🧠 🔖
👑 Premium Topic

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন-ফকির সন্নাসী আন্দোলন, তিতুমীরের আন্দোলন, ফরায়েজী আন্দোলন, সাওতাল, নীল,সিপাহী বিদ্রোহ, তেভাগা ও অসহযোগ আন্দোলন

◉ সাধারণ জ্ঞান-বাংলাদেশ বিষয়াবলী›ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন-ফকির সন্নাসী আন্দোলন, তিতুমীরের আন্দোলন, ফরায়েজী আন্দোলন, সাওতাল, নীল,সিপাহী বিদ্রোহ, তেভাগা ও অসহযোগ আন্দোলন

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚65মোট প্রশ্ন
🎯4মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০১. ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রথম বিদ্রোহের নাম কী? (শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক: ২১)

ক

সিপাহি বিদ্রোহ

খ

নীল বিদ্রোহ

গ

আগস্ট বিদ্রোহ

ঘ

ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (Fakir-Sannyasi Rebellion)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল বাংলায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রথম দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠিত সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন। এ আন্দোলনে মুসলিম সুফি ফকির, হিন্দু সন্ন্যাসী, কৃষক এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন অংশ অংশগ্রহণ করে।
❖ ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তী সময়ে কোম্পানির বাণিজ্যিক একচেটিয়া সুবিধা, রাজস্বনীতি এবং ধর্মীয় ভিক্ষুজীবী সম্প্রদায়ের চলাচল ও দান সংগ্রহে বিধিনিষেধের কারণে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
❖ ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন আনুমানিক ১৭৬০ সালে শুরু হয় এবং অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত প্রবলভাবে চলতে থাকে। সাধারণ জ্ঞান ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বইয়ে এর সময়কাল ১৭৬০–১৮০০ সাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, মজনু শাহের মৃত্যুর পরও বিভিন্ন নেতার অধীনে বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ ১৮১২ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
❖ এ আন্দোলনের প্রধান সংগঠক ও নেতা ছিলেন ফকির মজনু শাহ (Majnu Shah)। তিনি সুফি মাদারিয়া তরিকার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন এবং বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ইংরেজ কোম্পানির বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠিত করেন।
❖ তাঁর নেতৃত্বে রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও ঢাকাসহ উত্তর ও পূর্ব বাংলার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন বিস্তার লাভ করে। এছাড়া বিহার, কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, পূর্ণিয়া, মালদহ ও অন্যান্য অঞ্চলেও বিদ্রোহীদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
❖ আন্দোলনকারীদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যকুঠি, রাজস্ব অফিস, কোম্পানির অনুগত জমিদারদের কাচারি এবং রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠান।
❖ ১৭৬৩ সালে ফকির-সন্ন্যাসীরা ঢাকার ইংরেজ বাণিজ্যকুঠি দখল করেন। ওই বছর বাকেরগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলেও কোম্পানির প্রতিষ্ঠানে আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
❖ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ শুধু ধর্মীয় আন্দোলন ছিল না; অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক আধিপত্য, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অসন্তোষ একে বৃহত্তর প্রতিরোধ আন্দোলনে পরিণত করে।
◉ ১. ফকির ও সন্ন্যাসীদের পরিচয়
❖ ফকির (Fakir/Faqir) বলতে এখানে প্রধানত মুসলিম সুফি সাধক ও ধর্মীয় ভিক্ষুজীবী সম্প্রদায়ের সদস্যদের বোঝানো হয়েছে।
❖ বাংলায় ফকিরদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মাদারিয়া সুফি তরিকা (Madariya Sufi Order)-র অনুসারী ছিলেন।
❖ মাদারিয়া তরিকা দক্ষিণ এশিয়ার সুফি ধারার একটি ঐতিহাসিক সম্প্রদায়।
❖ সন্ন্যাসী (Sannyasi) বলতে হিন্দু ধর্মীয় ত্যাগী, যোগী ও ভিক্ষুজীবী সাধকদের বোঝানো হয়।
❖ এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সন্ন্যাসীদের মধ্যে গিরি ও পুরী সম্প্রদায়ের সদস্যদের উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ ফকির ও সন্ন্যাসীরা বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান, তীর্থকেন্দ্র, আখড়া ও খানকাহের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন।
❖ তাঁরা গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জমিদারদের কাছ থেকে প্রচলিত নিয়মে দান গ্রহণ করতেন।
❖ অনেক দল সশস্ত্র অবস্থায় যাতায়াত করত এবং নিজেদের সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য অস্ত্র বহন করত।
❖ কোম্পানি প্রশাসনের নতুন বিধিনিষেধ তাঁদের প্রচলিত জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
◉ ২. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান কারণ
❖ রাজনৈতিক কারণ: পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্তৃত্ব বিস্তার।
❖ অর্থনৈতিক কারণ: কোম্পানির বাণিজ্যিক সুবিধা, রাজস্বনীতি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ।
❖ ভূমিরাজস্ব সমস্যা: কৃষকদের ওপর রাজস্ব সংগ্রহের কঠোরতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তন।
❖ ধর্মীয় ও সামাজিক কারণ: ফকির ও সন্ন্যাসীদের প্রচলিত ভিক্ষা ও দান সংগ্রহে কোম্পানির বিধিনিষেধ।
❖ চলাচলে বাধা: ভিক্ষুজীবী ও তীর্থযাত্রী গোষ্ঠীর স্বাধীন যাতায়াতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ।
❖ জমিদারদের ভূমিকা: কোম্পানির অনুগত কিছু জমিদার ও রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্থানীয় অসন্তোষ।
❖ খাদ্যসংকট: ১৭৬৯–১৭৭০ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কারণে কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দুর্দশা বৃদ্ধি।
❖ রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন: কোম্পানির নতুন শাসনব্যবস্থা প্রচলিত স্থানীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করে।
❖ এসব কারণের সমন্বয়ে বাংলায় ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবে বিকশিত হয়।
◉ ৩. বিদ্রোহের প্রাথমিক ঘটনাপ্রবাহ
❖ ১৭৫৭ সাল: পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়।
❖ ১৭৬০ সাল: বাংলায় ফকির-সন্ন্যাসী প্রতিরোধের প্রাথমিক পর্যায়ের সূচনা।
❖ ১৭৬৩ সাল: আন্দোলন আরও সংগঠিত ও সশস্ত্র রূপ লাভ করে।
❖ ১৭৬৩ সালে বাকেরগঞ্জে বিদ্রোহীরা কোম্পানির বাণিজ্যকুঠি আক্রমণ করে।
❖ তাঁরা কুঠির কর্মকর্তা মি. ক্যালীকে কয়েক দিন আটক রাখেন এবং বাণিজ্যকুঠিতে লুণ্ঠন চালান।
❖ একই বছর ঢাকার ইংরেজ বাণিজ্যকুঠি বিদ্রোহীদের দখলে যায়।
❖ ঢাকার ইংরেজ কর্মকর্তা র‍্যালফ লেস্টার (Ralph Lester) পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
❖ পরে ক্যাপ্টেন গ্র্যান্ট কোম্পানির পক্ষে ঢাকার কুঠি পুনর্দখল করেন।
❖ ১৭৬৩ সালে রাজশাহীর রামপুর বোয়ালিয়ায় কোম্পানির বাণিজ্যকুঠি আক্রমণ করা হয়।
❖ এসব আক্রমণের মাধ্যমে বিদ্রোহীরা কোম্পানির বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায়।
◉ ৪. উত্তরবঙ্গে আন্দোলনের বিস্তার
❖ ১৭৬৭ সালের দিকে রংপুর, রাজশাহী, কুচবিহার, জলপাইগুড়ি ও কুমিল্লা অঞ্চলে বিদ্রোহীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।
❖ কোম্পানি আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে সেনাবাহিনী প্রেরণ করে।
❖ ক্যাপ্টেন ডি. ম্যাকেঞ্জি-র নেতৃত্বে রংপুর অঞ্চলে কোম্পানির বাহিনী পাঠানো হয়।
❖ অন্য একটি সংঘর্ষে কোম্পানির পক্ষে প্রেরিত বাহিনীর কর্মকর্তা মার্টল নিহত হন।
❖ ১৭৬৮–১৭৭০ সালে বিহারের শরণ ও পূর্ণিয়া, উত্তরবঙ্গের রংপুর ও দিনাজপুর এবং অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্রোহীদের আক্রমণ অব্যাহত থাকে।
❖ ১৭৭১ সালে ঘোড়াঘাট ও গোবিন্দগঞ্জ অঞ্চলে কোম্পানি বাহিনীর সঙ্গে ফকির-সন্ন্যাসীদের সংঘর্ষ ঘটে।
❖ ১৭৭২ সালে মজনু শাহ রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়ার বিভিন্ন কোম্পানি প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ চালান।
❖ এক পর্যায়ে বিদ্রোহীরা রাজশাহীর রাজস্ব অফিস সাময়িকভাবে দখল করেন।
❖ কোম্পানির রাজস্ব সংগ্রহে বাধা দেওয়া আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে ওঠে।
◉ ৫. মজনু শাহের নেতৃত্বে আন্দোলন
❖ মজনু শাহ ছিলেন ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান সংগঠক।
❖ তিনি সুফি মাদারিয়া তরিকার অনুসারী ও নেতা ছিলেন।
❖ তাঁর অধীনে বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক সশস্ত্র দল সংগঠিত হয়।
❖ মুসা শাহ, চেরাগ আলী শাহ, পরাগল শাহ, সোবহান শাহ ও করিম শাহ তাঁর সহযোগী বা উত্তরসূরি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ মজনু শাহ উত্তরবঙ্গ ও পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত চলাচল করে বিদ্রোহীদের সংগঠিত করতেন।
❖ মহাস্থানগড় ও বগুড়া অঞ্চল তাঁর সামরিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর অন্যতম ছিল।
❖ গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের খাদ্য, আশ্রয় ও তথ্য সরবরাহ করত।
❖ কোম্পানির সেনাবাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কে আগাম সংবাদ সংগ্রহে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
◉ ৬. ১৭৭০ সালের ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের প্রভাব
❖ ১৭৬৯–১৭৭০ সালে বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়।
❖ বাংলা সন ১১৭৬-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় এটি ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
❖ অনাবৃষ্টি, ফসলহানি, খাদ্য সরবরাহের সংকট এবং রাজস্বসংক্রান্ত চাপ দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা বৃদ্ধি করে।
❖ কৃষক, শ্রমজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
❖ গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।
❖ ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন দুর্ভিক্ষের আগেই শুরু হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভিক্ষ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অসন্তোষকে আরও তীব্র করে।
❖ বহু দরিদ্র কৃষক ও স্থানীয় মানুষ বিদ্রোহীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে।
❖ ফলে দুর্ভিক্ষ আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক পটভূমি হিসেবে বিবেচিত হয়।
◉ ৭. বিদ্রোহীদের যুদ্ধকৌশল
❖ ফকির-সন্ন্যাসীরা কোম্পানির নিয়মিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের পাশাপাশি গেরিলা যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করতেন।
❖ গেরিলা পদ্ধতিতে তাঁরা দ্রুত আক্রমণ করে স্থান পরিবর্তন করতেন।
❖ কোম্পানির বাণিজ্যকুঠি, রাজস্ব অফিস ও অনুগত জমিদারদের কাচারি ছিল আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য।
❖ বিদ্রোহীরা তরবারি, বর্শা, বল্লম, বন্দুক এবং অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করতেন।
❖ কিছু ক্ষেত্রে অগ্নিনিক্ষেপক যন্ত্র ও হালকা কামান ব্যবহার করা হতো।
❖ যুদ্ধের সরঞ্জাম ও রসদ পরিবহনে উট ব্যবহারের বিবরণও পাওয়া যায়।
❖ স্থানীয় জঙ্গল, নদীপথ এবং দুর্গম ভূখণ্ড আন্দোলনকারীদের আত্মরক্ষা ও দ্রুত স্থানান্তরে সহায়তা করত।
◉ ৮. বিদ্রোহের পরিণতি ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ কোম্পানি সরকার আন্দোলন দমনের জন্য সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।
❖ ৮ ডিসেম্বর ১৭৮৬ সালে কালেশ্বর এলাকায় কোম্পানি বাহিনীর সঙ্গে মজনু শাহের সংঘর্ষ ঘটে।
❖ এই যুদ্ধে মজনু শাহের বহু অনুসারী নিহত হন এবং তিনি আহত হয়ে থাকতে পারেন।
❖ বাংলাপিডিয়ার বিবরণ অনুযায়ী, মজনু শাহ সম্ভবত ২৬ জানুয়ারি ১৭৮৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
❖ তাঁর মৃত্যুর পর মুসা শাহ, চেরাগ আলী শাহ ও অন্যান্য নেতারা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।
❖ অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে বিদ্রোহের তীব্রতা কমে যায়।
❖ পরবর্তী সময়ে বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ ১৮১২ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ রয়েছে।
❖ ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন পরবর্তী ব্রিটিশবিরোধী কৃষক ও গণআন্দোলনের প্রাথমিক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্তগুলোর অন্যতম।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্রোহ — ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ।
➤ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রচলিত সময়কাল — ১৭৬০–১৮০০।
➤ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সূচনা — অষ্টাদশ শতকে।
➤ বিদ্রোহের প্রধান নেতা — মজনু শাহ।
➤ মজনু শাহের সুফি তরিকা — মাদারিয়া।
➤ মজনু শাহের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী — মুসা শাহ।
➤ অন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতা — চেরাগ আলী শাহ।
➤ সন্ন্যাসী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নেতা — ভবানী পাঠক।
➤ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নারী ব্যক্তিত্ব — দেবী চৌধুরানী।
➤ পলাশীর যুদ্ধ — ২৩ জুন ১৭৫৭।
➤ ঢাকার ইংরেজ বাণিজ্যকুঠিতে আক্রমণ — ১৭৬৩।
➤ বাকেরগঞ্জের কোম্পানি কুঠিতে আক্রমণ — ১৭৬৩।
➤ রামপুর বোয়ালিয়ার কোম্পানি কুঠিতে আক্রমণ — ১৭৬৩।
➤ ফকির-সন্ন্যাসীদের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষেত্র — রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও রাজশাহী।
➤ পূর্ববাংলার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষেত্র — ঢাকা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর।
➤ আন্দোলনের প্রধান আক্রমণস্থল — কোম্পানির কুঠি ও রাজস্ব অফিস।
➤ বিদ্রোহীদের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধকৌশল — গেরিলা আক্রমণ।
➤ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর — ১৭৬৯–১৭৭০।
➤ ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের বাংলা সন — ১১৭৬।
➤ ঘোড়াঘাট অঞ্চলে কোম্পানির সঙ্গে সংঘর্ষ — ১৭৭১।
➤ রাজশাহীর রাজস্ব অফিসে মজনু শাহের অভিযান — ১৭৭২।
➤ মজনু শাহের গুরুত্বপূর্ণ শেষদিকের সংঘর্ষ — ৮ ডিসেম্বর ১৭৮৬।
➤ মজনু শাহের সম্ভাব্য মৃত্যুর তারিখ — ২৬ জানুয়ারি ১৭৮৮।
➤ মজনু শাহের মৃত্যুর পর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি — মুসা শাহ।
➤ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধের ধারাবাহিকতা — ১৮১২ সাল পর্যন্ত।
➤ সিপাহি বিদ্রোহ — ১৮৫৭।
➤ নীল বিদ্রোহ — ১৮৫৯–১৮৬০।
➤ আগস্ট আন্দোলন বা ভারত ছাড়ো আন্দোলন — ১৯৪২।"
02
🎯 Level 1

০৪. বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনের নেতা ছিলেন — (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার: ১৭)

ক

ফকির মজনু শাহ

খ

ফকির মুসা শাহ

গ

ফকির আকবর শাহ

ঘ

ফকির ঘুরা শাহ

✅ সঠিক উত্তর:ক. ফকির মজনু শাহ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ফকির মজনু শাহ (Fakir Majnu Shah)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ফকির মজনু শাহ ছিলেন বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান সংগঠক ও অন্যতম বিখ্যাত নেতা। তিনি অষ্টাদশ শতকে বাংলায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধিপত্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
❖ মজনু শাহ ছিলেন মাদারিয়া সুফি তরিকার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাধক ও নেতা। তাঁর সঙ্গে মুসলিম ফকিরদের পাশাপাশি হিন্দু সন্ন্যাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন অংশের যোগাযোগ ছিল।
❖ ১৭৬০-এর দশক থেকে ১৭৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ আন্দোলন পরিচালনা করেন।
❖ তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষেত্র ছিল বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও ঢাকাসহ উত্তর ও পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চল।
❖ তিনি ইংরেজ কোম্পানির রাজস্ব অফিস, বাণিজ্যকুঠি ও অনুগত জমিদারদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ আন্দোলনে তাঁর সহযোগীদের মধ্যে মুসা শাহ, চেরাগ আলী শাহ, পরাগল শাহ, সোবহান শাহ ও করিম শাহ উল্লেখযোগ্য।
❖ সন্ন্যাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নেতা ভবানী পাঠক এবং ঐতিহাসিকভাবে আলোচিত দেবী চৌধুরানীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিবরণও পাওয়া যায়।
❖ ৮ ডিসেম্বর ১৭৮৬ সালে কালেশ্বরের যুদ্ধে কোম্পানির সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মজনু শাহের বাহিনী গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর তাঁর আর বড় অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না।
◉ ১. মজনু শাহের পরিচয় ও ধর্মীয় পটভূমি
❖ নাম: মজনু শাহ (Majnu Shah)।
❖ পরিচিতি: সুফি ফকির, বিদ্রোহী নেতা ও সংগঠক।
❖ সুফি তরিকা: মাদারিয়া (Madariya)।
❖ সক্রিয়তার প্রধান সময়: অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ।
❖ প্রধান কার্যক্ষেত্র: বাংলা ও বিহারের বিভিন্ন অঞ্চল।
❖ আন্দোলন: ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ।
❖ প্রধান প্রতিপক্ষ: ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
❖ মৃত্যু: সম্ভবত ২৬ জানুয়ারি ১৭৮৮।
❖ তাঁর জন্মসাল ও জন্মস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সমসাময়িক তথ্য সীমিত।
❖ তিনি মাদারিয়া সুফি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন।
❖ মজনু শাহকে শুধু ধর্মীয় নেতা নয়, বরং কোম্পানি শাসনের বিরুদ্ধে সামরিক প্রতিরোধ সংগঠক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
◉ ২. মাদারিয়া সুফি তরিকায় মজনু শাহের অবস্থান
❖ মাদারিয়া তরিকা দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সুফি সম্প্রদায়।
❖ এই তরিকার অনুসারীরা বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ, ধর্মীয় আচার এবং সুফি সাধনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
❖ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, বাংলায় এই তরিকার প্রসারে শাহ সুলতান সুরীয়া বুরহানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ মজনু শাহ অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগে মাদারিয়া সুফি নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আসেন।
❖ তাঁর অধীনে বিভিন্ন অঞ্চলে অনুসারী ও সহযোগী গড়ে ওঠে।
❖ তিনি ফকিরদের ধর্মীয় নেটওয়ার্ককে কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগঠনের কাজে ব্যবহার করেন।
❖ এই সংগঠনিক শক্তি আন্দোলনকে বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তার লাভ করতে সহায়তা করে।
◉ ৩. মজনু শাহের নেতৃত্বে বিদ্রোহের সংগঠন
❖ মজনু শাহ একাধিক অঞ্চলে সক্রিয় প্রতিরোধকারী দল গড়ে তোলেন।
❖ তাঁর অনুসারীরা বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত চলাচল করে কোম্পানির প্রতিষ্ঠান আক্রমণ করতেন।
❖ মুসা শাহ ছিলেন তাঁর অন্যতম প্রধান খলিফা ও সহযোগী।
❖ চেরাগ আলী শাহ বিদ্রোহী ফকিরদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন।
❖ পরাগল শাহ, সোবহান শাহ ও করিম শাহ আন্দোলনের সংগঠন ও পরবর্তী প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ স্থানীয় জনগণ বিদ্রোহীদের খাদ্য, আশ্রয় ও তথ্য দিয়ে সহায়তা করত।
❖ গেরিলা আক্রমণ, দ্রুত পশ্চাদপসরণ এবং দুর্গম অঞ্চলে অবস্থান গ্রহণ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কৌশল ছিল।
◉ ৪. মজনু শাহের প্রধান সামরিক অভিযান
❖ ১৭৬৩ সালে ঢাকা, বাকেরগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলে কোম্পানির বাণিজ্যকুঠির ওপর আক্রমণ সংঘটিত হয়।
❖ ১৭৬৭ সালের দিকে উত্তরবঙ্গে বিদ্রোহীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।
❖ ১৭৭১ সালে ঘোড়াঘাট ও গোবিন্দগঞ্জ অঞ্চলে কোম্পানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
❖ ১৭৭২ সালে মজনু শাহ রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়ার কোম্পানি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ রাজশাহীর রাজস্ব অফিস এক পর্যায়ে বিদ্রোহীদের দখলে যায়।
❖ ১৭৭৬ সালে বগুড়া, রাজশাহী, দিনাজপুর ও চট্টগ্রামে বিদ্রোহী তৎপরতা তীব্র হয়।
❖ ১৭৮২ সালে ময়মনসিংহের আলপসিং পরগনায় বিদ্রোহীদের কার্যক্রম বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়।
❖ ১৭৮৫ সালে মহাস্থানগড় অঞ্চলে কোম্পানি বাহিনীর সঙ্গে মজনু শাহের সংঘর্ষ হয়।
❖ ৮ ডিসেম্বর ১৭৮৬ সালে কালেশ্বরের যুদ্ধ তাঁর নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের শেষদিকের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
◉ ৫. মজনু শাহ ও ভবানী পাঠক
❖ ভবানী পাঠক (Bhavani Pathak) ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পর্কিত একজন গুরুত্বপূর্ণ সন্ন্যাসী নেতা হিসেবে পরিচিত।
❖ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী তিনি ছিলেন একজন ভোজপুরী ব্রাহ্মণ।
❖ তাঁর সঙ্গে মজনু শাহের যোগাযোগ ছিল।
❖ সন্ন্যাসীদের কিছু দল কোম্পানির বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে।
❖ দেবী চৌধুরানী নামের একজন নারী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ভবানী পাঠকের ঐতিহাসিক যোগাযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাসে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর সাহিত্যিক উপস্থাপন রয়েছে।
❖ তবে উপন্যাসের কাহিনি ও ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
❖ তাই সাহিত্যিক বর্ণনার সব ঘটনাকে সরাসরি ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
◉ ৬. মজনু শাহের শেষদিকের অভিযান
❖ ১৭৮৫ সালে মজনু শাহ মহাস্থানগড়ের দিকে অগ্রসর হন।
❖ সেখানে কোম্পানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
❖ ১৭৮৬ সালে তিনি পূর্ববঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে যুগপৎ আক্রমণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
❖ উত্তরবঙ্গে সামরিক অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয় মুসা শাহকে।
❖ মজনু শাহ নিজে পূর্ববঙ্গে অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ ৮ ডিসেম্বর ১৭৮৬ সালে কালেশ্বর এলাকায় লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বাধীন কোম্পানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে।
❖ এই সংঘর্ষে মজনু শাহের বহু অনুসারী নিহত হন।
❖ তিনি আহত হয়ে থাকতে পারেন এবং পরবর্তী সময়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে যান।
❖ বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী সম্ভবত ২৬ জানুয়ারি ১৭৮৮ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
◉ ৭. মজনু শাহের মৃত্যুর পর আন্দোলন
❖ মজনু শাহের মৃত্যুর পর আন্দোলনের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে।
❖ মুসা শাহ প্রধান নেতৃত্বের অন্যতম দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ চেরাগ আলী শাহ ও অন্যান্য সহযোগীরাও প্রতিরোধ অব্যাহত রাখেন।
❖ কিন্তু মজনু শাহের মৃত্যুর পর আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে।
❖ কোম্পানির সামরিক অভিযান ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায়।
❖ অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে আন্দোলন ক্রমশ স্তিমিত হয়ে পড়ে।
❖ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ ১৮১২ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে।
◉ ৮. বাংলা সাহিত্যে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
❖ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ পরবর্তী বাংলা সাহিত্যেও প্রভাব বিস্তার করে।
❖ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৮৯৪) ছিলেন বাংলা উপন্যাসের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক।
❖ তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’ প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে।
❖ উপন্যাসটিতে অষ্টাদশ শতকের সন্ন্যাসী প্রতিরোধের ঐতিহাসিক পটভূমি ব্যবহৃত হয়েছে।
❖ ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাস প্রকাশিত হয় ১৮৮৪ সালে।
❖ ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাসে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর কাহিনি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে।
❖ এই সাহিত্যকর্মগুলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে বাংলা সাহিত্যে নতুন তাৎপর্য প্রদান করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনের প্রধান নেতা — মজনু শাহ।
➤ মজনু শাহের সুফি তরিকা — মাদারিয়া।
➤ মজনু শাহের প্রধান সহযোগী — মুসা শাহ।
➤ মজনু শাহের আরেক সহযোগী — চেরাগ আলী শাহ।
➤ অন্যান্য সহযোগী — পরাগল শাহ, সোবহান শাহ ও করিম শাহ।
➤ সন্ন্যাসী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা — ভবানী পাঠক।
➤ ভবানী পাঠকের সঙ্গে সম্পর্কিত নারী ব্যক্তিত্ব — দেবী চৌধুরানী।
➤ ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনের প্রচলিত সময়কাল — ১৭৬০–১৮০০।
➤ ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনের শতাব্দী — অষ্টাদশ শতক।
➤ মজনু শাহের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষেত্র — উত্তর ও পূর্ববাংলা।
➤ মজনু শাহের সঙ্গে সম্পর্কিত জেলা — বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী।
➤ পূর্ববাংলার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষেত্র — ময়মনসিংহ, শেরপুর ও ঢাকা।
➤ মজনু শাহের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রত্নস্থান — মহাস্থানগড়।
➤ ময়মনসিংহের সঙ্গে সম্পর্কিত বনাঞ্চল — মধুপুর জঙ্গল।
➤ মজনু শাহের শেষদিকের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ — কালেশ্বরের যুদ্ধ।
➤ কালেশ্বরের যুদ্ধ — ৮ ডিসেম্বর ১৭৮৬।
➤ যুদ্ধে কোম্পানির কর্মকর্তা — লেফটেন্যান্ট ব্রেনান।
➤ মজনু শাহের সম্ভাব্য মৃত্যুর তারিখ — ২৬ জানুয়ারি ১৭৮৮।
➤ মজনু শাহের পর আন্দোলনের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি — মুসা শাহ।
➤ ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের লেখক — বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
➤ ‘আনন্দমঠ’ প্রকাশ — ১৮৮২।
➤ ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাসের লেখক — বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
➤ ‘দেবী চৌধুরাণী’ প্রকাশ — ১৮৮৪।
➤ ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি রয়েছে — আনন্দমঠ উপন্যাসে।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৮. যে চাকমা রাজা ইংরেজ কোম্পানিকে রাজস্ব দিতে অস্বীকৃতি জানায়— (মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এমটিও: ১৫)

ক

জোয়ান বক্স

খ

ফরিং চাকমা

গ

দেবেন বক্স

ঘ

শোভা চাকমা

✅ সঠিক উত্তর:ক. জোয়ান বক্স

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: জোয়ান বক্স বা জান বখশ খাঁ (Jan Baksh Khan)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ জোয়ান বক্স বা জান বখশ খাঁ (Jan Baksh Khan) ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা শাসক, যিনি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজস্বনীতি ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
❖ ১৭৭৬ সাল থেকে চাকমাদের ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধ শক্তিশালী হয়। প্রথমদিকে চাকমা শাসক শের দৌলত খাঁ কোম্পানির রাজস্ব প্রদান প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র জান বখশ খাঁ এবং সামরিক নেতা রাণু খাঁ প্রতিরোধ চালিয়ে যান।
❖ প্রায় এক দশক সংঘর্ষের পর ১৭৮৭ সালে জান বখশ খাঁ ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছান এবং নির্ধারিত রাজস্ব প্রদানে সম্মত হন।
১. জান বখশ খাঁর পরিচিতি
❖ নাম: জান বখশ খাঁ (Jan Baksh Khan)।
❖ বাংলায় প্রচলিত নাম: জোয়ান বক্স, জান বক্স।
❖ পরিচয়: পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা রাজা।
❖ পিতা: শের দৌলত খাঁ।
❖ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড: ইংরেজ কোম্পানির রাজস্বনীতি ও হস্তক্ষেপের বিরোধিতা।
❖ প্রধান সহযোগী: রাণু খাঁ।
❖ প্রতিরোধের প্রধান সময়: অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ।
❖ ইংরেজদের সঙ্গে সমঝোতা: ১৭৮৭ সাল।
❖ তাঁর নির্দিষ্ট জন্মতারিখ ও মৃত্যুসাল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য সীমিত।
২. পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা শাসনের পটভূমি
❖ পার্বত্য চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানীয় প্রধান ও জনগোষ্ঠীর স্বশাসিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে ছিল।
❖ চাকমা রাজারা স্থানীয় প্রশাসন, ভূমি ব্যবহার ও রাজস্বসংক্রান্ত কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
❖ পাহাড়ি জনগণের জীবিকার প্রধান উৎস ছিল জুমচাষ, তুলা উৎপাদন, বনজ সম্পদ ও স্থানীয় বাণিজ্য।
❖ পাহাড়ের উৎপাদিত তুলা সমতলের বাজারে বিক্রি করা হতো।
৩. ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হস্তক্ষেপ
❖ ১৭৬০ সালে চট্টগ্রাম ইংরেজ কোম্পানির অধীনে আসে।
❖ এর পরবর্তী সময়ে কোম্পানি পার্বত্য অঞ্চলের রাজস্ব ও বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে।
❖ রাজস্ব সংগ্রহের জন্য স্থানীয় ইজারাদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যবহার করা হতো।
❖ এই ব্যবস্থায় চাকমা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়।
৪. রাজস্ব হিসেবে তুলা আদায়
❖ পাহাড়ি অঞ্চলে তুলা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পণ্য।
❖ ইংরেজ কোম্পানি চাকমা শাসকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ তুলা রাজস্ব হিসেবে গ্রহণ করত।
❖ এই ব্যবস্থাকে অনেক ঐতিহাসিক বিবরণে Cotton Tribute বা তুলা-কর বলা হয়।
❖ রাজস্ব আদায়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণের কারণে স্থানীয় জনগণের অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।
৫. শের দৌলত খাঁর প্রতিরোধ — ১৭৭৬
❖ ১৭৭৬ সালে চাকমা শাসক শের দৌলত খাঁ কোম্পানির কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু করেন।
❖ তিনি রাজস্ব প্রদান বন্ধ করেন।
❖ তাঁর সহযোগী রাণু খাঁ পাহাড়ি যোদ্ধাদের সংগঠিত করেন।
❖ চাকমা প্রতিরোধকারীরা পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ব্যবহার করে গেরিলা কৌশলে আক্রমণ পরিচালনা করতেন।
৬. জান বখশ খাঁর নেতৃত্ব
❖ ১৭৮২ সালে শের দৌলত খাঁর মৃত্যুর পর জান বখশ খাঁ প্রতিরোধের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
❖ তাঁর সঙ্গে রাণু খাঁ এবং স্থানীয় যোদ্ধারা যুক্ত ছিলেন।
❖ তাঁরা কোম্পানির রাজস্ব আদায়কারী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতেন।
❖ ফলে কোম্পানির রাজস্ব সংগ্রহ ও পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হয়।
৭. ইংরেজদের সামরিক অভিযান
❖ ১৭৮৪ সালে কোম্পানি জান বখশ খাঁর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।
❖ মেজর এলারকার (Major Ellerker)-এর নেতৃত্বে বাহিনী পাঠানো হয়।
❖ কিন্তু দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং চাকমাদের প্রতিরোধের কারণে ইংরেজ বাহিনী প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
❖ কোম্পানি পরে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রবেশপথগুলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়।
৮. ইংরেজদের অর্থনৈতিক অবরোধ
❖ সরাসরি সামরিক অভিযানে সফল না হয়ে কোম্পানি পাহাড়ি জনগণের বাণিজ্যপথ নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে।
❖ সমতলের বাজার থেকে লবণ, শুকনা মাছ, তামাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে।
❖ এর ফলে পাহাড়ি জনগণের অর্থনৈতিক সংকট বৃদ্ধি পায়।
❖ দীর্ঘস্থায়ী এই চাপ চাকমা শাসকদের সমঝোতার দিকে নিয়ে যায়।
৯. ১৭৮৭ সালের সমঝোতা
❖ ১৭৮৭ সালে জান বখশ খাঁ কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছান।
❖ তিনি নির্দিষ্ট রাজস্ব প্রদানে সম্মত হন।
❖ কোম্পানি তাঁকে চাকমাদের শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
❖ স্থানীয় প্রশাসনে চাকমা প্রধানের ভূমিকা বজায় থাকে, যদিও কোম্পানির রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
১০. চাকমা বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ এটি বাংলায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রাথমিক শাসনের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি প্রতিরোধ আন্দোলন।
❖ চাকমাদের সংগ্রামের প্রধান কারণ ছিল রাজস্বের চাপ, অর্থনৈতিক শোষণ ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ।
❖ পার্বত্য চট্টগ্রামের উপনিবেশবিরোধী ইতিহাসে শের দৌলত খাঁ, জান বখশ খাঁ ও রাণু খাঁ গুরুত্বপূর্ণ নাম।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ইংরেজ কোম্পানিকে রাজস্ব দিতে অস্বীকৃতি জানান — জান বখশ খাঁ বা জোয়ান বক্স।
➤ চাকমাদের প্রাথমিক প্রতিরোধের নেতা — শের দৌলত খাঁ।
➤ শের দৌলত খাঁর পুত্র — জান বখশ খাঁ।
➤ চাকমাদের সামরিক প্রতিরোধের নেতা — রাণু খাঁ।
➤ চাকমাদের ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধ শুরু — ১৭৭৬।
➤ শের দৌলত খাঁর মৃত্যু — ১৭৮২।
➤ জান বখশ খাঁর নেতৃত্বে প্রতিরোধ — ১৭৮২ সালের পর।
➤ ইংরেজ সামরিক অভিযান — ১৭৮৪।
➤ ইংরেজ সেনাপতি — মেজর এলারকার।
➤ ইংরেজদের প্রতিরোধকৌশল — সামরিক অভিযান ও অর্থনৈতিক অবরোধ।
➤ চাকমাদের যুদ্ধকৌশল — গেরিলা যুদ্ধ।
➤ চাকমাদের গুরুত্বপূর্ণ জীবিকা — জুমচাষ ও তুলা উৎপাদন।
➤ ইংরেজদের রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য — তুলা।
➤ জান বখশ খাঁর সমঝোতা — ১৭৮৭।
➤ চাকমা শাসকদের ঐতিহাসিক অঞ্চল — পার্বত্য চট্টগ্রাম।
➤ চাকমা বিদ্রোহের মূল কারণ — রাজস্ব শোষণ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।
➤ বিশেষ পার্থক্য: ১৭৭৬ সালে প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নেতা—শের দৌলত খাঁ; পরবর্তী নেতৃত্বে—জান বখশ খাঁ ও রাণু খাঁ।
04
🎯 Level 1

১১. তিতুমীরের দুর্গের মূল উপাদান কী ছিল? (হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার: ৯৮)

ক

ইট

খ

পাথর

গ

বাঁশ

ঘ

কাঠ

✅ সঠিক উত্তর:গ. বাঁশ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: বাঁশ (Bamboo)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার দুর্গের প্রধান নির্মাণসামগ্রী ছিল বাঁশ। এ কারণেই দুর্গটি ইতিহাসে বাঁশের কেল্লা নামে পরিচিত।
❖ ১৮৩১ সালে এই কেল্লা নির্মিত হয়। ইংরেজ কোম্পানি ও স্থানীয় জমিদারদের সশস্ত্র আক্রমণের বিরুদ্ধে কৃষক ও অনুসারীদের প্রতিরক্ষার জন্য এটি ব্যবহার করা হতো।
১. বাঁশের কেল্লা নির্মাণের কারণ
❖ তিতুমীরের নেতৃত্বে স্থানীয় কৃষক ও তাঁতিদের আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
❖ জমিদারদের অন্যায় কর এবং ইংরেজ কোম্পানির রাজনৈতিক কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংঘটিত হয়।
❖ আন্দোলনকারীদের কাছে আধুনিক সামরিক অস্ত্র ও পাথরের দুর্গ নির্মাণের পর্যাপ্ত সম্পদ ছিল না।
❖ ফলে সহজলভ্য বাঁশ ব্যবহার করে প্রতিরক্ষামূলক দুর্গ নির্মাণ করা হয়।
২. বাঁশের কেল্লার কাঠামো
❖ বাঁশের খুঁটি ও বেড়া দুর্গের প্রধান প্রতিরক্ষা উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
❖ স্থানীয় কাঠ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপকরণও নির্মাণে সহায়ক ছিল।
❖ দুর্গের ভেতরে যোদ্ধাদের অবস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।
❖ দুর্গটি দ্রুত নির্মাণ ও মেরামত করার সুবিধা ছিল।
৩. বাঁশ ব্যবহারের সুবিধা
❖ বাংলার গ্রামীণ এলাকায় বাঁশ সহজলভ্য ছিল।
❖ নির্মাণে তুলনামূলক কম ব্যয় প্রয়োজন হতো।
❖ বাঁশ বহন ও স্থাপন করা সহজ ছিল।
❖ স্থানীয় মানুষ নিজেরাই নির্মাণে অংশ নিতে পারতেন।
৪. প্রতিরক্ষায় বাঁশের সীমাবদ্ধতা
❖ বাঁশের কাঠামো লাঠি ও কিছু দেশীয় অস্ত্রের আক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক হলেও ভারী কামানের গোলার বিরুদ্ধে দুর্বল ছিল।
❖ ইংরেজ বাহিনী আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও কামান ব্যবহার করে।
❖ ফলে বাঁশের কেল্লা শক্তিশালী কামান আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারেনি।
৫. ইংরেজ বাহিনীর আক্রমণ
❖ ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্ট।
❖ অভিযানের সময় গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।
❖ ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে অশ্বারোহী, পদাতিক ও কামানবাহিনী ছিল।
❖ ১৯ নভেম্বর ১৮৩১ বাঁশের কেল্লা ধ্বংস হয় এবং তিতুমীর নিহত হন।
৬. বাঁশের কেল্লার ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ বাঁশের কেল্লা ছিল সাধারণ কৃষকদের সংগঠিত প্রতিরোধের প্রতীক।
❖ স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে দুর্গ নির্মাণের ঘটনা বাংলার ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
❖ তিতুমীরের এই সংগ্রাম ঊনবিংশ শতাব্দীর কৃষক ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ তিতুমীরের দুর্গের প্রধান উপাদান — বাঁশ।
➤ দুর্গের নাম — বাঁশের কেল্লা।
➤ নির্মাতা — তিতুমীর।
➤ প্রকৃত নাম — সৈয়দ মীর নিসার আলী।
➤ নির্মাণসাল — ১৮৩১।
➤ নির্মাণের মাস — অক্টোবর।
➤ অবস্থান — নারিকেলবাড়িয়া।
➤ ঐতিহাসিক জেলা — চব্বিশ পরগনা।
➤ বর্তমান রাজ্য — পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
➤ কেল্লার উদ্দেশ্য — আত্মরক্ষা ও সামরিক প্রতিরোধ।
➤ প্রধান সেনাপতি — গোলাম মাসুম।
➤ ইংরেজ বাহিনীর নেতা — লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্ট।
➤ গভর্নর জেনারেল — লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।
➤ বাঁশের কেল্লা ধ্বংস — ১৯ নভেম্বর ১৮৩১।
➤ তিতুমীরের মৃত্যু — ১৯ নভেম্বর ১৮৩১।
➤ বিশেষ তথ্য: বাঁশের কেল্লা—গ্রামীণ প্রতিরক্ষার নিদর্শন; নারিকেলবাড়িয়ার যুদ্ধ—তিতুমীরের সশস্ত্র প্রতিরোধের চূড়ান্ত ঘটনা।
05
🎯 Level 1

১৪. ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে যে সব আন্দোলন হয়েছিল তার মধ্যে প্রধান কোনটি? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১০)

ক

হাজেঙ্গী আন্দোলন

খ

কোরায়েশী আন্দোলন

গ

ফরায়েজী আন্দোলন

ঘ

সৈয়দী আন্দোলন

✅ সঠিক উত্তর:গ. ফরায়েজী আন্দোলন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ফরায়েজি আন্দোলন (Faraizi Movement)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ফরায়েজি আন্দোলন ছিল ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন, যা পরবর্তী সময়ে কৃষকদের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনে রূপ নেয়।
❖ এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ (১৭৮১–১৮৪০)। তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র দুদু মিয়া (১৮১৯–১৮৬২) আন্দোলনকে সংগঠিত কৃষক প্রতিরোধে পরিণত করেন।
❖ ফরায়েজি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর অঞ্চল, তবে ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ পূর্ব বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আন্দোলন বিস্তৃত হয়।
১. ফরায়েজি শব্দের অর্থ
❖ ফরায়েজি (Faraizi) শব্দের উৎস আরবি ফরজ (Fard)।
❖ ফরজ অর্থ অবশ্যপালনীয় বা বাধ্যতামূলক কর্তব্য।
❖ ফরায়েজি আন্দোলনে মুসলমানদের ইসলামের অবশ্যপালনীয় ধর্মীয় কর্তব্য যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
❖ ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার, সাম্য ও শোষণ প্রতিরোধের বিষয়ও আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
২. আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তুল্লাহ
❖ জন্ম: ১৭৮১।
❖ জন্মস্থান: শ্যামাইল গ্রাম, বৃহত্তর ফরিদপুর; বর্তমানে মাদারীপুর জেলার শিবচর অঞ্চল।
❖ মৃত্যু: ১৮৪০।
❖ পরিচয়: ইসলামি সংস্কারক ও ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
❖ মক্কায় গমন: ১৭৯৯।
❖ দেশে প্রত্যাবর্তন: ১৮১৮; পরবর্তী সময়ে আবার মক্কা গমন করে ১৮২০ সালে দেশে ফেরেন।
৩. আন্দোলনের সূচনা
❖ দীর্ঘদিন মক্কায় ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের পর হাজী শরীয়তুল্লাহ বাংলায় ফিরে আসেন।
❖ মুসলমান সমাজে ধর্মীয় অনুশাসন পালনের আহ্বান জানান।
❖ সামাজিক কুসংস্কার ও প্রচলিত কিছু ধর্মীয় অনাচারের বিরোধিতা করেন।
❖ দরিদ্র কৃষকসমাজে তাঁর প্রচার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।
৪. আন্দোলনের ধর্মীয় লক্ষ্য
❖ ইসলামের মৌলিক কর্তব্য পালন।
❖ তাওহিদ বা একত্ববাদের ওপর গুরুত্ব।
❖ শিরক ও বিদআত হিসেবে বিবেচিত প্রথার বিরোধিতা।
❖ ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার।
❖ মুসলমান সমাজে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা।
৫. আন্দোলনের সামাজিক লক্ষ্য
❖ সামাজিক বৈষম্য হ্রাস।
❖ দরিদ্র মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা।
❖ জমিদারদের অন্যায় কর আদায়ের বিরোধিতা।
❖ কৃষকদের ওপর নীলকরদের অত্যাচার প্রতিরোধ।
❖ গ্রামীণ সমাজে সংগঠিত নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।
৬. জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
❖ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর জমিদারদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
❖ কিছু জমিদার নির্ধারিত খাজনার বাইরে অতিরিক্ত কর আদায় করতেন।
❖ এই অবৈধ অতিরিক্ত করকে আবওয়াব (Abwab) বলা হতো।
❖ ফরায়েজিরা এসব অন্যায় করের বিরোধিতা করেন।
৭. দুদু মিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনের নতুন পর্যায়
❖ ১৮৪০ সালে হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যু হয়।
❖ এরপর তাঁর পুত্র দুদু মিয়া আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
❖ দুদু মিয়া কৃষকদের অধিকার রক্ষাকে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য করেন।
❖ তিনি লাঠিয়াল বাহিনী ও গ্রামভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলেন।
৮. গ্রামভিত্তিক প্রশাসন
❖ দুদু মিয়া স্থানীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে পুনর্গঠিত করেন।
❖ গ্রামে গ্রামে খলিফা নিয়োগ করেন।
❖ খলিফারা স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি, সংগঠন পরিচালনা ও ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে দায়িত্ব পালন করতেন।
❖ এই সংগঠিত কাঠামো ফরায়েজি আন্দোলনের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৯. আন্দোলনের ভৌগোলিক বিস্তার
❖ ফরিদপুর।
❖ মাদারীপুর।
❖ ঢাকা।
❖ বরিশাল।
❖ ময়মনসিংহ।
❖ কুমিল্লা।
❖ নোয়াখালী।
❖ পাবনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আন্দোলনের প্রভাব দেখা যায়।
১০. ফরায়েজি আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ এটি বাংলার গ্রামীণ মুসলমান সমাজে ধর্মীয় সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন।
❖ কৃষকদের শোষণবিরোধী সংগ্রামকে সংগঠিত করে।
❖ জমিদারি ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ তৈরি করে।
❖ ঔপনিবেশিক বাংলার কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে স্থায়ী গুরুত্ব অর্জন করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ব্রিটিশ আমলের বাংলার অন্যতম প্রধান আন্দোলন — ফরায়েজি আন্দোলন।
➤ প্রতিষ্ঠাতা — হাজী শরীয়তুল্লাহ।
➤ প্রতিষ্ঠাতার জন্ম — ১৭৮১।
➤ মৃত্যু — ১৮৪০।
➤ জন্মস্থান — শ্যামাইল, মাদারীপুর।
➤ মক্কায় গমন — ১৭৯৯।
➤ প্রথম দেশে প্রত্যাবর্তন — ১৮১৮।
➤ পুনরায় দেশে ফেরা — ১৮২০।
➤ ফরায়েজি শব্দের উৎস — ফরজ।
➤ ফরজ অর্থ — অবশ্যপালনীয় কর্তব্য।
➤ প্রধান কেন্দ্র — ফরিদপুর।
➤ শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরি — দুদু মিয়া।
➤ দুদু মিয়ার প্রকৃত নাম — মুহসীনউদ্দীন আহমদ।
➤ দুদু মিয়ার জন্ম — ১৮১৯।
➤ দুদু মিয়ার মৃত্যু — ১৮৬২।
➤ আন্দোলনের সামাজিক লক্ষ্য — শোষণ ও অন্যায় করের প্রতিরোধ।
➤ অবৈধ অতিরিক্ত কর — আবওয়াব।
➤ দুদু মিয়ার সংগঠনব্যবস্থা — পঞ্চায়েত ও খলিফা ব্যবস্থা।
➤ বিশেষ পার্থক্য: হাজী শরীয়তুল্লাহ—ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারের সূচনা; দুদু মিয়া—সংগঠিত কৃষক আন্দোলনের বিস্তার।
Advertisement
06
🎯 Level 1

১৭. হাজী শরীয়তুল্লাহ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন? (অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা: ০৪)

ক

শরীয়তপুর

খ

মাদারীপুর

গ

ফরিদপুর

ঘ

যশোর

✅ সঠিক উত্তর:খ. মাদারীপুর

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: মাদারীপুর।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ সালে শ্যামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, যা বর্তমানে বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার অন্তর্গত।
❖ তাঁর জন্মকালে এই এলাকা বৃহত্তর ফরিদপুরের ঐতিহাসিক অঞ্চলের অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রশাসনিক সীমানা পরিবর্তনের কারণে পুরোনো ইতিহাসগ্রন্থে ফরিদপুর এবং বর্তমান জেলা অনুযায়ী মাদারীপুর উল্লেখ পাওয়া যায়।
১. জন্মস্থানের পরিচিতি
❖ গ্রাম: শ্যামাইল।
❖ উপজেলা: শিবচর।
❖ জেলা: মাদারীপুর।
❖ বিভাগ: ঢাকা।
❖ দেশ: বাংলাদেশ।
❖ ঐতিহাসিক অঞ্চল: বৃহত্তর ফরিদপুর।
২. হাজী শরীয়তুল্লাহর পরিবার
❖ তিনি একটি তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
❖ পরিবারের সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে স্থানীয় ভূমি ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সম্পর্ক ছিল।
❖ শৈশবে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হন।
❖ পরবর্তী সময়ে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষার জন্য মক্কায় যান।
৩. শিক্ষাজীবন
❖ প্রথমে স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন।
❖ কলকাতায় গিয়ে ধর্মীয় শিক্ষকদের সংস্পর্শে আসেন।
❖ ১৭৯৯ সালে মক্কায় যান।
❖ দীর্ঘ সময় আরবি ভাষা, ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামি আইন অধ্যয়ন করেন।
৪. স্বদেশে প্রত্যাবর্তন
❖ ১৮১৮ সালে দেশে ফেরেন।
❖ ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন।
❖ আন্দোলন প্রথমদিকে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় পুনরায় মক্কায় যান।
❖ ১৮২০ সালে ফিরে আন্দোলন বিস্তৃত করেন।
৫. ফরায়েজি আন্দোলনের বিস্তার
❖ বৃহত্তর ফরিদপুরের গ্রামীণ মুসলমান সমাজে তাঁর প্রচার জনপ্রিয় হয়।
❖ ঢাকা, বরিশাল, কুমিল্লা ও অন্যান্য অঞ্চলেও আন্দোলন বিস্তার লাভ করে।
❖ দরিদ্র কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমর্থন বৃদ্ধি পায়।
৬. শরীয়তপুর জেলার সঙ্গে সম্পর্ক
❖ বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলার নাম হাজী শরীয়তুল্লাহর নামে রাখা হয়েছে।
❖ কিন্তু নামকরণ এবং জন্মস্থান এক বিষয় নয়।
❖ বর্তমান প্রশাসনিক সীমানা অনুযায়ী তাঁর জন্মস্থান মাদারীপুর জেলা।
৭. হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যু
❖ ১৮৪০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
❖ তাঁর মৃত্যুর পর দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব নেন।
❖ ফরিদপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলে আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্মৃতি আজও গুরুত্বপূর্ণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ হাজী শরীয়তুল্লাহর বর্তমান জন্মজেলা — মাদারীপুর।
➤ জন্মগ্রাম — শ্যামাইল।
➤ উপজেলা — শিবচর।
➤ ঐতিহাসিক বৃহত্তর জেলা — ফরিদপুর।
➤ জন্মসাল — ১৭৮১।
➤ মৃত্যুসাল — ১৮৪০।
➤ পেশাগত পরিচিতি — ইসলামি সংস্কারক।
➤ প্রতিষ্ঠিত আন্দোলন — ফরায়েজি আন্দোলন।
➤ মক্কায় গমন — ১৭৯৯।
➤ দেশে প্রত্যাবর্তন — ১৮১৮ ও ১৮২০।
➤ আন্দোলনের প্রধান অঞ্চল — ফরিদপুর।
➤ উত্তরসূরি — দুদু মিয়া।
➤ দুদু মিয়ার প্রকৃত নাম — মুহসীনউদ্দীন আহমদ।
➤ হাজী শরীয়তুল্লাহর নামে জেলা — শরীয়তপুর।
➤ শরীয়তপুরের অবস্থান — ঢাকা বিভাগ।
➤ বিশেষ পার্থক্য: জন্মজেলা—মাদারীপুর; ঐতিহাসিক অঞ্চল—বৃহত্তর ফরিদপুর; নামাঙ্কিত জেলা—শরীয়তপুর।
07
🎯 Level 1

২১. প্রতি বছর কোন তারিখে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়? (জাবি: ১৫–১৬)

ক

৩০ মে

খ

৩০ জুন

গ

৩০ জুলাই

ঘ

৩০ আগস্ট

✅ সঠিক উত্তর:খ. ৩০ জুন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ৩০ জুন।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন সাঁওতাল বিদ্রোহের সূচনা হয়। এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতিবছর ৩০ জুন সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস বা হুল দিবস (Hul Diwas) পালন করা হয়।
❖ বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন সিধু মুর্মু ও কানু মুর্মু। তাঁদের সঙ্গে চাঁদ মুর্মু, ভৈরব মুর্মু এবং সাঁওতাল নারী নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
❖ সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণ ছিল জমিদার, মহাজন, ঋণদাতা ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনের শোষণ।
১. সাঁওতাল বিদ্রোহের পরিচিতি
❖ বাংলা নাম: সাঁওতাল বিদ্রোহ।
❖ ইংরেজি নাম: Santhal Rebellion।
❖ অন্য নাম: সাঁওতাল হুল (Santhal Hul)।
❖ সূচনা: ৩০ জুন ১৮৫৫।
❖ প্রধান সময়কাল: ১৮৫৫–১৮৫৬।
❖ প্রধান অঞ্চল: রাজমহল পাহাড় ও সাঁওতাল পরগনা।
❖ বর্তমান অবস্থান: ঝাড়খণ্ড এবং পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের ঐতিহাসিক অঞ্চল।
❖ প্রধান নেতা: সিধু মুর্মু ও কানু মুর্মু।
২. সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর পরিচিতি
❖ সাঁওতাল দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
❖ তাঁদের ভাষা সাঁওতালি।
❖ সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রোএশীয় ভাষাপরিবারের মুন্ডা শাখার অন্তর্গত।
❖ সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী জীবিকার মধ্যে কৃষি, বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও গ্রামীণ অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ।
❖ তাঁদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন, সংস্কৃতি, নৃত্য ও সংগীতের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
৩. সাঁওতাল পরগনার ঐতিহাসিক পটভূমি
❖ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী রাজমহল পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসতি স্থাপন করে।
❖ তাঁরা বন পরিষ্কার করে কৃষিজমি তৈরি করেন।
❖ কিন্তু জমিদার, মহাজন ও কোম্পানির রাজস্ব কর্মকর্তারা তাঁদের জমি ও উৎপাদনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
❖ ফলে সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী জমির অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৪. দামিন-ই-কোহ অঞ্চলের পরিচিতি
❖ দামিন-ই-কোহ (Damin-i-Koh) ছিল রাজমহল পাহাড়সংলগ্ন একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল।
❖ ঔপনিবেশিক প্রশাসন সেখানে সাঁওতাল বসতি ও কৃষি সম্প্রসারণে উৎসাহ দেয়।
❖ সাঁওতাল কৃষকেরা বন পরিষ্কার করে নতুন জমি আবাদ করেন।
❖ পরে ভূমিরাজস্ব, ঋণ ও মহাজনি শোষণের কারণে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
৫. বিদ্রোহের প্রধান কারণ
◉ জমিদারি শোষণ
❖ অতিরিক্ত খাজনা আদায়।
❖ জমির অধিকারে হস্তক্ষেপ।
❖ কৃষকদের উচ্ছেদ ও হয়রানি।
◉ মহাজনি শোষণ
❖ উচ্চ সুদে ঋণ প্রদান।
❖ ঋণের দায়ে জমি হারানো।
❖ জোরপূর্বক শ্রম আদায়।
◉ প্রশাসনিক অত্যাচার
❖ পুলিশ ও রাজস্ব কর্মকর্তাদের অন্যায় আচরণ।
❖ বিচার ও প্রশাসনে সাঁওতালদের সীমিত প্রবেশাধিকার।
❖ স্থানীয় মানুষের অভিযোগ উপেক্ষা।
৬. দিকু কারা?
❖ সাঁওতাল সমাজে দিকু (Diku) শব্দটি সাধারণভাবে বহিরাগত ব্যক্তি বা শোষণকারী গোষ্ঠী বোঝাতে ব্যবহৃত হতো।
❖ ঔপনিবেশিক সময়ে জমিদার, মহাজন, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক মধ্যস্বত্বভোগীদের অনেকেই এই পরিচয়ে অভিহিত হতেন।
❖ বিদ্রোহের অন্যতম লক্ষ্য ছিল এসব শোষণ থেকে মুক্তি।
৭. বিদ্রোহের প্রধান নেতারা
◉ সিধু মুর্মু (Sidhu Murmu)
❖ সাঁওতাল বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান নেতা।
❖ প্রচলিত জন্মসাল — ১৮১৫।
❖ জন্মস্থান — ভোগনাডিহ গ্রাম, বর্তমান ঝাড়খণ্ড।
❖ মৃত্যু — ১৮৫৫ সালে।
◉ কানু মুর্মু (Kanhu Murmu)
❖ সিধু মুর্মুর ভাই এবং বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান নেতা।
❖ প্রচলিত জন্মসাল — ১৮২০।
❖ জন্মস্থান — ভোগনাডিহ।
❖ বিদ্রোহ দমনের সময় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের হাতে বন্দি হয়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন।
◉ চাঁদ মুর্মু ও ভৈরব মুর্মু
❖ সিধু-কানুর ভাই।
❖ সাঁওতাল বিদ্রোহ সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
◉ ফুলো মুর্মু ও ঝানো মুর্মু
❖ সাঁওতাল বিদ্রোহের নারী প্রতিরোধের সঙ্গে তাঁদের নাম বিশেষভাবে সম্পর্কিত।
❖ সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক স্মৃতিতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেন।
৮. ৩০ জুন ১৮৫৫ — ভোগনাডিহ সভা
❖ ৩০ জুন ১৮৫৫ সালে বর্তমান ঝাড়খণ্ডের ভোগনাডিহ গ্রামে বিপুলসংখ্যক সাঁওতাল সমবেত হন।
❖ প্রায় ১০ হাজার সাঁওতাল এই ঐতিহাসিক সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন বলে সরকারি ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
❖ সিধু ও কানুর নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসন, জমিদারি শোষণ ও মহাজনি অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঘোষণা দেওয়া হয়।
❖ এই সমাবেশ থেকেই সাঁওতাল হুলের সংগঠিত সূচনা ঘটে।
৯. বিদ্রোহের ঘটনাপ্রবাহ
◉ ৩০ জুন ১৮৫৫
❖ ভোগনাডিহে বৃহৎ সমাবেশ।
❖ সাঁওতালদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ঘোষণা।
◉ ৭ জুলাই ১৮৫৫
❖ পঞ্চকাটিয়া অঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
❖ সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
❖ বিদ্রোহ দ্রুত বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
◉ জুলাই ১৮৫৫
❖ সাঁওতাল বাহিনী বিভিন্ন স্থানে মহাজন, জমিদার ও কোম্পানির প্রশাসনিক কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করে।
❖ ব্রিটিশ সরকার সামরিক বাহিনী পাঠায়।
১০. ব্রিটিশ সরকারের সামরিক দমন
❖ সাঁওতাল বিদ্রোহীরা প্রধানত তীর-ধনুক, কুঠার ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করতেন।
❖ ব্রিটিশ বাহিনী আগ্নেয়াস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণের সুবিধা লাভ করে।
❖ ১৯ জুলাই ১৮৫৫ সামরিক আইন জারি করা হয় বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ রয়েছে।
❖ বিদ্রোহ দমনে ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।
❖ বিপুলসংখ্যক সাঁওতাল নিহত ও বন্দি হন।
১১. বিদ্রোহের অবসান — ১৮৫৬
❖ ১৮৫৬ সালের প্রথমভাগে প্রধান বিদ্রোহী নেতাদের অনেকে নিহত বা বন্দি হন।
❖ মার্চ ১৮৫৬ নাগাদ বৃহৎ সাঁওতাল বিদ্রোহ দমন করা হয়।
❖ তবে সাঁওতালদের ভূমি ও অধিকারসংক্রান্ত অসন্তোষ শেষ হয়নি।
১২. সাঁওতাল বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
❖ এটি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঔপনিবেশিকবিরোধী আদিবাসী বিদ্রোহ।
❖ ভূমি, ঋণ, বনজ সম্পদ ও সামাজিক অধিকারের দাবি আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিল।
❖ ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের আগে সংঘটিত এই আন্দোলন ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস — ৩০ জুন।
➤ বিদ্রোহের সূচনা — ৩০ জুন ১৮৫৫।
➤ বিদ্রোহের সময়কাল — ১৮৫৫–১৮৫৬।
➤ অন্য নাম — সাঁওতাল হুল।
➤ হুল শব্দের অর্থ — বিদ্রোহ বা গণঅভ্যুত্থান।
➤ প্রধান নেতা — সিধু মুর্মু ও কানু মুর্মু।
➤ অন্য নেতা — চাঁদ মুর্মু ও ভৈরব মুর্মু।
➤ নারী প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ নাম — ফুলো মুর্মু ও ঝানো মুর্মু।
➤ প্রধান সমাবেশস্থল — ভোগনাডিহ।
➤ বর্তমান রাজ্য — ঝাড়খণ্ড, ভারত।
➤ প্রধান অঞ্চল — রাজমহল পাহাড় ও সাঁওতাল পরগনা।
➤ দামিন-ই-কোহ — ঐতিহাসিক সাঁওতাল বসতি ও কৃষি অঞ্চল।
➤ ৩০ জুনের সমাবেশে অংশগ্রহণকারী — প্রায় ১০ হাজার।
➤ বিদ্রোহের প্রধান কারণ — জমিদার-মহাজন ও ঔপনিবেশিক শোষণ।
➤ দিকু — শোষণকারী বহিরাগতদের বোঝাতে ব্যবহৃত শব্দ।
➤ সাঁওতালদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র — তীর-ধনুক।
➤ প্রথম পর্যায়ের বড় সংঘর্ষ — ৭ জুলাই ১৮৫৫।
➤ সামরিক আইন — ১৯ জুলাই ১৮৫৫।
➤ বিদ্রোহ দমন — ১৮৫৬।
➤ সাঁওতালি ভাষার ভাষাপরিবার — অস্ট্রোএশীয়।
➤ সাঁওতালি ভাষার শাখা — মুন্ডা।
➤ বিশেষ পার্থক্য: সাঁওতাল বিদ্রোহ—১৮৫৫–৫৬; সিপাহি বিদ্রোহ—১৮৫৭; নীল বিদ্রোহ—১৮৫৯–৬২।
08
🎯 Level 1

২৪. কত সালে নীল কমিশন গঠন করা হয়? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১৯)

ক

$1860

খ

১৮৫৭

গ

১৮৪৫

ঘ

১৮৮২

✅ সঠিক উত্তর:ক. $1860

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক উত্তর: ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ নীল কমিশন (Indigo Commission) ছিল ব্রিটিশ সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিশন। বাংলার কৃষকদের ওপর ইউরোপীয় নীলকরদের অত্যাচার এবং নীলচাষসংক্রান্ত বিরোধ অনুসন্ধানের জন্য ৩১ মার্চ ১৮৬০ সালে কমিশনটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ নীল কমিশনের প্রতিষ্ঠা ও পরিচয়
•
ইংরেজি নাম: Indigo Commission।
•
গঠনের সঠিক তারিখ: ৩১ মার্চ ১৮৬০।
•
উদ্যোক্তা: বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার জন পিটার গ্রান্ট (J. P. Grant)-এর প্রশাসন।
•
তৎকালীন ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয়: লর্ড ক্যানিং।
•
কমিশনের সভাপতি: ডব্লিউ. এস. সিটন-কার (W. S. Seton-Karr)।
•
মোট সদস্য: ৫ জন।
•
মূল উদ্দেশ্য: নীলচাষিদের ওপর নির্যাতন, অন্যায্য চুক্তি ও নীলকরদের কর্মকাণ্ড তদন্ত।
•
সাক্ষ্যগ্রহণের সময়: ১৮ মে–১৪ আগস্ট ১৮৬০।
•
মোট সাক্ষ্যদাতা: ১৩৪ জন।
•
প্রতিবেদনের তারিখ: ২৭ আগস্ট ১৮৬০।
❖ বাংলায় নীলচাষের উৎপত্তি ও সম্প্রসারণ
❖ নীল (Indigo) একধরনের উদ্ভিদ থেকে উৎপাদিত প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ। এই রঞ্জক প্রধানত কাপড় নীল রং করতে ব্যবহৃত হতো। ইউরোপীয় বস্ত্রশিল্পে নীলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাংলায় এর বাণিজ্যিক চাষ বৃদ্ধি পায়।
❖ ইউরোপীয় নীলকরদের ভূমিকা: অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা বাংলায় বৃহৎ পরিসরে নীল উৎপাদন ও রপ্তানির ব্যবস্থা গড়ে তোলে। পরে নীলকুঠি স্থাপন এবং কৃষকদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক নীলচাষ প্রচলিত হয়।
❖ নীলকুঠি: নীল উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য নীলকররা যে কেন্দ্র বা কারখানা স্থাপন করত, তাকে নীলকুঠি বলা হতো।
❖ দাদন প্রথা: নীলকররা কৃষকদের চাষের আগে অগ্রিম টাকা দিত। এই অগ্রিম অর্থকে দাদন (Advance) বলা হতো। টাকা গ্রহণের পর কৃষককে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমিতে নীলচাষ করতে বাধ্য করা হতো।
❖ দাদনের ফাঁদ: নীল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের যে মূল্য দেওয়া হতো, তা প্রায়ই উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় অপর্যাপ্ত ছিল। ফলে কৃষকের ঋণ পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়ত। পুরোনো ঋণ ও চুক্তিকে কেন্দ্র করে তাঁদের বারবার নীলচাষ করতে বাধ্য করা হতো।
❖ খাদ্যশস্য উৎপাদনে ক্ষতি: নীলকররা অনেক সময় কৃষকদের উর্বর জমিতে ধান বা অন্যান্য খাদ্যশস্যের পরিবর্তে নীলচাষ করতে বাধ্য করত। এতে কৃষকের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতো।
❖ নীলকরদের অত্যাচার: নীলচাষে অস্বীকৃতি জানালে কৃষকদের ওপর লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে নির্যাতন, বাড়িঘর ধ্বংস, গবাদিপশু আটক, সম্পত্তি দখল এবং মিথ্যা মামলার মতো বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার করা হতো।
❖ প্রশাসনিক পক্ষপাত: স্থানীয় পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউরোপীয় নীলকরদের মধ্যে স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্কের কারণে অনেক কৃষক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতেন। পরবর্তী সময়ে নীল কমিশনও এই সমস্যার প্রমাণ পায়।
❖ নীল বিদ্রোহের সূচনা — ১৮৫৯
❖ নীল বিদ্রোহ (Indigo Revolt) ১৮৫৯ সালে বাংলার কৃষকদের মধ্যে সংগঠিত প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবে শুরু হয় এবং ১৮৫৯–১৮৬০ সালে ব্যাপক আকার ধারণ করে।
❖ প্রধান সূচনাকেন্দ্র: বর্তমান বাংলাদেশের যশোর জেলার চৌগাছা এবং তৎকালীন বৃহত্তর নদীয়া অঞ্চলের নীলচাষি কৃষকদের প্রতিরোধ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ নীল বিদ্রোহের প্রধান নেতা:
১. দিগম্বর বিশ্বাস: যশোরের চৌগাছা অঞ্চলের অন্যতম প্রধান নীলবিদ্রোহী নেতা। তিনি কৃষকদের সংগঠিত করে নীলচাষ বন্ধের আন্দোলন পরিচালনা করেন।
২. বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস: দিগম্বর বিশ্বাসের সহযোগী ও সহযোদ্ধা। তাঁরা দুজন কৃষকদের একত্রিত করে নীলকরদের অন্যায় চুক্তি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
❖ বিদ্রোহের মূল দাবি: কৃষকেরা নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নীলচাষ করতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁদের অন্যতম দাবি ছিল জোরপূর্বক নীলচাষ বন্ধ, অন্যায্য চুক্তি বাতিল এবং নীলকরদের অত্যাচারের অবসান।
❖ প্রতিরোধের পদ্ধতি: শুরুতে কৃষকেরা সম্মিলিতভাবে নীলের বীজ বপন বন্ধ এবং নীলকরদের সঙ্গে নতুন চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, নীলকুঠি আক্রমণ ও সশস্ত্র প্রতিরোধের ঘটনা ঘটে।
❖ বিদ্রোহের বিস্তার: যশোর, নদীয়া, পাবনা, ফরিদপুর, খুলনা, রাজশাহী, মুর্শিদাবাদসহ বাংলার বিস্তৃত অঞ্চলে নীলচাষিদের প্রতিরোধ ছড়িয়ে পড়ে।
❖ নারীদের অংশগ্রহণ: নীল বিদ্রোহে কৃষক পরিবারের নারীরাও বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরোধে অংশ নেন। ফলে এটি কেবল কৃষকদের অর্থনৈতিক আন্দোলন নয়, গ্রামীণ সমাজের বৃহত্তর প্রতিবাদে পরিণত হয়।
❖ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণ: হিন্দু ও মুসলমান কৃষকেরা নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে একত্রে আন্দোলন করেন। এই সম্মিলিত অংশগ্রহণ নীল বিদ্রোহের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
❖ বাংলার শিক্ষিত সমাজ ও সংবাদপত্রের ভূমিকা
❖ হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়: ঊনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত সাংবাদিক ও সমাজসচেতন লেখক। তিনি হিন্দু প্যাট্রিয়ট (Hindu Patriot) পত্রিকায় নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় প্রকাশ করেন।
❖ হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা: ৬ জানুয়ারি ১৮৫৩ সালে পত্রিকাটির প্রকাশনা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় এটি নীল বিদ্রোহের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ সাংবাদিকতার ভূমিকা: নীলচাষিদের ওপর নির্যাতন, ভূমি দখল, অন্যায় চুক্তি ও প্রশাসনিক পক্ষপাতের বিবরণ সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে কলকাতার শিক্ষিত সমাজে নীল বিদ্রোহ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
❖ জনমতের প্রভাব: কৃষক আন্দোলন এবং সংবাদপত্রের প্রতিবাদ ব্রিটিশ প্রশাসনকে নীলচাষের অবস্থা তদন্ত করতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটক
❖ দীনবন্ধু মিত্র (Dinabandhu Mitra) ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত বাঙালি নাট্যকার। নীলকরদের অত্যাচার ও কৃষকদের দুর্দশা চিত্রিত করে তিনি নীলদর্পণ নাটক রচনা করেন।
❖ ব্যক্তিগত পরিচয়:
•
জন্ম: আনুমানিক ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ।
•
জন্মস্থান: চৌবেড়িয়া গ্রাম, বর্তমান উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ।
•
মৃত্যু: ১ নভেম্বর ১৮৭৩।
•
পেশা: নাট্যকার ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তা।
•
প্রধান পরিচিতি: বাংলা সামাজিক নাটকের গুরুত্বপূর্ণ রূপকার।
❖ নীলদর্পণ (১৮৬০): নীলকরদের অত্যাচার, কৃষকের অর্থনৈতিক শোষণ, সামাজিক সংকট এবং গ্রামীণ পরিবারের দুর্দশাকে কেন্দ্র করে রচিত বিখ্যাত নাটক।
❖ প্রথম প্রকাশ: নীলদর্পণ ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি বাংলার ঔপনিবেশিক কৃষকশোষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক দলিল।
❖ ইংরেজি অনুবাদ: ১৮৬১ সালে Nil Darpan; or, The Indigo Planting Mirror নামে নাটকটির ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এর অনুবাদ সাধারণত মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে চিহ্নিত করা হয়।
❖ রেভারেন্ড জেমস লঙ: ইংরেজ মিশনারি রেভারেন্ড জেমস লঙ (James Long) নাটকটির ইংরেজি সংস্করণ প্রচার ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ কারণে নীলকরদের দায়ের করা মানহানির মামলায় তাঁকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
Advertisement
09
🎯 Level 1

২৭. প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম কোনটি? (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তা তত্ত্বাবধায়ক: ০৫)

ক

তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা

খ

সিপাহি বিদ্রোহ

গ

অসহযোগ আন্দোলন

ঘ

জালিয়ানওয়ালাবাগের সংগ্রাম

✅ সঠিক উত্তর:খ. সিপাহি বিদ্রোহ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: সিপাহি বিদ্রোহ (১৮৫৭)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ সিপাহি বিদ্রোহ (Sepoy Revolt of 1857) ছিল ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক সামরিক ও জনবিদ্রোহ। এটি ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ (Great Revolt), সিপাহি মহাবিদ্রোহ (Sepoy Mutiny) এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ইতিহাসচর্চায় প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ (First War of Independence) নামে পরিচিত।
❖ বিদ্রোহের সময়কাল: প্রধানত ১৮৫৭–১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দ। কিছু অঞ্চলে বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ ও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ১৮৫৯ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
❖ বিদ্রোহের প্রধান প্রতিপক্ষ: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং তার ঔপনিবেশিক সামরিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব।
❖ তাৎক্ষণিক কারণ: ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ব্যবহারের জন্য প্রবর্তিত এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহার করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ও গুজব সিপাহিদের মধ্যে তীব্র ধর্মীয় অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
❖ কার্তুজসংক্রান্ত সমস্যা: এনফিল্ড রাইফেলের কাগজে মোড়ানো কার্তুজ ব্যবহার করতে সৈন্যদের মুখ দিয়ে এর প্রান্ত ছিঁড়তে হতো। গরুর চর্বি হিন্দু সিপাহিদের এবং শূকরের চর্বি মুসলমান সিপাহিদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বলে তাঁরা মনে করেন।
❖ রাজনৈতিক কারণ: ব্রিটিশ কোম্পানির সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ, দেশীয় রাজ্য অধিগ্রহণ, শাসকদের ভাতা ও মর্যাদা হ্রাস এবং স্বত্ববিলোপ নীতি ভারতীয় রাজপরিবার ও সামন্তশ্রেণির মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
❖ অর্থনৈতিক কারণ: উচ্চ ভূমি রাজস্ব, কৃষকের দারিদ্র্য, স্থানীয় শিল্পের অবনতি, দেশীয় উৎপাদকদের ওপর বাণিজ্যিক চাপ এবং ব্রিটিশ অর্থনৈতিক শোষণ বিদ্রোহের সামাজিক পটভূমি তৈরি করে।
❖ সামরিক কারণ: ভারতীয় সিপাহিদের সঙ্গে ইউরোপীয় সৈন্যদের বেতন, পদোন্নতি, ভাতা ও মর্যাদায় বৈষম্য ছিল। বিদেশে সামরিক দায়িত্ব পালন এবং ধর্মীয় রীতিনীতিতে হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও ক্ষোভ বাড়ায়।
❖ ব্যারাকপুরের প্রথম প্রতিরোধ: ২৯ মার্চ ১৮৫৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর সেনানিবাসে মঙ্গল পাণ্ডে, ৩৪তম বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির একজন সিপাহি, ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেন।
❖ মঙ্গল পাণ্ডের পরিণতি: বিদ্রোহের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার ও সামরিক আদালতে বিচার করা হয়। ৮ এপ্রিল ১৮৫৭ সালে ব্যারাকপুরে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
❖ মিরাটে ব্যাপক বিদ্রোহ: ১০ মে ১৮৫৭ সালে মিরাট সেনানিবাসে ভারতীয় সিপাহিরা ব্রিটিশ সামরিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিদ্রোহ শুরু করেন। এই ঘটনাকে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রধান সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
❖ দিল্লিতে বিদ্রোহের বিস্তার: মিরাটের বিদ্রোহী সৈন্যরা দিল্লিতে অগ্রসর হয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে বিদ্রোহের প্রতীকী নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
❖ বিদ্রোহের প্রধান কেন্দ্র ও নেতা:
দিল্লি: দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ও বখত খান।
কানপুর: নানা সাহেব ও তাঁতিয়া টোপে।
লখনৌ: বেগম হজরত মহল।
ঝাঁসি: রানি লক্ষ্মীবাই।
বিহার: কুনওয়ার সিং।
ফৈজাবাদ: মৌলভি আহমদুল্লাহ শাহ।
ব্যারাকপুর: মঙ্গল পাণ্ডে।
❖ দিল্লি পুনর্দখল: ১৮৫৭ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ বাহিনী দিল্লি পুনর্দখল করে। সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
❖ রানি লক্ষ্মীবাইয়ের প্রতিরোধ: ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই ১৮৫৭–১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রতিরোধ পরিচালনা করেন। ১৮ জুন ১৮৫৮ সালে গোয়ালিয়রের কাছে যুদ্ধরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
❖ বিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণ: একক কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাব, অভিন্ন রাজনৈতিক লক্ষ্য না থাকা, আধুনিক অস্ত্রের ঘাটতি, বিভিন্ন রাজন্যবর্গের বিভক্ত অবস্থান এবং ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর উন্নত যোগাযোগ ও সামরিক সংগঠন বিদ্রোহের ব্যর্থতায় ভূমিকা রাখে।
❖ শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন: বিদ্রোহ দমনের পর ব্রিটিশ সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন বিলোপ করে। ২ আগস্ট ১৮৫৮ সালে ভারত শাসন আইন প্রণীত হয়।
❖ রানির ঘোষণা: ১ নভেম্বর ১৮৫৮ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণা প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে ভারত ব্রিটিশ রাজমুকুটের প্রত্যক্ষ শাসনের অধীনে আসে।
❖ প্রথম ভাইসরয়: লর্ড ক্যানিং ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয় হন।
❖ ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের ফলে ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশের সামরিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে বাধ্য হয়। পরবর্তী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে এটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়।
❖ 'প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ' নামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: এই অভিধাটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ইতিহাসচর্চায় বিশেষ জনপ্রিয়। বিনায়ক দামোদর সাভারকর তাঁর The Indian War of Independence, 1857 গ্রন্থে বিদ্রোহটিকে স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তবে এর আগে সংঘটিত সন্ন্যাসী-ফকির, চুয়াড়, পলিগার ও অন্যান্য বিদ্রোহও ঔপনিবেশিকবিরোধী প্রতিরোধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা: সৈয়দ মীর নিসার আলী বা তিতুমীর (১৭৮২–১৮৩১) ব্রিটিশবিরোধী ও জমিদারি নিপীড়নবিরোধী সংগ্রামের নেতা। তিনি ১৮৩১ সালে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের নারকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। ১৯ নভেম্বর ১৮৩১ সালে ব্রিটিশ বাহিনীর আক্রমণে তিতুমীর নিহত হন। তাঁর আন্দোলন ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পূর্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ।
❖ গ. অসহযোগ আন্দোলন: মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯২০ সালে ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। বিদেশি পণ্য বর্জন, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আদালত বর্জন এবং অহিংস রাজনৈতিক প্রতিবাদ ছিল এর প্রধান কৌশল। ১৯২২ সালের চৌরিচৌরা ঘটনার পর গান্ধী আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
❖ ঘ. জালিয়ানওয়ালাবাগের সংগ্রাম: ১৩ এপ্রিল ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে ব্রিটিশ বাহিনী নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ার। ঘটনাটি রাওলাট আইনবিরোধী প্রতিবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত — সিপাহি বিদ্রোহ, ১৮৫৭।
➤ অপর নাম — সিপাহি মহাবিদ্রোহ।
➤ ইংরেজি নাম — Sepoy Revolt / Indian Rebellion of 1857।
➤ ব্যারাকপুরে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সিপাহি প্রতিরোধ — ২৯ মার্চ ১৮৫৭।
➤ ব্যারাকপুরের বিপ্লবী সিপাহি — মঙ্গল পাণ্ডে।
➤ মঙ্গল পাণ্ডের রেজিমেন্ট — ৩৪তম বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রি।
➤ মঙ্গল পাণ্ডের ফাঁসি — ৮ এপ্রিল ১৮৫৭।
➤ ব্যাপক সিপাহি বিদ্রোহ শুরু — ১০ মে ১৮৫৭।
➤ ব্যাপক বিদ্রোহের প্রথম প্রধান কেন্দ্র — মিরাট।
➤ প্রধান বিদ্রোহী সম্রাট — দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর।
➤ বাহাদুর শাহ জাফরের শাসনকাল — ১৮৩৭–১৮৫৭।
➤ দিল্লির বিদ্রোহী সেনানায়ক — বখত খান।
➤ কানপুরের নেতা — নানা সাহেব।
➤ কানপুর ও মধ্য ভারতের বিদ্রোহী সেনানায়ক — তাঁতিয়া টোপে।
➤ ঝাঁসির নেতা — রানি লক্ষ্মীবাই।
➤ লখনৌর নেত্রী — বেগম হজরত মহল।
➤ বিহারের নেতা — কুনওয়ার সিং।
➤ ফৈজাবাদের নেতা — মৌলভি আহমদুল্লাহ শাহ।
➤ বিদ্রোহের সময় গভর্নর জেনারেল — লর্ড ক্যানিং।
➤ ভারত শাসন আইন — ১৮৫৮।
➤ কোম্পানি শাসনের অবসান — ১৮৫৮।
➤ রানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণা — ১ নভেম্বর ১৮৫৮।
➤ প্রথম ব্রিটিশ ভাইসরয় — লর্ড ক্যানিং।
➤ ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহভিত্তিক সাভারকরের গ্রন্থ — The Indian War of Independence, 1857।
➤ ব্যারাকপুর—মঙ্গল পাণ্ডের প্রথম প্রতিবাদ; মিরাট—ব্যাপক মহাবিদ্রোহের সূচনা।
10
🎯 Level 1

৩০. এনফিল্ড রাইফেলে যেসব পশুর চর্বি মিশ্রিত থাকার কথা প্রচার করা হয় সেগুলো হলো — (বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের অফিসার: ০১)

ক

শূকর ও গরু

খ

শূকর ও ঘোড়া

গ

শূকর ও কুকুর

ঘ

শূকর ও বানর

✅ সঠিক উত্তর:ক. শূকর ও গরু

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: শূকর ও গরু।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ এনফিল্ড রাইফেল (Pattern 1853 Enfield Rifle-Musket) ছিল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত একটি আগ্নেয়াস্ত্র। ১৮৫৭ সালে এর কার্তুজে শূকর ও গরুর চর্বি ব্যবহারের অভিযোগ ভারতীয় হিন্দু ও মুসলমান সিপাহিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
❖ অস্ত্রের পরিচয়: Pattern 1853 Enfield ছিল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত রাইফেল-মাস্কেট। এটি পূর্ববর্তী স্মুথবোর মাস্কেটের তুলনায় অধিক দূরত্বে ও নির্ভুলভাবে গুলি ছোড়ার উপযোগী ছিল।
❖ কার্তুজের কাঠামো: তৎকালীন কার্তুজে কাগজের মোড়কের মধ্যে বারুদ ও গুলি থাকত। রাইফেলে বারুদ ও গুলি ভরার আগে কার্তুজের প্রান্ত মুখ দিয়ে ছিঁড়তে হতো।
❖ চর্বি ব্যবহারের অভিযোগ: কার্তুজকে আর্দ্রতা থেকে রক্ষা ও ব্যবহার সহজ করার জন্য চর্বিজাতীয় পদার্থ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ ওঠে। সৈন্যদের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে এতে গরু ও শূকরের চর্বি রয়েছে।
❖ হিন্দু সৈন্যদের আপত্তি: বহু হিন্দু ধর্মাবলম্বীর কাছে গরু পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। ফলে গরুর চর্বি মুখে নেওয়ার আশঙ্কা তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে।
❖ মুসলমান সৈন্যদের আপত্তি: ইসলামে শূকর ও শূকরজাতীয় খাদ্য গ্রহণ নিষিদ্ধ। তাই শূকরের চর্বি ব্যবহারের অভিযোগ মুসলমান সৈন্যদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
❖ ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা: অনেক সৈন্য মনে করতে থাকেন, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক প্রথা পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।
❖ প্রাথমিক প্রতিবাদ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৭ সালে বহরমপুরে ১৯তম বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির সৈন্যদের মধ্যে কার্তুজসংক্রান্ত অসন্তোষ দেখা দেয়।
❖ ব্যারাকপুরের ঘটনা: ২৯ মার্চ মঙ্গল পাণ্ডে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করেন। ৮ এপ্রিল তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
❖ মিরাটের ঘটনা: এপ্রিল মাসে মিরাটে সৈন্যরা কার্তুজ ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানান। তাঁদের শাস্তির পর ১০ মে ব্যাপক বিদ্রোহ শুরু হয়।
❖ বিদ্রোহের অন্যান্য কারণ: কার্তুজের ঘটনাটি তাৎক্ষণিক কারণ হলেও বিদ্রোহের পেছনে দেশীয় রাজ্য অধিগ্রহণ, অর্থনৈতিক শোষণ, সামরিক বৈষম্য ও ব্রিটিশ প্রশাসনের প্রতি দীর্ঘদিনের অসন্তোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ ঐতিহাসিক সতর্কতা: কার্তুজে ঠিক কোন প্রাণীর চর্বি ব্যবহৃত হয়েছিল, বিভিন্ন সময় ও সরবরাহে তার প্রকৃতি কী ছিল—এসব বিষয়ে ঐতিহাসিক আলোচনা রয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নে গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের প্রচার বা বিশ্বাস জানতে চাওয়া হয়েছে, যা বিদ্রোহের স্বীকৃত তাৎক্ষণিক কারণ।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ খ. শূকর ও ঘোড়া: ঘোড়ার চর্বি এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজসংক্রান্ত ধর্মীয় বিতর্কের প্রচলিত দুটি প্রাণীর মধ্যে ছিল না। ব্রিটিশ ও ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ঘোড়া প্রধানত অশ্বারোহী বাহিনী ও পরিবহনে ব্যবহৃত হতো।
❖ গ. শূকর ও কুকুর: কুকুরের চর্বি ব্যবহারের অভিযোগ ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের প্রধান ঐতিহাসিক বিবরণের অংশ নয়। ধর্মীয় আপত্তি মূলত গরু ও শূকরের চর্বি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল।
❖ ঘ. শূকর ও বানর: বানরের চর্বি এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজবিষয়ক প্রচলিত অভিযোগের অংশ ছিল না। ভারতীয় সিপাহিদের ক্ষোভের প্রধান কারণ ছিল গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের ধারণা।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সিপাহি বিদ্রোহের তাৎক্ষণিক কারণ — এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ বিতর্ক।
➤ আলোচিত দুটি প্রাণী — গরু ও শূকর।
➤ রাইফেলের নাম — Pattern 1853 Enfield Rifle-Musket।
➤ কার্তুজের ইংরেজি — Cartridge।
➤ হিন্দু সিপাহিদের আপত্তি — গরুর চর্বি।
➤ মুসলমান সিপাহিদের আপত্তি — শূকরের চর্বি।
➤ কার্তুজ ব্যবহারের সময় মুখ দিয়ে মোড়ক ছিঁড়তে হতো।
➤ বহরমপুরে সৈন্যদের প্রতিবাদ — ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৭।
➤ ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডের ঘটনা — ২৯ মার্চ ১৮৫৭।
➤ মিরাটে ব্যাপক বিদ্রোহ — ১০ মে ১৮৫৭।
➤ কার্তুজ বিতর্ক — বিদ্রোহের তাৎক্ষণিক কারণ।
➤ স্বত্ববিলোপ নীতি ও সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ — রাজনৈতিক কারণ।
➤ উচ্চ রাজস্ব ও শিল্পের অবনতি — অর্থনৈতিক কারণ।
➤ পদোন্নতি ও বেতনে বৈষম্য — সামরিক কারণ।
➤ গরু—হিন্দু সিপাহিদের ধর্মীয় আপত্তি; শূকর—মুসলমান সিপাহিদের ধর্মীয় আপত্তি।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন