🧠 🔖
👑 Premium Topic

নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলন, বিভাগপূর্ব রাজনীতি ও দেশভাগ

◉ সাধারণ জ্ঞান-বাংলাদেশ বিষয়াবলী›নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলন, বিভাগপূর্ব রাজনীতি ও দেশভাগ

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚95মোট প্রশ্ন
🎯5মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

"০২. ১৮৮৫ সালে কোন রাজনৈতিক দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটে? (রবি: ১৬–১৭)"

ক

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস

খ

নিখিল ভারত

গ

বিজেপি

ঘ

সিপিএম

✅ সঠিক উত্তর:ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের আত্মপ্রকাশ ব্রিটিশ ভারতের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের রাজনৈতিক নেতারা প্রথমবারের মতো একটি দীর্ঘস্থায়ী সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংগঠনের অধীনে নিয়মিতভাবে মিলিত হওয়ার সুযোগ পান।
❖ প্রতিষ্ঠার তারিখ: ২৮ ডিসেম্বর ১৮৮৫।
❖ প্রতিষ্ঠার স্থান: বোম্বে শহরের গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজ।
❖ প্রধান উদ্যোক্তা: এ. ও. হিউম।
❖ প্রথম সভাপতি: উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
❖ প্রথম অধিবেশনের প্রতিনিধিসংখ্যা: ৭২ জন।
❖ অধিবেশনের স্থান পরিবর্তনের ঘটনা: প্রথমে কংগ্রেসের সভা পুনে (Poona) শহরে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেখানে কলেরার প্রাদুর্ভাবের কারণে সভাস্থল পরিবর্তন করে বোম্বেতে নেওয়া হয়।
❖ প্রথম অধিবেশনের নেতৃত্ব: উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধি ব্রিটিশ শাসনের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে আলোচনা করেন।
❖ প্রথম অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি:
• ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্থা পর্যালোচনায় কমিশন গঠন।
• আইন পরিষদে ভারতীয় প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি।
• ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ভারতীয়দের সমান সুযোগ।
• ভারতে ও ইংল্যান্ডে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা একই সময়ে আয়োজন।
• সামরিক ব্যয় হ্রাস।
• প্রশাসনিক জবাবদিহি ও আইনগত সংস্কার।
❖ ১৮৮৬ সালের দ্বিতীয় অধিবেশন: কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়। দাদাভাই নওরোজি সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রতিনিধিসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৪৩৪ জন হয়।
❖ ১৮৮৭ সালের তৃতীয় অধিবেশন: মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত হয়। এর সভাপতি ছিলেন বদরুদ্দিন তৈয়বজি, যিনি কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি।
❖ ১৮৮৮ সালের চতুর্থ অধিবেশন: এলাহাবাদে অনুষ্ঠিত হয়। এর সভাপতি ছিলেন জর্জ ইউল, যিনি কংগ্রেসের প্রথম ইংরেজ সভাপতি।
❖ ১৮৯৬ সালের অধিবেশন: কলকাতায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেস অধিবেশনে রহিমতুল্লাহ সায়ানি সভাপতিত্ব করেন। এই অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বন্দে মাতরম্ সংগীত পরিবেশন করেন বলে ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখ রয়েছে।
❖ ১৯০৬ সালের অধিবেশন: কলকাতায় দাদাভাই নওরোজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাজ, স্বদেশী, বয়কট ও জাতীয় শিক্ষা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
❖ ১৯০৭ সালের সুরাট অধিবেশন: নরমপন্থী ও চরমপন্থী নেতাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে এবং কংগ্রেসে বিভক্তি ঘটে।
❖ ১৯১৬ সালের লক্ষ্ণৌ অধিবেশন: কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থী ধারার পুনর্মিলন ঘটে। একই সময়ে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে লক্ষ্ণৌ চুক্তি সম্পাদিত হয়।
❖ ১৯২০ সালের নাগপুর অধিবেশন: কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং অসহযোগ আন্দোলনকে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
❖ ১৯২৯ সালের লাহোর অধিবেশন: জওহরলাল নেহরুর সভাপতিত্বে কংগ্রেস পূর্ণ স্বরাজ (Purna Swaraj)-এর লক্ষ্য গ্রহণ করে।
❖ ১৯৩১ সালের করাচি অধিবেশন: মৌলিক অধিকার ও জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মসূচিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়। সভাপতি ছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল।
❖ ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলন: মহাত্মা গান্ধী ও কংগ্রেসের নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসন অবসানের দাবিতে ব্যাপক গণআন্দোলন শুরু হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল — ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস।
➤ প্রতিষ্ঠা — ২৮ ডিসেম্বর ১৮৮৫।
➤ প্রথম সভাস্থল হিসেবে পরিকল্পিত শহর — পুনে।
➤ স্থান পরিবর্তনের কারণ — কলেরার প্রাদুর্ভাব।
➤ প্রকৃত প্রথম অধিবেশন — বোম্বে।
➤ প্রথম সভাপতি — উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
➤ প্রথম সাধারণ সম্পাদক — এ. ও. হিউম।
➤ প্রথম অধিবেশনে প্রতিনিধি — ৭২ জন।
➤ দ্বিতীয় অধিবেশন — কলকাতা, ১৮৮৬।
➤ দ্বিতীয় অধিবেশনের সভাপতি — দাদাভাই নওরোজি।
➤ তৃতীয় অধিবেশন — মাদ্রাজ, ১৮৮৭।
➤ তৃতীয় অধিবেশনের সভাপতি — বদরুদ্দিন তৈয়বজি।
➤ চতুর্থ অধিবেশন — এলাহাবাদ, ১৮৮৮।
➤ প্রথম ইংরেজ সভাপতি — জর্জ ইউল।
➤ কংগ্রেসের প্রথম নারী সভাপতি — অ্যানি বেসান্ত।
➤ অ্যানি বেসান্তের সভাপতিত্ব — ১৯১৭, কলকাতা।
➤ প্রথম ভারতীয় নারী সভাপতি — সরোজিনী নাইডু।
➤ সরোজিনী নাইডুর সভাপতিত্ব — ১৯২৫, কানপুর।
➤ কংগ্রেসের সুরাট বিভক্তি — ১৯০৭।
➤ কংগ্রেস-মুসলিম লীগ লক্ষ্ণৌ চুক্তি — ১৯১৬।
➤ পূর্ণ স্বরাজ প্রস্তাব — ১৯২৯ সালের লাহোর অধিবেশন।
➤ লাহোর অধিবেশনের সভাপতি — জওহরলাল নেহরু।
➤ ১৯৩১ সালের করাচি অধিবেশনের সভাপতি — বল্লভভাই প্যাটেল।
➤ ভারত ছাড়ো আন্দোলন — ১৯৪২।
➤ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস—১৮৮৫; নিখিল ভারত মুসলিম লীগ—১৯০৬; বিজেপি—১৯৮০; সিপিআই (এম)—১৯৬৪।"
02
🎯 Level 1

০৬. কাকে ‘Grand Old Man of India’ বলা হয়? (যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক: ১৮)

ক

দাদাভাই নওরোজি

খ

উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

গ

অক্টোভিয়ান হিউম

ঘ

আনন্দমোহন বসু

✅ সঠিক উত্তর:ক. দাদাভাই নওরোজি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: দাদাভাই নওরোজি।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ Grand Old Man of India বা ভারতের প্রবীণ মহান নেতা উপাধিতে পরিচিত ছিলেন দাদাভাই নওরোজি (১৮২৫–১৯১৭)। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক গবেষণা এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিবাদের জন্য তিনি এই উপাধিতে পরিচিত হন।
❖ জন্ম: ৪ সেপ্টেম্বর ১৮২৫।
❖ জন্মস্থান: বোম্বে, বর্তমান মুম্বাই।
❖ মৃত্যু: ৩০ জুন ১৯১৭।
❖ জাতীয়তাবাদী পরিচয়: দাদাভাই নওরোজি ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রাথমিক যুগের অন্যতম প্রধান নেতা। তাঁকে অনেক ইতিহাসবিদ ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক (Father of Indian Nationalism) হিসেবেও অভিহিত করেন।
❖ অর্থনৈতিক চিন্তাধারা: তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল ধননিষ্কাশন তত্ত্ব (Drain of Wealth Theory)। তিনি দেখিয়েছিলেন কীভাবে ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের সম্পদ ব্রিটেনে স্থানান্তরিত হচ্ছিল।
❖ ভারতের দারিদ্র্যের কারণ বিশ্লেষণ: তিনি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ভারতীয় কৃষি ও শিল্পের দুর্বলতা, রাজস্বব্যবস্থার চাপ এবং বিদেশে সম্পদ স্থানান্তরের বিষয়টি পরিসংখ্যান দিয়ে তুলে ধরেন।
❖ রাজনৈতিক পদ্ধতি: প্রাথমিকভাবে তিনি সাংবিধানিক ও নরমপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট, সভা, বক্তৃতা ও সংগঠনের মাধ্যমে ভারতীয়দের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করেন।
❖ ইস্ট ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন: ১৮৬৬ সালে লন্ডনে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশ নীতিনির্ধারকদের কাছে ভারতীয়দের দাবি তুলে ধরার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ছিল।
❖ কংগ্রেসের সভাপতি: তিনি ১৮৮৬, ১৮৯৩ ও ১৯০৬ সালে তিনবার সভাপতি নির্বাচিত হন।
❖ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সদস্যপদ: ১৮৯২ সালে সেন্ট্রাল ফিন্সবুরি থেকে লিবারেল পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে হাউস অব কমন্সে নির্বাচিত হন।
❖ অর্থনৈতিক গবেষণাগ্রন্থ: Poverty and Un-British Rule in India, প্রকাশকাল ১৯০১। এটি ভারতীয় অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
❖ ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনে প্রভাব: তাঁর অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ রমেশচন্দ্র দত্ত, গোপালকৃষ্ণ গোখলে, মহাত্মা গান্ধী এবং পরবর্তী জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদদের ওপর প্রভাব ফেলে।
❖ স্বরাজের লক্ষ্য: ১৯০৬ সালের কংগ্রেস অধিবেশনে তিনি রাজনৈতিক স্বশাসনের দাবি সুস্পষ্টভাবে উত্থাপন করেন। তাঁর মতে, ভারতীয়দের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতায় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
❖ ঐতিহাসিক গুরুত্ব: দাদাভাই নওরোজি রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদকে অর্থনৈতিক যুক্তির সঙ্গে যুক্ত করেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন ও জাতীয় আন্দোলনে অবদানের কারণে তাঁকে Grand Old Man of India বলা হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ Grand Old Man of India — দাদাভাই নওরোজি।
➤ জন্ম — ৪ সেপ্টেম্বর ১৮২৫।
➤ মৃত্যু — ৩০ জুন ১৯১৭।
➤ জন্মস্থান — বোম্বে।
➤ পরিচয় — অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও জাতীয়তাবাদী নেতা।
➤ ধর্মীয় সম্প্রদায় — পারসি।
➤ অর্থনৈতিক তত্ত্ব — Drain Theory।
➤ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ — Poverty and Un-British Rule in India।
➤ গ্রন্থের প্রকাশকাল — ১৯০১।
➤ প্রতিষ্ঠিত সংগঠন — East India Association।
➤ প্রতিষ্ঠাকাল — ১৮৬৬।
➤ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নির্বাচিত — ১৮৯২।
➤ নির্বাচনী আসন — Central Finsbury।
➤ কংগ্রেসের সভাপতি — ১৮৮৬, ১৮৯৩, ১৯০৬।
➤ ১৯০৬ সালের অধিবেশন — কলকাতা।
➤ ১৯০৬ সালে উত্থাপিত রাজনৈতিক লক্ষ্য — স্বরাজ।
➤ Grand Old Man of India—দাদাভাই নওরোজি।
Advertisement
03
🎯 Level 1

১০. মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন হয় — (বিডব্লিউডিবি’র অফিসার: ১৬; বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক: ২৫)

ক

১৯০৬

খ

১৯০৯

গ

১৯১১

ঘ

১৯১৬

✅ সঠিক উত্তর:খ. ১৯০৯

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন (Morley-Minto Reforms) ব্রিটিশ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কার। এটি ১৯০৯ সালের Indian Councils Act নামে পরিচিত। এই আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর ব্যবস্থা স্বীকৃত হয়।
❖ সংস্কার আইনের প্রধান উদ্যোক্তা:
• লর্ড জন মর্লি (John Morley): ব্রিটিশ সরকারের ভারতসচিব (Secretary of State for India)।
• লর্ড মিন্টো দ্বিতীয় (Lord Minto II): ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয়।
❖ লর্ড মর্লির দায়িত্বকাল: ভারতসচিব হিসেবে ১৯০৫–১৯১০।
❖ লর্ড মিন্টোর দায়িত্বকাল: ভাইসরয় হিসেবে ১৯০৫–১৯১০।
❖ আনুষ্ঠানিক নাম: Indian Councils Act, 1909।
❖ সংস্কারের পটভূমি: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ, স্বদেশী আন্দোলন, জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দাবির বৃদ্ধি এবং ভারতীয়দের আইন পরিষদে প্রতিনিধিত্বের দাবি ব্রিটিশ সরকারকে প্রশাসনিক সংস্কার বিবেচনা করতে বাধ্য করে।
❖ সিমলা প্রতিনিধিদলের ভূমিকা: ১ অক্টোবর ১৯০৬ সালে আগা খানের নেতৃত্বে মুসলিম প্রতিনিধিদল লর্ড মিন্টোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুসলমানদের পৃথক রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দাবি উত্থাপন করে।
❖ মুসলিম লীগের ভূমিকা: ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগ মুসলমানদের শিক্ষাগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ এবং পৃথক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে।
❖ আইন পরিষদের সম্প্রসারণ: ১৯০৯ সালের আইনে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়।
❖ কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ: গভর্নর জেনারেলের আইন পরিষদের সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়। নতুন বিধান অনুযায়ী সদস্যসংখ্যার সীমা প্রায় ৬০ জনে উন্নীত হয়।
❖ প্রাদেশিক আইন পরিষদ: বিভিন্ন প্রদেশের আইন পরিষদে সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয় এবং বেসরকারি সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়।
❖ পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী (Separate Electorate): মুসলমান ভোটাররা মুসলমান প্রতিনিধিদের নির্বাচনের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীতে ভোট দিতে পারতেন। এটি ব্রিটিশ ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
❖ সীমিত নির্বাচনী ব্যবস্থা: নির্বাচনের সুযোগ সম্প্রসারিত হলেও সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জমিদার, বণিকসমিতি, পৌরসভা, জেলা বোর্ড ও নির্দিষ্ট স্বার্থগোষ্ঠীর ভিত্তিতে ভোটাধিকার সীমাবদ্ধ ছিল।
❖ বাজেট আলোচনার সুযোগ: আইন পরিষদের সদস্যরা বাজেট নিয়ে আলোচনা এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন ও প্রস্তাব উত্থাপনের কিছু সুযোগ পান।
❖ নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা: কেন্দ্রীয় সরকার ও ভাইসরয়ের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত ব্রিটিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ভারতীয় প্রতিনিধিদের নির্বাচনের সুযোগ বাড়লেও কার্যকর রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
❖ সত্যেন্দ্র প্রসন্ন সিনহার ভূমিকা: ১৯০৯ সালে সত্যেন্দ্র প্রসন্ন সিনহা (S. P. Sinha) ভাইসরয়ের নির্বাহী পরিষদে আইন সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ওই পরিষদের প্রথম ভারতীয় সদস্য হিসেবে পরিচিত।
❖ রাজনৈতিক প্রভাব: পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর ব্যবস্থা মুসলমানদের আলাদা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একটি পথ তৈরি করে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে নির্বাচনী কাঠামো গঠনের ফলে পরবর্তী ভারতীয় রাজনীতিতে বিভাজন আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
❖ পরবর্তী সাংবিধানিক সংস্কার: ১৯১৯ সালের মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার প্রাদেশিক প্রশাসনে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের সাংবিধানিক কাঠামোয় আরও পরিবর্তন আনে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন — ১৯০৯।
➤ ইংরেজি নাম — Morley-Minto Reforms।
➤ আইনের আনুষ্ঠানিক নাম — Indian Councils Act, 1909।
➤ ভারতসচিব — লর্ড জন মর্লি।
➤ ভাইসরয় — লর্ড মিন্টো দ্বিতীয়।
➤ মর্লির দায়িত্বকাল — ১৯০৫–১৯১০।
➤ মিন্টোর ভাইসরয়কাল — ১৯০৫–১৯১০।
➤ মুসলমানদের পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর স্বীকৃতি — ১৯০৯।
➤ Separate Electorate — পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী।
➤ সিমলা প্রতিনিধিদল — ১ অক্টোবর ১৯০৬।
➤ প্রতিনিধিদলের নেতা — আগা খান।
➤ আইন পরিষদের সদস্যসংখ্যা — বৃদ্ধি করা হয়।
➤ কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে সদস্যসংখ্যার সীমা — প্রায় ৬০।
➤ প্রথম ভারতীয় ভাইসরয়ের নির্বাহী পরিষদ সদস্য — সত্যেন্দ্র প্রসন্ন সিনহা।
➤ তাঁর নিয়োগের সাল — ১৯০৯।
➤ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা — ১৯০৬।
➤ লক্ষ্ণৌ চুক্তি — ১৯১৬।
➤ মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার — ১৯১৯।
➤ প্রাদেশিক দ্বৈত শাসনব্যবস্থা — ১৯১৯ সালের সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
➤ ১৯০৯—মর্লি-মিন্টো; ১৯১৯—মন্টেগু-চেমসফোর্ড; ১৯৩৫—ভারত শাসন আইন।
04
🎯 Level 1

১৪. সীমান্ত গান্ধী নামে পরিচিত — (নৌবাহিনীর ক্যাশিয়ার: ২৩)

ক

রাজীব গান্ধী

খ

আবদুল গাফফার খান

গ

মহাত্মা গান্ধী

ঘ

ইন্দিরা গান্ধী

✅ সঠিক উত্তর:খ. আবদুল গাফফার খান

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: খান আবদুল গাফফার খান (Khan Abdul Ghaffar Khan)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ খান আবদুল গাফফার খান (Khan Abdul Ghaffar Khan) ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বিশিষ্ট নেতা, সমাজসংস্কারক ও অহিংস রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রবক্তা। তাঁকে সীমান্ত গান্ধী (Frontier Gandhi) বলা হয়। তিনি ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের পশতুন জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন পরিচালনা করেন।
❖ পূর্ণ নাম: খান আবদুল গাফফার খান।
❖ ইংরেজি নাম: Khan Abdul Ghaffar Khan।
❖ জন্ম: ৬ ফেব্রুয়ারি ১৮৯০ (প্রচলিত জীবনী অনুযায়ী; জন্মতারিখ সম্পর্কে সূত্রভেদ রয়েছে)।
❖ জন্মস্থান: উসমানজাই (Utmanzai), চারসাদ্দা, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত; বর্তমান পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ।
❖ মৃত্যু: ২০ জানুয়ারি ১৯৮৮।
❖ মৃত্যুস্থান: পেশোয়ার, পাকিস্তান।
❖ সমাধিস্থল: জালালাবাদ, আফগানিস্তান।
❖ পিতা: বাহরাম খান। তিনি স্থানীয় পশতুন সম্প্রদায়ের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন।
❖ ধর্মীয় পরিচয়: মুসলমান।
❖ জাতিগত পরিচয়: পশতুন (Pashtun বা Pathan)।
❖ বিখ্যাত উপাধিসমূহ:
• সীমান্ত গান্ধী (Frontier Gandhi)।
• বাচা খান (Bacha Khan)।
• বাদশাহ খান (Badshah Khan)।
• ফখরে আফগান (Fakhr-e-Afghan)।
❖ সীমান্ত গান্ধী উপাধির কারণ: মহাত্মা গান্ধীর মতো তিনি অহিংসা, সত্যাগ্রহ, অসহযোগ ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিরোধে বিশ্বাস করতেন। ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলে গান্ধীয় আদর্শে আন্দোলন পরিচালনা করায় তাঁকে সীমান্ত গান্ধী বলা হয়।
❖ উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পরিচয়: ব্রিটিশ ভারতের এই প্রদেশটি বর্তমান পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া (Khyber Pakhtunkhwa) অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। পেশোয়ার, চারসাদ্দা, কোহাট ও বান্নু এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
❖ পশতুন সমাজের সামাজিক সমস্যা: ঔপনিবেশিক শাসন, শিক্ষার অভাব, উপজাতীয় বিভাজন, দারিদ্র্য এবং প্রতিশোধমূলক সামাজিক সংঘাতের কারণে পশতুন সমাজে বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান ছিল।
❖ শিক্ষা আন্দোলনের সূচনা: গাফফার খান পশতুন জনগোষ্ঠীর মধ্যে আধুনিক শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। ১৯১০ সালে উসমানজাইয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
❖ সামাজিক সংস্কারের লক্ষ্য:
• পশতুন সমাজে শিক্ষার প্রসার।
• অশিক্ষা ও কুসংস্কার দূর করা।
• সামাজিক ও উপজাতীয় বিভেদ হ্রাস।
• প্রতিশোধমূলক সহিংসতা বন্ধ।
• নারীশিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন।
• রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি।
• ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিরোধ।
❖ আঞ্জুমান-ই-ইসলাহুল আফাগিনা: ১৯২১ সালে তিনি Anjuman-e-Islah-ul-Afaghina নামে একটি সামাজিক সংস্কার সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল পশতুন জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা।
❖ খুদাই খিদমতগার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠা: ১৯২৯ সালে তিনি খুদাই খিদমতগার (Khudai Khidmatgar) নামে একটি অহিংস রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ খুদাই খিদমতগার শব্দের অর্থ: আল্লাহর সেবক বা সৃষ্টিকর্তার সেবক (Servants of God)। সংগঠনটির মূল আদর্শ ছিল মানুষের সেবা, আত্মশৃঙ্খলা, সমাজসংস্কার ও অহিংস রাজনৈতিক সংগ্রাম।
❖ লাল কুর্তা আন্দোলন: খুদাই খিদমতগার সংগঠনের সদস্যরা লাল রঙের পোশাক পরতেন বলে তাঁরা Red Shirts বা লাল কুর্তাধারী নামে পরিচিত হন।
❖ সংগঠনের শৃঙ্খলা: সদস্যরা অহিংসা, সত্যবাদিতা, সমাজসেবা, আত্মসংযম এবং প্রতিশোধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করতেন। তাঁরা সামরিক ধরনের সংগঠিত শৃঙ্খলা মেনে চললেও আন্দোলনের মূলনীতি ছিল অহিংস।
❖ ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলন: মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে সারা ভারতে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হলে খান আবদুল গাফফার খান উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেন।
❖ পূর্ণ স্বরাজের দাবি: ১৯২৯ সালের লাহোর কংগ্রেস অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজের লক্ষ্য গ্রহণের পর জাতীয়তাবাদী রাজনীতি আরও তীব্র হয়। ১৯৩০ সালে গাফফার খান এই বৃহত্তর আন্দোলনের সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলের সংগ্রামকে যুক্ত করেন।
❖ মহাত্মা গান্ধীর লবণ সত্যাগ্রহ: ১২ মার্চ ১৯৩০ সালে গান্ধী সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্ডির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ৬ এপ্রিল ১৯৩০ সালে লবণ আইন অমান্য করেন। এই আন্দোলন সারা ভারতে ব্রিটিশবিরোধী প্রতিবাদের নতুন পর্যায় সৃষ্টি করে।
❖ পেশোয়ারে আন্দোলনের বিস্তার: গাফফার খানের নেতৃত্বে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে গণসমাবেশ, মিছিল, অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলন পরিচালিত হয়।
❖ ২৩ এপ্রিল ১৯৩০ সালের পেশোয়ার হত্যাকাণ্ড: পেশোয়ারের কিস্সা খোয়ানি বাজারে (Qissa Khwani Bazaar) ব্রিটিশ বাহিনী নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন।
❖ কিস্সা খোয়ানি ঘটনার গুরুত্ব: অহিংস পশতুন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর দমন-পীড়ন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার সৃষ্টি করে। এই ঘটনার সঙ্গে গড়ওয়াল রাইফেলসের কয়েকজন সৈনিকের নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতির ঘটনাও সম্পর্কিত।
❖ খুদাই খিদমতগার ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস: গাফফার খান মহাত্মা গান্ধী ও কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তোলেন। দুই সংগঠনই অহিংস প্রতিরোধের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করত।
❖ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অবস্থান: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি অহিংস নীতির পক্ষে অবস্থান বজায় রাখেন।
❖ ভারত বিভাজনের বিরোধিতা: ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন। তিনি পশতুন জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক মতামত, স্বায়ত্তশাসন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলেন।
❖ বান্নু প্রস্তাব (১৯৪৭): উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের কিছু পশতুন নেতা পৃথক পশতুন রাজনৈতিক অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবের সঙ্গে গাফফার খান ও খুদাই খিদমতগার আন্দোলনের সম্পর্ক ছিল।
❖ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর রাজনৈতিক জীবন: পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরও তিনি পশতুন জনগোষ্ঠীর অধিকার, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, গণতন্ত্র ও অহিংস রাজনৈতিক সংগ্রামের পক্ষে অবস্থান বজায় রাখেন।
❖ গ্রেপ্তার ও কারাবাস: ব্রিটিশ ভারত এবং পরবর্তী পাকিস্তান আমলে তিনি বহুবার কারাবরণ করেন। জীবনের দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক বন্দিত্বের মধ্যে কাটিয়েছেন।
❖ ভারতরত্ন পুরস্কার: ১৯৮৭ সালে ভারত সরকার তাঁকে ভারতরত্ন (Bharat Ratna) সম্মানে ভূষিত করে। তিনি এই পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম বিদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচিত।
❖ আত্মজীবনী: My Life and Struggle তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা, সামাজিক সংস্কার ও রাজনৈতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ। পশতু ভাষায় আত্মজীবনীমূলক রচনার অনুবাদ হিসেবেও এটি পরিচিত।
❖ মৃত্যু ও সমাধি: ২০ জানুয়ারি ১৯৮৮ সালে পেশোয়ারে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী আফগানিস্তানের জালালাবাদে সমাধিস্থ করা হয়।
❖ ঐতিহাসিক গুরুত্ব: খান আবদুল গাফফার খান প্রমাণ করেন যে অহিংস প্রতিরোধ শুধু একটি অঞ্চলের বা সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক পদ্ধতি নয়। তিনি পশতুন সমাজের মধ্যে সামাজিক সংস্কার, রাজনৈতিক আত্মমর্যাদা এবং সংগঠিত অহিংস প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য গড়ে তোলেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সীমান্ত গান্ধী — খান আবদুল গাফফার খান।
➤ ইংরেজি নাম — Khan Abdul Ghaffar Khan।
➤ অপর নাম — বাচা খান।
➤ অন্য উপাধি — বাদশাহ খান।
➤ ফখরে আফগান — খান আবদুল গাফফার খান।
➤ জন্ম — প্রচলিত মতে ৬ ফেব্রুয়ারি ১৮৯০।
➤ জন্মস্থান — উসমানজাই, চারসাদ্দা।
➤ বর্তমান দেশ — পাকিস্তান।
➤ প্রদেশ — খাইবার পাখতুনখাওয়া।
➤ মৃত্যু — ২০ জানুয়ারি ১৯৮৮।
➤ মৃত্যুর স্থান — পেশোয়ার।
➤ সমাধিস্থল — জালালাবাদ, আফগানিস্তান।
➤ জাতিগত পরিচয় — পশতুন।
➤ রাজনৈতিক আদর্শ — অহিংসা ও সত্যাগ্রহ।
➤ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ — ১৯১০।
➤ আঞ্জুমান-ই-ইসলাহুল আফাগিনা প্রতিষ্ঠা — ১৯২১।
➤ খুদাই খিদমতগার আন্দোলন প্রতিষ্ঠা — ১৯২৯।
➤ প্রতিষ্ঠাতা — খান আবদুল গাফফার খান।
➤ খুদাই খিদমতগার অর্থ — আল্লাহর সেবক।
➤ সংগঠনের অপর নাম — Red Shirts।
➤ Red Shirts-এর বাংলা — লাল কুর্তাধারী।
➤ খুদাই খিদমতগার আন্দোলনের প্রধান অঞ্চল — উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ।
➤ আন্দোলনের প্রধান নীতি — অহিংস রাজনৈতিক প্রতিরোধ।
➤ গান্ধীর আইন অমান্য আন্দোলন — ১৯৩০।
➤ ডান্ডি অভিযান শুরু — ১২ মার্চ ১৯৩০।
➤ গান্ধীর লবণ আইন অমান্য — ৬ এপ্রিল ১৯৩০।
➤ কিস্সা খোয়ানি বাজার হত্যাকাণ্ড — ২৩ এপ্রিল ১৯৩০।
➤ হত্যাকাণ্ডের স্থান — পেশোয়ার।
➤ ভারত বিভাজনের বিরোধী পশতুন নেতা — খান আবদুল গাফফার খান।
➤ বান্নু প্রস্তাব — ১৯৪৭।
➤ ভারতরত্ন পুরস্কার — ১৯৮৭।
➤ প্রথম বিদেশি ভারতরত্নপ্রাপ্ত ব্যক্তি — খান আবদুল গাফফার খান।
➤ উল্লেখযোগ্য আত্মজীবনী — My Life and Struggle।
➤ মহাত্মা গান্ধী—মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
➤ সীমান্ত গান্ধী—খান আবদুল গাফফার খান।
➤ দেশবন্ধু—চিত্তরঞ্জন দাশ।
➤ শেরেবাংলা—এ. কে. ফজলুল হক।
➤ নেতাজি—সুভাষচন্দ্র বসু।
➤ Grand Old Man of India—দাদাভাই নওরোজি
05
🎯 Level 1

১৮. বিশ শতকের প্রথমার্ধে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে প্রধানত বাংলায় গড়ে ওঠে শক্তিশালী — (রাজউকের ইমারত পরিদর্শক: ১৪)

ক

ওহাবী আন্দোলন

খ

ফরায়েজী আন্দোলন

গ

প্রজা আন্দোলন

ঘ

স্বদেশী আন্দোলন

✅ সঠিক উত্তর:গ. প্রজা আন্দোলন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: প্রজা আন্দোলন (Praja Movement)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও জমিদারি ব্যবস্থার শোষণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রজা আন্দোলন গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য ছিল কৃষক ও প্রজাদের জমির অধিকার প্রতিষ্ঠা, অতিরিক্ত খাজনা হ্রাস, মহাজনি ঋণের বোঝা কমানো এবং জমিদারি শোষণের অবসান।
❖ ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (Permanent Settlement) প্রবর্তন করেন। এর মাধ্যমে জমিদারদের সরকারের কাছে প্রদেয় ভূমিরাজস্ব স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করা হয় এবং জমিদাররা ভূমির ওপর গুরুত্বপূর্ণ স্বত্ব লাভ করেন।
❖ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদারি ব্যবস্থার বিস্তার ঘটলেও প্রকৃত চাষিদের অধিকার ও নিরাপত্তা যথেষ্ট নিশ্চিত হয়নি। জমিদার, মধ্যস্বত্বভোগী এবং মহাজনদের বিভিন্ন দাবির কারণে কৃষকেরা অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়তেন।
❖ ১৯৩০-এর দশকে মহামন্দার (Great Depression) ফলে কৃষিপণ্যের দাম কমে যায় এবং কৃষকদের ঋণসংকট তীব্র হয়। বিশেষ করে পাট উৎপাদনকারী পূর্ববাংলার কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
❖ এই পরিস্থিতিতে এ. কে. ফজলুল হক (A. K. Fazlul Huq) কৃষক ও প্রজাদের অধিকারের পক্ষে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৩৬ সালে কৃষক প্রজা পার্টি (Krishak Praja Party) গড়ে ওঠে।
❖ বইয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ১৯৩৬ সালে কৃষক প্রজাদের অকৃত্রিম বন্ধু আবুল কাশেম ফজলুল হকের নেতৃত্বে কৃষক প্রজা পার্টি আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটি জমিদারি ব্যবস্থার পরিবর্তন, ঋণমুক্তি, কৃষকস্বত্ব প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক উন্নয়নের দাবিকে গুরুত্ব দেয়।
◉ ১. চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পটভূমি
❖ ১৭৬৫ সালে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে।
❖ কোম্পানি ভূমিরাজস্ব সংগ্রহের বিভিন্ন পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে।
❖ লর্ড কর্নওয়ালিসের শাসনামলে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কার্যকর হয়।
❖ এর ফলে জমিদারদের সরকারের কাছে প্রদেয় রাজস্ব নির্দিষ্ট করা হয়।
❖ নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে জমিদারি নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা ছিল।
❖ জমিদাররা কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের অধিকার বজায় রাখেন।
❖ কিন্তু কৃষকদের অধিকার ও খাজনা বৃদ্ধির প্রশ্নে বিভিন্ন বিরোধ তৈরি হয়।
◉ ২. চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে কৃষকদের সমস্যা
❖ অতিরিক্ত খাজনা: অনেক অঞ্চলে জমিদারদের খাজনা বৃদ্ধির দাবি কৃষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
❖ আবওয়াব: প্রচলিত খাজনার বাইরে অতিরিক্ত আদায় বা বেআইনি কর।
❖ নজর ও সালামি: বিভিন্ন উপলক্ষে জমিদারদের কাছে অর্থ প্রদানের প্রচলিত ব্যবস্থা।
❖ মধ্যস্বত্বভোগী: জমিদার ও প্রকৃত চাষির মধ্যে একাধিক স্বত্বভোগী শ্রেণির বিকাশ।
❖ ঋণগ্রস্ততা: কৃষকেরা খাজনা ও উৎপাদন খরচ মেটাতে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করতেন।
❖ জমি হারানোর আশঙ্কা: বকেয়া খাজনা ও ঋণের কারণে কৃষকের জমির ওপর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারত।
❖ দুর্বল আইনগত সুরক্ষা: কৃষকস্বত্ব ও জমিদারি দাবির মধ্যে সংঘাত দীর্ঘদিন অব্যাহত ছিল।
◉ ৩. বাংলার পূর্ববর্তী কৃষক আন্দোলন
❖ ফরায়েজী আন্দোলন: হাজী শরীয়তুল্লাহর নেতৃত্বে ধর্মীয় সংস্কারের মাধ্যমে শুরু হলেও দুদু মিয়ার সময় কৃষকপ্রতিরোধের বৈশিষ্ট্য লাভ করে।
❖ তিতুমীরের আন্দোলন: জমিদারি ও ঔপনিবেশিক শোষণবিরোধী প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ নীলবিদ্রোহ (১৮৫৯–১৮৬০): ইউরোপীয় নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলন।
❖ পাবনা কৃষক আন্দোলন (১৮৭০-এর দশক): অতিরিক্ত খাজনা ও জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্দোলন।
❖ বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫: কৃষক ও জমিদারের অধিকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ আইন।
❖ এসব আন্দোলন ও আইনি পরিবর্তন বিশ শতকের প্রজা রাজনীতির পটভূমি তৈরি করে।
◉ ৪. ১৯৩০-এর দশকের কৃষি সংকট
❖ বিশ্বব্যাপী মহামন্দা শুরু হয় ১৯২৯ সালে।
❖ আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যের মূল্য হ্রাস পায়।
❖ পূর্ববাংলার পাটচাষিরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
❖ কৃষকের আয় কমলেও অনেক ক্ষেত্রে জমিদারি খাজনা ও ঋণের বোঝা বজায় থাকে।
❖ কৃষকেরা মহাজনি ঋণ পরিশোধে সমস্যার সম্মুখীন হন।
❖ কৃষি ঋণ, জমির অধিকার এবং খাজনা সংস্কারের দাবি ক্রমশ রাজনৈতিক গুরুত্ব লাভ করে।
◉ ৫. কৃষক প্রজা পার্টি প্রতিষ্ঠা
❖ ১৯৩৬ সালে এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে কৃষক প্রজা পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ দলটির পূর্বসূরি সংগঠন ছিল নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি।
❖ ১৯৩০-এর দশকে প্রজা সমিতির নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।
❖ এ. কে. ফজলুল হক কৃষক ও প্রজাদের অধিকারের পক্ষে পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
❖ ১৯৩৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় কৃষক প্রজা পার্টির প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
❖ দলটির প্রধান দাবি ছিল কৃষকস্বত্ব প্রতিষ্ঠা, জমিদারি ব্যবস্থার বিলোপ এবং ঋণের বোঝা হ্রাস।
◉ ৬. কৃষক প্রজা পার্টির প্রধান কর্মসূচি
❖ জমিদারি প্রথার বিলোপ।
❖ প্রকৃত চাষির জমির অধিকার প্রতিষ্ঠা।
❖ কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত খাজনা হ্রাস।
❖ বেআইনি আবওয়াব, নজর ও সালামি আদায় বন্ধ।
❖ কৃষকদের মহাজনি ঋণের চাপ কমানো।
❖ কৃষিঋণ প্রদান ও ঋণ সালিশি বোর্ডের ব্যবস্থা।
❖ সেচ ও নদী ব্যবস্থার উন্নয়ন।
❖ বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা।
❖ গ্রামীণ চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য সুবিধা সম্প্রসারণ।
❖ কৃষকের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি।
◉ ৭. ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে প্রজা রাজনীতি
❖ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও নির্বাচনের নতুন ব্যবস্থা তৈরি করে।
❖ ১৯৩৭ সালে বাংলায় প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
❖ কৃষক প্রজা পার্টি জমিদারি সংস্কার ও ঋণমুক্তির দাবিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
❖ দলটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন লাভ করে এবং এ. কে. ফজলুল হক বাংলার প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের একজন হয়ে ওঠেন।
❖ ফজলুল হক মুসলিম লীগ ও অন্যান্য গোষ্ঠীর সহযোগিতায় সরকার গঠন করেন।
❖ এপ্রিল ১৯৩৭ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বিশ শতকের প্রথমার্ধে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আন্দোলন — প্রজা আন্দোলন।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন — ১৭৯৩।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তক — লর্ড কর্নওয়ালিস।
➤ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রধান বৈশিষ্ট্য — জমিদারদের প্রদেয় রাজস্ব স্থায়ীভাবে নির্ধারণ।
➤ জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকদের প্রধান দাবি — খাজনা হ্রাস ও জমির অধিকার।
➤ নীলবিদ্রোহ — ১৮৫৯–১৮৬০।
➤ পাবনা কৃষক আন্দোলন — ১৮৭০-এর দশক।
➤ বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন — ১৮৮৫।
➤ বিশ্বব্যাপী মহামন্দা শুরু — ১৯২৯।
➤ পূর্ববাংলার গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল — পাট।
➤ কৃষক প্রজা পার্টি প্রতিষ্ঠা — ১৯৩৬।
➤ কৃষক প্রজা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা — এ. কে. ফজলুল হক।
➤ কৃষক প্রজা পার্টির পূর্বসূরি — নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি।
➤ কৃষক প্রজা পার্টির প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ স্থান — ঢাকা।
➤ কৃষক প্রজা পার্টির গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান — ডাল-ভাতের নিশ্চয়তা।
➤ ভারত শাসন আইন — ১৯৩৫।
➤ বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচন — ১৯৩৭।
➤ অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হন — এ. কে. ফজলুল হক।
➤ ফজলুল হকের প্রধানমন্ত্রিত্ব শুরু — ১৯৩৭।
Advertisement
06
🎯 Level 1

২২. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কোন জেলার অধিবাসী ছিলেন? (বিটিভি’র রিপোর্ট অফিসার: ০৬)

ক

ঢাকা

খ

কুমিল্লা

গ

বরিশাল

ঘ

সিরাজগঞ্জ

✅ সঠিক উত্তর:গ. বরিশাল

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: বরিশাল।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের পৈতৃক নিবাস ছিল বরিশালের চাখার গ্রামে। তাই প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তাঁর নিজ জেলা বা অধিবাসী পরিচয় জানতে চাইলে সঠিক উত্তর বরিশাল।
❖ তিনি জন্মগ্রহণ করেন ২৬ অক্টোবর ১৮৭৩ সালে সাতুরিয়া গ্রামে, যা বর্তমানে ঝালকাঠি জেলার অন্তর্গত। তবে তাঁর পৈতৃক পরিবার, শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক কর্মজীবনের সঙ্গে বরিশালের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।
❖ তাঁর পিতা কাজী মুহাম্মদ ওয়াজেদ আলী বরিশালের আইনজীবী ছিলেন। ফজলুল হক নিজেও শিক্ষাজীবন শেষে বরিশালে আইন পেশায় যুক্ত হন।
❖ তিনি বাংলার কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। বরিশাল অঞ্চলে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন স্থানীয় মানুষের কাছে হক সাহেব নামে পরিচিত ছিলেন।
◉ ১. বরিশালের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়
❖ বরিশাল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও বিভাগীয় শহর।
❖ ঐতিহাসিকভাবে অঞ্চলটি বাকেরগঞ্জ (Bakerganj) নামের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ নদী ও জলপথনির্ভর যোগাযোগ বরিশালের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য।
❖ কীর্তনখোলা নদী বরিশাল শহরের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রধান নদী।
❖ ঊনবিংশ ও বিংশ শতকের প্রথমভাগে বরিশাল শিক্ষা, আইন পেশা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
❖ এই অঞ্চলের বহু শিক্ষাবিদ, আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাংলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
◉ ২. চাখার গ্রামের পরিচয়
❖ চাখার বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার একটি ঐতিহাসিক গ্রাম।
❖ এটি এ. কে. ফজলুল হকের পৈতৃক নিবাস হিসেবে পরিচিত।
❖ তাঁর পরিবার এই অঞ্চলের শিক্ষিত ও আইনপেশার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
❖ চাখারের সঙ্গে ফজলুল হকের পারিবারিক স্মৃতি ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সম্পর্ক রয়েছে।
❖ তাই তাঁর জন্মস্থান সাতুরিয়া হলেও নিজ এলাকার পরিচয়ে বরিশাল গুরুত্বপূর্ণ।
◉ ৩. বরিশালে ফজলুল হকের শিক্ষাজীবন
❖ ফজলুল হক বরিশাল জেলা স্কুলে অধ্যয়ন করেন।
❖ ১৮৯০ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
❖ পরবর্তী সময়ে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
❖ ১৮৯৬ সালে গণিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
❖ ১৮৯৭ সালে আইনশিক্ষা সম্পন্ন করেন।
❖ উচ্চশিক্ষা শেষে বরিশালের সঙ্গে আইন পেশা ও পারিবারিক যোগাযোগ বজায় রাখেন।
◉ ৪. বরিশালের রাজনৈতিক পরিবেশ
❖ ঊনবিংশ শতকের শেষভাগে বরিশাল শিক্ষা ও রাজনৈতিক সচেতনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
❖ অশ্বিনীকুমার দত্ত (১৮৫৬–১৯২৩) বরিশালের স্বদেশী আন্দোলন ও শিক্ষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
❖ তিনি ১৮৮৪ সালে ব্রজমোহন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ পরবর্তী সময়ে ১৮৮৯ সালে ব্রজমোহন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ বঙ্গভঙ্গবিরোধী স্বদেশী আন্দোলনে বরিশাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ এই রাজনৈতিক পরিবেশ ফজলুল হকের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিকাশের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের অংশ ছিল।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের নিজ জেলা — বরিশাল।
➤ পৈতৃক নিবাস — চাখার, বানারীপাড়া।
➤ জন্মস্থান — সাতুরিয়া, বর্তমানে ঝালকাঠি।
➤ জন্ম — ২৬ অক্টোবর ১৮৭৩।
➤ পিতা — কাজী মুহাম্মদ ওয়াজেদ আলী।
➤ বরিশাল জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা — ১৮৯০।
➤ বরিশালের ঐতিহাসিক নামের সঙ্গে সম্পর্কিত — বাকেরগঞ্জ।
➤ বরিশাল শহরের প্রধান নদী — কীর্তনখোলা।
➤ বরিশালের বিখ্যাত স্বদেশী নেতা — অশ্বিনীকুমার দত্ত।
➤ অশ্বিনীকুমার দত্তের জীবনকাল — ১৮৫৬–১৯২৩।
➤ ব্রজমোহন স্কুল প্রতিষ্ঠা — ১৮৮৪।
➤ ব্রজমোহন কলেজ প্রতিষ্ঠা — ১৮৮৯।
➤ কৃষক প্রজা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা — এ. কে. ফজলুল হক।
➤ কলকাতার মেয়র — ১৯৩৫।
➤ অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী — ১৯৩৭।
➤ লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক — এ. কে. ফজলুল হক।
07
🎯 Level 1

২৬. কবে এ. কে. ফজলুল হক পূর্ব বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন? (বিআরইবি’র সহকারী পরিচালক: ১৬)

ক

১৯৫৪ সালে

খ

১৯৫৫ সালে

গ

১৯৫৬ সালে

ঘ

১৯৫৭ সালে

✅ সঠিক উত্তর:গ. ১৯৫৬ সালে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ১৯৫৬ সাল।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিযুক্ত হন। ছবির প্রশ্নে ‘পূর্ব বাংলার গভর্নর’ বলা হলেও ১৯৫৫ সালে পূর্ববঙ্গের সরকারি নাম পূর্ব পাকিস্তান করা হয়েছিল। তাই ১৯৫৬ সালে তাঁর দায়িত্বের ঐতিহাসিক পদবিটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (Governor of East Pakistan)।
❖ তিনি ১৯৫৬–১৯৫৮ সাল পর্যন্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
❖ এর আগে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর তিনি পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন। ফলে ১৯৫৪ সালের মুখ্যমন্ত্রী পদ এবং ১৯৫৬ সালের গভর্নর পদ দুটি পৃথক ঘটনা।
❖ ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে প্রাদেশিক গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হন।
❖ তাঁর গভর্নর হিসেবে দায়িত্বকাল শেষ হয় ১৯৫৮ সালে, পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারির সময়।
◉ ১. পূর্ববাংলার রাজনৈতিক পটভূমি
❖ ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগ এবং পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ পাকিস্তান রাষ্ট্রের দুটি ভৌগোলিক অংশ ছিল।
❖ পূর্বাঞ্চলীয় অংশ প্রথমে পূর্ববঙ্গ (East Bengal) নামে পরিচিত ছিল।
❖ পশ্চিমাঞ্চলীয় অংশে বিভিন্ন প্রদেশ ও অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত ছিল।
❖ পূর্ববঙ্গে ভাষা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও অর্থনৈতিক অধিকার নিয়ে আন্দোলন গড়ে ওঠে।
❖ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন পূর্ববাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে।
◉ ২. ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
❖ ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট (United Front) গঠিত হয়।
❖ এর গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে ছিলেন এ. কে. ফজলুল হক, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
❖ যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
❖ কর্মসূচিতে বাংলা ভাষার মর্যাদা, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
❖ ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে পূর্ববাংলার প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
❖ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিপুল বিজয় লাভ করে।
❖ এ. কে. ফজলুল হক পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন।
◉ ৩. যুক্তফ্রন্ট সরকারের পতন
❖ যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিরোধ বৃদ্ধি পায়।
❖ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংকট সৃষ্টি হয়।
❖ ৩০ মে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বরখাস্ত করা হয়।
❖ পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন জারি হয়।
❖ ফজলুল হকের মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদ সংক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে।
◉ ৪. পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব
❖ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার পতনের পরও ফজলুল হক জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন।
❖ ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যোগ দেন।
❖ তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
❖ কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দায়িত্বের পর তাঁকে প্রাদেশিক গভর্নর নিযুক্ত করা হয়।
◉ ৫. ১৯৫৬ সালের সংবিধান
❖ ২৩ মার্চ ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কার্যকর হয়।
❖ পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষিত হয়।
❖ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নতুন সাংবিধানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ সংসদীয় শাসনব্যবস্থার বিধান রাখা হয়।
❖ পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকে।
❖ এই সাংবিধানিক পরিবর্তনের সময় ফজলুল হক পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
◉ ৬. ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন
❖ পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
❖ ৭ অক্টোবর ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা সামরিক আইন জারি করেন।
❖ পাকিস্তানের সংবিধান বাতিল করা হয়।
❖ ২৭ অক্টোবর ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন।
❖ এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে ফজলুল হকের দায়িত্বের অবসান ঘটে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ এ. কে. ফজলুল হক গভর্নর নিযুক্ত হন — ১৯৫৬ সালে।
➤ গভর্নর হিসেবে প্রদেশ — পূর্ব পাকিস্তান।
➤ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্বকাল — ১৯৫৬–১৯৫৮।
➤ পূর্ববঙ্গের নাম পূর্ব পাকিস্তান করা হয় — ১৯৫৫ সালে।
➤ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা — ১৯৪৭।
➤ পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন — ১৯৫৪।
➤ যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় — ১৯৫৩।
➤ যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচি — ২১ দফা।
➤ যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন — মার্চ ১৯৫৪।
➤ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বরখাস্ত — ৩০ মে ১৯৫৪।
➤ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন — ১৯৫৫।
➤ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কার্যকর — ২৩ মার্চ ১৯৫৬।
➤ পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি — ৭ অক্টোবর ১৯৫৮।
➤ ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে ক্ষমতা গ্রহণ — আইয়ুব খান।
➤ আইয়ুব খানের ক্ষমতা গ্রহণ — ২৭ অক্টোবর ১৯৫৮।
➤ ফজলুল হকের মৃত্যু — ২৭ এপ্রিল ১৯৬২।
08
🎯 Level 1

৩০. লাহোর প্রস্তাব ছিল — (সিভিল কার্যবিধি’র অডিটর: ৯৮ / বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার: ২৩)

ক

স্বাধীন বাংলা প্রস্তাব

খ

পাকিস্তান প্রস্তাব

গ

ভারত বিভাগের প্রস্তাব

ঘ

ভারতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার জন্য স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠনের প্রস্তাব

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ভারতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার জন্য স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠনের প্রস্তাব

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ভারতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার জন্য স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠনের প্রস্তাব।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ লাহোর প্রস্তাব (Lahore Resolution) ছিল ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠনের একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রস্তাব। এটি পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান প্রস্তাব (Pakistan Resolution) নামে পরিচিত হয়।
❖ ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের (All-India Muslim League) অধিবেশনে বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক (A. K. Fazlul Huq) প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
❖ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (Muhammad Ali Jinnah)। তিনি তখন নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রধান নেতা ছিলেন।
❖ লাহোর প্রস্তাবের প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুতের সঙ্গে পাঞ্জাবের প্রধানমন্ত্রী স্যার সিকান্দার হায়াত খান (Sir Sikandar Hayat Khan)-এর নাম সম্পর্কিত। পরবর্তী সময়ে মুসলিম লীগের বিষয় নির্ধারণী কমিটিতে খসড়াটি সংশোধিত হয়।
❖ চৌধুরী খালিকুজ্জামান (Choudhury Khaliquzzaman) প্রস্তাবটি সমর্থন করেন। বিভিন্ন প্রদেশের মুসলিম লীগ নেতারাও এর পক্ষে বক্তব্য দেন।
❖ ২৩ মার্চ ১৯৪০ সালে প্রস্তাবটি উত্থাপিত হলেও ২৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। তবে ২৩ মার্চ দিনটিই ইতিহাসে লাহোর প্রস্তাবের প্রধান স্মরণীয় তারিখ হিসেবে পরিচিত।
❖ মূল প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ভূখণ্ডগুলোকে একত্র করে ‘Independent States’ বা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠনের কথা বলা হয়েছিল।
❖ প্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, গঠিত রাষ্ট্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত এককগুলো স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম হবে।
❖ মূল প্রস্তাবে ‘পাকিস্তান’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রচার, সংবাদপত্র ও মুসলিম লীগের আন্দোলনের মাধ্যমে এটি পাকিস্তান প্রস্তাব নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
❖ তাই পরীক্ষায় ‘লাহোর প্রস্তাব ছিল কী?’ প্রশ্নের উত্তরে মূল প্রস্তাবের সঠিক ভাষাগত ও রাজনৈতিক অর্থ হলো—মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠনের প্রস্তাব।
◉ ১. লাহোর প্রস্তাবের রাজনৈতিক পটভূমি
❖ ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ কংগ্রেস ভারতীয়দের রাজনৈতিক অধিকার ও ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় প্রতিনিধিত্ব সম্প্রসারণের দাবি জানায়।
❖ ৩০ ডিসেম্বর ১৯০৬ সালে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ মুসলিম লীগের প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রতিনিধিত্ব রক্ষা।
❖ ১৯০৯ সালের মরলে-মিন্টো সংস্কার মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।
❖ ১৯১৬ সালের লক্ষ্ণৌ চুক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের কয়েকটি প্রশ্নে সমঝোতায় পৌঁছায়।
❖ কিন্তু পরবর্তী সময়ে উভয় দলের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মতপার্থক্য বৃদ্ধি পায়।
❖ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের নতুন কাঠামো তৈরি করে।
❖ ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন মুসলিম লীগের সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে।
❖ এই পরিস্থিতিতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন দাবি উত্থাপিত হয়।
◉ ২. ১৯৪০ সালের লাহোর অধিবেশন
❖ অধিবেশনের সময়: ২২–২৪ মার্চ ১৯৪০।
❖ স্থান: লাহোর, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত; বর্তমানে পাকিস্তান।
❖ সংগঠন: নিখিল ভারত মুসলিম লীগ।
❖ সভাপতি: মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
❖ প্রস্তাব উত্থাপনকারী: এ. কে. ফজলুল হক।
❖ মূল খসড়া প্রস্তুতের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি: স্যার সিকান্দার হায়াত খান।
❖ প্রস্তাব সমর্থনকারী গুরুত্বপূর্ণ নেতা: চৌধুরী খালিকুজ্জামান।
❖ প্রস্তাব উত্থাপন: ২৩ মার্চ ১৯৪০।
❖ আনুষ্ঠানিক গ্রহণ: ২৪ মার্চ ১৯৪০।
❖ অধিবেশনে বাংলা, পাঞ্জাব, আসাম এবং অন্যান্য প্রদেশের মুসলিম রাজনৈতিক নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
❖ এই অধিবেশন ভারতীয় উপমহাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে মুসলিম লীগের রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুন রূপ দেয়।
◉ ৩. মূল লাহোর প্রস্তাবের প্রধান বিষয়বস্তু
❖ ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে নতুন রাজনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা।
❖ এসব অঞ্চলকে ভৌগোলিকভাবে সংগঠিত করে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ (Independent States) গঠন।
❖ প্রস্তাবিত রাষ্ট্রসমূহের অন্তর্গত এককগুলোর স্বায়ত্তশাসন (Autonomy) নিশ্চিত করা।
❖ সংশ্লিষ্ট এককগুলোর সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) স্বীকার করা।
❖ ধর্মীয় ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য যথাযথ সাংবিধানিক সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা।
❖ সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার প্রশ্ন বিবেচনা করা।
❖ প্রস্তাবে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ সংবিধান বা নির্দিষ্ট সীমান্তরেখা ঘোষণা করা হয়নি।
◉ ৪. লাহোর প্রস্তাব ও পাকিস্তান প্রস্তাবের সম্পর্ক
❖ লাহোর প্রস্তাবের মূল ভাষায় ‘Independent States’ বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছিল।
❖ মূল পাঠে পাকিস্তান (Pakistan) শব্দটি ছিল না।
❖ ১৯৩৩ সালে চৌধুরী রহমত আলী তাঁর Now or Never প্রচারপত্রে পাকিস্তান নাম প্রচার করেন।
❖ ১৯৩০ সালে আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোর পৃথক রাজনৈতিক কাঠামোর ধারণা তুলে ধরেন।
❖ ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোর স্বাধীন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আনুষ্ঠানিক দাবির ভিত্তি গড়ে দেয়।
❖ পরবর্তী সময়ে এই দাবি একক পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়।
❖ ১৯৪৬ সালের দিল্লি সম্মেলনে মুসলিম লীগের আইনসভার সদস্যদের প্রস্তাবে একক স্বাধীন রাষ্ট্রের ধারণা অধিক স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
❖ ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
◉ ৫. পূর্ববাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে লাহোর প্রস্তাবের গুরুত্ব
❖ পূর্ববাংলার অধিকাংশ অঞ্চলে মুসলমান জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল।
❖ তাই লাহোর প্রস্তাবের পূর্বাঞ্চলীয় রাষ্ট্র-ধারণা বাংলার রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
❖ এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং পূর্ববাংলার কৃষকসমাজের মধ্যে জনপ্রিয় নেতা।
❖ তাঁর মাধ্যমে প্রস্তাবটি উত্থাপিত হওয়ায় বাংলার মুসলিম রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
❖ পরবর্তী সময়ে আবুল হাশিমসহ বাংলার কিছু নেতা মূল লাহোর প্রস্তাবের স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের ধারণাকে গুরুত্ব দেন।
❖ ১৯৪৭ সালে বাংলা বিভক্ত হয় এবং পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।
❖ স্বাধীন পূর্ববাংলার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের ইতিহাসে লাহোর প্রস্তাবের মূল ভাষা পরবর্তী সময়েও আলোচিত হয়।
◉ ৬. শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের ভূমিকা
❖ পূর্ণ নাম: আবুল কাশেম ফজলুল হক।
❖ জন্ম: ২৬ অক্টোবর ১৮৭৩।
❖ জন্মস্থান: সাটুরিয়া, তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলা।
❖ পৈতৃক নিবাস: চাখার, বরিশাল।
❖ মৃত্যু: ২৭ এপ্রিল ১৯৬২।
❖ প্রধান উপাধি: শেরেবাংলা।
❖ অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী: ১৯৩৭–১৯৪৩।
❖ পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী: ১৯৫৪।
❖ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর: ১৯৫৬–১৯৫৮।
❖ তিনি কৃষক ও প্রজাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
❖ কৃষক প্রজা পার্টির নেতৃত্ব এবং লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ লাহোর প্রস্তাবের মূল বিষয় — মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন।
➤ লাহোর প্রস্তাবের ইংরেজি নাম — Lahore Resolution।
➤ লাহোর প্রস্তাবের পরবর্তী পরিচিত নাম — Pakistan Resolution।
➤ লাহোর অধিবেশন — ২২–২৪ মার্চ ১৯৪০।
➤ প্রস্তাব উত্থাপন — ২৩ মার্চ ১৯৪০।
➤ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত — ২৪ মার্চ ১৯৪০।
➤ প্রস্তাব উত্থাপনকারী — এ. কে. ফজলুল হক।
➤ অধিবেশনের সভাপতি — মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
➤ মূল খসড়া প্রস্তুতের সঙ্গে সম্পর্কিত — স্যার সিকান্দার হায়াত খান।
➤ প্রস্তাব সমর্থনকারী — চৌধুরী খালিকুজ্জামান।
➤ প্রস্তাবের মূল ইংরেজি শব্দ — Independent States।
➤ মূল প্রস্তাবে পাকিস্তান শব্দ — ছিল না।
➤ প্রস্তাবের প্রধান দুটি অঞ্চল — উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল।
➤ রাষ্ট্রীয় এককগুলোর বৈশিষ্ট্য — স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।
➤ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা — ৩০ ডিসেম্বর ১৯০৬।
➤ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার স্থান — ঢাকা।
➤ ১৯০৯ সালের সংস্কার — মরলে-মিন্টো সংস্কার।
➤ ১৯৩৫ সালের গুরুত্বপূর্ণ আইন — ভারত শাসন আইন।
➤ প্রাদেশিক নির্বাচন — ১৯৩৭।
➤ ‘Now or Never’ প্রচারপত্র — ১৯৩৩।
➤ ‘পাকিস্তান’ নাম প্রচারের সঙ্গে সম্পর্কিত — চৌধুরী রহমত আলী।
➤ ইকবালের এলাহাবাদ ভাষণ — ১৯৩০।
➤ লাহোর প্রস্তাব মুসলিম লীগের গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত — ১৯৪১।
➤ দিল্লিতে মুসলিম লীগ আইনপ্রণেতাদের সম্মেলন — ১৯৪৬।
➤ পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা — ১৪ আগস্ট ১৯৪৭।
Advertisement
09
🎯 Level 1

৩৪. ভারতে ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর সৃষ্ট দুর্ভিক্ষকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে দায়ী করা হয়? (নিপোর্টের কম্পিউটার অপারেটর: ২৩)

ক

রানি ভিক্টোরিয়া

খ

স্যার উইনস্টন চার্চিল

গ

মার্গারেট থ্যাচার

ঘ

টনি ব্লেয়ার

✅ সঠিক উত্তর:খ. স্যার উইনস্টন চার্চিল

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: স্যার উইনস্টন চার্চিল (Sir Winston Churchill)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ স্যার উইনস্টন চার্চিল (Sir Winston Churchill) ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রথম প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়কাল ছিল ১০ মে ১৯৪০ থেকে ২৬ জুলাই ১৯৪৫।
❖ ১৯৪৩ সালের পঞ্চাশের মন্বন্তর চার্চিলের প্রধানমন্ত্রিত্বকালেই সংঘটিত হয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের যুদ্ধকালীন খাদ্যনীতি, বাংলায় খাদ্য সরবরাহে ব্যর্থতা এবং দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিলম্বিত পদক্ষেপের কারণে চার্চিল সরকার ইতিহাসে কঠোর সমালোচিত।
❖ মধুশ্রী মুখার্জি (Madhusree Mukerjee) তাঁর Churchill's Secret War: The British Empire and the Ravaging of India during World War II গ্রন্থে চার্চিল সরকারের যুদ্ধনীতি ও খাদ্য সরবরাহসংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে দুর্ভিক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণভাবে দায়ী করেছেন।
❖ ১৯৪৩–১৯৪৪ সালের দুর্ভিক্ষসংক্রান্ত সরকারি নথিতে বাংলার গভর্নর ও ভারতের ভাইসরয়ের পক্ষ থেকে খাদ্যসংকটের ভয়াবহতা জানানো হলেও ব্রিটিশ যুদ্ধ মন্ত্রিসভার পর্যাপ্ত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ঘাটতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
❖ তবে দুর্ভিক্ষটি শুধু চার্চিলের একটি সিদ্ধান্তের কারণে সংঘটিত হয়েছিল—এমন সরল ব্যাখ্যা ঐতিহাসিকভাবে যথেষ্ট নয়। দুর্ভিক্ষে যুদ্ধকালীন নীতি, খাদ্যের সরবরাহব্যবস্থা, মূল্যস্ফীতি, প্রাদেশিক প্রশাসনিক ব্যর্থতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাজারসংকট সম্মিলিতভাবে ভূমিকা পালন করে।
❖ তবুও প্রশ্নে দুর্ভিক্ষের জন্য সমালোচিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানতে চাওয়া হয়েছে বলে সঠিক উত্তর উইনস্টন চার্চিল।
◉ ১. উইনস্টন চার্চিলের পরিচয়
❖ পূর্ণ নাম: উইনস্টন লিওনার্ড স্পেন্সার চার্চিল (Winston Leonard Spencer Churchill)।
❖ জন্ম: ৩০ নভেম্বর ১৮৭৪।
❖ জন্মস্থান: ব্লেনহাইম প্যালেস, অক্সফোর্ডশায়ার, ইংল্যান্ড।
❖ মৃত্যু: ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৫।
❖ জাতীয়তা: ব্রিটিশ।
❖ রাজনৈতিক দল: কনজারভেটিভ পার্টি; রাজনৈতিক জীবনের একটি পর্যায়ে লিবারেল পার্টির সদস্যও ছিলেন।
❖ প্রথম প্রধানমন্ত্রীত্ব: ১৯৪০–১৯৪৫।
❖ দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রীত্ব: ১৯৫১–১৯৫৫।
❖ প্রধান ঐতিহাসিক পরিচয়: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী।
❖ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার: ১৯৫৩।
◉ ২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চার্চিলের ভূমিকা
❖ ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে।
❖ ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
❖ ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নেভিল চেম্বারলেন (Neville Chamberlain)।
❖ ১০ মে ১৯৪০ সালে চার্চিল ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হন।
❖ তাঁর নেতৃত্বে ব্রিটেন নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখে।
❖ ১৯৪০ সালের ব্রিটেনের যুদ্ধ (Battle of Britain) তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বকালের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
❖ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উপনিবেশগুলো যুদ্ধের খাদ্য, অর্থ, শ্রম ও সামরিক সম্পদ সরবরাহে যুক্ত ছিল।
❖ ভারতও ব্রিটিশ যুদ্ধপ্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
◉ ৩. বাংলার দুর্ভিক্ষে যুদ্ধকালীন নীতির প্রভাব
❖ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য ও পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হয়।
❖ ১৯৪২ সালে জাপান বার্মা দখল করলে বাংলায় চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।
❖ জাপানের সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিরোধে ব্রিটিশ সরকার Denial Policy গ্রহণ করে।
❖ এই নীতির ফলে খাদ্যশস্য ও নৌপরিবহনব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায়।
❖ বাংলার নদীবিধৌত অঞ্চলে নৌকা ছিল খাদ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম।
❖ নৌযান নিয়ন্ত্রণের ফলে গ্রামীণ বাজারে খাদ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
❖ পাশাপাশি যুদ্ধকালীন সরকারি ক্রয় ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি পায়।
❖ এসব পদক্ষেপ বাংলার খাদ্যসংকটকে তীব্র করে।
◉ ৪. কেন্দ্রীয় ব্রিটিশ সরকারের দায়িত্ব
❖ ব্রিটিশ ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোয় প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের পৃথক দায়িত্ব ছিল।
❖ বাংলার খাদ্যসংকট মোকাবিলায় প্রাদেশিক প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
❖ কিন্তু বৃহৎ পরিসরে খাদ্য আমদানি, সমুদ্রপরিবহন ও যুদ্ধকালীন সম্পদ বরাদ্দের ওপর ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব ছিল।
❖ যুদ্ধের কারণে সমুদ্রপথে জাহাজ ও সরবরাহব্যবস্থা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
❖ বাংলায় দ্রুত খাদ্য আমদানির বিষয়ে যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
❖ চার্চিলের যুদ্ধ মন্ত্রিসভার খাদ্য সরবরাহ ও পরিবহনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ইতিহাসবিদদের সমালোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়।
◉ ৫. মধুশ্রী মুখার্জির গবেষণা
❖ মধুশ্রী মুখার্জি ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখিকা ও সাংবাদিক।
❖ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Churchill's Secret War।
❖ বইটির পূর্ণ নাম Churchill's Secret War: The British Empire and the Ravaging of India during World War II।
❖ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে।
❖ এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ভারতের খাদ্যনীতি, সাম্রাজ্যিক অর্থনীতি ও দুর্ভিক্ষের নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
❖ লেখিকা চার্চিল সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক মনোভাবের সমালোচনা করেন।
❖ গ্রন্থটি ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
◉ ৬. চার্চিলের নোবেল পুরস্কার ও অন্যান্য রচনা
❖ চার্চিল শুধু রাজনীতিবিদ ছিলেন না; তিনি একজন ইতিহাসলেখক ও বক্তাও ছিলেন।
❖ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থমালার মধ্যে রয়েছে The Second World War।
❖ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থমালা A History of the English-Speaking Peoples।
❖ রাজনৈতিক বক্তৃতা ও ইতিহাস রচনার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
❖ ১৯৫৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
❖ তাঁর যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব যেমন ব্রিটিশ ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ঔপনিবেশিক শাসন ও ভারতীয় দুর্ভিক্ষসংক্রান্ত নীতির জন্য তিনি সমালোচিত।
◉ ৭. অন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পার্থক্য
❖ রানি ভিক্টোরিয়া: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রানি; প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না।
❖ মার্গারেট থ্যাচার: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ১৯৭৯–১৯৯০।
❖ টনি ব্লেয়ার: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ১৯৯৭–২০০৭।
❖ উইনস্টন চার্চিল: প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ১৯৪০–১৯৪৫ এবং ১৯৫১–১৯৫৫।
❖ ফলে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী — উইনস্টন চার্চিল।
➤ চার্চিলের পূর্ণ নাম — উইনস্টন লিওনার্ড স্পেন্সার চার্চিল।
➤ চার্চিলের জন্ম — ৩০ নভেম্বর ১৮৭৪।
➤ চার্চিলের মৃত্যু — ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৫।
➤ চার্চিলের প্রথম প্রধানমন্ত্রীত্ব — ১৯৪০–১৯৪৫।
➤ চার্চিলের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রীত্ব — ১৯৫১–১৯৫৫।
➤ চার্চিল প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন — ১০ মে ১৯৪০।
➤ চার্চিলের রাজনৈতিক দল — কনজারভেটিভ পার্টি।
➤ চার্চিলের নোবেল পুরস্কার — সাহিত্যে, ১৯৫৩।
➤ চার্চিলের বিখ্যাত ইতিহাসগ্রন্থ — The Second World War।
➤ চার্চিল সরকারের আমলে বাংলার দুর্ভিক্ষ — ১৯৪৩।
➤ দুর্ভিক্ষের বাংলা সাল — ১৩৫০।
➤ দুর্ভিক্ষবিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ — Churchill's Secret War।
➤ Churchill's Secret War-এর লেখক — মধুশ্রী মুখার্জি।
➤ Churchill's Secret War প্রকাশ — ২০১০।
➤ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু — ১৯৩৯।
➤ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ — ১৯৪৫।
➤ বার্মা জাপানিদের দখলে যায় — ১৯৪২।
➤ ব্রিটিশদের Denial Policy — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন নীতি।
➤ দুর্ভিক্ষের অর্থনৈতিক ব্যাখ্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রবক্তা — অমর্ত্য সেন।
➤ রানি ভিক্টোরিয়ার রাজত্বকাল — ১৮৩৭–১৯০১।
➤ মার্গারেট থ্যাচারের প্রধানমন্ত্রীত্ব — ১৯৭৯–১৯৯০।
➤ টনি ব্লেয়ারের প্রধানমন্ত্রীত্ব — ১৯৯৭–২০০৭।
10
🎯 Level 1

৩৮. ভারতে ক্যাবিনেট মিশন কখন এসেছিল? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১২)

ক

১৯৪০ সালে

খ

১৯৪৬ সালে

গ

১৯৪২ সালে

ঘ

১৯৪৭ সালে

✅ সঠিক উত্তর:খ. ১৯৪৬ সালে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ১৯৪৬ সালে (মার্চ মাসে)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ক্যাবিনেট মিশন (Cabinet Mission) ছিল ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের একটি রাজনৈতিক প্রতিনিধিদল, যা ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে ভারতে আগমন করে।
❖ মিশনটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক কাঠামো নির্ধারণ, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন ভারতের সংবিধান প্রণয়নের ব্যবস্থা করা।
❖ ১৯৪৬ সালের ২৩–২৪ মার্চের মধ্যে প্রতিনিধিদল ভারতে পৌঁছায়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে আগমনের তারিখ হিসেবে ২৩ অথবা ২৪ মার্চ উল্লেখ পাওয়া যায়। বাংলাপিডিয়ায় ২৪ মার্চ ১৯৪৬ তারিখ দেওয়া হয়েছে।
❖ মিশনের তিনজন সদস্য ছিলেন লর্ড পেথিক লরেন্স (Lord Pethick-Lawrence), স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস (Sir Stafford Cripps) এবং এ. ভি. আলেকজান্ডার (A. V. Alexander)।
❖ এ মিশন প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি (Clement Attlee)-এর নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির সরকার।
❖ ১৯৪৬ সালের ১৬ মে ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা (Cabinet Mission Plan) ঘোষণা করা হয়।
❖ পরিকল্পনায় একটি ভারতীয় ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে প্রধানত প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ বিষয়গুলো থাকবে এবং প্রদেশগুলোকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হবে।
❖ প্রস্তাবে প্রদেশগুলোকে A, B ও C—এই তিনটি গ্রুপে বিভক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।
❖ কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে গ্রুপিং ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশ্নে মতপার্থক্য বৃদ্ধি পায়। ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ভারতের বিভাগ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
◉ ১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি
❖ ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
❖ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
❖ ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন স্বাধীনতার দাবিতে অধিক সংগঠিত হয়।
❖ ১৯৪২ সালের ভারত ছাড় আন্দোলন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধ সৃষ্টি করেছিল।
❖ ১৯৪৫–১৯৪৬ সালে আজাদ হিন্দ ফৌজের বিচার ভারতীয় জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে।
❖ ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রয়্যাল ইন্ডিয়ান নেভির বিদ্রোহ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনের জন্য নতুন সংকট সৃষ্টি করে।
❖ এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তরের আলোচনা অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
◉ ২. ক্লিমেন্ট অ্যাটলির ভূমিকা
❖ ক্লিমেন্ট অ্যাটলি (Clement Attlee) ছিলেন ব্রিটেনের লেবার পার্টির নেতা।
❖ ১৯৪৫ সালের জুলাই মাসে তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হন।
❖ তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বকাল ছিল ১৯৪৫–১৯৫১।
❖ অ্যাটলির সরকার ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
❖ ১৯৪৬ সালে তিনজন ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার সদস্যকে ভারতে পাঠানো হয়।
❖ তাঁরা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, মুসলিম লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
❖ অ্যাটলি নিজে মিশনের সদস্য ছিলেন না; তিনি ছিলেন মিশন প্রেরণকারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী।
◉ ৩. ক্যাবিনেট মিশনের তিন সদস্য
❖ লর্ড পেথিক লরেন্স: ভারতের সেক্রেটারি অব স্টেট (Secretary of State for India)।
❖ স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস: ব্রিটিশ সরকারের বাণিজ্য বোর্ডের সভাপতি (President of the Board of Trade)।
❖ এ. ভি. আলেকজান্ডার: ব্রিটিশ নৌবিভাগের রাজনৈতিক প্রধান, ফার্স্ট লর্ড অব দ্য অ্যাডমিরালটি (First Lord of the Admiralty)।
❖ তাঁরা ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে ভারতে আগমন করেন।
❖ মিশনটির নেতৃত্বে ছিলেন লর্ড পেথিক লরেন্স।
❖ ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় ছিলেন লর্ড ওয়াভেল (Lord Wavell)।
◉ ৪. ১৬ মে ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা
❖ ১৬ মে ১৯৪৬ সালে ক্যাবিনেট মিশন ভারতের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
❖ পরিকল্পনায় ব্রিটিশ ভারত ও দেশীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটি ভারতীয় ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।
❖ কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সীমিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
❖ এসব বিষয় ছিল প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ।
❖ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা প্রদেশগুলোর হাতে রাখার কথা বলা হয়।
❖ প্রদেশগুলোকে নির্দিষ্ট গ্রুপে সংগঠিত করার প্রস্তাব ছিল।
❖ একটি গণপরিষদ (Constituent Assembly) গঠনের কথা বলা হয়।
❖ এই গণপরিষদের দায়িত্ব ছিল ভারতের নতুন সংবিধান তৈরি করা।
◉ ৫. প্রদেশগুলোর তিনটি গ্রুপ
❖ A গ্রুপ: মাদ্রাজ, বোম্বাই, যুক্তপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ এবং উড়িষ্যা।
❖ B গ্রুপ: পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং সিন্ধু।
❖ C গ্রুপ: বাংলা ও আসাম।
❖ A গ্রুপ ছিল প্রধানত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত।
❖ B ও C গ্রুপ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোর রাজনৈতিক দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
❖ প্রস্তাব অনুযায়ী প্রদেশগুলো যৌথভাবে কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারত।
❖ গ্রুপিং বাধ্যতামূলক হবে, নাকি প্রদেশগুলো স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে—এ প্রশ্নে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
◉ ৬. ক্যাবিনেট মিশনের ব্যর্থতা
❖ কংগ্রেস একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ভারতীয় রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে।
❖ মুসলিম লীগ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোর পৃথক রাজনৈতিক ক্ষমতা ও গ্রুপিংয়ের নিশ্চয়তা দাবি করে।
❖ ১০ জুলাই ১৯৪৬ সালে জওহরলাল নেহরুর সংবাদ সম্মেলন গ্রুপিং প্রশ্নে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে।
❖ ২৯–৩০ জুলাই ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগ ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার পূর্ববর্তী সমর্থন প্রত্যাহার করে।
❖ মুসলিম লীগ পাকিস্তান দাবির পক্ষে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম কর্মসূচি ঘোষণা করে।
❖ ১৬ আগস্ট ১৯৪৬ সালে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালিত হয়।
❖ কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়।
❖ এ পরিস্থিতিতে ভারত বিভাগের রাজনৈতিক সম্ভাবনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
◉ ৭. ক্ষমতা হস্তান্তরের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ
❖ ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সালে জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
❖ পরবর্তী সময়ে মুসলিম লীগও অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দেয়।
❖ কিন্তু কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য দূর হয়নি।
❖ ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৭ সালে ক্লিমেন্ট অ্যাটলি ঘোষণা করেন, ব্রিটেন সর্বোচ্চ ১৯৪৮ সালের জুনের মধ্যে ভারত ছেড়ে যাবে।
❖ ৩ জুন ১৯৪৭ সালে মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।
❖ ১৮ জুলাই ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা আইন অনুমোদিত হয়।
❖ ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ক্যাবিনেট মিশন ভারতে আসে — ১৯৪৬ সালে।
➤ ক্যাবিনেট মিশনের আগমনের মাস — মার্চ।
➤ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী আগমনের তারিখ — ২৪ মার্চ ১৯৪৬।
➤ ক্যাবিনেট মিশনের সদস্যসংখ্যা — ৩ জন।
➤ ক্যাবিনেট মিশনের প্রধান — লর্ড পেথিক লরেন্স।
➤ অন্য দুই সদস্য — স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস ও এ. ভি. আলেকজান্ডার।
➤ ক্যাবিনেট মিশন প্রেরণকারী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী — ক্লিমেন্ট অ্যাটলি।
➤ অ্যাটলির প্রধানমন্ত্রীত্বকাল — ১৯৪৫–১৯৫১।
➤ ক্যাবিনেট মিশনের সময় ভারতের ভাইসরয় — লর্ড ওয়াভেল।
➤ ক্যাবিনেট মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য — ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক সমাধান।
➤ ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা ঘোষণা — ১৬ মে ১৯৪৬।
➤ পরিকল্পনায় প্রদেশগুলোর গ্রুপসংখ্যা — ৩টি।
➤ A গ্রুপ — হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশসমূহ।
➤ B গ্রুপ — উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশসমূহ।
➤ C গ্রুপ — বাংলা ও আসাম।
➤ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান বিষয় — প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ।
➤ ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব — গণপরিষদ গঠন।
➤ মুসলিম লীগের পূর্ববর্তী সমর্থন প্রত্যাহার — জুলাই ১৯৪৬।
➤ প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস — ১৬ আগস্ট ১৯৪৬।
➤ অন্তর্বর্তী সরকার গঠন — ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬।
➤ মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা — ৩ জুন ১৯৪৭।
➤ ভারত স্বাধীনতা আইন — ১৮ জুলাই ১৯৪৭।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন