🧠 🔖
👑 Premium Topic

উপমহাদেশে ইউরোপীদের আগমন

◉ সাধারণ জ্ঞান-বাংলাদেশ বিষয়াবলী›উপমহাদেশে ইউরোপীদের আগমন

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚39মোট প্রশ্ন
🎯4মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০১. কত সালে ইউরোপ হতে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে সমুদ্রপথে পূর্বদিকে আসার জলপথ আবিষ্কার হয়? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১০)

ক

১৪৮৭

খ

১৪৯০

গ

১৪৯৮

ঘ

১৫০২

✅ সঠিক উত্তর:ক. ১৪৮৭

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ১৪৮৭ সাল
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ পর্তুগিজ নাবিক বার্থোলোমিউ ডিয়াজ (Bartolomeu Dias) ১৪৮৭ সালে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের উদ্দেশ্যে সমুদ্র অভিযান শুরু করেন। এই অভিযানের মাধ্যমে ইউরোপীয় নাবিকেরা আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে ভারত মহাসাগরের দিকে যাত্রার সম্ভাব্য জলপথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা লাভ করেন।
❖ ১৪৮৭ সালে ডিয়াজ অভিযান শুরু করলেও আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত সফলভাবে অতিক্রম করার ঘটনাটি ঘটে ১৪৮৮ সালে। তাই প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর ১৪৮৭ হলেও ঐতিহাসিকভাবে ১৪৮৭–১৪৮৮ সালের অভিযান উল্লেখ করাই অধিক নির্ভুল।
❖ ডিয়াজের অভিযানের ফলে ইউরোপ থেকে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল অনুসরণ করে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে, আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত অতিক্রম করে পূর্বদিকে ভারত মহাসাগরে প্রবেশের পথের সম্ভাবনা প্রমাণিত হয়।
❖ পরবর্তী সময়ে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা (Vasco da Gama) এই পথ অনুসরণ করে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে ১৪৯৮ সালে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান।
❖ ছবির বইয়ের ব্যাখ্যায় ভাস্কো-দা-গামার কালিকটে পৌঁছানোর তারিখ ২৭ মে ১৪৯৮ উল্লেখ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে বহুল স্বীকৃত ঐতিহাসিক বিবরণে তাঁর কালিকটে পৌঁছানোর তারিখ সাধারণত ২০ মে ১৪৯৮ হিসেবে দেওয়া হয়।
❖ বার্থোলোমিউ ডিয়াজ আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের সমুদ্রপথ উন্মোচন করেন এবং ভাস্কো-দা-গামা সেই পথ ব্যবহার করে ইউরোপ থেকে সরাসরি সমুদ্রযাত্রায় ভারতে পৌঁছান। এই দুই অভিযানের উদ্দেশ্য ও ঐতিহাসিক অবদান পৃথক।
◉ ১. ইউরোপ থেকে ভারতে সমুদ্রপথ অনুসন্ধানের পটভূমি
❖ মধ্যযুগে ইউরোপীয় দেশগুলো এশিয়ার মসলা, রেশম, সুতি বস্ত্র, মূল্যবান পাথর এবং অন্যান্য বিলাসপণ্যের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট ছিল।
❖ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গোলমরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, জায়ফল ও অন্যান্য মসলা ইউরোপীয় বাজারে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল।
❖ এসব পণ্য স্থলপথ এবং ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরকেন্দ্রিক বাণিজ্যপথে ইউরোপে পৌঁছাত।
❖ আরব, পারস্য ও অন্যান্য এশীয় বণিকেরা ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
❖ ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যে ভেনিস ও জেনোয়ার বণিকদের প্রভাব ছিল।
❖ ইউরোপীয় রাজশক্তিগুলো এশিয়ার সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য স্থাপন করে মধ্যবর্তী বণিকদের ওপর নির্ভরতা কমাতে আগ্রহী হয়ে ওঠে।
❖ ফলে আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর নতুন সমুদ্রপথ অনুসন্ধান পর্তুগিজ অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে।
◉ ২. সমুদ্রপথ অনুসন্ধানে পর্তুগালের ভূমিকা
❖ পর্তুগাল (Portugal) পশ্চিম ইউরোপের আইবেরীয় উপদ্বীপে অবস্থিত একটি দেশ।
❖ আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী অবস্থান পর্তুগালের সমুদ্রযাত্রা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুবিধা সৃষ্টি করে।
❖ প্রিন্স হেনরি দ্য নেভিগেটর (Prince Henry the Navigator, ১৩৯৪–১৪৬০) পর্তুগিজ সামুদ্রিক অনুসন্ধানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
❖ তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল অনুসন্ধান, নৌচালনা ও সমুদ্রযাত্রাসংক্রান্ত জ্ঞানের বিকাশ ঘটে।
❖ পর্তুগিজ নাবিকেরা কম্পাস, অ্যাস্ট্রোল্যাব, নৌমানচিত্র এবং ক্যারাভেল (Caravel) ধরনের জাহাজ ব্যবহার করে সমুদ্র অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেন।
❖ রাজা দ্বিতীয় জোয়াও (John II)-এর শাসনামলে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত সমুদ্রপথ অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটে।
❖ তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বার্থোলোমিউ ডিয়াজ দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূল অনুসন্ধানে যাত্রা করেন।
◉ ৩. বার্থোলোমিউ ডিয়াজের অভিযান
❖ বার্থোলোমিউ ডিয়াজ ছিলেন পঞ্চদশ শতকের একজন বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ও সমুদ্র অভিযাত্রী।
❖ তিনি ১৪৮৭ সালে লিসবন থেকে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।
❖ অভিযানে তিনি আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল ধরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হন।
❖ দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে ভয়াবহ ঝড়ের কারণে তাঁর নৌবহর উপকূল থেকে অনেক দূরে সরে যায়।
❖ ঝড়ের পর তিনি পূর্ব ও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত অতিক্রম করার বিষয়টি উপলব্ধি করেন।
❖ ১৪৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বর্তমান দক্ষিণ আফ্রিকার মসেল বে (Mossel Bay) অঞ্চলে পৌঁছান।
❖ এই অভিযান প্রমাণ করে, আটলান্টিক মহাসাগর থেকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে ভারত মহাসাগরের দিকে সমুদ্রপথে প্রবেশ সম্ভব।
❖ তবে ডিয়াজ নিজে ভারতে পৌঁছাননি। তাঁর অভিযান ভবিষ্যতের ভারতগামী সমুদ্রযাত্রার ভিত্তি স্থাপন করে।
◉ ৪. উত্তমাশা অন্তরীপের নামকরণের ইতিহাস
❖ আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের বিখ্যাত অন্তরীপটির নাম উত্তমাশা অন্তরীপ (Cape of Good Hope)।
❖ ডিয়াজ তাঁর অভিযানে ভয়াবহ ঝড়ের সম্মুখীন হওয়ার কারণে অন্তরীপটির সঙ্গে Cape of Storms বা ঝড়ের অন্তরীপ নামের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ পরবর্তীকালে পর্তুগালের রাজা দ্বিতীয় জোয়াও এর নাম Cape of Good Hope রাখেন বলে প্রচলিত ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
❖ উত্তমাশা অন্তরীপ নামকরণের পেছনে প্রধান ধারণা ছিল, এই পথ দিয়ে অগ্রসর হলে এশিয়া ও ভারতের সঙ্গে সরাসরি সামুদ্রিক বাণিজ্য স্থাপন সম্ভব হতে পারে।
❖ উত্তমাশা অন্তরীপ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ উপদ্বীপে অবস্থিত।
❖ গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পার্থক্য হলো, উত্তমাশা অন্তরীপ আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডের সর্বদক্ষিণ বিন্দু নয়। আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডের সর্বদক্ষিণ বিন্দু হলো কেপ আগুলহাস (Cape Agulhas)।
◉ ৫. ডিয়াজের আবিষ্কার থেকে ভাস্কো-দা-গামার ভারত অভিযান
❖ ডিয়াজের অভিযানের প্রায় এক দশক পরে ভাস্কো-দা-গামা ভারতবর্ষের উদ্দেশ্যে নতুন সমুদ্র অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ ৮ জুলাই ১৪৯৭ সালে ভাস্কো-দা-গামা পর্তুগালের লিসবন থেকে যাত্রা শুরু করেন।
❖ তিনি আটলান্টিক মহাসাগর অতিক্রম করে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের দিকে অগ্রসর হন।
❖ ১৪৯৭ সালের নভেম্বর মাসে তাঁর নৌবহর উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করে।
❖ পরবর্তী সময়ে আফ্রিকার পূর্ব উপকূলের মোজাম্বিক, মোম্বাসা ও মালিন্দি অঞ্চলে যাত্রাবিরতি করেন।
❖ মালিন্দি থেকে তিনি একজন অভিজ্ঞ নৌপথপ্রদর্শকের সহায়তায় ভারত মহাসাগর অতিক্রম করেন।
❖ ২০ মে ১৪৯৮ সালে তিনি ভারতের মালাবার উপকূলের কালিকট বন্দরে পৌঁছান বলে বহুল প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
❖ এই অভিযানের মাধ্যমে ইউরোপ থেকে আফ্রিকা ঘুরে ভারতে সরাসরি সমুদ্রপথে যাতায়াতের কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
◉ ৬. সমুদ্রপথ আবিষ্কারের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
❖ নতুন সমুদ্রপথের ফলে পর্তুগাল ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ লাভ করে।
❖ ভারত মহাসাগরের মসলা বাণিজ্যে পর্তুগিজদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।
❖ পর্তুগিজরা ভারতীয় উপকূলে বাণিজ্যকেন্দ্র, নৌঘাঁটি ও দুর্গ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করে।
❖ পরবর্তী সময়ে গোয়া, কোচিন, দিউ, দমন ও মালাক্কা অঞ্চলে পর্তুগিজ প্রভাব বিস্তৃত হয়।
❖ ১৫১০ সালে গোয়া দখল এবং ১৫১১ সালে মালাক্কা দখল পর্তুগিজ সামুদ্রিক সাম্রাজ্য বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
❖ পর্তুগিজদের অনুসরণ করে ডাচ, ইংরেজ ও ফরাসি বণিকেরা ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
❖ এই ঘটনাগুলো ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয় বাণিজ্যিক ও পরবর্তী ঔপনিবেশিক শক্তির উত্থানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত অনুসন্ধানে ডিয়াজের অভিযান শুরু — ১৪৮৭ সাল।
➤ উত্তমাশা অন্তরীপ সফলভাবে অতিক্রম করেন — বার্থোলোমিউ ডিয়াজ।
➤ উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রমের ঐতিহাসিক সাল — ১৪৮৮।
➤ ডিয়াজের দেশ — পর্তুগাল।
➤ ডিয়াজের অভিযানের পৃষ্ঠপোষক — দ্বিতীয় জোয়াও।
➤ উত্তমাশা অন্তরীপের ইংরেজি নাম — Cape of Good Hope।
➤ উত্তমাশা অন্তরীপের অবস্থান — দক্ষিণ আফ্রিকা।
➤ উত্তমাশা অন্তরীপের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাচীন নাম — Cape of Storms।
➤ আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডের সর্বদক্ষিণ বিন্দু — কেপ আগুলহাস।
➤ পর্তুগিজ সামুদ্রিক অনুসন্ধানের বিখ্যাত পৃষ্ঠপোষক — প্রিন্স হেনরি দ্য নেভিগেটর।
➤ প্রিন্স হেনরি দ্য নেভিগেটরের জীবনকাল — ১৩৯৪–১৪৬০।
➤ আফ্রিকা ঘুরে ইউরোপ থেকে ভারতে সমুদ্রযাত্রা সম্পন্ন করেন — ভাস্কো-দা-গামা।
➤ ভাস্কো-দা-গামার ভারত অভিযানের সূচনা — ১৪৯৭ সাল।
➤ ভারতে ভাস্কো-দা-গামার আগমন — ১৪৯৮ সাল।
➤ ভারতে ভাস্কো-দা-গামার আগমনের বহুল প্রচলিত তারিখ — ২০ মে ১৪৯৮।
➤ ভাস্কো-দা-গামার প্রথম ভারতীয় গন্তব্য — কালিকট।
➤ কালিকটের বর্তমান নাম — কোঝিকোড় (Kozhikode)।
➤ কালিকট অবস্থিত — কেরালা, ভারত।
➤ ভারত মহাসাগরে প্রথম ইউরোপীয় সামুদ্রিক ঔপনিবেশিক শক্তি — পর্তুগিজ।
➤ পর্তুগিজদের গুরুত্বপূর্ণ নৌবিজয় — দিউয়ের যুদ্ধ, ১৫০৯ সাল।
➤ গোয়া দখল করেন — আফনসো দ্য আলবুকার্ক।
➤ গোয়া দখল — ১৫১০ সাল।
➤ মালাক্কা দখল — ১৫১১ সাল।"
02
🎯 Level 1

০৩. কত সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ভারত পৌঁছেন? / কোন সালে ইউরোপ হতে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কৃত হয়? / ইউরোপ হতে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কৃত হয় — (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১০ / প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১৬)

ক

১৪৯৮ সালে

খ

১৪৯২ সালে

গ

১৫১৭ সালে

ঘ

১৬৪৮ সালে

✅ সঠিক উত্তর:ক. ১৪৯৮ সালে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ১৪৯৮ সাল।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে ভারতীয় উপমহাদেশে পৌঁছান। তাঁর এই অভিযান ইউরোপ থেকে ভারতে সরাসরি সমুদ্রপথে যাতায়াতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
❖ ১৪৯৭ সালের ৮ জুলাই তিনি পর্তুগালের রাজধানী লিসবন (Lisbon) থেকে নৌবহর নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
❖ দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় আটলান্টিক মহাসাগর, আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত, ভারত মহাসাগর এবং আফ্রিকার পূর্ব উপকূলীয় বন্দর অতিক্রম করার পর তিনি ভারতের মালাবার উপকূলে পৌঁছান।
❖ তাঁর ভারত আগমনের বহুল স্বীকৃত তারিখ ২০ মে ১৪৯৮, যদিও কিছু পাঠ্যপুস্তকে ২৭ মে ১৪৯৮ উল্লেখ রয়েছে।
❖ তিনি প্রথমে ভারতের কালিকট বন্দরে (Calicut) পৌঁছান। বর্তমানে কালিকট কোঝিকোড় (Kozhikode) নামে পরিচিত এবং এটি ভারতের কেরালা রাজ্যে অবস্থিত।
◉ ১. ১৪৯৮ সালের অভিযানের পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহ
❖ ইউরোপ থেকে ভারতে সরাসরি সমুদ্রপথ অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা পঞ্চদশ শতকের বিভিন্ন অভিযানের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়।
❖ ১৪১৫ সালে পর্তুগিজরা উত্তর আফ্রিকার সেউতা (Ceuta) দখল করে সামুদ্রিক ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়।
❖ প্রিন্স হেনরি দ্য নেভিগেটর আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল অনুসন্ধানের বিভিন্ন অভিযানে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
❖ পর্তুগিজ নাবিকেরা আফ্রিকার উপকূল ধরে ক্রমশ দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।
❖ ১৪৮৭ সালে বার্থোলোমিউ ডিয়াজ দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূল অনুসন্ধানে যাত্রা করেন।
❖ ১৪৮৮ সালে তিনি আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত অতিক্রম করার সম্ভাবনা বাস্তবে প্রমাণ করেন।
❖ এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভাস্কো-দা-গামার ১৪৯৭ সালের ভারত অভিযান পরিচালিত হয়।
◉ ২. ভাস্কো-দা-গামার ভারতযাত্রার ঘটনাপ্রবাহ
❖ ৮ জুলাই ১৪৯৭: পর্তুগালের লিসবন থেকে যাত্রা শুরু।
❖ ১৪৯৭ সালের নভেম্বর: আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম।
❖ ১৪৯৭ সালের ডিসেম্বর: আফ্রিকার পূর্ব উপকূলের নাটাল অঞ্চলে অগ্রসর হওয়া।
❖ ১৪৯৮ সালের মার্চ: মোজাম্বিক অঞ্চলে পৌঁছানো।
❖ ১৪৯৮ সালের এপ্রিল: মোম্বাসা ও মালিন্দি অঞ্চলে যাত্রাবিরতি।
❖ ১৪৯৮ সালের এপ্রিলের শেষভাগ: মালিন্দি থেকে ভারত মহাসাগর অতিক্রমের যাত্রা শুরু।
❖ ২০ মে ১৪৯৮: ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছানো।
❖ ১৪৯৮ সালের আগস্ট: কালিকট ত্যাগ করে প্রত্যাবর্তনযাত্রা শুরু।
❖ ১৪৯৯ সাল: পর্তুগালে প্রত্যাবর্তন।
◉ ৩. কালিকট বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব
❖ কালিকট ছিল দক্ষিণ ভারতের মালাবার উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র।
❖ কালিকটের বাজারে গোলমরিচ ও অন্যান্য মসলার বাণিজ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ আরব, পারস্য এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বণিক বহু আগে থেকেই কালিকটে বাণিজ্য পরিচালনা করতেন।
❖ স্থানীয় শাসক জামোরিন (Zamorin) কালিকটের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব পরিচালনা করতেন।
❖ পর্তুগিজরা সরাসরি মসলা ক্রয় ও ইউরোপে পরিবহনের উদ্দেশ্যে কালিকটের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়।
❖ এই কারণে ১৪৯৮ সালের অভিযান শুধু ভৌগোলিক আবিষ্কার নয়; এটি ইউরোপীয় বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।
◉ ৪. ১৪৯২ ও ১৪৯৮ সালের ঐতিহাসিক পার্থক্য
❖ ১৪৯২ সাল বিশ্ব-ইতিহাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আটলান্টিক অভিযান-এর জন্য।
❖ কলম্বাস স্পেনের রাজশক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় পশ্চিমদিকে সমুদ্রযাত্রা করেন।
❖ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম দিকে সমুদ্রপথে এশিয়ায় পৌঁছানো।
❖ কিন্তু তিনি ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছান।
❖ অন্যদিকে ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে আফ্রিকা ঘুরে সত্যিকার অর্থে ভারতীয় উপমহাদেশে পৌঁছান।
❖ ফলে পরীক্ষায় ১৪৯২ — কলম্বাস এবং ১৪৯৮ — ভাস্কো-দা-গামা বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন।
◉ ৫. ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৪৯৮ সালের গুরুত্ব
❖ ১৪৯৮ সালের পর ইউরোপ থেকে ভারতীয় মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিয়মিত সমুদ্রযাত্রার পথ প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ পর্তুগিজ বণিকেরা ভারতের বিভিন্ন বন্দরে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
❖ ভারত মহাসাগরের বাণিজ্যে পূর্ব থেকে সক্রিয় আরব ও অন্যান্য এশীয় বণিকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায়।
❖ পর্তুগিজরা পরবর্তী সময়ে নৌবহর ও দুর্গের মাধ্যমে বাণিজ্যিক পথ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
❖ ১৫০৫ সালে ভারতে পর্তুগিজ ভাইসরয়ের প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ ১৫১০ সালে গোয়া দখল এবং ১৫১১ সালে মালাক্কা দখল পর্তুগিজ সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
❖ এই বিস্তারের ধারাবাহিকতায় ষোড়শ শতকের প্রথমভাগে পর্তুগিজরা বাংলার চট্টগ্রাম ও সাতগাঁও বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ভাস্কো-দা-গামার ভারতে আগমন — ১৪৯৮ সাল।
➤ ভাস্কো-দা-গামার ভারতে পৌঁছানোর বহুল প্রচলিত তারিখ — ২০ মে ১৪৯৮।
➤ প্রচলিত কিছু বাংলাদেশি পাঠ্যবইয়ে উল্লেখিত তারিখ — ২৭ মে ১৪৯৮।
➤ ভাস্কো-দা-গামার জাতীয়তা — পর্তুগিজ।
➤ ভাস্কো-দা-গামার যাত্রাস্থান — লিসবন।
➤ প্রথম ভারতীয় গন্তব্য — কালিকট।
➤ কালিকটের বর্তমান নাম — কোঝিকোড়।
➤ কালিকটের অবস্থান — কেরালা।
➤ কালিকট অবস্থিত — মালাবার উপকূলে।
➤ কালিকটের তৎকালীন শাসক — জামোরিন।
➤ উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করেন — বার্থোলোমিউ ডিয়াজ, ১৪৮৮ সালে।
➤ ভাস্কো-দা-গামার ভারত অভিযান শুরু — ১৪৯৭ সালে।
➤ ভাস্কো-দা-গামার পর্তুগালে প্রত্যাবর্তন — ১৪৯৯ সালে।
➤ কলম্বাসের আটলান্টিক অভিযান — ১৪৯২ সালে।
➤ কলম্বাসের অভিযান পরিচালিত হয় — স্পেনের পৃষ্ঠপোষকতায়।
➤ ভারতগামী পর্তুগিজ অভিযানের পৃষ্ঠপোষক — রাজা প্রথম ম্যানুয়েল।
➤ ভারতে প্রথম পর্তুগিজ ভাইসরয় — ফ্রান্সিসকো দ্য আলমেইদা।
➤ ভারতে পর্তুগিজ শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা — আফনসো দ্য আলবুকার্ক।
➤ গোয়া দখল — ১৫১০ সাল।
➤ মালাক্কা দখল — ১৫১১ সাল।
➤ ইউরোপ থেকে ভারতে সরাসরি সমুদ্রপথ প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সাল — ১৪৯৮।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৭. কোন ইউরোপীয় জাতি সর্বপ্রথম ভারতবর্ষে আসে? (সিজিডিএফ কার্যালয়ের অডিটর: ১৪)

ক

ডাচ

খ

ইংরেজ

গ

ফ্রেঞ্চ

ঘ

পর্তুগিজ

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. পর্তুগিজ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: পর্তুগিজ (Portuguese)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ পর্তুগিজরা ছিল ভারতীয় উপমহাদেশে সমুদ্রপথে আগত প্রথম ইউরোপীয় সামুদ্রিক ঔপনিবেশিক শক্তি। পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান। এই ঘটনাকে ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয় সামুদ্রিক বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
❖ পর্তুগিজদের আগমনের আগে ভারতবর্ষের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। এমনকি প্রাচীন গ্রিক ও রোমান জগতের সঙ্গেও ভারতীয় উপমহাদেশের সম্পর্ক ছিল। তাই এখানে প্রথম ইউরোপীয় জাতি বলতে আধুনিক যুগে সমুদ্রপথে এসে বাণিজ্যিক ও ঔপনিবেশিক শক্তি প্রতিষ্ঠাকারী প্রথম ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হচ্ছে।
❖ ভাস্কো-দা-গামার ভারত আগমনের পর পর্তুগিজ বণিক ও নাবিকেরা ভারতের পশ্চিম উপকূলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের কার্যক্রম গোয়া, কোচিন, দিউ, দমন, মালাক্কা, সিলন এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তৃত হয়।
❖ ষোড়শ শতকের প্রথমভাগে পর্তুগিজরা বাংলায় প্রবেশ করে। বাংলার চট্টগ্রাম ও সাতগাঁও বন্দর পর্তুগিজ সামুদ্রিক বাণিজ্যে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে।
❖ প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক ইতিহাসে বাংলায় পর্তুগিজদের আগমনের সাল ১৫১৬ উল্লেখ করা হয়। বাংলাপিডিয়ার বিবরণ অনুযায়ী, ১৫১৬ সালের কাছাকাছি জোয়াও কোয়েলহোর (João Coelho) আগমন এবং ৯ মে ১৫১৮ সালে জোয়াও দ্য সিলভেইরার (João de Silveira) নেতৃত্বে পর্তুগিজ নৌবহরের চট্টগ্রামে উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
◉ ১. ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজদের আগমনের পটভূমি
❖ পঞ্চদশ শতকে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে এশিয়ার মসলা ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
❖ ভারতীয় গোলমরিচ, সুতি বস্ত্র, রেশম, নীল এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য ইউরোপীয় বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ ইউরোপীয় রাজশক্তিগুলো এশিয়ার সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য স্থাপনের উদ্দেশ্যে নতুন সমুদ্রপথ অনুসন্ধানে আগ্রহী হয়।
❖ পর্তুগালের আটলান্টিক মহাসাগরসংলগ্ন অবস্থান সামুদ্রিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা প্রদান করে।
❖ বার্থোলোমিউ ডিয়াজ আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের নৌপথ অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
❖ ভাস্কো-দা-গামা সেই নৌপথ ব্যবহার করে ১৪৯৮ সালে ভারতে পৌঁছান।
❖ এর ফলে ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যে পর্তুগিজদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ শুরু হয়।
◉ ২. ভারতে পর্তুগিজ শক্তির বিকাশ
❖ ভাস্কো-দা-গামার প্রথম ভারত অভিযান ছিল মূলত সমুদ্রপথ প্রতিষ্ঠা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের অভিযান।
❖ পরবর্তী সময়ে পর্তুগিজ রাজশক্তি বাণিজ্যের পাশাপাশি সামরিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে।
❖ ১৫০৫ সালে ফ্রান্সিসকো দ্য আলমেইদা (Francisco de Almeida) পর্তুগিজ ভারতের প্রথম ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ আলমেইদা ভারত মহাসাগরে পর্তুগিজ নৌক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
❖ ১৫০৯ সালে দিউয়ের নৌযুদ্ধ পর্তুগিজ সামুদ্রিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
❖ আফনসো দ্য আলবুকার্ক (Afonso de Albuquerque) পর্তুগিজদের স্থায়ী ঘাঁটি ও সামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
❖ তাঁর নেতৃত্বে ১৫১০ সালে গোয়া এবং ১৫১১ সালে মালাক্কা দখল করা হয়।
❖ গোয়া পরবর্তী সময়ে ভারত মহাসাগরীয় পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
◉ ৩. বাংলায় পর্তুগিজদের প্রথম আগমন
❖ ভারত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্যিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার পর পর্তুগিজরা বঙ্গোপসাগরীয় বাণিজ্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।
❖ বাংলা ছিল সুতি বস্ত্র, রেশম, চাল, চিনি এবং অন্যান্য কৃষিজ ও শিল্পপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্র।
❖ বাংলার চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ছিল।
❖ ১৫১৬ সালের কাছাকাছি জোয়াও কোয়েলহো বাংলায় পর্তুগিজদের প্রাথমিক যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ ১৫১৭–১৫১৮ সালে জোয়াও দ্য সিলভেইরা বাংলার চট্টগ্রাম বন্দরে পর্তুগিজ অভিযানের নেতৃত্ব দেন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
❖ বাংলায় পর্তুগিজদের উপস্থিতি প্রথমে বাণিজ্যিক যোগাযোগের মাধ্যমে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে নৌসামরিক কার্যক্রম, স্থানীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং কিছু পর্তুগিজ গোষ্ঠীর জলদস্যুতার মাধ্যমে জটিল হয়ে ওঠে।
◉ ৪. বাংলার পর্তুগিজ বাণিজ্যকেন্দ্র
❖ চট্টগ্রাম: বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর।
❖ সাতগাঁও বা সপ্তগ্রাম: পশ্চিম বাংলার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বাণিজ্যকেন্দ্র।
❖ হুগলি: পরবর্তী সময়ে পর্তুগিজ বাণিজ্য ও বসতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
❖ সন্দ্বীপ: বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কিছু পর্তুগিজ অভিযাত্রী ও জলদস্যুর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
❖ ঢাকা ও শ্রীপুর: ষোড়শ শতকের শেষভাগে পর্তুগিজ ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।
❖ পর্তুগিজরা চট্টগ্রাম বন্দরের নাম দেয় Porto Grande, যার অর্থ বৃহৎ বন্দর।
❖ সাতগাঁও বন্দরের নাম দেয় Porto Pequeno, যার অর্থ ছোট বন্দর।
◉ ৫. পর্তুগিজদের পরে অন্যান্য ইউরোপীয়দের আগমন
❖ ডাচ বা ওলন্দাজ (Dutch) বলতে প্রধানত নেদারল্যান্ডসের জনগোষ্ঠীকে বোঝায়।
❖ ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (VOC) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬০২ সালে।
❖ ডাচরা ভারতীয় উপমহাদেশে মসলা, বস্ত্র ও অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্যে অংশগ্রহণ করে।
❖ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় ৩১ ডিসেম্বর ১৬০০ সালে।
❖ ইংরেজরা পরবর্তী সময়ে সুরাট, মাদ্রাজ, বোম্বাই ও বাংলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে।
❖ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৬৪ সালে।
❖ ফরাসিদের গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল পন্ডিচেরি (বর্তমান পুদুচেরি)।
❖ বাংলায় ফরাসিদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল চন্দননগর।
❖ বাংলায় ডাচদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল চুঁচুড়া।
❖ বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তি পরবর্তী সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা ও রাজনৈতিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
◉ ৬. বাংলায় পর্তুগিজদের সাংস্কৃতিক প্রভাব
❖ বাংলায় পর্তুগিজদের উপস্থিতি শুধু ব্যবসা ও সামরিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
❖ পর্তুগিজদের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় কয়েকটি বিদেশি শব্দ প্রচলিত হয়।
❖ আলমারি, জানালা, চাবি, বালতি, পেরেক, তোয়ালে ও আনারস—এ ধরনের শব্দ ও পণ্যের ইতিহাসে পর্তুগিজ যোগাযোগের প্রভাব রয়েছে।
❖ বাংলা গদ্য, অভিধান ও ব্যাকরণ রচনার প্রাথমিক মুদ্রণ-ইতিহাসেও পর্তুগিজ মিশনারিদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
❖ ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাঁও (Manuel da Assumpção) বাংলা ভাষার প্রাথমিক মুদ্রিত ব্যাকরণ ও শব্দকোষের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ ১৭৪৩ সালে লিসবনে তাঁর বাংলা ভাষাবিষয়ক ব্যাকরণ ও অভিধানসংবলিত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
❖ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ফিরিঙ্গি নামের পরিচিতি পর্তুগিজ ও অন্যান্য ইউরোপীয়দের ঐতিহাসিক উপস্থিতির স্মৃতি বহন করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম আগত আধুনিক ইউরোপীয় সামুদ্রিক ঔপনিবেশিক জাতি — পর্তুগিজ।
➤ সমুদ্রপথে প্রথম ভারতে পৌঁছানো বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক — ভাস্কো-দা-গামা।
➤ ভারতে পর্তুগিজদের আগমন — ১৪৯৮ সাল।
➤ ভাস্কো-দা-গামার প্রথম ভারতীয় গন্তব্য — কালিকট।
➤ বাংলায় প্রথম আগত ইউরোপীয় বণিকগোষ্ঠী — পর্তুগিজ।
➤ বাংলায় পর্তুগিজদের প্রাথমিক যোগাযোগের প্রচলিত সাল — ১৫১৬।
➤ বাংলায় প্রথম পর্তুগিজ যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি — জোয়াও কোয়েলহো।
➤ চট্টগ্রামে পর্তুগিজ নৌবহরের গুরুত্বপূর্ণ আগমন — ১৫১৮ সাল।
➤ চট্টগ্রামে পর্তুগিজ অভিযানের নেতা — জোয়াও দ্য সিলভেইরা।
➤ ভারতে প্রথম পর্তুগিজ ভাইসরয় — ফ্রান্সিসকো দ্য আলমেইদা।
➤ পর্তুগিজ শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা — আফনসো দ্য আলবুকার্ক।
➤ গোয়া দখলের সাল — ১৫১০।
➤ মালাক্কা দখলের সাল — ১৫১১।
➤ চট্টগ্রামের পর্তুগিজ নাম — পোর্টো গ্র্যান্ডে।
➤ সাতগাঁওয়ের পর্তুগিজ নাম — পোর্টো পেকেনো।
➤ বাংলায় পর্তুগিজদের প্রচলিত পরিচয় — ফিরিঙ্গি।
➤ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা — ১৬০০।
➤ ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা — ১৬০২।
➤ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা — ১৬৬৪।
➤ বাংলায় ডাচদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র — চুঁচুড়া।
➤ বাংলায় ফরাসিদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র — চন্দননগর।
➤ বাংলায় পর্তুগিজদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র — চট্টগ্রাম, সাতগাঁও ও হুগলি।
➤ বাংলা ভাষায় পর্তুগিজ প্রভাবের উদাহরণ — আলমারি, জানালা, চাবি, বালতি, পেরেক।
➤ বাংলা ভাষার প্রাথমিক মুদ্রিত ব্যাকরণ ও অভিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত পর্তুগিজ মিশনারি — ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাঁও।
➤ তাঁর বাংলা ভাষাবিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশের সাল — ১৭৪৩।
04
🎯 Level 1

১০. পর্তুগিজরা কত খ্রিস্টাব্দে প্রথম চট্টগ্রাম আসে এবং বাণিজ্য করার অনুমতি পায়? (বেসিক ব্যাংকের সহকারী ব্যবস্থাপক: ১২)

ক

১৪৯৮

খ

১৫৩৪

গ

১৬৫০

ঘ

কোনোটিই নয়

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. কোনোটিই নয়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: কোনোটিই নয়। বইয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী সাল ১৫১৮ খ্রিস্টাব্দ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ১৫১৮ সালে পর্তুগিজরা চট্টগ্রামে আসে—এ তথ্য ছবির বইয়ের ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ৯ মে ১৫১৮ সালে জোয়াও দ্য সিলভেইরার নেতৃত্বে একটি পর্তুগিজ নৌবহর চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে। তবে আরও আগের ১৫১৬–১৫১৭ সালের পর্তুগিজ যোগাযোগের বিবরণও ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া যায়।
❖ চট্টগ্রামে পর্তুগিজদের প্রথম আগমন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যকুঠি নির্মাণের অনুমতি লাভ একই ঘটনা নয়। ১৫১৮ সালের নৌবহরের আগমনের সময় পর্তুগিজরা স্থায়ী বাণিজ্যিক অনুমতি পেতে ব্যর্থ হয়। বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনামলে, আনুমানিক ১৫৩৬–১৫৩৭ সালের দিকে, পর্তুগিজরা চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্যকুঠি ও শুল্কসংক্রান্ত সুবিধা লাভ করে।
❖ পর্তুগিজরা চট্টগ্রামকে Porto Grande (পোর্টো গ্র্যান্ডে) নামে অভিহিত করে, যার অর্থ বৃহৎ বন্দর। অন্যদিকে সাতগাঁও বা সপ্তগ্রামকে Porto Pequeno (পোর্টো পেকেনো) নামে অভিহিত করা হয়, যার অর্থ ছোট বন্দর।
❖ বাংলায় পর্তুগিজরা ফিরিঙ্গি নামে পরিচিত ছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাণিজ্য, নৌযাত্রা, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং ধর্মপ্রচারমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে কিছু পর্তুগিজ অভিযাত্রী জলদস্যুতা, অপহরণ ও দাসব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
❖ পরবর্তী সময়ে বাংলার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে আরাকানি বা মগ জলদস্যু এবং কিছু পর্তুগিজ জলদস্যুর কার্যকলাপ সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে। বাংলায় এসব উপকূলীয় জলদস্যুদের একটি পরিচিত নাম ছিল হার্মাদ।
❖ ১৬৬৬ সালে মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খানের পরিকল্পনায় তাঁর পুত্র বুজুর্গ উমেদ খানের নেতৃত্বে মুঘল বাহিনী চট্টগ্রাম জয় করে। এর ফলে চট্টগ্রামে আরাকানি কর্তৃত্বের অবসান ঘটে এবং অঞ্চলটি মুঘল বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হয়।
◉ ১. ষোড়শ শতকে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান
❖ চট্টগ্রাম বন্দর ছিল প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যকেন্দ্র।
❖ বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব উপকূলবর্তী অবস্থান এবং নদীপথের যোগাযোগ চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
❖ কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রধান নদী।
❖ চট্টগ্রাম থেকে বাংলা, আরাকান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারত মহাসাগরীয় অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সামুদ্রিক যোগাযোগ পরিচালিত হতো।
❖ চাল, সুতি বস্ত্র, রেশম, চিনি, লবণ ও অন্যান্য পণ্য চট্টগ্রামের বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ চট্টগ্রামের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব নিয়ে বাংলা সুলতানি শাসক, ত্রিপুরা ও আরাকানের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলেছিল।
❖ ষোড়শ শতকের প্রথমভাগে পর্তুগিজরা এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত হয়।
◉ ২. চট্টগ্রামে পর্তুগিজদের প্রথম আগমনের ঘটনাপ্রবাহ
❖ ১৪৯৮ সাল: ভাস্কো-দা-গামা ভারতের কালিকটে পৌঁছান।
❖ ১৫১০ সাল: আফনসো দ্য আলবুকার্ক গোয়া দখল করেন।
❖ ১৫১১ সাল: পর্তুগিজরা মালাক্কা দখল করে।
❖ ১৫১২–১৫১৩ সাল: বাংলার সঙ্গে পর্তুগিজদের প্রাথমিক পরোক্ষ যোগাযোগের বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ আনুমানিক ১৫১৬ সাল: জোয়াও কোয়েলহোর বাংলার গঙ্গা অঞ্চলে আগমনের উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ ১৫১৭ সাল: কিছু ঐতিহাসিক বিবরণে চট্টগ্রামের সঙ্গে পর্তুগিজ নৌবহরের যোগাযোগের সাল হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
❖ ৯ মে ১৫১৮ সাল: বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী জোয়াও দ্য সিলভেইরার নেতৃত্বে পর্তুগিজ নৌবহর চট্টগ্রামে নোঙর করে।
❖ পরবর্তী সময়ে পর্তুগিজরা বাংলায় স্থায়ী বাণিজ্যিক সুবিধা অর্জনের জন্য একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করে।
◉ ৩. জোয়াও দ্য সিলভেইরার পরিচয় ও চট্টগ্রাম অভিযান
❖ জোয়াও দ্য সিলভেইরা (João de Silveira) ছিলেন বাংলায় পর্তুগিজদের প্রাথমিক নৌঅভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত একজন গুরুত্বপূর্ণ পর্তুগিজ নাবিক।
❖ তাঁর নেতৃত্বে পর্তুগিজ নৌবহর চট্টগ্রামে উপস্থিত হয়।
❖ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বাংলার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও বাণিজ্যিক সুবিধা অর্জন।
❖ কিন্তু বাংলার স্থানীয় বণিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে পর্তুগিজদের সম্পর্ক দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।
❖ বাংলাপিডিয়ার বিবরণ অনুযায়ী, পর্তুগিজদের কিছু বাণিজ্যজাহাজ লুণ্ঠনের ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের বিরোধিতার কারণ হয়।
❖ ফলে এই পর্যায়ে পর্তুগিজরা চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে বাণিজ্যকুঠি প্রতিষ্ঠার কাঙ্ক্ষিত অনুমতি লাভ করতে পারেনি।
❖ পরবর্তী সময়ে পর্তুগিজ গভর্নর ও বণিকেরা নতুনভাবে বাংলার সুলতানদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে।
◉ ৪. বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের সঙ্গে পর্তুগিজদের সম্পর্ক
❖ গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ (Ghiyasuddin Mahmud Shah) ছিলেন বাংলার হোসেন শাহী বংশের শেষ স্বাধীন সুলতান।
❖ তাঁর শাসনকাল ছিল ১৫৩৩–১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ।
❖ তাঁর শাসনামলে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।
❖ শের খান বা পরবর্তী শেরশাহ শূরের সামরিক উত্থান বাংলার সুলতানকে গুরুতর রাজনৈতিক সংকটে ফেলে।
❖ অন্যদিকে পর্তুগিজরা বাংলার বাণিজ্যে বিশেষ সুবিধা ও স্থায়ী বাণিজ্যকুঠি নির্মাণের অনুমতি লাভের চেষ্টা করছিল।
❖ পর্তুগিজদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সংঘর্ষের কারণে কিছু পর্তুগিজ বন্দি হয়।
❖ শের খানের আক্রমণের আশঙ্কায় গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ সামরিক সহযোগিতা লাভের উদ্দেশ্যে পর্তুগিজদের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী হন।
❖ এর ফলে বন্দিদের মুক্তি এবং পর্তুগিজদের বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
❖ আনুমানিক ১৫৩৬–১৫৩৭ সালের দিকে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে পর্তুগিজ বাণিজ্যকুঠি এবং শুল্কসংক্রান্ত সুবিধা লাভের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় শুরু হয়।
❖ এই ঘটনাকে বাংলায় পর্তুগিজদের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক উপস্থিতি সুসংহত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
◉ ৫. চট্টগ্রাম বন্দরের পর্তুগিজ নাম ও গুরুত্ব
❖ পর্তুগিজরা চট্টগ্রাম বন্দরের নাম দেয় পোর্টো গ্র্যান্ডে (Porto Grande)।
❖ Porto শব্দের অর্থ বন্দর।
❖ Grande শব্দের অর্থ বড় বা বৃহৎ।
❖ তাই Porto Grande অর্থ বৃহৎ বন্দর।
❖ চট্টগ্রাম ছিল বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান সামুদ্রিক যোগাযোগকেন্দ্র।
❖ চট্টগ্রামের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলার পণ্য পরিবহন করা হতো।
❖ ষোড়শ শতকে চট্টগ্রামে বহু বিদেশি বণিক ও জাহাজের আগমনের বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ সাতগাঁও বা সপ্তগ্রাম পর্তুগিজদের কাছে পরিচিত ছিল Porto Pequeno নামে।
❖ Pequeno শব্দের অর্থ ছোট।
❖ তাই Porto Pequeno অর্থ ছোট বন্দর।
❖ এই দুটি নাম মধ্যযুগীয় বাংলার সামুদ্রিক বাণিজ্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
◉ ৬. বাংলায় ফিরিঙ্গি ও হার্মাদ পরিচয়ের উৎপত্তি
❖ ফিরিঙ্গি (Firingi) শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে বিদেশি ইউরোপীয়, বিশেষত পর্তুগিজদের পরিচয় বোঝাতে ব্যবহৃত হতো।
❖ শব্দটির উৎস মধ্যযুগে ফ্রাঙ্ক বা ইউরোপীয়দের বোঝাতে ব্যবহৃত ফারাঙ্গি (Farangi)-জাতীয় শব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ বাংলায় পর্তুগিজ নাবিক, বণিক ও খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ফিরিঙ্গি পরিচয় বিশেষভাবে যুক্ত হয়।
❖ হার্মাদ শব্দটি বাংলার উপকূলীয় ইতিহাসে পর্তুগিজ ও সংশ্লিষ্ট জলদস্যুদের বোঝাতে প্রচলিত হয়।
❖ শব্দটির সঙ্গে পর্তুগিজ Armada, অর্থাৎ সশস্ত্র নৌবহর, শব্দের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে বলে সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।
❖ কিছু পর্তুগিজ জলদস্যু আরাকানি বা মগ জলদস্যুদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে হামলা পরিচালনা করত।
❖ এসব হামলার মধ্যে বাণিজ্যজাহাজ লুণ্ঠন, উপকূলীয় জনপদে আক্রমণ, মানুষ অপহরণ এবং দাস হিসেবে বিক্রির ঘটনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
❖ তবে সব পর্তুগিজ বণিক বা বসতি স্থাপনকারী জলদস্যু ছিলেন না। সরকারি পর্তুগিজ প্রতিনিধি, স্বাধীন বণিক, ধর্মপ্রচারক, ভাড়াটে সৈন্য ও জলদস্যুদের কার্যক্রম পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
◉ ৭. বাংলায় পর্তুগিজদের বাণিজ্য ও জলদস্যুতার বিস্তার
❖ চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্যিক উপস্থিতি বৃদ্ধির পর পর্তুগিজরা বাংলার অন্যান্য অঞ্চলেও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে।
❖ হুগলি পরবর্তী সময়ে পর্তুগিজদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বসতিকেন্দ্রে পরিণত হয়।
❖ সন্দ্বীপ ছিল লবণ উৎপাদন ও সামুদ্রিক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ।
❖ সন্দ্বীপকে কেন্দ্র করে কিছু পর্তুগিজ সামরিক অভিযাত্রী ও জলদস্যুর শক্তি বৃদ্ধি পায়।
❖ সেবাস্তিয়ান গঞ্জালেস তিবাও (Sebastião Gonçalves Tibau) সন্দ্বীপের পর্তুগিজ অভিযাত্রী ও জলদস্যুদের ইতিহাসে আলোচিত ব্যক্তি।
❖ আরাকানের সঙ্গে পর্তুগিজদের সম্পর্ক কখনো সহযোগিতামূলক, কখনো সংঘর্ষপূর্ণ ছিল।
❖ উপকূলীয় লুণ্ঠন এবং মানুষকে দাস হিসেবে ধরে নিয়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
❖ এ ধরনের কার্যক্রম বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
◉ ৮. শেরশাহ শূরের উত্থান ও বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তন
❖ শেরশাহ শূর (Sher Shah Suri) ছিলেন আফগান বংশোদ্ভূত একজন বিখ্যাত শাসক।
❖ তাঁর পূর্বনাম ছিল ফরিদ খান।
❖ ১৫৩৮ সালে শের খান বাংলার গৌড় দখল করেন।
❖ এর ফলে বাংলার স্বাধীন হোসেন শাহী সুলতানদের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অবসান ঘটে।
❖ ১৫৩৯ সালে চৌসার যুদ্ধে শের খান মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করেন।
❖ ১৫৪০ সালে কনৌজ বা বিলগ্রামের যুদ্ধে তিনি পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত করেন।
❖ এরপর তিনি শেরশাহ শূর উপাধিতে উত্তর ভারতে শূর সাম্রাজ্যের শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
❖ তাঁর শাসনকাল ছিল ১৫৪০–১৫৪৫ খ্রিস্টাব্দ।
❖ ১৫৪৫ সালে কালিঞ্জর দুর্গ অভিযানের সময় তাঁর মৃত্যু হয়।
❖ শেরশাহের সামরিক উত্থান বাংলার পর্তুগিজ বাণিজ্যিক সম্পর্কের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে প্রভাবিত করে।
❖ তবে ১৫৩৮ সালে গৌড় দখল এবং চট্টগ্রাম থেকে পর্তুগিজদের সম্পূর্ণ বিতাড়ন একই ঘটনা নয়। বাংলায় পর্তুগিজদের বাণিজ্যিক ও বসতিগত উপস্থিতি পরবর্তী শতকেও অব্যাহত ছিল।
◉ ৯. মুঘল সম্রাট শাহজাহানের আমলে হুগলিতে পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে অভিযান
❖ সপ্তদশ শতকে হুগলি বাংলায় পর্তুগিজদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বসতিকেন্দ্র হয়ে ওঠে।
❖ কিছু পর্তুগিজ গোষ্ঠীর জলদস্যুতা, দাসব্যবসা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ মুঘল শাসকদের উদ্বেগের কারণ হয়।
❖ সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে ১৬৩২ সালে মুঘল বাহিনী হুগলিতে পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।
❖ দীর্ঘ অবরোধ ও সংঘর্ষের পর ১৬৩২ সালের সেপ্টেম্বরে হুগলির পর্তুগিজ ঘাঁটি মুঘলদের দখলে আসে।
❖ এ অভিযানের ফলে হুগলিতে পর্তুগিজদের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
❖ তবে হুগলিতে পর্তুগিজ জনগোষ্ঠী ও বাণিজ্যিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়নি।
❖ ১৬৩২ সালের হুগলি অভিযান বাংলায় মুঘল-পর্তুগিজ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
◉ ১০. ১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিজয়ের পটভূমি
❖ সপ্তদশ শতকে চট্টগ্রাম দীর্ঘ সময় আরাকান রাজ্যের রাজনৈতিক প্রভাব ও কর্তৃত্বের অধীনে ছিল।
❖ আরাকানি ও কিছু পর্তুগিজ জলদস্যু বাংলার উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালাত।
❖ উপকূলীয় জনপদে লুণ্ঠন, মানুষ অপহরণ ও দাসব্যবসা একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে ওঠে।
❖ মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে বাংলার সুবাদার ছিলেন শায়েস্তা খান।
❖ শায়েস্তা খান চট্টগ্রামকে মুঘল কর্তৃত্বের অধীনে আনার জন্য সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
❖ তিনি নৌবাহিনী ও স্থলবাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেন।
❖ আরাকানিদের সঙ্গে কিছু পর্তুগিজ গোষ্ঠীর বিরোধ তৈরি হওয়ায় মুঘলরা তাদের একটি অংশের সহযোগিতা লাভ করে।
❖ এই রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে ১৬৬৫ সালের শেষভাগে চট্টগ্রাম অভিযানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।
◉ ১১. শায়েস্তা খানের চট্টগ্রাম বিজয়ের ঘটনাপ্রবাহ
❖ শায়েস্তা খান ছিলেন বাংলার মুঘল সুবাদার এবং চট্টগ্রাম বিজয়ের প্রধান পরিকল্পনাকারী।
❖ তাঁর পুত্র বুজুর্গ উমেদ খান (Buzurg Umed Khan) স্থলবাহিনীর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ মুঘল নৌবাহিনীও অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
❖ ১৬৬৫ সালের শেষভাগে মুঘল বাহিনী চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়।
❖ স্থলপথ ও সমুদ্রপথে সমন্বিত আক্রমণের ফলে আরাকানি প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে।
❖ ১৬৬৬ সালের জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম মুঘল বাহিনীর দখলে আসে।
❖ ঐতিহাসিক বিবরণে ২৬ জানুয়ারি ১৬৬৬ চট্টগ্রাম বিজয়ের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে; কিছু সূত্রে ২৭ জানুয়ারি দুর্গে মুঘল বাহিনীর প্রবেশের কথা বলা হয়েছে।
❖ চট্টগ্রাম বিজয়ের পর অঞ্চলটি মুঘল প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
❖ মুঘল শাসনামলে চট্টগ্রামের নাম ইসলামাবাদ রাখা হয়।
❖ এর ফলে বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরাকানি রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অবসান ঘটে।
◉ ১২. চট্টগ্রাম বিজয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ রাজনৈতিক গুরুত্ব: চট্টগ্রাম মুঘল বাংলার অন্তর্ভুক্ত হয়।
❖ সামরিক গুরুত্ব: বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে মুঘল কর্তৃত্ব সুসংহত হয়।
❖ বাণিজ্যিক গুরুত্ব: গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর মুঘল প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আসে।
❖ সামাজিক গুরুত্ব: আরাকানি ও সংশ্লিষ্ট জলদস্যুদের উপকূলীয় আক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটে।
❖ প্রশাসনিক গুরুত্ব: চট্টগ্রামে নতুন মুঘল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
❖ অর্থনৈতিক গুরুত্ব: উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি, বসতি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অধিক স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
❖ ঐতিহাসিক গুরুত্ব: চট্টগ্রামের মুঘল বিজয় বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
◉ ১৩. পর্তুগিজদের আগমন থেকে চট্টগ্রাম বিজয় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ
❖ ১৪৯৮ সাল: ভাস্কো-দা-গামার কালিকটে আগমন।
❖ ১৫১০ সাল: আলবুকার্কের গোয়া দখল।
❖ ১৫১১ সাল: পর্তুগিজদের মালাক্কা দখল।
❖ আনুমানিক ১৫১৬ সাল: বাংলায় পর্তুগিজদের প্রাথমিক যোগাযোগ।
❖ ১৫১৭–১৫১৮ সাল: চট্টগ্রামে পর্তুগিজ নৌঅভিযানের প্রাথমিক পর্যায়।
❖ ৯ মে ১৫১৮: জোয়াও দ্য সিলভেইরার নৌবহরের চট্টগ্রামে আগমন।
❖ ১৫৩৩–১৫৩৮ সাল: বাংলায় গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনকাল।
❖ আনুমানিক ১৫৩৬–১৫৩৭ সাল: পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্যিক সুবিধা লাভের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।
❖ ১৫৩৮ সাল: শের খানের গৌড় দখল।
❖ ১৬৩২ সাল: হুগলিতে পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে মুঘল অভিযান।
❖ ১৬৬৫–১৬৬৬ সাল: মুঘলদের চট্টগ্রাম অভিযান।
❖ ১৬৬৬ সাল: শায়েস্তা খানের পরিকল্পনায় মুঘল বাহিনীর চট্টগ্রাম বিজয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ চট্টগ্রামে পর্তুগিজদের প্রথম আগমনের জন্য বইয়ের আলোচিত সাল — ১৫১৮।
➤ চট্টগ্রামে পর্তুগিজ নৌবহরের নোঙরের বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখিত তারিখ — ৯ মে ১৫১৮।
➤ ১৫১৮ সালের অভিযানের নেতা — জোয়াও দ্য সিলভেইরা।
➤ বাংলায় পর্তুগিজদের প্রাথমিক যোগাযোগের প্রচলিত সাল — ১৫১৬।
➤ প্রথম পর্তুগিজ যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বণিক — জোয়াও কোয়েলহো।
➤ বাংলায় প্রথম আগত ইউরোপীয় বণিকগোষ্ঠী — পর্তুগিজ।
➤ চট্টগ্রামের পর্তুগিজ নাম — পোর্টো গ্র্যান্ডে।
➤ পোর্টো গ্র্যান্ডে অর্থ — বৃহৎ বন্দর।
➤ সাতগাঁওয়ের পর্তুগিজ নাম — পোর্টো পেকেনো।
➤ পোর্টো পেকেনো অর্থ — ছোট বন্দর।
➤ চট্টগ্রামের প্রধান নদী — কর্ণফুলী।
➤ চট্টগ্রামের সংলগ্ন সমুদ্র — বঙ্গোপসাগর।
➤ পর্তুগিজদের বাংলায় বাণিজ্যিক সুবিধা লাভের সঙ্গে সম্পর্কিত সুলতান — গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ।
➤ গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনকাল — ১৫৩৩–১৫৩৮।
➤ চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে পর্তুগিজদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অনুমতির সময় — আনুমানিক ১৫৩৬–১৫৩৭।
➤ বাংলায় পর্তুগিজদের প্রচলিত পরিচয় — ফিরিঙ্গি।
➤ পর্তুগিজ ও সংশ্লিষ্ট জলদস্যুদের ঐতিহাসিক পরিচয় — হার্মাদ।
➤ উপকূলীয় জলদস্যুতার সঙ্গে সম্পর্কিত আরেক গোষ্ঠী — আরাকানি বা মগ।
➤ পর্তুগিজ জলদস্যুদের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত দ্বীপ — সন্দ্বীপ।
➤ সন্দ্বীপের সঙ্গে সম্পর্কিত পর্তুগিজ অভিযাত্রী — সেবাস্তিয়ান গঞ্জালেস তিবাও।
➤ শের খানের গৌড় দখল — ১৫৩৮ সাল।
➤ শেরশাহ শূরের পূর্বনাম — ফরিদ খান।
➤ চৌসার যুদ্ধ — ১৫৩৯ সাল।
➤ কনৌজ বা বিলগ্রামের যুদ্ধ — ১৫৪০ সাল।
➤ শেরশাহ শূরের শাসনকাল — ১৫৪০–১৫৪৫।
➤ হুগলিতে পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে মুঘল অভিযান — ১৬৩২ সাল।
➤ হুগলি অভিযান সংঘটিত হয় — সম্রাট শাহজাহানের আমলে।
➤ চট্টগ্রাম মুঘলদের দখলে আসে — ১৬৬৬ সালে।
➤ চট্টগ্রাম বিজয়ের প্রধান পরিকল্পনাকারী — শায়েস্তা খান।
➤ চট্টগ্রাম বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেনাপতি — বুজুর্গ উমেদ খান।
➤ বুজুর্গ উমেদ খান ছিলেন — শায়েস্তা খানের পুত্র।
➤ চট্টগ্রাম বিজয়ের সময় মুঘল সম্রাট — আওরঙ্গজেব।
➤ মুঘল বিজয়ের পূর্বে চট্টগ্রামে প্রভাবশালী শাসনক্ষমতা — আরাকান রাজ্য।
➤ মুঘল আমলে চট্টগ্রামের নাম — ইসলামাবাদ।
➤ চট্টগ্রাম বিজয়ের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ — ২৬ জানুয়ারি ১৬৬৬।
➤ চট্টগ্রাম বিজয়ের প্রধান রাজনৈতিক ফলাফল — আরাকানি কর্তৃত্বের অবসান ও মুঘল প্রশাসন প্রতিষ্ঠা।
05
🎯 Level 1

১৩. কোন সম্রাটের আমলে পর্তুগিজদের হুগলী থেকে উচ্ছেদ করা হয়? (জাবি: ০৯–১০)

ক

আকবর

খ

শাহজাহান

গ

বাবর

ঘ

জাহাঙ্গীর

✅ সঠিক উত্তর:খ. শাহজাহান

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: সম্রাট শাহজাহান (Shah Jahan)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ১৬৩২ সালে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে হুগলীতে পর্তুগিজদের সুরক্ষিত ঘাঁটির বিরুদ্ধে মুঘল অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘ অবরোধের পর পর্তুগিজ প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে।
❖ মুঘল বাহিনীর অভিযানের নেতৃত্ব দেন বাংলার সুবাদার কাসিম খাঁ জুইনি (Qasim Khan Juvayni)।
১. সম্রাট শাহজাহানের জীবন ও পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: শাহাবউদ্দিন মুহম্মদ শাহজাহান।
❖ জন্মনাম: খুররম।
❖ জন্ম: ৫ জানুয়ারি ১৫৯২।
❖ জন্মস্থান: লাহোর।
❖ মৃত্যু: ২২ জানুয়ারি ১৬৬৬।
❖ পিতা: সম্রাট জাহাঙ্গীর।
❖ মাতা: জগৎ গোসাঁই।
❖ প্রধান স্ত্রী: মমতাজ মহল।
❖ রাজবংশ: মুঘল।
❖ শাসনকাল: ১৬২৮–১৬৫৮।
❖ সমাধি: তাজমহল, আগ্রা।
২. হুগলীতে পর্তুগিজদের বসতি
❖ ষোড়শ শতাব্দীতে পর্তুগিজরা বাংলার হুগলী অঞ্চলে ব্যবসা শুরু করে।
❖ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে তাদের বাণিজ্যকুঠি, গির্জা, বসতি ও সামরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
❖ হুগলী ইউরোপীয় বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়।
৩. পর্তুগিজদের সঙ্গে মুঘল শাসনের বিরোধ
❖ কিছু পর্তুগিজ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাসব্যবসা, অপহরণ, জলদস্যুতা ও মুঘল কর্তৃত্ব অমান্যের অভিযোগ ওঠে।
❖ হুগলীতে পর্তুগিজদের ক্রমবর্ধমান সামরিক ক্ষমতাও মুঘল প্রশাসনের উদ্বেগের কারণ ছিল।
❖ শাহজাহান এই ঘাঁটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
৪. হুগলী অভিযান — ১৬৩২
❖ ১৬৩২ সালে মুঘল বাহিনী হুগলীর পর্তুগিজ দুর্গ ও বসতি অবরোধ করে।
❖ নেতৃত্ব দেন বাংলার সুবাদার কাসিম খাঁ।
❖ পর্তুগিজরা কামান, নৌযান ও দুর্গপ্রতিরক্ষার মাধ্যমে প্রতিরোধের চেষ্টা করে।
❖ দীর্ঘ সামরিক সংঘর্ষ ও অবরোধের পর মুঘল বাহিনী হুগলী দখল করে।
❖ এই অভিযানে পর্তুগিজরা বড় ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
৫. হুগলী অভিযানের ফলাফল
❖ হুগলীতে পর্তুগিজদের স্বতন্ত্র সশস্ত্র আধিপত্যের অবসান ঘটে।
❖ মুঘল প্রশাসনের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ পর্তুগিজদের একটি অংশ নিহত বা বন্দি হয়; অন্যরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
❖ তবে বাংলায় পর্তুগিজদের বাণিজ্যিক বা সামাজিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়নি।
৬. কাসিম খাঁর ঐতিহাসিক পরিচিতি
❖ নাম: কাসিম খাঁ জুইনি।
❖ পদ: বাংলার মুঘল সুবাদার।
❖ সংশ্লিষ্ট সম্রাট: শাহজাহান।
❖ প্রধান সামরিক সাফল্য: হুগলীতে পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে অভিযান।
❖ অভিযানের সাল: ১৬৩২।
৭. শাহজাহানের অন্যান্য ঐতিহাসিক কীর্তি
❖ তাজমহল: মমতাজ মহলের স্মৃতিতে নির্মিত; নির্মাণ শুরু ১৬৩২।
❖ দিল্লির লালকেল্লা: নির্মাণ শুরু ১৬৩৮; সম্পন্ন ১৬৪৮।
❖ জামা মসজিদ, দিল্লি: শাহজাহানের শাসনামলে নির্মিত।
❖ শাহজাহানাবাদ: দিল্লির নতুন মুঘল রাজধানী।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ হুগলী থেকে পর্তুগিজদের উচ্ছেদের সময় সম্রাট — শাহজাহান।
➤ হুগলী অভিযান — ১৬৩২।
➤ অভিযানের মুঘল সেনাপতি ও সুবাদার — কাসিম খাঁ জুইনি।
➤ শাহজাহানের জন্মনাম — খুররম।
➤ শাহজাহানের জন্ম — ৫ জানুয়ারি ১৫৯২।
➤ শাহজাহানের মৃত্যু — ২২ জানুয়ারি ১৬৬৬।
➤ শাহজাহানের শাসনকাল — ১৬২৮–১৬৫৮।
➤ শাহজাহানের পিতা — জাহাঙ্গীর।
➤ শাহজাহানের প্রধান স্ত্রী — মমতাজ মহল।
➤ শাহজাহানের বিখ্যাত সমাধিসৌধ — তাজমহল।
➤ তাজমহল নির্মাণ শুরু — ১৬৩২।
➤ শাহজাহানের নির্মিত দিল্লির দুর্গ — লালকেল্লা।
➤ লালকেল্লা নির্মাণ শুরু — ১৬৩৮।
➤ দিল্লির নতুন মুঘল নগর — শাহজাহানাবাদ।
➤ বাংলার পর্তুগিজদের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র — হুগলী, সাতগাঁও ও চট্টগ্রাম।
➤ চট্টগ্রাম মুঘল বিজয় — ১৬৬৬।
➤ চট্টগ্রাম বিজয়ের সুবাদার — শায়েস্তা খাঁ।
➤ বিশেষ পার্থক্য: ১৬৩২ সালে হুগলী অভিযান—শাহজাহানের আমলে; ১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিজয়—আওরঙ্গজেবের আমলে, সুবাদার শায়েস্তা খাঁ।
Advertisement
06
🎯 Level 1

১৫. বাংলার দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষকে পর্তুগিজ ও মগ জলদস্যুদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করেন কে? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক: ০৮)

ক

মুর্শিদকুলি খান

খ

ইসলাম খান

গ

শায়েস্তা খান

ঘ

ঈসা খান

✅ সঠিক উত্তর:গ. শায়েস্তা খান

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: শায়েস্তা খাঁ (Shaista Khan)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম দখলের মাধ্যমে বাংলার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে আরাকানীয় বা মগ জলদস্যুদের শক্তি দুর্বল করেন এবং পর্তুগিজ জলদস্যুদের উৎপাত নিয়ন্ত্রণে আনেন।
❖ তাঁর প্রশাসনিক উদ্যোগে চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মুঘল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ, কৃষি ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।
১. শায়েস্তা খাঁর জীবন ও পরিচিতি
❖ নাম: মির্জা আবু তালিব শায়েস্তা খাঁ।
❖ ইংরেজি নাম: Shaista Khan।
❖ জন্ম: আনুমানিক ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ মৃত্যু: ১৬৯৪ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ পিতা: আবুল হাসান আসফ খান।
❖ ফুফু/পারিবারিক সম্পর্ক: আসফ খানের বোন ছিলেন সম্রাজ্ঞী নূরজাহান।
❖ ভগ্নি: মমতাজ মহল।
❖ সম্পর্ক: মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মাতুল।
❖ পদ: বাংলার মুঘল সুবাদার।
❖ সুবাদারি: ১৬৬৩–১৬৭৮ এবং ১৬৭৯–১৬৮৮।
❖ রাজধানী: ঢাকা।
❖ প্রধান সামরিক সাফল্য: চট্টগ্রাম বিজয়, ১৬৬৬।
২. শায়েস্তা খাঁর বাংলার সুবাদার হওয়া
❖ মীর জুমলার মৃত্যুর পর সম্রাট আওরঙ্গজেব শায়েস্তা খাঁকে বাংলার সুবাদার নিয়োগ করেন।
❖ ১৬৬৩ সাল থেকে তিনি বাংলার প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন।
❖ রাজস্ব আদায়, নৌবাহিনী ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
৩. দক্ষিণ বাংলায় মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের অত্যাচার
❖ আরাকানীয় জলদস্যুরা বর্তমান রাখাইন অঞ্চল থেকে বাংলার উপকূলে আক্রমণ করত।
❖ পর্তুগিজ জলদস্যুদের একটি অংশ তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করত।
❖ তারা গ্রাম ও নদীপথে লুণ্ঠন চালাত।
❖ বহু মানুষ বন্দি হয়ে দাসব্যবসার শিকার হতো।
❖ এর ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
৪. সন্দ্বীপ অভিযান — ১৬৬৫
❖ চট্টগ্রাম অভিযানের আগে শায়েস্তা খাঁ সন্দ্বীপের ওপর মুঘল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন।
❖ ১৬৬৫ সালে মুঘল নৌবাহিনী সন্দ্বীপ দখল করে।
❖ সন্দ্বীপের শক্তিশালী শাসক ছিলেন দিলাওয়ার খাঁ।
❖ মুঘল বাহিনী তাঁকে পরাজিত করে।
❖ সন্দ্বীপ দখলের ফলে চট্টগ্রামের বিরুদ্ধে মুঘল অভিযানের পথ সহজ হয়।
৫. চট্টগ্রাম অভিযান — ১৬৬৫–১৬৬৬
❖ শায়েস্তা খাঁ চট্টগ্রাম দখলের জন্য স্থল ও নৌবাহিনী প্রস্তুত করেন।
❖ তাঁর পুত্র বুজুর্গ উমেদ খাঁ স্থলবাহিনীর নেতৃত্ব দেন।
❖ নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন ইবনে হোসেন।
❖ অভিযানে প্রায় ৬,৫০০ স্থলসৈন্য এবং প্রায় ২৮৮টি মুঘল যুদ্ধজাহাজ ব্যবহারের ঐতিহাসিক বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ পর্তুগিজদের একটি অংশ মুঘলদের পক্ষে যোগ দেয়।
৬. চট্টগ্রাম বিজয় — জানুয়ারি ১৬৬৬
❖ মুঘল বাহিনী স্থল ও জলপথে আরাকানীয়দের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে।
❖ ২৬–২৭ জানুয়ারি ১৬৬৬ নাগাদ চট্টগ্রাম দুর্গ ও বন্দর মুঘলদের নিয়ন্ত্রণে আসে।
❖ আরাকানীয় বাহিনী পরাজিত হয়ে পশ্চাদপসরণ করে।
❖ এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
৭. চট্টগ্রামের নাম পরিবর্তন
❖ চট্টগ্রাম বিজয়ের পর এর নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
❖ এটি মুঘল প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
❖ বুজুর্গ উমেদ খাঁ চট্টগ্রামের প্রথম মুঘল ফৌজদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৮. শায়েস্তা খাঁর অন্যান্য কীর্তি
❖ বাংলার নৌবাহিনী শক্তিশালী করেন।
❖ চট্টগ্রামে মুঘল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ ঢাকায় স্থাপত্য ও নগর উন্নয়নে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
❖ তাঁর আমলে ঢাকায় ছোট কাটরা নির্মিত হয়।
❖ প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণে তাঁর আমলের দ্রব্যমূল্যের সস্তা অবস্থার উদাহরণ হিসেবে টাকায় আট মণ চাল বিক্রির কথা উল্লেখ করা হয়; এটি সাধারণ বাজারদরের নির্ভুল পরিসংখ্যান হিসেবে ধরা উচিত নয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের শক্তি দমনকারী সুবাদার — শায়েস্তা খাঁ।
➤ শায়েস্তা খাঁর পূর্ণ নাম — মির্জা আবু তালিব শায়েস্তা খাঁ।
➤ শায়েস্তা খাঁর জন্ম — আনুমানিক ১৬০০।
➤ মৃত্যু — ১৬৯৪।
➤ বাংলার সুবাদার হন — ১৬৬৩ সালে।
➤ সুবাদার হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ — ১৬৭৯–১৬৮৮।
➤ শায়েস্তা খাঁর নিয়োগদাতা — সম্রাট আওরঙ্গজেব।
➤ শায়েস্তা খাঁ ছিলেন — আওরঙ্গজেবের মাতুল।
➤ শায়েস্তা খাঁর পিতা — আসফ খান।
➤ শায়েস্তা খাঁর ভগ্নি — মমতাজ মহল।
➤ শায়েস্তা খাঁর রাজধানী — ঢাকা।
➤ সন্দ্বীপ বিজয় — ১৬৬৫।
➤ সন্দ্বীপের পরাজিত শাসক — দিলাওয়ার খাঁ।
➤ চট্টগ্রাম বিজয় — ১৬৬৬।
➤ বিজয়ের সময় — ২৬–২৭ জানুয়ারি ১৬৬৬।
➤ চট্টগ্রাম অভিযানের স্থলসেনাপতি — বুজুর্গ উমেদ খাঁ।
➤ নৌবাহিনীর সেনাপতি — ইবনে হোসেন।
➤ পরাজিত শক্তি — আরাকানীয় বা মগ বাহিনী।
➤ চট্টগ্রামের নতুন নাম — ইসলামাবাদ।
➤ চট্টগ্রামের প্রথম মুঘল ফৌজদার — বুজুর্গ উমেদ খাঁ।
➤ শায়েস্তা খাঁর আমলের বিখ্যাত স্থাপনা — ছোট কাটরা।
➤ ছোট কাটরার অবস্থান — পুরান ঢাকা।
➤ প্রচলিত খাদ্যমূল্যের ঘটনা — টাকায় আট মণ চাল।
➤ বিশেষ পার্থক্য: ১৬৩২—হুগলীতে পর্তুগিজ ঘাঁটি দমন; ১৬৬৫—সন্দ্বীপ বিজয়; ১৬৬৬—চট্টগ্রাম বিজয়।
07
🎯 Level 1

১৯. ওলন্দাজরা কখন ভারতে আসেন? (হৃদরোগের উপ-সহকারী পরিচালক: ০৮)

ক

১৬০২ সালে

খ

১৫০২ সালে

গ

১৬০৫ সালে

ঘ

১৫৮০ সালে

✅ সঠিক উত্তর:ক. ১৬০২ সালে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ প্রচলিত পরীক্ষার উত্তর: ১৬০২ সাল।
◈ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পার্থক্য:
❖ ১৬০২ সালে ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (VOC) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সালটিকে সাধারণ জ্ঞান বইয়ে ওলন্দাজদের ভারতীয় উপমহাদেশে আগমনের প্রধান সূচনাসাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
❖ তবে ১৬০২ সালে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং নির্দিষ্ট ভারতীয় বন্দরে প্রথম ওলন্দাজ বাণিজ্যকুঠি স্থাপনের ঘটনা এক নয়।
১. ওলন্দাজদের পরিচিতি
❖ ওলন্দাজ (Dutch) বলতে নেদারল্যান্ডসের অধিবাসী বা ডাচ জনগোষ্ঠীকে বোঝায়।
❖ দেশ: নেদারল্যান্ডস।
❖ ইংরেজি নাম: Netherlands।
❖ ঐতিহাসিক পরিচয়: Holland বা হল্যান্ড নামেও প্রচলিত।
❖ বর্তমান রাজধানী: আমস্টারডাম।
❖ সরকারি প্রশাসনিক কেন্দ্র: দ্য হেগ।
২. ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিষ্ঠা
❖ ২০ মার্চ ১৬০২ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ এর ডাচ নাম Vereenigde Oostindische Compagnie।
❖ সংক্ষিপ্ত নাম VOC।
❖ এটি একাধিক ডাচ বাণিজ্যপ্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করে গঠিত হয়।
❖ প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এশিয়ার মসলা ও অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্যে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা।
৩. ভারতীয় উপমহাদেশে ওলন্দাজদের বাণিজ্য
❖ প্রথমদিকে ওলন্দাজরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মসলাবাণিজ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
❖ পরবর্তী সময়ে ভারতের করোমণ্ডল উপকূলে ও বাংলায় বাণিজ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে।
❖ ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের পুলিকট (Pulicat) তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
৪. বাংলায় ওলন্দাজ বাণিজ্য
❖ সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ওলন্দাজরা বাংলায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ করে।
❖ চুঁচুড়া ছিল বাংলায় ওলন্দাজ বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্রগুলোর একটি।
❖ তারা রেশম, সুতি বস্ত্র, লবণশোরা ও অন্যান্য পণ্য সংগ্রহ করত।
❖ রাজশাহী অঞ্চলেও তাদের রেশমবাণিজ্যের কেন্দ্র গড়ে ওঠে।
৫. ডাচ বাণিজ্যের প্রধান পণ্য
❖ মসলা।
❖ রেশম।
❖ সুতি বস্ত্র।
❖ নীল।
❖ লবণশোরা।
❖ অন্যান্য কৃষি ও শিল্পপণ্য।
৬. ওলন্দাজদের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা
❖ পর্তুগিজদের পর ওলন্দাজরা এশীয় সমুদ্রবাণিজ্যে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।
❖ ইংরেজ ও ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একই সময়ে এশিয়ার বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে।
❖ পরবর্তী সময়ে বাংলায় ইংরেজদের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি ওলন্দাজদের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ওলন্দাজদের ভারতে আগমনের প্রচলিত পরীক্ষার সাল — ১৬০২।
➤ ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা — ২০ মার্চ ১৬০২।
➤ ডাচ কোম্পানির সংক্ষিপ্ত নাম — VOC।
➤ VOC-এর পূর্ণ নাম — Vereenigde Oostindische Compagnie।
➤ ওলন্দাজদের দেশ — নেদারল্যান্ডস।
➤ নেদারল্যান্ডসের ঐতিহাসিক পরিচিত নাম — হল্যান্ড।
➤ নেদারল্যান্ডসের রাজধানী — আমস্টারডাম।
➤ নেদারল্যান্ডসের সরকারি প্রশাসনিক কেন্দ্র — দ্য হেগ।
➤ বাংলায় ওলন্দাজদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র — চুঁচুড়া।
➤ বাংলায় ওলন্দাজদের আরেক বাণিজ্যকেন্দ্র — রাজশাহী।
➤ রাজশাহীর ওলন্দাজ বাণিজ্যস্থাপনা — বড়কুঠি।
➤ দক্ষিণ ভারতে ডাচদের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক বাণিজ্যকেন্দ্র — পুলিকট।
➤ ওলন্দাজদের প্রধান পণ্য — মসলা, রেশম ও বস্ত্র।
➤ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা — ১৬০০।
➤ ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা — ১৬০২।
➤ বিশেষ পার্থক্য: ইংরেজ কোম্পানি—১৬০০; ওলন্দাজ কোম্পানি—১৬০২; ডেনিশ কোম্পানি—১৬১৬।
08
🎯 Level 1

২১. ইউনাইটেড ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে— / ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে— (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১৯; নৌবাহিনীর ফার্মাসিস্ট: ২০)

ক

হল্যান্ড

খ

স্পেন

গ

ব্রিটেন

ঘ

ফ্রান্স

✅ সঠিক উত্তর:ক. হল্যান্ড

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: হল্যান্ড বা নেদারল্যান্ডস।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বা ইউনাইটেড ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ২০ মার্চ ১৬০২ সালে নেদারল্যান্ডসে প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ এর মূল ডাচ নাম ছিল Vereenigde Oostindische Compagnie (VOC)।
❖ এটি একাধিক ডাচ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করে গঠিত হয়েছিল। এ কারণে এর নামের মধ্যে Vereenigde বা United শব্দ রয়েছে।
১. কোম্পানির পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: Vereenigde Oostindische Compagnie।
❖ ইংরেজি নাম: Dutch East India Company।
❖ অন্য পরিচিতি: United East India Company।
❖ সংক্ষিপ্ত নাম: VOC।
❖ প্রতিষ্ঠা: ২০ মার্চ ১৬০২।
❖ প্রতিষ্ঠার দেশ: নেদারল্যান্ডস।
❖ প্রধান উদ্দেশ্য: এশিয়ায় বাণিজ্য পরিচালনা।
❖ কোম্পানির বিলুপ্তি: ১৭৯৯ সালের শেষভাগ।
২. কোম্পানি গঠনের পটভূমি
❖ ষোড়শ শতাব্দীর শেষে ডাচ বণিকেরা এশিয়ার মসলাবাণিজ্যে অংশগ্রহণ শুরু করে।
❖ একই দেশের একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছিল।
❖ এই প্রতিযোগিতা কমিয়ে বৃহৎ বাণিজ্যিক শক্তি গঠনের উদ্দেশ্যে কোম্পানিগুলোকে একত্রিত করা হয়।
❖ ১৬০২ সালে ডাচ সরকার নতুন কোম্পানিকে এশিয়ার বাণিজ্যে বিশেষ অধিকার দেয়।
৩. ডাচ কোম্পানির ক্ষমতা
❖ কোম্পানিটি শুধু ব্যবসা করত না; নির্দিষ্ট শর্তে সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারত।
❖ দুর্গ নির্মাণ।
❖ সৈন্য নিয়োগ।
❖ চুক্তি সম্পাদন।
❖ যুদ্ধ পরিচালনা।
❖ বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
৪. কোম্পানির এশীয় কেন্দ্র
❖ ডাচরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মসলাবাণিজ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
❖ বর্তমান ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ডাচ শাসনামলে বাটাভিয়া (Batavia) নামে পরিচিত ছিল।
❖ ১৬১৯ সালে বাটাভিয়া VOC-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রধান এশীয় কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
৫. ভারতে ডাচ কোম্পানির কার্যক্রম
❖ পুলিকট।
❖ নাগাপট্টিনম।
❖ চুঁচুড়া।
❖ কাশিমবাজার।
❖ রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ডাচ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ছিল।
৬. বাংলার রেশমবাণিজ্যে অবদান
❖ বাংলা ছিল উৎকৃষ্ট রেশম উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।
❖ ডাচ কোম্পানি স্থানীয় বণিক ও উৎপাদকদের কাছ থেকে রেশম সংগ্রহ করত।
❖ চুঁচুড়া ও কাশিমবাজার ছিল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র।
❖ রাজশাহীর রেশমবাণিজ্যের ইতিহাসেও ডাচদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
৭. কোম্পানির পতন
❖ অষ্টাদশ শতাব্দীতে ডাচ কোম্পানি আর্থিক সংকটে পড়ে।
❖ যুদ্ধ, ঋণ ও প্রশাসনিক দুর্নীতির কারণে কোম্পানির অবস্থান দুর্বল হয়।
❖ ১৭৯৯ সালে VOC বিলুপ্ত হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ইউনাইটেড ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে — হল্যান্ড।
➤ কোম্পানির ইংরেজি নাম — Dutch East India Company।
➤ সংক্ষিপ্ত নাম — VOC।
➤ VOC-এর পূর্ণ ডাচ নাম — Vereenigde Oostindische Compagnie।
➤ প্রতিষ্ঠা — ২০ মার্চ ১৬০২।
➤ প্রতিষ্ঠার দেশ — নেদারল্যান্ডস।
➤ কোম্পানির প্রধান ব্যবসা — এশিয়ার মসলা ও অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্য।
➤ VOC-এর গুরুত্বপূর্ণ এশীয় রাজধানী — বাটাভিয়া।
➤ বাটাভিয়ার বর্তমান নাম — জাকার্তা।
➤ বাটাভিয়া প্রধান কেন্দ্র হয় — ১৬১৯।
➤ বাটাভিয়া অবস্থিত — ইন্দোনেশিয়া।
➤ ভারতে ডাচদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র — পুলিকট।
➤ বাংলায় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র — চুঁচুড়া।
➤ আরেক কেন্দ্র — কাশিমবাজার।
➤ ডাচ বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাংলার পণ্য — রেশম।
➤ VOC বিলুপ্ত হয় — ১৭৯৯।
➤ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা — ১৬০০।
➤ বিশেষ পার্থক্য: ইংরেজ East India Company—১৬০০; ডাচ VOC—১৬০২; ডেনিশ East India Company—১৬১৬।
Advertisement
09
🎯 Level 1

২৪. কত সালে ইংল্যান্ডে দি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি স্থাপিত হয়? (জাবি: ১২–১৩)

ক

১৬০৮ সালে

খ

১৭৫৭ সালে

গ

১৬০০ সালে

ঘ

১৬৫২ সালে

✅ সঠিক উত্তর:গ. ১৬০০ সালে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ (৩১ ডিসেম্বর)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ৩১ ডিসেম্বর ১৬০০ সালে ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ (Queen Elizabeth I) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে রাজকীয় সনদ প্রদান করেন।
❖ কোম্পানির প্রাথমিক আনুষ্ঠানিক নাম ছিল The Governor and Company of Merchants of London Trading into the East Indies।
❖ প্রতিষ্ঠার সময় এটি ছিল একটি ইংরেজ বাণিজ্যিক কোম্পানি। পরে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্জন করে।
১. ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচিতি
❖ নাম: ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
❖ ইংরেজি নাম: East India Company (EIC)।
❖ প্রতিষ্ঠা: ৩১ ডিসেম্বর ১৬০০।
❖ প্রতিষ্ঠার দেশ: ইংল্যান্ড।
❖ প্রতিষ্ঠার অনুমতিদাতা: রানি প্রথম এলিজাবেথ।
❖ প্রথম গভর্নর: স্যার টমাস স্মাইথ (Sir Thomas Smythe)।
❖ প্রথম রাজকীয় বাণিজ্যসনদের মেয়াদ: ১৫ বছর।
❖ প্রাথমিক উদ্দেশ্য: এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য।
❖ কোম্পানির ভারতে শাসনক্ষমতার অবসান: ১৮৫৮।
২. কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পটভূমি
❖ ষোড়শ শতাব্দীর শেষদিকে ইউরোপে এশিয়ার মসলা, রেশম ও সুতি বস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
❖ পর্তুগিজ ও অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকেরা এশিয়ার সমুদ্রবাণিজ্যে সক্রিয় ছিল।
❖ ইংরেজ বণিকেরা এই লাভজনক বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
❖ একাধিক বণিক যৌথভাবে মূলধন সংগ্রহ করে একটি বৃহৎ বাণিজ্যপ্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করেন।
৩. কোম্পানির ২১৮ জন প্রাথমিক অংশগ্রহণকারী
❖ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ২১৮ জন প্রাথমিক বণিক ও বিনিয়োগকারীর নাম ঐতিহাসিক বিবরণে সম্পর্কিত।
❖ কোম্পানির রাজকীয় সনদে আর্ল অব কাম্বারল্যান্ডসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বণিকের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
❖ তাঁদের যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে সমুদ্রপথে এশিয়ায় বাণিজ্য অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
৪. রানি প্রথম এলিজাবেথের পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: Elizabeth I।
❖ জন্ম: ৭ সেপ্টেম্বর ১৫৩৩।
❖ মৃত্যু: ২৪ মার্চ ১৬০৩।
❖ পিতা: ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরি।
❖ মাতা: অ্যান বোলিন।
❖ শাসনকাল: ১৫৫৮–১৬০৩।
❖ তাঁর শাসনামল Elizabethan Age নামে পরিচিত।
❖ ইংরেজ সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নৌক্ষমতার বিকাশে তাঁর যুগ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
৫. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম সমুদ্র অভিযান
❖ ১৬০১ সালে কোম্পানির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবাণিজ্য অভিযান শুরু হয়।
❖ অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেমস ল্যাঙ্কাস্টার (James Lancaster)।
❖ অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এশিয়ার বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন।
❖ পরবর্তী সময়ে কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশের বন্দরগুলোতে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করে।
৬. ভারতে ইংরেজদের আগমন
❖ ১৬০৮ সালে ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হকিন্স সুরাট বন্দরে পৌঁছান।
❖ তিনি ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমসের চিঠি নিয়ে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে যান।
❖ ১৬১২ সালে ক্যাপ্টেন টমাস বেস্ট সুরাটের কাছে পর্তুগিজ নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করেন।
❖ পরবর্তী সময়ে সুরাটে ইংরেজদের স্থায়ী বাণিজ্যকুঠি প্রতিষ্ঠার অনুমতি লাভের পথ সুগম হয়।
৭. বাংলায় ইংরেজ কোম্পানির বাণিজ্য
❖ সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বাংলায় ইংরেজ কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়।
❖ ১৬৫১ সালে হুগলীতে ইংরেজ কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকুঠি প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ বাংলার সুবাদার শাহ সুজা কোম্পানিকে বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদান করেন।
❖ পরবর্তী সময়ে কাশিমবাজার, ঢাকা ও কলকাতায় কোম্পানির কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়।
৮. বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে রাজনৈতিক শক্তিতে উত্তরণ
❖ ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর কোম্পানি বাংলার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নির্ণায়ক প্রভাব অর্জন করে।
❖ ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধ কোম্পানির সামরিক অবস্থান সুসংহত করে।
❖ ১৭৬৫ সালে কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে।
❖ এর ফলে রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে কোম্পানি সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করে।
৯. কোম্পানির শাসনের অবসান
❖ ১৮৫৭ সালে ভারতে বৃহৎ সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
❖ বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার কোম্পানির রাজনৈতিক শাসনের অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
❖ ১৮৫৮ সালের Government of India Act অনুসারে ভারতের শাসন ব্রিটিশ ক্রাউনের হাতে স্থানান্তরিত হয়।
❖ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আইনগত অস্তিত্ব পরে ১৮৭৪ সালে সম্পূর্ণ শেষ হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা — ৩১ ডিসেম্বর ১৬০০।
➤ কোম্পানির প্রতিষ্ঠার দেশ — ইংল্যান্ড।
➤ প্রতিষ্ঠার অনুমতিদাতা — রানি প্রথম এলিজাবেথ।
➤ প্রতিষ্ঠাকালে নাম — The Governor and Company of Merchants of London Trading into the East Indies।
➤ কোম্পানির সংক্ষিপ্ত নাম — EIC।
➤ কোম্পানির প্রথম গভর্নর — স্যার টমাস স্মাইথ।
➤ প্রথম রাজকীয় সনদের মেয়াদ — ১৫ বছর।
➤ কোম্পানির প্রাথমিক অংশগ্রহণকারী — ২১৮ জন (প্রচলিত হিসাব)।
➤ প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র অভিযানের নেতা — জেমস ল্যাঙ্কাস্টার।
➤ প্রথম সমুদ্র অভিযান — ১৬০১।
➤ ভারতে ক্যাপ্টেন হকিন্সের আগমন — ১৬০৮।
➤ হকিন্সের জাহাজ — হেক্টর (Hector)।
➤ হকিন্সের আগমনস্থল — সুরাট।
➤ ইংরেজদের বাণিজ্য অনুমতিদানকারী মুঘল সম্রাট — জাহাঙ্গীর।
➤ সুরাটের নৌসংঘর্ষে ইংরেজ নেতা — টমাস বেস্ট।
➤ সোয়ালির নৌযুদ্ধ — ১৬১২।
➤ ইংরেজদের সুরাটে স্থায়ী বাণিজ্যকুঠি — ১৬১৩ সালের কাছাকাছি।
➤ বাংলায় ইংরেজদের হুগলী বাণিজ্যকুঠি — ১৬৫১।
➤ বাংলার সংশ্লিষ্ট সুবাদার — শাহ সুজা।
➤ পলাশীর যুদ্ধ — ২৩ জুন ১৭৫৭।
➤ বক্সারের যুদ্ধ — ২৩ অক্টোবর ১৭৬৪।
➤ কোম্পানির দেওয়ানি লাভ — ১৭৬৫।
➤ কোম্পানির শাসনের অবসান — ১৮৫৮।
➤ কোম্পানির আইনগত বিলুপ্তি — ১৮৭৪।
➤ বিশেষ পার্থক্য: কোম্পানি প্রতিষ্ঠা—১৬০০; হকিন্সের আগমন—১৬০৮; প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সুরাট নৌজয়—১৬১২; পলাশীর যুদ্ধ—১৭৫৭।
10
🎯 Level 1

২৬. কোন ইংরেজ ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমসের চিঠি নিয়ে সর্বপ্রথম সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন? (বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের অফিসার: ০১)

ক

ক্যাপ্টেন হকিন্স

খ

এডওয়ার্ডস

গ

উইলিয়াম করি

ঘ

স্যার টমাস রো

✅ সঠিক উত্তর:ক. ক্যাপ্টেন হকিন্স

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হকিন্স (Captain William Hawkins)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হকিন্স ১৬০৮ সালে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজ নিয়ে সুরাট বন্দরে পৌঁছান এবং ১৬০৯ সালে ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমসের চিঠি নিয়ে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে উপস্থিত হন।
❖ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্য মুঘল সাম্রাজ্যে বাণিজ্য পরিচালনার অনুমতি লাভ করা।
❖ ১৬০৯ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি আগ্রায় জাহাঙ্গীরের দরবারে পৌঁছান বলে গবেষণামূলক ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
১. ক্যাপ্টেন হকিন্সের জীবন ও পরিচিতি
❖ নাম: উইলিয়াম হকিন্স (William Hawkins)।
❖ উপাধি বা পরিচয়: ক্যাপ্টেন হকিন্স।
❖ জাতীয়তা: ইংরেজ।
❖ পেশা: নাবিক, বণিক ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি।
❖ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি: English East India Company।
❖ ভারতে আগমন: ১৬০৮।
❖ জাহাজ: হেক্টর (Hector)।
❖ ভারতে আগমনস্থল: সুরাট।
❖ মুঘল সম্রাট: জাহাঙ্গীর।
❖ ইংল্যান্ডের রাজা: প্রথম জেমস।
❖ মুঘল দরবারে উপস্থিতি: ১৬০৯।
২. ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমসের পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: James I of England।
❖ জন্ম: ১৯ জুন ১৫৬৬।
❖ মৃত্যু: ২৭ মার্চ ১৬২৫।
❖ ইংল্যান্ডের রাজা হন: ১৬০৩ সালে।
❖ শাসনকাল: ১৬০৩–১৬২৫।
❖ পূর্বে ছিলেন: স্কটল্যান্ডের রাজা ষষ্ঠ জেমস।
❖ তাঁর শাসনামলে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করে।
৩. মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: নূরউদ্দিন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর।
❖ জন্মনাম: সেলিম।
❖ জন্ম: ৩১ আগস্ট ১৫৬৯।
❖ মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর ১৬২৭।
❖ পিতা: সম্রাট আকবর।
❖ মাতা: মরিয়ম-উজ-জামানি।
❖ প্রধান স্ত্রী: নূরজাহান।
❖ রাজবংশ: মুঘল।
❖ শাসনকাল: ১৬০৫–১৬২৭।
❖ সমাধি: শাহদারা বাগ, লাহোর।
৪. হকিন্সের সুরাটে আগমন — ১৬০৮
❖ ক্যাপ্টেন হকিন্স ১৬০৮ সালের আগস্টে সুরাট বন্দরে পৌঁছান।
❖ তাঁর জাহাজের নাম ছিল হেক্টর।
❖ তিনি ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমসের চিঠি বহন করছিলেন।
❖ চিঠির উদ্দেশ্য ছিল মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে ইংরেজদের বাণিজ্যের অনুমতি লাভ করা।
৫. আগ্রার মুঘল দরবারে উপস্থিতি — ১৬০৯
❖ হকিন্স সুরাট থেকে আগ্রার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
❖ ১৬ এপ্রিল ১৬০৯ জাহাঙ্গীরের দরবারে পৌঁছান।
❖ তিনি ইংল্যান্ডের রাজার চিঠি জাহাঙ্গীরের কাছে উপস্থাপন করেন।
❖ হকিন্স তুর্কি ভাষায় কথা বলতে পারতেন।
❖ জাহাঙ্গীরের দরবারে তুর্কি ভাষায় তাঁর যোগাযোগ ও আলোচনার ঐতিহাসিক বিবরণ পাওয়া যায়।
৬. হকিন্সের বাণিজ্যিক আবেদন
❖ হকিন্স মুঘল সাম্রাজ্যে ইংরেজদের জন্য স্থায়ী বাণিজ্যকুঠি স্থাপনের অনুমতি চান।
❖ তিনি সুরাটে ইংরেজদের বাণিজ্যিক অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।
❖ কিন্তু পর্তুগিজদের প্রভাব এবং মুঘল প্রশাসনের বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরোধিতায় তাঁর প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
❖ তিনি ১৬১১ সালের দিকে মুঘল দরবার ত্যাগ করেন।
৭. পর্তুগিজদের বিরোধিতার কারণ
❖ পর্তুগিজরা ভারত মহাসাগরের বাণিজ্যে দীর্ঘদিন শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছিল।
❖ ইংরেজ কোম্পানির আগমন তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থের জন্য হুমকি ছিল।
❖ ফলে তারা মুঘল দরবারে ইংরেজদের বাণিজ্যিক অনুমতি লাভের বিরোধিতা করত।
৮. স্যার টমাস রোর আগমন
❖ স্যার টমাস রো (Sir Thomas Roe) ছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমসের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূত।
❖ তিনি ১৬১৫ সালে ভারতে পৌঁছান এবং মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে উপস্থিত হন।
❖ তিনি দীর্ঘ সময় মুঘল দরবারে অবস্থান করেন।
❖ ১৬১৫–১৬১৯ সাল পর্যন্ত তাঁর দূতাবাসের কার্যক্রম চলে।
❖ তাঁর আলোচনার মাধ্যমে ইংরেজ কোম্পানির বাণিজ্যিক সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হয়।
৯. হকিন্স ও টমাস রোর ঐতিহাসিক পার্থক্য
◉ ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হকিন্স
❖ ভারতে আগমন — ১৬০৮।
❖ জাহাঙ্গীরের দরবারে উপস্থিতি — ১৬০৯।
❖ রাজা প্রথম জেমসের চিঠি বহন করেন।
❖ কোম্পানির প্রাথমিক প্রতিনিধি হিসেবে বাণিজ্য অনুমতির চেষ্টা করেন।
◉ স্যার টমাস রো
❖ ভারতে আগমন — ১৬১৫।
❖ ইংল্যান্ডের রাজার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূত।
❖ মুঘল দরবারে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে বাণিজ্যিক সুবিধা লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রথম জেমসের চিঠি নিয়ে জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন — ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হকিন্স।
➤ ক্যাপ্টেন হকিন্সের ইংরেজি নাম — William Hawkins।
➤ ভারতে আগমন — ১৬০৮।
➤ আগমনস্থল — সুরাট বন্দর।
➤ জাহাজ — হেক্টর (Hector)।
➤ জাহাঙ্গীরের দরবারে উপস্থিতি — ১৬ এপ্রিল ১৬০৯।
➤ মুঘল দরবারের স্থান — আগ্রা।
➤ হকিন্সের চিঠি প্রেরণকারী — ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমস।
➤ প্রথম জেমসের শাসনকাল — ১৬০৩–১৬২৫।
➤ জাহাঙ্গীরের শাসনকাল — ১৬০৫–১৬২৭।
➤ জাহাঙ্গীরের জন্মনাম — সেলিম।
➤ জাহাঙ্গীরের পিতা — আকবর।
➤ জাহাঙ্গীরের প্রধান স্ত্রী — নূরজাহান।
➤ জাহাঙ্গীরের সমাধি — শাহদারা বাগ, লাহোর।
➤ হকিন্স যে ভাষায় দক্ষ ছিলেন — তুর্কি।
➤ হকিন্সের বাণিজ্য প্রচেষ্টার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী — পর্তুগিজরা।
➤ ইংল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূত — স্যার টমাস রো।
➤ স্যার টমাস রোর ভারতে আগমন — ১৬১৫।
➤ স্যার টমাস রোর দূতাবাস — ১৬১৫–১৬১৯।
➤ বিশেষ পার্থক্য: হকিন্স—১৬০৮ সালে সুরাট, ১৬০৯ সালে জাহাঙ্গীরের দরবার; টমাস রো—১৬১৫ সালে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূত।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন