🧠 🔖
👑 Premium Topic

উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন

◉ সাধারণ জ্ঞান-বাংলাদেশ বিষয়াবলী›উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚72মোট প্রশ্ন
🎯5মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০১. বাংলার প্রথম গভর্নর কে? (শ্রম অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক: ৯৯)

ক

লর্ড কর্নওয়ালিস

খ

ওয়ারেন হেস্টিংস

গ

ওয়ারেন হেস্টিংস

ঘ

লর্ড ক্লাইভ

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. লর্ড ক্লাইভ

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: লর্ড ক্লাইভ (Lord Clive / Robert Clive)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ রবার্ট ক্লাইভ (Robert Clive) ছিলেন বাংলায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বইয়ে তাঁকে বাংলার প্রথম গভর্নর হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ এবং ১৭৬৫ সালে কোম্পানির দেওয়ানি লাভের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কিত।
❖ রবার্ট ক্লাইভের জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর ১৭২৫ সালে ইংল্যান্ডের শ্রপশায়ারের স্টাইচে। তিনি ২২ নভেম্বর ১৭৭৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
❖ ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে। এই বিজয়ের পেছনে নবাবের দরবারের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ষড়যন্ত্র এবং সেনাপতি মীর জাফরের অসহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধের পর ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের মধ্যে এলাহাবাদ চুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি, অর্থাৎ রাজস্ব প্রশাসনের অধিকার লাভ করে।
❖ এর ফলে বাংলার নবাবের হাতে নামমাত্র নিজামত বা শাসন ও বিচারসংক্রান্ত দায়িত্ব থাকলেও কোম্পানি রাজস্ব সংগ্রহ এবং প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণ করত।
❖ দেওয়ানি ও নিজামত—এই দুটি প্রশাসনিক ক্ষেত্রের আনুষ্ঠানিক বিভাজন এবং ক্ষমতা ও দায়িত্বের অসম বণ্টনকে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা (Dual Government) বলা হয়। রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে এই ব্যবস্থা চালু করেন, যা ১৭৭২ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
◉ ১. রবার্ট ক্লাইভের পরিচয় ও কর্মজীবন
❖ পূর্ণ নাম: রবার্ট ক্লাইভ (Robert Clive)।
❖ পরিচিত নাম: লর্ড ক্লাইভ (Lord Clive)।
❖ উপাধি: ব্যারন ক্লাইভ অব প্লাসি (Baron Clive of Plassey)।
❖ জন্ম: ২৯ সেপ্টেম্বর ১৭২৫।
❖ জন্মস্থান: স্টাইচ, শ্রপশায়ার, ইংল্যান্ড।
❖ মৃত্যু: ২২ নভেম্বর ১৭৭৪।
❖ জাতীয়তা: ব্রিটিশ।
❖ প্রধান পরিচয়: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামরিক কর্মকর্তা, গভর্নর ও উপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
❖ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে যোগদান: ১৭৪৩ সাল।
❖ তিনি প্রথমে কোম্পানির বাণিজ্যিক কর্মচারী হিসেবে ভারতে আসেন।
❖ পরবর্তী সময়ে সামরিক বিভাগে যোগ দিয়ে কর্ণাটকের যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ করেন।
❖ দক্ষিণ ভারতে তাঁর সামরিক সাফল্যের মধ্যে ১৭৫১ সালের আর্কট অভিযান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
❖ পলাশীর যুদ্ধের পর তিনি বাংলায় কোম্পানির রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
◉ ২. পলাশীর যুদ্ধের পটভূমি
❖ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
❖ তাঁর শাসনামলে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে বাংলার নবাবি প্রশাসনের বিরোধ তীব্র হয়।
❖ কোম্পানির দুর্গ মেরামত ও শক্তিশালীকরণ, বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহার এবং নবাবের কর্তৃত্ব অমান্য বিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল।
❖ সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের বেআইনি দুর্গ নির্মাণ বন্ধ এবং নবাবি কর্তৃত্ব মেনে চলার নির্দেশ দেন।
❖ কোম্পানি নবাবের নির্দেশ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
❖ ১৭৫৬ সালের জুন মাসে সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখল করেন।
❖ পরবর্তী সময়ে রবার্ট ক্লাইভ ও অ্যাডমিরাল চার্লস ওয়াটসনের নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনী কলকাতা পুনর্দখল করে।
❖ ৯ ফেব্রুয়ারি ১৭৫৭ সালে আলিনগরের সন্ধি সম্পাদিত হয়।
❖ এই সন্ধির পরও ইংরেজরা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে গোপন রাজনৈতিক পরিকল্পনা অব্যাহত রাখে।
◉ ৩. পলাশীর যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ
❖ পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে।
❖ যুদ্ধের স্থান ছিল ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী পলাশী, বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায়।
❖ এক পক্ষে ছিলেন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
❖ অপর পক্ষে ছিলেন রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী।
❖ নবাবের বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সেনাপতিদের মধ্যে মীর মদন, মোহনলাল ও মীর জাফর উল্লেখযোগ্য।
❖ মীর জাফর নবাবের প্রধান সেনাপতিদের একজন হলেও ইংরেজদের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় যুক্ত ছিলেন।
❖ জগৎশেঠ পরিবার, রায়দুর্লভ এবং নবাবের দরবারের আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করেন।
❖ যুদ্ধ চলাকালে মীর জাফরের অধীনস্থ বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নবাবের সামরিক অবস্থান দুর্বল করে।
❖ মীর মদন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
❖ মোহনলালও নবাবের পক্ষে প্রতিরোধ পরিচালনা করেন।
❖ শেষ পর্যন্ত নবাবের বাহিনী পরাজিত হয়।
❖ সিরাজউদ্দৌলা পালিয়ে যাওয়ার পর বন্দি হন এবং ২ জুলাই ১৭৫৭ সালে তাঁকে হত্যা করা হয়।
❖ পলাশীর যুদ্ধের পর মীর জাফরকে বাংলার নবাব করা হয়।
◉ ৪. পলাশীর যুদ্ধের পর ক্লাইভের রাজনৈতিক ভূমিকা
❖ পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার নবাবি প্রশাসনের ওপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
❖ কোম্পানির সহায়তায় মীর জাফর নবাব হলেও তিনি ইংরেজদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবির ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
❖ কোম্পানির কর্মকর্তারা নবাবি প্রশাসন থেকে বিপুল অর্থ ও বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ করেন।
❖ ১৭৬০ সালে মীর জাফরকে সরিয়ে মীর কাশেমকে নবাব করা হয়।
❖ মীর কাশেম কোম্পানির প্রভাব থেকে স্বাধীনভাবে প্রশাসন পরিচালনার চেষ্টা করেন।
❖ তিনি মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে রাজধানী স্থানান্তর করেন।
❖ সেনাবাহিনী পুনর্গঠন এবং রাজস্ব প্রশাসন শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
❖ কোম্পানির শুল্কমুক্ত বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহারকে কেন্দ্র করে মীর কাশেমের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধ বৃদ্ধি পায়।
❖ এই বিরোধ পরবর্তী সময়ে বক্সারের যুদ্ধের পটভূমি তৈরি করে।
◉ ৫. বক্সারের যুদ্ধ ও ইংরেজদের বিজয়
❖ বক্সারের যুদ্ধ (Battle of Buxar) সংঘটিত হয় ১৭৬৪ সালের অক্টোবর মাসে, সাধারণভাবে ২২ অক্টোবর তারিখটি প্রচলিত; কিছু ঐতিহাসিক বিবরণে মূল যুদ্ধ ২৩ অক্টোবর উল্লেখ রয়েছে।
❖ যুদ্ধক্ষেত্র ছিল বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের বক্সার অঞ্চল।
❖ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনীর নেতৃত্ব দেন মেজর হেক্টর মনরো (Hector Munro)।
❖ ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তির জোট গঠিত হয়—
❖ মীর কাশেম: বাংলার ক্ষমতাচ্যুত নবাব।
❖ সুজাউদ্দৌলা: অযোধ্যার নবাব।
❖ দ্বিতীয় শাহ আলম: মুঘল সম্রাট।
❖ এই সম্মিলিত বাহিনী ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
❖ যুদ্ধের পরিণতিতে ইংরেজ বাহিনী বিজয়ী হয়।
❖ বক্সারের বিজয় বাংলায় কোম্পানির রাজনৈতিক ক্ষমতা সুসংহত করার একটি সিদ্ধান্তমূলক ঘটনা।
❖ যুদ্ধের পর মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ও অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা কোম্পানির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় আসতে বাধ্য হন।
◉ ৬. এলাহাবাদ চুক্তি ও ক্লাইভের দ্বিতীয় শাসনপর্ব
❖ রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালের মে মাসে বাংলায় দ্বিতীয়বার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ বক্সারের যুদ্ধের পর কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে রাজস্ব প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বৈধতা অর্জনের চেষ্টা করে।
❖ ১২ আগস্ট ১৭৬৫ সালে দ্বিতীয় শাহ আলম কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি প্রদান করেন বলে বাংলাপিডিয়ার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
❖ এর বিনিময়ে কোম্পানি মুঘল সম্রাটকে বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকা প্রদানের অঙ্গীকার করে।
❖ বাংলার নবাবের নিজামত পরিচালনার জন্য বার্ষিক ৫৩ লক্ষ টাকা নির্ধারিত হয়।
❖ কোম্পানি রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণের অধিকার লাভ করে।
❖ নবাবি প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল থাকলেও প্রকৃত ক্ষমতা ক্রমশ কোম্পানির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।
❖ এই ব্যবস্থার ভিত্তিতে ১৭৬৫ সালে বাংলায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
◉ ৭. দ্বৈত শাসনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য
❖ দেওয়ানি (Diwani): রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানি প্রশাসনের অধিকার।
❖ নিজামত (Nizamat): প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, পুলিশ, ফৌজদারি বিচার ও প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত শাসনক্ষমতা।
❖ আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানি দেওয়ানি এবং নবাব নিজামতের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
❖ কিন্তু বাস্তবে কোম্পানির হাতে রাজস্ব, সামরিক শক্তি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ চলে যায়।
❖ কোম্পানি সরাসরি সব স্থানীয় প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা না করে দেশীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ ও প্রশাসন পরিচালনা করত।
❖ ফলে কোম্পানির হাতে প্রকৃত ক্ষমতা এবং নবাবের হাতে নামমাত্র দায়িত্ব থাকার একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
❖ এই ক্ষমতা ও দায়িত্বের অসম বণ্টনকে দ্বৈত শাসন (Dual Government বা Double Government) বলা হয়।
◉ ৮. ক্লাইভ ও ওয়ারেন হেস্টিংসের পার্থক্য
❖ লর্ড ক্লাইভ: বাংলায় কোম্পানির রাজনৈতিক কর্তৃত্ব সুসংহত করেন এবং ১৭৬৫ সালে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
❖ ওয়ারেন হেস্টিংস (Warren Hastings): ১৭৭২ সালে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপ করেন।
❖ হেস্টিংস ১৭৭২ সালে বাংলার গভর্নর হিসেবে প্রশাসনিক সংস্কার শুরু করেন।
❖ ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের ভিত্তিতে গভর্নর জেনারেলের নতুন প্রশাসনিক পদ সৃষ্টি হয়।
❖ ১৭৭৪ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ লর্ড কর্নওয়ালিস (Lord Cornwallis) পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক সংস্কার ও ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ তাঁর শাসনামলে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (Permanent Settlement) কার্যকর করা হয়।
❖ ফলে লর্ড ক্লাইভ, ওয়ারেন হেস্টিংস ও লর্ড কর্নওয়ালিসের প্রশাসনিক অবদান পৃথকভাবে মনে রাখা প্রয়োজন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলার প্রথম গভর্নর — লর্ড ক্লাইভ (প্রচলিত পরীক্ষার উত্তর)।
➤ লর্ড ক্লাইভের পূর্ণ নাম — রবার্ট ক্লাইভ।
➤ রবার্ট ক্লাইভের জন্ম — ২৯ সেপ্টেম্বর ১৭২৫।
➤ রবার্ট ক্লাইভের মৃত্যু — ২২ নভেম্বর ১৭৭৪।
➤ ক্লাইভের বিখ্যাত উপাধি — ব্যারন ক্লাইভ অব প্লাসি।
➤ রবার্ট ক্লাইভ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে যোগ দেন — ১৭৪৩ সালে।
➤ রবার্ট ক্লাইভের আর্কট অভিযান — ১৭৫১ সালে।
➤ পলাশীর যুদ্ধ — ২৩ জুন ১৭৫৭।
➤ পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি — রবার্ট ক্লাইভ।
➤ পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাব — সিরাজউদ্দৌলা।
➤ পলাশীর যুদ্ধের স্থান — পলাশী, নদিয়া।
➤ সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যুর তারিখ — ২ জুলাই ১৭৫৭।
➤ পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার নবাব — মীর জাফর।
➤ মীর কাশেম বাংলার নবাব হন — ১৭৬০ সালে।
➤ মীর কাশেমের রাজধানী — মুঙ্গের।
➤ বক্সারের যুদ্ধ — ১৭৬৪ সালে।
➤ বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি — হেক্টর মনরো।
➤ বক্সারের যুদ্ধে সম্মিলিত ভারতীয় পক্ষ — মীর কাশেম, সুজাউদ্দৌলা ও দ্বিতীয় শাহ আলম।
➤ বক্সারের যুদ্ধের পর গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি — এলাহাবাদ চুক্তি।
➤ এলাহাবাদ চুক্তি — ১৭৬৫ সালে।
➤ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ — ১৭৬৫ সালে।
➤ কোম্পানিকে দেওয়ানি প্রদানকারী মুঘল সম্রাট — দ্বিতীয় শাহ আলম।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন — লর্ড ক্লাইভ।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা চালু — ১৭৬৫ সালে।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপ — ১৭৭২ সালে।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপ করেন — ওয়ারেন হেস্টিংস।
➤ বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল — ওয়ারেন হেস্টিংস।
➤ রেগুলেটিং অ্যাক্ট — ১৭৭৩ সালে।
➤ ওয়ারেন হেস্টিংস গভর্নর জেনারেল হন — ১৭৭৪ সালে।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত — ১৭৯৩ সালে।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন — লর্ড কর্নওয়ালিস।
ঐতিহাসিক পার্থক্য: প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর লর্ড ক্লাইভ। তবে তিনি ফোর্ট উইলিয়ামের প্রশাসনিক ইতিহাসে আক্ষরিক অর্থে প্রথম গভর্নর ছিলেন না; তাঁর আগেও গভর্নর ছিলেন। একইভাবে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস, লর্ড ক্লাইভ নন।"
02
🎯 Level 1

০৫. কত সালে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু হয়? (ক্রীড়া পরিদপ্তরের অফিস সহকারী: ১৯ / বিএডিসি’র সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা: ২০)

ক

১৭৫৮ সালে

খ

১৭৬৫ সালে

গ

১৮৬২ সালে

ঘ

১৮৫৮ সালে

✅ সঠিক উত্তর:খ. ১৭৬৫ সালে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ১৭৬৫ সালে।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থা (Dual Government বা Double Government) প্রবর্তন করেন। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভের পর এই শাসনব্যবস্থা কার্যকর হয়।
❖ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বলতে এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে দেওয়ানি (Diwani) ও নিজামত (Nizamat)-এর আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব দুটি পৃথক পক্ষের মধ্যে বিভক্ত থাকে, কিন্তু প্রকৃত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ মূলত এক পক্ষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।
❖ এই ব্যবস্থায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানি তথা রাজস্ব প্রশাসনের অধিকার লাভ করে। অন্যদিকে বাংলার নবাবের হাতে নামমাত্র নিজামত বা আইনশৃঙ্খলা, ফৌজদারি বিচার ও শাসনসংক্রান্ত দায়িত্ব বজায় থাকে।
❖ বাস্তবে কোম্পানি রাজস্বক্ষমতার পাশাপাশি নবাবি প্রশাসনের ওপরও কার্যকর প্রভাব বিস্তার করত। ফলে কোম্পানির হাতে প্রকৃত ক্ষমতা থাকলেও সাধারণ প্রজাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব ও জনকল্যাণের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।
❖ ১৭৬৫ সাল থেকে ১৭৭২ সাল পর্যন্ত বাংলায় এই দ্বৈত শাসনব্যবস্থা কার্যকর ছিল।
❖ ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপ করেন এবং কোম্পানির প্রত্যক্ষ রাজস্ব প্রশাসনের জন্য নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
◉ ১. দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের পটভূমি
❖ ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিজয় বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে।
❖ পলাশীর যুদ্ধের পর মীর জাফর নবাব হলেও কোম্পানি তাঁর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে থাকে।
❖ ১৭৬০ সালে মীর কাশেম বাংলার নবাব হিসেবে ক্ষমতায় আসেন।
❖ মীর কাশেম কোম্পানির রাজনৈতিক প্রভাব ও শুল্কমুক্ত বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহারের বিরোধিতা করেন।
❖ বিরোধের ফলে কোম্পানির সঙ্গে মীর কাশেমের সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়।
❖ ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশেম, সুজাউদ্দৌলা ও দ্বিতীয় শাহ আলমের সম্মিলিত বাহিনী পরাজিত হয়।
❖ বক্সারের বিজয়ের ফলে কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে রাজস্ব প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অধিকার অর্জনের সুযোগ পায়।
❖ ১৭৬৫ সালে এলাহাবাদ চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে।
❖ কিন্তু কোম্পানির নিজস্ব প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় কর্মকর্তা-কাঠামো তখনো বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রত্যক্ষ শাসনের জন্য পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত ছিল না।
❖ ফলে রবার্ট ক্লাইভ বিদ্যমান নবাবি ও দেশীয় প্রশাসনিক কাঠামো বজায় রেখে রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
❖ এই ব্যবস্থাই ইতিহাসে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা নামে পরিচিত।
◉ ২. দ্বৈত শাসনের দুটি প্রধান অংশ
❖ দ্বৈত শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি ছিল দেওয়ানি ও নিজামত।
❖ দেওয়ানি (Diwani): রাজস্ব সংগ্রহ, আর্থিক প্রশাসন এবং দেওয়ানি বিচারসংক্রান্ত কর্তৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ নিজামত (Nizamat): ফৌজদারি বিচার, পুলিশ, শাসনব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশাসনিক কর্তৃত্ব।
❖ আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়ানি কোম্পানির হাতে এবং নিজামত বাংলার নবাবের নামে বজায় ছিল।
❖ কিন্তু কোম্পানি নবাবি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কর্মকর্তা নিয়োগের ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।
❖ ফলে নবাবের নামে নিজামত থাকলেও তাঁর স্বাধীনভাবে প্রশাসন পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত ছিল।
❖ দ্বৈত শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল প্রকৃত ক্ষমতা ও আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের মধ্যে বিভাজন।
◉ ৩. দ্বৈত শাসনব্যবস্থায় কোম্পানির ক্ষমতা
❖ কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের অধিকার লাভ করে।
❖ রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কোম্পানির বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে থাকে।
❖ কোম্পানি দেশীয় রাজস্ব কর্মকর্তাদের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ করত।
❖ রাজস্ব প্রশাসনের ওপর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ কোম্পানির হাতে ছিল।
❖ নবাবের সামরিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের ওপরও কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ছিল।
❖ কোম্পানি স্থানীয় প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যয় ও জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ না করেও রাজস্বসম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।
❖ ফলে কোম্পানির অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, কিন্তু শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহির সংকট সৃষ্টি হয়।
◉ ৪. বাংলার নবাবের অবস্থান
❖ দ্বৈত শাসনের সময় বাংলার নবাবের হাতে নিজামতের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বজায় রাখা হয়।
❖ কিন্তু বাস্তবে নবাবের স্বাধীন রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত ছিল।
❖ নজমউদ্দৌলা (Najm-ud-Daula) ১৭৬৫ সালে বাংলার নবাব ছিলেন।
❖ তিনি ছিলেন মীর জাফরের পুত্র।
❖ তাঁর শাসনামলে কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে।
❖ কোম্পানি নবাবের নিজামত পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ রাখে।
❖ নিজামত ব্যয়ের জন্য বার্ষিক ৫৩ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
❖ নবাবের প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল থাকলেও কোম্পানির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের কারণে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
❖ ফলে নবাবের নামে শাসন, কিন্তু কোম্পানির হাতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ—এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
◉ ৫. নায়েব দেওয়ান ও স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা
❖ কোম্পানি দেওয়ানি লাভের পর সরাসরি প্রতিটি অঞ্চলের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব নিজস্ব ইংরেজ কর্মচারীদের হাতে দেয়নি।
❖ সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা খান (Muhammad Reza Khan) বাংলার রাজস্ব প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ নায়েব দেওয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
❖ নায়েব দেওয়ান বলতে দেওয়ানের প্রতিনিধি বা উপদেওয়ানকে বোঝায়।
❖ মুহাম্মদ রেজা খান কোম্পানির পক্ষে রাজস্ব প্রশাসনের বিভিন্ন কাজ তত্ত্বাবধান করতেন।
❖ বিহারে রাজা শিতাব রায় (Raja Shitab Rai) রাজস্ব প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি ছিলেন।
❖ স্থানীয় জমিদার, আমিল, রাজস্ব কর্মকর্তা ও হিসাবরক্ষকেরা রাজস্ব সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
❖ কোম্পানি প্রশাসনের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখলেও বহু কাজ দেশীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।
❖ এই পরোক্ষ প্রশাসন কোম্পানির জন্য ব্যয় কমানোর সুযোগ সৃষ্টি করলেও রাজস্ব আদায় ও জনগণের কল্যাণের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।
◉ ৬. দ্বৈত শাসনব্যবস্থার প্রধান সমস্যাসমূহ
❖ ক্ষমতা ও দায়িত্বের বিভাজন: প্রকৃত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা কোম্পানির হাতে থাকলেও প্রশাসনিক দায়িত্ব নবাবের নামে বজায় রাখা হয়।
❖ প্রশাসনিক জবাবদিহির অভাব: জনসাধারণের সমস্যার জন্য কোন পক্ষ কতখানি দায়ী, তা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।
❖ রাজস্ব আদায়ের চাপ: কৃষিজীবী মানুষের ওপর রাজস্ব সংগ্রহের চাপ বৃদ্ধি পায়।
❖ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি: কোম্পানির কিছু কর্মচারী ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জন ও অবৈধ সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
❖ বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রাধান্য: জনকল্যাণের তুলনায় রাজস্ব ও বাণিজ্যিক মুনাফাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
❖ স্থানীয় প্রশাসনের দুর্বলতা: নবাবি প্রশাসনের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হয়।
❖ কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির সংকট: রাজস্ব আদায়ের অনিয়ম ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সমস্যা কৃষকদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি করে।
❖ এসব সমস্যা বাংলার অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থাকে ক্রমশ দুর্বল করে তোলে।
◉ ৭. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ও দ্বৈত শাসনের সম্পর্ক
❖ দ্বৈত শাসনব্যবস্থার সময় বাংলায় একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়, যা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
❖ এই দুর্ভিক্ষের প্রধান সময় ছিল ১৭৬৯–১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ।
❖ বাংলা সন ১১৭৬-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় এটি ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
❖ দুর্ভিক্ষের পেছনে অনাবৃষ্টি, ফসলহানি, খাদ্যসংকট, খাদ্যশস্যের মূল্যবৃদ্ধি, রাজস্বসংক্রান্ত চাপ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ ১৭৬৮–১৭৬৯ সালের কৃষি উৎপাদনের সংকট খাদ্য সরবরাহে গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করে।
❖ অনেক অঞ্চলে খাদ্যশস্যের মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
❖ কৃষক, শ্রমজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
❖ কোম্পানির রাজস্বনীতি এবং দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা সংকটকে আরও গুরুতর করে তোলে।
❖ প্রচলিত ইতিহাসে প্রায় এক কোটি মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়, যদিও এই সংখ্যা সমসাময়িক অনুমানভিত্তিক; নির্ভুল জনমিতিক হিসাব নয়।
❖ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর দ্বৈত শাসনকালীন বাংলার প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক দুর্বলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
◉ ৮. ১৭৭২ সালে দ্বৈত শাসনব্যবস্থার বিলোপ
❖ দ্বৈত শাসনের ফলে কোম্পানির রাজস্বক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও শাসনব্যবস্থায় নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়।
❖ ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার গভর্নর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার শুরু করেন।
❖ তিনি দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপ করেন।
❖ কোম্পানি সরাসরি রাজস্ব প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
❖ রাজস্ব প্রশাসনের জন্য নতুন কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়।
❖ বিভিন্ন জেলায় রাজস্ব সংগ্রহের জন্য কালেক্টর (Collector) নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
❖ ১৭৭২ সালে পাঁচসালা বন্দোবস্ত বা Quinquennial Settlement প্রবর্তন করা হয়।
❖ এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য রাজস্ব সংগ্রহের অধিকার নিলামের মাধ্যমে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
❖ পাঁচসালা বন্দোবস্তের মেয়াদ ছিল ১৭৭২–১৭৭৭।
❖ এর মাধ্যমে কোম্পানি রাজস্ব প্রশাসনকে অধিক প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
◉ ৯. ওয়ারেন হেস্টিংসের প্রশাসনিক সংস্কার
❖ ওয়ারেন হেস্টিংস (Warren Hastings) বাংলায় কোম্পানির প্রত্যক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
❖ তিনি ১৭৭২ সালে বাংলার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট (Regulating Act) কোম্পানির ভারতীয় প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ আইন।
❖ এই আইনের ভিত্তিতে বাংলার গভর্নর জেনারেলের পদ সৃষ্টি হয়।
❖ ১৭৭৪ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ তাঁর শাসনামলে রাজস্ব, দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়।
❖ কোম্পানির প্রত্যক্ষ শাসন পরিচালনার জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ক্ষমতা পুনর্বিন্যাস করা হয়।
❖ এই সংস্কারগুলো বাংলায় ঔপনিবেশিক প্রশাসনের ভিত্তি আরও সুসংহত করে।
◉ ১০. দ্বৈত শাসনের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন
❖ ১৭৬৫ সাল: কোম্পানির দেওয়ানি লাভ ও দ্বৈত শাসনের সূচনা।
❖ ১৭৭০ সাল: ছিয়াত্তরের মন্বন্তর।
❖ ১৭৭২ সাল: ওয়ারেন হেস্টিংসের দ্বৈত শাসন বিলোপ।
❖ ১৭৭২ সাল: পাঁচসালা বন্দোবস্তের সূচনা।
❖ ১৭৭৩ সাল: রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস।
❖ ১৭৭৪ সাল: ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ।
❖ ১৭৮৪ সাল: পিটের ভারত শাসন আইন (Pitt's India Act)।
❖ ১৭৯৩ সাল: লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত।
❖ ১৮৫৭ সাল: সিপাহি বিদ্রোহ বা মহাবিদ্রোহ।
❖ ১৮৫৮ সাল: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারত শাসনের অবসান এবং ব্রিটিশ ক্রাউনের প্রত্যক্ষ শাসনের সূচনা।
❖ এ ঘটনাগুলো ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রশাসনিক বিবর্তন বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থা চালু হয় — ১৭৬৫ সালে।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন — রবার্ট ক্লাইভ।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থার ইংরেজি নাম — Dual Government।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থার সময়কাল — ১৭৬৫–১৭৭২।
➤ দ্বৈত শাসনের ভিত্তি — দেওয়ানি ও নিজামত।
➤ দেওয়ানি — রাজস্ব ও দেওয়ানি প্রশাসন।
➤ নিজামত — শাসন, পুলিশ ও ফৌজদারি প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্তৃত্ব।
➤ দেওয়ানি লাভ করে — ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
➤ দেওয়ানি প্রদান করেন — দ্বিতীয় শাহ আলম।
➤ দেওয়ানি লাভের চুক্তি — এলাহাবাদ চুক্তি।
➤ এলাহাবাদ চুক্তির সাল — ১৭৬৫।
➤ দেওয়ানি লাভের অঞ্চল — বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা।
➤ দেওয়ানি লাভের পূর্ববর্তী যুদ্ধ — বক্সারের যুদ্ধ।
➤ বক্সারের যুদ্ধ — ১৭৬৪।
➤ ১৭৬৫ সালে বাংলার নবাব — নজমউদ্দৌলা।
➤ নজমউদ্দৌলার পিতা — মীর জাফর।
➤ নবাবের নিজামত ব্যয়ের জন্য প্রাথমিক নির্ধারিত বার্ষিক অর্থ — ৫৩ লক্ষ টাকা।
➤ মুঘল সম্রাটের বার্ষিক প্রাপ্য — ২৬ লক্ষ টাকা।
➤ বাংলায় গুরুত্বপূর্ণ নায়েব দেওয়ান — মুহাম্মদ রেজা খান।
➤ বিহারের গুরুত্বপূর্ণ নায়েব দেওয়ান — রাজা শিতাব রায়।
➤ দ্বৈত শাসনের প্রধান সমস্যা — ক্ষমতা ও দায়িত্বের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা।
➤ দ্বৈত শাসনামলের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ — ছিয়াত্তরের মন্বন্তর।
➤ ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের প্রধান সময় — ১৭৬৯–১৭৭০।
➤ ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের বাংলা সন — ১১৭৬।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপ করেন — ওয়ারেন হেস্টিংস।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপের সাল — ১৭৭২।
➤ পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন — ওয়ারেন হেস্টিংস।
➤ পাঁচসালা বন্দোবস্তের সূচনা — ১৭৭২।
➤ পাঁচসালা বন্দোবস্তের সময়কাল — ১৭৭২–১৭৭৭।
➤ রেগুলেটিং অ্যাক্ট — ১৭৭৩।
➤ বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল — ওয়ারেন হেস্টিংস।
➤ ওয়ারেন হেস্টিংস গভর্নর জেনারেল হন — ১৭৭৪।
➤ পিটের ভারত শাসন আইন — ১৭৮৪।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত — ১৭৯৩।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন — লর্ড কর্নওয়ালিস।
➤ সিপাহি বিদ্রোহ — ১৮৫৭।
➤ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান — ১৮৫৮।
➤ ভারতে ব্রিটিশ ক্রাউনের প্রত্যক্ষ শাসনের সূচনা — ১৮৫৮।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৯. ছিয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের সময় বাংলার গভর্নর কে ছিলেন? (গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক: ০৩)

ক

লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস

খ

লর্ড রিপন

গ

লর্ড কার্টিয়ার

ঘ

লর্ড কর্নওয়ালিস

✅ সঠিক উত্তর:গ. লর্ড কার্টিয়ার

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: জন কার্টিয়ার (John Cartier)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ১৭৭০ সালের ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার গভর্নর ছিলেন জন কার্টিয়ার। তিনি ২৬ ডিসেম্বর ১৭৬৯ থেকে ১৩ এপ্রিল ১৭৭২ পর্যন্ত বাংলার গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন।
❖ বইয়ে তাঁকে ‘লর্ড কার্টিয়ার’ বলা হলেও তাঁর ঐতিহাসিক পরিচিত নাম জন কার্টিয়ার। তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন।
১. জন কার্টিয়ারের জীবন ও পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: জন কার্টিয়ার (John Cartier)।
❖ জন্ম: ১৭৩৩ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ মৃত্যু: ২৫ জানুয়ারি ১৮০২।
❖ মৃত্যুস্থান: কেন্ট, ইংল্যান্ড।
❖ জাতীয়তা: ব্রিটিশ।
❖ পেশা: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা।
❖ বাংলার গভর্নর হিসেবে শাসনকাল: ১৭৬৯–১৭৭২।
❖ পূর্ববর্তী গভর্নর: হ্যারি ভেরেলস্ট (Harry Verelst)।
❖ পরবর্তী গভর্নর: ওয়ারেন হেস্টিংস।
❖ ঐতিহাসিক পরিচিতি: ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার গভর্নর।
২. জন কার্টিয়ারের প্রাথমিক কর্মজীবন
❖ জন কার্টিয়ার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারী হিসেবে ভারতে আসেন।
❖ তিনি ঢাকার ইংরেজ বাণিজ্যকুঠিতে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
❖ ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজদের সংঘর্ষের সময় কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁকেও ঢাকা ত্যাগ করতে হয়।
❖ পরে তিনি ইংরেজদের সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন।
৩. ঢাকায় কোম্পানির প্রধান কর্মকর্তা
❖ ১৭৬১ সালে জন কার্টিয়ার ঢাকায় ইংরেজ কোম্পানির বাণিজ্যকেন্দ্রের প্রধান কর্মকর্তা হন।
❖ এই দায়িত্বে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।
❖ ১৭৬৭ সালে কলকাতার কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করেন।
৪. বাংলার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ
❖ হ্যারি ভেরেলস্ট ছিলেন জন কার্টিয়ারের পূর্ববর্তী গভর্নর।
❖ ভেরেলস্ট দায়িত্ব ত্যাগ করার পর ২৬ ডিসেম্বর ১৭৬৯ জন কার্টিয়ার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ তাঁর শাসনকাল শুরু হওয়ার সময় বাংলায় খাদ্যসংকট ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছিল।
৫. কার্টিয়ারের শাসনামলে দুর্ভিক্ষ
❖ ১৭৬৯ সালে অনাবৃষ্টি ও ফসলহানির ফলে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্যসংকট সৃষ্টি হয়।
❖ ১৭৭০ সালে দুর্ভিক্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করে।
❖ কোম্পানির রাজস্বনীতি ও খাদ্যবাজারের সংকট দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা বৃদ্ধি করে।
❖ জন কার্টিয়ারের প্রশাসন পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ ও কার্যকর ত্রাণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
৬. জন কার্টিয়ারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা
❖ দুর্ভিক্ষ চলাকালে রাজস্ব আদায় ও কোম্পানির আর্থিক স্বার্থকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
❖ অনেক কৃষক জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়।
❖ খাদ্যশস্যের মূল্যবৃদ্ধি ও বাজারব্যবস্থার দুর্বলতা সাধারণ মানুষের দুর্দশা বাড়িয়ে তোলে।
❖ প্রশাসনিক নথিতে দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতার বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ কার্টিয়ারের আমলের শাসনব্যবস্থা পরবর্তী সময়ে কোম্পানির প্রশাসনিক সংস্কারের অন্যতম পটভূমি হয়ে ওঠে।
৭. কার্টিয়ারের পর ওয়ারেন হেস্টিংস
❖ ১৩ এপ্রিল ১৭৭২ সালে জন কার্টিয়ার দায়িত্ব ছাড়েন।
❖ একই দিনে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ হেস্টিংস কোম্পানির রাজস্ব ও বিচারব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন।
❖ তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল দ্বৈত শাসনব্যবস্থার বিলোপ।
৮. ১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ছিল কোম্পানির শাসনের প্রথম পর্যায়ের অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয়।
❖ এই দুর্ভিক্ষ বাংলার অর্থনীতি ও জনসংখ্যার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।
❖ দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রশাসনিক সংস্কার ও রাজস্বনীতি নিয়ে বিতর্ককে তীব্র করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার গভর্নর — জন কার্টিয়ার।
➤ জন কার্টিয়ারের ইংরেজি নাম — John Cartier।
➤ জন্ম — ১৭৩৩।
➤ মৃত্যু — ২৫ জানুয়ারি ১৮০২।
➤ গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ — ২৬ ডিসেম্বর ১৭৬৯।
➤ দায়িত্ব ত্যাগ — ১৩ এপ্রিল ১৭৭২।
➤ কার্টিয়ারের পূর্ববর্তী গভর্নর — হ্যারি ভেরেলস্ট।
➤ পরবর্তী গভর্নর — ওয়ারেন হেস্টিংস।
➤ কার্টিয়ার ঢাকার বাণিজ্যকুঠির প্রধান হন — ১৭৬১।
➤ কলকাতার কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ পদ পান — ১৭৬৭।
➤ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর — ১১৭৬ বঙ্গাব্দ।
➤ ইংরেজি সাল — ১৭৭০।
➤ দুর্ভিক্ষকালীন শাসন — দ্বৈত শাসন।
➤ দ্বৈত শাসন প্রবর্তক — রবার্ট ক্লাইভ।
➤ দ্বৈত শাসন বিলোপকারী — ওয়ারেন হেস্টিংস।
➤ দ্বৈত শাসনের বিলোপ — ১৭৭২।
➤ বিশেষ পার্থক্য: দুর্ভিক্ষের সময় গভর্নর—জন কার্টিয়ার; দুর্ভিক্ষের পরে গভর্নর—ওয়ারেন হেস্টিংস।
04
🎯 Level 1

১৩. ‘পাঁচশালা’ বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন কে? (সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার: ১৩)

ক

ওয়ারেন হেস্টিংস

খ

শেরশাহ

গ

সম্রাট আকবর

ঘ

লর্ড ক্লাইভ

✅ সঠিক উত্তর:ক. ওয়ারেন হেস্টিংস

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ওয়ারেন হেস্টিংস (Warren Hastings)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলায় পাঁচশালা বন্দোবস্ত (Quinquennial Settlement) প্রবর্তন করেন। এটি ভূমিরাজস্ব আদায়ের একটি পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা ছিল।
❖ এই বন্দোবস্তে পাঁচ বছরের জন্য সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে রাজস্ব সংগ্রহের অধিকার ইজারা দেওয়া হতো। উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানির রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং নিয়মিত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা।
❖ ব্যবস্থাটি মূলত ১৭৭২–১৭৭৭ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। রাজস্বসংক্রান্ত অনিয়ম ও কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে এটি ব্যর্থ হয়।
১. পাঁচশালা বন্দোবস্তের পরিচিতি
❖ বাংলা নাম: পাঁচশালা বন্দোবস্ত।
❖ ইংরেজি নাম: Quinquennial Settlement।
❖ প্রবর্তন: ১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ প্রবর্তক: ওয়ারেন হেস্টিংস।
❖ মেয়াদ: পাঁচ বছর।
❖ কার্যকাল: ১৭৭২–১৭৭৭।
❖ প্রধান উদ্দেশ্য: ভূমিরাজস্ব বৃদ্ধি ও নিয়মিত আদায়।
❖ পদ্ধতি: নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া।
২. পাঁচশালা বন্দোবস্তের পটভূমি
❖ ১৭৬৫ সালে ইংরেজ কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে।
❖ ১৭৬৫–১৭৭২ সাল পর্যন্ত দ্বৈত শাসনব্যবস্থা চালু ছিল।
❖ ১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষে বাংলার কৃষি ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
❖ রাজস্ব সংগ্রহে প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
❖ এই পরিস্থিতিতে হেস্টিংস নতুন রাজস্বব্যবস্থা চালু করেন।
৩. পাঁচশালা বন্দোবস্তের পদ্ধতি
❖ সরকার নির্দিষ্ট এলাকার রাজস্ব আদায়ের অধিকার নিলামে দিত।
❖ যে ব্যক্তি সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতেন, তিনি পাঁচ বছরের জন্য ইজারা পেতেন।
❖ রাজস্ব সংগ্রহের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ইজারাদার (Revenue Farmer) বলা হতো।
❖ ইজারাদার কৃষকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করে সরকারকে নির্ধারিত অর্থ প্রদান করতেন।
৪. পাঁচশালা বন্দোবস্তের উদ্দেশ্য
◉ রাজস্ব আয় বৃদ্ধি
❖ নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ রাজস্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা।
◉ নিয়মিত আদায়
❖ নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে রাজস্ব সংগ্রহের ব্যবস্থা।
◉ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ
❖ কোম্পানির রাজস্ব প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধান।
◉ আর্থিক স্থিতিশীলতা
❖ দুর্ভিক্ষ-পরবর্তী রাজস্বসংকট মোকাবিলা।
৫. পাঁচশালা বন্দোবস্তের প্রধান সমস্যা
❖ ইজারাদারেরা অনেক সময় বাস্তব উৎপাদনক্ষমতার চেয়ে বেশি রাজস্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতেন।
❖ অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের জন্য কৃষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন।
❖ অনেক ইজারাদার সময়মতো রাজস্ব দিতে ব্যর্থ হন।
❖ স্থানীয় জমিদার ও কৃষকদের সঙ্গে বিরোধ বৃদ্ধি পায়।
❖ জমির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রতি ইজারাদারদের আগ্রহ কম ছিল।
৬. কৃষকদের ওপর প্রভাব
❖ কৃষকের ওপর রাজস্বের চাপ বৃদ্ধি পায়।
❖ অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
❖ কৃষি উৎপাদন ও জমি উন্নয়নের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব আদায়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
❖ ভূমি প্রশাসনে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়।
৭. পাঁচশালা বন্দোবস্তের অবসান
❖ ১৭৭৭ সালে পাঁচশালা বন্দোবস্তের মেয়াদ শেষ হয়।
❖ পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাটি প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
❖ পরবর্তী সময়ে বার্ষিক বন্দোবস্তসহ বিভিন্ন রাজস্বব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়।
❖ ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
৮. পাঁচশালা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পার্থক্য
◉ পাঁচশালা বন্দোবস্ত
❖ প্রবর্তক — ওয়ারেন হেস্টিংস।
❖ সাল — ১৭৭২।
❖ মেয়াদ — পাঁচ বছর।
❖ প্রধান ভিত্তি — নিলামে রাজস্ব আদায়ের ইজারা।
◉ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
❖ প্রবর্তক — লর্ড কর্নওয়ালিস।
❖ সাল — ১৭৯৩।
❖ মেয়াদ — অনির্দিষ্টকাল বা স্থায়ী।
❖ প্রধান ভিত্তি — জমিদারদের সঙ্গে স্থায়ী রাজস্ব নির্ধারণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ পাঁচশালা বন্দোবস্তের প্রবর্তক — ওয়ারেন হেস্টিংস।
➤ প্রবর্তন — ১৭৭২।
➤ মেয়াদ — পাঁচ বছর।
➤ কার্যকাল — ১৭৭২–১৭৭৭।
➤ ইংরেজি নাম — Quinquennial Settlement।
➤ পাঁচশালা বন্দোবস্তের প্রধান পদ্ধতি — নিলামভিত্তিক রাজস্ব ইজারা।
➤ রাজস্ব সংগ্রহকারী — ইজারাদার (Revenue Farmer)।
➤ প্রধান উদ্দেশ্য — রাজস্ব বৃদ্ধি।
➤ ব্যবস্থার প্রধান সমস্যা — অতিরিক্ত রাজস্ব দাবি ও আদায়ে ব্যর্থতা।
➤ পাঁচশালা বন্দোবস্তের অবসান — ১৭৭৭।
➤ দ্বৈত শাসন বিলোপ — ১৭৭২।
➤ হেস্টিংসের রাজস্ব সংস্কার — ১৭৭২।
➤ দশসালা বন্দোবস্তের প্রবর্তন — ১৭৯০ সালের দিকে।
➤ দশসালা বন্দোবস্তের সঙ্গে সম্পর্কিত — লর্ড কর্নওয়ালিস।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত — ১৭৯৩।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রবর্তক — লর্ড কর্নওয়ালিস।
➤ বিশেষ পার্থক্য: পাঁচশালা—১৭৭২, হেস্টিংস; দশসালা—১৭৯০, কর্নওয়ালিস; চিরস্থায়ী—১৭৯৩, কর্নওয়ালিস।
05
🎯 Level 1

২০. চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে ভূমির মালিকানা কার ওপর ন্যস্ত হয়? (বাংলা একাডেমির কম্পিউটার অপারেটর: ২৩)

ক

জমিদার

খ

প্রজা

গ

সরকার

ঘ

কোনোটিই নয়

✅ সঠিক উত্তর:ক. জমিদার

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: জমিদার।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমিদারদের ভূমির স্বীকৃত আইনগত মালিকানাস্বত্ব প্রদান করা হয়।
❖ এর আগে মুঘল আমলে জমিদারদের প্রধান ভূমিকা ছিল রাজস্ব সংগ্রহ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনা। যদিও অনেক জমিদারের বিভিন্ন ধরনের বংশগত ও প্রথাগত স্বত্ব ছিল, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাঁদের ভূমির মালিকানার আইনগত ভিত্তি নতুনভাবে নির্ধারিত হয়।
১. জমিদার কারা?
❖ জমিদার ছিলেন ভূমিরাজস্ব সংগ্রহ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবার।
❖ মুঘল আমলে জমিদারি বিভিন্ন ধরনের হতে পারত।
❖ অনেক ক্ষেত্রে জমিদাররা উত্তরাধিকারসূত্রে রাজস্ব সংগ্রহের অধিকার লাভ করতেন।
❖ তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে ছিল রাজস্ব আদায়, স্থানীয় শাসন ও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কর্তব্য।
২. চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে জমির মালিকানা
❖ প্রাক-ঔপনিবেশিক বাংলায় জমির ওপর রাষ্ট্র, জমিদার ও কৃষকের বিভিন্ন ধরনের অধিকার বিদ্যমান ছিল।
❖ জমিদারদের অধিকার শুধু একটি আধুনিক একক ব্যক্তিমালিকানার সমতুল্য ছিল না।
❖ কৃষকদেরও ভূমি চাষ ও ব্যবহারসংক্রান্ত প্রচলিত স্বত্ব ছিল।
❖ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে এই জটিল ভূমিস্বত্বব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়।
৩. জমিদারদের দেওয়া নতুন অধিকার
◉ মালিকানাস্বত্ব
❖ জমিদারদের জমির স্বীকৃত আইনগত স্বত্ব প্রদান করা হয়।
◉ উত্তরাধিকার
❖ জমিদারি পুত্র, কন্যা বা অন্যান্য বৈধ উত্তরাধিকারীর কাছে হস্তান্তরযোগ্য ছিল।
◉ ক্রয়-বিক্রয়
❖ নির্দিষ্ট আইনি শর্তে জমিদারি বিক্রি বা হস্তান্তর করা সম্ভব হয়।
◉ খাজনা আদায়
❖ জমিদাররা প্রজাদের কাছ থেকে ভূমির খাজনা সংগ্রহ করতেন।
৪. সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব
❖ কোম্পানি সরকার জমিদারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পেত।
❖ এই রাজস্ব স্থায়ীভাবে নির্ধারিত ছিল।
❖ কৃষি উৎপাদনের উন্নতির ভিত্তিতে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পেত না।
❖ ফলে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের সুযোগ জমিদারের অর্থনৈতিক স্বার্থ বৃদ্ধি করত।
৫. কৃষক বা প্রজাদের অবস্থান
❖ কৃষকেরা জমি চাষ করতেন।
❖ জমিদারদের নির্ধারিত খাজনা প্রদান করতেন।
❖ বিভিন্ন ধরনের প্রথাগত দখল ও ব্যবহারস্বত্ব বজায় থাকলেও সেগুলোর সুরক্ষা বহু ক্ষেত্রে দুর্বল ছিল।
❖ জমিদারের অতিরিক্ত খাজনা দাবি ও উচ্ছেদের আশঙ্কা কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে ওঠে।
৬. জমিদারদের রাজস্ব বকেয়া
❖ জমিদার নির্ধারিত সময়ে সরকারি রাজস্ব দিতে ব্যর্থ হলে জমিদারি নিলামে বিক্রি হতে পারত।
❖ এই ব্যবস্থায় বহু পুরোনো জমিদার পরিবার তাদের সম্পত্তি হারায়।
❖ নতুন ব্যবসায়ী ও অর্থশালী শ্রেণি নিলামে জমিদারি ক্রয়ের সুযোগ পায়।
৭. অনুপস্থিত জমিদারি বা Absentee Landlordism
❖ অনেক জমিদার নিজেদের জমিদারি এলাকায় বসবাস না করে কলকাতা বা অন্য শহরে বসবাস করতেন।
❖ তাঁরা কর্মচারী ও মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে খাজনা সংগ্রহ করতেন।
❖ এতে কৃষক ও জমিদারের সরাসরি সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।
❖ কৃষি উন্নয়নের পরিবর্তে খাজনা আদায়ই অনেক ক্ষেত্রে প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।
৮. জমিদারি ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
❖ বাংলার সমাজে জমিদার শ্রেণির রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
❖ ভূমিমালিকানা ও কৃষক-প্রজার সম্পর্ক পরিবর্তিত হয়।
❖ খাজনা ও ভূমিস্বত্ব নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
❖ পরবর্তী সময়ে কৃষকদের অধিকার রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রজাস্বত্ব আইন প্রণীত হয়।
৯. বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন — ১৮৮৫
❖ ১৮৮৫ সালের Bengal Tenancy Act বাংলার কৃষক ও জমিদারদের মধ্যে ভূমিস্বত্ব-সংক্রান্ত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন।
❖ এতে বিভিন্ন শ্রেণির প্রজার স্বত্ব, খাজনা ও দখলসংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়।
❖ কৃষকদের কিছু আইনগত অধিকার স্বীকৃতি পায়।
১০. জমিদারি উচ্ছেদ
❖ পূর্ব পাকিস্তান আমলে জমিদারি ব্যবস্থার মধ্যস্বত্ব বিলোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
❖ ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন প্রণীত হয়।
❖ এই আইনের মাধ্যমে জমিদারদের মধ্যস্বত্ব বিলোপ ও প্রজাদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সরাসরি ভূমিসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হয়।
১১. ভূমিমালিকানা ও ভূমিরাজস্বের পার্থক্য
❖ ভূমিমালিকানা: জমির স্বীকৃত আইনগত স্বত্ব।
❖ ভূমিরাজস্ব: ভূমির ভিত্তিতে সরকারের প্রাপ্য কর বা আয়।
❖ জমিদার: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে স্বীকৃত ভূমিস্বত্বাধিকারী ও সরকারি রাজস্ব প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রেণি।
❖ প্রজা বা রায়ত: জমি চাষ ও ব্যবহারকারী এবং খাজনা প্রদানকারী ব্যক্তি।
❖ তাই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে জমিদারদের ভূমিস্বত্ব দেওয়া হলেও কৃষকদের সব ধরনের প্রথাগত অধিকার বিলুপ্ত হয়েছিল—এমন সরলীকরণ সঠিক নয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে ভূমির স্বীকৃত মালিকানাস্বত্ব লাভ করেন — জমিদার।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত — ২২ মার্চ ১৭৯৩।
➤ প্রবর্তক — লর্ড কর্নওয়ালিস।
➤ ইংরেজি নাম — Permanent Settlement।
➤ জমিদারদের ভূমিস্বত্ব — উত্তরাধিকারযোগ্য।
➤ জমিদারদের ভূমিস্বত্ব — হস্তান্তরযোগ্য।
➤ সরকারি রাজস্ব — স্থায়ীভাবে নির্ধারিত।
➤ জমিদারদের প্রধান দায়িত্ব — সরকারি রাজস্ব প্রদান।
➤ প্রজাদের প্রধান অর্থনৈতিক দায়িত্ব — খাজনা প্রদান।
➤ জমিদারি বকেয়ার পরিণতি — নিলামে বিক্রির ঝুঁকি।
➤ অনুপস্থিত জমিদারির ইংরেজি — Absentee Landlordism।
➤ জমিদারি ব্যবস্থার প্রধান সামাজিক সমস্যা — কৃষকদের ওপর খাজনার চাপ ও স্বত্বসংক্রান্ত বিরোধ।
➤ বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন — ১৮৮৫।
➤ বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের ইংরেজি — Bengal Tenancy Act।
➤ পূর্ববঙ্গ রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন — ১৯৫০।
➤ এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য — জমিদারি মধ্যস্বত্ব বিলোপ।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পূর্ববর্তী পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা — পাঁচশালা ও দশসালা বন্দোবস্ত।
➤ বিশেষ পার্থক্য: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে জমিদার—ভূমিস্বত্বাধিকারী; প্রজা—জমি চাষ ও ব্যবহারকারী; কোম্পানি সরকার—স্থায়ী ভূমিরাজস্ব গ্রহণকারী।
Advertisement
06
🎯 Level 1

২৩. সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তন করেন কে? (তিতাস গ্যাস ফিল্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী: ১১)

ক

লর্ড ওয়েলেসলি

খ

লর্ড বেন্টিঙ্ক

গ

লর্ড ক্লাইভ

ঘ

লর্ড কর্নওয়ালিস

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. লর্ড কর্নওয়ালিস

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিস
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ লর্ড কর্নওয়ালিস (Lord Cornwallis) ব্রিটিশ ভারতের একজন গুরুত্বপূর্ণ গভর্নর জেনারেল। তাঁর শাসনামলে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হয় এবং রাজস্ব পরিশোধের কঠোর নিয়ম, যা সূর্যাস্ত আইন (Sunset Law) নামে পরিচিত, কার্যকর হয়।
❖ পূর্ণ নাম: চার্লস কর্নওয়ালিস (Charles Cornwallis)।
❖ জন্ম: ৩১ ডিসেম্বর ১৭৩৮।
❖ মৃত্যু: ৫ অক্টোবর ১৮০৫।
❖ জাতীয়তা: ব্রিটিশ।
❖ পদবি: ব্রিটিশ সেনাপতি, ঔপনিবেশিক প্রশাসক ও ভারতের গভর্নর জেনারেল।
❖ ভারতে শাসনকাল: প্রথম পর্যায়ে ১৭৮৬–১৭৯৩ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮০৫ সালে।
❖ আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ভূমিকা: ব্রিটিশ সেনাপতি হিসেবে কর্নওয়ালিস আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৭৮১ সালের ইয়র্কটাউনের যুদ্ধে তাঁর বাহিনীর আত্মসমর্পণ আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
❖ ভারতে আগমন: ১৭৮৬ সালে তিনি বাংলার গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রশাসনে দুর্নীতি হ্রাস, রাজস্বসংগ্রহের স্থিতিশীলতা এবং বিচারব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন।
❖ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত: ১৭৯৩ সালে তিনি জমিদারদের সরকারি রাজস্বের পরিমাণ স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করেন। এ ব্যবস্থায় জমিদারদের ভূমির স্বত্বাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
❖ সূর্যাস্ত আইন: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ জমিদারদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রির কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হয়। এটি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের রাজস্বসংগ্রহের বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ কর্নওয়ালিস কোড (Cornwallis Code): ১৭৯৩ সালে প্রণীত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বিচারসংক্রান্ত বিধির সমষ্টি কর্নওয়ালিস কোড নামে পরিচিত।
❖ বিচারব্যবস্থার সংস্কার: তিনি রাজস্ব প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা পৃথক করার উদ্যোগ নেন। দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেন।
❖ পুলিশ প্রশাসন: থানাভিত্তিক পুলিশব্যবস্থা এবং দারোগা নিয়োগের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনকে পুনর্গঠিত করেন।
❖ সিভিল সার্ভিস সংস্কার: উচ্চপদস্থ কোম্পানি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদারের উদ্যোগ নেন। এ কারণে তাঁকে ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের অন্যতম প্রধান প্রাথমিক সংস্কারক বলা হয়।
❖ তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ: কর্নওয়ালিসের শাসনামলে টিপু সুলতানের সঙ্গে ব্রিটিশদের তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ (১৭৯০–১৭৯২) সংঘটিত হয়। তিনি এই যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নেতৃত্ব দেন।
❖ শ্রীরঙ্গপত্তনমের সন্ধি (১৭৯২): যুদ্ধের পর টিপু সুলতান তাঁর রাজ্যের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড ব্রিটিশ ও মিত্রশক্তির কাছে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
❖ মৃত্যু: ১৮০৫ সালে দ্বিতীয়বার ভারতে গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যে গাজীপুরে মৃত্যুবরণ করেন।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. লর্ড ওয়েলেসলি: ভারতের গভর্নর জেনারেল (১৭৯৮–১৮০৫)। তিনি অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি (Subsidiary Alliance) ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করেন। তাঁর আমলে চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে টিপু সুলতান নিহত হন। তিনি ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ খ. লর্ড বেন্টিঙ্ক: লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (১৭৭৪–১৮৩৯) ১৮২৮–১৮৩৫ সালে ভারতের ব্রিটিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা আইনত নিষিদ্ধ করেন। ১৮৩৩ সালের চার্টার আইনের ফলে প্রথম গভর্নর জেনারেল অব ইন্ডিয়া হন।
❖ গ. লর্ড ক্লাইভ: রবার্ট ক্লাইভ (১৭২৫–১৭৭৪) ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। ১৭৬৫ সালে কোম্পানির দেওয়ানি লাভের পর বাংলায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তন করেননি।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত — লর্ড কর্নওয়ালিস।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রবর্তক — লর্ড কর্নওয়ালিস।
➤ জন্ম — ৩১ ডিসেম্বর ১৭৩৮।
➤ মৃত্যু — ৫ অক্টোবর ১৮০৫।
➤ প্রথম শাসনকাল — ১৭৮৬–১৭৯৩।
➤ দ্বিতীয় শাসনকাল — ১৮০৫।
➤ আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে কর্নওয়ালিসের আত্মসমর্পণ — ইয়র্কটাউন, ১৭৮১।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত — ১৭৯৩।
➤ কর্নওয়ালিস কোড — ১৭৯৩।
➤ তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ — ১৭৯০–১৭৯২।
➤ তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে ব্রিটিশ পক্ষের প্রধান নেতা — কর্নওয়ালিস।
➤ তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে প্রতিপক্ষ — টিপু সুলতান।
➤ শ্রীরঙ্গপত্তনমের সন্ধি — ১৭৯২।
➤ কর্নওয়ালিসের বিচার সংস্কার — রাজস্ব ও বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
➤ কর্নওয়ালিসের পুলিশ সংস্কার — থানাভিত্তিক দারোগা ব্যবস্থা।
➤ ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের প্রাথমিক সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত — কর্নওয়ালিস।
➤ কর্নওয়ালিস—চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত; ওয়েলেসলি—অধীনতামূলক মিত্রতা; বেন্টিঙ্ক—সতীদাহ প্রথা বিলোপ; ডালহৌসি—স্বত্ববিলোপ নীতি।
07
🎯 Level 1

২৭. মহীশূরের টিপু সুলতান সর্বশেষ কোন ইংরেজ সেনাপতির সঙ্গে যুদ্ধ করেন? (জনতা ব্যাংকের অফিসার: ১৫)

ক

ওয়েলেসলি

খ

ওয়ারেন হেস্টিংস

গ

কর্নওয়ালিস

ঘ

ডালহৌসি

✅ সঠিক উত্তর:ক. ওয়েলেসলি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ওয়েলেসলি — প্রদত্ত বিকল্প অনুযায়ী; চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধের সময়কার গভর্নর জেনারেল
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ টিপু সুলতানের জীবনের সর্বশেষ যুদ্ধ ছিল চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ (Fourth Anglo-Mysore War), ১৭৯৯। এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় লর্ড রিচার্ড ওয়েলেসলির গভর্নর জেনারেল থাকার সময়। তিনি মহীশূরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অনুমোদন ও পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
❖ ঐতিহাসিক পরিচয়ের পার্থক্য: ওয়েলেসলি ছিলেন যুদ্ধের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল। কিন্তু তিনি নিজে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রধান সেনাপতি ছিলেন না। চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে প্রধান ব্রিটিশ সেনাপতি ছিলেন জেনারেল জর্জ হ্যারিস (General George Harris)। এই অভিযানে আর্থার ওয়েলেসলি (Arthur Wellesley)-ও অংশগ্রহণ করেন।
❖ যুদ্ধের সময়কাল: ফেব্রুয়ারি–মে ১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ যুদ্ধের স্থান: মহীশূর রাজ্য, বিশেষত শ্রীরঙ্গপত্তনম দুর্গ ও এর আশপাশের অঞ্চল।
❖ যুদ্ধে প্রতিপক্ষ:
মহীশূর পক্ষ: টিপু সুলতান।
ব্রিটিশ পক্ষ: ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনী।
ব্রিটিশ মিত্র: হায়দরাবাদের নিজাম।
প্রধান ব্রিটিশ সেনাপতি: জর্জ হ্যারিস।
গভর্নর জেনারেল: রিচার্ড ওয়েলেসলি।
❖ যুদ্ধের পটভূমি: তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে (১৭৯০–১৭৯২) পরাজয়ের পর টিপু সুলতান তাঁর রাজ্যের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হারান। কিন্তু তিনি ব্রিটিশ আধিপত্য মেনে নেননি।
❖ ফরাসিদের সঙ্গে সম্পর্ক: ব্রিটিশ শক্তিকে প্রতিরোধ করার জন্য টিপু সুলতান ফরাসি সহায়তা লাভের চেষ্টা করেন। ফরাসি বিপ্লব-পরবর্তী আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ প্রশাসন এই সম্পর্ককে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।
❖ ওয়েলেসলির নীতি: লর্ড ওয়েলেসলি ভারতীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশ অধীনতামূলক মিত্রতা ব্যবস্থার আওতায় আনতে চাইতেন। টিপু সুলতান ব্রিটিশদের রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণে অনিচ্ছুক ছিলেন।
❖ সামরিক অভিযানের সূচনা: ১৭৯৯ সালে ব্রিটিশ বাহিনী একাধিক দিক থেকে মহীশূরের দিকে অগ্রসর হয়। জেনারেল হ্যারিসের বাহিনী পূর্বদিক থেকে এবং অন্য বাহিনী পশ্চিমদিক থেকে অগ্রসর হয়।
❖ শ্রীরঙ্গপত্তনম অবরোধ: ১৭৯৯ সালের এপ্রিল মাসে ব্রিটিশ বাহিনী টিপু সুলতানের রাজধানী শ্রীরঙ্গপত্তনম অবরোধ করে। দীর্ঘদিন কামান ও গোলন্দাজ আক্রমণের পর দুর্গের প্রাচীরে ফাটল সৃষ্টি হয়।
❖ ৪ মে ১৭৯৯: ইংরেজ বাহিনী দুর্গের প্রতিরক্ষা ভেঙে প্রবেশ করে। টিপু সুলতান যুদ্ধে প্রতিরোধ চালাতে গিয়ে নিহত হন।
❖ যুদ্ধের ফলাফল: মহীশূর রাজ্যের বিস্তৃত অংশ ব্রিটিশ ও মিত্রশক্তির মধ্যে বিভক্ত হয়। ওয়াডিয়ার রাজবংশকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয় এবং অবশিষ্ট মহীশূর ব্রিটিশ প্রভাবাধীন রাজ্যে পরিণত হয়।
❖ ঐতিহাসিক গুরুত্ব: চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ দক্ষিণ ভারতে ব্রিটিশ সামরিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ খ. ওয়ারেন হেস্টিংস: বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল (১৭৭৪–১৭৮৫) হিসেবে পরিচিত। তাঁর সময়ে দ্বিতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। কিন্তু টিপু সুলতানের শেষ যুদ্ধ ১৭৯৯ সালে, হেস্টিংসের শাসন শেষ হওয়ার পরে ঘটে।
❖ গ. কর্নওয়ালিস: লর্ড কর্নওয়ালিস তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধের (১৭৯০–১৭৯২) সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন। তিনি টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন এবং ১৭৯২ সালে শ্রীরঙ্গপত্তনমের সন্ধি সম্পাদিত হয়।
❖ ঘ. ডালহৌসি: লর্ড ডালহৌসির শাসনকাল ১৮৪৮–১৮৫৬। টিপু সুলতান তাঁর শাসন শুরু হওয়ার প্রায় ৪৯ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি ও ভারতীয় রাজ্য অধিগ্রহণের জন্য পরিচিত।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ টিপু সুলতানের সর্বশেষ যুদ্ধ — চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ।
➤ যুদ্ধের সাল — ১৭৯৯।
➤ যুদ্ধের সময় গভর্নর জেনারেল — লর্ড ওয়েলেসলি।
➤ ব্রিটিশ প্রধান সেনাপতি — জর্জ হ্যারিস।
➤ অভিযানে অংশগ্রহণকারী অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্রিটিশ কর্মকর্তা — আর্থার ওয়েলেসলি।
➤ আর্থার ওয়েলেসলি পরবর্তী সময়ে পরিচিত হন — ডিউক অব ওয়েলিংটন নামে।
➤ চতুর্থ যুদ্ধের প্রধান স্থান — শ্রীরঙ্গপত্তনম।
➤ টিপু সুলতানের মৃত্যুর তারিখ — ৪ মে ১৭৯৯।
➤ টিপু সুলতানের জন্ম — ২০ নভেম্বর ১৭৫০।
➤ টিপু সুলতানের পিতা — হায়দার আলী।
➤ টিপুর উপাধি — মহীশূরের বাঘ।
➤ প্রথম ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ — ১৭৬৭–১৭৬৯।
➤ দ্বিতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ — ১৭৮০–১৭৮৪।
➤ তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ — ১৭৯০–১৭৯২।
➤ চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ — ১৭৯৯।
➤ তৃতীয় যুদ্ধের সময় গভর্নর জেনারেল — কর্নওয়ালিস।
➤ চতুর্থ যুদ্ধের সময় গভর্নর জেনারেল — ওয়েলেসলি।
➤ প্রশ্নে 'সেনাপতি' শব্দ থাকলেও প্রদত্ত বিকল্পের ওয়েলেসলি মূলত গভর্নর জেনারেল; যুদ্ধক্ষেত্রের প্রধান সেনাপতি ছিলেন জর্জ হ্যারিস।
08
🎯 Level 1

৩১. কার উদ্যোগে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয়? / সতীদাহ প্রথা বিলোপ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন কে? / সতীদাহ প্রথা রহিতকরণে কোন সমাজ সংস্কারকের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য? (জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক: ০৯; তিতাস গ্যাস ফিল্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী: ১১; বাংলাদেশ বিমানের ট্রাফিক হেলপার: ২৪; সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সহকারী: ২৫)

ক

রামমোহন রায়

খ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

গ

সরোজিনী নাইডু

ঘ

দাদাভাই নওরোজী

✅ সঠিক উত্তর:ক. রামমোহন রায়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: রাজা রামমোহন রায়
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ রাজা রামমোহন রায় (Raja Rammohun Roy) ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার অন্যতম প্রধান সমাজসংস্কারক, ধর্মচিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক ও সাংবাদিক। তিনি সতীদাহ প্রথা বিলোপের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন। তাঁকে ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত এবং আধুনিক ভারতের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ বলা হয়।
❖ জন্ম: প্রচলিত গবেষণামতে ২২ মে ১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দ। জন্মসাল সম্পর্কে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে মতভেদ রয়েছে।
❖ মৃত্যু: ২৭ সেপ্টেম্বর ১৮৩৩।
❖ জন্মস্থান: রাধানগর গ্রাম, হুগলি জেলা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
❖ মৃত্যুস্থান: স্ট্যাপলটন, ব্রিস্টল, ইংল্যান্ড।
❖ পিতার নাম: রামকান্ত রায়।
❖ মাতার নাম: তারিণী দেবী।
❖ বিশেষ উপাধি: রাজা; ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত।
❖ শিক্ষাগত পরিচয়: তিনি বাংলা, সংস্কৃত, ফারসি, আরবি ও ইংরেজিসহ একাধিক ভাষা অধ্যয়ন করেন। ধর্মতত্ত্ব, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা ও নৈতিকতা বিষয়ে তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল।
❖ প্রাথমিক কর্মজীবন: তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীন বিভিন্ন রাজস্ব ও প্রশাসনিক কাজে যুক্ত ছিলেন। ১৮১৪–১৮১৫ সালের দিকে কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কারে মনোনিবেশ করেন।
❖ সতীদাহবিরোধী আন্দোলনের পটভূমি: ঊনবিংশ শতাব্দীতে হিন্দু সমাজের কিছু অংশে স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রীকে স্বামীর চিতায় দাহ করার প্রথা প্রচলিত ছিল। এই প্রথার বিরুদ্ধে রামমোহন রায় শাস্ত্রীয়, নৈতিক ও মানবিক যুক্তি উপস্থাপন করেন।
❖ শাস্ত্রীয় যুক্তি: তিনি বেদ, উপনিষদ ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ বিশ্লেষণ করে দেখানোর চেষ্টা করেন যে সতীদাহ নারীর জন্য অপরিহার্য ধর্মীয় কর্তব্য নয়।
❖ সামাজিক যুক্তি: বিধবার জীবিত থাকার অধিকার, সম্পত্তিতে অধিকার, সামাজিক মর্যাদা এবং মানবিক স্বাধীনতার পক্ষে তিনি মত প্রকাশ করেন।
❖ ১৮১৮ সালের পুস্তিকা: তিনি সহমরণ বিষয়ে প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ রচনা করেন। এতে একজন সতীদাহপন্থী এবং একজন সতীদাহবিরোধীর কথোপকথনের মাধ্যমে প্রথাটির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি বিশ্লেষণ করা হয়।
❖ ১৮১৯ সালের দ্বিতীয় পুস্তিকা: সতীদাহ প্রথার সমর্থকদের আপত্তির জবাবে তিনি সহমরণ বিষয়ে প্রবর্তক ও নিবর্তকের দ্বিতীয় সম্বাদ প্রকাশ করেন।
❖ সংবাদপত্রে প্রচার: রামমোহন রায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্বাদ কৌমুদী পত্রিকা ১৮২১ সালে প্রকাশ শুরু হয়। সামাজিক সংস্কার, শিক্ষা, ধর্মীয় সহনশীলতা ও সতীদাহবিরোধী বক্তব্য প্রচারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ প্রথম সংগঠন — আত্মীয় সভা: ১৮১৫ সালে তিনি আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে ধর্মীয় সংস্কার, একেশ্বরবাদ, যুক্তিবাদ এবং সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার নিয়ে আলোচনা হতো।
❖ ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা: ২০ আগস্ট ১৮২৮ সালে তিনি ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে এটি ব্রাহ্মসমাজ নামে পরিচিত হয়। এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল একেশ্বরবাদী ধর্মচর্চা ও সমাজসংস্কার।
❖ আইন প্রণয়নের পটভূমি: রামমোহন রায়ের আন্দোলন, অন্যান্য সমাজসংস্কারকের প্রচেষ্টা এবং প্রশাসনিক তদন্তের ফলে সতীদাহ বিলোপের পক্ষে জনমত ও নীতিগত সমর্থন বৃদ্ধি পায়।
❖ ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯: লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক Bengal Regulation XVII of 1829 প্রণয়ন করে সতীদাহ নিষিদ্ধ করেন।
❖ রক্ষণশীল সমাজের বিরোধিতা: রাধাকান্ত দেবসহ হিন্দু সমাজের রক্ষণশীল অংশ সতীদাহবিরোধী আইনের বিরোধিতা করে। এ বিষয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করা হয়।
❖ ইংল্যান্ডে গমন: ১৮৩০ সালে রামমোহন রায় ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং ১৮৩১ সালে সেখানে পৌঁছান। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবরের প্রতিনিধিত্ব, বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় এবং সতীদাহবিরোধী আইনের পক্ষে অবস্থান রক্ষা তাঁর সফরের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে ছিল।
❖ রচনাসমূহ: রামমোহন রায়ের উল্লেখযোগ্য সাহিত্য ও প্রবন্ধগ্রন্থ—
তুহফাত-উল-মুওয়াহহিদিন — ১৮০৩–১৮০৪ সালের দিকে।
বেদান্ত গ্রন্থ — ১৮১৫।
বেদান্তসার — ১৮১৫।
ভট্টাচার্যের সহিত বিচার — ১৮১৭।
গোস্বামীর সহিত বিচার — ১৮১৮।
সহমরণ বিষয়ে প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ — ১৮১৮।
সহমরণ বিষয়ে প্রবর্তক ও নিবর্তকের দ্বিতীয় সম্বাদ — ১৮১৯।
পাদ্রী ও শিষ্য সম্বাদ — ১৮২৩।
গৌড়ীয় ব্যাকরণ — ১৮৩৩।
❖ সাংবাদিকতায় অবদান: রামমোহন রায়ের সঙ্গে সম্বাদ কৌমুদী, ফারসি ভাষার মিরাত-উল-আখবার এবং অন্যান্য সাময়িকপত্রের সম্পর্ক রয়েছে।
❖ মৃত্যু ও সমাধি: ২৭ সেপ্টেম্বর ১৮৩৩ সালে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সমাধি ব্রিস্টলের আর্নোস ভেল সমাধিক্ষেত্রে (Arnos Vale Cemetery) অবস্থিত।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০; মৃত্যু ২৯ জুলাই ১৮৯১। জন্মস্থান বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর। পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, মাতা ভগবতী দেবী। তিনি বিধবা বিবাহ আন্দোলনের প্রধান নেতা এবং বাংলা গদ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংস্কারক। তাঁর গ্রন্থ বর্ণপরিচয় (১৮৫৫), বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), শকুন্তলা (১৮৫৪), সীতার বনবাস (১৮৬০)। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়।
❖ গ. সরোজিনী নাইডু: জন্ম ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৯; মৃত্যু ২ মার্চ ১৯৪৯। জন্মস্থান হায়দরাবাদ। তিনি কবি, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও রাজনীতিবিদ। ভারতের নাইটিঙ্গেল (Nightingale of India) নামে পরিচিত। বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ The Golden Threshold (১৯০৫), The Bird of Time (১৯১২), The Broken Wing (১৯১৭)। ১৯২৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হন এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম নারী রাজ্যপাল হিসেবে উত্তর প্রদেশে দায়িত্ব পালন করেন।
❖ ঘ. দাদাভাই নওরোজী: জন্ম ৪ সেপ্টেম্বর ১৮২৫; মৃত্যু ৩০ জুন ১৯১৭। তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতা, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। Grand Old Man of India নামে পরিচিত। তিনি ভারতের অর্থসম্পদ ব্রিটেনে স্থানান্তরের ব্যাখ্যায় Drain Theory বা সম্পদ নিষ্কাশন তত্ত্ব প্রচার করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Poverty and Un-British Rule in India (১৯০১)। ১৮৯২ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সতীদাহবিরোধী আন্দোলনের প্রধান নেতা — রাজা রামমোহন রায়।
➤ উপাধি — ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত।
➤ জন্ম — প্রচলিত মতে ২২ মে ১৭৭২।
➤ জন্মস্থান — রাধানগর, হুগলি।
➤ পিতা — রামকান্ত রায়।
➤ মাতা — তারিণী দেবী।
➤ মৃত্যু — ২৭ সেপ্টেম্বর ১৮৩৩।
➤ মৃত্যুর স্থান — ব্রিস্টল, ইংল্যান্ড।
➤ সমাধিস্থল — আর্নোস ভেল, ব্রিস্টল।
➤ আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা — ১৮১৫।
➤ ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা — ২০ আগস্ট ১৮২৮।
➤ সতীদাহবিরোধী প্রথম পুস্তিকা — সহমরণ বিষয়ে প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ।
➤ প্রথম পুস্তিকার সাল — ১৮১৮।
➤ দ্বিতীয় পুস্তিকার সাল — ১৮১৯।
➤ বাংলা সংবাদপত্র — সম্বাদ কৌমুদী।
➤ সম্বাদ কৌমুদী প্রকাশ শুরু — ১৮২১।
➤ ফারসি সংবাদপত্র — মিরাত-উল-আখবার।
➤ মিরাত-উল-আখবার প্রকাশ শুরু — ১৮২২।
➤ সতীদাহ নিষিদ্ধ — ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯।
➤ আইন প্রণয়ন করেন — লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।
➤ রামমোহন ইংল্যান্ডে যাত্রা করেন — ১৮৩০।
➤ ইংল্যান্ডে পৌঁছান — ১৮৩১।
➤ রামমোহনকে রাজা উপাধি প্রদানকারী — দ্বিতীয় আকবর।
➤ নারীশিক্ষা ও বিধবা বিবাহ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
➤ ভারতের নাইটিঙ্গেল — সরোজিনী নাইডু।
➤ ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রবীণ নেতা — দাদাভাই নওরোজী।
➤ Drain Theory — দাদাভাই নওরোজী।
Advertisement
09
🎯 Level 1

৩৪. ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা কে? (বিকেবি’র সুপারভাইজার: ০৪)

ক

রাজা রামমোহন রায়

খ

কেশবচন্দ্র সেন

গ

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

ঘ

স্বামী বিবেকানন্দ

✅ সঠিক উত্তর:ক. রাজা রামমোহন রায়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: রাজা রামমোহন রায়
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ রাজা রামমোহন রায় ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট কলকাতায় ব্রাহ্মসভা (Brahma Sabha) প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে এই সংগঠন ব্রাহ্মসমাজ (Brahmo Samaj) নামে পরিচিত হয়। এটি ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলার ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
❖ প্রতিষ্ঠাতা: রাজা রামমোহন রায়।
❖ প্রতিষ্ঠাকাল: ২০ আগস্ট ১৮২৮।
❖ প্রতিষ্ঠাস্থান: কলকাতা।
❖ মূল আদর্শ: একেশ্বরবাদ, যুক্তিবাদ, ধর্মীয় সহনশীলতা, নৈতিক জীবনযাপন এবং সামাজিক সংস্কার।
❖ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার পটভূমি: রাজা রামমোহন রায় বেদ, উপনিষদ, ইসলাম, খ্রিষ্টধর্ম এবং বিভিন্ন ধর্মীয় দর্শন অধ্যয়ন করে একেশ্বরবাদী ও যুক্তিনির্ভর ধর্মচিন্তার প্রতি আকৃষ্ট হন। তিনি ধর্মীয় কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস এবং সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন।
❖ আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা: ১৮১৫ সালে তিনি আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মীয় আলোচনা সংগঠন ছিল।
❖ ব্রাহ্মসভার প্রধান উদ্দেশ্য:
নিরাকার ও এক পরমেশ্বরের উপাসনা প্রচার।
মূর্তিপূজা ও অযৌক্তিক ধর্মীয় আচার সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন।
ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা।
জাতিভেদ ও সামাজিক বৈষম্যের বিরোধিতা।
নারীশিক্ষা ও নারীর সামাজিক মর্যাদা উন্নয়ন।
সতীদাহ, বহুবিবাহ ও অন্যান্য ক্ষতিকর সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন।
আধুনিক শিক্ষা ও যুক্তিবাদী চিন্তার প্রসার।
❖ ব্রাহ্মসমাজের ট্রাস্ট ডিড: ৮ জানুয়ারি ১৮৩০ সালে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয়সংক্রান্ত ট্রাস্ট ডিড সম্পাদিত হয়। এর মাধ্যমে নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনা ও ধর্মীয় সহনশীলতার আদর্শকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়া হয়।
❖ উপাসনালয়ের উদ্বোধন: ১৮৩০ সালের জানুয়ারিতে কলকাতার চিৎপুর রোডে ব্রাহ্মসমাজের স্থায়ী উপাসনালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
❖ রামমোহন রায়ের মৃত্যুর পর: ১৮৩৩ সালে তাঁর মৃত্যুর পর ব্রাহ্মসমাজের কার্যক্রম কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সংগঠনটিকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
❖ দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান: তিনি ১৮৩৯ সালে তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৪৩ সালে ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন। তাঁর নেতৃত্বে ব্রাহ্মসমাজের ধর্মীয় ও দার্শনিক কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।
❖ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা: ১৮৪৩ সালে প্রকাশ শুরু হয়। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। বাংলা গদ্য, বিজ্ঞানমনস্কতা, ধর্মীয় যুক্তিবাদ ও সমাজসংস্কারমূলক চিন্তার প্রসারে পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ কেশবচন্দ্র সেনের ভূমিকা: কেশবচন্দ্র সেন ১৮৫৮ সালে ব্রাহ্মসমাজে যোগ দেন এবং পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ ব্রাহ্মসমাজের বিভক্তি: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্র সেনের মতপার্থক্যের ফলে ১৮৬৬ সালে সংগঠনটি বিভক্ত হয়। দেবেন্দ্রনাথের নেতৃত্বাধীন শাখা আদি ব্রাহ্মসমাজ এবং কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বাধীন শাখা ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ নামে পরিচিত হয়।
❖ সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ: ১৫ মে ১৮৭৮ সালে আনন্দমোহন বসু, শিবনাথ শাস্ত্রীসহ কয়েকজন নেতার উদ্যোগে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ নারীশিক্ষায় অবদান: ব্রাহ্মসমাজের নেতারা নারীশিক্ষা, বিধবা বিবাহ, বাল্যবিবাহের বিরোধিতা এবং নারীর সামাজিক মর্যাদা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ব্রাহ্মসমাজ ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগরণ, সামাজিক সংস্কার, যুক্তিবাদী ধর্মচিন্তা ও আধুনিক শিক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ খ. কেশবচন্দ্র সেন: জন্ম ১৯ নভেম্বর ১৮৩৮; মৃত্যু ৮ জানুয়ারি ১৮৮৪। তিনি বিশিষ্ট ব্রাহ্মধর্ম প্রচারক ও সমাজসংস্কারক। ১৮৫৮ সালে ব্রাহ্মসমাজে যোগ দেন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে মতপার্থক্যের পর ১৮৬৬ সালে ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। নারীশিক্ষা, বাল্যবিবাহবিরোধী আন্দোলন এবং ধর্মীয় সংস্কারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
❖ গ. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর: জন্ম ১৫ মে ১৮১৭; মৃত্যু ১৯ জানুয়ারি ১৯০৫। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা এবং মহর্ষি উপাধিতে পরিচিত। ১৮৩৯ সালে তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৪৩ সালে ব্রাহ্মসমাজে যোগ দিয়ে সংগঠনের পুনর্জাগরণে নেতৃত্ব দেন। তাঁর আত্মজীবনী আত্মজীবনী বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ আত্মজীবনীমূলক রচনা।
❖ ঘ. স্বামী বিবেকানন্দ: জন্ম ১২ জানুয়ারি ১৮৬৩; মৃত্যু ৪ জুলাই ১৯০২। জন্মস্থান কলকাতা। পূর্বনাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্যদের অন্যতম। ১৮৯৩ সালে শিকাগোর বিশ্বধর্ম মহাসম্মেলনে বক্তৃতা দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি অর্জন করেন। ১ মে ১৮৯৭ সালে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা রাজযোগ, কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা — রাজা রামমোহন রায়।
➤ ব্রাহ্মসভার প্রতিষ্ঠা — ২০ আগস্ট ১৮২৮।
➤ প্রতিষ্ঠাস্থান — কলকাতা।
➤ ব্রাহ্মসমাজের প্রধান আদর্শ — একেশ্বরবাদ।
➤ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার পূর্ববর্তী সংগঠন — আত্মীয় সভা।
➤ আত্মীয় সভার প্রতিষ্ঠাতা — রাজা রামমোহন রায়।
➤ আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা — ১৮১৫।
➤ ব্রাহ্মসমাজের ট্রাস্ট ডিড — ৮ জানুয়ারি ১৮৩০।
➤ ব্রাহ্মসমাজের অন্যতম প্রধান পরবর্তী নেতা — দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
➤ দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপাধি — মহর্ষি।
➤ তত্ত্ববোধিনী সভার প্রতিষ্ঠাতা — দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
➤ তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা — ১৮৩৯।
➤ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশ — ১৮৪৩।
➤ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার প্রথম সম্পাদক — অক্ষয়কুমার দত্ত।
➤ কেশবচন্দ্র সেন ব্রাহ্মসমাজে যোগ দেন — ১৮৫৮।
➤ ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা — ১৮৬৬।
➤ প্রতিষ্ঠাতা — কেশবচন্দ্র সেন।
➤ সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা — ১৫ মে ১৮৭৮।
➤ সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত — আনন্দমোহন বসু ও শিবনাথ শাস্ত্রী প্রমুখ।
➤ রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা — ১ মে ১৮৯৭।
➤ রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিষ্ঠাতা — স্বামী বিবেকানন্দ।
➤ ব্রাহ্মসমাজ—রামমোহন; তত্ত্ববোধিনী সভা—দেবেন্দ্রনাথ; ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ—কেশবচন্দ্র; রামকৃষ্ণ মিশন—বিবেকানন্দ।
10
🎯 Level 1

৩৮. ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম রেল যোগাযোগ চালু করেন কে? / কার সময়ে ভারতে সর্বপ্রথম রেলপথ ও টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপিত হয়? (কারা অধিদপ্তরের কারা তত্ত্বাবধায়ক: ০৫; রাবি: ০৮–০৯)

ক

লর্ড ডালহৌসি

খ

লর্ড বেন্টিঙ্ক

গ

লর্ড ওয়েলেসলি

ঘ

লর্ড কার্জন

✅ সঠিক উত্তর:ক. লর্ড ডালহৌসি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: লর্ড ডালহৌসি
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ লর্ড ডালহৌসির শাসনামলে ১৬ এপ্রিল ১৮৫৩ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম নিয়মিত যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ চালু হয়। প্রথম ট্রেনটি তৎকালীন বোম্বাইয়ের বোরি বন্দর থেকে থানে পর্যন্ত চলাচল করে।
❖ প্রথম রেল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
তারিখ: ১৬ এপ্রিল ১৮৫৩।
প্রথম রেলপথ: বোম্বাই (বর্তমান মুম্বাই) থেকে থানে।
দূরত্ব: প্রায় ৩৪ কিলোমিটার।
রেল কোম্পানি: Great Indian Peninsula Railway (GIPR)।
প্রথম ট্রেনের ইঞ্জিন: সাহিব, সিন্ধ ও সুলতান নামে তিনটি লোকোমোটিভ।
যাত্রী: প্রায় ৪০০ জন।
তৎকালীন গভর্নর জেনারেল: লর্ড ডালহৌসি।
❖ রেলপথ স্থাপনের উদ্দেশ্য: ব্রিটিশ শাসকেরা সামরিক বাহিনী দ্রুত স্থানান্তর, কাঁচামাল পরিবহন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বন্দরের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ অঞ্চলকে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে রেলব্যবস্থা গড়ে তোলে।
❖ রেলওয়ে মিনিট (Railway Minute): ২০ এপ্রিল ১৮৫৩ সালে ডালহৌসি রেলপথ সম্প্রসারণের নীতি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল প্রস্তুত করেন। এটি ভারতের রেলওয়ে নীতির বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
❖ টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা: ডালহৌসির সময়ে ভারতে বৈদ্যুতিক টেলিগ্রাফ নেটওয়ার্ক দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। প্রথম পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এর আগেই শুরু হলেও ডালহৌসির আমলে কলকাতা, আগ্রা, বোম্বাই ও মাদ্রাজসহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল টেলিগ্রাফের মাধ্যমে যুক্ত হয়।
❖ প্রথম কার্যকর টেলিগ্রাফ লাইন: কলকাতা থেকে ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত টেলিগ্রাফ সংযোগ ১৮৫১ সালে চালু হয়।
❖ টেলিগ্রাফ সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্ব: ডা. উইলিয়াম ব্রুক ও'শনেসি (William Brooke O'Shaughnessy) ভারতীয় টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার প্রাথমিক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ ডাকব্যবস্থার সংস্কার: ডালহৌসি ডাকব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেন। ১৮৫৪ সালের ভারতীয় ডাক আইন (Indian Post Office Act) ডাকসেবার সম্প্রসারণ ও একক ডাকব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।
❖ প্রথম ডাকটিকিটের ঐতিহাসিক পার্থক্য: ১৮৫২ সালে সিন্ধু অঞ্চলে 'Scinde Dawk' ডাকটিকিট চালু হয়েছিল। ১ অক্টোবর ১৮৫৪ সালে সর্বভারতীয় ব্যবহারের জন্য ডাকটিকিট চালু হয়। তাই ভারতের প্রথম ডাকটিকিট এবং সর্বভারতীয় ডাকটিকিট একই বিষয় নয়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ খ. লর্ড বেন্টিঙ্ক: ভারতের গভর্নর জেনারেল ১৮২৮–১৮৩৫। তিনি ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর আমলে প্রশাসনিক সংস্কার এবং ইংরেজি শিক্ষানীতির বিকাশ ঘটে। ১৮৩৫ সালের ম্যাকলে মিনিটের ভিত্তিতে ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
❖ গ. লর্ড ওয়েলেসলি: ভারতের গভর্নর জেনারেল ১৭৯৮–১৮০৫। তিনি অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি (Subsidiary Alliance) ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করেন। ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এ কলেজ বাংলা গদ্যসাহিত্যের প্রাথমিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ ঘ. লর্ড কার্জন: ভারতের ভাইসরয় ১৮৯৯–১৯০৫। তাঁর শাসনামলে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়। ১৯০৪ সালে ভারতীয় প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষণ আইন (Ancient Monuments Preservation Act) প্রণীত হয়। তিনি শিক্ষা, প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্বসংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ভারতের প্রথম নিয়মিত যাত্রীবাহী রেল চলাচল — ১৬ এপ্রিল ১৮৫৩।
➤ প্রথম রেলপথ — বোম্বাই থেকে থানে।
➤ প্রথম রেলপথের দূরত্ব — প্রায় ৩৪ কিলোমিটার।
➤ প্রথম যাত্রীবাহী রেল চলার সময় গভর্নর জেনারেল — লর্ড ডালহৌসি।
➤ প্রথম রেল পরিচালনাকারী কোম্পানি — Great Indian Peninsula Railway।
➤ প্রথম ট্রেনের তিন ইঞ্জিন — সাহিব, সিন্ধ ও সুলতান।
➤ ডালহৌসির রেলওয়ে মিনিট — ২০ এপ্রিল ১৮৫৩।
➤ ভারতের প্রাথমিক টেলিগ্রাফ সম্প্রসারণ — ডালহৌসির আমলে।
➤ কলকাতা–ডায়মন্ড হারবার টেলিগ্রাফ লাইন — ১৮৫১।
➤ ভারতীয় টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার পথিকৃৎ — উইলিয়াম ব্রুক ও'শনেসি।
➤ ভারতীয় ডাক আইন — ১৮৫৪।
➤ সিন্ধুর প্রথম ডাকটিকিট — Scinde Dawk, ১৮৫২।
➤ সর্বভারতীয় ডাকটিকিট চালু — ১ অক্টোবর ১৮৫৪।
➤ ডালহৌসির শাসনকাল — ১৮৪৮–১৮৫৬।
➤ সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকারী গভর্নর জেনারেল — লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।
➤ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা — লর্ড ওয়েলেসলি।
➤ বঙ্গভঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কিত ভাইসরয় — লর্ড কার্জন।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন