🧠 🔖
Free Topic

অন্ধকার যুগ, মধ্যযুগের সূচনা-শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

◉ বাংলা সাহিত্য›অন্ধকার যুগ, মধ্যযুগের সূচনা-শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚30মোট প্রশ্ন
🎯3মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০৪. কোন শাসকদের সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়? (ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পেশকার: ২৫)

ক

পাল

খ

গুপ্ত

গ

সেন

ঘ

তুর্কি

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. তুর্কি

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: তুর্কি।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত ইতিহাসে তুর্কি বিজয়-পরবর্তী প্রাথমিক শাসনপর্বকে তথাকথিত অন্ধকার যুগের সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়।
❖ বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের প্রচলিত সময়সীমা ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ এই সময়ের সূচনালগ্নে বাংলায় সেন রাজবংশের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তুর্কি-মুসলিম শাসনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
❖ তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে নদিয়া অভিযান পরিচালনা করেন।
❖ তাঁর অভিযানের ফলে লক্ষ্মণ সেনের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নদিয়ায় পরিবর্তন ঘটে।
❖ এরপর বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে তুর্কি-মুসলিম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বিস্তৃত হতে থাকে।
❖ বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসের কিছু পুরোনো ব্যাখ্যায় এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলা সাহিত্যিক পুঁথির স্বল্পতাকে সম্পর্কিত করা হয়েছে।
❖ তবে অন্ধকার যুগের পুরো ১৫০ বছরকে একটিমাত্র শাসকগোষ্ঠীর অভিন্ন শাসনকাল হিসেবে দেখানো ঠিক নয়।
❖ তুর্কি শাসনের সূচনা এবং বাংলা সাহিত্যিক নিদর্শনের স্বল্পতা—দুটি ঐতিহাসিক বিষয়; একটির কারণে অন্যটি ঘটেছে, এমন সরল সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবে দেওয়া যায় না।
◉ ✧ তুর্কি শাসন ও সাহিত্য-ইতিহাস
✦ ১. তুর্কি বিজয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
❖ দ্বাদশ শতাব্দীর শেষ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে বাংলায় সেন রাজবংশের শাসন প্রচলিত ছিল।
❖ লক্ষ্মণ সেন সেন রাজবংশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাসক।
❖ বখতিয়ার খলজির নদিয়া অভিযানের পর বাংলায় নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটে।
❖ এই পরিবর্তন বাংলার প্রশাসন, সামাজিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
✦ ২. অন্ধকার যুগ নামে পরিচিত হওয়ার কারণ
❖ চর্যাপদের পরবর্তী পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য বাংলা সাহিত্যিক পাণ্ডুলিপি খুব অল্প পাওয়া গেছে।
❖ কিছু রচনা বিলুপ্ত হয়েছে বা সংরক্ষিত হয়নি।
❖ কোনো কোনো রচনার সুনির্দিষ্ট রচনাকাল নির্ধারণ করা কঠিন।
❖ সাহিত্যিক নিদর্শনের এই স্বল্পতার কারণে পরিভাষাটি প্রচলিত হয়।
✦ ৩. এই সময়ে সাহিত্যচর্চা কি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল?
❖ না। সাহিত্যিক নিদর্শনের স্বল্পতা থেকে সাহিত্যচর্চা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল—এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না।
❖ মৌখিক সাহিত্য, লোকসংগীত ও আঞ্চলিক ধর্মীয় সাহিত্যচর্চা অব্যাহত থাকতে পারে।
❖ শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া এবং প্রাকৃতপৈঙ্গলের মতো রচনা এই যুগের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
❖ তবে এগুলোর রচনাকাল ও পাণ্ডুলিপির বিভিন্ন স্তর নিয়ে গবেষণাগত বিতর্ক রয়েছে।
✦ পাল, গুপ্ত, সেন ও তুর্কি শাসনপর্বের পার্থক্য
১. পাল রাজবংশ
❖ বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি ছিল।
❖ পাল যুগে বৌদ্ধ শিক্ষা, পাণ্ডুলিপি, শিল্পকলা ও বিহারকেন্দ্রিক জ্ঞানচর্চার বিকাশ ঘটে।
❖ সোমপুর মহাবিহার পাল যুগের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন।
❖ এই যুগের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সম্পর্ক রয়েছে।
২. গুপ্ত রাজবংশ
❖ গুপ্ত যুগ ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
❖ সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য, শিল্পকলা এবং জ্ঞানচর্চায় এই যুগের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
❖ বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত অন্ধকার যুগের সময়সীমার সঙ্গে গুপ্ত যুগের মিল নেই।
৩. সেন রাজবংশ
❖ সেন রাজবংশ বাংলার পাল-পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শাসকগোষ্ঠী।
❖ লক্ষ্মণ সেনের সভার সঙ্গে জয়দেবসহ কয়েকজন সংস্কৃত পণ্ডিত ও কবির সম্পর্কের কথা সাহিত্য-ইতিহাসে পাওয়া যায়।
❖ সেন শাসনের শেষ পর্যায়ে বখতিয়ার খলজির নদিয়া অভিযান ঘটে।
৪. তুর্কি শাসনপর্ব
❖ ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ায় বাংলায় তুর্কি-মুসলিম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে।
❖ বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত অন্ধকার যুগের সূচনালগ্ন এই সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. পাল — ভুল।
পাল যুগ বাংলার বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত অন্ধকার যুগ নয়।
❖ খ. গুপ্ত — ভুল।
গুপ্ত রাজবংশের সময় বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের প্রচলিত সময়সীমার বহু আগে।
❖ গ. সেন — ভুল।
সেন রাজবংশ অন্ধকার যুগের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রচলিত পরীক্ষার উত্তর সেন নয়, তুর্কি।
❖ ঘ. তুর্কি — সঠিক।
বাংলা সাহিত্যের ১২০১–১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দের তথাকথিত অন্ধকার যুগের সূচনার সঙ্গে তুর্কি বিজয় ও পরবর্তী শাসনপর্ব সম্পর্কিত।
◉ ✧ মেইন পয়েন্টস ও হাইলাইটস
❖ অন্ধকার যুগের সঙ্গে সম্পর্কিত শাসনপর্ব — তুর্কি।
❖ অন্ধকার যুগের প্রচলিত সময় — ১২০১–১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ তুর্কি বিজয়ের গুরুত্বপূর্ণ সেনাপতি — বখতিয়ার খলজি।
❖ সেন রাজবংশের গুরুত্বপূর্ণ শাসক — লক্ষ্মণ সেন।
❖ ঐতিহাসিক সতর্কতা — এই সময়ে সাহিত্য ছিল না, এমন সিদ্ধান্ত প্রমাণিত নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ কোন শাসকদের সময়কে অন্ধকার যুগ বলা হয়? — তুর্কি।
➤ অন্ধকার যুগ — ১২০১–১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ তুর্কি সেনাপতি — ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি।
➤ বখতিয়ার খলজির নদিয়া অভিযান — ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ায়।
➤ সেন রাজবংশের গুরুত্বপূর্ণ শাসক — লক্ষ্মণ সেন।
➤ পাল যুগের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য — বৌদ্ধ শিক্ষা ও মহাবিহার।
➤ সোমপুর মহাবিহার — পাল যুগের নিদর্শন।
➤ গুপ্ত যুগ — প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়।
➤ সেন যুগের সঙ্গে সম্পর্কিত কবি — জয়দেব।
➤ অন্ধকার যুগের প্রধান সাহিত্যিক সমস্যা — প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপির স্বল্পতা।
➤ অন্ধকার যুগের প্রচলিত নিদর্শন — শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া ও প্রাকৃতপৈঙ্গল।
➤ মনে রাখার সূত্র — তুর্কি বিজয় ⇒ মধ্যযুগের সূচনা ⇒ তথাকথিত অন্ধকার যুগ।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ঘ. তুর্কি।"
02
🎯 Level 1

০৬. ‘প্রাকৃতপৈঙ্গল’-এর কবি কে? (ডাক অধিদপ্তরের উপজেলা পোস্টমাস্টার: ২৪)

ক

রামাই পণ্ডিত

খ

হলায়ুধ মিশ্র

গ

শ্রীহর্ষ

ঘ

জয়দেব

✅ সঠিক উত্তর:গ. শ্রীহর্ষ

ব্যাখ্যা:

প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর: গ
◈ প্রকাশিত প্রশ্নসমাধান অনুযায়ী উত্তর: শ্রীহর্ষ।
✧ বিশেষ সতর্কতা: এই প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর ও প্রামাণ্য সাহিত্য-ইতিহাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি রয়েছে।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ প্রাকৃতপৈঙ্গল (Prākṛta Paiṅgala) একটি প্রাচীন প্রাকৃত-অপভ্রংশ ভাষার পদ ও ছন্দসংক্রান্ত সংকলন।
❖ এই গ্রন্থে বিভিন্ন কবির রচনা এবং ছন্দের উদাহরণ সংকলিত হয়েছে।
❖ প্রাকৃতপৈঙ্গলকে একক কোনো কবির স্বতন্ত্র বাংলা কাব্য হিসেবে চিহ্নিত করা যথাযথ নয়।
❖ এর ভাষায় শৌরসেনী প্রাকৃত এবং অপভ্রংশের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।
❖ গ্রন্থটি প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার পরবর্তী পর্যায়ের সাহিত্যিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসের আলোচনায় এটি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভাষার বিবর্তন এবং ছন্দের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়।
❖ কিছু বাংলাদেশি পরীক্ষাসহায়িকা ও প্রশ্নব্যাংকে ‘প্রাকৃতপৈঙ্গল’-এর কবি হিসেবে শ্রীহর্ষের নাম দেওয়া হয়েছে।
❖ কিন্তু প্রামাণ্য গবেষণায় এই উত্তরটি প্রতিষ্ঠিত নয়।
◉ ✧ প্রাকৃতপৈঙ্গলের প্রকৃত সাহিত্যিক পরিচয়
✦ ১. সংকলনধর্মী গ্রন্থ
❖ প্রাকৃতপৈঙ্গল বিভিন্ন কবির রচিত পদ ও ছন্দের উদাহরণসমৃদ্ধ গ্রন্থ।
❖ এটি মূলত ছন্দশাস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ বিভিন্ন ছন্দরীতির উদাহরণ হিসেবে প্রাকৃত ও অপভ্রংশ পদ উদ্ধৃত হয়েছে।
❖ তাই এর প্রতিটি পদ একজন কবির রচনা নয়।
✦ ২. সংকলক বা রচয়িতার পরিচয়
❖ প্রাকৃতপৈঙ্গলের নামের সঙ্গে ঐতিহ্যগতভাবে পিঙ্গল বা পিঙ্গলাচার্যের নাম যুক্ত।
❖ তবে প্রাচীন সংস্কৃত ছন্দসূত্রের রচয়িতা পিঙ্গল এবং প্রাকৃতপৈঙ্গলের সংকলক একই ব্যক্তি কি না, তা বিতর্কিত।
❖ গবেষক এস. এন. ঘোষাল (S. N. Ghosal) ১৯৫১ সালের একটি গবেষণায় এই লেখকত্ব-সমস্যা আলোচনা করেছেন।
❖ গবেষণায় কিছু পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সুমতি (Sumati) নামের একজন সম্ভাব্য রচয়িতা বা সংকলকের উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ ফলে গ্রন্থটির প্রকৃত রচয়িতা নির্ধারণে একাধিক মত রয়েছে।
✦ ৩. গ্রন্থের সম্ভাব্য সংকলনকাল
❖ বিভিন্ন গবেষক প্রাকৃতপৈঙ্গলের চূড়ান্ত সংকলন বা সম্পাদনার কাল চতুর্দশ শতকের কাছাকাছি স্থাপন করেছেন।
❖ তবে গ্রন্থটির অন্তর্ভুক্ত সব পদ একই সময়ে রচিত হয়নি।
❖ এই কারণে সংকলনকাল ও পদগুলোর পৃথক রচনাকাল এক নয়।
✦ শ্রীহর্ষ কে ছিলেন?
❖ শ্রীহর্ষ দ্বাদশ শতকের একজন বিখ্যাত সংস্কৃত কবি ও দার্শনিক।
❖ তাঁর সবচেয়ে পরিচিত সাহিত্যকর্ম ‘নৈষধচরিত’ বা ‘নৈষধীয়চরিত’।
❖ নৈষধচরিত সংস্কৃত মহাকাব্য সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
❖ এতে নল ও দময়ন্তীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
❖ শ্রীহর্ষের স্বীকৃত সাহিত্যিক পরিচয় মূলত নৈষধচরিত কাব্যের সঙ্গে যুক্ত।
❖ তাঁকে প্রাকৃতপৈঙ্গলের নিশ্চিত রচয়িতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।
✦ প্রাকৃতপৈঙ্গল ও নৈষধচরিতের পার্থক্য
প্রাকৃতপৈঙ্গল:
❖ প্রধানত প্রাকৃত-অপভ্রংশ পদ ও ছন্দের সংকলন।
❖ লেখকত্ব বা সংকলক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
❖ ঐতিহ্যগতভাবে পিঙ্গলের নাম যুক্ত।
❖ কিছু গবেষণায় সুমতির নাম আলোচিত।
নৈষধচরিত:
❖ রচয়িতা — শ্রীহর্ষ।
❖ ভাষা — সংস্কৃত।
❖ সাহিত্যিক ধরন — মহাকাব্য।
❖ প্রধান বিষয় — নল-দময়ন্তীর কাহিনি।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. রামাই পণ্ডিত — ভুল।
রামাই পণ্ডিত শূন্যপুরাণের প্রথাগত রচয়িতা। প্রাকৃতপৈঙ্গলের রচয়িতা হিসেবে তিনি স্বীকৃত নন।
❖ খ. হলায়ুধ মিশ্র — ভুল।
হলায়ুধ মিশ্র লক্ষ্মণ সেনের সভার সঙ্গে সম্পর্কিত সংস্কৃত পণ্ডিত। প্রচলিতভাবে তাঁর নামে সেক শুভোদয়া আরোপিত। তিনি প্রাকৃতপৈঙ্গলের স্বীকৃত রচয়িতা নন।
❖ গ. শ্রীহর্ষ — প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর, কিন্তু গবেষণাগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
প্রদত্ত প্রশ্নের প্রকাশিত সমাধানে শ্রীহর্ষের নাম দেওয়া হয়েছে। তবে প্রামাণ্য গ্রন্থতাত্ত্বিক গবেষণায় তাঁর পরিবর্তে পিঙ্গল বা সুমতির নাম নিয়ে আলোচনা পাওয়া যায়।
❖ ঘ. জয়দেব — ভুল।
জয়দেব দ্বাদশ শতকের সংস্কৃত কবি এবং গীতগোবিন্দের রচয়িতা। তিনি প্রাকৃতপৈঙ্গলের রচয়িতা নন।
◉ ✧ মেইন পয়েন্টস ও হাইলাইটস
❖ প্রকাশিত পরীক্ষার উত্তর — শ্রীহর্ষ।
❖ প্রাকৃতপৈঙ্গলের প্রকৃতি — প্রাকৃত-অপভ্রংশ পদ ও ছন্দসংক্রান্ত সংকলন।
❖ ঐতিহ্যগত সংকলক পরিচয় — পিঙ্গল।
❖ গবেষণায় আলোচিত বিকল্প নাম — সুমতি।
❖ শ্রীহর্ষের নিশ্চিত গুরুত্বপূর্ণ রচনা — নৈষধচরিত।
❖ গবেষণাগত সিদ্ধান্ত — প্রশ্নটির রচয়িতা-সংক্রান্ত তথ্য সংশোধন প্রয়োজন।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রদত্ত ২০২৪ সালের পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর — শ্রীহর্ষ।
➤ শ্রীহর্ষের বিখ্যাত কাব্য — নৈষধচরিত।
➤ নৈষধচরিতের অপর নাম — নৈষধীয়চরিত।
➤ নৈষধচরিতের ভাষা — সংস্কৃত।
➤ নৈষধচরিতের প্রধান কাহিনি — নল ও দময়ন্তী।
➤ প্রাকৃতপৈঙ্গল — ছন্দসংক্রান্ত সংকলন।
➤ প্রাকৃতপৈঙ্গলের ভাষাগত উপাদান — প্রাকৃত ও অপভ্রংশ।
➤ প্রাকৃতপৈঙ্গলের ঐতিহ্যগত নামের সঙ্গে যুক্ত — পিঙ্গল।
➤ প্রাকৃতপৈঙ্গলের সম্ভাব্য রচয়িতা হিসেবে গবেষণায় আলোচিত — সুমতি।
➤ প্রাকৃতপৈঙ্গলের লেখকত্ব — বিতর্কিত।
➤ প্রাকৃতপৈঙ্গলের সাহিত্যিক গুরুত্ব — প্রাচীন ছন্দ ও ভাষাবিকাশ গবেষণা।
➤ রামাই পণ্ডিত — শূন্যপুরাণের প্রথাগত রচয়িতা।
➤ হলায়ুধ মিশ্র — সেক শুভোদয়ার প্রচলিত রচয়িতা।
➤ জয়দেব — গীতগোবিন্দের রচয়িতা।
➤ শ্রীহর্ষ ⇒ নৈষধচরিত — এই সম্পর্কটি গবেষণাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত।
➤ প্রাকৃতপৈঙ্গল ⇒ পিঙ্গল/সুমতি-সংক্রান্ত লেখকত্ব বিতর্ক — এই সম্পর্কটি মনে রাখতে হবে।
◈ চূড়ান্ত পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর: গ. শ্রীহর্ষ।
✧ প্রশ্নব্যাংকের জন্য বিশেষ সংশোধনী: এই প্রশ্নে ‘প্রাকৃতপৈঙ্গলের কবি শ্রীহর্ষ’ কথাটিকে নির্ভুল ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। মূল পরীক্ষার উত্তর গ সংরক্ষণ করে ব্যাখ্যায় পিঙ্গল ও সুমতি-সংক্রান্ত গবেষণার বিষয়টি উল্লেখ করা উচিত।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৮. ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ কবিতাটি কোন কাব্যের অংশ বিশেষ? (সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক: ২৩)

ক

প্রাকৃত পৈঙ্গল

খ

সেক শুভোদয়া

গ

শূন্যপুরাণ

ঘ

কোনোটিই নয়

✅ সঠিক উত্তর:গ. শূন্যপুরাণ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: শূন্যপুরাণ।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ রামাই পণ্ডিতের নামে প্রচলিত শূন্যপুরাণ গ্রন্থের একটি বিখ্যাত অংশ।
❖ এই রচনাটি শূন্যপুরাণের ধর্মীয়, সামাজিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যের জন্য বিশেষভাবে আলোচিত।
❖ ‘নিরঞ্জন’ শব্দটির অর্থ নিরঞ্জিত বা কলুষমুক্ত; ধর্মীয় সাহিত্যে এটি নিরাকার বা অতীন্দ্রিয় ধর্মসত্তার পরিচয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
❖ শূন্যপুরাণে নিরঞ্জন বা ধর্মঠাকুর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সত্তা।
❖ ‘রুষ্মা’ শব্দটি রোষ, ক্রোধ বা উষ্মার ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ বিভিন্ন সাহিত্যিক পাঠে এই রচনার নাম ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ এবং ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’—উভয়ভাবে পাওয়া যায়।
❖ কাহিনিতে ধর্মঠাকুর বা নিরঞ্জন তাঁর অনুসারীদের দুর্দশা ও নির্যাতনের প্রতিক্রিয়ায় বিশেষ রূপ ধারণ করেন—এমন প্রতীকী বর্ণনা রয়েছে।
❖ এতে ধর্মীয় গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিফলন পাওয়া যায়।
◉ ✧ ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামের অর্থ
✦ ১. নিরঞ্জন
❖ নিরঞ্জন শব্দের আক্ষরিক অর্থ কলুষমুক্ত বা নির্লেপ।
❖ লোকায়ত ধর্মবিশ্বাসে নিরঞ্জন ধর্মঠাকুরের একটি পরিচয়।
❖ শূন্যপুরাণে নিরঞ্জন ধর্মীয় ও প্রতীকী অর্থ বহন করে।
✦ ২. রুষ্মা বা উষ্মা
❖ রুষ্মা বা উষ্মা শব্দের সঙ্গে ক্রোধ, রোষ বা ক্ষোভের অর্থগত সম্পর্ক রয়েছে।
❖ তাই ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’কে নিরঞ্জনের রোষ বা ক্রোধপ্রকাশের কাহিনি হিসেবে বোঝানো হয়।
✦ কবিতাটির মূল বিষয়বস্তু
❖ ধর্মঠাকুরের অনুসারীদের ওপর অত্যাচারের বর্ণনা।
❖ ব্রাহ্মণ্য ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও লোকধর্মীয় সম্প্রদায়ের দ্বন্দ্ব।
❖ ধর্মীয় প্রতীকের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের প্রকাশ।
❖ মুসলিম রাজনৈতিক আগমনকে কেন্দ্র করে বিশেষ ধর্মীয় কল্পনার ব্যবহার।
❖ ধর্মীয় মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অলৌকিক কাহিনির অবতারণা।
❖ হিন্দু ও মুসলিম ধর্মীয় পরিচয়ের বিভিন্ন উপাদানের প্রতীকী সংমিশ্রণ।
✦ সামাজিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য
❖ শূন্যপুরাণের এই অংশে মধ্যযুগীয় বাংলার ধর্মীয় সম্পর্ক সম্পর্কে সাহিত্যিক ধারণা পাওয়া যায়।
❖ লোকধর্মীয় সম্প্রদায়ের সামাজিক অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে।
❖ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে ধর্মীয় কল্পনার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।
❖ কিছু ঐতিহাসিক ব্যাখ্যায় এই রচনাকে ধর্মীয় সমন্বয়চেতনার নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়।
❖ আবার এতে ধর্মীয় ক্ষমতা ও সামাজিক সংঘাতের প্রতীকী উপস্থাপনাও রয়েছে।
❖ তাই কবিতাটিকে সরাসরি নির্ভুল সমকালীন ইতিহাসের বিবরণ হিসেবে না দেখে ধর্মীয় সাহিত্যিক দলিল হিসেবে বিশ্লেষণ করা উচিত।
✦ গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগত সংশোধনী
❖ ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ শূন্যপুরাণের অন্তর্ভুক্ত—এ বিষয়ে প্রচলিত সাহিত্য-ইতিহাসে ঐকমত্য রয়েছে।
❖ কিন্তু অংশটি শূন্যপুরাণের মূল প্রাচীন স্তরে ছিল কি না, তা বিতর্কিত।
❖ বিভিন্ন গবেষকের মতে এটি পরবর্তী সময়ে সংযোজিত হতে পারে।
❖ ভাষাগত ও ঐতিহাসিক উপাদান বিশ্লেষণ করে কিছু গবেষক একে চতুর্দশ শতাব্দী বা তার পরবর্তী সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত করেছেন।
❖ তাই ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা শূন্যপুরাণের অংশ’ এবং ‘এটি রামাই পণ্ডিতের নিজ হাতে রচিত মূল অংশ’—এই দুটি দাবি সমার্থক নয়।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. প্রাকৃত পৈঙ্গল — ভুল।
প্রাকৃতপৈঙ্গল প্রাকৃত-অপভ্রংশ ভাষার পদ ও ছন্দসংক্রান্ত সংকলন। ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ এর অংশ নয়।
❖ খ. সেক শুভোদয়া — ভুল।
সেক শুভোদয়া মূলত সংস্কৃতনির্ভর রচনা। এতে সুফি শেখের মাহাত্ম্য ও রাজসভাসংক্রান্ত কাহিনি রয়েছে। আলোচ্য কবিতাটি এর অংশ নয়।
❖ গ. শূন্যপুরাণ — সঠিক।
‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ শূন্যপুরাণের বহুল আলোচিত অংশ।
❖ ঘ. কোনোটিই নয় — ভুল।
কারণ প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে শূন্যপুরাণের সঙ্গেই কবিতাটির পরিচিত সম্পর্ক রয়েছে।
◉ ✧ মেইন পয়েন্টস ও হাইলাইটস
❖ ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ — শূন্যপুরাণের অংশ।
❖ শূন্যপুরাণের প্রথাগত রচয়িতা — রামাই পণ্ডিত।
❖ ‘নিরঞ্জন’ — ধর্মঠাকুরের পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ ‘রুষ্মা’ — ক্রোধ বা রোষের ধারণাসম্পর্কিত।
❖ প্রধান বিষয় — ধর্মীয় সংঘাত ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীকী বর্ণনা।
❖ গবেষণাগত সতর্কতা — অংশটির রচনাকাল ও মূল পাঠে উপস্থিতি বিতর্কিত।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ কোন গ্রন্থের অংশ? — শূন্যপুরাণ।
➤ ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ — একই অংশের প্রচলিত ভিন্ন পাঠনাম।
➤ শূন্যপুরাণের প্রথাগত রচয়িতা — রামাই পণ্ডিত।
➤ নিরঞ্জন — ধর্মঠাকুরের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিচয়।
➤ রুষ্মা বা উষ্মা — রোষ বা ক্রোধের ধারণা।
➤ কবিতাটির বিষয় — ধর্মীয় ও সামাজিক সংঘাতের প্রতীকী বর্ণনা।
➤ কবিতাটিতে প্রকাশিত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট — মধ্যযুগীয় বাংলার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিবর্তন।
➤ শূন্যপুরাণের প্রধান বিষয় — ধর্মঠাকুরের পূজা।
➤ শূন্যপুরাণের সাহিত্যিক ধরন — চম্পুকাব্য।
➤ শূন্যপুরাণের প্রচলিত যুগপরিচয় — অন্ধকার যুগ।
➤ ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’র রচনাকাল — গবেষণায় বিতর্কিত।
➤ গ্রন্থের অংশ হিসেবে পরিচয় ও মূল রচয়িতার নিশ্চিত পরিচয় — দুটি পৃথক বিষয়।
➤ মনে রাখার সূত্র — নিরঞ্জন ⇒ রুষ্মা ⇒ শূন্যপুরাণ।
04
🎯 Level 1

১০. ত্রয়োদশ শতকের সাহিত্যকর্ম কোনটি? (জীবন বীমা কর্পোরেশনের অফিস সহকারী: ২১)

ক

মনসামঙ্গল

খ

শূন্যপুরাণ

গ

পদ্মপুরাণ

ঘ

চন্দ্রাবতী

✅ সঠিক উত্তর:খ. শূন্যপুরাণ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর: শূন্যপুরাণ।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ প্রচলিত বাংলা সাহিত্য পাঠ্যক্রমে শূন্যপুরাণকে ত্রয়োদশ শতকের বা অন্ধকার যুগের সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
❖ বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের প্রচলিত সময়সীমা ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ এই সময়কাল বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রাথমিক পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
❖ শূন্যপুরাণের প্রথাগত রচয়িতা রামাই পণ্ডিত।
❖ গ্রন্থটি ধর্মঠাকুরের পূজা, ধর্মীয় আচার, সৃষ্টিতত্ত্ব ও শূন্যতত্ত্বকে কেন্দ্র করে রচিত।
❖ গদ্য ও পদ্যের মিশ্রণে রচিত হওয়ায় একে চম্পুকাব্য বলা হয়।
❖ প্রচলিত বাংলা সাহিত্য পাঠ্যক্রমে গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত হিসেবে পরিচিত।
❖ প্রথম পাঁচটি অধ্যায়ে সৃষ্টিতত্ত্বের আলোচনা রয়েছে।
❖ পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে ধর্মঠাকুরের পূজা, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আচার-পদ্ধতির বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ এই গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’।
❖ এসব কারণে শূন্যপুরাণ বাংলা সাহিত্যের প্রাথমিক মধ্যযুগের ধর্মীয় ও সামাজিক ইতিহাস বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
◉ ✧ ত্রয়োদশ শতক বলতে কী বোঝায়?
❖ ত্রয়োদশ শতক হলো ১২০১ থেকে ১৩০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়।
❖ চতুর্দশ শতক হলো ১৩০১ থেকে ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ পঞ্চদশ শতক হলো ১৪০১ থেকে ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ ষোড়শ শতক হলো ১৫০১ থেকে ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত অন্ধকার যুগ ত্রয়োদশ শতকের শুরু থেকে চতুর্দশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত।
❖ তাই অন্ধকার যুগের সঙ্গে সম্পর্কিত রচনাকে অনেক প্রশ্নব্যাংকে ত্রয়োদশ শতকের রচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
✦ শূন্যপুরাণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু
১. শূন্যতত্ত্ব
❖ শূন্য থেকে সৃষ্টির ধারণা গ্রন্থটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
❖ এর সঙ্গে প্রাচীন বৌদ্ধ চিন্তার কিছু ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
২. ধর্মঠাকুরের উপাসনা
❖ ধর্মঠাকুর বাংলার লোকায়ত ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মসত্তা।
❖ শূন্যপুরাণে ধর্মঠাকুরের পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বিবরণ রয়েছে।
৩. ধর্মীয় আচার-পদ্ধতি
❖ পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নিয়ম বর্ণিত হয়েছে।
❖ ধর্মীয় আচরণের মাধ্যমে লোকজ সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়।
৪. নিরঞ্জনের রুষ্মা
❖ শূন্যপুরাণের আলোচিত অংশ।
❖ ধর্মীয় ও সামাজিক সংঘাতের প্রতীকী বর্ণনা রয়েছে।
❖ মধ্যযুগীয় বাংলার ধর্মীয় সম্পর্ক ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ।
✦ শূন্যপুরাণের রচনাকাল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী
❖ প্রচলিত পরীক্ষায় শূন্যপুরাণকে ত্রয়োদশ শতকের রচনা বলা হলেও এর সম্পূর্ণ বর্তমান পাঠের নির্দিষ্ট রচনাকাল নিশ্চিত নয়।
❖ রামাই পণ্ডিতের জীবনকাল নিয়ে বিভিন্ন গবেষকের মতভেদ রয়েছে।
❖ কোনো কোনো পুরোনো সাহিত্য-ইতিহাসে রামাই পণ্ডিতকে দশম বা একাদশ শতকের সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে।
❖ অন্যদিকে, বর্তমানে প্রাপ্ত শূন্যপুরাণের কিছু অংশে আরও পরবর্তী সময়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পাওয়া যায়।
❖ বিশেষত ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ অংশটিকে অনেক গবেষক পরবর্তী সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
❖ তাই সমগ্র শূন্যপুরাণ ত্রয়োদশ শতকেই একবারে রচিত হয়েছে—এমন দাবি গবেষণাভিত্তিকভাবে নিশ্চিত নয়।
✦ অন্য তিনটি বিকল্পের সাহিত্যিক পরিচয়
১. মনসামঙ্গল
❖ বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্যধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
❖ দেবী মনসার মাহাত্ম্য এর প্রধান বিষয়।
❖ চাঁদ সদাগর, বেহুলা ও লখিন্দরের কাহিনি এই ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।
২. পদ্মপুরাণ
❖ বাংলার মনসামঙ্গল সাহিত্যধারায় পদ্মপুরাণ নামে কাব্য পাওয়া যায়।
❖ বিজয়গুপ্তের পদ্মাপুরাণ এই ধারার গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
❖ বিজয়গুপ্তকে সাধারণত পঞ্চদশ শতকের কবি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
৩. চন্দ্রাবতী
❖ চন্দ্রাবতী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত নারী কবি।
❖ তিনি ষোড়শ শতকের কবি হিসেবে পরিচিত।
❖ নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে রামায়ণের কাহিনি রচনার জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়।
❖ তাঁর পিতা দ্বিজ বংশীদাস মনসামঙ্গল কাব্যের কবি হিসেবে পরিচিত।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. মনসামঙ্গল — ভুল।
মনসামঙ্গল বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগীয় মঙ্গলকাব্যধারার অন্তর্গত। এর প্রধান রচয়িতাদের সাহিত্যিক বিকাশ ত্রয়োদশ শতকের তুলনায় পরবর্তী সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ খ. শূন্যপুরাণ — সঠিক।
প্রচলিত বাংলা সাহিত্য পাঠ্যক্রমে শূন্যপুরাণকে ত্রয়োদশ শতক বা অন্ধকার যুগের সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
❖ গ. পদ্মপুরাণ — ভুল।
বাংলা সাহিত্যে বিজয়গুপ্তের পদ্মাপুরাণ পঞ্চদশ শতকের সাহিত্যধারার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এটি প্রদত্ত প্রশ্নের প্রত্যাশিত উত্তর নয়।
❖ ঘ. চন্দ্রাবতী — ভুল।
চন্দ্রাবতী ষোড়শ শতকের নারী কবি। তিনি আলোচ্য ত্রয়োদশ শতকের সাহিত্যকর্মের নামও নন; এখানে কবির নামকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
◉ ✧ মেইন পয়েন্টস ও হাইলাইটস
❖ ত্রয়োদশ শতকের পরীক্ষাভিত্তিক সাহিত্যকর্ম — শূন্যপুরাণ।
❖ রচয়িতা — রামাই পণ্ডিত (প্রথাগত)।
❖ যুগ — অন্ধকার যুগ।
❖ রচনার ধরন — চম্পুকাব্য।
❖ প্রধান বিষয় — ধর্মঠাকুরের উপাসনা ও শূন্যতত্ত্ব।
❖ বিশেষ সতর্কতা — গ্রন্থটির সম্পূর্ণ রচনাকাল নির্দিষ্ট নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ত্রয়োদশ শতকের সাহিত্যকর্ম — শূন্যপুরাণ।
➤ ত্রয়োদশ শতকের সময়কাল — ১২০১–১৩০০ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ চতুর্দশ শতকের সময়কাল — ১৩০১–১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ শূন্যপুরাণের প্রথাগত রচয়িতা — রামাই পণ্ডিত।
➤ শূন্যপুরাণের যুগ — অন্ধকার যুগ (প্রচলিত শ্রেণিবিভাগ)।
➤ শূন্যপুরাণের সাহিত্যিক ধরন — চম্পুকাব্য।
➤ শূন্যপুরাণের প্রচলিত অধ্যায়সংখ্যা — ৫১টি।
➤ শূন্যপুরাণের প্রথম পাঁচ অধ্যায় — সৃষ্টিতত্ত্ব।
➤ শূন্যপুরাণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ — নিরঞ্জনের রুষ্মা।
➤ শূন্যপুরাণের প্রধান উপাস্য — ধর্মঠাকুর।
➤ মনসামঙ্গল — মঙ্গলকাব্যের একটি ধারা।
➤ বিজয়গুপ্ত — পদ্মাপুরাণের কবি।
➤ বিজয়গুপ্তের সাহিত্যিক কাল — পঞ্চদশ শতক।
➤ চন্দ্রাবতী — ষোড়শ শতকের নারী কবি।
➤ চন্দ্রাবতীর পিতা — দ্বিজ বংশীদাস।
➤ চন্দ্রাবতীর বিশেষ রচনা — চন্দ্রাবতীর রামায়ণ।
➤ মনে রাখার সূত্র — ত্রয়োদশ শতক ⇒ শূন্যপুরাণ ⇒ রামাই পণ্ডিত (প্রচলিত)।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. শূন্যপুরাণ।
05
🎯 Level 1

১২. ‘শূন্যপুরাণ’ হলো— (সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক: ২১)

ক

ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ

খ

রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কাব্য

গ

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান

ঘ

চৈতন্যজীবনীমূলক গ্রন্থ

✅ সঠিক উত্তর:ক. ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ শূন্যপুরাণ মূলত ধর্মঠাকুরের উপাসনা, ধর্মীয় আচার, শূন্যতত্ত্ব ও সৃষ্টিতত্ত্বসংক্রান্ত একটি ধর্মীয় গ্রন্থ।
❖ গ্রন্থটির প্রথাগত রচয়িতা রামাই পণ্ডিত।
❖ রামাই পণ্ডিত ধর্মঠাকুর-উপাসনাধারার গুরুত্বপূর্ণ কবি ও প্রচারক হিসেবে পরিচিত।
❖ শূন্যপুরাণে বিশ্বসৃষ্টি, ধর্মীয় বিশ্বাস, পূজা-পদ্ধতি এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বিধান আলোচনা করা হয়েছে।
❖ গ্রন্থটিতে বৌদ্ধ ধর্মীয় চিন্তার প্রভাব এবং বাংলার লোকায়ত ধর্মবিশ্বাসের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে।
❖ ধর্মঠাকুরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ধর্মীয় ঐতিহ্য এর প্রধান বিষয়।
❖ শূন্যপুরাণ কেবল কল্পনাভিত্তিক প্রেমকাহিনি বা গীতিসংকলন নয়।
❖ এটি ধর্মীয় তত্ত্ব ও পূজাপদ্ধতির সাহিত্যিক দলিল।
❖ গদ্য ও পদ্যের মিশ্রণে রচিত হওয়ায় প্রচলিত বাংলা সাহিত্য পাঠ্যক্রমে একে চম্পুকাব্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
◉ ✧ শূন্যপুরাণের প্রধান ধর্মীয় বিষয়
✦ ১. শূন্যতত্ত্ব
❖ শূন্য থেকে সৃষ্টির ধারণা গ্রন্থটির অন্যতম প্রধান বিষয়।
❖ এই বিশ্বতত্ত্বের সঙ্গে প্রাচীন বৌদ্ধ চিন্তার ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ তবে শূন্যপুরাণের শূন্যতত্ত্বকে বৌদ্ধ দর্শনের শূন্যবাদ ধারণার সঙ্গে সম্পূর্ণ অভিন্ন বলা যায় না।
✦ ২. সৃষ্টিতত্ত্ব
❖ বিশ্বজগতের উৎপত্তি ও সৃষ্টির প্রক্রিয়া সম্পর্কিত ধর্মীয় ধারণা আলোচনা করা হয়েছে।
❖ প্রচলিত অধ্যায়বিভাগে প্রথম পাঁচটি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্বকেন্দ্রিক।
✦ ৩. ধর্মঠাকুরের উপাসনা
❖ ধর্মঠাকুর বাংলার লোকায়ত ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্তা।
❖ ধর্মঠাকুরকে অনেক ক্ষেত্রে ধর্মরাজ নামেও উল্লেখ করা হয়।
❖ শূন্যপুরাণে ধর্মঠাকুরের পূজা ও আচার-পদ্ধতির বিবরণ রয়েছে।
✦ ৪. ধর্মীয় আচার ও অনুষ্ঠান
❖ পূজার বিভিন্ন বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে।
❖ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নিয়ম আলোচনা করা হয়েছে।
❖ উপাসনাসংক্রান্ত লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়।
✦ ৫. ধর্মীয় ও সামাজিক ইতিহাস
❖ গ্রন্থটিতে বিভিন্ন ধর্মীয় ধারার ঐতিহাসিক সম্পর্কের পরিচয় রয়েছে।
❖ লোকধর্ম, বৌদ্ধধর্মীয় চিন্তা এবং হিন্দু ধর্মীয় উপাদানের মিথস্ক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় শূন্যপুরাণ গুরুত্বপূর্ণ।
❖ ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ অংশে সামাজিক ও ধর্মীয় দ্বন্দ্বের প্রতীকী বর্ণনা রয়েছে।
✦ শূন্যপুরাণ ও অন্যান্য সাহিত্যধারার পার্থক্য
শূন্যপুরাণ:
❖ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ।
❖ প্রধান বিষয় — ধর্মঠাকুরের উপাসনা।
❖ প্রথাগত রচয়িতা — রামাই পণ্ডিত।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
❖ রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকেন্দ্রিক আখ্যানকাব্য।
❖ রচয়িতা — বড়ু চণ্ডীদাস।
❖ প্রধান চরিত্র — রাধা, কৃষ্ণ ও বড়ায়ি।
পদ্মাবতী:
❖ মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যানধর্মী কাব্য।
❖ রচয়িতা — আলাওল।
❖ প্রধান চরিত্র — পদ্মাবতী ও রত্নসেন।
চৈতন্যভাগবত:
❖ শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনকেন্দ্রিক কাব্য।
❖ রচয়িতা — বৃন্দাবন দাস।
চৈতন্যচরিতামৃত:
❖ শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন ও বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্বসংক্রান্ত গ্রন্থ।
❖ রচয়িতা — কৃষ্ণদাস কবিরাজ।
✦ গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগত সংশোধনী
❖ শূন্যপুরাণে বৌদ্ধধর্মীয় চিন্তার প্রভাব রয়েছে বলে একে শুধু বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ হিসেবে সীমাবদ্ধ করা যথাযথ নয়।
❖ পুরাণ-গবেষক লুডো রোশে শূন্যপুরাণকে ধর্ম বা ধর্মরাজের উপাসনাকেন্দ্রিক সাহিত্যধারার সঙ্গে সম্পর্কিত করেছেন।
❖ বাংলার লোকধর্মীয় সংস্কৃতি ও ধর্মমঙ্গল সাহিত্যপরম্পরার সঙ্গেও এর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ তাই অধিক নির্ভুল পরিচয় হলো—ধর্মঠাকুর-কেন্দ্রিক ধর্মীয় তত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব ও পূজা-পদ্ধতির গদ্য-পদ্যমিশ্রিত রচনা।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ — সঠিক।
শূন্যপুরাণে ধর্মঠাকুরের পূজা, সৃষ্টিতত্ত্ব, শূন্যতত্ত্ব এবং ধর্মীয় আচার-পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে। তাই এটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ।
❖ খ. রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কাব্য — ভুল।
রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকেন্দ্রিক সাহিত্য হিসেবে গীতগোবিন্দ, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এবং বৈষ্ণব পদাবলি বিশেষভাবে পরিচিত। শূন্যপুরাণের প্রধান বিষয় এটি নয়।
❖ গ. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান — ভুল।
প্রণয়োপাখ্যানধর্মী সাহিত্যে প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেম, বিরহ, দ্বন্দ্ব ও মিলনের কাহিনি প্রধান। মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে ইউসুফ-জুলেখা, লাইলী-মজনু এবং পদ্মাবতী এর গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। শূন্যপুরাণ এই ধারার রচনা নয়।
❖ ঘ. চৈতন্যজীবনীমূলক গ্রন্থ — ভুল।
চৈতন্যজীবনীমূলক সাহিত্য শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন, ধর্মপ্রচার ও বৈষ্ণব আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত। চৈতন্যভাগবত ও চৈতন্যচরিতামৃত এই ধারার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। শূন্যপুরাণ চৈতন্যজীবনী নয়।
◉ ✧ মেইন পয়েন্টস ও হাইলাইটস
❖ শূন্যপুরাণ — ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ।
❖ প্রথাগত রচয়িতা — রামাই পণ্ডিত।
❖ প্রধান উপাস্য — ধর্মঠাকুর।
❖ প্রধান বিষয় — শূন্যতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব ও ধর্মপূজা।
❖ সাহিত্যিক ধরন — চম্পুকাব্য।
❖ প্রচলিত অধ্যায়সংখ্যা — ৫১টি।
❖ সাহিত্যিক যুগ — অন্ধকার যুগ (প্রচলিত শ্রেণিবিভাগ)।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ শূন্যপুরাণ কী ধরনের গ্রন্থ? — ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ।
➤ শূন্যপুরাণের প্রথাগত রচয়িতা — রামাই পণ্ডিত।
➤ শূন্যপুরাণের প্রধান উপাস্য — ধর্মঠাকুর।
➤ ধর্মঠাকুরের অপর পরিচয় — ধর্মরাজ।
➤ শূন্যপুরাণের প্রধান বিষয় — শূন্যতত্ত্ব ও ধর্মপূজা।
➤ শূন্যপুরাণের সাহিত্যিক ধরন — চম্পুকাব্য।
➤ শূন্যপুরাণের প্রচলিত অধ্যায়সংখ্যা — ৫১টি।
➤ প্রথম পাঁচটি অধ্যায়ের বিষয় — সৃষ্টিতত্ত্ব।
➤ শূন্যপুরাণের আলোচিত অংশ — নিরঞ্জনের রুষ্মা।
➤ শূন্যপুরাণের পরীক্ষাভিত্তিক যুগ — অন্ধকার যুগ।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা — বড়ু চণ্ডীদাস।
➤ গীতগোবিন্দের রচয়িতা — জয়দেব।
➤ পদ্মাবতীর রচয়িতা — আলাওল।
➤ চৈতন্যভাগবতের রচয়িতা — বৃন্দাবন দাস।
➤ চৈতন্যচরিতামৃতের রচয়িতা — কৃষ্ণদাস কবিরাজ।
➤ রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের উদাহরণ — ইউসুফ-জুলেখা, লাইলী-মজনু ও পদ্মাবতী।
➤ শূন্যপুরাণের সঙ্গে সম্পর্কিত ধর্মীয় সাহিত্যপরম্পরা — ধর্মঠাকুর বা ধর্মরাজের উপাসনা।
➤ মনে রাখার সূত্র — শূন্যপুরাণ ⇒ রামাই পণ্ডিত ⇒ ধর্মঠাকুর ⇒ ধর্মীয় তত্ত্ব।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ক. ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ।
Advertisement
06
🎯 Level 1

০৮. ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য’ কে আবিষ্কার করেন? (শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম পরিদর্শক: ২৬ / সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা: ১২)

ক

রামমোহন রায়

খ

বসন্তরঞ্জন রায়

গ

চণ্ডীদাস

ঘ

দ্বিজ চণ্ডীদাস

✅ সঠিক উত্তর:খ. বসন্তরঞ্জন রায়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: বসন্তরঞ্জন রায়।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করেন বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।
❖ তিনি ১৯০৯ সালে বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে পুঁথিটি উদ্ধার করেন।
❖ পুঁথিটি দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘরের মাচায় সংরক্ষিত ছিল।
❖ বসন্তরঞ্জন রায় প্রাচীন বাংলা পুঁথি অনুসন্ধান ও সাহিত্য গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
❖ পুঁথিটি উদ্ধারের পর তিনি এর পাঠোদ্ধার, সম্পাদনা ও প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
❖ ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে তাঁর সম্পাদনায় ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নামে কাব্যটি প্রকাশিত হয়।
❖ আবিষ্কৃত পুঁথির প্রথম ও শেষের কয়েকটি পৃষ্ঠা অনুপস্থিত থাকায় এর মূল নাম নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
❖ পুঁথির সঙ্গে প্রাপ্ত চিরকুটে ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’ নাম পাওয়া যায়।
❖ বসন্তরঞ্জন রায় কাব্যটির বিষয়বস্তু বিবেচনা করে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নাম দেন।
✦ বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভের অবদান
❖ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ পুঁথি আবিষ্কার করেন।
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের খণ্ডিত পুঁথি উদ্ধার করেন।
❖ পুঁথিটির পাঠোদ্ধার ও সম্পাদনা করেন।
❖ ১৯১৬ সালে কাব্যটি প্রকাশ করেন।
❖ বাংলা ভাষার আদি-মধ্যযুগীয় সাহিত্য গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরবরাহ করেন।
✦ ‘বিদ্বদ্বল্লভ’ উপাধির পরিচয়
❖ বসন্তরঞ্জন রায়ের নামের সঙ্গে বিদ্বদ্বল্লভ উপাধি ব্যবহৃত হয়।
❖ পরীক্ষায় কখনো শুধু ‘বসন্তরঞ্জন রায়’ এবং কখনো ‘বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ’ লেখা থাকে।
❖ দুটি নাম একই ব্যক্তিকে নির্দেশ করে।
✦ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কার ও প্রকাশ
❖ আবিষ্কারক — বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।
❖ আবিষ্কারের সাল — ১৯০৯।
❖ আবিষ্কারের স্থান — কাঁকিল্যা, বাঁকুড়া।
❖ পুঁথি উদ্ধারের নির্দিষ্ট স্থান — গোয়ালঘরের মাচা।
❖ প্রথম প্রকাশ — ১৯১৬।
❖ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান — বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ।
❖ প্রথম সম্পাদক — বসন্তরঞ্জন রায়।
✦ আবিষ্কারক ও রচয়িতার পার্থক্য
❖ রচয়িতা হলেন যিনি সাহিত্যকর্মটি রচনা করেছেন।
❖ আবিষ্কারক হলেন যিনি হারিয়ে যাওয়া বা অজ্ঞাত পুঁথি উদ্ধার করেছেন।
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা — বড়ু চণ্ডীদাস।
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের আবিষ্কারক — বসন্তরঞ্জন রায়।
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের প্রথম সম্পাদক — বসন্তরঞ্জন রায়।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. রামমোহন রায় — ভুল।
রাজা রামমোহন রায় ছিলেন বাংলা নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। বাংলা গদ্য, সমাজসংস্কার ও আধুনিক চিন্তাধারার বিকাশে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু তিনি শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের আবিষ্কারক নন।
❖ খ. বসন্তরঞ্জন রায় — সঠিক।
তিনি ১৯০৯ সালে কাঁকিল্যা গ্রামের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
❖ গ. চণ্ডীদাস — ভুল।
চণ্ডীদাস নামটি কাব্যের রচয়িতার পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আবিষ্কারক ছিলেন বসন্তরঞ্জন রায়।
❖ ঘ. দ্বিজ চণ্ডীদাস — ভুল।
দ্বিজ চণ্ডীদাস বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে সম্পর্কিত কবিনাম। তিনি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুঁথির আবিষ্কারক নন।
◉ ✧ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের আবিষ্কারক — বসন্তরঞ্জন রায়।
➤ বসন্তরঞ্জন রায়ের উপাধি — বিদ্বদ্বল্লভ।
➤ আবিষ্কারকের পূর্ণ পরিচয় — বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কৃত হয় — ১৯০৯ সালে।
➤ আবিষ্কারের বাংলা সাল — ১৩১৬ বঙ্গাব্দ।
➤ আবিষ্কারের স্থান — কাঁকিল্যা গ্রাম।
➤ জেলা — বাঁকুড়া।
➤ পুঁথিটি পাওয়া যায় — গোয়ালঘরের মাচায়।
➤ পুঁথিটি উদ্ধার হয় — দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা — বড়ু চণ্ডীদাস।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের প্রথম সম্পাদক — বসন্তরঞ্জন রায়।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন প্রথম প্রকাশিত হয় — ১৯১৬ সালে।
➤ প্রকাশক — বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ।
➤ কাব্যের সম্ভাব্য প্রাচীন নাম — শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ।
➤ ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নামকরণ করেন — বসন্তরঞ্জন রায়।
➤ কাব্যটির প্রধান চরিত্র — রাধা, কৃষ্ণ ও বড়ায়ি।
➤ কাব্যের মোট খণ্ড — ১৩টি।
➤ চর্যাপদের আবিষ্কারক — হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. বসন্তরঞ্জন রায়।
07
🎯 Level 1

১০. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন / আদি নিদর্শন কোনটি? (সিনিয়র স্টাফ নার্স: ২৪ / ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন: ২২)

ক

মধুমালতী

খ

সিকন্দরনামা

গ

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

ঘ

বৈষ্ণব পদাবলি

✅ সঠিক উত্তর:গ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত কাব্যিক নিদর্শন হলো শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
❖ কাব্যটির রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আদি-মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক দলিল।
❖ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের প্রধান নিদর্শন চর্যাপদ। অন্যদিকে, মধ্যযুগের আদি নিদর্শন হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
❖ চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের ধর্মীয় সাধনসংগীত।
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি, সামাজিক সম্পর্ক, মানবিক আবেগ এবং নাটকীয় কথোপকথন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
❖ এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ধর্মীয় সাধনসংগীত থেকে আখ্যানধর্মী কাব্যের বিকাশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে বাংলা ভাষার আদি-মধ্যযুগীয় শব্দ, ধ্বনি ও ব্যাকরণগত বৈশিষ্ট্য সংরক্ষিত রয়েছে।
❖ তাই বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক বিকাশ অনুসন্ধানেও কাব্যটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
✦ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগের পার্থক্য
১. প্রাচীন যুগ:
❖ বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত যুগবিভাগে প্রাচীন যুগ আনুমানিক ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত।
❖ এই সময়ের প্রধান সংরক্ষিত সাহিত্যিক নিদর্শন চর্যাপদ।
❖ চর্যাপদে বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনতত্ত্ব প্রকাশিত হয়েছে।
❖ চর্যাপদের ভাষা সন্ধ্যাভাষা নামে পরিচিত।
❖ এর কবিদের বলা হয় সিদ্ধাচার্য।
২. মধ্যযুগ:
❖ প্রচলিত যুগবিভাগে মধ্যযুগ আনুমানিক ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত।
❖ মধ্যযুগের আদি গুরুত্বপূর্ণ কাব্য শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
❖ এই যুগে বৈষ্ণব পদাবলি, মঙ্গলকাব্য, অনুবাদসাহিত্য, প্রণয়োপাখ্যান ও অন্যান্য সাহিত্যধারার বিকাশ ঘটে।
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগের আদি ভাষা ও কাব্যরীতির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
✦ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য
❖ রচয়িতা — বড়ু চণ্ডীদাস।
❖ সাহিত্যিক যুগ — মধ্যযুগের আদিপর্ব।
❖ কাব্যের প্রকৃতি — আখ্যানধর্মী গীতিকাব্য।
❖ গঠনরীতি — নাট্যগীতি।
❖ প্রধান বিষয় — রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি।
❖ প্রধান চরিত্র — রাধা, কৃষ্ণ ও বড়ায়ি।
❖ মোট খণ্ড — ১৩টি।
❖ প্রথম খণ্ড — জন্মখণ্ড।
❖ শেষ খণ্ড — রাধাবিরহ।
✦ চর্যাপদ ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য
চর্যাপদ:
❖ প্রাচীন যুগের নিদর্শন।
❖ রচয়িতা — একাধিক বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য।
❖ মূল বিষয় — বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনতত্ত্ব।
❖ আবিষ্কারক — হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
❖ আবিষ্কার — ১৯০৭।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
❖ মধ্যযুগের আদি নিদর্শন।
❖ রচয়িতা — বড়ু চণ্ডীদাস।
❖ মূল বিষয় — রাধা-কৃষ্ণের প্রেম।
❖ আবিষ্কারক — বসন্তরঞ্জন রায়।
❖ আবিষ্কার — ১৯০৯।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. মধুমালতী — ভুল।
মধুমালতী মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রচনা। এটি মধ্যযুগের আদি নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত নয়।
❖ খ. সিকন্দরনামা — ভুল।
সিকন্দরনামা আলেকজান্ডার বা ইস্কান্দারকেন্দ্রিক কাহিনির সঙ্গে সম্পর্কিত সাহিত্যধারা ও রচনানাম। এটি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন নয়।
❖ গ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — সঠিক।
বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের আদি গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত কাব্যিক নিদর্শন।
❖ ঘ. বৈষ্ণব পদাবলি — ভুল।
বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ গীতিকবিতার ধারা। এতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তিরস প্রধান। কিন্তু এটি মধ্যযুগের একক প্রথম নিদর্শন নয়।
◉ ✧ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম সংরক্ষিত নিদর্শন — চর্যাপদ।
➤ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের আদি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন — শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
➤ মধ্যযুগের আদি কবি হিসেবে পরিচিত — বড়ু চণ্ডীদাস।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের প্রধান বিষয় — রাধা-কৃষ্ণের প্রেম।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা — বড়ু চণ্ডীদাস।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের গঠনরীতি — নাট্যগীতি।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মোট খণ্ডসংখ্যা — ১৩টি।
➤ কাব্যের প্রথম খণ্ড — জন্মখণ্ড।
➤ কাব্যের শেষ খণ্ড — রাধাবিরহ।
➤ কাব্যের আবিষ্কারক — বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।
➤ আবিষ্কারের সাল — ১৯০৯।
➤ প্রকাশের সাল — ১৯১৬।
➤ চর্যাপদ — বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনসংগীত।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — আদি-মধ্যযুগীয় বাংলা আখ্যানকাব্য।
➤ বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত প্রাচীন যুগ — আনুমানিক ৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত মধ্যযুগ — আনুমানিক ১২০১–১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ বৈষ্ণব পদাবলি — মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যধারা।
➤ মঙ্গলকাব্য — মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কাব্যধারা।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: গ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
08
🎯 Level 1

১২. ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের খণ্ড সংখ্যা— (সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক: ২৩ / পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক: ১৪)

ক

১৪

খ

১৫

গ

১৩

ঘ

১২

✅ সঠিক উত্তর:গ. ১৩

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ১৩টি।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
❖ কাব্যটির প্রতিটি খণ্ড রাধা-কৃষ্ণের জীবন ও প্রেমকাহিনির ভিন্ন ভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
❖ শ্রীকৃষ্ণের জন্ম দিয়ে কাহিনির সূচনা হয়েছে।
❖ পরবর্তী খণ্ডগুলোতে রাধা-কৃষ্ণের পরিচয়, প্রেম, কথোপকথন, দ্বন্দ্ব, মিলন ও বিরহের বিভিন্ন ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
❖ শেষ খণ্ডে কৃষ্ণের বিচ্ছেদে রাধার বিরহের প্রকাশ ঘটেছে।
❖ কাব্যের ১৩টি খণ্ডের মাধ্যমে একটি ধারাবাহিক আখ্যান রচিত হয়েছে।
❖ এই ধারাবাহিকতা কাব্যটিকে বিচ্ছিন্ন পদসংকলনের পরিবর্তে একটি সংগঠিত কাহিনিকাব্যের রূপ দিয়েছে।
✦ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের ১৩টি খণ্ডের নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচয়
১. জন্মখণ্ড
❖ কাব্যের প্রথম খণ্ড।
❖ শ্রীকৃষ্ণের জন্মসংক্রান্ত কাহিনি রয়েছে।
২. তাম্বুলখণ্ড
❖ কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ড।
❖ তাম্বুল বা পানকে কেন্দ্র করে প্রেমের প্রাথমিক ঘটনা ও যোগাযোগের বিষয় রয়েছে।
৩. দানখণ্ড
❖ কাব্যের তৃতীয় খণ্ড।
❖ কৃষ্ণের দান দাবি এবং রাধার সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
৪. নৌকাখণ্ড
❖ কাব্যের চতুর্থ খণ্ড।
❖ নৌকাকে কেন্দ্র করে রাধা-কৃষ্ণের কথোপকথন ও ঘটনাবলি রয়েছে।
৫. ভারখণ্ড
❖ কাব্যের পঞ্চম খণ্ড।
❖ ভার বা বোঝাকে কেন্দ্র করে কাহিনির একটি পর্ব উপস্থাপিত হয়েছে।
৬. ছত্রখণ্ড
❖ কাব্যের ষষ্ঠ খণ্ড।
❖ ছত্র বা ছাতাকে কেন্দ্র করে কাহিনির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
৭. বৃন্দাবনখণ্ড
❖ কাব্যের সপ্তম খণ্ড।
❖ বৃন্দাবনের পরিবেশ ও কৃষ্ণলীলাসংক্রান্ত ঘটনা রয়েছে।
৮. কালীয়দমনখণ্ড
❖ কাব্যের অষ্টম খণ্ড।
❖ কালীয় নামের সর্পকে দমন করার পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে এই পর্ব।
৯. যমুনাখণ্ড
❖ প্রচলিত বাংলাপিডিয়ার তালিকা অনুযায়ী নবম খণ্ড।
❖ যমুনা নদীকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণলীলার ঘটনা রয়েছে।
❖ কিছু সম্পাদিত খণ্ডতালিকায় এখানে বস্ত্রহরণখণ্ড নামটি ব্যবহৃত হয়েছে।
১০. হারখণ্ড
❖ কাব্যের দশম খণ্ড।
❖ হারকে কেন্দ্র করে রাধা-কৃষ্ণের সম্পর্কের একটি পর্ব রয়েছে।
১১. বাণখণ্ড
❖ কাব্যের একাদশ খণ্ড।
❖ বাণ বা তিরসংক্রান্ত প্রতীক ও প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ পর্ব গঠিত।
১২. বংশীখণ্ড
❖ কাব্যের দ্বাদশ খণ্ড।
❖ কৃষ্ণের বাঁশি এবং রাধার প্রেমের আকুলতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
১৩. রাধাবিরহ
❖ কাব্যের ত্রয়োদশ ও শেষ খণ্ড।
❖ কৃষ্ণের বিচ্ছেদে রাধার বিরহবেদনা প্রকাশিত হয়েছে।
❖ এই অংশের নামের সঙ্গে সাধারণত ‘খণ্ড’ শব্দটি যুক্ত করা হয় না।
✦ খণ্ডসংখ্যা ও পদসংখ্যার পার্থক্য
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মোট খণ্ডসংখ্যা — ১৩টি।
❖ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী কাব্যে ৪১৮টি পদ রয়েছে।
❖ খণ্ড বলতে কাহিনির পৃথক পর্বকে বোঝায়।
❖ পদ বলতে কাব্যের পৃথক গীতিকবিতা বা রচনাংশকে বোঝায়।
❖ একটি খণ্ডের মধ্যে একাধিক পদ থাকতে পারে।
❖ তাই খণ্ডসংখ্যা ও পদসংখ্যা এক বিষয় নয়।
✦ গুরুত্বপূর্ণ খণ্ডের ক্রম
❖ প্রথম খণ্ড — জন্মখণ্ড।
❖ দ্বিতীয় খণ্ড — তাম্বুলখণ্ড।
❖ তৃতীয় খণ্ড — দানখণ্ড।
❖ চতুর্থ খণ্ড — নৌকাখণ্ড।
❖ অষ্টম খণ্ড — কালীয়দমনখণ্ড।
❖ দশম খণ্ড — হারখণ্ড।
❖ দ্বাদশ খণ্ড — বংশীখণ্ড।
❖ শেষ খণ্ড — রাধাবিরহ।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. ১৪ — ভুল।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত নয়।
❖ খ. ১৫ — ভুল।
কাব্যের স্বীকৃত খণ্ডসংখ্যা ১৫ নয়।
❖ গ. ১৩ — সঠিক।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
❖ ঘ. ১২ — ভুল।
শেষের রাধাবিরহসহ মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। শুধু ১২টি খণ্ড ধরে গণনা করলে একটি পর্ব বাদ পড়ে যাবে।
◉ ✧ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মোট খণ্ড — ১৩টি।
➤ প্রথম খণ্ড — জন্মখণ্ড।
➤ দ্বিতীয় খণ্ড — তাম্বুলখণ্ড।
➤ তৃতীয় খণ্ড — দানখণ্ড।
➤ চতুর্থ খণ্ড — নৌকাখণ্ড।
➤ পঞ্চম খণ্ড — ভারখণ্ড।
➤ ষষ্ঠ খণ্ড — ছত্রখণ্ড।
➤ সপ্তম খণ্ড — বৃন্দাবনখণ্ড।
➤ অষ্টম খণ্ড — কালীয়দমনখণ্ড।
➤ নবম খণ্ড — যমুনাখণ্ড (কিছু খণ্ডতালিকায় ভিন্ন নাম বা বিন্যাস পাওয়া যায়)।
➤ দশম খণ্ড — হারখণ্ড।
➤ একাদশ খণ্ড — বাণখণ্ড।
➤ দ্বাদশ খণ্ড — বংশীখণ্ড।
➤ ত্রয়োদশ বা শেষ খণ্ড — রাধাবিরহ।
➤ কাব্যের পদসংখ্যা — ৪১৮টি (বাংলাপিডিয়ার হিসাবে)।
➤ কাব্যের প্রধান চরিত্র — রাধা, কৃষ্ণ ও বড়ায়ি।
➤ কাব্যের রচয়িতা — বড়ু চণ্ডীদাস।
➤ কাব্যের গঠনরীতি — নাট্যগীতি।
➤ কাব্যটির আবিষ্কারক — বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।
➤ আবিষ্কারের সাল — ১৯০৯।
➤ কাব্যের প্রথম প্রকাশ — ১৯১৬।
➤ খণ্ড অর্থ — কাহিনির পৃথক পর্ব।
➤ পদ অর্থ — কাব্যের পৃথক গীতিকবিতা বা রচনাংশ।
➤ খণ্ডসংখ্যা ও পদসংখ্যা — এক বিষয় নয়।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: গ. ১৩।
Advertisement
09
🎯 Level 1

১৪. ‘বড়ায়ি’ কোন কাব্যের চরিত্র? (রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী: ১৭)

ক

মনসামঙ্গল

খ

চণ্ডীমঙ্গল

গ

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

ঘ

পদ্মাবতী

✅ সঠিক উত্তর:গ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বড়ায়ি বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র।
❖ এই কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্র হলো রাধা, কৃষ্ণ ও বড়ায়ি।
❖ বড়ায়ি রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমের দূতী বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত।
❖ কাব্যের রাধা-কৃষ্ণের সম্পর্ক ও ঘটনাপ্রবাহকে এগিয়ে নিতে বড়ায়ির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
❖ বড়ায়ি একজন বয়স্ক ও অভিজ্ঞ নারীচরিত্র হিসেবে উপস্থাপিত।
❖ তাঁর কথোপকথন ও কার্যকলাপের মাধ্যমে কাব্যে হাস্যরস, পরিহাস, যুক্তিতর্ক ও নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়।
❖ তিনি রাধা ও কৃষ্ণের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেন এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যোগাযোগ স্থাপন করেন।
❖ ফলে বড়ায়ি কেবল একটি পার্শ্বচরিত্র নন; কাব্যের নাটকীয় কাঠামোর অন্যতম চালিকাশক্তি।
✦ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের তিনটি প্রধান চরিত্র
১. রাধা
❖ কাব্যের প্রধান নারীচরিত্র।
❖ তাঁর প্রেম, প্রতিবাদ, অভিমান ও বিরহ কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
❖ কাব্যে রাধাকে মানবিক আবেগসম্পন্ন চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
২. কৃষ্ণ
❖ কাব্যের প্রধান পুরুষচরিত্র।
❖ রাধার প্রতি তাঁর আকর্ষণ ও বিভিন্ন আচরণ কাহিনিতে নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
❖ কৃষ্ণের প্রেমের চেষ্টা এবং পরবর্তী বিচ্ছেদ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ।
৩. বড়ায়ি
❖ রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের দূতী।
❖ প্রেমের বার্তাবাহক ও মধ্যস্থতাকারী।
❖ নাটকীয় ঘটনা অগ্রসর করার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
✦ বড়ায়ি চরিত্রের সাহিত্যিক গুরুত্ব
১. কাহিনির যোগাযোগ স্থাপন:
❖ বড়ায়ি রাধা ও কৃষ্ণের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন।
❖ তাঁর উপস্থিতি প্রেমের কাহিনিকে এগিয়ে নেয়।
২. নাটকীয়তা সৃষ্টি:
❖ তাঁর কথোপকথন কাব্যে নাট্যরস সৃষ্টি করে।
❖ তাঁর কার্যকলাপের কারণে বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়।
৩. লোকজ সমাজের প্রতিফলন:
❖ বড়ায়ির ভাষা ও আচরণে মধ্যযুগীয় গ্রামীণ সমাজের পরিচয় পাওয়া যায়।
❖ তাঁর চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের অভিজ্ঞ নারীর ভূমিকা ফুটে ওঠে।
৪. প্রেমকাহিনির মধ্যস্থতা:
❖ তিনি রাধা ও কৃষ্ণের মধ্যে প্রেমের বার্তা বিনিময় করেন।
❖ কাহিনির জটিলতা ও দ্বন্দ্বে তাঁর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
✦ বড়ায়ি ও অন্যান্য মধ্যযুগীয় চরিত্রের পার্থক্য
বড়ায়ি:
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের চরিত্র।
❖ রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের দূতী।
বেহুলা:
❖ মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র।
❖ লখিন্দরের স্ত্রী।
ফুল্লরা:
❖ চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কালকেতু উপাখ্যানের চরিত্র।
❖ কালকেতুর স্ত্রী।
খুল্লনা:
❖ চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ধনপতি উপাখ্যানের চরিত্র।
❖ ধনপতির স্ত্রী।
পদ্মাবতী:
❖ আলাওল রচিত পদ্মাবতী কাব্যের প্রধান নারীচরিত্র।
❖ রাজা রত্নসেনের সঙ্গে তাঁর কাহিনি সম্পর্কিত।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. মনসামঙ্গল — ভুল।
মনসামঙ্গল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্যধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্য। এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র মনসা, চাঁদ সদাগর, বেহুলা ও লখিন্দর। বড়ায়ি এই কাব্যের প্রধান চরিত্র নন।
❖ খ. চণ্ডীমঙ্গল — ভুল।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, খুল্লনা ও লহনার মতো চরিত্র রয়েছে। বড়ায়ি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র নন।
❖ গ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — সঠিক।
বড়ায়ি শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের অন্যতম প্রধান চরিত্র। তিনি রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের দূতী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ ঘ. পদ্মাবতী — ভুল।
আলাওলের পদ্মাবতী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি প্রণয়োপাখ্যানধর্মী কাব্য। এর প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে পদ্মাবতী ও রত্নসেন গুরুত্বপূর্ণ। বড়ায়ি এই কাব্যের চরিত্র নন।
◉ ✧ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বড়ায়ি — শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের চরিত্র।
➤ বড়ায়ির ভূমিকা — প্রেমের দূতী।
➤ বড়ায়ি কার প্রেমের দূতী? — রাধা ও কৃষ্ণের।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের প্রধান চরিত্র — ৩টি।
➤ প্রধান চরিত্র — রাধা, কৃষ্ণ ও বড়ায়ি।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা — বড়ু চণ্ডীদাস।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের গঠনরীতি — নাট্যগীতি।
➤ কাব্যের মোট খণ্ডসংখ্যা — ১৩টি।
➤ বড়ায়ির প্রধান কাজ — রাধা-কৃষ্ণের মধ্যে প্রেমের বার্তা আদান-প্রদান।
➤ বড়ায়ি চরিত্র কাব্যের — নাটকীয়তা ও কাহিনির গতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ।
➤ মনসামঙ্গলের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র — বেহুলা ও লখিন্দর।
➤ মনসামঙ্গলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র — চাঁদ সদাগর।
➤ চণ্ডীমঙ্গলের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র — কালকেতু ও ফুল্লরা।
➤ চণ্ডীমঙ্গলের ধনপতি উপাখ্যানের চরিত্র — ধনপতি, খুল্লনা ও লহনা।
➤ পদ্মাবতী কাব্যের রচয়িতা — আলাওল।
➤ পদ্মাবতী কাব্যের প্রধান চরিত্র — পদ্মাবতী ও রত্নসেন।
➤ পদ্মাবতী — মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যানধর্মী কাব্য।
➤ বড়ায়ি — মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল বা পদ্মাবতী কাব্যের চরিত্র নন।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: গ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
প্রবলভাবে ফুটে ওঠে।
❖ তাই “বড়ায়ি” দেখলে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মনে করতে হবে।
অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
➤ ক. মনসামঙ্গল — এখানে মনসা, চাঁদ সদাগর, বেহুলা-লখিন্দর প্রভৃতি চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ; বড়ায়ি নয়।
➤ খ. চণ্ডীমঙ্গল — এখানে কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, খুল্লনা, লহনা ইত্যাদি চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ।
➤ ঘ. পদ্মাবতী — আলাওল রচিত কাব্য; বড়ায়ি এর চরিত্র নয়।
➤ গ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — সঠিক।
10
🎯 Level 1

০২. মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন নয় কোনটি? (বিআরটিএ-এর পরিদর্শক: ২৩)

ক

বৈষ্ণব পদাবলি

খ

চর্যাপদ

গ

মঙ্গলকাব্য

ঘ

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

✅ সঠিক উত্তর:খ. চর্যাপদ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
• ◈ সঠিক উত্তর: চর্যাপদ
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের নয়; এটি প্রাচীন যুগের নিদর্শন। বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত যুগবিভাগে চর্যাপদকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম প্রাপ্ত সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। Banglapedia চর্যাপদকে বাংলা ভাষার প্রাচীনতম সংরক্ষিত কবিতাসমষ্টি হিসেবে উল্লেখ করে এবং এর কবিদের আনুমানিক নবম থেকে একাদশ শতকের বলে ধরে; অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ আরও আগের তারিখ প্রস্তাব করেছিলেন।
❖ চর্যাপদের রচয়িতারা ছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্য। তাঁদের মধ্যে লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকুপা, শবরপা, সরহপা, কুক্কুরীপা প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
❖ চর্যাপদের ভাষাকে বহু ক্ষেত্রে সন্ধ্যাভাষা (Sandhya Bhasa) বা আলো-আঁধারি ভাষা বলা হয়। কারণ এর পদগুলোর সরল অর্থের আড়ালে বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাধনার গূঢ় অর্থ লুকানো আছে।
❖ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে চর্যার পুঁথি আবিষ্কার করেন। তিনি পরে সেটি সম্পাদনা করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা নামে প্রকাশ করেন।
❖ প্রাপ্ত পুঁথিতে ৪৭টি পদ রয়েছে বলে Banglapedia উল্লেখ করে; এগুলো ২৩ জন সিদ্ধাচার্যের রচনা হিসেবে চিহ্নিত।
✦ গুরুত্বপূর্ণ যুগভিত্তিক পার্থক্য:
➤ চর্যাপদ → প্রাচীন যুগ
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন → মধ্যযুগের আদি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন
➤ বৈষ্ণব পদাবলি → মধ্যযুগ
➤ মঙ্গলকাব্য → মধ্যযুগ
অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
➤ ক. বৈষ্ণব পদাবলি — মধ্যযুগীয়
❖ রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তিকে কেন্দ্র করে রচিত গীতিকবিতাগুলো বৈষ্ণব পদাবলি নামে পরিচিত।
❖ এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাব্যধারা; বিশেষত পঞ্চদশ-সপ্তদশ শতকে ব্যাপক বিকাশ ঘটে।
❖ চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস প্রমুখ উল্লেখযোগ্য পদকর্তা।
➤ খ. চর্যাপদ — সঠিক উত্তর; প্রাচীন যুগীয়
❖ এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম প্রাপ্ত নিদর্শন।
❖ ধর্মীয়ভাবে বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনাপদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ তাই এটি মধ্যযুগের নিদর্শন নয়।
➤ গ. মঙ্গলকাব্য — মধ্যযুগীয়
❖ বাংলা সাহিত্যে মঙ্গলকাব্যের প্রধান বিকাশ পঞ্চদশ থেকে অষ্টাদশ শতকে।
❖ দেবতার মাহাত্ম্য প্রচার ও সামাজিক জীবনের বিস্তৃত চিত্র এতে পাওয়া যায়।
❖ মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল ও অন্নদামঙ্গল এর গুরুত্বপূর্ণ ধারা।
➤ ঘ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — মধ্যযুগীয়
❖ বড়ু চণ্ডীদাস রচিত ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের প্রথম দিককার এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাব্য। আধুনিক গবেষণায় এর রচনাকাল সাধারণত চতুর্দশ শতকের আশপাশে ধরা হয়।
❖ এর মূল কাহিনি রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি। রাধা, কৃষ্ণ ও বড়ায়ি—এই তিন চরিত্র কাহিনির কেন্দ্রবিন্দু।
❖ ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া অঞ্চলে পুঁথিটি আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
◈ পরীক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
চর্যাপদ = প্রাচীন যুগের প্রধান নিদর্শন
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন = মধ্যযুগের প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন
এই দুটি প্রায়ই পরীক্ষায় বিপরীত অপশন হিসেবে আসে।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন