01
🎯 Level 1
০১. বাংলার প্রথম গভর্নর কে? (শ্রম অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক: ৯৯)
✅ সঠিক উত্তর:ঘ. লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা:
"উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: লর্ড ক্লাইভ (Lord Clive / Robert Clive)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ রবার্ট ক্লাইভ (Robert Clive) ছিলেন বাংলায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বইয়ে তাঁকে বাংলার প্রথম গভর্নর হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ এবং ১৭৬৫ সালে কোম্পানির দেওয়ানি লাভের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কিত।
❖ রবার্ট ক্লাইভের জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর ১৭২৫ সালে ইংল্যান্ডের শ্রপশায়ারের স্টাইচে। তিনি ২২ নভেম্বর ১৭৭৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
❖ ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে। এই বিজয়ের পেছনে নবাবের দরবারের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ষড়যন্ত্র এবং সেনাপতি মীর জাফরের অসহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধের পর ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের মধ্যে এলাহাবাদ চুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি, অর্থাৎ রাজস্ব প্রশাসনের অধিকার লাভ করে।
❖ এর ফলে বাংলার নবাবের হাতে নামমাত্র নিজামত বা শাসন ও বিচারসংক্রান্ত দায়িত্ব থাকলেও কোম্পানি রাজস্ব সংগ্রহ এবং প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণ করত।
❖ দেওয়ানি ও নিজামত—এই দুটি প্রশাসনিক ক্ষেত্রের আনুষ্ঠানিক বিভাজন এবং ক্ষমতা ও দায়িত্বের অসম বণ্টনকে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা (Dual Government) বলা হয়। রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে এই ব্যবস্থা চালু করেন, যা ১৭৭২ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
◉ ১. রবার্ট ক্লাইভের পরিচয় ও কর্মজীবন
❖ পূর্ণ নাম: রবার্ট ক্লাইভ (Robert Clive)।
❖ পরিচিত নাম: লর্ড ক্লাইভ (Lord Clive)।
❖ উপাধি: ব্যারন ক্লাইভ অব প্লাসি (Baron Clive of Plassey)।
❖ জন্ম: ২৯ সেপ্টেম্বর ১৭২৫।
❖ জন্মস্থান: স্টাইচ, শ্রপশায়ার, ইংল্যান্ড।
❖ মৃত্যু: ২২ নভেম্বর ১৭৭৪।
❖ জাতীয়তা: ব্রিটিশ।
❖ প্রধান পরিচয়: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামরিক কর্মকর্তা, গভর্নর ও উপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
❖ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে যোগদান: ১৭৪৩ সাল।
❖ তিনি প্রথমে কোম্পানির বাণিজ্যিক কর্মচারী হিসেবে ভারতে আসেন।
❖ পরবর্তী সময়ে সামরিক বিভাগে যোগ দিয়ে কর্ণাটকের যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ করেন।
❖ দক্ষিণ ভারতে তাঁর সামরিক সাফল্যের মধ্যে ১৭৫১ সালের আর্কট অভিযান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
❖ পলাশীর যুদ্ধের পর তিনি বাংলায় কোম্পানির রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
◉ ২. পলাশীর যুদ্ধের পটভূমি
❖ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
❖ তাঁর শাসনামলে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে বাংলার নবাবি প্রশাসনের বিরোধ তীব্র হয়।
❖ কোম্পানির দুর্গ মেরামত ও শক্তিশালীকরণ, বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহার এবং নবাবের কর্তৃত্ব অমান্য বিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল।
❖ সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের বেআইনি দুর্গ নির্মাণ বন্ধ এবং নবাবি কর্তৃত্ব মেনে চলার নির্দেশ দেন।
❖ কোম্পানি নবাবের নির্দেশ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
❖ ১৭৫৬ সালের জুন মাসে সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখল করেন।
❖ পরবর্তী সময়ে রবার্ট ক্লাইভ ও অ্যাডমিরাল চার্লস ওয়াটসনের নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনী কলকাতা পুনর্দখল করে।
❖ ৯ ফেব্রুয়ারি ১৭৫৭ সালে আলিনগরের সন্ধি সম্পাদিত হয়।
❖ এই সন্ধির পরও ইংরেজরা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে গোপন রাজনৈতিক পরিকল্পনা অব্যাহত রাখে।
◉ ৩. পলাশীর যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ
❖ পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে।
❖ যুদ্ধের স্থান ছিল ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী পলাশী, বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায়।
❖ এক পক্ষে ছিলেন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
❖ অপর পক্ষে ছিলেন রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী।
❖ নবাবের বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সেনাপতিদের মধ্যে মীর মদন, মোহনলাল ও মীর জাফর উল্লেখযোগ্য।
❖ মীর জাফর নবাবের প্রধান সেনাপতিদের একজন হলেও ইংরেজদের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় যুক্ত ছিলেন।
❖ জগৎশেঠ পরিবার, রায়দুর্লভ এবং নবাবের দরবারের আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করেন।
❖ যুদ্ধ চলাকালে মীর জাফরের অধীনস্থ বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নবাবের সামরিক অবস্থান দুর্বল করে।
❖ মীর মদন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
❖ মোহনলালও নবাবের পক্ষে প্রতিরোধ পরিচালনা করেন।
❖ শেষ পর্যন্ত নবাবের বাহিনী পরাজিত হয়।
❖ সিরাজউদ্দৌলা পালিয়ে যাওয়ার পর বন্দি হন এবং ২ জুলাই ১৭৫৭ সালে তাঁকে হত্যা করা হয়।
❖ পলাশীর যুদ্ধের পর মীর জাফরকে বাংলার নবাব করা হয়।
◉ ৪. পলাশীর যুদ্ধের পর ক্লাইভের রাজনৈতিক ভূমিকা
❖ পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার নবাবি প্রশাসনের ওপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
❖ কোম্পানির সহায়তায় মীর জাফর নবাব হলেও তিনি ইংরেজদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবির ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
❖ কোম্পানির কর্মকর্তারা নবাবি প্রশাসন থেকে বিপুল অর্থ ও বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ করেন।
❖ ১৭৬০ সালে মীর জাফরকে সরিয়ে মীর কাশেমকে নবাব করা হয়।
❖ মীর কাশেম কোম্পানির প্রভাব থেকে স্বাধীনভাবে প্রশাসন পরিচালনার চেষ্টা করেন।
❖ তিনি মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে রাজধানী স্থানান্তর করেন।
❖ সেনাবাহিনী পুনর্গঠন এবং রাজস্ব প্রশাসন শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
❖ কোম্পানির শুল্কমুক্ত বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহারকে কেন্দ্র করে মীর কাশেমের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধ বৃদ্ধি পায়।
❖ এই বিরোধ পরবর্তী সময়ে বক্সারের যুদ্ধের পটভূমি তৈরি করে।
◉ ৫. বক্সারের যুদ্ধ ও ইংরেজদের বিজয়
❖ বক্সারের যুদ্ধ (Battle of Buxar) সংঘটিত হয় ১৭৬৪ সালের অক্টোবর মাসে, সাধারণভাবে ২২ অক্টোবর তারিখটি প্রচলিত; কিছু ঐতিহাসিক বিবরণে মূল যুদ্ধ ২৩ অক্টোবর উল্লেখ রয়েছে।
❖ যুদ্ধক্ষেত্র ছিল বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের বক্সার অঞ্চল।
❖ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনীর নেতৃত্ব দেন মেজর হেক্টর মনরো (Hector Munro)।
❖ ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তির জোট গঠিত হয়—
❖ মীর কাশেম: বাংলার ক্ষমতাচ্যুত নবাব।
❖ সুজাউদ্দৌলা: অযোধ্যার নবাব।
❖ দ্বিতীয় শাহ আলম: মুঘল সম্রাট।
❖ এই সম্মিলিত বাহিনী ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
❖ যুদ্ধের পরিণতিতে ইংরেজ বাহিনী বিজয়ী হয়।
❖ বক্সারের বিজয় বাংলায় কোম্পানির রাজনৈতিক ক্ষমতা সুসংহত করার একটি সিদ্ধান্তমূলক ঘটনা।
❖ যুদ্ধের পর মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ও অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা কোম্পানির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় আসতে বাধ্য হন।
◉ ৬. এলাহাবাদ চুক্তি ও ক্লাইভের দ্বিতীয় শাসনপর্ব
❖ রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালের মে মাসে বাংলায় দ্বিতীয়বার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ বক্সারের যুদ্ধের পর কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে রাজস্ব প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বৈধতা অর্জনের চেষ্টা করে।
❖ ১২ আগস্ট ১৭৬৫ সালে দ্বিতীয় শাহ আলম কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি প্রদান করেন বলে বাংলাপিডিয়ার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
❖ এর বিনিময়ে কোম্পানি মুঘল সম্রাটকে বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকা প্রদানের অঙ্গীকার করে।
❖ বাংলার নবাবের নিজামত পরিচালনার জন্য বার্ষিক ৫৩ লক্ষ টাকা নির্ধারিত হয়।
❖ কোম্পানি রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণের অধিকার লাভ করে।
❖ নবাবি প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল থাকলেও প্রকৃত ক্ষমতা ক্রমশ কোম্পানির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।
❖ এই ব্যবস্থার ভিত্তিতে ১৭৬৫ সালে বাংলায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
◉ ৭. দ্বৈত শাসনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য
❖ দেওয়ানি (Diwani): রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানি প্রশাসনের অধিকার।
❖ নিজামত (Nizamat): প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, পুলিশ, ফৌজদারি বিচার ও প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত শাসনক্ষমতা।
❖ আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানি দেওয়ানি এবং নবাব নিজামতের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
❖ কিন্তু বাস্তবে কোম্পানির হাতে রাজস্ব, সামরিক শক্তি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ চলে যায়।
❖ কোম্পানি সরাসরি সব স্থানীয় প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা না করে দেশীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ ও প্রশাসন পরিচালনা করত।
❖ ফলে কোম্পানির হাতে প্রকৃত ক্ষমতা এবং নবাবের হাতে নামমাত্র দায়িত্ব থাকার একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
❖ এই ক্ষমতা ও দায়িত্বের অসম বণ্টনকে দ্বৈত শাসন (Dual Government বা Double Government) বলা হয়।
◉ ৮. ক্লাইভ ও ওয়ারেন হেস্টিংসের পার্থক্য
❖ লর্ড ক্লাইভ: বাংলায় কোম্পানির রাজনৈতিক কর্তৃত্ব সুসংহত করেন এবং ১৭৬৫ সালে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
❖ ওয়ারেন হেস্টিংস (Warren Hastings): ১৭৭২ সালে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপ করেন।
❖ হেস্টিংস ১৭৭২ সালে বাংলার গভর্নর হিসেবে প্রশাসনিক সংস্কার শুরু করেন।
❖ ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের ভিত্তিতে গভর্নর জেনারেলের নতুন প্রশাসনিক পদ সৃষ্টি হয়।
❖ ১৭৭৪ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ লর্ড কর্নওয়ালিস (Lord Cornwallis) পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক সংস্কার ও ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ তাঁর শাসনামলে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (Permanent Settlement) কার্যকর করা হয়।
❖ ফলে লর্ড ক্লাইভ, ওয়ারেন হেস্টিংস ও লর্ড কর্নওয়ালিসের প্রশাসনিক অবদান পৃথকভাবে মনে রাখা প্রয়োজন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলার প্রথম গভর্নর — লর্ড ক্লাইভ (প্রচলিত পরীক্ষার উত্তর)।
➤ লর্ড ক্লাইভের পূর্ণ নাম — রবার্ট ক্লাইভ।
➤ রবার্ট ক্লাইভের জন্ম — ২৯ সেপ্টেম্বর ১৭২৫।
➤ রবার্ট ক্লাইভের মৃত্যু — ২২ নভেম্বর ১৭৭৪।
➤ ক্লাইভের বিখ্যাত উপাধি — ব্যারন ক্লাইভ অব প্লাসি।
➤ রবার্ট ক্লাইভ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে যোগ দেন — ১৭৪৩ সালে।
➤ রবার্ট ক্লাইভের আর্কট অভিযান — ১৭৫১ সালে।
➤ পলাশীর যুদ্ধ — ২৩ জুন ১৭৫৭।
➤ পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি — রবার্ট ক্লাইভ।
➤ পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাব — সিরাজউদ্দৌলা।
➤ পলাশীর যুদ্ধের স্থান — পলাশী, নদিয়া।
➤ সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যুর তারিখ — ২ জুলাই ১৭৫৭।
➤ পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার নবাব — মীর জাফর।
➤ মীর কাশেম বাংলার নবাব হন — ১৭৬০ সালে।
➤ মীর কাশেমের রাজধানী — মুঙ্গের।
➤ বক্সারের যুদ্ধ — ১৭৬৪ সালে।
➤ বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি — হেক্টর মনরো।
➤ বক্সারের যুদ্ধে সম্মিলিত ভারতীয় পক্ষ — মীর কাশেম, সুজাউদ্দৌলা ও দ্বিতীয় শাহ আলম।
➤ বক্সারের যুদ্ধের পর গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি — এলাহাবাদ চুক্তি।
➤ এলাহাবাদ চুক্তি — ১৭৬৫ সালে।
➤ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ — ১৭৬৫ সালে।
➤ কোম্পানিকে দেওয়ানি প্রদানকারী মুঘল সম্রাট — দ্বিতীয় শাহ আলম।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন — লর্ড ক্লাইভ।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা চালু — ১৭৬৫ সালে।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপ — ১৭৭২ সালে।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপ করেন — ওয়ারেন হেস্টিংস।
➤ বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল — ওয়ারেন হেস্টিংস।
➤ রেগুলেটিং অ্যাক্ট — ১৭৭৩ সালে।
➤ ওয়ারেন হেস্টিংস গভর্নর জেনারেল হন — ১৭৭৪ সালে।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত — ১৭৯৩ সালে।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন — লর্ড কর্নওয়ালিস।
ঐতিহাসিক পার্থক্য: প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর লর্ড ক্লাইভ। তবে তিনি ফোর্ট উইলিয়ামের প্রশাসনিক ইতিহাসে আক্ষরিক অর্থে প্রথম গভর্নর ছিলেন না; তাঁর আগেও গভর্নর ছিলেন। একইভাবে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস, লর্ড ক্লাইভ নন।"
◈ সঠিক উত্তর: লর্ড ক্লাইভ (Lord Clive / Robert Clive)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ রবার্ট ক্লাইভ (Robert Clive) ছিলেন বাংলায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বইয়ে তাঁকে বাংলার প্রথম গভর্নর হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ এবং ১৭৬৫ সালে কোম্পানির দেওয়ানি লাভের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কিত।
❖ রবার্ট ক্লাইভের জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর ১৭২৫ সালে ইংল্যান্ডের শ্রপশায়ারের স্টাইচে। তিনি ২২ নভেম্বর ১৭৭৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
❖ ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে। এই বিজয়ের পেছনে নবাবের দরবারের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ষড়যন্ত্র এবং সেনাপতি মীর জাফরের অসহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধের পর ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের মধ্যে এলাহাবাদ চুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি, অর্থাৎ রাজস্ব প্রশাসনের অধিকার লাভ করে।
❖ এর ফলে বাংলার নবাবের হাতে নামমাত্র নিজামত বা শাসন ও বিচারসংক্রান্ত দায়িত্ব থাকলেও কোম্পানি রাজস্ব সংগ্রহ এবং প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণ করত।
❖ দেওয়ানি ও নিজামত—এই দুটি প্রশাসনিক ক্ষেত্রের আনুষ্ঠানিক বিভাজন এবং ক্ষমতা ও দায়িত্বের অসম বণ্টনকে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা (Dual Government) বলা হয়। রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে এই ব্যবস্থা চালু করেন, যা ১৭৭২ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
◉ ১. রবার্ট ক্লাইভের পরিচয় ও কর্মজীবন
❖ পূর্ণ নাম: রবার্ট ক্লাইভ (Robert Clive)।
❖ পরিচিত নাম: লর্ড ক্লাইভ (Lord Clive)।
❖ উপাধি: ব্যারন ক্লাইভ অব প্লাসি (Baron Clive of Plassey)।
❖ জন্ম: ২৯ সেপ্টেম্বর ১৭২৫।
❖ জন্মস্থান: স্টাইচ, শ্রপশায়ার, ইংল্যান্ড।
❖ মৃত্যু: ২২ নভেম্বর ১৭৭৪।
❖ জাতীয়তা: ব্রিটিশ।
❖ প্রধান পরিচয়: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামরিক কর্মকর্তা, গভর্নর ও উপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
❖ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে যোগদান: ১৭৪৩ সাল।
❖ তিনি প্রথমে কোম্পানির বাণিজ্যিক কর্মচারী হিসেবে ভারতে আসেন।
❖ পরবর্তী সময়ে সামরিক বিভাগে যোগ দিয়ে কর্ণাটকের যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ করেন।
❖ দক্ষিণ ভারতে তাঁর সামরিক সাফল্যের মধ্যে ১৭৫১ সালের আর্কট অভিযান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
❖ পলাশীর যুদ্ধের পর তিনি বাংলায় কোম্পানির রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
◉ ২. পলাশীর যুদ্ধের পটভূমি
❖ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
❖ তাঁর শাসনামলে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে বাংলার নবাবি প্রশাসনের বিরোধ তীব্র হয়।
❖ কোম্পানির দুর্গ মেরামত ও শক্তিশালীকরণ, বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহার এবং নবাবের কর্তৃত্ব অমান্য বিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল।
❖ সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের বেআইনি দুর্গ নির্মাণ বন্ধ এবং নবাবি কর্তৃত্ব মেনে চলার নির্দেশ দেন।
❖ কোম্পানি নবাবের নির্দেশ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
❖ ১৭৫৬ সালের জুন মাসে সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখল করেন।
❖ পরবর্তী সময়ে রবার্ট ক্লাইভ ও অ্যাডমিরাল চার্লস ওয়াটসনের নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনী কলকাতা পুনর্দখল করে।
❖ ৯ ফেব্রুয়ারি ১৭৫৭ সালে আলিনগরের সন্ধি সম্পাদিত হয়।
❖ এই সন্ধির পরও ইংরেজরা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে গোপন রাজনৈতিক পরিকল্পনা অব্যাহত রাখে।
◉ ৩. পলাশীর যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ
❖ পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে।
❖ যুদ্ধের স্থান ছিল ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী পলাশী, বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায়।
❖ এক পক্ষে ছিলেন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
❖ অপর পক্ষে ছিলেন রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী।
❖ নবাবের বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সেনাপতিদের মধ্যে মীর মদন, মোহনলাল ও মীর জাফর উল্লেখযোগ্য।
❖ মীর জাফর নবাবের প্রধান সেনাপতিদের একজন হলেও ইংরেজদের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় যুক্ত ছিলেন।
❖ জগৎশেঠ পরিবার, রায়দুর্লভ এবং নবাবের দরবারের আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করেন।
❖ যুদ্ধ চলাকালে মীর জাফরের অধীনস্থ বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নবাবের সামরিক অবস্থান দুর্বল করে।
❖ মীর মদন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
❖ মোহনলালও নবাবের পক্ষে প্রতিরোধ পরিচালনা করেন।
❖ শেষ পর্যন্ত নবাবের বাহিনী পরাজিত হয়।
❖ সিরাজউদ্দৌলা পালিয়ে যাওয়ার পর বন্দি হন এবং ২ জুলাই ১৭৫৭ সালে তাঁকে হত্যা করা হয়।
❖ পলাশীর যুদ্ধের পর মীর জাফরকে বাংলার নবাব করা হয়।
◉ ৪. পলাশীর যুদ্ধের পর ক্লাইভের রাজনৈতিক ভূমিকা
❖ পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার নবাবি প্রশাসনের ওপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
❖ কোম্পানির সহায়তায় মীর জাফর নবাব হলেও তিনি ইংরেজদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবির ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
❖ কোম্পানির কর্মকর্তারা নবাবি প্রশাসন থেকে বিপুল অর্থ ও বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ করেন।
❖ ১৭৬০ সালে মীর জাফরকে সরিয়ে মীর কাশেমকে নবাব করা হয়।
❖ মীর কাশেম কোম্পানির প্রভাব থেকে স্বাধীনভাবে প্রশাসন পরিচালনার চেষ্টা করেন।
❖ তিনি মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে রাজধানী স্থানান্তর করেন।
❖ সেনাবাহিনী পুনর্গঠন এবং রাজস্ব প্রশাসন শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
❖ কোম্পানির শুল্কমুক্ত বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহারকে কেন্দ্র করে মীর কাশেমের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধ বৃদ্ধি পায়।
❖ এই বিরোধ পরবর্তী সময়ে বক্সারের যুদ্ধের পটভূমি তৈরি করে।
◉ ৫. বক্সারের যুদ্ধ ও ইংরেজদের বিজয়
❖ বক্সারের যুদ্ধ (Battle of Buxar) সংঘটিত হয় ১৭৬৪ সালের অক্টোবর মাসে, সাধারণভাবে ২২ অক্টোবর তারিখটি প্রচলিত; কিছু ঐতিহাসিক বিবরণে মূল যুদ্ধ ২৩ অক্টোবর উল্লেখ রয়েছে।
❖ যুদ্ধক্ষেত্র ছিল বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের বক্সার অঞ্চল।
❖ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনীর নেতৃত্ব দেন মেজর হেক্টর মনরো (Hector Munro)।
❖ ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তির জোট গঠিত হয়—
❖ মীর কাশেম: বাংলার ক্ষমতাচ্যুত নবাব।
❖ সুজাউদ্দৌলা: অযোধ্যার নবাব।
❖ দ্বিতীয় শাহ আলম: মুঘল সম্রাট।
❖ এই সম্মিলিত বাহিনী ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
❖ যুদ্ধের পরিণতিতে ইংরেজ বাহিনী বিজয়ী হয়।
❖ বক্সারের বিজয় বাংলায় কোম্পানির রাজনৈতিক ক্ষমতা সুসংহত করার একটি সিদ্ধান্তমূলক ঘটনা।
❖ যুদ্ধের পর মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ও অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা কোম্পানির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় আসতে বাধ্য হন।
◉ ৬. এলাহাবাদ চুক্তি ও ক্লাইভের দ্বিতীয় শাসনপর্ব
❖ রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালের মে মাসে বাংলায় দ্বিতীয়বার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ বক্সারের যুদ্ধের পর কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে রাজস্ব প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বৈধতা অর্জনের চেষ্টা করে।
❖ ১২ আগস্ট ১৭৬৫ সালে দ্বিতীয় শাহ আলম কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি প্রদান করেন বলে বাংলাপিডিয়ার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
❖ এর বিনিময়ে কোম্পানি মুঘল সম্রাটকে বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকা প্রদানের অঙ্গীকার করে।
❖ বাংলার নবাবের নিজামত পরিচালনার জন্য বার্ষিক ৫৩ লক্ষ টাকা নির্ধারিত হয়।
❖ কোম্পানি রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণের অধিকার লাভ করে।
❖ নবাবি প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল থাকলেও প্রকৃত ক্ষমতা ক্রমশ কোম্পানির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।
❖ এই ব্যবস্থার ভিত্তিতে ১৭৬৫ সালে বাংলায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
◉ ৭. দ্বৈত শাসনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য
❖ দেওয়ানি (Diwani): রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানি প্রশাসনের অধিকার।
❖ নিজামত (Nizamat): প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, পুলিশ, ফৌজদারি বিচার ও প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত শাসনক্ষমতা।
❖ আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানি দেওয়ানি এবং নবাব নিজামতের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
❖ কিন্তু বাস্তবে কোম্পানির হাতে রাজস্ব, সামরিক শক্তি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ চলে যায়।
❖ কোম্পানি সরাসরি সব স্থানীয় প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা না করে দেশীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ ও প্রশাসন পরিচালনা করত।
❖ ফলে কোম্পানির হাতে প্রকৃত ক্ষমতা এবং নবাবের হাতে নামমাত্র দায়িত্ব থাকার একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
❖ এই ক্ষমতা ও দায়িত্বের অসম বণ্টনকে দ্বৈত শাসন (Dual Government বা Double Government) বলা হয়।
◉ ৮. ক্লাইভ ও ওয়ারেন হেস্টিংসের পার্থক্য
❖ লর্ড ক্লাইভ: বাংলায় কোম্পানির রাজনৈতিক কর্তৃত্ব সুসংহত করেন এবং ১৭৬৫ সালে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
❖ ওয়ারেন হেস্টিংস (Warren Hastings): ১৭৭২ সালে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপ করেন।
❖ হেস্টিংস ১৭৭২ সালে বাংলার গভর্নর হিসেবে প্রশাসনিক সংস্কার শুরু করেন।
❖ ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের ভিত্তিতে গভর্নর জেনারেলের নতুন প্রশাসনিক পদ সৃষ্টি হয়।
❖ ১৭৭৪ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ লর্ড কর্নওয়ালিস (Lord Cornwallis) পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক সংস্কার ও ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ তাঁর শাসনামলে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (Permanent Settlement) কার্যকর করা হয়।
❖ ফলে লর্ড ক্লাইভ, ওয়ারেন হেস্টিংস ও লর্ড কর্নওয়ালিসের প্রশাসনিক অবদান পৃথকভাবে মনে রাখা প্রয়োজন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলার প্রথম গভর্নর — লর্ড ক্লাইভ (প্রচলিত পরীক্ষার উত্তর)।
➤ লর্ড ক্লাইভের পূর্ণ নাম — রবার্ট ক্লাইভ।
➤ রবার্ট ক্লাইভের জন্ম — ২৯ সেপ্টেম্বর ১৭২৫।
➤ রবার্ট ক্লাইভের মৃত্যু — ২২ নভেম্বর ১৭৭৪।
➤ ক্লাইভের বিখ্যাত উপাধি — ব্যারন ক্লাইভ অব প্লাসি।
➤ রবার্ট ক্লাইভ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে যোগ দেন — ১৭৪৩ সালে।
➤ রবার্ট ক্লাইভের আর্কট অভিযান — ১৭৫১ সালে।
➤ পলাশীর যুদ্ধ — ২৩ জুন ১৭৫৭।
➤ পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি — রবার্ট ক্লাইভ।
➤ পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাব — সিরাজউদ্দৌলা।
➤ পলাশীর যুদ্ধের স্থান — পলাশী, নদিয়া।
➤ সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যুর তারিখ — ২ জুলাই ১৭৫৭।
➤ পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার নবাব — মীর জাফর।
➤ মীর কাশেম বাংলার নবাব হন — ১৭৬০ সালে।
➤ মীর কাশেমের রাজধানী — মুঙ্গের।
➤ বক্সারের যুদ্ধ — ১৭৬৪ সালে।
➤ বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি — হেক্টর মনরো।
➤ বক্সারের যুদ্ধে সম্মিলিত ভারতীয় পক্ষ — মীর কাশেম, সুজাউদ্দৌলা ও দ্বিতীয় শাহ আলম।
➤ বক্সারের যুদ্ধের পর গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি — এলাহাবাদ চুক্তি।
➤ এলাহাবাদ চুক্তি — ১৭৬৫ সালে।
➤ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ — ১৭৬৫ সালে।
➤ কোম্পানিকে দেওয়ানি প্রদানকারী মুঘল সম্রাট — দ্বিতীয় শাহ আলম।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন — লর্ড ক্লাইভ।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা চালু — ১৭৬৫ সালে।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপ — ১৭৭২ সালে।
➤ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপ করেন — ওয়ারেন হেস্টিংস।
➤ বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল — ওয়ারেন হেস্টিংস।
➤ রেগুলেটিং অ্যাক্ট — ১৭৭৩ সালে।
➤ ওয়ারেন হেস্টিংস গভর্নর জেনারেল হন — ১৭৭৪ সালে।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত — ১৭৯৩ সালে।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন — লর্ড কর্নওয়ালিস।
ঐতিহাসিক পার্থক্য: প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর লর্ড ক্লাইভ। তবে তিনি ফোর্ট উইলিয়ামের প্রশাসনিক ইতিহাসে আক্ষরিক অর্থে প্রথম গভর্নর ছিলেন না; তাঁর আগেও গভর্নর ছিলেন। একইভাবে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস, লর্ড ক্লাইভ নন।"