🧠 🔖
👑 Premium Topic

আবহাওয়া, জলবায়ুর উপাদান ও ষড়ঋতুর বাংলাদেশ

◉ ভূগোল›আবহাওয়া, জলবায়ুর উপাদান ও ষড়ঋতুর বাংলাদেশ

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚87মোট প্রশ্ন
🎯5মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০২. জলবায়ু নির্ণয়ে কোনটি অপ্রয়োজনীয়? (যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক: ১৪)

ক

অক্ষরেখা

খ

স্থানীয় উচ্চতা

গ

তুষার রেখা

ঘ

দ্রাঘিমা রেখা

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. দ্রাঘিমা রেখা

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: দ্রাঘিমা রেখা (Longitude)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কোনো স্থানের জলবায়ু নির্ধারণে প্রধানত অক্ষাংশ, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত ও ভূপ্রকৃতির ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু দ্রাঘিমারেখা সরাসরি তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা বা বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে না।
দ্রাঘিমারেখা মূলত পৃথিবীর কোনো স্থানের পূর্ব–পশ্চিম অবস্থান ও স্থানীয় সৌরসময় নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়। তাই প্রদত্ত চারটি বিকল্পের মধ্যে জলবায়ু নির্ণয়ে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে দ্রাঘিমারেখা সবচেয়ে যথাযথ উত্তর।
ভারতের NCERT-এর ভূগোল পাঠ্যবইয়ে জলবায়ুর ছয়টি প্রধান নিয়ামক হিসেবে অক্ষাংশ, উচ্চতা, বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, সমুদ্রস্রোত এবং ভূপ্রকৃতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে দ্রাঘিমারেখাকে স্বতন্ত্র জলবায়ু নিয়ামক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
এখানে একটি বৈজ্ঞানিক বিষয় মনে রাখতে হবে: তুষাররেখাও জলবায়ুর মৌলিক নিয়ামক নয়; বরং তাপমাত্রা ও তুষারপাতের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থার একটি নির্দেশক। তবে পাহাড়ি অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য বুঝতে তুষাররেখার অবস্থান কাজে লাগে। এই কারণেই পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর দ্রাঘিমারেখা।
✦ অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার পার্থক্য
অক্ষরেখা (Latitude)
বিষুবরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণের কৌণিক দূরত্ব বোঝায়। সূর্যের রশ্মি পড়ার কোণ ও সৌরশক্তি প্রাপ্তির সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
দ্রাঘিমারেখা (Longitude)
মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমের কৌণিক দূরত্ব বোঝায়। ভৌগোলিক অবস্থান ও স্থানীয় সৌরসময় নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
অক্ষরেখার কারণে সাধারণভাবে নিরক্ষীয় অঞ্চল বেশি সৌরশক্তি এবং মেরু অঞ্চল তুলনামূলক কম সৌরশক্তি পায়। অন্যদিকে একই দ্রাঘিমারেখার ওপর নিরক্ষীয়, নাতিশীতোষ্ণ ও মেরু অঞ্চলের মতো ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ু থাকতে পারে।
অতএব, অক্ষাংশ জলবায়ুর সরাসরি নিয়ামক হলেও দ্রাঘিমাংশ নিজে কোনো স্বতন্ত্র জলবায়ু নিয়ামক নয়।
✦ জলবায়ু বলতে কী বোঝায়?
কোনো স্থানের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ এবং অন্যান্য আবহাওয়াগত উপাদানের দীর্ঘমেয়াদি গড় অবস্থা ও পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যকে জলবায়ু (Climate) বলা হয়।
সাধারণত ৩০ বছরের আবহাওয়াগত তথ্যের ভিত্তিতে জলবায়ুর স্বাভাবিক অবস্থা বা Climate Normals নির্ণয় করা হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) ও যুক্তরাষ্ট্রের NOAA এ ক্ষেত্রে ৩০ বছরের মানদণ্ড ব্যবহার করে।
✦ জলবায়ু নির্ধারণের প্রধান নিয়ামকসমূহ
নিয়ামক | জলবায়ুর ওপর প্রভাব
অক্ষাংশ (Latitude) | সূর্যের রশ্মির পতনকোণ ও প্রাপ্ত সৌরশক্তিকে প্রভাবিত করে
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা (Altitude) | উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণত তাপমাত্রা কমে
সমুদ্র থেকে দূরত্ব | উপকূলীয় ও মহাদেশীয় জলবায়ুর পার্থক্য সৃষ্টি করে
বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহ | তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনকে প্রভাবিত করে
সমুদ্রস্রোত | উষ্ণ ও শীতল স্রোত উপকূলীয় জলবায়ু পরিবর্তন করতে পারে
ভূপ্রকৃতি ও পর্বতমালা | বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল এবং পার্বত্য বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করতে পারে
NASA এবং NCERT-এর শিক্ষামূলক তথ্যসূত্রে জলবায়ু নির্ধারণে এসব ভৌগোলিক নিয়ামকের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
+1
✦ অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার তুলনামূলক পার্থক্য
বৈশিষ্ট্য | অক্ষরেখা | দ্রাঘিমারেখা
ইংরেজি | Latitude | Longitude
ভিত্তি | বিষুবরেখা | মূল মধ্যরেখা
পরিমাপের দিক | উত্তর–দক্ষিণ | পূর্ব–পশ্চিম
সীমা | ০°–৯০° উত্তর বা দক্ষিণ | ০°–১৮০° পূর্ব বা পশ্চিম
রেখার প্রকৃতি | পরস্পর সমান্তরাল | মেরুতে মিলিত হয়
জলবায়ুর সঙ্গে সম্পর্ক | প্রত্যক্ষ | স্বতন্ত্র প্রত্যক্ষ নিয়ামক নয়
প্রধান গুরুত্ব | অবস্থান ও সৌরশক্তির আঞ্চলিক পার্থক্য | অবস্থান ও স্থানীয় সৌরসময় নির্ণয়
অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের মৌলিক সংজ্ঞা এবং সময় নির্ণয়ে দ্রাঘিমাংশের ব্যবহার সম্পর্কে Royal Museums Greenwich-এর তথ্যসূত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে।
✦ তুষাররেখা কী এবং জলবায়ুর সঙ্গে এর সম্পর্ক কী?
তুষাররেখা (Snow Line) হলো পাহাড়ি বা মেরু অঞ্চলে তুষারাবৃত ও তুষারমুক্ত পৃষ্ঠের মধ্যকার সীমারেখা। স্থায়ী তুষাররেখার ওপর সাধারণত সারা বছর তুষার টিকে থাকে।
তুষাররেখার অবস্থান নির্ভর করে তাপমাত্রা, তুষারপাত, সূর্যালোক, উচ্চতা ও স্থানীয় পরিবেশগত অবস্থার ওপর।
পর্বতের তুষারাবৃত ও তুষারমুক্ত অংশের মধ্যবর্তী সীমা থেকে তুষাররেখার ধারণা পাওয়া যায়।
বিশেষত উষ্ণ অঞ্চলে স্থায়ী তুষাররেখা অনেক উঁচুতে থাকতে পারে; শীতল অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত নিচু উচ্চতায়ও দীর্ঘস্থায়ী তুষার পাওয়া যায়।
National Snow and Ice Data Center (NSIDC) তুষাররেখাকে ভূমি বা হিমবাহপৃষ্ঠে তুষার থাকার নিম্নতম উচ্চতার সঙ্গে সম্পর্কিত করে সংজ্ঞায়িত করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: অক্ষাংশ ও উচ্চতা জলবায়ুর নিয়ামক, কিন্তু তুষাররেখা প্রধানত জলবায়ুর নির্দেশক। অর্থাৎ তুষাররেখা দেখে কোনো অঞ্চলের শীতলতা ও তুষার পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা করা যায়, কিন্তু তুষাররেখা নিজে জলবায়ু নির্ধারণের মৌলিক কারণ নয়।
✦ দ্রাঘিমারেখা কেন সঠিক উত্তর?
পৃথিবীর কোনো স্থানের দ্রাঘিমাংশ জানা থাকলে মূল মধ্যরেখা থেকে তার পূর্ব-পশ্চিম অবস্থান এবং স্থানীয় সৌরসময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।
পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে প্রায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০° ঘূর্ণন সম্পন্ন করে।
তাই—
১৫°
দ্রাঘিমার পার্থক্য
১ ঘণ্টা
১°
দ্রাঘিমার পার্থক্য
৪ মিনিট
এটি স্থানীয় সৌরসময়ের হিসাব, দেশের প্রচলিত মানসময়ের পার্থক্য নয়।
এই হিসাব থেকে সময়ের পার্থক্য বোঝা যায়; কিন্তু শুধু দ্রাঘিমাংশের পার্থক্য দিয়ে কোনো স্থানের তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নির্ণয় করা যায় না।
উদাহরণস্বরূপ, একই দ্রাঘিমারেখার ওপর অবস্থিত দুটি জায়গার একটি বিষুবরেখার কাছে এবং অন্যটি মেরু অঞ্চলের কাছে হতে পারে। তাদের দ্রাঘিমাংশ একই হলেও জলবায়ু সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. অক্ষরেখা ⇒ ভুল। অক্ষাংশ জলবায়ু নির্ধারণের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। পৃথিবীর বিভিন্ন অক্ষাংশে সূর্যের রশ্মি ভিন্ন কোণে পতিত হয়। ফলে সৌরশক্তির বিস্তার ও তাপমাত্রার পার্থক্য তৈরি হয়। বিষুবরেখার নিকটবর্তী অঞ্চল সাধারণত বেশি উষ্ণ এবং মেরু অঞ্চল তুলনামূলক শীতল। NASA-এর তথ্য অনুযায়ী অক্ষাংশ ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান কারণ।
❖ খ. স্থানীয় উচ্চতা ⇒ ভুল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কোনো স্থানের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণত তাপমাত্রা কমে। আদর্শ পরিবেশগত হ্রাসহার অনুযায়ী উচ্চতা প্রতি ১,০০০ মিটার বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ৬.৫° সেলসিয়াস হ্রাস পায়। তবে প্রকৃত হ্রাসহার স্থান ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই স্থানীয় উচ্চতা জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
❖ গ. তুষার রেখা ⇒ প্রচলিত পরীক্ষার উত্তর নয়। তুষাররেখার অবস্থান কোনো অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শীতলতা, তুষারপাত ও তুষার গলনের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেয়। এটি জলবায়ু সম্পর্কে তথ্য দেয়, তবে স্বতন্ত্র মৌলিক জলবায়ু নিয়ামক নয়। তাই পরীক্ষার প্রচলিত যুক্তিতে এটি দ্রাঘিমারেখার তুলনায় বেশি প্রাসঙ্গিক।
❖ ঘ. দ্রাঘিমা রেখা ⇒ সঠিক। দ্রাঘিমারেখা পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম অবস্থান ও স্থানীয় সৌরসময় নির্ণয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। এটি নিজে সৌরশক্তি প্রাপ্তির অক্ষাংশভিত্তিক পার্থক্য, তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতের স্বতন্ত্র নিয়ামক নয়। তাই প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর দ্রাঘিমারেখা।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন | উত্তর
জলবায়ু নির্ণয়ে অপ্রয়োজনীয় কোনটি? | দ্রাঘিমারেখা
জলবায়ুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নিয়ামকগুলোর একটি কী? | অক্ষাংশ
অক্ষাংশের ইংরেজি কী? | Latitude
দ্রাঘিমাংশের ইংরেজি কী? | Longitude
অক্ষাংশ পরিমাপের মূল রেখা কোনটি? | বিষুবরেখা
দ্রাঘিমাংশ পরিমাপের মূল রেখা কোনটি? | গ্রিনিচ মধ্যরেখা
বিষুবরেখার অক্ষাংশ কত? | ০°
মূল মধ্যরেখার দ্রাঘিমাংশ কত? | ০°
সর্বোচ্চ অক্ষাংশ কত? | ৯০° উত্তর বা দক্ষিণ
সর্বোচ্চ দ্রাঘিমাংশ কত? | ১৮০° পূর্ব বা পশ্চিম
১৫° দ্রাঘিমার পার্থক্যে স্থানীয় সৌরসময়ের পার্থক্য কত? | ১ ঘণ্টা
১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে স্থানীয় সৌরসময়ের পার্থক্য কত? | ৪ মিনিট
উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণত কী কমে? | তাপমাত্রা
আদর্শ পরিবেশগত তাপমাত্রা হ্রাসহার কত? | প্রায় ৬.৫°C/কিমি
তুষাররেখার ইংরেজি কী? | Snow Line
স্থায়ী তুষাররেখার ইংরেজি কী? | Permanent Snow Line
সমুদ্র থেকে দূরত্বের জলবায়ুগত প্রভাবকে কী বলে? | Continentality
বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলের ইংরেজি কী? | Rain Shadow Area
জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি স্বাভাবিক অবস্থা নির্ণয়ের প্রচলিত সময়কাল কত? | ৩০ বছর
আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার সংক্ষিপ্ত রূপ কী? | WMO"
02
🎯 Level 1

০৬. বায়ু প্রবাহিত হয়— (প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী কাস্টডিয়ান: ২৩)

ক

উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে

খ

নিম্নচাপের স্থান থেকে উচ্চ চাপের দিকে

গ

দক্ষিণ থেকে উত্তরের দিকে

ঘ

উচ্চ চাপের স্থান থেকে নিম্নচাপের দিকে

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. উচ্চ চাপের স্থান থেকে নিম্নচাপের দিকে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ঘ. উচ্চ চাপের স্থান থেকে নিম্নচাপের দিকে
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বায়ুর মৌলিক চালিকাশক্তি হলো Pressure Gradient Force। এটি উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ক্রিয়াশীল। NOAA-ও স্পষ্টভাবে বলে, pressure-gradient force air-কে high pressure থেকে low pressure-এর দিকে ঠেলে দেয়।
❖ তবে বাস্তবে বাতাস সাধারণত সরলরেখায় high → low চলে না। পৃথিবীর আবর্তনের কারণে Coriolis force তাকে বাঁকিয়ে দেয়।
➤ উত্তর গোলার্ধে চলমান বায়ু ডানদিকে বেঁকে যায়।
➤ দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ উত্তর → দক্ষিণ বা দক্ষিণ → উত্তর বায়ুর সর্বজনীন নিয়ম নয়।
❖ নিম্নচাপ → উচ্চচাপ pressure-gradient force-এর বিপরীত।
Advertisement
03
🎯 Level 1

১০. মৌসুমি বায়ু সৃষ্টির মূল কারণ হলো— (টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের হিসাব নিরীক্ষক: ০৩)

ক

আহ্নিক গতি

খ

নিয়ত বায়ুর প্রভাব

গ

বায়ুচাপের তারতম্য

ঘ

উত্তর আয়ন ও দক্ষিণ আয়ন

✅ সঠিক উত্তর:গ. বায়ুচাপের তারতম্য

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: বায়ুচাপের তারতম্য।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মৌসুমি বায়ু (Monsoon Wind) হলো এমন একটি বায়ুপ্রবাহ, যা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রধানত প্রবাহের দিক পরিবর্তন করে। মৌসুমি বায়ু সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো স্থলভাগ ও জলভাগের অসম উত্তাপের ফলে বায়ুচাপের পার্থক্য সৃষ্টি হওয়া।
সূর্যের তাপে স্থলভাগ ও জলভাগ সমানভাবে উত্তপ্ত হয় না। স্থলভাগ সাধারণত জলভাগের তুলনায় দ্রুত উত্তপ্ত ও শীতল হয়। ফলে গ্রীষ্মকালে স্থলভাগের ওপর নিম্নচাপ এবং তুলনামূলক শীতল সমুদ্রের ওপর উচ্চচাপ সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
বায়ু সাধারণত উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে গ্রীষ্মকালে সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে আর্দ্র বায়ু প্রবাহিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
অন্যদিকে শীতকালে স্থলভাগ দ্রুত শীতল হয়ে তুলনামূলক উচ্চচাপ অঞ্চল সৃষ্টি করে। তখন বায়ু প্রধানত স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়।
এই ঋতুভিত্তিক বায়ুচাপের পার্থক্য এবং তার ফলে সৃষ্ট বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনই মৌসুমি বায়ুর মূল বৈশিষ্ট্য।
তবে আধুনিক আবহাওয়াবিজ্ঞানে মৌসুমি বায়ুর ব্যাখ্যায় শুধু স্থল ও সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্য নয়; আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল (ITCZ), মৌসুমি চাপবলয়, পৃথিবীর ঘূর্ণন এবং বৃহৎ পরিসরের বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
✦ সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ন কী?
❖ প্রথম পর্যায়—পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান:
পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষ তার কক্ষপথের লম্বের সঙ্গে প্রায় ২৩.৫° কোণে হেলানো। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করার সময় এই হেলানো অবস্থানের কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যালোকের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়।
❖ দ্বিতীয় পর্যায়—সূর্যের উত্তরায়ণ:
সূর্যের লম্ব কিরণপাতের স্থান দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে ক্রমে উত্তর গোলার্ধের দিকে সরে যাওয়ার আপাত গতিকে উত্তরায়ণ বলা হয়।
এই সময় উত্তর গোলার্ধে সূর্যতাপ বাড়তে থাকে। এশিয়ার বৃহৎ স্থলভাগ উত্তপ্ত হয়ে নিম্নচাপ অঞ্চল সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
❖ তৃতীয় পর্যায়—সূর্যের দক্ষিণায়ন:
সূর্যের লম্ব কিরণপাতের স্থান উত্তর গোলার্ধ থেকে দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে সরে যাওয়ার আপাত গতিকে দক্ষিণায়ন বলা হয়।
এ সময় উত্তর গোলার্ধে সূর্যতাপ ক্রমে কমে যায়। স্থলভাগ শীতল হয়ে উচ্চচাপ অঞ্চল গঠনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
❖ চতুর্থ পর্যায়—বায়ুচাপ বলয়ের স্থানান্তর:
সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের সঙ্গে পৃথিবীর তাপীয় নিরক্ষরেখা এবং আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল (ITCZ) ঋতুভেদে উত্তর ও দক্ষিণে সরে যায়।
এর ফলে বায়ুচাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহে মৌসুমি পরিবর্তন ঘটে।
✦ মৌসুমি বায়ু সৃষ্টির প্রক্রিয়া
মৌসুমি বায়ু সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি নিচের ধারাবাহিকতায় বোঝা যায়।
সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ন
ঋতুভেদে সৌর উত্তাপের পরিবর্তন
স্থলভাগ ও জলভাগের অসম উত্তাপ
বায়ুচাপের পার্থক্য ও চাপবলয়ের স্থানান্তর
মৌসুমি বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন
গ্রীষ্ম ও শীত ঋতুতে ভিন্ন বায়ুপ্রবাহ
এটি মৌসুমি বায়ুর একটি সরলীকৃত কার্যকারণচিত্র। বাস্তবে ITCZ-এর স্থানান্তর, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, হিমালয়–তিব্বত মালভূমি এবং উচ্চস্তরের বায়ুপ্রবাহও ভূমিকা রাখে।
✦ গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন মৌসুমি বায়ুর পার্থক্য
গ্রীষ্মে সমুদ্র থেকে স্থলে এবং শীতে স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে মৌসুমি বায়ু প্রবাহের সরলীকৃত চিত্র।
বিষয় | গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু | শীতকালীন মৌসুমি বায়ু
প্রধান দিক | দক্ষিণ-পশ্চিম | উত্তর-পূর্ব
স্থলভাগের অবস্থা | বেশি উত্তপ্ত | বেশি শীতল
স্থলভাগে বায়ুচাপ | তুলনামূলক নিম্নচাপ | তুলনামূলক উচ্চচাপ
সমুদ্রে বায়ুচাপ | স্থলের তুলনায় উচ্চচাপ | স্থলের তুলনায় নিম্নচাপ
বায়ুপ্রবাহ | সমুদ্র থেকে স্থল | স্থল থেকে সমুদ্র
জলীয় বাষ্প | সাধারণত বেশি | সাধারণত কম
বাংলাদেশের আবহাওয়া | আর্দ্র ও বৃষ্টিবহুল | শুষ্ক ও শীতল
প্রধান সময় | জুন–সেপ্টেম্বর | শীতকাল
বাংলাপিডিয়ার Monsoon নিবন্ধে দক্ষিণ এশিয়ার গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন মৌসুমি বায়ুর এই বিপরীতমুখী প্রবাহের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
✦ বাংলাদেশের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর ভূমিকা
❖ প্রথম বৈশিষ্ট্য—বর্ষাকালের বৃষ্টিপাত:
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প বহন করে আনে।
এই আর্দ্র বায়ু বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
❖ দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য—বৃষ্টিপাতের সময়কাল:
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জলবায়ুবিষয়ক প্রকাশনা অনুযায়ী মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রধান সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর।
এই সময়ে বাংলাদেশের বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের ৭০ শতাংশের বেশি সংঘটিত হয়।
❖ তৃতীয় বৈশিষ্ট্য—মৌসুমি বায়ুর আগমন:
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২০১৪ সালের প্রকাশনা অনুযায়ী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সাধারণত জুনের শুরুতে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং ক্রমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিস্তার লাভ করে।
❖ চতুর্থ বৈশিষ্ট্য—কৃষি উৎপাদন:
মৌসুমি বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের আমন ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ পঞ্চম বৈশিষ্ট্য—প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে অতিবৃষ্টি, নিম্নচাপ ও অন্যান্য আবহাওয়াগত অবস্থার সমন্বয়ে বন্যা, পাহাড়ি ঢল এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. আহ্নিক গতি ⇒ ভুল। পৃথিবী নিজ অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘূর্ণন করে। এই ঘূর্ণনকে আহ্নিক গতি বলা হয়। আহ্নিক গতির কারণে দিন–রাতের পরিবর্তন ঘটে এবং কোরিওলিস বলের মাধ্যমে বায়ুপ্রবাহের দিক প্রভাবিত হয়। কিন্তু মৌসুমি বায়ুর ঋতুভিত্তিক সৃষ্টির মূল কারণ হিসেবে আহ্নিক গতিকে ধরা হয় না।
❖ খ. নিয়ত বায়ুর প্রভাব ⇒ ভুল। নিয়ত বায়ু হলো পৃথিবীর প্রধান বায়ুচাপ বলয়গুলোর মধ্যে তুলনামূলক নিয়মিতভাবে প্রবাহিত বায়ু। আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু এর উদাহরণ। দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি প্রবাহে অবদান রাখে। তবে নিয়ত বায়ুর প্রভাব এককভাবে প্রশ্নটির মূল কারণ নয়।
❖ গ. বায়ুচাপের তারতম্য ⇒ বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক প্রত্যক্ষ কারণ, তবে প্রকাশিত প্রশ্নকীর উত্তর নয়। স্থলভাগ ও জলভাগে অসম উত্তাপের কারণে বায়ুচাপের পার্থক্য তৈরি হয়। এই চাপের পার্থক্যই বায়ুকে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত করে। বাংলাপিডিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের National Weather Service এই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে। কিন্তু ২০০৩ সালের প্রশ্নসমাধানে মূল ঋতুগত কারণ হিসেবে উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ প্রদত্ত ২০০৩ সালের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নকী অনুযায়ী মৌসুমি বায়ু সৃষ্টির মূল কারণ—সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ন।
❖ মৌসুমি বায়ুপ্রবাহের সরাসরি চালিকাশক্তি—বায়ুচাপের তারতম্য।
❖ মৌসুমি বায়ু সৃষ্টিতে প্রধান তাপীয় কারণ—স্থলভাগ ও জলভাগের অসম উত্তাপ।
❖ মৌসুমি বায়ুর ইংরেজি নাম—Monsoon Wind।
❖ Monsoon শব্দের উৎপত্তি—আরবি Mawsim শব্দ থেকে।
❖ Mawsim শব্দের অর্থ—ঋতু।
❖ ঋতুভেদে দিক পরিবর্তনকারী বায়ু—মৌসুমি বায়ু।
❖ উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ুর প্রধান দিক—দক্ষিণ-পশ্চিম।
❖ উত্তর গোলার্ধে শীতকালীন মৌসুমি বায়ুর প্রধান দিক—উত্তর-পূর্ব।
❖ বাংলাদেশে প্রধান বৃষ্টিবাহী মৌসুমি বায়ু—দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু।
❖ বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রধান সময়—জুন থেকে সেপ্টেম্বর।
❖ বাংলাদেশে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের ৭০ শতাংশের বেশি সংঘটিত হয়—প্রধান মৌসুমি বর্ষাকালে।
❖ গ্রীষ্মকালে এশিয়ার স্থলভাগে প্রধানত সৃষ্টি হয়—তাপীয় নিম্নচাপ।
❖ শীতকালে এশিয়ার শীতল স্থলভাগে প্রধানত সৃষ্টি হয়—উচ্চচাপ।
❖ বায়ু সাধারণত প্রবাহিত হয়—উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে।
❖ উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের সঙ্গে স্থানান্তরিত হয়—তাপীয় নিরক্ষরেখা ও ITCZ।
❖ ITCZ-এর পূর্ণরূপ—Intertropical Convergence Zone।
❖ পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষের হেলানো কোণ—প্রায় ২৩.৫°।
❖ সূর্যের উত্তরায়ণের সর্বোত্তরের সীমা—কর্কটক্রান্তি রেখা।
❖ সূর্যের দক্ষিণায়ণের সর্বদক্ষিণের সীমা—মকরক্রান্তি রেখা।
❖ কর্কটক্রান্তি রেখার অক্ষাংশ—প্রায় ২৩.৫° উত্তর।
❖ মকরক্রান্তি রেখার অক্ষাংশ—প্রায় ২৩.৫° দক্ষিণ।
❖ বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনে পৃথিবীর ঘূর্ণনের প্রভাব—কোরিওলিস বল।
❖ দক্ষিণ এশীয় মৌসুমি বায়ুর ওপর গুরুত্বপূর্ণ উচ্চভূমির প্রভাব—হিমালয় ও তিব্বত মালভূমি।
04
🎯 Level 1

১৩. চট্টগ্রাম গ্রীষ্মকালে দিনাজপুর অপেক্ষা শীতল এবং শীতকালে উষ্ণ থাকে— (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১০)

ক

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে

খ

সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে

গ

স্থলবায়ুর প্রভাবে

ঘ

অয়ন বায়ুর প্রভাবে

✅ সঠিক উত্তর:খ. সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: খ. সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ চট্টগ্রাম বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী উপকূলীয় অঞ্চল, কিন্তু দিনাজপুর বাংলাদেশের অভ্যন্তরভাগে অবস্থিত। ফলে চট্টগ্রামে maritime বা সামুদ্রিক প্রভাব বেশি।
❖ পানির specific heat capacity স্থলের তুলনায় বেশি; তাই সমুদ্র গ্রীষ্মে ধীরে উষ্ণ এবং শীতে ধীরে শীতল হয়। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে—
➤ গ্রীষ্ম তুলনামূলক কম গরম,
➤ শীত তুলনামূলক কম ঠান্ডা,
➤ বার্ষিক তাপমাত্রার পরিসর কম হয়।
❖ UCAR-এর জলবায়ু শিক্ষাসামগ্রীতেও উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের প্রভাবে inland এলাকার তুলনায় cooler summers and warmer winters দেখা যায় বলে উল্লেখ আছে। Center for Science Education
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ মৌসুমি বায়ু ⇒ বাংলাদেশে ঋতু ও বৃষ্টিপাতে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু চট্টগ্রাম-দিনাজপুরের তাপমাত্রার পার্থক্যের প্রধান কারণ নয়।
❖ স্থলবায়ু ⇒ রাতে স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে বয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি তাপমাত্রা সাম্যকরণের প্রধান কারণ নয়।
❖ অয়ন বায়ু ⇒ Trade wind; এই তুলনার প্রত্যক্ষ কারণ নয়।
05
🎯 Level 1

১৮. বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির কত শতাংশ সূর্য হতে আসে? (ডাক বিভাগের পোস্টাল অপারেটর: ২৩; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিনটেনডেন্ট: ২৪)

ক

৯৭.৮৯%

খ

৯৮.৭৫%

গ

৯৯.৯৭%

ঘ

৯৯.৯৯%

✅ সঠিক উত্তর:গ. ৯৯.৯৭%

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: গ. ৯৯.৯৭%
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ পৃথিবীর climate system-এর কার্যকর শক্তির প্রায় সবটাই সূর্য থেকে আসে। Oxford-এর Elementary Climate Physics-এ প্রধান energy sources তুলনা করে বলা হয়েছে 99.97% শক্তি সূর্য থেকে electromagnetic radiation আকারে আসে। OUP Academic
❖ NASA technical material-এও Earth-এর atmosphere, ocean ও surface system চালনাকারী শক্তির প্রায় 99.97% সূর্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বলা হয়েছে। NASA Technical Reports Server
❖ অতি ক্ষুদ্র অংশ আসে—
➤ পৃথিবীর অভ্যন্তরের geothermal heat,
➤ tidal energy,
➤ অন্যান্য ক্ষুদ্র উৎস থেকে।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ৯৭.৮৯% ও ৯৮.৭৫% ⇒ প্রকৃত প্রচলিত মানের তুলনায় কম।
❖ ৯৯.৯৯% ⇒ খুব কাছাকাছি হলেও এই প্রশ্নে স্বীকৃত textbook value নয়।
❖ ৯৯.৯৭% ⇒ প্রচলিত ভৌত ভূগোলের নির্দিষ্ট মান।
Advertisement
06
🎯 Level 1

২১. স্বাভাবিক অবস্থায় একজন মানুষের উপর প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে বায়ুর চাপ পড়ে প্রায়— (যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক: ৯৯)

ক

১৩ পাউন্ড

খ

১০ পাউন্ড

গ

১৫ পাউন্ড

ঘ

২৮ পাউন্ড

✅ সঠিক উত্তর:গ. ১৫ পাউন্ড

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: গ. ১৫ পাউন্ড
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ প্রায় 14.696 lb/in², যা পূর্ণসংখ্যায় প্রায় ১৫ পাউন্ড প্রতি বর্গ ইঞ্চি। NIST
❖ মানুষ এই বিশাল চাপ অনুভব করে পিষ্ট হয় না, কারণ দেহের তরল ও অভ্যন্তরীণ গ্যাসও বাইরে দিকে চাপ দেয়; ভেতর-বাহিরের চাপ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।
❖ উচ্চতায় গেলে atmospheric pressure কমে যাওয়ায় এই ভারসাম্যের পরিবেশ বদলে যায় এবং অক্সিজেনের partial pressure-ও কমে।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ১৩ ও ১০ পাউন্ড ⇒ standard sea-level value-এর তুলনায় কম।
❖ ২৮ পাউন্ড ⇒ প্রায় দ্বিগুণ।
❖ ১৫ পাউন্ড ⇒ 14.696 psi-এর যৌক্তিক approximation।
07
🎯 Level 1

২৮. কখন বায়ুচাপ সাধারণত সবচেয়ে বেড়ে যায়? (নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক: ৯৫)

ক

গরম ও আর্দ্র থাকলে

খ

ঠাণ্ডা শুষ্ক থাকলে

গ

ঠাণ্ডা ও আর্দ্র থাকলে

ঘ

গরম ও শুষ্ক থাকলে

✅ সঠিক উত্তর:খ. ঠাণ্ডা শুষ্ক থাকলে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: খ. ঠাণ্ডা শুষ্ক থাকলে
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ ঠান্ডা বায়ু সংকুচিত হয়ে তুলনামূলক বেশি ঘন হয়। অন্যদিকে dry air একই তাপমাত্রা ও চাপের moist air-এর তুলনায় ঘন।
❖ NWS-এর ব্যাখ্যায় warm, moist air সাধারণত সবচেয়ে কম surface pressure-এর সঙ্গে এবং cold, dry air সবচেয়ে বেশি pressure-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। National Weather Service
❖ এ কারণেই শীতকালে বৃহৎ মহাদেশীয় অঞ্চলে শক্তিশালী continental high pressure তৈরি হতে দেখা যায়—যেমন Siberian High।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ গরম + আর্দ্র ⇒ উভয় বৈশিষ্ট্যই বায়ুর density কমানোর পক্ষে।
❖ ঠাণ্ডা + আর্দ্র ⇒ ঠান্ডা density বাড়ায়, কিন্তু আর্দ্রতা কিছুটা কমায়।
❖ গরম + শুষ্ক ⇒ শুষ্কতা density বাড়ালেও গরম হওয়ার প্রভাব বিপরীত।
❖ ঠাণ্ডা + শুষ্ক ⇒ চারটির মধ্যে সর্বাধিক ঘন/উচ্চচাপ-প্রবণ।
08
🎯 Level 1

৩১. বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রের নাম— (সুন্দরবন গ্যাস ফিল্ডের টেকনিশিয়ান: ২৩; পিএসসির সহকারী পরিচালক: ২৩; ঢাকা ওয়াসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী: ২৪)

ক

হাইড্রোমিটার

খ

ব্যারোমিটার

গ

ল্যাক্টোমিটার

ঘ

ভোল্টমিটার

✅ সঠিক উত্তর:খ. ব্যারোমিটার

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: খ. ব্যারোমিটার
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ ব্যারোমিটার (Barometer) হলো বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপের যন্ত্র। National Weather Service-ও Barometer-এর সংজ্ঞা দিয়েছে—“an instrument that measures atmospheric pressure.” Marine Weather
❖ প্রধান দুই ধরনের ব্যারোমিটার—
➤ Mercury barometer — পারদস্তম্ভের উচ্চতা দিয়ে চাপ মাপে।
➤ Aneroid barometer — বায়ুশূন্য নমনীয় ধাতব capsule-এর সংকোচন-প্রসারণ ব্যবহার করে চাপ মাপে।
❖ Barograph হলো এমন barometer, যা pressure-এর পরিবর্তন ধারাবাহিকভাবে record করে।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ হাইড্রোমিটার (Hydrometer) ⇒ তরলের specific gravity/relative density মাপে।
❖ ব্যারোমিটার ⇒ atmospheric pressure মাপে—সঠিক।
❖ ল্যাক্টোমিটার (Lactometer) ⇒ দুধের specific gravity পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত বিশেষ hydrometer।
❖ ভোল্টমিটার (Voltmeter) ⇒ বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য বা voltage মাপে।
Advertisement
09
🎯 Level 1

৩৬. বাতাসের তাপমাত্রা হ্রাস পেলে আর্দ্রতা— (বিবিএস’র কম্পিউটার অপারেটর: ১৫ / আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক: ১৭)

ক

বাড়ে

খ

কমে

গ

অপরিবর্তিত থাকে

ঘ

প্রথমে বাড়ে পরে কমে

✅ সঠিক উত্তর:ক. বাড়ে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ক. বাড়ে
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ প্রশ্নে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বোঝানো হয়েছে। বাতাসে মোট জলীয় বাষ্প অপরিবর্তিত রেখে তাপমাত্রা কমালে saturation vapor pressure কমে যায়; ফলে একই পরিমাণ জলীয় বাষ্প saturation-এর তুলনায় বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায় এবং RH বৃদ্ধি পায়।
❖ NOAA-এর উদাহরণ অনুযায়ী, একই absolute humidity থাকলে ঠান্ডা বাতাসের relative humidity উষ্ণ বাতাসের তুলনায় বেশি। NOAA Satellite Service
❖ যেমন—
➤ ৩০°C-এ একই জলীয় বাষ্পে RH = ৫০% হতে পারে।
➤ বাতাস ঠান্ডা করলে RH ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
➤ dew point-এ পৌঁছালে RH ≈ ১০০% এবং এরপর জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হতে শুরু করে।
✦ গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য
❖ Absolute humidity = প্রকৃত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ।
❖ Relative humidity = ঐ তাপমাত্রায় saturation-এর তুলনায় শতকরা পরিমাণ।
তাই শুধু “temperature decreases” বললে relative humidity বাড়ে—শর্ত হলো জলীয় বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বদলানো।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ খ. কমে ⇒ একই moisture content ধরে নিলে বিপরীত ঘটনা ঘটে।
❖ গ. অপরিবর্তিত থাকে ⇒ saturation capacity তাপমাত্রানির্ভর হওয়ায় RH অপরিবর্তিত থাকে না।
❖ ঘ. প্রথমে বাড়ে পরে কমে ⇒ সাধারণ নিয়ম নয়। Dew point-এর পর condensation ঘটলে RH প্রায় ১০০%-এর কাছাকাছি থাকে।
10
🎯 Level 1

৩৯. শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ— (প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১৩)

ক

কম থাকে

খ

বেশি থাকে

গ

মধ্যম থাকে

ঘ

থাকে না

✅ সঠিক উত্তর:ক. কম থাকে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ক. কম থাকে
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকায় বাতাসের সর্বোচ্চ জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতা বা saturation vapor pressure কম থাকে। তাই সাধারণত বাতাসে প্রকৃত জলীয় বাষ্পের পরিমাণও গ্রীষ্মের তুলনায় কম থাকে।
❖ তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—জলীয় বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ কম হলেও relative humidity সবসময় কম হবে এমন নয়। ঠান্ডা বাতাস অল্প জলীয় বাষ্পেই saturation-এর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। NOAA-ও দেখায় যে একই absolute moisture-এ ঠান্ডা বাতাসের RH বেশি হয়। NOAA Satellite Service
❖ তাই প্রশ্নে “জলীয় বাষ্পের পরিমাণ” বলতে absolute moisture বোঝালে উত্তর কম থাকে।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ খ. বেশি থাকে ⇒ সাধারণ শীতকালীন বায়ুর absolute moisture-এর ক্ষেত্রে সঠিক নয়।
❖ গ. মধ্যম থাকে ⇒ নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নিয়ম নয়।
❖ ঘ. থাকে না ⇒ ভুল; শীতকালেও বাতাসে অবশ্যই জলীয় বাষ্প থাকে।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন