🧠 🔖
Free Topic

ভাষা, বাংলা ভাষা ও ভাষার উৎপত্তি

◉ বাংলা ব্যাকরণ›ভাষা, বাংলা ভাষা ও ভাষার উৎপত্তি

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚89মোট প্রশ্ন
🎯5মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

৭১. ভাষা কী? (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা: ০৬)

ক

শব্দের উচ্চারণ

খ

ধ্বনির উচ্চারণ

গ

বাক্যের উচ্চারণ

ঘ

ভাবের উচ্চারণ

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ভাবের উচ্চারণ

ব্যাখ্যা:

 উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ভাবের উচ্চারণ।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
মানুষ তার মনের চিন্তা, অনুভূতি, ইচ্ছা, অভিজ্ঞতা ও মনোভাব অন্যের কাছে প্রকাশের জন্য যে সুসংবদ্ধ সংকেতব্যবস্থা ব্যবহার করে, তাকে ভাষা বলে।
প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে ভাষাকে মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির মাধ্যমে ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
এখানে মূল বিষয় হলো মনের ভাব প্রকাশ। শুধু শব্দ, ধ্বনি বা বাক্যের উচ্চারণ করলেই ভাষার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না; এগুলোর মাধ্যমে অর্থপূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে হয়।
উদাহরণ:
‘আমি আজ বিদ্যালয়ে যাব।’—বাক্যটির মাধ্যমে বক্তা তার একটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করছে। তাই এটি ভাষার অর্থপূর্ণ ব্যবহার।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. শব্দের উচ্চারণ — শব্দ উচ্চারণ ভাষার একটি প্রক্রিয়া, কিন্তু ভাষার পূর্ণ সংজ্ঞা নয়।
❖ খ. ধ্বনির উচ্চারণ — ধ্বনি কথ্য ভাষার মৌলিক উপাদান, তবে অর্থপূর্ণ যোগাযোগের বিষয়টি এখানে অনুপস্থিত।
❖ গ. বাক্যের উচ্চারণ — বাক্যের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করা যায়, কিন্তু শুধু উচ্চারণকে ভাষার সংজ্ঞা বলা যথেষ্ট নয়।
❖ ঘ. ভাবের উচ্চারণ — প্রদত্ত বিকল্পের মধ্যে মনের ভাব প্রকাশের বিষয়টি সবচেয়ে ভালোভাবে নির্দেশ করে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
ভাষার প্রধান উদ্দেশ্য—মনের ভাব প্রকাশ ও যোগাযোগ।
কথ্য ভাষার মৌলিক উপাদান—ধ্বনি।
ধ্বনির লিখিত প্রতীক—বর্ণ।
অর্থপূর্ণ ও সুসংবদ্ধ সংকেতের সাহায্যে ভাব প্রকাশ করা হয়—ভাষার মাধ্যমে।
02
🎯 Level 1

৭১. ভাষা কী? (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা: ০৬)

ক

শব্দের উচ্চারণ

খ

ধ্বনির উচ্চারণ

গ

বাক্যের উচ্চারণ

ঘ

ভাবের উচ্চারণ

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ভাবের উচ্চারণ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ভাবের উচ্চারণ।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
মানুষ তার মনের চিন্তা, অনুভূতি, ইচ্ছা, অভিজ্ঞতা ও মনোভাব অন্যের কাছে প্রকাশের জন্য যে সুসংবদ্ধ সংকেতব্যবস্থা ব্যবহার করে, তাকে ভাষা বলে।
প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে ভাষাকে মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির মাধ্যমে ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
এখানে মূল বিষয় হলো মনের ভাব প্রকাশ। শুধু শব্দ, ধ্বনি বা বাক্যের উচ্চারণ করলেই ভাষার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না; এগুলোর মাধ্যমে অর্থপূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে হয়।
উদাহরণ:
‘আমি আজ বিদ্যালয়ে যাব।’—বাক্যটির মাধ্যমে বক্তা তার একটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করছে। তাই এটি ভাষার অর্থপূর্ণ ব্যবহার।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. শব্দের উচ্চারণ — শব্দ উচ্চারণ ভাষার একটি প্রক্রিয়া, কিন্তু ভাষার পূর্ণ সংজ্ঞা নয়।
❖ খ. ধ্বনির উচ্চারণ — ধ্বনি কথ্য ভাষার মৌলিক উপাদান, তবে অর্থপূর্ণ যোগাযোগের বিষয়টি এখানে অনুপস্থিত।
❖ গ. বাক্যের উচ্চারণ — বাক্যের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করা যায়, কিন্তু শুধু উচ্চারণকে ভাষার সংজ্ঞা বলা যথেষ্ট নয়।
❖ ঘ. ভাবের উচ্চারণ — প্রদত্ত বিকল্পের মধ্যে মনের ভাব প্রকাশের বিষয়টি সবচেয়ে ভালোভাবে নির্দেশ করে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
• ভাষার প্রধান উদ্দেশ্য—মনের ভাব প্রকাশ ও যোগাযোগ।
• কথ্য ভাষার মৌলিক উপাদান—ধ্বনি।
• ধ্বনির লিখিত প্রতীক—বর্ণ।
• অর্থপূর্ণ ও সুসংবদ্ধ সংকেতের সাহায্যে ভাব প্রকাশ করা হয়—ভাষার মাধ্যমে।
বিশেষ সংশোধনী: আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানে ভাষা কেবল উচ্চারিত ধ্বনিনির্ভর নয়। স্বীকৃত সাংকেতিক ভাষাও পূর্ণাঙ্গ প্রাকৃতিক ভাষা। তাই ‘ভাবের উচ্চারণ’ এই পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর হলেও ‘ভাব প্রকাশের সুসংবদ্ধ ব্যবস্থা’ অধিক পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা।
Advertisement
03
🎯 Level 1

৭৫. কোনটি ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়? (৯ম প্রভাষক নিবন্ধন)

ক

অর্থদ্যোতকতা

খ

ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি

গ

মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত ধ্বনি

ঘ

জনসমাজে ব্যবহারযোগ্যতা

✅ সঠিক উত্তর:খ. ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ প্রচলিত পরীক্ষার উত্তর: ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণের সংজ্ঞায় কথ্য ভাষার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়।
প্রথম বৈশিষ্ট্য—অর্থদ্যোতকতা: ভাষার মাধ্যমে অর্থ বা ভাব প্রকাশিত হয়। যেমন ‘আগুন’ শব্দটি একটি নির্দিষ্ট ধারণা প্রকাশ করে।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য—অর্থবোধক ধ্বনি: কথ্য ভাষায় মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সাহায্যে ধ্বনি উৎপন্ন হয়। এসব ধ্বনির নিয়মসম্মত বিন্যাসে শব্দ ও বাক্য তৈরি হয়।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য—সামাজিক ব্যবহার: ভাষা সমাজের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যম। এটি সামাজিক পরিবেশে অর্জিত, ব্যবহৃত ও পরিবর্তিত হয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
• অর্থদ্যোতকতা—অর্থ প্রকাশের ক্ষমতা।
• কথ্য ভাষার প্রধান প্রকাশমাধ্যম—অর্থবোধক ধ্বনি।
• ভাষা একটি সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থা।
Ik7u০৬. ভাষার সংবিধান কোনটি? (যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিসার (ক্যাশ): ১৮)
ক. বর্ণমালা
খ. ধ্বনি
গ. ব্যাকরণ
ঘ. সমাস
উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ব্যাকরণ।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
যে শাস্ত্রে ভাষার বিভিন্ন উপাদানের গঠন, প্রকৃতি, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং শুদ্ধ ব্যবহারের নিয়ম বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে ব্যাকরণ (Grammar) বলে।
সংবিধান যেমন রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো নির্ধারণ করে, তেমনি ব্যাকরণ ভাষার গঠন ও প্রয়োগের নিয়মগুলো ব্যাখ্যা করে। এ কারণে উপমা হিসেবে ব্যাকরণকে ভাষার সংবিধান বলা হয়।
উদাহরণ:
‘আমি বিদ্যালয়ে যাই।’—এটি একটি শুদ্ধ বাক্য।
‘আমি বিদ্যালয়ে যায়।’—এখানে কর্তা ও ক্রিয়ার পুরুষগত অসংগতি রয়েছে।
ব্যাকরণের সাহায্যে এই অসংগতি শনাক্ত করে শুদ্ধ বাক্য গঠন করা যায়।
ব্যাকরণের চারটি প্রধান আলোচ্য বিষয়—
1. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology)
2. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology)
3. বাক্যতত্ত্ব (Syntax)
4. অর্থতত্ত্ব (Semantics)
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. বর্ণমালা — ভাষার লিখিত বর্ণগুলোর নির্দিষ্ট সমষ্টি।
❖ খ. ধ্বনি — কথ্য ভাষার মৌলিক উচ্চারণগত একক।
❖ গ. ব্যাকরণ — ভাষার গঠন ও ব্যবহারবিধি ব্যাখ্যা করে; সঠিক।
❖ ঘ. সমাস — একাধিক পদ বা শব্দের সমন্বয়ে নতুন পদ গঠনের একটি ব্যাকরণিক প্রক্রিয়া।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
• ভাষার সংবিধান—ব্যাকরণ।
• ব্যাকরণের ইংরেজি—Grammar।
• ব্যাকরণ ভাষাকে বিশ্লেষণ ও বর্ণনা করে।
• ভাষা আগে বিকশিত হয়েছে, তার বিশ্লেষণের জন্য পরে ব্যাকরণশাস্ত্র গড়ে উঠেছে।
• বাংলা ব্যাকরণের প্রধান আলোচ্য বিষয়—চারটি।
বিশেষ তথ্য: ব্যাকরণ কোনো ভাষার সব নিয়ম নতুন করে তৈরি করে না; মানুষের প্রচলিত ভাষাব্যবস্থার নিয়মগুলোও পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে।
04
🎯 Level 1

৮১. ভাষার মূল উপকরণ কী? (সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের উচ্চমান সহকারী: ২৩)

ক

বর্ণ

খ

শব্দ

গ

ধ্বনি

ঘ

বাক্য

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. বাক্য

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ প্রচলিত প্রশ্নসমাধান অনুযায়ী সঠিক উত্তর: বাক্য।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণের বিভিন্ন প্রশ্নসংকলনে ভাষার মূল উপকরণ হিসেবে বাক্য উল্লেখ করা হয়।
বাক্য হলো এক বা একাধিক পদের এমন অর্থপূর্ণ ও নিয়মসম্মত বিন্যাস, যার মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ বক্তব্য বা মনোভাব প্রকাশ করা যায়।
উদাহরণ:
‘পাখি’—একটি শব্দ।
‘পাখি উড়ছে।’—একটি সম্পূর্ণ বাক্য।
বাক্যের মাধ্যমে বক্তার বক্তব্য অপেক্ষাকৃত পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ পায়। এ কারণেই প্রচলিত চাকরির পরীক্ষায় বাক্যকে ভাষার মূল উপকরণ বলা হয়।
ভাষার উপাদান ও উপকরণের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য:
প্রশ্ন | প্রচলিত উত্তর
ভাষার মূল উপাদান কী? | ধ্বনি
ভাষার ক্ষুদ্রতম একক কী? | ধ্বনি
ভাষার মূল উপকরণ কী? | বাক্য
বাক্যের মূল উপাদান কী? | শব্দ
ধ্বনির লিখিত রূপ কী? | বর্ণ
একাধিক চাকরির প্রশ্নসংকলনে ভাষার মূল উপকরণ হিসেবে বাক্য এবং মূল উপাদান হিসেবে ধ্বনির পার্থক্য দেখানো হয়েছে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
• ভাষার মূল উপকরণ—বাক্য।
• ভাষার মূল উপাদান—ধ্বনি।
• বাক্যের মূল উপাদান—শব্দ।
• বাক্য গঠনে প্রয়োজন—ব্যাকরণসম্মত পদবিন্যাস ও অর্থপূর্ণতা।
05
🎯 Level 1

০২. ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার কয়টি শাখা? / ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার প্রধান শাখা কয়টি? (সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজসেবা অফিসার: ০৫)

ক

একটা

খ

দুইটা

গ

তিনটা

ঘ

চারটা

✅ সঠিক উত্তর:খ. দুইটা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ প্রচলিত শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী সঠিক উত্তর: দুইটা।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
ইন্দো-ইউরোপীয় (Indo-European) পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ভাষাপরিবার। বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ফারসি, গ্রিক, স্পেনীয়, ফরাসি, জার্মান ও রুশসহ বহু ভাষা এই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
প্রচলিত ঐতিহাসিক ধ্বনিতাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগুলোকে দুটি প্রধান দলে ভাগ করা হয়—
1. কেন্তুম (Centum)
2. শতম (Satem)
এই বিভাজনের ভিত্তি হলো আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার কিছু ব্যঞ্জনধ্বনির বিভিন্ন ভাষায় ভিন্নভাবে বিবর্তিত হওয়া। বিশেষ করে ‘একশত’ অর্থবোধক শব্দের প্রাচীন ধ্বনিগত পরিবর্তনের ভিত্তিতে কেন্তুম ও শতম নামের প্রচলন ঘটে।
✦ কেন্তুম ভাষাগোষ্ঠী:
প্রচলিত শ্রেণিবিভাগে এই দলে গ্রিক, ইতালিক, কেল্টিক, জার্মানিক, হিত্তিক এবং তুখারিক ভাষাশাখার উল্লেখ করা হয়।
উদাহরণ: ইংরেজি, জার্মান, লাতিন, ফরাসি ও গ্রিক।
✦ শতম ভাষাগোষ্ঠী:
এই দলে ইন্দো-ইরানীয়, বাল্টো-স্লাভিক এবং ঐতিহ্যগত শ্রেণিবিভাগে আর্মেনীয় ও আলবেনীয় ভাষাশাখাকে রাখা হয়।
উদাহরণ: বাংলা, হিন্দি, সংস্কৃত, ফারসি ও রুশ।
বাংলা ভাষার অবস্থান:
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবার
শতম ধ্বনিগত শ্রেণি
ইন্দো-ইরানীয় ভাষাশাখা
ইন্দো-আর্য ভাষাশাখা
বাংলা ভাষা
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. একটা — প্রচলিত কেন্তুম–শতম বিভাজনে একটি নয়।
❖ খ. দুইটা — কেন্তুম ও শতম; পরীক্ষার সঠিক উত্তর।
❖ গ. তিনটা — প্রশ্নে উল্লিখিত প্রচলিত শ্রেণিবিভাগে তিনটি নয়।
❖ ঘ. চারটা — একইভাবে চারটি নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার প্রচলিত দুটি ধ্বনিগত শ্রেণি—কেন্তুম ও শতম।
• কেন্তুমের ইংরেজি—Centum।
• শতমের ইংরেজি—Satem।
• বাংলা ভাষা যে ভাষাপরিবারের অন্তর্গত—ইন্দো-ইউরোপীয়।
• বাংলা ভাষার শাখা—ইন্দো-আর্য।
• ইন্দো-আর্য যে শাখার অন্তর্গত—ইন্দো-ইরানীয়।
• তুখারিক—কেন্তুম ভাষার উদাহরণ।
• সংস্কৃত—শতম ভাষার উদাহরণ।
◈ গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সংশোধনী: আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানে কেন্তুম ও শতমকে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের একমাত্র দুটি বংশগত শাখা বলা হয় না। এগুলো প্রধানত ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে গঠিত দুটি শ্রেণি। প্রকৃত বংশগত ভাষাশাখা দুইটির বেশি। তাই প্রশ্নটির ‘প্রধান শাখা’ শব্দটি পুরোনো শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী বোঝা উচিত।
Advertisement
06
🎯 Level 1

০৪. ভারতীয় আর্য ভাষার নিদর্শন যে গ্রন্থে পাওয়া যায়— (উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা: ১৬)

ক

রামায়ণ

খ

মহাভারত

গ

ঋগ্বেদ

ঘ

চর্যাপদ

✅ সঠিক উত্তর:গ. ঋগ্বেদ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ঋগ্বেদ।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
ঋগ্বেদ (Rigveda) হলো প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার অন্যতম প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক নিদর্শন।
এটি বৈদিক সংস্কৃত ভাষায় রচিত। ঋগ্বেদের ভাষা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষাবিজ্ঞানীরা প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার ধ্বনিগত, রূপগত, শব্দগত এবং ব্যাকরণিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
ঋগ্বেদ চারটি বেদের মধ্যে প্রাচীনতম। এর প্রাচীনতম স্তরের রচনাকাল সাধারণভাবে আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মধ্যভাগে ধরা হয়। দীর্ঘদিন মৌখিকভাবে সংরক্ষণের পর বৈদিক সাহিত্য লিপিবদ্ধ হয়।
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ববিষয়ক পাঠ্যসামগ্রীতেও ঋগ্বেদের প্রাচীনতম সূক্তগুলোকে প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
✦ ঋগ্বেদের গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি:
❖ ঋগ্বেদ চারটি বেদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন।
❖ ঋগ্বেদের ভাষা বৈদিক সংস্কৃত।
❖ ঋগ্বেদে দেবদেবীর উদ্দেশে রচিত স্তোত্র বা সূক্ত সংকলিত হয়েছে।
❖ এর প্রচলিত বিন্যাসে ১০টি মণ্ডল রয়েছে।
❖ ঋগ্বেদে মোট ১,০২৮টি সূক্ত গণনা করা হয়; এই গণনায় বালখিল্য সূক্তগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
❖ প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার গবেষণায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস।
✦ চারটি বেদের পরিচয়:
বেদ | প্রধান পরিচিতি
ঋগ্বেদ | স্তোত্র ও সূক্তসংকলন
সামবেদ | যজ্ঞীয় গানের সঙ্গে সম্পর্কিত মন্ত্র
যজুর্বেদ | যজ্ঞসংক্রান্ত মন্ত্র ও আচার
অথর্ববেদ | প্রার্থনা, মন্ত্র ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় বিষয়
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. রামায়ণ — প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য। এর সংস্কৃত সংস্করণ প্রাচীন আর্যভাষার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলেও ঋগ্বেদের তুলনায় পরবর্তী সাহিত্যিক স্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ খ. মহাভারত — প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য। এর ভাষার সঙ্গে সংস্কৃতের সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু প্রাচীনতম বৈদিক নিদর্শন হিসেবে এটি সঠিক নয়।
❖ গ. ঋগ্বেদ — প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীনতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক নিদর্শন; সঠিক।
❖ ঘ. চর্যাপদ — বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম পরিচিত লিখিত নিদর্শন; বৈদিক আর্যভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
• প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীনতম প্রধান নিদর্শন—ঋগ্বেদ।
• ঋগ্বেদের ভাষা—বৈদিক সংস্কৃত।
• সবচেয়ে প্রাচীন বেদ—ঋগ্বেদ।
• বেদের সংখ্যা—৪টি।
• ঋগ্বেদের মণ্ডল—১০টি।
• ঋগ্বেদের সূক্ত—১,০২৮টি।
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম পরিচিত লিখিত নিদর্শন—চর্যাপদ।
• চর্যাপদ আবিষ্কার করেন—হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
• চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয়—১৯০৭ সালে, নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে।
07
🎯 Level 1

১২. বাঙালি জাতির মাতৃভাষা কোনটি? (পরিবেশ অধিদপ্তরের ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট: ২০)

ক

উর্দু

খ

ইংরেজি

গ

আরবি

ঘ

বাংলা

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. বাংলা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: বাংলা।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
বাংলা বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রধান মাতৃভাষা। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং আসামের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলা ভাষা ব্যাপকভাবে প্রচলিত।
মাতৃভাষা হলো সাধারণভাবে এমন ভাষা, যা মানুষ শৈশবে পরিবার ও সামাজিক পরিবেশ থেকে প্রথম অর্জন করে।
বাংলা ভাষা বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৫২ সালে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদদের স্মরণে বাংলাদেশে শহীদ দিবস পালিত হয় এবং জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা UNESCO দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. উর্দু — দক্ষিণ এশিয়ার একটি ইন্দো-আর্য ভাষা; প্রশ্নটির উত্তর নয়।
❖ খ. ইংরেজি — আন্তর্জাতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ভাষা; বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রধান মাতৃভাষা নয়।
❖ গ. আরবি — সেমিটিক ভাষাপরিবারের ভাষা; বাংলা নয়।
❖ ঘ. বাংলা — বাঙালির প্রধান মাতৃভাষা; সঠিক।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
❖ বাঙালি জাতির প্রধান মাতৃভাষা—বাংলা।
❖ বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা—বাংলা।
❖ ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক দিন—২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২।
❖ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস—২১ ফেব্রুয়ারি।
❖ UNESCO আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়—১৯৯৯ সালে।
❖ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রথম পালিত হয়—২০০০ সালে।
08
🎯 Level 1

১৬. বাংলা ভাষার উৎপত্তিকাল— / বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়— (বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা: ১৮)

ক

সপ্তম শতাব্দী

খ

অষ্টম শতাব্দী

গ

নবম শতাব্দী

ঘ

দ্বাদশ শতাব্দী

✅ সঠিক উত্তর:ক. সপ্তম শতাব্দী

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: সপ্তম শতাব্দী
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষার উৎপত্তিকাল নিয়ে ভাষাবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এর মধ্যে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম মত—ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
তাঁর মতে, বাংলা ভাষার উদ্ভব আনুমানিক ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে, অর্থাৎ সপ্তম শতাব্দীতে।
তিনি বাংলা ভাষার উৎপত্তিকে গৌড়ীয় প্রাকৃত ও গৌড়ীয় অপভ্রংশের বিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত করেন।
দ্বিতীয় মত—ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
তাঁর মতে, বাংলা ভাষার স্বতন্ত্র উদ্ভব ঘটে আনুমানিক ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে, অর্থাৎ দশম শতাব্দীতে।
তিনি মাগধী প্রাকৃতের অপভ্রংশ–অবহট্ঠ ধারার সঙ্গে বাংলা ভাষার উৎপত্তিকে সম্পর্কিত করেন।
দুই ভাষাবিদের মতের তুলনা:
ভাষাবিদ | আনুমানিক উৎপত্তিকাল | শতাব্দী
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ | সপ্তম
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় | ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ | দশম
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. সপ্তম শতাব্দী — ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে সঠিক।
❖ খ. অষ্টম শতাব্দী — চর্যাপদের কিছু পদ রচনার সম্ভাব্য সময়ের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ; তবে প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর নয়।
❖ গ. নবম শতাব্দী — প্রাচীন বাংলার সাহিত্যিক নিদর্শনের সময়কাল হিসেবে আলোচিত; প্রশ্নের প্রত্যাশিত উত্তর নয়।
❖ ঘ. দ্বাদশ শতাব্দী — বাংলার প্রাচীন সাহিত্যিক বিকাশের পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু প্রদত্ত প্রশ্নের উত্তর নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
❖ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলার জন্ম—সপ্তম শতাব্দী।
❖ শহীদুল্লাহর মতে আনুমানিক জন্মসাল—৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ সুনীতিকুমারের মতে বাংলার জন্ম—দশম শতাব্দী।
❖ সুনীতিকুমারের মতে আনুমানিক জন্মসাল—৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ শহীদুল্লাহর মতের প্রধান প্রাকৃত উৎস—গৌড়ীয়।
❖ সুনীতিকুমারের মতের প্রধান প্রাকৃত উৎস—মাগধী।
Advertisement
09
🎯 Level 1

২০. বাংলা ভাষার মূল উৎস কোনটি? / বাংলা ভাষার মূল উৎস কী? (বিএমইটির অফিস সহায়ক: ২৩)

ক

অনার্য ভাষা

খ

কানাড়ি ভাষা

গ

হিন্দি ভাষা

ঘ

বৈ উত্তর: ঘ

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. বৈ উত্তর: ঘ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: বৈদিক ভাষা (Vedic Language)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের ইন্দো-ইরানীয় শাখার ভারতীয় আর্য উপশাখার অন্তর্গত। এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ভাষাপরিবারের ঐতিহাসিক বিবর্তনের ধারায় গড়ে ওঠা একটি আধুনিক ভাষা।
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার সবচেয়ে পুরোনো সংরক্ষিত সাহিত্যিক নিদর্শন পাওয়া যায় ঋগ্বেদে। ঋগ্বেদসহ প্রাচীন বেদসমূহের ভাষাকে বলা হয় বৈদিক ভাষা বা বৈদিক সংস্কৃত (Vedic Sanskrit)।
ভারতীয় আর্যভাষার এই প্রাচীন পর্যায়ের বিভিন্ন কথ্য ভাষারূপ দীর্ঘ সময় ধরে পরিবর্তিত হয়ে মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার জন্ম দেয়। এরপর প্রাকৃত, অপভ্রংশ ও অবহট্টের বিভিন্ন পূর্বাঞ্চলীয় রূপের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার বিকাশ ঘটে।
বাংলাপিডিয়ার Bangla Language নিবন্ধ অনুযায়ী, বাংলা আনুমানিক ৯০০–১০০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মাগধী প্রাকৃতের পরবর্তী অপভ্রংশ ও অবহট্ট পর্যায়ের মধ্য দিয়ে স্বতন্ত্র নব্য ভারতীয় আর্যভাষা হিসেবে গড়ে ওঠে।
✦ ভারতীয় আর্যভাষার তিনটি ঐতিহাসিক স্তর
স্তর | প্রচলিত সময়কাল | প্রধান ভাষারূপ
প্রথম: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা | ১৫০০–৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ | বৈদিক ভাষা, প্রাচীন সংস্কৃত
দ্বিতীয়: মধ্য ভারতীয় আর্যভাষা | ৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ–১০০০ খ্রিষ্টাব্দ | পালি, প্রাকৃত, অপভ্রংশ ও অবহট্ট
তৃতীয়: নব্য ভারতীয় আর্যভাষা | আনুমানিক ১০০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান | বাংলা, হিন্দি, অসমিয়া, ওড়িয়া প্রভৃতি
এই সময়সীমাগুলো বাংলা ব্যাকরণের প্রচলিত আনুমানিক বিভাজন। প্রকৃত ভাষাবিকাশে বিভিন্ন পর্যায় পরস্পরের সঙ্গে মিশে গেছে; পরিবর্তন কোনো একটি নির্দিষ্ট বছরে ঘটেনি।
✦ বৈদিক ভাষা কী?
বৈদিক ভাষা (Vedic Language) হলো প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার একটি প্রাচীন সাহিত্যিক ও ধর্মীয় রূপ, যা বেদসমূহে সংরক্ষিত রয়েছে।
বিশেষ করে ঋগ্বেদে বৈদিক ভাষার সবচেয়ে প্রাচীন সংরক্ষিত নিদর্শন পাওয়া যায়।
❖ প্রথম পর্যায়—ঐতিহাসিক পরিচয়: বৈদিক ভাষা প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার অন্তর্ভুক্ত। এর ইতিহাস ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন বৈদিক যুগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ দ্বিতীয় পর্যায়—ঋগ্বেদের ভাষা: ঋগ্বেদের স্তোত্রগুলো বৈদিক ভাষার প্রাচীন সাহিত্যিক নিদর্শন।
❖ তৃতীয় পর্যায়—ধ্রুপদি সংস্কৃতের সঙ্গে সম্পর্ক: পরবর্তী সময়ে সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণিক রূপ আরও সুসংহত হয়। পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী এই ব্যাকরণিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
❖ চতুর্থ পর্যায়—প্রাকৃত ভাষার বিকাশ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার বিভিন্ন কথ্য ধারার বিবর্তনে মধ্য ভারতীয় আর্যভাষা ও প্রাকৃত ভাষারূপের বিকাশ ঘটে।
❖ পঞ্চম পর্যায়—নব্য আর্যভাষার উদ্ভব: প্রাকৃত ও অপভ্রংশের আঞ্চলিক ধারার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা, হিন্দি, অসমিয়া, ওড়িয়া প্রভৃতি আধুনিক আর্যভাষা গড়ে ওঠে।
✦ বৈদিক, সংস্কৃত, প্রাকৃত ও বাংলা ভাষার পার্থক্য
ভাষা বা ভাষারূপ | ঐতিহাসিক পরিচিতি | বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পর্ক
বৈদিক ভাষা | প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার সাহিত্যিক রূপ | দূরবর্তী ঐতিহাসিক ভাষাধারার প্রতিনিধি
ধ্রুপদি সংস্কৃত | ব্যাকরণসম্মত প্রাচীন সাহিত্যিক ভাষা | বাংলা শব্দভান্ডারে ব্যাপক প্রভাব
মাগধী প্রাকৃত | মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার পূর্বাঞ্চলীয় রূপ | বাংলার গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূরি
অপভ্রংশ | মধ্য আর্যভাষার পরবর্তী রূপসমূহ | নব্য আর্যভাষার বিকাশের অন্তর্বর্তী পর্যায়
অবহট্ট | অপভ্রংশ-পরবর্তী ভাষারূপ | প্রাচীন বাংলার নিকটবর্তী ঐতিহাসিক পর্যায়
বাংলা | নব্য ভারতীয় আর্যভাষা | স্বতন্ত্র আধুনিক ভাষা
✦ বাংলা ভাষার তিনটি ঐতিহাসিক যুগ
বাংলাপিডিয়ার শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী বাংলা ভাষার ইতিহাসকে তিনটি প্রধান যুগে ভাগ করা হয়।
যুগ | সময়কাল | গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও বৈশিষ্ট্য
প্রাচীন বাংলা | ৯০০/১০০০–১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ | চর্যাপদ
মধ্য বাংলা | ১৩৫০–১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ | শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য ও অনুবাদ সাহিত্য
আধুনিক বাংলা | ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান | আধুনিক বাংলা গদ্য, কবিতা ও সাহিত্য
10
🎯 Level 1

২৪. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, কোন প্রাকৃত স্তর থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি? (রূপালী ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ): ১৮)

ক

মাগধী প্রাকৃত

খ

গৌড়ীয় প্রাকৃত

গ

মহারাষ্ট্রী প্রাকৃত

ঘ

অর্ধ-মাগধী প্রাকৃত

✅ সঠিক উত্তর:খ. গৌড়ীয় প্রাকৃত

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: গৌড়ীয় প্রাকৃত।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন বাংলা ভাষার ইতিহাস ও তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ গবেষক।
তিনি বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে মত প্রকাশ করেন যে বাংলা ভাষা গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে গৌড়ীয় অপভ্রংশের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে।
বাংলা ভাষার আদি ইতিহাস নির্ধারণে তিনি চর্যাপদসহ বিভিন্ন প্রাচীন ভাষাগত নিদর্শন পর্যালোচনা করেন।
তাঁর মতে বাংলা ভাষার স্বতন্ত্র বিকাশের সময় আনুমানিক সপ্তম শতাব্দী।
✦ শহীদুল্লাহ ও সুনীতিকুমারের মতভেদের তুলনা:
বিষয় | ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
প্রাকৃত উৎস | গৌড়ীয় প্রাকৃত | মাগধী প্রাকৃত
অপভ্রংশের ধারা | গৌড়ীয় অপভ্রংশ | মাগধী অপভ্রংশ
আনুমানিক উদ্ভব | ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ | ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ
শতাব্দী | সপ্তম | দশম
এ পার্থক্য বাংলার উৎপত্তিসংক্রান্ত গবেষণা ও শিক্ষামূলক প্রশ্নসমাধানে সুপরিচিত।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
❖ শহীদুল্লাহ—গৌড়ীয় প্রাকৃত।
❖ সুনীতিকুমার—মাগধী প্রাকৃত।
❖ শহীদুল্লাহ—সপ্তম শতাব্দী।
❖ সুনীতিকুমার—দশম শতাব্দী।
❖ বাংলার প্রাচীন সাহিত্যিক নিদর্শন—চর্যাপদ।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. গৌড়ীয় প্রাকৃত।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন