🧠 🔖
👑 Premium Topic

উদ্ভিদের শরীরবৃত্তীয় কার্যাবলি-ব্যাপন, অভিস্রবণ,সালোকসংশ্লেষণ ও প্লান্ট নিউট্রেশন

◉ সাধারণ বিজ্ঞান›উদ্ভিদের শরীরবৃত্তীয় কার্যাবলি-ব্যাপন, অভিস্রবণ,সালোকসংশ্লেষণ ও প্লান্ট নিউট্রেশন

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚94মোট প্রশ্ন
🎯5মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০৬. কোন প্রক্রিয়ায় পানিতে শুকনো কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে কিসমিসগুলো ফুলে ওঠে? (পিএসসি’র সহকারী সচিব: ০৫ / জেলা ক্রীড়া অফিসার: ২৩)

ক

ব্যাপন

খ

অভিস্রবণ

গ

বিপাক

ঘ

শ্বসন

✅ সঠিক উত্তর:খ. অভিস্রবণ

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: অভিস্রবণ (Osmosis)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ অভিস্রবণ (Osmosis) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে অর্ধভেদ্য বা নির্বাচনী ভেদ্য পর্দার মাধ্যমে পানি উচ্চ পানি-বিভববিশিষ্ট স্থান থেকে নিম্ন পানি-বিভববিশিষ্ট স্থানে প্রবাহিত হয়।
❖ শুকনো কিসমিস পানিতে ফুলে ওঠার কারণ: কিসমিস শুকানোর সময় এর কোষ থেকে অনেক পানি বের হয়ে যায়। ফলে কিসমিসের কোষীয় তরলে দ্রবীভূত শর্করা ও অন্যান্য পদার্থের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি থাকে।
❖ পানিতে ডুবিয়ে রাখলে: কিসমিসের বাইরের পানি ও ভেতরের কোষীয় তরলের মধ্যে পানি-বিভবের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। এর ফলে পানি কোষঝিল্লি অতিক্রম করে কিসমিসের কোষে প্রবেশ করে।
❖ অন্তঃঅভিস্রবণ (Endosmosis): কোষের বাইরের পরিবেশ থেকে অভিস্রবণের মাধ্যমে কোষের ভেতরে পানি প্রবেশ করার প্রক্রিয়া। কিসমিস ফুলে ওঠার ক্ষেত্রে অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে।
❖ কোষের আয়তন বৃদ্ধি: পানি প্রবেশের ফলে কোষের রসধানী ও অন্যান্য অংশে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং কিসমিসের আকার ও আয়তন বেড়ে যায়।
❖ টারজিড অবস্থা (Turgid State): উদ্ভিদকোষে পানি প্রবেশের ফলে কোষের ভেতরের চাপ বেড়ে কোষ স্ফীত ও দৃঢ় হলে তাকে টারজিড অবস্থা বলে।
❖ টারগর চাপ (Turgor Pressure): পানি প্রবেশের কারণে কোষের প্রোটোপ্লাস্ট কোষপ্রাচীরের ওপর যে অভ্যন্তরীণ চাপ প্রয়োগ করে, তাকে টারগর চাপ বলে।
❖ হাইপোটনিক দ্রবণ (Hypotonic Solution): কোষের ভেতরের তুলনায় বাইরের দ্রবণের কার্যকর দ্রবঘনত্ব কম হলে পানি সাধারণত কোষের ভেতরে প্রবেশ করে।
❖ হাইপারটনিক দ্রবণ (Hypertonic Solution): কোষের বাইরের দ্রবণের কার্যকর দ্রবঘনত্ব বেশি হলে পানি কোষ থেকে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।
❖ আইসোটনিক দ্রবণ (Isotonic Solution): ভেতর ও বাইরের পরিবেশে পানির চলাচল সাম্যাবস্থায় থাকলে নিট পানি প্রবাহ থাকে না।
❖ ব্যাপন (Diffusion): কোনো পদার্থের কণার এলোমেলো গতির ফলে উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের দিকে নিট বিস্তার। অভিস্রবণকে পানির চলাচলের একটি বিশেষ ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
❖ ব্যাপন ও অভিস্রবণের পার্থক্য: সাধারণ ব্যাপনের জন্য অর্ধভেদ্য ঝিল্লি অপরিহার্য নয়; কিন্তু অভিস্রবণে নির্বাচনী ভেদ্য পর্দার মাধ্যমে পানির চলাচল গুরুত্বপূর্ণ।
❖ উদ্ভিদের মূলের পানি শোষণ: উদ্ভিদের মূলরোমের কোষে পানি প্রবেশের ক্ষেত্রে পানি-বিভবের পার্থক্য ও অভিস্রবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ মূলরোম (Root Hair): মূলের বহিঃত্বকের বিশেষ বর্ধিত অংশ, যা মাটি থেকে পানি ও খনিজ শোষণের জন্য পৃষ্ঠতল বৃদ্ধি করে।
❖ অভিস্রবণের বাস্তব উদাহরণ: শুকনো কিসমিস পানিতে ফুলে ওঠা, শুকনো বীজ পানি গ্রহণ করে স্ফীত হওয়া এবং উদ্ভিদকোষে পানি প্রবেশ করে টারগর চাপ সৃষ্টি হওয়া।
❖ বীজের পানি গ্রহণে বিশেষ বিষয়: শুকনো বীজের প্রাথমিক পানি গ্রহণে ইমবিবিশন (Imbibition)-ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সব ধরনের স্ফীত হওয়াকে শুধু অভিস্রবণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।
❖ বিপাক (Metabolism): জীবদেহে সংঘটিত সব রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি। এটি কিসমিসের পানি শোষণের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার নাম নয়।
❖ শ্বসন (Respiration): জীবকোষে জৈব পদার্থ ভেঙে বা জারণ করে ATP উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তি বিপাকীয় প্রক্রিয়া।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ পানিতে কিসমিস ফুলে ওঠে — অভিস্রবণের কারণে।
➤ Osmosis — অভিস্রবণ।
➤ Endosmosis — অন্তঃঅভিস্রবণ।
➤ কিসমিসের কোষে পানি প্রবেশ — Endosmosis।
➤ Exosmosis — বহিঃঅভিস্রবণ।
➤ Diffusion — ব্যাপন।
➤ অভিস্রবণে প্রয়োজন — নির্বাচনী ভেদ্য পর্দা।
➤ Selective Permeability — নির্বাচনী ভেদ্যতা।
➤ Water Potential — পানি-বিভব।
➤ Hypotonic Solution — তুলনামূলক কম কার্যকর দ্রবঘনত্বের দ্রবণ।
➤ Hypertonic Solution — তুলনামূলক বেশি কার্যকর দ্রবঘনত্বের দ্রবণ।
➤ Isotonic Solution — সমপরাসারী দ্রবণ।
➤ Turgor Pressure — স্ফীতি চাপ।
➤ Turgid Cell — পানি গ্রহণ করে দৃঢ় ও স্ফীত কোষ।
➤ Root Hair — মূলরোম।
➤ Imbibition — ইমবিবিশন বা অন্তঃশোষণ।"
02
🎯 Level 1

০৬. কোন প্রক্রিয়ায় পানিতে শুকনো কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে কিসমিসগুলো ফুলে ওঠে? (পিএসসি’র সহকারী সচিব: ০৫ / জেলা ক্রীড়া অফিসার: ২৩)

ক

ব্যাপন

খ

অভিস্রবণ

গ

বিপাক

ঘ

শ্বসন

✅ সঠিক উত্তর:খ. অভিস্রবণ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: অভিস্রবণ (Osmosis)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ অভিস্রবণ (Osmosis) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে অর্ধভেদ্য বা নির্বাচনী ভেদ্য পর্দার মাধ্যমে পানি উচ্চ পানি-বিভববিশিষ্ট স্থান থেকে নিম্ন পানি-বিভববিশিষ্ট স্থানে প্রবাহিত হয়।
❖ শুকনো কিসমিস পানিতে ফুলে ওঠার কারণ: কিসমিস শুকানোর সময় এর কোষ থেকে অনেক পানি বের হয়ে যায়। ফলে কিসমিসের কোষীয় তরলে দ্রবীভূত শর্করা ও অন্যান্য পদার্থের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি থাকে।
❖ পানিতে ডুবিয়ে রাখলে: কিসমিসের বাইরের পানি ও ভেতরের কোষীয় তরলের মধ্যে পানি-বিভবের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। এর ফলে পানি কোষঝিল্লি অতিক্রম করে কিসমিসের কোষে প্রবেশ করে।
❖ অন্তঃঅভিস্রবণ (Endosmosis): কোষের বাইরের পরিবেশ থেকে অভিস্রবণের মাধ্যমে কোষের ভেতরে পানি প্রবেশ করার প্রক্রিয়া। কিসমিস ফুলে ওঠার ক্ষেত্রে অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে।
❖ কোষের আয়তন বৃদ্ধি: পানি প্রবেশের ফলে কোষের রসধানী ও অন্যান্য অংশে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং কিসমিসের আকার ও আয়তন বেড়ে যায়।
❖ টারজিড অবস্থা (Turgid State): উদ্ভিদকোষে পানি প্রবেশের ফলে কোষের ভেতরের চাপ বেড়ে কোষ স্ফীত ও দৃঢ় হলে তাকে টারজিড অবস্থা বলে।
❖ টারগর চাপ (Turgor Pressure): পানি প্রবেশের কারণে কোষের প্রোটোপ্লাস্ট কোষপ্রাচীরের ওপর যে অভ্যন্তরীণ চাপ প্রয়োগ করে, তাকে টারগর চাপ বলে।
❖ হাইপোটনিক দ্রবণ (Hypotonic Solution): কোষের ভেতরের তুলনায় বাইরের দ্রবণের কার্যকর দ্রবঘনত্ব কম হলে পানি সাধারণত কোষের ভেতরে প্রবেশ করে।
❖ হাইপারটনিক দ্রবণ (Hypertonic Solution): কোষের বাইরের দ্রবণের কার্যকর দ্রবঘনত্ব বেশি হলে পানি কোষ থেকে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।
❖ আইসোটনিক দ্রবণ (Isotonic Solution): ভেতর ও বাইরের পরিবেশে পানির চলাচল সাম্যাবস্থায় থাকলে নিট পানি প্রবাহ থাকে না।
❖ ব্যাপন (Diffusion): কোনো পদার্থের কণার এলোমেলো গতির ফলে উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের দিকে নিট বিস্তার। অভিস্রবণকে পানির চলাচলের একটি বিশেষ ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
❖ ব্যাপন ও অভিস্রবণের পার্থক্য: সাধারণ ব্যাপনের জন্য অর্ধভেদ্য ঝিল্লি অপরিহার্য নয়; কিন্তু অভিস্রবণে নির্বাচনী ভেদ্য পর্দার মাধ্যমে পানির চলাচল গুরুত্বপূর্ণ।
❖ উদ্ভিদের মূলের পানি শোষণ: উদ্ভিদের মূলরোমের কোষে পানি প্রবেশের ক্ষেত্রে পানি-বিভবের পার্থক্য ও অভিস্রবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ মূলরোম (Root Hair): মূলের বহিঃত্বকের বিশেষ বর্ধিত অংশ, যা মাটি থেকে পানি ও খনিজ শোষণের জন্য পৃষ্ঠতল বৃদ্ধি করে।
❖ অভিস্রবণের বাস্তব উদাহরণ: শুকনো কিসমিস পানিতে ফুলে ওঠা, শুকনো বীজ পানি গ্রহণ করে স্ফীত হওয়া এবং উদ্ভিদকোষে পানি প্রবেশ করে টারগর চাপ সৃষ্টি হওয়া।
❖ বীজের পানি গ্রহণে বিশেষ বিষয়: শুকনো বীজের প্রাথমিক পানি গ্রহণে ইমবিবিশন (Imbibition)-ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সব ধরনের স্ফীত হওয়াকে শুধু অভিস্রবণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।
❖ বিপাক (Metabolism): জীবদেহে সংঘটিত সব রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি। এটি কিসমিসের পানি শোষণের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার নাম নয়।
❖ শ্বসন (Respiration): জীবকোষে জৈব পদার্থ ভেঙে বা জারণ করে ATP উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তি বিপাকীয় প্রক্রিয়া।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ পানিতে কিসমিস ফুলে ওঠে — অভিস্রবণের কারণে।
➤ Osmosis — অভিস্রবণ।
➤ Endosmosis — অন্তঃঅভিস্রবণ।
➤ কিসমিসের কোষে পানি প্রবেশ — Endosmosis।
➤ Exosmosis — বহিঃঅভিস্রবণ।
➤ Diffusion — ব্যাপন।
➤ অভিস্রবণে প্রয়োজন — নির্বাচনী ভেদ্য পর্দা।
➤ Selective Permeability — নির্বাচনী ভেদ্যতা।
➤ Water Potential — পানি-বিভব।
➤ Hypotonic Solution — তুলনামূলক কম কার্যকর দ্রবঘনত্বের দ্রবণ।
➤ Hypertonic Solution — তুলনামূলক বেশি কার্যকর দ্রবঘনত্বের দ্রবণ।
➤ Isotonic Solution — সমপরাসারী দ্রবণ।
➤ Turgor Pressure — স্ফীতি চাপ।
➤ Turgid Cell — পানি গ্রহণ করে দৃঢ় ও স্ফীত কোষ।
➤ Root Hair — মূলরোম।
➤ Imbibition — ইমবিবিশন বা অন্তঃশোষণ।
Advertisement
03
🎯 Level 1

১১. সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপে গরম হয় না কোনটি? (গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহকারী তথ্য অফিসার: ১৩)

ক

গাছের পাতা

খ

বায়ুমণ্ডল

গ

গাছের ফল

ঘ

মাটি

✅ সঠিক উত্তর:ক. গাছের পাতা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: গাছের পাতা — প্রস্বেদনজনিত শীতলীকরণের কারণে পাতার অতিরিক্ত উত্তাপ কমতে পারে।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ গাছের পাতা প্রস্বেদনজনিত শীতলীকরণের (Transpirational Cooling) সাহায্যে সূর্যের তাপে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে অনেক ক্ষেত্রে সুরক্ষা পায়।
❖ প্রস্বেদনজনিত শীতলীকরণ: পাতার পানি বাষ্পে পরিণত হওয়ার সময় তাপশক্তি শোষণ করে, ফলে পাতার তাপমাত্রা কমতে পারে।
❖ বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ (Latent Heat of Vaporization): তরল পানিকে বাষ্পে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় শক্তি।
❖ পাতার পানির উৎস: উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শোষণ করে এবং তা জাইলেম দিয়ে পাতায় পরিবহন করে।
❖ পাতার অভ্যন্তরে পানি: মেসোফিল কোষের আর্দ্র পৃষ্ঠ থেকে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে আন্তঃকোষীয় বায়ুফাঁকে প্রবেশ করতে পারে।
❖ বাষ্পের নির্গমন: জলীয়বাষ্প পাতার পত্ররন্ধ্র দিয়ে বাইরের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
❖ তাপ অপসারণ: পানি বাষ্পে পরিণত হওয়ার সময় পাতার টিস্যু থেকে শক্তি গ্রহণ করায় পাতার শীতলীকরণ ঘটে।
❖ মানুষের ঘামের সঙ্গে তুলনা: মানুষের ত্বকের ঘাম বাষ্পীভূত হলে যেমন তাপ কমতে পারে, উদ্ভিদের প্রস্বেদনও তেমনি বাষ্পীভবনভিত্তিক শীতলীকরণ ঘটায়।
❖ পত্ররন্ধ্রের ভূমিকা: পত্ররন্ধ্র খোলা থাকলে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
❖ রক্ষীকোষের ভূমিকা: রক্ষীকোষ পত্ররন্ধ্রের খোলা-বন্ধ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পানির ঘাটতিতে প্রস্বেদন কমাতে সাহায্য করে।
❖ বায়ুর আর্দ্রতার প্রভাব: বাইরের বায়ু তুলনামূলক শুষ্ক হলে সাধারণত প্রস্বেদনের সম্ভাব্য হার বৃদ্ধি পায়।
❖ বায়ুপ্রবাহের প্রভাব: পাতার চারপাশের আর্দ্র বায়ু সরে গেলে জলীয়বাষ্পের নির্গমন বাড়তে পারে।
❖ তাপমাত্রার প্রভাব: পর্যাপ্ত পানি থাকলে উচ্চ তাপমাত্রায় বাষ্পীভবনের হার বাড়তে পারে।
❖ পানির অভাবে ব্যতিক্রম: মাটিতে পানি কম থাকলে উদ্ভিদ পত্ররন্ধ্র বন্ধ করতে পারে। তখন প্রস্বেদন কমে গিয়ে পাতার তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
❖ পরীক্ষার ভাষার সীমাবদ্ধতা: ‘পাতা কখনো গরম হয় না’—এটি আক্ষরিকভাবে সঠিক নয়। প্রস্বেদন শুধু পাতার অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
❖ প্রস্বেদনের অন্যান্য উপকারিতা: পানি ও খনিজ পরিবহন, উদ্ভিদের পানির প্রবাহ এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ।
❖ মাটি ও বায়ুমণ্ডল: এগুলোও তাপমাত্রার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়, কিন্তু পাতার মতো পত্ররন্ধ্রনির্ভর প্রস্বেদন করে না।
❖ ফলের প্রস্বেদন: কিছু ফলের পৃষ্ঠ দিয়েও পানি হারাতে পারে, কিন্তু প্রশ্নে পাতার অধিক কার্যকর প্রস্বেদনজনিত শীতলীকরণ বোঝানো হয়েছে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রস্বেদনজনিত শীতলীকরণে উপকৃত হয় — গাছের পাতা।
➤ Transpirational Cooling — প্রস্বেদনজনিত শীতলীকরণ।
➤ Evaporative Cooling — বাষ্পীভবনজনিত শীতলীকরণ।
➤ Latent Heat — সুপ্ততাপ।
➤ বাষ্পীভবনে তাপশক্তি — শোষিত হয়।
➤ পাতার পানি পরিবহন — জাইলেমের মাধ্যমে।
➤ প্রধান জলীয়বাষ্প নির্গমন পথ — Stomata।
➤ পত্ররন্ধ্র নিয়ন্ত্রণ — Guard Cell।
➤ পর্যাপ্ত পানিতে প্রস্বেদন — পাতার তাপমাত্রা কমাতে পারে।
➤ পানির ঘাটতিতে পত্ররন্ধ্র — বন্ধ হতে পারে।
➤ পত্ররন্ধ্র বন্ধ হলে — প্রস্বেদন কমে।
➤ অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতায় — পাতার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
➤ NASA-র গবেষণা আলোচনায় উদ্ভিদের প্রস্বেদন — পরিবেশ শীতলীকরণে গুরুত্বপূর্ণ।
04
🎯 Level 1

১৫. উদ্ভিদের কোন অংশে লেন্টিকুলার প্রস্বেদন হয়? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ০১)

ক

মূল

খ

পাতা

গ

কাণ্ড

ঘ

ফুল

✅ সঠিক উত্তর:গ. কাণ্ড

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: কাণ্ড — বিশেষত কাঠজাত কাণ্ডের লেন্টিসেলের মাধ্যমে।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular Transpiration) হলো উদ্ভিদের লেন্টিসেল (Lenticel) নামের বিশেষ গঠনের মাধ্যমে জলীয়বাষ্প বের হওয়ার প্রক্রিয়া।
❖ লেন্টিসেলের প্রধান অবস্থান: বহু কাঠজাত উদ্ভিদের কাণ্ড ও শাখার বাকলে লেন্টিসেল থাকে।
❖ লেন্টিসেল (Lenticel): কাণ্ডের বহিঃআবরণে থাকা বিশেষ ঢিলেঢালা কোষসমৃদ্ধ বায়ুচলাচলের অঞ্চল।
❖ লেন্টিসেলের প্রধান কাজ: কাণ্ডের অভ্যন্তরীণ জীবন্ত টিস্যু ও বাইরের বায়ুমণ্ডলের মধ্যে গ্যাস বিনিময় সহজ করা।
❖ লেন্টিসেল দিয়ে পানির ক্ষতি: গ্যাস বিনিময়ের পাশাপাশি লেন্টিসেল দিয়ে কিছু জলীয়বাষ্পও বের হতে পারে।
❖ লেন্টিকুলার প্রস্বেদনের পরিমাণ: সাধারণ পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদনের তুলনায় এটি সাধারণত অনেক কম।
❖ কাঠজাত কাণ্ডের বাইরের আবরণ: বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে অনেক উদ্ভিদের কাণ্ডে Periderm গঠিত হয়।
❖ পেরিডার্ম (Periderm): দ্বিতীয়িক বৃদ্ধিযুক্ত কাণ্ড ও মূলের প্রতিরক্ষামূলক টিস্যু ব্যবস্থা।
❖ পেরিডার্মের অংশ: Phellem বা Cork, Phellogen বা Cork Cambium এবং Phelloderm।
❖ কর্ক (Cork): সাধারণত সুবেরিনসমৃদ্ধ প্রতিরক্ষামূলক কোষস্তর, যা পানি হারানো ও বাহ্যিক ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।
❖ সুবেরিন (Suberin): উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রতিরক্ষামূলক টিস্যুতে পাওয়া জলরোধী বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত জৈব পদার্থ।
❖ কর্ক স্তরে গ্যাস বিনিময়: কর্কের প্রতিরোধী আবরণের মধ্যেও লেন্টিসেল থাকার ফলে অভ্যন্তরীণ টিস্যু অক্সিজেন পেতে পারে।
❖ লেন্টিসেলের গঠন: সাধারণত বেশি আন্তঃকোষীয় ফাঁকযুক্ত Complementary Cells থাকে, যা বায়ু চলাচলে সহায়ক।
❖ লেন্টিসেলের অবস্থান: কাণ্ড ছাড়াও কিছু ফল ও বিশেষ উদ্ভিদ অঙ্গে লেন্টিসেল পাওয়া যেতে পারে।
❖ আলুর লেন্টিসেল: আলুর কাণ্ডকন্দের পৃষ্ঠেও লেন্টিসেল থাকতে পারে।
❖ পত্ররন্ধ্র ও লেন্টিসেলের পার্থক্য: পত্ররন্ধ্রে রক্ষীকোষ থাকে, কিন্তু সাধারণ লেন্টিসেলে পত্ররন্ধ্রের মতো রক্ষীকোষনিয়ন্ত্রিত খোলা-বন্ধ হওয়ার ব্যবস্থা নেই।
❖ Stomatal Transpiration: পাতা ও সবুজ কাণ্ডের পত্ররন্ধ্র দিয়ে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়া।
❖ Cuticular Transpiration: কিউটিকল স্তর অতিক্রম করে জলীয়বাষ্পের নির্গমন।
❖ Lenticular Transpiration: লেন্টিসেল দিয়ে জলীয়বাষ্পের নির্গমন।
❖ কাণ্ডের অন্য কাজ: উদ্ভিদকে দৃঢ়ভাবে দাঁড় করানো, পাতা-ফুল-ফল ধারণ করা এবং জাইলেম-ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পদার্থ পরিবহন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ লেন্টিকুলার প্রস্বেদন — কাণ্ডে হয়।
➤ Lenticular Transpiration — লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
➤ Lenticel — লেন্টিসেল।
➤ লেন্টিসেলের প্রধান অবস্থান — কাঠজাত কাণ্ডের বাকল।
➤ লেন্টিসেলের প্রধান কাজ — গ্যাস বিনিময়।
➤ লেন্টিসেল দিয়ে — সামান্য জলীয়বাষ্প বের হয়।
➤ Periderm — দ্বিতীয়িক প্রতিরক্ষামূলক আবরণ।
➤ Phellem — Cork।
➤ Phellogen — Cork Cambium।
➤ Phelloderm — পেরিডার্মের অভ্যন্তরীণ অংশ।
➤ কর্কে গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ — Suberin।
➤ Lenticel-এর বিশেষ কোষ — Complementary Cells।
➤ Stomatal Transpiration — পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে।
➤ Cuticular Transpiration — কিউটিকলের মাধ্যমে।
➤ Lenticular Transpiration — লেন্টিসেলের মাধ্যমে।
➤ আলুর কন্দেও — লেন্টিসেল থাকতে পারে।
05
🎯 Level 1

১৯. উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোন জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন করে? / সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোনটি তৈরি হয়? (বিএডিসি’র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা: ২১)

ক

শর্করা

খ

আমিষ

গ

স্নেহ

ঘ

ভিটামিন

✅ সঠিক উত্তর:ক. শর্করা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: শর্করা (Carbohydrate)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে উদ্ভিদ প্রধানত শর্করাজাতীয় জৈব পদার্থ উৎপন্ন করে। তাই প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর ক. শর্করা।
❖ শর্করা (Carbohydrate): কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনসমৃদ্ধ বিভিন্ন জৈব যৌগের একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণি।
❖ সালোকসংশ্লেষণের প্রাথমিক কার্বন উৎপাদ: ক্যালভিন চক্রে CO₂ স্থিরীকরণের মাধ্যমে প্রথমে G3P বা Glyceraldehyde-3-phosphate-এর মতো শর্করা-ফসফেট তৈরি হয়।
❖ G3P থেকে শর্করা: G3P ব্যবহার করে উদ্ভিদ গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ, শ্বেতসার ও অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট তৈরি করতে পারে।
❖ গ্লুকোজ (Glucose): ছয়-কার্বনবিশিষ্ট একটি সরল শর্করা।
❖ গ্লুকোজের সংকেত: C₆H₁₂O₆।
❖ ফ্রুক্টোজ (Fructose): ছয়-কার্বনবিশিষ্ট আরেক ধরনের সরল শর্করা, যা ফল ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ খাদ্যে পাওয়া যায়।
❖ সুক্রোজ (Sucrose): গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সমন্বয়ে গঠিত দ্বিশর্করা (Disaccharide)।
❖ সুক্রোজের সংকেত: C₁₂H₂₂O₁₁।
❖ শ্বেতসার (Starch): উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চিত শর্করা (Storage Carbohydrate)।
❖ শ্বেতসারের গঠন: বহু গ্লুকোজ একক নিয়ে গঠিত পলিস্যাকারাইড; এর প্রধান উপাদান অ্যামাইলোজ (Amylose) ও অ্যামাইলোপেকটিন (Amylopectin)।
❖ সেলুলোজ (Cellulose): উদ্ভিদকোষের কোষপ্রাচীরের প্রধান গাঠনিক পলিস্যাকারাইডগুলোর একটি।
❖ শ্বেতসার ও সেলুলোজের পার্থক্য: শ্বেতসার মূলত খাদ্য সঞ্চয়, আর সেলুলোজ মূলত কোষপ্রাচীরের গঠন বজায় রাখতে সাহায্য করে।
❖ শর্করার প্রধান কাজ: জীবদেহে শক্তি সরবরাহ, শক্তি সঞ্চয় এবং বিভিন্ন গাঠনিক পদার্থ তৈরিতে ভূমিকা রাখা।
❖ শর্করার পরিবহন: অনেক উদ্ভিদে সুক্রোজের মতো শর্করা ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পাতা থেকে মূল, ফল, বীজ ও অন্যান্য অঙ্গে পরিবাহিত হয়।
❖ Source ও Sink: যে অঙ্গ থেকে শর্করা অন্যত্র পাঠানো হয় তাকে Source, আর যেখানে শর্করা গ্রহণ, ব্যবহার বা সঞ্চয় করা হয় তাকে Sink বলা হয়।
❖ Source-এর উদাহরণ: পরিণত সবুজ পাতা।
❖ Sink-এর উদাহরণ: বৃদ্ধি পাওয়া ফল, বীজ, কচি পাতা, মূল এবং খাদ্যসঞ্চয়ী অঙ্গ।
❖ অ্যামাইলেজ (Amylase): শ্বেতসার ভেঙে ছোট শর্করা তৈরিতে ভূমিকা রাখা এনজাইম।
❖ আয়োডিন পরীক্ষা (Iodine Test): শ্বেতসার উপস্থিত থাকলে আয়োডিন দ্রবণের সঙ্গে নীলচে-কালো রঙের পরিবর্তন দেখা যায়।
❖ পাতায় শ্বেতসার পরীক্ষা: কিছু সময় আলোতে রাখা পাতাকে উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় ক্লোরোফিলমুক্ত করে আয়োডিন দ্রবণ দিলে শ্বেতসারযুক্ত অংশে নীলচে-কালো রং দেখা যেতে পারে।
❖ আমিষ (Protein): অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি গুরুত্বপূর্ণ জৈব অণু। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে তৈরি কার্বন কাঠামো এবং শোষিত নাইট্রোজেন ব্যবহার করে প্রোটিন সংশ্লেষণ করতে পারে।
❖ স্নেহ পদার্থ (Lipid/Fat): উদ্ভিদ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সালোকসংশ্লেষণের সরাসরি ও প্রধান পরীক্ষাভিত্তিক খাদ্যশ্রেণি হলো শর্করা।
❖ ভিটামিন (Vitamin): উদ্ভিদ বিভিন্ন ভিটামিন সংশ্লেষণ করতে পারে। তবে ভিটামিনকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান সরাসরি খাদ্য উৎপাদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় না।
❖ সালোকসংশ্লেষণের খাদ্য উৎপাদন: কার্বন স্থিরীকরণের মাধ্যমে তৈরি শর্করা থেকে পরবর্তী বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রোটিন, লিপিড ও অন্যান্য জৈব পদার্থ তৈরি হতে পারে।
❖ কৃষিতে গুরুত্ব: ধান, গম, ভুট্টা, আলু, আখ ও অন্যান্য ফসলের শর্করা উৎপাদন ও সঞ্চয়ের ভিত্তিতে কৃষিজ খাদ্যের একটি বড় অংশ গঠিত হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সালোকসংশ্লেষণে উৎপন্ন প্রধান খাদ্যশ্রেণি — শর্করা।
➤ Carbohydrate — শর্করা।
➤ গ্লুকোজ — Glucose।
➤ গ্লুকোজের সংকেত — C₆H₁₂O₆।
➤ ফ্রুক্টোজ — Fructose।
➤ সুক্রোজ — Sucrose।
➤ সুক্রোজের সংকেত — C₁₂H₂₂O₁₁।
➤ দ্বিশর্করা — Disaccharide।
➤ সঞ্চিত শর্করা — Starch।
➤ শ্বেতসারের প্রধান উপাদান — Amylose ও Amylopectin।
➤ কোষপ্রাচীরের গাঠনিক শর্করা — Cellulose।
➤ G3P — Glyceraldehyde-3-phosphate।
➤ ক্যালভিন চক্রে — G3P উৎপন্ন হয়।
➤ শর্করা পরিবহনের টিস্যু — Phloem।
➤ শর্করা উৎপাদক অঙ্গ — Source।
➤ শর্করা গ্রহণ বা সঞ্চয়কারী অঙ্গ — Sink।
➤ শ্বেতসার শনাক্তকরণ — Iodine Test।
➤ শ্বেতসার ও আয়োডিন — নীলচে-কালো রং।
➤ Protein — আমিষ।
➤ Lipid — স্নেহ পদার্থ।
➤ সালোকসংশ্লেষণের প্রধান সরাসরি কার্বন উৎপাদ — শর্করাজাতীয় যৌগ।
Advertisement
06
🎯 Level 1

২১. কোন কাণ্ড খাদ্য তৈরি করে? (ডিএই’র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা: ১৪)

ক

হলুদের কাণ্ড

খ

রূপান্তরিত কাণ্ড

গ

বায়বীয় কাণ্ড

ঘ

সবুজ কাণ্ড

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. সবুজ কাণ্ড

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: সবুজ কাণ্ড (Green Stem)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করতে পারে। কারণ সবুজ কাণ্ডের সালোকসংশ্লেষী কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast) থাকে এবং ক্লোরোপ্লাস্টে উপস্থিত ক্লোরোফিল (Chlorophyll) আলোকশক্তি শোষণে সাহায্য করে।
❖ সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ আলোকশক্তি ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে শর্করাজাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে এবং অক্সিজেন নির্গত করে, তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
❖ সালোকসংশ্লেষণের প্রধান উপাদান: পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, আলো এবং সালোকসংশ্লেষী রঞ্জক ও প্রয়োজনীয় এনজাইম।
❖ ক্লোরোফিলের ভূমিকা: ক্লোরোফিল সূর্যালোকের নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শক্তি শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণের আলোকনির্ভর বিক্রিয়া শুরু করতে সাহায্য করে।
❖ সবুজ কাণ্ডের বৈশিষ্ট্য: কিছু উদ্ভিদের কাণ্ডে ক্লোরেনকাইমা (Chlorenchyma) নামের ক্লোরোপ্লাস্টসমৃদ্ধ কলা থাকে। ফলে কাণ্ড নিজেই সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে।
❖ ক্যাকটাসে সালোকসংশ্লেষণ: অনেক ক্যাকটাসের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে। এদের সবুজ, মাংসল কাণ্ডই প্রধান সালোকসংশ্লেষী অঙ্গ।
❖ ফণিমনসা: ফণিমনসা বা Opuntia-জাতীয় উদ্ভিদে চ্যাপ্টা সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণ করে।
❖ Phylloclade: কিছু উদ্ভিদের চ্যাপ্টা বা মাংসল সবুজ রূপান্তরিত কাণ্ডকে Phylloclade বলা হয়। এটি খাদ্য উৎপাদন ও কখনো পানি সঞ্চয়ে সাহায্য করে।
❖ Cladode: পাতাসদৃশ সবুজ কাণ্ড বা শাখার একটি রূপান্তরিত গঠন, যা সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে।
❖ হলুদের কাণ্ড: হলুদের ভূগর্ভস্থ রূপান্তরিত কাণ্ডকে Rhizome বা রাইজোম বলা হয়। এটি প্রধানত খাদ্য সঞ্চয় ও অঙ্গজ বংশবিস্তারে ভূমিকা রাখে।
❖ হলুদের বৈজ্ঞানিক নাম: Curcuma longa।
❖ হলুদের পরিবার: Zingiberaceae।
❖ সব বায়বীয় কাণ্ড খাদ্য তৈরি করে না: কাণ্ড বায়বীয় হলেই সালোকসংশ্লেষণ করবে—এমন নয়। খাদ্য তৈরির জন্য কাণ্ডের সংশ্লিষ্ট অংশে কার্যকর সালোকসংশ্লেষী ব্যবস্থা থাকতে হয়।
❖ সব রূপান্তরিত কাণ্ডের কাজ একই নয়: কিছু রূপান্তরিত কাণ্ড খাদ্য সঞ্চয় করে, কিছু আরোহণে সাহায্য করে, আবার কিছু সালোকসংশ্লেষণ করে।
❖ উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষী অঙ্গ: অধিকাংশ স্থলজ সবুজ উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষী অঙ্গ হলো পাতা। তবে সবুজ কাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ খাদ্য তৈরি করতে পারে — সবুজ কাণ্ড।
➤ সালোকসংশ্লেষণ — Photosynthesis।
➤ সবুজ রঞ্জক — Chlorophyll।
➤ সালোকসংশ্লেষী অঙ্গাণু — Chloroplast।
➤ ক্লোরোপ্লাস্টসমৃদ্ধ কলা — Chlorenchyma।
➤ ক্যাকটাসে সালোকসংশ্লেষণ — সবুজ কাণ্ডে।
➤ ফণিমনসা — সবুজ রূপান্তরিত কাণ্ডবিশিষ্ট উদ্ভিদ।
➤ চ্যাপ্টা সবুজ রূপান্তরিত কাণ্ড — Phylloclade।
➤ পাতাসদৃশ সবুজ শাখা — Cladode।
➤ হলুদের কাণ্ড — Rhizome।
➤ হলুদের বৈজ্ঞানিক নাম — Curcuma longa।
➤ হলুদের পরিবার — Zingiberaceae।
➤ পাতা — অধিকাংশ সবুজ উদ্ভিদের প্রধান খাদ্য উৎপাদনকারী অঙ্গ।
07
🎯 Level 1

২৫. কোষের কোন অঙ্গ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত করে? / কোষের কোন অংশে সালোকসংশ্লেষণ সংঘটিত হয়? (ডিএই’র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা: ১৪ / আরজেডিএ’র সহকারী পরিচালক: ২১)

ক

সাইটোপ্লাজম

খ

নিউক্লিয়াস

গ

ক্লোরোপ্লাস্ট

ঘ

গলজি বস্তু

✅ সঠিক উত্তর:গ. ক্লোরোপ্লাস্ট

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ সবুজ উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্ট সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনের প্রধান অঙ্গাণু। সূর্যের আলোকশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে শর্করা গঠনের প্রক্রিয়া এখানে সম্পন্ন হয়।
❖ ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ: আলোকশক্তি ব্যবহার করে CO₂ ও পানি থেকে জৈব কার্বনসমৃদ্ধ খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া সম্পাদন করা।
❖ সালোকসংশ্লেষণের সরল সমীকরণ:
6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂
শর্ত: আলো ও উপযুক্ত সালোকসংশ্লেষী ব্যবস্থা।
❖ CO₂: কার্বন ডাই-অক্সাইড। খাদ্যের কার্বনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
❖ H₂O: পানি। অক্সিজেন উৎপাদনকারী সালোকসংশ্লেষণে পানি ইলেকট্রনের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
❖ C₆H₁₂O₆: গ্লুকোজের রাসায়নিক সংকেত। এটি সালোকসংশ্লেষণ থেকে উৎপন্ন কার্বোহাইড্রেটের পরিচিত সরল প্রতিনিধিত্ব।
❖ O₂: অক্সিজেন, যা পানির আলোকনির্ভর বিভাজনের ফলে উৎপন্ন হয়।
❖ আলোকনির্ভর বিক্রিয়া: ক্লোরোপ্লাস্টের থাইলাকয়েড ঝিল্লিতে সংঘটিত হয়।
❖ আলোকনিরপেক্ষ বিক্রিয়া: ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমায় Calvin Cycle-এর মাধ্যমে কার্বন সংবন্ধন ঘটে।
❖ G3P: ক্যালভিন চক্রে উৎপন্ন গুরুত্বপূর্ণ তিন-কার্বনবিশিষ্ট শর্করাজাতীয় অণু, যা থেকে বিভিন্ন কার্বোহাইড্রেট তৈরি হতে পারে।
❖ সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm): কোষের নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থিত জেলিসদৃশ অংশসহ কোষীয় উপাদানের অঞ্চল। এখানে বহু বিপাকীয় বিক্রিয়া ঘটে; তবে সবুজ উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষী অঙ্গাণু ক্লোরোপ্লাস্ট।
❖ নিউক্লিয়াস (Nucleus): কোষের জিনগত তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং কোষীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
❖ গলজি বস্তু (Golgi Apparatus): কোষে বিভিন্ন প্রোটিন ও লিপিডের পরিবর্তন, বাছাই ও পরিবহনে সাহায্য করে।
❖ শর্করা সঞ্চয়: উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে উৎপন্ন শর্করাকে বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করতে বা শ্বেতসার (Starch) আকারে সঞ্চয় করতে পারে।
❖ খাদ্য পরিবহন: অনেক উদ্ভিদে উৎপন্ন শর্করা Sucrose আকারে ফ্লোয়েমের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গে পরিবাহিত হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ খাদ্য উৎপাদনকারী অঙ্গাণু — ক্লোরোপ্লাস্ট।
➤ Chloroplast — সালোকসংশ্লেষণের স্থান।
➤ সালোকসংশ্লেষণের ইংরেজি — Photosynthesis।
➤ গ্লুকোজের সংকেত — C₆H₁₂O₆।
➤ কার্বন ডাই-অক্সাইড — CO₂।
➤ পানি — H₂O।
➤ অক্সিজেন — O₂।
➤ Calvin Cycle — কার্বন সংবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ চক্র।
➤ G3P — Glyceraldehyde-3-phosphate।
➤ উদ্ভিদের খাদ্য সঞ্চয় — Starch।
➤ শর্করা পরিবহনকারী কলা — Phloem।
➤ নিউক্লিয়াস — জিনগত তথ্য ধারণ করে।
➤ গলজি বস্তু — প্রোটিন ও লিপিড প্রক্রিয়াকরণে গুরুত্বপূর্ণ।
08
🎯 Level 1

৩১. কোন রঙের আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়? (বাংলাদেশ বিমানের প্ল্যানিং অ্যাসিস্ট্যান্ট: ২২)

ক

নীল

খ

সবুজ

গ

হলুদ

ঘ

বেগুনি

✅ সঠিক উত্তর:ক. নীল

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: নীল আলো (Blue Light) — প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ নীল আলো সালোকসংশ্লেষণের জন্য অত্যন্ত কার্যকর আলোক অঞ্চলের একটি। ক্লোরোফিলের আলোকশোষণের গুরুত্বপূর্ণ শিখর নীল অঞ্চলে অবস্থিত।
❖ নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য: আনুমানিক ৪৫০–৪৯৫ ন্যানোমিটার।
❖ ক্লোরোফিল-এ: নীল-বেগুনি এবং লাল অঞ্চলে কার্যকরভাবে আলো শোষণ করে।
❖ ক্লোরোফিল-বি: নীল অঞ্চলের আলো শোষণ করে আলোকশক্তি সংগ্রহে ভূমিকা রাখে।
❖ ক্যারোটিনয়েড (Carotenoid): সহায়ক রঞ্জক, যা নীল ও নীল-সবুজ অঞ্চলের আলো শোষণ করতে পারে।
❖ নীল আলোর ভূমিকা: সালোকসংশ্লেষণ ছাড়াও পত্ররন্ধ্রের কার্যক্রম, উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও আলোকপ্রতিক্রিয়ায় নীল আলো গুরুত্বপূর্ণ।
❖ Phototropism: আলোর দিকে উদ্ভিদের বৃদ্ধি বা বক্রতাকে আলোকানুবর্তিতা বলে। নীল আলো এই প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।
❖ Phototropin: নীল আলো শনাক্তকারী উদ্ভিদ প্রোটিন-রিসেপ্টরগুলোর একটি শ্রেণি।
❖ Cryptochrome: উদ্ভিদের নীল আলো গ্রহণকারী আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোকগ্রাহী প্রোটিন।
❖ লাল আলো: লাল আলোও সালোকসংশ্লেষণের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। তাই লাল আলো বিকল্পে থাকলে পরীক্ষার প্রচলিত প্রশ্নভেদে উত্তর ভিন্ন হতে পারে।
❖ সবুজ আলো: ক্লোরোফিল তুলনামূলক কম শোষণ করলেও সবুজ আলো পাতার গভীর স্তরে পৌঁছে সালোকসংশ্লেষণে অংশ নিতে পারে।
❖ হলুদ আলো: হলুদ অঞ্চলের আলো থেকেও কিছু আলোকশক্তি সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার করা সম্ভব।
❖ বেগুনি আলো: দৃশ্যমান বর্ণালির ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো; এটিও কিছু সালোকসংশ্লেষী রঞ্জক দ্বারা শোষিত হয়।
❖ আলোকশক্তি ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য: একটি ফোটনের শক্তি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক।
E = hc/λ
এখানে, E = ফোটনের শক্তি; h = প্ল্যাঙ্ক ধ্রুবক; c = আলোর বেগ; λ = তরঙ্গদৈর্ঘ্য।
❖ শুধু ফোটনের শক্তি দিয়ে কার্যকারিতা নির্ধারিত নয়: উদ্ভিদে কোনো রঙের আলোর ব্যবহারযোগ্যতা সংশ্লিষ্ট রঞ্জকের শোষণ, আলোর প্রবেশক্ষমতা ও আলোকব্যবস্থার ওপরও নির্ভর করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রদত্ত বিকল্পে সঠিক উত্তর — নীল আলো।
➤ Blue Light — নীল আলো।
➤ নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য — প্রায় ৪৫০–৪৯৫ nm।
➤ Chlorophyll-a — নীল ও লাল আলো শোষণ করে।
➤ Chlorophyll-b — সহায়ক রঞ্জক।
➤ Carotenoid — সহায়ক রঞ্জক।
➤ Phototropism — আলোকানুবর্তিতা।
➤ Phototropin — নীল আলো গ্রহণকারী প্রোটিন।
➤ Cryptochrome — নীল আলো গ্রহণকারী প্রোটিন।
➤ লাল আলোও — সালোকসংশ্লেষণে অত্যন্ত কার্যকর।
➤ সবুজ আলো — সালোকসংশ্লেষণে অংশ নিতে পারে।
➤ আলোর শক্তির সূত্র — E = hc/λ।
Advertisement
09
🎯 Level 1

৩৯. সালোকসংশ্লেষণের অন্ধকার বিক্রিয়া কী নামে পরিচিত? (মাউশি অধিদপ্তরের প্রদর্শক: ০৪)

ক

টমসন

খ

ক্যালভিন বিক্রিয়া

গ

কার্লো বিক্রিয়া

ঘ

কোনোটিই নয়

✅ সঠিক উত্তর:খ. ক্যালভিন বিক্রিয়া

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ক্যালভিন বিক্রিয়া বা ক্যালভিন চক্র (Calvin Cycle)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ সালোকসংশ্লেষণের অন্ধকার বিক্রিয়া (Dark Reaction) ক্যালভিন চক্র বা Calvin–Benson Cycle নামে পরিচিত। এ পর্যায়ে আলোকনির্ভর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন ATP ও NADPH ব্যবহার করে CO₂ থেকে জৈব কার্বনসমৃদ্ধ অণু তৈরি হয়।
❖ অন্ধকার বিক্রিয়া (Dark Reaction): সালোকসংশ্লেষণের যে পর্যায়ে সরাসরি আলোক-ফোটন ব্যবহার করে বিক্রিয়া পরিচালিত হয় না, তাকে ঐতিহাসিকভাবে অন্ধকার বিক্রিয়া বলা হয়েছে।
❖ আধুনিক পরিভাষা: Light-independent Reaction বা আলোকনিরপেক্ষ বিক্রিয়া।
❖ ক্যালভিন চক্রের নামকরণ: মার্কিন রসায়নবিদ মেলভিন ক্যালভিন (Melvin Calvin)-এর নামানুসারে এ চক্রের নামকরণ করা হয়েছে।
❖ মেলভিন ক্যালভিনের পরিচয়: Melvin Ellis Calvin (১৯১১–১৯৯৭) একজন মার্কিন রসায়নবিদ।
❖ জন্ম: ৮ এপ্রিল ১৯১১, সেন্ট পল, মিনেসোটা, যুক্তরাষ্ট্র।
❖ মৃত্যু: ৮ জানুয়ারি ১৯৯৭, বার্কলে, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।
❖ গবেষণার ক্ষেত্র: সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড কীভাবে জৈব যৌগে পরিণত হয়, তা অনুসন্ধান।
❖ সহযোগী বিজ্ঞানী: Andrew Benson ও James Bassham ক্যালভিন চক্রের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
❖ Calvin–Benson–Bassham Cycle: তিন গবেষকের অবদান স্বীকার করে চক্রটিকে কখনো CBB Cycle বলা হয়।
❖ নোবেল পুরস্কার: মেলভিন ক্যালভিন সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড সংবন্ধনের পথ নির্ণয়সংক্রান্ত গবেষণার জন্য ১৯৬১ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
❖ ক্যালভিন চক্রের স্থান: ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমা (Stroma)।
❖ ক্যালভিন চক্রের প্রধান তিনটি ধাপ:
১. কার্বন সংবন্ধন (Carbon Fixation)।
২. বিজারণ (Reduction)।
৩. RuBP পুনর্গঠন (Regeneration)।
❖ ১. কার্বন সংবন্ধন: CO₂ পাঁচ-কার্বনবিশিষ্ট Ribulose-1,5-bisphosphate (RuBP)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।
❖ RuBisCO এনজাইম: CO₂ ও RuBP-এর কার্বক্সিলেশন বিক্রিয়াকে অনুঘটিত করে।
❖ RuBisCO-এর পূর্ণরূপ: Ribulose-1,5-bisphosphate carboxylase/oxygenase।
❖ প্রথম স্থিতিশীল উৎপাদ: প্রচলিত C₃ উদ্ভিদে CO₂ সংবন্ধনের ফলে 3-phosphoglycerate (3-PGA) তৈরি হয়।
❖ ২. বিজারণ: ATP ও NADPH ব্যবহার করে 3-PGA থেকে Glyceraldehyde-3-phosphate (G3P) তৈরি হয়।
❖ G3P: একটি তিন-কার্বনবিশিষ্ট শর্করা ফসফেট, যা থেকে বিভিন্ন কার্বোহাইড্রেট ও অন্য জৈব পদার্থ তৈরি হতে পারে।
❖ ৩. পুনর্গঠন: উৎপন্ন জৈব অণুর একটি অংশ ব্যবহার করে আবার RuBP তৈরি হয়, যাতে নতুন CO₂ সংবন্ধন চলতে পারে।
❖ তিনটি CO₂ সংবন্ধনে: ক্যালভিন চক্রে নিট একটি G3P উৎপাদনের জন্য সাধারণ হিসাবে ৯ ATP ও ৬ NADPH প্রয়োজন হয়।
❖ একটি ছয়-কার্বনবিশিষ্ট শর্করার সমতুল্য উৎপাদনে: ছয়টি CO₂ সংবন্ধনের জন্য সাধারণ হিসাবে ১৮ ATP ও ১২ NADPH প্রয়োজন হয়।
❖ আলো ছাড়াই কি চক্র চলে? ক্যালভিন চক্র সরাসরি ফোটন ব্যবহার না করলেও আলোকনির্ভর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন ATP ও NADPH-এর ওপর নির্ভরশীল।
❖ অন্ধকার বিক্রিয়া নামের সীমাবদ্ধতা: নামটি দেখে শুধু রাতেই ঘটে মনে করা ভুল। পর্যাপ্ত ATP, NADPH ও সক্রিয় এনজাইম থাকলে ক্যালভিন চক্র দিনের আলোকিত অবস্থাতেই কার্যকরভাবে চলে।
❖ আলোক বিক্রিয়া (Light Reaction): থাইলাকয়েড ঝিল্লিতে সংঘটিত হয়।
❖ আলোকনিরপেক্ষ বিক্রিয়া: স্ট্রোমায় সংঘটিত হয়।
❖ C₃ উদ্ভিদ: ধান, গম, আলু ও অনেক সাধারণ উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্রের কার্বন সংবন্ধন C₃ পথের অংশ।
❖ C₄ ও CAM উদ্ভিদ: এদের প্রাথমিক CO₂ গ্রহণের বিশেষ ব্যবস্থা থাকলেও শেষ পর্যন্ত শর্করা উৎপাদনে ক্যালভিন চক্র ব্যবহৃত হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ অন্ধকার বিক্রিয়া — Calvin Cycle।
➤ আধুনিক নাম — Light-independent Reaction।
➤ অন্য নাম — Calvin–Benson Cycle।
➤ পূর্ণ নাম — Calvin–Benson–Bassham Cycle।
➤ সংক্ষিপ্ত রূপ — CBB Cycle।
➤ ক্যালভিন চক্রের স্থান — Stroma।
➤ মেলভিন ক্যালভিনের জন্ম — ৮ এপ্রিল ১৯১১।
➤ মেলভিন ক্যালভিনের মৃত্যু — ৮ জানুয়ারি ১৯৯৭।
➤ নোবেল পুরস্কার — রসায়ন, ১৯৬১।
➤ গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী — Andrew Benson।
➤ আরেক সহযোগী — James Bassham।
➤ প্রধান ধাপ — Fixation, Reduction, Regeneration।
➤ CO₂ গ্রহণকারী যৌগ — RuBP।
➤ RuBP — পাঁচ-কার্বনবিশিষ্ট যৌগ।
➤ গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম — RuBisCO।
➤ প্রথম স্থিতিশীল উৎপাদ — 3-PGA।
➤ তিন-কার্বনবিশিষ্ট শর্করা ফসফেট — G3P।
➤ ৩ CO₂ সংবন্ধনে — ৯ ATP ও ৬ NADPH।
➤ ৬ CO₂ সংবন্ধনে — ১৮ ATP ও ১২ NADPH।
➤ আলোক বিক্রিয়ার স্থান — Thylakoid Membrane।
➤ ক্যালভিন চক্র শুধু রাতে ঘটে না।
10
🎯 Level 1

৪৪. শ্বসন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ ত্যাগ করে— (জামাবো’র সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা: ১৫)

ক

অক্সিজেন

খ

কার্বন ডাই অক্সাইড

গ

নাইট্রোজেন

ঘ

অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড

✅ সঠিক উত্তর:খ. কার্বন ডাই অক্সাইড

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: কার্বন ডাই-অক্সাইড (Carbon Dioxide)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শ্বসন (Respiration) হলো জীবকোষে জৈব খাদ্যের রাসায়নিক শক্তিকে বিভিন্ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে জীবের ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া।
❖ সবাত শ্বসনে উদ্ভিদ সাধারণত অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে।
❖ সবাত শ্বসনের সাধারণ সমীকরণ:
C₆H₁₂O₆ + 6O₂ → 6CO₂ + 6H₂O + শক্তি (ATP ও তাপ)
❖ এখানে গ্লুকোজ জারিত হয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন করে। মুক্ত শক্তির কিছু অংশ ATP-তে সঞ্চিত হয়।
❖ উদ্ভিদেও শ্বসন হয়: উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল, বীজ এবং অন্যান্য জীবিত কোষে শ্বসন চলতে পারে।
❖ শ্বসন দিন ও রাত উভয় সময় হয়। কারণ জীবকোষের বৃদ্ধি, পরিবহন, মেরামত ও অন্যান্য বিপাকীয় কাজের জন্য সব সময় শক্তি প্রয়োজন।
❖ সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের পার্থক্য: সালোকসংশ্লেষণ আলোকশক্তি ব্যবহার করে খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া, আর শ্বসন খাদ্যের সঞ্চিত শক্তি জীবকোষের কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে।
❖ দিনের বেলায়: আলো থাকলে উদ্ভিদের সবুজ অংশে সালোকসংশ্লেষণ এবং একই সঙ্গে শ্বসন চলতে পারে।
❖ রাতের বেলায়: সাধারণ সালোকসংশ্লেষণের আলোক বিক্রিয়া বন্ধ থাকে, কিন্তু শ্বসন চলতে থাকে।
❖ দিনে উদ্ভিদের নিট গ্যাস বিনিময়: পর্যাপ্ত আলোতে সালোকসংশ্লেষণের হার শ্বসনের হারের চেয়ে বেশি হলে উদ্ভিদ নিটভাবে CO₂ গ্রহণ ও O₂ নির্গমন করে।
❖ রাতে উদ্ভিদের নিট গ্যাস বিনিময়: সাধারণত শ্বসনের ফলে O₂ গ্রহণ ও CO₂ নির্গমন ঘটে।
❖ মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondrion): ইউক্যারিওটিক কোষে সবাত শ্বসনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলো সম্পন্ন হয়।
❖ গ্লাইকোলাইসিস (Glycolysis): শ্বসনের প্রাথমিক পর্যায়; কোষের সাইটোসলে (Cytosol) সংঘটিত হয়।
❖ ক্রেবস চক্র (Krebs Cycle): উদ্ভিদসহ ইউক্যারিওটিক জীবের মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে ঘটে।
❖ ইলেকট্রন পরিবহন শৃঙ্খল (ETC): মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃঝিল্লিতে অবস্থান করে।
❖ অক্সিজেনের কাজ: সবাত শ্বসনের ইলেকট্রন পরিবহন শৃঙ্খলে অক্সিজেন চূড়ান্ত ইলেকট্রন গ্রহীতা (Final Electron Acceptor) হিসেবে কাজ করে।
❖ নাইট্রোজেন: সাধারণ উদ্ভিদকোষের সবাত শ্বসনে নাইট্রোজেন গ্যাস প্রধান নির্গত পদার্থ নয়।
❖ CO₂ নির্গমনের গুরুত্ব: উদ্ভিদের শ্বসন, মাটির জীবাণুর কার্যক্রম এবং জৈব পদার্থের পচন—সবগুলোই কার্বন চক্রে ভূমিকা রাখে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ শ্বসনে উদ্ভিদ ত্যাগ করে — CO₂।
➤ সবাত শ্বসনে গ্রহণ করে — O₂।
➤ সবাত শ্বসনে উৎপন্ন হয় — CO₂, পানি ও শক্তি।
➤ শ্বসন — দিন ও রাত উভয় সময় হয়।
➤ উদ্ভিদের সব জীবিত কোষে শ্বসন হতে পারে।
➤ শ্বসনের প্রধান উদ্দেশ্য — ব্যবহারযোগ্য শক্তি উৎপাদন।
➤ শক্তিবাহী অণু — ATP।
➤ গ্লাইকোলাইসিসের স্থান — Cytosol।
➤ ক্রেবস চক্রের স্থান — Mitochondrial Matrix।
➤ ETC-এর স্থান — Inner Mitochondrial Membrane।
➤ সবাত শ্বসনের চূড়ান্ত ইলেকট্রন গ্রহীতা — O₂।
➤ দিনে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি হলে — নিট O₂ নির্গত হয়।
➤ রাতে সাধারণত — CO₂ নির্গত হয়।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন