🧠 🔖
👑 Premium Topic

বাংলায় সুবাদারি শাসন, বারো ভূইয়াদের শাসন ও নবাবী শাসন

◉ সাধারণ জ্ঞান-বাংলাদেশ বিষয়াবলী›বাংলায় সুবাদারি শাসন, বারো ভূইয়াদের শাসন ও নবাবী শাসন

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚77মোট প্রশ্ন
🎯31মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০১. কত সালে শের শাহ জন্মগ্রহণ করেন? (পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক: ২৫)

ক

১৩০২

খ

১৪৭২

গ

১৪৩৩

ঘ

১৫৩৯

✅ সঠিক উত্তর:খ. ১৪৭২

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ১৪৭২ খ্রিষ্টাব্দ (প্রদত্ত বই ও বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শেরশাহ সুরি (Sher Shah Suri) ছিলেন ষোড়শ শতকের বিখ্যাত আফগান বংশোদ্ভূত শাসক এবং উত্তর ভারতের সুরি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল ফরিদ খান (Farid Khan)।
❖ তিনি মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে ১৫৪০ সালে দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন এবং ১৫৪৫ সাল পর্যন্ত শাসন পরিচালনা করেন।
❖ মাত্র পাঁচ বছরের শাসনকাল হলেও প্রশাসনিক সংস্কার, ভূমি রাজস্বব্যবস্থা, মুদ্রানীতি ও সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের জন্য তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
১. শেরশাহের জন্মসাল নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ
❖ বাংলাপিডিয়ায় শেরশাহের জন্মসাল ১৪৭২ খ্রিষ্টাব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নের বইটিতেও এই সালই সঠিক উত্তর হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
❖ তবে জন্মসাল সম্পর্কে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। Encyclopaedia Britannica-সহ কিছু গবেষণায় তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৪৮৬ সালে ধরা হয়।
❖ ইতিহাসবিদ কে. আর. কানুনগো ১৪৮৬ সালের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে ইতিহাসবিদ কালিকারঞ্জন কানুনগো-পরবর্তী বিতর্কে আলোচিত গবেষক কে. আর. কানুনগোর বিরোধী গবেষক কে. আর. কানুনগো নন, বরং কে. আর. কানুনগোর সঙ্গে মতভিন্নতাকারী গবেষক ড. এস. সি. সরণ (S. C. Saran) ১৪৭২ সালের পক্ষে যুক্তি দেন।
❖ ফলে পরীক্ষায় ১৪৭২ সাল মনে রাখতে হবে; তবে ইতিহাসচর্চায় জন্মসালটি সর্বসম্মতভাবে নির্ধারিত নয়।
২. শেরশাহের পারিবারিক পরিচয়
❖ পিতা: হাসান খান সুর (Hasan Khan Sur)।
❖ দাদা: ইব্রাহিম খান সুর।
❖ বংশ: আফগান সুর গোত্র।
❖ প্রধান পারিবারিক অঞ্চল: সাসারাম, বর্তমান বিহার, ভারত।
❖ শেরশাহের পিতা হাসান খান সাসারাম অঞ্চলে জায়গির লাভ করেন।
❖ শৈশবে পারিবারিক বিরোধ ও সৎমায়ের আচরণের কারণে ফরিদ খানের সঙ্গে পিতার সম্পর্ক জটিল হয়ে পড়ে বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ আছে।
❖ তিনি পরবর্তী সময়ে জৌনপুরে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
৩. ফরিদ খান থেকে শের খান
❖ ফরিদ খান বিহারের আফগান শাসক বাহার খান লোহানির অধীনে সামরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
❖ প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, একবার বাঘ হত্যা করে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ায় বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ উপাধি প্রদান করেন।
❖ শের শব্দের অর্থ বাঘ বা সিংহ। এখানে এটি বীরত্ব ও সাহসের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত।
❖ পরবর্তী সময়ে সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন।
৪. শেরশাহের প্রধান সামরিক সাফল্য
◉ সুরজগড়ের যুদ্ধ, ১৫৩৪
❖ শের খান বিহার ও বাংলার যৌথ প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন।
❖ এই বিজয়ে বিহারে তাঁর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
◉ চৌসার যুদ্ধ, ২৬ জুন ১৫৩৯
❖ মুঘল সম্রাট হুমায়ুন শের খানের কাছে পরাজিত হন।
❖ এই বিজয়ের পর শের খান শেরশাহ উপাধি ধারণ করেন।
◉ কনৌজ বা বিলগ্রামের যুদ্ধ, ১৭ মে ১৫৪০
❖ শেরশাহ আবার হুমায়ুনকে পরাজিত করেন।
❖ এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।
৫. শেরশাহের মৃত্যু
❖ ১৫৪৫ সালে মধ্য ভারতের কালিঞ্জর দুর্গ (Kalinjar Fort) অবরোধের সময় বারুদের বিস্ফোরণে শেরশাহ গুরুতর আহত হন।
❖ ২২ মে ১৫৪৫ তাঁর মৃত্যু হয় বলে বহুল স্বীকৃত ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ আছে।
❖ তাঁর সমাধিসৌধ ভারতের বিহার রাজ্যের সাসারামে অবস্থিত।
❖ সমাধিটি জলাশয়ের মাঝখানে নির্মিত এবং আফগান স্থাপত্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ শেরশাহের জন্মসাল — ১৪৭২ খ্রিষ্টাব্দ (প্রদত্ত বই অনুযায়ী)।
➤ বিকল্প ঐতিহাসিক জন্মসাল — আনুমানিক ১৪৮৬।
➤ শেরশাহের প্রকৃত নাম — ফরিদ খান।
➤ শেরশাহের পিতা — হাসান খান সুর।
➤ শেরশাহের দাদা — ইব্রাহিম খান সুর।
➤ শেরশাহের বংশ — আফগান সুর গোত্র।
➤ তাঁর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গির — সাসারাম, বিহার।
➤ শের খান উপাধি প্রদান করেন — বাহার খান লোহানি।
➤ শের খান উপাধি লাভের প্রচলিত কারণ — বাঘ হত্যা করে সাহসিকতার পরিচয়।
➤ সুরজগড়ের যুদ্ধ — ১৫৩৪।
➤ চৌসার যুদ্ধ — ২৬ জুন ১৫৩৯।
➤ কনৌজের যুদ্ধ — ১৭ মে ১৫৪০।
➤ সুরি বংশের প্রতিষ্ঠা — ১৫৪০।
➤ শেরশাহের শাসনকাল — ১৫৪০–১৫৪৫।
➤ শেরশাহের প্রতিদ্বন্দ্বী মুঘল সম্রাট — হুমায়ুন।
➤ শেরশাহের মৃত্যুর স্থান — কালিঞ্জর দুর্গ।
➤ শেরশাহের মৃত্যু — ২২ মে ১৫৪৫।
➤ শেরশাহের সমাধি — সাসারাম, বিহার।
➤ ফরিদ খান → শের খান → শেরশাহ সুরি।"
02
🎯 Level 1

০৪. ভারতবর্ষে বা বাংলাদেশে ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন কে? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১২)

ক

অশোক

খ

শেরশাহ

গ

আকবর

ঘ

মুহম্মদ বিন তুঘলক

✅ সঠিক উত্তর:খ. শেরশাহ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: শেরশাহ সুরি।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শেরশাহ সুরি ষোড়শ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশের সরকারি ডাকব্যবস্থায় ঘোড়াভিত্তিক দ্রুত বার্তা পরিবহনের ব্যবস্থা উন্নত ও সুসংগঠিত করেন।
❖ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি নির্দেশ, সামরিক সংবাদ এবং প্রশাসনিক বার্তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর এই ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১. ঘোড়ার ডাকব্যবস্থা কী?
❖ ঘোড়ার ডাকব্যবস্থা হলো এমন একটি বার্তা পরিবহন পদ্ধতি, যেখানে ঘোড়ায় চড়ে সরকারি দূত বা বার্তাবাহক এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সংবাদ পৌঁছে দিতেন।
❖ দীর্ঘপথে বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দূরত্বে ডাকচৌকি স্থাপন করা হতো।
❖ এসব ডাকচৌকিতে নতুন ঘোড়া ও বার্তাবাহকের ব্যবস্থা রাখা হতো।
❖ একজন বার্তাবাহক কোনো চৌকিতে পৌঁছালে অন্য ঘোড়া ব্যবহার করে পরবর্তী চৌকিতে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হতো।
❖ এভাবে দীর্ঘপথে সরকারি বার্তা পরিবহনের গতি বৃদ্ধি পেত।
২. শেরশাহের ডাকচৌকি ও সরাইখানা
❖ শেরশাহের আমলে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে সরাইখানা (Sarai) নির্মিত হয়।
❖ এসব সরাইখানার প্রধান কাজ ছিল ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, সৈন্য ও সাধারণ যাত্রীদের আশ্রয় দেওয়া।
❖ সরাইখানার একটি অংশ ডাকচৌকি হিসেবেও কাজ করত।
❖ সেখানে সরকারি বার্তাবাহক এবং ঘোড়া পরিবর্তনের ব্যবস্থা থাকত।
❖ ফলে রাজধানী থেকে দূরবর্তী প্রদেশে দ্রুত সংবাদ পৌঁছানো সম্ভব হতো।
৩. প্রশাসন ও সামরিক ব্যবস্থায় এর গুরুত্ব
◉ বিদ্রোহ ও রাজনৈতিক সংকট
❖ দূরবর্তী প্রদেশে বিদ্রোহ হলে দ্রুত রাজধানীতে খবর পৌঁছানো যেত।
◉ সামরিক অভিযান
❖ সেনাবাহিনীর অবস্থান, শত্রুপক্ষের গতিবিধি ও সামরিক প্রস্তুতির সংবাদ আদান-প্রদান সহজ হতো।
◉ রাজস্ব প্রশাসন
❖ ভূমি রাজস্ব সংগ্রহ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া যেত।
◉ ব্যবসা-বাণিজ্য
❖ উন্নত সড়ক ও সরাইখানার কারণে বণিক ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচল সহজ হতো।
৪. বাংলার সঙ্গে ঘোড়ার ডাকের সম্পর্ক
❖ শেরশাহের আমলে বাংলার সোনারগাঁও থেকে উত্তর ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ উন্নত হয়।
❖ সোনারগাঁও–আগ্রা–দিল্লি–লাহোর পথটি সাম্রাজ্যের যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
❖ এই মহাসড়কে ডাকচৌকি ও সরাইখানার ব্যবস্থা সরকারি যোগাযোগকে সহায়তা করেছিল।
❖ তবে শেরশাহের সময় বর্তমান বাংলাদেশের সম্পূর্ণ ভূখণ্ডে একই ধরনের ঘোড়ার ডাকব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—এমন নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ঘোড়ার ডাকব্যবস্থার প্রচলন ও সংগঠিত উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত শাসক — শেরশাহ।
➤ শেরশাহের শাসনকাল — ১৫৪০–১৫৪৫।
➤ ঘোড়ার ডাকব্যবস্থার প্রধান বাহন — ঘোড়া।
➤ সরকারি বার্তা আদান-প্রদানের কেন্দ্র — ডাকচৌকি।
➤ বার্তাবাহকদের বিশ্রাম ও ঘোড়া পরিবর্তনের স্থান — সরাইখানা ও ডাকচৌকি।
➤ ঘোড়া পরিবর্তনের পদ্ধতি — Relay System।
➤ শেরশাহের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক — সড়ক-ই-আজম।
➤ সড়ক-ই-আজমের পরবর্তী নাম — গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড।
➤ শেরশাহের সড়কের বাংলার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র — সোনারগাঁও।
➤ সোনারগাঁও বর্তমানে অবস্থিত — নারায়ণগঞ্জ জেলায়।
➤ শেরশাহের ডাকব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য — দ্রুত প্রশাসনিক ও সামরিক যোগাযোগ।
➤ শেরশাহ → ঘোড়ার ডাক → ডাকচৌকি → সরাইখানা।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৭. শেরশাহ কীসের জন্য বিখ্যাত? (বিএইচবিএসির অফিসার: ১৭)

ক

যুদ্ধ কৌশল

খ

বাজার নিয়ন্ত্রণ

গ

ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা

ঘ

কোনোটিই নয়

✅ সঠিক উত্তর:গ. ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শেরশাহ সুরি ভূমি রাজস্বব্যবস্থার সংস্কারের জন্য বিশেষভাবে বিখ্যাত। তাঁর শাসনামলে কৃষিজমির পরিমাপ, উৎপাদনক্ষমতা নির্ধারণ, রাজস্বের হার নির্ধারণ এবং কৃষকদের অধিকারের দলিলসংক্রান্ত ব্যবস্থাকে সংগঠিত করা হয়।
❖ ভূমি রাজস্ব ছিল মধ্যযুগীয় ভারতীয় সাম্রাজ্যের প্রধান আয়ের উৎসগুলোর একটি। তাই জমি থেকে নির্ধারিত রাজস্ব সুষ্ঠুভাবে সংগ্রহ করা সাম্রাজ্যের প্রশাসন ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১. ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা
❖ মুঘল ও সুরি যুগে অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
❖ রাজস্ব সংগ্রহের প্রধান ভিত্তি ছিল কৃষিজমি ও কৃষি উৎপাদন।
❖ জমির সঠিক পরিমাণ, উৎপাদনক্ষমতা এবং কৃষকের প্রদেয় রাজস্ব সম্পর্কে স্পষ্ট হিসাব না থাকলে অনিয়ম ও অতিরিক্ত কর আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হতো।
❖ শেরশাহ এই সমস্যাগুলো কমানোর উদ্দেশ্যে ভূমি রাজস্বব্যবস্থা সংস্কার করেন।
২. জমি জরিপ ও পরিমাপ
❖ শেরশাহ জমির পরিমাপ ও হিসাবের ওপর গুরুত্ব দেন।
❖ কৃষিজমির আয়তন এবং উৎপাদনক্ষমতা বিবেচনা করে রাজস্ব নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
❖ জমি পরিমাপের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মান ব্যবহার করায় প্রশাসনিক হিসাব সংরক্ষণ সহজ হয়।
❖ এতে কৃষক, রাজস্ব কর্মকর্তা ও সরকারের মধ্যে রাজস্বসংক্রান্ত বিরোধ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।
৩. উৎপাদনের ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণ
❖ বাংলাপিডিয়ার বিবরণ অনুযায়ী, তাঁর রাজস্বব্যবস্থায় ফসলের উৎপাদনের আনুমানিক এক-চতুর্থাংশ রাজস্ব হিসেবে নির্ধারণের কথা উল্লেখ আছে।
❖ তবে স্থান, ফসল, পরিমাপপদ্ধতি ও স্থানীয় প্রশাসনিক বাস্তবতার কারণে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে রাজস্বের হার সম্পর্কে পার্থক্য পাওয়া যায়।
❖ তাই শেরশাহের সমগ্র সাম্রাজ্যে সব জমিতে একটি অপরিবর্তনীয় হার কার্যকর ছিল—এভাবে বলা যথার্থ নয়।
৪. পাট্টা ও কবুলিয়ত ব্যবস্থা
◉ পাট্টা (Patta)
❖ এটি ছিল জমির অধিকার, পরিমাণ, ভাড়ার হার ও শর্ত উল্লেখকারী দলিল।
❖ এর মাধ্যমে কৃষক তাঁর জমি ব্যবহারের নির্দিষ্ট শর্ত জানতে পারতেন।
◉ কবুলিয়ত (Kabuliyat)
❖ এটি ছিল কৃষকের সম্মতিপত্র বা রাজস্ব প্রদানের অঙ্গীকারপত্র।
❖ কৃষক নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী রাজস্ব প্রদানের সম্মতি দিতেন।
❖ এই দুই ব্যবস্থার সমন্বয়ে জমি ও রাজস্বসংক্রান্ত সম্পর্ক লিখিত আকারে নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়।
৫. কৃষকদের জন্য সহায়তা
❖ শেরশাহ কৃষিকাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য কৃষকদের ঋণ প্রদানের ব্যবস্থাও উৎসাহিত করেন।
❖ এ ধরনের কৃষিঋণ বা অগ্রিম সহায়তা তাকাভি (Taqavi) নামে পরিচিত।
❖ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া বা কৃষিকাজের প্রাথমিক ব্যয় মেটাতে এই ধরনের ঋণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
৬. আকবরের রাজস্ব সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্ক
❖ শেরশাহের ভূমি রাজস্ব সংস্কারের বিভিন্ন উপাদান পরবর্তী মুঘল প্রশাসনের ওপর প্রভাব ফেলে।
❖ সম্রাট আকবরের আমলে রাজা টোডরমল রাজস্ব নির্ধারণ ও হিসাবব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ আকবরের শাসনামলে দহসালা (Dahsala) পদ্ধতি ও জাবতি (Zabt) ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব নির্ধারণ আরও সুসংগঠিত হয়।
❖ তবে আকবরের সব রাজস্বনীতি সরাসরি ও অপরিবর্তিতভাবে শেরশাহের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল—এমন নয়; বিভিন্ন পূর্ববর্তী রীতি ও পরবর্তী প্রশাসনিক পরিবর্তনের সমন্বয়ে এই ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ শেরশাহ বিশেষভাবে বিখ্যাত — ভূমি রাজস্বব্যবস্থার সংস্কারের জন্য।
➤ শেরশাহের শাসনকাল — ১৫৪০–১৫৪৫।
➤ রাজস্ব সংগ্রহের প্রধান ভিত্তি — কৃষিজমি ও উৎপাদন।
➤ ভূমি রাজস্বব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ — জমি জরিপ ও পরিমাপ।
➤ জমির অধিকার ও শর্তের দলিল — পাট্টা।
➤ কৃষকের সম্মতিপত্র — কবুলিয়ত।
➤ কৃষি সহায়তামূলক ঋণ — তাকাভি।
➤ শেরশাহের প্রশাসনিক বিভাগ — সরকার ও পরগনা।
➤ রাজস্বসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা — আমিন, মুনসিফ ও পাটোয়ারি।
➤ শেরশাহের রাজস্বনীতির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারক — রাজা টোডরমল।
➤ টোডরমল দায়িত্ব পালন করেন — সম্রাট আকবরের আমলে।
➤ আকবরের বিখ্যাত রাজস্বব্যবস্থা — দহসালা ও জাবতি।
➤ শেরশাহ → ভূমি জরিপ → পাট্টা-কবুলিয়ত → রাজস্ব সংস্কার।
04
🎯 Level 1

১১. বাংলার যে সব জমিদার মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন তাঁরা পরিচিত ছিলেন— (রাজউকের ইমারত পরিদর্শক: ১৪)

ক

বারো মণ্ডল নামে

খ

বারো কুতুব নামে

গ

বারো ভূঁইয়া নামে

ঘ

বারো পঞ্চায়েত নামে

✅ সঠিক উত্তর:গ. বারো ভূঁইয়া নামে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: বারো ভূঁইয়া নামে।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ষোড়শ শতকের শেষভাগে এবং সপ্তদশ শতকের প্রথমভাগে বাংলার যেসব শক্তিশালী জমিদার ও আঞ্চলিক শাসক মুঘল সাম্রাজ্যের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তাঁরা বারো ভূঁইয়া (Bara-Bhuiyans) নামে পরিচিত।
❖ তাঁদের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকেন্দ্র ছিল পূর্ব বাংলার ভাটি অঞ্চল, যার নদী, জলাভূমি ও দুর্গগুলো মুঘল সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১. বাংলায় মুঘল বিজয়ের প্রেক্ষাপট
❖ ১৫২৬ সালে বাবর ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করলেও বাংলা তখন মুঘলদের অধীনে আসেনি।
❖ বাংলায় প্রথমে স্বাধীন সুলতানি এবং পরে আফগান শাসকদের কর্তৃত্ব বজায় ছিল।
❖ ১২ জুলাই ১৫৭৬ রাজমহলের যুদ্ধে আকবরের বাহিনী বাংলার শেষ স্বাধীন আফগান সুলতান দাউদ খান কররানিকে পরাজিত করে।
❖ এর ফলে মুঘল কর্তৃত্ব বাংলার পশ্চিমাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হলেও পূর্ব বাংলার স্থানীয় শক্তিগুলো স্বাধীনভাবে প্রতিরোধ চালাতে থাকে।
২. ঈসা খাঁর নেতৃত্বে মুঘল-বিরোধী প্রতিরোধ
❖ ঈসা খাঁ ছিলেন বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম প্রধান নেতা।
❖ তিনি ভাটি অঞ্চলের বিভিন্ন জমিদার ও আফগান সামরিক নেতাদের সঙ্গে জোট গঠন করেন।
❖ তাঁর নেতৃত্বে মুঘল সেনাপতি শাহবাজ খান ও রাজা মানসিংহের বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ পরিচালিত হয়।
❖ ঈসা খাঁর বাহিনী স্থানীয় নদীপথ ও দুর্গের সুবিধা ব্যবহার করত।
❖ ১৫৯৭ সালে মুঘল সেনাপতি রাজা মানসিংহের পুত্র দুর্জন সিংহ ঈসা খাঁর বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন।
❖ ঈসা খাঁর জীবদ্দশায় মুঘলরা ভাটি অঞ্চলে সম্পূর্ণ ও স্থায়ী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
৩. মুসা খাঁর নেতৃত্বে প্রতিরোধ
❖ ১৫৯৯ সালে ঈসা খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মুসা খাঁ নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
❖ মুসা খাঁ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দুর্গ ও নৌবাহিনীর সাহায্যে মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখেন।
❖ তাঁর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলোর মধ্যে ছিল যাত্রাপুর, ডাকচরা, কাত্রাবো, খিজিরপুর ও সোনারগাঁও।
❖ ভাটি অঞ্চলে মুঘল অগ্রযাত্রা প্রতিহত করার জন্য তিনি মিত্র জমিদারদের সহযোগিতা গ্রহণ করেন।
৪. ইসলাম খান চিশতির সামরিক অভিযান
❖ জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ইসলাম খান চিশতি বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
❖ তিনি ভাটি অঞ্চলে মুঘল রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ তাঁর অভিযানে স্থলবাহিনীর পাশাপাশি বৃহৎ নৌবহর ও কামান ব্যবহৃত হয়।
❖ ১৬১০ সালে মুঘল বাহিনী যাত্রাপুর ও ডাকচরার মতো গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ অধিকার করে।
❖ পরে তারা শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলো দখল করে।
❖ মুসা খাঁর রাজধানী সোনারগাঁওয়ের ওপরও মুঘল সামরিক চাপ বৃদ্ধি পায়।
❖ শেষ পর্যন্ত মুসা খাঁ ও তাঁর সহযোগীরা মুঘল কর্তৃত্ব স্বীকারে বাধ্য হন।
৫. বারো ভূঁইয়াদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ বারো ভূঁইয়াদের প্রতিরোধ প্রমাণ করে যে বাংলার মুঘল বিজয় একদিনে বা একটিমাত্র যুদ্ধের মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয়নি।
❖ ১৫৭৬ সালের রাজমহলের যুদ্ধ মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হলেও পূর্ব বাংলার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় অনেক পরে।
❖ স্থানীয় জমিদারদের নৌশক্তি, দুর্গব্যবস্থা ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক জোট মুঘলদের জন্য দীর্ঘদিনের সামরিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল।
❖ এই প্রতিরোধ বাংলার স্বাধীন আঞ্চলিক শাসনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকারী বাংলার জমিদারেরা পরিচিত — বারো ভূঁইয়া নামে।
➤ বারো ভূঁইয়াদের প্রধান রাজনৈতিক অঞ্চল — ভাটি।
➤ তাঁদের প্রতিরোধের সময়কাল — ষোড়শ শতকের শেষভাগ–সপ্তদশ শতকের প্রথমভাগ।
➤ মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনকাল — ১৫৫৬–১৬০৫।
➤ মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনকাল — ১৬০৫–১৬২৭।
➤ বাংলায় মুঘল বিজয়ের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ — রাজমহলের যুদ্ধ।
➤ রাজমহলের যুদ্ধ — ১২ জুলাই ১৫৭৬।
➤ রাজমহলে পরাজিত আফগান সুলতান — দাউদ খান কররানি।
➤ বারো ভূঁইয়াদের প্রধান নেতা — ঈসা খাঁ।
➤ ঈসা খাঁর উপাধি — মসনদ-ই-আলা।
➤ ঈসা খাঁর রাজনৈতিক কেন্দ্র — সোনারগাঁও ও ভাটি অঞ্চল।
➤ ঈসা খাঁর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ মুঘল সেনাপতি — শাহবাজ খান।
➤ বাংলার মুঘল সুবাদার — রাজা মানসিংহ।
➤ রাজা মানসিংহের পুত্র — দুর্জন সিংহ।
➤ দুর্জন সিংহ নিহত হন — ১৫৯৭ সালের সংঘর্ষে।
➤ ঈসা খাঁর মৃত্যু — ১৫৯৯ সালে।
➤ ঈসা খাঁর উত্তরসূরি — মুসা খাঁ।
➤ মুসা খাঁর গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ — যাত্রাপুর ও ডাকচরা।
➤ মুসা খাঁর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারী সুবাদার — ইসলাম খান চিশতি।
➤ মুঘল বাহিনীর যাত্রাপুর বিজয় — ১৬১০ সালে।
➤ ডাকচরার দুর্গ মুঘল অধিকারে আসে — জুলাই ১৬১০।
➤ পূর্ব বাংলায় মুঘল শাসন সুসংহত হয় — ১৬১১–১৬১২ সালের মধ্যে।
➤ বারো ভূঁইয়া → মুঘল-বিরোধী প্রতিরোধ → ঈসা খাঁ → মুসা খাঁ।
05
🎯 Level 1

১৪. কে বারো ভূঁইয়াদের একজন ছিলেন? (জনতা ব্যাংকের অফিসার: ০৯)

ক

ঈসা খাঁ

খ

শায়েস্তা খান

গ

মানসিংহ

ঘ

ইসলাম খান

✅ সঠিক উত্তর:ক. ঈসা খাঁ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ঈসা খাঁ
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ঈসা খাঁ (১৫২৯–১৫৯৯) বাংলার বারো ভূঁইয়াদের সবচেয়ে বিখ্যাত নেতা। তিনি সরাইলের জমিদার হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন এবং পরবর্তী সময়ে সোনারগাঁও ও ভাটি অঞ্চলে শক্তিশালী আঞ্চলিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ জন্মস্থান: বর্তমান বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল অঞ্চলে তাঁর জন্ম হয় বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ রয়েছে।
❖ বংশপরিচয়: তাঁর পূর্বপুরুষ ভগীরথ অযোধ্যা থেকে বাংলায় আসেন। ঈসা খাঁর পিতা কালিদাস গজদানী ইসলাম গ্রহণ করে সোলায়মান খান নাম গ্রহণ করেন। তাঁর মাতা ছিলেন সৈয়দা মোমেনা খাতুন।
❖ রাজনৈতিক উত্থান: ঈসা খাঁ বাংলার ভাটি অঞ্চলে আফগান ও স্থানীয় জমিদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে মুঘলবিরোধী শক্তি গড়ে তোলেন। তিনি মসনদ-ই-আলা উপাধি গ্রহণ করেন।
❖ রাজনৈতিক ও সামরিক কেন্দ্র: তাঁর প্রধান কেন্দ্র ছিল সরাইল ও সোনারগাঁও। তিনি খিজিরপুর, কত্রাবো ও কলাগাছিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুর্গ স্থাপন ও শক্তিশালী করেন।
❖ মুঘলদের সঙ্গে সংঘর্ষ: সম্রাট আকবরের সেনাপতিদের বিরুদ্ধে ঈসা খাঁ একাধিকবার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের সঙ্গে তাঁর সংঘর্ষ ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
❖ মৃত্যু ও উত্তরসূরি: ঈসা খাঁ ১৫৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পুত্র মুসা খাঁ ভাটি অঞ্চলের শাসন ও বারো ভূঁইয়াদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ খ. শায়েস্তা খান: মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা ও বাংলার সুবাদার। তিনি ১৬৬৪–১৬৮৮ সময়ের মধ্যে বিরতিসহ বাংলার সুবাদারি করেন। তাঁর সময়ে ১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম মুঘলদের অধীনে আসে।
❖ গ. মানসিংহ: আকবরের বিখ্যাত রাজপুত সেনাপতি এবং বাংলার সুবাদার। তিনি বারো ভূঁইয়াদের প্রতিপক্ষ হিসেবে মুঘল অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি নিজে বারো ভূঁইয়াদের একজন ছিলেন না।
❖ ঘ. ইসলাম খান: সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে বাংলার সুবাদার ইসলাম খান চিশতি বারো ভূঁইয়াদের সামরিক প্রতিরোধ দমন করেন। তিনি ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বারো ভূঁইয়াদের প্রধান নেতা — ঈসা খাঁ।
➤ জন্ম — ১৫২৯ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ মৃত্যু — ১৫৯৯ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ জন্মস্থান — সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
➤ পিতার নাম — সোলায়মান খান (পূর্বনাম কালিদাস গজদানী)।
➤ মাতার নাম — সৈয়দা মোমেনা খাতুন।
➤ উপাধি — মসনদ-ই-আলা।
➤ রাজনৈতিক কেন্দ্র — সরাইল ও সোনারগাঁও।
➤ সামরিক দুর্গ — কত্রাবো, খিজিরপুর, কলাগাছিয়া ও এগারসিন্দুর।
➤ প্রধান প্রতিপক্ষ — মুঘল সাম্রাজ্য।
➤ আকবরের বিখ্যাত সেনাপতি — মানসিংহ।
➤ ঈসা খাঁর পুত্র ও উত্তরসূরি — মুসা খাঁ।
Advertisement
06
🎯 Level 1

১৭. বাংলার ভাটি অঞ্চলের শাসক ঈসা খাঁ এর জীবনকাল — (জারাবো’র সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা: ১০)

ক

১৫২৯–১৫৯৫

খ

১৫২৯–১৫৯৬

গ

১৫২৯–১৫৯৮

ঘ

১৫২৯–১৫৯৯

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ১৫২৯–১৫৯৯

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ১৫২৯–১৫৯৯
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ঈসা খাঁ মসনদ-ই-আলা (১৫২৯–১৫৯৯) বাংলার বারো ভূঁইয়াদের প্রধান নেতা এবং ভাটি অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী শাসক ছিলেন। তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সময় পূর্ব বাংলায় মুঘল সাম্রাজ্য বিস্তারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন প্রতিরোধ পরিচালনা করেন।
❖ জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়: তিনি বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সোলায়মান খান এবং মাতা সৈয়দা মোমেনা খাতুন। তাঁর পিতার পূর্বনাম ছিল কালিদাস গজদানী।
❖ রাজনৈতিক জীবন: ঈসা খাঁ প্রথমে সরাইলকে কেন্দ্র করে শক্তি অর্জন করেন। ১৫৮১–১৫৮২ সালের দিকে তিনি ভাটি অঞ্চলে নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ঘোষণা করেন এবং মসনদ-ই-আলা উপাধি গ্রহণ করেন।
❖ মুঘলবিরোধী প্রতিরোধ: আকবরের সেনাপতিরা পূর্ব বাংলার ভাটি অঞ্চল দখলের জন্য বারবার অভিযান পরিচালনা করেন। ঈসা খাঁ নদীপথ, দুর্গ ও আঞ্চলিক সামরিক জোট ব্যবহার করে তাঁদের প্রতিরোধ করেন।
❖ মানসিংহের সঙ্গে সংঘর্ষ: মুঘল সেনাপতি মানসিংহের অভিযানের সঙ্গে ঈসা খাঁর দীর্ঘ সংঘাতের ইতিহাস জড়িত। এগারসিন্দুর ও ভাটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁদের বাহিনীর সংঘর্ষ ঘটে।
❖ মৃত্যু ও উত্তরসূরি: ১৫৯৯ সালে ঈসা খাঁ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তাঁর পুত্র মুসা খাঁ সোনারগাঁওয়ের শাসনভার গ্রহণ করেন এবং মুঘলবিরোধী প্রতিরোধ অব্যাহত রাখেন।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. ১৫২৯–১৫৯৫: ১৫৯৫ সাল ঈসা খাঁর মৃত্যুসাল নয়। তিনি এর পরেও মুঘলবিরোধী প্রতিরোধে সক্রিয় ছিলেন।
❖ খ. ১৫২৯–১৫৯৬: ১৫৯৬ সালেও ঈসা খাঁ জীবিত ছিলেন। এ সময় বাংলায় মুঘলদের বিরুদ্ধে তাঁর রাজনৈতিক শক্তি বজায় ছিল।
❖ গ. ১৫২৯–১৫৯৮: ১৫৯৮ সাল তাঁর মৃত্যুর এক বছর আগের। তাঁর স্বীকৃত মৃত্যুসাল ১৫৯৯।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ঈসা খাঁর জীবনকাল — ১৫২৯–১৫৯৯।
➤ জন্মস্থান — সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
➤ পিতা — সোলায়মান খান।
➤ পিতার পূর্বনাম — কালিদাস গজদানী।
➤ মাতা — সৈয়দা মোমেনা খাতুন।
➤ ঈসা খাঁর উপাধি — মসনদ-ই-আলা।
➤ ভাটিতে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা — ১৫৮১–১৫৮২ সালের দিকে।
➤ প্রধান মুঘল প্রতিপক্ষ — আকবরের সেনাপতিরা, বিশেষত মানসিংহ।
➤ ঈসা খাঁর মৃত্যু — ১৫৯৯।
➤ ঈসা খাঁর উত্তরসূরি — মুসা খাঁ।
➤ তাঁর মৃত্যুর পরও বারো ভূঁইয়াদের প্রতিরোধ চলে — ১৬১১ সাল পর্যন্ত।
07
🎯 Level 1

০১. কোন মুঘল সম্রাট প্রথম বাংলা জয় করেন? (রাকাব’র ক্যাশিয়ার: ১৪; শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক: ২১)

ক

বাবর

খ

হুমায়ুন

গ

আকবর

ঘ

জাহাঙ্গীর

✅ সঠিক উত্তর:খ. হুমায়ুন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: হুমায়ুন
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মুঘল সম্রাট হুমায়ুন (১৫৩০–১৫৪০ ও ১৫৫৫–১৫৫৬) প্রথম মুঘল সম্রাট হিসেবে ১৫৩৮ সালে বাংলার তৎকালীন রাজধানী গৌড়ে প্রবেশ করে সাময়িক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। তাই প্রচলিত ইতিহাসভিত্তিক পরীক্ষায় বাংলার প্রথম মুঘল বিজয়ী হিসেবে হুমায়ুনের নাম উল্লেখ করা হয়।
❖ জন্ম-মৃত্যু: হুমায়ুন ৬ মার্চ ১৫০৮ সালে কাবুলে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭ জানুয়ারি ১৫৫৬ সালে দিল্লিতে মৃত্যুবরণ করেন।
❖ পিতা: মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর।
❖ পুত্র: সম্রাট আকবর।
❖ সিংহাসনে আরোহণ: ১৫৩০ সালে বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন মুঘল সিংহাসনে আরোহণ করেন।
❖ বাংলা অভিযানের পটভূমি: বাংলার হোসেন শাহী বংশের শেষ সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের সময় আফগান নেতা শের খাঁর শক্তি বৃদ্ধি পায়। শের খাঁ ১৫৩৮ সালে গৌড় দখল করেন।
❖ হুমায়ুনের বাংলা অভিযান: শের খাঁর ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে হুমায়ুন পূর্বদিকে অগ্রসর হন। শের খাঁ সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে গেলে হুমায়ুন প্রায় বিনা বাধায় গৌড় নগরীতে প্রবেশ করেন।
❖ গৌড়ের নামকরণ: হুমায়ুন গৌড়ের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নগরীটিকে জান্নাতাবাদ (Jannatabad) নামে অভিহিত করেন বলে মুঘল ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
❖ অস্থায়ী বিজয়: হুমায়ুন গৌড়ে কিছু সময় অবস্থান করলেও স্থায়ী প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। শের খাঁ বিহারের বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে মুঘলদের যোগাযোগপথ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
❖ চৌসার যুদ্ধ (১৫৩৯): শের খাঁর বাহিনী চৌসার যুদ্ধে হুমায়ুনকে পরাজিত করে। এই বিজয়ের পর শের খাঁ শেরশাহ উপাধি গ্রহণ করেন।
❖ কনৌজের যুদ্ধ (১৫৪০): শেরশাহের কাছে পুনরায় পরাজিত হয়ে হুমায়ুন ভারতের মুঘল সিংহাসন হারান। প্রায় ১৫ বছর নির্বাসিত থাকার পর ১৫৫৫ সালে তিনি দিল্লি ও আগ্রা পুনরুদ্ধার করেন।
❖ হুমায়ুনের মৃত্যু: ১৫৫৬ সালে দিল্লিতে নিজের গ্রন্থাগারের সিঁড়ি থেকে পড়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. বাবর: মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। জন্ম ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৪৮৩; মৃত্যু ২৬ ডিসেম্বর ১৫৩০। তিনি ১৫২৬ সালে প্রথম পানিপথের যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করেন। তাঁর আত্মজীবনী বাবরনামা তুর্কি ভাষায় রচিত।
❖ গ. আকবর: মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্রাট। জন্ম ১৫ অক্টোবর ১৫৪২; মৃত্যু ২৭ অক্টোবর ১৬০৫। ১৫৭৬ সালে তাঁর সেনাপতিরা রাজমহলের যুদ্ধে দাউদ খান কররানীকে পরাজিত করেন। এর মাধ্যমে বাংলায় মুঘল শাসনের দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ ঘ. জাহাঙ্গীর: আকবরের পুত্র ও উত্তরসূরি। শাসনকাল ১৬০৫–১৬২৭। তাঁর আমলে সুবাদার ইসলাম খান চিশতি বারো ভূঁইয়াদের প্রতিরোধ দমন করেন এবং ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রথম মুঘল সম্রাট হিসেবে বাংলা জয় করেন — হুমায়ুন।
➤ হুমায়ুনের বাংলা অভিযান — ১৫৩৮ সালে।
➤ হুমায়ুনের পিতা — বাবর।
➤ হুমায়ুনের পুত্র — আকবর।
➤ হুমায়ুনের জন্ম — ৬ মার্চ ১৫০৮।
➤ হুমায়ুনের মৃত্যু — ২৭ জানুয়ারি ১৫৫৬।
➤ হুমায়ুনের প্রথম শাসনকাল — ১৫৩০–১৫৪০।
➤ হুমায়ুনের দ্বিতীয় শাসনকাল — ১৫৫৫–১৫৫৬।
➤ গৌড়কে জান্নাতাবাদ নামে অভিহিত করেন — হুমায়ুন (প্রচলিত মুঘল ঐতিহাসিক বিবরণ)।
➤ চৌসার যুদ্ধ — ১৫৩৯।
➤ কনৌজের যুদ্ধ — ১৫৪০।
➤ উভয় যুদ্ধে হুমায়ুনের প্রতিপক্ষ — শেরশাহ।
➤ হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেন — ১৫৫৫।
➤ হুমায়ুনের জীবনীগ্রন্থ — হুমায়ুননামা।
➤ হুমায়ুননামা-এর রচয়িতা — গুলবদন বেগম।
➤ হুমায়ুননামা-এর ভাষা — ফারসি।
➤ বাংলায় মুঘল শাসনের স্থায়ী ভিত্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ সাল — ১৫৭৬।
08
🎯 Level 1

০৫. সম্রাট আকবরের সময় ১৫৭৬ সালে নিম্নের কোন রাজ্য বিজিত হয়? (বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের অফিসার: ০১)

ক

কাবুল

খ

বাংলা

গ

সিন্ধু

ঘ

কাশ্মীর

✅ সঠিক উত্তর:খ. বাংলা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: বাংলা
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলায় মুঘল বিজয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই বছরের রাজমহলের যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন আফগান সুলতান দাউদ খান কররানীর পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীন আফগান শাসনের অবসান ঘটে।
❖ আকবরের শাসনকাল: ১৫৫৬–১৬০৫ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি ভারতের মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী সম্রাট ছিলেন।
❖ বাংলা অভিযানের উদ্দেশ্য: পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, কর আদায়ের ব্যবস্থা সুসংহত করা, সামরিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং স্বাধীন আফগান শাসকদের ক্ষমতা সীমিত করা ছিল মুঘল অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
❖ মুনিম খানের অভিযান: আকবরের অন্যতম সেনাপতি মুনিম খান বাংলা ও বিহারে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। তাঁর অভিযানের ফলে মুঘল বাহিনী গৌড়সহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে অগ্রসর হয়।
❖ রাজমহলের যুদ্ধ: ১৫৭৬ সালে খান জাহানের নেতৃত্বাধীন মুঘল বাহিনী দাউদ খান কররানীকে পরাজিত করে। এর ফলে বাংলায় মুঘল শাসনের রাজনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
❖ বাংলার প্রশাসনিক পরিবর্তন: বিজয়ের পর বাংলাকে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অধীনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সুবাদার, সরকার, পরগনা ও রাজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রদেশ পরিচালনার ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
❖ অসম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: রাজমহলের যুদ্ধের পরও পূর্ব বাংলার ভাটি অঞ্চলে ঈসা খাঁ ও অন্যান্য ভূঁইয়ারা স্বাধীনভাবে বা আধা-স্বাধীনভাবে কর্তৃত্ব বজায় রাখেন।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. কাবুল: কাবুল ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। বাবর কাবুল দখল করেন ১৫০৪ সালে। আকবরের আমলে কাবুল অঞ্চলের ওপর মুঘল নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ গ. সিন্ধু: সিন্ধু অঞ্চল আকবরের শাসনামলে ১৫৯১–১৫৯২ সালের দিকে মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। সিন্ধু নদ ও বাণিজ্যপথের কারণে অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ ঘ. কাশ্মীর: আকবরের আমলে ১৫৮৬ সালে কাশ্মীর মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সামরিক অবস্থানের কারণে অঞ্চলটি মুঘল শাসকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ আকবরের আমলে বাংলা বিজয় — ১৫৭৬।
➤ বাংলার শেষ স্বাধীন আফগান সুলতান — দাউদ খান কররানী।
➤ রাজমহলের যুদ্ধ — ১৫৭৬।
➤ আকবরের শাসনকাল — ১৫৫৬–১৬০৫।
➤ আকবরের জন্ম — ১৫ অক্টোবর ১৫৪২।
➤ আকবরের জন্মস্থান — অমরকোট, সিন্ধু।
➤ আকবরের পিতা — হুমায়ুন।
➤ আকবরের মাতা — হামিদা বানু বেগম।
➤ আকবরের রাজত্বে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ব্যবস্থা — মনসবদারি।
➤ আকবরের রাজস্ব সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত — রাজা টোডরমল।
➤ আকবরের জীবনীগ্রন্থ — আকবরনামা।
➤ আকবরনামা-এর রচয়িতা — আবুল ফজল।
➤ আইন-ই-আকবরী — আবুল ফজলের রচনা।
➤ আকবরের আমলে কাশ্মীর বিজয় — ১৫৮৬।
➤ আকবরের আমলে সিন্ধু অধিকার — ১৫৯১–১৫৯২।
Advertisement
09
🎯 Level 1

০৮. 'সুবা বাংলা' শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয় — (আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ: ৯৫)

ক

সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে

খ

সম্রাট শাহজাহানের সময়ে

গ

সম্রাট হুমায়ুনের সময়ে

ঘ

সম্রাট আকবরের সময়ে

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. সম্রাট আকবরের সময়ে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: সম্রাট আকবরের সময়ে
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ সুবা বাংলা (Subah Bangalah) মুঘল আমলে বাংলার একটি প্রশাসনিক প্রদেশের নাম। সম্রাট আকবরের শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা সুসংহত হয় এবং বাংলা একটি সুবা বা প্রদেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
❖ সুবা শব্দের অর্থ: ফারসি প্রশাসনিক পরিভাষা 'সুবা' অর্থ প্রদেশ। মুঘল সাম্রাজ্যের বৃহৎ প্রশাসনিক বিভাগগুলোকে সুবা বলা হতো।
❖ সুবাদার: সুবা বা প্রদেশের প্রধান শাসনকর্তাকে সুবাদার বলা হতো। তিনি প্রদেশের সামরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
❖ আকবরের প্রশাসনিক সংস্কার: সম্রাট আকবর ১৫৮০ সালের দিকে সাম্রাজ্যকে ১২টি সুবায় বিভক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে সুবাগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আকবরের রাজত্বের শেষ পর্যায়ে সুবাগুলোর সংখ্যা ১৫-তে উন্নীত হয়।
❖ বাংলার প্রাদেশিক প্রশাসন: মুঘল শাসনামলে বাংলা সুবাকে সরকার, পরগনা ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রশাসনিক এককে বিভক্ত করা হয়। রাজস্ব আদায় ও সামরিক নিয়ন্ত্রণের জন্য এই বিভাগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ প্রাদেশিক কর্মকর্তারা: সুবাদারের পাশাপাশি দেওয়ান, বখশি, কাজি, ফৌজদারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন।
❖ দেওয়ানের দায়িত্ব: রাজস্ব আদায়, হিসাবরক্ষণ ও অর্থনৈতিক প্রশাসনের তত্ত্বাবধান করা।
❖ ফৌজদারের দায়িত্ব: নির্দিষ্ট প্রশাসনিক অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক নিরাপত্তা রক্ষা করা।
❖ আকবরের আমলে বাংলা: ১৫৭৬ সালের রাজমহলের যুদ্ধের পর বাংলায় মুঘল প্রাদেশিক শাসনের ভিত্তি তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে আকবরের প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সুবা বাংলার ব্যবস্থা সুসংহত হয়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে: জাহাঙ্গীরের শাসনকাল ১৬০৫–১৬২৭। তাঁর আমলে ইসলাম খান চিশতি ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন এবং পূর্ব বাংলার বিস্তৃত অঞ্চলে মুঘল প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। সুবা ব্যবস্থা তাঁর পূর্বেই চালু ছিল।
❖ খ. সম্রাট শাহজাহানের সময়ে: শাহজাহানের শাসনকাল ১৬২৮–১৬৫৮। তাঁর সময় বাংলায় সুবাদার শাহ সুজা দীর্ঘদিন শাসন করেন। সুবা বাংলা নাম বা প্রশাসনিক কাঠামোর সূচনা তাঁর আমলে হয়নি।
❖ গ. সম্রাট হুমায়ুনের সময়ে: হুমায়ুন ১৫৩৮ সালে গৌড় দখল করলেও স্থায়ীভাবে বাংলায় মুঘল প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সুবা বাংলা পরিভাষার প্রচলন — সম্রাট আকবরের সময়ে।
➤ সুবা অর্থ — প্রদেশ।
➤ সুবাদার অর্থ — প্রাদেশিক শাসনকর্তা।
➤ বাংলায় মুঘল শাসনের ভিত্তি — ১৫৭৬।
➤ আকবরের প্রশাসনিক সুবা বিভাগ — ১৫৮০ সালের দিকে।
➤ আকবর প্রথমে সাম্রাজ্য বিভক্ত করেন — ১২টি সুবায়।
➤ আকবরের রাজত্বের শেষ পর্যায়ে সুবা — ১৫টি।
➤ সুবা বাংলার প্রশাসনিক বিভাগ — সরকার ও পরগনা।
➤ সুবাদারের দায়িত্ব — সামরিক ও প্রশাসনিক শাসন পরিচালনা।
➤ দেওয়ানের দায়িত্ব — রাজস্ব ও অর্থনৈতিক প্রশাসন।
➤ ফৌজদারের দায়িত্ব — আঞ্চলিক সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা।
➤ মুঘল আমলের প্রশাসনিক ভাষা — ফারসি।
➤ আকবরের প্রশাসনিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ — আইন-ই-আকবরী।
➤ আইন-ই-আকবরী-এর রচয়িতা — আবুল ফজল।
10
🎯 Level 1

০৩. ঢাকা শহর প্রতিষ্ঠা করেন— (বিআরইবি’র জুনিয়র পরিসংখ্যান সহকারী: ২১)

ক

ইসলাম খান

খ

মীর জুমলা

গ

শায়েস্তা খান

ঘ

শাহ সুজা

✅ সঠিক উত্তর:ক. ইসলাম খান

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ইসলাম খান চিশতি।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ইসলাম খান চিশতি ১৬১০ সালে ঢাকাকে বাংলার মুঘল রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। এ কারণে সাধারণ জ্ঞান ও চাকরির পরীক্ষায় তাঁকে ঢাকা শহরের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
❖ ঐতিহাসিকভাবে তাঁর কৃতিত্ব হলো পূর্ববর্তী জনপদ ঢাকাকে একটি সুসংগঠিত প্রাদেশিক রাজধানী ও প্রশাসনিক নগরীতে রূপান্তর করা।
১. ইসলাম খান কেন ঢাকা নির্বাচন করেন?
❖ মুঘল শাসনের প্রধান বাধা ছিল পূর্ব বাংলার বারো ভূঁইয়া ও আফগান নেতাদের স্বাধীন রাজনৈতিক কর্তৃত্ব।
❖ তাঁদের অধিকাংশ সামরিক ঘাঁটি ছিল ভাটি অঞ্চলের নদী ও জলাভূমির মধ্যে।
❖ রাজমহল থেকে এই অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করতে দীর্ঘ সময় লাগত।
❖ ঢাকা ছিল নদীপথে সহজে পৌঁছানোর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
❖ বুড়িগঙ্গার সঙ্গে ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা ও অন্যান্য নদীর যোগাযোগ থাকায় নৌবাহিনী পরিচালনা সহজ হতো।
২. ১৬১০ সালে মুঘল প্রশাসনিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা
❖ ইসলাম খান ঢাকায় পৌঁছে পূর্ববর্তী সামরিক স্থাপনাকে প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করেন।
❖ তিনি সুবাদারের বাসস্থান, সামরিক শিবির এবং সরকারি দপ্তর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
❖ মুঘল রাজধানী হওয়ার পর শহরটি বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ধরে সম্প্রসারিত হতে থাকে।
❖ পুরোনো ঢাকার পাকুড়তলি বা বর্তমান বাবুবাজার অঞ্চল ছিল নগরটির প্রাচীন বসতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৩. ঢাকার নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা
❖ ইসলাম খান ছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীরের বিশ্বস্ত কর্মকর্তা।
❖ তিনি সম্রাটের নামের সঙ্গে মিলিয়ে ঢাকার সরকারি নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর (Jahangirnagar)।
❖ তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঢাকা নামটিই প্রচলিত ছিল।
❖ বিদেশি পর্যটক ও বণিকদের বিবরণেও ঢাকা নামের ব্যবহার পাওয়া যায়।
৪. মুঘল নৌবাহিনী ও রাজধানীর প্রতিরক্ষা
❖ ইসলাম খান মুঘল নৌবাহিনীকে পুনর্গঠন করেন।
❖ সম্রাট জাহাঙ্গীর ইহতিমাম খানকে মীর-ই-বহর অর্থাৎ নৌবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করেন।
❖ নৌবাহিনীর মাধ্যমে ভাটির দুর্গগুলোতে অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়।
❖ এতে ঢাকা থেকে পূর্ব বাংলার সামরিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
৫. ইসলাম খানের নির্মাণ ও নগর-উন্নয়ন
❖ ইসলাম খানের আমলে ঢাকায় জলপথ ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটে।
❖ পুরান ঢাকার ধোলাইখাল-সংযুক্ত খালপথের উন্নয়ন ও সংযোগ খননের সঙ্গে তাঁর নাম সম্পর্কিত।
❖ মুঘল রাজধানীর নিরাপত্তা ও জলযোগাযোগ নিশ্চিত করার জন্য খালটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ পরবর্তী মুঘল সুবাদারদের আমলে এই নগর আরও সম্প্রসারিত হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ঢাকা শহরের মুঘল রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠাতা — ইসলাম খান।
➤ প্রতিষ্ঠার প্রচলিত সাল — ১৬১০।
➤ ইসলাম খানের প্রকৃত নাম — শেখ আলাউদ্দিন চিশতি।
➤ তাঁকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন — জাহাঙ্গীর।
➤ নিয়োগ — ১৬০৮ সালে।
➤ ঢাকায় রাজধানী প্রতিষ্ঠা — ১৬১০ সালে।
➤ পূর্ববর্তী রাজধানী — রাজমহল।
➤ রাজধানী স্থাপনের প্রধান কারণ — বারো ভূঁইয়াদের প্রতিরোধ দমন ও নৌযোগাযোগ।
➤ ঢাকার মুঘল নাম — জাহাঙ্গীরনগর।
➤ ঢাকার প্রধান নদী — বুড়িগঙ্গা।
➤ ইসলাম খানের নৌবাহিনীর প্রধান — ইহতিমাম খান।
➤ ইসলাম খানের সময় মুঘল প্রতিপক্ষ — মুসা খাঁ।
➤ ইসলাম খানের আমলে বিকশিত হয় — মুঘল ঢাকার প্রশাসনিক কেন্দ্র।
➤ ইসলাম খান → ঢাকা → ১৬১০ → জাহাঙ্গীরনগর।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন