🧠 🔖
👑 Premium Topic

আলক যন্ত্র- দর্পন, লেন্স,পেরিস্কোপ ও চোখ

◉ সাধারণ বিজ্ঞান›আলক যন্ত্র- দর্পন, লেন্স,পেরিস্কোপ ও চোখ

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚47মোট প্রশ্ন
🎯3মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০২. দর্পণ বা আয়নার পিছনে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১২)

ক

অ্যালুমিনিয়াম

খ

জিংক

গ

মার্কারি

ঘ

কপার

✅ সঠিক উত্তর:গ. মার্কারি

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: গ
◈ বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ভুল তথ্য: অতীতে আয়নার পেছনে পারদ (Mercury) ও টিন (Tin)-এর সংকর মিশ্রণ বা অ্যামালগাম ব্যবহার করা হতো। তবে আধুনিক আয়না তৈরিতে সাধারণত রূপা (Silver) অথবা অ্যালুমিনিয়াম (Aluminium)-এর পাতলা প্রতিফলক প্রলেপ ব্যবহার করা হয়।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ দর্পণ বা আয়না (Mirror): যে মসৃণ পৃষ্ঠে আলো নিয়মিতভাবে প্রতিফলিত হয়ে বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি করে, তাকে দর্পণ বা আয়না বলে।
সাধারণ কাচের আয়না তৈরির জন্য কাচের এক পাশে অত্যন্ত পাতলা ধাতব প্রতিফলক প্রলেপ দেওয়া হয়। এই প্রলেপের সাহায্যে আলো প্রতিফলিত হয়ে পর্যবেক্ষকের চোখে ফিরে আসে।
➤ আয়না আলোর প্রতিফলন নীতিতে কাজ করে।
➤ আয়নায় সাধারণত মসৃণ প্রতিফলক পৃষ্ঠ থাকে।
➤ কাচের পেছনে প্রতিফলক ধাতব প্রলেপ দেওয়া হয়।
➤ ধাতব প্রলেপ আলোকে প্রতিফলিত করে।
➤ প্রতিফলিত আলোর মাধ্যমে বস্তুর প্রতিবিম্ব দেখা যায়।
❖ আয়নার পেছনে মার্কারি ব্যবহারের ইতিহাস: প্রাচীন ও মধ্যযুগের বিভিন্ন সময়ে পালিশ করা ধাতব পৃষ্ঠ দিয়ে আয়না তৈরি করা হতো। পরে কাচের পেছনে ধাতব প্রলেপ ব্যবহার করে উন্নত আয়না তৈরি শুরু হয়।
বিশেষ করে ইউরোপে ষোড়শ শতাব্দী থেকে টিন ও পারদের মিশ্রণে তৈরি প্রতিফলক প্রলেপ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।
এই পদ্ধতিতে—
➤ প্রথমে সমতল কাচ প্রস্তুত করা হতো।
➤ কাচের পেছনের অংশে টিনের পাত ব্যবহার করা হতো।
➤ টিনের সঙ্গে পারদ প্রয়োগ করা হতো।
➤ পারদ ও টিনের সংমিশ্রণে অ্যামালগাম তৈরি হতো।
➤ এই ধাতব স্তর আয়নার প্রতিফলক পৃষ্ঠ হিসেবে কাজ করত।
➤ ফলে কাচের সামনের দিক থেকে বস্তুটির প্রতিবিম্ব দেখা যেত।
এই ঐতিহাসিক পদ্ধতির কারণেই সাধারণ জ্ঞান ও পুরোনো চাকরির পরীক্ষায় আয়নার পেছনে ব্যবহৃত ধাতু হিসেবে মার্কারি বা পারদ উল্লেখ করা হয়।
স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের সংরক্ষণবিষয়ক গবেষণাতেও টিন-পারদ অ্যামালগামযুক্ত প্রাচীন আয়নার নির্মাণপদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।
❖ অ্যামালগাম (Amalgam): পারদের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতুর সংমিশ্রণে তৈরি সংকর পদার্থকে অ্যামালগাম বলে।
পুরোনো আয়নায় টিন-পারদ অ্যামালগাম ব্যবহার করা হতো।
➤ পারদের রাসায়নিক প্রতীক = Hg।
➤ টিনের রাসায়নিক প্রতীক = Sn।
➤ পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল ধাতু।
➤ টিন-পারদ অ্যামালগাম অতীতে প্রতিফলক প্রলেপ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
➤ পারদ বিষাক্ত হওয়ায় এই পদ্ধতি আধুনিক আয়না তৈরিতে পরিত্যক্ত হয়েছে।
❖ আধুনিক আয়না তৈরির পদ্ধতি (Modern Mirror Manufacturing): আধুনিক কাচের আয়নায় সাধারণত রূপা অথবা অ্যালুমিনিয়ামের অত্যন্ত পাতলা প্রলেপ ব্যবহার করা হয়।
রূপার প্রলেপযুক্ত আয়না:
➤ প্রথমে কাচের পৃষ্ঠ পরিষ্কার করা হয়।
➤ কাচের এক পাশে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় রূপার পাতলা স্তর তৈরি করা হয়।
➤ রূপার স্তর আলো প্রতিফলিত করে।
➤ ধাতব স্তরকে ক্ষয় ও আর্দ্রতা থেকে রক্ষার জন্য সুরক্ষামূলক আবরণ দেওয়া হয়।
অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপযুক্ত আয়না:
➤ বিশেষ প্রক্রিয়ায় কাচের ওপর অ্যালুমিনিয়ামের পাতলা স্তর তৈরি করা হয়।
➤ ভ্যাকুয়াম ডিপোজিশন পদ্ধতিতে অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ দেওয়া সম্ভব।
➤ অ্যালুমিনিয়াম দৃশ্যমান আলো ভালোভাবে প্রতিফলিত করতে পারে।
➤ বিভিন্ন অপটিক্যাল যন্ত্র ও দর্পণে অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ ব্যবহার করা হয়।
ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের Office for Science and Society অনুযায়ী, আধুনিক কাচের আয়নায় রূপা ও অ্যালুমিনিয়াম উভয় ধাতুই ব্যবহৃত হয়।
✦ আয়নার পেছনে ব্যবহৃত ধাতুর তুলনা:
❖ সিলভারিং (Silvering): আয়না তৈরির উদ্দেশ্যে কাচের পৃষ্ঠে প্রতিফলক ধাতব প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রচলিতভাবে সিলভারিং বলে।
বিশেষ করে রূপার প্রলেপ তৈরির রাসায়নিক পদ্ধতিকে সিলভারিং বলা হয়। তবে সব ধাতব প্রলেপের উৎপাদনপদ্ধতি একই নয়।
❖ আয়না কীভাবে প্রতিবিম্ব তৈরি করে? কোনো বস্তু থেকে আলো আয়নার প্রতিফলক পৃষ্ঠে আপতিত হলে প্রতিফলনের নিয়ম অনুযায়ী ফিরে আসে। প্রতিফলিত আলোকরশ্মি চোখে প্রবেশ করলে বস্তুটির প্রতিবিম্ব দেখা যায়।
আলোর প্রতিফলনের দুটি প্রধান সূত্র:
➤ আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি ও আপতনবিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে অবস্থান করে।
➤ আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান।
অর্থাৎ,
∠i = ∠r
এখানে,
➤ i = আপতন কোণ।
➤ r = প্রতিফলন কোণ।
❖ নিয়মিত প্রতিফলন (Regular Reflection): সমান্তরাল আলোকরশ্মি কোনো মসৃণ পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে প্রতিফলনের পরও সমান্তরাল থাকলে তাকে নিয়মিত প্রতিফলন বলে।
আয়নার মসৃণ প্রতিফলক পৃষ্ঠে এই ধরনের প্রতিফলন ঘটে।
✦ সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্য:
❖ প্রতিবিম্ব অসদ বা অবাস্তব (Virtual) হয়।
❖ প্রতিবিম্ব সোজা (Erect) হয়।
❖ প্রতিবিম্বের আকার বস্তুর সমান হয়।
❖ প্রতিবিম্ব দর্পণের পেছনে গঠিত বলে মনে হয়।
❖ দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব এবং দর্পণ থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব সমান।
❖ প্রতিবিম্বে পার্শ্বীয় পরিবর্তন (Lateral Inversion) ঘটে।
❖ সমতল দর্পণের রৈখিক বিবর্ধন = +১।
✦ গাণিতিক উদাহরণ:
❖ প্রশ্ন: একটি বস্তু সমতল দর্পণের সামনে ৫ মিটার দূরে রাখা হয়েছে। দর্পণ থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব কত?
আমরা জানি,
➤ সমতল দর্পণে বস্তুর দূরত্ব = প্রতিবিম্বের দূরত্বের পরম মান।
এখানে,
➤ বস্তুর দূরত্ব = ৫ মিটার।
সুতরাং,
➤ প্রতিবিম্বের দূরত্ব = ৫ মিটার।
অতএব, প্রতিবিম্বটি দর্পণের পেছনে ৫ মিটার দূরে অবস্থিত বলে মনে হবে।
বস্তু ও প্রতিবিম্বের মধ্যবর্তী দূরত্ব—
➤ = ৫ + ৫
➤ = ১০ মিটার।
অতএব, বস্তু ও প্রতিবিম্বের মধ্যবর্তী দূরত্ব হবে ১০ মিটার।
✦ মূল ব্যাখ্যার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-সংশোধনী:
❖ “বর্তমানের সব আয়নায় মার্কারি ব্যবহার করা হয়”—এ বক্তব্য ভুল। মার্কারি মূলত প্রাচীন টিন-পারদ অ্যামালগাম আয়নার সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ “আয়নার পেছনে শুধু অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করা হয়”—এটিও সঠিক নয়। আধুনিক আয়নায় রূপার প্রলেপও ব্যবহৃত হয়।
❖ “আয়নার পেছনে পারদ ও রূপা একই ধরনের প্রলেপ”—এ ধারণা ভুল। ঐতিহাসিক টিন-পারদ অ্যামালগাম এবং আধুনিক রূপার প্রলেপের রাসায়নিক গঠন ও নির্মাণপদ্ধতি আলাদা।
❖ “সিলভারিং মানেই মার্কারির প্রলেপ দেওয়া”—এটিও সঠিক নয়। সিলভারিং সাধারণত রূপার প্রতিফলক স্তর তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের Pitt Rivers Museum-এর প্রকাশনায় আধুনিক কাচের আয়নায় অ্যালুমিনিয়াম অথবা রূপার পাতলা ধাতব স্তর ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়।
❖ তাই প্রশ্নটিতে গ. মার্কারি প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর হলেও ক. অ্যালুমিনিয়ামও আধুনিক প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য। প্রশ্নে কোন সময়ের আয়না বোঝানো হয়েছে তা উল্লেখ না থাকায় বিকল্পগুলো পুরোপুরি দ্ব্যর্থহীন নয়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. অ্যালুমিনিয়াম ⇒ আধুনিক প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে সঠিক, তবে পরীক্ষার প্রত্যাশিত উত্তর নয়। অ্যালুমিনিয়াম ভালো আলোক প্রতিফলক এবং আধুনিক আয়নায় এর পাতলা প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। তাই অ্যালুমিনিয়ামকে ভুল ধাতু বলা যাবে না।
❖ খ. জিংক ⇒ ভুল। জিংক বা দস্তা প্রধানত লোহা ও ইস্পাতকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যালভানাইজিংয়ে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ কাচের আয়নার প্রধান প্রতিফলক স্তর হিসেবে জিংক ব্যবহৃত হয় না।
❖ গ. মার্কারি ⇒ পরীক্ষাভিত্তিক সঠিক। ঐতিহাসিকভাবে আয়নার পেছনে টিন ও পারদের অ্যামালগাম ব্যবহার করা হতো। এই কারণে পুরোনো সাধারণ বিজ্ঞান ও চাকরির পরীক্ষায় মার্কারিকে সঠিক উত্তর হিসেবে ধরা হয়। এটিই প্রচলিত প্রশ্নসমাধান অনুযায়ী সঠিক উত্তর।
❖ ঘ. কপার ⇒ ভুল। কপার বা তামা কিছু আয়নার প্রতিফলক স্তরের পেছনে অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক আবরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সাধারণ কাচের আয়নার প্রধান প্রতিফলক ধাতু হিসেবে কপার প্রচলিত নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
❖ আয়নার পেছনে ব্যবহৃত ধাতুর এই প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর—মার্কারি (পারদ)।
❖ পারদের ইংরেজি নাম—Mercury।
❖ পারদের রাসায়নিক প্রতীক—Hg।
❖ পারদের পারমাণবিক সংখ্যা—৮০।
❖ টিনের রাসায়নিক প্রতীক—Sn।
❖ রূপার রাসায়নিক প্রতীক—Ag।
❖ অ্যালুমিনিয়ামের রাসায়নিক প্রতীক—Al।
❖ তামার রাসায়নিক প্রতীক—Cu।
❖ জিংকের রাসায়নিক প্রতীক—Zn।
❖ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল ধাতু—পারদ।
❖ প্রাচীন আয়নায় ব্যবহৃত সংকর প্রতিফলক—টিন-পারদ অ্যামালগাম।
❖ অ্যামালগাম হলো—পারদের সঙ্গে অন্য ধাতুর সংকর।
❖ আধুনিক কাচের আয়নায় ব্যবহৃত প্রতিফলক ধাতু—রূপা অথবা অ্যালুমিনিয়াম।
❖ কাচের পেছনে রূপার প্রলেপ তৈরির পদ্ধতি—সিলভারিং।
❖ আয়না কাজ করে—আলোর প্রতিফলন নীতিতে।
❖ প্রতিফলনের সূত্র—আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ।
❖ সমতল দর্পণের প্রতিবিম্ব—অসদ, সোজা ও সমান আকারের।
❖ সমতল দর্পণের বিবর্ধন—+১।
❖ সমতল দর্পণের প্রতিবিম্বে ঘটে—পার্শ্বীয় পরিবর্তন।
❖ সমতল দর্পণে বস্তুর দূরত্ব ও প্রতিবিম্বের দূরত্বের পরম মান—সমান।
❖ গাড়ির সাইড বা রিয়ারভিউ মিররে সাধারণত ব্যবহৃত হয়—উত্তল দর্পণ।
❖ দাঁতের চিকিৎসায় বড় প্রতিবিম্ব দেখার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে—অবতল দর্পণ।
❖ শেভিং বা মেকআপ মিররে বড় প্রতিবিম্ব পাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়—অবতল দর্পণ।
❖ টর্চলাইট ও গাড়ির হেডলাইটের প্রতিফলকে ব্যবহৃত হয়—অবতল বা প্যারাবলিক প্রতিফলক।
❖ গ্যালভানাইজিংয়ে ব্যবহৃত ধাতু—জিংক।
❖ ঐতিহাসিক টিন-পারদ আয়নার ব্যবহার কমে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ—পারদের বিষাক্ততা।"
02
🎯 Level 1

০২. দর্পণ বা আয়নার পিছনে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১২)

ক

অ্যালুমিনিয়াম

খ

জিংক

গ

মার্কারি

ঘ

কপার

✅ সঠিক উত্তর:গ. মার্কারি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ভুল তথ্য: অতীতে আয়নার পেছনে পারদ (Mercury) ও টিন (Tin)-এর সংকর মিশ্রণ বা অ্যামালগাম ব্যবহার করা হতো। তবে আধুনিক আয়না তৈরিতে সাধারণত রূপা (Silver) অথবা অ্যালুমিনিয়াম (Aluminium)-এর পাতলা প্রতিফলক প্রলেপ ব্যবহার করা হয়।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ দর্পণ বা আয়না (Mirror): যে মসৃণ পৃষ্ঠে আলো নিয়মিতভাবে প্রতিফলিত হয়ে বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি করে, তাকে দর্পণ বা আয়না বলে।
সাধারণ কাচের আয়না তৈরির জন্য কাচের এক পাশে অত্যন্ত পাতলা ধাতব প্রতিফলক প্রলেপ দেওয়া হয়। এই প্রলেপের সাহায্যে আলো প্রতিফলিত হয়ে পর্যবেক্ষকের চোখে ফিরে আসে।
➤ আয়না আলোর প্রতিফলন নীতিতে কাজ করে।
➤ আয়নায় সাধারণত মসৃণ প্রতিফলক পৃষ্ঠ থাকে।
➤ কাচের পেছনে প্রতিফলক ধাতব প্রলেপ দেওয়া হয়।
➤ ধাতব প্রলেপ আলোকে প্রতিফলিত করে।
➤ প্রতিফলিত আলোর মাধ্যমে বস্তুর প্রতিবিম্ব দেখা যায়।
❖ আয়নার পেছনে মার্কারি ব্যবহারের ইতিহাস: প্রাচীন ও মধ্যযুগের বিভিন্ন সময়ে পালিশ করা ধাতব পৃষ্ঠ দিয়ে আয়না তৈরি করা হতো। পরে কাচের পেছনে ধাতব প্রলেপ ব্যবহার করে উন্নত আয়না তৈরি শুরু হয়।
বিশেষ করে ইউরোপে ষোড়শ শতাব্দী থেকে টিন ও পারদের মিশ্রণে তৈরি প্রতিফলক প্রলেপ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।
এই পদ্ধতিতে—
➤ প্রথমে সমতল কাচ প্রস্তুত করা হতো।
➤ কাচের পেছনের অংশে টিনের পাত ব্যবহার করা হতো।
➤ টিনের সঙ্গে পারদ প্রয়োগ করা হতো।
➤ পারদ ও টিনের সংমিশ্রণে অ্যামালগাম তৈরি হতো।
➤ এই ধাতব স্তর আয়নার প্রতিফলক পৃষ্ঠ হিসেবে কাজ করত।
➤ ফলে কাচের সামনের দিক থেকে বস্তুটির প্রতিবিম্ব দেখা যেত।
এই ঐতিহাসিক পদ্ধতির কারণেই সাধারণ জ্ঞান ও পুরোনো চাকরির পরীক্ষায় আয়নার পেছনে ব্যবহৃত ধাতু হিসেবে মার্কারি বা পারদ উল্লেখ করা হয়।
স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের সংরক্ষণবিষয়ক গবেষণাতেও টিন-পারদ অ্যামালগামযুক্ত প্রাচীন আয়নার নির্মাণপদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।
❖ অ্যামালগাম (Amalgam): পারদের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতুর সংমিশ্রণে তৈরি সংকর পদার্থকে অ্যামালগাম বলে।
পুরোনো আয়নায় টিন-পারদ অ্যামালগাম ব্যবহার করা হতো।
➤ পারদের রাসায়নিক প্রতীক = Hg।
➤ টিনের রাসায়নিক প্রতীক = Sn।
➤ পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল ধাতু।
➤ টিন-পারদ অ্যামালগাম অতীতে প্রতিফলক প্রলেপ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
➤ পারদ বিষাক্ত হওয়ায় এই পদ্ধতি আধুনিক আয়না তৈরিতে পরিত্যক্ত হয়েছে।
❖ আধুনিক আয়না তৈরির পদ্ধতি (Modern Mirror Manufacturing): আধুনিক কাচের আয়নায় সাধারণত রূপা অথবা অ্যালুমিনিয়ামের অত্যন্ত পাতলা প্রলেপ ব্যবহার করা হয়।
রূপার প্রলেপযুক্ত আয়না:
➤ প্রথমে কাচের পৃষ্ঠ পরিষ্কার করা হয়।
➤ কাচের এক পাশে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় রূপার পাতলা স্তর তৈরি করা হয়।
➤ রূপার স্তর আলো প্রতিফলিত করে।
➤ ধাতব স্তরকে ক্ষয় ও আর্দ্রতা থেকে রক্ষার জন্য সুরক্ষামূলক আবরণ দেওয়া হয়।
অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপযুক্ত আয়না:
➤ বিশেষ প্রক্রিয়ায় কাচের ওপর অ্যালুমিনিয়ামের পাতলা স্তর তৈরি করা হয়।
➤ ভ্যাকুয়াম ডিপোজিশন পদ্ধতিতে অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ দেওয়া সম্ভব।
➤ অ্যালুমিনিয়াম দৃশ্যমান আলো ভালোভাবে প্রতিফলিত করতে পারে।
➤ বিভিন্ন অপটিক্যাল যন্ত্র ও দর্পণে অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ ব্যবহার করা হয়।
ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের Office for Science and Society অনুযায়ী, আধুনিক কাচের আয়নায় রূপা ও অ্যালুমিনিয়াম উভয় ধাতুই ব্যবহৃত হয়।
✦ আয়নার পেছনে ব্যবহৃত ধাতুর তুলনা:
❖ সিলভারিং (Silvering): আয়না তৈরির উদ্দেশ্যে কাচের পৃষ্ঠে প্রতিফলক ধাতব প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রচলিতভাবে সিলভারিং বলে।
বিশেষ করে রূপার প্রলেপ তৈরির রাসায়নিক পদ্ধতিকে সিলভারিং বলা হয়। তবে সব ধাতব প্রলেপের উৎপাদনপদ্ধতি একই নয়।
❖ আয়না কীভাবে প্রতিবিম্ব তৈরি করে? কোনো বস্তু থেকে আলো আয়নার প্রতিফলক পৃষ্ঠে আপতিত হলে প্রতিফলনের নিয়ম অনুযায়ী ফিরে আসে। প্রতিফলিত আলোকরশ্মি চোখে প্রবেশ করলে বস্তুটির প্রতিবিম্ব দেখা যায়।
আলোর প্রতিফলনের দুটি প্রধান সূত্র:
➤ আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি ও আপতনবিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে অবস্থান করে।
➤ আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান।
অর্থাৎ,
∠i = ∠r
এখানে,
➤ i = আপতন কোণ।
➤ r = প্রতিফলন কোণ।
❖ নিয়মিত প্রতিফলন (Regular Reflection): সমান্তরাল আলোকরশ্মি কোনো মসৃণ পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে প্রতিফলনের পরও সমান্তরাল থাকলে তাকে নিয়মিত প্রতিফলন বলে।
আয়নার মসৃণ প্রতিফলক পৃষ্ঠে এই ধরনের প্রতিফলন ঘটে।
✦ সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্য:
❖ প্রতিবিম্ব অসদ বা অবাস্তব (Virtual) হয়।
❖ প্রতিবিম্ব সোজা (Erect) হয়।
❖ প্রতিবিম্বের আকার বস্তুর সমান হয়।
❖ প্রতিবিম্ব দর্পণের পেছনে গঠিত বলে মনে হয়।
❖ দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব এবং দর্পণ থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব সমান।
❖ প্রতিবিম্বে পার্শ্বীয় পরিবর্তন (Lateral Inversion) ঘটে।
❖ সমতল দর্পণের রৈখিক বিবর্ধন = +১।
✦ গাণিতিক উদাহরণ:
❖ প্রশ্ন: একটি বস্তু সমতল দর্পণের সামনে ৫ মিটার দূরে রাখা হয়েছে। দর্পণ থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব কত?
আমরা জানি,
➤ সমতল দর্পণে বস্তুর দূরত্ব = প্রতিবিম্বের দূরত্বের পরম মান।
এখানে,
➤ বস্তুর দূরত্ব = ৫ মিটার।
সুতরাং,
➤ প্রতিবিম্বের দূরত্ব = ৫ মিটার।
অতএব, প্রতিবিম্বটি দর্পণের পেছনে ৫ মিটার দূরে অবস্থিত বলে মনে হবে।
বস্তু ও প্রতিবিম্বের মধ্যবর্তী দূরত্ব—
➤ = ৫ + ৫
➤ = ১০ মিটার।
অতএব, বস্তু ও প্রতিবিম্বের মধ্যবর্তী দূরত্ব হবে ১০ মিটার।
✦ মূল ব্যাখ্যার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-সংশোধনী:
❖ “বর্তমানের সব আয়নায় মার্কারি ব্যবহার করা হয়”—এ বক্তব্য ভুল। মার্কারি মূলত প্রাচীন টিন-পারদ অ্যামালগাম আয়নার সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ “আয়নার পেছনে শুধু অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করা হয়”—এটিও সঠিক নয়। আধুনিক আয়নায় রূপার প্রলেপও ব্যবহৃত হয়।
❖ “আয়নার পেছনে পারদ ও রূপা একই ধরনের প্রলেপ”—এ ধারণা ভুল। ঐতিহাসিক টিন-পারদ অ্যামালগাম এবং আধুনিক রূপার প্রলেপের রাসায়নিক গঠন ও নির্মাণপদ্ধতি আলাদা।
❖ “সিলভারিং মানেই মার্কারির প্রলেপ দেওয়া”—এটিও সঠিক নয়। সিলভারিং সাধারণত রূপার প্রতিফলক স্তর তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের Pitt Rivers Museum-এর প্রকাশনায় আধুনিক কাচের আয়নায় অ্যালুমিনিয়াম অথবা রূপার পাতলা ধাতব স্তর ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়।
❖ তাই প্রশ্নটিতে গ. মার্কারি প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর হলেও ক. অ্যালুমিনিয়ামও আধুনিক প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য। প্রশ্নে কোন সময়ের আয়না বোঝানো হয়েছে তা উল্লেখ না থাকায় বিকল্পগুলো পুরোপুরি দ্ব্যর্থহীন নয়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. অ্যালুমিনিয়াম ⇒ আধুনিক প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে সঠিক, তবে পরীক্ষার প্রত্যাশিত উত্তর নয়। অ্যালুমিনিয়াম ভালো আলোক প্রতিফলক এবং আধুনিক আয়নায় এর পাতলা প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। তাই অ্যালুমিনিয়ামকে ভুল ধাতু বলা যাবে না।
❖ খ. জিংক ⇒ ভুল। জিংক বা দস্তা প্রধানত লোহা ও ইস্পাতকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যালভানাইজিংয়ে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ কাচের আয়নার প্রধান প্রতিফলক স্তর হিসেবে জিংক ব্যবহৃত হয় না।
❖ গ. মার্কারি ⇒ পরীক্ষাভিত্তিক সঠিক। ঐতিহাসিকভাবে আয়নার পেছনে টিন ও পারদের অ্যামালগাম ব্যবহার করা হতো। এই কারণে পুরোনো সাধারণ বিজ্ঞান ও চাকরির পরীক্ষায় মার্কারিকে সঠিক উত্তর হিসেবে ধরা হয়। এটিই প্রচলিত প্রশ্নসমাধান অনুযায়ী সঠিক উত্তর।
❖ ঘ. কপার ⇒ ভুল। কপার বা তামা কিছু আয়নার প্রতিফলক স্তরের পেছনে অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক আবরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সাধারণ কাচের আয়নার প্রধান প্রতিফলক ধাতু হিসেবে কপার প্রচলিত নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
❖ আয়নার পেছনে ব্যবহৃত ধাতুর এই প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর—মার্কারি (পারদ)।
❖ পারদের ইংরেজি নাম—Mercury।
❖ পারদের রাসায়নিক প্রতীক—Hg।
❖ পারদের পারমাণবিক সংখ্যা—৮০।
❖ টিনের রাসায়নিক প্রতীক—Sn।
❖ রূপার রাসায়নিক প্রতীক—Ag।
❖ অ্যালুমিনিয়ামের রাসায়নিক প্রতীক—Al।
❖ তামার রাসায়নিক প্রতীক—Cu।
❖ জিংকের রাসায়নিক প্রতীক—Zn।
❖ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল ধাতু—পারদ।
❖ প্রাচীন আয়নায় ব্যবহৃত সংকর প্রতিফলক—টিন-পারদ অ্যামালগাম।
❖ অ্যামালগাম হলো—পারদের সঙ্গে অন্য ধাতুর সংকর।
❖ আধুনিক কাচের আয়নায় ব্যবহৃত প্রতিফলক ধাতু—রূপা অথবা অ্যালুমিনিয়াম।
❖ কাচের পেছনে রূপার প্রলেপ তৈরির পদ্ধতি—সিলভারিং।
❖ আয়না কাজ করে—আলোর প্রতিফলন নীতিতে।
❖ প্রতিফলনের সূত্র—আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ।
❖ সমতল দর্পণের প্রতিবিম্ব—অসদ, সোজা ও সমান আকারের।
❖ সমতল দর্পণের বিবর্ধন—+১।
❖ সমতল দর্পণের প্রতিবিম্বে ঘটে—পার্শ্বীয় পরিবর্তন।
❖ সমতল দর্পণে বস্তুর দূরত্ব ও প্রতিবিম্বের দূরত্বের পরম মান—সমান।
❖ গাড়ির সাইড বা রিয়ারভিউ মিররে সাধারণত ব্যবহৃত হয়—উত্তল দর্পণ।
❖ দাঁতের চিকিৎসায় বড় প্রতিবিম্ব দেখার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে—অবতল দর্পণ।
❖ শেভিং বা মেকআপ মিররে বড় প্রতিবিম্ব পাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়—অবতল দর্পণ।
❖ টর্চলাইট ও গাড়ির হেডলাইটের প্রতিফলকে ব্যবহৃত হয়—অবতল বা প্যারাবলিক প্রতিফলক।
❖ গ্যালভানাইজিংয়ে ব্যবহৃত ধাতু—জিংক।
❖ ঐতিহাসিক টিন-পারদ আয়নার ব্যবহার কমে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ—পারদের বিষাক্ততা।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৪. চেহারা দেখার জন্য যে দর্পণটি ব্যবহার করা হয়ে সেটি হলো একটি— (বিপিএসসির জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর: ২৩)

ক

উত্তল দর্পণ

খ

অবতল দর্পণ

গ

সমতল দর্পণ

ঘ

গোলতল দর্পণ

✅ সঠিক উত্তর:গ. সমতল দর্পণ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: সমতল দর্পণ
✦ অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ দৈনন্দিন চেহারা দেখার আয়না সাধারণত সমতল দর্পণ (plane mirror)। এতে তৈরি প্রতিবিম্ব সোজা, কাল্পনিক, বস্তুর সমান আকারের এবং দর্পণের পেছনে সমদূরত্বে অবস্থান করছে বলে মনে হয়।
➤ সমতল দর্পণে linear magnification = +1।
➤ প্রতিবিম্বে lateral inversion বা পার্শ্ববিপরীততা দেখা যায়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ উত্তল দর্পণ ⇒ বেশি ক্ষেত্র দেখায় কিন্তু প্রতিবিম্ব ছোট করে; rear-view mirror-এ উপযোগী।
❖ অবতল দর্পণ ⇒ মুখ খুব কাছে রাখলে বড় ও সোজা প্রতিবিম্ব দেয়; shaving/makeup mirror-এ ব্যবহৃত হতে পারে, কিন্তু সাধারণ চেহারা দেখার আয়না নয়।
❖ সমতল দর্পণ ⇒ সঠিক।
❖ গোলতল দর্পণ ⇒ গোলীয় দর্পণ একটি বৃহৎ শ্রেণি; এতে অবতল ও উত্তল দর্পণ অন্তর্ভুক্ত।
04
🎯 Level 1

০৬. আয়নায় প্রতিফলিত হলে কোন শব্দটির পরিবর্তন হবে না? (খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব: ১৯)

ক

OAI

খ

NOON

গ

SOS

ঘ

OTTO

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. OTTO

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: OTTO
✦ অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ সমতল আয়নায় lateral inversion ঘটে। কোনো ইংরেজি শব্দ আয়নায় একেবারে অপরিবর্তিত দেখাতে হলে শুধু palindrome হলেই যথেষ্ট নয়; শব্দের প্রতিটি অক্ষরকেও vertical axis-এর প্রতি mirror-symmetric হতে হবে।
❖ OTTO-তে O ও T উভয় অক্ষর vertical mirror symmetry প্রদর্শন করে এবং শব্দটিও palindrome। ফলে এর আয়না-প্রতিবিম্ব একই রূপে পড়া যায়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ OAI ⇒ palindrome নয় এবং সব অক্ষরও vertical-mirror symmetric নয়।
❖ NOON ⇒ palindrome হলেও N-এর mirror image স্বাভাবিক N নয়।
❖ SOS ⇒ palindrome হলেও S vertical mirror-symmetric নয়।
❖ OTTO ⇒ সঠিক।
05
🎯 Level 1

০৮. নাক, কান ও গলার ভিতরের অংশ পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়— (পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার: ৯৪)

ক

সমতল দর্পণ

খ

অবতল দর্পণ

গ

উত্তল দর্পণ

ঘ

ক ও গ উভয়ই

✅ সঠিক উত্তর:খ. অবতল দর্পণ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: অবতল দর্পণ
✦ অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ঐতিহ্যগত ENT examination-এ physician’s head mirror একটি গোলাকার অবতল দর্পণ। এটি আলোক উৎসের আলোকে রোগীর কান, নাক বা গলার নির্দিষ্ট অংশে কেন্দ্রীভূত করে উজ্জ্বল ও প্রায় shadow-free illumination দেয়।
❖ অবতল দর্পণ আলোকরশ্মিকে অভিসারী করতে পারে—এটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ সমতল দর্পণ ⇒ আলো প্রতিফলিত করে, কিন্তু একইভাবে concentrate করতে পারে না।
❖ অবতল দর্পণ ⇒ সঠিক।
❖ উত্তল দর্পণ ⇒ আলো ছড়িয়ে দেয়; বিস্তৃত field দেয়, কিন্তু illumination concentrate করে না।
❖ ক ও গ উভয়ই ⇒ ভুল।
Advertisement
06
🎯 Level 1

১১. আতশী কাঁচে কোন ধরনের লেন্স ব্যবহৃত হয়? (কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর: ২২)

ক

অবতল

খ

উত্তল

গ

জুম

ঘ

কোনোটিই নয়

✅ সঠিক উত্তর:খ. উত্তল

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: উত্তল লেন্স
✦ অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ আতশী কাঁচ বা magnifying glass একটি উত্তল/অভিসারী lens। বস্তুটিকে focal length-এর ভেতরে রাখলে lens একটি কাল্পনিক, সোজা ও বিবর্ধিত image তৈরি করে।
❖ একই principle microscope-এর eyepiece-এও ব্যবহৃত হয়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ অবতল ⇒ সাধারণত সোজা কিন্তু খর্বিত image দেয়।
❖ উত্তল ⇒ সঠিক।
❖ জুম ⇒ বহু-element lens system; magnifying glass-এর সাধারণ উত্তর নয়।
❖ কোনোটিই নয় ⇒ ভুল।
07
🎯 Level 1

১৩. ডুবোজাহাজ হতে পানির উপরে কোন বস্তু দেখার জন্য কোন আলোক যন্ত্র ব্যবহৃত হয়? / পানির নিচ থেকে পানির উপরের কোনো বস্তু দেখার জন্য কোন আলোক যন্ত্র ব্যবহৃত হয়? (নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন অফিসার: ০৪)

ক

টেলিস্কোপ

খ

পেরিস্কোপ

গ

মাইক্রোস্কোপ

ঘ

বাইনোকুলার

✅ সঠিক উত্তর:খ. পেরিস্কোপ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: পেরিস্কোপ
✦ অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ পেরিস্কোপ (Periscope) এমন optical instrument যা কোনো বাধা, দেয়াল বা পানির পৃষ্ঠের ওপারের দৃশ্য সরাসরি মাথা/চোখ উঁচু না করেও দেখতে সাহায্য করে।
❖ সাবমেরিনে ঐতিহ্যগত periscope পানির নিচে থাকা observer-কে সমুদ্রপৃষ্ঠের দৃশ্য দেখায়। সাধারণ model-এ দুইটি plane mirror প্রায় ৪৫° কোণে বসানো থাকে; উন্নত ব্যবস্থায় prism ব্যবহার হতে পারে।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ টেলিস্কোপ ⇒ দূরবর্তী বস্তু বড়/স্পষ্ট করে; বাধার ওপরে দেখার জন্য বিশেষভাবে তৈরি নয়।
❖ পেরিস্কোপ ⇒ সঠিক।
❖ মাইক্রোস্কোপ ⇒ অতি ক্ষুদ্র বস্তু পর্যবেক্ষণ করে।
❖ বাইনোকুলার ⇒ দূরবর্তী বস্তু দুই চোখে বড় করে দেখার যন্ত্র।
08
🎯 Level 1

১৫. পেরিস্কোপ কোন নীতির উপর তৈরি হয়? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ০৬)

ক

প্রতিফলন ও ব্যতিচার

খ

প্রতিসরণ

গ

প্রতিফলন

ঘ

অপবর্তন

✅ সঠিক উত্তর:গ. প্রতিফলন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: প্রতিফলন (Reflection of Light)।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ পেরিস্কোপ (Periscope): পেরিস্কোপ হলো এমন একটি আলোকযন্ত্র, যার সাহায্যে কোনো প্রতিবন্ধকের আড়াল থেকে বা সরাসরি চোখে দেখা যায় না এমন অবস্থান থেকে দূরের বস্তু পর্যবেক্ষণ করা যায়।
পেরিস্কোপ প্রধানত আলোর প্রতিফলন নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। সাধারণ পেরিস্কোপে দুটি সমতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়। দর্পণ দুটি সাধারণত ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়, যাতে বস্তু থেকে আসা আলোকরশ্মি প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে পুনরায় প্রতিফলিত হয়ে পর্যবেক্ষকের চোখে প্রবেশ করে।
পেরিস্কোপের প্রধান বৈশিষ্ট্য:
➤ এটি একটি আলোকযন্ত্র (Optical Instrument)।
➤ এর মূল কার্যনীতি আলোর প্রতিফলন।
➤ সাধারণ পেরিস্কোপে দুটি সমতল দর্পণ থাকে।
➤ দর্পণ দুটি সাধারণত ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়।
➤ আলো দুটি দর্পণে ক্রমান্বয়ে প্রতিফলিত হয়।
➤ এটি ব্যবহার করে প্রতিবন্ধকের আড়ালের বস্তু দেখা যায়।
➤ সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজে পেরিস্কোপের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে।
❖ আলোর প্রতিফলন (Reflection of Light): আলো কোনো পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে পুনরায় পূর্বের মাধ্যমে ফিরে এলে তাকে আলোর প্রতিফলন বলে।
উদাহরণ—
➤ সমতল আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখা।
➤ গাড়ির সাইড মিররে পেছনের দৃশ্য দেখা।
➤ পেরিস্কোপে প্রতিবন্ধকের আড়ালের বস্তু দেখা।
➤ প্রতিফলকযুক্ত টর্চলাইটে আলো নির্দিষ্ট দিকে পাঠানো।
❖ আলোর প্রতিফলনের দুটি সূত্র:
প্রথম সূত্র: আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতনবিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে অবস্থান করে।
দ্বিতীয় সূত্র: আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান।
অর্থাৎ,
➤ ∠i = ∠r
এখানে,
➤ i = আপতন কোণ (Angle of Incidence)।
➤ r = প্রতিফলন কোণ (Angle of Reflection)।
এই সূত্রগুলো অনুসরণ করেই সাধারণ পেরিস্কোপের দর্পণগুলো আলোর গতিপথ পরিবর্তন করে।
❖ পেরিস্কোপের গঠন (Construction of Periscope): একটি সাধারণ পেরিস্কোপের প্রধান অংশ হলো দুটি সমতল দর্পণ এবং একটি লম্বা ফাঁপা নল।
প্রথম দর্পণটি নলের ওপরের প্রান্তে এবং দ্বিতীয় দর্পণটি নিচের প্রান্তে স্থাপন করা হয়। দর্পণ দুটি পরস্পর সমান্তরাল থাকে এবং নলের দৈর্ঘ্য বরাবর দিকের সঙ্গে ৪৫° কোণ তৈরি করে।
এই বিন্যাসের ফলে আলোকরশ্মি দুবার প্রতিফলিত হয়ে পর্যবেক্ষকের চোখে পৌঁছায়।
❖ পেরিস্কোপের কার্যপদ্ধতি (Working Principle):
➤ প্রথমে কোনো বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলো পেরিস্কোপের ওপরের অংশে প্রবেশ করে।
➤ আলোকরশ্মি ওপরের সমতল দর্পণে আপতিত হয়।
➤ প্রথম দর্পণ আলোকরশ্মিকে প্রতিফলিত করে নিচের দিকে পাঠায়।
➤ আলোকরশ্মি নিচের দ্বিতীয় সমতল দর্পণে পৌঁছায়।
➤ দ্বিতীয় দর্পণ আলোকরশ্মিকে পুনরায় প্রতিফলিত করে পর্যবেক্ষকের চোখের দিকে পাঠায়।
➤ প্রতিফলিত আলো চোখে প্রবেশ করলে পর্যবেক্ষক প্রতিবন্ধকের আড়ালের বস্তু দেখতে পান।
অর্থাৎ, পেরিস্কোপে আলোর পরপর দুটি প্রতিফলনের মাধ্যমে বস্তুর দৃশ্য পর্যবেক্ষকের চোখে পৌঁছায়।
পেরিস্কোপে আলোকরশ্মি প্রথম ও দ্বিতীয় দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে পর্যবেক্ষকের চোখে পৌঁছায়—ধারণামূলক চিত্র।
❖ পেরিস্কোপে দর্পণ ৪৫° কোণে রাখা হয় কেন? সমতল দর্পণকে আলোকরশ্মির গতিপথের সঙ্গে ৪৫° কোণে স্থাপন করলে আপতন কোণ এবং প্রতিফলন কোণ উভয়ই ৪৫° হয়।
ফলে প্রতিফলিত আলোকরশ্মির গতিপথ ৯০° পরিবর্তিত হয়।
➤ প্রথম দর্পণে আলো অনুভূমিক দিক থেকে উল্লম্ব দিকে যায়।
➤ দ্বিতীয় দর্পণে আলো উল্লম্ব দিক থেকে আবার অনুভূমিক দিকে যায়।
➤ ফলে বস্তু থেকে আসা আলো পর্যবেক্ষকের চোখে পৌঁছায়।
এটি সাধারণ পেরিস্কোপে আলোর প্রতিফলন সূত্র প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
✦ পেরিস্কোপের প্রকারভেদ:
❖ সাধারণ পেরিস্কোপ (Simple Periscope): দুটি সমতল দর্পণের সাহায্যে তৈরি করা হয়। এটি আলোর প্রতিফলনের নীতিতে কাজ করে।
❖ প্রিজমযুক্ত পেরিস্কোপ (Prism Periscope): এতে দর্পণের পরিবর্তে বা দর্পণের সঙ্গে প্রিজম ব্যবহার করা হতে পারে। প্রিজমের অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের সাহায্যে আলোর দিক পরিবর্তন করা যায়।
❖ আধুনিক সাবমেরিন পেরিস্কোপ: উন্নত ব্যবস্থায় প্রিজম, লেন্স, ক্যামেরা সেন্সর এবং অন্যান্য অপটিক্যাল অংশ থাকতে পারে। আধুনিক অনেক সাবমেরিনে প্রচলিত পেরিস্কোপের পাশাপাশি বা পরিবর্তে অপট্রনিক মাস্ট (Optronic Mast) ব্যবহৃত হয়।
✦ পেরিস্কোপের ব্যবহার:
❖ সাবমেরিনে: পানির নিচে থাকা অবস্থায় পানির ওপরের জাহাজ, উপকূল বা অন্যান্য বস্তু পর্যবেক্ষণ করতে।
❖ সামরিক ক্ষেত্রে: নিরাপদ আড়াল থেকে আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে।
❖ প্রতিবন্ধকের আড়ালে: দেয়াল, উঁচু বাধা বা ভিড়ের ওপর দিয়ে কোনো বস্তু দেখতে।
❖ শিক্ষামূলক পরীক্ষায়: আলোর প্রতিফলন ও সমতল দর্পণের ব্যবহার প্রদর্শন করতে।
✦ গাণিতিক সমাধান:
❖ প্রশ্ন: একটি সাধারণ পেরিস্কোপে আলোকরশ্মি ৪৫° আপতন কোণে দর্পণে পড়ে। প্রতিফলন কোণ কত হবে?
আমরা জানি,
➤ আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ।
➤ i = r
এখানে,
➤ i = ৪৫°।
সুতরাং,
➤ r = ৪৫°।
অতএব, প্রতিফলন কোণ হবে ৪৫°।
❖ প্রশ্ন: একটি পেরিস্কোপে আলোকরশ্মি প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে ৯০° দিক পরিবর্তন করে এবং দ্বিতীয় দর্পণে আবার ৯০° দিক পরিবর্তন করে। প্রতিটি দর্পণে আপতন কোণ কত?
একটি সমতল দর্পণে আলোকরশ্মির দিক পরিবর্তনের কোণ δ হলে,
➤ δ = ১৮০° − ২i
এখানে,
➤ δ = ৯০°।
সুতরাং,
➤ ৯০° = ১৮০° − ২i
➤ ২i = ৯০°
➤ i = ৪৫°।
অতএব, প্রতিটি দর্পণে আপতন কোণ ৪৫°।
✦ মূল ব্যাখ্যার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-সংশোধনী:
❖ “পেরিস্কোপ প্রতিসরণের নীতিতে তৈরি হয়”—এটি সাধারণ পেরিস্কোপের ক্ষেত্রে সঠিক নয়। সাধারণ পেরিস্কোপে দুটি সমতল দর্পণে আলোর প্রতিফলন ঘটে।
❖ “পেরিস্কোপ প্রতিফলন ও ব্যতিচারের নীতিতে কাজ করে”—এটিও ভুল। সাধারণ পেরিস্কোপে আলোর ব্যতিচার প্রয়োজন হয় না।
❖ “সব ধরনের পেরিস্কোপে অবশ্যই দুটি সমতল দর্পণ থাকে”—এমন বক্তব্যও সঠিক নয়। উন্নত পেরিস্কোপে প্রিজম, লেন্স ও অন্যান্য অপটিক্যাল অংশ থাকতে পারে।
❖ “প্রিজমযুক্ত পেরিস্কোপে শুধু প্রতিসরণ ঘটে”—এটি অসম্পূর্ণ। প্রিজমে প্রবেশ ও নির্গমনের সময় প্রতিসরণ এবং অভ্যন্তরে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে পারে।
❖ প্রশ্নের সংশোধিত বিকল্প অনুযায়ী গ. প্রতিফলন দ্ব্যর্থহীনভাবে সঠিক। Science in School-এর প্রকাশিত শিক্ষামূলক নিবন্ধেও সাধারণ পেরিস্কোপকে আলোর প্রতিফলনের সূত্র প্রদর্শনকারী যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. প্রতিফলন ও ব্যতিচার ⇒ ভুল। প্রতিফলন পেরিস্কোপের কার্যনীতির অন্তর্ভুক্ত হলেও ব্যতিচার (Interference) এর প্রয়োজনীয় নীতি নয়। ব্যতিচার হলো দুটি সুসংগত আলোকতরঙ্গের উপরিপাতনের ফলে আলোর তীব্রতার বিন্যাস সৃষ্টি হওয়ার ঘটনা।
❖ খ. প্রতিসরণ ⇒ ভুল। প্রতিসরণ (Refraction) হলো আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রবেশ করলে বেগ পরিবর্তনের কারণে সাধারণত দিক পরিবর্তনের ঘটনা। সাধারণ পেরিস্কোপের মূল কাজ আলোর প্রতিফলনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
❖ গ. প্রতিফলন ⇒ সঠিক। সাধারণ পেরিস্কোপে দুটি সমতল দর্পণের মাধ্যমে আলোকরশ্মি দুবার প্রতিফলিত হয়ে পর্যবেক্ষকের চোখে পৌঁছায়। এটিই সঠিক উত্তর।
❖ ঘ. অপবর্তন ⇒ ভুল। অপবর্তন (Diffraction) হলো কোনো প্রতিবন্ধকের ধার বা ক্ষুদ্র ছিদ্রের কাছ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তরঙ্গের ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা। এটি পেরিস্কোপের মূল কার্যনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
❖ পেরিস্কোপের মূল কার্যনীতি—আলোর প্রতিফলন।
❖ পেরিস্কোপের ইংরেজি—Periscope।
❖ সাধারণ পেরিস্কোপে দর্পণের সংখ্যা—২টি।
❖ সাধারণ পেরিস্কোপে ব্যবহৃত দর্পণ—সমতল দর্পণ।
❖ পেরিস্কোপে দর্পণ স্থাপনের প্রচলিত কোণ—৪৫°।
❖ পেরিস্কোপের প্রতিটি দর্পণে আলোর দিক পরিবর্তন—৯০°।
❖ আলোর প্রতিফলনের সূত্র—আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ।
❖ প্রতিফলনের ইংরেজি—Reflection।
❖ প্রতিসরণের ইংরেজি—Refraction।
❖ ব্যতিচারের ইংরেজি—Interference।
❖ অপবর্তনের ইংরেজি—Diffraction।
❖ পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ইংরেজি—Total Internal Reflection।
❖ প্রিজমযুক্ত পেরিস্কোপে ব্যবহৃত হতে পারে—পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন।
❖ সাবমেরিনে পানির ওপরের দৃশ্য পর্যবেক্ষণের ঐতিহ্যবাহী যন্ত্র—পেরিস্কোপ।
❖ গাড়ির প্রচলিত হেডলাইটে ব্যবহৃত দর্পণ—অবতল দর্পণ।
❖ গাড়ির সাইড মিররে ব্যবহৃত দর্পণ—উত্তল দর্পণ।
❖ সাধারণ আয়নায় ব্যবহৃত দর্পণ—সমতল দর্পণ।
❖ অপটিক্যাল ফাইবারের মূল আলোকীয় নীতি—পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন।
❖ ম্যাগনিফাইং গ্লাসের প্রধান আলোকীয় নীতি—প্রতিসরণ।
❖ পেরিস্কোপ ও অপটিক্যাল ফাইবার উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিফলন গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের গঠন ও ব্যবহৃত প্রতিফলনের ধরন ভিন্ন হতে পারে।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: গ. প্রতিফলন। কারণ সাধারণ পেরিস্কোপে ৪৫° কোণে স্থাপিত দুটি সমতল দর্পণে আলোর ধারাবাহিক প্রতিফলনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধকের আড়ালের বস্তুর দৃশ্য পর্যবেক্ষকের চোখে পৌঁছায়।
Advertisement
09
🎯 Level 1

১৯. অণুবীক্ষণ যন্ত্র কে আবিষ্কার করেন? (বিআরডিবি’র সহকারী পরিচালক: ৯৫)

ক

আলেকজান্ডার ফ্লেমিং

খ

ভ্যান লিউয়েন হুক

গ

রবার্ট হুক

ঘ

উপরের কেউ নয়

✅ সঠিক উত্তর:খ. ভ্যান লিউয়েন হুক

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ পরীক্ষাভিত্তিক সঠিক উত্তর: ভ্যান লিউয়েন হুক (Antonie van Leeuwenhoek)।
◈ গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য: ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েন হুক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের উন্নয়ন এবং অণুজীব পর্যবেক্ষণের জন্য বিখ্যাত। তাঁকে অণুজীববিজ্ঞানের জনক (Father of Microbiology) বলা হয়।
তবে ঐতিহাসিকভাবে প্রথম যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Compound Microscope) উদ্ভাবনের কৃতিত্ব সাধারণত হ্যান্স জানসেন ও জাকারিয়াস জানসেন (Hans and Zacharias Janssen)-কে দেওয়া হয়। তাঁদের উদ্ভাবনের প্রচলিত সময় প্রায় ১৫৯০–১৫৯৫ সাল। যদিও প্রথম আবিষ্কারকের পরিচয় নিয়ে ঐতিহাসিক অনিশ্চয়তা রয়েছে।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Microscope): যে আলোকীয় বা বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের সাহায্যে খালি চোখে দেখা যায় না এমন অতি ক্ষুদ্র বস্তু বা জীবকে বড় করে পর্যবেক্ষণ করা যায়, তাকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে কোষ, ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র জীব, রক্তকণিকা এবং বিভিন্ন পদার্থের সূক্ষ্ম গঠন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য:
➤ অত্যন্ত ক্ষুদ্র বস্তুকে বড় করে দেখায়।
➤ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে লেন্সের সাহায্যে প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।
➤ সাধারণ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের কার্যনীতি আলোর প্রতিসরণের ওপর নির্ভরশীল।
➤ জীববিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
➤ উন্নত অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে কোষ ও অণুজীবের সূক্ষ্ম গঠন সম্পর্কে জানা যায়।
❖ ভ্যান লিউয়েন হুক (Antonie van Leeuwenhoek): ভ্যান লিউয়েন হুক ছিলেন নেদারল্যান্ডসের একজন বিখ্যাত অণুবীক্ষণবিদ ও অণুজীব পর্যবেক্ষণের অগ্রদূত।
তিনি ১৬৩২ সালে নেদারল্যান্ডসের ডেলফট শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান:
➤ উচ্চমানের ক্ষুদ্র লেন্স তৈরি করেন।
➤ এক লেন্সবিশিষ্ট উন্নত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র নির্মাণ করেন।
➤ অতি ক্ষুদ্র জীব পর্যবেক্ষণে অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করেন।
➤ ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়ার মতো অণুজীব পর্যবেক্ষণ ও বর্ণনা করেন।
➤ রক্তকণিকা, শুক্রাণু ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জৈবিক কাঠামো পর্যবেক্ষণ করেন।
➤ অণুজীববিজ্ঞানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
তাঁর তৈরি কিছু সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৎকালীন অনেক যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের তুলনায় অধিক স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি করতে সক্ষম ছিল।
❖ ভ্যান লিউয়েন হুককে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয় কেন?
কারণ, তিনি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র জীবের এমন এক জগৎ পর্যবেক্ষণ করেন, যা আগে মানুষের কাছে প্রায় অজানা ছিল।
তিনি জল ও অন্যান্য নমুনায় ক্ষুদ্র জীব দেখতে পান এবং সেগুলোর গঠন ও গতিবিধি সম্পর্কে বিবরণ দেন।
তাঁর পর্যবেক্ষণ অণুজীববিজ্ঞান বা Microbiology-এর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
তাই পরীক্ষার জন্য দুটি তথ্য আলাদাভাবে মনে রাখতে হবে:
➤ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের উন্নয়ন ও অণুজীব পর্যবেক্ষণে বিখ্যাত — ভ্যান লিউয়েন হুক।
➤ প্রথম যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র উদ্ভাবনের প্রচলিত কৃতিত্ব — হ্যান্স ও জাকারিয়াস জানসেন।
✦ অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের ইতিহাস:
অণুবীক্ষণ যন্ত্র কোনো একজন বিজ্ঞানীর একক প্রচেষ্টায় বর্তমান অবস্থায় পৌঁছায়নি। বিভিন্ন সময়ে একাধিক বিজ্ঞানী এর উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও বৈজ্ঞানিক ব্যবহারে অবদান রেখেছেন।
নোবেল পুরস্কারের শিক্ষামূলক ইতিহাসবিষয়ক উপকরণেও জানসেন পরিবারের প্রাথমিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র, রবার্ট হুকের পর্যবেক্ষণ এবং লিউয়েন হুকের উন্নত যন্ত্রের অবদান আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
✦ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রধান প্রকারভেদ:
❖ ১. সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Simple Microscope): যে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে মূল বিবর্ধনের জন্য একটি অভিসারী লেন্স ব্যবহার করা হয়, তাকে সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
➤ সাধারণত একটি উত্তল লেন্স থাকে।
➤ ক্ষুদ্র বস্তুর সোজা, বিবর্ধিত ও অবাস্তব প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
➤ ম্যাগনিফাইং গ্লাস সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের পরিচিত উদাহরণ।
➤ ভ্যান লিউয়েন হুক উন্নত একক লেন্সবিশিষ্ট অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করেছিলেন।
❖ ২. যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Compound Microscope): যে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে একাধিক লেন্স ব্যবহার করে ক্ষুদ্র বস্তুর বিবর্ধিত প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, তাকে যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
এর প্রধান দুটি লেন্স ব্যবস্থা হলো—
➤ অবজেকটিভ লেন্স (Objective Lens)।
➤ আইপিস বা চক্ষু লেন্স (Eyepiece Lens)।
অবজেকটিভ লেন্স প্রথমে বস্তুর একটি বিবর্ধিত বাস্তব প্রতিবিম্ব তৈরি করে। এরপর আইপিস সেই মধ্যবর্তী প্রতিবিম্বকে আরও বড় করে দেখায়।
❖ ৩. ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Electron Microscope): যে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃশ্যমান আলোর পরিবর্তে ইলেকট্রন রশ্মি ব্যবহার করা হয়, তাকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
➤ আলোর পরিবর্তে ইলেকট্রন রশ্মি ব্যবহার করে।
➤ অত্যন্ত ক্ষুদ্র গঠন পর্যবেক্ষণ করা যায়।
➤ সাধারণ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি বিভেদন ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব।
➤ কোষের অঙ্গাণু, ভাইরাস ও পদার্থের সূক্ষ্ম গঠন পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন হলো TEM (Transmission Electron Microscope) ও SEM (Scanning Electron Microscope)।
✦ সরল ও যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের পার্থক্য:
✦ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রধান অংশ ও কাজ:
❖ অবজেকটিভ লেন্স (Objective Lens): বস্তুর কাছাকাছি থাকে এবং প্রাথমিক বিবর্ধিত প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
❖ আইপিস (Eyepiece): পর্যবেক্ষকের চোখের কাছে থাকে এবং অবজেকটিভের তৈরি প্রতিবিম্বকে আরও বড় করে দেখায়।
❖ স্টেজ (Stage): যে স্থানে নমুনাযুক্ত স্লাইড রাখা হয়।
❖ আলোক উৎস (Light Source): নমুনাকে আলোকিত করে।
❖ কনডেনসার (Condenser): নমুনার ওপর আলো কেন্দ্রীভূত করতে সাহায্য করে।
❖ ফোকাসিং নব (Focusing Knob): নমুনার প্রতিবিম্ব স্পষ্ট করতে ব্যবহৃত হয়।
✦ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের বিবর্ধন ক্ষমতা (Magnification):
কোনো বস্তুর প্রতিবিম্বকে মূল বস্তুর তুলনায় কত গুণ বড় করে দেখা যায়, তাকে বিবর্ধন বলে।
যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে সাধারণভাবে—
মোট বিবর্ধন = অবজেকটিভ লেন্সের বিবর্ধন × আইপিসের বিবর্ধন।
✦ গাণিতিক সমাধান:
❖ প্রশ্ন: একটি যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের অবজেকটিভ লেন্সের বিবর্ধন ৪০ গুণ এবং আইপিসের বিবর্ধন ১০ গুণ হলে মোট বিবর্ধন কত?
প্রদত্ত তথ্য:
➤ অবজেকটিভ লেন্সের বিবর্ধন = ৪০×।
➤ আইপিসের বিবর্ধন = ১০×।
আমরা জানি,
➤ মোট বিবর্ধন = ৪০ × ১০
➤ = ৪০০ গুণ।
অতএব, অণুবীক্ষণ যন্ত্রটির মোট বিবর্ধন ৪০০ গুণ।
❖ আরেকটি উদাহরণ: একটি অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ১০× আইপিস এবং ১০০× অবজেকটিভ ব্যবহার করলে মোট বিবর্ধন কত হবে?
➤ মোট বিবর্ধন = ১০ × ১০০
➤ = ১০০০ গুণ।
অতএব, মোট বিবর্ধন হবে ১০০০ গুণ।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু বিবর্ধন বেশি হলেই বেশি সূক্ষ্ম গঠন দেখা যাবে—এমন নয়। এর জন্য যন্ত্রের বিভেদন ক্ষমতা (Resolving Power)-ও যথেষ্ট হতে হবে।
✦ বিভেদন ক্ষমতা (Resolving Power):
❖ দুটি অতি নিকটবর্তী বিন্দুকে পৃথকভাবে দেখার ক্ষমতাকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের বিভেদন ক্ষমতা বলে।
➤ বিবর্ধন বস্তুকে বড় করে দেখায়।
➤ বিভেদন ক্ষমতা কাছাকাছি দুটি বিন্দুকে আলাদা করে দেখার সামর্থ্য নির্দেশ করে।
➤ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের বিভেদন ক্ষমতা আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য এবং লেন্সের Numerical Aperture-এর ওপর নির্ভর করে।
➤ সাধারণ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে প্রায় ০.২ মাইক্রোমিটার পর্যায়ের বিভেদন অর্জন করা সম্ভব।
➤ ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে আরও ক্ষুদ্র গঠন পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
✦ রবার্ট হুক ও ভ্যান লিউয়েন হুকের অবদানের পার্থক্য:
❖ রবার্ট হুক (Robert Hooke):
➤ ছিলেন একজন ইংরেজ বিজ্ঞানী।
➤ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে কর্কের পাতলা অংশ পর্যবেক্ষণ করেন।
➤ ১৬৬৫ সালে প্রকাশিত Micrographia গ্রন্থে তাঁর পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেন।
➤ কর্কের ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন Cell বা কোষ।
➤ কোষের আবিষ্কার ও নামকরণের জন্য বিখ্যাত।
❖ ভ্যান লিউয়েন হুক (Antonie van Leeuwenhoek):
➤ ছিলেন একজন ডাচ অণুবীক্ষণবিদ।
➤ উন্নত একক লেন্সবিশিষ্ট অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করেন।
➤ জীবন্ত অণুজীব পর্যবেক্ষণের জন্য বিখ্যাত।
➤ অণুজীব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক বিবরণ প্রদান করেন।
➤ অণুজীববিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত।
মনে রাখুন: রবার্ট হুক → কোষ; ভ্যান লিউয়েন হুক → অণুজীব।
✦ মূল ব্যাখ্যার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-সংশোধনী:
❖ “অণুবীক্ষণ যন্ত্র প্রথম আবিষ্কার করেন ভ্যান লিউয়েন হুক”—এটি অনেক প্রচলিত প্রশ্নব্যাংকের উত্তর হলেও ঐতিহাসিকভাবে পুরোপুরি নির্ভুল নয়।
❖ ভ্যান লিউয়েন হুকের আগেই যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের অস্তিত্ব ছিল। তিনি মূলত উন্নত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি ও জীবজগৎ পর্যবেক্ষণে অসামান্য অবদান রাখেন।
❖ প্রথম যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের উদ্ভাবন সাধারণত হ্যান্স ও জাকারিয়াস জানসেনের নামে প্রচলিত। তবে তাঁদের উদ্ভাবনের সময় ও দাবির ঐতিহাসিক প্রমাণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
❖ American Physical Society-এর ইতিহাসবিষয়ক নিবন্ধেও বলা হয়েছে, ভ্যান লিউয়েন হুককে অনেক সময় অণুবীক্ষণ যন্ত্রের আবিষ্কারক বলা হলেও তিনি প্রথম উদ্ভাবক ছিলেন না; বরং যন্ত্রটির অসাধারণ উন্নয়ন করেছিলেন।
❖ “রবার্ট হুক অণুবীক্ষণ যন্ত্র প্রথম আবিষ্কার করেন”—এটিও সঠিক নয়। তিনি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের উন্নয়ন এবং কোষ পর্যবেক্ষণের জন্য পরিচিত।
❖ “আলেকজান্ডার ফ্লেমিং অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন”—এ বক্তব্য ভুল। ফ্লেমিং ১৯২৮ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত।
❖ প্রশ্নে প্রথম আবিষ্কারককে কঠোর ঐতিহাসিক অর্থে বোঝালে ঘ. উপরের কেউ নয় বিকল্পটিও যুক্তিসংগত হতে পারে। তবে প্রদত্ত প্রশ্নের প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর খ. ভ্যান লিউয়েন হুক।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ⇒ ভুল। আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (Alexander Fleming) একজন স্কটিশ চিকিৎসাবিজ্ঞানী। তিনি ১৯২৮ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন। পেনিসিলিন প্রথম কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ অবদানের জন্য ফ্লেমিং ১৯৪৫ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন, যৌথভাবে হাওয়ার্ড ফ্লোরি ও আর্নস্ট চেইনের সঙ্গে।
❖ খ. ভ্যান লিউয়েন হুক ⇒ পরীক্ষাভিত্তিক সঠিক। তিনি উন্নত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র নির্মাণ এবং অণুজীব পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। প্রচলিত সাধারণ বিজ্ঞান প্রশ্নব্যাংকে তাঁকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এটিই প্রশ্নটির প্রত্যাশিত উত্তর।
❖ গ. রবার্ট হুক ⇒ ভুল। রবার্ট হুক অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে কর্ক পর্যবেক্ষণ করে ১৬৬৫ সালে কোষের নামকরণ করেন। তিনি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও প্রথম আবিষ্কারক নন।
❖ ঘ. উপরের কেউ নয় ⇒ ঐতিহাসিকভাবে যুক্তিসংগত, তবে প্রচলিত পরীক্ষার উত্তর নয়। প্রথম যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের উদ্ভাবনের কৃতিত্ব সাধারণত জানসেন পরিবারকে দেওয়া হয়। তাই প্রশ্নে নির্দিষ্টভাবে প্রথম উদ্ভাবক জানতে চাইলে এই বিকল্প গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে প্রশ্নটির প্রচলিত উত্তরসূচিতে ভ্যান লিউয়েন হুককে নির্বাচন করা হয়েছে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
❖ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর—ভ্যান লিউয়েন হুক।
❖ প্রথম যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রচলিত উদ্ভাবক—হ্যান্স ও জাকারিয়াস জানসেন।
❖ প্রথম যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রচলিত উদ্ভাবনকাল—প্রায় ১৫৯০–১৫৯৫ সাল।
❖ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের ইংরেজি—Microscope।
❖ অণুবীক্ষণবিদ্যার ইংরেজি—Microscopy।
❖ অণুজীববিজ্ঞানের ইংরেজি—Microbiology।
❖ অণুজীববিজ্ঞানের জনক—অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েন হুক।
❖ কোষ প্রথম পর্যবেক্ষণ ও নামকরণ করেন—রবার্ট হুক।
❖ রবার্ট হুক কোষের নামকরণ করেন—১৬৬৫ সালে।
❖ রবার্ট হুক যে বস্তু পর্যবেক্ষণ করে কোষের নামকরণ করেন—কর্ক (Cork)।
❖ রবার্ট হুকের বিখ্যাত গ্রন্থ—Micrographia।
❖ Micrographia প্রকাশিত হয়—১৬৬৫ সালে।
❖ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে জীবন্ত অণুজীব পর্যবেক্ষণের অগ্রদূত—ভ্যান লিউয়েন হুক।
❖ ভ্যান লিউয়েন হুকের জন্ম—১৬৩২ সালে।
❖ ভ্যান লিউয়েন হুকের মৃত্যু—১৭২৩ সালে।
❖ ভ্যান লিউয়েন হুকের দেশ—নেদারল্যান্ডস।
❖ রবার্ট হুকের দেশ—ইংল্যান্ড।
❖ পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন—আলেকজান্ডার ফ্লেমিং।
❖ পেনিসিলিন আবিষ্কারের সাল—১৯২৮।
❖ আলেকজান্ডার ফ্লেমিং চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন—১৯৪৫ সালে।
❖ সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়—একটি প্রধান উত্তল লেন্স।
❖ যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়—একাধিক লেন্স।
❖ যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রধান দুটি লেন্স—অবজেকটিভ ও আইপিস।
❖ অবজেকটিভ লেন্স থাকে—বস্তুর কাছাকাছি।
❖ আইপিস থাকে—পর্যবেক্ষকের চোখের কাছে।
❖ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র কাজ করে—আলোর প্রতিসরণের নীতিতে।
❖ মোট বিবর্ধনের সূত্র—অবজেকটিভের বিবর্ধন × আইপিসের বিবর্ধন।
❖ ১০× আইপিস ও ৪০× অবজেকটিভের মোট বিবর্ধন—৪০০×।
❖ সাধারণ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের বিভেদনসীমা—প্রায় ০.২ মাইক্রোমিটার।
❖ ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়—ইলেকট্রন রশ্মি।
❖ প্রথম ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন—আর্নস্ট রুস্কা ও ম্যাক্স নল।
❖ ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রাথমিক নির্মাণকাল—১৯৩১ সাল।
❖ TEM-এর পূর্ণরূপ—Transmission Electron Microscope।
❖ SEM-এর পূর্ণরূপ—Scanning Electron Microscope।
❖ দুটি অতি নিকটবর্তী বিন্দুকে পৃথকভাবে দেখার ক্ষমতা—বিভেদন ক্ষমতা (Resolving Power)।
❖ অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহৃত হয়—কোষ, অণুজীব ও পদার্থের সূক্ষ্ম গঠন পর্যবেক্ষণে।
10
🎯 Level 1

২১. বিবর্ধক কাঁচ কোন ধরনের বিম গঠন করে? (কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ইন্সট্রাক্টর: ০৫)

ক

সোজা ও খর্বিত

খ

সোজা ও সমান

গ

উল্টো ও খর্বিত

ঘ

সোজা ও বিবর্ধিত

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. সোজা ও বিবর্ধিত

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: সোজা ও বিবর্ধিত
✦ অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ Magnifying glass-এ convex lens-এর focal length-এর ভেতরে বস্তু রাখলে image হয়:
➤ সোজা (erect)
➤ বিবর্ধিত (magnified)
➤ কাল্পনিক (virtual)
❖ এই কারণেই ছোট অক্ষর বা ক্ষুদ্র বস্তু বড় করে দেখা যায়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ সোজা ও খর্বিত ⇒ concave lens-এর বৈশিষ্ট্যের কাছাকাছি।
❖ সোজা ও সমান ⇒ magnification ঘটছে না।
❖ উল্টো ও খর্বিত ⇒ magnifying glass-এর normal use নয়।
❖ সোজা ও বিবর্ধিত ⇒ সঠিক।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন