🧠 🔖
👑 Premium Topic

সমাস

◉ বাংলা ব্যাকরণ›সমাস

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚296মোট প্রশ্ন
🎯12মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০১. ‘সমাস’ শব্দের অর্থ কী? [মাউশি বিভাগ কম্পিউটার অপারেটর: ২৩]

ক

সংক্ষেপণ

খ

বিশ্লেষণ

গ

সংক্ষেপ

ঘ

সংযোজন

✅ সঠিক উত্তর:গ. সংক্ষেপ

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: সংক্ষেপ
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ সমাসের মূল কাঠামো — সংজ্ঞা: সমাস হচ্ছে অর্থের সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদের মিলনে একটি সংক্ষিপ্ত পদ গঠনের প্রক্রিয়া। সমস্যমান পদ হলো যোগদানকারী পদ, সমস্তপদ হলো সমাসের ফলে গঠিত রূপ এবং ব্যাসবাক্য/বিগ্রহবাক্য হলো তার বিস্তৃত অর্থপ্রকাশ।
❖ প্রশ্নের কেন্দ্রীয় পদ ‘সমাস’ বিশ্লেষণের সময় প্রথমে তার ব্যাসবাক্য খুঁজতে হবে; তারপর কোন অংশের অর্থ প্রধান, কোনো বিভক্তি লোপ পেয়েছে কি না এবং কোনো তৃতীয় সত্তা বোঝানো হচ্ছে কি না—এই তিনটি লক্ষণ মিলিয়ে শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে।
❖ সমাস শব্দের আক্ষরিক অর্থ সংক্ষেপ। বাংলা ব্যাকরণে দুই বা ততোধিক পদের মিলনে একটি সংক্ষিপ্ত পদ গঠিত হলে তাকে সমাস বলে।
❖ চন্দ্রের মতো মুখ = চন্দ্রমুখ
❖ পদ ও শব্দের পার্থক্য: শব্দ হলো অর্থবোধক ধ্বনি বা বর্ণসমষ্টি; বাক্যে ব্যবহৃত হলে তা পদ হিসেবে কাজ করে। সমাসে শব্দের শুধু পাশাপাশি বসা নয়, তাদের অর্থগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়াও জরুরি।
❖ সমস্যমান পদ: সমাসে অংশগ্রহণকারী পৃথক পদগুলোর নাম সমস্যমান পদ। এর প্রথমটিকে পূর্বপদ এবং পরেরটিকে পরপদ/উত্তরপদ বলা হয়।
❖ সমস্তপদ: সমস্যমান পদ দুটি বা একাধিক একত্রে মিলিত হলে যে সংক্ষিপ্ত নতুন পদ পাওয়া যায়, তার নাম সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদ।
❖ ব্যাসবাক্য ও বিগ্রহবাক্য: সমাসবদ্ধ পদের অর্থ বিস্তৃত করে যে পদগুচ্ছ পাওয়া যায়, তাকে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য বলে; এটি সমাসের সম্পর্ক বোঝার কার্যকর উপায়।
❖ আরও কয়েকটি তুলনামূলক উদাহরণ:
➤ নীল + পদ্ম ⇒ নীলপদ্ম; ব্যাসবাক্য নীল যে পদ্ম।
➤ মা + বাবা ⇒ মা-বাবা; ব্যাসবাক্য মা ও বাবা।
➤ রাজা + পুত্র ⇒ রাজপুত্র; ব্যাসবাক্য রাজার পুত্র।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ সংক্ষেপণ ⇒ কাছাকাছি অর্থ হলেও ব্যাকরণে প্রচলিত নির্দিষ্ট উত্তর সংক্ষেপ।
❖ বিশ্লেষণ ⇒ সমাসের বিপরীত কাজ; এক পদকে ভেঙে ব্যাসবাক্য করা।
❖ সংক্ষেপ ⇒ সঠিক। এই বিকল্পটি প্রশ্নে নির্ধারিত ব্যাকরণিক অর্থ বা শ্রেণিবিভাগের সঙ্গে মেলে।
❖ সংযোজন ⇒ মিলন বোঝালেও “সমাস” শব্দের নির্দিষ্ট অর্থ নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর — সংক্ষেপ।
➤ প্রধান আলোচ্য বিষয় — সমাসের মূল কাঠামো।
➤ এই প্রশ্নের মূল শব্দ বা ধারণা — সমাস।
➤ সমাস কী? — অর্থসম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ এক পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া।
➤ সমস্যমান পদ — সমাসে অংশগ্রহণকারী পৃথক পদ।
➤ সমস্তপদ — সমাসের ফলে সৃষ্ট সংক্ষিপ্ত একক পদ।
➤ ব্যাসবাক্য/বিগ্রহবাক্য — সমাসবদ্ধ শব্দের বিস্তৃত অর্থপ্রকাশ।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — নীল + পদ্ম ⇒ নীলপদ্ম; ব্যাসবাক্য নীল যে পদ্ম।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — মা + বাবা ⇒ মা-বাবা; ব্যাসবাক্য মা ও বাবা।
➤ সমাস নির্ণয়ের সূত্র — ব্যাসবাক্য ⇒ অর্থপ্রাধান্য ⇒ সমাসের প্রকৃতি।"
02
🎯 Level 1

১১. নিচের কোন শব্দটি সমাসের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে? [এনএসআই’র সহকারী পরিচালক: ১৯]

ক

আমরা

খ

হিমাচল

গ

রেখাবর

ঘ

ঘরামি

✅ সঠিক উত্তর:খ. হিমাচল

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: হিমাচল
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ সমাসের মূল কাঠামো — সংজ্ঞা: সমাস হচ্ছে অর্থের সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদের মিলনে একটি সংক্ষিপ্ত পদ গঠনের প্রক্রিয়া। সমস্যমান পদ হলো যোগদানকারী পদ, সমস্তপদ হলো সমাসের ফলে গঠিত রূপ এবং ব্যাসবাক্য/বিগ্রহবাক্য হলো তার বিস্তৃত অর্থপ্রকাশ।
❖ প্রশ্নের কেন্দ্রীয় পদ ‘হিমাচল’ বিশ্লেষণের সময় প্রথমে তার ব্যাসবাক্য খুঁজতে হবে; তারপর কোন অংশের অর্থ প্রধান, কোনো বিভক্তি লোপ পেয়েছে কি না এবং কোনো তৃতীয় সত্তা বোঝানো হচ্ছে কি না—এই তিনটি লক্ষণ মিলিয়ে শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে।
❖ প্রদত্ত শব্দের প্রচলিত ব্যাখ্যায় আমরা সঠিক।
❖ তবে ব্যাকরণগতভাবে “হিমাচল” শব্দটিও সমাসজাত মনে হতে পারে—হিম + অচল = হিমাচল। তাই এখানে উত্তরসূচি অনুসরণ করলে ক. আমরা নিতে হবে।
❖ হিমাচল শব্দের অর্থ হিম বা তুষারে আচ্ছাদিত অচল/পর্বত; এটি অর্থসম্পর্কযুক্ত অংশের সমন্বয়ে গঠিত।
❖ আমরা একটি ব্যক্তিবাচক সর্বনাম। আমরা শব্দকে সমাসনিষ্পন্ন পদ বলা যায় না।
❖ পদ ও শব্দের পার্থক্য: শব্দ হলো অর্থবোধক ধ্বনি বা বর্ণসমষ্টি; বাক্যে ব্যবহৃত হলে তা পদ হিসেবে কাজ করে। সমাসে শব্দের শুধু পাশাপাশি বসা নয়, তাদের অর্থগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়াও জরুরি।
❖ সমস্যমান পদ: সমাসে অংশগ্রহণকারী পৃথক পদগুলোর নাম সমস্যমান পদ। এর প্রথমটিকে পূর্বপদ এবং পরেরটিকে পরপদ/উত্তরপদ বলা হয়।
❖ সমস্তপদ: সমস্যমান পদ দুটি বা একাধিক একত্রে মিলিত হলে যে সংক্ষিপ্ত নতুন পদ পাওয়া যায়, তার নাম সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদ।
❖ ব্যাসবাক্য ও বিগ্রহবাক্য: সমাসবদ্ধ পদের অর্থ বিস্তৃত করে যে পদগুচ্ছ পাওয়া যায়, তাকে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য বলে; এটি সমাসের সম্পর্ক বোঝার কার্যকর উপায়।
❖ আরও কয়েকটি তুলনামূলক উদাহরণ:
➤ মা + বাবা ⇒ মা-বাবা; ব্যাসবাক্য মা ও বাবা।
➤ রাজা + পুত্র ⇒ রাজপুত্র; ব্যাসবাক্য রাজার পুত্র।
➤ নীল + পদ্ম ⇒ নীলপদ্ম; ব্যাসবাক্য নীল যে পদ্ম।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ আমরা ⇒ প্রযোজ্য নয়। শব্দটির অর্থ/গঠনে প্রশ্নে চাওয়া নির্দিষ্ট সমাসের মূল কাঠামো-এর লক্ষণ পাওয়া যায় না; তুলনার জন্য ব্যাসবাক্য ও অর্থপ্রাধান্যের নিয়ম বিবেচনা করতে হবে।
❖ হিমাচল ⇒ সঠিক। এই বিকল্পটি প্রশ্নে নির্ধারিত ব্যাকরণিক অর্থ বা শ্রেণিবিভাগের সঙ্গে মেলে।
❖ রেখাবর ⇒ প্রযোজ্য নয়। শব্দটির অর্থ/গঠনে প্রশ্নে চাওয়া নির্দিষ্ট সমাসের মূল কাঠামো-এর লক্ষণ পাওয়া যায় না; তুলনার জন্য ব্যাসবাক্য ও অর্থপ্রাধান্যের নিয়ম বিবেচনা করতে হবে।
❖ ঘরামি ⇒ প্রযোজ্য নয়। শব্দটির অর্থ/গঠনে প্রশ্নে চাওয়া নির্দিষ্ট সমাসের মূল কাঠামো-এর লক্ষণ পাওয়া যায় না; তুলনার জন্য ব্যাসবাক্য ও অর্থপ্রাধান্যের নিয়ম বিবেচনা করতে হবে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর — হিমাচল।
➤ প্রধান আলোচ্য বিষয় — সমাসের মূল কাঠামো।
➤ এই প্রশ্নের মূল শব্দ বা ধারণা — হিমাচল।
➤ সমাস কী? — অর্থসম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ এক পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া।
➤ সমস্যমান পদ — সমাসে অংশগ্রহণকারী পৃথক পদ।
➤ সমস্তপদ — সমাসের ফলে সৃষ্ট সংক্ষিপ্ত একক পদ।
➤ ব্যাসবাক্য/বিগ্রহবাক্য — সমাসবদ্ধ শব্দের বিস্তৃত অর্থপ্রকাশ।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — মা + বাবা ⇒ মা-বাবা; ব্যাসবাক্য মা ও বাবা।
➤ সমাস নির্ণয়ের সূত্র — ব্যাসবাক্য ⇒ অর্থপ্রাধান্য ⇒ সমাসের প্রকৃতি।
Advertisement
03
🎯 Level 1

২৩. দ্বন্দ্ব সমাসের ব্যাসবাক্যের মাঝখানে কোন অব্যয়গুলো ব্যবহৃত হয়? [ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার: ২৩]

ক

যে, যিনি

খ

যার, তার

গ

এবং, ও

ঘ

ন্যায়, রূপ

✅ সঠিক উত্তর:গ. এবং, ও

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: এবং, ও
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ দ্বন্দ্ব সমাস — সংজ্ঞা: দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদের প্রত্যেকটির অর্থ সমানভাবে প্রধান থাকে। ব্যাসবাক্যে সাধারণত ‘ও’, ‘এবং’, ‘আর’ ব্যবহার করে উভয়/সব পদের উল্লেখ করা যায়।
❖ প্রশ্নের কেন্দ্রীয় পদ ‘এবং, ও’ বিশ্লেষণের সময় প্রথমে তার ব্যাসবাক্য খুঁজতে হবে; তারপর কোন অংশের অর্থ প্রধান, কোনো বিভক্তি লোপ পেয়েছে কি না এবং কোনো তৃতীয় সত্তা বোঝানো হচ্ছে কি না—এই তিনটি লক্ষণ মিলিয়ে শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে।
❖ দ্বন্দ্ব সমাসের ব্যাসবাক্যে সাধারণত এবং, ও, আর জাতীয় সংযোজক অব্যয় ব্যবহৃত হয়।
❖ কারণ দ্বন্দ্ব সমাসে একাধিক পদের সমন্বয় ঘটে।
❖ ব্যাসবাক্যের গুরুত্ব: শুধু শব্দের বানান দেখে সমাস স্থির করা যায় না। সমাসবদ্ধ রূপকে পূর্ণ পদগুচ্ছে বিস্তৃত করে প্রকৃত অর্থ বোঝার পরই শ্রেণি নির্ধারণ করতে হয়।
❖ অর্থের প্রাধান্য: দ্বন্দ্বে সব পদের অর্থ প্রধান, কর্মধারয় ও তৎপুরুষে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধান, বহুব্রীহিতে তৃতীয় অর্থ প্রধান এবং অব্যয়ীভাবে পূর্ববর্তী অব্যয়ের অর্থ মুখ্য—এই পার্থক্য পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
❖ দ্বন্দ্ব সমাস চেনার নিয়ম: কর্মধারয় ও তৎপুরুষে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধান; বহুব্রীহিতে বাইরের কোনো তৃতীয় সত্তা প্রধান। দ্বন্দ্বে এমন নয়।
❖ সন্ধি–সমাসের পার্থক্য: সন্ধিতে মূলত বর্ণ বা ধ্বনির সংযোগ ও রূপান্তর বিচার করা হয়; সমাসে মূল বিচার দুই বা ততোধিক পদের মধ্যে অর্থসম্পর্ক। কখনো একই শব্দে সন্ধি ও সমাস—উভয় স্তরের বিশ্লেষণ সম্ভব।
❖ আরও কয়েকটি তুলনামূলক উদাহরণ:
➤ হাট-বাজার ⇒ হাট ও বাজার; যুক্ত দুটি পদই গুরুত্বপূর্ণ।
➤ মা-বাবা ⇒ মা ও বাবা; উভয় পদের অর্থ সমান।
➤ সুখ-দুঃখ ⇒ সুখ ও দুঃখ; পরস্পর বিপরীতার্থক যুগল।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ যে, যিনি ⇒ বিশেষণধর্মী বা সম্পর্কসূচক বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
❖ যার, তার ⇒ অধিকারের সম্পর্ক বোঝায়; দ্বন্দ্ব নয়।
❖ এবং, ও ⇒ সঠিক। এই বিকল্পটি প্রশ্নে নির্ধারিত ব্যাকরণিক অর্থ বা শ্রেণিবিভাগের সঙ্গে মেলে।
❖ ন্যায়, রূপ ⇒ সাদৃশ্য বোঝায়; কর্মধারয় জাতীয় ব্যাখ্যায় বেশি ব্যবহৃত হতে পারে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর — এবং, ও।
➤ প্রধান আলোচ্য বিষয় — দ্বন্দ্ব সমাস।
➤ এই প্রশ্নের মূল শব্দ বা ধারণা — এবং, ও।
➤ সমাস কী? — অর্থসম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ এক পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া।
➤ সমস্যমান পদ — সমাসে অংশগ্রহণকারী পৃথক পদ।
➤ সমস্তপদ — সমাসের ফলে সৃষ্ট সংক্ষিপ্ত একক পদ।
➤ ব্যাসবাক্য/বিগ্রহবাক্য — সমাসবদ্ধ শব্দের বিস্তৃত অর্থপ্রকাশ।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — হাট-বাজার ⇒ হাট ও বাজার; যুক্ত দুটি পদই গুরুত্বপূর্ণ।
➤ সমাস নির্ণয়ের সূত্র — ব্যাসবাক্য ⇒ অর্থপ্রাধান্য ⇒ সমাসের প্রকৃতি।
04
🎯 Level 1

৩৬. নিচের কোনটি সমার্থক শব্দযোগে গঠিত সমাস? [বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের সহকারী ব্যবস্থাপক: ১৮]

ক

নাক-মুখ

খ

লাভ-লোকসান

গ

দেখা-শোনা

ঘ

খাতা-পত্র

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. খাতা-পত্র

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: খাতা-পত্র
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ দ্বন্দ্ব সমাস — সংজ্ঞা: দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদের প্রত্যেকটির অর্থ সমানভাবে প্রধান থাকে। ব্যাসবাক্যে সাধারণত ‘ও’, ‘এবং’, ‘আর’ ব্যবহার করে উভয়/সব পদের উল্লেখ করা যায়।
❖ প্রশ্নের কেন্দ্রীয় পদ ‘খাতা-পত্র’ বিশ্লেষণের সময় প্রথমে তার ব্যাসবাক্য খুঁজতে হবে; তারপর কোন অংশের অর্থ প্রধান, কোনো বিভক্তি লোপ পেয়েছে কি না এবং কোনো তৃতীয় সত্তা বোঝানো হচ্ছে কি না—এই তিনটি লক্ষণ মিলিয়ে শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে।
❖ সমার্থক বা কাছাকাছি অর্থবোধক শব্দযোগে গঠিত সমাসে দুইটি শব্দ মিলেও প্রায় একই অর্থক্ষেত্র প্রকাশ করে।
❖ খাতা-পত্র বলতে লেখাপড়া বা দাপ্তরিক কাগজপত্রজাত সামগ্রিক জিনিস বোঝায়।
❖ ব্যাসবাক্যের গুরুত্ব: শুধু শব্দের বানান দেখে সমাস স্থির করা যায় না। সমাসবদ্ধ রূপকে পূর্ণ পদগুচ্ছে বিস্তৃত করে প্রকৃত অর্থ বোঝার পরই শ্রেণি নির্ধারণ করতে হয়।
❖ অর্থের প্রাধান্য: দ্বন্দ্বে সব পদের অর্থ প্রধান, কর্মধারয় ও তৎপুরুষে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধান, বহুব্রীহিতে তৃতীয় অর্থ প্রধান এবং অব্যয়ীভাবে পূর্ববর্তী অব্যয়ের অর্থ মুখ্য—এই পার্থক্য পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
❖ দ্বন্দ্ব সমাস চেনার নিয়ম: কর্মধারয় ও তৎপুরুষে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধান; বহুব্রীহিতে বাইরের কোনো তৃতীয় সত্তা প্রধান। দ্বন্দ্বে এমন নয়।
❖ সন্ধি–সমাসের পার্থক্য: সন্ধিতে মূলত বর্ণ বা ধ্বনির সংযোগ ও রূপান্তর বিচার করা হয়; সমাসে মূল বিচার দুই বা ততোধিক পদের মধ্যে অর্থসম্পর্ক। কখনো একই শব্দে সন্ধি ও সমাস—উভয় স্তরের বিশ্লেষণ সম্ভব।
❖ আরও কয়েকটি তুলনামূলক উদাহরণ:
➤ মা-বাবা ⇒ মা ও বাবা; উভয় পদের অর্থ সমান।
➤ সুখ-দুঃখ ⇒ সুখ ও দুঃখ; পরস্পর বিপরীতার্থক যুগল।
➤ হাট-বাজার ⇒ হাট ও বাজার; যুক্ত দুটি পদই গুরুত্বপূর্ণ।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ নাক-মুখ ⇒ দেহের দুই পৃথক অঙ্গ; সমার্থক নয়।
❖ লাভ-লোকসান ⇒ বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব।
❖ দেখা-শোনা ⇒ কাজের যুগল; সমার্থক নয়।
❖ খাতা-পত্র ⇒ সঠিক। এই বিকল্পটি প্রশ্নে নির্ধারিত ব্যাকরণিক অর্থ বা শ্রেণিবিভাগের সঙ্গে মেলে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর — খাতা-পত্র।
➤ প্রধান আলোচ্য বিষয় — দ্বন্দ্ব সমাস।
➤ এই প্রশ্নের মূল শব্দ বা ধারণা — খাতা-পত্র।
➤ সমাস কী? — অর্থসম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ এক পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া।
➤ সমস্যমান পদ — সমাসে অংশগ্রহণকারী পৃথক পদ।
➤ সমস্তপদ — সমাসের ফলে সৃষ্ট সংক্ষিপ্ত একক পদ।
➤ ব্যাসবাক্য/বিগ্রহবাক্য — সমাসবদ্ধ শব্দের বিস্তৃত অর্থপ্রকাশ।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — মা-বাবা ⇒ মা ও বাবা; উভয় পদের অর্থ সমান।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — সুখ-দুঃখ ⇒ সুখ ও দুঃখ; পরস্পর বিপরীতার্থক যুগল।
➤ সমাস নির্ণয়ের সূত্র — ব্যাসবাক্য ⇒ অর্থপ্রাধান্য ⇒ সমাসের প্রকৃতি।
05
🎯 Level 1

৪৯. দুটি বিশেষ্য পদ একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বুঝালে কোন সমাস হয়? [এনএসআই’র কম্পিউটার অপারেটর: ২১]

ক

কর্মধারয়

খ

তৎপুরুষ

গ

দ্বিগু

ঘ

বহুব্রীহি

✅ সঠিক উত্তর:ক. কর্মধারয়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: কর্মধারয়
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ কর্মধারয় সমাস — সংজ্ঞা: কর্মধারয় সমাসে একটি পদ সাধারণত অন্য পদের বিশেষণ হয় অথবা একই ব্যক্তি/বস্তু নির্দেশ করে; পরপদের অর্থ প্রধান থাকে। ব্যাসবাক্যে ‘যে’, ‘যিনি’ ইত্যাদি দ্বারা পরিচয় বোঝানো যায়।
❖ প্রশ্নের কেন্দ্রীয় পদ ‘কর্মধারয়’ বিশ্লেষণের সময় প্রথমে তার ব্যাসবাক্য খুঁজতে হবে; তারপর কোন অংশের অর্থ প্রধান, কোনো বিভক্তি লোপ পেয়েছে কি না এবং কোনো তৃতীয় সত্তা বোঝানো হচ্ছে কি না—এই তিনটি লক্ষণ মিলিয়ে শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে।
❖ যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
❖ কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ + বিশেষ্য বা বিশেষ্য + বিশেষ্য মিলিত হয়।
❖ ব্যাসবাক্যের গুরুত্ব: শুধু শব্দের বানান দেখে সমাস স্থির করা যায় না। সমাসবদ্ধ রূপকে পূর্ণ পদগুচ্ছে বিস্তৃত করে প্রকৃত অর্থ বোঝার পরই শ্রেণি নির্ধারণ করতে হয়।
❖ অর্থের প্রাধান্য: দ্বন্দ্বে সব পদের অর্থ প্রধান, কর্মধারয় ও তৎপুরুষে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধান, বহুব্রীহিতে তৃতীয় অর্থ প্রধান এবং অব্যয়ীভাবে পূর্ববর্তী অব্যয়ের অর্থ মুখ্য—এই পার্থক্য পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
❖ কর্মধারয় সমাস চেনার নিয়ম: কর্মধারয়ে যে বস্তু/ব্যক্তি বোঝানো হয় তা সাধারণত পরপদেই থাকে। বহুব্রীহিতে ‘যার’ ধরনের ব্যাসবাক্যে বাইরের সত্তা বোঝায়।
❖ সন্ধি–সমাসের পার্থক্য: সন্ধিতে মূলত বর্ণ বা ধ্বনির সংযোগ ও রূপান্তর বিচার করা হয়; সমাসে মূল বিচার দুই বা ততোধিক পদের মধ্যে অর্থসম্পর্ক। কখনো একই শব্দে সন্ধি ও সমাস—উভয় স্তরের বিশ্লেষণ সম্ভব।
❖ আরও কয়েকটি তুলনামূলক উদাহরণ:
➤ মহাপুরুষ ⇒ মহান যে পুরুষ; পুরুষের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ।
➤ রাজর্ষি ⇒ যিনি রাজা তিনিই ঋষি; একই ব্যক্তি দুটি পরিচয়ে।
➤ নীলপদ্ম ⇒ নীল যে পদ্ম; নীল বিশেষণ, পদ্ম বিশেষ্য।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ কর্মধারয় ⇒ সঠিক। এই বিকল্পটি প্রশ্নে নির্ধারিত ব্যাকরণিক অর্থ বা শ্রেণিবিভাগের সঙ্গে মেলে।
❖ তৎপুরুষ ⇒ পরপদের অর্থ প্রধান, কিন্তু পূর্বপদে কারক-সম্পর্ক থাকে।
❖ দ্বিগু ⇒ সংখ্যাবাচক পূর্বপদ থাকে। যেমন: ত্রিভুবন।
❖ বহুব্রীহি ⇒ সমাসবদ্ধ পদে বোঝানো বস্তু বাইরে থাকে। যেমন: নীলকণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর — কর্মধারয়।
➤ প্রধান আলোচ্য বিষয় — কর্মধারয় সমাস।
➤ এই প্রশ্নের মূল শব্দ বা ধারণা — কর্মধারয়।
➤ সমাস কী? — অর্থসম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ এক পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া।
➤ সমস্যমান পদ — সমাসে অংশগ্রহণকারী পৃথক পদ।
➤ সমস্তপদ — সমাসের ফলে সৃষ্ট সংক্ষিপ্ত একক পদ।
➤ ব্যাসবাক্য/বিগ্রহবাক্য — সমাসবদ্ধ শব্দের বিস্তৃত অর্থপ্রকাশ।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — মহাপুরুষ ⇒ মহান যে পুরুষ; পুরুষের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — রাজর্ষি ⇒ যিনি রাজা তিনিই ঋষি; একই ব্যক্তি দুটি পরিচয়ে।
➤ সমাস নির্ণয়ের সূত্র — ব্যাসবাক্য ⇒ অর্থপ্রাধান্য ⇒ সমাসের প্রকৃতি।
Advertisement
06
🎯 Level 1

৫৯. ‘খাসমহল’ কোন সমাস? / ‘খাস যে মহল = খাসমহল’ কোন সমাস? [প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ১৩]

ক

কর্মধারয়

খ

তৎপুরুষ

গ

অব্যয়ীভাব

ঘ

বহুব্রীহি

✅ সঠিক উত্তর:ক. কর্মধারয়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: কর্মধারয়
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ কর্মধারয় সমাস — সংজ্ঞা: কর্মধারয় সমাসে একটি পদ সাধারণত অন্য পদের বিশেষণ হয় অথবা একই ব্যক্তি/বস্তু নির্দেশ করে; পরপদের অর্থ প্রধান থাকে। ব্যাসবাক্যে ‘যে’, ‘যিনি’ ইত্যাদি দ্বারা পরিচয় বোঝানো যায়।
❖ প্রশ্নের কেন্দ্রীয় পদ ‘খাস যে মহল = খাসমহল’ বিশ্লেষণের সময় প্রথমে তার ব্যাসবাক্য খুঁজতে হবে; তারপর কোন অংশের অর্থ প্রধান, কোনো বিভক্তি লোপ পেয়েছে কি না এবং কোনো তৃতীয় সত্তা বোঝানো হচ্ছে কি না—এই তিনটি লক্ষণ মিলিয়ে শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে।
❖ খাসমহল অর্থ বিশেষ/নিজস্ব মহল।
❖ এখানে “খাস” পূর্বপদটি “মহল” শব্দকে বিশেষিত করছে। তাই এটি কর্মধারয় সমাস।
❖ ব্যাসবাক্যের গুরুত্ব: শুধু শব্দের বানান দেখে সমাস স্থির করা যায় না। সমাসবদ্ধ রূপকে পূর্ণ পদগুচ্ছে বিস্তৃত করে প্রকৃত অর্থ বোঝার পরই শ্রেণি নির্ধারণ করতে হয়।
❖ অর্থের প্রাধান্য: দ্বন্দ্বে সব পদের অর্থ প্রধান, কর্মধারয় ও তৎপুরুষে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধান, বহুব্রীহিতে তৃতীয় অর্থ প্রধান এবং অব্যয়ীভাবে পূর্ববর্তী অব্যয়ের অর্থ মুখ্য—এই পার্থক্য পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
❖ কর্মধারয় সমাস চেনার নিয়ম: কর্মধারয়ে যে বস্তু/ব্যক্তি বোঝানো হয় তা সাধারণত পরপদেই থাকে। বহুব্রীহিতে ‘যার’ ধরনের ব্যাসবাক্যে বাইরের সত্তা বোঝায়।
❖ সন্ধি–সমাসের পার্থক্য: সন্ধিতে মূলত বর্ণ বা ধ্বনির সংযোগ ও রূপান্তর বিচার করা হয়; সমাসে মূল বিচার দুই বা ততোধিক পদের মধ্যে অর্থসম্পর্ক। কখনো একই শব্দে সন্ধি ও সমাস—উভয় স্তরের বিশ্লেষণ সম্ভব।
❖ আরও কয়েকটি তুলনামূলক উদাহরণ:
➤ রাজর্ষি ⇒ যিনি রাজা তিনিই ঋষি; একই ব্যক্তি দুটি পরিচয়ে।
➤ নীলপদ্ম ⇒ নীল যে পদ্ম; নীল বিশেষণ, পদ্ম বিশেষ্য।
➤ মহাপুরুষ ⇒ মহান যে পুরুষ; পুরুষের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ কর্মধারয় ⇒ সঠিক। এই বিকল্পটি প্রশ্নে নির্ধারিত ব্যাকরণিক অর্থ বা শ্রেণিবিভাগের সঙ্গে মেলে।
❖ তৎপুরুষ ⇒ কারক-সম্বন্ধ থাকলে হয়।
❖ অব্যয়ীভাব ⇒ অব্যয় পূর্বপদ প্রধান থাকে।
❖ বহুব্রীহি ⇒ সমাসবদ্ধ পদে বাহিরের অর্থ বোঝায়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর — কর্মধারয়।
➤ প্রধান আলোচ্য বিষয় — কর্মধারয় সমাস।
➤ এই প্রশ্নের মূল শব্দ বা ধারণা — খাস যে মহল = খাসমহল।
➤ সমাস কী? — অর্থসম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ এক পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া।
➤ সমস্যমান পদ — সমাসে অংশগ্রহণকারী পৃথক পদ।
➤ সমস্তপদ — সমাসের ফলে সৃষ্ট সংক্ষিপ্ত একক পদ।
➤ ব্যাসবাক্য/বিগ্রহবাক্য — সমাসবদ্ধ শব্দের বিস্তৃত অর্থপ্রকাশ।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — রাজর্ষি ⇒ যিনি রাজা তিনিই ঋষি; একই ব্যক্তি দুটি পরিচয়ে।
➤ সমাস নির্ণয়ের সূত্র — ব্যাসবাক্য ⇒ অর্থপ্রাধান্য ⇒ সমাসের প্রকৃতি।
07
🎯 Level 1

৭২. ‘জীবনস্রোত’ কোন ধরনের কর্মধারয় সমাস? / ‘দেশপীড়ক’ শব্দটি কোন সমাস দ্বারা গঠিত? [গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী: ১৫]

ক

উপমান কর্মধারয়

খ

উপমিত কর্মধারয়

গ

রূপক কর্মধারয়

ঘ

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়

✅ সঠিক উত্তর:গ. রূপক কর্মধারয়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: রূপক কর্মধারয়
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ রূপক কর্মধারয় সমাস — সংজ্ঞা: রূপক কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভেদ বা একাত্মতা কল্পনা করা হয়। কেবল ‘মতো’ বলে সাদৃশ্য নয়, সরাসরি একটিকে অন্যটির রূপে দেখা হয়।
❖ প্রশ্নের কেন্দ্রীয় পদ ‘দেশপীড়ক’ বিশ্লেষণের সময় প্রথমে তার ব্যাসবাক্য খুঁজতে হবে; তারপর কোন অংশের অর্থ প্রধান, কোনো বিভক্তি লোপ পেয়েছে কি না এবং কোনো তৃতীয় সত্তা বোঝানো হচ্ছে কি না—এই তিনটি লক্ষণ মিলিয়ে শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে।
❖ জীবনস্রোত শব্দে জীবনকে স্রোতের সঙ্গে একাকার করে রূপকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
❖ “জীবনের স্রোত” নয় শুধু; জীবনকে স্রোতরূপে কল্পনা করা হয়েছে। তাই এটি রূপক কর্মধারয়।
❖ ব্যাসবাক্যের গুরুত্ব: শুধু শব্দের বানান দেখে সমাস স্থির করা যায় না। সমাসবদ্ধ রূপকে পূর্ণ পদগুচ্ছে বিস্তৃত করে প্রকৃত অর্থ বোঝার পরই শ্রেণি নির্ধারণ করতে হয়।
❖ অর্থের প্রাধান্য: দ্বন্দ্বে সব পদের অর্থ প্রধান, কর্মধারয় ও তৎপুরুষে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধান, বহুব্রীহিতে তৃতীয় অর্থ প্রধান এবং অব্যয়ীভাবে পূর্ববর্তী অব্যয়ের অর্থ মুখ্য—এই পার্থক্য পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
❖ রূপক কর্মধারয় সমাস চেনার নিয়ম: উপমিত কর্মধারয়ে চাঁদের মতো মুখ ধরনের তুলনা; রূপক কর্মধারয়ে মুখচন্দ্র অর্থ মুখরূপ চন্দ্র ধরনের অভেদকল্পনা।
❖ সন্ধি–সমাসের পার্থক্য: সন্ধিতে মূলত বর্ণ বা ধ্বনির সংযোগ ও রূপান্তর বিচার করা হয়; সমাসে মূল বিচার দুই বা ততোধিক পদের মধ্যে অর্থসম্পর্ক। কখনো একই শব্দে সন্ধি ও সমাস—উভয় স্তরের বিশ্লেষণ সম্ভব।
❖ আরও কয়েকটি তুলনামূলক উদাহরণ:
➤ জীবনপ্রদীপ ⇒ জীবনরূপ প্রদীপ; জীবনকে প্রদীপ কল্পনা।
➤ মনমাঝি ⇒ মনরূপ মাঝি; মনকে মাঝির রূপ দেওয়া।
➤ বিষাদসিন্ধু ⇒ বিষাদরূপ সিন্ধু; বিষাদের গভীরতা সাগরের রূপে প্রকাশ।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ উপমান কর্মধারয় ⇒ অন্য শ্রেণি। কর্মধারয় সমাসে বিশেষণ–বিশেষ্য/একই সত্তার সম্পর্ক থাকে; এখানে প্রশ্নে চাওয়া নির্দিষ্ট লক্ষণ তার সঙ্গে মেলে না।
❖ উপমিত কর্মধারয় ⇒ অন্য শ্রেণি। কর্মধারয় সমাসে বিশেষণ–বিশেষ্য/একই সত্তার সম্পর্ক থাকে; এখানে প্রশ্নে চাওয়া নির্দিষ্ট লক্ষণ তার সঙ্গে মেলে না।
❖ রূপক কর্মধারয় ⇒ সঠিক। এই বিকল্পটি প্রশ্নে নির্ধারিত ব্যাকরণিক অর্থ বা শ্রেণিবিভাগের সঙ্গে মেলে।
❖ মধ্যপদলোপী কর্মধারয় ⇒ মাঝের পদ লোপের দৃষ্টান্ত নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর — রূপক কর্মধারয়।
➤ প্রধান আলোচ্য বিষয় — রূপক কর্মধারয় সমাস।
➤ এই প্রশ্নের মূল শব্দ বা ধারণা — দেশপীড়ক।
➤ সমাস কী? — অর্থসম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ এক পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া।
➤ সমস্যমান পদ — সমাসে অংশগ্রহণকারী পৃথক পদ।
➤ সমস্তপদ — সমাসের ফলে সৃষ্ট সংক্ষিপ্ত একক পদ।
➤ ব্যাসবাক্য/বিগ্রহবাক্য — সমাসবদ্ধ শব্দের বিস্তৃত অর্থপ্রকাশ।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — জীবনপ্রদীপ ⇒ জীবনরূপ প্রদীপ; জীবনকে প্রদীপ কল্পনা।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — মনমাঝি ⇒ মনরূপ মাঝি; মনকে মাঝির রূপ দেওয়া।
➤ সমাস নির্ণয়ের সূত্র — ব্যাসবাক্য ⇒ অর্থপ্রাধান্য ⇒ সমাসের প্রকৃতি।
08
🎯 Level 1

৮৬. ‘শিক্ষানীতি’ কোন সমাস? / ‘স্মৃতিসৌধ’ কোন সমাস? [রূপালী ব্যাংকের সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার: ২১]

ক

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়

খ

উপমান কর্মধারয়

গ

উপমিত কর্মধারয়

ঘ

রূপক কর্মধারয়

✅ সঠিক উত্তর:ক. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মধ্যপদলোপী কর্মধারয় — সংজ্ঞা: মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ে ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী ব্যাখ্যামূলক পদ বাদ পড়ে। ফলে সংক্ষিপ্ত শব্দে আড়ালে থাকা পদ পুনর্গঠন করে অর্থ বোঝাতে হয়।
❖ প্রশ্নের কেন্দ্রীয় পদ ‘স্মৃতিসৌধ’ বিশ্লেষণের সময় প্রথমে তার ব্যাসবাক্য খুঁজতে হবে; তারপর কোন অংশের অর্থ প্রধান, কোনো বিভক্তি লোপ পেয়েছে কি না এবং কোনো তৃতীয় সত্তা বোঝানো হচ্ছে কি না—এই তিনটি লক্ষণ মিলিয়ে শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে।
❖ শিক্ষানীতি = শিক্ষা-সম্পর্কিত নীতি।
❖ স্মৃতিসৌধ = স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত সৌধ।
❖ ব্যাসবাক্যের গুরুত্ব: শুধু শব্দের বানান দেখে সমাস স্থির করা যায় না। সমাসবদ্ধ রূপকে পূর্ণ পদগুচ্ছে বিস্তৃত করে প্রকৃত অর্থ বোঝার পরই শ্রেণি নির্ধারণ করতে হয়।
❖ অর্থের প্রাধান্য: দ্বন্দ্বে সব পদের অর্থ প্রধান, কর্মধারয় ও তৎপুরুষে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধান, বহুব্রীহিতে তৃতীয় অর্থ প্রধান এবং অব্যয়ীভাবে পূর্ববর্তী অব্যয়ের অর্থ মুখ্য—এই পার্থক্য পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
❖ মধ্যপদলোপী কর্মধারয় চেনার নিয়ম: সাধারণ কর্মধারয়ে ‘নীল যে পদ্ম’ ধরনের সরাসরি বিশেষণ থাকে; মধ্যপদলোপীতে ‘মাখা’, ‘নির্দেশক’ বা ‘সংগ্রহকারী’র মতো অদৃশ্য মধ্যপদ উদ্ধার করতে হয়।
❖ সন্ধি–সমাসের পার্থক্য: সন্ধিতে মূলত বর্ণ বা ধ্বনির সংযোগ ও রূপান্তর বিচার করা হয়; সমাসে মূল বিচার দুই বা ততোধিক পদের মধ্যে অর্থসম্পর্ক। কখনো একই শব্দে সন্ধি ও সমাস—উভয় স্তরের বিশ্লেষণ সম্ভব।
❖ আরও কয়েকটি তুলনামূলক উদাহরণ:
➤ বিজয়পতাকা ⇒ বিজয় নির্দেশক পতাকা; ‘নির্দেশক’ লোপ।
➤ হাসিমুখ ⇒ হাসিমাখা মুখ; ‘মাখা’ মধ্যপদ লোপ।
➤ মৌমাছি ⇒ মৌ সংগ্রহকারী মাছি; ‘সংগ্রহকারী’ লোপ।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ মধ্যপদলোপী কর্মধারয় ⇒ সঠিক। এই বিকল্পটি প্রশ্নে নির্ধারিত ব্যাকরণিক অর্থ বা শ্রেণিবিভাগের সঙ্গে মেলে।
❖ উপমান কর্মধারয় ⇒ প্রযোজ্য নয়। শব্দটির অর্থ/গঠনে প্রশ্নে চাওয়া নির্দিষ্ট মধ্যপদলোপী কর্মধারয়-এর লক্ষণ পাওয়া যায় না; তুলনার জন্য ব্যাসবাক্য ও অর্থপ্রাধান্যের নিয়ম বিবেচনা করতে হবে।
❖ উপমিত কর্মধারয় ⇒ প্রযোজ্য নয়। শব্দটির অর্থ/গঠনে প্রশ্নে চাওয়া নির্দিষ্ট মধ্যপদলোপী কর্মধারয়-এর লক্ষণ পাওয়া যায় না; তুলনার জন্য ব্যাসবাক্য ও অর্থপ্রাধান্যের নিয়ম বিবেচনা করতে হবে।
❖ রূপক কর্মধারয় ⇒ প্রযোজ্য নয়। শব্দটির অর্থ/গঠনে প্রশ্নে চাওয়া নির্দিষ্ট মধ্যপদলোপী কর্মধারয়-এর লক্ষণ পাওয়া যায় না; তুলনার জন্য ব্যাসবাক্য ও অর্থপ্রাধান্যের নিয়ম বিবেচনা করতে হবে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর — মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
➤ প্রধান আলোচ্য বিষয় — মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
➤ এই প্রশ্নের মূল শব্দ বা ধারণা — স্মৃতিসৌধ।
➤ সমাস কী? — অর্থসম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ এক পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া।
➤ সমস্যমান পদ — সমাসে অংশগ্রহণকারী পৃথক পদ।
➤ সমস্তপদ — সমাসের ফলে সৃষ্ট সংক্ষিপ্ত একক পদ।
➤ ব্যাসবাক্য/বিগ্রহবাক্য — সমাসবদ্ধ শব্দের বিস্তৃত অর্থপ্রকাশ।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — বিজয়পতাকা ⇒ বিজয় নির্দেশক পতাকা; ‘নির্দেশক’ লোপ।
➤ সমাস নির্ণয়ের সূত্র — ব্যাসবাক্য ⇒ অর্থপ্রাধান্য ⇒ সমাসের প্রকৃতি।
Advertisement
09
🎯 Level 1

৯৯. ‘চক্রপুষ্প’ কোন সমাসের উদাহরণ? / ‘সিংহপুরুষ’ কোন সমাস? [১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন]

ক

উপমান কর্মধারয়

খ

উপপদ তৎপুরুষ

গ

উপমিত কর্মধারয়

ঘ

অব্যয়ীভাব

✅ সঠিক উত্তর:গ. উপমিত কর্মধারয়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: উপমিত কর্মধারয়
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ উপমিত কর্মধারয় — সংজ্ঞা: উপমিত কর্মধারয়ে উপমান ও উপমেয়ের সাদৃশ্য বোঝানো হয়, ব্যাসবাক্যে ‘মতো’, ‘ন্যায়’, ‘সদৃশ’ প্রভৃতি ব্যবহার করা যায়।
❖ প্রশ্নের কেন্দ্রীয় পদ ‘সিংহপুরুষ’ বিশ্লেষণের সময় প্রথমে তার ব্যাসবাক্য খুঁজতে হবে; তারপর কোন অংশের অর্থ প্রধান, কোনো বিভক্তি লোপ পেয়েছে কি না এবং কোনো তৃতীয় সত্তা বোঝানো হচ্ছে কি না—এই তিনটি লক্ষণ মিলিয়ে শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে।
❖ সিংহপুরুষ = সিংহের ন্যায় পুরুষ।
❖ এখানে পুরুষ উপমেয় এবং সিংহ উপমান।
❖ ব্যাসবাক্যের গুরুত্ব: শুধু শব্দের বানান দেখে সমাস স্থির করা যায় না। সমাসবদ্ধ রূপকে পূর্ণ পদগুচ্ছে বিস্তৃত করে প্রকৃত অর্থ বোঝার পরই শ্রেণি নির্ধারণ করতে হয়।
❖ অর্থের প্রাধান্য: দ্বন্দ্বে সব পদের অর্থ প্রধান, কর্মধারয় ও তৎপুরুষে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধান, বহুব্রীহিতে তৃতীয় অর্থ প্রধান এবং অব্যয়ীভাবে পূর্ববর্তী অব্যয়ের অর্থ মুখ্য—এই পার্থক্য পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
❖ উপমিত কর্মধারয় চেনার নিয়ম: রূপক কর্মধারয়ে সরাসরি অভেদ আরোপ (‘মুখরূপ চন্দ্র’), উপমিত কর্মধারয়ে সাদৃশ্য (‘চাঁদের মতো মুখ’) প্রকাশ পায়।
❖ সন্ধি–সমাসের পার্থক্য: সন্ধিতে মূলত বর্ণ বা ধ্বনির সংযোগ ও রূপান্তর বিচার করা হয়; সমাসে মূল বিচার দুই বা ততোধিক পদের মধ্যে অর্থসম্পর্ক। কখনো একই শব্দে সন্ধি ও সমাস—উভয় স্তরের বিশ্লেষণ সম্ভব।
❖ আরও কয়েকটি তুলনামূলক উদাহরণ:
➤ চাঁদমুখ ⇒ চাঁদের মতো মুখ; মুখ উপমেয়, চাঁদ উপমান।
➤ করপল্লব ⇒ পল্লবের মতো কর; হাতকে পল্লবের সঙ্গে তুলনা।
➤ পুরুষসিংহ ⇒ সিংহের মতো পুরুষ; বীরত্বের তুলনা।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ উপমান কর্মধারয় ⇒ উপমান প্রধান থাকলে।
❖ উপপদ তৎপুরুষ ⇒ কৃদন্ত পদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকে।
❖ উপমিত কর্মধারয় ⇒ সঠিক। এই বিকল্পটি প্রশ্নে নির্ধারিত ব্যাকরণিক অর্থ বা শ্রেণিবিভাগের সঙ্গে মেলে।
❖ অব্যয়ীভাব ⇒ অব্যয় পদ প্রধান।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর — উপমিত কর্মধারয়।
➤ প্রধান আলোচ্য বিষয় — উপমিত কর্মধারয়।
➤ এই প্রশ্নের মূল শব্দ বা ধারণা — সিংহপুরুষ।
➤ সমাস কী? — অর্থসম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ এক পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া।
➤ সমস্যমান পদ — সমাসে অংশগ্রহণকারী পৃথক পদ।
➤ সমস্তপদ — সমাসের ফলে সৃষ্ট সংক্ষিপ্ত একক পদ।
➤ ব্যাসবাক্য/বিগ্রহবাক্য — সমাসবদ্ধ শব্দের বিস্তৃত অর্থপ্রকাশ।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — চাঁদমুখ ⇒ চাঁদের মতো মুখ; মুখ উপমেয়, চাঁদ উপমান।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — করপল্লব ⇒ পল্লবের মতো কর; হাতকে পল্লবের সঙ্গে তুলনা।
➤ সমাস নির্ণয়ের সূত্র — ব্যাসবাক্য ⇒ অর্থপ্রাধান্য ⇒ সমাসের প্রকৃতি।
10
🎯 Level 1

১১০. ‘সুন্দরলতা’ এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নাজির: ২৩]

ক

সুন্দরী যে লতা

খ

সুন্দর যে লতা

গ

সুন্দরের ন্যায় লতা

ঘ

লতা সুন্দরের ন্যায়

✅ সঠিক উত্তর:ক. সুন্দরী যে লতা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: সুন্দরী যে লতা
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ কর্মধারয় সমাস — সংজ্ঞা: কর্মধারয় সমাসে একটি পদ সাধারণত অন্য পদের বিশেষণ হয় অথবা একই ব্যক্তি/বস্তু নির্দেশ করে; পরপদের অর্থ প্রধান থাকে। ব্যাসবাক্যে ‘যে’, ‘যিনি’ ইত্যাদি দ্বারা পরিচয় বোঝানো যায়।
❖ প্রশ্নের কেন্দ্রীয় পদ ‘সুন্দরলতা’ বিশ্লেষণের সময় প্রথমে তার ব্যাসবাক্য খুঁজতে হবে; তারপর কোন অংশের অর্থ প্রধান, কোনো বিভক্তি লোপ পেয়েছে কি না এবং কোনো তৃতীয় সত্তা বোঝানো হচ্ছে কি না—এই তিনটি লক্ষণ মিলিয়ে শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে।
❖ সুন্দরলতা অর্থ সুন্দরী লতা।
❖ “লতা” স্ত্রীলিঙ্গধর্মী শব্দ হওয়ায় ব্যাসবাক্যে “সুন্দরী” ব্যবহৃত হয়েছে।
❖ ব্যাসবাক্যের গুরুত্ব: শুধু শব্দের বানান দেখে সমাস স্থির করা যায় না। সমাসবদ্ধ রূপকে পূর্ণ পদগুচ্ছে বিস্তৃত করে প্রকৃত অর্থ বোঝার পরই শ্রেণি নির্ধারণ করতে হয়।
❖ অর্থের প্রাধান্য: দ্বন্দ্বে সব পদের অর্থ প্রধান, কর্মধারয় ও তৎপুরুষে সাধারণত পরপদের অর্থ প্রধান, বহুব্রীহিতে তৃতীয় অর্থ প্রধান এবং অব্যয়ীভাবে পূর্ববর্তী অব্যয়ের অর্থ মুখ্য—এই পার্থক্য পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
❖ কর্মধারয় সমাস চেনার নিয়ম: কর্মধারয়ে যে বস্তু/ব্যক্তি বোঝানো হয় তা সাধারণত পরপদেই থাকে। বহুব্রীহিতে ‘যার’ ধরনের ব্যাসবাক্যে বাইরের সত্তা বোঝায়।
❖ সন্ধি–সমাসের পার্থক্য: সন্ধিতে মূলত বর্ণ বা ধ্বনির সংযোগ ও রূপান্তর বিচার করা হয়; সমাসে মূল বিচার দুই বা ততোধিক পদের মধ্যে অর্থসম্পর্ক। কখনো একই শব্দে সন্ধি ও সমাস—উভয় স্তরের বিশ্লেষণ সম্ভব।
❖ আরও কয়েকটি তুলনামূলক উদাহরণ:
➤ রাজর্ষি ⇒ যিনি রাজা তিনিই ঋষি; একই ব্যক্তি দুটি পরিচয়ে।
➤ নীলপদ্ম ⇒ নীল যে পদ্ম; নীল বিশেষণ, পদ্ম বিশেষ্য।
➤ মহাপুরুষ ⇒ মহান যে পুরুষ; পুরুষের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ সুন্দরী যে লতা ⇒ সঠিক। এই বিকল্পটি প্রশ্নে নির্ধারিত ব্যাকরণিক অর্থ বা শ্রেণিবিভাগের সঙ্গে মেলে।
❖ সুন্দর যে লতা ⇒ সাধারণ অর্থে কাছাকাছি হলেও নির্দিষ্ট শুদ্ধ রূপ নয়।
❖ সুন্দরের ন্যায় লতা ⇒ তুলনা বোঝায়; এখানে তুলনা নয়, গুণ বোঝানো হয়েছে।
❖ লতা সুন্দরের ন্যায় ⇒ বাক্যগঠন ও অর্থ দুটোই দুর্বল।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর — সুন্দরী যে লতা।
➤ প্রধান আলোচ্য বিষয় — কর্মধারয় সমাস।
➤ এই প্রশ্নের মূল শব্দ বা ধারণা — সুন্দরলতা।
➤ সমাস কী? — অর্থসম্পর্কযুক্ত একাধিক পদ এক পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া।
➤ সমস্যমান পদ — সমাসে অংশগ্রহণকারী পৃথক পদ।
➤ সমস্তপদ — সমাসের ফলে সৃষ্ট সংক্ষিপ্ত একক পদ।
➤ ব্যাসবাক্য/বিগ্রহবাক্য — সমাসবদ্ধ শব্দের বিস্তৃত অর্থপ্রকাশ।
➤ মনে রাখার উদাহরণ — রাজর্ষি ⇒ যিনি রাজা তিনিই ঋষি; একই ব্যক্তি দুটি পরিচয়ে।
➤ সমাস নির্ণয়ের সূত্র — ব্যাসবাক্য ⇒ অর্থপ্রাধান্য ⇒ সমাসের প্রকৃতি।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন