🧠 🔖
Free Topic

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান

◉ ভূগোল›বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚92মোট প্রশ্ন
🎯5মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

৪৮. বাংলাদেশ এশিয়ার কোন অঞ্চলে অবস্থিত? (এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক: ১৭)

ক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

খ

দক্ষিণ এশিয়া

গ

মধ্য এশিয়া

ঘ

দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া

✅ সঠিক উত্তর:খ. দক্ষিণ এশিয়া

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: দক্ষিণ এশিয়া (South Asia)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ এশিয়া (South Asia) অঞ্চলে অবস্থিত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্বের অধিকাংশ অংশে ভারত, দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
জাতিসংঘের ভৌগোলিক অঞ্চল শ্রেণিবিন্যাস (UN M49) অনুযায়ী বাংলাদেশ Southern Asia উপ-অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও।
〔চিত্র 1: মূল Word-এর চিত্র — “চিত্র” শিটে সংরক্ষিত〕
দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত আটটি দেশের অবস্থান।
✦ দক্ষিণ এশিয়া (South Asia) কী?
❖ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও ভূরাজনৈতিক অঞ্চলকে দক্ষিণ এশিয়া বলা হয়।
এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য:
➤ এশিয়ার দক্ষিণাংশে অবস্থিত।
➤ উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য।
➤ দক্ষিণে ভারত মহাসাগর অবস্থিত।
➤ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও সিন্ধুর মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীব্যবস্থা রয়েছে।
➤ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল।
➤ ভারতীয় উপমহাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
➤ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বাংশে অবস্থিত।
✦ দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহ
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা SAARC-এর সদস্য মোট আটটি দেশ।
〔মূল Word-এর ছক 01 — “ছক” শিটেও সংরক্ষিত〕
দেশের নাম │ রাজধানী
বাংলাদেশ │ ঢাকা
ভারত │ নয়াদিল্লি
পাকিস্তান │ ইসলামাবাদ
নেপাল │ কাঠমান্ডু
ভুটান │ থিম্পু
শ্রীলঙ্কা │ শ্রী জয়বর্ধনেপুর কোট্টে
মালদ্বীপ │ মালে
আফগানিস্তান │ কাবুল
বিশেষ তথ্য: SAARC-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল সাতটি দেশ। ২০০৭ সালে আফগানিস্তান যুক্ত হলে সদস্যসংখ্যা আটটি হয়।
তবে জাতিসংঘের M49 ভৌগোলিক শ্রেণিবিন্যাসে দক্ষিণ এশিয়ায় ইরানও অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ SAARC-এর সদস্যরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর তালিকা সম্পূর্ণ এক নয়।
✦ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন অংশে অবস্থিত।
〔মূল Word-এর ছক 02 — “ছক” শিটেও সংরক্ষিত〕
দিক │ ভৌগোলিক অবস্থান
উত্তর │ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম
দক্ষিণ │ বঙ্গোপসাগর
পূর্ব │ ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মিয়ানমার
পশ্চিম │ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ
বাংলাদেশের অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য:
➤ বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত।
➤ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত রয়েছে।
➤ দেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থাকায় সমুদ্রবাণিজ্যের সুযোগ রয়েছে।
➤ বাংলাদেশ গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীব্যবস্থার বদ্বীপ অঞ্চলের অংশ।
➤ কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে।
➤ ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ উত্তর ও পূর্ব গোলার্ধে অবস্থিত।
✦ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পার্থক্য
〔মূল Word-এর ছক 03 — “ছক” শিটেও সংরক্ষিত〕
বিষয় │ দক্ষিণ এশিয়া │ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
ইংরেজি │ South Asia │ Southeast Asia
বাংলাদেশের অবস্থান │ অন্তর্ভুক্ত │ অন্তর্ভুক্ত নয়
দেশগুলোর উদাহরণ │ বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল │ মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম
পরিচিত আঞ্চলিক সংস্থা │ SAARC │ ASEAN
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক │ বাংলাদেশের নিজস্ব অঞ্চল │ প্রতিবেশী অঞ্চল
❖ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (Southeast Asia): এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাংশের ভৌগোলিক অঞ্চল। মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনেই, ফিলিপাইন ও তিমুর-লেস্তে এই অঞ্চলের দেশ।
❖ মধ্য এশিয়া (Central Asia): এশিয়ার মধ্যভাগের অঞ্চল। কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান সাধারণত মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশ হিসেবে পরিচিত।
বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কাছে অবস্থিত হলেও ভৌগোলিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার দেশ।
✦ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC)
❖ SAARC-এর পূর্ণরূপ: South Asian Association for Regional Cooperation।
❖ বাংলা নাম: দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা।
SAARC সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
➤ প্রতিষ্ঠা: ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৫।
➤ প্রতিষ্ঠাস্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ।
➤ প্রথম শীর্ষ সম্মেলন: ৭–৮ ডিসেম্বর ১৯৮৫।
➤ প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের স্থান: ঢাকা।
➤ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ৭টি দেশ।
➤ বর্তমান সদস্য: ৮টি দেশ।
➤ অষ্টম সদস্য: আফগানিস্তান।
➤ আফগানিস্তানের যোগদান: ২০০৭ সাল।
➤ সচিবালয়: কাঠমান্ডু, নেপাল।
➤ প্রধান উদ্দেশ্য: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।
সার্কের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী সংস্থাটি ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৫ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৭ জানুয়ারি ১৯৮৭ সালে কাঠমান্ডুতে সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ⇒ ভুল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশ অবস্থিত। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের কাছাকাছি হলেও এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
❖ খ. দক্ষিণ এশিয়া ⇒ সঠিক। বাংলাদেশ এশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম রাষ্ট্র। জাতিসংঘের আঞ্চলিক শ্রেণিবিন্যাসেও বাংলাদেশ Southern Asia-এর অন্তর্ভুক্ত। এটিই সঠিক উত্তর।
❖ গ. মধ্য এশিয়া ⇒ ভুল। মধ্য এশিয়ায় কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান ও তুর্কমেনিস্তান অবস্থিত। বাংলাদেশ মধ্য এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়।
❖ ঘ. দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ⇒ ভুল। বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত হলেও এটি স্বীকৃত প্রধান ভৌগোলিক উপ-অঞ্চলের নাম নয়। বাংলাদেশের সঠিক আঞ্চলিক পরিচয় দক্ষিণ এশিয়া।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ বাংলাদেশ এশিয়ার যে অঞ্চলে অবস্থিত—দক্ষিণ এশিয়া।
❖ দক্ষিণ এশিয়ার ইংরেজি—South Asia।
❖ বাংলাদেশের মহাদেশ—এশিয়া।
❖ বাংলাদেশের অবস্থান—উত্তর ও পূর্ব গোলার্ধে।
❖ বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত—বঙ্গোপসাগর।
❖ বাংলাদেশের রাজধানী—ঢাকা।
❖ বাংলাদেশের স্থলসীমান্তবর্তী দেশ—ভারত ও মিয়ানমার।
❖ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য—৫টি।
❖ রাজ্যগুলো—পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
❖ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে অতিক্রমকারী গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা—কর্কটক্রান্তি রেখা।
❖ বাংলাদেশ যে আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য—SAARC।
❖ SAARC-এর পূর্ণরূপ—South Asian Association for Regional Cooperation।
❖ SAARC প্রতিষ্ঠিত হয়—৮ ডিসেম্বর ১৯৮৫ সালে।
❖ SAARC-এর প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়—ঢাকায়।
❖ SAARC-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসংখ্যা—৭টি।
❖ SAARC-এর সদস্যসংখ্যা—৮টি।
❖ SAARC-এর অষ্টম সদস্য—আফগানিস্তান।
❖ আফগানিস্তান SAARC-এ যোগদান করে—২০০৭ সালে।
❖ SAARC-এর সচিবালয়—কাঠমান্ডু, নেপাল।
❖ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচিত আঞ্চলিক সংস্থা—ASEAN।
❖ ASEAN-এর পূর্ণরূপ—Association of Southeast Asian Nations।
❖ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বের প্রতিবেশী রাষ্ট্র—মিয়ানমার।
❖ মিয়ানমার যে ভৌগোলিক অঞ্চলের দেশ—দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।
❖ দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্রের উদাহরণ—শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।
❖ দক্ষিণ এশিয়ার স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্রের উদাহরণ—নেপাল ও ভুটান।
❖ মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশ—কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান।
02
🎯 Level 1

৮৪. ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের কোন জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে? (সিজিডিএফ কার্যালয়ের অডিটর: ১৯)

ক

শেরপুর

খ

টাঙ্গাইল

গ

গোপালগঞ্জ

ঘ

মুন্সিগঞ্জ

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. মুন্সিগঞ্জ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: মুন্সিগঞ্জ জেলা।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। প্রদত্ত চারটি বিকল্পের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ সঠিক উত্তর। রেখাটি বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করার কারণে এ জেলার ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
❖ কর্কটক্রান্তি রেখার অবস্থান: পৃথিবীর নিরক্ষরেখা থেকে প্রায় ২৩°২৬′ উত্তর অক্ষাংশে কর্কটক্রান্তি রেখা অবস্থিত। সাধারণ ভূগোলে এর অবস্থান ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ হিসেবে দেখানো হয়।
❖ বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে বিস্তার: কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অতিক্রম করে। এটি কেবল মুন্সিগঞ্জ নয়, বরং বাংলাদেশের একাধিক জেলা ও অঞ্চলের ওপর দিয়ে বিস্তৃত।
❖ মুন্সিগঞ্জ জেলার অবস্থান: মুন্সিগঞ্জ বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের একটি জেলা। এটি দেশের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এবং রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত।
❖ মুন্সিগঞ্জের জেলা সদর: মুন্সিগঞ্জ শহর।
❖ মুন্সিগঞ্জের ঐতিহাসিক পরিচিতি: মুন্সিগঞ্জ অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে বিক্রমপুর নামে পরিচিত। প্রাচীন ও মধ্যযুগে বিক্রমপুর বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল।
❖ প্রধান নদনদী: মুন্সিগঞ্জ জেলার সঙ্গে পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতী নদীর ভৌগোলিক সম্পর্ক রয়েছে। এসব নদী জেলার ভূমিরূপ, জনবসতি, কৃষি ও নৌযোগাযোগকে প্রভাবিত করেছে।
❖ মুন্সিগঞ্জের উপজেলার সংখ্যা: জেলার প্রধান ছয়টি উপজেলা হলো মুন্সিগঞ্জ সদর, শ্রীনগর, সিরাজদিখান, লৌহজং, টঙ্গীবাড়ী ও গজারিয়া।
❖ কর্কটক্রান্তি রেখার প্রকৃতি: এটি একটি কাল্পনিক অক্ষরেখা, যা কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সীমানার ওপর নির্ভর করে না। ফলে একই অক্ষাংশের রেখা একাধিক জেলা, দেশ ও মহাদেশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে।
❖ অক্ষাংশের বৈশিষ্ট্য: অক্ষাংশ কোনো স্থানের নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণের কৌণিক দূরত্ব নির্দেশ করে। পৃথিবীর সব অক্ষরেখা নিরক্ষরেখার সমান্তরাল।
❖ কর্কটক্রান্তি রেখার সূর্যসংক্রান্ত গুরুত্ব: বছরে একবার জুন অয়নান্তের সময় এই রেখায় স্থানীয় মধ্যাহ্নে সূর্য প্রায় মাথার ওপর অবস্থান করে।
❖ উত্তর গোলার্ধে অবস্থান: বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে উত্তর গোলার্ধ ও পূর্ব গোলার্ধে অবস্থিত। তাই বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ গোলার্ধের মকরক্রান্তি রেখা অতিক্রম করার সুযোগ নেই।
❖ মুন্সিগঞ্জ ও ফরিদপুরের পার্থক্য: মুন্সিগঞ্জ কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রমকারী জেলা হিসেবে পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে কর্কটক্রান্তি রেখা ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখার ছেদবিন্দু জানতে চাইলে উত্তর হবে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলা।
❖ জলবায়ুগত তাৎপর্য: কর্কটক্রান্তি রেখার অবস্থান বাংলাদেশের সূর্যরশ্মির আপতন, ঋতুভিত্তিক আলোকপ্রাপ্তি এবং ভৌগোলিক জলবায়ু অঞ্চল সম্পর্কে ধারণা দিতে সাহায্য করে।
❖ অন্যান্য জেলার সঙ্গে পার্থক্য: শেরপুর উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা, টাঙ্গাইল ঢাকা বিভাগের উত্তর-পশ্চিম অংশে এবং গোপালগঞ্জ দেশের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত। প্রদত্ত বিকল্পের মধ্যে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রমের জন্য নির্ধারিত উত্তর মুন্সিগঞ্জ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রমকারী জেলা — মুন্সিগঞ্জ।
➤ মুন্সিগঞ্জ — ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত।
➤ মুন্সিগঞ্জের ঐতিহাসিক পরিচিতি — বিক্রমপুর।
➤ মুন্সিগঞ্জের জেলা সদর — মুন্সিগঞ্জ।
➤ মুন্সিগঞ্জ জেলার উপজেলার সংখ্যা — ৬টি।
➤ মুন্সিগঞ্জের উপজেলা — সদর, শ্রীনগর, সিরাজদিখান, লৌহজং, টঙ্গীবাড়ী ও গজারিয়া।
➤ মুন্সিগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ নদী — পদ্মা, মেঘনা ও ধলেশ্বরী।
➤ কর্কটক্রান্তি রেখার অক্ষাংশ — প্রায় ২৩°২৬′ উত্তর।
➤ কর্কটক্রান্তি রেখার প্রচলিত মান — ২৩.৫° উত্তর।
➤ কর্কটক্রান্তি রেখা — একটি কাল্পনিক অক্ষরেখা।
➤ রেখাটি অতিক্রম করেছে — বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল।
➤ কর্কটক্রান্তি রেখা — পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত।
➤ কর্কটক্রান্তি রেখায় সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় — জুন অয়নান্তে।
➤ বাংলাদেশ — উত্তর ও পূর্ব গোলার্ধে অবস্থিত।
➤ বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে মকরক্রান্তি রেখা যায় না।
➤ কর্কটক্রান্তি ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমার ছেদবিন্দুর জেলা — ফরিদপুর।
➤ ছেদবিন্দুর উপজেলা — ভাঙ্গা।
➤ অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা — দুটি পৃথক ভৌগোলিক স্থানাঙ্করেখা।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৩. বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য কত? (বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট অব সার্ভে: ০৫; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার অপারেটর: ২৩; ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন; ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের চেইনম্যান: ২৫)

ক

৪৭১১ কি.মি.

খ

৪৮০৫ কি.মি.

গ

৫১৩৮ কিলোমিটার

ঘ

৪৫০০ কি.মি.

✅ সঠিক উত্তর:গ. ৫১৩৮ কিলোমিটার

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ বাংলাদেশের সীমারেখা (Boundary of Bangladesh): একটি রাষ্ট্রের ভূখণ্ডকে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র বা সমুদ্র থেকে পৃথককারী নির্ধারিত রেখাকে রাষ্ট্রীয় সীমারেখা বলে।
বাংলাদেশের সীমারেখা প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত—
➤ স্থল ও নদীসীমান্ত—ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে।
➤ উপকূলীয় সীমারেখা—দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে।
✦ বিভিন্ন উৎসে বাংলাদেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য:
〔মূল Word-এর ছক 13 — “ছক” শিটেও সংরক্ষিত〕
সীমারেখার বিবরণ │ পুরোনো মাধ্যমিক ভূগোল │ BGB-ভিত্তিক প্রচলিত পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত │ ৩,৭১৫ কিমি │ ৪,১৫৬ কিমি
বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্ত │ ২৮০ কিমি │ ২৭১ কিমি
মোট স্থল ও নদীসীমান্ত │ ৩,৯৯৫ কিমি │ ৪,৪২৭ কিমি
উপকূলীয় সীমারেখা │ ৭১৬ কিমি │ ৭১১ কিমি
মোট সীমারেখা │ ৪,৭১১ কিমি │ ৫,১৩৮ কিমি
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়নের ভৌগোলিক তথ্য, মাধ্যমিক ভূগোলভিত্তিক প্রকাশিত তথ্য এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের আন্তর্জাতিক সীমানার তথ্য।
✦ গাণিতিক সমাধান:
❖ পুরোনো মাধ্যমিক ভূগোল অনুযায়ী:
➤ ভারতের সঙ্গে সীমান্ত = ৩,৭১৫ কিমি।
➤ মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত = ২৮০ কিমি।
➤ বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় সীমারেখা = ৭১৬ কিমি।
সুতরাং,
➤ মোট সীমারেখা = ৩,৭১৫ + ২৮০ + ৭১৬
➤ = ৩,৯৯৫ + ৭১৬
➤ = ৪,৭১১ কিলোমিটার।
অতএব, প্রশ্নটির উত্তর ৪,৭১১ কিলোমিটার।
❖ অন্য প্রচলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
➤ ভারত = ৪,১৫৬ কিমি।
➤ মিয়ানমার = ২৭১ কিমি।
➤ উপকূলীয় সীমারেখা = ৭১১ কিমি।
সুতরাং,
➤ মোট সীমারেখা = ৪,১৫৬ + ২৭১ + ৭১১
➤ = ৫,১৩৮ কিলোমিটার।
এখানে ৫,১৩৮ কিমি হলো ভিন্ন উৎস ও পরিমাপপদ্ধতিতে প্রচলিত একটি মোট সীমারেখার হিসাব। এটি শুধু আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্তের দৈর্ঘ্য নয়।
✦ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে।
〔মূল Word-এর ছক 14 — “ছক” শিটেও সংরক্ষিত〕
রাজ্যের নাম │ বাংলাদেশি সরকারি জরিপ তথ্য অনুযায়ী সীমান্ত দৈর্ঘ্য
পশ্চিমবঙ্গ │ ২,২৬২ কিমি
আসাম │ ২৬৪ কিমি
মেঘালয় │ ৪৩৬ কিমি
ত্রিপুরা │ ৮৭৪ কিমি
মিজোরাম │ ৩২০ কিমি
মোট │ ৪,১৫৬ কিমি
এ তথ্য বাংলাদেশের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সীমানার বিবরণ থেকে নেওয়া হয়েছে।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. ৪৭১১ কি.মি. ⇒ সঠিক। পুরোনো মাধ্যমিক ভূগোল অনুযায়ী ভারত, মিয়ানমার ও উপকূলীয় সীমারেখার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ৪,৭১১ কিলোমিটার। এটিই প্রদত্ত প্রশ্নের প্রত্যাশিত উত্তর।
❖ খ. ৪৮০৫ কি.মি. ⇒ ভুল। উল্লিখিত পুরোনো মাধ্যমিক ভূগোলের হিসাব কিংবা সরকারি জরিপ অধিদপ্তরের প্রকাশিত মোট আন্তর্জাতিক স্থল ও নদীসীমান্তের হিসাব—কোনোটির সঙ্গে সংখ্যাটি মেলে না।
❖ গ. ৫০৮০ কি.মি. ⇒ ভুল। এটি প্রশ্নটির উল্লিখিত সীমারেখার কোনো প্রতিষ্ঠিত হিসাব নয়।
❖ ঘ. ৪৫০০ কি.মি. ⇒ ভুল। সংখ্যাটি ৪,৪২৭ কিমি স্থল ও নদীসীমান্তের কাছাকাছি হলেও প্রশ্নটির প্রত্যাশিত মোট সীমারেখার দৈর্ঘ্য নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ বাংলাদেশের পুরোনো মাধ্যমিক ভূগোল অনুযায়ী মোট সীমারেখা—৪,৭১১ কিমি।
❖ BGB-ভিত্তিক প্রচলিত মোট সীমারেখা—৫,১৩৮ কিমি।
❖ সরকারি ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের প্রকাশিত মোট আন্তর্জাতিক স্থল ও নদীসীমান্ত—৪,৪২৭ কিমি।
❖ বাংলাদেশের স্থলসীমান্তবর্তী দেশ—২টি।
❖ দেশ দুটি—ভারত ও মিয়ানমার।
❖ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য—৫টি।
❖ রাজ্যগুলো—পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
❖ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে—পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের।
❖ বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত—বঙ্গোপসাগর।
❖ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে বিভক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ নদী—নাফ নদী।
❖ বাংলাদেশ ও ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ নদী—হাড়িয়াভাঙ্গা।
❖ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা—১২ নটিক্যাল মাইল।
❖ বাংলাদেশের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক সমুদ্র অঞ্চল (EEZ)—মূলভিত্তি রেখা থেকে সর্বোচ্চ ২০০ নটিক্যাল মাইল।
❖ ১ নটিক্যাল মাইল—১.৮৫২ কিলোমিটার।
04
🎯 Level 1

০৭. বাংলাদেশের সাথে কয়টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে? / বাংলাদেশের সীমানা সংলগ্ন দেশ কয়টি? (নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের নকশাকার: ১৭; ভূমি মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার অপারেটর: ১৭; বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিদর্শক: ১৯; রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের অফিস সহায়ক: ২২; বিআরইবি’র মিটার রিডার: ২৩; কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজার পরিদর্শক: ২৩; প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক: ২৪; পরমাণু শক্তি কমিশনের জেনারেল অ্যাটেনডেন্ট: ২৫)

ক

১টি

খ

২টি

গ

৩টি

ঘ

৪টি

✅ সঠিক উত্তর:খ. ২টি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ২টি — ভারত ও মিয়ানমার।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত রয়েছে দুটি দেশের সঙ্গে—ভারত ও মিয়ানমার। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র এবং এর উত্তর, পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ ভারতের সীমান্তসংলগ্ন। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে।
❖ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত: ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী রাষ্ট্র। বাংলাদেশের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ ভারতীয় ভূখণ্ড দ্বারা বেষ্টিত।
❖ মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত: মিয়ানমার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত পাহাড়, বনাঞ্চল এবং নাফ নদী বরাবর বিস্তৃত।
❖ বাংলাদেশের দক্ষিণে: দেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। বঙ্গোপসাগর একটি সমুদ্রাঞ্চল, কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নয়। তাই সীমান্তসংলগ্ন রাষ্ট্রের সংখ্যা গণনায় বঙ্গোপসাগর অন্তর্ভুক্ত হয় না।
❖ বাংলাদেশের উত্তর সীমান্ত: উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে।
❖ বাংলাদেশের পশ্চিম সীমান্ত: পশ্চিমে প্রধানত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত।
❖ বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্ত: পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্যের বিভিন্ন অংশ এবং দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার অবস্থিত।
❖ ভারতের পাঁচটি সীমান্তবর্তী রাজ্য: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
❖ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের তিনটি জেলা: রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার।
❖ রাঙামাটির বিশেষ ভৌগোলিক গুরুত্ব: রাঙামাটি জেলার পার্বত্য সীমান্ত অঞ্চলে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমানা পরস্পর মিলিত হয়েছে।
❖ সীমান্তের দৈর্ঘ্য: বাংলাদেশের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের হিসাবে মোট আন্তর্জাতিক স্থল ও নদীসীমান্ত ৪৪২৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারত ৪১৫৬ কিলোমিটার এবং প্রচলিত হিসাবে মিয়ানমার ২৭১ কিলোমিটার।
❖ ভারতের সরকারি হিসাব: ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ৪০৯৬.৭০ কিলোমিটার হিসেবে প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন উৎসে সীমান্তের দৈর্ঘ্যে পার্থক্য থাকলেও সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রের সংখ্যা দুইটিই।
❖ নেপালের অবস্থান: নেপাল বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত হলেও দুই দেশের মধ্যে ভারতের ভূখণ্ড রয়েছে। ফলে নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি স্থলসীমান্ত নেই।
❖ ভুটানের অবস্থান: ভুটান বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত একটি হিমালয়সংলগ্ন রাষ্ট্র। ভারতের ভূখণ্ড বাংলাদেশ ও ভুটানকে পৃথক করেছে।
❖ চীনের অবস্থান: চীন বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে বৃহত্তর এশীয় অঞ্চলে অবস্থিত হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি স্থলসীমান্ত নেই।
❖ থাইল্যান্ডের অবস্থান: থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ এবং মিয়ানমারের প্রতিবেশী; কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি স্থলসীমান্ত নেই।
❖ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমান্ত: বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমানা ভারত ও মিয়ানমারের সামুদ্রিক এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০১২ ও ২০১৪ সালের আন্তর্জাতিক নিষ্পত্তি এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ সীমান্তবর্তী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক: ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্থলবাণিজ্য, আঞ্চলিক যোগাযোগ, নদী ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্তবর্তী দেশ — ২টি।
➤ দেশ দুটি — ভারত ও মিয়ানমার।
➤ বাংলাদেশের উত্তরে — ভারত।
➤ বাংলাদেশের পশ্চিমে — ভারত।
➤ বাংলাদেশের পূর্বে — ভারত ও মিয়ানমার।
➤ বাংলাদেশের দক্ষিণে — বঙ্গোপসাগর।
➤ বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত — ভারতের সঙ্গে।
➤ ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য — ৫টি।
➤ পশ্চিমবঙ্গ — বাংলাদেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে সীমান্তসংলগ্ন।
➤ মেঘালয় — বাংলাদেশের উত্তরে সীমান্তসংলগ্ন।
➤ আসাম — বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে সীমান্তসংলগ্ন।
➤ ত্রিপুরা — বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে সীমান্তসংলগ্ন।
➤ মিজোরাম — বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলে সীমান্তসংলগ্ন।
➤ মিয়ানমার — বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে।
➤ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলা — রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার।
➤ নাফ নদী — বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত নদী।
➤ রাঙামাটি — বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত মিলনস্থলসংলগ্ন জেলা।
➤ নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি স্থলসীমান্ত নেই।
➤ ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি স্থলসীমান্ত নেই।
➤ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি স্থলসীমান্ত নেই।
➤ বঙ্গোপসাগর — কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নয়।
➤ বাংলাদেশের স্থল ও নদীসীমান্তের সরকারি হিসাব — ৪৪২৭ কিলোমিটার।
05
🎯 Level 1

১৪. বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা কয়টি? (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার অপারেটর: ১৬ / দুদকের সহকারী পরিচালক: ২০ / ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ-সহকারী পরিচালক: ২৪ / বেবিচকের কম্পিউটার অপারেটর: ২৪ / বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার অপারেটর: ২৪)

ক

৩০টি

খ

৩৩টি

গ

৩৪টি

ঘ

৩২টি

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ৩২টি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ৩২টি — বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলা।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলাদেশের মোট ৩২টি জেলা আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী। অর্থাৎ বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩২টি জেলা ভারত অথবা মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি স্থলসীমান্ত ভাগ করেছে। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন তথ্যবাতায়নে এই সংখ্যা উল্লেখ রয়েছে।
❖ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দেশ: বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত রয়েছে ভারত ও মিয়ানমার—এই দুটি দেশের।
❖ ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলা: বাংলাদেশের ৩০টি জেলা ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত স্পর্শ করেছে।
❖ মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলা: বাংলাদেশের ৩টি জেলা মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সীমান্ত স্পর্শ করেছে। জেলাগুলো রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার।
❖ রাঙামাটির বিশেষ অবস্থান: রাঙামাটি একমাত্র বাংলাদেশি জেলা, যার সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমার—উভয় দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
❖ সীমান্তবর্তী জেলার সংখ্যা ৩২ হওয়ার কারণ: ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা ৩০টি এবং মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী জেলা ৩টি। কিন্তু রাঙামাটি উভয় তালিকায় রয়েছে। তাই মোট পৃথক জেলা নির্ণয়ে রাঙামাটিকে একবার বাদ দিতে হয়।
গাণিতিক হিসাব:
মোট পৃথক সীমান্তবর্তী জেলা
= ভারত সীমান্তবর্তী জেলা + মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলা − উভয় দেশের সীমান্তবর্তী জেলা
= ৩০ + ৩ − ১
= ৩২টি।
❖ গণিতের সেট তত্ত্বের প্রয়োগ: এখানে অন্তর্ভুক্তি-বর্জন নীতি (Inclusion–Exclusion Principle) ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি সেটের মোট স্বতন্ত্র সদস্য গণনায় উভয় সেটের সাধারণ সদস্য একবার বিয়োগ করতে হয়।
❖ বাংলাদেশের বিভাগের সংখ্যা: বাংলাদেশে মোট ৮টি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ।
❖ সীমান্তবর্তী বিভাগ: বাংলাদেশের ৬টি বিভাগে ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে। বিভাগগুলো হলো চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা।
❖ সীমান্তবিহীন বিভাগ: ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কোনো জেলা ভারতের বা মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত ভাগ করে না।
❖ চট্টগ্রাম বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী ৬টি জেলা: চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
❖ খুলনা বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী ৬টি জেলা: সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া।
❖ রাজশাহী বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী ৪টি জেলা: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট।
❖ রংপুর বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী ৬টি জেলা: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম।
❖ ময়মনসিংহ বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী ৪টি জেলা: জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা।
❖ সিলেট বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী ৪টি জেলা: সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।
❖ বিভাগভিত্তিক ভারতের সীমান্তবর্তী জেলার মোট সংখ্যা:
চট্টগ্রাম = ৬
খুলনা = ৬
রাজশাহী = ৪
রংপুর = ৬
ময়মনসিংহ = ৪
সিলেট = ৪
মোট = ৬ + ৬ + ৪ + ৬ + ৪ + ৪
= ৩০টি জেলা।
❖ মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অতিরিক্ত দুটি জেলা: বান্দরবান ও কক্সবাজার ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে না। তাই ভারতের ৩০টি সীমান্তবর্তী জেলার সঙ্গে এই দুটি যোগ করলে মোট ৩২টি পৃথক সীমান্তবর্তী জেলা পাওয়া যায়।
❖ রাঙামাটি কেন পুনরায় যোগ হবে না: রাঙামাটি ভারতের সীমান্তবর্তী ৩০টি জেলার তালিকাতেই রয়েছে। তাই মিয়ানমারের তিনটি সীমান্তবর্তী জেলার মধ্যে রাঙামাটিকে আবার যুক্ত করলে একই জেলা দুবার গণনা হবে।
❖ দুটি বিভাগের সব জেলা সীমান্তবর্তী: সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিটি জেলা ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগ করেছে।
❖ রংপুর বিভাগের সীমান্তবিহীন দুটি জেলা: রংপুর ও গাইবান্ধা। এই দুটি জেলা ভারতের সঙ্গে সরাসরি স্থলসীমান্ত ভাগ করে না।
❖ সীমান্তরক্ষার দায়িত্ব: বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে।
❖ সীমান্তবর্তী জেলার গুরুত্ব: এসব জেলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, স্থলবন্দর, নদী ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, সীমান্ত যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলা — ৩২টি।
➤ ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলা — ৩০টি।
➤ মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলা — ৩টি।
➤ উভয় দেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলা — রাঙামাটি।
➤ মোট সীমান্তবর্তী জেলা = ৩০ + ৩ − ১ = ৩২টি।
➤ বাংলাদেশের মোট জেলা — ৬৪টি।
➤ বাংলাদেশের মোট বিভাগ — ৮টি।
➤ ভারতের সীমান্তবর্তী বিভাগ — ৬টি।
➤ সরাসরি আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্তবিহীন বিভাগ — ঢাকা ও বরিশাল।
➤ চট্টগ্রাম বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা — ৬টি।
➤ খুলনা বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা — ৬টি।
➤ রাজশাহী বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা — ৪টি।
➤ রংপুর বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা — ৬টি।
➤ ময়মনসিংহ বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা — ৪টি।
➤ সিলেট বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা — ৪টি।
➤ সিলেট বিভাগের সব জেলা সীমান্তবর্তী।
➤ ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলা সীমান্তবর্তী।
➤ রংপুর বিভাগের সীমান্তবিহীন জেলা — রংপুর ও গাইবান্ধা।
➤ মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী জেলা — রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার।
➤ ভারতের সীমান্ত নেই — বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার।
➤ তিন দেশের সীমান্ত মিলনস্থলসংলগ্ন জেলা — রাঙামাটি।
➤ সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে — BGB।
➤ সীমান্তবর্তী জেলার সংখ্যা নির্ণয়ের সূত্র — অন্তর্ভুক্তি-বর্জন নীতি।
Advertisement
06
🎯 Level 1

১৮. বাংলাদেশের কোন বিভাগের সাথে ভারতের কোন সীমান্ত সংযোগ নেই? (১২তম প্রভাষক নিবন্ধন / রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সাঁটলিপিকার: ২৩)

ক

ঢাকা ও বরিশাল

খ

বরিশাল ও খুলনা

গ

রাজশাহী ও চট্টগ্রাম

ঘ

চট্টগ্রাম ও সিলেট

✅ সঠিক উত্তর:ক. ঢাকা ও বরিশাল

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ঢাকা ও বরিশাল বিভাগ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলাদেশের ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কোনো জেলার সঙ্গে ভারতের সরাসরি আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত নেই। বাংলাদেশে মোট ৮টি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি বিভাগে ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা থাকলেও ঢাকা ও বরিশাল বিভাগ সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্তবিহীন।
❖ বাংলাদেশের আটটি বিভাগ: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ।
❖ ভারতের সীমান্তবর্তী ছয়টি বিভাগ: চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা।
❖ ভারতের সঙ্গে সীমান্তবিহীন দুটি বিভাগ: ঢাকা ও বরিশাল।
❖ ঢাকা বিভাগের অবস্থান: ঢাকা বিভাগ বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত। এর চারপাশে বাংলাদেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলা রয়েছে। ফলে এ বিভাগের কোনো জেলার সঙ্গে ভারতের সরাসরি আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত নেই।
❖ ঢাকা বিভাগের জেলা সংখ্যা: ১৩টি। জেলাগুলো হলো ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর।
❖ ঢাকা বিভাগের সদর: ঢাকা শহর। একই সঙ্গে ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী এবং প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রধান কেন্দ্র।
❖ ঢাকা বিভাগের ভূপ্রকৃতি: ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ অঞ্চল নদীবিধৌত সমভূমি ও পললভূমি। পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী এ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ ঢাকা বিভাগের ভৌগোলিক বিশেষত্ব: ঢাকা বিভাগের কোনো আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত না থাকলেও এটি জাতীয় সড়ক, রেল, নদীপথ, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও প্রশাসনিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
❖ বরিশাল বিভাগের অবস্থান: বরিশাল বিভাগ বাংলাদেশের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত। এটি নদী, বদ্বীপ, উপকূলীয় সমভূমি ও বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন অঞ্চলের জন্য পরিচিত।
❖ বরিশাল বিভাগের জেলা সংখ্যা: ৬টি। জেলাগুলো হলো বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি।
❖ বরিশাল বিভাগের সদর: বরিশাল শহর।
❖ বরিশাল বিভাগের দক্ষিণে: বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। তবে বঙ্গোপসাগর কোনো রাষ্ট্র নয়; তাই এর সঙ্গে উপকূলীয় সংযোগকে আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত বলা যায় না।
❖ বরিশাল বিভাগের প্রধান নদনদী: মেঘনা, তেঁতুলিয়া, বিষখালী, পায়রা, কীর্তনখোলা, আড়িয়াল খাঁ ও সন্ধ্যা এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদী।
❖ ভোলা জেলার বিশেষত্ব: ভোলা বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ-জেলা হিসেবে পরিচিত। এটি মেঘনা নদীর মোহনা ও উপকূলীয় পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ পটুয়াখালীর গুরুত্ব: পটুয়াখালী জেলায় পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত অবস্থিত। এগুলো বাংলাদেশের সামুদ্রিক যোগাযোগ ও পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
❖ বরগুনার অবস্থান: বরগুনা বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলীয় জেলা। এর দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চল রয়েছে।
❖ ভারতের সঙ্গে খুলনা বিভাগের সীমান্ত: খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলা ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগ করেছে।
❖ সাতক্ষীরার গুরুত্ব: সাতক্ষীরা জেলার পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকাতেও বাংলাদেশ-ভারতের ভৌগোলিক সীমারেখা রয়েছে।
❖ ভারতের সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত: রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলা ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগ করেছে।
❖ সোনামসজিদ স্থলবন্দর: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। এর বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মহদীপুর সীমান্ত বাণিজ্যপথ রয়েছে।
❖ ভারতের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের সীমান্ত: চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন অংশ ভারতের সীমান্তসংলগ্ন।
❖ কুমিল্লার সীমান্ত: কুমিল্লা জেলার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন অংশ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করেছে।
❖ আখাউড়া স্থলবন্দর: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলায় অবস্থিত। এর বিপরীতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা।
❖ ভারতের সঙ্গে সিলেট বিভাগের সীমান্ত: সিলেট বিভাগের চারটি জেলা—সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—সবকটিই ভারত সীমান্তবর্তী।
❖ ময়মনসিংহ বিভাগের অবস্থান: ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলার সবকটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করেছে।
❖ রংপুর বিভাগের সীমান্ত: রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার মধ্যে ৬টি ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী। কেবল রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার সঙ্গে ভারতের সরাসরি সীমান্ত নেই।
❖ সীমান্ত ও উপকূলের পার্থক্য: আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত হলো দুটি রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের বিভাজনরেখা। অন্যদিকে উপকূলরেখা হলো স্থলভাগ ও সমুদ্রের সংযোগস্থল। তাই বরিশাল বিভাগ বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন হলেও ভারতের আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্তবর্তী নয়।
❖ সীমান্তবিহীন বিভাগের গুরুত্ব: ঢাকা ও বরিশাল ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্তবিহীন হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, কৃষি, নদীপথ, প্রশাসনিক কার্যক্রম, সমুদ্রবন্দর ও যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ভারতের সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত নেই — ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের।
➤ বাংলাদেশের মোট বিভাগ — ৮টি।
➤ ভারতের সীমান্তবর্তী বিভাগ — ৬টি।
➤ সীমান্তবিহীন বিভাগ — ২টি।
➤ ঢাকা বিভাগের জেলা — ১৩টি।
➤ বরিশাল বিভাগের জেলা — ৬টি।
➤ ঢাকা বিভাগের সদর — ঢাকা।
➤ বরিশাল বিভাগের সদর — বরিশাল।
➤ বাংলাদেশের রাজধানী — ঢাকা।
➤ ঢাকা বিভাগ — বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত।
➤ বরিশাল বিভাগ — বাংলাদেশের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত।
➤ বরিশাল বিভাগের দক্ষিণে — বঙ্গোপসাগর।
➤ বরিশাল বিভাগের প্রধান নদী — মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও কীর্তনখোলা।
➤ ভোলা — বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ-জেলা।
➤ পায়রা সমুদ্রবন্দর — পটুয়াখালী।
➤ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত — পটুয়াখালী।
➤ খুলনা বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা — ৬টি।
➤ রাজশাহী বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা — ৪টি।
➤ চট্টগ্রাম বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা — ৬টি।
➤ সিলেট বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা — ৪টি।
➤ ময়মনসিংহ বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা — ৪টি।
➤ রংপুর বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা — ৬টি।
➤ সাতক্ষীরা — খুলনা বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা।
➤ চাঁপাইনবাবগঞ্জ — রাজশাহী বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা।
➤ কুমিল্লা — চট্টগ্রাম বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা।
➤ সোনামসজিদ স্থলবন্দর — চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
➤ আখাউড়া স্থলবন্দর — ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
➤ ভারতের সীমান্তবর্তী পাঁচ রাজ্য — পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
➤ সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলা সীমান্তবর্তী।
➤ উপকূলীয় সংযোগ ও আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত — এক বিষয় নয়।
07
🎯 Level 1

২৫. বাংলাদেশের কোন জেলার সাথে বিদেশের কোনো সীমানা নেই? (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিনটেনডেন্ট: ১৯ / কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক: ২১)

ক

ফরিদপুর

খ

ময়মনসিংহ

গ

বান্দরবান

ঘ

যশোর

✅ সঠিক উত্তর:ক. ফরিদপুর

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ফরিদপুর — আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্তবিহীন জেলা।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ফরিদপুর জেলার সঙ্গে ভারত বা মিয়ানমার—কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সরাসরি আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত নেই। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ একটি জেলা, যা ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত।
❖ ফরিদপুরের ভৌগোলিক অবস্থান: ফরিদপুর বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এর চারপাশে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা ও নদীবিধৌত অঞ্চল রয়েছে।
❖ ঢাকা বিভাগের সীমান্তসংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য: ঢাকা বিভাগের কোনো জেলার সঙ্গে ভারতের বা মিয়ানমারের সরাসরি আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত নেই। ফরিদপুর ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক সীমান্তবিহীন জেলার একটি উদাহরণ।
❖ ফরিদপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ফরিদপুর বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের কেন্দ্র। এ অঞ্চলের প্রশাসনিক ইতিহাস, কৃষি, নদী যোগাযোগ ও সংস্কৃতির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
❖ ফরিদপুরের প্রধান নদী: পদ্মা, মধুমতী, কুমার ও আড়িয়াল খাঁ নদী ফরিদপুর অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা: ভাঙ্গা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের সংযোগস্থল।
❖ বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান: বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কাছে কর্কটক্রান্তি রেখা ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখার পরিচিত ছেদবিন্দু অবস্থিত বলে প্রচলিত ভৌগোলিক তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
❖ কর্কটক্রান্তি রেখা: পৃথিবীর প্রায় ২৩°২৬′ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত একটি কাল্পনিক রেখা। এটি বাংলাদেশের প্রায় মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করে।
❖ ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা: পৃথিবীর গ্রিনিচ মূল মধ্যরেখা থেকে ৯০° পূর্বে অবস্থিত একটি কাল্পনিক দ্রাঘিমারেখা। এর স্থানীয় গড় সৌরসময় গ্রিনিচ থেকে ৬ ঘণ্টা এগিয়ে।
❖ ময়মনসিংহ জেলার সীমান্ত: ময়মনসিংহ জেলার উত্তরাঞ্চলের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার সঙ্গে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে।
❖ ময়মনসিংহ বিভাগের বৈশিষ্ট্য: ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলার সবকটিই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী।
❖ বান্দরবান জেলার সীমান্ত: বান্দরবান বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য জেলা। এর সঙ্গে মিয়ানমারের চিন ও রাখাইন অঞ্চলের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
❖ যশোর জেলার সীমান্ত: যশোর বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের অন্তর্গত এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে সীমান্তবর্তী।
❖ বেনাপোল স্থলবন্দর: যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশ-ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবাণিজ্যপথ।
❖ বেনাপোলের বিপরীতে: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র অবস্থিত।
❖ বাংলাদেশের সীমান্তবিহীন বিভাগ: ঢাকা ও বরিশাল—এই দুটি বিভাগের কোনো জেলার সঙ্গে ভারত বা মিয়ানমারের সরাসরি আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত নেই।
❖ মোট আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলা: বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩২টি আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এবং বাকি ৩২টি জেলা সরাসরি আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্তবিহীন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বিদেশের সঙ্গে কোনো সীমান্ত নেই — ফরিদপুর।
➤ ফরিদপুর অবস্থিত — ঢাকা বিভাগে।
➤ ঢাকা বিভাগের আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত নেই।
➤ বরিশাল বিভাগের আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত নেই।
➤ ফরিদপুর — বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জেলা।
➤ ফরিদপুরের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা — ভাঙ্গা।
➤ কর্কটক্রান্তি ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমার পরিচিত ছেদবিন্দু — ফরিদপুরের ভাঙ্গায়।
➤ কর্কটক্রান্তি রেখা — প্রায় ২৩°২৬′ উত্তর অক্ষাংশ।
➤ ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমার স্থানীয় সৌরসময় — গ্রিনিচ থেকে ৬ ঘণ্টা এগিয়ে।
➤ ফরিদপুরের গুরুত্বপূর্ণ নদী — পদ্মা ও মধুমতী।
➤ ময়মনসিংহ — ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী।
➤ হালুয়াঘাট — ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা।
➤ বান্দরবান — মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী।
➤ যশোর — ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী।
➤ বেনাপোল স্থলবন্দর — যশোর।
➤ বেনাপোলের উপজেলা — শার্শা।
➤ বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের স্থলবন্দর — পেট্রাপোল।
➤ বাংলাদেশের মোট জেলা — ৬৪টি।
➤ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলা — ৩২টি।
➤ আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্তবিহীন জেলা — ৩২টি।
08
🎯 Level 1

২৮. ভারতের কোন কোন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে? (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা: ০৭ / নার্সিং অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স: ২৩)

ক

সিলেট, করিমগঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়

খ

ত্রিপুরা, মিজোরাম, বার্মা ও আসাম

গ

পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্য

ঘ

মেঘালয়, বেনাপোল, আসাম ও ত্রিপুরা

✅ সঠিক উত্তর:গ. পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্য

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্য — প্রদত্ত বিকল্প অনুযায়ী।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পাঁচটি রাজ্যের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে—পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম। প্রশ্নের গ-বিকল্পে চারটি সঠিক ভারতীয় রাজ্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাই প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে গ সঠিক।
❖ বিকল্পের অসম্পূর্ণতা: গ-বিকল্পে মিজোরাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী ভারতের পূর্ণাঙ্গ তালিকায় মিজোরাম অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
❖ পশ্চিমবঙ্গ: বাংলাদেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। এর রাজধানী কলকাতা এবং এটি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘ রাজ্যসীমান্ত ধারণ করে।
❖ আসাম: বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। রাজধানী দিসপুর। আসাম ভারতের Seven Sisters-এর অন্যতম রাজ্য।
❖ মেঘালয়: বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের উত্তরে অবস্থিত। রাজধানী শিলং। এটি পাহাড়, অধিক বৃষ্টিপাত এবং খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য পরিচিত।
❖ ত্রিপুরা: বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। রাজধানী আগরতলা। বাংলাদেশের কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, হবিগঞ্জ ও খাগড়াছড়ি অঞ্চলের সঙ্গে ত্রিপুরার ভৌগোলিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ মিজোরাম: বাংলাদেশের রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সঙ্গে সীমান্তবর্তী। রাজধানী আইজল। এটি একই সঙ্গে মিয়ানমারেরও সীমান্তবর্তী।
❖ ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্তের হিসাব: পশ্চিমবঙ্গ ২২১৬.৭০ কিমি, ত্রিপুরা ৮৫৬ কিমি, মেঘালয় ৪৪৩ কিমি, মিজোরাম ৩১৮ কিমি এবং আসাম ২৬৩ কিমি।
❖ সিলেটের প্রশাসনিক পরিচয়: সিলেট বাংলাদেশের একটি জেলা ও বিভাগীয় শহর। এটি ভারতের কোনো রাজ্য নয়।
❖ করিমগঞ্জের পরিচয়: করিমগঞ্জ ভারতের আসাম রাজ্যের একটি জেলা। এটি বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের নিকটবর্তী হলেও পৃথক ভারতীয় রাজ্য নয়।
❖ বার্মার পরিচয়: বার্মা মিয়ানমারের পূর্বনাম। মিয়ানমার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, ভারতের কোনো রাজ্য নয়।
❖ বেনাপোলের পরিচয়: বেনাপোল বাংলাদেশের যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। এটি কোনো ভারতীয় রাজ্য নয়।
❖ বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত: বাংলাদেশের বেনাপোল এবং ভারতের পেট্রাপোল দুই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবাণিজ্যপথ।
❖ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্যের সংখ্যা: ৫টি। এর মধ্যে ৪টি Seven Sisters-এর সদস্য এবং পশ্চিমবঙ্গ Seven Sisters-এর বাইরে অবস্থিত।
❖ সীমান্তসংক্রান্ত প্রশাসনিক ধারণা: রাষ্ট্র, রাজ্য, জেলা, উপজেলা, শহর ও স্থলবন্দর ভিন্ন প্রশাসনিক বা ভৌগোলিক পরিচয় নির্দেশ করে। এই পার্থক্য বোঝা থাকলে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বিকল্প সহজে শনাক্ত করা যায়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক বিকল্প — গ।
➤ গ-বিকল্পে উল্লেখিত রাজ্য — পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা।
➤ সম্পূর্ণ তালিকায় অতিরিক্ত রাজ্য — মিজোরাম।
➤ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের মোট রাজ্য — ৫টি।
➤ পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী — কলকাতা।
➤ আসামের রাজধানী — দিসপুর।
➤ মেঘালয়ের রাজধানী — শিলং।
➤ ত্রিপুরার রাজধানী — আগরতলা।
➤ মিজোরামের রাজধানী — আইজল।
➤ সিলেট — বাংলাদেশের জেলা ও বিভাগীয় শহর।
➤ করিমগঞ্জ — ভারতের আসাম রাজ্যের জেলা।
➤ বার্মা — মিয়ানমারের পূর্বনাম।
➤ বেনাপোল — বাংলাদেশের স্থলবন্দর।
➤ বেনাপোল অবস্থিত — যশোর জেলার শার্শা উপজেলায়।
➤ বেনাপোলের বিপরীতে — পেট্রাপোল, পশ্চিমবঙ্গ।
➤ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী Seven Sisters রাজ্য — ৪টি।
➤ পশ্চিমবঙ্গ — Seven Sisters-এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
➤ মিজোরাম — বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী।
➤ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ভারতীয় সরকারি দৈর্ঘ্য — ৪০৯৬.৭০ কিলোমিটার।
Advertisement
09
🎯 Level 1

৩৫. বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয় কোনটি? (বিআরইবি’র মিটার রিডার: ২৪ / নিপোর্টের হোম ইকোনমিস্ট: ২৪ / বিআরইবি’র মিটার রিডার: ২৪)

ক

মেঘালয়

খ

ত্রিপুরা

গ

আসাম

ঘ

বিহার

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. বিহার

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: বিহার (Bihar)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বিহার ভারতের একটি রাজ্য, যার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সরাসরি আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত নেই। প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসাম বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী; কিন্তু বিহার বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নয়।
❖ বিহারের ভৌগোলিক অবস্থান: বিহার ভারতের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি রাজ্য। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম দিকে এর অবস্থান হলেও দুই অঞ্চলের মধ্যে প্রধানত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ভূখণ্ড রয়েছে।
❖ বিহারের রাজধানী: পাটনা (Patna)।
❖ বিহারের আন্তর্জাতিক সীমান্ত: বিহারের উত্তরে নেপাল অবস্থিত। অর্থাৎ বিহার ভারতের একটি নেপাল সীমান্তবর্তী রাজ্য, কিন্তু বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নয়।
❖ বিহারের প্রতিবেশী ভারতীয় রাজ্য: উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ।
❖ বিহারের গুরুত্বপূর্ণ নদী: গঙ্গা, কোসি, গণ্ডক ও সোন নদী বিহারের ভূপ্রকৃতি ও কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ বিহারের ঐতিহাসিক গুরুত্ব: প্রাচীন ভারতের মগধ সাম্রাজ্য বর্তমান বিহার অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। পাটলিপুত্র প্রাচীন ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী হিসেবে পরিচিত।
❖ মৌর্য সাম্রাজ্যের ইতিহাস: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও সম্রাট অশোক প্রাচীন মগধ তথা পাটলিপুত্রকেন্দ্রিক সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শাসক ছিলেন।
❖ নালন্দা মহাবিহার: বিহারের নালন্দা প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। এটি বৌদ্ধশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত।
❖ বোধগয়া: বিহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ তীর্থস্থান। প্রচলিত বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী এখানে গৌতম বুদ্ধ বোধিলাভ করেন।
❖ বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত: পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের বিস্তৃত অংশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগ করেছে।
❖ পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ ভূমিকা: বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত ভারতের পাঁচ সীমান্তবর্তী রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘতম।
❖ মেঘালয়ের সীমান্ত: বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের সঙ্গে মেঘালয়ের সীমান্ত রয়েছে। রাজধানী শিলং।
❖ ত্রিপুরার সীমান্ত: বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ত্রিপুরার সীমান্ত রয়েছে। রাজধানী আগরতলা।
❖ আসামের সীমান্ত: বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে আসামের সীমান্ত রয়েছে। রাজধানী দিসপুর।
❖ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের পূর্ণাঙ্গ তালিকা: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
❖ বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের পার্থক্য: পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী, কিন্তু বিহার নয়। বিহার বাংলাদেশ থেকে পৃথক হলেও নেপালের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগ করেছে।
❖ Seven Sisters-এর সম্পর্ক: বিহার ভারতের Seven Sisters-এর সদস্য নয়। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী Seven Sisters রাজ্য হলো আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
❖ ভৌগোলিক গুরুত্ব: বিহারের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার গঙ্গা অববাহিকা, নেপাল-ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্ত, ঐতিহাসিক নগরসভ্যতা এবং প্রাচীন বৌদ্ধশিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নয় — বিহার।
➤ বিহারের রাজধানী — পাটনা।
➤ বিহার — ভারতের পূর্বাঞ্চলের রাজ্য।
➤ বিহারের আন্তর্জাতিক সীমান্ত — নেপালের সঙ্গে।
➤ বিহারের প্রতিবেশী ভারতীয় রাজ্য — উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ।
➤ বিহারের প্রধান নদী — গঙ্গা।
➤ আরও গুরুত্বপূর্ণ নদী — কোসি, গণ্ডক ও সোন।
➤ প্রাচীন মগধ অঞ্চল — বর্তমান বিহারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
➤ প্রাচীন পাটলিপুত্র — বর্তমান পাটনা অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
➤ নালন্দা মহাবিহার — বিহার।
➤ বোধগয়া — বিহার।
➤ মেঘালয় — বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
➤ ত্রিপুরা — বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
➤ আসাম — বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
➤ মিজোরাম — বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
➤ পশ্চিমবঙ্গ — বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
➤ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য — ৫টি।
➤ পাঁচ রাজ্য — পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
➤ বিহার — Seven Sisters-এর সদস্য নয়।
➤ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী Seven Sisters — ৪টি।
➤ বিহার ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত নেই।
10
🎯 Level 1

৩৯. বাংলাদেশের মোট সমুদ্র অঞ্চল কত বর্গকিলোমিটার? (সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজসেবা অফিসার: ০৫)

ক

১,১৫,৭৮২

খ

১,১৮,৮১৩

গ

১,২০,৫২২

ঘ

১,৫৭,২২০

✅ সঠিক উত্তর:খ. ১,১৮,৮১৩

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার — বাংলাদেশের স্বীকৃত সমুদ্রাঞ্চলের প্রচলিত সরকারি আয়তন।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলাদেশের মোট সমুদ্রাঞ্চলের প্রচলিত সরকারি আয়তন ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার (118,813 sq. km.)। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক সীমানাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সরকারি দলিল ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তথ্যে এই আয়তন উল্লেখ করা হয়েছে।
❖ বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ নৌবাহিনী-বিষয়ক তথ্যে ২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির পর ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রাঞ্চলে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
❖ সরকারি গেজেটের তথ্য: বাংলাদেশের ১৪ জানুয়ারি ২০১৫ সালের সরকারি গেজেটের উল্লেখসহ নৌ-প্রশাসনিক প্রতিবেদনে ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রাঞ্চলের হিসাব পাওয়া যায়।
❖ বাংলাদেশের স্থলভাগের আয়তন: প্রচলিত সরকারি হিসাবে ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। এর তুলনায় বাংলাদেশের সমুদ্রাঞ্চলের আয়তনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
❖ স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলের পার্থক্য: বাংলাদেশের স্থলভাগের আয়তন ও সমুদ্রাঞ্চলের আয়তন দুটি পৃথক ভৌগোলিক হিসাব। স্থলভাগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ডের ক্ষেত্রফল এবং সমুদ্রাঞ্চলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সামুদ্রিক অঞ্চল ও অধিকার বিবেচনা করা হয়।
❖ বাংলাদেশের দক্ষিণে: বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal) অবস্থিত। বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের উত্তর-পূর্বাংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসাগর।
❖ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমান্তবর্তী রাষ্ট্র: বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণে ভারত ও মিয়ানমার—এই দুটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সীমারেখা গুরুত্বপূর্ণ।
❖ মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি: ১৪ মার্চ ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনাল ITLOS বাংলাদেশ-মিয়ানমার সামুদ্রিক সীমা নির্ধারণের রায় প্রদান করে।
❖ ITLOS-এর পূর্ণরূপ: International Tribunal for the Law of the Sea। বাংলায় আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনাল।
❖ ITLOS-এর সদর দপ্তর: হামবুর্গ (Hamburg), জার্মানি।
❖ ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি: ৭ জুলাই ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে স্থায়ী সালিশি আদালতের ব্যবস্থাপনায় গঠিত সালিশি ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ-ভারত সামুদ্রিক সীমা নির্ধারণের চূড়ান্ত রায় প্রদান করে।
❖ PCA-এর পূর্ণরূপ: Permanent Court of Arbitration। বাংলায় স্থায়ী সালিশি আদালত।
❖ PCA-এর সদর দপ্তর: দ্য হেগ (The Hague), নেদারল্যান্ডস।
❖ সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির গুরুত্ব: ২০১২ ও ২০১৪ সালের রায়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক সমুদ্র, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মহীসোপানের সীমারেখা সম্পর্কে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।
❖ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন: United Nations Convention on the Law of the Sea (UNCLOS) সমুদ্রের বিভিন্ন অঞ্চল, রাষ্ট্রের অধিকার, সামুদ্রিক সম্পদ ও আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নিয়ম নির্ধারণের প্রধান আন্তর্জাতিক চুক্তি।
❖ UNCLOS গৃহীত হয়: ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে। চুক্তিটি আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর হয় ১৬ নভেম্বর ১৯৯৪।
❖ বাংলাদেশের সামুদ্রিক অঞ্চল: সমুদ্র আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হলো অভ্যন্তরীণ জলসীমা (Internal Waters), আঞ্চলিক সমুদ্র (Territorial Sea), সংলগ্ন অঞ্চল (Contiguous Zone), বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) এবং মহীসোপান (Continental Shelf)।
❖ আঞ্চলিক সমুদ্রের বিস্তার: উপযুক্ত ভিত্তিরেখা (Baseline) থেকে সাধারণভাবে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্রের আঞ্চলিক সমুদ্র বিস্তৃত হতে পারে।
❖ আঞ্চলিক সমুদ্রের অধিকার: আঞ্চলিক সমুদ্রের জলরাশি, সমুদ্রতল, তার নিম্নভূমি এবং ওপরের আকাশসীমায় উপকূলীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব থাকে। তবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বিদেশি জাহাজের নির্দোষ অতিক্রমের মতো কিছু অধিকার বহাল থাকে।
❖ সংলগ্ন অঞ্চল: ভিত্তিরেখা থেকে সর্বোচ্চ ২৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সংলগ্ন অঞ্চল হতে পারে। এখানে রাষ্ট্র নির্দিষ্ট শুল্ক, অভিবাসন, স্বাস্থ্য ও রাজস্বসংক্রান্ত আইন প্রয়োগে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
❖ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (Exclusive Economic Zone): ভিত্তিরেখা থেকে সর্বোচ্চ ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত EEZ বিস্তৃত হতে পারে, তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সীমানা নির্ধারণের কারণে কার্যকর বিস্তার পরিবর্তিত হতে পারে।
❖ EEZ-এ রাষ্ট্রের অধিকার: বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে উপকূলীয় রাষ্ট্রের মৎস্য, তেল, গ্যাস, খনিজ, সামুদ্রিক শক্তি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সম্পদের অনুসন্ধান, সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনায় সার্বভৌম অধিকার থাকে।
❖ সার্বভৌমত্ব ও সার্বভৌম অধিকারের পার্থক্য: আঞ্চলিক সমুদ্রে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব থাকে, কিন্তু EEZ-এ মূলত সম্পদ অনুসন্ধান ও ব্যবহারের জন্য সার্বভৌম অধিকার এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে এখতিয়ার থাকে। পুরো EEZ-কে দেশের স্থলভাগের মতো পূর্ণ সার্বভৌম ভূখণ্ড বলা সঠিক নয়।
❖ মহীসোপান (Continental Shelf): স্থলভাগের প্রাকৃতিক নিমজ্জিত সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত সমুদ্রতল ও তার নিম্নভূমি। উপকূলীয় রাষ্ট্র এখানে প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী খনিজ ও নির্দিষ্ট জীবসম্পদের ওপর অধিকার পেতে পারে।
❖ নটিক্যাল মাইল: সমুদ্রপথের দূরত্ব পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক। ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।
❖ আঞ্চলিক সমুদ্রের দূরত্ব: ১২ × ১.৮৫২ = ২২.২২৪ কিলোমিটার।
❖ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সর্বোচ্চ সাধারণ দূরত্ব: ২০০ × ১.৮৫২ = ৩৭০.৪ কিলোমিটার।
❖ নীল অর্থনীতি (Blue Economy): সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদ পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবহারের ধারণাকে নীল অর্থনীতি বলা হয়।
❖ বাংলাদেশের নীল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত: সামুদ্রিক মৎস্য, নৌপরিবহন, সমুদ্রবন্দর, জাহাজ নির্মাণ, সামুদ্রিক পর্যটন, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, খনিজসম্পদ, নবায়নযোগ্য শক্তি ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।
❖ বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর: চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বাংলাদেশের প্রধান কার্যক্রম পরিচালনাকারী সমুদ্রবন্দর। এছাড়া মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
❖ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ভূমিকা: সমুদ্রাঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌচলাচলের সুরক্ষা, সম্পদ রক্ষা, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ ও উদ্ধার কার্যক্রমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ভূমিকা: উপকূলীয় ও সামুদ্রিক এলাকায় আইন প্রয়োগ, উদ্ধার, চোরাচালান প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দায়িত্ব পালন করে।
❖ ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: বাংলাদেশের ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক অঞ্চল দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামুদ্রিক সম্পদ, খাদ্যনিরাপত্তা, উপকূলীয় অর্থনীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলাদেশের মোট সমুদ্রাঞ্চলের প্রচলিত সরকারি আয়তন — ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার।
➤ বাংলাদেশের স্থলভাগের প্রচলিত আয়তন — ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার।
➤ বাংলাদেশের দক্ষিণে — বঙ্গোপসাগর।
➤ বঙ্গোপসাগর — ভারত মহাসাগরের অংশ।
➤ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমান্তবর্তী দেশ — ভারত ও মিয়ানমার।
➤ মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার রায় — ১৪ মার্চ ২০১২।
➤ মিয়ানমার মামলার রায় প্রদানকারী — ITLOS।
➤ ITLOS-এর পূর্ণরূপ — International Tribunal for the Law of the Sea।
➤ ITLOS-এর সদর দপ্তর — হামবুর্গ, জার্মানি।
➤ ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার চূড়ান্ত রায় — ৭ জুলাই ২০১৪।
➤ ভারত মামলার সালিশি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান — PCA।
➤ PCA-এর পূর্ণরূপ — Permanent Court of Arbitration।
➤ PCA-এর সদর দপ্তর — দ্য হেগ, নেদারল্যান্ডস।
➤ সমুদ্রবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি — UNCLOS।
➤ UNCLOS-এর পূর্ণরূপ — United Nations Convention on the Law of the Sea।
➤ UNCLOS গৃহীত হয় — ১৯৮২।
➤ UNCLOS কার্যকর হয় — ১৬ নভেম্বর ১৯৯৪।
➤ আঞ্চলিক সমুদ্র — ১২ নটিক্যাল মাইল।
➤ সংলগ্ন অঞ্চল — সর্বোচ্চ ২৪ নটিক্যাল মাইল।
➤ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল — সর্বোচ্চ ২০০ নটিক্যাল মাইল।
➤ EEZ-এর পূর্ণরূপ — Exclusive Economic Zone।
➤ ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।
➤ ১২ নটিক্যাল মাইল = ২২.২২৪ কিলোমিটার।
➤ ২০০ নটিক্যাল মাইল = ৩৭০.৪ কিলোমিটার।
➤ EEZ-এ প্রধান অধিকার — সামুদ্রিক সম্পদের অনুসন্ধান, ব্যবহার ও সংরক্ষণ।
➤ আঞ্চলিক সমুদ্রে — রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রযোজ্য।
➤ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে — সম্পদসংক্রান্ত সার্বভৌম অধিকার প্রযোজ্য।
➤ নীল অর্থনীতি — সমুদ্রসম্পদের টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবহার।
➤ বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর — চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা।
➤ মাতারবাড়ী — গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
➤ বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রধান বাহিনী — বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
➤ সমুদ্রাঞ্চল ও স্থলভাগের আয়তন — পৃথক ভৌগোলিক হিসাব।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন