ব্যাখ্যা:
উত্তর: খ
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বাংলা বানানে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ক্ষেত্রে কোথায় দন্ত্য ‘ন’ এবং কোথায় মূর্ধন্য ‘ণ’ ব্যবহৃত হবে, তার নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে।
ণত্ব বিধানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো—
1. ঋ, র এবং ষ-এর পরে নির্দিষ্ট শর্তে দন্ত্য ‘ন’ পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন—ঋণ, তৃণ, বর্ণ, কারণ, কৃষ্ণ, উষ্ণ।
2. ট-বর্গীয় ব্যঞ্জনের আগে যুক্ত অবস্থায় দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন—ঘণ্টা, কণ্ঠ, কাণ্ড, খণ্ড, লুণ্ঠন।
✦ কখন ণত্ব বিধান প্রযোজ্য হয় না?
১. ত-বর্গীয় বর্ণের আগে: সাধারণত ত, থ, দ, ধ-এর সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় দন্ত্য ‘ন’ ব্যবহৃত হয়। যেমন—অন্ত, গ্রন্থ, বন্ধন।
২. সমাসবদ্ধ শব্দে: দুটি পৃথক পদের সংযোগে অনেক ক্ষেত্রে ণত্ব বিধান প্রযোজ্য হয় না। যেমন—সর্বনাম, দুর্নাম, ত্রিনয়ন।
৩. অতৎসম শব্দে: তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের সাধারণ বানানে ণত্ব বিধান প্রয়োগ করা হয় না। যেমন—কান, সোনা, দোকান, জিনিস।
✦ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একলাইনের তথ্য
❖ তৎসম শব্দে ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম—ণত্ব বিধান।
❖ ণত্ব বিধানের প্রধান উদ্দীপক বর্ণ—ঋ, র, ষ।
❖ ঋ-এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’-এর উদাহরণ—ঋণ।
❖ ঋ-কারের পরে ‘ণ’-এর উদাহরণ—তৃণ।
❖ র-এর পরে ‘ণ’-এর উদাহরণ—কারণ।
❖ রেফের পরে ‘ণ’-এর উদাহরণ—বর্ণ।
❖ ষ-এর পরে ‘ণ’-এর উদাহরণ—কৃষ্ণ।
❖ ষ-এর পরে ‘ণ’-এর আরেকটি উদাহরণ—উষ্ণ।
❖ ট-বর্গীয় বর্ণের কোন দিকে যুক্ত অবস্থায় ‘ণ’ হয়—আগে।
❖ ‘ঘণ্টা’ শব্দে যুক্তব্যঞ্জন—ণ্ট।
❖ ‘কণ্ঠ’ শব্দে যুক্তব্যঞ্জন—ণ্ঠ।
❖ ‘কাণ্ড’ শব্দে যুক্তব্যঞ্জন—ণ্ড।
❖ ‘খণ্ড’ শব্দে যুক্তব্যঞ্জন—ণ্ড।
❖ ‘তৃণ’ শব্দে ণত্বের কারণ—ঋ-কার।
❖ ‘বর্ণ’ শব্দে ণত্বের কারণ—রেফ।
❖ ‘বিষ্ণু’ শব্দে ণত্বের কারণ—ষ।
❖ ‘কৃপণ’ শব্দে ণত্বের কারণ—ঋ-কারের প্রভাব।
❖ ‘অর্পণ’ শব্দে ণত্বের কারণ—রেফের প্রভাব।
❖ ‘সর্বনাম’ শব্দে ণত্ব না হওয়ার কারণ—সমাসবদ্ধ শব্দ।
❖ ‘ত্রিনয়ন’ শব্দে দন্ত্য ‘ন’ ব্যবহৃত হয়—সমাসবদ্ধ শব্দের নিয়মে।
❖ ত-বর্গীয় বর্ণের আগে সাধারণত ব্যবহৃত হয়—দন্ত্য ‘ন’।
❖ ট-বর্গীয় বর্ণগুলো—ট, ঠ, ড, ঢ, ণ।
❖ ত-বর্গীয় বর্ণগুলো—ত, থ, দ, ধ, ন।
❖ ণ ও ন-এর মধ্যে মূর্ধন্য বর্ণ—ণ।
❖ ণ ও ন-এর মধ্যে দন্ত্য বর্ণ—ন।
❖ ণত্ব বিধানের সঙ্গে আলোচিত অপর বানানবিধি—ষত্ব বিধান।
❖ তৎসম শব্দে ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম—ষত্ব বিধান