🧠 🔖
Free Topic

বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ

◉ বাংলা সাহিত্য›বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚65মোট প্রশ্ন
🎯5মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০৮. বাংলা ভাষা কোন ভাষা পরিবারের সদস্য? (যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক: ২৬)

ক

ইন্দো-চায়না

খ

ইন্দো-ইউরোপীয়

গ

থাই-মালয়

ঘ

আরব-আফ্রিকা

✅ সঠিক উত্তর:খ. ইন্দো-ইউরোপীয়

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ইন্দো-ইউরোপীয়
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলার পূর্ণ বংশক্রম হলো—
➤ ইন্দো-ইউরোপীয়
⇒ ইন্দো-ইরানীয়
⇒ ইন্দো-আর্য
⇒ পূর্বাঞ্চলীয়/Eastern Indo-Aryan
⇒ বাংলা।
❖ বাংলা তাই ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, ফারসি, হিন্দি, অসমিয়া, ওড়িয়া ইত্যাদির সঙ্গে দূর বা নিকট পর্যায়ে একই বৃহৎ Indo-European পরিবারের সদস্য।
❖ তবে “একই পরিবার” মানেই ভাষাগুলো পরস্পর সমানভাবে ঘনিষ্ঠ নয়। যেমন বাংলা ও ওড়িয়া/অসমিয়ার সম্পর্ক ইংরেজির সঙ্গে বাংলার সম্পর্কের তুলনায় অনেক বেশি নিকট।
✦ অন্যান্য অপশন:
➤ ইন্দো-চায়না কোনো গ্রহণযোগ্য একক ভাষাপরিবারের নাম নয়।
➤ থাই-মালয়-এর মধ্যে Thai = Kra-Dai এবং Malay = Austronesian; তারা এক পরিবার নয়।
➤ আরব-আফ্রিকা ভাষাবৈজ্ঞানিক পরিবার নয়; আরবি Afro-Asiatic পরিবারের Semitic শাখার ভাষা।"
02
🎯 Level 1

০৭. কোথায় বাংলা ভাষার প্রাচীন নমুনা পাওয়া যায়? (সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল অফিসার: ২৬; বিআরডিবি’র সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা: ২৩)

ক

মহাভারতে

খ

চর্যাপদে

গ

বৈষ্ণব পদাবলিতে

ঘ

মঙ্গলকাব্যে

✅ সঠিক উত্তর:খ. চর্যাপদে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: চর্যাপদে
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম প্রাপ্ত কাব্যনিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। Banglapedia একে “earliest extant Bangla poems” বলে উল্লেখ করেছে।
❖ চর্যাপদের পুঁথি ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কার করেন।
❖ ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে এটি “হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা” নামে প্রকাশিত হয়।
❖ বর্তমান পুঁথিতে সাড়ে ৪৬টি পদ সম্পূর্ণভাবে পাঠযোগ্য বলে প্রচলিতভাবে উল্লেখ করা হয়; মূল পুঁথিতে ৪৭টি পদ সংরক্ষিত ছিল। এগুলো সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচনা।
❖ চর্যার ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা বা আলো-আঁধারি ভাষা বলা হয়—কারণ আক্ষরিক অর্থের অন্তরালে গুপ্ত তান্ত্রিক-আধ্যাত্মিক অর্থ নিহিত ছিল।
✦ অন্যান্য অপশন:
➤ মহাভারত সংস্কৃত মহাকাব্য।
➤ বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগীয়।
➤ মঙ্গলকাব্যও মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের ধারা।
Advertisement
03
🎯 Level 1

১১. নিচের কোনটি ভাষা পরিবারের নাম নয়? (প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী: ২৫; শিশু একাডেমির জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা: ২৫)

ক

ইন্দো-ইউরোপীয়

খ

দ্রাবিড়ীয়

গ

আফ্রিকীয়

ঘ

ইন্দো-ইরানীয়

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ইন্দো-ইরানীয়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ ছবির উত্তর: ইন্দো-ইরানীয়
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ প্রচলিত পরীক্ষামুখী শ্রেণিবিন্যাসে Indo-European-কে ভাষাপরিবার এবং Indo-Iranian-কে তার একটি শাখা বা subfamily বলা হয়। তাই বইয়ের উত্তর ঘ।
❖ Indo-Iranian-এর প্রধান দুটি উপশাখা—
➤ Indo-Aryan: বাংলা, হিন্দি, উর্দু, অসমিয়া ইত্যাদি
➤ Iranian: ফারসি, পশতু, কুর্দি ইত্যাদি।
⚠ প্রশ্নটি আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পুরোপুরি নিখুঁত নয়:
“আফ্রিকীয়”ও একটি নির্দিষ্ট genealogical language family নয়। আফ্রিকায় Afro-Asiatic, Niger-Congo, Nilo-Saharan প্রভৃতি একাধিক স্বতন্ত্র পরিবার রয়েছে। বিপরীতে Indo-Iranian একটি স্বীকৃত ভাষাগত subfamily।
⇒ তাই পরীক্ষার কাঠামোয় ঘ, কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভাষায় “আফ্রিকীয়”কে একক ভাষাপরিবার বলা উচিত নয়।
04
🎯 Level 1

১৫. কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে বলে মনে করা হয়? (সমন্বিত ৮ ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার: ২৫; সিভিল সার্জন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্বাস্থ্য সহকারী: ২৫; বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী: ২৫)

ক

অসমিয়া

খ

সংস্কৃত

গ

বঙ্গকামরূপী

ঘ

কেন্টম

✅ সঠিক উত্তর:গ. বঙ্গকামরূপী

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: বঙ্গকামরূপী
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ প্রশ্নটি বাংলা ভাষার বিকাশের একটি বিশেষ ঐতিহাসিক মডেল অনুসরণ করছে। সেই ধারায় গৌড়ীয়/পূর্বাঞ্চলীয় অপভ্রংশের পরবর্তী একটি স্তর হিসেবে বঙ্গ-কামরূপী ধরা হয়; এই ভাষাধারার বিভাজন থেকে বাংলা ও অসমিয়ার পূর্বসূরি রূপ গড়ে ওঠে।
❖ বাংলা ও অসমিয়া যে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ Eastern Indo-Aryan ভাষা, সে বিষয়ে বিস্তৃত ভাষাতাত্ত্বিক সমর্থন রয়েছে। Banglapedia-ও পূর্বাঞ্চলীয় অপভ্রংশ থেকে বাংলা ও অসমিয়াসহ একাধিক গৌড়ীয় ভাষার বিকাশের কথা বলেছে।
⚠ গুরুত্বপূর্ণ:
“বঙ্গকামরূপী” নামটি সব আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানীর ব্যবহৃত একক সর্বজনীন standard stage নয়। আধুনিক গবেষণায় অনেক সময় Eastern Indo-Aryan/Magadhan dialect continuum, Apabhraṃśa, Abahattha, Proto-Bengali-Assamese ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়।
✦ অন্যান্য অপশন:
➤ অসমিয়া বাংলা ভাষার জননী নয়; বরং ঘনিষ্ঠ সহোদর।
➤ সংস্কৃত দূরবর্তী পূর্বপুরুষ/প্রভাবের উৎস।
➤ Centum Indo-European ধ্বনিগত শ্রেণি; বাংলা উৎপত্তির সরাসরি স্তর নয়।
05
🎯 Level 1

১৯. বাংলা ভাষার মূল উৎস কী? (জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর অফিস সহায়ক: ২৩; পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট: ২৩)

ক

বৈদিক ভাষা

খ

অনার্য ভাষা

গ

হিন্দি ভাষা

ঘ

কানাড়ি ভাষা

✅ সঠিক উত্তর:ক. বৈদিক ভাষা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: বৈদিক ভাষা।
✦ বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক বিবর্তন
বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের ইন্দো-ইরানীয় শাখার ভারতীয় আর্য উপশাখার অন্তর্গত।
ভাষাবিজ্ঞান অনুযায়ী, বাংলা ভাষার বিকাশ কোনো এক দিনে বা একটি নির্দিষ্ট সাহিত্যিক ভাষা থেকে সরাসরি ঘটেনি। দীর্ঘকাল ধরে প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার কথ্য রূপগুলো পরিবর্তিত হয়ে মধ্য ভারতীয় আর্যভাষায় পরিণত হয়। সেই ধারার পূর্বাঞ্চলীয় রূপগুলো থেকে আধুনিক বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটে।
বাংলা ভাষার বিবর্তনের প্রচলিত সরলীকৃত ধারা—
✦ ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা
বাংলা ভাষার বিবর্তনের প্রচলিত সরলীকৃত ধারা—
ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা
(Proto-Indo-European)
↓
ইন্দো-ইরানীয় ভাষাশাখা
(Indo-Iranian)
↓
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা
(বৈদিক ভাষা এর প্রাচীনতম সংরক্ষিত সাহিত্যিক নিদর্শন)
↓
মধ্য ভারতীয় আর্যভাষা
(পালি ও বিভিন্ন প্রাকৃত ভাষারূপ)
↓
পূর্বাঞ্চলীয় প্রাকৃত
(মাগধী প্রাকৃতের সঙ্গে বাংলার ঐতিহাসিক সম্পর্ক)
↓
পূর্বাঞ্চলীয় অপভ্রংশ ও অবহট্ট
(বাংলার নিকটবর্তী পূর্বসূরি ভাষারূপ)
↓
প্রাচীন বাংলা
(আনুমানিক দশম শতক থেকে)
↓
আধুনিক বাংলা
(বর্তমানে প্রচলিত স্বতন্ত্র ভাষা)
✦ বৈদিক ভাষা কী?
বৈদিক ভাষা (Vedic Sanskrit) হলো প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার অন্যতম প্রাচীন সাহিত্যিক রূপ। বৈদিক যুগে রচিত ধর্মীয় স্তোত্র ও সাহিত্যে এই ভাষা সংরক্ষিত রয়েছে।
ঋগ্বেদ বৈদিক ভাষার প্রাচীনতম সংরক্ষিত সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
পরবর্তী সময়ে ভারতীয় আর্যভাষার বিভিন্ন কথ্য রূপের পরিবর্তনের ফলে পালি ও প্রাকৃত ভাষার বিকাশ ঘটে। আরও দীর্ঘ বিবর্তনের মাধ্যমে বাংলা, হিন্দি, অসমিয়া, ওড়িয়াসহ আধুনিক ভারতীয় আর্যভাষাগুলো গড়ে ওঠে।
বাংলা ভাষার উৎপত্তির আলোচনায় প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা এবং বৈদিক ভাষার ঐতিহাসিক সম্পর্ক বোঝানোর জন্যই এই প্রশ্নে বৈদিক ভাষাকে মূল উৎস বলা হয়েছে।
✦ বাংলা ভাষার তিনটি ঐতিহাসিক যুগ
যুগ | আনুমানিক সময়কাল | গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য
প্রাচীন বাংলা | ৯০০/১০০০–১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ | চর্যাপদ ও প্রাচীন ভাষারূপ
মধ্য বাংলা | ১৩৫০–১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ | শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ সাহিত্য
আধুনিক বাংলা | ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান | আধুনিক বাংলা গদ্য, কবিতা ও চলিত ভাষার বিকাশ
বাংলাপিডিয়ার Bangla Language নিবন্ধে বাংলা ভাষার এই তিনটি প্রধান ঐতিহাসিক যুগের উল্লেখ রয়েছে।
✦ বাংলা ভাষার মূল উৎস, উৎপত্তি ও পূর্বসূরির পার্থক্য
প্রশ্নের ধরন | পরীক্ষায় উপযুক্ত উত্তর
বাংলা ভাষার মূল উৎস কী? (প্রদত্ত প্রশ্ন) | বৈদিক ভাষা
বাংলা ভাষা কোন ভাষাপরিবারের অন্তর্গত? | ইন্দো-ইউরোপীয়
বাংলা ভাষা কোন শাখার অন্তর্গত? | ভারতীয় আর্য বা ইন্দো-আর্য
বাংলা ভাষার উৎপত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাকৃত কোনটি? | মাগধী প্রাকৃত
বাংলা ভাষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অপভ্রংশ কোনটি? | পূর্বাঞ্চলীয় বা মাগধী অপভ্রংশ
বাংলা ভাষার বিকাশের অন্তর্বর্তী রূপ কী? | অবহট্ট
বাংলা ভাষার প্রাচীনতম প্রাপ্ত সাহিত্যিক নিদর্শন কী? | চর্যাপদ
বিশেষভাবে মনে রাখুন: বাংলা ভাষার দূরবর্তী ঐতিহাসিক উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে বৈদিক ভাষার প্রসঙ্গ আসে; কিন্তু বাংলার নিকটবর্তী পূর্বসূরি জানতে চাইলে প্রাকৃত, অপভ্রংশ ও অবহট্টের কথা বলতে হয়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. বৈদিক ভাষা ⇒ সঠিক। বৈদিক ভাষা প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীনতম সংরক্ষিত সাহিত্যিক রূপ। বাংলা ভাষা ভারতীয় আর্যভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত হওয়ায় প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে বৈদিক ভাষাই প্রত্যাশিত উত্তর। ২০২৩ সালের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অফিস সহায়ক এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রকাশিত সমাধানেও এই উত্তর দেওয়া হয়েছে।
❖ খ. অনার্য ভাষা ⇒ ভুল। ভারতীয় উপমহাদেশে আর্যভাষার আগমন ও বিস্তারের আগে বিভিন্ন স্থানীয় ভাষা প্রচলিত ছিল। দ্রাবিড়, অস্ট্রো-এশীয়সহ অনার্য ভাষাগোষ্ঠীর প্রভাব বাংলা ভাষায় রয়েছে। কিন্তু বাংলা ভাষার বংশগত উৎস অনার্য ভাষাপরিবার নয়; এটি ভারতীয় আর্যভাষা।
❖ গ. হিন্দি ভাষা ⇒ ভুল। বাংলা ও হিন্দি উভয়ই নব্য ভারতীয় আর্যভাষাগোষ্ঠীর সদস্য। দুটি ভাষার ঐতিহাসিক পূর্বসূরির মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও বাংলা হিন্দি থেকে সৃষ্টি হয়নি। বাংলা ও হিন্দি পৃথক ধারায় বিকশিত হয়েছে।
❖ ঘ. কানাড়ি ভাষা ⇒ ভুল। কানাড়ি বা কন্নড় (Kannada) দক্ষিণ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষা। এটি দ্রাবিড় ভাষাপরিবারের অন্তর্গত। অন্যদিকে বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের ইন্দো-আর্য ভাষা। তাই কানাড়ি বাংলা ভাষার মূল উৎস নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একলাইনের তথ্য
❖ বাংলা ভাষার মূল উৎস—বৈদিক ভাষা (প্রদত্ত পরীক্ষার উত্তর)।
❖ বৈদিক ভাষার ইংরেজি—Vedic Sanskrit।
❖ বৈদিক ভাষার প্রাচীনতম সংরক্ষিত সাহিত্যিক নিদর্শন—ঋগ্বেদ।
❖ বাংলা ভাষার মূল ভাষাপরিবার—ইন্দো-ইউরোপীয়।
❖ বাংলা ভাষার প্রধান শাখা—ইন্দো-ইরানীয়।
❖ বাংলা ভাষার উপশাখা—ইন্দো-আর্য।
❖ ভারতীয় আর্যভাষার ঐতিহাসিক স্তর—তিনটি।
❖ ভারতীয় আর্যভাষার প্রথম স্তর—প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা।
❖ ভারতীয় আর্যভাষার দ্বিতীয় স্তর—মধ্য ভারতীয় আর্যভাষা।
❖ ভারতীয় আর্যভাষার তৃতীয় স্তর—নব্য ভারতীয় আর্যভাষা।
❖ বাংলা ভাষার উৎপত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাকৃত—মাগধী প্রাকৃত।
❖ বাংলা ভাষার বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়—অপভ্রংশ ও অবহট্ট।
❖ বাংলা ভাষার উদ্ভবকাল—আনুমানিক দশম শতক।
❖ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম প্রাপ্ত সাহিত্যিক নিদর্শন—চর্যাপদ।
❖ বাংলা ভাষার প্রাচীন যুগ—আনুমানিক ৯০০/১০০০–১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ বাংলা ভাষার মধ্যযুগ—১৩৫০–১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ বাংলা ভাষার আধুনিক যুগ—১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান।
❖ বাংলা ভাষার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বংশগত সম্পর্ক রয়েছে—অসমিয়া ও ওড়িয়া ভাষার।
❖ হিন্দি ভাষা যে ভাষাগোষ্ঠীর সদস্য—ভারতীয় আর্য।
❖ কানাড়ি বা কন্নড় ভাষার ভাষাপরিবার—দ্রাবিড়।
❖ তামিল, তেলুগু, কন্নড় ও মালয়ালম—দ্রাবিড় ভাষা।
❖ বাংলা ভাষায় অনার্য ভাষাগোষ্ঠীর প্রভাব—শব্দভান্ডার ও ভাষাগত গঠনে।
❖ সংস্কৃত ভাষা থেকে প্রায় অপরিবর্তিত শব্দ—তৎসম।
❖ ঐতিহাসিক ধ্বনিগত পরিবর্তনে বিকশিত সংস্কৃতজাত শব্দ—তদ্ভব।
❖ বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়ে বিখ্যাত গবেষণাগ্রন্থ—The Origin and Development of the Bengali Language।
❖ গ্রন্থটির রচয়িতা—সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
Advertisement
06
🎯 Level 1

২৩. ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর আদিম উৎস কী? (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা: ০৬)

ক

মূল আর্যভাষা

খ

বৈদিক ভাষা

গ

অনার্য ভাষা

ঘ

সংস্কৃত ভাষা

✅ সঠিক উত্তর:গ. অনার্য ভাষা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: অনার্য ভাষা।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর আদিম উৎস হিসেবে প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংকে অনার্য ভাষা (Non-Aryan Languages) উল্লেখ করা হয়।
❖ আর্যভাষার বিস্তারের আগে ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। তাদের ভাষাগুলোকে ঐতিহাসিক আলোচনায় অনার্য ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
❖ প্রাচীন বাংলায় অস্ট্রো-এশীয়, দ্রাবিড় এবং তিব্বতি-বর্মী ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও ভাষাগত প্রভাবের কথা আলোচিত হয়।
❖ প্রাচীন জনগোষ্ঠীর উদাহরণ হিসেবে কোল, শবর, পুলিন্দ প্রভৃতির উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রচলিত পরীক্ষামুখী ব্যাখ্যায় হাড়ি, ডোম ও চণ্ডাল সম্প্রদায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে এই সামাজিক পরিচয়গুলোর সবাইকে একক ভাষাপরিবারের অন্তর্ভুক্ত করা যায় না।
❖ পরবর্তী সময়ে ভারতীয় আর্যভাষার বিস্তার ঘটে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় ভাষার সঙ্গে দীর্ঘকালব্যাপী সংযোগ স্থাপিত হয়।
❖ এই ভাষাগত সংযোগের ফলে শব্দভান্ডার, উচ্চারণ, ধ্বনিতত্ত্ব ও ব্যাকরণগত কাঠামোয় পারস্পরিক প্রভাব সৃষ্টি হয়।
❖ বাংলা, অসমিয়া, ওড়িয়া, হিন্দি, মারাঠি, পাঞ্জাবি প্রভৃতি আধুনিক ইন্দো-আর্য ভাষার বিকাশে প্রাচীন ও মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ অন্যদিকে তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম, সাঁওতালি, খাসি এবং বিভিন্ন তিব্বতি-বর্মী ভাষার স্বতন্ত্র ভাষাগত ঐতিহ্য রয়েছে।
❖ তাই প্রশ্নটির পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর অনার্য ভাষা হলেও, আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানে ভারতীয় উপমহাদেশের সব আঞ্চলিক ভাষাকে একটি অনার্য মূল ভাষা থেকে উৎপন্ন বলা হয় না।
✦ ১. অনার্য ভাষা (Non-Aryan Languages)
❖ ‘অনার্য ভাষা’ বলতে প্রচলিত ঐতিহাসিক আলোচনায় ভারতীয় আর্যভাষার বাইরে থাকা বিভিন্ন ভাষাকে বোঝানো হয়।
❖ এটি কোনো একক ভাষাপরিবারের নাম নয়।
❖ ভারতীয় উপমহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অনার্য ভাষাপরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছে—
1. দ্রাবিড় ভাষাপরিবার (Dravidian Language Family)।
2. অস্ট্রো-এশীয় ভাষাপরিবার (Austroasiatic Language Family)।
3. চীন-তিব্বতি ভাষাপরিবার (Sino-Tibetan Language Family)।
❖ আর্যভাষার বিস্তারের আগে এবং পরবর্তী সময়েও এসব ভাষাপরিবারের বিভিন্ন ভাষা উপমহাদেশে প্রচলিত ছিল।
❖ এদের সঙ্গে ইন্দো-আর্য ভাষাগুলোর দীর্ঘদিনের সংযোগের ফলে বহু ভাষাগত বৈশিষ্ট্যের আদান-প্রদান ঘটেছে।
✦ ২. বৈদিক ভাষা (Vedic Language)
❖ বৈদিক ভাষা প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক রূপ।
❖ ঋগ্বেদের ভাষা বৈদিক সংস্কৃতের প্রাচীনতম সংরক্ষিত নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
❖ বৈদিক ভাষার সঙ্গে পরবর্তী ধ্রুপদি সংস্কৃতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ তবে বৈদিক ভাষা ভারতীয় উপমহাদেশের সব আঞ্চলিক ভাষার উৎস নয়।
✦ ৩. সংস্কৃত ভাষা (Sanskrit Language)
❖ সংস্কৃত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের ইন্দো-আর্য শাখার প্রাচীন ভাষা।
❖ সংস্কৃত ভাষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক রূপ হলো বৈদিক সংস্কৃত ও ধ্রুপদি সংস্কৃত।
❖ বাংলা, হিন্দি, অসমিয়া, ওড়িয়াসহ বহু আধুনিক ইন্দো-আর্য ভাষার শব্দভান্ডারে সংস্কৃতের গভীর প্রভাব রয়েছে।
❖ তবে বাংলা ও অন্যান্য আধুনিক ইন্দো-আর্য ভাষা সরাসরি ধ্রুপদি সংস্কৃত থেকে উৎপন্ন হয়নি; প্রাচীন ও মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার বিভিন্ন কথ্য রূপ, প্রাকৃত ও অপভ্রংশ-অবহট্টের ধারায় বিকশিত হয়েছে।
✦ ৪. মূল আর্যভাষা (Early Indo-Aryan)
❖ মূল আর্যভাষা বলতে ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন উৎসধারাকে বোঝানো হয়।
❖ ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন বৈদিক ভাষায় পাওয়া যায়।
❖ বাংলা, হিন্দি, অসমিয়া, ওড়িয়া প্রভৃতি ভাষার সঙ্গে প্রাচীন ইন্দো-আর্য ভাষার ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ কিন্তু দ্রাবিড়, অস্ট্রো-এশীয় এবং চীন-তিব্বতি ভাষাপরিবারের ভাষাগুলো মূল আর্যভাষা থেকে উৎপন্ন হয়নি।
✦ বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক বিকাশের ধারা
বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিবর্তনের প্রচলিত সরলীকৃত ধারা—
ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা (Proto-Indo-European)
↓
ইন্দো-ইরানীয় ভাষাশাখা (Indo-Iranian)
↓
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা (Old Indo-Aryan)
↓
মধ্য ভারতীয় আর্যভাষা (Middle Indo-Aryan)
↓
পূর্বাঞ্চলীয় প্রাকৃত ভাষারূপ
↓
পূর্বাঞ্চলীয় অপভ্রংশ ও অবহট্ট
↓
প্রাচীন বাংলা
↓
মধ্য বাংলা
↓
আধুনিক বাংলা
❖ এটি বাংলা ভাষার প্রধান ঐতিহাসিক বংশগত ধারার সরলীকৃত রূপ। বাংলার বিকাশে অনার্য ভাষাগুলোর প্রভাবও রয়েছে, তবে সেগুলোকে বাংলার একমাত্র বংশগত উৎস বলা যায় না।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. মূল আর্যভাষা — ভুল।
মূল আর্যভাষা আধুনিক ইন্দো-আর্য ভাষাগুলোর ঐতিহাসিক উৎসধারার সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলা, হিন্দি, অসমিয়া, ওড়িয়া প্রভৃতি ভাষা এই ভাষাগত শাখার অন্তর্ভুক্ত। তবে ভারতীয় উপমহাদেশের সব আঞ্চলিক ভাষা আর্যভাষা থেকে উৎপন্ন হয়নি। তাই প্রদত্ত প্রশ্নে এটি প্রত্যাশিত উত্তর নয়।
❖ খ. বৈদিক ভাষা — ভুল।
বৈদিক ভাষা প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার সাহিত্যিক রূপ। ঋগ্বেদে এর প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া যায়। কিন্তু উপমহাদেশের সব আঞ্চলিক ভাষার আদিম উৎস বৈদিক ভাষা নয়। তাই এই প্রশ্নে উত্তরটি ভুল।
❖ গ. অনার্য ভাষা — সঠিক।
প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক ব্যাখ্যায় আর্যভাষার বিস্তারের আগে উপমহাদেশে প্রচলিত স্থানীয় ভাষাগুলোকে আঞ্চলিক ভাষার আদিম উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাই ২০০৬ সালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নটির স্বীকৃত উত্তর অনার্য ভাষা।
❖ ঘ. সংস্কৃত ভাষা — ভুল।
সংস্কৃত ভাষার সঙ্গে বাংলা, হিন্দি, অসমিয়া, ওড়িয়াসহ বহু ইন্দো-আর্য ভাষার গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ ভারতের দ্রাবিড় ভাষাগুলোসহ উপমহাদেশের সব ভাষা সংস্কৃত থেকে উৎপন্ন হয়নি। তাই সংস্কৃত ভাষা এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর আদিম উৎস কী? — অনার্য ভাষা (প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর)।
❖ বাংলা ভাষার আদি জনগোষ্ঠীর ভাষা কী ছিল? — অস্ট্রিক (প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর)।
❖ বাংলা ভাষা কোন ভাষাপরিবারের অন্তর্ভুক্ত? — ইন্দো-ইউরোপীয়।
❖ বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের কোন শাখার অন্তর্ভুক্ত? — ইন্দো-আর্য।
❖ প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক রূপ — বৈদিক ভাষা।
❖ বৈদিক ভাষার প্রাচীনতম সংরক্ষিত সাহিত্যিক নিদর্শন — ঋগ্বেদ।
❖ বাংলা ভাষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় প্রাকৃত — মাগধী প্রাকৃত-সম্পর্কিত পূর্বাঞ্চলীয় ভাষাধারা।
❖ বাংলা ভাষার নিকটবর্তী ঐতিহাসিক পূর্বসূরি — পূর্বাঞ্চলীয় অপভ্রংশ ও অবহট্টের ভাষারূপ।
❖ বাংলা, অসমিয়া ও ওড়িয়া — পূর্বাঞ্চলীয় ইন্দো-আর্য ভাষা।
❖ তামিল কোন ভাষাপরিবারের অন্তর্ভুক্ত? — দ্রাবিড়।
❖ তেলুগু কোন ভাষাপরিবারের অন্তর্ভুক্ত? — দ্রাবিড়।
❖ সাঁওতালি কোন ভাষাপরিবারের অন্তর্ভুক্ত? — অস্ট্রো-এশীয়।
❖ খাসি কোন ভাষাপরিবারের অন্তর্ভুক্ত? — অস্ট্রো-এশীয়।
❖ প্রাচীন বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষাগত প্রভাব — অস্ট্রো-এশীয় ও অন্যান্য স্থানীয় ভাষার প্রভাব।
❖ অনার্য ভাষা কি একটি একক ভাষাপরিবার? — না। এটি প্রচলিত ঐতিহাসিক শ্রেণিবাচক পরিভাষা।
❖ বৈদিক সংস্কৃত ও ধ্রুপদি সংস্কৃত কি একই ঐতিহাসিক পর্যায়ের ভাষা? — না; এদের মধ্যে ঐতিহাসিক ও ভাষাগত পার্থক্য রয়েছে।
❖ বাংলা ভাষা কি সরাসরি ধ্রুপদি সংস্কৃত থেকে উৎপন্ন? — না; মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে।
❖ ভারতীয় উপমহাদেশের প্রধান ভাষাপরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছে — ইন্দো-আর্য, দ্রাবিড়, অস্ট্রো-এশীয় ও চীন-তিব্বতি।
❖ ভাষার বংশগত উৎস এবং অন্য ভাষার প্রভাব — দুটি ভিন্ন ভাষাবৈজ্ঞানিক ধারণা।
07
🎯 Level 1

২৮. ‘বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে মাগধী প্রাকৃত থেকে’। এ মতের প্রবক্তা কে? (৯ম বেসরকারি প্রভাশক নিবন্ধন: ১৩)

ক

জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন

খ

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

গ

ড. সুকুমার সেন

ঘ

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৮৯০–১৯৭৭) ছিলেন বিশিষ্ট ভারতীয় ভাষাতাত্ত্বিক। বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়ে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ—
The Origin and Development of the Bengali Language (ODBL), 1926। গ্রন্থটি Calcutta University Press থেকে প্রকাশিত হয়।
❖ তাঁর ব্যাখ্যায় বাংলা পূর্বাঞ্চলীয় মাগধী প্রাকৃত/মাগধী অপভ্রংশ ধারার সঙ্গে যুক্ত।
❖ বাংলা ভাষার উৎপত্তি বিষয়ে পরীক্ষায় দুটি নাম বিশেষভাবে আলাদা রাখতে হবে—
➤ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় → মাগধী প্রাকৃত ধারা
➤ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ → গৌড়ীয় প্রাকৃত/গৌড় অপভ্রংশ ধারাকে গুরুত্ব।
❖ শহীদুল্লাহ নিজেই মাগধী থেকে বাংলার সরল উৎপত্তি নিয়ে সমালোচনামূলক আলোচনা করেছিলেন।
08
🎯 Level 1

৩২. ‘অপভ্রংশ’ কথাটির অর্থ কী? (পরিবারকল্যাণ প্রশিক্ষণার্থী: ১৩)

ক

উন্নত

খ

বিবৃত

গ

সাধারণ

ঘ

বিকৃত

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. বিকৃত

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: বিকৃত
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ “অপভ্রংশ” শব্দের ঐতিহাসিক আক্ষরিক অর্থ বিকৃত, বিচ্যুত বা মূলরূপ থেকে সরে যাওয়া।
❖ প্রাচীন সংস্কৃত ব্যাকরণকারদের দৃষ্টিতে যে কথ্যরূপগুলো শাস্ত্রীয় সংস্কৃতের মানরূপ অনুসরণ করত না, সেগুলোকে কখনো apabhraṣṭa/apabhraṃśa অর্থাৎ বিচ্যুত রূপ হিসেবে দেখা হতো।
❖ কিন্তু আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানে Apabhramsha কোনো ‘খারাপ’ বা ‘ভুল’ ভাষা নয়; এটি Middle Indo-Aryan-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যায়ের প্রযুক্তিগত নাম।
❖ Banglapedia-তে Apabhrangsha-কে Pali-Prakrit পর্যায়ের শেষ স্তর বলা হয়েছে এবং এখান থেকেই বিভিন্ন New Indo-Aryan ভাষার বিকাশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
✧ মনে রাখুন:
আক্ষরিক অর্থ = বিকৃত
ভাষাবৈজ্ঞানিক মূল্য = স্বাভাবিক ঐতিহাসিক ভাষাবিবর্তনের একটি স্তর।
Advertisement
09
🎯 Level 1

৩৬. পৃথিবীতে বর্তমানে কতগুলো ভাষা প্রচলিত? (উপজেলা সমাজসেবা অফিসার: ০৬)

ক

পাঁচ হাজার

খ

সাড়ে তিন হাজার

গ

এক হাজার

ঘ

আড়াই হাজার

✅ সঠিক উত্তর:খ. সাড়ে তিন হাজার

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক সঠিক উত্তর: সাড়ে তিন হাজার।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
ভাষা হলো মানুষের মনের ভাব, চিন্তা, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভাষাগত বৈচিত্র্য রয়েছে।
❖ বাংলাদেশের পুরোনো নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ পাঠ্যক্রমে পৃথিবীতে প্রচলিত ভাষার সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
❖ ২০০৬ সালের উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নটির প্রচলিত সমাধানও এই পুরোনো পাঠ্যক্রমের তথ্য অনুসরণ করে তৈরি।
❖ তাই প্রদত্ত প্রশ্নের প্রত্যাশিত উত্তর খ. সাড়ে তিন হাজার।
❖ তবে আধুনিক ভাষাবৈজ্ঞানিক গবেষণায় পৃথিবীতে জীবিত ভাষার সংখ্যা অনেক বেশি পাওয়া যায়।
❖ জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা UNESCO-এর তথ্যানুযায়ী, পৃথিবীতে প্রায় ৭,০০০ ভাষা বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে।
❖ অন্যদিকে, Ethnologue-এর ২০২৬ সালের ২৯তম সংস্করণ অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রায় ৭,১৭০টি জীবিত ভাষা রয়েছে।
❖ সুতরাং ২০০৬ সালের পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর এবং ২০২৬ সালের আধুনিক ভাষাবৈজ্ঞানিক তথ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
✦ ১. পুরোনো পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী ভাষার সংখ্যা
❖ বাংলাদেশের পুরোনো বাংলা ব্যাকরণ বইয়ে পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভাষা প্রচলিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।
❖ বিভিন্ন পুরোনো সাধারণ জ্ঞান ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংকে ৩,৫০০ ভাষার তথ্য পাওয়া যায়।
❖ এই সংখ্যা একটি পুরোনো আনুমানিক হিসাব, যা আধুনিক ভাষা-তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
❖ তাই পুরোনো পরীক্ষার উত্তর হিসেবে সাড়ে তিন হাজার গ্রহণযোগ্য হলেও বর্তমান পৃথিবীর ভাষার প্রকৃত সংখ্যা বোঝাতে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
✦ ২. UNESCO অনুযায়ী পৃথিবীর ভাষার সংখ্যা
❖ UNESCO-এর World Atlas of Languages-সংক্রান্ত তথ্যানুযায়ী পৃথিবীতে মোট ৮,৩২৪টি ভাষা নথিভুক্ত হয়েছে।
❖ এর মধ্যে প্রায় ৭,০০০টি ভাষা বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে।
❖ সব নথিভুক্ত ভাষা বর্তমানে জীবিত নয়। কিছু ভাষা বিলুপ্ত হয়েছে এবং কিছু ভাষা আর নিয়মিত কথ্য ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।
❖ UNESCO-এর হিসাবে প্রায় ১,৫০০টি ভাষা অদূর ভবিষ্যতে ব্যবহারকারী হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
❖ ভাষার সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের গুরুত্ব তুলে ধরতে জাতিসংঘ ২০২২–২০৩২ সময়কালকে আদিবাসী ভাষার আন্তর্জাতিক দশক (International Decade of Indigenous Languages) হিসেবে ঘোষণা করেছে।
✦ ৩. Ethnologue অনুযায়ী পৃথিবীর ভাষার সংখ্যা
❖ Ethnologue বিশ্বের ভাষাসমূহের তথ্য সংগ্রহ ও শ্রেণিবিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গবেষণাভিত্তিক প্রকাশনা।
❖ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষার নাম, ব্যবহারকারী, ভৌগোলিক বিস্তৃতি, ভাষাপরিবার এবং ভাষার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা হয়।
❖ Ethnologue-এর সাম্প্রতিক সংস্করণ অনুযায়ী জীবিত ভাষার সংখ্যা—
সাল | জীবিত ভাষার সংখ্যা
২০২১ | ৭,১৩৯
২০২২ | ৭,১৫১
২০২৩ | ৭,১৬৮
২০২৪ | ৭,১৬৪
২০২৫ | ৭,১৫৯
২০২৬ | ৭,১৭০
❖ ২০২৬ সালের ২৯তম সংস্করণে ৭,১৭০টি জীবিত ভাষা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
❖ বিভিন্ন বছরে ভাষার সংখ্যা বাড়া বা কমার অর্থ এই নয় যে সব পরিবর্তন নতুন ভাষার জন্ম বা পুরোনো ভাষার বিলুপ্তির কারণে ঘটেছে।
❖ নতুন ভাষা শনাক্তকরণ, তথ্য সংশোধন এবং ভাষা ও উপভাষার শ্রেণিবিভাগ পরিবর্তনের কারণেও এই সংখ্যায় পার্থক্য দেখা যায়।
✦ ৪. ভাষার সংখ্যা নির্ধারণে পার্থক্য হওয়ার কারণ
বিশ্বে মোট কতগুলো ভাষা রয়েছে, তার একটি চিরস্থায়ী ও সর্বজনস্বীকৃত নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।
এর প্রধান কারণগুলো হলো—
❖ ভাষা ও উপভাষার পার্থক্য: কোনো ভাষার আঞ্চলিক রূপকে পৃথক ভাষা হিসেবে গণনা করা হবে কি না, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে।
❖ নতুন ভাষার শনাক্তকরণ: প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যবহৃত কিছু ভাষা আগে নথিভুক্ত না থাকলেও পরবর্তী সময়ে গবেষণার মাধ্যমে শনাক্ত হতে পারে।
❖ ভাষার বিলুপ্তি: কোনো ভাষার শেষ মাতৃভাষী বক্তার মৃত্যুর পর সেই ভাষার জীবিত ব্যবহার শেষ হয়ে যেতে পারে।
❖ শ্রেণিবিভাগের পরিবর্তন: গবেষণার নতুন তথ্যের ভিত্তিতে দুটি ভাষাকে একই ভাষার রূপ অথবা একটি ভাষাকে একাধিক স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হতে পারে।
❖ গবেষণা-পদ্ধতির পার্থক্য: UNESCO, Ethnologue ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভাষাতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠান ভাষা গণনার ক্ষেত্রে কিছু ভিন্ন মানদণ্ড ব্যবহার করে।
✦ ৫. ভাষাপরিবার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ভাষাবিজ্ঞানীরা ঐতিহাসিক ও গঠনগত সম্পর্কের ভিত্তিতে পৃথিবীর ভাষাগুলোকে বিভিন্ন ভাষাপরিবারে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষাপরিবার ও উদাহরণ—
ভাষাপরিবার | ভাষার উদাহরণ
ইন্দো-ইউরোপীয় | বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ফরাসি
চীনা-তিব্বতি | মান্দারিন চীনা, বর্মি, তিব্বতি
আফ্রো-এশীয় | আরবি, হিব্রু, আমহারীয়
দ্রাবিড় | তামিল, তেলুগু, কন্নড়
অস্ট্রো-এশীয় | সাঁওতালি, মুন্ডারি, খমের
নাইজার-কঙ্গো | সোয়াহিলি, জুলু, ইগবো
অস্ট্রোনেশীয় | মালয়, ইন্দোনেশীয়, তাগালগ
❖ বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের ইন্দো-ইরানীয় শাখার ইন্দো-আর্য উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
❖ ভাষাপরিবারের সংখ্যা এবং পৃথিবীর মোট ভাষার সংখ্যা এক বিষয় নয়।
❖ একটি ভাষাপরিবারের অন্তর্ভুক্ত একাধিক ভাষা থাকতে পারে।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. পাঁচ হাজার — প্রদত্ত পুরোনো প্রশ্নের প্রত্যাশিত উত্তর নয়।
২০০৬ সালের পরীক্ষার প্রচলিত পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক হিসাবে সাড়ে তিন হাজার ভাষার উল্লেখ রয়েছে। তাই পাঁচ হাজার প্রশ্নটির নির্ধারিত উত্তর নয়। আবার ২০২৬ সালের গবেষণা অনুযায়ী এই সংখ্যাও বর্তমান জীবিত ভাষার প্রকৃত হিসাবের চেয়ে কম।
❖ খ. সাড়ে তিন হাজার — প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক সঠিক উত্তর।
বাংলাদেশের পুরোনো নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ পাঠ্যক্রমে পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভাষা প্রচলিত থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তাই ২০০৬ সালের প্রশ্নের প্রচলিত সমাধানে খ বিকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এটি আধুনিক হিসাব নয়।
❖ গ. এক হাজার — ভুল।
পৃথিবীর জীবিত ভাষার সংখ্যা এক হাজারের অনেক বেশি। পুরোনো পাঠ্যপুস্তক এবং আধুনিক আন্তর্জাতিক গবেষণা—উভয় ক্ষেত্রেই এই সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি ভাষার তথ্য পাওয়া যায়।
❖ ঘ. আড়াই হাজার — ভুল।
আড়াই হাজার বা ২,৫০০ ভাষা পৃথিবীর মোট জীবিত ভাষার সঠিক সংখ্যা নয়। পুরোনো পরীক্ষাভিত্তিক হিসাবে সাড়ে তিন হাজার এবং আধুনিক হিসাবে প্রায় সাত হাজারের বেশি ভাষা পাওয়া যায়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ ২০০৬ সালের উপজেলা সমাজসেবা অফিসার পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর — সাড়ে তিন হাজার।
❖ বাংলাদেশের পুরোনো বাংলা ব্যাকরণ পাঠ্যক্রমে পৃথিবীর প্রচলিত ভাষার সংখ্যা — প্রায় সাড়ে তিন হাজার।
❖ UNESCO অনুযায়ী বর্তমানে ব্যবহৃত ভাষার সংখ্যা — প্রায় ৭,০০০।
❖ Ethnologue-এর ২০২৬ সালের সংস্করণ অনুযায়ী জীবিত ভাষার সংখ্যা — ৭,১৭০।
❖ UNESCO অনুযায়ী মোট নথিভুক্ত ভাষার সংখ্যা — ৮,৩২৪।
❖ UNESCO অনুযায়ী অদূর ভবিষ্যতে ব্যবহারকারী হারানোর ঝুঁকিতে থাকা ভাষা — প্রায় ১,৫০০টি।
❖ বিশ্বের ভাষাসমূহের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার — Ethnologue।
❖ UNESCO-এর পূর্ণরূপ — United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization।
❖ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস — ২১ ফেব্রুয়ারি।
❖ জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে — ১৯৯৯ সালে (UNESCO-এর সাধারণ সম্মেলনে)।
❖ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন শুরু হয় — ২০০০ সালে।
❖ আদিবাসী ভাষার আন্তর্জাতিক দশক — ২০২২–২০৩২।
❖ বাংলা ভাষার মূল ভাষাপরিবার — ইন্দো-ইউরোপীয়।
❖ বাংলা ভাষার শাখা — ইন্দো-ইরানীয় ভাষাশাখার ইন্দো-আর্য উপশাখা।
❖ ভাষা ও উপভাষা — ভাষাবিজ্ঞানের দুটি সম্পর্কিত কিন্তু ভিন্ন শ্রেণিবিন্যাসগত ধারণা।
❖ জীবিত ভাষা (Living Language) — যে ভাষার বর্তমানে জীবিত ব্যবহারকারী রয়েছে; Ethnologue-এর হিসাবে অন্তত একজন মাতৃভাষী বক্তা থাকা গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।
❖ বিলুপ্ত ভাষা (Extinct Language) — যে ভাষার আর জীবিত মাতৃভাষী বক্তা নেই।
❖ পৃথিবীর ভাষার সংখ্যা স্থির নয়; গবেষণা ও শ্রেণিবিভাগের পরিবর্তনের সঙ্গে হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
◈ চূড়ান্ত উত্তর ও গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী
২০০৬ সালের পরীক্ষার প্রচলিত সঠিক উত্তর: খ. সাড়ে তিন হাজার।
২০২৬ সালের আধুনিক তথ্য অনুযায়ী সঠিক উত্তর: প্রায় সাত হাজারের বেশি (Ethnologue অনুযায়ী ৭,১৭০টি)।
অতএব, প্রশ্নটির ‘বর্তমানে’ শব্দটি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল। ২০০৬ সা
10
🎯 Level 1

৪০. বাংলা ভাষার পূর্ববর্তী স্তরের নাম কী? (হাবিপ্রবি (ডি-২): ২৪–২৫)

ক

সংস্কৃত

খ

পালি

গ

অপভ্রংশ

ঘ

কোনোটিই নয়

✅ সঠিক উত্তর:গ. অপভ্রংশ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: অপভ্রংশ
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলা একটি New Indo-Aryan ভাষা। তার অব্যবহিত পূর্ববর্তী Middle Indo-Aryan-এর শেষ পর্যায়ের প্রধান নাম অপভ্রংশ।
❖ Banglapedia স্পষ্টভাবে Apabhrangsha-কে মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার শেষ স্তর বলে এবং সেখান থেকে আধুনিক Indo-Aryan ভাষাগুলোর বিকাশের কথা জানায়।
❖ আরও সূক্ষ্মভাবে অনেক বাংলা ভাষার ইতিহাসে অপভ্রংশ → অবহট্ট → প্রাচীন বাংলা ধারা ব্যবহার করা হয়।
✦ অন্যান্য অপশন:
➤ সংস্কৃত বহু প্রাচীন পূর্বপুরুষধারার ভাষা।
➤ পালি Middle Indo-Aryan হলেও বাংলার অব্যবহিত পূর্ববর্তী স্তর নয়।
➤ তাই “কোনোটিই নয়” ভুল।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন