01
🎯 Level 1
০১. কত সালে শের শাহ জন্মগ্রহণ করেন? (পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক: ২৫)
✅ সঠিক উত্তর:খ. ১৪৭২
ব্যাখ্যা:
"উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ১৪৭২ খ্রিষ্টাব্দ (প্রদত্ত বই ও বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শেরশাহ সুরি (Sher Shah Suri) ছিলেন ষোড়শ শতকের বিখ্যাত আফগান বংশোদ্ভূত শাসক এবং উত্তর ভারতের সুরি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল ফরিদ খান (Farid Khan)।
❖ তিনি মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে ১৫৪০ সালে দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন এবং ১৫৪৫ সাল পর্যন্ত শাসন পরিচালনা করেন।
❖ মাত্র পাঁচ বছরের শাসনকাল হলেও প্রশাসনিক সংস্কার, ভূমি রাজস্বব্যবস্থা, মুদ্রানীতি ও সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের জন্য তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
১. শেরশাহের জন্মসাল নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ
❖ বাংলাপিডিয়ায় শেরশাহের জন্মসাল ১৪৭২ খ্রিষ্টাব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নের বইটিতেও এই সালই সঠিক উত্তর হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
❖ তবে জন্মসাল সম্পর্কে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। Encyclopaedia Britannica-সহ কিছু গবেষণায় তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৪৮৬ সালে ধরা হয়।
❖ ইতিহাসবিদ কে. আর. কানুনগো ১৪৮৬ সালের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে ইতিহাসবিদ কালিকারঞ্জন কানুনগো-পরবর্তী বিতর্কে আলোচিত গবেষক কে. আর. কানুনগোর বিরোধী গবেষক কে. আর. কানুনগো নন, বরং কে. আর. কানুনগোর সঙ্গে মতভিন্নতাকারী গবেষক ড. এস. সি. সরণ (S. C. Saran) ১৪৭২ সালের পক্ষে যুক্তি দেন।
❖ ফলে পরীক্ষায় ১৪৭২ সাল মনে রাখতে হবে; তবে ইতিহাসচর্চায় জন্মসালটি সর্বসম্মতভাবে নির্ধারিত নয়।
২. শেরশাহের পারিবারিক পরিচয়
❖ পিতা: হাসান খান সুর (Hasan Khan Sur)।
❖ দাদা: ইব্রাহিম খান সুর।
❖ বংশ: আফগান সুর গোত্র।
❖ প্রধান পারিবারিক অঞ্চল: সাসারাম, বর্তমান বিহার, ভারত।
❖ শেরশাহের পিতা হাসান খান সাসারাম অঞ্চলে জায়গির লাভ করেন।
❖ শৈশবে পারিবারিক বিরোধ ও সৎমায়ের আচরণের কারণে ফরিদ খানের সঙ্গে পিতার সম্পর্ক জটিল হয়ে পড়ে বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ আছে।
❖ তিনি পরবর্তী সময়ে জৌনপুরে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
৩. ফরিদ খান থেকে শের খান
❖ ফরিদ খান বিহারের আফগান শাসক বাহার খান লোহানির অধীনে সামরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
❖ প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, একবার বাঘ হত্যা করে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ায় বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ উপাধি প্রদান করেন।
❖ শের শব্দের অর্থ বাঘ বা সিংহ। এখানে এটি বীরত্ব ও সাহসের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত।
❖ পরবর্তী সময়ে সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন।
৪. শেরশাহের প্রধান সামরিক সাফল্য
◉ সুরজগড়ের যুদ্ধ, ১৫৩৪
❖ শের খান বিহার ও বাংলার যৌথ প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন।
❖ এই বিজয়ে বিহারে তাঁর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
◉ চৌসার যুদ্ধ, ২৬ জুন ১৫৩৯
❖ মুঘল সম্রাট হুমায়ুন শের খানের কাছে পরাজিত হন।
❖ এই বিজয়ের পর শের খান শেরশাহ উপাধি ধারণ করেন।
◉ কনৌজ বা বিলগ্রামের যুদ্ধ, ১৭ মে ১৫৪০
❖ শেরশাহ আবার হুমায়ুনকে পরাজিত করেন।
❖ এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।
৫. শেরশাহের মৃত্যু
❖ ১৫৪৫ সালে মধ্য ভারতের কালিঞ্জর দুর্গ (Kalinjar Fort) অবরোধের সময় বারুদের বিস্ফোরণে শেরশাহ গুরুতর আহত হন।
❖ ২২ মে ১৫৪৫ তাঁর মৃত্যু হয় বলে বহুল স্বীকৃত ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ আছে।
❖ তাঁর সমাধিসৌধ ভারতের বিহার রাজ্যের সাসারামে অবস্থিত।
❖ সমাধিটি জলাশয়ের মাঝখানে নির্মিত এবং আফগান স্থাপত্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ শেরশাহের জন্মসাল — ১৪৭২ খ্রিষ্টাব্দ (প্রদত্ত বই অনুযায়ী)।
➤ বিকল্প ঐতিহাসিক জন্মসাল — আনুমানিক ১৪৮৬।
➤ শেরশাহের প্রকৃত নাম — ফরিদ খান।
➤ শেরশাহের পিতা — হাসান খান সুর।
➤ শেরশাহের দাদা — ইব্রাহিম খান সুর।
➤ শেরশাহের বংশ — আফগান সুর গোত্র।
➤ তাঁর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গির — সাসারাম, বিহার।
➤ শের খান উপাধি প্রদান করেন — বাহার খান লোহানি।
➤ শের খান উপাধি লাভের প্রচলিত কারণ — বাঘ হত্যা করে সাহসিকতার পরিচয়।
➤ সুরজগড়ের যুদ্ধ — ১৫৩৪।
➤ চৌসার যুদ্ধ — ২৬ জুন ১৫৩৯।
➤ কনৌজের যুদ্ধ — ১৭ মে ১৫৪০।
➤ সুরি বংশের প্রতিষ্ঠা — ১৫৪০।
➤ শেরশাহের শাসনকাল — ১৫৪০–১৫৪৫।
➤ শেরশাহের প্রতিদ্বন্দ্বী মুঘল সম্রাট — হুমায়ুন।
➤ শেরশাহের মৃত্যুর স্থান — কালিঞ্জর দুর্গ।
➤ শেরশাহের মৃত্যু — ২২ মে ১৫৪৫।
➤ শেরশাহের সমাধি — সাসারাম, বিহার।
➤ ফরিদ খান → শের খান → শেরশাহ সুরি।"
◈ সঠিক উত্তর: ১৪৭২ খ্রিষ্টাব্দ (প্রদত্ত বই ও বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শেরশাহ সুরি (Sher Shah Suri) ছিলেন ষোড়শ শতকের বিখ্যাত আফগান বংশোদ্ভূত শাসক এবং উত্তর ভারতের সুরি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল ফরিদ খান (Farid Khan)।
❖ তিনি মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে ১৫৪০ সালে দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন এবং ১৫৪৫ সাল পর্যন্ত শাসন পরিচালনা করেন।
❖ মাত্র পাঁচ বছরের শাসনকাল হলেও প্রশাসনিক সংস্কার, ভূমি রাজস্বব্যবস্থা, মুদ্রানীতি ও সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের জন্য তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
১. শেরশাহের জন্মসাল নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ
❖ বাংলাপিডিয়ায় শেরশাহের জন্মসাল ১৪৭২ খ্রিষ্টাব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নের বইটিতেও এই সালই সঠিক উত্তর হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
❖ তবে জন্মসাল সম্পর্কে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। Encyclopaedia Britannica-সহ কিছু গবেষণায় তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৪৮৬ সালে ধরা হয়।
❖ ইতিহাসবিদ কে. আর. কানুনগো ১৪৮৬ সালের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে ইতিহাসবিদ কালিকারঞ্জন কানুনগো-পরবর্তী বিতর্কে আলোচিত গবেষক কে. আর. কানুনগোর বিরোধী গবেষক কে. আর. কানুনগো নন, বরং কে. আর. কানুনগোর সঙ্গে মতভিন্নতাকারী গবেষক ড. এস. সি. সরণ (S. C. Saran) ১৪৭২ সালের পক্ষে যুক্তি দেন।
❖ ফলে পরীক্ষায় ১৪৭২ সাল মনে রাখতে হবে; তবে ইতিহাসচর্চায় জন্মসালটি সর্বসম্মতভাবে নির্ধারিত নয়।
২. শেরশাহের পারিবারিক পরিচয়
❖ পিতা: হাসান খান সুর (Hasan Khan Sur)।
❖ দাদা: ইব্রাহিম খান সুর।
❖ বংশ: আফগান সুর গোত্র।
❖ প্রধান পারিবারিক অঞ্চল: সাসারাম, বর্তমান বিহার, ভারত।
❖ শেরশাহের পিতা হাসান খান সাসারাম অঞ্চলে জায়গির লাভ করেন।
❖ শৈশবে পারিবারিক বিরোধ ও সৎমায়ের আচরণের কারণে ফরিদ খানের সঙ্গে পিতার সম্পর্ক জটিল হয়ে পড়ে বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ আছে।
❖ তিনি পরবর্তী সময়ে জৌনপুরে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
৩. ফরিদ খান থেকে শের খান
❖ ফরিদ খান বিহারের আফগান শাসক বাহার খান লোহানির অধীনে সামরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
❖ প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, একবার বাঘ হত্যা করে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ায় বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ উপাধি প্রদান করেন।
❖ শের শব্দের অর্থ বাঘ বা সিংহ। এখানে এটি বীরত্ব ও সাহসের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত।
❖ পরবর্তী সময়ে সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন।
৪. শেরশাহের প্রধান সামরিক সাফল্য
◉ সুরজগড়ের যুদ্ধ, ১৫৩৪
❖ শের খান বিহার ও বাংলার যৌথ প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন।
❖ এই বিজয়ে বিহারে তাঁর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
◉ চৌসার যুদ্ধ, ২৬ জুন ১৫৩৯
❖ মুঘল সম্রাট হুমায়ুন শের খানের কাছে পরাজিত হন।
❖ এই বিজয়ের পর শের খান শেরশাহ উপাধি ধারণ করেন।
◉ কনৌজ বা বিলগ্রামের যুদ্ধ, ১৭ মে ১৫৪০
❖ শেরশাহ আবার হুমায়ুনকে পরাজিত করেন।
❖ এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।
৫. শেরশাহের মৃত্যু
❖ ১৫৪৫ সালে মধ্য ভারতের কালিঞ্জর দুর্গ (Kalinjar Fort) অবরোধের সময় বারুদের বিস্ফোরণে শেরশাহ গুরুতর আহত হন।
❖ ২২ মে ১৫৪৫ তাঁর মৃত্যু হয় বলে বহুল স্বীকৃত ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ আছে।
❖ তাঁর সমাধিসৌধ ভারতের বিহার রাজ্যের সাসারামে অবস্থিত।
❖ সমাধিটি জলাশয়ের মাঝখানে নির্মিত এবং আফগান স্থাপত্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ শেরশাহের জন্মসাল — ১৪৭২ খ্রিষ্টাব্দ (প্রদত্ত বই অনুযায়ী)।
➤ বিকল্প ঐতিহাসিক জন্মসাল — আনুমানিক ১৪৮৬।
➤ শেরশাহের প্রকৃত নাম — ফরিদ খান।
➤ শেরশাহের পিতা — হাসান খান সুর।
➤ শেরশাহের দাদা — ইব্রাহিম খান সুর।
➤ শেরশাহের বংশ — আফগান সুর গোত্র।
➤ তাঁর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গির — সাসারাম, বিহার।
➤ শের খান উপাধি প্রদান করেন — বাহার খান লোহানি।
➤ শের খান উপাধি লাভের প্রচলিত কারণ — বাঘ হত্যা করে সাহসিকতার পরিচয়।
➤ সুরজগড়ের যুদ্ধ — ১৫৩৪।
➤ চৌসার যুদ্ধ — ২৬ জুন ১৫৩৯।
➤ কনৌজের যুদ্ধ — ১৭ মে ১৫৪০।
➤ সুরি বংশের প্রতিষ্ঠা — ১৫৪০।
➤ শেরশাহের শাসনকাল — ১৫৪০–১৫৪৫।
➤ শেরশাহের প্রতিদ্বন্দ্বী মুঘল সম্রাট — হুমায়ুন।
➤ শেরশাহের মৃত্যুর স্থান — কালিঞ্জর দুর্গ।
➤ শেরশাহের মৃত্যু — ২২ মে ১৫৪৫।
➤ শেরশাহের সমাধি — সাসারাম, বিহার।
➤ ফরিদ খান → শের খান → শেরশাহ সুরি।"