🧠 🔖
👑 Premium Topic

প্রাণিজগতের শ্রেণীবিন্যাস

◉ সাধারণ বিজ্ঞান›প্রাণিজগতের শ্রেণীবিন্যাস

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚79মোট প্রশ্ন
🎯5মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০২. প্রোটোজোয়া পর্বের প্রাণী কোনটি? (গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় অফিসার: ০৩)

ক

অ্যামিবা

খ

ম্যালেরিয়ার জীবাণু

গ

জোঁক

ঘ

ক ও খ উভয়ই

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ক ও খ উভয়ই

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ক ও খ উভয়ই — অ্যামিবা ও ম্যালেরিয়ার জীবাণু।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ প্রোটোজোয়া (Protozoa) হলো প্রাণীসদৃশ এককোষী ইউক্যারিওটিক জীবদের বোঝাতে ব্যবহৃত একটি ঐতিহ্যবাহী শ্রেণিবিন্যাসগত পরিভাষা। পুরোনো জীববিজ্ঞানের পাঠ্যবইয়ে অ্যামিবা ও ম্যালেরিয়ার জীবাণু উভয়কেই প্রোটোজোয়া হিসেবে আলোচনা করা হয়।
❖ অ্যামিবা (Amoeba) একটি এককোষী ইউক্যারিওটিক জীব, যার দেহ সাধারণত অনিয়তাকার এবং চলন ও খাদ্য গ্রহণে ছদ্মপদ (Pseudopodia) ব্যবহার করে।
❖ অ্যামিবার বৈজ্ঞানিক উদাহরণ: Amoeba proteus।
❖ অ্যামিবার বাসস্থান: সাধারণত স্বাদুপানির জলাশয়, পুকুর এবং উপযুক্ত আর্দ্র পরিবেশে পাওয়া যায়।
❖ অ্যামিবার দেহগঠন: কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, খাদ্যগহ্বর এবং সংকোচনশীল গহ্বরসহ বিভিন্ন কোষীয় গঠন থাকে।
❖ ছদ্মপদ (Pseudopodium): অ্যামিবার সাইটোপ্লাজমের সাময়িক প্রসারণ, যার সাহায্যে চলন ও খাদ্য গ্রহণ করা হয়।
❖ ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis): কোষঝিল্লির সাহায্যে কঠিন খাদ্যকণা ঘিরে কোষের ভেতরে গ্রহণ করার প্রক্রিয়া।
❖ ম্যালেরিয়ার জীবাণু: ম্যালেরিয়া রোগের জন্য দায়ী পরজীবী হলো Plasmodium গণের জীব।
❖ Plasmodium-এর শ্রেণিগত পরিচয়: আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে এটি Apicomplexa গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
❖ ম্যালেরিয়ার প্রধান মানব-রোগসৃষ্টিকারী প্রজাতি: Plasmodium falciparum, P. vivax, P. malariae, P. ovale এবং P. knowlesi।
❖ ম্যালেরিয়ার বাহক: সাধারণত সংক্রমিত স্ত্রী Anopheles মশা মানুষের শরীরে ম্যালেরিয়ার পরজীবী প্রবেশ করায়।
❖ ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ পর্যায়: সংক্রমিত মশা রক্ত গ্রহণের সময় মানুষের শরীরে Sporozoite প্রবেশ করাতে পারে।
❖ Plasmodium-এর জীবনচক্র: মানুষের যকৃৎ ও লোহিত রক্তকণিকায় পরজীবীর বিভিন্ন পর্যায় থাকে। যৌন প্রজননসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় মশার দেহে ঘটে।
❖ ম্যালেরিয়ার লক্ষণ: জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ম্যালেরিয়ায় বিভিন্ন অঙ্গের জটিলতা তৈরি হতে পারে।
❖ জোঁক (Leech): জোঁক প্রোটোজোয়া নয়; এটি Annelida পর্বের বহুকোষী প্রাণী।
❖ জোঁকের দেহ: খণ্ডিত দেহ, পেশিবহুল গঠন এবং অনেক প্রজাতিতে দেহের দুই প্রান্তে চোষক থাকে।
❖ প্রোটোজোয়ার প্রজনন: বিভিন্ন এককোষী জীব দ্বিবিভাজন, বহু-বিভাজন বা জটিল জীবনচক্রের মাধ্যমে বংশবিস্তার করতে পারে।
❖ দ্বিবিভাজন (Binary Fission): একটি কোষ বিভাজিত হয়ে দুটি নতুন কোষ তৈরি করার প্রক্রিয়া।
❖ বহুবিভাজন (Multiple Fission): একটি কোষের অভ্যন্তরে একাধিক নিউক্লিয়াস বিভাজন ও পরবর্তী কোষবিভাগের মাধ্যমে অনেক নতুন কোষ তৈরি হতে পারে।
❖ আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসগত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন: Protozoa আধুনিক বিবর্তনভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে একটি একক স্বীকৃত প্রাকৃতিক পর্ব নয়। Amoeba ও Plasmodium ভিন্ন বিবর্তনীয় গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তবে পরীক্ষার প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী উভয়ই প্রোটোজোয়া।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রোটোজোয়ার প্রচলিত উদাহরণ — অ্যামিবা ও প্লাজমোডিয়াম।
➤ Amoeba proteus — অ্যামিবার পরিচিত প্রজাতি।
➤ অ্যামিবার চলন অঙ্গ — Pseudopodia।
➤ Pseudopodia — ছদ্মপদ।
➤ অ্যামিবার খাদ্য গ্রহণ — Phagocytosis।
➤ অ্যামিবার অযৌন প্রজনন — Binary Fission।
➤ ম্যালেরিয়ার জীবাণু — Plasmodium।
➤ Plasmodium-এর আধুনিক গোষ্ঠী — Apicomplexa।
➤ ম্যালেরিয়ার বাহক — স্ত্রী Anopheles মশা।
➤ ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ পর্যায় — Sporozoite।
➤ Plasmodium falciparum — গুরুতর ম্যালেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
➤ জোঁকের পর্ব — Annelida।
➤ জোঁক — বহুকোষী প্রাণী।
➤ Protozoa — পুরোনো শ্রেণিবিন্যাসের প্রচলিত পরিভাষা।"
02
🎯 Level 1

০৬. কোন সামুদ্রিক প্রাণী সামনের দিকে সাঁতার কাটতে পারে না? (চবি: ১০–১১)

ক

পেঙ্গুইন

খ

সীল

গ

অক্টোপাস

ঘ

জেলী ফিস

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. জেলী ফিস

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: জেলী ফিস (Jellyfish)
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ জেলিফিশ (Jellyfish) একটি সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী, যা নিডারিয়া (Cnidaria) পর্বের অন্তর্ভুক্ত। এর দেহ সাধারণত স্বচ্ছ, নরম ও জেলির মতো পদার্থে গঠিত। অধিকাংশ পরিচিত জেলিফিশ ঘণ্টাকৃতির দেহের ছন্দময় সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে পানিতে চলাচল করে।
❖ প্রাণীর নাম: জেলিফিশ (Jellyfish)।
❖ প্রচলিত বাংলা নাম: জেলী ফিস বা জেলিফিশ।
❖ রাজ্য (Kingdom): Animalia বা প্রাণিজগৎ।
❖ পর্ব (Phylum): Cnidaria বা নিডারিয়া।
❖ পুরোনো শ্রেণিবিন্যাসে পর্বের নাম: Coelenterata বা সিলেন্টারেটা।
❖ প্রধান শ্রেণি (Class): অধিকাংশ প্রকৃত জেলিফিশ Scyphozoa শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
❖ জেলিফিশ-সদৃশ অন্য প্রাণী: Hydrozoa ও Cubozoa শ্রেণিতেও জেলিফিশসদৃশ মেডুসা পাওয়া যায়।
❖ বাসস্থান: প্রধানত সামুদ্রিক পরিবেশ। কিছু জেলিফিশ জাতীয় প্রাণী স্বাদুপানিতেও পাওয়া যায়।
❖ দেহের প্রকৃতি: নরম, জেলির মতো, অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছ বা অর্ধস্বচ্ছ।
❖ দেহের পানির পরিমাণ: অনেক জেলিফিশের দেহে প্রায় ৯৫% পানি থাকে।
❖ দেহের প্রতিসাম্য: প্রধানত অরীয় প্রতিসাম্য (Radial Symmetry)।
❖ অরীয় প্রতিসাম্য: কেন্দ্রীয় অক্ষের চারপাশে দেহের বিভিন্ন অংশ বিন্যস্ত থাকার বৈশিষ্ট্য।
❖ দেহস্তর: প্রচলিত প্রাণিবিজ্ঞানে নিডারিয়াদের দ্বিস্তরী (Diploblastic) প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
❖ প্রধান দেহস্তর: বাইরের এপিডার্মিস ও ভেতরের গ্যাস্ট্রোডার্মিস।
❖ মধ্যবর্তী জেলির মতো স্তর: মেসোগ্লিয়া (Mesoglea)।
❖ দেহগহ্বর: Gastrovascular Cavity বা গ্যাস্ট্রোভাসকুলার গহ্বর।
❖ স্নায়ুতন্ত্র: সরল স্নায়ুজাল (Nerve Net)।
❖ মস্তিষ্ক: মানুষের মতো কেন্দ্রীভূত মস্তিষ্ক নেই।
❖ হৃৎপিণ্ড: প্রকৃত হৃৎপিণ্ড নেই।
❖ রক্তসংবহনতন্ত্র: পৃথক সুগঠিত রক্তসংবহনতন্ত্র নেই।
❖ শ্বাসপ্রশ্বাস: সাধারণত দেহপৃষ্ঠ দিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের আদান-প্রদান হয়।
❖ প্রধান খাদ্য: প্ল্যাঙ্কটন, ক্ষুদ্র ক্রাস্টেশিয়ান, মাছের ডিম, লার্ভা এবং প্রজাতিভেদে অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী।
✦ ১. জেলিফিশ কীভাবে চলাচল করে?
❖ জেলিফিশের প্রধান চলন পদ্ধতি হলো ঘণ্টাকৃতির দেহের ছন্দময় সংকোচন ও প্রসারণ। এই চলনকে Pulsatile Swimming বলা হয়।
❖ বেল (Bell): জেলিফিশের ছাতা বা ঘণ্টার মতো প্রধান দেহাংশ।
❖ মেডুসা (Medusa): নিডারিয়াদের মুক্তভাবে সাঁতার কাটতে সক্ষম ঘণ্টাকৃতির দেহরূপ।
❖ পালসেশন (Pulsation): ঘণ্টাকৃতির দেহের পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণ।
❖ সংকোচনের সময়: ঘণ্টাকৃতির দেহের নিচের পানি বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়।
❖ প্রতিক্রিয়াজনিত বল: পানি নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে দেওয়ার ফলে জেলিফিশ বিপরীত দিকে গতি লাভ করে।
❖ প্রসারণের সময়: ঘণ্টাকৃতির দেহ পুনরায় প্রসারিত হয় এবং চারপাশের পানি নতুনভাবে প্রবাহিত হয়।
❖ জেট প্রপালশন (Jet Propulsion): পানি নির্গমনের প্রতিক্রিয়ায় চলাচল করার একটি পদ্ধতি। কিছু জেলিফিশে এ ধরনের চলন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ ঘূর্ণিপ্রবাহ (Vortex): জেলিফিশের ঘণ্টার সংকোচন ও প্রসারণের ফলে পানিতে ঘূর্ণিপ্রবাহ সৃষ্টি হয়, যা চলন ও খাদ্য সংগ্রহে সাহায্য করতে পারে।
❖ জেলিফিশের গতির সীমাবদ্ধতা: অধিকাংশ জেলিফিশ শক্তিশালী সমুদ্রস্রোতের বিপরীতে দীর্ঘ দূরত্ব কার্যকরভাবে সাঁতার কাটতে পারে না।
❖ জেলিফিশ কি একেবারেই সামনের দিকে চলতে পারে না? না। কিছু জেলিফিশ নিজস্ব সংকোচন-প্রসারণের সাহায্যে সামনে এগোতে পারে। তবে চলনক্ষমতা ও দিকনিয়ন্ত্রণ প্রজাতিভেদে ভিন্ন।
❖ মাছের সঙ্গে পার্থক্য: সাধারণ মাছের মতো জেলিফিশের পাখনা বা মেরুদণ্ড থাকে না।
❖ প্ল্যাঙ্কটনিক বৈশিষ্ট্য: অনেক জেলিফিশকে প্ল্যাঙ্কটন হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ তারা পানির স্রোতের প্রভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে ভেসে চলে।
❖ প্ল্যাঙ্কটন (Plankton): এমন জীব, যাদের চলাচল পানির স্রোতের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল অথবা যারা স্রোতের বিপরীতে কার্যকরভাবে স্থান পরিবর্তন করতে পারে না।
❖ নেকটন (Nekton): পানিতে সক্রিয়ভাবে সাঁতার কেটে স্রোতের বিপরীতেও চলতে সক্ষম প্রাণীগোষ্ঠী; যেমন বহু মাছ, তিমি ও সীল।
❖ জেলিফিশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: নিজস্ব সাঁতার ও স্রোতের সঙ্গে ভেসে চলা—দুটি প্রক্রিয়াই এর গতিতে ভূমিকা রাখে।
✦ ২. জেলিফিশের দেহগঠন ও বিভিন্ন অঙ্গ
❖ জেলিফিশের দেহের সবচেয়ে পরিচিত অংশ ঘণ্টাকৃতির বেল (Bell)। এটি দেহকে পানিতে ভাসিয়ে রাখা, সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে চলাচল এবং বিভিন্ন অঙ্গকে ধারণ করতে সাহায্য করে।
❖ বেল (Bell): ঘণ্টা বা ছাতার মতো দেহাংশ। এটি অনেক সময় স্বচ্ছ বা অর্ধস্বচ্ছ হয়।
❖ টেন্টাকল (Tentacle): দেহের প্রান্তে থাকা সরু শুঁড়সদৃশ অংশ, যা খাদ্যধারণ ও আত্মরক্ষায় ব্যবহৃত হয়।
❖ নিডোসাইট (Cnidocyte): নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের বিশেষ দংশনকারী কোষ।
❖ নেমাটোসিস্ট (Nematocyst): নিডোসাইটের ভেতরে থাকা বিশেষ দংশনকারী অঙ্গাণু, যাতে কুণ্ডলিত নল বা সূক্ষ্ম সূচালো গঠন থাকে।
❖ নেমাটোসিস্টের কাজ: শিকার ধরা, বিষ প্রবেশ করানো ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করা।
❖ ওরাল আর্ম (Oral Arm): কিছু জেলিফিশে মুখের চারপাশে থাকা বিশেষ বাহুসদৃশ অংশ, যা খাদ্যকে মুখের দিকে নিয়ে যায়।
❖ মুখ (Mouth): সাধারণত ঘণ্টাকৃতির দেহের নিচের দিকে অবস্থান করে।
❖ গ্যাস্ট্রোভাসকুলার গহ্বর: খাদ্য পরিপাক ও পুষ্টি পরিবহনের কাজে অংশগ্রহণকারী অভ্যন্তরীণ গহ্বর।
❖ মেসোগ্লিয়া (Mesoglea): দেহের মাঝখানের জেলির মতো স্তর, যা দেহের আকৃতি ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
❖ রোপ্যালিয়াম (Rhopalium): অনেক জেলিফিশের ঘণ্টার প্রান্তে অবস্থিত বিশেষ সংবেদনশীল গঠন।
❖ সংবেদনশীলতা: জেলিফিশের বিভিন্ন প্রজাতি আলো, অভিকর্ষ, রাসায়নিক উদ্দীপনা এবং পানির গতির পরিবর্তন অনুভব করতে পারে।
❖ স্ট্যাটোসিস্ট (Statocyst): ভারসাম্য ও দেহের অবস্থান শনাক্তে ব্যবহৃত বিশেষ সংবেদনশীল গঠন, যা কিছু জেলিফিশের রোপ্যালিয়ামের অংশ।
❖ স্নায়ুজাল: জেলিফিশের দেহে বিস্তৃত সরল স্নায়ুতন্ত্র, যা চলাচল ও বিভিন্ন উদ্দীপনার প্রতি প্রতিক্রিয়া সমন্বয় করে।
❖ মস্তিষ্কের অনুপস্থিতি: অধিকাংশ জেলিফিশে কেন্দ্রীভূত মস্তিষ্ক নেই, কিন্তু স্নায়ুজাল ও বিশেষ সংবেদনশীল অঙ্গের মাধ্যমে সমন্বিত আচরণ করতে পারে।
✦ ৩. জেলিফিশের জীবনচক্র ও প্রজনন
❖ অনেক প্রকৃত জেলিফিশের জীবনচক্রে পলিপ ও মেডুসা—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেহরূপ দেখা যায়। জীবনচক্রে যৌন ও অযৌন প্রজনন উভয়ই থাকতে পারে।
❖ মেডুসা (Medusa): সাধারণত মুক্তভাবে সাঁতার কাটতে সক্ষম ঘণ্টাকৃতির দেহরূপ।
❖ পলিপ (Polyp): সাধারণত কোনো কঠিন পৃষ্ঠের সঙ্গে সংযুক্ত নলাকার দেহরূপ।
❖ যৌন প্রজনন: অনেক জেলিফিশের মেডুসা পর্যায়ে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু উৎপন্ন হয়।
❖ নিষেক (Fertilization): পুংজননকোষ ও স্ত্রীজননকোষের মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়।
❖ প্ল্যানুলা লার্ভা (Planula Larva): অনেক নিডারিয়ার নিষিক্ত ডিম থেকে উৎপন্ন সিলিয়াযুক্ত লার্ভা।
❖ প্ল্যানুলার কাজ: পানিতে চলাচল করে উপযুক্ত পৃষ্ঠে বসতি স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা।
❖ পলিপে রূপান্তর: প্ল্যানুলা উপযুক্ত পৃষ্ঠে সংযুক্ত হয়ে পলিপে পরিণত হতে পারে।
❖ স্কাইফিস্টোমা (Scyphistoma): Scyphozoa শ্রেণির জেলিফিশের পলিপ পর্যায়ের বিশেষ নাম।
❖ স্ট্রোবিলেশন (Strobilation): কিছু জেলিফিশের পলিপদেহ আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে একাধিক তরুণ মেডুসা উৎপন্ন করার অযৌন প্রক্রিয়া।
❖ ইফাইরা (Ephyra): স্ট্রোবিলেশনের মাধ্যমে উৎপন্ন তরুণ জেলিফিশের দেহরূপ।
❖ পূর্ণাঙ্গ মেডুসা: ইফাইরা বৃদ্ধি পেয়ে পরিণত মেডুসায় রূপান্তরিত হয়।
✦ জেলিফিশের সাধারণ জীবনচক্র — Word Copy-Paste Format
➤ পূর্ণাঙ্গ মেডুসা
⇒ ডিম্বাণু ও শুক্রাণু উৎপাদন
⇒ নিষেক
⇒ জাইগোট সৃষ্টি
⇒ প্ল্যানুলা লার্ভা
⇒ উপযুক্ত পৃষ্ঠে সংযুক্তি
⇒ পলিপ বা স্কাইফিস্টোমা
⇒ স্ট্রোবিলেশন
⇒ ইফাইরা সৃষ্টি
⇒ তরুণ মেডুসার বৃদ্ধি
⇒ পূর্ণাঙ্গ মেডুসা।
Advertisement
03
🎯 Level 1

১০. প্রকৃতির লাঙ্গল বা কৃষকের বন্ধু কাকে বলে? (সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজসেবা অফিসার: ০৫ / কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক: ২১)

ক

ইঁদুর

খ

শামুক

গ

কেঁচো

ঘ

খরগোশ

✅ সঠিক উত্তর:গ. কেঁচো

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: কেঁচো (Earthworm)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ কেঁচোকে প্রকৃতির লাঙ্গল বা কৃষকের বন্ধু বলা হয়, কারণ এটি মাটিতে গর্ত তৈরি করে মাটির বায়ুচলাচল, জৈব পদার্থের প্রক্রিয়াকরণ এবং উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
❖ প্রকৃতির লাঙ্গল: কেঁচো মাটির ভেতর চলাচলের সময় মাটিকে আলগা করে। ফলে মাটির বায়ুচলাচল ও পানির অনুপ্রবেশ সহজ হতে পারে।
❖ মাটিতে গর্ত তৈরি: কেঁচোর গর্ত মাটির পোরোসিটি (Porosity) বা ফাঁকা স্থানের বিন্যাস উন্নত করতে পারে।
❖ মাটির জৈব পদার্থ: কেঁচো মৃত উদ্ভিদাংশ ও অন্যান্য পচনশীল জৈব পদার্থ গ্রহণ করে।
❖ কেঁচোর মল (Earthworm Castings): কেঁচোর পরিপাকতন্ত্র অতিক্রম করে বের হওয়া প্রক্রিয়াজাত মাটি ও জৈব পদার্থ।
❖ Vermicast: কেঁচোর উৎপন্ন জৈবসমৃদ্ধ মলজাত পদার্থ।
❖ ভার্মিকম্পোস্ট (Vermicompost): কেঁচো ও অণুজীবের সম্মিলিত কার্যক্রমে জৈব আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণ করে তৈরি সার।
❖ ভার্মিকম্পোস্টিং (Vermicomposting): কেঁচো ব্যবহার করে জৈব পদার্থকে সারজাতীয় উপাদানে রূপান্তর করার পদ্ধতি।
❖ মাটির উর্বরতা: কেঁচোর কার্যক্রম মাটির জৈব পদার্থ ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
❖ মাটির গঠন: কেঁচোর কার্যক্রমে মাটির কণাগুলো সমষ্টিবদ্ধ (Soil Aggregation) হতে পারে।
❖ পানির অনুপ্রবেশ: কেঁচোর তৈরি নালিকা দিয়ে বৃষ্টির পানি মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারে।
❖ বায়ুচলাচল: কেঁচোর গর্ত মাটিতে অক্সিজেন প্রবেশ ও গ্যাসের চলাচলে সহায়ক হতে পারে।
❖ চার্লস ডারউইন: কেঁচোর মাটি গঠন ও জৈব পদার্থ প্রক্রিয়াকরণে ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করেন।
❖ ডারউইনের গ্রন্থ: The Formation of Vegetable Mould Through the Action of Worms — ১৮৮১।
❖ কেঁচোর পর্ব: Annelida।
❖ কেঁচোর রেচন অঙ্গ: Nephridia।
❖ কেঁচোর রক্তসংবহন: বন্ধ রক্তসংবহনতন্ত্র।
❖ সব কেঁচোর প্রভাব সমান নয়: ভিন্ন প্রজাতি, মাটি ও পরিবেশে কেঁচোর ভূমিকা ভিন্ন হতে পারে। কিছু অঞ্চলে বহিরাগত কেঁচো প্রজাতি স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে ক্ষতিও করতে পারে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রকৃতির লাঙ্গল — কেঁচো।
➤ কৃষকের বন্ধু — কেঁচো।
➤ Earthworm — কেঁচো।
➤ কেঁচোর পর্ব — Annelida।
➤ কেঁচো মাটিতে — গর্ত তৈরি করে।
➤ কেঁচো মাটির বায়ুচলাচল উন্নত করে।
➤ কেঁচোর মল — Earthworm Castings।
➤ Vermicast — কেঁচোর মলজাত পদার্থ।
➤ Vermicompost — কেঁচো প্রক্রিয়াজাত জৈবসার।
➤ Vermicomposting — কেঁচো দিয়ে জৈবসার উৎপাদন।
➤ কেঁচো নিয়ে ডারউইনের গ্রন্থ — The Formation of Vegetable Mould Through the Action of Worms।
➤ ডারউইনের গ্রন্থ প্রকাশ — ১৮৮১।
➤ কেঁচোর রেচন — Nephridia।
➤ কেঁচোর রক্তসংবহন — Closed Circulation।
04
🎯 Level 1

১৪. মাছির পা কয়টি? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১০)

ক

২টি

খ

৪টি

গ

৬টি

ঘ

৮টি

✅ সঠিক উত্তর:গ. ৬টি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ৬টি — মাছির তিন জোড়া পা থাকে।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মাছি (Fly) একটি কীটপতঙ্গ। পূর্ণাঙ্গ মাছির তিন জোড়া বা মোট ছয়টি পা থাকে।
❖ মাছির শ্রেণি: Insecta।
❖ সাধারণ গৃহমাছির বৈজ্ঞানিক নাম: Musca domestica।
❖ মাছির বর্গ: Diptera।
❖ Diptera শব্দের অর্থ: দুটি ডানা—অর্থাৎ এ বর্গের অধিকাংশ পূর্ণাঙ্গ কীটপতঙ্গে এক জোড়া কার্যকর ডানা থাকে।
❖ মাছির দেহভাগ: মস্তক, বক্ষ ও উদর।
❖ পায়ের অবস্থান: মাছির তিন জোড়া পা বক্ষ (Thorax) অংশের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
❖ বক্ষের প্রধান খণ্ড: Prothorax, Mesothorax ও Metathorax।
❖ ডানা: সাধারণ মাছিতে প্রধান কার্যকর ডানা এক জোড়া।
❖ হ্যালটিয়ার (Halteres): মাছির পেছনের ডানার পরিবর্তিত গঠন, যা উড্ডয়নের সময় ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।
❖ মাছির চোখ: সাধারণত বড় Compound Eyes বা পুঞ্জাক্ষি থাকে।
❖ মাছির মুখোপাঙ্গ: অনেক মাছিতে চোষণ বা তরল খাদ্য গ্রহণের উপযোগী মুখোপাঙ্গ থাকে।
❖ মাছির জীবনচক্র: সাধারণত ডিম → লার্ভা → পিউপা → পূর্ণাঙ্গ।
❖ সম্পূর্ণ রূপান্তর: মাছি Complete Metamorphosis প্রদর্শন করে।
❖ লার্ভা: সাধারণ গৃহমাছির লার্ভাকে Maggot বলা হয়।
❖ মাছির পরিবেশগত ভূমিকা: কিছু মাছি পচনশীল পদার্থের প্রক্রিয়াকরণে ভূমিকা রাখে; আবার কিছু মাছি রোগজীবাণু যান্ত্রিকভাবে পরিবহন করতে পারে।
❖ মাছি ও মাকড়সার পার্থক্য: মাছির ৬টি পা, মাকড়সার ৮টি পা।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মাছির পা — ৬টি।
➤ মাছির পায়ের জোড়া — ৩ জোড়া।
➤ Housefly — গৃহমাছি।
➤ গৃহমাছির বৈজ্ঞানিক নাম — Musca domestica।
➤ মাছির শ্রেণি — Insecta।
➤ মাছির বর্গ — Diptera।
➤ Diptera — এক জোড়া কার্যকর ডানা।
➤ ভারসাম্য রক্ষাকারী পরিবর্তিত ডানা — Halteres।
➤ মাছির চোখ — Compound Eye।
➤ মাছির লার্ভা — Maggot।
➤ মাছির রূপান্তর — Complete Metamorphosis।
➤ মাছির তিন প্রধান দেহভাগ — Head, Thorax, Abdomen।
➤ মাছির পা যুক্ত থাকে — Thorax-এ।
05
🎯 Level 1

১৮. একটি রানি মৌমাছি কত বার ডিম পাড়ে? (বিবিএস’র সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা: ৯৮)

ক

৪০০ বার

খ

৬০০ বার

গ

৮০০ বার

ঘ

১০০০ বার

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ১০০০ বার

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ পরীক্ষাভিত্তিক সঠিক উত্তর: ১০০০ বার — অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১০০০টি ডিম।
◈ বৈজ্ঞানিক তথ্য: একটি সুস্থ ও প্রজননক্ষম রানি মৌমাছি অনুকূল মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ১০০০–২০০০টি, কখনো ২০০০টিরও বেশি ডিম পাড়তে পারে। তাই ১০০০ কোনো সর্বোচ্চ বা স্থির সংখ্যা নয়। প্রশ্নে ‘কত বার’ না বলে ‘প্রতিদিন কতটি ডিম’ বলা অধিক নির্ভুল।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ রানি মৌমাছি (Queen Honey Bee) হলো মৌমাছির কলোনি বা মৌচাকের প্রধান প্রজননক্ষম স্ত্রী মৌমাছি। একটি স্বাভাবিক মৌচাকে সাধারণত একটি সক্রিয় রানি থাকে, যার প্রধান কাজ ডিম পাড়া এবং কলোনির নতুন প্রজন্ম উৎপাদন করা।
❖ রানি মৌমাছির ডিম পাড়ার ক্ষমতা: সুস্থ রানি মৌমাছি অনুকূল পরিবেশে প্রতিদিন প্রায় ১০০০–২০০০টি ডিম পাড়তে পারে। অত্যন্ত উৎপাদনক্ষম রানির ক্ষেত্রে প্রতিদিন ২০০০টিরও বেশি ডিম পাড়ার তথ্য পাওয়া যায়।
❖ পরীক্ষার উত্তর কেন ১০০০? প্রদত্ত চারটি বিকল্পের মধ্যে ১০০০ সর্বাধিক এবং রানি মৌমাছির পরিচিত দৈনিক ডিম উৎপাদনের একটি গ্রহণযোগ্য পরিমাণ। তাই পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর ঘ।
❖ ডিম পাড়ার পরিমাণ কি সব সময় সমান? না। রানি মৌমাছির বয়স, স্বাস্থ্য, খাদ্যের প্রাপ্যতা, শ্রমিক মৌমাছির সংখ্যা, আবহাওয়া, ঋতু এবং মৌচাকের অবস্থার ওপর ডিম পাড়ার পরিমাণ নির্ভর করে।
❖ মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম: পাশ্চাত্য মধুমৌমাছি বা Western Honey Bee-এর বৈজ্ঞানিক নাম Apis mellifera। এটি মধু উৎপাদন ও পরাগায়নের জন্য পৃথিবীর অন্যতম পরিচিত মৌমাছি।
❖ মৌমাছির শ্রেণিবিন্যাস:
রাজ্য (Kingdom) — Animalia।
পর্ব (Phylum) — Arthropoda।
শ্রেণি (Class) — Insecta।
বর্গ (Order) — Hymenoptera।
পরিবার (Family) — Apidae।
গণ (Genus) — Apis।
প্রজাতি (Species) — Apis mellifera।
❖ Arthropoda: সন্ধিপদী প্রাণীদের পর্ব। এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ, বহিঃকঙ্কাল এবং খণ্ডিত দেহ।
❖ Insecta: কীটপতঙ্গের শ্রেণি। পূর্ণাঙ্গ মৌমাছির দেহ মস্তক, বক্ষ ও উদর—এই তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত। সাধারণত তিন জোড়া পা থাকে।
❖ Hymenoptera: এই বর্গে মৌমাছি, বোলতা ও পিঁপড়া অন্তর্ভুক্ত। এদের অনেক প্রজাতিতে সামাজিক জীবনযাপন এবং শ্রমবিভাজন দেখা যায়।
❖ Apidae পরিবার: মৌমাছির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবার, যার মধ্যে মধুমৌমাছি, ভ্রমর এবং আরও বিভিন্ন মৌমাছি অন্তর্ভুক্ত।
❖ সামাজিক পতঙ্গ (Social Insect): মৌমাছি একটি সুসংগঠিত সামাজিক পতঙ্গ। এদের কলোনিতে শ্রমবিভাজন, সম্মিলিত সন্তান পরিচর্যা ও প্রজন্মের সহাবস্থান দেখা যায়।
❖ ইউসোশ্যালিটি (Eusociality): প্রাণীদের এমন উচ্চমাত্রার সামাজিক ব্যবস্থা, যেখানে প্রজননসংক্রান্ত শ্রমবিভাজন, সন্তান পরিচর্যায় সহযোগিতা এবং একাধিক প্রজন্মের সহাবস্থান থাকে। মধুমৌমাছি এর পরিচিত উদাহরণ।
❖ মৌচাকের প্রধান তিন ধরনের মৌমাছি:
১. রানি মৌমাছি (Queen Bee) — প্রধান প্রজননক্ষম স্ত্রী।
২. শ্রমিক মৌমাছি (Worker Bee) — সাধারণত প্রজননে অংশ না নেওয়া স্ত্রী।
৩. পুরুষ মৌমাছি (Drone Bee) — প্রজননে অংশগ্রহণকারী পুরুষ।
❖ রানি মৌমাছি: রানি সাধারণত শ্রমিক মৌমাছির তুলনায় বড় এবং এর উদর অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ। এর প্রধান কাজ ডিম উৎপাদন এবং রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে কলোনির সামাজিক সংগঠনকে প্রভাবিত করা।
❖ রানি মৌমাছির ডিম্বাশয়: প্রজননক্ষম রানির ডিম্বাশয় অত্যন্ত উন্নত। এতে অসংখ্য Ovariole থাকে, যেখানে ডিম উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
❖ Ovariole কী? পতঙ্গের ডিম্বাশয়ের ভেতরের নলাকার ডিম উৎপাদনকারী একককে Ovariole বলা হয়। রানির উচ্চ ডিম উৎপাদনক্ষমতার সঙ্গে এসব গঠনের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
❖ শ্রমিক মৌমাছি: শ্রমিক মৌমাছি স্ত্রী হলেও সাধারণত রানির উপস্থিতিতে প্রজনন করে না। তারা খাদ্য সংগ্রহ, মৌচাক পরিষ্কার, লার্ভাকে খাওয়ানো, মোম তৈরি ও কলোনি রক্ষার কাজ করে।
❖ শ্রমিক মৌমাছির প্রজনন: শ্রমিক মৌমাছিকে সাধারণত বন্ধ্যা বলা হয়। তবে রানি অনুপস্থিত থাকলে কিছু শ্রমিক মৌমাছির ডিম্বাশয় সক্রিয় হয়ে অনিষিক্ত ডিম উৎপাদন করতে পারে।
❖ পুরুষ মৌমাছি (Drone): পুরুষ মৌমাছির প্রধান জৈবিক কাজ হলো নতুন রানির সঙ্গে মিলনে অংশ নেওয়া। সাধারণত পুরুষ মৌমাছির হুল থাকে না।
❖ মৌমাছির প্রজনন পদ্ধতি: মধুমৌমাছির বংশগতিতে Haplodiploidy নামের বিশেষ ব্যবস্থা দেখা যায়।
❖ Haplodiploidy কী? এ ব্যবস্থায় সাধারণত নিষিক্ত ডিম থেকে দ্বিগুণ ক্রোমোজোমবিশিষ্ট স্ত্রী মৌমাছি এবং অনিষিক্ত ডিম থেকে একগুণ ক্রোমোজোমবিশিষ্ট পুরুষ মৌমাছি তৈরি হয়।
❖ নিষিক্ত ডিম (Fertilized Egg): রানির ডিমের সঙ্গে শুক্রাণুর মিলন ঘটলে সাধারণত স্ত্রী মৌমাছি তৈরি হয়। পরবর্তী পুষ্টি ও পরিচর্যার পার্থক্যের মাধ্যমে শ্রমিক বা রানি হিসেবে বিকাশ হতে পারে।
❖ অনিষিক্ত ডিম (Unfertilized Egg): মৌমাছির ক্ষেত্রে অনিষিক্ত ডিম থেকে সাধারণত পুরুষ মৌমাছি (Drone) তৈরি হয়।
❖ পার্থেনোজেনেসিস (Parthenogenesis): নিষেক ছাড়াই ডিম থেকে নতুন জীবের বিকাশকে পার্থেনোজেনেসিস বলে। পুরুষ মধুমৌমাছির উৎপত্তি এর একটি বিশেষ উদাহরণ।
❖ ক্রোমোজোম সংখ্যা: Apis mellifera-এর স্ত্রী মৌমাছিতে সাধারণত 2n = ৩২টি এবং পুরুষ মৌমাছিতে n = ১৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
❖ রানি ও শ্রমিক মৌমাছির জিনগত সম্পর্ক: উভয়ই সাধারণত নিষিক্ত ডিম থেকে উৎপন্ন স্ত্রী মৌমাছি। তবে লার্ভা অবস্থায় খাদ্যের ধরন ও পরিমাণ তাদের শারীরবৃত্তীয় বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তৈরি করে।
❖ রয়্যাল জেলি (Royal Jelly): শ্রমিক মৌমাছির বিশেষ গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, যা লার্ভাকে খাওয়ানো হয়।
❖ রানি মৌমাছি তৈরিতে রয়্যাল জেলি: ভবিষ্যৎ রানির লার্ভাকে বিশেষ রানিকোষে পর্যাপ্ত রয়্যাল জেলি সরবরাহ করা হয়। এই বিশেষ খাদ্যব্যবস্থা রানির উন্নত ডিম্বাশয় ও প্রজননক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ শ্রমিক লার্ভার খাদ্য: শ্রমিক মৌমাছির লার্ভাও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়্যাল জেলি পায়, কিন্তু পরবর্তী সময়ে খাদ্যব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটে।
❖ Nurse Bee: অপেক্ষাকৃত তরুণ শ্রমিক মৌমাছি, যারা লার্ভাকে খাদ্য সরবরাহ ও পরিচর্যার কাজ করে।
❖ রানি মৌমাছির মিলন (Queen Mating): নতুন রানি সাধারণত পূর্ণাঙ্গ হওয়ার কিছুদিন পর মৌচাকের বাইরে উড়ে পুরুষ মৌমাছির সঙ্গে মিলিত হয়।
❖ Mating Flight: রানির প্রজনন উড্ডয়নকে Mating Flight বলা হয়। এ সময় রানি একাধিক পুরুষ মৌমাছির সঙ্গে মিলিত হতে পারে।
❖ বহুপতি মিলন (Polyandry): একটি স্ত্রী প্রাণীর একাধিক পুরুষের সঙ্গে মিলনকে Polyandry বলে। মধুমৌমাছির রানির ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
❖ Spermatheca: রানি মৌমাছির দেহে শুক্রাণু সংরক্ষণকারী বিশেষ অঙ্গকে Spermatheca বলা হয়।
❖ শুক্রাণু সংরক্ষণ: মিলনের সময় সংগৃহীত শুক্রাণু রানি দীর্ঘ সময় Spermatheca-তে সংরক্ষণ করতে পারে। পরে প্রয়োজনমতো ডিম নিষিক্ত করতে এই শুক্রাণু ব্যবহার করা হয়।
❖ ডিম পাড়ার প্রক্রিয়া: রানি মৌচাকের উপযুক্ত খোপ পরীক্ষা করে সাধারণত প্রতিটি প্রস্তুত ব্রুড কোষে একটি করে ডিম পাড়ে।
❖ ব্রুড কোষ (Brood Cell): মৌচাকে ডিম, লার্ভা ও পিউপা বিকাশের জন্য ব্যবহৃত মোমের খোপকে ব্রুড কোষ বলা হয়।
❖ মৌমাছির জীবনচক্র: মৌমাছির জীবনচক্রে চারটি প্রধান পর্যায় রয়েছে—
ডিম (Egg) → লার্ভা (Larva) → পিউপা (Pupa) → পূর্ণাঙ্গ মৌমাছি (Adult)।
❖ পূর্ণাঙ্গ রূপান্তর (Complete Metamorphosis): ডিম, লার্ভা, পিউপা ও পূর্ণাঙ্গ—চারটি পৃথক বিকাশপর্যায়বিশিষ্ট রূপান্তরকে Complete Metamorphosis বলা হয়।
❖ ডিম পর্যায়ের স্থায়িত্ব: মধুমৌমাছির ডিম সাধারণত প্রায় ৩ দিন পর লার্ভায় পরিণত হয়।
❖ রানি মৌমাছির বিকাশকাল: ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ রানি মৌমাছি হতে সাধারণত প্রায় ১৬ দিন সময় লাগে।
❖ শ্রমিক মৌমাছির বিকাশকাল: ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ শ্রমিক মৌমাছি হতে সাধারণত প্রায় ২১ দিন সময় লাগে।
❖ পুরুষ মৌমাছির বিকাশকাল: ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ পুরুষ মৌমাছি হতে সাধারণত প্রায় ২৪ দিন সময় লাগে।
❖ রানি মৌমাছির আয়ুষ্কাল: রানি মৌমাছি অনুকূল পরিবেশে কয়েক বছর বাঁচতে পারে। তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ডিম পাড়ার ক্ষমতা কমতে পারে।
❖ রানি মৌমাছির উৎপাদনক্ষমতা: সাধারণত প্রথম এক থেকে দুই বছরে রানি ভালো ডিম উৎপাদন করতে পারে। পরবর্তী সময়ে উৎপাদনক্ষমতা কমে গেলে মৌপালকেরা নতুন রানি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
❖ রানি মৌমাছির ফেরোমোন (Queen Pheromone): রানি মৌমাছি বিশেষ রাসায়নিক সংকেত উৎপন্ন করে, যা কলোনির সামাজিক আচরণ, শ্রমিকদের প্রতিক্রিয়া ও প্রজননসংক্রান্ত সংগঠনকে প্রভাবিত করে।
❖ Queen Mandibular Pheromone: রানি মৌমাছির ম্যান্ডিবুলার গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত গুরুত্বপূর্ণ ফেরোমোনসমূহের একটি গোষ্ঠী, যা সামাজিক যোগাযোগ ও কলোনির বিভিন্ন আচরণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
❖ ফেরোমোন (Pheromone): একই প্রজাতির অন্য সদস্যদের আচরণ বা শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া প্রভাবিত করে এমন রাসায়নিক সংকেত।
❖ মৌচাকের খাদ্যব্যবস্থা: মৌমাছি ফুল থেকে Nectar (মধুরস) এবং Pollen (পরাগরেণু) সংগ্রহ করে।
❖ Nectar: ফুলের নিঃসৃত শর্করাসমৃদ্ধ তরল, যা মৌমাছির মধু উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল।
❖ Pollen: ফুলের পরাগরেণু, যা মৌমাছির জন্য প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
❖ মধু উৎপাদন: শ্রমিক মৌমাছি সংগৃহীত মধুরস প্রক্রিয়াজাত করে, এনজাইমের মাধ্যমে শর্করার পরিবর্তন ঘটায় এবং অতিরিক্ত পানি কমিয়ে মধু সংরক্ষণ করে।
❖ Beeswax: শ্রমিক মৌমাছির বিশেষ মোমগ্রন্থি থেকে উৎপন্ন পদার্থ, যা মৌচাকের খোপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
❖ মৌচাকের ষড়ভুজাকৃতি: মৌচাকের অনেক কোষ ষড়ভুজাকার। এই বিন্যাস স্থান ও মোমের কার্যকর ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক উদাহরণ।
❖ মৌমাছির পরাগায়নে ভূমিকা: শ্রমিক মৌমাছি ফুল থেকে খাদ্য সংগ্রহের সময় দেহে পরাগরেণু বহন করে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পৌঁছে দিতে পারে।
❖ Entomophily: কীটপতঙ্গের সাহায্যে পরাগায়নকে Entomophily বলা হয়। মৌমাছি কীটপরাগায়নের গুরুত্বপূর্ণ বাহক।
❖ কৃষিতে মৌমাছির গুরুত্ব: ফল, সবজি, তৈলবীজ ও বিভিন্ন বাগান ফসলের পরাগায়ন, ফলধারণ, বীজ উৎপাদন ও গুণগত মান বজায় রাখতে মৌমাছি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
❖ Waggle Dance: শ্রমিক মৌমাছি খাদ্যের উৎসের অবস্থান সম্পর্কে অন্য শ্রমিকদের তথ্য দেওয়ার জন্য বিশেষ ধরনের নৃত্যসংকেত ব্যবহার করতে পারে।
❖ মৌমাছির আচরণ গবেষক: অস্ট্রীয় প্রাণিবিদ কার্ল ফন ফ্রিশ (Karl von Frisch) মৌমাছির যোগাযোগ ও নৃত্যসংকেত গবেষণার জন্য বিখ্যাত।
❖ নোবেল পুরস্কার: কার্ল ফন ফ্রিশ ১৯৭৩ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞান বা শারীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি কনরাড লরেঞ্জ ও নিকোলাস টিনবার্গেনের সঙ্গে যৌথভাবে পুরস্কারটি পান।
❖ Apiculture: মৌমাছি পালন ও মধু উৎপাদনসংক্রান্ত কৃষি ব্যবস্থাপনাকে এপিকালচার (Apiculture) বলা হয়।
❖ Apiary: মৌমাছি পালনের জন্য এক বা একাধিক মৌচাক বা কলোনি রাখার স্থানকে Apiary বলা হয়।
❖ Apiculturist: মৌমাছি পালন ও ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত ব্যক্তি বা বিশেষজ্ঞকে Apiculturist বলা হয়।
❖ বাংলাদেশে মৌমাছির গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি: Apis cerana, Apis dorsata, Apis florea এবং পালনক্ষেত্রে Apis mellifera গুরুত্বপূর্ণ।
❖ Apis cerana: এশীয় মধুমৌমাছি; বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যায়।
❖ Apis dorsata: বড় আকারের বুনো মধুমৌমাছি, যা সাধারণত উন্মুক্ত স্থানে বড় চাক তৈরি করে।
❖ Apis florea: অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের মধুমৌমাছি।
❖ Apis mellifera: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মৌপালনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি প্রজাতি।
❖ রানি মৌমাছির ডিম উৎপাদনে মৌসুমের প্রভাব: পর্যাপ্ত ফুল, মধুরস, পরাগরেণু ও অনুকূল তাপমাত্রা থাকলে কলোনি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং রানি বেশি ডিম পাড়তে পারে।
❖ খাদ্যসংকটের প্রভাব: খাদ্য ও পরিচর্যাকারী শ্রমিক মৌমাছির ঘাটতি হলে রানির ডিম উৎপাদন কমে যেতে পারে। তীব্র প্রতিকূলতায় ডিম পাড়া সাময়িকভাবে বন্ধও হতে পারে।
❖ পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: ১০০০টি ডিম হলো প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য পরীক্ষাভিত্তিক সংখ্যা, কিন্তু বিজ্ঞানসম্মতভাবে একটি সুস্থ রানি মৌমাছির দৈনিক ডিম উৎপাদন পরিবেশভেদে পরিবর্তিত হয় এবং অনুকূল অবস্থায় প্রায় ২০০০ বা তারও বেশি হতে পারে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ পরীক্ষার সঠিক উত্তর — ১০০০ বার।
➤ অর্থগতভাবে নির্ভুল বক্তব্য — প্রতিদিন প্রায় ১০০০টি ডিম।
➤ অনুকূল পরিবেশে রানি মৌমাছি — প্রতিদিন প্রায় ১০০০–২০০০টি ডিম পাড়তে পারে।
➤ সর্বোচ্চ উৎপাদনক্ষমতা — দিনে ২০০০টিরও বেশি ডিম হতে পারে।
➤ মৌচাকের প্রধান প্রজননক্ষম স্ত্রী — রানি মৌমাছি।
➤ মৌচাকে সাধারণত রানি থাকে — একটি।
➤ মৌমাছির তিন শ্রেণি — রানি, শ্রমিক ও পুরুষ।
➤ Queen Bee — রানি মৌমাছি।
➤ Worker Bee — শ্রমিক মৌমাছি।
➤ Drone Bee — পুরুষ মৌমাছি।
➤ পাশ্চাত্য মধুমৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম — Apis mellifera।
➤ রাজ্য — Animalia।
➤ পর্ব — Arthropoda।
➤ শ্রেণি — Insecta।
➤ বর্গ — Hymenoptera।
➤ পরিবার — Apidae।
➤ গণ — Apis।
➤ প্রজাতি — Apis mellifera।
➤ মৌমাছি — সামাজিক পতঙ্গ।
➤ উচ্চমাত্রার সামাজিক আচরণ — Eusociality।
➤ রানি মৌমাছির প্রধান কাজ — ডিম পাড়া।
➤ শ্রমিক মৌমাছি — স্ত্রী।
➤ পুরুষ মৌমাছি — Drone।
➤ শ্রমিক মৌমাছির কাজ — খাদ্য সংগ্রহ, পরিচর্যা ও মৌচাক রক্ষা।
➤ পুরুষ মৌমাছির প্রধান কাজ — রানির সঙ্গে মিলন।
➤ রানি মৌমাছির ডিম্বাশয়ের একক — Ovariole।
➤ নিষিক্ত ডিম থেকে — স্ত্রী মৌমাছি।
➤ অনিষিক্ত ডিম থেকে — পুরুষ মৌমাছি।
➤ Haplodiploidy — একগুণিত ও দ্বিগুণিত লিঙ্গনির্ধারণ ব্যবস্থা।
➤ Parthenogenesis — নিষেক ছাড়া ডিম থেকে জীবের বিকাশ।
➤ স্ত্রী মৌমাছির ক্রোমোজোম — 2n = ৩২।
➤ পুরুষ মৌমাছির ক্রোমোজোম — n = ১৬।
➤ Royal Jelly — রয়্যাল জেলি।
➤ রানির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য — রয়্যাল জেলি।
➤ Nurse Bee — লার্ভা পরিচর্যাকারী শ্রমিক মৌমাছি।
➤ Mating Flight — রানির প্রজনন উড্ডয়ন।
➤ Polyandry — একাধিক পুরুষের সঙ্গে মিলন।
➤ Spermatheca — শুক্রাণু সংরক্ষণকারী অঙ্গ।
➤ মৌমাছির জীবনচক্র — ডিম → লার্ভা → পিউপা → পূর্ণাঙ্গ।
➤ মৌমাছি — পূর্ণাঙ্গ রূপান্তর প্রদর্শন করে।
➤ Complete Metamorphosis — পূর্ণাঙ্গ রূপান্তর।
➤ ডিম থেকে লার্ভা — প্রায় ৩ দিন।
➤ রানি মৌমাছির বিকাশকাল — ১৬ দিন।
➤ শ্রমিক মৌমাছির বিকাশকাল — ২১ দিন।
➤ পুরুষ মৌমাছির বিকাশকাল — ২৪ দিন।
Advertisement
06
🎯 Level 1

২২. অক্টোপাসের হৃৎপিণ্ড কয়টি? (সমবায় অধিদপ্তরের মাঠ সহকারী: ১৮)

ক

১টি

খ

২টি

গ

৩টি

ঘ

৪টি

✅ সঠিক উত্তর:গ. ৩টি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ৩টি — অক্টোপাসের তিনটি হৃৎপিণ্ড রয়েছে।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ অক্টোপাসের তিনটি হৃৎপিণ্ড (Three Hearts) থাকে। এর মধ্যে দুটি ব্র্যাঙ্কিয়াল হৃদযন্ত্র (Branchial Hearts) এবং একটি সিস্টেমিক হৃদযন্ত্র (Systemic Heart)।
❖ Branchial Heart: ফুলকার দিকে রক্ত পাঠানোর জন্য বিশেষ হৃদযন্ত্র।
❖ Systemic Heart: অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে।
❖ দুটি ব্র্যাঙ্কিয়াল হৃদযন্ত্র: অক্টোপাসের দুটি ফুলকার সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলো রক্তকে ফুলকার দিকে পাঠাতে সহায়তা করে।
❖ একটি সিস্টেমিক হৃদযন্ত্র: ফুলকা থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে দেহের অন্যান্য অংশে পাঠায়।
❖ রক্তপ্রবাহের সরল পথ:
দেহের অক্সিজেন-কম রক্ত → Branchial Hearts → Gills → Systemic Heart → দেহের বিভিন্ন অংশ।
❖ অক্টোপাসের শ্বাসপ্রশ্বাস: সাধারণত ফুলকা (Gills) দিয়ে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে।
❖ অক্টোপাসের রক্তসংবহন: Closed Circulatory System বা বন্ধ রক্তসংবহনব্যবস্থা।
❖ অক্টোপাসের পর্ব: Mollusca।
❖ শ্রেণি: Cephalopoda।
❖ Mollusca-এর অন্য গোষ্ঠীর সঙ্গে পার্থক্য: মলাস্কা পর্বের অনেক প্রাণীতে উন্মুক্ত রক্তসংবহন থাকলেও Cephalopoda শ্রেণির প্রাণীতে বন্ধ রক্তসংবহনব্যবস্থা পাওয়া যায়।
❖ হিমোসায়ানিন (Hemocyanin): অক্টোপাসের রক্তে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তামাযুক্ত অক্সিজেন পরিবহনকারী প্রোটিন।
❖ হিমোসায়ানিনের বৈশিষ্ট্য: অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হলে এটি নীলাভ রং প্রদর্শন করতে পারে।
❖ মানুষের রক্তের সঙ্গে পার্থক্য: মানুষের রক্তে হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) থাকে, যার অক্সিজেন পরিবহনকারী অংশে লোহা রয়েছে।
❖ হিমোগ্লোবিন: মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় থাকা লোহাযুক্ত অক্সিজেন পরিবহনকারী প্রোটিন।
❖ অক্টোপাসের শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন: ফুলকায় কার্যকর গ্যাস বিনিময় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহের জন্য জটিল রক্তসংবহনব্যবস্থা রয়েছে।
❖ অক্টোপাসের চলন: বাহুর সাহায্যে হামাগুড়ি ও সাইফন থেকে পানি বের করে দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে।
❖ জেট প্রপালশনের শক্তি ব্যয়: দ্রুত সাঁতার কাটার সময় উল্লেখযোগ্য শক্তি প্রয়োজন হয়; অক্টোপাসের শারীরবৃত্তীয় সামর্থ্য ও অক্সিজেন সরবরাহ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ স্কুইড ও কাটলফিশ: অক্টোপাসের মতো Cephalopoda শ্রেণির প্রাণী। এদের রক্তসংবহনব্যবস্থাতেও বিশেষ ব্র্যাঙ্কিয়াল ও সিস্টেমিক হৃদযন্ত্র রয়েছে।
❖ অক্টোপাসের আট বাহু ও তিন হৃদযন্ত্র: দুটি তথ্য আলাদা মনে রাখতে হবে। প্রথমটি চলন ও শিকার ধরার অঙ্গসংখ্যা; দ্বিতীয়টি রক্তসংবহনতন্ত্রের হৃদযন্ত্রসংখ্যা।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ অক্টোপাসের হৃৎপিণ্ড — ৩টি।
➤ Octopus — Three Hearts।
➤ Branchial Hearts — ২টি।
➤ Systemic Heart — ১টি।
➤ Branchial Heart — ফুলকায় রক্ত পাঠায়।
➤ Systemic Heart — দেহে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পাঠায়।
➤ অক্টোপাসের ফুলকা — ২টি।
➤ অক্টোপাসের রক্তসংবহন — Closed Circulatory System।
➤ অক্টোপাসের অক্সিজেন পরিবহনকারী রঞ্জক — Hemocyanin।
➤ Hemocyanin — তামাযুক্ত।
➤ Hemoglobin — লোহাযুক্ত।
➤ অক্টোপাসের পর্ব — Mollusca।
➤ অক্টোপাসের শ্রেণি — Cephalopoda।
➤ অক্টোপাসের বাহু — ৮টি।
➤ অক্টোপাসের হৃৎপিণ্ড — ৩টি।
➤ অক্টোপাসের চলন — Arms ও Jet Propulsion।
07
🎯 Level 1

২৬. জলজ শামুক, ঝিনুকের খোলস কী দিয়ে গঠিত? (দুদকের সহকারী পরিচালক: ১৩ / বিআরডিবি’র মিটার রিডার: ২৪)

ক

ক্যালসিয়াম কার্বনেট

খ

পটাশিয়াম সালফেট

গ

ক্যালসিয়াম ফসফেট

ঘ

পটাশিয়াম নাইট্রেট

✅ সঠিক উত্তর:ক. ক্যালসিয়াম কার্বনেট

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ক্যালসিয়াম কার্বনেট (Calcium Carbonate — CaCO₃)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শামুক ও ঝিনুকের খোলসের প্রধান খনিজ উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট। এর সঙ্গে বিভিন্ন জৈব প্রোটিন এবং খোলস গঠনে সহায়ক অন্যান্য উপাদান থাকে।
❖ ক্যালসিয়াম কার্বনেটের সংকেত: CaCO₃।
❖ জলজ শামুক: সাধারণত Mollusca পর্বের Gastropoda শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
❖ ঝিনুক: সাধারণত Mollusca পর্বের Bivalvia শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
❖ মলাস্ক (Mollusc): নরমদেহী অমেরুদণ্ডী প্রাণীর একটি বৃহৎ পর্ব।
❖ খোলসের কাজ: নরম দেহকে সুরক্ষা দেওয়া, শিকারির আক্রমণ প্রতিরোধ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কমানো।
❖ Mantle: শামুক-ঝিনুকের দেহে উপস্থিত বিশেষ টিস্যু, যা খোলস তৈরির খনিজ ও জৈব উপাদান নিঃসরণ করে।
❖ খোলসের খনিজ রূপ: ক্যালসিয়াম কার্বনেট Calcite ও Aragonite স্ফটিকরূপে থাকতে পারে।
❖ Calcite: ক্যালসিয়াম কার্বনেটের একটি স্থিতিশীল স্ফটিকীয় রূপ।
❖ Aragonite: ক্যালসিয়াম কার্বনেটের আরেকটি স্ফটিকীয় রূপ।
❖ Conchiolin: খোলসে উপস্থিত প্রোটিনজাতীয় জৈব পদার্থ, যা খনিজ স্তরগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকে।
❖ খোলসের বৃদ্ধি: প্রাণী বড় হওয়ার সঙ্গে Mantle নতুন খোলসীয় উপাদান নিঃসরণ করে।
❖ শামুকের খোলস: অনেক শামুকের খোলস সর্পিলাকৃতির হয়।
❖ ঝিনুকের খোলস: সাধারণত দুটি ভাল্‌ভ বা অর্ধখোলস দিয়ে গঠিত।
❖ মুক্তার সঙ্গে সম্পর্ক: মুক্তাতেও Calcium Carbonate ও জৈব পদার্থ থাকে। তবে মুক্তা এবং বাহ্যিক খোলসের গঠনগত বিন্যাস এক নয়।
❖ সামুদ্রিক অম্লায়ন: সমুদ্রের পানিতে CO₂ বৃদ্ধি পেয়ে অম্লতার পরিবর্তন ঘটলে অনেক খোলসযুক্ত প্রাণীর খোলস তৈরির প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে।
❖ মৃত শামুক-ঝিনুকের খোলস: সময়ের সঙ্গে খোলস ভেঙে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় তলানিতে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের অংশ হিসেবে জমা হতে পারে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ শামুক-ঝিনুকের খোলস — Calcium Carbonate।
➤ সংকেত — CaCO₃।
➤ শামুকের পর্ব — Mollusca।
➤ শামুকের শ্রেণি — Gastropoda।
➤ ঝিনুকের শ্রেণি — Bivalvia।
➤ খোলস উৎপাদনকারী টিস্যু — Mantle।
➤ Calcite — CaCO₃-এর স্ফটিকরূপ।
➤ Aragonite — CaCO₃-এর স্ফটিকরূপ।
➤ Conchiolin — খোলসের জৈব উপাদান।
➤ মুক্তার প্রধান খনিজ — Calcium Carbonate।
➤ Nacre — মুক্তার চকচকে স্তর।
➤ খোলসের প্রধান কাজ — দেহের সুরক্ষা।
08
🎯 Level 1

৩০. সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী কোনটি? (প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী ইন্সট্রাক্টর: ১২)

ক

রাইনোস

খ

হাতি

গ

নীল তিমি

ঘ

গন্ডার

✅ সঠিক উত্তর:গ. নীল তিমি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: নীল তিমি (Blue Whale)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ নীল তিমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী এবং ওজনের হিসাবে পরিচিত সবচেয়ে বড় প্রাণী।
❖ ইংরেজি নাম: Blue Whale।
❖ বৈজ্ঞানিক নাম: Balaenoptera musculus।
❖ শ্রেণিবিন্যাস: Animalia রাজ্য, Chordata পর্ব, Mammalia শ্রেণি।
❖ পরিবার: Balaenopteridae।
❖ পূর্ণবয়স্ক নীল তিমির দৈর্ঘ্য: সাধারণত প্রায় ২০–৩০ মিটার, যদিও আরও বড় ঐতিহাসিক নমুনা নথিবদ্ধ হয়েছে।
❖ ওজন: পূর্ণবয়স্ক বড় নীল তিমির ওজন প্রায় ১৬০ মেট্রিক টন হতে পারে; ব্যতিক্রমী নমুনায় আরও বেশি রেকর্ড রয়েছে।
❖ Guinness World Records-এর নথি: ১৯৪৭ সালে দক্ষিণ মহাসাগরে ধরা একটি স্ত্রী নীল তিমির ওজন ১৯০ মেট্রিক টন নথিবদ্ধ রয়েছে।
❖ নীল তিমি মাছ নয়: পানিতে বসবাস করলেও এটি স্তন্যপায়ী প্রাণী।
❖ শ্বাসপ্রশ্বাস: ফুলকার পরিবর্তে ফুসফুসের সাহায্যে বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
❖ Blowhole: তিমির মাথার ওপর অবস্থিত শ্বাসপ্রশ্বাসের বিশেষ ছিদ্র।
❖ নীল তিমির Blowhole: Baleen Whale হওয়ায় সাধারণত দুটি শ্বাসছিদ্র থাকে।
❖ খাদ্য: প্রধানত Krill নামের ক্ষুদ্র চিংড়িসদৃশ সামুদ্রিক প্রাণী।
❖ Baleen Plate: মুখে উপস্থিত বিশেষ ছাঁকনিযুক্ত গঠন, যার সাহায্যে পানি থেকে খাদ্য পৃথক করে।
❖ দাঁত: নীল তিমি দাঁতযুক্ত তিমির মতো দাঁত দিয়ে শিকার ধরে না; Baleen Plate ব্যবহার করে খাদ্য গ্রহণ করে।
❖ প্রজনন: জীবন্ত বাচ্চা প্রসব করে এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায়।
❖ হৃৎপিণ্ড: নীল তিমির হৃৎপিণ্ড অত্যন্ত বড় এবং চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
❖ সবচেয়ে বড় স্থলজ প্রাণী: আফ্রিকান হাতি; তবে এটি নীল তিমির চেয়ে অনেক ছোট।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী — নীল তিমি।
➤ সবচেয়ে ভারী পরিচিত প্রাণী — নীল তিমি।
➤ ইংরেজি নাম — Blue Whale।
➤ বৈজ্ঞানিক নাম — Balaenoptera musculus।
➤ পরিবার — Balaenopteridae।
➤ শ্রেণি — Mammalia।
➤ দৈর্ঘ্য — সাধারণত ২০–৩০ মিটার।
➤ বড় নীল তিমির ওজন — প্রায় ১৬০ টন।
➤ নথিবদ্ধ ভারী নমুনা — ১৯০ টন।
➤ প্রধান খাদ্য — Krill।
➤ খাদ্য ছাঁকার অঙ্গ — Baleen Plate।
➤ শ্বাসপ্রশ্বাস — ফুসফুস।
➤ শ্বাসছিদ্র — Blowhole।
➤ সবচেয়ে বড় স্থলজ প্রাণী — আফ্রিকান হাতি।
Advertisement
09
🎯 Level 1

৩৪. কোন প্রাণী জীবনে একবারও পানি পান করে না? (উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার: ৯৯)

ক

ময়াল সাপ

খ

ক্যাঙ্গারু র‍্যাট

গ

বাদুড়

ঘ

কাঠবিড়ালী

✅ সঠিক উত্তর:খ. ক্যাঙ্গারু র‍্যাট

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ক্যাঙ্গারু র‍্যাট (Kangaroo Rat) — সাধারণ প্রাকৃতিক জীবনযাপনে সরাসরি পানি না খেয়েও বাঁচতে সক্ষম।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ক্যাঙ্গারু র‍্যাট মরুভূমির পরিবেশে এমনভাবে অভিযোজিত, যে এটি সাধারণত সরাসরি পানি পান না করেও বেঁচে থাকতে পারে। খাদ্য থেকে প্রাপ্ত পানি ও বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন পানি এর প্রয়োজন মেটায়।
❖ ক্যাঙ্গারু র‍্যাট: মরুভূমির ছোট আকারের ইঁদুরসদৃশ স্তন্যপায়ী প্রাণী।
❖ বৈজ্ঞানিক গণ: Dipodomys।
❖ পরিবার: Heteromyidae।
❖ আবাসস্থল: উত্তর আমেরিকার শুষ্ক ও মরুভূমি অঞ্চল।
❖ ক্যাঙ্গারু নামের কারণ: শক্তিশালী পেছনের পা ব্যবহার করে লাফিয়ে চলার কারণে এর নাম Kangaroo Rat।
❖ খাদ্যাভ্যাস: প্রধানত শস্যবীজ, ঘাসের বীজ ও বিভিন্ন শুষ্ক উদ্ভিজ্জ উপাদান।
❖ Metabolic Water: খাদ্যের শর্করা, চর্বি বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান বিপাকের ফলে শরীরে যে পানি উৎপন্ন হয়, তাকে বিপাকীয় পানি বলে।
❖ বিপাকীয় পানির গুরুত্ব: ক্যাঙ্গারু র‍্যাট খাদ্য থেকে পাওয়া পানি ও বিপাকীয় পানির সাহায্যে পানির প্রয়োজন পূরণ করতে পারে।
❖ কিডনির অভিযোজন: অত্যন্ত ঘন প্রস্রাব তৈরি করে পানি ক্ষয় কমায়।
❖ মলত্যাগ: অপেক্ষাকৃত শুষ্ক মল উৎপন্ন করে পানি সংরক্ষণ করে।
❖ নাসারন্ধ্রের অভিযোজন: নিঃশ্বাসের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া জলীয় বাষ্পের কিছু অংশ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম।
❖ রাত্রিচর স্বভাব: অনেক ক্যাঙ্গারু র‍্যাট রাতে খাদ্য সংগ্রহ করে, ফলে দিনের অতিরিক্ত তাপ এড়াতে পারে।
❖ গর্তে বসবাস: মাটির নিচের তুলনামূলক শীতল ও আর্দ্র গর্ত পানিক্ষয় কমাতে সাহায্য করে।
❖ দেহের অভিযোজন: মরুভূমিতে বেঁচে থাকার জন্য আচরণগত ও শারীরবৃত্তীয় উভয় ধরনের অভিযোজন রয়েছে।
❖ বৈজ্ঞানিক সতর্কতা: ‘জীবনে কখনোই পানি পান করে না’ সব ক্যাঙ্গারু র‍্যাটের জন্য কঠোর নিয়ম নয়। কিছু প্রজাতি সুযোগ পেলে পানি পান করতে পারে, কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত মুক্ত পানি পান করা প্রয়োজন হয় না।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ পানি না খেয়েও বাঁচতে পারে — Kangaroo Rat।
➤ বৈজ্ঞানিক গণ — Dipodomys।
➤ পরিবার — Heteromyidae।
➤ শ্রেণি — Mammalia।
➤ আবাসস্থল — মরুভূমি।
➤ খাদ্য — প্রধানত বীজ।
➤ বিপাকীয় পানি — Metabolic Water।
➤ পানি উৎপন্ন হয় — খাদ্যের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায়।
➤ কিডনি — ঘন প্রস্রাব তৈরি করে।
➤ পানিক্ষয় কমাতে — নাসারন্ধ্রের বিশেষ অভিযোজন।
➤ ক্যাঙ্গারু র‍্যাট — প্রধানত রাত্রিচর।
➤ গর্তে বসবাস — পানিক্ষয় কমাতে সাহায্য করে।
10
🎯 Level 1

৩৬. কোন প্রাণী দাঁড়িয়ে ঘুমায়? (পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সহায়ক: ১৫)

ক

হাতি

খ

ঘোড়া

গ

ক্যাঙ্গারু

ঘ

উট

✅ সঠিক উত্তর:খ. ঘোড়া

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ঘোড়া (Horse)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ঘোড়া দাঁড়িয়ে হালকা ঘুম ও Slow-wave Sleep-এর কিছু পর্যায় সম্পন্ন করতে পারে। এর পায়ের বিশেষ পেশি, টেন্ডন ও লিগামেন্টের সমন্বিত ব্যবস্থা দেহকে দাঁড়ানো অবস্থায় স্থিতিশীল রাখে।
❖ ঘোড়ার বৈজ্ঞানিক নাম: Equus caballus; আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে Equus ferus caballus-ও ব্যবহৃত হয়।
❖ পরিবার: Equidae।
❖ শ্রেণি: Mammalia।
❖ বর্গ: Perissodactyla।
❖ Perissodactyla: বিজোড় সংখ্যক কার্যকর খুরবিশিষ্ট স্তন্যপায়ীদের বর্গ।
❖ Stay Apparatus: ঘোড়ার পায়ের বিশেষ যান্ত্রিক ব্যবস্থা, যা অপেক্ষাকৃত কম পেশিশক্তি ব্যবহার করে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে।
❖ পায়ের ভূমিকা: বিশেষ টেন্ডন ও লিগামেন্ট পায়ের সন্ধিগুলোকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
❖ ঘুমের ধরন: ঘোড়ার ঘুমের মধ্যে হালকা ঘুম, Slow-wave Sleep ও REM Sleep অন্তর্ভুক্ত।
❖ Slow-wave Sleep: ঘোড়া দাঁড়িয়ে এ ধরনের ঘুমের পর্যায়ে যেতে পারে।
❖ REM Sleep: সম্পূর্ণ REM ঘুমের জন্য ঘোড়ার সাধারণত শুয়ে থাকা প্রয়োজন হয়।
❖ REM-এর পূর্ণরূপ: Rapid Eye Movement।
❖ ঘোড়া কি সবসময় দাঁড়িয়ে ঘুমায়? না। ঘোড়া শুয়েও ঘুমায় এবং স্বাস্থ্যকর পূর্ণ ঘুমের জন্য শোয়ার সুযোগ প্রয়োজন।
❖ বিবর্তনগত সুবিধা: দাঁড়িয়ে বিশ্রাম বা হালকা ঘুমের ক্ষমতা শিকারির উপস্থিতিতে দ্রুত চলাচল শুরু করতে সাহায্য করতে পারে।
❖ হাতি: কিছু অবস্থায় দাঁড়িয়ে বিশ্রাম বা ঘুমাতে পারে। তাই দাঁড়িয়ে ঘুমানো একমাত্র ঘোড়ার বৈশিষ্ট্য নয়।
❖ ক্যাঙ্গারু: সাধারণত শুয়ে বা বিশ্রামের ভঙ্গিতে ঘুমায়।
❖ উট: দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিতে পারে, কিন্তু সাধারণভাবে ঘুমের জন্য শুয়ে থাকে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ দাঁড়িয়ে ঘুমানোর পরিচিত প্রাণী — ঘোড়া।
➤ বৈজ্ঞানিক নাম — Equus caballus।
➤ পরিবার — Equidae।
➤ বর্গ — Perissodactyla।
➤ দাঁড়িয়ে থাকার বিশেষ ব্যবস্থা — Stay Apparatus।
➤ Slow-wave Sleep — দাঁড়িয়ে হতে পারে।
➤ REM — Rapid Eye Movement।
➤ REM Sleep-এর জন্য ঘোড়া — সাধারণত শুয়ে থাকে।
➤ ঘোড়া — স্তন্যপায়ী।
➤ ঘোড়া — তৃণভোজী।
➤ হাতিও — দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিতে পারে।
➤ ঘোড়া সব ঘুম দাঁড়িয়ে সম্পন্ন করে না।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন