01
🎯 Level 1
০১. এনাটমির জনক কে? (সিএজি কার্যালয়ের অডিটর: ৯৮)
✅ সঠিক উত্তর:ক. আন্দ্রেস ভেসালিয়াস
ব্যাখ্যা:
"উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: আন্দ্রেস ভেসালিয়াস (Andreas Vesalius) — আধুনিক অ্যানাটমি বা মানবদেহের গঠনবিদ্যার জনক।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ আন্দ্রেস ভেসালিয়াস (Andreas Vesalius) ছিলেন ষোড়শ শতাব্দীর বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী, শারীরস্থানবিদ ও মানবদেহের গঠনবিষয়ক গবেষক। তাঁকে আধুনিক অ্যানাটমির জনক (Father of Modern Anatomy) বলা হয়।
❖ অ্যানাটমি (Anatomy) বা শারীরস্থানবিদ্যা হলো জীববিজ্ঞানের এমন একটি শাখা, যেখানে মানবদেহ বা অন্যান্য জীবের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, টিস্যু এবং বিভিন্ন অঙ্গের পারস্পরিক অবস্থান সম্পর্কে অধ্যয়ন করা হয়।
❖ জন্ম: ৩১ ডিসেম্বর ১৫১৪ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন্মস্থান: ব্রাসেলস (Brussels), তৎকালীন হ্যাবসবার্গ নেদারল্যান্ডস; বর্তমান বেলজিয়াম।
❖ মৃত্যু: ১৫ অক্টোবর ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দ, গ্রিসের জাকিনথোস (Zakynthos) দ্বীপে।
❖ পূর্ণ লাতিন নাম: Andreas Vesalius। তাঁর মূল ফ্লেমিশ নাম Andries van Wesel।
❖ শিক্ষাজীবন: তিনি লুভেন, প্যারিস ও পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মানবদেহের গঠনবিদ্যা অধ্যয়ন করেন।
❖ অধ্যাপনা: ১৫৩৭ সালে ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Padua) সার্জারি ও অ্যানাটমির অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন।
❖ সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ: De Humani Corporis Fabrica Libri Septem। এর বাংলা অর্থ ‘মানবদেহের গঠন সম্পর্কে সাতটি গ্রন্থ’।
❖ গ্রন্থের প্রকাশকাল: ১৫৪৩ খ্রিষ্টাব্দ। এটি সুইজারল্যান্ডের বাসেল (Basel) শহর থেকে প্রকাশিত হয়।
❖ গ্রন্থটির বিশেষত্ব: গ্রন্থটিতে মানবদেহের অস্থি, পেশি, স্নায়ু, রক্তনালি, অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও অন্যান্য শারীরিক গঠনের বিস্তারিত আলোচনা এবং বহু চিত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
❖ সাতটি খণ্ড: গ্রন্থটি ৭টি বই বা বিভাগে বিভক্ত। বিভিন্ন বিভাগে মানবদেহের অস্থি, পেশি, রক্তনালি, স্নায়ু, উদর ও বক্ষের অঙ্গ এবং মস্তিষ্কসহ অন্যান্য গঠনের আলোচনা রয়েছে।
❖ প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব: ভেসালিয়াস মানবদেহ সম্পর্কে জানতে মানুষের মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ (Human Cadaver Dissection) এবং সরাসরি পর্যবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
❖ পূর্ববর্তী চিকিৎসাবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা: ভেসালিয়াসের আগে ইউরোপীয় চিকিৎসাশিক্ষায় প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞানী গ্যালেন (Galen)-এর শারীরস্থানবিষয়ক বর্ণনা ব্যাপকভাবে অনুসরণ করা হতো।
❖ গ্যালেনের গবেষণার সমস্যা: গ্যালেনের অনেক শারীরস্থানবিষয়ক পর্যবেক্ষণ প্রাণীদেহের ব্যবচ্ছেদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। ফলে মানবদেহের কিছু অঙ্গের গঠন সম্পর্কে তাঁর বর্ণনায় ভুল ছিল।
❖ ভেসালিয়াসের সংশোধন: মানুষের মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করে ভেসালিয়াস গ্যালেনের বিভিন্ন ভুল ধারণা সংশোধন করেন এবং মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কে অধিক নির্ভুল তথ্য প্রদান করেন।
❖ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অবদান: ভেসালিয়াস প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা, ব্যবচ্ছেদ ও প্রমাণনির্ভর বিশ্লেষণকে শারীরস্থানবিদ্যার গবেষণার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ অ্যানাটমিক্যাল চিত্র: তাঁর গ্রন্থের বিস্তারিত অস্থি ও পেশির চিত্র চিকিৎসাশিক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। এসব চিত্র মানবদেহের জটিল গঠন বুঝতে সহায়তা করে।
❖ আধুনিক অ্যানাটমির ভিত্তি: মানবদেহের সরাসরি ব্যবচ্ছেদ, নির্ভুল অঙ্গসংস্থানগত বর্ণনা ও চিত্রসমৃদ্ধ শিক্ষাপদ্ধতির কারণে ভেসালিয়াসকে আধুনিক মানব শারীরস্থানবিদ্যার প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
❖ অ্যানাটমি ও ফিজিওলজির পার্থক্য: Anatomy মানবদেহের গঠন (Structure) নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে Physiology দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যাবলি (Function) নিয়ে আলোচনা করে।
❖ প্রাচীন অ্যানাটমির জনক: গ্রিক চিকিৎসাবিজ্ঞানী হেরোফিলাস (Herophilus)-কে অনেক ঐতিহাসিক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণায় Father of Anatomy বলা হয়। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে আলেকজান্দ্রিয়ায় মানবদেহের ব্যবচ্ছেদভিত্তিক গবেষণা করেন।
❖ ভেসালিয়াস ও হেরোফিলাসের পার্থক্য: হেরোফিলাস প্রাচীন অ্যানাটমির পথিকৃৎ, আর আন্দ্রেস ভেসালিয়াস আধুনিক অ্যানাটমির জনক। প্রদত্ত পরীক্ষার বিকল্প অনুযায়ী উত্তর আন্দ্রেস ভেসালিয়াস।
❖ উইলিয়াম হার্ভে (William Harvey): ১৫৭৮–১৬৫৭। তিনি ইংরেজ চিকিৎসাবিজ্ঞানী, যিনি হৃৎপিণ্ডের পাম্পক্রিয়া ও রক্তসঞ্চালনব্যবস্থার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ De Motu Cordis (১৬২৮)।
❖ আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace): ১৮২৩–১৯১৩। তিনি চার্লস ডারউইনের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের ধারণা বিকাশ করেন। জীবভূগোলের ইতিহাসেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
❖ জন অ্যামব্রোজ ফ্লেমিং (John Ambrose Fleming): ১৮৪৯–১৯৪৫। তিনি ব্রিটিশ বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী ও পদার্থবিজ্ঞানী। থার্মায়োনিক ভালভ ও ফ্লেমিংয়ের ডানহাত নিয়ম-এর জন্য পরিচিত।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রদত্ত প্রশ্নে এনাটমির জনক — আন্দ্রেস ভেসালিয়াস।
➤ আধুনিক অ্যানাটমির জনক — আন্দ্রেস ভেসালিয়াস।
➤ প্রাচীন অ্যানাটমির জনক হিসেবে পরিচিত — হেরোফিলাস।
➤ Anatomy-এর বাংলা — শারীরস্থানবিদ্যা বা অঙ্গসংস্থানবিদ্যা।
➤ Anatomy-এর আলোচ্য বিষয় — জীবদেহের গঠন।
➤ Physiology-এর আলোচ্য বিষয় — জীবদেহের কার্যাবলি।
➤ ভেসালিয়াসের জন্ম — ৩১ ডিসেম্বর ১৫১৪।
➤ জন্মস্থান — ব্রাসেলস, বর্তমান বেলজিয়াম।
➤ ভেসালিয়াসের মৃত্যু — ১৫ অক্টোবর ১৫৬৪।
➤ মৃত্যুস্থান — জাকিনথোস দ্বীপ, গ্রিস।
➤ ভেসালিয়াসের মূল নাম — Andries van Wesel।
➤ ভেসালিয়াস অধ্যাপনা করেন — পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে।
➤ অ্যানাটমির অধ্যাপক নিযুক্ত হন — ১৫৩৭ সালে।
➤ ভেসালিয়াসের বিখ্যাত গ্রন্থ — De Humani Corporis Fabrica।
➤ গ্রন্থটির পূর্ণ নাম — De Humani Corporis Fabrica Libri Septem।
➤ প্রকাশকাল — ১৫৪৩।
➤ প্রকাশস্থান — বাসেল, সুইজারল্যান্ড।
➤ গ্রন্থের বিভাগ — ৭টি।
➤ গ্রন্থের প্রধান বিষয় — মানবদেহের অঙ্গসংস্থান।
➤ মানবদেহের ব্যবচ্ছেদ — Human Dissection।
➤ মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ — Cadaver Dissection।
➤ প্রত্যক্ষ ব্যবচ্ছেদ ও পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেন — ভেসালিয়াস।
➤ প্রাচীন রোমান যুগের বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী — গ্যালেন।
➤ গ্যালেনের ভুল শারীরস্থানবিষয়ক ধারণা সংশোধনে অবদান — ভেসালিয়াস।
➤ হেরোফিলাসের গবেষণাকেন্দ্র — আলেকজান্দ্রিয়া, মিসর।
➤ হেরোফিলাসের সময়কাল — খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী।
➤ রক্তসঞ্চালনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার পথিকৃৎ — উইলিয়াম হার্ভে।
➤ উইলিয়াম হার্ভের জীবনকাল — ১৫৭৮–১৬৫৭।
➤ উইলিয়াম হার্ভের বিখ্যাত গ্রন্থ — De Motu Cordis।
➤ De Motu Cordis প্রকাশ — ১৬২৮।
➤ প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের ধারণা স্বাধীনভাবে বিকাশ করেন — চার্লস ডারউইন ও আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস।
➤ আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেসের জীবনকাল — ১৮২৩–১৯১৩।
➤ থার্মায়োনিক ভালভের উদ্ভাবক — জন অ্যামব্রোজ ফ্লেমিং।
➤ ফ্লেমিংয়ের ডানহাত নিয়ম — তড়িৎচৌম্বকীয় আবেশে উৎপন্ন তড়িৎ প্রবাহের দিক নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।"
◈ সঠিক উত্তর: আন্দ্রেস ভেসালিয়াস (Andreas Vesalius) — আধুনিক অ্যানাটমি বা মানবদেহের গঠনবিদ্যার জনক।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ আন্দ্রেস ভেসালিয়াস (Andreas Vesalius) ছিলেন ষোড়শ শতাব্দীর বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী, শারীরস্থানবিদ ও মানবদেহের গঠনবিষয়ক গবেষক। তাঁকে আধুনিক অ্যানাটমির জনক (Father of Modern Anatomy) বলা হয়।
❖ অ্যানাটমি (Anatomy) বা শারীরস্থানবিদ্যা হলো জীববিজ্ঞানের এমন একটি শাখা, যেখানে মানবদেহ বা অন্যান্য জীবের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, টিস্যু এবং বিভিন্ন অঙ্গের পারস্পরিক অবস্থান সম্পর্কে অধ্যয়ন করা হয়।
❖ জন্ম: ৩১ ডিসেম্বর ১৫১৪ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন্মস্থান: ব্রাসেলস (Brussels), তৎকালীন হ্যাবসবার্গ নেদারল্যান্ডস; বর্তমান বেলজিয়াম।
❖ মৃত্যু: ১৫ অক্টোবর ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দ, গ্রিসের জাকিনথোস (Zakynthos) দ্বীপে।
❖ পূর্ণ লাতিন নাম: Andreas Vesalius। তাঁর মূল ফ্লেমিশ নাম Andries van Wesel।
❖ শিক্ষাজীবন: তিনি লুভেন, প্যারিস ও পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মানবদেহের গঠনবিদ্যা অধ্যয়ন করেন।
❖ অধ্যাপনা: ১৫৩৭ সালে ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Padua) সার্জারি ও অ্যানাটমির অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন।
❖ সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ: De Humani Corporis Fabrica Libri Septem। এর বাংলা অর্থ ‘মানবদেহের গঠন সম্পর্কে সাতটি গ্রন্থ’।
❖ গ্রন্থের প্রকাশকাল: ১৫৪৩ খ্রিষ্টাব্দ। এটি সুইজারল্যান্ডের বাসেল (Basel) শহর থেকে প্রকাশিত হয়।
❖ গ্রন্থটির বিশেষত্ব: গ্রন্থটিতে মানবদেহের অস্থি, পেশি, স্নায়ু, রক্তনালি, অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও অন্যান্য শারীরিক গঠনের বিস্তারিত আলোচনা এবং বহু চিত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
❖ সাতটি খণ্ড: গ্রন্থটি ৭টি বই বা বিভাগে বিভক্ত। বিভিন্ন বিভাগে মানবদেহের অস্থি, পেশি, রক্তনালি, স্নায়ু, উদর ও বক্ষের অঙ্গ এবং মস্তিষ্কসহ অন্যান্য গঠনের আলোচনা রয়েছে।
❖ প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব: ভেসালিয়াস মানবদেহ সম্পর্কে জানতে মানুষের মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ (Human Cadaver Dissection) এবং সরাসরি পর্যবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
❖ পূর্ববর্তী চিকিৎসাবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা: ভেসালিয়াসের আগে ইউরোপীয় চিকিৎসাশিক্ষায় প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞানী গ্যালেন (Galen)-এর শারীরস্থানবিষয়ক বর্ণনা ব্যাপকভাবে অনুসরণ করা হতো।
❖ গ্যালেনের গবেষণার সমস্যা: গ্যালেনের অনেক শারীরস্থানবিষয়ক পর্যবেক্ষণ প্রাণীদেহের ব্যবচ্ছেদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। ফলে মানবদেহের কিছু অঙ্গের গঠন সম্পর্কে তাঁর বর্ণনায় ভুল ছিল।
❖ ভেসালিয়াসের সংশোধন: মানুষের মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করে ভেসালিয়াস গ্যালেনের বিভিন্ন ভুল ধারণা সংশোধন করেন এবং মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কে অধিক নির্ভুল তথ্য প্রদান করেন।
❖ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অবদান: ভেসালিয়াস প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা, ব্যবচ্ছেদ ও প্রমাণনির্ভর বিশ্লেষণকে শারীরস্থানবিদ্যার গবেষণার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ অ্যানাটমিক্যাল চিত্র: তাঁর গ্রন্থের বিস্তারিত অস্থি ও পেশির চিত্র চিকিৎসাশিক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। এসব চিত্র মানবদেহের জটিল গঠন বুঝতে সহায়তা করে।
❖ আধুনিক অ্যানাটমির ভিত্তি: মানবদেহের সরাসরি ব্যবচ্ছেদ, নির্ভুল অঙ্গসংস্থানগত বর্ণনা ও চিত্রসমৃদ্ধ শিক্ষাপদ্ধতির কারণে ভেসালিয়াসকে আধুনিক মানব শারীরস্থানবিদ্যার প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
❖ অ্যানাটমি ও ফিজিওলজির পার্থক্য: Anatomy মানবদেহের গঠন (Structure) নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে Physiology দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যাবলি (Function) নিয়ে আলোচনা করে।
❖ প্রাচীন অ্যানাটমির জনক: গ্রিক চিকিৎসাবিজ্ঞানী হেরোফিলাস (Herophilus)-কে অনেক ঐতিহাসিক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণায় Father of Anatomy বলা হয়। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে আলেকজান্দ্রিয়ায় মানবদেহের ব্যবচ্ছেদভিত্তিক গবেষণা করেন।
❖ ভেসালিয়াস ও হেরোফিলাসের পার্থক্য: হেরোফিলাস প্রাচীন অ্যানাটমির পথিকৃৎ, আর আন্দ্রেস ভেসালিয়াস আধুনিক অ্যানাটমির জনক। প্রদত্ত পরীক্ষার বিকল্প অনুযায়ী উত্তর আন্দ্রেস ভেসালিয়াস।
❖ উইলিয়াম হার্ভে (William Harvey): ১৫৭৮–১৬৫৭। তিনি ইংরেজ চিকিৎসাবিজ্ঞানী, যিনি হৃৎপিণ্ডের পাম্পক্রিয়া ও রক্তসঞ্চালনব্যবস্থার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ De Motu Cordis (১৬২৮)।
❖ আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace): ১৮২৩–১৯১৩। তিনি চার্লস ডারউইনের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের ধারণা বিকাশ করেন। জীবভূগোলের ইতিহাসেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
❖ জন অ্যামব্রোজ ফ্লেমিং (John Ambrose Fleming): ১৮৪৯–১৯৪৫। তিনি ব্রিটিশ বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী ও পদার্থবিজ্ঞানী। থার্মায়োনিক ভালভ ও ফ্লেমিংয়ের ডানহাত নিয়ম-এর জন্য পরিচিত।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রদত্ত প্রশ্নে এনাটমির জনক — আন্দ্রেস ভেসালিয়াস।
➤ আধুনিক অ্যানাটমির জনক — আন্দ্রেস ভেসালিয়াস।
➤ প্রাচীন অ্যানাটমির জনক হিসেবে পরিচিত — হেরোফিলাস।
➤ Anatomy-এর বাংলা — শারীরস্থানবিদ্যা বা অঙ্গসংস্থানবিদ্যা।
➤ Anatomy-এর আলোচ্য বিষয় — জীবদেহের গঠন।
➤ Physiology-এর আলোচ্য বিষয় — জীবদেহের কার্যাবলি।
➤ ভেসালিয়াসের জন্ম — ৩১ ডিসেম্বর ১৫১৪।
➤ জন্মস্থান — ব্রাসেলস, বর্তমান বেলজিয়াম।
➤ ভেসালিয়াসের মৃত্যু — ১৫ অক্টোবর ১৫৬৪।
➤ মৃত্যুস্থান — জাকিনথোস দ্বীপ, গ্রিস।
➤ ভেসালিয়াসের মূল নাম — Andries van Wesel।
➤ ভেসালিয়াস অধ্যাপনা করেন — পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে।
➤ অ্যানাটমির অধ্যাপক নিযুক্ত হন — ১৫৩৭ সালে।
➤ ভেসালিয়াসের বিখ্যাত গ্রন্থ — De Humani Corporis Fabrica।
➤ গ্রন্থটির পূর্ণ নাম — De Humani Corporis Fabrica Libri Septem।
➤ প্রকাশকাল — ১৫৪৩।
➤ প্রকাশস্থান — বাসেল, সুইজারল্যান্ড।
➤ গ্রন্থের বিভাগ — ৭টি।
➤ গ্রন্থের প্রধান বিষয় — মানবদেহের অঙ্গসংস্থান।
➤ মানবদেহের ব্যবচ্ছেদ — Human Dissection।
➤ মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ — Cadaver Dissection।
➤ প্রত্যক্ষ ব্যবচ্ছেদ ও পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেন — ভেসালিয়াস।
➤ প্রাচীন রোমান যুগের বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী — গ্যালেন।
➤ গ্যালেনের ভুল শারীরস্থানবিষয়ক ধারণা সংশোধনে অবদান — ভেসালিয়াস।
➤ হেরোফিলাসের গবেষণাকেন্দ্র — আলেকজান্দ্রিয়া, মিসর।
➤ হেরোফিলাসের সময়কাল — খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী।
➤ রক্তসঞ্চালনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার পথিকৃৎ — উইলিয়াম হার্ভে।
➤ উইলিয়াম হার্ভের জীবনকাল — ১৫৭৮–১৬৫৭।
➤ উইলিয়াম হার্ভের বিখ্যাত গ্রন্থ — De Motu Cordis।
➤ De Motu Cordis প্রকাশ — ১৬২৮।
➤ প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের ধারণা স্বাধীনভাবে বিকাশ করেন — চার্লস ডারউইন ও আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস।
➤ আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেসের জীবনকাল — ১৮২৩–১৯১৩।
➤ থার্মায়োনিক ভালভের উদ্ভাবক — জন অ্যামব্রোজ ফ্লেমিং।
➤ ফ্লেমিংয়ের ডানহাত নিয়ম — তড়িৎচৌম্বকীয় আবেশে উৎপন্ন তড়িৎ প্রবাহের দিক নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।"