ব্যাখ্যা:
◈ সঠিক ঐতিহাসিক উত্তর: ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দ। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ইবনে বতুতা ৯ জুলাই ১৩৪৬ সালে চট্টগ্রামে এবং ১৪ আগস্ট ১৩৪৬ সালে সোনারগাঁওয়ে পৌঁছান। কিছু প্রশ্নব্যাংকে ১৩৪৫ সাল উল্লেখ থাকলেও সুনির্দিষ্ট ভ্রমণকাল অনুযায়ী ১৩৪৬ সাল অধিক নির্ভরযোগ্য।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ইবনে বতুতা (Ibn Battuta) ছিলেন চতুর্দশ শতাব্দীর একজন বিশ্ববিখ্যাত মরক্কীয় মুসলিম পর্যটক, ভূগোলবিদ, বিচারক ও ভ্রমণকাহিনিকার। তিনি প্রায় তিন দশক ধরে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের বিস্তৃত অঞ্চল ভ্রমণ করেন। তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত থেকে মধ্যযুগীয় বাংলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
❖ ইবনে বতুতার ব্যক্তিগত পরিচয়:
- পূর্ণ নাম: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-লাওয়াতি আল-তাঞ্জি।
- প্রচলিত নাম: ইবনে বতুতা (Ibn Battuta)।
- জন্ম: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৩০৪ খ্রিষ্টাব্দ।
- জন্মস্থান: তাঞ্জিয়ার (Tangier), মরক্কো।
- মৃত্যু: আনুমানিক ১৩৬৮–১৩৬৯ খ্রিষ্টাব্দ; কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে ১৩৭৭–১৩৭৮ সাল উল্লেখ রয়েছে।
- জাতীয় পরিচয়: মরক্কীয়।
- পেশা: পর্যটক, বিচারক, ধর্মীয় পণ্ডিত ও ভ্রমণকাহিনিকার।
- ধর্মীয় পরিচয়: ইসলাম; মালিকি মাজহাবের অনুসারী।
- প্রধান সাহিত্যকর্ম: রিহলা (Rihla)।
- বিশেষ পরিচিতি: মধ্যযুগের অন্যতম বিখ্যাত বিশ্বপর্যটক।
❖ ইবনে বতুতার বিশ্বভ্রমণের সূচনা: ১৩২৫ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি মরক্কোর তাঞ্জিয়ার থেকে হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে যাত্রা শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ভ্রমণ শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে তিনি প্রায় তিন দশক ধরে পৃথিবীর বিস্তৃত অঞ্চল পরিভ্রমণ করেন।
❖ ভ্রমণের বিস্তৃতি: তিনি উত্তর আফ্রিকা, মিসর, আরব উপদ্বীপ, পারস্য, আনাতোলিয়া, মধ্য এশিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, বাংলা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং চীনসহ বিভিন্ন অঞ্চল সফর করেন।
❖ ভারতবর্ষে আগমন: বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ইবনে বতুতা ১৩৩৪ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লিতে পৌঁছান। তখন দিল্লির সুলতান ছিলেন মুহাম্মদ বিন তুঘলক (১৩২৫–১৩৫১)।
❖ দিল্লির সুলতানের অধীনে দায়িত্ব: মুহাম্মদ বিন তুঘলক ইবনে বতুতাকে দিল্লির কাজি বা বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি প্রায় আট বছর এই দায়িত্ব পালন করেন। পরে সুলতান তাঁকে চীনে দূত হিসেবে পাঠানোর উদ্যোগ নেন।
❖ বাংলায় আগমন: ১৩৪৬ সালের ৯ জুলাই ইবনে বতুতা বাংলার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছান। তিনি তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে চট্টগ্রামকে সুদকাও (Sudkawan) নামে উল্লেখ করেছেন।
❖ বাংলা ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য: তিনি তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত সুফি সাধক হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। তাঁর বর্ণনায় শাহজালালকে শেখ জালালউদ্দিন নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
❖ চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাত্রা: চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর তিনি শাহজালালের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলের দিকে যাত্রা করেন। তাঁর বিবরণে কামরূপের যে অঞ্চলের উল্লেখ রয়েছে, সেটিকে ঐতিহাসিকভাবে বর্তমান সিলেট অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়।
❖ হজরত শাহজালালের সঙ্গে সাক্ষাৎ: ইবনে বতুতা শাহজালালের আস্তানায় পৌঁছে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সেখানে প্রায় তিন দিন অবস্থান করেন। তিনি শাহজালালের জীবনযাপন, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, ধর্মীয় অনুশীলন এবং অনুসারীদের সম্পর্কে বিবরণ প্রদান করেন।
❖ সিলেট থেকে সোনারগাঁও যাত্রা: শাহজালালের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ইবনে বতুতা নদীপথে সোনারগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তিনি আন-নহর আল-আজরাক (An-Nahr ul-Azraq) নামে একটি নদীর উল্লেখ করেছেন, যার অর্থ নীল নদী। বাংলাপিডিয়ার গবেষণায় নদীটিকে সুরমা নদীর সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে।
❖ সোনারগাঁওয়ে আগমন: দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করে তিনি ১৪ আগস্ট ১৩৪৬ সালে সোনারগাঁওয়ে পৌঁছান। তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে সোনারগাঁওয়ের নাম সুনুরকাও (Sunurkawan) হিসেবে পাওয়া যায়।
❖ বাংলায় অবস্থানের সময়কাল: ৯ জুলাই থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাঁর বাংলায় ভ্রমণের প্রধান ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, চট্টগ্রামে আগমন থেকে সোনারগাঁও ত্যাগ পর্যন্ত সময় ছিল প্রায় দুই মাসের কম।
❖ ইবনে বতুতার ভ্রমণকালে বাংলার রাজনৈতিক অবস্থা
❖ সোনারগাঁওয়ের শাসক: ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণের সময় সোনারগাঁওয়ে সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ (১৩৩৮–১৩৪৯) শাসন করছিলেন।
❖ ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পরিচয়: তিনি ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁওয়ে স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর শাসনামলে সোনারগাঁও পূর্ব বাংলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
❖ বাংলার রাজনৈতিক বিভক্তি: ইবনে বতুতার সফরের সময় সমগ্র বাংলা একটি অভিন্ন রাজনৈতিক শাসনের অধীনে ছিল না। সোনারগাঁও, সাতগাঁও ও লখনৌতি অঞ্চলে বিভিন্ন শাসকের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ছিল।
❖ শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণের সময় শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সাতগাঁও অঞ্চলের শাসক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল একত্রিত করে স্বাধীন ইলিয়াস শাহী রাজবংশের রাজনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করেন। ১৩৫২ সালে তাঁর অধীনে বৃহত্তর বাংলার রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ ইবনে বতুতার বিবরণে বাংলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা
❖ বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: তিনি বাংলার নদী, খাল, সবুজ প্রকৃতি, কৃষিজমি, ফলের বাগান এবং জনবসতির সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন। তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে নদীপথে যাত্রার সময় দুই তীরে অসংখ্য গ্রাম ও ফলের বাগান দেখার বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ কৃষি ও খাদ্যশস্য: বাংলায় ধান, শস্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের প্রাচুর্য ছিল। ইবনে বতুতা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের স্বল্পমূল্যের কথা উল্লেখ করেছেন।
❖ সুলভ বাজারদর: তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে চাল, ঘি, মাখন, তেল, কাপড়, গবাদিপশু ও অন্যান্য পণ্যের দাম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এসব বিবরণ মধ্যযুগীয় বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
❖ বাণিজ্যিক কার্যক্রম: তিনি বাংলার নদীপথে অসংখ্য নৌকার চলাচল এবং বিভিন্ন স্থানে বাজার ও বাণিজ্যকেন্দ্রের উল্লেখ করেছেন। সোনারগাঁওয়ের সঙ্গে বিদেশি বণিকদের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল।
❖ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য: সোনারগাঁও থেকে চীনা বাণিজ্যজাহাজে তিনি জাভার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাঁর বিবরণে মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলার চালের বাণিজ্যের কথাও পাওয়া যায়।
❖ বাংলার বিশেষ পরিচিতি: মধ্যযুগে বাংলার প্রাচুর্য ও প্রতিকূল আর্দ্র আবহাওয়ার প্রসঙ্গে 'দোজখ-ই-পুর নিয়ামত' (Dozakh-i-pur ni'mat) কথাটি প্রচলিত ছিল, যার অর্থ নিয়ামতে পরিপূর্ণ দোজখ বা ধনসম্পদপূর্ণ নরক।
❖ ইবনে বতুতার বর্ণনা অনুযায়ী, বাংলায় খাদ্য ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যের প্রাচুর্য থাকলেও আবহাওয়া বিদেশিদের কাছে অস্বস্তিকর মনে হতো। তিনি খোরাসানি বিদেশিদের এই অভিহিতকরণের উল্লেখ করেছেন। তাই উক্তিটি সরাসরি তাঁর নিজের উদ্ভাবিত বিশেষণ হিসেবে দাবি না করে তাঁর ভ্রমণবিবরণে উল্লিখিত পরিচিতি বলা অধিক যথার্থ।
❖ সামাজিক অবস্থা: ইবনে বতুতা বাংলার সুফি সাধকদের সামাজিক প্রভাব, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ, কৃষি ও ব্যবসায়ীদের জীবনযাপন এবং দাসপ্রথার অস্তিত্ব সম্পর্কে বিবরণ দিয়েছেন।
❖ ইবনে বতুতার বিখ্যাত গ্রন্থ — রিহলা
❖ রিহলা (Rihla) ইবনে বতুতার বিশ্বভ্রমণের অভিজ্ঞতাভিত্তিক বিখ্যাত আরবি গ্রন্থ। এটি মধ্যযুগের ইতিহাস, ভূগোল, সমাজ, সংস্কৃতি ও বাণিজ্য সম্পর্কে জানার গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক উৎস।
❖ পূর্ণ আরবি নাম: Tuhfat al-Nuzzar fi Ghara'ib al-Amsar wa 'Aja'ib al-Asfar।
❖ বাংলা অর্থ: নগরসমূহের বিস্ময় ও ভ্রমণের আশ্চর্য বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য উপহার।
❖ সংকলন: প্রায় ১৩৫৫ সালে ইবনে বতুতার ভ্রমণবৃত্তান্ত গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়।
❖ সংকলক ও সম্পাদক: ইবনে জুজাই আল-কালবি (Ibn Juzayy al-Kalbi)। মরক্কোর সুলতান আবু ইনান ফারিসের নির্দেশে ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এবং ইবনে জুজাই তা লিখে সম্পাদনা করেন।
❖ গ্রন্থের ঐতিহাসিক গুরুত্ব: রিহলা থেকে চতুর্দশ শতাব্দীর বাংলার শাসনব্যবস্থা, বাণিজ্য, নৌযোগাযোগ, খাদ্যদ্রব্যের মূল্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সুফি সাধক ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. ৬০৫ সালে: এই সাল ইবনে বতুতার জন্মের প্রায় সাতশো বছর আগের। সপ্তম শতাব্দীর প্রথমদিকে আরব উপদ্বীপে ইসলাম-পূর্ব সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে প্রথম ওহি নাজিল হওয়ার ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইবনে বতুতা চতুর্দশ শতাব্দীর পর্যটক হওয়ায় ৬০৫ সালে তাঁর বাংলা সফরের প্রশ্নই আসে না।
❖ খ. ১১৪৫ সালে: দ্বাদশ শতাব্দীতে বাংলায় পাল শাসনের শেষ পর্যায় এবং সেন বংশের ক্ষমতা বিস্তারের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ। আনুমানিক ১০৯৮–১১৬০ খ্রিষ্টাব্দে বিজয় সেন বাংলায় সেন রাজশক্তি সুসংহত করেন। তাঁর সঙ্গে দেওপাড়া প্রশস্তি ও বিক্রমপুরে সেন শাসনের ইতিহাস সম্পর্কিত। কিন্তু ইবনে বতুতার জন্ম ১৩০৪ সালে হওয়ায় ১১৪৫ সাল তাঁর ভ্রমণের সময় হতে পারে না।
❖ ঘ. ১২৪৫ সালে: ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বাংলায় তুর্কি শাসনের প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণ চলছিল। আনুমানিক ১২০৪–১২০৫ সালে বখতিয়ার খলজির নদীয়া অভিযানের পর বাংলার পশ্চিমাঞ্চলে তুর্কি শাসনের উত্থান ঘটে। ১২৪৫ সাল দিল্লি সালতানাতের প্রাথমিক যুগের অন্তর্গত হলেও ইবনে বতুতা তখনো জন্মগ্রহণ করেননি।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণের নির্ভরযোগ্য সাল — ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ কিছু চাকরির প্রশ্নব্যাংকে ইবনে বতুতার বাংলা ও সোনারগাঁও ভ্রমণের সাল — ১৩৪৫ উল্লেখ আছে।
➤ বাংলায় ইবনে বতুতার প্রথম আগমন — ৯ জুলাই ১৩৪৬।
➤ বাংলায় প্রথম পৌঁছান — চট্টগ্রাম বন্দরে।
➤ চট্টগ্রামের নাম তাঁর বর্ণনায় — সুদকাও (Sudkawan)।
➤ ইবনে বতুতার সোনারগাঁওয়ে আগমন — ১৪ আগস্ট ১৩৪৬।
➤ তাঁর বর্ণনায় সোনারগাঁওয়ের নাম — সুনুরকাও (Sunurkawan)।
➤ সোনারগাঁওয়ের বর্তমান অবস্থান — নারায়ণগঞ্জ জেলা।
➤ ইবনে বতুতার জন্ম — ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৩০৪।
➤ জন্মস্থান — তাঞ্জিয়ার, মরক্কো।
➤ ইবনে বতুতার জাতীয় পরিচয় — মরক্কীয়।
➤ ইবনে বতুতার প্রধান পেশাগত পরিচয় — পর্যটক ও বিচারক।
➤ ইবনে বতুতার বিশ্বভ্রমণ শুরু — ১৩২৫।
➤ ভ্রমণ শুরুর বয়স — প্রায় ২১ বছর।
➤ ইবনে বতুতা দিল্লিতে পৌঁছান — ১৩৩৪ (বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী)।
➤ দিল্লির তৎকালীন সুলতান — মুহাম্মদ বিন তুঘলক।
➤ দিল্লিতে ইবনে বতুতার দায়িত্ব — কাজি বা বিচারক।
➤ দিল্লির সুলতানের দূত হিসেবে চীনযাত্রার উদ্যোগ — ১৩৪২।
➤ ইবনে বতুতা বাংলায় আসেন — হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে।
➤ বাংলায় তাঁর সাক্ষাৎপ্রাপ্ত বিখ্যাত সুফি — হজরত শাহজালাল (রহ.)।
➤ হজরত শাহজালালের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের অঞ্চল — বর্তমান সিলেটসংলগ্ন কামরূপের পার্বত্য এলাকা।
➤ শাহজালালের আস্তানায় তাঁর অবস্থান — প্রায় তিন দিন।
➤ ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ পথ — চট্টগ্রাম → সিলেট অঞ্চল → সোনারগাঁও।
➤ নদীপথে সোনারগাঁও পৌঁছাতে তাঁর উল্লেখিত যাত্রার সময় — প্রায় ১৫ দিন।
➤ তাঁর বর্ণনায় আন-নহর আল-আজরাক নদী — বাংলাপিডিয়ার শনাক্তকরণ অনুযায়ী সুরমা নদী।
➤ ইবনে বতুতার ভ্রমণবৃত্তান্তে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ স্থান — সুদকাও, কামরু, হবঙ্ক ও সুনুরকাও।
➤ ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণের সময় সোনারগাঁওয়ের সুলতান — ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
➤ ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকাল — ১৩৩৮–১৩৪৯।
➤ সোনারগাঁওয়ে স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা — ১৩৩৮।
➤ ইবনে বতুতার সমসাময়িক সাতগাঁওয়ের শাসক — শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
➤ শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের শাসনকাল — ১৩৪২–১৩৫৮।
➤ বাংলাকে রাজনৈতিকভাবে একত্রিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত — শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ, ১৩৫২।
➤ বাংলাকে 'ধনসম্পদপূর্ণ নরক' অভিহিত করার বর্ণনা পাওয়া যায় — ইবনে বতুতার ভ্রমণবৃত্তান্তে।
➤ ফারসি অভিব্যক্তি — দোজখ-ই-পুর নিয়ামত।
➤ ইবনে বতুতার বিখ্যাত ভ্রমণগ্রন্থ — রিহলা।
➤ রিহলা গ্রন্থের ভাষা — আরবি।
➤ রিহলা গ্রন্থের সংকলক ও সম্পাদক — ইবনে জুজাই আল-কালবি।
➤ রিহলা গ্রন্থ সংকলন — আনুমানিক ১৩৫৫।
➤ ভ্রমণবৃত্তান্ত সংকলনের নির্দেশদাতা — মরক্কোর সুলতান আবু ইনান ফারিস।
➤ ইবনে বতুতার বিবরণে বাংলার প্রধান অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য — খাদ্যশস্যের প্রাচুর্য, স্বল্পমূল্যের দ্রব্য ও নদীবাণিজ্য।
➤ তাঁর বিবরণে বাংলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র — সোনারগাঁও।
➤ সোনারগাঁও থেকে তিনি জাহাজে যাত্রা করেন — জাভার উদ্দেশ্যে।
➤ তাঁর বিবরণে বাংলার সঙ্গে চালের বাণিজ্যের সম্পর্ক পাওয়া যায় — মালদ্বীপের।
➤ বিশেষ পার্থক্য: ইবনে বতুতার বাংলা ভ্রমণ ১৩৪৬ সালে; চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন এসেছিলেন গুপ্ত যুগে এবং হিউয়েন সাঙ এসেছিলেন সপ্তম শতাব্দীতে।