্রদূত কে ছিলেন? (চবি: ১৫-১৬ / রবি: ১৬-১৭)

ক

ফা-হিয়েন

খ

মেগাস্থিনিস

গ

হিউয়েন সাং

ঘ

সেলুকাস

✅ সঠিক উত্তর:খ. মেগাস্থিনিস

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: মেগাস্থিনিস (Megasthenes)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মেগাস্থিনিস চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধি ছিলেন। সাধারণ ইতিহাসগ্রন্থে তাঁকে সেলিউসিড শাসক সেলিউকাস প্রথম নিকেটরের দূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
❖ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন প্রাচীন ভারতের মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর উত্থানের ফলে মগধকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মৌর্যদের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ চন্দ্রগুপ্তের আগে মগধে নন্দ বংশ ক্ষমতাসীন ছিল। মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নন্দ শাসনের অবসান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
❖ আলেকজান্ডারের ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অভিযান এবং তাঁর মৃত্যুর পর গ্রিক-ম্যাসিডোনীয় সেনাপতিদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ভারত ও পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।
❖ সেলিউকাস প্রথম নিকেটর ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অংশে মৌর্য শক্তির মুখোমুখি হন। পরবর্তী চুক্তির মাধ্যমে দুই শাসকের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ এই সমঝোতার সঙ্গে যুদ্ধহাতি হস্তান্তরের ঘটনাও সম্পর্কিত। প্রাচীন সূত্র অনুযায়ী, সেলিউকাস মৌর্য শাসকের কাছ থেকে ৫০০ যুদ্ধহাতি লাভ করেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজদরবারে মেগাস্থিনিসের অবস্থানের বিবরণ থেকে বোঝা যায়, মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিবেশী বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখত।
❖ তাঁর গ্রন্থ Indica-তে ভারতীয় সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার এমন অনেক বিবরণ পাওয়া যায়, যা প্রাচীন ভারতের ইতিহাস গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ।
❖ মেগাস্থিনিসের গ্রন্থে সমাজের সাতটি গোষ্ঠীর যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা আধুনিক গবেষণায় সরাসরি ভারতীয় বর্ণব্যবস্থার পূর্ণ ও নির্ভুল প্রতিফলন হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। তাঁর পর্যবেক্ষণকে অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে বিচার করা হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজদরবারে গ্রিক রাষ্ট্রদূত — মেগাস্থিনিস।
➤ মেগাস্থিনিসের গ্রন্থ — Indica।
➤ মেগাস্থিনিসের পৃষ্ঠপোষক গ্রিক শাসক হিসেবে প্রসিদ্ধ — সেলিউকাস প্রথম নিকেটর।
➤ সেলিউকাস ছিলেন — আলেকজান্ডারের সেনাপতি।
➤ আলেকজান্ডারের মৃত্যু — ৩২৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
➤ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের শাসনকাল — আনুমানিক ৩২২/৩২১–২৯৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
➤ মৌর্য সাম্রাজ্যের রাজধানী — পাটলিপুত্র।
➤ প্রাচীন মগধের সঙ্গে সম্পর্কিত বর্তমান রাজ্য — বিহার, ভারত।
➤ সেলিউকাস ও চন্দ্রগুপ্তের সংঘর্ষ এবং সমঝোতা — আনুমানিক ৩০৫–৩০৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
➤ মৌর্য সম্রাট বিন্দুসারের রাজদরবারে গ্রিক দূত হিসেবে পরিচিত — ডাইমেকাস (Deimachus)।
➤ মৌর্য সাম্রাজ্যের বিখ্যাত সম্রাট — অশোক।
➤ মেগাস্থিনিস → মৌর্য যুগ → চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৫. ফা-হিয়েন ছিলেন — (ডাক বিভাগের মেইল অপারেটর: ০৮)

ক

সম্রাট

খ

সেনাপতি

গ

পরিব্রাজক

ঘ

মন্ত্রী

✅ সঠিক উত্তর:গ. পরিব্রাজক

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: পরিব্রাজক।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ফা-হিয়েন (Fa-Hien) ছিলেন প্রাচীন চীনের একজন বিখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু, ধর্মীয় পণ্ডিত ও পরিব্রাজক। তাঁর নামের আধুনিক চীনা প্রতিবর্ণীকরণ Faxian।
❖ তিনি চতুর্থ শতকের শেষদিকে চীন থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বৌদ্ধধর্মের পবিত্র স্থানগুলো পরিদর্শন এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের আচরণবিধিসংক্রান্ত গ্রন্থ বিনয়পিটক (Vinaya Pitaka) সংগ্রহ করা।
❖ ফা-হিয়েনের জন্ম আনুমানিক ৩৩৭ খ্রিষ্টাব্দে, চীনের শানসি অঞ্চলে। তাঁর মৃত্যুর সাল আনুমানিক ৪২২ খ্রিষ্টাব্দ বলে উল্লেখ করা হয়।
❖ ৩৯৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন। মধ্য এশিয়া ও উত্তর-পশ্চিম ভারত অতিক্রম করে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ তীর্থস্থান পরিদর্শন করেন।
❖ তাঁর ভ্রমণপথে উল্লেখযোগ্য স্থান ছিল গান্ধার, তক্ষশীলা, মথুরা, কপিলাবস্তু, বোধগয়া, সারনাথ, কুশীনগর এবং পাটলিপুত্র।
❖ তিনি বৌদ্ধধর্মের শাস্ত্র অধ্যয়ন, সংস্কৃত পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ এবং বিভিন্ন মঠে বসবাসকারী ভিক্ষুদের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করেন।
❖ ফা-হিয়েনের ভ্রমণকালে উত্তর ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের শাসন চলছিল। বিশেষভাবে সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত্যের শাসনকালের সঙ্গে তাঁর ভ্রমণ সম্পর্কিত।
❖ তিনি তাম্রলিপ্ত বন্দরে প্রায় দুই বছর অবস্থান করেন। সেখানে বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ অনুলিপি ও ধর্মীয় চিত্র সংগ্রহের পর সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কায় যান।
❖ শ্রীলঙ্কা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রপথ হয়ে তিনি ৪১৪ খ্রিষ্টাব্দে চীনে ফিরে যান।
❖ তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তের নাম ফো-কুয়ো-কি (Foguo Ji), ইংরেজিতে Record of Buddhist Kingdoms বা A Record of Buddhistic Kingdoms নামে পরিচিত।
❖ গ্রন্থটি প্রাচীন ভারতীয় সমাজ, বৌদ্ধধর্ম, মঠব্যবস্থা, নগরজীবন এবং ধর্মীয় আচারের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উৎস।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ফা-হিয়েন — চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক।
➤ আধুনিক প্রতিবর্ণীকরণ — Faxian।
➤ জন্ম — আনুমানিক ৩৩৭ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ মৃত্যু — আনুমানিক ৪২২ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ ভারতভ্রমণের উদ্দেশ্যে চীন ত্যাগ — ৩৯৯ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ চীনে প্রত্যাবর্তন — ৪১৪ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ ফা-হিয়েনের প্রধান উদ্দেশ্য — বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ, বিশেষত বিনয়পিটকের পাঠ সংগ্রহ।
➤ ফা-হিয়েনের ভ্রমণবৃত্তান্ত — Foguo Ji / Record of Buddhist Kingdoms।
➤ ভারতভ্রমণের সময়কার শাসক — দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।
➤ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের উপাধি — বিক্রমাদিত্য।
➤ ফা-হিয়েনের বাংলায় অবস্থানস্থল — তাম্রলিপ্ত।
➤ তাম্রলিপ্তের বর্তমান অবস্থান — তমলুক, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
➤ তাম্রলিপ্তে ফা-হিয়েনের অবস্থান — প্রায় দুই বছর।
➤ তাম্রলিপ্তে তাঁর বিবরণে বৌদ্ধ বিহারের সংখ্যা — ২৪টি।
➤ ফা-হিয়েন ভারতবর্ষ থেকে সমুদ্রপথে যান — শ্রীলঙ্কায়।
04
🎯 Level 1

০৮. বাংলার প্রথম চৈনিক পরিব্রাজক কে? / চীন থেকে ভারতবর্ষে আসা প্রথম পর্যটকের নাম — (জবি: ০৮-০৯ / প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ২৭)

ক

ই-সিং

খ

ফা-হিয়েন

গ

হিউয়েন সাং

ঘ

চেন চং

✅ সঠিক উত্তর:খ. ফা-হিয়েন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ফা-হিয়েন (Fa-Hien)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ফা-হিয়েন ছিলেন প্রাচীন ভারত ও বাংলা অঞ্চল সম্পর্কে লিখিত ভ্রমণবৃত্তান্ত রেখে যাওয়া প্রাচীনতম সুপরিচিত চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজকদের একজন।
❖ তাঁর যাত্রা শুরু হয় ৩৯৯ খ্রিষ্টাব্দে এবং তিনি ৪১৪ খ্রিষ্টাব্দে চীনে ফিরে যান।
❖ তাঁর আগে চীন ও ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে কোনো ভ্রমণ বা যোগাযোগ ছিল না—এমন দাবি করা ঠিক নয়। তবে ইতিহাসচর্চায় সংরক্ষিত বিস্তৃত চীনা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রা-বিবরণ হিসেবে ফা-হিয়েনের রচনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ তিনি মধ্য এশিয়ার দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে গান্ধার ও উত্তর ভারত হয়ে বৌদ্ধধর্মের পবিত্র স্থানগুলো পরিদর্শন করেন।
❖ বুদ্ধের জন্মস্থান কপিলাবস্তু অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থান, বোধগয়া, সারনাথ ও কুশীনগর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণস্থলগুলোর মধ্যে ছিল।
❖ তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বৌদ্ধধর্মের মূল গ্রন্থ সংগ্রহ এবং মঠে প্রচলিত ধর্মীয় অনুশাসন সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জন করা।
❖ প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বন্দরে অবস্থানকালে তিনি বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের অনুলিপি সংগ্রহ করেন।
❖ তাম্রলিপ্ত থেকে তিনি শ্রীলঙ্কায় যান। এরপর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রপথে চীনে ফিরে যান।
❖ তাঁর রচনা Record of Buddhist Kingdoms ভারতীয় ইতিহাসের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার প্রাচীন বৌদ্ধ সমাজ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।
ফা-হিয়েন, হিউয়েন সাং ও ই-সিংয়ের ভ্রমণের কালানুক্রম
❖ ফা-হিয়েন: পঞ্চম শতকের শুরুতে ভারতীয় উপমহাদেশ ভ্রমণ করেন।
❖ হিউয়েন সাং: সপ্তম শতকের প্রথমার্ধে ভারতীয় উপমহাদেশ ভ্রমণ করেন।
❖ ই-সিং বা আইচিং: সপ্তম শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতীয় উপমহাদেশ ও বাংলা অঞ্চলে আসেন।
❖ এঁদের মধ্যে ভারতভ্রমণের সংরক্ষিত বিখ্যাত বৌদ্ধ ভ্রমণবৃত্তান্তের সময়ক্রমে ফা-হিয়েন প্রথম।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলার প্রথম সুপরিচিত চৈনিক পরিব্রাজক — ফা-হিয়েন।
➤ চীন থেকে ভারতবর্ষে আগত প্রাচীন বিখ্যাত পরিব্রাজক — ফা-হিয়েন।
➤ ফা-হিয়েনের ভারতযাত্রা শুরু — ৩৯৯ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ চীনে প্রত্যাবর্তন — ৪১৪ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত — Record of Buddhist Kingdoms।
➤ তাঁর ভারতভ্রমণ সংঘটিত — গুপ্ত যুগে।
➤ তিনি তাম্রলিপ্ত বন্দরে অবস্থান করেন — প্রায় দুই বছর।
➤ ফা-হিয়েনের পরে ভারতভ্রমণকারী বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক — হিউয়েন সাং।
➤ হিউয়েন সাংয়ের ভারতভ্রমণ শুরু — সপ্তম শতকের প্রথমার্ধে।
➤ ই-সিং বা আইচিং বাংলায় আগমন করেন — আনুমানিক ৬৭২ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ ই-সিংয়ের ভারতভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র — নালন্দা মহাবিহার।
05
🎯 Level 1

১০. হিউয়েন সাং কে ছিলেন? (জাবি: ১৩-১৪)

ক

মঙ্গোলীয় পরিব্রাজক

খ

চীনা ব্যবসায়ী

গ

মঙ্গোলীয় লেখক

ঘ

চীনা পরিব্রাজক

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. চীনা পরিব্রাজক

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: চীনা পরিব্রাজক।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ হিউয়েন সাং (Hiuen Tsang) ছিলেন সপ্তম শতকের একজন বিখ্যাত চীনা বৌদ্ধ ভিক্ষু, পরিব্রাজক, পণ্ডিত ও ধর্মগ্রন্থ অনুবাদক। তাঁর নামের আধুনিক চীনা প্রতিবর্ণীকরণ Xuanzang। ইতিহাসগ্রন্থে তাঁকে Hsuan-Tsang, Hiuen-Tsang বা হিউয়েন সাং নামেও উল্লেখ করা হয়।
❖ তাঁর জন্ম ৬০২/৬০৩ খ্রিষ্টাব্দে, চীনের হেনান অঞ্চলে। মৃত্যুবরণ করেন ৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দে।
❖ তিনি তাং রাজবংশের শাসনামলে চীন থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে ভ্রমণ করেন। তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বৌদ্ধধর্মের মূল সংস্কৃত গ্রন্থ সংগ্রহ, বৌদ্ধ দর্শন অধ্যয়ন এবং ভারতীয় বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ স্থাপন।
❖ ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি চীন থেকে ভারতযাত্রা শুরু করেন। মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল অতিক্রম করে প্রায় ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতীয় উপমহাদেশে পৌঁছান।
❖ তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের বহু বৌদ্ধ তীর্থস্থান, রাজ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। তাঁর ভ্রমণকালে উত্তর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শাসক ছিলেন হর্ষবর্ধন (Harshavardhana)।
❖ হিউয়েন সাং বিশেষভাবে নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তাঁর প্রধান শিক্ষক ছিলেন বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত শীলভদ্র (Shilabhadra)।
❖ নালন্দায় তিনি বৌদ্ধ দর্শন, সংস্কৃত ভাষা, যুক্তিবিদ্যা এবং বিশেষভাবে যোগাচার (Yogacara) দর্শন অধ্যয়ন করেন।
❖ তাঁর বাংলা অঞ্চলের ভ্রমণবিবরণ থেকে পুণ্ড্রবর্ধন, সমতট, কর্ণসুবর্ণ ও তাম্রলিপ্ত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়।
❖ তিনি ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দে চীনে প্রত্যাবর্তন করেন। চীনে ফিরে সংস্কৃত বৌদ্ধ গ্রন্থ চীনা ভাষায় অনুবাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
❖ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Da Tang Xiyu Ji, ইংরেজিতে Great Tang Records on the Western Regions নামে পরিচিত। এতে ভারতীয় উপমহাদেশ ও মধ্য এশিয়ার ভূগোল, সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিবরণ পাওয়া যায়।
➤ বাংলায় আগমন — আনুমানিক ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ নালন্দা মহাবিহারে হিউয়েন সাংয়ের প্রধান শিক্ষক — শীলভদ্র।
➤ নালন্দায় তাঁর অধ্যয়নের প্রধান বিষয় — বৌদ্ধ দর্শন, যোগাচার দর্শন ও সংস্কৃত শাস্ত্র।
➤ হিউয়েন সাংয়ের বিখ্যাত ভ্রমণবৃত্তান্ত — Da Tang Xiyu Ji (Great Tang Records on the Western Regions)।
➤ চীনে প্রত্যাবর্তন — ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ ভ্রমণবৃত্তান্ত সম্পন্ন — ৬৪৬ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ ভারতভ্রমণের সময় উত্তর ভারতের প্রধান শাসক — হর্ষবর্ধন।
➤ বাংলার যেসব অঞ্চলের বিবরণ তিনি দিয়েছেন — পুণ্ড্রবর্ধন, সমতট, কর্ণসুবর্ণ ও তাম্রলিপ্ত।
➤ হিউয়েন সাংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিখ্যাত চীনা রাজবংশ — তাং রাজবংশ (Tang Dynasty)।
➤ তাঁকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে রচিত বিখ্যাত চীনা উপন্যাস — Journey to the West, লেখক উ চেং-এন (Wu Cheng'en); এটি তাঁর ভ্রমণের ঐতিহাসিক বিবরণ নয়, সাহিত্যিক কল্পনাভিত্তিক রচনা।
Advertisement
06
🎯 Level 1

১২. চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং কত সালে বাংলায় আসেন? (জবি: ১৭-১৮)

ক

৫০৪ সালে

খ

৬৩৮ সালে

গ

৫৫০ সালে

ঘ

৬২৮ সালে

✅ সঠিক উত্তর:খ. ৬৩৮ সালে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক হিউয়েন সাং (Xuanzang) আনুমানিক ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ঐতিহাসিক বাংলা অঞ্চলে আগমন করেন। তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত সপ্তম শতকের বাংলার রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও ভৌগোলিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লিখিত উৎস।
❖ বাংলাপিডিয়ার (Banglapedia) ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, হিউয়েন সাং প্রায় ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভ্রমণ করেন। তবে এটি আনুমানিক ঐতিহাসিক সাল; তাঁর বাংলায় প্রবেশের নির্দিষ্ট দিন ও মাস নিশ্চিত নয়।
❖ তিনি ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে চীন থেকে ভারতযাত্রা শুরু করেন এবং প্রায় ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতীয় উপমহাদেশে পৌঁছান। বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ এবং নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়নের পর তিনি বাংলায় আসেন।
❖ সে সময় ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্কের গৌড় রাজ্যের ঐতিহাসিক প্রভাব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে কামরূপের রাজা ভাস্করবর্মণের কার্যক্রম ইতিহাসে বিশেষভাবে আলোচিত।
বাংলায় হিউয়েন সাংয়ের ভ্রমণপথ
❖ হিউয়েন সাংয়ের বিবরণে পূর্ব ভারত ও বাংলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো পুণ্ড্রবর্ধন, কর্ণসুবর্ণ, সমতট ও তাম্রলিপ্ত।
১. পুণ্ড্রবর্ধন (Pundravardhana)
❖ পুণ্ড্রবর্ধন ছিল প্রাচীন উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এর কেন্দ্র পুণ্ড্রনগর বা পুণ্ড্রবর্ধনপুর বর্তমান বাংলাদেশের মহাস্থানগড়, বগুড়ার সঙ্গে চিহ্নিত।
❖ হিউয়েন সাং পুণ্ড্রবর্ধন অঞ্চলের কৃষিসমৃদ্ধি, ঘন জনবসতি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিবরণ দেন।
❖ তাঁর বর্ণনায় এই অঞ্চলে প্রায় ২০টি বৌদ্ধ সংঘারাম (মঠ) এবং প্রায় ৩,০০০ বৌদ্ধ ভিক্ষুর উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ তিনি প্রায় ১০০টি ব্রাহ্মণ্য উপাসনালয় এবং বহু জৈন অনুসারীর উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন।
❖ এতে বোঝা যায়, সপ্তম শতকের উত্তরবঙ্গে বৌদ্ধ, ব্রাহ্মণ্য ও জৈন ধর্মীয় ঐতিহ্যের সহাবস্থান ছিল।
২. সমতট (Samatata)
❖ সমতট ছিল প্রাচীন বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ।
❖ ঐতিহাসিকভাবে এর বিস্তৃতি বর্তমান বাংলাদেশের কুমিল্লা, নোয়াখালী ও আশপাশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ সমতটের ইতিহাসে ময়নামতি-লালমাই প্রত্নাঞ্চল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও প্রত্ননিদর্শন প্রাচীন বাংলার বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশের সাক্ষ্য বহন করে।
❖ হিউয়েন সাংয়ের বিবরণে সমতটের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মানুষের জীবনযাত্রা এবং বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
৩. কর্ণসুবর্ণ (Karnasuvarna)
❖ কর্ণসুবর্ণ ছিল প্রাচীন গৌড়রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী।
❖ এটি বাংলার বিখ্যাত রাজা শশাঙ্কের রাজধানী হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
❖ বর্তমানে কর্ণসুবর্ণের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার রাজবাড়িডাঙ্গা অঞ্চলে পাওয়া যায়।
❖ হিউয়েন সাংয়ের বিবরণ সপ্তম শতকের কর্ণসুবর্ণ এবং রাজা শশাঙ্কের রাজনৈতিক-ধর্মীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
৪. তাম্রলিপ্ত (Tamralipti)
❖ তাম্রলিপ্ত ছিল প্রাচীন বাংলার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর।
❖ বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তমলুক অঞ্চলের সঙ্গে এটি চিহ্নিত।
❖ তাম্রলিপ্ত থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় যোগাযোগ পরিচালিত হতো।
❖ ফা-হিয়েন এবং হিউয়েন সাং—উভয় চীনা পরিব্রাজকের বিবরণে তাম্রলিপ্তের ঐতিহাসিক গুরুত্ব পাওয়া যায়।
৬৩৮ সালে বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
❖ হিউয়েন সাংয়ের বাংলায় আগমনের সময়কাল ছিল হর্ষবর্ধন ও শশাঙ্কের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।
❖ শশাঙ্ক (Shashanka) ছিলেন প্রাচীন বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন শাসকদের অন্যতম। তাঁর রাজ্য গৌড়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
❖ শশাঙ্কের শাসনকাল সাধারণত সপ্তম শতকের প্রথম কয়েক দশকে ধরা হয়। তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সাল এবং বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষমতা পরিবর্তনের সময় নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ রয়েছে।
❖ হর্ষবর্ধনের সঙ্গে শশাঙ্কের রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও কামরূপের রাজা ভাস্করবর্মণের সঙ্গে হর্ষবর্ধনের মৈত্রী সপ্তম শতকের পূর্ব ভারতের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
❖ হিউয়েন সাংয়ের বিবরণ এই ঘটনাগুলো বোঝার অন্যতম উৎস। তবে শশাঙ্কের ধর্মীয় নীতির বিষয়ে তাঁর কিছু মন্তব্য আধুনিক ঐতিহাসিক গবেষণায় বিতর্কিত।
হিউয়েন সাংয়ের বিবরণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ তাঁর বিবরণ থেকে প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর নাম, অবস্থান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাব্যবস্থা, কৃষি ও সাংস্কৃতিক জীবন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
❖ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, তাম্রশাসন ও অন্যান্য সাহিত্যিক উৎসের সঙ্গে তাঁর বিবরণ তুলনা করে ইতিহাসবিদেরা সপ্তম শতকের বাংলার ইতিহাস পুনর্গঠন করেন।
❖ তাই হিউয়েন সাং শুধু একজন ধর্মীয় পরিব্রাজক নন; তাঁর লেখা প্রাচীন বাংলার ঐতিহাসিক ভূগোল বোঝারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ হিউয়েন সাং বাংলায় আসেন — আনুমানিক ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ হিউয়েন সাং ছিলেন — চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক।
➤ হিউয়েন সাংয়ের ভারতযাত্রা শুরু — ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ ভারতে আগমন — প্রায় ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ বাংলায় আগমন — প্রায় ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ চীনে প্রত্যাবর্তন — ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ হিউয়েন সাংয়ের ভ্রমণবৃত্তান্ত — Da Tang Xiyu Ji।
➤ তাঁর ভারতভ্রমণের সময় উত্তর ভারতের সম্রাট — হর্ষবর্ধন।
➤ হর্ষবর্ধনের শাসনকাল — ৬০৬–৬৪৭ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ বাংলার বিখ্যাত গৌড়রাজ — শশাঙ্ক।
➤ শশাঙ্কের রাজধানী — কর্ণসুবর্ণ।
➤ কর্ণসুবর্ণের বর্তমান অবস্থান — মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ।
➤ প্রাচীন উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ — পুণ্ড্রবর্ধন।
➤ পুণ্ড্রনগরের প্রত্নতাত্ত্বিক অবস্থান — মহাস্থানগড়, বগুড়া।
➤ পুণ্ড্রবর্ধনে হিউয়েন সাংয়ের বর্ণনায় বৌদ্ধ মঠ — প্রায় ২০টি।
➤ পুণ্ড্রবর্ধনে তাঁর বর্ণনায় বৌদ্ধ ভিক্ষু — প্রায় ৩,০০০ জন।
➤ পুণ্ড্রবর্ধনে উল্লিখিত ব্রাহ্মণ্য মন্দির — প্রায় ১০০টি।
➤ প্রাচীন দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার জনপদ — সমতট।
➤ সমতটের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রত্নাঞ্চল — ময়নামতি-লালমাই।
➤ ময়নামতি অবস্থিত — কুমিল্লা, বাংলাদেশ।
➤ প্রাচীন বাংলার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর — তাম্রলিপ্ত।
➤ তাম্রলিপ্তের বর্তমান অবস্থান — তমলুক, পশ্চিমবঙ্গ।
➤ ফা-হিয়েন — পঞ্চম শতক — গুপ্ত যুগ।
➤ হিউয়েন সাং — সপ্তম শতক — হর্ষবর্ধনের যুগ।
07
🎯 Level 1

১৫. হিউয়েন সাং বাংলার যে অঞ্চলে ভ্রমণ করেন— (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক: ১৯)

ক

কামরূপ

খ

সমতট

গ

তাম্রলিপ্তি

ঘ

উপরের সবগুলো

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. উপরের সবগুলো

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: উপরের সবগুলো—কামরূপ, সমতট ও তাম্রলিপ্তি।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ হিউয়েন সাং (Hiuen Tsang বা Xuanzang) ছিলেন সপ্তম শতাব্দীর একজন বিখ্যাত চীনা বৌদ্ধ ভিক্ষু, পরিব্রাজক, পণ্ডিত ও ধর্মগ্রন্থ অনুবাদক। তিনি বৌদ্ধধর্মের মূল গ্রন্থ সংগ্রহ এবং ধর্মীয় শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে ভ্রমণ করেন।
❖ আনুমানিক ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি প্রাচীন বাংলা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ভ্রমণ করেন। তাঁর ভ্রমণবিবরণে পুণ্ড্রবর্ধন, কামরূপ, সমতট, তাম্রলিপ্তি ও কর্ণসুবর্ণের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
হিউয়েন সাংয়ের জীবন ও পরিচিতি
❖ মূল চীনা নাম: Xuanzang (玄奘)।
❖ অন্যান্য পরিচিত নাম: Hiuen Tsang, Hsuan-Tsang, Yuan Chwang।
❖ জন্ম: ৬০২ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ মৃত্যু: ৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন্মস্থান: চীনের হেনান প্রদেশের লুওইয়াং অঞ্চলের নিকটবর্তী এলাকা।
❖ জাতীয়তা: চীনা।
❖ ধর্মীয় পরিচয়: বৌদ্ধ ভিক্ষু।
❖ ভারত ভ্রমণের সূচনা: ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ চীনে প্রত্যাবর্তন: ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ প্রধান গ্রন্থ: Da Tang Xiyu Ji বা Great Tang Records on the Western Regions।
❖ প্রধান উদ্দেশ্য: বৌদ্ধধর্মের মূল গ্রন্থ সংগ্রহ, সংস্কৃত ভাষা ও বৌদ্ধ দর্শন অধ্যয়ন এবং ধর্মীয় জ্ঞান প্রচার।
হিউয়েন সাংয়ের পরিভ্রমণ করা গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল
১. কামরূপ (Kamarupa)
❖ কামরূপ ছিল প্রাচীন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। বর্তমান ভারতের আসাম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এর অবস্থান ছিল।
❖ হিউয়েন সাং কামরূপের রাজা ভাস্করবর্মণের (Bhaskaravarman) আমন্ত্রণে তাঁর রাজ্যে যান।
❖ ভাস্করবর্মণ ছিলেন বর্মণ রাজবংশের শাসক এবং উত্তর ভারতের সম্রাট হর্ষবর্ধনের মিত্র।
❖ হিউয়েন সাংয়ের বিবরণ থেকে কামরূপের ধর্মীয় অবস্থা, জনজীবন ও রাজনৈতিক সম্পর্ক সম্পর্কে জানা যায়।
২. সমতট (Samatata)
❖ সমতট ছিল প্রাচীন বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ।
❖ এর অবস্থান প্রধানত বর্তমান বাংলাদেশের কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল বলে ঐতিহাসিকভাবে বিবেচিত হয়।
❖ হিউয়েন সাং সমতটকে উর্বর, কৃষিসমৃদ্ধ ও জনবহুল অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
❖ তাঁর বিবরণ অনুযায়ী সমতটে প্রায় ৩০টি বৌদ্ধ সংঘারাম বা বিহার এবং প্রায় ২,০০০ বৌদ্ধ ভিক্ষু ছিলেন।
❖ এ ছাড়া বিভিন্ন ব্রাহ্মণ্য মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
৩. তাম্রলিপ্তি (Tamralipti)
❖ তাম্রলিপ্তি ছিল প্রাচীন বাংলার একটি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর।
❖ বর্তমানে এর অবস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক অঞ্চলে শনাক্ত করা হয়।
❖ ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাম্রলিপ্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ হিউয়েন সাংয়ের বিবরণে এই অঞ্চলে প্রায় ১০টি বৌদ্ধ বিহার এবং প্রায় ১,০০০ ভিক্ষুর উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে।
৪. পুণ্ড্রবর্ধন (Pundravardhana)
❖ পুণ্ড্রবর্ধন ছিল প্রাচীন বাংলার উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ।
❖ এর প্রধান কেন্দ্রের সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়ার মহাস্থানগড়ের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ হিউয়েন সাং পুণ্ড্রবর্ধনকে কৃষিসমৃদ্ধ, শিক্ষানুরাগী ও জনবহুল অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করেন।
❖ তাঁর বিবরণে প্রায় ২০টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩,০০০ ভিক্ষুর উল্লেখ পাওয়া যায়।
৫. কর্ণসুবর্ণ (Karnasuvarna)
❖ কর্ণসুবর্ণ ছিল প্রাচীন গৌড়রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী।
❖ বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার রাঙামাটি অঞ্চলের সঙ্গে কর্ণসুবর্ণের অবস্থান সম্পর্কিত।
❖ এটি সপ্তম শতাব্দীর শাসক শশাঙ্কের রাজধানী হিসেবে পরিচিত।
❖ হিউয়েন সাংয়ের বিবরণ প্রাচীন গৌড়ের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাস জানার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উৎস।
◈ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনী:
❖ প্রশ্নে কামরূপ, সমতট ও তাম্রলিপ্তিকে বাংলার অঞ্চল হিসেবে একত্রে দেখানো হয়েছে। তবে কামরূপ ছিল প্রধানত বর্তমান আসামভিত্তিক স্বতন্ত্র ঐতিহাসিক রাজ্য। অন্যদিকে সমতট ও তাম্রলিপ্তি প্রাচীন বাংলার ভূগোলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
❖ হিউয়েন সাং তিনটি অঞ্চলেই ভ্রমণ করেছেন বলে প্রশ্নের প্রত্যাশিত উত্তর ‘ঘ. উপরের সবগুলো’ সঠিক। তবে অঞ্চলগুলোর ঐতিহাসিক সীমানা এক ছিল না।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ হিউয়েন সাং ছিলেন চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক।
➤ হিউয়েন সাংয়ের জন্ম — ৬০২ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ হিউয়েন সাংয়ের মৃত্যু — ৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ হিউয়েন সাং ভারত ভ্রমণ শুরু করেন — ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ হিউয়েন সাং চীনে ফিরে যান — ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ প্রাচীন বাংলায় হিউয়েন সাংয়ের আগমন — আনুমানিক ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ হিউয়েন সাংয়ের বিখ্যাত গ্রন্থ — Si-Yu-Ki বা Great Tang Records on the Western Regions।
➤ হিউয়েন সাং যে ধর্মের অনুসারী ছিলেন — বৌদ্ধধর্ম।
➤ হিউয়েন সাং যেসব অঞ্চলে ভ্রমণ করেন — পুণ্ড্রবর্ধন, কামরূপ, সমতট, তাম্রলিপ্তি ও কর্ণসুবর্ণ।
➤ কামরূপের গুরুত্বপূর্ণ রাজা — ভাস্করবর্মণ।
➤ ভাস্করবর্মণের রাজবংশ — বর্মণ রাজবংশ।
➤ ভাস্করবর্মণের মিত্র — হর্ষবর্ধন।
➤ সমতটের অবস্থান — প্রাচীন বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল।
➤ সমতটে বৌদ্ধ বিহারের সংখ্যা — হিউয়েন সাংয়ের বিবরণে প্রায় ৩০টি।
➤ পুণ্ড্রবর্ধনের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল — মহাস্থানগড়, বগুড়া।
➤ পুণ্ড্রবর্ধনের বৌদ্ধ বিহারের সংখ্যা — প্রায় ২০টি।
➤ তাম্রলিপ্তি ছিল — প্রাচীন আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর।
➤ তাম্রলিপ্তির বর্তমান অবস্থান — তমলুক, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
➤ কর্ণসুবর্ণের বিখ্যাত শাসক — শশাঙ্ক।
➤ শশাঙ্ক ছিলেন — প্রাচীন গৌড়ের গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন শাসক।
➤ হিউয়েন সাংয়ের ভ্রমণবিবরণ — সপ্তম শতাব্দীর বাংলার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
08
🎯 Level 1

১৭. কার রাজত্বকালে ইবনে বতুতা ভারতে এসেছিলেন? (বিআরইবি’র হিসাবরক্ষক: ১৫; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর: ২৫)

ক

মুহম্মদ বিন কাসিম

খ

মুহম্মদ বিন তুঘলক

গ

সম্রাট হুমায়ুন

ঘ

সম্রাট আকবর

✅ সঠিক উত্তর:খ. মুহম্মদ বিন তুঘলক

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: মুহম্মদ বিন তুঘলক (Muhammad bin Tughlaq)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মুহম্মদ বিন তুঘলক ছিলেন দিল্লি সালতানাতের তুঘলক বংশের দ্বিতীয় সুলতান। তাঁর শাসনামলে বিখ্যাত মরক্কীয় পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৩৪ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লিতে আসেন।
❖ মুহম্মদ বিন তুঘলক ইবনে বতুতার জ্ঞান ও ইসলামি আইন সম্পর্কে দক্ষতায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে দিল্লিতে কাজী পদে নিয়োগ করেন।
❖ ইবনে বতুতা প্রায় আট বছর দিল্লিতে কাজীর দায়িত্ব পালন করেন বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ রয়েছে।
মুহম্মদ বিন তুঘলকের জীবন ও শাসনকাল
❖ নাম: মুহম্মদ বিন তুঘলক।
❖ অপর নাম: উলুঘ খান (Ulugh Khan)।
❖ শাসনকাল: ১৩২৫–১৩৫১ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ রাজবংশ: তুঘলক বংশ।
❖ সাম্রাজ্য: দিল্লি সালতানাত।
❖ পিতা: গিয়াসউদ্দিন তুঘলক।
❖ পূর্ববর্তী শাসক: গিয়াসউদ্দিন তুঘলক।
❖ পরবর্তী শাসক: ফিরোজ শাহ তুঘলক।
❖ রাজধানী: দিল্লি; তাঁর শাসনামলে দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
মুহম্মদ বিন তুঘলকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ
১. রাজধানী স্থানান্তরের উদ্যোগ
❖ মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে দেবগিরি বা দৌলতাবাদে (Daulatabad) রাজধানী স্থানান্তরের উদ্যোগ নেন।
❖ দৌলতাবাদ বর্তমান ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে অবস্থিত।
❖ প্রশাসনিক ও সামরিক সুবিধার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর বাস্তবায়ন সাধারণ মানুষের জন্য বিপুল দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
২. তাম্রমুদ্রা বা প্রতীকী মুদ্রার প্রচলন
❖ তিনি মূল্যবান ধাতুর মুদ্রার পরিবর্তে তামা ও পিতলের Token Currency প্রচলনের চেষ্টা করেন।
❖ ব্যাপক জাল মুদ্রা তৈরি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
৩. দোয়াব অঞ্চলে রাজস্বনীতি
❖ গঙ্গা ও যমুনা নদীর মধ্যবর্তী দোয়াব অঞ্চলে তিনি রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ নেন।
❖ অতিরিক্ত করের চাপ এবং প্রতিকূল কৃষি পরিস্থিতির ফলে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।
৪. জ্ঞানচর্চা ও বিদেশি পণ্ডিতদের পৃষ্ঠপোষকতা
❖ মুহম্মদ বিন তুঘলক ছিলেন জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী শাসক। তাঁর দরবারে বিদেশি পণ্ডিত, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং পর্যটকের আগমন ঘটত।
❖ ইবনে বতুতার মতো বিখ্যাত বিদেশি পর্যটকের দিল্লিতে বিচারিক দায়িত্ব পাওয়া তাঁর আমলের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
ইবনে বতুতার সঙ্গে সম্পর্ক
❖ ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণকাহিনিতে মুহম্মদ বিন তুঘলকের প্রশাসনিক কার্যক্রম, ব্যক্তিত্ব, শাসনপদ্ধতি এবং দরবারের বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করেছেন।
❖ পরবর্তী সময়ে সুলতান তাঁকে কূটনৈতিক দায়িত্বও দিয়েছিলেন। চীনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর উদ্যোগের সঙ্গে তাঁর ভ্রমণজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ইবনে বতুতা ভারতে আসেন মুহম্মদ বিন তুঘলকের শাসনামলে।
➤ মুহম্মদ বিন তুঘলকের শাসনকাল — ১৩২৫–১৩৫১।
➤ মুহম্মদ বিন তুঘলকের রাজবংশ — তুঘলক বংশ।
➤ তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা — গিয়াসউদ্দিন তুঘলক।
➤ তুঘলক বংশ প্রতিষ্ঠিত — ১৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
➤ মুহম্মদ বিন তুঘলকের পিতা — গিয়াসউদ্দিন তুঘলক।
➤ মুহম্মদ বিন তুঘলকের অপর নাম — উলুঘ খান।
➤ ইবনে বতুতা দিল্লিতে পৌঁছান — ১৩৩৪ সালে।
➤ ইবনে বতুতাকে কাজী নিয়োগ করেন — মুহম্মদ বিন তুঘলক।
➤ রাজধানী স্থানান্তরের উদ্যোগ — দিল্লি থেকে দৌলতাবাদ।
➤ দৌলতাবাদের প্রাচীন নাম — দেবগিরি।
➤ দৌলতাবাদ অবস্থিত — মহারাষ্ট্র, ভারত।
➤ প্রতীকী মুদ্রা প্রচলনের উদ্যোগ — মুহম্মদ বিন তুঘলক।
➤ Token Currency — প্রতীকী মুদ্রা।
➤ মুহম্মদ বিন তুঘলকের উত্তরসূরি — ফিরোজ শাহ তুঘলক।
➤ মুহম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযান — ৭১১–৭১২ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ সম্রাট হুমায়ুনের প্রথম শাসনকাল — ১৫৩০–১৫৪০।
➤ সম্রাট আকবরের শাসনকাল — ১৫৫৬–১৬০৫।
Advertisement
09
🎯 Level 1

১৯. ইবনে বতুতা বাংলায় কার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন? (জাবি: ১২–১৩)

ক

হযরত শাহ মখদুম

খ

হযরত শাহ পরাণ

গ

হযরত শাহজালাল

ঘ

হযরত শাহ সুলতান

✅ সঠিক উত্তর:গ. হযরত শাহজালাল

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: হযরত শাহজালাল (রহ.)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ সালে বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বাংলায় আসেন।
❖ হযরত শাহজালাল (রহ.) ছিলেন মধ্যযুগে সিলেট অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী মুসলিম সুফি সাধক।
❖ তাঁর ধর্মীয় প্রভাব ও খ্যাতি ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। এই খ্যাতির কারণে দূরবর্তী দেশ থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী ছিলেন।
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর পরিচিতি
❖ পূর্ণ পরিচিতি: শাহজালাল মুজাররদ-ই-ইয়ামেনি (Shah Jalal Mujarrad-i-Yemeni)।
❖ প্রচলিত নাম: হযরত শাহজালাল (রহ.)।
❖ মৃত্যু: প্রচলিত মতে ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ পরিচয়: সুফি সাধক ও ধর্মপ্রচারক।
❖ প্রধান কর্মক্ষেত্র: সিলেট ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল।
❖ ঐতিহাসিক গুরুত্ব: সিলেট অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও সুফি ঐতিহ্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
❖ মাজার: সিলেট শহর, বাংলাদেশ।
❖ শাহজালালের জন্মস্থান ও সুনির্দিষ্ট জীবনকাল সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও লোকপ্রচলিত বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে। তাই তাঁর পরিচিতির সঙ্গে যুক্ত 'ইয়ামেনি' উপাধি থেকেই জন্মস্থান নিশ্চিত করা যথাযথ নয়।
ইবনে বতুতার সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনাপ্রবাহ
১. বাংলায় আগমন
❖ ইবনে বতুতা ১৩৪৬ সালে সমুদ্রপথে বাংলার সুদকাওয়ান বন্দরে পৌঁছান।
❖ এরপর তিনি সিলেট অঞ্চলের দিকে যাত্রা করেন।
২. শাহজালালের আস্তানায় অবস্থান
❖ ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে শাহজালালকে একজন ধর্মপ্রাণ ও প্রভাবশালী সুফি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
❖ তিনি শাহজালালের আস্তানায় তিন দিন অবস্থান করেন বলে তাঁর বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
❖ শাহজালালের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, ধর্মীয় অনুশীলন ও শিষ্যদের জীবনযাত্রা সম্পর্কেও তিনি তথ্য প্রদান করেন।
৩. নদীপথে সোনারগাঁও যাত্রা
❖ সাক্ষাৎ শেষে ইবনে বতুতা নদীপথে সোনারগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
❖ এই নদীযাত্রার বর্ণনায় তিনি বাংলার গ্রাম, বাগান, নদীপথ, নৌপরিবহন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উল্লেখ করেন।
❖ পরবর্তী সময়ে তিনি ১৪ আগস্ট ১৩৪৬ সোনারগাঁও পৌঁছান।
ইবনে বতুতার বিবরণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ শাহজালাল (রহ.)-এর জীবন সম্পর্কে ইবনে বতুতার বিবরণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমসাময়িক ঐতিহাসিক উৎস।
❖ এতে চতুর্দশ শতকের সিলেট অঞ্চলের সুফি ঐতিহ্য, সামাজিক জীবন ও ধর্মীয় প্রভাব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
❖ ইবনে বতুতার ভ্রমণবৃত্তান্ত থেকে বোঝা যায়, সে সময় বাংলায় সুফি সাধকদের সামাজিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য ছিল।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ইবনে বতুতা বাংলায় আসেন হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য।
➤ ইবনে বতুতার বাংলায় আগমন — ১৩৪৬।
➤ শাহজালাল (রহ.)-এর প্রধান কর্মক্ষেত্র — সিলেট।
➤ শাহজালাল (রহ.) ছিলেন — সুফি সাধক।
➤ শাহজালাল (রহ.)-এর পরিচিত উপাধি — মুজাররদ-ই-ইয়ামেনি।
➤ শাহজালাল (রহ.)-এর মৃত্যুসাল — প্রচলিত মতে ১৩৪৬।
➤ শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার — সিলেট শহর।
➤ ইবনে বতুতা তাঁর আস্তানায় অবস্থান করেন — তিন দিন।
➤ সাক্ষাৎ শেষে ইবনে বতুতা যান — সোনারগাঁও।
➤ সোনারগাঁও পৌঁছান — ১৪ আগস্ট ১৩৪৬।
➤ শাহজালাল (রহ.) সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সমসাময়িক পর্যটক — ইবনে বতুতা।
➤ ইবনে বতুতার গ্রন্থ — রিহলা।
➤ সিলেটের আরেক বিখ্যাত সুফি সাধক — হযরত শাহ পরাণ (রহ.)।
➤ হযরত শাহ মখদুম রূপোশ (রহ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত স্থান — রাজশাহী।
10
🎯 Level 1

২১. বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা কত সালে বাংলাদেশে ভ্রমণ করেন? / বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা কত সালে সোনারগাঁও ভ্রমণ করেন? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ০৫; নিবন্ধন অধিদপ্তরের সাব-রেজিস্ট্রার: ১৬; পর্যটন কর্পোরেশনের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা: ২৫)

ক

৬০৫ সালে

খ

১১৪৫ সালে

গ

১৩৪৫ সালে

ঘ

১২৪৫ সালে

✅ সঠিক উত্তর:গ. ১৩৪৫ সালে

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক ঐতিহাসিক উত্তর: ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দ। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ইবনে বতুতা ৯ জুলাই ১৩৪৬ সালে চট্টগ্রামে এবং ১৪ আগস্ট ১৩৪৬ সালে সোনারগাঁওয়ে পৌঁছান। কিছু প্রশ্নব্যাংকে ১৩৪৫ সাল উল্লেখ থাকলেও সুনির্দিষ্ট ভ্রমণকাল অনুযায়ী ১৩৪৬ সাল অধিক নির্ভরযোগ্য।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ইবনে বতুতা (Ibn Battuta) ছিলেন চতুর্দশ শতাব্দীর একজন বিশ্ববিখ্যাত মরক্কীয় মুসলিম পর্যটক, ভূগোলবিদ, বিচারক ও ভ্রমণকাহিনিকার। তিনি প্রায় তিন দশক ধরে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের বিস্তৃত অঞ্চল ভ্রমণ করেন। তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত থেকে মধ্যযুগীয় বাংলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
❖ ইবনে বতুতার ব্যক্তিগত পরিচয়:
- পূর্ণ নাম: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-লাওয়াতি আল-তাঞ্জি।
- প্রচলিত নাম: ইবনে বতুতা (Ibn Battuta)।
- জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৩০৪ খ্রিষ্টাব্দ।
- জন্মস্থান: তাঞ্জিয়ার (Tangier), মরক্কো।
- মৃত্যু: আনুমানিক ১৩৬৮–১৩৬৯ খ্রিষ্টাব্দ; কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে ১৩৭৭–১৩৭৮ সাল উল্লেখ রয়েছে।
- জাতীয় পরিচয়: মরক্কীয়।
- পেশা: পর্যটক, বিচারক, ধর্মীয় পণ্ডিত ও ভ্রমণকাহিনিকার।
- ধর্মীয় পরিচয়: ইসলাম; মালিকি মাজহাবের অনুসারী।
- প্রধান সাহিত্যকর্ম: রিহলা (Rihla)।
- বিশেষ পরিচিতি: মধ্যযুগের অন্যতম বিখ্যাত বিশ্বপর্যটক।
❖ ইবনে বতুতার বিশ্বভ্রমণের সূচনা: ১৩২৫ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি মরক্কোর তাঞ্জিয়ার থেকে হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে যাত্রা শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ভ্রমণ শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে তিনি প্রায় তিন দশক ধরে পৃথিবীর বিস্তৃত অঞ্চল পরিভ্রমণ করেন।
❖ ভ্রমণের বিস্তৃতি: তিনি উত্তর আফ্রিকা, মিসর, আরব উপদ্বীপ, পারস্য, আনাতোলিয়া, মধ্য এশিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, বাংলা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং চীনসহ বিভিন্ন অঞ্চল সফর করেন।
❖ ভারতবর্ষে আগমন: বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ইবনে বতুতা ১৩৩৪ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লিতে পৌঁছান। তখন দিল্লির সুলতান ছিলেন মুহাম্মদ বিন তুঘলক (১৩২৫–১৩৫১)।
❖ দিল্লির সুলতানের অধীনে দায়িত্ব: মুহাম্মদ বিন তুঘলক ইবনে বতুতাকে দিল্লির কাজি বা বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি প্রায় আট বছর এই দায়িত্ব পালন করেন। পরে সুলতান তাঁকে চীনে দূত হিসেবে পাঠানোর উদ্যোগ নেন।
❖ বাংলায় আগমন: ১৩৪৬ সালের ৯ জুলাই ইবনে বতুতা বাংলার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছান। তিনি তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে চট্টগ্রামকে সুদকাও (Sudkawan) নামে উল্লেখ করেছেন।
❖ বাংলা ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য: তিনি তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত সুফি সাধক হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। তাঁর বর্ণনায় শাহজালালকে শেখ জালালউদ্দিন নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
❖ চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাত্রা: চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর তিনি শাহজালালের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলের দিকে যাত্রা করেন। তাঁর বিবরণে কামরূপের যে অঞ্চলের উল্লেখ রয়েছে, সেটিকে ঐতিহাসিকভাবে বর্তমান সিলেট অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়।
❖ হজরত শাহজালালের সঙ্গে সাক্ষাৎ: ইবনে বতুতা শাহজালালের আস্তানায় পৌঁছে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সেখানে প্রায় তিন দিন অবস্থান করেন। তিনি শাহজালালের জীবনযাপন, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, ধর্মীয় অনুশীলন এবং অনুসারীদের সম্পর্কে বিবরণ প্রদান করেন।
❖ সিলেট থেকে সোনারগাঁও যাত্রা: শাহজালালের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ইবনে বতুতা নদীপথে সোনারগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তিনি আন-নহর আল-আজরাক (An-Nahr ul-Azraq) নামে একটি নদীর উল্লেখ করেছেন, যার অর্থ নীল নদী। বাংলাপিডিয়ার গবেষণায় নদীটিকে সুরমা নদীর সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে।
❖ সোনারগাঁওয়ে আগমন: দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করে তিনি ১৪ আগস্ট ১৩৪৬ সালে সোনারগাঁওয়ে পৌঁছান। তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে সোনারগাঁওয়ের নাম সুনুরকাও (Sunurkawan) হিসেবে পাওয়া যায়।
❖ বাংলায় অবস্থানের সময়কাল: ৯ জুলাই থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাঁর বাংলায় ভ্রমণের প্রধান ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, চট্টগ্রামে আগমন থেকে সোনারগাঁও ত্যাগ পর্যন্ত সময় ছিল প্রায় দুই মাসের কম।
❖ ইবনে বতুতার ভ্রমণকালে বাংলার রাজনৈতিক অবস্থা
❖ সোনারগাঁওয়ের শাসক: ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণের সময় সোনারগাঁওয়ে সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ (১৩৩৮–১৩৪৯) শাসন করছিলেন।
❖ ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পরিচয়: তিনি ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁওয়ে স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর শাসনামলে সোনারগাঁও পূর্ব বাংলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
❖ বাংলার রাজনৈতিক বিভক্তি: ইবনে বতুতার সফরের সময় সমগ্র বাংলা একটি অভিন্ন রাজনৈতিক শাসনের অধীনে ছিল না। সোনারগাঁও, সাতগাঁও ও লখনৌতি অঞ্চলে বিভিন্ন শাসকের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ছিল।
❖ শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণের সময় শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সাতগাঁও অঞ্চলের শাসক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল একত্রিত করে স্বাধীন ইলিয়াস শাহী রাজবংশের রাজনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করেন। ১৩৫২ সালে তাঁর অধীনে বৃহত্তর বাংলার রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ ইবনে বতুতার বিবরণে বাংলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা
❖ বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: তিনি বাংলার নদী, খাল, সবুজ প্রকৃতি, কৃষিজমি, ফলের বাগান এবং জনবসতির সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন। তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে নদীপথে যাত্রার সময় দুই তীরে অসংখ্য গ্রাম ও ফলের বাগান দেখার বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ কৃষি ও খাদ্যশস্য: বাংলায় ধান, শস্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের প্রাচুর্য ছিল। ইবনে বতুতা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের স্বল্পমূল্যের কথা উল্লেখ করেছেন।
❖ সুলভ বাজারদর: তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে চাল, ঘি, মাখন, তেল, কাপড়, গবাদিপশু ও অন্যান্য পণ্যের দাম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এসব বিবরণ মধ্যযুগীয় বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
❖ বাণিজ্যিক কার্যক্রম: তিনি বাংলার নদীপথে অসংখ্য নৌকার চলাচল এবং বিভিন্ন স্থানে বাজার ও বাণিজ্যকেন্দ্রের উল্লেখ করেছেন। সোনারগাঁওয়ের সঙ্গে বিদেশি বণিকদের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল।
❖ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য: সোনারগাঁও থেকে চীনা বাণিজ্যজাহাজে তিনি জাভার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাঁর বিবরণে মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলার চালের বাণিজ্যের কথাও পাওয়া যায়।
❖ বাংলার বিশেষ পরিচিতি: মধ্যযুগে বাংলার প্রাচুর্য ও প্রতিকূল আর্দ্র আবহাওয়ার প্রসঙ্গে 'দোজখ-ই-পুর নিয়ামত' (Dozakh-i-pur ni'mat) কথাটি প্রচলিত ছিল, যার অর্থ নিয়ামতে পরিপূর্ণ দোজখ বা ধনসম্পদপূর্ণ নরক।
❖ ইবনে বতুতার বর্ণনা অনুযায়ী, বাংলায় খাদ্য ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যের প্রাচুর্য থাকলেও আবহাওয়া বিদেশিদের কাছে অস্বস্তিকর মনে হতো। তিনি খোরাসানি বিদেশিদের এই অভিহিতকরণের উল্লেখ করেছেন। তাই উক্তিটি সরাসরি তাঁর নিজের উদ্ভাবিত বিশেষণ হিসেবে দাবি না করে তাঁর ভ্রমণবিবরণে উল্লিখিত পরিচিতি বলা অধিক যথার্থ।
❖ সামাজিক অবস্থা: ইবনে বতুতা বাংলার সুফি সাধকদের সামাজিক প্রভাব, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ, কৃষি ও ব্যবসায়ীদের জীবনযাপন এবং দাসপ্রথার অস্তিত্ব সম্পর্কে বিবরণ দিয়েছেন।
❖ ইবনে বতুতার বিখ্যাত গ্রন্থ — রিহলা
❖ রিহলা (Rihla) ইবনে বতুতার বিশ্বভ্রমণের অভিজ্ঞতাভিত্তিক বিখ্যাত আরবি গ্রন্থ। এটি মধ্যযুগের ইতিহাস, ভূগোল, সমাজ, সংস্কৃতি ও বাণিজ্য সম্পর্কে জানার গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক উৎস।
❖ পূর্ণ আরবি নাম: Tuhfat al-Nuzzar fi Ghara'ib al-Amsar wa 'Aja'ib al-Asfar।
❖ বাংলা অর্থ: নগরসমূহের বিস্ময় ও ভ্রমণের আশ্চর্য বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য উপহার।
❖ সংকলন: প্রায় ১৩৫৫ সালে ইবনে বতুতার ভ্রমণবৃত্তান্ত গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়।
❖ সংকলক ও সম্পাদক: ইবনে জুজাই আল-কালবি (Ibn Juzayy al-Kalbi)। মরক্কোর সুলতান আবু ইনান ফারিসের নির্দেশে ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এবং ইবনে জুজাই তা লিখে সম্পাদনা করেন।
❖ গ্রন্থের ঐতিহাসিক গুরুত্ব: রিহলা থেকে চতুর্দশ শতাব্দীর বাংলার শাসনব্যবস্থা, বাণিজ্য, নৌযোগাযোগ, খাদ্যদ্রব্যের মূল্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সুফি সাধক ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. ৬০৫ সালে: এই সাল ইবনে বতুতার জন্মের প্রায় সাতশো বছর আগের। সপ্তম শতাব্দীর প্রথমদিকে আরব উপদ্বীপে ইসলাম-পূর্ব সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে প্রথম ওহি নাজিল হওয়ার ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইবনে বতুতা চতুর্দশ শতাব্দীর পর্যটক হওয়ায় ৬০৫ সালে তাঁর বাংলা সফরের প্রশ্নই আসে না।
❖ খ. ১১৪৫ সালে: দ্বাদশ শতাব্দীতে বাংলায় পাল শাসনের শেষ পর্যায় এবং সেন বংশের ক্ষমতা বিস্তারের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ। আনুমানিক ১০৯৮–১১৬০ খ্রিষ্টাব্দে বিজয় সেন বাংলায় সেন রাজশক্তি সুসংহত করেন। তাঁর সঙ্গে দেওপাড়া প্রশস্তি ও বিক্রমপুরে সেন শাসনের ইতিহাস সম্পর্কিত। কিন্তু ইবনে বতুতার জন্ম ১৩০৪ সালে হওয়ায় ১১৪৫ সাল তাঁর ভ্রমণের সময় হতে পারে না।
❖ ঘ. ১২৪৫ সালে: ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বাংলায় তুর্কি শাসনের প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণ চলছিল। আনুমানিক ১২০৪–১২০৫ সালে বখতিয়ার খলজির নদীয়া অভিযানের পর বাংলার পশ্চিমাঞ্চলে তুর্কি শাসনের উত্থান ঘটে। ১২৪৫ সাল দিল্লি সালতানাতের প্রাথমিক যুগের অন্তর্গত হলেও ইবনে বতুতা তখনো জন্মগ্রহণ করেননি।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণের নির্ভরযোগ্য সাল — ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ কিছু চাকরির প্রশ্নব্যাংকে ইবনে বতুতার বাংলা ও সোনারগাঁও ভ্রমণের সাল — ১৩৪৫ উল্লেখ আছে।
➤ বাংলায় ইবনে বতুতার প্রথম আগমন — ৯ জুলাই ১৩৪৬।
➤ বাংলায় প্রথম পৌঁছান — চট্টগ্রাম বন্দরে।
➤ চট্টগ্রামের নাম তাঁর বর্ণনায় — সুদকাও (Sudkawan)।
➤ ইবনে বতুতার সোনারগাঁওয়ে আগমন — ১৪ আগস্ট ১৩৪৬।
➤ তাঁর বর্ণনায় সোনারগাঁওয়ের নাম — সুনুরকাও (Sunurkawan)।
➤ সোনারগাঁওয়ের বর্তমান অবস্থান — নারায়ণগঞ্জ জেলা।
➤ ইবনে বতুতার জন্ম — ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৩০৪।
➤ জন্মস্থান — তাঞ্জিয়ার, মরক্কো।
➤ ইবনে বতুতার জাতীয় পরিচয় — মরক্কীয়।
➤ ইবনে বতুতার প্রধান পেশাগত পরিচয় — পর্যটক ও বিচারক।
➤ ইবনে বতুতার বিশ্বভ্রমণ শুরু — ১৩২৫।
➤ ভ্রমণ শুরুর বয়স — প্রায় ২১ বছর।
➤ ইবনে বতুতা দিল্লিতে পৌঁছান — ১৩৩৪ (বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী)।
➤ দিল্লির তৎকালীন সুলতান — মুহাম্মদ বিন তুঘলক।
➤ দিল্লিতে ইবনে বতুতার দায়িত্ব — কাজি বা বিচারক।
➤ দিল্লির সুলতানের দূত হিসেবে চীনযাত্রার উদ্যোগ — ১৩৪২।
➤ ইবনে বতুতা বাংলায় আসেন — হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে।
➤ বাংলায় তাঁর সাক্ষাৎপ্রাপ্ত বিখ্যাত সুফি — হজরত শাহজালাল (রহ.)।
➤ হজরত শাহজালালের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের অঞ্চল — বর্তমান সিলেটসংলগ্ন কামরূপের পার্বত্য এলাকা।
➤ শাহজালালের আস্তানায় তাঁর অবস্থান — প্রায় তিন দিন।
➤ ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ পথ — চট্টগ্রাম → সিলেট অঞ্চল → সোনারগাঁও।
➤ নদীপথে সোনারগাঁও পৌঁছাতে তাঁর উল্লেখিত যাত্রার সময় — প্রায় ১৫ দিন।
➤ তাঁর বর্ণনায় আন-নহর আল-আজরাক নদী — বাংলাপিডিয়ার শনাক্তকরণ অনুযায়ী সুরমা নদী।
➤ ইবনে বতুতার ভ্রমণবৃত্তান্তে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ স্থান — সুদকাও, কামরু, হবঙ্ক ও সুনুরকাও।
➤ ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণের সময় সোনারগাঁওয়ের সুলতান — ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
➤ ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকাল — ১৩৩৮–১৩৪৯।
➤ সোনারগাঁওয়ে স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা — ১৩৩৮।
➤ ইবনে বতুতার সমসাময়িক সাতগাঁওয়ের শাসক — শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
➤ শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের শাসনকাল — ১৩৪২–১৩৫৮।
➤ বাংলাকে রাজনৈতিকভাবে একত্রিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত — শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ, ১৩৫২।
➤ বাংলাকে 'ধনসম্পদপূর্ণ নরক' অভিহিত করার বর্ণনা পাওয়া যায় — ইবনে বতুতার ভ্রমণবৃত্তান্তে।
➤ ফারসি অভিব্যক্তি — দোজখ-ই-পুর নিয়ামত।
➤ ইবনে বতুতার বিখ্যাত ভ্রমণগ্রন্থ — রিহলা।
➤ রিহলা গ্রন্থের ভাষা — আরবি।
➤ রিহলা গ্রন্থের সংকলক ও সম্পাদক — ইবনে জুজাই আল-কালবি।
➤ রিহলা গ্রন্থ সংকলন — আনুমানিক ১৩৫৫।
➤ ভ্রমণবৃত্তান্ত সংকলনের নির্দেশদাতা — মরক্কোর সুলতান আবু ইনান ফারিস।
➤ ইবনে বতুতার বিবরণে বাংলার প্রধান অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য — খাদ্যশস্যের প্রাচুর্য, স্বল্পমূল্যের দ্রব্য ও নদীবাণিজ্য।
➤ তাঁর বিবরণে বাংলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র — সোনারগাঁও।
➤ সোনারগাঁও থেকে তিনি জাহাজে যাত্রা করেন — জাভার উদ্দেশ্যে।
➤ তাঁর বিবরণে বাংলার সঙ্গে চালের বাণিজ্যের সম্পর্ক পাওয়া যায় — মালদ্বীপের।
➤ বিশেষ পার্থক্য: ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণ ১৩৪৬ সালে; চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন এসেছিলেন গুপ্ত যুগে এবং হিউয়েন সাঙ এসেছিলেন সপ্তম শতাব্দীতে।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন