01
🎯 Level 1
০১. স্যার আইজ্যাক নিউটন একজন - (বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার: ০১)
✅ সঠিক উত্তর:ক. বিজ্ঞানী
ব্যাখ্যা:
উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: বিজ্ঞানী — স্যার আইজ্যাক নিউটন (Sir Isaac Newton)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ স্যার আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২–১৭২৭) ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও প্রাকৃতিক দার্শনিক। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অসামান্য।
❖ তিনি গতির তিনটি সূত্র (Newton's Three Laws of Motion) এবং সর্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র (Law of Universal Gravitation) প্রণয়ন করেন। এসব সূত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর বস্তু থেকে শুরু করে গ্রহ-উপগ্রহের গতি পর্যন্ত ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।
❖ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Philosophiæ Naturalis Principia Mathematica’ (১৬৮৭) পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ। এতে গতির সূত্র, মহাকর্ষ এবং জ্যোতিষ্কের গতির গাণিতিক ভিত্তি উপস্থাপিত হয়েছে।
১. আইজ্যাক নিউটনের জীবন ও পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: স্যার আইজ্যাক নিউটন (Sir Isaac Newton)।
❖ জন্ম: ২৫ ডিসেম্বর ১৬৪২ — তৎকালীন ইংল্যান্ডের জুলিয়ান পঞ্জিকা অনুযায়ী।
❖ বর্তমান গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় জন্ম: ৪ জানুয়ারি ১৬৪৩।
❖ জন্মস্থান: উলসথর্প (Woolsthorpe), লিংকনশায়ার, ইংল্যান্ড।
❖ মৃত্যু: ২০ মার্চ ১৭২৭ — তৎকালীন ইংরেজ পঞ্জিকা অনুযায়ী।
❖ গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় মৃত্যু: ৩১ মার্চ ১৭২৭।
❖ মৃত্যুস্থান: কেনসিংটন, লন্ডন, ইংল্যান্ড।
❖ পিতা: আইজ্যাক নিউটন।
❖ মাতা: হান্না অ্যাসকফ (Hannah Ayscough)।
❖ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: ট্রিনিটি কলেজ, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।
❖ জাতীয় পরিচয়: ইংরেজ; বর্তমান ভৌগোলিক পরিচয়ে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানী।
❖ পেশা: পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও প্রাকৃতিক দার্শনিক।
❖ প্রধান গ্রন্থ: Principia Mathematica ও Opticks।
❖ সমাধিস্থল: ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে, লন্ডন।
২. নিউটনের শৈশব ও শিক্ষাজীবন
❖ নিউটনের জন্মের আগেই তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করেন।
❖ ছোটবেলায় তিনি যন্ত্রপাতি, যান্ত্রিক খেলনা ও প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে বিশেষ কৌতূহলী ছিলেন।
❖ লিংকনশায়ারের গ্রান্থাম গ্রামার স্কুলে পড়াশোনা করেন।
❖ ১৬৬১ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি হন।
❖ সেখানে গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক দর্শন অধ্যয়ন করেন।
❖ ১৬৬৫ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
৩. প্লেগ মহামারি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা
❖ ১৬৬৫–১৬৬৬ সালে ইংল্যান্ডে মহামারির কারণে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
❖ নিউটন নিজ গ্রাম উলসথর্পে ফিরে যান।
❖ এই সময় তিনি ক্যালকুলাস, আলোকবিজ্ঞান, গতি ও মহাকর্ষ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধারণা বিকাশ করেন।
❖ এই সময়কাল তাঁর জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল বৈজ্ঞানিক গবেষণাপর্বগুলোর একটি।
৪. নিউটনের গতির তিনটি সূত্র
◉ প্রথম সূত্র — জড়তার সূত্র (Law of Inertia)
❖ কোনো বস্তুর ওপর কার্যকর লব্ধি বাহ্যিক বল শূন্য হলে স্থির বস্তু স্থির থাকে এবং গতিশীল বস্তু সরলরেখায় সমবেগে চলতে থাকে।
❖ উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
◉ দ্বিতীয় সূত্র — বল ও ত্বরণের সূত্র
❖ বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রয়োগকৃত লব্ধি বলের সমানুপাতিক এবং বলের দিকে ঘটে।
❖ ভর স্থির থাকলে—
F=ma
এখানে,
❖ F = লব্ধি বল।
❖ m = বস্তুর ভর।
❖ a = ত্বরণ।
◉ তৃতীয় সূত্র — ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার সূত্র
❖ প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান মানের ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
❖ উদাহরণ: রকেটের গ্যাস পেছনের দিকে নির্গত হওয়ার ফলে রকেট সামনের দিকে গতিশীল হয়।
৫. সর্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র
❖ নিউটনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান হলো সর্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র।
❖ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি ভরযুক্ত বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বিদ্যমান।
❖ আকর্ষণ বল বস্তু দুটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং তাদের কেন্দ্রের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
F=G(m₁m₂)/(r²)
এখানে,
❖ F = মহাকর্ষ বল।
❖ G = সর্বজনীন মহাকর্ষ ধ্রুবক।
❖ m₁ ও m₂ = বস্তু দুটির ভর।
❖ r = বস্তু দুটির কেন্দ্রের দূরত্ব, যদি গোলীয় প্রতিসম বস্তু বিবেচনা করা হয়।
❖ এই সূত্রের মাধ্যমে গ্রহ-উপগ্রহের গতি ও পৃথিবীর আকর্ষণ ব্যাখ্যা করা যায়।
৬. আলোকবিজ্ঞানে নিউটনের অবদান
❖ নিউটন প্রিজম ব্যবহার করে সাদা আলোর প্রকৃতি পরীক্ষা করেন।
❖ তিনি দেখান, সাদা আলো বিভিন্ন বর্ণের আলোর সমন্বয়ে গঠিত।
❖ প্রিজমের মধ্য দিয়ে সাদা আলো প্রবেশ করলে বিভিন্ন বর্ণের আলো ভিন্ন ভিন্ন কোণে প্রতিসরিত হয়ে পৃথক হয়ে যায়।
❖ এ ঘটনাকে বিচ্ছুরণ (Dispersion of Light) বলা হয়।
❖ নিউটন প্রচলিতভাবে বর্ণালিকে সাতটি বর্ণে বিভক্ত করেন।
❖ তাঁর আলোকবিজ্ঞানবিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ Opticks (১৭০৪)।
৭. প্রতিফলক দূরবীক্ষণ যন্ত্র নির্মাণ
❖ ১৬৬৮ সালে নিউটন একটি কার্যকর প্রতিফলক দূরবীক্ষণ যন্ত্র (Reflecting Telescope) নির্মাণ করেন।
❖ এতে আলোক সংগ্রহের প্রধান উপাদান হিসেবে লেন্সের পরিবর্তে অবতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।
❖ এই নকশা পরবর্তী সময়ে Newtonian Telescope নামে পরিচিত হয়।
❖ দূরবীক্ষণ যন্ত্রের নকশা উন্নয়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
৮. গণিতশাস্ত্রে নিউটনের অবদান
❖ নিউটন অন্তরকলন ও সমাকলন (Differential and Integral Calculus) বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ তিনি নিজের পদ্ধতিকে Method of Fluxions নামে অভিহিত করেন।
❖ গটফ্রিড উইলহেল্ম লাইবনিজ স্বাধীনভাবে ক্যালকুলাস বিকাশ করেন।
❖ নিউটন সাধারণীকৃত দ্বিপদী উপপাদ্য (Generalized Binomial Theorem)-এর উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
❖ নিউটন-র্যাফসন পদ্ধতিসহ সংখ্যাগত গণিতের বিকাশেও তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ।
৯. রয়্যাল সোসাইটিতে নিউটন
❖ ১৬৭২ সালে নিউটন লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি (Royal Society)-র ফেলো নির্বাচিত হন।
❖ ১৭০৩ সালে তিনি রয়্যাল সোসাইটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
❖ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
❖ ১৭০৫ সালে ব্রিটিশ রানি অ্যান তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন।
❖ এর ফলে তাঁর নামের আগে Sir ব্যবহৃত হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ স্যার আইজ্যাক নিউটন একজন — বিজ্ঞানী।
➤ প্রধান পরিচিতি — পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতবিদ।
➤ জন্ম — ২৫ ডিসেম্বর ১৬৪২ (পুরোনো পঞ্জিকা)।
➤ বর্তমান পঞ্জিকায় জন্ম — ৪ জানুয়ারি ১৬৪৩।
➤ জন্মস্থান — উলসথর্প, লিংকনশায়ার, ইংল্যান্ড।
➤ মৃত্যু — ২০ মার্চ ১৭২৭ (পুরোনো পঞ্জিকা)।
➤ বর্তমান পঞ্জিকায় মৃত্যু — ৩১ মার্চ ১৭২৭।
➤ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান — ট্রিনিটি কলেজ, কেমব্রিজ।
➤ কেমব্রিজে ভর্তি — ১৬৬১।
➤ স্নাতক ডিগ্রি — ১৬৬৫।
➤ লুকাসিয়ান অধ্যাপক নিযুক্ত — ১৬৬৯।
➤ নিউটনের গতিসূত্র — ৩টি।
➤ প্রথম সূত্র — জড়তার সূত্র।
➤ দ্বিতীয় সূত্র — বল ও ভরবেগ পরিবর্তনের সূত্র।
➤ তৃতীয় সূত্র — ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার সূত্র।
➤ বলের সূত্র — F = ma (স্থির ভরের ক্ষেত্রে)।
➤ মহাকর্ষ সূত্রের প্রবর্তক — নিউটন।
➤ মহাকর্ষ সূত্র — F = Gm₁m₂/r²।
➤ বিখ্যাত গ্রন্থ — Principia Mathematica (১৬৮৭)।
➤ আলোকবিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ — Opticks (১৭০৪)।
➤ সাদা আলোর বিচ্ছুরণ পরীক্ষায় ব্যবহৃত যন্ত্র — প্রিজম।
➤ প্রিজমে সাদা আলো বিভক্ত হয় — বর্ণালিতে।
➤ প্রতিফলক দূরবীক্ষণ নির্মাণ — ১৬৬৮।
➤ রয়্যাল সোসাইটির ফেলো — ১৬৭২।
➤ রয়্যাল সোসাইটির সভাপতি — ১৭০৩।
➤ নাইট উপাধি লাভ — ১৭০৫।
➤ সমাধিস্থল — ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে, লন্ডন।
➤ বিশেষ তথ্য: নিউটন বিজ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি গণিতবিদ ও প্রাকৃতিক দার্শনিকও ছিলেন; কিন্তু প্রশ্নের প্রদত্ত বিকল্প অনুযায়ী ‘বিজ্ঞানী’ সবচেয়ে নির্দিষ্ট ও প্রত্যাশিত উত্তর।
◈ সঠিক উত্তর: বিজ্ঞানী — স্যার আইজ্যাক নিউটন (Sir Isaac Newton)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ স্যার আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২–১৭২৭) ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও প্রাকৃতিক দার্শনিক। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অসামান্য।
❖ তিনি গতির তিনটি সূত্র (Newton's Three Laws of Motion) এবং সর্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র (Law of Universal Gravitation) প্রণয়ন করেন। এসব সূত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর বস্তু থেকে শুরু করে গ্রহ-উপগ্রহের গতি পর্যন্ত ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।
❖ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Philosophiæ Naturalis Principia Mathematica’ (১৬৮৭) পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ। এতে গতির সূত্র, মহাকর্ষ এবং জ্যোতিষ্কের গতির গাণিতিক ভিত্তি উপস্থাপিত হয়েছে।
১. আইজ্যাক নিউটনের জীবন ও পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: স্যার আইজ্যাক নিউটন (Sir Isaac Newton)।
❖ জন্ম: ২৫ ডিসেম্বর ১৬৪২ — তৎকালীন ইংল্যান্ডের জুলিয়ান পঞ্জিকা অনুযায়ী।
❖ বর্তমান গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় জন্ম: ৪ জানুয়ারি ১৬৪৩।
❖ জন্মস্থান: উলসথর্প (Woolsthorpe), লিংকনশায়ার, ইংল্যান্ড।
❖ মৃত্যু: ২০ মার্চ ১৭২৭ — তৎকালীন ইংরেজ পঞ্জিকা অনুযায়ী।
❖ গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় মৃত্যু: ৩১ মার্চ ১৭২৭।
❖ মৃত্যুস্থান: কেনসিংটন, লন্ডন, ইংল্যান্ড।
❖ পিতা: আইজ্যাক নিউটন।
❖ মাতা: হান্না অ্যাসকফ (Hannah Ayscough)।
❖ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: ট্রিনিটি কলেজ, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।
❖ জাতীয় পরিচয়: ইংরেজ; বর্তমান ভৌগোলিক পরিচয়ে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানী।
❖ পেশা: পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও প্রাকৃতিক দার্শনিক।
❖ প্রধান গ্রন্থ: Principia Mathematica ও Opticks।
❖ সমাধিস্থল: ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে, লন্ডন।
২. নিউটনের শৈশব ও শিক্ষাজীবন
❖ নিউটনের জন্মের আগেই তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করেন।
❖ ছোটবেলায় তিনি যন্ত্রপাতি, যান্ত্রিক খেলনা ও প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে বিশেষ কৌতূহলী ছিলেন।
❖ লিংকনশায়ারের গ্রান্থাম গ্রামার স্কুলে পড়াশোনা করেন।
❖ ১৬৬১ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি হন।
❖ সেখানে গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক দর্শন অধ্যয়ন করেন।
❖ ১৬৬৫ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
৩. প্লেগ মহামারি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা
❖ ১৬৬৫–১৬৬৬ সালে ইংল্যান্ডে মহামারির কারণে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
❖ নিউটন নিজ গ্রাম উলসথর্পে ফিরে যান।
❖ এই সময় তিনি ক্যালকুলাস, আলোকবিজ্ঞান, গতি ও মহাকর্ষ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধারণা বিকাশ করেন।
❖ এই সময়কাল তাঁর জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল বৈজ্ঞানিক গবেষণাপর্বগুলোর একটি।
৪. নিউটনের গতির তিনটি সূত্র
◉ প্রথম সূত্র — জড়তার সূত্র (Law of Inertia)
❖ কোনো বস্তুর ওপর কার্যকর লব্ধি বাহ্যিক বল শূন্য হলে স্থির বস্তু স্থির থাকে এবং গতিশীল বস্তু সরলরেখায় সমবেগে চলতে থাকে।
❖ উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
◉ দ্বিতীয় সূত্র — বল ও ত্বরণের সূত্র
❖ বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রয়োগকৃত লব্ধি বলের সমানুপাতিক এবং বলের দিকে ঘটে।
❖ ভর স্থির থাকলে—
F=ma
এখানে,
❖ F = লব্ধি বল।
❖ m = বস্তুর ভর।
❖ a = ত্বরণ।
◉ তৃতীয় সূত্র — ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার সূত্র
❖ প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান মানের ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
❖ উদাহরণ: রকেটের গ্যাস পেছনের দিকে নির্গত হওয়ার ফলে রকেট সামনের দিকে গতিশীল হয়।
৫. সর্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র
❖ নিউটনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান হলো সর্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র।
❖ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি ভরযুক্ত বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বিদ্যমান।
❖ আকর্ষণ বল বস্তু দুটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং তাদের কেন্দ্রের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
F=G(m₁m₂)/(r²)
এখানে,
❖ F = মহাকর্ষ বল।
❖ G = সর্বজনীন মহাকর্ষ ধ্রুবক।
❖ m₁ ও m₂ = বস্তু দুটির ভর।
❖ r = বস্তু দুটির কেন্দ্রের দূরত্ব, যদি গোলীয় প্রতিসম বস্তু বিবেচনা করা হয়।
❖ এই সূত্রের মাধ্যমে গ্রহ-উপগ্রহের গতি ও পৃথিবীর আকর্ষণ ব্যাখ্যা করা যায়।
৬. আলোকবিজ্ঞানে নিউটনের অবদান
❖ নিউটন প্রিজম ব্যবহার করে সাদা আলোর প্রকৃতি পরীক্ষা করেন।
❖ তিনি দেখান, সাদা আলো বিভিন্ন বর্ণের আলোর সমন্বয়ে গঠিত।
❖ প্রিজমের মধ্য দিয়ে সাদা আলো প্রবেশ করলে বিভিন্ন বর্ণের আলো ভিন্ন ভিন্ন কোণে প্রতিসরিত হয়ে পৃথক হয়ে যায়।
❖ এ ঘটনাকে বিচ্ছুরণ (Dispersion of Light) বলা হয়।
❖ নিউটন প্রচলিতভাবে বর্ণালিকে সাতটি বর্ণে বিভক্ত করেন।
❖ তাঁর আলোকবিজ্ঞানবিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ Opticks (১৭০৪)।
৭. প্রতিফলক দূরবীক্ষণ যন্ত্র নির্মাণ
❖ ১৬৬৮ সালে নিউটন একটি কার্যকর প্রতিফলক দূরবীক্ষণ যন্ত্র (Reflecting Telescope) নির্মাণ করেন।
❖ এতে আলোক সংগ্রহের প্রধান উপাদান হিসেবে লেন্সের পরিবর্তে অবতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।
❖ এই নকশা পরবর্তী সময়ে Newtonian Telescope নামে পরিচিত হয়।
❖ দূরবীক্ষণ যন্ত্রের নকশা উন্নয়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
৮. গণিতশাস্ত্রে নিউটনের অবদান
❖ নিউটন অন্তরকলন ও সমাকলন (Differential and Integral Calculus) বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ তিনি নিজের পদ্ধতিকে Method of Fluxions নামে অভিহিত করেন।
❖ গটফ্রিড উইলহেল্ম লাইবনিজ স্বাধীনভাবে ক্যালকুলাস বিকাশ করেন।
❖ নিউটন সাধারণীকৃত দ্বিপদী উপপাদ্য (Generalized Binomial Theorem)-এর উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
❖ নিউটন-র্যাফসন পদ্ধতিসহ সংখ্যাগত গণিতের বিকাশেও তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ।
৯. রয়্যাল সোসাইটিতে নিউটন
❖ ১৬৭২ সালে নিউটন লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি (Royal Society)-র ফেলো নির্বাচিত হন।
❖ ১৭০৩ সালে তিনি রয়্যাল সোসাইটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
❖ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
❖ ১৭০৫ সালে ব্রিটিশ রানি অ্যান তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন।
❖ এর ফলে তাঁর নামের আগে Sir ব্যবহৃত হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ স্যার আইজ্যাক নিউটন একজন — বিজ্ঞানী।
➤ প্রধান পরিচিতি — পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতবিদ।
➤ জন্ম — ২৫ ডিসেম্বর ১৬৪২ (পুরোনো পঞ্জিকা)।
➤ বর্তমান পঞ্জিকায় জন্ম — ৪ জানুয়ারি ১৬৪৩।
➤ জন্মস্থান — উলসথর্প, লিংকনশায়ার, ইংল্যান্ড।
➤ মৃত্যু — ২০ মার্চ ১৭২৭ (পুরোনো পঞ্জিকা)।
➤ বর্তমান পঞ্জিকায় মৃত্যু — ৩১ মার্চ ১৭২৭।
➤ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান — ট্রিনিটি কলেজ, কেমব্রিজ।
➤ কেমব্রিজে ভর্তি — ১৬৬১।
➤ স্নাতক ডিগ্রি — ১৬৬৫।
➤ লুকাসিয়ান অধ্যাপক নিযুক্ত — ১৬৬৯।
➤ নিউটনের গতিসূত্র — ৩টি।
➤ প্রথম সূত্র — জড়তার সূত্র।
➤ দ্বিতীয় সূত্র — বল ও ভরবেগ পরিবর্তনের সূত্র।
➤ তৃতীয় সূত্র — ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার সূত্র।
➤ বলের সূত্র — F = ma (স্থির ভরের ক্ষেত্রে)।
➤ মহাকর্ষ সূত্রের প্রবর্তক — নিউটন।
➤ মহাকর্ষ সূত্র — F = Gm₁m₂/r²।
➤ বিখ্যাত গ্রন্থ — Principia Mathematica (১৬৮৭)।
➤ আলোকবিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ — Opticks (১৭০৪)।
➤ সাদা আলোর বিচ্ছুরণ পরীক্ষায় ব্যবহৃত যন্ত্র — প্রিজম।
➤ প্রিজমে সাদা আলো বিভক্ত হয় — বর্ণালিতে।
➤ প্রতিফলক দূরবীক্ষণ নির্মাণ — ১৬৬৮।
➤ রয়্যাল সোসাইটির ফেলো — ১৬৭২।
➤ রয়্যাল সোসাইটির সভাপতি — ১৭০৩।
➤ নাইট উপাধি লাভ — ১৭০৫।
➤ সমাধিস্থল — ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে, লন্ডন।
➤ বিশেষ তথ্য: নিউটন বিজ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি গণিতবিদ ও প্রাকৃতিক দার্শনিকও ছিলেন; কিন্তু প্রশ্নের প্রদত্ত বিকল্প অনুযায়ী ‘বিজ্ঞানী’ সবচেয়ে নির্দিষ্ট ও প্রত্যাশিত উত্তর।