🧠 🔖
👑 Premium Topic

উপমহাদেশে মোঘলদের শাসন-মুঘল সাম্রাজ্য

◉ সাধারণ জ্ঞান-বাংলাদেশ বিষয়াবলী›উপমহাদেশে মোঘলদের শাসন-মুঘল সাম্রাজ্য

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚72মোট প্রশ্ন
🎯5মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০১. প্রথম পানিপথের যুদ্ধ কখন হয়? (মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমটিও: ১৩; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল টেকনিশিয়ান: ২০)

ক

১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে

খ

১৬২১ খ্রিষ্টাব্দে

গ

১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে

ঘ

১৫৩৬ খ্রিষ্টাব্দে

✅ সঠিক উত্তর:গ. ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ (২১ এপ্রিল)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ প্রথম পানিপথের যুদ্ধ (First Battle of Panipat) সংঘটিত হয় ২১ এপ্রিল ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে, ভারতের বর্তমান হরিয়ানা রাজ্যের পানিপথে।
❖ এই যুদ্ধে মধ্য এশীয় তুর্কি-মোঙ্গল বংশোদ্ভূত সম্রাট জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর দিল্লি সালতানাতের লোদি বংশের সর্বশেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করেন।
❖ যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদি নিহত হন এবং দিল্লিতে লোদি বংশের শাসনের অবসান ঘটে। এর ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের বাহিনী কামান, বারুদচালিত আগ্নেয়াস্ত্র, অশ্বারোহী বাহিনীর দ্রুত আক্রমণ এবং বিশেষ যুদ্ধকৌশল প্রয়োগ করে। এই সম্মিলিত সামরিক কৌশল বাবরের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১. মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবরের জীবন ও পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর (Zahir-ud-din Muhammad Babur)।
❖ জন্ম: ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৪৮৩ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন্মস্থান: আন্দিজান, ফারগানা উপত্যকা, বর্তমান উজবেকিস্তান।
❖ মৃত্যু: ২৬ ডিসেম্বর ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ মৃত্যুস্থান: আগ্রা, ভারত।
❖ পিতা: উমর শেখ মির্জা দ্বিতীয়।
❖ মাতা: কুতলুগ নিগার খানম।
❖ রাজবংশ: তিমুরীয় বা Timurid।
❖ মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা: ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ ভারতে শাসনকাল: ১৫২৬–১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ উত্তরসূরি: সম্রাট হুমায়ুন।
❖ বিখ্যাত গ্রন্থ: বাবরনামা (Baburnama)।
❖ গ্রন্থের মূল ভাষা: চাগতাই তুর্কি (Chagatai Turkish)।
❖ বাবর ছিলেন পিতার দিক থেকে তিমুরের বংশধর এবং মাতার দিক থেকে চেঙ্গিস খানের বংশধর।
২. বাবরের প্রাথমিক জীবন ও সামরিক উত্থান
◉ ১৪৯৪ সাল — ফারগানার শাসন লাভ
❖ বাবরের পিতা উমর শেখ মির্জার মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি ফারগানার শাসনভার গ্রহণ করেন।
❖ ফারগানা ছিল মধ্য এশিয়ার একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল, যা বর্তমানে প্রধানত উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের মধ্যে বিস্তৃত।
◉ সমরকন্দ দখলের চেষ্টা
❖ বাবর তরুণ বয়স থেকেই সমরকন্দ দখল করার চেষ্টা করেন।
❖ তিনি কয়েকবার সমরকন্দ দখল করলেও উজবেক নেতা মুহাম্মদ শায়বানি খান এবং অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর কারণে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেননি।
◉ ১৫০৪ সাল — কাবুল দখল
❖ মধ্য এশিয়ায় রাজনৈতিক কর্তৃত্ব হারানোর পর বাবর আফগানিস্তানের দিকে অগ্রসর হন।
❖ ১৫০৪ সালে তিনি কাবুল দখল করেন এবং সেখানে নিজের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ পরবর্তী সময়ে কাবুল তাঁর ভারত অভিযান পরিচালনার প্রধান রাজনৈতিক ও সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়।
৩. প্রথম পানিপথের যুদ্ধের রাজনৈতিক পটভূমি
❖ ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতে উত্তর ভারতে দিল্লি সালতানাতের লোদি বংশ শাসন করছিল।
❖ লোদি রাজবংশ (Lodi Dynasty) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৪৫১ খ্রিষ্টাব্দে।
❖ এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বহলুল লোদি (Bahlul Lodi)।
❖ লোদি বংশের প্রধান শাসকেরা ছিলেন—
১. বহলুল লোদি (১৪৫১–১৪৮৯): লোদি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
২. সিকান্দার লোদি (১৪৮৯–১৫১৭): সামরিক ও প্রশাসনিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ শাসক; আগ্রা নগর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত।
৩. ইব্রাহিম লোদি (১৫১৭–১৫২৬): লোদি বংশের সর্বশেষ সুলতান।
❖ ইব্রাহিম লোদি কেন্দ্রীয় শাসকের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চাইলে আফগান অভিজাতদের একটি অংশ তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তুষ্ট হয়।
❖ পাঞ্জাবের গভর্নর দৌলত খান লোদি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ বৃদ্ধি পায়।
❖ এই রাজনৈতিক অস্থিরতা বাবরের উত্তর ভারতে অভিযানের সুযোগ তৈরি করে।
৪. ইব্রাহিম লোদির জীবন ও পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: ইব্রাহিম খান লোদি (Ibrahim Khan Lodi)।
❖ জন্ম: আনুমানিক ১৪৮০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ মৃত্যু: ২১ এপ্রিল ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ মৃত্যুস্থান: পানিপথের যুদ্ধক্ষেত্র।
❖ পিতা: সিকান্দার লোদি।
❖ পিতামহ: বহলুল লোদি।
❖ রাজবংশ: লোদি।
❖ জাতিগত পরিচয়: আফগান বা পশতুন।
❖ শাসনকাল: ১৫১৭–১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ রাজধানী: দিল্লি।
❖ ঐতিহাসিক পরিচিতি: দিল্লি সালতানাতের সর্বশেষ সুলতান।
❖ পরাজিত হন: বাবরের কাছে।
❖ পরাজয়ের যুদ্ধ: প্রথম পানিপথের যুদ্ধ।
৫. বাবরের ভারত অভিযানের ঘটনাপ্রবাহ
◉ ১৫২৫ সাল — চূড়ান্ত ভারত অভিযানের সূচনা
❖ বাবর কাবুল থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের দিকে তাঁর চূড়ান্ত অভিযান শুরু করেন।
❖ তিনি পাঞ্জাব অঞ্চলে অগ্রসর হয়ে লাহোরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ এরপর তিনি দিল্লির দিকে অগ্রসর হন।
◉ ১৫২৬ সালের এপ্রিল — পানিপথে অবস্থান
❖ বাবর পানিপথ অঞ্চলে পৌঁছে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণ করেন।
❖ তিনি যুদ্ধের জন্য কামান, অশ্বারোহী বাহিনী এবং প্রতিরক্ষামূলক গাড়ির সারি সাজান।
❖ তাঁর বাহিনীকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে পরিকল্পিতভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে স্থাপন করেন।
৬. দুই বাহিনীর সামরিক শক্তি
❖ বাবরের বাহিনী
✦ আনুমানিক সৈন্যসংখ্যা — ১২,০০০–১৫,০০০; ঐতিহাসিক সূত্রভেদে ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়।
✦ কামান — আনুমানিক ২০–২৪টি বলে একটি প্রচলিত হিসাব রয়েছে।
✦ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি — অশ্বারোহী বাহিনী, তিরন্দাজ, কামান ও আগ্নেয়াস্ত্র।
✦ প্রধান সেনাপতি — বাবর।
❖ ইব্রাহিম লোদির বাহিনী
✦ সৈন্যসংখ্যা — বাবরের বাহিনীর তুলনায় অনেক বেশি।
✦ কোনো কোনো বিবরণে শিবির-অনুসারীসহ প্রায় ১,০০,০০০ জনের উল্লেখ পাওয়া যায়; প্রকৃত যোদ্ধার সংখ্যা ছিল কম।
✦ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি — পদাতিক বাহিনী, অশ্বারোহী এবং যুদ্ধহাতি।
✦ প্রচলিত হিসাবে প্রায় ১,০০০ যুদ্ধহাতি ছিল।
✦ প্রধান সেনাপতি — ইব্রাহিম লোদি।
❖ সৈন্যসংখ্যা ও কামানের নির্দিষ্ট পরিমাণ বিষয়ে ঐতিহাসিক সূত্রগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তবে বাবরের তুলনামূলক ছোট বাহিনীর বিরুদ্ধে ইব্রাহিম লোদির বৃহৎ বাহিনী অংশ নিয়েছিল, এ বিষয়ে ঐতিহাসিক বিবরণে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে।
৭. বাবরের বিখ্যাত যুদ্ধকৌশল
◉ তুলুঘমা (Tulughma) কৌশল
❖ তুলুঘমা ছিল অশ্বারোহী বাহিনীকে কয়েকটি অংশে বিভক্ত করে শত্রুবাহিনীকে চারপাশ থেকে আক্রমণ ও ঘিরে ফেলার যুদ্ধকৌশল।
❖ এতে মূল বাহিনীর পাশাপাশি দুই পার্শ্বে দ্রুতগতির অশ্বারোহী দল অবস্থান করত।
❖ শত্রুবাহিনী সামনে অগ্রসর হলে পার্শ্ববর্তী দলগুলো দ্রুত আক্রমণ চালিয়ে প্রতিপক্ষের বাহিনীকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করত।
❖ এই কৌশল সংখ্যায় বড় বাহিনীর বিরুদ্ধে তুলনামূলক ছোট বাহিনীকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করত।
◉ আরাবা (Araba) কৌশল
❖ আরাবা বলতে চাকার গাড়ি বা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত গাড়িবেষ্টনীকে বোঝায়।
❖ বাবর যুদ্ধক্ষেত্রে একাধিক গাড়ি সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করেন।
❖ গাড়িগুলো চামড়ার তৈরি রশি বা বন্ধনী দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা হতো।
❖ গাড়ির আড়ালে কামান ও আগ্নেয়াস্ত্রধারী সৈন্যরা অবস্থান করত।
❖ এর ফলে শত্রুবাহিনীর সরাসরি আক্রমণ প্রতিরোধ করা এবং কামান পরিচালনা করা সহজ হতো।
◉ কামান ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার
❖ বাবরের বাহিনীতে বারুদচালিত কামান ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়।
❖ কামানের শব্দ ও গোলাবর্ষণ ইব্রাহিম লোদির যুদ্ধহাতিগুলোর ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলেছিল বলে প্রচলিত বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।
❖ তবে গবেষকদের মতে, শুধু কামান নয়; বাবরের সামরিক প্রস্তুতি, অশ্বারোহী কৌশল এবং প্রতিপক্ষের দুর্বল সমন্বয়ও বিজয়ের গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
৮. ২১ এপ্রিল ১৫২৬ — প্রথম পানিপথের যুদ্ধ
❖ ২১ এপ্রিল ১৫২৬ সকালে বাবর ও ইব্রাহিম লোদির বাহিনীর মধ্যে প্রধান সংঘর্ষ শুরু হয়।
❖ ইব্রাহিম লোদির বৃহৎ বাহিনী বাবরের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানের দিকে অগ্রসর হয়।
❖ বাবরের বাহিনী কামান, আগ্নেয়াস্ত্র ও অশ্বারোহী বাহিনীর সমন্বয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
❖ তুলুঘমা কৌশলের মাধ্যমে বাবরের অশ্বারোহী বাহিনী লোদির বাহিনীর পার্শ্ববর্তী অংশগুলোতে আক্রমণ পরিচালনা করে।
❖ ইব্রাহিম লোদির বাহিনী বিশাল হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়।
❖ সংঘর্ষের একপর্যায়ে লোদি বাহিনী পরাজিত হয় এবং ইব্রাহিম লোদি যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন।
৯. প্রথম পানিপথের যুদ্ধের ফলাফল
১. লোদি বংশের পতন
❖ ইব্রাহিম লোদির মৃত্যুর মাধ্যমে দিল্লিতে লোদি রাজবংশের শাসনের অবসান ঘটে।
২. দিল্লি সালতানাতের সমাপ্তি
❖ ১২০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দিল্লি সালতানাতের স্বাধীন রাজবংশীয় শাসনের সমাপ্তি ঘটে।
৩. মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা
❖ বাবর দিল্লি ও আগ্রার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ ১৫২৬ সালকে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাবর্ষ হিসেবে গণ্য করা হয়।
৪. সামরিক কৌশলে পরিবর্তন
❖ সংগঠিত মাঠ কামান, আগ্নেয়াস্ত্র ও অশ্বারোহী বাহিনীর সমন্বিত প্রয়োগ উত্তর ভারতের সামরিক ইতিহাসে নতুন গুরুত্ব লাভ করে।
৫. নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা
❖ উত্তর ভারতের রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে।
❖ পরবর্তী সময়ে বাবর ও তাঁর উত্তরসূরিরা মুঘল সাম্রাজ্যকে বিস্তৃত করেন।
১০. প্রথম পানিপথের যুদ্ধের পর বাবরের গুরুত্বপূর্ণ অভিযান
◉ খানুয়ার যুদ্ধ — ১৬ মার্চ ১৫২৭
❖ বাবর রাজপুত নেতা রানা সাঙ্গার নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে পরাজিত করেন।
❖ যুদ্ধের স্থান — বর্তমান ভারতের রাজস্থানের ভরতপুর অঞ্চলের নিকটে।
❖ এই বিজয় উত্তর ভারতে বাবরের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
◉ চান্দেরির যুদ্ধ — ১৫২৮
❖ বাবর চান্দেরিতে রাজপুত শাসক মেদিনী রায়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ বাবরের বাহিনী চান্দেরি দুর্গ দখল করে।
◉ ঘাঘরার যুদ্ধ — ১৫২৯
❖ বাবর বিহার ও পূর্ব উত্তর ভারতের আফগান প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।
❖ এই বিজয় তাঁর পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করে।
১১. বাবরনামা — মুঘল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ
❖ বাবরনামা (Baburnama) বাবরের আত্মজীবনীমূলক স্মৃতিকথা।
❖ গ্রন্থটির অপর পরিচিতি তুজুক-ই-বাবরি (Tuzuk-i-Baburi)।
❖ এটি মূলত চাগতাই তুর্কি ভাষায় রচিত।
❖ গ্রন্থে বাবরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, সামরিক অভিযান, পরিবার, প্রকৃতি, নগর, সমাজ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিবরণ রয়েছে।
❖ মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে আবদুর রহিম খান-ই-খানান গ্রন্থটি ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
❖ প্রথম পানিপথের যুদ্ধ সম্পর্কে বাবরনামা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমসাময়িক ঐতিহাসিক উৎস।
◈ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনী:
❖ ছবির বইয়ের ব্যাখ্যায় পানিপথকে ‘যমুনা নদীর তীরে’ বলা হয়েছে। কিন্তু পানিপথ শহর সরাসরি যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত নয়; যমুনা পানিপথ জেলার পূর্ব সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়।
❖ বইয়ে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সর্বপ্রথম কামানের ব্যবহার হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এটি ভারতে বারুদচালিত কামানের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠিত যুদ্ধক্ষেত্রীয় ব্যবহারের অন্যতম উদাহরণ। তবে উপমহাদেশে কামানের একেবারে প্রথম ব্যবহার পানিপথেই হয়েছিল—এমন দাবি নিশ্চিত নয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রথম পানিপথের যুদ্ধ — ২১ এপ্রিল ১৫২৬।
➤ প্রথম পানিপথের যুদ্ধ সংঘটিত হয় — ষোড়শ শতাব্দীতে।
➤ যুদ্ধের স্থান — পানিপথ, হরিয়ানা, ভারত।
➤ যুদ্ধের বিজয়ী — জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।
➤ যুদ্ধের পরাজিত শাসক — ইব্রাহিম লোদি।
➤ ইব্রাহিম লোদির মৃত্যু — ২১ এপ্রিল ১৫২৬।
➤ প্রথম পানিপথের যুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় — মুঘল সাম্রাজ্য।
➤ মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা — বাবর।
➤ মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাবর্ষ — ১৫২৬।
➤ দিল্লি সালতানাতের প্রথম শাসক — কুতুবউদ্দিন আইবেক।
➤ দিল্লি সালতানাত প্রতিষ্ঠা — ১২০৬।
➤ দিল্লি সালতানাতের শেষ বংশ — লোদি বংশ।
➤ লোদি বংশের প্রতিষ্ঠাতা — বহলুল লোদি।
➤ লোদি বংশ প্রতিষ্ঠা — ১৪৫১।
➤ লোদি বংশের দ্বিতীয় শাসক — সিকান্দার লোদি।
➤ লোদি বংশের শেষ শাসক — ইব্রাহিম লোদি।
➤ ইব্রাহিম লোদির শাসনকাল — ১৫১৭–১৫২৬।
➤ ইব্রাহিম লোদির পিতা — সিকান্দার লোদি।
➤ ইব্রাহিম লোদির পিতামহ — বহলুল লোদি।
➤ বাবরের জন্ম — ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৪৮৩।
➤ বাবরের জন্মস্থান — আন্দিজান, ফারগানা।
➤ ফারগানা বর্তমানে প্রধানত — উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানজুড়ে বিস্তৃত ঐতিহাসিক অঞ্চল।
➤ বাবরের পিতা — উমর শেখ মির্জা।
➤ বাবরের মাতা — কুতলুগ নিগার খানম।
➤ বাবরের পিতৃবংশ — তিমুরীয়।
➤ বাবরের মাতৃবংশ — চেঙ্গিস খানের বংশধারা।
➤ বাবর ফারগানার শাসক হন — ১৪৯৪ সালে।
➤ বাবর কাবুল দখল করেন — ১৫০৪ সালে।
➤ বাবরের ভারত অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায় শুরু — ১৫২৫ সালে।
➤ প্রথম পানিপথের যুদ্ধে বাবরের বিশেষ যুদ্ধকৌশল — তুলুঘমা ও আরাবা।
➤ তুলুঘমা — অশ্বারোহী বাহিনীর পার্শ্ব আক্রমণ ও ঘেরাও কৌশল।
➤ আরাবা — গাড়িবেষ্টনীভিত্তিক প্রতিরক্ষামূলক কৌশল।
➤ প্রথম পানিপথের যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র — কামান ও বারুদচালিত আগ্নেয়াস্ত্র।
➤ প্রথম পানিপথের যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সমসাময়িক উৎস — বাবরনামা।
➤ বাবরনামার রচয়িতা — বাবর।
➤ বাবরনামার মূল ভাষা — চাগতাই তুর্কি।
➤ বাবরনামার ফারসি অনুবাদক — আবদুর রহিম খান-ই-খানান।
➤ খানুয়ার যুদ্ধ — ১৬ মার্চ ১৫২৭।
➤ খানুয়ার যুদ্ধে বাবরের প্রতিপক্ষ — রানা সাঙ্গা।
➤ চান্দেরির যুদ্ধ — ১৫২৮।
➤ চান্দেরির যুদ্ধে প্রতিপক্ষ — মেদিনী রায়।
➤ ঘাঘরার যুদ্ধ — ১৫২৯।
➤ বাবরের মৃত্যু — ২৬ ডিসেম্বর ১৫৩০।
➤ বাবরের উত্তরসূরি — হুমায়ুন।"
02
🎯 Level 1

০৪. পানিপথ অবস্থিত— (নিবন্ধন অধিদপ্তরের সাব-রেজিস্ট্রার: ০১)

ক

মূলতানের অদূরে

খ

পেশোয়ারের অদূরে

গ

দিল্লির অদূরে

ঘ

কাবুলের অদূরে

✅ সঠিক উত্তর:গ. দিল্লির অদূরে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: দিল্লির অদূরে।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ পানিপথ (Panipat) ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের একটি ঐতিহাসিক শহর ও জেলা সদর। এটি ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
❖ পানিপথ ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে ১৫২৬, ১৫৫৬ এবং ১৭৬১ সালে তিনটি বিখ্যাত যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
১. পানিপথের ভৌগোলিক পরিচিতি
❖ ইংরেজি নাম: Panipat।
❖ দেশ: ভারত।
❖ রাজ্য: হরিয়ানা (Haryana)।
❖ শহর: পানিপথ।
❖ দিল্লি থেকে দূরত্ব: প্রায় ৯০ কিলোমিটার।
❖ দিল্লির তুলনায় অবস্থান: উত্তর দিকে।
❖ চণ্ডীগড় থেকে দূরত্ব: প্রায় ১৬৯ কিলোমিটার দক্ষিণে।
❖ নিকটবর্তী প্রধান নদী: যমুনা।
❖ অক্ষাংশ: প্রায় ২৯.৩৯° উত্তর।
❖ দ্রাঘিমাংশ: প্রায় ৭৬.৯৭° পূর্ব।
❖ গড় উচ্চতা: প্রায় ২১৯ মিটার।
২. পানিপথের অবস্থান ও নদীব্যবস্থা
❖ পানিপথ শহর ভারতের উত্তরাঞ্চলের সমতল ভূমিতে অবস্থিত।
❖ যমুনা নদী পানিপথ জেলার পূর্ব সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়।
❖ পানিপথ জেলার পূর্বদিকে যমুনা নদীর অপর পাশে ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্য অবস্থিত।
❖ পশ্চিমদিকে জিন্দ, উত্তরদিকে কারনাল এবং দক্ষিণদিকে সোনিপত জেলার অবস্থান রয়েছে।
❖ পানিপথ অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে দিল্লি থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারতীয় উপমহাদেশে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথের কাছে অবস্থিত।
৩. পানিপথ কেন গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র ছিল?
❖ পানিপথ দিল্লির উত্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক যোগাযোগপথে অবস্থিত।
❖ উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দিল্লির দিকে অগ্রসর হওয়া বাহিনীগুলোর জন্য পানিপথ অঞ্চল ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
❖ এখানকার বিস্তৃত সমতল ভূমি বড় আকারের অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী মোতায়েনের সুযোগ দিত।
❖ দিল্লি দখল বা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়া বিভিন্ন বাহিনী পানিপথ অঞ্চলে মুখোমুখি হয়েছিল।
৪. পানিপথের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ
◉ প্রথম পানিপথের যুদ্ধ — ১৫২৬
❖ বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদি।
❖ বিজয়ী — বাবর।
❖ দিল্লি সালতানাতের পতন ও মুঘল সাম্রাজ্যের সূচনা।
◉ দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধ — ১৫৫৬
❖ আকবরের মুঘল বাহিনী বনাম হিমু।
❖ বিজয়ী — আকবরের বাহিনী।
❖ মুঘল রাজনৈতিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী হয়।
◉ তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ — ১৭৬১
❖ আহমদ শাহ আবদালি ও তাঁর মিত্রবাহিনী বনাম মারাঠারা।
❖ বিজয়ী — আহমদ শাহ আবদালির পক্ষ।
❖ মারাঠা শক্তি বড় সামরিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।
৫. পানিপথের ঐতিহাসিক স্থাপনা
◉ ইব্রাহিম লোদির সমাধি
❖ ইব্রাহিম লোদি ১৫২৬ সালের প্রথম পানিপথের যুদ্ধে নিহত হন।
❖ তাঁর সমাধি পানিপথে অবস্থিত।
❖ এটি দিল্লি সালতানাতের সর্বশেষ লোদি শাসকের ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন।
◉ কাবুলি বাগ মসজিদ (Kabuli Bagh Mosque)
❖ বাবরের প্রথম পানিপথের যুদ্ধে বিজয়ের স্মৃতির সঙ্গে এই মসজিদের নির্মাণ সম্পর্কিত।
❖ এটি পানিপথ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক মুঘল স্থাপত্যনিদর্শন।
◉ বু আলী শাহ কলন্দর দরগাহ
❖ পানিপথের একটি বিখ্যাত সুফি ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী স্থান।
❖ এটি সুফি সাধক শরফুদ্দিন বু আলী শাহ কলন্দর-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
◉ পানিপথ যুদ্ধ জাদুঘর
❖ পানিপথের ঐতিহাসিক যুদ্ধ, সামরিক সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
৬. পানিপথ জেলার প্রশাসনিক ইতিহাস
❖ পানিপথ পূর্বে কারনাল জেলার অংশ ছিল।
❖ ১ নভেম্বর ১৯৮৯ পানিপথ পৃথক জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ ২৪ জুলাই ১৯৯১ আবার কারনাল জেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
❖ ১ জানুয়ারি ১৯৯২ পানিপথ পুনরায় পৃথক জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
৭. আধুনিক পানিপথের পরিচিতি
❖ পানিপথ বর্তমানে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বস্ত্রশিল্পকেন্দ্র।
❖ বিশেষত কম্বল, কার্পেট, সুতা এবং পুনর্ব্যবহৃত বস্ত্র উৎপাদনের জন্য পরিচিত।
❖ এই কারণে পানিপথকে City of Weavers বা Textile City বলা হয়।
❖ ইতিহাসের পাশাপাশি বস্ত্রশিল্প ও বাণিজ্যের জন্য শহরটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ পানিপথ অবস্থিত — দিল্লির অদূরে।
➤ পানিপথের দেশ — ভারত।
➤ পানিপথের রাজ্য — হরিয়ানা।
➤ পানিপথ দিল্লি থেকে — প্রায় ৯০ কিলোমিটার উত্তরে।
➤ পানিপথের নিকটবর্তী নদী — যমুনা।
➤ যমুনা নদী পানিপথ জেলার — পূর্ব সীমান্তে।
➤ পানিপথ শহরের অবস্থান — উত্তর ভারতের সমতলভূমিতে।
➤ পানিপথের ঐতিহাসিক যুদ্ধের সংখ্যা — ৩টি।
➤ প্রথম পানিপথের যুদ্ধ — ২১ এপ্রিল ১৫২৬।
➤ দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধ — ৫ নভেম্বর ১৫৫৬।
➤ তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ — ১৪ জানুয়ারি ১৭৬১।
➤ প্রথম পানিপথের যুদ্ধের বিজয়ী — বাবর।
➤ দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধের বিজয়ী পক্ষ — আকবরের মুঘল বাহিনী।
➤ তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধের বিজয়ী — আহমদ শাহ আবদালি।
➤ পানিপথে অবস্থিত বিখ্যাত সমাধি — ইব্রাহিম লোদির সমাধি।
➤ পানিপথের বিখ্যাত মুঘল স্থাপত্য — কাবুলি বাগ মসজিদ।
➤ কাবুলি বাগ মসজিদের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্রাট — বাবর।
➤ পানিপথের বিখ্যাত সুফি সাধক — বু আলী শাহ কলন্দর।
➤ পানিপথের ঐতিহাসিক সামরিক যোগাযোগপথ — দিল্লি থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারতের পথে।
➤ পানিপথ প্রথম পৃথক জেলা হয় — ১ নভেম্বর ১৯৮৯।
➤ পুনরায় পৃথক জেলা হয় — ১ জানুয়ারি ১৯৯২।
➤ পানিপথের আধুনিক পরিচিতি — City of Weavers বা Textile City।
➤ পানিপথের প্রধান শিল্প — বস্ত্রশিল্প।
➤ বিশেষ পরীক্ষার পার্থক্য:
পানিপথ → হরিয়ানা → দিল্লির উত্তরে → ১৫২৬, ১৫৫৬ ও ১৭৬১।
তরাইন → হরিয়ানা → ১১৯১ ও ১১৯২।
খানুয়া → রাজস্থান → ১৫২৭।
হলদিঘাটি → রাজস্থান → ১৫৭৬।
পলাশী → পশ্চিমবঙ্গ → ১৭৫৭।
বক্সার → বিহার → ১৭৬৪।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৮. কোন যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের পত্তন ঘটেছিল? (বেরোবি: ০৯-১০; জাবি: ০৯-১০)

ক

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ

খ

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ

গ

দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধ

ঘ

পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ

✅ সঠিক উত্তর:ক. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: পানিপথের প্রথম যুদ্ধ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ২১ এপ্রিল ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত পানিপথের প্রথম যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়। এ যুদ্ধে বাবর দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করেন।
❖ প্রশ্নে ব্যবহৃত ‘পত্তন’ শব্দের অর্থ প্রতিষ্ঠা বা সূচনা। এখানে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে, পতনের কথা নয়।
১. মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর
❖ জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর (Zahiruddin Muhammad Babur) ছিলেন তৈমুরীয় বংশোদ্ভূত একজন সামরিক নেতা ও শাসক।
❖ জন্ম: ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৪৮৩।
❖ জন্মস্থান: আন্দিজান, ফারগানা উপত্যকা; বর্তমান উজবেকিস্তান।
❖ পিতা: উমর শেখ মির্জা।
❖ মাতা: কুতলুঘ নিগার খানম।
❖ মৃত্যু: ২৬ ডিসেম্বর ১৫৩০।
❖ বিখ্যাত আত্মজীবনী: বাবরনামা (Baburnama)।
❖ বাবরনামার মূল ভাষা: চাগতাই তুর্কি।
❖ বাবর পিতৃবংশে তৈমুরের এবং মাতৃবংশে চাগতাই-মঙ্গোল রাজবংশের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন।
২. বাবরের ভারত অভিযানের পটভূমি
❖ বাবর প্রথমে ফারগানা ও সমরখন্দে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। সেখানে স্থায়ী সাফল্য অর্জন করতে না পেরে তিনি ১৫০৪ সালে কাবুল দখল করেন।
❖ কাবুলে ক্ষমতা সুসংহত করার পর তিনি উত্তর ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি মনোযোগ দেন।
❖ দিল্লির লোদী শাসনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আফগান অভিজাতদের অসন্তোষ বাবরের ভারত অভিযানের সুযোগ তৈরি করে।
৩. পানিপথের যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ
❖ বাবরের বাহিনী কামান, বারুদচালিত আগ্নেয়াস্ত্র এবং অশ্বারোহী বাহিনীর সমন্বিত কৌশল ব্যবহার করে।
❖ ইব্রাহিম লোদীর বাহিনী সংখ্যায় বড় হলেও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও রণকৌশলগত সীমাবদ্ধতার কারণে পরাজিত হয়।
❖ ইব্রাহিম লোদী যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন।
❖ বাবর দিল্লি ও আগ্রার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং নতুন মুঘল শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলেন।
৪. মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা ও সাম্রাজ্য সুসংহতকরণের পার্থক্য
❖ ১৫২৬ সালে বাবর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করলেও মুঘল শাসন তখন সমগ্র ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
❖ ১৫২৭ সালে খানুয়ার যুদ্ধে বাবর রাজপুত নেতা রানা সাঙ্গার বাহিনীকে পরাজিত করেন।
❖ ১৫২৮ সালে চান্দেরির অভিযান এবং ১৫২৯ সালে ঘাঘরার যুদ্ধ উত্তর ভারতে তাঁর রাজনৈতিক কর্তৃত্ব সুসংহত করতে সহায়তা করে।
❖ পরবর্তী সময়ে সম্রাট আকবর মুঘল সাম্রাজ্যকে বিস্তৃত ও সুসংহত প্রশাসনিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের পত্তন — পানিপথের প্রথম যুদ্ধের মাধ্যমে।
➤ মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা — ১৫২৬ সালে।
➤ মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা — বাবর।
➤ পানিপথের প্রথম যুদ্ধ — ২১ এপ্রিল ১৫২৬।
➤ যুদ্ধে পরাজিত সুলতান — ইব্রাহিম লোদী।
➤ বাবরের কাবুল বিজয় — ১৫০৪ সালে।
➤ বাবরের খানুয়ার যুদ্ধ — ১৫২৭ সালে।
➤ খানুয়ার যুদ্ধে পরাজিত রাজপুত নেতা — রানা সাঙ্গা।
➤ বাবরের চান্দেরি অভিযান — ১৫২৮ সালে।
➤ বাবরের ঘাঘরার যুদ্ধ — ১৫২৯ সালে।
➤ বাবরের আত্মজীবনী — বাবরনামা।
➤ বাবরের মৃত্যু — ১৫৩০ সালে।
➤ মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা → ১৫২৬; মুঘল সাম্রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক সুসংহতকরণে গুরুত্বপূর্ণ শাসক → আকবর।
04
🎯 Level 1

১১. কোন যুদ্ধে আকবর দিল্লি জয় করেন? (প্রতিরক্ষা অধিদপ্তরের মাঠ সহকারী: ০৭)

ক

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ

খ

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ

গ

খানুয়ার যুদ্ধ

ঘ

হলদিঘাটের যুদ্ধ

✅ সঠিক উত্তর:খ. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে ১৫৫৬ সালে আকবরের বাহিনী হিমুকে পরাজিত করে দিল্লিতে মুঘল কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।
❖ এই সময় আকবরের শাসন ছিল সদ্য প্রতিষ্ঠিত এবং মুঘল সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত অনিশ্চিত।
❖ হুমায়ুনের মৃত্যুর পর সুরি শাসনব্যবস্থার অবশিষ্ট সামরিক নেতারা বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
❖ হিমু আগ্রা ও দিল্লি অধিকার করলে আকবরের শাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়।
১. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
❖ যুদ্ধের আগে দিল্লির ওপর আকবরের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
❖ হিমু দিল্লি অধিকার করে স্বাধীন শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ বৈরাম খানের নেতৃত্বে আকবরের বাহিনী পানিপথে হিমুকে পরাজিত করে।
❖ এই বিজয়ের ফলে মুঘল শাসনের রাজনৈতিক ভিত্তি রক্ষা পায়।
২. পানিপথের বিজয়ের পর আকবরের প্রশাসনিক বিকাশ
❖ আকবর পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সামরিক অভিযান, কূটনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্য বিস্তার করেন।
❖ তাঁর শাসনামলে মনসবদারি ব্যবস্থা (Mansabdari System) সামরিক ও প্রশাসনিক সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় রাজা টোডরমল (Raja Todar Mal)-এর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ আকবরের শাসননীতির অন্যতম আলোচিত ধারণা ছিল সুলহ-ই-কুল (Sulh-i-Kul) বা সর্বজনীন শান্তি ও সহাবস্থানের নীতি।
৩. আকবরের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ
❖ ১৫৬৭–১৫৬৮: চিতোর দুর্গ অবরোধ ও মুঘল বিজয়।
❖ ১৫৭৬: হলদিঘাটের যুদ্ধ। মুঘল বাহিনীর নেতৃত্ব দেন রাজা মানসিংহ; প্রতিপক্ষ ছিলেন মেওয়াড়ের রানা প্রতাপ।
❖ ১৫৭৬: রাজমহলের যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন আফগান সুলতান দাউদ খান কররানির পরাজয়।
❖ এসব ঘটনা আকবরের সাম্রাজ্য বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ আকবরের বাহিনী দিল্লি পুনরুদ্ধার করে — পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধের মাধ্যমে।
➤ যুদ্ধ — ৫ নভেম্বর ১৫৫৬।
➤ আকবরের প্রতিপক্ষ — হিমু।
➤ আকবরের অভিভাবক ও সেনানায়ক — বৈরাম খান।
➤ আকবরের শাসনকাল — ১৫৫৬–১৬০৫।
➤ আকবরের রাজস্বমন্ত্রী — রাজা টোডরমল।
➤ আকবরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ব্যবস্থা — মনসবদারি।
➤ আকবরের সহাবস্থানের নীতি — সুলহ-ই-কুল।
➤ হলদিঘাটের যুদ্ধ — ১৫৭৬।
➤ হলদিঘাটে মুঘল প্রতিপক্ষ — রানা প্রতাপ।
➤ বাংলার রাজমহলের যুদ্ধ — ১৫৭৬।
➤ ১৫৫৬ → আকবরের দিল্লিতে কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা; ১৫৭৬ → হলদিঘাট ও রাজমহলের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ।
05
🎯 Level 1

১৫. মারাঠা শাসকের উপাধি ছিল— (ডাক বিভাগের মেইল অপারেটর: ০৮)

ক

রাজা

খ

পেশোয়া

গ

সম্রাট

ঘ

বাদশাহ

✅ সঠিক উত্তর:খ. পেশোয়া

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: পেশোয়া (Peshwa)—প্রচলিত পরীক্ষার উত্তর।
◈ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনী:
❖ পেশোয়া মূলত মারাঠা শাসনব্যবস্থার প্রধানমন্ত্রীর পদবি, মূল সার্বভৌম রাজা বা সম্রাটের উপাধি নয়।
❖ মারাঠা রাজাদের উপাধি ছিল ছত্রপতি। তবে অষ্টাদশ শতকে পেশোয়ারা কার্যত মারাঠা রাষ্ট্রের প্রধান রাজনৈতিক শাসকে পরিণত হন। তাই প্রশ্নে মারাঠা শাসক বলতে সেই কার্যকর শাসকদের বোঝানো হয়েছে।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ পেশোয়া (Peshwa) ছিল মারাঠা প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। শব্দটি ফারসি উৎসের এবং মুখ্য কর্মকর্তা বা প্রধানমন্ত্রীর অর্থে ব্যবহৃত হয়।
❖ শিবাজির শাসনামলে পেশোয়া ছিলেন অষ্টপ্রধান মন্ত্রিপরিষদের প্রধান সদস্য।
❖ প্রথমদিকে পেশোয়ার প্রধান কাজ ছিল রাজাকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করা।
❖ পরবর্তী সময়ে বিশেষত ছত্রপতি শাহুর শাসনামলে পেশোয়া পদ অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
১. পেশোয়া পদে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব
◉ বালাজি বিশ্বনাথ (Balaji Vishwanath)
❖ পেশোয়া হিসেবে দায়িত্ব: ১৭১৩–১৭২০।
❖ ছত্রপতি শাহুর অধীনে ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন।
❖ পরবর্তী পেশোয়াদের বংশানুক্রমিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার ভিত্তি গড়ে তোলেন।
◉ প্রথম বাজিরাও (Baji Rao I)
❖ পেশোয়া হিসেবে দায়িত্ব: ১৭২০–১৭৪০।
❖ মারাঠা সাম্রাজ্যের উত্তর ভারতমুখী সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ তাঁর সামরিক অভিযানের ফলে মুঘল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মারাঠাদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
◉ বালাজি বাজিরাও বা নানাসাহেব (Balaji Baji Rao)
❖ পেশোয়া হিসেবে দায়িত্ব: ১৭৪০–১৭৬১।
❖ তাঁর আমলে মারাঠাদের ভূখণ্ডগত প্রভাব উত্তর ভারতে বিস্তৃত হয়।
❖ ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে মারাঠা বাহিনীর ভয়াবহ পরাজয় তাঁর শাসনের শেষ পর্যায়ের প্রধান ঘটনা।
২. ছত্রপতি ও পেশোয়ার পার্থক্য
❖ ছত্রপতি: মারাঠা রাষ্ট্রের সার্বভৌম রাজা।
❖ পেশোয়া: প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর পদ; পরবর্তী সময়ে কার্যত প্রধান শাসক।
❖ এই পার্থক্য মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাস বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩. পেশোয়াদের প্রধান রাজনৈতিক কেন্দ্র
❖ পেশোয়াদের রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল পুনে (Pune)।
❖ পুনে বর্তমান ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে অবস্থিত।
❖ শিবাজির সময় প্রধান রাজধানী ছিল রায়গড় দুর্গ।
❖ পরবর্তী পেশোয়া আমলে পুনে মারাঠা রাজনীতি ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মারাঠা শাসকদের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ উপাধি — পেশোয়া।
➤ পেশোয়া অর্থ — প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
➤ মারাঠা সার্বভৌম রাজার উপাধি — ছত্রপতি।
➤ মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা — শিবাজি।
➤ শিবাজির রাজ্যাভিষেক — ১৬৭৪ সালে।
➤ শিবাজির রাজধানী — রায়গড়।
➤ শিবাজির মন্ত্রিপরিষদ — অষ্টপ্রধান।
➤ অষ্টপ্রধানে সদস্য — ৮ জন।
➤ বালাজি বিশ্বনাথের পেশোয়াকাল — ১৭১৩–১৭২০।
➤ প্রথম বাজিরাওয়ের পেশোয়াকাল — ১৭২০–১৭৪০।
➤ বালাজি বাজিরাওয়ের পেশোয়াকাল — ১৭৪০–১৭৬১।
➤ পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের সময় পেশোয়া — বালাজি বাজিরাও।
➤ মারাঠাদের প্রধান রাজনৈতিক কেন্দ্র — পুনে।
➤ ছত্রপতি → রাজা; পেশোয়া → প্রধানমন্ত্রী, পরে কার্যকর শাসক।
Advertisement
06
🎯 Level 1

১৯. মুঘল শাসনামলের কোন ক্রমটি ঠিক আছে? (পিডিবি-এর কার্যনির্বাহী অফিসার: ১৮)

ক

বাবর – হুমায়ুন – জাহাঙ্গীর – আকবর

খ

বাবর – জাহাঙ্গীর – হুমায়ুন – শাহজাহান

গ

বাবর – হুমায়ুন – আকবর – জাহাঙ্গীর

ঘ

বাবর – আকবর – জাহাঙ্গীর – শাহজাহান

✅ সঠিক উত্তর:গ. বাবর – হুমায়ুন – আকবর – জাহাঙ্গীর

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: বাবর → হুমায়ুন → আকবর → জাহাঙ্গীর।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় ১৫২৬ সালে বাবরের মাধ্যমে। বাবরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র হুমায়ুন, এরপর হুমায়ুনের পুত্র আকবর এবং আকবরের পুত্র জাহাঙ্গীর সিংহাসনে আরোহণ করেন।
❖ মুঘল শাসকদের ধারাবাহিকতা ও তাঁদের আত্মীয়তার সম্পর্ক ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার বিষয়।
১. সম্রাট বাবর (Babur)
❖ শাসনকাল: ১৫২৬–১৫৩০।
❖ মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
❖ জন্ম — ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৪৮৩।
❖ মৃত্যু — ২৬ ডিসেম্বর ১৫৩০।
❖ পিতা — উমর শেখ মির্জা।
❖ বিখ্যাত যুদ্ধ — প্রথম পানিপথের যুদ্ধ (১৫২৬), খানুয়ার যুদ্ধ (১৫২৭)।
❖ বিখ্যাত গ্রন্থ — বাবরনামা।
২. সম্রাট হুমায়ুন (Humayun)
❖ শাসনকাল: ১৫৩০–১৫৪০ এবং ১৫৫৫–১৫৫৬।
❖ বাবরের পুত্র ও উত্তরসূরি।
❖ জন্ম — ৬ মার্চ ১৫০৮।
❖ মৃত্যু — ২৭ জানুয়ারি ১৫৫৬।
❖ শেরশাহ সুরির কাছে পরাজিত হয়ে ১৫৪০ সালে দিল্লির সিংহাসন হারান।
❖ ১৫৫৫ সালে পুনরায় দিল্লি অধিকার করেন।
❖ দিল্লির পুরানা কিলা অঞ্চলে অবস্থিত একটি গ্রন্থাগারের সিঁড়ি থেকে পড়ে আহত হওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন।
৩. সম্রাট আকবর (Akbar)
❖ শাসনকাল: ১৫৫৬–১৬০৫।
❖ হুমায়ুনের পুত্র।
❖ জন্ম — ১৫ অক্টোবর ১৫৪২।
❖ মৃত্যু — ২৭ অক্টোবর ১৬০৫।
❖ ১৫৫৬ সালে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে তাঁর বাহিনী হিমুকে পরাজিত করে।
❖ সাম্রাজ্য বিস্তার, মনসবদারি ব্যবস্থা, ভূমি রাজস্ব সংস্কার এবং ধর্মীয় সহাবস্থান-সংক্রান্ত নীতির জন্য বিখ্যাত।
৪. সম্রাট জাহাঙ্গীর (Jahangir)
❖ শাসনকাল: ১৬০৫–১৬২৭।
❖ আকবরের পুত্র।
❖ পূর্বনাম — সেলিম (Salim)।
❖ জন্ম — ৩১ আগস্ট ১৫৬৯।
❖ মৃত্যু — ২৮ অক্টোবর ১৬২৭।
❖ তাঁর শাসনামলে বাংলায় বারো ভূঁইয়াদের প্রতিরোধ দমন এবং ঢাকাকে প্রশাসনিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘটনা ঘটে।
❖ তাঁর বিখ্যাত আত্মজীবনী — তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী (Tuzuk-i-Jahangiri)।
৫. পরবর্তী দুই গুরুত্বপূর্ণ মুঘল সম্রাট
◉ শাহজাহান (Shah Jahan)
❖ শাসনকাল: ১৬২৮–১৬৫৮।
❖ জাহাঙ্গীরের পুত্র।
❖ পূর্বনাম — খুররম (Khurram)।
❖ বিখ্যাত নির্মাণ — তাজমহল।
◉ আওরঙ্গজেব (Aurangzeb)
❖ শাসনকাল: ১৬৫৮–১৭০৭।
❖ শাহজাহানের পুত্র।
❖ উপাধি — আলমগীর (Alamgir)।
❖ তাঁর শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্যের ভূখণ্ডগত বিস্তৃতি অনেক বৃদ্ধি পায়, কিন্তু দীর্ঘ যুদ্ধ ও প্রশাসনিক সংকটও তীব্র হয়।
৬. মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট
❖ মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর (Bahadur Shah II / Bahadur Shah Zafar)।
❖ তাঁর শাসনকাল ছিল ১৮৩৭–১৮৫৭।
❖ ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
❖ তাঁকে নির্বাসনে রেঙ্গুনে পাঠানো হয়।
❖ ১৮৬২ সালে রেঙ্গুনে তাঁর মৃত্যু হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মুঘল সম্রাটদের প্রথম চারজনের ক্রম — বাবর → হুমায়ুন → আকবর → জাহাঙ্গীর।
➤ বাবর — ১৫২৬–১৫৩০।
➤ হুমায়ুন — ১৫৩০–১৫৪০ এবং ১৫৫৫–১৫৫৬।
➤ আকবর — ১৫৫৬–১৬০৫।
➤ জাহাঙ্গীর — ১৬০৫–১৬২৭।
➤ শাহজাহান — ১৬২৮–১৬৫৮।
➤ আওরঙ্গজেব — ১৬৫৮–১৭০৭।
➤ বাবরের পুত্র — হুমায়ুন।
➤ হুমায়ুনের পুত্র — আকবর।
➤ আকবরের পুত্র — জাহাঙ্গীর।
➤ জাহাঙ্গীরের পুত্র — শাহজাহান।
➤ শাহজাহানের পুত্র — আওরঙ্গজেব।
➤ জাহাঙ্গীরের পূর্বনাম — সেলিম।
➤ শাহজাহানের পূর্বনাম — খুররম।
➤ আওরঙ্গজেবের উপাধি — আলমগীর।
➤ মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা — বাবর।
➤ মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট — দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর।
➤ শেষ সম্রাট ক্ষমতাচ্যুত হন — ১৮৫৭ সালে।
➤ বাবর → হুমায়ুন → আকবর → জাহাঙ্গীর → শাহজাহান → আওরঙ্গজেব।
07
🎯 Level 1

২৩. ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে? (জনশক্তি অধিদপ্তরের অফিস সহকারী: ১১; জাতীয় পল্লী উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী: ১১; জেলা প্রশাসকের অফিস সহকারী: ১৫; পল্লী উন্নয়ন সংস্থার অফিসার: ২৫; বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা: ২৫)

ক

জাহাঙ্গীর

খ

আকবর

গ

বাবর

ঘ

হুমায়ুন

✅ সঠিক উত্তর:গ. বাবর

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর (Zahiruddin Muhammad Babur)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম মুঘল সম্রাট।
❖ ২১ এপ্রিল ১৫২৬ প্রথম পানিপথের যুদ্ধে তিনি দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন।
১. বাবরের জীবন ও পারিবারিক পরিচয়
❖ পূর্ণ নাম: জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।
❖ জন্ম: ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৪৮৩।
❖ জন্মস্থান: আন্দিজান, ফারগানা অঞ্চল।
❖ বর্তমান দেশ: উজবেকিস্তান।
❖ পিতা: উমর শেখ মির্জা।
❖ মাতা: কুতলুঘ নিগার খানম।
❖ রাজবংশ: তৈমুরীয়।
❖ ভারতে শাসনকাল: ১৫২৬–১৫৩০।
❖ মৃত্যু: ২৬ ডিসেম্বর ১৫৩০।
❖ উত্তরসূরি: হুমায়ুন।
২. বাবরের প্রাথমিক রাজনৈতিক জীবন
❖ বাবর অল্প বয়সে ফারগানার শাসনভার গ্রহণ করেন।
❖ তিনি মধ্য এশিয়ার বিখ্যাত সমরখন্দ শহর দখলের জন্য একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ কিন্তু উজবেক নেতা মুহাম্মদ শায়বানি খানের উত্থানের কারণে মধ্য এশিয়ায় স্থায়ী রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হন।
❖ ১৫০৪ সালে বাবর কাবুল অধিকার করেন।
❖ কাবুল তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামরিক অভিযানের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
৩. বাবরের ভারত অভিযান
❖ উত্তর ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দিল্লির লোদী শাসনের দুর্বলতার কারণে বাবর ভারত অভিযানের সুযোগ পান।
❖ তিনি উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান শুরু করেন।
❖ ১৫২৬ সালের প্রথম পানিপথের যুদ্ধে বাবর কামান, আগ্নেয়াস্ত্র এবং অশ্বারোহী বাহিনীর সমন্বিত রণকৌশল ব্যবহার করে বিজয় অর্জন করেন।
❖ এই যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী নিহত হন।
৪. বাবরের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসমূহ
◉ প্রথম পানিপথের যুদ্ধ, ১৫২৬
❖ প্রতিপক্ষ — ইব্রাহিম লোদী।
❖ ফলাফল — বাবরের বিজয় ও মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা।
◉ খানুয়ার যুদ্ধ, ১৫২৭
❖ প্রতিপক্ষ — মেওয়াড়ের রাজপুত শাসক রানা সাঙ্গা।
❖ ফলাফল — বাবরের বিজয়।
❖ গুরুত্ব — উত্তর ভারতে মুঘল কর্তৃত্ব সুসংহত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
◉ চান্দেরির অভিযান, ১৫২৮
❖ প্রতিপক্ষ — চান্দেরির শাসক মেদিনী রায়।
❖ ফলাফল — বাবরের সামরিক বিজয়।
◉ ঘাঘরার যুদ্ধ, ১৫২৯
❖ প্রতিপক্ষ — আফগান শক্তি এবং তাদের সহযোগী বাহিনী।
❖ ফলাফল — বাবরের বিজয় ও পূর্ব ভারতের কিছু অঞ্চলে প্রভাব বৃদ্ধি।
৫. বাবরনামা (Baburnama)
❖ বাবরের বিখ্যাত আত্মজীবনী বাবরনামা (Baburnama)।
❖ এর অপর নাম তুজুক-ই-বাবরী (Tuzuk-i-Baburi)।
❖ গ্রন্থটির মূল ভাষা ছিল চাগতাই তুর্কি (Chagatai Turkic)।
❖ বাবরনামায় তাঁর জীবন, সামরিক অভিযান, রাজনীতি, প্রকৃতি, উদ্ভিদ, প্রাণী, নগর ও বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনযাত্রার বিবরণ রয়েছে।
❖ পরবর্তী সময়ে সম্রাট আকবরের আমলে বাবরনামা ফারসি ভাষায় অনূদিত হয়।
❖ অনুবাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আব্দুর রহিম খান-ই-খানান।
৬. বাবরের মৃত্যু ও সমাধি
❖ ২৬ ডিসেম্বর ১৫৩০ বাবর আগ্রায় মৃত্যুবরণ করেন।
❖ প্রথমে তাঁকে আগ্রায় সমাহিত করা হয়।
❖ পরবর্তী সময়ে তাঁর মরদেহ কাবুলে স্থানান্তরিত করা হয়।
❖ বর্তমানে তাঁর সমাধি আফগানিস্তানের কাবুলের বাগ-ই-বাবর (Bagh-e Babur) উদ্যানে অবস্থিত।
৭. মুঘল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার
❖ বাবরের মৃত্যুর পর পুত্র হুমায়ুন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
❖ হুমায়ুনের পর আকবর মুঘল সাম্রাজ্যকে সুসংহত করেন।
❖ পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শাসক ছিলেন জাহাঙ্গীর, শাহজাহান ও আওরঙ্গজেব।
❖ এই শাসকদের আমলে মুঘল সাম্রাজ্য ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা — বাবর।
➤ বাবরের পূর্ণ নাম — জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।
➤ বাবরের জন্ম — ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৪৮৩।
➤ বাবরের জন্মস্থান — আন্দিজান, ফারগানা।
➤ বাবরের পিতা — উমর শেখ মির্জা।
➤ বাবরের মাতা — কুতলুঘ নিগার খানম।
➤ বাবরের রাজবংশ — তৈমুরীয়।
➤ বাবরের কাবুল বিজয় — ১৫০৪।
➤ প্রথম পানিপথের যুদ্ধ — ২১ এপ্রিল ১৫২৬।
➤ প্রথম পানিপথের যুদ্ধে পরাজিত — ইব্রাহিম লোদী।
➤ মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত — ১৫২৬ সালে।
➤ বাবরের খানুয়ার যুদ্ধ — ১৫২৭।
➤ খানুয়ার যুদ্ধে পরাজিত — রানা সাঙ্গা।
➤ বাবরের চান্দেরির অভিযান — ১৫২৮।
➤ বাবরের ঘাঘরার যুদ্ধ — ১৫২৯।
➤ বাবরের আত্মজীবনী — বাবরনামা।
➤ বাবরনামার অপর নাম — তুজুক-ই-বাবরী।
➤ বাবরনামার মূল ভাষা — চাগতাই তুর্কি।
➤ বাবরনামার ফারসি অনুবাদক — আব্দুর রহিম খান-ই-খানান।
➤ বাবরের মৃত্যু — ২৬ ডিসেম্বর ১৫৩০।
➤ বাবরের সমাধি — বাগ-ই-বাবর, কাবুল।
➤ বাবরের উত্তরসূরি — হুমায়ুন।
➤ বাবর → ১৫২৬ → পানিপথের প্রথম যুদ্ধ → মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা।
08
🎯 Level 1

২৬. বাবরি মসজিদ ভারতবর্ষের কোন শহরে অবস্থিত ছিল? / ঐতিহাসিক ‘বাবরি মসজিদ’ ভারতের কোন প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল? / ‘বাবরি মসজিদ’ ভারতের কোন প্রদেশে অবস্থিত ছিল? (সমবায় অধিদপ্তরের সহকারী আলাদা শ্রেণি: ০১ / দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক: ১০)

ক

অমরাবতী, অন্ধ্রপ্রদেশ

খ

চণ্ডীগড়, হরিয়ানা

গ

অযোধ্যা, উত্তরপ্রদেশ

ঘ

জয়পুর, রাজস্থান

✅ সঠিক উত্তর:গ. অযোধ্যা, উত্তরপ্রদেশ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: অযোধ্যা (Ayodhya), উত্তরপ্রদেশ, ভারত।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাবরি মসজিদ (Babri Masjid) ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের অযোধ্যা নগরে অবস্থিত ছিল। এটি মুঘল যুগের একটি ঐতিহাসিক মসজিদ, যা ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে একদল করসেবকের দ্বারা ভেঙে ফেলা হয়।
❖ ঐতিহাসিকভাবে মসজিদটির নির্মাণ ১৫২৮–১৫২৯ খ্রিষ্টাব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী বাবরের সেনাপতি মীর বাকী (Mir Baqi) এটি নির্মাণ করেন।
❖ তবে বাবর নিজে মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না, এ বিষয়ে সমসাময়িক প্রমাণ সীমিত। বাবরনামায় মসজিদটির নির্মাণের সরাসরি বিবরণ নেই। নির্মাণের প্রচলিত ইতিহাস প্রধানত শিলালিপির পাঠ ও পরবর্তী ঐতিহাসিক বিবরণের ওপর নির্ভরশীল।
❖ মসজিদটির অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের রাম জন্মভূমি–বাবরি মসজিদ বিরোধ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও বিচারিক বিতর্কে পরিণত হয়।
◉ ১. বাবরি মসজিদের নির্মাণকাল ও পরিচয়
❖ নাম: বাবরি মসজিদ।
❖ অবস্থান: অযোধ্যা, উত্তরপ্রদেশ।
❖ প্রচলিত নির্মাণকাল: ১৫২৮–১৫২৯ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ সম্পর্কিত মুঘল সম্রাট: বাবর।
❖ প্রচলিত নির্মাতা: মীর বাকী।
❖ মসজিদটি তিনটি প্রধান গম্বুজের জন্য পরিচিত ছিল।
❖ মুঘল আমলের স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে এটি দীর্ঘকাল অযোধ্যার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে পরিচিত ছিল।
◉ ২. অযোধ্যার ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ অযোধ্যা ভারতের একটি প্রাচীন নগর।
❖ প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে এটি কোশল রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ বাল্মীকির রামায়ণ অনুসারে অযোধ্যা ছিল রাজা দশরথ ও শ্রীরামের রাজ্য।
❖ হিন্দুধর্মে অযোধ্যা শ্রীরামের জন্মস্থান হিসেবে বিশেষ পবিত্র স্থান।
❖ নগরটি সরযূ নদীর তীরে অবস্থিত।
❖ আধুনিক প্রশাসনিকভাবে অযোধ্যা ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের অযোধ্যা জেলায় অবস্থিত; এই জেলার পূর্বনাম ছিল ফৈজাবাদ।
◉ ৩. বাবরি মসজিদসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ
❖ ১৫২৮–১৫২৯: প্রচলিত নির্মাণকাল।
❖ ১৮৮৫: মহন্ত রঘুবর দাস বিতর্কিত স্থানের বাইরের চবুতরায় মন্দির নির্মাণের অনুমতি চেয়ে মামলা করেন।
❖ ২২–২৩ ডিসেম্বর ১৯৪৯: মসজিদের ভেতরে রামলালার মূর্তি স্থাপিত হয়। এরপর প্রশাসন স্থানটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
❖ ১৯৮৬: ফৈজাবাদ জেলা আদালতের আদেশে হিন্দু উপাসনার জন্য তালা খোলা হয়।
❖ ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২: বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়।
❖ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১০: এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিতর্কিত জমি তিন ভাগে বণ্টনের রায় দেয়।
❖ ৯ নভেম্বর ২০১৯: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমি রামমন্দির নির্মাণের জন্য ট্রাস্টের হাতে দেওয়ার এবং মসজিদের জন্য অন্যত্র পাঁচ একর জমি বরাদ্দের নির্দেশ দেয়।
❖ ২২ জানুয়ারি ২০২৪: অযোধ্যার রামমন্দিরে রামলালার মূর্তির প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
◉ ৪. ১৯৯২ সালের ধ্বংসের ঐতিহাসিক প্রভাব
❖ বাবরি মসজিদ ধ্বংস ভারতের রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি বড় ঘটনা।
❖ ধ্বংসের পর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
❖ এ ঘটনা তদন্তের জন্য লিবারহান কমিশন (Liberhan Commission) গঠন করা হয়।
❖ কমিশনটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৯ সালে প্রতিবেদন জমা দেয়।
❖ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মসজিদ ধ্বংসকে আইনের শাসনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
◉ ৫. বাবরি মসজিদ ও মুঘল ইতিহাসের সম্পর্ক
❖ বাবর ১৫২৬ সালে উত্তর ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ তাঁর শাসনকাল ১৫২৬–১৫৩০।
❖ অযোধ্যা উত্তর ভারতের আওধ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
❖ বাবরনামায় আওধ অঞ্চলে বাবরের অভিযানের উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ বাবরি মসজিদের ইতিহাসে মীর বাকীর নাম গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থাপনাটি নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ রয়েছে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাবরি মসজিদের অবস্থান — অযোধ্যা, উত্তরপ্রদেশ।
➤ বাবরি মসজিদের প্রচলিত নির্মাণকাল — ১৫২৮–১৫২৯।
➤ বাবরি মসজিদের সঙ্গে সম্পর্কিত মুঘল সম্রাট — বাবর।
➤ বাবরি মসজিদের প্রচলিত নির্মাতা — মীর বাকী।
➤ বাবরি মসজিদ ভাঙা হয় — ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২।
➤ অযোধ্যা যে ভারতীয় রাজ্যে অবস্থিত — উত্তরপ্রদেশ।
➤ অযোধ্যার নদী — সরযূ।
➤ অযোধ্যার প্রাচীন রাজ্য — কোশল।
➤ অযোধ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত মহাকাব্য — রামায়ণ।
➤ রামায়ণের ঐতিহ্যগত রচয়িতা — বাল্মীকি।
➤ অযোধ্যা জেলার পূর্বনাম — ফৈজাবাদ।
➤ বাবরি মসজিদে মূর্তি স্থাপনের ঘটনা — ডিসেম্বর ১৯৪৯।
➤ বিতর্কিত স্থানের তালা খোলার আদালতের আদেশ — ১৯৮৬ সালে।
➤ বাবরি মসজিদ ধ্বংস তদন্ত কমিশন — লিবারহান কমিশন।
➤ লিবারহান কমিশনের প্রতিবেদন — ২০০৯ সালে।
➤ এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় — ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১০।
➤ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত ভূমিসংক্রান্ত রায় — ৯ নভেম্বর ২০১৯।
➤ অযোধ্যা রামমন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান — ২২ জানুয়ারি ২০২৪।
Advertisement
09
🎯 Level 1

২৯. ‘হুমায়ুননামা’ কে লিখেছেন? (ইসলামী ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার: ২৪)

ক

হুমায়ুন

খ

ফেরদৌসী

গ

আবুল ফজল

ঘ

গুলবদন বেগম

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. গুলবদন বেগম

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: গুলবদন বেগম (Gulbadan Begum)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ হুমায়ুননামা (Humayun Nama) মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের জীবন ও রাজপরিবারের বিভিন্ন ঘটনাবলি নিয়ে রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক গ্রন্থ।
❖ গ্রন্থটির রচয়িতা গুলবদন বেগম (১৫২৩–১৬০৩), যিনি ছিলেন সম্রাট বাবরের কন্যা, হুমায়ুনের বোন এবং আকবরের ফুফু।
❖ তিনি আকবরের নির্দেশে মুঘল রাজপরিবারের ইতিহাস ও ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ লিপিবদ্ধ করেন।
❖ গ্রন্থটি ফারসি ভাষায় রচিত এবং ষোড়শ শতকের মুঘল রাজপরিবারের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অন্যতম মূল্যবান প্রাথমিক উৎস।
◉ ১. গুলবদন বেগমের পরিচয়
❖ পূর্ণ নাম: গুলবদন বেগম।
❖ জন্ম: আনুমানিক ১৫২৩ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ মৃত্যু: ১৬০৩ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন্মস্থান: কাবুল।
❖ পিতা: সম্রাট বাবর।
❖ মাতা: দিলদার বেগম।
❖ ভাই: সম্রাট হুমায়ুন।
❖ ভ্রাতুষ্পুত্র: সম্রাট আকবর।
❖ স্বামী: খিজর খাজা খান।
◉ ২. হুমায়ুননামা রচনার পটভূমি
❖ আকবর নিজের পিতা ও পূর্বপুরুষদের ইতিহাস সংরক্ষণে আগ্রহী ছিলেন।
❖ মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস রচনার জন্য তিনি রাজপরিবারের প্রবীণ সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।
❖ গুলবদন বেগম বাবর ও হুমায়ুনের সময়ের বহু ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন অথবা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে শুনেছিলেন।
❖ তিনি নিজের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হুমায়ুননামা রচনা করেন।
❖ গ্রন্থটি আনুমানিক ১৫৮০-এর দশকে রচিত হয়।
◉ ৩. হুমায়ুননামার প্রধান বিষয়বস্তু
❖ সম্রাট বাবরের পারিবারিক জীবন।
❖ হুমায়ুনের শৈশব, সিংহাসনে আরোহণ ও রাজনৈতিক সংকট।
❖ মুঘল রাজপরিবারের নারী সদস্যদের জীবন।
❖ হুমায়ুনের ভাইদের মধ্যে বিরোধ।
❖ মুঘল রাজপরিবারের ভ্রমণ, নির্বাসন ও কষ্টকর পরিস্থিতি।
❖ রাজপরিবারের বিবাহ, সম্পর্ক ও সামাজিক জীবন।
❖ এতে সম্রাটদের ব্যক্তিগত চরিত্র এবং রাজপরিবারের নারীদের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
◉ ৪. মুঘল ইতিহাসে নারী লেখকদের গুরুত্ব
❖ মুঘল সাম্রাজ্যের অধিকাংশ সরকারি ইতিহাস পুরুষ দরবারি ঐতিহাসিকরা রচনা করেছিলেন।
❖ গুলবদন বেগমের লেখা রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ জীবনের একটি স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
❖ তাঁর রচনায় নারীরা শুধু শাসকদের স্ত্রী বা আত্মীয় হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে সক্রিয় ব্যক্তি হিসেবেও উপস্থিত।
❖ তিনি মুঘল নারীদের ভ্রমণ, পারিবারিক বিরোধ, সমঝোতা এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।
◉ ৫. হুমায়ুননামার পাণ্ডুলিপি ও ইংরেজি অনুবাদ
❖ হুমায়ুননামার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে।
❖ ব্রিটিশ গবেষক অ্যানেট সুসানাহ বেভারিজ (Annette Susannah Beveridge) গ্রন্থটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
❖ তাঁর অনুবাদ The History of Humayun (Humayun-Nama) নামে ১৯০২ সালে প্রকাশিত হয়।
❖ বেভারিজ বাবরনামার ইংরেজি অনুবাদের জন্যও পরিচিত।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ হুমায়ুননামার রচয়িতা — গুলবদন বেগম।
➤ হুমায়ুননামার ভাষা — ফারসি।
➤ গুলবদন বেগমের পিতা — বাবর।
➤ গুলবদন বেগমের মাতা — দিলদার বেগম।
➤ গুলবদন বেগমের ভাই — হুমায়ুন।
➤ গুলবদন বেগমের ভ্রাতুষ্পুত্র — আকবর।
➤ গুলবদন বেগমের জন্মকাল — আনুমানিক ১৫২৩।
➤ গুলবদন বেগমের মৃত্যুসাল — ১৬০৩।
➤ গুলবদন বেগমের জন্মস্থান — কাবুল।
➤ গুলবদন বেগমের স্বামী — খিজর খাজা খান।
➤ হুমায়ুননামা রচিত হয় — আকবরের নির্দেশে।
➤ হুমায়ুননামার আনুমানিক রচনাকাল — ১৫৮০-এর দশক।
➤ হুমায়ুননামার ইংরেজি অনুবাদক — অ্যানেট সুসানাহ বেভারিজ।
➤ হুমায়ুননামার ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ — ১৯০২ সালে।
➤ বাবরের আত্মজীবনী — বাবরনামা।
➤ জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনী — তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরি।
➤ আকবরের রাজত্বের ইতিহাস — আকবরনামা।
➤ আকবরনামার রচয়িতা — আবুল ফজল।
সম্রাট আকবর
10
🎯 Level 1

৩৩. কোন মুঘল সম্রাট জিজিয়া কর রহিত করেন? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১২)

ক

হুমায়ুন

খ

আকবর

গ

শাহজাহান

ঘ

আওরঙ্গজেব

✅ সঠিক উত্তর:খ. আকবর

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: সম্রাট আকবর, ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দে।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ সম্রাট আকবর ১৫৬৪ সালে জিজিয়া কর বিলোপ করেন। মুঘল সাম্রাজ্যের ধর্মনীতি ও রাজস্বব্যবস্থায় এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার।
❖ জিজিয়া (Jizya) হলো ঐতিহাসিক ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় সাধারণত নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রাপ্তবয়স্ক অমুসলিম পুরুষদের ওপর ধার্য মাথাপিছু কর বা ব্যক্তিকর (Poll Tax)।
❖ আকবর তাঁর সাম্রাজ্যের হিন্দু ও অন্যান্য অমুসলিম প্রজাদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নত করার জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় কর ও বৈষম্যমূলক বিধান শিথিল করেন।
❖ জিজিয়া বিলোপের আগের বছর ১৫৬৩ সালে তিনি তীর্থযাত্রা কর বিলোপ করেন।
◉ ১. আকবরের ধর্মীয় নীতির পরিবর্তন
❖ আকবরের সাম্রাজ্যে হিন্দু জনগোষ্ঠী ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ।
❖ সাম্রাজ্যের প্রশাসন ও সামরিক কাঠামো শক্তিশালী করতে তিনি বিভিন্ন স্থানীয় ও আঞ্চলিক অভিজাতদের সহযোগিতা গ্রহণ করেন।
❖ বিশেষভাবে রাজপুতদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক তাঁর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
❖ অমুসলিম প্রজাদের ওপর ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক কর বিলোপের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় সংহতি বৃদ্ধির চেষ্টা করেন।
◉ ২. জিজিয়া করের পরিচয়
❖ জিজিয়া: নির্দিষ্ট অমুসলিম প্রজাদের ওপর ধার্য ব্যক্তিকর।
❖ খারাজ: ভূমিরাজস্ব।
❖ যাকাত: মুসলমানদের নির্দিষ্ট ধর্মীয় আর্থিক কর্তব্য।
❖ উশর: ঐতিহাসিক ইসলামি রাজস্বব্যবস্থায় কৃষিজ উৎপাদনসংক্রান্ত কর।
❖ এসব করের উৎস, উদ্দেশ্য এবং করদাতার শ্রেণি পৃথক ছিল।
◉ ৩. আকবরের রাজপুত নীতি
❖ আকবর রাজপুত রাজবংশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তোলেন।
❖ আম্বরের রাজপরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক তাঁর রাজপুত নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
❖ রাজপুত সেনাপতি ও প্রশাসকদের মুঘল সাম্রাজ্যের উচ্চপদে নিযুক্ত করা হয়।
❖ রাজা মানসিংহ আকবরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজপুত সেনাপতি ছিলেন।
❖ রাজা টোডরমল ভূমিরাজস্ব প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত হন।
◉ ৪. সুলহ-ই-কুল ও ধর্মীয় সহনশীলতা
❖ আকবরের ধর্মীয় নীতির কেন্দ্রীয় ধারণাগুলোর মধ্যে সুলহ-ই-কুল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
❖ এর অর্থ সবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।
❖ এই নীতির অধীনে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
❖ ইবাদতখানা, মাহজার এবং দীন-ই-ইলাহী আকবরের ধর্মীয় চিন্তার বিকাশের পৃথক পর্যায়।
◉ ৫. আওরঙ্গজেবের আমলে জিজিয়া পুনঃপ্রবর্তন
❖ আকবরের আমলে জিজিয়া বিলোপের পর মুঘল সাম্রাজ্যের রাজস্বনীতিতে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে।
❖ পরবর্তীকালে সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৭৯ সালে জিজিয়া কর পুনঃপ্রবর্তন করেন।
❖ আওরঙ্গজেবের এই সিদ্ধান্ত ধর্মনীতি, রাজস্ব আদায় ও সাম্রাজ্যের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা।
❖ তাই আকবর ও আওরঙ্গজেবের ধর্মীয় রাজস্বনীতির পার্থক্য পরীক্ষায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ জিজিয়া কর বিলোপ করেন — সম্রাট আকবর।
➤ জিজিয়া বিলোপের সাল — ১৫৬৪।
➤ তীর্থযাত্রা কর বিলোপ করেন — আকবর।
➤ তীর্থযাত্রা কর বিলোপের সাল — ১৫৬৩।
➤ জিজিয়া করের ইংরেজি পরিচয় — Poll Tax।
➤ জিজিয়া কর সাধারণত ধার্য হতো — নির্দিষ্ট শ্রেণির অমুসলিম প্রজাদের ওপর।
➤ ভূমিকরের ঐতিহাসিক নাম — খারাজ।
➤ আকবরের ধর্মীয় সহাবস্থাননীতি — সুলহ-ই-কুল।
➤ সুলহ-ই-কুলের অর্থ — সর্বজনীন শান্তি।
➤ আকবরের ধর্মীয় আলোচনাকেন্দ্র — ইবাদতখানা।
➤ ইবাদতখানা প্রতিষ্ঠার সাল — ১৫৭৫।
➤ মাহজার ঘোষণা — ১৫৭৯।
➤ দীন-ই-ইলাহী প্রবর্তন — ১৫৮২।
➤ জিজিয়া পুনঃপ্রবর্তন করেন — আওরঙ্গজেব।
➤ জিজিয়া পুনঃপ্রবর্তনের সাল — ১৬৭৯।
➤ আকবরের শাসনকাল — ১৫৫৬–১৬০৫।
➤ আওরঙ্গজেবের শাসনকাল — ১৬৫৮–১৭০৭।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন