🧠 🔖
👑 Premium Topic

ষ-ত্ব বিধান

◉ বাংলা ব্যাকরণ›ষ-ত্ব বিধান

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚56মোট প্রশ্ন
🎯4মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০৫. শুদ্ধ বানান কোনটি? (সমন্বিত ৯টি ব্যাংক ও ২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র অফিসার: ২৬; পেট্রোবাংলার সহকারী ব্যবস্থাপক: ২৪)

ক

অনুষঙ্গিক

খ

আনুসঙ্গিক

গ

অনুষাঙ্গিক

ঘ

আনুষঙ্গিক

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. আনুষঙ্গিক

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ঘ. আনুষঙ্গিক।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘আনুষঙ্গিক’ একটি তৎসম বিশেষণ। এর অর্থ সংশ্লিষ্ট, প্রাসঙ্গিক, মূল বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত, সহায়ক বা গৌণ।
❖ শব্দটির মূল বিশেষ্য হলো অনুষঙ্গ।
❖ ‘অনুষঙ্গ’ শব্দের অর্থ সম্পর্ক, প্রসঙ্গ, সংশ্লিষ্ট বিষয় বা সংযোগ।
❖ বিশেষণরূপে শব্দটির স্বরপরিবর্তন ঘটে—
➤ অনুষঙ্গ → আনুষঙ্গিক।
➤ অনুষঙ্গ — বিশেষ্য।
➤ আনুষঙ্গিক — বিশেষণ।
❖ সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত বিশেষণটির আদ্যস্বর বৃদ্ধি পেয়ে ‘অ’-এর স্থানে ‘আ’ হয়েছে। তাই ‘অনুষঙ্গ’ সঠিক হলেও সংশ্লিষ্ট প্রমিত বিশেষণ ‘আনুষঙ্গিক’।
✦ ব্যবহারের উদাহরণ:
➤ আনুষঙ্গিক ব্যয়।
➤ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম।
➤ আনুষঙ্গিক সুবিধা।
➤ আনুষঙ্গিক তথ্য।
➤ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম।
❖ সরকারি অভিগম্য বাংলা অভিধানে ‘অনুষঙ্গ’ ও ‘আনুষঙ্গিক’ পৃথক ভুক্তি হিসেবে রয়েছে এবং ‘আনুষঙ্গিক’-এর অর্থ সংশ্লিষ্ট, গৌণ ও অপ্রধান হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. অনুষঙ্গিক — পরীক্ষার প্রত্যাশিত প্রমিত রূপ নয়। মূল বিশেষ্য ‘অনুষঙ্গ’ হলেও বিশেষণটি ‘আনুষঙ্গিক’।
❖ খ. আনুসঙ্গিক — অশুদ্ধ। এখানে মূর্ধন্য ‘ষ’-এর পরিবর্তে দন্ত্য ‘স’ ব্যবহৃত হয়েছে।
❖ গ. অনুষাঙ্গিক — অশুদ্ধ। শব্দটির প্রথম স্বর এবং মধ্যবর্তী বানানরূপ প্রমিত বিশেষণটির সঙ্গে মেলে না।
❖ ঘ. আনুষঙ্গিক — সঠিক। শব্দটির সব বর্ণ ও স্বরচিহ্ন যথাযথ রয়েছে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
❖ অনুষঙ্গ — শুদ্ধ বিশেষ্য।
❖ আনুষঙ্গিক — শুদ্ধ বিশেষণ।
❖ অনুষঙ্গ অর্থ—প্রসঙ্গ বা সম্পর্ক।
❖ আনুষঙ্গিক অর্থ—সংশ্লিষ্ট বা গৌণ।
❖ আনুষঙ্গিক ব্যয় — শুদ্ধ প্রয়োগ।
❖ অনুষঙ্গ ও আনুষঙ্গিক—একই শব্দপরিবারের সদস্য।
❖ আনুষঙ্গিক শব্দের ইংরেজি—Incidental, Ancillary বা Related।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ঘ. আনুষঙ্গিক।"
02
🎯 Level 1

০৮. কোন ধরনের শব্দে মূর্ধন্য ‘ষ’-এর প্রয়োগ রয়েছে? (পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা: ২৬; ইসলামী ব্যাংকের ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার: ২৫)

ক

বাংলা

খ

তৎসম

গ

তদ্ভব

ঘ

বিদেশি

✅ সঠিক উত্তর:খ. তৎসম

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: খ. তৎসম।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অনেক শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। সংস্কৃত থেকে প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বাংলা ভাষায় গৃহীত শব্দকে তৎসম শব্দ বলা হয়।
❖ তৎসম শব্দের বানানে সংস্কৃতের মূর্ধন্য ‘ষ’ সংরক্ষিত থাকে।
❖ তৎসম শব্দে দন্ত্য ‘স’-এর পরিবর্তে কখন মূর্ধন্য ‘ষ’ হবে, তার নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।
✦ তৎসম শব্দে ষ-এর উদাহরণ:
➤ ঋষি।
➤ কৃষক।
➤ বর্ষা।
➤ ঘর্ষণ।
➤ পাষাণ।
➤ ভাষা।
➤ ভূষণ।
➤ ঔষধ।
➤ আষাঢ়।
❖ অন্যদিকে খাঁটি বাংলা, দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দে সংস্কৃত ষত্ব বিধান সাধারণভাবে প্রয়োগ করা হয় না।
✦ বিদেশি শব্দে দন্ত্য স-এর উদাহরণ:
➤ স্টেশন।
➤ পোস্ট।
➤ মাস্টার।
➤ জিনিস।
➤ পোশাক।
➤ পুলিশ।
➤ অফিস।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. বাংলা — ভুল। প্রশ্নে ‘বাংলা’ বলতে খাঁটি বাংলা শব্দ বোঝানো হয়েছে। এসব শব্দে সংস্কৃত ষত্ব বিধান সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয়।
❖ খ. তৎসম — সঠিক। তৎসম শব্দে সংস্কৃতমূল মূর্ধন্য ‘ষ’ সংরক্ষিত থাকে।
❖ গ. তদ্ভব — ভুল। তদ্ভব শব্দ প্রাচীন আর্যভাষার রূপ থেকে ধ্বনিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলায় এসেছে। এসব শব্দে সাধারণত সংস্কৃত বানান সরাসরি বজায় থাকে না।
❖ ঘ. বিদেশি — ভুল। বিদেশি শব্দে সংস্কৃত ষত্ব বিধান আরোপ করা হয় না।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
❖ ষত্ব বিধান প্রধানত প্রযোজ্য—তৎসম শব্দে।
❖ ণত্ব বিধান প্রধানত প্রযোজ্য—তৎসম শব্দে।
❖ তৎসম অর্থ—সংস্কৃত থেকে প্রায় অপরিবর্তিত শব্দ।
❖ তদ্ভব অর্থ—ঐতিহাসিক ধ্বনি পরিবর্তনে বিকশিত শব্দ।
❖ ঋষি — তৎসম।
❖ ভাষা — তৎসম।
❖ পাষাণ — তৎসম।
❖ স্টেশন — বিদেশি শব্দ।
❖ পোস্ট — বিদেশি শব্দ।
❖ কর্নেল — বিদেশি শব্দ।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. তৎসম।
Advertisement
03
🎯 Level 1

১১. নিচের কোন বানানের ক্ষেত্রে দন্ত্য ‘স’ হবে? (বিসিআইসির সহকারী ব্যবস্থাপক: ২৫)

ক

আবিষ্কার

খ

স্টেশন

গ

বিশুদ্ধ

ঘ

পরিষ্কার

✅ সঠিক উত্তর:খ. স্টেশন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: খ. স্টেশন।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘স্টেশন’ একটি বিদেশি শব্দ। এটি ইংরেজি Station থেকে এসেছে।
❖ এর অর্থ রেলগাড়ি থামার স্থান, নির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র বা কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানের কার্যস্থল।
❖ বিদেশি শব্দে সংস্কৃত ষত্ব বিধান সাধারণভাবে প্রয়োগ করা হয় না।
❖ তাই ‘স্টেশন’ শব্দে দন্ত্য ‘স’ ব্যবহৃত হবে, মূর্ধন্য ‘ষ’ নয়।
➤ স্টেশন — শুদ্ধ।
➤ ষ্টেশন — অশুদ্ধ।
➤ রেলস্টেশন — শুদ্ধ।
➤ পুলিশ স্টেশন — শুদ্ধ।
✦ বিদেশি শব্দে দন্ত্য স-এর উদাহরণ:
➤ স্টেশন।
➤ স্টেডিয়াম।
➤ স্কুল।
➤ পোস্ট।
➤ মাস্টার।
➤ পুলিশ।
➤ অফিস।
➤ জিনিস।
➤ পোশাক।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. আবিষ্কার — ভুল। এখানে মূর্ধন্য ‘ষ’ রয়েছে। এটি তৎসম শব্দ।
❖ খ. স্টেশন — সঠিক। বিদেশি শব্দ হওয়ায় এখানে দন্ত্য ‘স’ ব্যবহৃত হয়েছে।
❖ গ. বিশুদ্ধ — ভুল। এখানে দন্ত্য ‘স’ নয়, তালব্য ‘শ’ ব্যবহৃত হয়েছে। ‘বি + শুদ্ধ’ গঠনের শব্দ। অর্থ সম্পূর্ণ শুদ্ধ বা নির্মল।
❖ ঘ. পরিষ্কার — ভুল। এখানে মূর্ধন্য ‘ষ’ ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থ পরিচ্ছন্ন।
✦ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী: আগের ব্যাখ্যায় ‘আবিষ্কার, বিশুদ্ধ ও পরিষ্কার’—তিনটিতেই ষ আছে বলা হয়েছিল। সেটি ভুল। ‘বিশুদ্ধ’ শব্দে ষ নয়, তালব্য শ রয়েছে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
❖ স্টেশন — দন্ত্য স।
❖ ষ্টেশন — অশুদ্ধ।
❖ আবিষ্কার — মূর্ধন্য ষ।
❖ বিশুদ্ধ — তালব্য শ।
❖ পরিষ্কার — মূর্ধন্য ষ।
❖ পোস্ট — দন্ত্য স।
❖ মাস্টার — দন্ত্য স।
❖ জিনিস — দন্ত্য স।
❖ বিদেশি শব্দে সংস্কৃত ষত্ব বিধান—সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয়।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. স্টেশন।
04
🎯 Level 1

১৪. কোনটি শুদ্ধ? (পিএসসির মেডিকেল অফিসার: ২৫)

ক

কর্ন

খ

যুধিষ্ঠির

গ

কিষান

ঘ

অভিলাস

✅ সঠিক উত্তর:খ. যুধিষ্ঠির

ব্যাখ্যা:

প্রকাশিত পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর: খ
◈ প্রত্যাশিত উত্তর: খ. যুধিষ্ঠির।
◈ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী: সরকারি অভিগম্য বাংলা অভিধানে ‘কিষান’ এবং ‘কিষাণ’—উভয় বানানই ‘চাষি’ অর্থে স্বীকৃত। ফলে ‘গ. কিষান’ শব্দটিও শুদ্ধ। এই প্রশ্নটি একক সঠিক উত্তরবিশিষ্ট নয়।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘যুধিষ্ঠির’ মহাভারতের পাণ্ডবদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি ধর্মপরায়ণতা, সত্যনিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য পরিচিত।
❖ ‘যুধিষ্ঠির’ একটি তৎসম শব্দ। এর সংস্কৃত রূপ Yudhiṣṭhira।
✦ শব্দগঠন:
➤ যুধি + স্থির → যুধিষ্ঠির।
➤ যুধি অর্থ—যুদ্ধে।
➤ স্থির অর্থ—অবিচল বা অটল।
➤ যুধিষ্ঠির অর্থ—যুদ্ধে স্থির বা অবিচল।
❖ শব্দটিতে ‘ষ্ঠ’ যুক্তব্যঞ্জন রয়েছে।
➤ ষ্ঠ = ষ্ + ঠ।
➤ শুদ্ধ বানান—যুধিষ্ঠির।
➤ যুধিষ্টির — অশুদ্ধ।
সরকারি অভিধানে ‘যুধিষ্ঠির’ শব্দের ব্যুৎপত্তি যুধি + স্থির হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. কর্ন — প্রশ্নে কর্ণ নামটি বোঝালে অশুদ্ধ। মহাভারতের বীরের নামের শুদ্ধ বানান কর্ণ। তবে ইংরেজি corn শব্দের বাংলা প্রতিবর্ণীকরণ ‘কর্ন’ আলাদা প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হতে পারে।
❖ খ. যুধিষ্ঠির — সঠিক। মহাভারতের পাণ্ডবদের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তির নাম।
❖ গ. কিষান — এটিও অভিধানস্বীকৃত শুদ্ধ শব্দ। অর্থ চাষি বা কৃষক। সরকারি অভিধানে ‘কিষান, কিষাণ’ দুটি রূপই নথিভুক্ত। পৃথক তৎসম রূপ ‘কৃষাণ’-ও শুদ্ধ।
❖ ঘ. অভিলাস — প্রদত্ত অর্থে অশুদ্ধ। ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা বা বাসনা অর্থে শুদ্ধ তৎসম শব্দ অভিলাষ।
✦ শুদ্ধ বানান ও অর্থ:
【তালিকার তথ্য】
শব্দ | অভিধানগত অবস্থা | অর্থ
কর্ণ | শুদ্ধ | কান; মহাভারতের বীরের নাম
যুধিষ্ঠির | শুদ্ধ | পাণ্ডবদের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি
কিষান | শুদ্ধ | চাষি, কৃষক
কিষাণ | শুদ্ধ | চাষি, কৃষক
কৃষাণ | শুদ্ধ | কৃষক
অভিলাষ | শুদ্ধ | ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
❖ যুধিষ্ঠির — শুদ্ধ।
❖ যুধিষ্ঠির শব্দের যুক্তবর্ণ—ষ্ঠ।
❖ যুধিষ্ঠিরের পরিচয়—জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব।
❖ যুধিষ্ঠিরের অপর নাম—ধর্মরাজ।
❖ কর্ণ — মহাভারতের বিখ্যাত বীর।
❖ কিষান — অভিধানস্বীকৃত শব্দ।
❖ কিষাণ — অভিধানস্বীকৃত শব্দ।
❖ কৃষাণ অর্থ—চাষি।
❖ অভিলাষ অর্থ—ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা।
❖ অভিলাস — উল্লিখিত অর্থে অশুদ্ধ।
◈ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: প্রকাশিত পরীক্ষার উত্তর খ. যুধিষ্ঠির; তবে গ. কিষান-ও অভিধানস্বীকৃত শুদ্ধ শব্দ।
প্রশ্নব্যাংকের জন্য সংশোধিত MCQ
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
ক. যুধিষ্টির
খ. যুধিষ্ঠির
গ. যুধিশ্ঠির
ঘ. যুধিস্ঠির
উত্তর: খ. যুধিষ্ঠির।
05
🎯 Level 1

১৭. কোন বানানটিতে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়? (বিআরটিএ’র সহকারী মোটরযান কর্মকর্তা: ২৪ / বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক: ২০)

ক

অনুষ্ঠান

খ

বৃষ্টি

গ

অভিষেক

ঘ

ভাষা

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ভাষা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ভাষা।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
যেসব তৎসম শব্দে নির্দিষ্ট ষত্ববিধানের নিয়ম প্রয়োগ ছাড়াই মূল বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’ থাকে, সেগুলোকে স্বভাবত বা নিত্য ষ-যুক্ত শব্দ বলা হয়।
‘ভাষা’ শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য ‘ষ’ ব্যবহৃত হয়েছে।
ভাষা বলতে মানুষের চিন্তা, অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও তথ্য প্রকাশ এবং যোগাযোগের সুসংবদ্ধ ব্যবস্থাকে বোঝায়।
ভাষা শব্দের ঐতিহ্যগত সংস্কৃত বানানে মূর্ধন্য ষ রয়েছে। এখানে পূর্ববর্তী ঋ, র, ই, উ অথবা অন্য কোনো সাধারণ ষত্বসূত্র প্রয়োগ করে ষ-এর ব্যবহার ব্যাখ্যা করতে হয় না।
✦ স্বভাবত ষ-এর গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
【তালিকার তথ্য】
শব্দ | অর্থ
ভাষা | ভাব প্রকাশ ও যোগাযোগের ব্যবস্থা
ভাষণ | বক্তব্য বা বক্তৃতা
দ্বেষ | ঘৃণা বা শত্রুভাব
ভূষণ | অলংকার
আষাঢ় | বাংলা বছরের তৃতীয় মাস
পাষাণ | পাথর
কোষ | আবরণ, ভান্ডার বা জৈবিক কোষ
রোষ | ক্রোধ
ঊষা | প্রভাত
ঔষধ | রোগনিরাময়ের উপাদান
মানুষ | মানবজাতির সদস্য
ষোড়শ | ষোলতম
✦ অন্য তিনটি শব্দে ষ হওয়ার কারণ
১. অনুষ্ঠান:
অনু + স্থান থেকে অনুষ্ঠান শব্দের উৎপত্তি। সংস্কৃতের উপসর্গযুক্ত গঠনে স-এর স্থলে ষ ব্যবহৃত হয়েছে।
২. বৃষ্টি:
বৃষ্টি শব্দের গঠনে ঋ-ধ্বনি এবং ষ্ট যুক্তবর্ণের সম্পর্ক রয়েছে। এখানে ষত্ববিধানের নিয়মসাপেক্ষ প্রয়োগ দেখা যায়।
৩. অভিষেক:
অভি-উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত সংস্কৃত শব্দগঠনে ষ ব্যবহৃত হয়েছে।
অর্থাৎ, অনুষ্ঠান, বৃষ্টি ও অভিষেক—এই তিনটি শব্দের ষ-এর ব্যাকরণিক কারণ ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু ভাষা শব্দের ষ নিত্য বা স্বভাবজাত।
◉ অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ
❖ ক. অনুষ্ঠান ⇒ ভুল। অনু-উপসর্গযুক্ত সংস্কৃত গঠনে ষ ব্যবহৃত হয়েছে; এটি প্রশ্নের নিত্য ষ-এর উদাহরণ নয়।
❖ খ. বৃষ্টি ⇒ ভুল। ঋ-ধ্বনি ও ষ্ট-যুক্ত গঠনের কারণে ষ হয়েছে।
❖ গ. অভিষেক ⇒ ভুল। অভি-উপসর্গযুক্ত গঠনে ষত্ববিধান কার্যকর।
❖ ঘ. ভাষা ⇒ সঠিক। শব্দটিতে স্বভাবতই মূর্ধন্য ষ রয়েছে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ ভাষা—স্বভাবত ষ।
❖ ভাষণ—স্বভাবত ষ।
❖ দ্বেষ—স্বভাবত ষ।
❖ ভূষণ—স্বভাবত ষ।
❖ অনুষ্ঠান—উপসর্গজনিত ষ।
❖ অভিষেক—উপসর্গজনিত ষ।
❖ বৃষ্টি—নিয়মসাপেক্ষ ষ।
❖ ষত্ববিধান প্রধানত প্রযোজ্য—তৎসম শব্দে।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ঘ. ভাষা।
Advertisement
06
🎯 Level 1

২০. নিচের কোন শব্দটিতে স্বভাবতই মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়? (পোস্টমাস্টার জেনারেলের পোস্টাল অপারেটর: ২৩)

ক

দ্বেষ

খ

সুষমা

গ

পরিষ্কার

ঘ

প্রতিষ্ঠান

✅ সঠিক উত্তর:ক. দ্বেষ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: দ্বেষ।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
‘দ্বেষ’ একটি তৎসম শব্দ, যার অর্থ ঘৃণা, বিদ্বেষ, শত্রুভাব, বিরাগ বা কারও প্রতি গভীর বিরূপ মনোভাব।
ইংরেজিতে Hatred, Enmity, Hostility, Aversion।
দ্বেষ শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য ‘ষ’ ব্যবহৃত হয়েছে।
এখানে কোনো নির্দিষ্ট ঋ, র, উপসর্গজনিত বা প্রত্যয়জনিত সাধারণ ষত্ববিধানের প্রয়োগ দেখানোর প্রয়োজন নেই।
উদাহরণ—
‘হিংসা ও দ্বেষ সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে।’
‘মানুষের প্রতি দ্বেষ পোষণ করা উচিত নয়।’
✦ দ্বেষ শব্দের সমার্থক শব্দ
【তালিকার তথ্য】
শব্দ | অর্থ
দ্বেষ | ঘৃণা বা শত্রুভাব
বিদ্বেষ | বিরূপতা বা শত্রুতা
বিরাগ | অনুরাগের অভাব
ঘৃণা | তীব্র অপছন্দ
বৈরিতা | শত্রুভাব
ঈর্ষা | অন্যের সাফল্য বা সম্পদে অসন্তোষ
✦ অন্য তিনটি শব্দে ষ কেন?
১. সুষমা: সু-উপসর্গের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গঠনে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়েছে।
২. পরিষ্কার: পরি-উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত তৎসম গঠনে ষ রয়েছে। শব্দটিতে র-এর পরে ই-ধ্বনির উপস্থিতি ষত্ববিধান ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ।
৩. প্রতিষ্ঠান: প্রতি-উপসর্গযুক্ত গঠনে ষ্ঠ যুক্তবর্ণ রয়েছে। এটি নিয়মসাপেক্ষ ষ-এর উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়।
◉ অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ
❖ ক. দ্বেষ ⇒ সঠিক। স্বভাবত বা নিত্য মূর্ধন্য ষ-যুক্ত শব্দ।
❖ খ. সুষমা ⇒ ভুল। সু-উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত ষত্ববিধানের উদাহরণ।
❖ গ. পরিষ্কার ⇒ ভুল। নির্দিষ্ট তৎসম বানানবিধি ও উপসর্গজনিত গঠনে ষ ব্যবহৃত হয়েছে।
❖ ঘ. প্রতিষ্ঠান ⇒ ভুল। প্রতি-উপসর্গযুক্ত গঠনে নিয়মসাপেক্ষ ষ রয়েছে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ দ্বেষ—স্বভাবত ষ।
❖ দ্বেষ অর্থ—ঘৃণা বা বিদ্বেষ।
❖ বিদ্বেষ—শুদ্ধ বানান।
❖ সুষমা—মূর্ধন্য ষ-যুক্ত শব্দ।
❖ পরিষ্কার—মূর্ধন্য ষ-যুক্ত শব্দ।
❖ প্রতিষ্ঠান—মূর্ধন্য ষ-যুক্ত শব্দ।
❖ ভাষা, ভূষণ, দ্বেষ—নিত্য ষ-এর গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ক. দ্বেষ।
07
🎯 Level 1

২৩. কোন জাতীয় শব্দে ‘ষ’-এর ব্যবহার হয় না? (বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক: ২২)

ক

তৎসম

খ

তদ্ভব

গ

বিদেশি

ঘ

সংস্কৃত

✅ সঠিক উত্তর:খ. তদ্ভব

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ ও গ—উভয়ই ব্যাকরণগতভাবে গ্রহণযোগ্য।
◈ সঠিক তথ্য: তদ্ভব ও বিদেশি—উভয় শ্রেণির শব্দে সাধারণত মূর্ধন্য ‘ষ’ ব্যবহার করা হয় না।
◈ বিশেষ সংশোধনী: প্রশ্নটিতে একাধিক সঠিক বিকল্প রয়েছে; একক নির্ভুল উত্তর নেই।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী ষত্ববিধান প্রধানত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে প্রযোজ্য।
তৎসম শব্দে ঐতিহাসিক সংস্কৃত বানানের বৈশিষ্ট্য হিসেবে মূর্ধন্য ষ সংরক্ষিত থাকে।
কিন্তু তদ্ভব, দেশি এবং বিদেশি শব্দে সাধারণত সংস্কৃতের ষত্ববিধান অনুসরণ করা হয় না।
তাই প্রশ্নের খ. তদ্ভব এবং গ. বিদেশি—উভয় বিকল্পই নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
✦ তৎসম, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের পার্থক্য
১. তৎসম শব্দ:
সংস্কৃত ভাষা থেকে প্রায় অপরিবর্তিত রূপে বাংলায় এসেছে।
উদাহরণ—কৃষ্ণ, বৃষ্টি, ভাষা, ভূষণ, ঋষি।
এসব শব্দে মূর্ধন্য ষ থাকতে পারে।
২. তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার শব্দ মধ্যবর্তী প্রাকৃত ও অপভ্রংশ পর্যায়ে বিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে।
উদাহরণ—সোনা, সাত, সাঁঝ।
এসব শব্দে সাধারণত সংস্কৃতের মূর্ধন্য ষ বহাল থাকে না।
৩. বিদেশি শব্দ:
ইংরেজি, আরবি, ফারসি কিংবা অন্যান্য বিদেশি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে।
উদাহরণ—স্টেশন, মাস্টার, পোস্ট, পোশাক, জিনিস।
এসব শব্দে বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী সাধারণত মূর্ধন্য ষ ব্যবহার করা হয় না।
✦ বাংলা শব্দে ষ-এর ব্যবহার
【তালিকার তথ্য】
শব্দের শ্রেণি | ষত্ববিধানের প্রয়োগ | উদাহরণ
তৎসম | প্রযোজ্য | কৃষ্ণ, বৃষ্টি, ভাষা
তদ্ভব | সাধারণত প্রযোজ্য নয় | সোনা, সাঁঝ
দেশি | সাধারণত প্রযোজ্য নয় | স্থানীয় উৎসের শব্দ
বিদেশি | প্রযোজ্য নয় | স্টেশন, পোস্ট, মাস্টার
◉ অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ
❖ ক. তৎসম ⇒ ভুল উত্তর। তৎসম শব্দেই প্রধানত মূর্ধন্য ষ-এর ব্যবহার পাওয়া যায়।
❖ খ. তদ্ভব ⇒ সঠিক। তদ্ভব শব্দে সাধারণত মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয় না।
❖ গ. বিদেশি ⇒ সঠিক। বিদেশি শব্দে সংস্কৃতের ষত্ববিধান প্রয়োগ করা হয় না।
❖ ঘ. সংস্কৃত ⇒ ভুল উত্তর। সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য ষ-এর ঐতিহাসিক ব্যবহার রয়েছে। তৎসম শব্দের সঙ্গে এই বানানরীতির সম্পর্ক রয়েছে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ ষত্ববিধান—তৎসম শব্দের নিয়ম।
❖ তৎসম শব্দের উৎস—সংস্কৃত।
❖ তদ্ভব শব্দে সাধারণত ষত্ববিধান হয় না।
❖ বিদেশি শব্দে ষত্ববিধান হয় না।
❖ স্টেশন—শুদ্ধ বানান।
❖ ষ্টেশন—অশুদ্ধ বানান।
❖ পোশাক—শুদ্ধ বানান।
❖ পোষাক—অশুদ্ধ বানান।
❖ তৎসম ও সংস্কৃত শব্দে ষ-এর ব্যবহার সংরক্ষিত থাকে।
✦ প্রশ্নব্যাংকের জন্য সংশোধনী
প্রশ্নটি একক সঠিক উত্তরবিশিষ্ট করতে চাইলে এভাবে লেখা যেতে পারে—
কোন শ্রেণির শব্দে সংস্কৃতের ষত্ববিধান প্রযোজ্য?
ক. দেশি
খ. তদ্ভব
গ. তৎসম
ঘ. বিদেশি
সঠিক উত্তর: গ. তৎসম।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. তদ্ভব ও গ. বিদেশি—উভয়ই সঠিক।
08
🎯 Level 1

২৬. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (১০ম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন: ১৪)

ক

চক্ষুস্মান

খ

চক্ষুষ্মান

গ

চক্ষুশ্মান

ঘ

চক্ষুষ্মাণ

✅ সঠিক উত্তর:খ. চক্ষুষ্মান

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: চক্ষুষ্মান।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
‘চক্ষুষ্মান’ একটি তৎসম শব্দ। এর অর্থ চক্ষুবিশিষ্ট, দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন, দেখতে সক্ষম অথবা রূপক অর্থে সত্য উপলব্ধি করতে সক্ষম ব্যক্তি।
ইংরেজিতে Sighted, Possessing Eyesight, Keen-sighted।
বাংলাদেশ সরকারের অভিগম্য অভিধানে চক্ষুষ্মান শব্দটির এই অর্থগুলো সরাসরি উল্লেখ রয়েছে।
উদাহরণ—
‘জ্ঞান মানুষকে প্রকৃত অর্থে চক্ষুষ্মান করে তোলে।’
‘শিক্ষা কেবল তথ্য দেয় না, মানুষকে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নও করে।’
✦ চক্ষুষ্মান শব্দের গঠন
শব্দটির সংস্কৃত রূপের সঙ্গে ‘চক্ষুস্’ এবং অধিকার বা গুণসম্পন্নতা প্রকাশকারী প্রত্যয়ের সম্পর্ক রয়েছে।
চক্ষুস্ + মতুপ্-জাত প্রত্যয় → চক্ষুষ্মান।
এখানে সংস্কৃতের ধ্বনিগত রূপান্তরের ফলে ‘ষ্ম’ যুক্তবর্ণ গঠিত হয়েছে।
✦ চক্ষুষ্মান শব্দের বানানের বৈশিষ্ট্য
প্রথম বৈশিষ্ট্য—মূর্ধন্য ষ: শব্দটির মধ্যবর্তী অংশে ষ রয়েছে।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য—ষ্ম যুক্তবর্ণ: ষ্ + ম = ষ্ম।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য—শেষে দন্ত্য ন: শব্দটির শেষে মূর্ধন্য ণ নয়, দন্ত্য ন রয়েছে।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য—অর্থ: শব্দটি দৃষ্টিশক্তি বা অন্তর্দৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত।
✦ চক্ষু-সম্পর্কিত শব্দ
【তালিকার তথ্য】
শব্দ | অর্থ
চক্ষু | চোখ
চক্ষুষ্মান | দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন
চক্ষুষ্মতী | চক্ষুষ্মান শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ রূপ
চক্ষুদান | চোখ দান বা রূপক অর্থে জ্ঞানদান
চক্ষুগোচর | চোখে দেখা যায় এমন
চক্ষুশূল | দেখলে বিরক্তিকর মনে হয় এমন
চক্ষুরোগ | চোখের রোগ
◉ অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ
❖ ক. চক্ষুস্মান ⇒ ভুল। এখানে মূর্ধন্য ষ-এর পরিবর্তে দন্ত্য স দেওয়া হয়েছে।
❖ খ. চক্ষুষ্মান ⇒ সঠিক। মূর্ধন্য ষ, ষ্ম যুক্তবর্ণ এবং শেষে দন্ত্য ন যথাযথ রয়েছে।
❖ গ. চক্ষুশ্মান ⇒ ভুল। এখানে মূর্ধন্য ষ-এর পরিবর্তে তালব্য শ ব্যবহার করা হয়েছে।
❖ ঘ. চক্ষুষ্মাণ ⇒ ভুল। মধ্যবর্তী ষ্ম সঠিক হলেও শেষে দন্ত্য ন-এর পরিবর্তে মূর্ধন্য ণ দেওয়া হয়েছে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ চক্ষুষ্মান—শুদ্ধ বানান।
❖ চক্ষুষ্মান অর্থ—দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।
❖ চক্ষুষ্মান শব্দে ষ্ম যুক্তবর্ণ রয়েছে।
❖ ষ্ম = ষ্ + ম।
❖ চক্ষুষ্মান শব্দের শেষে দন্ত্য ন হয়।
❖ চক্ষুষ্মাণ—অশুদ্ধ বানান।
❖ চক্ষুষ্মতী—স্ত্রীলিঙ্গ রূপ।
❖ চক্ষুগোচর—চোখে দেখা যায় এমন।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. চক্ষুষ্মান।
Advertisement
09
🎯 Level 1

২৯. কোন শব্দটি বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনি সন্ধির ফলে মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়েছে? (প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লি. অফিসার: ১৪)

ক

পুষ্কল

খ

পরিষ্কার

গ

পুষ্ট

ঘ

বর্ষীয়সী

✅ সঠিক উত্তর:খ. পরিষ্কার

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ প্রচলিত পরীক্ষার সঠিক উত্তর: পরিষ্কার।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
‘পরিষ্কার’ একটি তৎসম শব্দ। এর অর্থ পরিচ্ছন্ন, ময়লামুক্ত, স্বচ্ছ, নির্মল বা স্পষ্ট।
শব্দটি বিশেষণ ও বিশেষ্য—উভয় পদে ব্যবহৃত হতে পারে।
উদাহরণ—
‘কক্ষটি পরিষ্কার রাখতে হবে।’
‘বক্তা বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।’
‘পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’
✦ পরিষ্কার শব্দে ষ কেন?
প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে ষত্ববিধানের একটি নিয়ম হলো—
র-ধ্বনির পরে অ বা আ ছাড়া অন্য স্বরধ্বনি থাকলে, নির্দিষ্ট তৎসম শব্দগঠনে পরবর্তী স মূর্ধন্য ষ হতে পারে।
‘পরিষ্কার’ শব্দের গঠনে ‘র’-এর পরে ‘ই’ ধ্বনির উপস্থিতি রয়েছে। ঐতিহাসিক বানানে এখানকার মূর্ধন্য ‘ষ’ সংরক্ষিত হয়েছে।
একাধিক পরীক্ষার প্রশ্নসমাধানে শব্দটিকে বিসর্গসন্ধির বিশেষ উদাহরণ হিসেবেও আলোচনা করা হয়।
কিছু প্রচলিত ব্যাকরণসংকলনে এর সন্ধিগত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়—
পরিঃ + কার → পরিষ্কার।
তবে এই বিচ্ছেদটি বিদ্যালয়ভিত্তিক সরলীকৃত ব্যাখ্যা। শব্দটির সংস্কৃত ব্যুৎপত্তি ও সন্ধি বিশ্লেষণকে শুধু এই একটি সূত্রে সীমাবদ্ধ করা যথাযথ নয়।
সুতরাং পরীক্ষার জন্য পরিষ্কার উত্তরটি গ্রহণযোগ্য, কিন্তু সংস্কৃতের কঠোর ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণ ও প্রচলিত পরীক্ষার সন্ধিবিচ্ছেদের মধ্যে পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন।
✦ পরিষ্কার শব্দের বিভিন্ন অর্থ
【তালিকার তথ্য】
ব্যবহার | অর্থ
পরিষ্কার কাপড় | ময়লামুক্ত কাপড়
পরিষ্কার পানি | স্বচ্ছ বা বিশুদ্ধতার প্রসঙ্গে ব্যবহৃত পানি
পরিষ্কার বক্তব্য | স্পষ্ট বক্তব্য
পরিষ্কার ধারণা | বোধগম্য ধারণা
পরিষ্কার আকাশ | মেঘমুক্ত বা স্বচ্ছ আকাশ
বিশেষ তথ্য: পানি দেখতে পরিষ্কার হলেই তা পানযোগ্য বা জীবাণুমুক্ত হবে—এমন নয়। ‘স্বচ্ছ’ এবং ‘নিরাপদ’ পৃথক বিষয়।
✦ গুরুত্বপূর্ণ বানানের পার্থক্য
【তালিকার তথ্য】
শুদ্ধ বানান | অশুদ্ধ বানান
পরিষ্কার | পরিস্কার
পুরস্কার | পুরষ্কার
তিরস্কার | তিরষ্কার
আবিষ্কার | আবিস্কার
বহিষ্কার | বহিস্কার
◉ অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ
❖ ক. পুষ্কল ⇒ ভুল। শব্দটি মূর্ধন্য ষ-যুক্ত হলেও প্রশ্নে চাওয়া নির্দিষ্ট সন্ধির উদাহরণ নয়। এর অর্থ প্রচুর বা প্রাচুর্যপূর্ণ।
❖ খ. পরিষ্কার ⇒ সঠিক। প্রচলিত প্রশ্নসমাধানে র-এর পরে ই-ধ্বনি ও সংশ্লিষ্ট সন্ধিবিধির উদাহরণ হিসেবে এই শব্দটি নির্বাচন করা হয়েছে।
❖ গ. পুষ্ট ⇒ ভুল। শব্দটিতে ‘ষ্ট’ যুক্তবর্ণ রয়েছে; এটি ট-বর্গীয় ব্যঞ্জনের সঙ্গে ষ-এর ব্যবহারের উদাহরণ।
❖ ঘ. বর্ষীয়সী ⇒ ভুল। শব্দটিতে মূর্ধন্য ষ থাকলেও এর গঠন ও প্রত্যয়গত ব্যবহার প্রশ্নে চাওয়া নির্দিষ্ট সন্ধির উদাহরণ নয়। এর অর্থ অধিক বয়সী বা প্রবীণা।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ পরিষ্কার—শুদ্ধ বানান।
❖ পরিষ্কার অর্থ—স্বচ্ছ বা পরিচ্ছন্ন।
❖ পরিষ্কার শব্দে মূর্ধন্য ষ রয়েছে।
❖ পুরস্কার শব্দে দন্ত্য স রয়েছে।
❖ তিরস্কার শব্দে দন্ত্য স রয়েছে।
❖ পুষ্ট শব্দে ষ্ট যুক্তবর্ণ রয়েছে।
❖ বর্ষীয়সী অর্থ—অধিক বয়সী নারী বা প্রবীণা।
❖ র-এর পরে ই-ধ্বনি ও ষত্ববিধানের সম্পর্কের প্রচলিত উদাহরণ—পরিষ্কার।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. পরিষ্কার।
10
🎯 Level 1

৩২. নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? (বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশনের অফিসার: ১৭ / পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সহায়ক: ১৫)

ক

আশাঢ়

খ

আষাড়

গ

আসাঢ়

ঘ

আষাঢ়

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. আষাঢ়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: আষাঢ়।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
‘আষাঢ়’ একটি তৎসম শব্দ এবং বাংলা সনের তৃতীয় মাসের নাম।
বাংলা বর্ষপঞ্জিতে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠের পরে আষাঢ় মাস আসে।
বাংলাদেশে আষাঢ় বর্ষাকালের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কিত। আষাঢ় ও শ্রাবণকে সাধারণভাবে বর্ষার প্রধান দুই মাস হিসেবে ধরা হয়।
আষাঢ় শব্দে মূর্ধন্য ‘ষ’ স্বভাবতই ব্যবহৃত হয়েছে।
✦ আষাঢ় শব্দের বানান বিশ্লেষণ
আ + ষা + ঢ় = আষাঢ়।
এখানে—
❖ শুরুতে আ-কার রয়েছে।
❖ দ্বিতীয় অংশে মূর্ধন্য ষ রয়েছে।
❖ শেষাংশে ‘ঢ়’ ব্যবহৃত হয়েছে।
❖ দন্ত্য স বা তালব্য শ ব্যবহার করা যাবে না।
❖ শেষের ‘ঢ়’-এর পরিবর্তে ‘ড়’ লিখলেও বানান ভুল হবে।
✦ আষাঢ় মাসের গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়
【তালিকার তথ্য】
বিষয় | তথ্য
বাংলা মাস | আষাঢ়
মাসের ক্রম | তৃতীয়
পূর্ববর্তী মাস | জ্যৈষ্ঠ
পরবর্তী মাস | শ্রাবণ
ঋতু | বর্ষা
বাংলা সনের প্রথম মাস | বৈশাখ
বাংলা সনের শেষ মাস | চৈত্র
✦ আষাঢ় শব্দ থেকে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ
১. আষাঢ়ে: আষাঢ় মাসসংক্রান্ত।
২. আষাঢ়ে গল্প: অবিশ্বাস্য, অতিরঞ্জিত বা অবাস্তব গল্প।
৩. আষাঢ়ের বৃষ্টি: বর্ষাকালের প্রবল বৃষ্টি।
৪. আষাঢ়-শ্রাবণ: বর্ষাকালের দুই মাস।
✦ বাংলা বর্ষপঞ্জির বারো মাস
বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র।
এখানে আষাঢ় ও পৌষ—দুটি মাসের নামেই মূর্ধন্য ষ রয়েছে।
◉ অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ
❖ ক. আশাঢ় ⇒ ভুল। এখানে মূর্ধন্য ষ-এর পরিবর্তে তালব্য শ ব্যবহৃত হয়েছে।
❖ খ. আষাড় ⇒ ভুল। মূর্ধন্য ষ ঠিক থাকলেও শেষাংশে ‘ড়’ দেওয়া হয়েছে। শুদ্ধ রূপে ‘ঢ়’ হবে।
❖ গ. আসাঢ় ⇒ ভুল। এখানে মূর্ধন্য ষ-এর পরিবর্তে দন্ত্য স ব্যবহার করা হয়েছে।
❖ ঘ. আষাঢ় ⇒ সঠিক। মূর্ধন্য ষ এবং শেষাংশে ‘ঢ়’ যথাযথ রয়েছে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ আষাঢ়—শুদ্ধ বানান।
❖ আষাঢ় বাংলা সনের—তৃতীয় মাস।
❖ আষাঢ়—বর্ষাকালের প্রথম মাস।
❖ আষাঢ়ের পরবর্তী মাস—শ্রাবণ।
❖ আষাঢ়ের পূর্ববর্তী মাস—জ্যৈষ্ঠ।
❖ আষাঢ়—স্বভাবত ষ-যুক্ত শব্দ।
❖ আষাঢ়ে গল্প—অবিশ্বাস্য বা অতিরঞ্জিত গল্প।
❖ আষাঢ় শব্দের শেষাংশে ‘ঢ়’ রয়েছে।
❖ পৌষ—মূর্ধন্য ষ-যুক্ত বাংলা মাসের নাম।
❖ ষোড়শ—স্বভাবত ষ-যুক্ত শব্দ।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ঘ. আষাঢ়।
৩৩. স্বভাবতই মূর্ধন্য ‘ষ’ হয় এমন উদাহরণ কোনটি? (এবি ব্যাংক লি. অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার: ১৪ / দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক: ১৩)
ক. কৃষক
খ. বর্ষা
গ. ঔষধ
ঘ. কষ্ট
উত্তর: গ
• ◈ সঠিক উত্তর: ঔষধ
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ তৎসম ঔষধ শব্দের ষ স্বভাবত বা নিত্য।
❖ অন্যগুলো নিয়মসিদ্ধ—
➤ কৃষক—ঋ-কারের পরে ষ।
➤ বর্ষা—র/রেফের প্রভাবে ষ।
➤ কষ্ট—ট-এর পূর্বে ষ।
➤ ঔষধ—নিত্য ষ।
❖ নিত্য ষ-এর তালিকায় ঔষধের সঙ্গে ভাষা, ভূষণ, পাষাণ, রোষ, দ্বেষ, আষাঢ়, পৌষ ইত্যাদিও গুরুত্বপূর্ণ।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন