🧠 🔖
👑 Premium Topic

জীব বিজ্ঞান ও জীব বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়

◉ সাধারণ বিজ্ঞান›জীব বিজ্ঞান ও জীব বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚47মোট প্রশ্ন
🎯4মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০১. কে সর্বপ্রথম জীবজগৎকে উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলে শ্রেণিবিন্যাস করেন? / সর্বপ্রথম যিনি প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন? / Father of Taxonomy বলা হয় কাকে? (বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা: ০৬)

ক

জন রে

খ

ক্যারোলাস লিনিয়াস

গ

এরিস্টটল

ঘ

ম্যাগনাস

✅ সঠিক উত্তর:খ. ক্যারোলাস লিনিয়াস

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus) — আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus) ছিলেন একজন বিখ্যাত সুইডিশ উদ্ভিদবিজ্ঞানী, প্রাণিবিজ্ঞানী ও চিকিৎসক। জীবজগতের বিভিন্ন জীবকে সুশৃঙ্খলভাবে শ্রেণিবিন্যাস এবং তাদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের পদ্ধতি সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাঁকে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক (Father of Modern Taxonomy) বলা হয়।
❖ শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy) হলো জীববিজ্ঞানের এমন একটি শাখা, যেখানে জীবের শনাক্তকরণ (Identification), নামকরণ (Nomenclature) এবং শ্রেণিবিন্যাস (Classification) নিয়ে আলোচনা করা হয়।
❖ লিনিয়াসের পূর্ণ নাম: Carl Linnaeus। বৈজ্ঞানিক রচনায় তাঁর ল্যাটিনকৃত নাম Carolus Linnaeus ব্যবহৃত হয়। পরবর্তী জীবনে অভিজাত উপাধি পাওয়ার পর তিনি Carl von Linné নামেও পরিচিত হন।
❖ জন্ম: ২৩ মে ১৭০৭ খ্রিষ্টাব্দ, রোশুল্ট (Råshult), স্মোল্যান্ড (Småland), সুইডেন। পুরোনো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তাঁর জন্মতারিখ ১৩ মে হিসেবেও পাওয়া যায়।
❖ মৃত্যু: ১০ জানুয়ারি ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দ, উপসালা (Uppsala), সুইডেন।
❖ পিতা: নিলস ইঙ্গেমারসন লিনিয়াস (Nils Ingemarsson Linnaeus)। তিনি একজন ধর্মযাজক ছিলেন এবং উদ্ভিদচর্চার প্রতি আগ্রহী ছিলেন।
❖ মাতা: ক্রিস্টিনা ব্রোডারসোনিয়া (Christina Brodersonia)।
❖ শিক্ষাজীবন: লিনিয়াস Lund University ও পরে Uppsala University-তে পড়াশোনা করেন। তিনি নেদারল্যান্ডসের University of Harderwijk থেকে ১৭৩৫ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন।
❖ কর্মজীবন: তিনি Uppsala University-তে অধ্যাপনা করেন এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক ইতিহাসে গবেষণা পরিচালনা করেন।
❖ শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা: পৃথিবীতে অসংখ্য জীব রয়েছে। জীবের গঠন, বৈশিষ্ট্য, বংশগত সম্পর্ক ও পার্থক্য অনুযায়ী সেগুলোকে বিভিন্ন দলে সাজালে জীব শনাক্তকরণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও তথ্য আদান-প্রদান সহজ হয়।
❖ লিনিয়াসের দুই রাজ্যভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস: প্রচলিত জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে লিনিয়াস জীবদের প্রধানত উদ্ভিদরাজ্য (Plantae) ও প্রাণীরাজ্য (Animalia)-এ সংগঠিত করার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
❖ উদ্ভিদরাজ্য (Kingdom Plantae): সাধারণভাবে বহুকোষী, প্রধানত সালোকসংশ্লেষণকারী এবং কোষপ্রাচীরযুক্ত উদ্ভিদসমূহ এই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
❖ প্রাণীরাজ্য (Kingdom Animalia): সাধারণভাবে বহুকোষী, পরভোজী এবং কোষপ্রাচীরবিহীন প্রাণীসমূহ এই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
❖ ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: জীবকে উদ্ভিদ ও প্রাণীতে বিভক্ত করার ধারণা লিনিয়াসের আগেও ছিল। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল (Aristotle) জীবজগৎকে উদ্ভিদ ও প্রাণীর মতো বৃহৎ দলে বিশ্লেষণ করেছিলেন। তাই জীবকে সর্বপ্রথম দুই ভাগে বিভক্ত করার কৃতিত্ব এককভাবে লিনিয়াসের নয়।
❖ এরিস্টটলের পরিচয়: এরিস্টটল ছিলেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক ও প্রকৃতিবিদ। তাঁর জীবনকাল ৩৮৪–৩২২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
❖ এরিস্টটলের প্রাণিবৈজ্ঞানিক অবদান: তিনি প্রাণীর গঠন, আচরণ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে পদ্ধতিগত গবেষণা করেন। এ কারণে তাঁকে ঐতিহাসিকভাবে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক (Father of Zoology) বলা হয়।
❖ এরিস্টটলের বিখ্যাত প্রাণিবিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ: Historia Animalium (History of Animals)।
❖ থিওফ্রাস্টাস (Theophrastus): এরিস্টটলের শিষ্য থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন। তাঁকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক (Father of Botany) বলা হয়।
❖ থিওফ্রাস্টাসের জীবনকাল: আনুমানিক ৩৭১–২৮৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
❖ থিওফ্রাস্টাসের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ: Historia Plantarum (Enquiry into Plants) এবং De Causis Plantarum (On the Causes of Plants)।
❖ লিনিয়াসের শ্রেণিবিন্যাসের বৈশিষ্ট্য: তিনি জীবদের রাজ্য, শ্রেণি, বর্গ, গণ ও প্রজাতির মতো পর্যায়ক্রমিক দলে সাজানোর একটি সুসংহত পদ্ধতি বিকাশ করেন।
❖ আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসের প্রধান ধাপ:
➤ Domain — ডোমেইন।
➤ Kingdom — রাজ্য।
➤ Phylum/Division — পর্ব/বিভাগ।
➤ Class — শ্রেণি।
➤ Order — বর্গ।
➤ Family — গোত্র।
➤ Genus — গণ।
➤ Species — প্রজাতি।
❖ শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নির্দিষ্ট প্রচলিত মৌলিক একক: প্রজাতি (Species)।
❖ গণ (Genus): ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত এক বা একাধিক প্রজাতি নিয়ে গণ গঠিত হয়।
❖ গোত্র (Family): এক বা একাধিক সম্পর্কিত গণ নিয়ে গোত্র গঠিত হয়।
❖ বর্গ (Order): সম্পর্কিত এক বা একাধিক গোত্র নিয়ে বর্গ গঠিত হয়।
❖ শ্রেণি (Class): সম্পর্কিত এক বা একাধিক বর্গ নিয়ে শ্রেণি গঠিত হয়।
❖ পর্ব (Phylum): সম্পর্কিত এক বা একাধিক শ্রেণি নিয়ে পর্ব গঠিত হয়।
❖ রাজ্য (Kingdom): সম্পর্কিত বিভিন্ন পর্ব বা বিভাগের সমন্বয়ে রাজ্য গঠিত হয়।
❖ ডোমেইন (Domain): আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে রাজ্যের ওপরের গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো ডোমেইন। তিনটি প্রচলিত ডোমেইন হলো Bacteria, Archaea ও Eukarya।
❖ লিনিয়াসের বিখ্যাত গ্রন্থ:
➤ Systema Naturae — প্রথম সংস্করণ ১৭৩৫।
➤ Genera Plantarum — প্রথম সংস্করণ ১৭৩৭।
➤ Species Plantarum — ১৭৫৩।
❖ Systema Naturae: এ গ্রন্থে লিনিয়াস প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানকে সুশৃঙ্খলভাবে শ্রেণিবিন্যাস করেন। এর প্রথম সংস্করণে প্রকৃতিকে প্রাণী, উদ্ভিদ ও খনিজ—তিনটি বৃহৎ রাজ্যে বিন্যস্ত করা হয়েছিল। তবে খনিজ আধুনিক জীবজগতের রাজ্য নয়।
❖ Species Plantarum: ১৭৫৩ সালে প্রকাশিত এ গ্রন্থ উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
❖ Genera Plantarum: ১৭৩৭ সালে প্রকাশিত গ্রন্থটিতে উদ্ভিদের বিভিন্ন গণের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়।
❖ দ্বিপদ নামকরণে অবদান: লিনিয়াস গণ ও প্রজাতিনির্দেশক বিশেষণ ব্যবহার করে জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণ পদ্ধতি সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
❖ লিনিয়াসের উদ্ভিদ শ্রেণিবিন্যাস: তিনি ফুলের পুংকেশর (Stamen) ও গর্ভকেশরের (Pistil) সংখ্যা ও বিন্যাসকে গুরুত্ব দিয়ে উদ্ভিদ শ্রেণিবিন্যাসের একটি কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন।
❖ কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস (Artificial Classification): সীমিত কয়েকটি সহজে পর্যবেক্ষণযোগ্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে জীবকে শ্রেণিবিন্যাস করা।
❖ প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস (Natural Classification): জীবের একাধিক গঠনগত ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে শ্রেণিবিন্যাস করা।
❖ আধুনিক বিবর্তনীয় শ্রেণিবিন্যাস: বর্তমানে DNA, জিনগত সম্পর্ক, বিবর্তনীয় ইতিহাস ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে জীবের আত্মীয়তার সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়।
❖ জন রে (John Ray): ইংরেজ প্রকৃতিবিদ জন রে প্রজাতির ধারণা, উদ্ভিদ শ্রেণিবিন্যাস ও জীবের গঠনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
❖ জন রের জীবনকাল: ১৬২৭–১৭০৫ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন রের বিখ্যাত গ্রন্থ: Historia Plantarum, যার প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৬৮৬ সালে।
❖ ম্যাগনাস: প্রদত্ত বিকল্পের ম্যাগনাস বলতে সম্ভবত আলবার্টাস ম্যাগনাস (Albertus Magnus) বোঝানো হয়েছে। তিনি মধ্যযুগীয় জ্ঞানচর্চায় উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেন, তবে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক নন।
❖ লিনিয়াসের প্রধান অবদান: জীবের শ্রেণিবিন্যাসকে একটি নিয়মিত বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং বৈজ্ঞানিক নামকরণে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য পদ্ধতির ভিত্তি সুদৃঢ় করা।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক — ক্যারোলাস লিনিয়াস।
➤ Father of Modern Taxonomy — Carolus Linnaeus।
➤ লিনিয়াসের জীবনকাল — ১৭০৭–১৭৭৮।
➤ জন্ম — ২৩ মে ১৭০৭।
➤ জন্মস্থান — রোশুল্ট, স্মোল্যান্ড, সুইডেন।
➤ মৃত্যু — ১০ জানুয়ারি ১৭৭৮।
➤ লিনিয়াসের জাতীয়তা — সুইডিশ।
➤ লিনিয়াসের অপর নাম — Carl von Linné।
➤ লিনিয়াসের বিশ্ববিদ্যালয় — Uppsala University।
➤ Systema Naturae-এর প্রথম প্রকাশ — ১৭৩৫।
➤ Genera Plantarum-এর প্রথম প্রকাশ — ১৭৩৭।
➤ Species Plantarum প্রকাশ — ১৭৫৩।
➤ দ্বিপদ নামকরণ সুপ্রতিষ্ঠিত করেন — লিনিয়াস।
➤ Taxonomy — শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
➤ শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক — প্রজাতি।
➤ সর্বোচ্চ প্রচলিত প্রধান স্তর — Domain।
➤ তিন ডোমেইন — Bacteria, Archaea ও Eukarya।
➤ প্রাচীন প্রাণিবিজ্ঞানের জনক — এরিস্টটল।
➤ এরিস্টটলের জীবনকাল — ৩৮৪–৩২২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
➤ এরিস্টটলের গ্রন্থ — Historia Animalium।
➤ উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক — থিওফ্রাস্টাস।
➤ থিওফ্রাস্টাসের জীবনকাল — আনুমানিক ৩৭১–২৮৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।
➤ জন রে — প্রজাতির ধারণা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী।
➤ জন রের গ্রন্থ — Historia Plantarum।
➤ জন রের Historia Plantarum-এর প্রথম খণ্ড — ১৬৮৬।
➤ আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে — জিনগত ও বিবর্তনীয় সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।"
02
🎯 Level 1

০৪. ক্যারোলাস লিনিয়াস কোন দেশের অধিবাসী? (বেবিচকের সহকারী প্রকৌশলী: ২৩)

ক

গ্রিস

খ

ইংল্যান্ড

গ

ইতালি

ঘ

সুইডেন

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. সুইডেন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: সুইডেন (Sweden)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus) ছিলেন একজন সুইডিশ বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও প্রকৃতিবিদ। তিনি আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস ও দ্বিপদ নামকরণের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
❖ জন্ম: ২৩ মে ১৭০৭, রোশুল্ট (Råshult), স্মোল্যান্ড, সুইডেন।
❖ মৃত্যু: ১০ জানুয়ারি ১৭৭৮, উপসালা (Uppsala), সুইডেন।
❖ সুইডেনের অবস্থান: সুইডেন উত্তর ইউরোপের একটি দেশ এবং স্ক্যান্ডিনেভীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
❖ সুইডেনের রাজধানী: স্টকহোম (Stockholm)।
❖ সুইডেনের প্রধান ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি: Uppsala University, যেখানে লিনিয়াস দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেন।
❖ লিনিয়াসের শৈশব: তিনি সুইডেনের স্মোল্যান্ড অঞ্চলে বেড়ে ওঠেন। পারিবারিক পরিবেশে উদ্ভিদের প্রতি আগ্রহ তাঁর প্রকৃতিবিদ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
❖ শিক্ষাজীবনের শুরু: তিনি Lund University-তে পড়াশোনা শুরু করেন।
❖ পরবর্তী অধ্যয়ন: তিনি Uppsala University-তে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রকৃতিবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
❖ চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি: ১৭৩৫ সালে নেদারল্যান্ডসের University of Harderwijk থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন।
❖ বিদেশে গবেষণা: শিক্ষাজীবন ও গবেষণার জন্য তিনি নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড ও ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলে ভ্রমণ করেন।
❖ Lapland Expedition: লিনিয়াস ১৭৩২ সালে ল্যাপল্যান্ড (Lapland) অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতিবৈজ্ঞানিক অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ অভিযানের উদ্দেশ্য: উত্তর ইউরোপের উদ্ভিদ, প্রাণী, খনিজ, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনধারা পর্যবেক্ষণ।
❖ লিনিয়াসের বৈজ্ঞানিক সংগঠন: তিনি বিভিন্ন জীবকে তাদের পর্যবেক্ষণযোগ্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করেন এবং বৈজ্ঞানিক নামকরণে একটি ধারাবাহিক পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা: তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
❖ Carl von Linné নাম: সুইডিশ অভিজাত উপাধি লাভের পর তিনি Carl von Linné নামে পরিচিত হন।
❖ অভিজাত উপাধি: ১৭৬১ সালে সুইডিশ রাজকীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে তাঁর অভিজাত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ সুইডেনে মৃত্যু: জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি উপসালা শহরে বসবাস করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
❖ সমাধিস্থল: Uppsala Cathedral, সুইডেন।
❖ লিনিয়াসের বিখ্যাত গ্রন্থ: Systema Naturae (১৭৩৫), Genera Plantarum (১৭৩৭) এবং Species Plantarum (১৭৫৩)।
❖ গ্রিসের সঙ্গে সম্পর্ক: এরিস্টটল ও থিওফ্রাস্টাস ছিলেন গ্রিক বিজ্ঞানচর্চার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
❖ ইংল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক: জন রে ছিলেন ইংরেজ প্রকৃতিবিদ, যিনি প্রজাতির ধারণা ও উদ্ভিদ শ্রেণিবিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
❖ ইতালির সঙ্গে সম্পর্ক: আন্দ্রেয়া চেসালপিনো (Andrea Cesalpino) ছিলেন ইতালীয় চিকিৎসক ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী। তিনি উদ্ভিদের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
❖ আন্দ্রেয়া চেসালপিনোর গ্রন্থ: De Plantis (১৫৮৩)।
❖ লিনিয়াসের বিশেষ পরিচয়: শ্রেণিবিন্যাস ও বৈজ্ঞানিক নামকরণে যুগান্তকারী অবদানের কারণে তিনি বিশ্বজুড়ে Father of Modern Taxonomy হিসেবে পরিচিত।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ক্যারোলাস লিনিয়াসের দেশ — সুইডেন।
➤ সুইডেনের রাজধানী — স্টকহোম।
➤ সুইডেন — উত্তর ইউরোপের দেশ।
➤ সুইডেন স্ক্যান্ডিনেভীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
➤ লিনিয়াসের জন্ম — ২৩ মে ১৭০৭।
➤ জন্মস্থান — রোশুল্ট, স্মোল্যান্ড।
➤ লিনিয়াসের মৃত্যু — ১০ জানুয়ারি ১৭৭৮।
➤ মৃত্যুস্থান — উপসালা।
➤ সমাধিস্থল — Uppsala Cathedral।
➤ লিনিয়াসের বিশ্ববিদ্যালয় — Lund ও Uppsala।
➤ চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি — ১৭৩৫।
➤ ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান — University of Harderwijk।
➤ Lapland Expedition — ১৭৩২।
➤ লিনিয়াসের অভিজাত নাম — Carl von Linné।
➤ অভিজাত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা — ১৭৬১।
➤ আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক — লিনিয়াস।
➤ প্রাচীন গ্রিক প্রাণিবিজ্ঞানের পথিকৃৎ — এরিস্টটল।
➤ উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক — থিওফ্রাস্টাস।
➤ ইংরেজ প্রকৃতিবিদ — জন রে।
➤ ইতালীয় উদ্ভিদবিজ্ঞানী — আন্দ্রেয়া চেসালপিনো।
➤ চেসালপিনোর গ্রন্থ — De Plantis (১৫৮৩)।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৮. মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম কী? (ডাক অধিদপ্তরের এটেনডেন্ট: ১৮)

ক

হোমো স্যাপিয়েন্স

খ

হোমো হ্যাবিলিস

গ

হোমো ইরেকটাস

ঘ

হোমো নিয়ান্ডারথালিস

✅ সঠিক উত্তর:ক. হোমো স্যাপিয়েন্স

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: হোমো স্যাপিয়েন্স (Homo sapiens)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ আধুনিক মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Homo sapiens। দ্বিপদ নামকরণ অনুযায়ী এখানে Homo হলো গণনাম এবং sapiens হলো প্রজাতিনির্দেশক বিশেষণ।
❖ Homo শব্দের অর্থ: ল্যাটিন ভাষায় মানুষ (Human)।
❖ sapiens শব্দের অর্থ: ল্যাটিন ভাষায় জ্ঞানী, বিচক্ষণ বা প্রজ্ঞাবান (Wise)।
❖ Homo sapiens-এর অর্থ: প্রায় জ্ঞানী মানুষ (Wise Human)।
❖ বৈজ্ঞানিক নামকরণ: আধুনিক মানুষের Homo sapiens নামের সঙ্গে ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম যুক্ত।
❖ লিনিয়াসের শ্রেণিবিন্যাস: আধুনিক মানুষকে Homo sapiens নামে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ণনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো Systema Naturae-এর দশম সংস্করণ (১৭৫৮)।
❖ মানুষের সম্পূর্ণ আধুনিক প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাস:
➤ Domain — Eukarya।
➤ Kingdom — Animalia।
➤ Phylum — Chordata।
➤ Class — Mammalia।
➤ Order — Primates।
➤ Family — Hominidae।
➤ Genus — Homo।
➤ Species — Homo sapiens।
❖ Eukarya: যেসব জীবের কোষে ঝিল্লিবেষ্টিত প্রকৃত নিউক্লিয়াস থাকে, তারা ইউক্যারিওটিক জীবের অন্তর্ভুক্ত।
❖ Animalia: মানুষ প্রাণীরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত, কারণ মানুষ বহুকোষী, পরভোজী এবং কোষপ্রাচীরবিহীন জীব।
❖ Chordata: মানুষ কর্ডাটা পর্বের অন্তর্ভুক্ত। এ পর্বের জীবের জীবনচক্রের কোনো পর্যায়ে নটোকর্ড (Notochord)-সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য থাকে।
❖ Mammalia: মানুষ স্তন্যপায়ী শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, কারণ মানুষের মধ্যে স্তনগ্রন্থি, লোম ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
❖ Primates: মানুষ প্রাইমেট বর্গের অন্তর্ভুক্ত। এ বর্গে মানুষ, বনমানুষ, বানর, লেমুর ও অন্যান্য প্রাইমেট রয়েছে।
❖ Hominidae: মানুষের গোত্র হলো Hominidae। আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে এই গোত্রে মানুষ, শিম্পাঞ্জি, গরিলা ও ওরাংওটাং অন্তর্ভুক্ত।
❖ Homo: মানুষের গণ। এই গণে আধুনিক মানুষের পাশাপাশি অতীতে বিভিন্ন বিলুপ্ত মানবপ্রজাতিও ছিল।
❖ Homo sapiens: বর্তমান সময়ে জীবিত মানুষের একমাত্র স্বীকৃত প্রজাতি।
❖ আধুনিক মানুষের উৎপত্তি: জীবাশ্ম ও জিনগত গবেষণা অনুযায়ী Homo sapiens আফ্রিকায় আনুমানিক ৩ লক্ষ বছর আগে উদ্ভূত হয়।
❖ আধুনিক মানুষের বিশেষ বৈশিষ্ট্য: উন্নত ভাষাগত ও প্রতীকী যোগাযোগ, জটিল সামাজিক সংগঠন, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি বিকাশের সক্ষমতা মানুষের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
❖ Homo habilis: মানুষের বিবর্তনীয় ইতিহাসের একটি বিলুপ্ত প্রাচীন মানবপ্রজাতি।
❖ Homo habilis শব্দের অর্থ: প্রায় দক্ষ বা হাতের কাজে পারদর্শী মানুষ (Handy Man)।
❖ Homo habilis-এর সময়কাল: আনুমানিক ২৪ লক্ষ থেকে ১৪ লক্ষ বছর আগে।
❖ Homo habilis-এর অবস্থান: প্রধানত পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
❖ Homo habilis-এর বৈশিষ্ট্য: তুলনামূলক ছোট দেহ, আধুনিক মানুষের তুলনায় ছোট মস্তিষ্ক এবং প্রাথমিক পাথরের সরঞ্জাম ব্যবহারের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ Homo habilis নামকরণ: ১৯৬৪ সালে এ প্রজাতির নাম প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক পাথরের হাতিয়ার তৈরির সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্কের কারণে 'Handy Man' উপনাম প্রচলিত হয়।
❖ Homo erectus: মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলুপ্ত প্রজাতি।
❖ Homo erectus শব্দের অর্থ: প্রায় সোজা হয়ে দাঁড়ানো মানুষ (Upright Man)।
❖ Homo erectus-এর সময়কাল: আনুমানিক ১৮.৯ লক্ষ থেকে ১.১ লক্ষ বছর আগে বিভিন্ন অঞ্চলে এ প্রজাতির উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
❖ Homo erectus-এর বিস্তার: আফ্রিকা ছাড়াও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এ প্রজাতির জীবাশ্ম পাওয়া গেছে।
❖ Homo erectus-এর বৈশিষ্ট্য: তুলনামূলক দীর্ঘ পা, আধুনিক মানুষের অনুরূপ দেহের অনুপাত এবং বিভিন্ন ধরনের পাথরের সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।
❖ Homo erectus ও আগুন: প্রাচীন আগুন ব্যবহারের কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ Homo erectus-এর অস্তিত্বকালীন সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সব ক্ষেত্রে আগুন নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের প্রমাণ সমান নিশ্চিত নয়।
❖ Homo neanderthalensis: এটি একটি বিলুপ্ত মানবপ্রজাতি, যা সাধারণভাবে নিয়ান্ডারথাল (Neanderthal) নামে পরিচিত।
❖ নিয়ান্ডারথালের সময়কাল: আনুমানিক ৪ লক্ষ থেকে ৪০ হাজার বছর আগে।
❖ নিয়ান্ডারথালের বিস্তার: ইউরোপ এবং পশ্চিম থেকে মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করত।
❖ নিয়ান্ডারথালের শারীরিক বৈশিষ্ট্য: তুলনামূলক শক্তপোক্ত দেহ, প্রশস্ত বুক ও শীতপ্রধান পরিবেশে অভিযোজিত শারীরিক গঠন।
❖ নিয়ান্ডারথাল ও আধুনিক মানুষের সম্পর্ক: জিনগত গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে যে অতীতে নিয়ান্ডারথাল ও আধুনিক মানুষের কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যে আন্তঃপ্রজনন ঘটেছিল।
❖ মানববিবর্তন সরল একরৈখিক নয়: Homo habilis → Homo erectus → Homo neanderthalensis → Homo sapiens—এভাবে একটি একক সরল ধারাকে মানববিবর্তনের সম্পূর্ণ চিত্র হিসেবে দেখানো সঠিক নয়। বিভিন্ন মানবপ্রজাতি বিভিন্ন সময়ে পাশাপাশি অস্তিত্ব বজায় রেখেছিল এবং তাদের বিবর্তনীয় সম্পর্ক শাখাবিশিষ্ট।
❖ মানুষ ও বানরের সম্পর্ক: আধুনিক মানুষ বর্তমান জীবিত বানর থেকে সরাসরি বিবর্তিত হয়নি। মানুষ ও অন্যান্য প্রাইমেটের দূর অতীতে সাধারণ পূর্বপুরুষ ছিল।
❖ DNA-এর ভূমিকা: জীবাশ্মের পাশাপাশি জিনগত তথ্য ও প্রাচীন DNA গবেষণা মানববিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
❖ সাদৃশ্যের গুরুত্ব: মানুষ ও অন্যান্য প্রাইমেটের অস্থিগঠন, জিনগত সম্পর্ক ও ভ্রূণীয় বিকাশে মিল তাদের বিবর্তনীয় আত্মীয়তার সাক্ষ্য বহন করে।
❖ প্রজাতি শনাক্তে বৈজ্ঞানিক নামের প্রয়োজনীয়তা: 'মানুষ' শব্দটি বিভিন্ন ভাষায় ভিন্ন হলেও Homo sapiens আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক যোগাযোগে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতি নির্দেশ করে।
❖ দ্বিপদ নামকরণে লেখার নিয়ম: বৈজ্ঞানিক নামের গণের প্রথম অক্ষর Capital এবং প্রজাতিনির্দেশক বিশেষণ Lowercase হয়। সম্পূর্ণ নাম সাধারণত Italic অক্ষরে লেখা হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম — Homo sapiens।
➤ বাংলা উচ্চারণ — হোমো স্যাপিয়েন্স।
➤ Homo অর্থ — মানুষ।
➤ sapiens অর্থ — জ্ঞানী।
➤ Homo sapiens — জ্ঞানী মানুষ।
➤ মানুষের গণ — Homo।
➤ মানুষের প্রজাতি — Homo sapiens।
➤ মানুষের ডোমেইন — Eukarya।
➤ মানুষের রাজ্য — Animalia।
➤ মানুষের পর্ব — Chordata।
➤ মানুষের শ্রেণি — Mammalia।
➤ মানুষের বর্গ — Primates।
➤ মানুষের গোত্র — Hominidae।
➤ মানুষের গণ — Homo।
➤ মানুষের পূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রজাতিনাম — Homo sapiens।
➤ Homo sapiens নামের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী — ক্যারোলাস লিনিয়াস।
➤ Systema Naturae-এর দশম সংস্করণ — ১৭৫৮।
➤ আধুনিক মানুষের উদ্ভব — আনুমানিক ৩ লক্ষ বছর আগে।
➤ আধুনিক মানুষের উৎপত্তিস্থল — আফ্রিকা।
➤ Homo habilis — Handy Man।
➤ Homo habilis-এর সময়কাল — আনুমানিক ২৪–১৪ লক্ষ বছর আগে।
➤ Homo erectus — Upright Man।
➤ Homo erectus-এর সময়কাল — আনুমানিক ১৮.৯–১.১ লক্ষ বছর আগে।
➤ Homo neanderthalensis — নিয়ান্ডারথাল।
➤ নিয়ান্ডারথালের সময়কাল — আনুমানিক ৪ লক্ষ–৪০ হাজার বছর আগে।
➤ নিয়ান্ডারথাল বসবাস করত — ইউরোপ ও পশ্চিম-মধ্য এশিয়ায়।
➤ মানুষের নিকট সম্পর্কযুক্ত জীবিত প্রাইমেট — শিম্পাঞ্জি ও বোনোবো।
➤ মানুষের বর্তমান একমাত্র জীবিত প্রজাতি — Homo sapiens।
➤ মানববিবর্তন — শাখাবিশিষ্ট বিবর্তনীয় ইতিহাস।
➤ মানুষ বর্তমান বানর থেকে সরাসরি বিবর্তিত হয়নি।
➤ মানুষ ও অন্যান্য প্রাইমেটের সাধারণ বিবর্তনীয় পূর্বপুরুষ ছিল।
04
🎯 Level 1

১১. বেগুনের বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি? (বারি’র বৈজ্ঞানিক সহকারী: ২৪)

ক

Oryza sativa

খ

Boss indica

গ

Homo sapiens

ঘ

Solanum melongena

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. Solanum melongena

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: Solanum melongena — বেগুন (Eggplant/Brinjal)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বেগুনের বৈজ্ঞানিক নাম Solanum melongena। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সবজি ফসল এবং Solanaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
❖ বেগুনের ইংরেজি নাম: Eggplant, Brinjal ও Aubergine। বিভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও বৈজ্ঞানিক নাম একই।
❖ বেগুনের শ্রেণিবিন্যাস:
রাজ্য (Kingdom) — Plantae।
বিভাগ — Angiosperms বা আবৃতবীজী উদ্ভিদ।
বর্গ (Order) — Solanales।
পরিবার (Family) — Solanaceae।
গণ (Genus) — Solanum।
প্রজাতি (Species) — Solanum melongena।
❖ Solanaceae পরিবার: এ পরিবারকে সাধারণভাবে Nightshade Family বলা হয়। এতে বেগুন, আলু, টমেটো, মরিচ ও তামাক অন্তর্ভুক্ত।
❖ বেগুনের উৎপত্তি ও বিস্তার: বেগুনের আদি উৎপত্তি ও গৃহপালিত ফসল হিসেবে বিকাশের সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
❖ উদ্ভিদের প্রকৃতি: বেগুন সাধারণত শাখাযুক্ত, নরম থেকে কিছুটা কাঠসদৃশ কাণ্ডবিশিষ্ট উদ্ভিদ।
❖ পাতা: বেগুনের পাতা সাধারণত সরল, পর্যায়ক্রমিক ও অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত।
❖ ফুল: বেগুনের ফুল সাধারণত বেগুনি, হালকা বেগুনি বা সাদা হতে পারে। এতে পুংকেশর ও স্ত্রীকেশর থাকে।
❖ পরাগায়ন: বেগুনে স্বপরাগায়ন সাধারণ হলেও পতঙ্গের সাহায্যে পরপরাগায়নও হতে পারে।
❖ ফলের বৈজ্ঞানিক শ্রেণি: বেগুনের ফল উদ্ভিদবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে Berry (বেরি) প্রকৃতির ফল।
❖ বেগুন কেন সবজি? উদ্ভিদবিজ্ঞানে বেগুন ফল হলেও খাদ্য ও রান্নার ব্যবহার অনুযায়ী একে সবজি বলা হয়।
❖ বেগুনের রং: জাতভেদে বেগুন বেগুনি, সবুজ, সাদা বা ডোরাকাটা হতে পারে।
❖ বেগুনি রঙের কারণ: অনেক বেগুনের খোসার বেগুনি রঙে অ্যান্থোসায়ানিন (Anthocyanin) নামক রঞ্জক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
❖ পুষ্টিগুণ: বেগুনে খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম, বিভিন্ন ভিটামিন ও উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। পুষ্টির পরিমাণ জাত ও প্রস্তুতপ্রণালিভেদে পরিবর্তিত হয়।
❖ বেগুনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিকর পোকা: বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা (Brinjal Shoot and Fruit Borer)।
❖ পোকার বৈজ্ঞানিক নাম: Leucinodes orbonalis। এটি বেগুনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিকর পতঙ্গ।
❖ Bt বেগুন: Bacillus thuringiensis ব্যাকটেরিয়া থেকে পাওয়া নির্দিষ্ট জিন ব্যবহার করে উন্নত করা বেগুনের কিছু জাতকে Bt Brinjal বলা হয়।
❖ Bt বেগুনের উদ্দেশ্য: নির্দিষ্ট ক্ষতিকর পোকা, বিশেষত ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ কমানো।
❖ বাংলাদেশে গবেষণা: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) বেগুনের জাত উন্নয়ন ও Bt বেগুন নিয়ে গবেষণা করেছে।
❖ ধানের বৈজ্ঞানিক নাম: Oryza sativa, যা Poaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
❖ গরুর বৈজ্ঞানিক নাম: সাধারণ গৃহপালিত জেবু জাতের গরুর সঙ্গে Bos indicus নামটি সম্পর্কিত। ছবির Boss indica বানানটি শুদ্ধ বৈজ্ঞানিক নাম নয়।
❖ মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম: Homo sapiens, যা Hominidae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
❖ বৈজ্ঞানিক নামের বানান: Solanum গণের নাম এবং melongena প্রজাতিনাম নির্দেশক পদ। প্রজাতিনামের প্রথম অক্ষর ছোট হবে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বেগুনের বৈজ্ঞানিক নাম — Solanum melongena।
➤ ইংরেজি — Eggplant / Brinjal / Aubergine।
➤ রাজ্য — Plantae।
➤ বিভাগ — Angiosperms।
➤ বর্গ — Solanales।
➤ পরিবার — Solanaceae।
➤ গণ — Solanum।
➤ প্রজাতি — Solanum melongena।
➤ বেগুনের ফলের প্রকৃতি — Berry।
➤ বেগুনের খোসার বেগুনি রঞ্জক — Anthocyanin।
➤ বেগুনের গুরুত্বপূর্ণ পোকা — Shoot and Fruit Borer।
➤ পোকার বৈজ্ঞানিক নাম — Leucinodes orbonalis।
➤ Bt-এর পূর্ণরূপ — Bacillus thuringiensis।
➤ Bt বেগুন — জিনগতভাবে উন্নত বেগুনের একটি ধরন।
➤ BARI — Bangladesh Agricultural Research Institute।
➤ আলুর বৈজ্ঞানিক নাম — Solanum tuberosum।
➤ টমেটোর বৈজ্ঞানিক নাম — Solanum lycopersicum।
➤ ধানের বৈজ্ঞানিক নাম — Oryza sativa।
➤ মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম — Homo sapiens।
➤ গৃহপালিত জেবু গরুর নাম — Bos indicus।
05
🎯 Level 1

১৪. ICZN এর পূর্ণরূপ কী? (আইএফআইসি ব্যাংকের অফিসার: ০৩)

ক

International Code of Zoological Nomenclature

খ

International Committee on Zoological Nomenclature

গ

International Classification of Zoological Nomenclature

ঘ

কোনোটিই নয়

✅ সঠিক উত্তর:ক. International Code of Zoological Nomenclature

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: International Code of Zoological Nomenclature — প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালা।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ICZN-এর পূর্ণরূপ International Code of Zoological Nomenclature। এটি প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামকরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রণীত আন্তর্জাতিক নিয়ম ও সুপারিশের সমষ্টি।
❖ Zoological শব্দের অর্থ: প্রাণিবিদ্যাসংক্রান্ত।
❖ Nomenclature শব্দের অর্থ: নামকরণ বা নামকরণপদ্ধতি।
❖ International Code অর্থ: আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়মবিধি।
❖ ICZN-এর মূল উদ্দেশ্য: প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামকরণে একরূপতা, স্থিতিশীলতা, অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখা।
❖ বৈজ্ঞানিক নামের প্রয়োজন: একই প্রাণী বিভিন্ন দেশ বা ভাষায় ভিন্ন নামে পরিচিত হতে পারে। কিন্তু একটি গ্রহণযোগ্য বৈজ্ঞানিক নামের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী গবেষকদের যোগাযোগ সহজ হয়।
❖ উদাহরণ: বাঘকে বাংলায় বাঘ এবং ইংরেজিতে Tiger বলা হয়। এর আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রজাতিগত বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris।
❖ দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature): একটি প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ নিয়ে গঠিত হয়—
প্রথম অংশ — Genus (গণ)।
দ্বিতীয় অংশ — Specific Epithet (প্রজাতিনাম নির্দেশক পদ)।
❖ উদাহরণ:
Homo sapiens — মানুষ।
Panthera tigris — বাঘ।
Panthera leo — সিংহ।
Elephas maximus — এশীয় হাতি।
❖ বৈজ্ঞানিক নাম লেখার নিয়ম: গণের নামের প্রথম অক্ষর বড়, প্রজাতিনাম নির্দেশক পদের প্রথম অক্ষর ছোট এবং মুদ্রিত রচনায় পুরো বৈজ্ঞানিক নাম সাধারণত ইটালিক অক্ষরে লেখা হয়।
❖ হাতে লেখার নিয়ম: বৈজ্ঞানিক নাম হাতে লিখলে সাধারণত গণ ও প্রজাতিনাম নির্দেশক পদ পৃথকভাবে আন্ডারলাইন করা হয়।
❖ দ্বিপদ ও ত্রিপদ নামকরণ: প্রজাতির নাম দুটি অংশবিশিষ্ট হলে Binomial, আর উপপ্রজাতির নাম তিনটি অংশবিশিষ্ট হলে Trinomial নামকরণ ব্যবহৃত হয়।
প্রজাতি — Panthera tigris।
উপপ্রজাতি — Panthera tigris tigris।
❖ প্রাণীর নামকরণের আন্তর্জাতিক সংস্থা: International Commission on Zoological Nomenclature প্রাণীর নামকরণবিষয়ক Code পরিচালনা ও সংশোধনে দায়িত্বশীল আন্তর্জাতিক সংস্থা।
❖ Code বনাম Commission: International Code of Zoological Nomenclature হলো নিয়মবিধির নাম; আর International Commission on Zoological Nomenclature হলো সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কমিশনের নাম।
❖ গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: Code ও Commission—দুটির ক্ষেত্রেই ICZN সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হতে পারে। তবে প্রশ্নের খ বিকল্পে Committee লেখা আছে, অথচ সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক শব্দ হলো Commission। তাই প্রদত্ত বিকল্প অনুযায়ী ক সঠিক।
❖ আধুনিক প্রাণী নামকরণের ঐতিহাসিক ভিত্তি: প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামকরণের গুরুত্বপূর্ণ প্রারম্ভবিন্দু হিসেবে ক্যারোলাস লিনিয়াসের Systema Naturae গ্রন্থের দশম সংস্করণ (১৭৫৮) স্বীকৃত।
❖ ক্যারোলাস লিনিয়াস: সুইডিশ প্রকৃতিবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াস (১৭০৭–১৭৭৮) আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা ও দ্বিপদ নামকরণের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
❖ ICZN-এর আধুনিক প্রথম সংস্করণ: বর্তমান গঠনবিশিষ্ট International Code of Zoological Nomenclature-এর প্রথম সংস্করণ ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
❖ চতুর্থ সংস্করণ: ICZN Code-এর চতুর্থ সংস্করণ ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং ১ জানুয়ারি ২০০০ থেকে কার্যকর হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংশোধনী যুক্ত হয়েছে।
❖ Principle of Priority: প্রাণীর নামকরণে সাধারণভাবে কোনো ট্যাক্সনের প্রথম বৈধভাবে প্রকাশিত প্রযোজ্য নাম অগ্রাধিকার পায়। তবে স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যতিক্রম থাকতে পারে।
❖ Homonym: একই নাম ভিন্ন প্রাণী ট্যাক্সনের জন্য ব্যবহার করা হলে নামের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে। ICZN এ ধরনের সমস্যা সমাধানের নিয়ম দেয়।
❖ Synonym: একটি ট্যাক্সনের জন্য বিভিন্ন সময়ে একাধিক বৈজ্ঞানিক নাম প্রস্তাবিত হলে সেগুলোর মধ্যে নামগত সমার্থকতা থাকতে পারে।
❖ Type Specimen: নতুন প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম প্রতিষ্ঠায় নির্দিষ্ট নমুনাকে নামের স্থায়ী রেফারেন্স হিসেবে নির্ধারণ করা হতে পারে। একে নামবাহী টাইপ নমুনা (Name-bearing Type) বলা হয়।
❖ ICZN কী নিয়ন্ত্রণ করে? প্রাণীর পরিবার-গোষ্ঠী, গণ-গোষ্ঠী ও প্রজাতি-গোষ্ঠীর বৈজ্ঞানিক নামের নিয়ম নিয়ন্ত্রণ করে। এটি প্রাণীর সব বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস নির্ধারণের একক কর্তৃপক্ষ নয়।
❖ উদ্ভিদের নামকরণের পুরোনো নীতিমালা: International Code of Botanical Nomenclature (ICBN)।
❖ উদ্ভিদ, শৈবাল ও ছত্রাকের বর্তমান নামকরণবিধি: International Code of Nomenclature for algae, fungi, and plants (ICN)।
❖ ICBN থেকে ICN: ২০১১ সালের আন্তর্জাতিক উদ্ভিদবিদ্যা কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নামকরণবিধির বর্তমান বিস্তৃত নাম গৃহীত হয়।
❖ ICN-এর বর্তমান সংস্করণ: Madrid Code, যা ২১ জুলাই ২০২৫ প্রকাশিত হয়েছে। এটি আগের Shenzhen Code (২০১৮)-কে প্রতিস্থাপন করেছে।
❖ ICN ও ICZN-এর পার্থক্য:
ICN — শৈবাল, ছত্রাক ও উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণ।
ICZN — প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামকরণ।
❖ উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামের উদাহরণ:
Oryza sativa — ধান।
Mangifera indica — আম।
Corchorus capsularis — দেশি পাট।
Nymphaea nouchali — শাপলা।
❖ প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামের উদাহরণ:
Homo sapiens — মানুষ।
Panthera tigris — বাঘ।
Panthera leo — সিংহ।
Elephas maximus — এশীয় হাতি।
❖ আন্তর্জাতিক নামকরণের গুরুত্ব: বিজ্ঞান, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য গবেষণা, প্রজাতি শনাক্তকরণ এবং আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনায় নামসংক্রান্ত বিভ্রান্তি কমাতে এ ধরনের নিয়মবিধি গুরুত্বপূর্ণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ICZN-এর পূর্ণরূপ — International Code of Zoological Nomenclature।
➤ বাংলা — প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালা।
➤ Zoological — প্রাণিবিদ্যাসংক্রান্ত।
➤ Nomenclature — নামকরণপদ্ধতি।
➤ প্রাণীর নামকরণের নিয়মবিধি — ICZN Code।
➤ প্রাণীর নামকরণসংক্রান্ত কমিশন — International Commission on Zoological Nomenclature।
➤ Code — নিয়মবিধি।
➤ Commission — আন্তর্জাতিক কমিশন।
➤ প্রদত্ত খ বিকল্পের ‘Committee’ — সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক নাম নয়।
➤ দ্বিপদ নামকরণ — Binomial Nomenclature।
➤ উপপ্রজাতির ত্রিপদ নামকরণ — Trinomial Nomenclature।
➤ প্রথম অংশ — Genus।
➤ দ্বিতীয় অংশ — Specific Epithet।
➤ গণের প্রথম অক্ষর — বড় হাতের।
➤ প্রজাতিনাম নির্দেশক পদের প্রথম অক্ষর — ছোট হাতের।
➤ বৈজ্ঞানিক নাম — সাধারণত ইটালিক অক্ষরে লেখা হয়।
➤ আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক — ক্যারোলাস লিনিয়াস।
➤ লিনিয়াসের জীবনকাল — ১৭০৭–১৭৭৮।
➤ Systema Naturae-এর দশম সংস্করণ — ১৭৫৮।
➤ ICZN Code-এর আধুনিক প্রথম সংস্করণ — ১৯৬১।
➤ চতুর্থ সংস্করণ প্রকাশ — ১৯৯৯।
➤ চতুর্থ সংস্করণ কার্যকর — ১ জানুয়ারি ২০০০।
➤ Principle of Priority — নামের অগ্রাধিকার নীতি।
➤ Type Specimen — নামবাহী নমুনা।
➤ Homonym — একই নামের সংঘাত।
➤ Synonym — একই ট্যাক্সনের বিকল্প বৈজ্ঞানিক নাম।
➤ ICBN — International Code of Botanical Nomenclature।
➤ ICBN — উদ্ভিদের নামকরণবিধির পুরোনো নাম।
➤ ICN — International Code of Nomenclature for algae, fungi, and plants।
➤ ICN — উদ্ভিদ, শৈবাল ও ছত্রাকের বর্তমান নামকরণবিধি।
➤ ICN-এর বর্তমান সংস্করণ — Madrid Code।
➤ Madrid Code প্রকাশ — ২১ জুলাই ২০২৫।
➤ আগের সংস্করণ — Shenzhen Code (২০১৮)।
➤ প্রাণীর নামকরণ — ICZN।
➤ উদ্ভিদ, শৈবাল ও ছত্রাকের নামকরণ — ICN।
Advertisement
06
🎯 Level 1

০৩. জীববিজ্ঞানের প্রধান দুইটি শাখা কী কী? (মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ০০)

ক

Zoology & Mycology

খ

Botany & Ecology

গ

Mycology & Ecology

ঘ

Botany & Zoology

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. Botany & Zoology

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: Botany & Zoology — উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণীবিজ্ঞান।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ প্রচলিত শ্রেণিবিভাগে জীববিজ্ঞানের প্রধান দুটি শাখা হলো উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany) এবং প্রাণীবিজ্ঞান (Zoology)। উদ্ভিদবিজ্ঞান উদ্ভিদের এবং প্রাণীবিজ্ঞান প্রাণীর গঠন, জীবনক্রিয়া, প্রজনন ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করে।
❖ উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany): উদ্ভিদের গঠন, শ্রেণিবিন্যাস, বৃদ্ধি, সালোকসংশ্লেষণ, প্রজনন, বংশগতি, অভিযোজন ও পরিবেশগত সম্পর্ক নিয়ে অধ্যয়ন।
❖ প্রাণীবিজ্ঞান (Zoology): প্রাণীর গঠন, শ্রেণিবিন্যাস, আচরণ, পুষ্টি, শ্বসন, প্রজনন, ভ্রূণবিকাশ ও বিবর্তন নিয়ে অধ্যয়ন।
❖ উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক: প্রাচীন গ্রিক বিজ্ঞানী থিওফ্রাস্টাস (Theophrastus)।
❖ প্রাণীবিজ্ঞানের জনক: প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক ও প্রকৃতিবিদ এরিস্টটল (Aristotle)।
❖ মাইকোলজি (Mycology): ছত্রাকের গঠন, শ্রেণিবিন্যাস, জীবনচক্র, রোগ ও পরিবেশগত ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করে।
❖ ইকোলজি (Ecology): জীব ও তাদের পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। খাদ্যশৃঙ্খল, বাস্তুতন্ত্র, জনসংখ্যা এবং শক্তিপ্রবাহ এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
❖ মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology): অণুজীব নিয়ে অধ্যয়ন। এর মধ্যে ব্যাকটেরিয়া, আর্কিয়া, বিভিন্ন অণুবীক্ষণিক ছত্রাক ও প্রোটিস্ট অন্তর্ভুক্ত।
❖ জেনেটিক্স (Genetics): বংশগতি ও জিনগত বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করে। এর জনক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল।
❖ সাইটোলজি (Cytology): কোষের গঠন ও বৈশিষ্ট্যসংক্রান্ত অধ্যয়নের ঐতিহাসিক পরিভাষা। আধুনিকভাবে বৃহত্তর Cell Biology কোষের গঠন ও কার্যক্রম আলোচনা করে।
❖ বায়োটেকনোলজি (Biotechnology): জীব, কোষ, এনজাইম ও জৈবপ্রক্রিয়া ব্যবহার করে কৃষি, চিকিৎসা, শিল্প এবং পরিবেশে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি উন্নয়ন।
❖ আধুনিক শ্রেণিবিভাগ: জীববিজ্ঞান বর্তমানে শুধু Botany ও Zoology-তে সীমাবদ্ধ নয়। Genetics, Molecular Biology, Microbiology, Ecology, Evolutionary Biology ও Bioinformatics-এর মতো বহু শাখা রয়েছে।
❖ উদ্ভিদ ও প্রাণীর কোষে পার্থক্য: সাধারণ উদ্ভিদকোষে সেলুলোজসমৃদ্ধ কোষপ্রাচীর ও প্লাস্টিড থাকতে পারে; সাধারণ প্রাণীকোষে এগুলো থাকে না।
❖ উদ্ভিদ ও প্রাণীর মিল: উভয়ই ইউক্যারিওটিক জীব, এবং উভয়ের কোষে সাধারণত নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, রাইবোজোম ও কোষঝিল্লি থাকে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ জীববিজ্ঞানের প্রচলিত দুটি প্রধান শাখা — Botany ও Zoology।
➤ Botany — উদ্ভিদবিজ্ঞান।
➤ Zoology — প্রাণীবিজ্ঞান।
➤ উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক — থিওফ্রাস্টাস।
➤ প্রাণীবিজ্ঞানের জনক — এরিস্টটল।
➤ Mycology — ছত্রাকবিদ্যা।
➤ Ecology — বাস্তুবিদ্যা।
➤ Genetics — বংশগতিবিদ্যা।
➤ Microbiology — অণুজীববিজ্ঞান।
➤ Cytology — কোষতত্ত্ব।
➤ Physiology — শারীরবৃত্তবিদ্যা।
➤ Histology — কলাবিদ্যা।
➤ Bioinformatics — জীববৈজ্ঞানিক তথ্যের গণনাভিত্তিক বিশ্লেষণ।
➤ উদ্ভিদ ও প্রাণী — উভয়ই ইউক্যারিওটিক জীব।
07
🎯 Level 1

০৬. উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক কে? / Botany এর জনক কে? (মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ০১)

ক

ডারউইন

খ

জোহান মেন্ডেল

গ

থিওফ্রাস্টাস

ঘ

ক্যারোলাস লিনিয়াস

✅ সঠিক উত্তর:গ. থিওফ্রাস্টাস

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: থিওফ্রাস্টাস (Theophrastus) — উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ থিওফ্রাস্টাস (Theophrastus) ছিলেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক ও প্রকৃতিবিদ। উদ্ভিদের গঠন, বৃদ্ধি, প্রজনন, শ্রেণিগত পার্থক্য এবং ব্যবহার নিয়ে পদ্ধতিগত গবেষণার কারণে তাঁকে Father of Botany বলা হয়।
❖ জীবনকাল: আনুমানিক ৩৭১–২৮৭ খ্রিষ্টপূর্ব।
❖ জন্মস্থান: প্রাচীন গ্রিসের লেসবস দ্বীপের এরেসোস (Eresos, Lesbos) অঞ্চলে।
❖ শিক্ষক: থিওফ্রাস্টাস ছিলেন এরিস্টটলের ছাত্র ও সহযোগী।
❖ এরিস্টটলের উত্তরসূরি: এরিস্টটলের মৃত্যুর পরে থিওফ্রাস্টাস এথেন্সের Lyceum বা পেরিপ্যাটেটিক বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
❖ প্রধান বিখ্যাত গ্রন্থ: Historia Plantarum, যার ইংরেজি নাম Enquiry into Plants।
❖ অন্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ: De Causis Plantarum, ইংরেজিতে On the Causes of Plants।
❖ Historia Plantarum-এর বিষয়: বিভিন্ন উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান, বৃদ্ধি, বৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং ব্যবহারের ধরন নিয়ে আলোচনা।
❖ De Causis Plantarum-এর বিষয়: উদ্ভিদের বৃদ্ধির কারণ, প্রজনন, পরিবেশগত প্রভাব এবং বিভিন্ন জীবনপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা।
❖ উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ: থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদকে সাধারণভাবে বৃক্ষ, গুল্ম, উপগুল্ম ও তৃণজাতীয় উদ্ভিদ হিসেবে আলোচনা করেছিলেন।
❖ উদ্ভিদ পর্যবেক্ষণ: তিনি বিভিন্ন উদ্ভিদের বীজ, মূল, পাতা, কাণ্ড, ফুল এবং ফলের গঠনগত পার্থক্য নিয়ে গবেষণা করেন।
❖ প্রাচীন জীববিজ্ঞানে গুরুত্ব: উদ্ভিদ সম্পর্কে বিচ্ছিন্ন তথ্য সংগ্রহের পরিবর্তে সুশৃঙ্খল পর্যবেক্ষণ ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ ব্যবহারের কারণে তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ।
❖ চার্লস ডারউইন (১৮০৯–১৮৮২): বিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) তত্ত্বের জন্য বিখ্যাত।
❖ ডারউইনের প্রধান গ্রন্থ: On the Origin of Species — ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত।
❖ গ্রেগর জোহান মেন্ডেল (১৮২২–১৮৮৪): মটরগাছের পরীক্ষার মাধ্যমে বংশগতির মৌলিক সূত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয়।
❖ মেন্ডেলের গবেষণা প্রকাশ: ১৮৬৬ সালে।
❖ ক্যারোলাস লিনিয়াস (১৭০৭–১৭৭৮): জীবের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস ও দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি (Binomial Nomenclature) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ।
❖ লিনিয়াসের বিখ্যাত গ্রন্থ: Systema Naturae — প্রথম সংস্করণ ১৭৩৫ সালে; এবং Species Plantarum — ১৭৫৩ সালে প্রকাশিত।
❖ থিওফ্রাস্টাস ও লিনিয়াসের পার্থক্য: থিওফ্রাস্টাস প্রাচীন উদ্ভিদবিদ্যার পথিকৃৎ, আর লিনিয়াস আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস ও নামকরণব্যবস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক — থিওফ্রাস্টাস।
➤ Father of Botany — Theophrastus।
➤ জীবনকাল — আনুমানিক ৩৭১–২৮৭ খ্রিষ্টপূর্ব।
➤ জন্মস্থান — এরেসোস, লেসবস দ্বীপ।
➤ থিওফ্রাস্টাসের শিক্ষক — এরিস্টটল।
➤ থিওফ্রাস্টাসের বিখ্যাত গ্রন্থ — Historia Plantarum।
➤ Historia Plantarum — Enquiry into Plants।
➤ অন্য গ্রন্থ — De Causis Plantarum।
➤ De Causis Plantarum — On the Causes of Plants।
➤ প্রাণীবিজ্ঞানের জনক — এরিস্টটল।
➤ বংশগতিবিদ্যার জনক — গ্রেগর মেন্ডেল।
➤ প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব — চার্লস ডারউইন।
➤ On the Origin of Species — ১৮৫৯।
➤ আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক — ক্যারোলাস লিনিয়াস।
➤ Systema Naturae — ১৭৩৫।
➤ Species Plantarum — ১৭৫৩।
08
🎯 Level 1

০৯. ‘গাছের প্রাণ আছে’ এটা কে প্রমাণ করেন? (আইএফআইসি ব্যাংকের অফিসার: ০৯; যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক: ২৩)

ক

ডারউইন

খ

টমাস এডিসন

গ

জগদীশ চন্দ্র বসু

ঘ

হেমিংওয়ে

✅ সঠিক উত্তর:গ. জগদীশ চন্দ্র বসু

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু (Sir Jagadish Chandra Bose)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮–১৯৩৭) ছিলেন বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী, উদ্ভিদ-শারীরবিজ্ঞানী ও পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ। উদ্ভিদের বৃদ্ধি, উদ্দীপনায় প্রতিক্রিয়া এবং বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সাড়া নিয়ে তাঁর গবেষণার কারণে প্রশ্নটির প্রচলিত উত্তর জগদীশচন্দ্র বসু।
❖ বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ভুল ব্যাখ্যা: উদ্ভিদ যে জীবিত, এ সত্য জগদীশচন্দ্র বসুর আগেও জানা ছিল। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো উদ্ভিদ বিভিন্ন বাহ্যিক উদ্দীপনায় পরিমাপযোগ্য শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে—এটি সূক্ষ্ম যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষামূলকভাবে দেখানো।
❖ জন্ম: ৩০ নভেম্বর ১৮৫৮। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী তাঁর জন্মস্থান ময়মনসিংহ, যদিও কিছু সরকারি ও অন্যান্য জীবনীতে বর্তমান মুন্সিগঞ্জ উল্লেখ রয়েছে। তাঁর পরিবারের পৈতৃক নিবাস বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল।
❖ মৃত্যু: ২৩ নভেম্বর ১৯৩৭, ভারতের গিরিডিতে।
❖ পিতা: ভগবানচন্দ্র বসু, যিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতেন।
❖ শিক্ষাজীবন: তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়াশোনা করেন এবং পরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
❖ প্রেসিডেন্সি কলেজ: জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
❖ ক্রেসকোগ্রাফ (Crescograph): উদ্ভিদের অত্যন্ত ক্ষুদ্র বৃদ্ধি পরিমাপ ও রেকর্ড করার জন্য তাঁর উদ্ভাবিত সংবেদনশীল যন্ত্র।
❖ ক্রেসকোগ্রাফের কাজ: উদ্ভিদের বৃদ্ধি এত ধীরগতির যে সাধারণ চোখে তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। ক্রেসকোগ্রাফ ক্ষুদ্র বৃদ্ধি অনেক গুণ বড় করে পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করতে সাহায্য করে।
❖ উদ্ভিদের উদ্দীপনা প্রতিক্রিয়া: তাপ, ঠান্ডা, রাসায়নিক পদার্থ, যান্ত্রিক আঘাত ও বৈদ্যুতিক উদ্দীপনার প্রতি উদ্ভিদ টিস্যুর প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি গবেষণা করেন।
❖ Plant Electrophysiology: উদ্ভিদের কোষ ও টিস্যুতে বৈদ্যুতিক সংকেত ও শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্র। জগদীশচন্দ্র বসু এ বিষয়ে অগ্রগামী গবেষক ছিলেন।
❖ উদ্ভিদের চলন: লজ্জাবতী গাছের পাতার স্পর্শে নুয়ে পড়া উদ্ভিদের স্পর্শসংবেদনশীল চলন (Thigmonasty)-এর পরিচিত উদাহরণ।
❖ উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবেশ: আলো, তাপমাত্রা, পানি, রাসায়নিক পদার্থ এবং বিভিন্ন হরমোন উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশে প্রভাব ফেলে।
❖ বেতার তরঙ্গ গবেষণা: তিনি মিলিমিটার তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ, বেতার সংকেত এবং বিভিন্ন পদার্থের বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করেন।
❖ বেতার প্রযুক্তির ইতিহাসে অবদান: বেতার তরঙ্গ উৎপাদন, শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন উপাদানের সাহায্যে তরঙ্গের আচরণ পরীক্ষায় তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ।
❖ বসু বিজ্ঞান মন্দির (Bose Institute): ১৯১৭ সালে কলকাতায় তিনি Bose Institute প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ রয়্যাল সোসাইটির ফেলো: ১৯২০ সালে তিনি Fellow of the Royal Society (FRS) নির্বাচিত হন।
❖ ইংরেজি বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ: Response in the Living and Non-Living (১৯০২) এবং The Nervous Mechanism of Plants (১৯২৬) তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
❖ বাংলা রচনা: অব্যক্ত তাঁর বিখ্যাত বাংলা প্রবন্ধসংকলন। বিজ্ঞান, প্রকৃতি ও মানবচিন্তা তাঁর লেখায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে।
❖ চার্লস ডারউইন: বিবর্তনবাদের গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী। তিনি উদ্ভিদের চলন নিয়ে গবেষণা করেছিলেন এবং The Power of Movement in Plants (১৮৮০) গ্রন্থ রচনা করেন।
❖ টমাস আলভা এডিসন: ১৮৪৭–১৯৩১। বৈদ্যুতিক আলো, ফোনোগ্রাফ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের জন্য পরিচিত।
❖ আর্নেস্ট হেমিংওয়ে: ১৮৯৯–১৯৬১। মার্কিন সাহিত্যিক; ১৯৫৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ গাছের প্রাণ আছে—প্রচলিত পরীক্ষার উত্তর — জগদীশচন্দ্র বসু।
➤ জগদীশচন্দ্র বসুর জীবনকাল — ১৮৫৮–১৯৩৭।
➤ জন্ম — ৩০ নভেম্বর ১৮৫৮।
➤ মৃত্যু — ২৩ নভেম্বর ১৯৩৭।
➤ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী জন্মস্থান — ময়মনসিংহ।
➤ পৈতৃক নিবাস — রাঢ়িখাল, বিক্রমপুর।
➤ পিতা — ভগবানচন্দ্র বসু।
➤ উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপের যন্ত্র — ক্রেসকোগ্রাফ।
➤ Crescograph — জগদীশচন্দ্র বসুর উদ্ভাবন।
➤ Plant Electrophysiology — উদ্ভিদের বৈদ্যুতিক শারীরবৃত্ত।
➤ Bose Institute প্রতিষ্ঠা — ১৯১৭।
➤ রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত — ১৯২০।
➤ বাংলা প্রবন্ধসংকলন — অব্যক্ত।
➤ Response in the Living and Non-Living — ১৯০২।
➤ The Nervous Mechanism of Plants — ১৯২৬।
➤ ডারউইনের উদ্ভিদসংক্রান্ত গ্রন্থ — The Power of Movement in Plants।
➤ স্পর্শে লজ্জাবতীর পাতা নুয়ে পড়া — Thigmonasty।
Advertisement
09
🎯 Level 1

১২. বিজ্ঞানচর্চায় মাতৃভাষাকে সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচনা করেন— (পিএসসির সহকারী পরিচালক: ০৪)

ক

জগদীশচন্দ্র বসু

খ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গ

মুহম্মদ কুদরত-এ খুদা

ঘ

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

✅ সঠিক উত্তর:গ. মুহম্মদ কুদরত-এ খুদা

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক উত্তর: মুহম্মদ কুদরত-এ খুদা (Muhammad Qudrat-i-Khuda)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ড. মুহম্মদ কুদরত-এ-খুদা (১৯০০–১৯৭৭) ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ, বিজ্ঞানলেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিনি বিশ্বাস করতেন, বিজ্ঞানশিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চার জন্য মাতৃভাষাই সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে উপযোগী মাধ্যম।
❖ তাঁর মতে, বিজ্ঞানকে শুধু বিদেশি ভাষায় সীমাবদ্ধ রাখলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণের মধ্যে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান যথাযথভাবে বিস্তার লাভ করতে পারে না। তাই তিনি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানশিক্ষা, পাঠ্যপুস্তক রচনা, বৈজ্ঞানিক পরিভাষা নির্মাণ ও গবেষণার ফলাফল প্রচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
❖ মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে তিনি ‘বাংলার মাধ্যমে বিজ্ঞান’ (১৯৩৬) শীর্ষক রচনা প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে ‘বিজ্ঞানের বিচিত্র কাহিনী’, ‘বিজ্ঞানের সরস কাহিনী’, ‘বিজ্ঞানের সূচনা’, ‘পরমাণু পরিচিতি’ ও চার খণ্ডের ‘জৈব রসায়ন’ গ্রন্থ রচনা করে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানসাহিত্য সমৃদ্ধ করেন।
❖ তিনি কেবল বিজ্ঞানবিষয়ক বই লেখেননি; গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, দেশীয় সম্পদের ব্যবহারিক গবেষণা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১. ড. মুহম্মদ কুদরত-এ-খুদার জীবন ও পরিচিতি
❖ পূর্ণ নাম: ড. মুহম্মদ কুদরত-এ-খুদা (Muhammad Qudrat-i-Khuda)।
❖ জন্মসাল: ১৯০০।
❖ প্রচলিত জন্মতারিখ: ১ ডিসেম্বর ১৯০০।
❖ জন্মস্থান: মাড়গ্রাম, বীরভূম জেলা, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত।
❖ বর্তমান অবস্থান: পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
❖ মৃত্যু: ৩ নভেম্বর ১৯৭৭।
❖ মৃত্যুস্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ।
❖ পিতা: খোন্দকার আবদুল মুকিত।
❖ মাতা: সৈয়দা ফাসিহা খাতুন।
❖ জাতীয় পরিচিতি: বাঙালি; পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী।
❖ পেশা: রসায়নবিদ, গবেষক, বিজ্ঞানলেখক ও শিক্ষাবিদ।
❖ বিশেষ গবেষণাক্ষেত্র: জৈব রসায়ন (Organic Chemistry)।
❖ বিশেষ পরিচিতি: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সভাপতি।
❖ একুশে পদক: ১৯৭৬।
❖ স্বাধীনতা পুরস্কার: ১৯৮৪ (মরণোত্তর)।
✦ জন্মতারিখসংক্রান্ত তথ্য: অধিকাংশ প্রচলিত বাংলা জীবনীতে ১ ডিসেম্বর ১৯০০ উল্লেখিত হলেও বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির জীবনীতে জন্মকাল মে ১৯০০ বলা হয়েছে। তবে জন্মসাল ১৯০০, জন্মস্থান মাড়গ্রাম এবং মৃত্যুর তারিখ ৩ নভেম্বর ১৯৭৭ সম্পর্কে ঐকমত্য রয়েছে।
২. শৈশব ও শিক্ষাজীবন
❖ কুদরত-এ-খুদা বীরভূম জেলার মাড়গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
❖ পরে কলকাতায় মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
❖ তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
❖ ১৯২৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
❖ এমএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফলের জন্য স্বর্ণপদক লাভ করেন।
❖ পরে উচ্চতর গবেষণার জন্য ইংল্যান্ডে যান।
❖ লন্ডনের Imperial College of Science and Technology-তে গবেষণা করেন।
❖ ১৯২৯ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে D.Sc. ডিগ্রি অর্জন করেন।
❖ একই সময়ে Imperial College-এর DIC (Diploma of Imperial College) অর্জন করেন।
৩. মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চাকে কেন উপযোগী মনে করতেন?
❖ কুদরত-এ-খুদা উপলব্ধি করেছিলেন যে বিজ্ঞানশিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় পাস করা নয়; বরং বৈজ্ঞানিক ধারণা বোঝা, যুক্তিভিত্তিক চিন্তা করা এবং বাস্তব জীবনে জ্ঞান প্রয়োগ করা।
❖ শিক্ষার্থী তার পরিচিত ভাষায় জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণা ব্যাখ্যা পেলে অনেক ক্ষেত্রে তা সহজে অনুধাবন করতে পারে।
❖ বিদেশি ভাষায় দুর্বলতা থাকলে বিজ্ঞান শেখার ক্ষেত্রে ভাষাগত বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
❖ মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক থাকলে গ্রামাঞ্চলসহ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে বিজ্ঞান পৌঁছানো সহজ হয়।
❖ মাতৃভাষায় বৈজ্ঞানিক পরিভাষা তৈরি হলে উচ্চতর জ্ঞান, গবেষণার ফলাফল ও প্রযুক্তিগত তথ্য স্থানীয়ভাবে প্রচার করা সম্ভব হয়।
❖ তিনি বিশ্বাস করতেন, বিজ্ঞানকে গণমানুষের জ্ঞানে পরিণত করতে বাংলা ভাষার বিকাশ অপরিহার্য।
৪. ‘বাংলার মাধ্যমে বিজ্ঞান’ — ১৯৩৬
❖ ১৯৩৬ সালে কুদরত-এ-খুদা ‘বাংলার মাধ্যমে বিজ্ঞান’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা প্রকাশ করেন।
❖ এতে মাতৃভাষায় বিজ্ঞানশিক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
❖ তিনি বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক আলোচনা অসম্ভব—এমন ধারণার বিরোধিতা করেন।
❖ বিজ্ঞান শিক্ষার উপযোগী শব্দভান্ডার ও পরিভাষা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
❖ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানসাহিত্য রচনা ও পাঠ্যপুস্তক তৈরির মাধ্যমে এই আদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন।
৫. বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ রচনা
◉ বিজ্ঞানের বিচিত্র কাহিনী
❖ তাঁর বিখ্যাত জনপ্রিয় বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থগুলোর একটি।
❖ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ঘটনা ও ধারণা সাধারণ পাঠকের উপযোগী ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
◉ বিজ্ঞানের সরস কাহিনী
❖ বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে রচিত।
❖ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ।
◉ বিজ্ঞানের সূচনা
❖ বিজ্ঞানের প্রাথমিক ধারণা ও মৌলিক বিষয় সম্পর্কে রচিত গ্রন্থ।
❖ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানশিক্ষা সম্প্রসারণের তাঁর প্রচেষ্টার নিদর্শন।
◉ জৈব রসায়ন — চার খণ্ড
❖ উচ্চতর রসায়নশিক্ষার জন্য বাংলা ভাষায় রচিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
❖ চার খণ্ডে রচিত হওয়া এই গ্রন্থ বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষার পাঠ্যবই নির্মাণের অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা।
❖ এর চতুর্থ খণ্ড ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়।
◉ পরমাণু পরিচিতি
❖ পরমাণু ও পদার্থের গঠনসংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ধারণা উপস্থাপনকারী গ্রন্থ।
◉ পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প সম্ভাবনা
❖ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিল্পায়ন ও স্থানীয় সম্পদের ব্যবহারিক সম্ভাবনা নিয়ে রচিত।
◉ কলেজ কিমিয়ার কথা (১৯৭৩)
❖ কলেজ পর্যায়ের রসায়নশিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা গ্রন্থ।
❖ বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষার বিজ্ঞানসামগ্রী তৈরির উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
৬. বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রকাশ ও সম্পাদনা
❖ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানবিষয়ক জ্ঞান প্রচারের জন্য কুদরত-এ-খুদা সাময়িকী প্রকাশ ও সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
◉ পুরোগামী বিজ্ঞান — ১৯৬৩
❖ ১৯৬৩ সালে ‘পুরোগামী বিজ্ঞান’ নামে বিজ্ঞান সাময়িকী প্রকাশে ভূমিকা রাখেন।
❖ এতে বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাধারা সাধারণ পাঠকদের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
◉ বিজ্ঞানের জয়যাত্রা — ১৯৭২
❖ ১৯৭২ সালে ‘বিজ্ঞানের জয়যাত্রা’ নামে আরেকটি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রকাশ ও সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
❖ এর মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে বিজ্ঞানশিক্ষা ও বিজ্ঞানমনস্কতা প্রসারের চেষ্টা করেন।
৭. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব
❖ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) বাংলা ভাষায় জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
❖ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রকাশের বিষয়ে কুদরত-এ-খুদার চিন্তাধারায় রবীন্দ্রনাথের প্রভাব ছিল।
❖ ১৯৩৬ সালে একটি শিক্ষাবিষয়ক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ‘শিক্ষার সাঙ্গীকরণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন।
❖ মাতৃভাষায় শিক্ষা, জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতা ও শিক্ষার সঙ্গে জীবনের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের চিন্তা কুদরত-এ-খুদাকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
❖ বাংলা ভাষায় উচ্চতর বিজ্ঞানশিক্ষার পাঠ্যপুস্তক নির্মাণে কুদরত-এ-খুদা পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
৮. জৈব রসায়নে গবেষণা
❖ কুদরত-এ-খুদার প্রধান গবেষণাক্ষেত্র ছিল Organic Chemistry বা জৈব রসায়ন।
❖ কার্বনযুক্ত যৌগ, জৈব রাসায়নিক গঠন ও দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারিক সম্ভাবনা নিয়ে তিনি গবেষণা করেন।
❖ উদ্ভিদ থেকে জৈব রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ, পাট ও পাটজাত উপকরণ এবং শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য পদার্থ নিয়ে তাঁর গবেষণা উল্লেখযোগ্য।
❖ পাটকাঠি থেকে কাগজ তৈরির মণ্ড (Paper Pulp) উৎপাদনের পদ্ধতি উদ্ভাবনে তাঁর অবদান ছিল।
❖ দেশীয় সম্পদকে শিল্পের কাঁচামালে রূপান্তর করার বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা অনুসন্ধান করেন।
❖ তাঁর গবেষণা বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প ও বিজ্ঞানভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
৯. বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অবদান
❖ ১৯৫৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের পূর্বাঞ্চলীয় গবেষণাগারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ তিনি ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এই গবেষণাগারের নেতৃত্ব দেন।
❖ প্রতিষ্ঠানটির উত্তরসূরি হলো বর্তমান বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR)-এর গবেষণা কার্যক্রম।
❖ BCSIR-এর পূর্ণরূপ: Bangladesh Council of Scientific and Industrial Research।
❖ বাংলা নাম: বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ।
❖ BCSIR বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
❖ এর গবেষণার উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে দেশীয় সম্পদের বৈজ্ঞানিক ব্যবহার, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, শিল্পক্ষেত্রে গবেষণা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন।
১০. বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমিতে অবদান
❖ ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি (Bangladesh Academy of Sciences) প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ কুদরত-এ-খুদা ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
❖ তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ফেলো (Foundation Fellow) ছিলেন।
❖ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা, বৈজ্ঞানিক গবেষণার মানোন্নয়ন এবং বিজ্ঞানশিক্ষা সম্প্রসারণে একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১১. কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন — ১৯৭২
❖ স্বাধীন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে ২৬ জুলাই ১৯৭২ সালে প্রথম জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।
❖ কমিশনের সভাপতি নিযুক্ত হন ড. মুহম্মদ কুদরত-এ-খুদা।
❖ তাঁর নামানুসারে এটি কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন নামে পরিচিত।
❖ বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা ছিল কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য।
❖ কমিশন শিক্ষাকে বিজ্ঞানমনস্ক, গণমুখী, কর্মমুখী ও জাতীয় প্রয়োজনের উপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেয়।
১২. শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন
❖ কমিশন ৮ জুন ১৯৭৩ সালে একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়।
❖ ৩০ মে ১৯৭৪ সালে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে পেশ করে।
❖ প্রতিবেদনটি ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট’ নামে প্রকাশিত হয়।
❖ পরবর্তীকালে এটি কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট নামে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
❖ স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষানীতি ও শিক্ষাক্রম পরিকল্পনার ইতিহাসে এটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
১৩. কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ
◉ প্রাথমিক শিক্ষা
❖ প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।
❖ শিক্ষার সুযোগ বিস্তার ও বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
◉ মাধ্যমিক শিক্ষা
❖ নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চার বছর মেয়াদি মাধ্যমিক শিক্ষার কাঠামো প্রস্তাব করা হয়।
❖ সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
◉ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা
❖ বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসার এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
❖ শিক্ষার্থীদের বাস্তবজীবনের সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞান ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তোলার ধারণা সামনে আনা হয়।
◉ মাতৃভাষায় শিক্ষাদান
❖ শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
❖ উপযুক্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুতের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হয়।
◉ কর্মমুখী শিক্ষা
❖ উৎপাদন, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
❖ ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।
১৪. জাতীয় শিক্ষায় তাঁর দর্শন
❖ কুদরত-এ-খুদা মনে করতেন, শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের উপায় নয়; বরং জ্ঞান, দক্ষতা, যুক্তিবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের মাধ্যম।
❖ বিজ্ঞানশিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা ও বাস্তবমুখী চিন্তা গড়ে ওঠে।
❖ মাতৃভাষায় বিজ্ঞান শেখার সুযোগ থাকলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী শিক্ষার উপকার লাভ করতে পারে।
❖ দেশীয় বিজ্ঞান গবেষণা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক শিল্পের উন্নয়ন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ এসব ধারণার প্রতিফলন তাঁর বাংলা বিজ্ঞানগ্রন্থ, গবেষণা কার্যক্রম ও শিক্ষা কমিশনের কাজে দেখা যায়।
১৫. একুশে পদক — ১৯৭৬
❖ ১৯৭৬ সালে কুদরত-এ-খুদা একুশে পদক লাভ করেন।
❖ শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
❖ একুশে পদক বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।
❖ ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে পদকটির নামকরণ করা হয়েছে।
১৬. স্বাধীনতা পুরস্কার — ১৯৮৪
❖ ১৯৮৪ সালে কুদরত-এ-খুদাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়।
❖ পুরস্কারের ক্ষেত্র ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।
❖ স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।
❖ তিনি মৃত্যুর সাত বছর পর এই পুরস্কারে ভূষিত হন।
১৭. জীবনের শেষ পর্যায় ও মৃত্যু
❖ ১৯৭৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ জীবনের শেষ পর্যায়েও বিজ্ঞানশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
❖ ৩ নভেম্বর ১৯৭৭ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
❖ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানশিক্ষা, জৈব রসায়ন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় শিক্ষা পরিকল্পনায় তাঁর অবদান বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও শিক্ষার ইতিহাসে স্থায়ী গুরুত্ব বহন করে।
১৮. মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব
❖ জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮–১৯৩৭) বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানভিত্তিক প্রবন্ধ রচনা এবং উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় সাড়া নিয়ে গবেষণার জন্য বিখ্যাত। তাঁর উল্লেখযোগ্য বাংলা গ্রন্থ ‘অব্যক্ত’ (১৯২১)।
❖ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানবিষয়ক ‘বিশ্বপরিচয়’ (১৯৩৭) রচনা করেন। এটি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানকে সহজভাবে উপস্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
❖ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫–১৯৬৯) ছিলেন ভাষাবিজ্ঞানী, বহুভাষাবিদ ও শিক্ষাবিদ। বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক চিন্তায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
❖ সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪–১৯৭৪) মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রবক্তা। ১৯৪৭ সালে বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ প্রতিষ্ঠা এবং ‘জ্ঞান ও বিজ্ঞান’ পত্রিকা প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
❖ মুহম্মদ কুদরত-এ-খুদা (১৯০০–১৯৭৭) মাতৃভাষায় বিজ্ঞান পাঠদান, বিজ্ঞানবিষয়ক পাঠ্যপুস্তক রচনা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনে বিশেষ অবদান রাখেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বিজ্ঞানচর্চায় মাতৃভাষাকে সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচনা করতেন — মুহম্মদ কুদরত-এ-খুদা।
➤ তাঁর প্রধান পরিচিতি — বিজ্ঞানী, রসায়নবিদ, বিজ্ঞানলেখক ও শিক্ষাবিদ।
➤ প্রধান গবেষণাক্ষেত্র — জৈব রসায়ন।
➤ জন্মসাল — ১৯০০।
➤ প্রচলিত জন্মতারিখ — ১ ডিসেম্বর ১৯০০।
➤ জন্মস্থান — মাড়গ্রাম, বীরভূম।
➤ বর্তমান অবস্থান — পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
➤ পিতা — খোন্দকার আবদুল মুকিত।
➤ মাতা — সৈয়দা ফাসিহা খাতুন।
➤ মৃত্যু — ৩ নভেম্বর ১৯৭৭।
➤ মৃত্যুর স্থান — ঢাকা।
➤ রসায়নে এমএসসি — ১৯২৪।
➤ এমএসসি অধ্যয়নের প্রতিষ্ঠান — কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
➤ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান — Imperial College, London।
➤ D.Sc. ডিগ্রি অর্জন — ১৯২৯।
➤ ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয় — লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়।
➤ মাতৃভাষায় বিজ্ঞানশিক্ষাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ রচনা — বাংলার মাধ্যমে বিজ্ঞান।
➤ ‘বাংলার মাধ্যমে বিজ্ঞান’ প্রকাশ — ১৯৩৬।
➤ বিখ্যাত জনপ্রিয় বিজ্ঞানগ্রন্থ — বিজ্ঞানের বিচিত্র কাহিনী।
➤ আরেকটি গ্রন্থ — বিজ্ঞানের সরস কাহিনী।
➤ বিজ্ঞানবিষয়ক প্রাথমিক গ্রন্থ — বিজ্ঞানের সূচনা।
➤ পরমাণুবিষয়ক গ্রন্থ — পরমাণু পরিচিতি।
➤ উচ্চতর রসায়নের বাংলা গ্রন্থ — জৈব রসায়ন।
➤ ‘জৈব রসায়ন’ মোট খণ্ড — ৪টি।
➤ জৈব রসায়নের চতুর্থ খণ্ড প্রকাশ — ১৯৭১।
➤ ‘কলেজ কিমিয়ার কথা’ — ১৯৭৩।
➤ শিল্পসম্পর্কিত গ্রন্থ — পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প সম্ভাবনা।
➤ বিজ্ঞান সাময়িকী — পুরোগামী বিজ্ঞান (১৯৬৩)।
➤ আরেকটি বিজ্ঞান সাময়িকী — বিজ্ঞানের জয়যাত্রা (১৯৭২)।
➤ শিল্প গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান — পাটকাঠি থেকে কাগজের মণ্ড উৎপাদনের পদ্ধতি।
➤ পূর্বাঞ্চলীয় বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে যোগদান — ১৯৫৫।
➤ গবেষণাগার পরিচালনার সময় — ১৯৫৫–১৯৬৬।
➤ BCSIR-এর পূর্ণরূপ — Bangladesh Council of Scientific and Industrial Research।
➤ বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি প্রতিষ্ঠা — ১৯৭৩।
➤ বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি — মুহম্মদ কুদরত-এ-খুদা।
➤ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় শিক্ষা কমিশন — ১৯৭২।
➤ শিক্ষা কমিশন গঠন — ২৬ জুলাই ১৯৭২।
➤ প্রথম জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সভাপতি — ড. মুহম্মদ কুদরত-এ-খুদা।
➤ কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন — ৮ জুন ১৯৭৩।
➤ চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ — ৩০ মে ১৯৭৪।
➤ প্রতিবেদনটির নাম — বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
➤ কমিশনের প্রধান সুপারিশগুলোর একটি — অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ।
➤ প্রস্তাবিত মাধ্যমিক শিক্ষা — নবম–দ্বাদশ শ্রেণি।
➤ শিক্ষাব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব — বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কর্মমুখী শিক্ষা ও মাতৃভাষা।
➤ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর — ১৯৭৫ থেকে।
➤ একুশে পদক লাভ — ১৯৭৬।
➤ স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ — ১৯৮৪ (মরণোত্তর)।
➤ স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্র — বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।
➤ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানবিষয়ক ‘বিশ্বপরিচয়’ গ্রন্থের রচয়িতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
➤ ‘বিশ্বপরিচয়’ প্রকাশ — ১৯৩৭।
➤ জগদীশচন্দ্র বসুর বাংলা বিজ্ঞানপ্রবন্ধের সংকলন — অব্যক্ত (১৯২১)।
➤ বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা — সত্যেন্দ্রনাথ বসু।
➤ বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ প্রতিষ্ঠা — ১৯৪৭।
➤ বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের মুখপত্র — জ্ঞান ও বিজ্ঞান।
➤ বাংলা ভাষার মর্যাদা ও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক চিন্তায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি — ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
➤ বিশেষ পরীক্ষার পার্থক্য: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানশিক্ষাকে সর্বাধিক উপযোগী মনে করার প্রশ্ন—কুদরত-এ-খুদা; ‘বিশ্বপরিচয়’—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; ‘অব্যক্ত’—জগদীশচন্দ্র বসু; বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ—সত্যেন্দ্রনাথ বসু।
➤ চূড়ান্ত পরীক্ষার উত্তর — গ. মুহম্মদ কুদরত-এ খুদা।
10
🎯 Level 1

১৫. ‘জীব থেকে জীবের উৎপত্তি হয়’ এই সম্পর্কে আলোকপাত করেন কে? (মাউশি অধিদপ্তরের প্রদর্শক: ০৪)

ক

লুই পাস্তুর

খ

রবার্ট ব্রাউন

গ

এরিস্টটল

ঘ

কানটানা

✅ সঠিক উত্তর:ক. লুই পাস্তুর

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) — জীবজনন বা Biogenesis-এর পক্ষে পরীক্ষামূলক প্রমাণ প্রদানকারী বিজ্ঞানী।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ জীব থেকে জীবের উৎপত্তি হয়—এই ধারণাকে জীবজনন (Biogenesis) বলা হয়। ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর পরীক্ষামূলক গবেষণার মাধ্যমে প্রচলিত স্বতঃস্ফূর্ত জীবসৃষ্টির ধারণার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করেন।
❖ লুই পাস্তুরের জীবনকাল: ১৮২২–১৮৯৫।
❖ জন্মস্থান: ফ্রান্সের দোল (Dole) শহর।
❖ জীবজনন (Biogenesis): জীবিত জীব বা জীবকোষ পূর্ববিদ্যমান জীব বা জীবকোষ থেকে সৃষ্টি হয়—এই ধারণা।
❖ অজৈব বা স্বতঃস্ফূর্ত জীবসৃষ্টি (Spontaneous Generation): পুরোনো ধারণা অনুযায়ী জড় বা পচনশীল পদার্থ থেকে সরাসরি নতুন জীব সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হতো।
❖ পাস্তুরের পরীক্ষার উদ্দেশ্য: জীবাণু কি জীবাণুমুক্ত পুষ্টিদ্রব্যে নিজে নিজে তৈরি হয়, নাকি বাইরের পরিবেশ থেকে প্রবেশ করে—তা যাচাই করা।
❖ হাঁসের গলার ফ্লাস্ক পরীক্ষা (Swan-neck Flask Experiment): বিশেষ বাঁকানো গলাযুক্ত ফ্লাস্কে পুষ্টিকর তরল সিদ্ধ করে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
❖ ফ্লাস্কের বাঁকানো গলার কাজ: বাতাস ভেতরে প্রবেশ করতে পারলেও ধূলিকণা ও জীবাণু বাঁকানো অংশে আটকে যায়, ফলে পুষ্টিকর তরলে জীবাণু পৌঁছাতে পারে না।
❖ পরীক্ষার ফলাফল: ফ্লাস্কের পুষ্টিকর তরল দীর্ঘদিন জীবাণুমুক্ত থাকতে পারে। কিন্তু তরল জীবাণুযুক্ত ধূলিকণার সংস্পর্শে এলে অণুজীবের বৃদ্ধি দেখা যায়।
❖ গবেষণার গুরুত্ব: এতে তৎকালীন পরিবেশে প্রচলিত স্বতঃস্ফূর্ত অণুজীব সৃষ্টির ধারণা শক্তিশালীভাবে খণ্ডিত হয়।
❖ ফ্রান্সেস্কো রেডি (Francesco Redi): ১৬২৬–১৬৯৭। মাংসে মাছির ডিম ও শূককীট সৃষ্টি নিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্ত জীবসৃষ্টির ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
❖ রেডির পরীক্ষা: ঢেকে রাখা ও খোলা পাত্রে মাংস রেখে দেখান, মাছির প্রবেশাধিকার থাকলে শূককীট সৃষ্টি হয়।
❖ লাজারো স্পালানজানি (Lazzaro Spallanzani): ১৭২৯–১৭৯৯। সিদ্ধ ও সিল করা পুষ্টিকর তরলে অণুজীবের বৃদ্ধি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করেন।
❖ এরিস্টটল: প্রাচীন গ্রিক বিজ্ঞানী। তিনি তৎকালীন জ্ঞানের ভিত্তিতে Spontaneous Generation-এর ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন।
❖ রবার্ট ব্রাউন (Robert Brown): ১৭৭৩–১৮৫৮। উদ্ভিদকোষের নিউক্লিয়াস বর্ণনা এবং Brownian Motion পর্যবেক্ষণের জন্য পরিচিত।
❖ পাস্তুরাইজেশন (Pasteurization): নির্দিষ্ট তাপপ্রয়োগের মাধ্যমে খাদ্য বা পানীয়তে থাকা ক্ষতিকর অণুজীবের সংখ্যা কমানোর প্রক্রিয়া, যার বিকাশে পাস্তুরের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
❖ Germ Theory: অণুজীব অনেক সংক্রামক রোগের কারণ—এই আধুনিক ধারণার বিকাশে পাস্তুরের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ।
❖ র‍্যাবিস টিকা: ১৮৮৫ সালে পাস্তুরের গবেষণার ভিত্তিতে মানুষের র‍্যাবিস প্রতিরোধমূলক টিকাদানের ঐতিহাসিক সফল প্রয়োগ হয়।
❖ প্রথম জীবের উৎপত্তির সঙ্গে পার্থক্য: Biogenesis বর্তমান পরিবেশে জীবের ধারাবাহিক উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে; পৃথিবীতে প্রথম জীব কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল—এটি পৃথক গবেষণাগত প্রশ্ন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ জীব থেকে জীবের উৎপত্তির পরীক্ষামূলক প্রমাণ — লুই পাস্তুর।
➤ Biogenesis — জীব থেকে জীবের উৎপত্তি।
➤ Spontaneous Generation — স্বতঃস্ফূর্ত জীবসৃষ্টির পুরোনো ধারণা।
➤ লুই পাস্তুরের জীবনকাল — ১৮২২–১৮৯৫।
➤ জন্মস্থান — দোল, ফ্রান্স।
➤ পাস্তুরের বিখ্যাত পরীক্ষা — Swan-neck Flask Experiment।
➤ মাংস ও শূককীটের পরীক্ষা — ফ্রান্সেস্কো রেডি।
➤ পুষ্টিকর তরলের জীবাণু পরীক্ষা — স্পালানজানি।
➤ Spontaneous Generation সমর্থন করেছিলেন — এরিস্টটল।
➤ পাস্তুরাইজেশন — পাস্তুরের নামানুসারে।
➤ র‍্যাবিস টিকার ঐতিহাসিক প্রয়োগ — ১৮৮৫।
➤ কোষকেন্দ্রের বর্ণনার জন্য পরিচিত — রবার্ট ব্রাউন।
➤ Brownian Motion — রবার্ট ব্রাউনের নামানুসারে।
➤ Biogenesis ও প্রথম জীবের উৎপত্তি — দুটি পৃথক প্রশ্ন।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন