🧠 🔖
👑 Premium Topic

কোষ, কোষ বিভাজন ও টিস্যু

◉ সাধারণ বিজ্ঞান›কোষ, কোষ বিভাজন ও টিস্যু

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚62মোট প্রশ্ন
🎯4মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০১. এনাটমির জনক কে? (সিএজি কার্যালয়ের অডিটর: ৯৮)

ক

আন্দ্রেস ভেসালিয়াস

খ

উইলিয়াম হার্ভে

গ

রাসেল ওয়ালেস

ঘ

জন ফ্লেমিং

✅ সঠিক উত্তর:ক. আন্দ্রেস ভেসালিয়াস

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: আন্দ্রেস ভেসালিয়াস (Andreas Vesalius) — আধুনিক অ্যানাটমি বা মানবদেহের গঠনবিদ্যার জনক।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ আন্দ্রেস ভেসালিয়াস (Andreas Vesalius) ছিলেন ষোড়শ শতাব্দীর বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী, শারীরস্থানবিদ ও মানবদেহের গঠনবিষয়ক গবেষক। তাঁকে আধুনিক অ্যানাটমির জনক (Father of Modern Anatomy) বলা হয়।
❖ অ্যানাটমি (Anatomy) বা শারীরস্থানবিদ্যা হলো জীববিজ্ঞানের এমন একটি শাখা, যেখানে মানবদেহ বা অন্যান্য জীবের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, টিস্যু এবং বিভিন্ন অঙ্গের পারস্পরিক অবস্থান সম্পর্কে অধ্যয়ন করা হয়।
❖ জন্ম: ৩১ ডিসেম্বর ১৫১৪ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন্মস্থান: ব্রাসেলস (Brussels), তৎকালীন হ্যাবসবার্গ নেদারল্যান্ডস; বর্তমান বেলজিয়াম।
❖ মৃত্যু: ১৫ অক্টোবর ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দ, গ্রিসের জাকিনথোস (Zakynthos) দ্বীপে।
❖ পূর্ণ লাতিন নাম: Andreas Vesalius। তাঁর মূল ফ্লেমিশ নাম Andries van Wesel।
❖ শিক্ষাজীবন: তিনি লুভেন, প্যারিস ও পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মানবদেহের গঠনবিদ্যা অধ্যয়ন করেন।
❖ অধ্যাপনা: ১৫৩৭ সালে ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Padua) সার্জারি ও অ্যানাটমির অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন।
❖ সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ: De Humani Corporis Fabrica Libri Septem। এর বাংলা অর্থ ‘মানবদেহের গঠন সম্পর্কে সাতটি গ্রন্থ’।
❖ গ্রন্থের প্রকাশকাল: ১৫৪৩ খ্রিষ্টাব্দ। এটি সুইজারল্যান্ডের বাসেল (Basel) শহর থেকে প্রকাশিত হয়।
❖ গ্রন্থটির বিশেষত্ব: গ্রন্থটিতে মানবদেহের অস্থি, পেশি, স্নায়ু, রক্তনালি, অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও অন্যান্য শারীরিক গঠনের বিস্তারিত আলোচনা এবং বহু চিত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
❖ সাতটি খণ্ড: গ্রন্থটি ৭টি বই বা বিভাগে বিভক্ত। বিভিন্ন বিভাগে মানবদেহের অস্থি, পেশি, রক্তনালি, স্নায়ু, উদর ও বক্ষের অঙ্গ এবং মস্তিষ্কসহ অন্যান্য গঠনের আলোচনা রয়েছে।
❖ প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব: ভেসালিয়াস মানবদেহ সম্পর্কে জানতে মানুষের মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ (Human Cadaver Dissection) এবং সরাসরি পর্যবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
❖ পূর্ববর্তী চিকিৎসাবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা: ভেসালিয়াসের আগে ইউরোপীয় চিকিৎসাশিক্ষায় প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞানী গ্যালেন (Galen)-এর শারীরস্থানবিষয়ক বর্ণনা ব্যাপকভাবে অনুসরণ করা হতো।
❖ গ্যালেনের গবেষণার সমস্যা: গ্যালেনের অনেক শারীরস্থানবিষয়ক পর্যবেক্ষণ প্রাণীদেহের ব্যবচ্ছেদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। ফলে মানবদেহের কিছু অঙ্গের গঠন সম্পর্কে তাঁর বর্ণনায় ভুল ছিল।
❖ ভেসালিয়াসের সংশোধন: মানুষের মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করে ভেসালিয়াস গ্যালেনের বিভিন্ন ভুল ধারণা সংশোধন করেন এবং মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কে অধিক নির্ভুল তথ্য প্রদান করেন।
❖ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অবদান: ভেসালিয়াস প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা, ব্যবচ্ছেদ ও প্রমাণনির্ভর বিশ্লেষণকে শারীরস্থানবিদ্যার গবেষণার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ অ্যানাটমিক্যাল চিত্র: তাঁর গ্রন্থের বিস্তারিত অস্থি ও পেশির চিত্র চিকিৎসাশিক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। এসব চিত্র মানবদেহের জটিল গঠন বুঝতে সহায়তা করে।
❖ আধুনিক অ্যানাটমির ভিত্তি: মানবদেহের সরাসরি ব্যবচ্ছেদ, নির্ভুল অঙ্গসংস্থানগত বর্ণনা ও চিত্রসমৃদ্ধ শিক্ষাপদ্ধতির কারণে ভেসালিয়াসকে আধুনিক মানব শারীরস্থানবিদ্যার প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
❖ অ্যানাটমি ও ফিজিওলজির পার্থক্য: Anatomy মানবদেহের গঠন (Structure) নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে Physiology দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যাবলি (Function) নিয়ে আলোচনা করে।
❖ প্রাচীন অ্যানাটমির জনক: গ্রিক চিকিৎসাবিজ্ঞানী হেরোফিলাস (Herophilus)-কে অনেক ঐতিহাসিক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণায় Father of Anatomy বলা হয়। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে আলেকজান্দ্রিয়ায় মানবদেহের ব্যবচ্ছেদভিত্তিক গবেষণা করেন।
❖ ভেসালিয়াস ও হেরোফিলাসের পার্থক্য: হেরোফিলাস প্রাচীন অ্যানাটমির পথিকৃৎ, আর আন্দ্রেস ভেসালিয়াস আধুনিক অ্যানাটমির জনক। প্রদত্ত পরীক্ষার বিকল্প অনুযায়ী উত্তর আন্দ্রেস ভেসালিয়াস।
❖ উইলিয়াম হার্ভে (William Harvey): ১৫৭৮–১৬৫৭। তিনি ইংরেজ চিকিৎসাবিজ্ঞানী, যিনি হৃৎপিণ্ডের পাম্পক্রিয়া ও রক্তসঞ্চালনব্যবস্থার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ De Motu Cordis (১৬২৮)।
❖ আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace): ১৮২৩–১৯১৩। তিনি চার্লস ডারউইনের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের ধারণা বিকাশ করেন। জীবভূগোলের ইতিহাসেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
❖ জন অ্যামব্রোজ ফ্লেমিং (John Ambrose Fleming): ১৮৪৯–১৯৪৫। তিনি ব্রিটিশ বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী ও পদার্থবিজ্ঞানী। থার্মায়োনিক ভালভ ও ফ্লেমিংয়ের ডানহাত নিয়ম-এর জন্য পরিচিত।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রদত্ত প্রশ্নে এনাটমির জনক — আন্দ্রেস ভেসালিয়াস।
➤ আধুনিক অ্যানাটমির জনক — আন্দ্রেস ভেসালিয়াস।
➤ প্রাচীন অ্যানাটমির জনক হিসেবে পরিচিত — হেরোফিলাস।
➤ Anatomy-এর বাংলা — শারীরস্থানবিদ্যা বা অঙ্গসংস্থানবিদ্যা।
➤ Anatomy-এর আলোচ্য বিষয় — জীবদেহের গঠন।
➤ Physiology-এর আলোচ্য বিষয় — জীবদেহের কার্যাবলি।
➤ ভেসালিয়াসের জন্ম — ৩১ ডিসেম্বর ১৫১৪।
➤ জন্মস্থান — ব্রাসেলস, বর্তমান বেলজিয়াম।
➤ ভেসালিয়াসের মৃত্যু — ১৫ অক্টোবর ১৫৬৪।
➤ মৃত্যুস্থান — জাকিনথোস দ্বীপ, গ্রিস।
➤ ভেসালিয়াসের মূল নাম — Andries van Wesel।
➤ ভেসালিয়াস অধ্যাপনা করেন — পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে।
➤ অ্যানাটমির অধ্যাপক নিযুক্ত হন — ১৫৩৭ সালে।
➤ ভেসালিয়াসের বিখ্যাত গ্রন্থ — De Humani Corporis Fabrica।
➤ গ্রন্থটির পূর্ণ নাম — De Humani Corporis Fabrica Libri Septem।
➤ প্রকাশকাল — ১৫৪৩।
➤ প্রকাশস্থান — বাসেল, সুইজারল্যান্ড।
➤ গ্রন্থের বিভাগ — ৭টি।
➤ গ্রন্থের প্রধান বিষয় — মানবদেহের অঙ্গসংস্থান।
➤ মানবদেহের ব্যবচ্ছেদ — Human Dissection।
➤ মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ — Cadaver Dissection।
➤ প্রত্যক্ষ ব্যবচ্ছেদ ও পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেন — ভেসালিয়াস।
➤ প্রাচীন রোমান যুগের বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী — গ্যালেন।
➤ গ্যালেনের ভুল শারীরস্থানবিষয়ক ধারণা সংশোধনে অবদান — ভেসালিয়াস।
➤ হেরোফিলাসের গবেষণাকেন্দ্র — আলেকজান্দ্রিয়া, মিসর।
➤ হেরোফিলাসের সময়কাল — খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী।
➤ রক্তসঞ্চালনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার পথিকৃৎ — উইলিয়াম হার্ভে।
➤ উইলিয়াম হার্ভের জীবনকাল — ১৫৭৮–১৬৫৭।
➤ উইলিয়াম হার্ভের বিখ্যাত গ্রন্থ — De Motu Cordis।
➤ De Motu Cordis প্রকাশ — ১৬২৮।
➤ প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের ধারণা স্বাধীনভাবে বিকাশ করেন — চার্লস ডারউইন ও আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস।
➤ আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেসের জীবনকাল — ১৮২৩–১৯১৩।
➤ থার্মায়োনিক ভালভের উদ্ভাবক — জন অ্যামব্রোজ ফ্লেমিং।
➤ ফ্লেমিংয়ের ডানহাত নিয়ম — তড়িৎচৌম্বকীয় আবেশে উৎপন্ন তড়িৎ প্রবাহের দিক নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।"
02
🎯 Level 1

০৪. ‘Fabric of Human Body’ গ্রন্থটি কার লেখা? (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রকৌশলী: ১৪)

ক

উইলিয়াম হার্ভে

খ

আন্দ্রেস ভেসালিয়াস

গ

রেনে ডেকার্ট

ঘ

ইবনে সিনা

✅ সঠিক উত্তর:খ. আন্দ্রেস ভেসালিয়াস

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: আন্দ্রেস ভেসালিয়াস
✦ অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ আন্দ্রেস ভেসালিয়াসের বিখ্যাত গ্রন্থের পূর্ণ ল্যাটিন নাম De humani corporis fabrica libri septem। এটি সাধারণভাবে ইংরেজিতে On the Fabric of the Human Body বা The Fabric of the Human Body নামে অনূদিত।
❖ গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণ ১৫৪৩ সালে Basel-এ প্রকাশিত হয়। এটি মানবদেহের প্রত্যক্ষ ব্যবচ্ছেদন-নির্ভর চিত্র ও অঙ্গসংস্থানগত বর্ণনার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে যুগান্তকারী। National Library of Medicine একে আধুনিক অঙ্গসংস্থানবিদ্যার ভিত্তি-স্থাপনকারী গ্রন্থ হিসেবে বর্ণনা করে।
➤ ভেসালিয়াস গ্যালেনের পশুর দেহের ওপর নির্ভর করে তৈরি বহু মানব-অঙ্গসংস্থানগত ধারণা সংশোধন করেন।
➤ তিনি ১৫১৪ সালে ব্রাসেলসে জন্মগ্রহণ করেন এবং পাদুয়ায় অধ্যাপনা করেন।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. উইলিয়াম হার্ভে ⇒ De Motu Cordis গ্রন্থে রক্তসঞ্চালন ব্যাখ্যা করেন।
❖ খ. আন্দ্রেস ভেসালিয়াস ⇒ De humani corporis fabrica রচয়িতা; সঠিক।
❖ গ. রেনে ডেকার্ট ⇒ ফরাসি দার্শনিক ও গণিতবিদ; Cartesian philosophy ও analytical geometry-এর জন্য বিখ্যাত।
❖ ঘ. ইবনে সিনা ⇒ পারস্যের চিকিৎসক-দার্শনিক; তাঁর বিখ্যাত চিকিৎসাবিষয়ক গ্রন্থ Al-Qanun fi al-Tibb (The Canon of Medicine)।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৭. কোষ মতবাদের প্রবক্তা কে? (খুবি: ০৪-০৫)

ক

গ্রেগর জোহান মেন্ডেল

খ

থিওডোর সোয়ান

গ

লুই পাস্তুর

ঘ

ক্যারোলাস লিনিয়াস

✅ সঠিক উত্তর:খ. থিওডোর সোয়ান

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: থিওডোর সোয়ান — প্রদত্ত অপশন অনুযায়ী
✦ অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ জার্মান প্রাণিবিজ্ঞানী থিওডোর সোয়ান (Theodor Schwann, ১৮১০–১৮৮২) ১৮৩৯ সালে প্রাণীদেহও কোষ দিয়ে গঠিত—এই নীতি প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগের বছর ম্যাথিয়াস শ্লাইডেন উদ্ভিদদেহের ক্ষেত্রে অনুরূপ সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।
❖ তাই ঐতিহাসিকভাবে Cell Theory-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে Schleiden ও Schwann—উভয়ের নাম একসঙ্গে বলা অধিক সঠিক। প্রশ্নের অপশনগুলোর মধ্যে শুধু Schwann থাকায় খ সঠিক।
➤ মৌলিক কোষতত্ত্ব: জীব কোষ দিয়ে গঠিত; কোষ জীবনের মৌলিক একক।
➤ পরবর্তী সংযোজন: নতুন কোষ পূর্ববর্তী কোষ থেকেই উৎপন্ন হয়—Omnis cellula e cellula ধারণা।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল ⇒ বংশগতিবিদ্যার জনক; pea plant পরীক্ষার জন্য বিখ্যাত।
❖ খ. থিওডোর সোয়ান ⇒ প্রাণীকোষ গবেষণা ও কোষতত্ত্বের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা; সঠিক।
❖ গ. লুই পাস্তুর ⇒ জীবাণুতত্ত্ব, pasteurization ও spontaneous generation খণ্ডনে বিখ্যাত।
❖ ঘ. ক্যারোলাস লিনিয়াস ⇒ আধুনিক taxonomy ও দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির জনক।
04
🎯 Level 1

১০. সবচেয়ে ছোট কোষ কোনটি? (বিটিভি’র বিজ্ঞাপন আধিকারিক: ০৬)

ক

দেহকোষ

খ

উট পাখির ডিম

গ

ভাইরাসের কোষ

ঘ

মাইকোপ্লাজমা

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. মাইকোপ্লাজমা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: মাইকোপ্লাজমা
✦ অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ Mycoplasma-রা সবচেয়ে ক্ষুদ্র ও সরল স্বয়ং-প্রতিলিপিকারী ব্যাকটেরিয়ার অন্তর্ভুক্ত। এদের rigid cell wall নেই এবং অনেক প্রজাতি প্রায় ০.১–০.৩ μm মাত্রার হতে পারে। NCBI-র Medical Microbiology-তেও mycoplasma-কে smallest and simplest self-replicating bacteria বলা হয়েছে।
❖ বিশেষভাবে Mycoplasma genitalium ছোট genome-যুক্ত autonomous cell-এর গুরুত্বপূর্ণ মডেল।
➤ Mycoplasma-র থাকে plasma membrane, ribosome এবং DNA genome।
➤ cell wall অনুপস্থিত হওয়ায় আকার পরিবর্তনশীল বা pleomorphic হতে পারে।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. দেহকোষ ⇒ বহু ধরনের somatic cell বোঝায়; সর্বক্ষুদ্র নয়।
❖ খ. উট পাখির ডিম ⇒ বরং বৃহত্তম একক কোষের উদাহরণ।
❖ গ. ভাইরাসের কোষ ⇒ বৈজ্ঞানিকভাবে “virus cell” নেই; ভাইরাস অকোষীয়।
❖ ঘ. মাইকোপ্লাজমা ⇒ ক্ষুদ্রতম স্বয়ং-প্রতিলিপিকারী কোষীয় জীবগুলোর অন্যতম; সঠিক।
05
🎯 Level 1

১৩. পৃথিবীর প্রথম সৃষ্ট জীব কোনটি? (থানা শিক্ষা অফিসার: ১৬)

ক

অ্যামিবা

খ

তেলাপোকা

গ

বাঘ

ঘ

বানর

✅ সঠিক উত্তর:ক. অ্যামিবা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: অ্যামিবা (Amoeba)
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ অ্যামিবা (Amoeba) একটি এককোষী, অণুবীক্ষণিক ও ইউক্যারিওটিক (Eukaryotic) জীব। সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক পুরোনো চাকরির পরীক্ষায় পৃথিবীর প্রথম সৃষ্ট জীব হিসেবে অ্যামিবা উত্তরটি প্রচলিত। প্রদত্ত চারটি বিকল্পের মধ্যে ক. অ্যামিবা পরীক্ষার প্রত্যাশিত উত্তর।
❖ বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: আধুনিক বিবর্তনবিজ্ঞান অনুযায়ী অ্যামিবা পৃথিবীর প্রথম জীব নয়। পৃথিবীর প্রথম জীবগুলো ছিল সম্ভবত অত্যন্ত সরল এককোষী প্রোক্যারিওটিক অণুজীব, যাদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস ছিল না। অ্যামিবা হলো তুলনামূলক জটিল নিউক্লিয়াসযুক্ত এককোষী জীব, যার আবির্ভাব আদিম প্রোক্যারিওটদের পরে।
❖ অ্যামিবার পরিচয়: অ্যামিবা এমন একধরনের এককোষী জীব, যা ছদ্মপদ (Pseudopodia) তৈরি করে চলাচল ও খাদ্যগ্রহণ করতে পারে। অ্যামিবার দেহের আকার নির্দিষ্ট নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।
❖ অ্যামিবার বৈজ্ঞানিক উদাহরণ: Amoeba proteus। এটি গবেষণাগারে এবং জীববিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকে বহুল আলোচিত একটি অ্যামিবা প্রজাতি।
❖ অ্যামিবার বাসস্থান: অ্যামিবা সাধারণত পুকুর, ডোবা, হ্রদ, স্থির মিঠাপানি, ভেজা মাটি এবং আর্দ্র পরিবেশে পাওয়া যায়। অ্যামিবাসদৃশ বিভিন্ন জীব সামুদ্রিক ও অন্যান্য পরিবেশেও বাস করে।
❖ দেহের গঠন: অ্যামিবার দেহ একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত। এই একটি কোষই পুষ্টি গ্রহণ, শ্বসন, চলাচল, রেচন, বৃদ্ধি ও প্রজননসহ প্রয়োজনীয় জীবনক্রিয়া সম্পন্ন করে।
❖ কোষের প্রধান অংশ: অ্যামিবার কোষে কোষঝিল্লি (Cell Membrane), সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm), নিউক্লিয়াস (Nucleus), খাদ্যগহ্বর (Food Vacuole) এবং সংকোচনশীল গহ্বর (Contractile Vacuole) থাকে।
❖ নিউক্লিয়াসের কাজ: নিউক্লিয়াসে জীবের বংশগত তথ্য বা DNA সংগঠিত থাকে এবং এটি কোষের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
❖ সাইটোপ্লাজম: অ্যামিবার কোষঝিল্লির ভেতরে অবস্থিত জেলির মতো পদার্থ। কোষের বিভিন্ন বিপাকীয় কার্যক্রম এখানে সংঘটিত হয়।
❖ ছদ্মপদ (Pseudopodia): অ্যামিবার চলাচলের প্রধান অঙ্গসদৃশ গঠন। সাইটোপ্লাজমের অস্থায়ী প্রসারণের মাধ্যমে ছদ্মপদ সৃষ্টি হয়।
❖ অ্যামিবার চলন: অ্যামিবা ছদ্মপদীয় চলন (Amoeboid Movement) প্রদর্শন করে। এটি ছদ্মপদ প্রসারিত করে সাইটোপ্লাজমকে সেদিকে প্রবাহিত করার মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করে।
❖ খাদ্যগ্রহণ পদ্ধতি: অ্যামিবা ছদ্মপদ দিয়ে খাদ্যকণাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং কোষের ভেতরে প্রবেশ করায়। এই প্রক্রিয়াকে ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis) বলা হয়।
❖ খাদ্যগহ্বর: খাদ্য গ্রহণের পর Food Vacuole তৈরি হয়। এতে বিভিন্ন পরিপাকীয় এনজাইমের সাহায্যে খাদ্য ভেঙে পুষ্টি উপাদান শোষিত হয়।
❖ সংকোচনশীল গহ্বর: মিঠাপানির অ্যামিবার দেহের অতিরিক্ত পানি বের করে পানির ভারসাম্য বা অসমোরেগুলেশন (Osmoregulation) বজায় রাখতে সাহায্য করে।
❖ প্রজনন পদ্ধতি: অ্যামিবা সাধারণত অযৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। এর প্রধান পদ্ধতি দ্বিবিভাজন (Binary Fission)।
❖ দ্বিবিভাজন: উপযুক্ত পরিবেশে অ্যামিবার নিউক্লিয়াস প্রথমে বিভক্ত হয়, পরে সাইটোপ্লাজম বিভক্ত হয়ে দুটি নতুন অপত্যকোষ সৃষ্টি করে।
❖ অ্যামিবা ও আমাশয়: Entamoeba histolytica নামক পরজীবী অ্যামিবাসদৃশ জীব মানুষের অ্যামিবিক আমাশয় (Amoebiasis) সৃষ্টি করতে পারে। তবে সাধারণ Amoeba proteus ও রোগসৃষ্টিকারী Entamoeba histolytica একই প্রজাতি নয়।
❖ পৃথিবীর বয়স: আধুনিক ভূতাত্ত্বিক গবেষণা অনুযায়ী পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫৪ কোটি বছর (৪.৫৪ বিলিয়ন বছর)।
❖ পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাব: পৃথিবীতে প্রাচীন অণুজীবের উপস্থিতির শক্তিশালী ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ প্রায় ৩৫০ কোটি বছর বা ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগের শিলাস্তরে পাওয়া যায়। আরও প্রাচীন জীবনের সম্ভাব্য চিহ্ন নিয়েও গবেষণা চলছে।
❖ প্রথম জীবের প্রকৃতি: প্রাচীনতম জীবগুলো ছিল সম্ভবত এককোষী, সরল গঠনবিশিষ্ট, নিউক্লিয়াসবিহীন প্রোক্যারিওটিক অণুজীব। বর্তমান ব্যাকটেরিয়া ও আর্কিয়া এ ধরনের কোষীয় সংগঠনের উদাহরণ।
❖ প্রোক্যারিওটিক কোষ: যে কোষে ঝিল্লিবেষ্টিত প্রকৃত নিউক্লিয়াস নেই, তাকে প্রোক্যারিওটিক কোষ বলে। যেমন—ব্যাকটেরিয়া ও আর্কিয়া।
❖ ইউক্যারিওটিক কোষ: যে কোষে ঝিল্লিবেষ্টিত সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে, তাকে ইউক্যারিওটিক কোষ বলে। যেমন—অ্যামিবা, ছত্রাক, উদ্ভিদ ও প্রাণীর কোষ।
❖ প্রোক্যারিওটের প্রাচীনত্ব: জীবাশ্ম ও বিবর্তনমূলক গবেষণা থেকে জানা যায়, প্রোক্যারিওটিক অণুজীব ইউক্যারিওটিক জীবের বহু আগে পৃথিবীতে উদ্ভূত হয়েছিল।
❖ স্ট্রোমাটোলাইট (Stromatolite): অণুজীবের স্তরবিন্যাস ও পলি আটকে রাখার কার্যক্রমের ফলে গঠিত বিশেষ শিলাস্তর। প্রায় ৩৫০ কোটি বছর পুরোনো স্ট্রোমাটোলাইট পৃথিবীর প্রাচীন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
❖ প্রাচীন জীবনের আবাসস্থল: প্রাথমিক জীবনের বিকাশে সমুদ্র ও জলীয় পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে ধারণা করা হয়। বিশেষত খনিজসমৃদ্ধ জলীয় পরিবেশ এবং সমুদ্রতলের উষ্ণ প্রস্রবণ নিয়ে গবেষণা রয়েছে।
❖ আদিম বায়ুমণ্ডল: পৃথিবীর প্রাথমিক পর্যায়ে বায়ুমণ্ডলে বর্তমানের মতো প্রচুর মুক্ত অক্সিজেন ছিল না। তাই প্রাচীন জীবের অনেকের বিপাক অক্সিজেননির্ভর ছিল না বলে ধারণা করা হয়।
❖ সায়ানোব্যাকটেরিয়া (Cyanobacteria): একধরনের সালোকসংশ্লেষী প্রোক্যারিওটিক অণুজীব, যারা অক্সিজেন উৎপাদনকারী সালোকসংশ্লেষণের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
❖ মহা অক্সিজেনায়ন ঘটনা (Great Oxidation Event): প্রায় ২৪০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এই পরিবর্তনে অক্সিজেন উৎপাদনকারী অণুজীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
❖ ইউক্যারিওটিক জীবের বিকাশ: বিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রোক্যারিওটিক জীবের পরে প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত ইউক্যারিওটিক জীবের আবির্ভাব ঘটে। অ্যামিবা এই ইউক্যারিওটিক জীবগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
❖ তেলাপোকার পরিচয়: তেলাপোকা একটি বহুকোষী অমেরুদণ্ডী কীটপতঙ্গ। এটি Arthropoda পর্ব ও Insecta শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তেলাপোকাসদৃশ প্রাচীন কীটপতঙ্গের জীবাশ্ম প্রায় ৩১–৩২ কোটি বছর আগের শিলাস্তরে পাওয়া যায়।
❖ বাঘের পরিচয়: বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris। এটি Chordata পর্ব, Mammalia শ্রেণি এবং Carnivora বর্গের অন্তর্ভুক্ত বহুকোষী স্তন্যপায়ী প্রাণী।
❖ বানরের পরিচয়: বানর হলো Primates বর্গের অন্তর্ভুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাধারণ নাম। বানরদের বিবর্তন পৃথিবীর প্রাচীন এককোষী জীবের উদ্ভবের বহু পরে ঘটেছে।
❖ জীবের বিবর্তন: পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের বিকাশে জিনগত পরিবর্তন, প্রাকৃতিক নির্বাচন, বংশগত বৈচিত্র্য এবং দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ আধুনিক বিজ্ঞানে প্রাচীনতম জীবের ধরন — সরল প্রোক্যারিওটিক অণুজীব।
➤ অ্যামিবা — এককোষী ইউক্যারিওটিক জীব।
➤ অ্যামিবার পরিচিত প্রজাতি — Amoeba proteus।
➤ অ্যামিবার চলন অঙ্গসদৃশ গঠন — ছদ্মপদ।
➤ ছদ্মপদের ইংরেজি — Pseudopodia।
➤ অ্যামিবার চলন — Amoeboid Movement।
➤ অ্যামিবার খাদ্যগ্রহণ পদ্ধতি — Phagocytosis।
➤ খাদ্য পরিপাকের গহ্বর — Food Vacuole।
➤ অতিরিক্ত পানি অপসারণ — Contractile Vacuole।
➤ অ্যামিবার প্রধান প্রজনন পদ্ধতি — দ্বিবিভাজন।
➤ দ্বিবিভাজনের ইংরেজি — Binary Fission।
➤ অ্যামিবার কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস — আছে।
➤ অ্যামিবা — Eukaryote।
➤ ব্যাকটেরিয়া — Prokaryote।
➤ আর্কিয়া — Prokaryote।
➤ প্রোক্যারিওটিক কোষে প্রকৃত নিউক্লিয়াস — নেই।
➤ ইউক্যারিওটিক কোষে প্রকৃত নিউক্লিয়াস — আছে।
➤ মানুষের অ্যামিবিক আমাশয়ের জীবাণু — Entamoeba histolytica।
➤ পৃথিবীর আনুমানিক বয়স — ৪৫৪ কোটি বছর।
➤ প্রাচীন জীবনের সুপ্রতিষ্ঠিত জীবাশ্ম-প্রমাণ — প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগের।
➤ প্রাচীন অণুজীবের স্তরযুক্ত শিলাগঠন — স্ট্রোমাটোলাইট।
➤ Stromatolite — অণুজীবের কার্যক্রমে সৃষ্ট স্তরযুক্ত শিলাগঠন।
➤ প্রথম জীবের সম্ভাব্য আবাসস্থল — প্রাচীন জলীয় পরিবেশ।
➤ মহা অক্সিজেনায়ন ঘটনা — প্রায় ২৪০ কোটি বছর আগে।
➤ অক্সিজেন উৎপাদনকারী সালোকসংশ্লেষে গুরুত্বপূর্ণ অণুজীব — সায়ানোব্যাকটেরিয়া।
➤ তেলাপোকার পর্ব — Arthropoda।
➤ তেলাপোকার শ্রেণি — Insecta।
➤ তেলাপোকাসদৃশ জীবাশ্ম — প্রায় ৩১–৩২ কোটি বছর প্রাচীন।
➤ বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম — Panthera tigris।
➤ বাঘের শ্রেণি — Mammalia।
➤ বাঘের বর্গ — Carnivora।
➤ বানর — Primates বর্গের প্রাণী।
➤ তেলাপোকা, বাঘ ও বানর — বহুকোষী প্রাণী।
➤ অ্যামিবা — এককোষী জীব।
➤ এককোষী জীব ও পৃথিবীর প্রথম জীব — একই ধারণা নয়।
Advertisement
06
🎯 Level 1

১৬. বহুকোষী প্রাণী নয় কোনটি? (থানা শিক্ষা অফিসার: ০৯)

ক

তেলাপোকা

খ

শামুক

গ

অ্যামিবা

ঘ

মাছ

✅ সঠিক উত্তর:গ. অ্যামিবা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: অ্যামিবা
✦ অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ অ্যামিবা একটি এককোষী eukaryote। একটি কোষই জীবনধারণের সব মৌলিক কাজ সম্পন্ন করে।
❖ তেলাপোকা, শামুক ও মাছের দেহ বিপুল সংখ্যক বিশেষায়িত কোষ, টিস্যু ও অঙ্গ দিয়ে গঠিত।
✦ তথ্যগত সূক্ষ্মতা:
❖ আধুনিক taxonomy-তে Amoeba প্রকৃত অর্থে Animalia-র সদস্য নয়; এটি protist। তবে প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক প্রশ্নে “বহুকোষী প্রাণী নয়” বলতে এককোষী জীব হিসেবে অ্যামিবাকেই বোঝানো হয়েছে।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. তেলাপোকা ⇒ Arthropoda পর্বের বহুকোষী প্রাণী।
❖ খ. শামুক ⇒ Mollusca পর্বের বহুকোষী প্রাণী।
❖ গ. অ্যামিবা ⇒ এককোষী protist; সঠিক।
❖ ঘ. মাছ ⇒ বহুকোষী vertebrate।
07
🎯 Level 1

১৯. ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কী দিয়ে তৈরি? (মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ০১)

ক

পেকটোজ

খ

লিগনিন

গ

সুবেরিন

ঘ

কাইটিন

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. কাইটিন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: কাইটিন
✦ অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ছত্রাকের cell wall-এর গুরুত্বপূর্ণ structural polysaccharide হলো chitin, যা N-acetylglucosamine-এর polymer।
❖ তবে fungal wall শুধু chitin দিয়ে তৈরি নয়; বিভিন্ন fungi-তে β-glucan, mannoprotein এবং অন্যান্য carbohydrate/protein-ও থাকে। NCBI-র cell biology text-এ chitin-কে fungal wall-এর basic structural polysaccharide বলা হয়েছে।
➤ chitin arthropod exoskeleton-এও পাওয়া যায়।
➤ উদ্ভিদের cellulose-এর সঙ্গে chitin-এর structural ভূমিকা তুলনীয়, কিন্তু রাসায়নিক গঠন আলাদা।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. পেকটোজ ⇒ উদ্ভিদ cell wall-এর pectic substance-এর সঙ্গে সম্পর্কিত পুরোনো পরিভাষা; fungal wall-এর প্রধান উপাদান নয়।
❖ খ. লিগনিন ⇒ woody plant-এর secondary cell wall-এ জমা হয়ে দৃঢ়তা দেয়।
❖ গ. সুবেরিন ⇒ cork tissue ও endodermis-এ পাওয়া lipid-like hydrophobic material।
❖ ঘ. কাইটিন ⇒ fungal wall-এর গুরুত্বপূর্ণ structural polymer; সঠিক।
08
🎯 Level 1

২২. ‘উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রোটোপ্লাজমের গঠন একই রকম হয়’ এই সিদ্ধান্ত কে দেন? (সিএজি কার্যালয়ের অডিটর: ৯৬)

ক

ফার্ডিনান্ড কোহন (Ferdinand Cohn)

খ

ইয়ান পুরকিনজি (Jan Purkinje)

গ

ওয়ালডেয়ার (Wilhelm Waldeyer)

ঘ

ফেলিস ফন্টানা (Felice Fontana)

✅ সঠিক উত্তর:ক. ফার্ডিনান্ড কোহন (Ferdinand Cohn)

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক উত্তর: ফার্ডিনান্ড কোহন (Ferdinand Cohn)।
◈ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনী:
❖ মূল প্রশ্নে ‘কুহন’ নামটি সংশোধন করে ‘ফার্ডিনান্ড কোহন’ করা হয়েছে। ১৮৫০ সালে কোহন উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের জীবন্ত পদার্থের মৌলিক সাদৃশ্যের ধারণা প্রকাশ করেন।
❖ ম্যাক্স শুলৎসে (Max Schultze) পরবর্তী সময়ে ১৮৬১ সালে প্রোটোপ্লাজমের অভিন্ন মৌলিক প্রকৃতির পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপন করে প্রোটোপ্লাজম তত্ত্ব (Protoplasm Theory) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
❖ কয়েকটি বাংলা সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নসংকলনে ‘ফন্টানা’ উত্তর পাওয়া যায়। তবে নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞান-ইতিহাস অনুযায়ী উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রোটোপ্লাজমের সাদৃশ্যের ধারণাটি ফন্টানার নামে প্রতিষ্ঠিত নয়। ফন্টানার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল কোষের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পর্যবেক্ষণ।
American Physiological Society
+2
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
১. ফার্ডিনান্ড কোহন ও প্রোটোপ্লাজমের সাদৃশ্য
❖ ফার্ডিনান্ড জুলিয়াস কোহন (Ferdinand Julius Cohn) ছিলেন একজন জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও অণুজীববিজ্ঞানী।
❖ ১৮৫০ সালে তিনি উদ্ভিদকোষের প্রোটোপ্লাজম এবং প্রাণিকোষ ও নিম্নশ্রেণির জীবের সারকোড (Sarcode)-এর মধ্যে মৌলিক সাদৃশ্যের কথা বলেন।
❖ তিনি মনে করেন, উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে বাহ্যিক গঠনগত পার্থক্য থাকলেও তাদের জীবন্ত কোষীয় পদার্থের প্রকৃতি অনেকাংশে একই ধরনের।
❖ তাঁর বক্তব্যে এই পদার্থগুলোকে সম্পূর্ণ অভিন্ন বলে নিশ্চিত করা হয়নি; বরং অভিন্ন অথবা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সদৃশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
❖ এই ধারণা জীববিজ্ঞানে উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে জীবনপ্রক্রিয়ার মৌলিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
২. ফার্ডিনান্ড কোহনের জীবন ও পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: Ferdinand Julius Cohn।
❖ জন্ম: ২৪ জানুয়ারি ১৮২৮।
❖ জন্মস্থান: ব্রেসলাউ, প্রুশিয়া; বর্তমান রক্লাউ, পোল্যান্ড।
❖ মৃত্যু: ২৫ জুন ১৮৯৮।
❖ মৃত্যুস্থান: ব্রেসলাউ।
❖ পেশা: উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও অণুজীববিজ্ঞানী।
❖ বিশেষ পরিচিতি: আধুনিক ব্যাকটেরিয়াবিজ্ঞানের অন্যতম পথিকৃৎ।
❖ প্রধান অবদান: ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিন্যাস, ব্যাকটেরিয়ার স্পোর ও জীবন্ত কোষীয় পদার্থ নিয়ে গবেষণা।
❖ তিনি Bacillus গণের ব্যাকটেরিয়া, বিশেষত Bacillus subtilis নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত।
৩. প্রোটোপ্লাজম (Protoplasm) কী?
❖ কোষের অভ্যন্তরে অবস্থিত জীবন্ত উপাদানকে ঐতিহ্যগতভাবে প্রোটোপ্লাজম বলা হয়।
❖ এটি পানি, প্রোটিন, লিপিড, শর্করা, নিউক্লিক অ্যাসিড, খনিজ আয়নসহ নানা জৈব ও অজৈব উপাদান নিয়ে গঠিত।
❖ প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে কোষের গুরুত্বপূর্ণ জীবনক্রিয়া সংঘটিত হয়।
❖ ঐতিহ্যগত কোষবিদ্যার ভাষায় সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াসের জীবন্ত উপাদান প্রোটোপ্লাজম ধারণার অন্তর্ভুক্ত।
❖ আধুনিক কোষবিজ্ঞানে প্রোটোপ্লাজমকে সব জীবের মধ্যে অভিন্ন রাসায়নিক গঠনবিশিষ্ট একটিমাত্র সরল পদার্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। বিভিন্ন জীব ও কোষে এর উপাদান ও বিন্যাসে পার্থক্য থাকে।
৪. ম্যাক্স শুলৎসে ও প্রোটোপ্লাজম তত্ত্ব
❖ ম্যাক্স শুলৎসে (Max Johann Sigismund Schultze) ছিলেন জার্মান শরীরস্থানবিদ ও কোষবিজ্ঞানী।
❖ জন্ম: ২৫ মার্চ ১৮২৫।
❖ জন্মস্থান: ফ্রাইবুর্গ, জার্মানি।
❖ মৃত্যু: ১৬ জানুয়ারি ১৮৭৪।
❖ মৃত্যুস্থান: বন, জার্মানি।
❖ ১৮৬১ সালে তিনি কোষের জীবন্ত উপাদান হিসেবে প্রোটোপ্লাজমের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে কোষতত্ত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ ১৮৬৩ সালে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ Das Protoplasma der Rhizopoden und der Pflanzenzellen প্রকাশিত হয়।
❖ গ্রন্থটিতে নিম্নশ্রেণির জীবের সারকোড এবং উদ্ভিদকোষের প্রোটোপ্লাজমের মৌলিক সাদৃশ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
❖ তিনি জীবকোষকে প্রোটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াসসমন্বিত জীবন্ত একক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
❖ প্রোটোপ্লাজম তত্ত্বের ঐতিহাসিক বিকাশে ম্যাক্স শুলৎসে ও হাইনরিখ ডে বারি (Heinrich de Bary)-র গবেষণা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
৫. ইয়ান পুরকিনজির অবদান
❖ ইয়ান ইভানজেলিস্তা পুরকিনজি (Jan Evangelista Purkyně) ছিলেন একজন বিখ্যাত চেক শারীরতত্ত্ববিদ।
❖ জন্ম: ১৭ ডিসেম্বর ১৭৮৭।
❖ মৃত্যু: ২৮ জুলাই ১৮৬৯।
❖ ১৮৩৯–১৮৪০ সালের দিকে তিনি প্রাণীভ্রূণের জীবন্ত গঠনকারী পদার্থ বোঝাতে Protoplasm শব্দটি ব্যবহার করেন।
❖ তাঁর নামে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক বিষয়—
✦ Purkinje Cells: মস্তিষ্কের সেরিবেলামের বিশেষ স্নায়ুকোষ।
✦ Purkinje Fibres: হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা পরিবহনকারী বিশেষ তন্তু।
✦ Purkinje Effect: আলোর উজ্জ্বলতা পরিবর্তনের সঙ্গে রঙের আপেক্ষিক উজ্জ্বলতা উপলব্ধির পরিবর্তন।
৬. ফেলিস ফন্টানার অবদান
❖ ফেলিস ফন্টানা (Felice Fontana) ছিলেন ইতালীয় প্রকৃতিবিজ্ঞানী ও শারীরতত্ত্ববিদ।
❖ জন্ম: ১৭৩০।
❖ জন্মস্থান: পোমারোলো, বর্তমান ইতালি।
❖ মৃত্যু: ১৮০৫।
❖ ১৭৮১ সালে ফন্টানা প্রাণিকোষের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন।
❖ কোষের নিউক্লিয়াস ও নিউক্লিওলাসের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে তাঁর নাম উল্লেখযোগ্য।
❖ কিন্তু প্রোটোপ্লাজমের মৌলিক ঐক্য নিয়ে যে তত্ত্ব ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি প্রতিষ্ঠিত হয়, তার প্রধান কৃতিত্ব ফন্টানার নয়।
৭. ওয়ালডেয়ারের অবদান
❖ হাইনরিখ উইলহেল্ম ওয়ালডেয়ার (Heinrich Wilhelm Waldeyer) ছিলেন জার্মান শরীরস্থানবিদ।
❖ জন্ম: ৬ অক্টোবর ১৮৩৬।
❖ মৃত্যু: ২৩ জানুয়ারি ১৯২১।
❖ ১৮৮৮ সালে তিনি Chromosome (ক্রোমোজোম) পরিভাষাটি প্রবর্তন করেন।
❖ ১৮৯১ সালে স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত একক বোঝাতে Neuron (নিউরন) পরিভাষাটি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
❖ তাঁর কাজ আধুনিক কোষবিজ্ঞান, জিনতত্ত্ব ও স্নায়ুবিজ্ঞানের ইতিহাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
৮. কুহনে ও কোহনের পার্থক্য
❖ উইলহেল্ম কুহনে (Wilhelm Kühne, ১৮৩৭–১৯০০) ছিলেন জার্মান শারীরতত্ত্ববিদ।
❖ তিনি প্রোটোপ্লাজমের সংকোচনশীলতা (Contractility) নিয়ে গবেষণা করেন।
❖ তাঁর গবেষণাগ্রন্থ Untersuchungen über das Protoplasma und die Contractilität ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।
❖ অন্যদিকে ফার্ডিনান্ড কোহন (১৮২৮–১৮৯৮) উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন্ত কোষীয় পদার্থের মৌলিক সাদৃশ্যের ধারণা ১৮৫০ সালে উপস্থাপন করেন।
❖ তাই কোহন (Cohn) এবং কুহনে (Kühne) দুজন ভিন্ন বিজ্ঞানী। তাঁদের গবেষণার বিষয় কাছাকাছি হলেও অবদান এক নয়।
৯. উদ্ভিদকোষ ও প্রাণিকোষের প্রোটোপ্লাজমের সাদৃশ্য
❖ উভয় ধরনের কোষেই জীবন্ত কার্যক্রমের জন্য পানি, প্রোটিন, লিপিড, নিউক্লিক অ্যাসিড ও বিভিন্ন এনজাইম প্রয়োজন হয়।
❖ উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রকৃতকোষে সাধারণভাবে সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, রাইবোজোম ও কোষঝিল্লি থাকে।
❖ উভয় ধরনের কোষে শ্বসন, প্রোটিন সংশ্লেষণ, শক্তি উৎপাদন, বিপাকীয় ক্রিয়া ও কোষ বিভাজন ঘটে।
❖ তবে উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের সব উপাদান বা রাসায়নিক অনুপাত হুবহু এক নয়।
Advertisement
09
🎯 Level 1

২৫. প্লাস্টিড কোন কোষে অবস্থান করে? (জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক: ২৪)

ক

উদ্ভিদ কোষ

খ

প্রাণী কোষ

গ

মানুষ

ঘ

কোনোটিই নয়

✅ সঠিক উত্তর:ক. উদ্ভিদ কোষ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: উদ্ভিদ কোষ
✦ অতিরিক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
ব্যাখ্যা: উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত সবচেয়ে বড় অঙ্গাণুর নাম প্লাস্টিড। ১৮৮৩ সালে শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষের সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন এবং এর নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। প্রাণিকোষ, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও নীলাভ সবুজ শৈবালে প্লাস্টিড (ক্লোরোপ্লাস্ট) নেই। প্লাস্টিড তিন প্রকার। যথা- লিউকোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ও ক্লোরোপ্লাস্ট।
লিউকোপ্লাস্ট: যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না সেগুলোকে লিউকোপ্লাস্ট বলে। এটি বর্ণহীন। যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, (যেমন- মূল, মূল, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে।
ক্রোমোপ্লাস্ট: রঙিন প্লাস্টিড হলো ক্রোমোপ্লাস্ট। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থোফিল, ক্যারোটিন, লাইকোপিন, ফাইকোএরিথ্রিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে। জ্যান্থোফিলের আধিক্যের কারণে হলুদ, ক্যারোটিন জন্য কমলা, লাইকোপিনের জন্য লাল রং হয়। রঙিন ফল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। এদের প্রধান কাজ ফলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।
ক্লোরোপ্লাস্ট: সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে ক্লোরোপ্লাস্ট পাওয়া যায়। ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল থাকার কারণে এদের সবুজ দেখায়। ক্লোরোফিল অণুর উপাদান ম্যাগনেসিয়াম। সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করা।
❖ Plastid হলো উদ্ভিদ ও বিভিন্ন algae-তে পাওয়া double-membrane-bound organelle family। photosynthesis, pigment storage এবং starch/lipid/protein synthesis ও storage-এ বিভিন্ন plastid বিশেষায়িত।
❖ A. F. W. Schimper ১৮৮৩ সালে chlorophyll-containing, colorless এবং colored plastid-কে একই organelle family-এর বিভিন্ন রূপ হিসেবে শ্রেণিবিন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেন। তাঁর nomenclature থেকেই chloroplast, leucoplast ও chromoplast ধারণা সুসংহত হয়।
➤ Chloroplast ⇒ chlorophyll-সমৃদ্ধ; photosynthesis।
➤ Chromoplast ⇒ carotenoid-সমৃদ্ধ; হলুদ, কমলা, লাল রং তৈরি করতে পারে।
➤ Leucoplast ⇒ বর্ণহীন; storage ও biosynthesis-এ ভূমিকা।
✦ মূল ব্যাখ্যার তথ্য-সংশোধনী:
❖ “উদ্ভিদ কোষের ... সবচেয়ে বড় অঙ্গাণু প্লাস্টিড” ⇒ সাধারণ mature plant cell-এ central vacuole-ই প্রায়শ সবচেয়ে বড় intracellular compartment; plastid-কে সর্বজনীনভাবে সবচেয়ে বড় organelle বলা ঠিক নয়।
❖ “১৮৮৩ সালে শিম্পার ... প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন” ⇒ তাঁর বড় অবদান ছিল plastid family-এর classification/nomenclature ও interrelationship; chlorophyll-containing bodies তাঁর আগেও পর্যবেক্ষিত হয়েছিল।
❖ “নীলাভ সবুজ শৈবালে প্লাস্টিড নেই” ⇒ আধুনিক নাম cyanobacteria; এগুলো bacteria, সত্যিই chloroplast নেই। Chlorophyll ও photosynthetic machinery তাদের internal thylakoid membrane-এ থাকে।
❖ “ক্রোমোপ্লাস্টে ... ফাইকোএরিথ্রিন” ⇒ chromoplast-এর প্রধান স্বীকৃত pigments হলো carotenoids; phycoerythrin মূলত red algae ও cyanobacteria-র phycobiliprotein, সাধারণ chromoplast pigment নয়।
❖ “রঙিন ফল... পরাগায়নে সাহায্য” ⇒ ফুলের রং pollinator আকর্ষণ করতে পারে; কিন্তু ফলের রং সাধারণত seed disperser আকর্ষণে ভূমিকা রাখে। ফলে পরাগায়ন ইতোমধ্যে ঘটে গেছে।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. উদ্ভিদ কোষ ⇒ plastid-এর প্রধান অবস্থান; সঠিক।
❖ খ. প্রাণী কোষ ⇒ স্বাভাবিক animal cell-এ plastid নেই।
❖ গ. মানুষ ⇒ মানবকোষ animal cell; plastid নেই।
❖ ঘ. কোনোটিই নয় ⇒ ভুল, কারণ উদ্ভিদকোষে plastid থাকে।
10
🎯 Level 1

২৮. সবুজ প্লাস্টিডের নাম কী? (মাউসি অধিদপ্তরের প্রদর্শক: ০৪)

ক

ক্রোমোপ্লাস্ট

খ

লিউকোপ্লাস্ট

গ

ক্লোরোপ্লাস্ট

ঘ

কোনোটিই নয়

✅ সঠিক উত্তর:গ. ক্লোরোপ্লাস্ট

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast) হলো উদ্ভিদকোষের একধরনের সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড, যার মধ্যে ক্লোরোফিল (Chlorophyll) নামক সবুজ রঞ্জক পদার্থ থাকে। ক্লোরোফিলের উপস্থিতির কারণেই ক্লোরোপ্লাস্ট সবুজ দেখায়।
❖ ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ: সবুজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ার প্রধান অঙ্গাণু হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। এই প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে শর্করা তৈরির ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
❖ সালোকসংশ্লেষণের সংজ্ঞা: সবুজ উদ্ভিদ, শৈবাল এবং কিছু অণুজীব আলোকশক্তি ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে জৈব খাদ্য উপাদান প্রস্তুত করে। অক্সিজেন-উৎপাদনকারী সালোকসংশ্লেষণে উপজাত হিসেবে অক্সিজেন নির্গত হয়।
❖ সালোকসংশ্লেষণের সরলীকৃত সমীকরণ:
৬CO₂ + ৬H₂O + আলোকশক্তি → C₆H₁₂O₆ + ৬O₂
এটি সালোকসংশ্লেষণের সামগ্রিক সরলীকৃত সমীকরণ; প্রকৃত জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়া একাধিক ধাপে সংঘটিত হয়।
❖ ক্লোরোপ্লাস্টের অবস্থান: সবুজ উদ্ভিদের পাতার মেসোফিল (Mesophyll) কোষে প্রচুর ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। এছাড়া সবুজ কাণ্ড ও অন্যান্য সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গেও ক্লোরোপ্লাস্ট পাওয়া যায়।
❖ ক্লোরোপ্লাস্টের আবরণী: ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণীযুক্ত অঙ্গাণু। এর বাইরের আবরণকে Outer Membrane এবং ভেতরের আবরণকে Inner Membrane বলে।
❖ ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান গঠনগত অংশ:
➤ Outer Membrane — বাইরের আবরণ।
➤ Inner Membrane — ভেতরের আবরণ।
➤ Stroma — ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরের তরল অংশ।
➤ Thylakoid — ঝিল্লিবেষ্টিত চাকতির মতো গঠন।
➤ Granum — একটির ওপর আরেকটি সাজানো থাইলাকয়েডের স্তূপ।
➤ Grana — একাধিক গ্রানামের সমষ্টিগত নাম।
➤ Stroma Lamellae — থাইলাকয়েড ঝিল্লির সংযোগকারী অংশ।
❖ স্ট্রোমা (Stroma): ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরের তরল অংশ। এতে বিভিন্ন এনজাইম, DNA, রাইবোসোম ও বিপাকীয় উপাদান থাকে। সালোকসংশ্লেষণের ক্যালভিন চক্র (Calvin Cycle) স্ট্রোমায় সংঘটিত হয়।
❖ থাইলাকয়েড (Thylakoid): ক্লোরোপ্লাস্টের অভ্যন্তরের ঝিল্লিবেষ্টিত থলির মতো গঠন। থাইলাকয়েড ঝিল্লিতে ক্লোরোফিল, ফটোসিস্টেম এবং ইলেকট্রন পরিবহনব্যবস্থা থাকে।
❖ গ্রানাম (Granum): একাধিক থাইলাকয়েড স্তূপাকারে সাজিয়ে গ্রানাম তৈরি হয়। গ্রানাম-এর বহুবচন Grana।
❖ আলোকনির্ভর বিক্রিয়া (Light-dependent Reactions): সালোকসংশ্লেষণের আলোকনির্ভর বিক্রিয়াগুলো থাইলাকয়েড ঝিল্লিতে সংঘটিত হয়। এতে আলোকশক্তির সাহায্যে ATP ও NADPH তৈরি হয়।
❖ পানির আলোক-বিয়োজন: আলোকনির্ভর বিক্রিয়ায় পানির অণু ভেঙে ইলেকট্রন, প্রোটন ও অক্সিজেন উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া ঘটে। সালোকসংশ্লেষণে নির্গত অক্সিজেনের উৎস মূলত পানি।
❖ ক্যালভিন চক্র (Calvin Cycle): ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমায় সংঘটিত হয়। এতে CO₂ স্থিতিকরণ এবং ATP ও NADPH-এর সাহায্যে শর্করা তৈরির মধ্যবর্তী যৌগ উৎপাদিত হয়।
❖ ক্লোরোফিলের প্রধান ধরন: স্থলজ উদ্ভিদে প্রধানত ক্লোরোফিল-a এবং ক্লোরোফিল-b পাওয়া যায়।
❖ ক্লোরোফিল-a: সালোকসংশ্লেষণের প্রধান আলোকসক্রিয় রঞ্জক। ফটোসিস্টেমের প্রতিক্রিয়াকেন্দ্রে এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
❖ ক্লোরোফিল-b: এটি একটি সহকারী রঞ্জক (Accessory Pigment), যা আলোকশক্তি সংগ্রহের পরিসর বাড়াতে সাহায্য করে।
❖ ক্লোরোপ্লাস্টের নিজস্ব DNA: ক্লোরোপ্লাস্টে নিজস্ব DNA ও রাইবোসোম থাকে। এ কারণে এটি কিছু প্রোটিন নিজেই তৈরি করতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্লোরোপ্লাস্ট প্রোটিন কোষের নিউক্লীয় জিনের নির্দেশে তৈরি হয়।
❖ এন্ডোসিমবায়োটিক তত্ত্ব: বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান অনুযায়ী ক্লোরোপ্লাস্টের উৎপত্তি প্রাচীন সায়ানোব্যাকটেরিয়াসদৃশ সালোকসংশ্লেষণকারী জীবের সঙ্গে অন্তঃসহাবস্থান থেকে হয়েছে।
❖ ক্রোমোপ্লাস্টের পার্থক্য: ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিনয়েড রঞ্জক সঞ্চিত থাকে এবং অনেক ফুল ও ফলের হলুদ, কমলা ও লাল রং প্রকাশে ভূমিকা রাখে।
❖ লিউকোপ্লাস্টের পার্থক্য: লিউকোপ্লাস্ট সাধারণত বর্ণহীন এবং উদ্ভিদের বিভিন্ন খাদ্যসঞ্চয়ী অঙ্গে থাকে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সবুজ প্লাস্টিড — ক্লোরোপ্লাস্ট।
➤ ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান রঞ্জক — ক্লোরোফিল।
➤ ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ — সালোকসংশ্লেষণ।
➤ সালোকসংশ্লেষণের প্রধান অঙ্গাণু — ক্লোরোপ্লাস্ট।
➤ পাতায় ক্লোরোপ্লাস্ট বেশি থাকে — মেসোফিল কোষে।
➤ ক্লোরোপ্লাস্টের আবরণী — দ্বিস্তরবিশিষ্ট।
➤ ক্লোরোপ্লাস্টের তরল অংশ — স্ট্রোমা।
➤ চাকতির মতো ঝিল্লিবেষ্টিত অংশ — থাইলাকয়েড।
➤ থাইলাকয়েডের স্তূপ — গ্রানাম।
➤ গ্রানামের বহুবচন — গ্রানা।
➤ আলোকনির্ভর বিক্রিয়ার স্থান — থাইলাকয়েড ঝিল্লি।
➤ ক্যালভিন চক্রের স্থান — স্ট্রোমা।
➤ আলোকনির্ভর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তিবাহক — ATP ও NADPH।
➤ সালোকসংশ্লেষণে নির্গত অক্সিজেনের উৎস — পানি।
➤ ক্লোরোফিল-a — প্রধান আলোকসক্রিয় রঞ্জক।
➤ ক্লোরোফিল-b — সহকারী রঞ্জক।
➤ ক্লোরোপ্লাস্টে নিজস্ব DNA ও রাইবোসোম থাকে।
➤ ক্লোরোপ্লাস্টের বিবর্তনীয় উৎপত্তি — এন্ডোসিমবায়োসিস।
➤ ক্রোমোপ্লাস্ট — রঙিন প্লাস্টিড।
➤ লিউকোপ্লাস্ট — বর্ণহীন প্লাস্টিড।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন