🧠 🔖
👑 Premium Topic

মধ্যযুগের সাহিত্য- বৈষ্ণব পদাবলি ও মঙ্গল কাব্য

◉ বাংলা সাহিত্য›মধ্যযুগের সাহিত্য- বৈষ্ণব পদাবলি ও মঙ্গল কাব্য

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚64মোট প্রশ্ন
🎯4মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

৪৮. ‘ব্রজবুলি’ ভাষার প্রবর্তক কে? (নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মিডওয়াইফ: ২৪ / সাব রেজিস্ট্রার: ১৬)

ক

চণ্ডীদাস

খ

বিদ্যাপতি

গ

আলাওল

ঘ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

✅ সঠিক উত্তর:খ. বিদ্যাপতি

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: খ
◈ প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক সঠিক উত্তর: বিদ্যাপতি।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ব্রজবুলি ভাষার প্রবর্তক হিসেবে বিদ্যাপতির নাম গ্রহণ করা হয়।
❖ বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার একজন বিখ্যাত কবি। তিনি প্রধানত মৈথিলি ভাষায় রাধা-কৃষ্ণের প্রেমবিষয়ক পদ রচনা করেন।
❖ তাঁর কবিতার ভাষা, সুর, গীতিময়তা ও প্রেমের প্রকাশ বাংলা বৈষ্ণব কবিদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
❖ বাঙালি কবিরা বিদ্যাপতির মৈথিলি পদ অনুকরণ করতে গিয়ে যে মৈথিলি-বাংলা ভিত্তিক কবিভাষা ব্যবহার করেন, সেটিই ব্রজবুলি নামে পরিচিত।
❖ তাই বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষার আদর্শ কবি বা প্রেরণাদাতা বলা হয়।
❖ পরবর্তী সময়ে জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাসসহ বিভিন্ন কবি ব্রজবুলিতে পদ রচনা করেন।
❖ ব্রজবুলি বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ভাষারূপ হয়ে ওঠে।
✦ বিদ্যাপতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
❖ বিদ্যাপতি মিথিলার কবি।
❖ তাঁর সাহিত্যিক ভাষা প্রধানত মৈথিলি।
❖ তিনি রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও বিরহকেন্দ্রিক পদ রচনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
❖ বাংলা বৈষ্ণব পদাবলিতে তাঁর ভাষা ও কাব্যরীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।
❖ বিদ্যাপতিকে অনেক সাহিত্য-ইতিহাসে ‘মৈথিল কোকিল’ নামে অভিহিত করা হয়।
❖ গোবিন্দদাস তাঁর কাব্যভাব ও ভাষার গভীর অনুসারী ছিলেন।
✦ ব্রজবুলির বিকাশ কীভাবে ঘটেছে?
❖ প্রথমে বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় প্রেমপদ রচনা করেন।
❖ তাঁর পদ বাংলা অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
❖ বাঙালি কবিরা বিদ্যাপতির ভাষা ও পদরচনার ভঙ্গি অনুকরণ করেন।
❖ অনুকরণের সময় বাংলা ভাষার বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়।
❖ এর ফলে বিশেষ কৃত্রিম সাহিত্যিক রীতি গড়ে ওঠে।
❖ এই রীতিই ব্রজবুলি নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
✦ গুরুত্বপূর্ণ ভাষাতাত্ত্বিক সংশোধনী
❖ বিদ্যাপতি মূলত মৈথিলি ভাষার কবি ছিলেন।
❖ ব্রজবুলি একটি পরবর্তী সাহিত্যিক ভাষারীতি হিসেবে বাঙালি কবিদের অনুকরণে বিকশিত হয়েছে।
❖ তাই বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলির একক সচেতন নির্মাতা বলা গবেষণাগতভাবে অতিসরলীকরণ।
❖ তবে বিদ্যাপতির মৈথিলি পদাবলি ব্রজবুলির প্রধান ঐতিহাসিক প্রেরণা—এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
❖ বাংলাপিডিয়ার ব্রজবুলি নিবন্ধে বিদ্যাপতির সঙ্গে ব্রজবুলির প্রাথমিক প্রচলনের সম্পর্ক বর্ণিত হয়েছে। অন্যদিকে ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে পরবর্তী বাঙালি কবিদের ভূমিকা স্পষ্টভাবে আলোচিত হয়েছে।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. চণ্ডীদাস — ভুল।
চণ্ডীদাস বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম প্রাচীন কবি। তবে ব্রজবুলির প্রবর্তক হিসেবে পরীক্ষার নির্ধারিত উত্তর তিনি নন।
❖ খ. বিদ্যাপতি — সঠিক।
বিদ্যাপতির মৈথিলি পদাবলির অনুকরণেই ব্রজবুলির সাহিত্যিক বিকাশ ঘটে। তাই পরীক্ষায় তাঁর নাম প্রবর্তক হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
❖ গ. আলাওল — ভুল।
আলাওল সপ্তদশ শতকের আরাকান রাজসভার বাংলা কবি। তাঁর বিখ্যাত কাব্য পদ্মাবতী। তিনি ব্রজবুলির প্রবর্তক নন।
❖ ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — ভুল।
রবীন্দ্রনাথ ব্রজবুলির অনুকরণে ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেন। কিন্তু ব্রজবুলির বিকাশ তাঁর বহু শতাব্দী আগে হয়েছিল।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ব্রজবুলির প্রচলিত প্রবর্তক — বিদ্যাপতি।
➤ বিদ্যাপতির সাহিত্যিক পরিচয় — মিথিলার কবি।
➤ বিদ্যাপতির প্রধান ভাষা — মৈথিলি।
➤ বিদ্যাপতির পরিচিত অভিধা — মৈথিল কোকিল।
➤ ব্রজবুলির প্রধান ভিত্তি — মৈথিলি।
➤ ব্রজবুলির প্রকৃতি — কৃত্রিম কবিভাষা।
➤ ব্রজবুলির গুরুত্বপূর্ণ পদকর্তা — গোবিন্দদাস।
➤ ব্রজবুলিতে পদ রচনা করেছেন — জ্ঞানদাস।
➤ ব্রজবুলির অনুকরণে রবীন্দ্রনাথের রচনা — ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী।
➤ আলাওলের প্রধান কাব্য — পদ্মাবতী।
➤ মনে রাখার সূত্র — বিদ্যাপতি ⇒ মৈথিলি পদ ⇒ বাংলা কবিদের অনুকরণ ⇒ ব্রজবুলি।
◈ চূড়ান্ত পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর: খ. বিদ্যাপতি।"
02
🎯 Level 1

৫১. বাংলা ভাষার কবি নন? (সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র অফিসার: ২৩ / সিজিডিএফ-এর জুনিয়র অডিটর: ২২)

ক

জ্ঞানদাস

খ

জয়দেব

গ

মুকুন্দরাম

ঘ

চণ্ডীদাস

✅ সঠিক উত্তর:খ. জয়দেব

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: জয়দেব।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ জয়দেব বাংলা সাহিত্য ও বৈষ্ণব ধর্মীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত হলেও তিনি মূলত সংস্কৃত ভাষার কবি।
❖ তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘গীতগোবিন্দ’ সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
❖ তাই প্রদত্ত চারজনের মধ্যে জয়দেবকে বাংলা ভাষার কবি হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।
❖ জয়দেব দ্বাদশ শতকের একজন বিশিষ্ট কবি। তাঁর সঙ্গে সেন রাজবংশের রাজা লক্ষ্মণসেনের রাজসভার সম্পর্ক রয়েছে।
❖ গীতগোবিন্দের প্রধান বিষয় রাধা-কৃষ্ণের প্রেম, বিরহ, মান, অনুরাগ ও পুনর্মিলন।
❖ গীতগোবিন্দের সংগীতধর্মী কাব্যরীতি পরবর্তী বাংলা বৈষ্ণব পদাবলিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
❖ তবে কোনো কবির রচনা বাংলা সাহিত্যের ওপর প্রভাব ফেললেই তিনি বাংলা ভাষার কবি হয়ে যান না।
❖ কবির ভাষাগত পরিচয় নির্ধারণে তাঁর রচনার মূল ভাষা গুরুত্বপূর্ণ।
❖ এই কারণে বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্যে জয়দেব গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশ্নের উত্তর জয়দেব।
✦ জয়দেবের সাহিত্যিক পরিচয়
❖ প্রধান রচনা — গীতগোবিন্দ।
❖ সাহিত্যিক ভাষা — সংস্কৃত।
❖ সাহিত্যিক যুগ — দ্বাদশ শতক।
❖ রাজসভার সম্পর্ক — লক্ষ্মণসেন।
❖ প্রধান বিষয় — রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা।
❖ গীতগোবিন্দের সর্গসংখ্যা — ১২টি।
❖ কাব্যটিতে ২৪টি অষ্টপদীর প্রচলিত বিন্যাস পাওয়া যায়।
❖ বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির ওপর এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।
✦ অন্য তিনজন কবির সাহিত্যিক পরিচয়
১. জ্ঞানদাস
❖ ষোড়শ শতকের গুরুত্বপূর্ণ বাংলা বৈষ্ণব কবি।
❖ বাংলা ও ব্রজবুলি উভয় ভাষায় পদ রচনা করেছেন।
❖ রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও বিরহ তাঁর পদাবলির প্রধান বিষয়।
২. মুকুন্দরাম
❖ কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বাংলা মঙ্গলকাব্য সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
❖ তাঁর বিখ্যাত রচনা চণ্ডীমঙ্গল।
❖ কালকেতু-ফুল্লরা এবং ধনপতি-খুল্লনার কাহিনি তাঁর কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৩. চণ্ডীদাস
❖ মধ্যযুগীয় বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম প্রধান কবিনাম।
❖ রাধার প্রেম, বিরহ ও মানবিক অনুভূতির প্রকাশে চণ্ডীদাসের পদ গুরুত্বপূর্ণ।
❖ চণ্ডীদাস নামে একাধিক কবির পরিচয় নিয়ে সাহিত্য-ইতিহাসে বিতর্ক রয়েছে।
✦ সংস্কৃত কবি ও বাংলা কবির পার্থক্য
❖ সংস্কৃত কবির সাহিত্যিক রচনার মূল ভাষা সংস্কৃত।
❖ বাংলা কবির বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্যিক অবদান থাকে।
❖ জয়দেব সংস্কৃত ভাষায় গীতগোবিন্দ রচনা করেন।
❖ জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলিতে পদ রচনা করেন।
❖ মুকুন্দরাম বাংলা ভাষায় চণ্ডীমঙ্গল রচনা করেন।
❖ চণ্ডীদাস বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে সম্পর্কিত।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. জ্ঞানদাস — ভুল।
জ্ঞানদাস বাংলা ভাষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈষ্ণব পদকর্তা। তিনি বাংলা ও ব্রজবুলি উভয় ভাষায় পদ লিখেছেন।
❖ খ. জয়দেব — সঠিক।
জয়দেবের বিখ্যাত গীতগোবিন্দ সংস্কৃত ভাষায় রচিত। তাই প্রদত্ত প্রশ্নে তিনি বাংলা ভাষার কবি নন।
❖ গ. মুকুন্দরাম — ভুল।
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বাংলা ভাষায় চণ্ডীমঙ্গল কাব্য রচনা করেন। তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি।
❖ ঘ. চণ্ডীদাস — ভুল।
চণ্ডীদাস বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবিনাম। তাই তাঁকে বাংলা ভাষার কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলা ভাষার কবি নন — জয়দেব।
➤ জয়দেবের প্রধান রচনা — গীতগোবিন্দ।
➤ গীতগোবিন্দের ভাষা — সংস্কৃত।
➤ জয়দেবের রাজসভার সম্পর্ক — লক্ষ্মণসেন।
➤ জয়দেবের সাহিত্যিক কাল — দ্বাদশ শতক।
➤ জ্ঞানদাস — বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষার কবি।
➤ মুকুন্দরামের উপাধি — কবিকঙ্কণ।
➤ মুকুন্দরামের বিখ্যাত রচনা — চণ্ডীমঙ্গল।
➤ চণ্ডীদাস — বৈষ্ণব পদাবলির কবিনাম।
➤ বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির ওপর প্রভাব রয়েছে — গীতগোবিন্দের।
➤ মনে রাখার সূত্র — জয়দেব ⇒ গীতগোবিন্দ ⇒ সংস্কৃত; মুকুন্দরাম ⇒ চণ্ডীমঙ্গল ⇒ বাংলা।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. জয়দেব।
Advertisement
03
🎯 Level 1

৫৪. মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কোনটি? (৯ম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন: ১৩)

ক

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

খ

চর্যাপদ

গ

বৈষ্ণব পদাবলি

ঘ

নাথ সাহিত্য

✅ সঠিক উত্তর:গ. বৈষ্ণব পদাবলি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর: বৈষ্ণব পদাবলি।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ প্রচলিত বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসে বৈষ্ণব পদাবলিকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক সৃষ্টি বা শ্রেষ্ঠ ফসল বলা হয়।
❖ বৈষ্ণব পদাবলি মূলত রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তিকেন্দ্রিক গীতিকবিতার সাহিত্যধারা।
❖ এতে মানবপ্রেম, ঈশ্বরপ্রেম, বিরহ, মিলন, অভিসার, মান, আকুলতা ও আত্মনিবেদনের অনুভূতি গভীর কাব্যিক সৌন্দর্যে প্রকাশিত হয়েছে।
❖ বৈষ্ণব পদাবলিতে পার্থিব প্রেমের অনুভূতি আধ্যাত্মিক ভক্তির অর্থ লাভ করে।
❖ পদাবলির কবিরা রাধা-কৃষ্ণের সম্পর্কের মাধ্যমে মানুষের অন্তর্গত ভালোবাসা, অপেক্ষা, অভিমান ও বিরহের জটিল অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
❖ এসব পদে গীতিময়তা, ছন্দের সৌন্দর্য, আবেগ ও চিত্রকল্পের বিশেষ সমন্বয় রয়েছে।
❖ চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির উল্লেখযোগ্য কবি। মিথিলার বিদ্যাপতি এই সাহিত্যধারার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছেন।
❖ কাব্যিক উৎকর্ষ, সংগীতধর্মিতা ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের কারণে পরীক্ষাভিত্তিক শ্রেণিবিভাগে বৈষ্ণব পদাবলিকে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বলা হয়।
✦ বৈষ্ণব পদাবলির প্রধান বৈশিষ্ট্য
❖ রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা প্রধান বিষয়।
❖ ভক্তিমূলক অনুভূতির সঙ্গে মানবিক প্রেমের সমন্বয় রয়েছে।
❖ গীতিকবিতার রূপে আবেগ প্রকাশ করা হয়।
❖ বিরহ ও মিলনের বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে।
❖ বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচিত হয়েছে।
❖ মধুররসের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক প্রকাশ পাওয়া যায়।
❖ বিভিন্ন পদে রাগ ও সুরের নির্দেশ রয়েছে।
✦ বৈষ্ণব পদাবলির গুরুত্বপূর্ণ কবি
চণ্ডীদাস
❖ বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির প্রাচীন কবি।
❖ প্রেম, বিরহ ও মানবিক আবেগের প্রকাশে বিশেষ পরিচিত।
বিদ্যাপতি
❖ মিথিলার কবি।
❖ প্রধানত মৈথিলি ভাষায় পদ রচনা করেন।
❖ বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেন।
জ্ঞানদাস
❖ ষোড়শ শতকের বৈষ্ণব কবি।
❖ বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেছেন।
গোবিন্দদাস
❖ ব্রজবুলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদকর্তা।
❖ বিদ্যাপতির ভাব ও কাব্যরীতির অনুসারী।
✦ মধ্যযুগের আদি নিদর্শন ও শ্রেষ্ঠ ফসলের পার্থক্য
মধ্যযুগের আদি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন:
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
❖ রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
❖ আখ্যানধর্মী নাট্যগীতিকাব্য।
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল—প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক পরিচয়:
❖ বৈষ্ণব পদাবলি।
❖ রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তিমূলক গীতিকবিতার ধারা।
প্রাচীন যুগের প্রধান নিদর্শন:
❖ চর্যাপদ।
❖ বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের সাধনসংগীত।
✦ ‘শ্রেষ্ঠ’ শব্দটি সম্পর্কে সতর্কতা
❖ কোনো সাহিত্যধারাকে শ্রেষ্ঠ বলা অনেকাংশে সাহিত্যিক মূল্যায়নের বিষয়।
❖ বিভিন্ন গবেষক মধ্যযুগের অন্য সাহিত্যধারারও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পমূল্য স্বীকার করেন।
❖ তবে প্রদত্ত ৯ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার নির্ধারিত উত্তর বৈষ্ণব পদাবলি।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — ভুল।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগের আদি গুরুত্বপূর্ণ কাব্য। কিন্তু প্রশ্নে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক নিদর্শনের প্রচলিত পরিচয় জানতে চাওয়া হয়েছে।
❖ খ. চর্যাপদ — ভুল।
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন। তাই এটি মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন প্রশ্নের উত্তর নয়।
❖ গ. বৈষ্ণব পদাবলি — সঠিক।
বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল হিসেবে প্রচলিত।
❖ ঘ. নাথ সাহিত্য — ভুল।
নাথসাহিত্য মধ্যযুগীয় বাংলার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও লোকসাহিত্যধারা। তবে প্রদত্ত প্রশ্নে শ্রেষ্ঠ ফসল হিসেবে বৈষ্ণব পদাবলি গ্রহণ করা হয়েছে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন — বৈষ্ণব পদাবলি।
➤ মধ্যযুগের আদি গুরুত্বপূর্ণ কাব্য — শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
➤ প্রাচীন যুগের প্রধান নিদর্শন — চর্যাপদ।
➤ বৈষ্ণব পদাবলির প্রধান বিষয় — রাধা-কৃষ্ণের প্রেম।
➤ বৈষ্ণব পদাবলির প্রধান রস — মধুররস।
➤ বৈষ্ণব পদাবলির গুরুত্বপূর্ণ ভাষা — ব্রজবুলি।
➤ বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি — চণ্ডীদাস।
➤ বৈষ্ণব পদাবলির গুরুত্বপূর্ণ কবি — জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস।
➤ বৈষ্ণব পদাবলিতে প্রভাবশালী মৈথিল কবি — বিদ্যাপতি।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা — বড়ু চণ্ডীদাস।
➤ চর্যাপদের কবিরা ছিলেন — বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্য।
➤ নাথসাহিত্য — মধ্যযুগের লোকায়ত ধর্মীয় সাহিত্যধারা।
➤ মনে রাখার সূত্র — প্রাচীন যুগ ⇒ চর্যাপদ; মধ্যযুগের আদি কাব্য ⇒ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন; মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল ⇒ বৈষ্ণব পদাবলি।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: গ. বৈষ্ণব পদাবলি।
04
🎯 Level 1

৫৭. ‘ব্রজবুলি’ কোন স্থানের ভাষা? (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক: ১৩)

ক

আসাম

খ

মিথিলা

গ

গৌড়

ঘ

পশ্চিমবঙ্গ

✅ সঠিক উত্তর:খ. মিথিলা

ব্যাখ্যা:

প্রচলিত উত্তর: খ
◈ পরীক্ষাভিত্তিক সঠিক উত্তর: মিথিলা।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ ব্রজবুলির মূল ভাষাগত ভিত্তি মিথিলা অঞ্চলের মৈথিলি ভাষা। এই কারণে প্রদত্ত প্রশ্নে ব্রজবুলির সঙ্গে মিথিলার সম্পর্ককে সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
❖ তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষাতাত্ত্বিক বিষয় রয়েছে।
❖ ব্রজবুলি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের স্বাভাবিক কথ্য ভাষা নয়; এটি কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা।
❖ ফলে ‘ব্রজবুলি কোন স্থানের ভাষা?’ প্রশ্নটি কঠোর ভাষাতাত্ত্বিক বিচারে পুরোপুরি নির্ভুল নয়।
❖ মিথিলা হলো বিদ্যাপতির সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল।
❖ বিদ্যাপতি প্রধানত মৈথিলি ভাষায় রাধা-কৃষ্ণের প্রেমপদ রচনা করেন।
❖ তাঁর মৈথিলি পদ বাংলা অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
❖ বাঙালি কবিরা বিদ্যাপতির ভাষা অনুকরণ করে বাংলার বৈশিষ্ট্য যুক্ত করে নতুন সাহিত্যিক রীতি গড়ে তোলেন।
❖ সেই সাহিত্যিক রীতিই ব্রজবুলি নামে পরিচিত।
❖ তাই মিথিলা ব্রজবুলির ভাষাগত উৎসভিত্তি, কিন্তু ব্রজবুলিকে মিথিলার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কথ্য ভাষা বলা ঠিক নয়।
✦ মিথিলা অঞ্চলের পরিচয়
❖ মিথিলা ভারতীয় উপমহাদেশের একটি ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক অঞ্চল।
❖ বর্তমানে ভারতের বিহার ও নেপালের তরাই অঞ্চলের সঙ্গে এর ভৌগোলিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ মৈথিলি এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভাষা।
❖ বিদ্যাপতি মৈথিলি সাহিত্যধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
❖ তাঁর রাধাকৃষ্ণকেন্দ্রিক পদ বাংলা বৈষ্ণব পদাবলিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
✦ মৈথিলি ও ব্রজবুলির পার্থক্য
মৈথিলি:
❖ একটি স্বাভাবিক আধুনিক ইন্দো-আর্য ভাষা।
❖ মিথিলা অঞ্চলের মানুষের ভাষা।
❖ সাহিত্যিক ঐতিহ্যে বিদ্যাপতির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
ব্রজবুলি:
❖ মৈথিলিভিত্তিক সাহিত্যিক কবিভাষা।
❖ বাংলা ভাষার বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়েছে।
❖ প্রধানত বৈষ্ণব পদাবলিতে ব্যবহৃত।
❖ স্বাভাবিক আঞ্চলিক কথ্য ভাষা নয়।
✦ বাংলা ব্রজবুলি ও অসমের ব্রজাবলি
❖ অসমের সাহিত্য-ইতিহাসে ব্রজাবলি বা ব্রজাবলী নামে একটি সাহিত্যিক ভাষারীতির পরিচয় পাওয়া যায়।
❖ অসমিয়া বৈষ্ণব সাহিত্য ও শঙ্করদেবের সাহিত্যধারার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।
❖ বাংলা ব্রজবুলির সঙ্গে ঐতিহাসিক মিল থাকলেও অসমের সাহিত্যিক রূপের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
❖ তাই বাংলা ব্রজবুলির প্রশ্নে অসমকে উৎসস্থান হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. আসাম — ভুল।
অসমে ব্রজাবলি সাহিত্যিক ভাষারীতি ব্যবহৃত হলেও প্রদত্ত প্রশ্নের বাংলা ব্রজবুলির প্রধান উৎসভিত্তি মৈথিলি।
❖ খ. মিথিলা — সঠিক পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর।
ব্রজবুলির মূল ভাষাগত ভিত্তি মিথিলার মৈথিলি ভাষা।
❖ গ. গৌড় — ভুল।
বাংলা অঞ্চলে ব্রজবুলির সাহিত্যিক বিকাশ ঘটেছে। তবে এর মূল ভিত্তি মৈথিলি হওয়ায় মিথিলা অধিক নির্দিষ্ট উত্তর।
❖ ঘ. পশ্চিমবঙ্গ — ভুল।
পশ্চিমবঙ্গের বহু কবি ব্রজবুলি ব্যবহার করেছেন। তবে ব্রজবুলি পশ্চিমবঙ্গের স্বাভাবিক আঞ্চলিক ভাষা নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ব্রজবুলির উৎসভিত্তিক অঞ্চল — মিথিলা।
➤ মিথিলার প্রধান ভাষা — মৈথিলি।
➤ বিদ্যাপতি — মিথিলার কবি।
➤ ব্রজবুলি — কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা।
➤ ব্রজবুলির প্রধান ভিত্তি — মৈথিলি।
➤ ব্রজবুলিতে বাংলা ভাষার প্রভাব রয়েছে।
➤ ব্রজবুলির প্রধান ব্যবহার — বৈষ্ণব পদাবলি।
➤ বাংলা ব্রজবুলির গুরুত্বপূর্ণ কবি — গোবিন্দদাস।
➤ অসমের সাহিত্যিক ব্রজাবলি — শঙ্করদেবের সাহিত্যধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।
➤ ব্রজভাষা — মথুরা-বৃন্দাবনকেন্দ্রিক ব্রজভূমির ভাষা।
➤ মিথিলা ব্রজবুলির ভাষাগত ভিত্তি, সরাসরি কথ্য অঞ্চল নয়।
➤ মনে রাখার সূত্র — মিথিলা ⇒ মৈথিলি ⇒ ব্রজবুলির প্রধান ভাষাগত ভিত্তি।
◈ চূড়ান্ত পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর: খ. মিথিলা।
05
🎯 Level 1

১১. ‘ফুল্লরার বারমাস্যা’র উল্লেখ কোথায় আছে? (শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম পরিদর্শক: ২৬)

ক

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে

খ

চর্যাগীতিকায়

গ

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে

ঘ

পালাগানে

✅ সঠিক উত্তর:ক. চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ ‘ফুল্লরার বারমাস্যা’ মধ্যযুগের কবি কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের অন্যতম বিখ্যাত অংশ।
❖ ফুল্লরার পরিচয়: ফুল্লরা চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কালকেতু উপাখ্যানের প্রধান নারীচরিত্র এবং দরিদ্র ব্যাধ কালকেতুর স্ত্রী।
❖ বারমাস্যা শব্দের অর্থ: ‘বারমাস্যা’ হলো বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ কাব্যরীতি, যেখানে বছরের বারো মাসের প্রকৃতি, ঋতুপরিবর্তন এবং মানুষের সুখ-দুঃখ, বিরহ বা অভাবের চিত্র ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়।
❖ ফুল্লরার বারমাস্যার মূল বিষয়: এতে ফুল্লরার সংসারের দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট, বস্ত্রের অভাব, ঋতুভেদে জীবনযাপনের কষ্ট এবং পারিবারিক দুঃখ-দুর্দশা প্রকাশিত হয়েছে।
❖ নারীজীবনের বাস্তবচিত্র: ফুল্লরার মাধ্যমে কবি মধ্যযুগীয় বাংলার সাধারণ নারীর সংসারকেন্দ্রিক সংগ্রাম ও অভাব-অনটন তুলে ধরেছেন।
❖ কাব্যিক বৈশিষ্ট্য: ফুল্লরার বারমাস্যায় প্রকৃতির ঋতুচক্র এবং মানবজীবনের অভাব-অনুভূতি পরস্পরের সঙ্গে মিশে গেছে। এতে শুধু আবেগ নয়, বাস্তব সমাজ ও অর্থনৈতিক জীবনের চিত্র পাওয়া যায়।
❖ সাহিত্যিক গুরুত্ব: মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর বাস্তবধর্মী চরিত্রচিত্রণ ও সমাজপর্যবেক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো ফুল্লরার বারমাস্যা।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে — সঠিক। ফুল্লরার বারমাস্যা চণ্ডীমঙ্গলের কালকেতু উপাখ্যানের অংশ।
❖ খ. চর্যাগীতিকায় — ভুল। চর্যাগীতি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের পদসংকলন।
❖ গ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে — ভুল। বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনিনির্ভর।
❖ ঘ. পালাগানে — নির্দিষ্ট উত্তর নয়। পালাগান একটি বিস্তৃত লোকসাহিত্যিক ধারা; কিন্তু ‘ফুল্লরার বারমাস্যা’ চণ্ডীমঙ্গলের অংশ।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ‘ফুল্লরার বারমাস্যা’ কোন কাব্যে? — চণ্ডীমঙ্গল।
➤ ‘ফুল্লরার বারমাস্যা’র কবি — মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
➤ ফুল্লরা কার স্ত্রী? — কালকেতুর।
➤ কালকেতুর পেশা — ব্যাধ বা শিকারি।
➤ বারমাস্যা কাকে বলে? — বারো মাসের সুখ-দুঃখ ও জীবনযাপনের বর্ণনামূলক কাব্যরীতি।
➤ ফুল্লরার বারমাস্যার প্রধান বিষয় — দারিদ্র্য ও পারিবারিক কষ্ট।
➤ চণ্ডীমঙ্গলের আদি কবি — মানিক দত্ত।
➤ চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি — মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
➤ বারমাস্যা কোন যুগের সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ? — মধ্যযুগ।
➤ মনে রাখার সূত্র — ফুল্লরা ⇒ কালকেতুর স্ত্রী ⇒ বারমাস্যা ⇒ চণ্ডীমঙ্গল।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ক. চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে।
Advertisement
06
🎯 Level 1

১৪. ‘চৌতিশা’ বাংলা কোন যুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য? (আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব: ২৬)

ক

প্রাচীন যুগের

খ

মধ্যযুগের

গ

আধুনিক যুগের

ঘ

বাংলাদেশী সাহিত্য

✅ সঠিক উত্তর:খ. মধ্যযুগের

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: মধ্যযুগের।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ ‘চৌতিশা’ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ বর্ণানুক্রমিক কাব্যরীতি।
❖ চৌতিশা শব্দের ধারণা: এই রীতির সঙ্গে চৌত্রিশটি বর্ণকে নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে ব্যবহার করে পদ বা স্তবক রচনার প্রথা সম্পর্কিত।
❖ রচনাপদ্ধতি: কবি নির্দিষ্ট ব্যঞ্জনবর্ণের ক্রম অনুসরণ করে কাব্যের বিভিন্ন পংক্তি, চরণ বা স্তবক রচনা করতেন।
❖ সাহিত্যিক যুগ: মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে চৌতিশা রীতির বিশেষ প্রচলন ও বিকাশ ঘটেছিল।
❖ বিষয়বস্তু: ধর্মীয় বন্দনা, দেবস্তব, নীতিবোধ, ভক্তি এবং আখ্যানমূলক সাহিত্যে চৌতিশা রীতির ব্যবহার পাওয়া যায়।
❖ সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য: নির্দিষ্ট বর্ণক্রম অনুসরণ করেও অর্থপূর্ণ ও ছন্দোবদ্ধ পদ রচনা করার কারণে এতে কবির ভাষাগত দক্ষতা, শব্দচয়ন ও অলংকারপ্রয়োগের ক্ষমতা প্রকাশ পায়।
❖ গবেষণাগত গুরুত্ব: বাংলা একাডেমির প্রকাশনাতেও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চৌতিশা পৃথক গবেষণার বিষয় হিসেবে আলোচিত হয়েছে।
❖ গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: চৌতিশা হলো রচনারীতির নাম, কোনো নির্দিষ্ট একজন কবির একক কাব্যের নাম নয়।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. প্রাচীন যুগের — ভুল। প্রাচীন যুগের প্রধান সাহিত্যিক নিদর্শন চর্যাপদ।
❖ খ. মধ্যযুগের — সঠিক। চৌতিশা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ কাব্যরীতি।
❖ গ. আধুনিক যুগের — ভুল। আধুনিক যুগ চৌতিশা রীতির মূল বিকাশকাল নয়।
❖ ঘ. বাংলাদেশী সাহিত্য — ভুল। এটি নির্দিষ্ট সাহিত্যিক যুগের নাম নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ চৌতিশা কোন যুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য? — মধ্যযুগের।
➤ চৌতিশা কী? — বর্ণানুক্রমিক কাব্যরীতি।
➤ চৌতিশা রচনায় কী অনুসরণ করা হয়? — নির্দিষ্ট বর্ণক্রম।
➤ চৌতিশা কোন ধরনের রচনায় ব্যবহৃত হয়েছে? — ধর্মীয় ও আখ্যানমূলক পদরচনায়।
➤ চৌতিশা একজন কবির নাম কি? — না।
➤ মধ্যযুগের প্রধান ধর্মীয় আখ্যানকাব্যধারা — মঙ্গলকাব্য।
➤ প্রাচীন যুগের প্রধান নিদর্শন — চর্যাপদ।
➤ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান নতুন রূপগুলোর মধ্যে রয়েছে — উপন্যাস, ছোটগল্প ও আধুনিক নাটক।
➤ মনে রাখার সূত্র — চৌতিশা ⇒ বর্ণানুক্রমিক রচনা ⇒ মধ্যযুগ।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. মধ্যযুগের।
07
🎯 Level 1

১৭. ‘কবিকঙ্কণ’ কার উপাধি? (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (পিএসসি)-এর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা: ২৫ / বিআরটিএ-এর পরিদর্শক: ২৩)

ক

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

খ

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর

গ

আলাওল

ঘ

শাহ মুহম্মদ সগীর

✅ সঠিক উত্তর:ক. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ ‘কবিকঙ্কণ’ মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি। তিনি বাংলা সাহিত্যের চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত।
❖ প্রধান সাহিত্যকর্ম: তাঁর প্রধান রচনা ‘চণ্ডীমঙ্গল’, যা ‘কবিকঙ্কণ চণ্ডী’ এবং ‘অভয়ামঙ্গল’ নামেও পরিচিত।
❖ পারিবারিক পরিচয়: প্রচলিত সাহিত্যিক জীবনী অনুযায়ী, তাঁর পিতার নাম হৃদয় মিশ্র এবং মাতার নাম দৈবকী।
❖ পৈতৃক নিবাস: বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান অঞ্চলের দামুন্যা গ্রাম।
❖ কাব্যের প্রধান কাহিনি: মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলে দুটি প্রধান মানব-উপাখ্যান রয়েছে—কালকেতু-ফুল্লরা এবং ধনপতি-লহনা-খুল্লনা।
❖ কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যান: দরিদ্র ব্যাধ কালকেতু, তাঁর স্ত্রী ফুল্লরা, দেবী চণ্ডীর আশীর্বাদ এবং নতুন নগর প্রতিষ্ঠার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
❖ ধনপতি-খুল্লনা উপাখ্যান: ধনপতি সদাগর, তাঁর দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য প্রকাশিত হয়েছে।
❖ সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য: মুকুন্দরামের কাব্যে বাস্তব সমাজচিত্র, জীবন্ত চরিত্র, দারিদ্র্য, পেশাজীবী সমাজ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, ব্যঙ্গ ও হাস্যরস বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
❖ উপন্যাসের পূর্বলক্ষণ: চরিত্র নির্মাণ, ঘটনাপ্রবাহ ও সমাজবাস্তবতার কারণে তাঁর কাব্যে পরবর্তী বাংলা উপন্যাসের কিছু বৈশিষ্ট্যের পূর্বাভাস পাওয়া যায়।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী — সঠিক। তাঁর উপাধি কবিকঙ্কণ।
❖ খ. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর — ভুল। তাঁর উপাধি রায়গুণাকর এবং প্রধান কাব্য অন্নদামঙ্গল।
❖ গ. আলাওল — ভুল। তিনি আরাকান রাজসভার কবি এবং পদ্মাবতী কাব্যের রচয়িতা।
❖ ঘ. শাহ মুহম্মদ সগীর — ভুল। তিনি ইউসুফ-জুলেখা কাব্যের রচয়িতা।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ‘কবিকঙ্কণ’ কার উপাধি? — মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
➤ মুকুন্দরামের প্রধান রচনা — চণ্ডীমঙ্গল।
➤ চণ্ডীমঙ্গলের অন্য নাম — কবিকঙ্কণ চণ্ডী।
➤ মুকুন্দরামের পিতা — হৃদয় মিশ্র।
➤ মুকুন্দরামের মাতা — দৈবকী।
➤ মুকুন্দরামের পৈতৃক নিবাস — দামুন্যা, বর্ধমান।
➤ চণ্ডীমঙ্গলের আদি কবি — মানিক দত্ত।
➤ চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি — মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
➤ ‘রায়গুণাকর’ কার উপাধি? — ভারতচন্দ্র।
➤ ‘পদ্মাবতী’ কার রচনা? — আলাওল।
➤ মনে রাখার সূত্র — মুকুন্দরাম ⇒ কবিকঙ্কণ ⇒ চণ্ডীমঙ্গল ⇒ বাস্তব সমাজচিত্র।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ক. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
08
🎯 Level 1

২০. মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে? (বিজিআইসি’র সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা: ২৫ / পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক: ০৭)

ক

কানাহরি দত্ত

খ

মানিক দত্ত

গ

বিজয় দত্ত

ঘ

ময়ূর ভট্ট

✅ সঠিক উত্তর:ক. কানাহরি দত্ত

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: কানা হরিদত্ত।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ কানা হরিদত্ত মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মনসামঙ্গল কাব্যধারার সম্ভাব্য আদি কবি হিসেবে পরিচিত।
❖ নাম: প্রশ্নে ‘কানাহরি দত্ত’ লেখা হলেও সাহিত্য-ইতিহাসে কানা হরিদত্ত নামটি বেশি প্রচলিত।
❖ সময়সীমা: তাঁকে আনুমানিক ত্রয়োদশ শতকের কবি বলে মনে করা হয়। তবে তাঁর জীবন ও রচনাকাল সম্পর্কে নিশ্চিত প্রমাণ সীমিত।
❖ পুঁথির অবস্থা: তাঁর রচিত পূর্ণাঙ্গ মনসামঙ্গল কাব্য বর্তমানে পাওয়া যায় না।
❖ পরিচয়ের উৎস: পরবর্তী মনসামঙ্গল কবিদের রচনা ও সাহিত্য-ইতিহাসের আলোচনার মাধ্যমে তাঁর অস্তিত্ব এবং মনসামঙ্গল রচনার পরিচয় পাওয়া যায়।
❖ গবেষণাগত সতর্কতা: বাংলাপিডিয়া তাঁকে মনসামঙ্গলের প্রথম কবি হিসেবে সম্ভাব্য বলে উল্লেখ করে। তাই নিরঙ্কুশভাবে ‘প্রথম কবি’ বলার পরিবর্তে সম্ভাব্য আদি কবি বলা অধিক যথার্থ।
❖ পরবর্তী কবি: মনসামঙ্গল ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন নারায়ণদেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই এবং কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ প্রমুখ।
❖ কাব্যের প্রধান বিষয়: মনসাদেবীর মাহাত্ম্য, চাঁদ সদাগরের সঙ্গে বিরোধ এবং বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. কানাহরি দত্ত — সঠিক। কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের সম্ভাব্য আদি কবি।
❖ খ. মানিক দত্ত — ভুল। তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি।
❖ গ. বিজয় দত্ত — ভুল। প্রদত্ত প্রশ্নে প্রত্যাশিত আদি কবি নন।
❖ ঘ. ময়ূর ভট্ট — ভুল। তিনি ধর্মমঙ্গল কাব্যের সম্ভাব্য আদি কবি।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি — কানা হরিদত্ত।
➤ কানা হরিদত্তের সম্ভাব্য যুগ — ত্রয়োদশ শতক।
➤ কানা হরিদত্তের পূর্ণাঙ্গ কাব্য পাওয়া যায় কি? — না।
➤ চণ্ডীমঙ্গলের আদি কবি — মানিক দত্ত।
➤ ধর্মমঙ্গলের সম্ভাব্য আদি কবি — ময়ূর ভট্ট।
➤ চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি — মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
➤ ‘পদ্মপুরাণ’ কার রচনা? — বিজয়গুপ্ত।
➤ ‘মনসাবিজয়’ কার রচনা? — বিপ্রদাস পিপিলাই।
➤ মনসামঙ্গলের উপাস্য — মনসা।
➤ মনে রাখার সূত্র — মনসামঙ্গল ⇒ কানা হরিদত্ত; চণ্ডীমঙ্গল ⇒ মানিক দত্ত; ধর্মমঙ্গল ⇒ ময়ূর ভট্ট।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ক. কানা হরিদত্ত।
Advertisement
09
🎯 Level 1

২৩. মধ্যযুগের কোন কবির কাব্যে উপন্যাসের লক্ষণ ফুটে উঠেছে? (পিএসসি’র ইলেকট্রিক্যাল ইন্সপেক্টর: ২৩)

ক

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

খ

বিদ্যাপতি

গ

জ্ঞানদাস

ঘ

বড়ু চণ্ডীদাস

✅ সঠিক উত্তর:ক. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর উপাধি কবিকঙ্কণ।
❖ প্রধান রচনা: তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘চণ্ডীমঙ্গল’, যা ‘কবিকঙ্কণ চণ্ডী’ নামেও পরিচিত।
❖ উপন্যাসের পূর্বলক্ষণ: মুকুন্দরামের কাব্যে বহুমাত্রিক চরিত্র, বাস্তবধর্মী সমাজচিত্র, ধারাবাহিক ঘটনাবিন্যাস, সংলাপ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও অর্থনৈতিক জীবনের বিবরণ পাওয়া যায়।
❖ কালকেতু উপাখ্যান: কালকেতু ও ফুল্লরার দরিদ্র জীবন থেকে ধনলাভ, নগর প্রতিষ্ঠা এবং শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন—এই ধারাবাহিক কাহিনি উপন্যাসের মতো বিস্তৃত সামাজিক পটভূমি সৃষ্টি করে।
❖ ধনপতি উপাখ্যান: ধনপতি, লহনা ও খুল্লনার পারিবারিক সম্পর্ক, ঈর্ষা, সংঘাত ও সামাজিক অবস্থানের বর্ণনা চরিত্রগুলিকে জীবন্ত করে তুলেছে।
❖ ভাঁড়ুদত্ত চরিত্র: চাটুকারিতা, ধূর্ততা, স্বার্থপরতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার তুলে ধরার মাধ্যমে কবি জটিল মানবচরিত্র নির্মাণ করেছেন।
❖ বাস্তববাদী বৈশিষ্ট্য: মুকুন্দরামের কাব্যে পেশাজীবী সমাজ, বাজার, নগর, পরিবার, নারীজীবন, দারিদ্র্য ও সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস অত্যন্ত জীবন্তভাবে উঠে এসেছে।
❖ গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: মুকুন্দরাম বাংলা উপন্যাসের রচয়িতা নন। তাঁর কাব্যে পরবর্তী বাংলা উপন্যাসের কিছু পূর্বলক্ষণ পাওয়া যায়—এটি সাহিত্যসমালোচনামূলক মূল্যায়ন।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী — সঠিক। তাঁর চণ্ডীমঙ্গলে বাস্তবধর্মী সমাজ ও চরিত্রচিত্রণ রয়েছে।
❖ খ. বিদ্যাপতি — ভুল। তিনি মূলত মৈথিলি ও ব্রজবুলি পদাবলির সঙ্গে সম্পর্কিত কবি।
❖ গ. জ্ঞানদাস — ভুল। তিনি বৈষ্ণব পদাবলির উল্লেখযোগ্য কবি।
❖ ঘ. বড়ু চণ্ডীদাস — ভুল। তাঁর প্রধান রচনা শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ কোন মধ্যযুগীয় কবির কাব্যে উপন্যাসের লক্ষণ পাওয়া যায়? — মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
➤ মুকুন্দরামের উপাধি — কবিকঙ্কণ।
➤ মুকুন্দরামের প্রধান কাব্য — চণ্ডীমঙ্গল।
➤ চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান মানবকাহিনি — কালকেতু-ফুল্লরা ও ধনপতি-খুল্লনা।
➤ চণ্ডীমঙ্গলের ধূর্ত চরিত্র — ভাঁড়ুদত্ত।
➤ মুকুন্দরামের কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য — বাস্তব সমাজচিত্র ও জীবন্ত চরিত্র।
➤ বিদ্যাপতি কোন সাহিত্যধারার কবি? — পদাবলি সাহিত্য।
➤ জ্ঞানদাস কোন সাহিত্যধারার কবি? — বৈষ্ণব পদাবলি।
➤ ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কার রচনা? — বড়ু চণ্ডীদাস।
➤ মনে রাখার সূত্র — মুকুন্দরাম ⇒ চণ্ডীমঙ্গল ⇒ সমাজবাস্তবতা ⇒ উপন্যাসের পূর্বলক্ষণ।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ক. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
10
🎯 Level 1

২৬. মধ্যযুগীয় এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্যের উদাহরণ— (প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক: ৯৩)

ক

গীতিকাব্য

খ

মঙ্গলকাব্য

গ

জীবনীকাব্য

ঘ

চর্যাচর্যবিনিশ্চয়

✅ সঠিক উত্তর:খ. মঙ্গলকাব্য

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: মঙ্গলকাব্য।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধর্মবিষয়ক আখ্যানকাব্যধারা।
❖ আখ্যানকাব্য কাকে বলে? যে কাব্যে কোনো ঘটনা, চরিত্র বা কাহিনি ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়, তাকে আখ্যানকাব্য বলে।
❖ মঙ্গলকাব্যের বিষয়: কোনো নির্দিষ্ট দেবদেবীর মাহাত্ম্য, পূজা প্রতিষ্ঠা, ভক্তের পরীক্ষা, দেবতার অনুগ্রহ এবং মানবজীবনের বিভিন্ন ঘটনা কাহিনিরূপে বর্ণিত হয়।
❖ মূল উদ্দেশ্য: মধ্যযুগে মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুরের মতো স্থানীয় দেবদেবীর পূজা ও মাহাত্ম্য জনসমাজে প্রতিষ্ঠা করা।
❖ প্রধান কাব্যধারা: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা।
❖ কাহিনির গঠন: মঙ্গলকাব্যে সাধারণত বন্দনা, কবির আত্মপরিচয় ও স্বপ্নাদেশ, দেবখণ্ড এবং নরখণ্ড-এর মতো অংশ পাওয়া যায়।
❖ সামাজিক গুরুত্ব: ধর্মীয় কাহিনির পাশাপাশি এতে মধ্যযুগের কৃষক, বণিক, শিকারি, নারী, কারিগর, নগরজীবন, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস ও সামাজিক সম্পর্কের পরিচয় পাওয়া যায়।
❖ সাহিত্যিক মূল্য: মঙ্গলকাব্য ধর্মীয় রচনা হলেও মধ্যযুগীয় বাংলার সামাজিক ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতির মূল্যবান দলিল।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. গীতিকাব্য — ভুল। এটি প্রধানত ভাব, অনুভূতি ও আবেগপ্রধান কাব্যরূপ।
❖ খ. মঙ্গলকাব্য — সঠিক। এটি ধর্মীয় আখ্যানমূলক কাব্যধারা।
❖ গ. জীবনীকাব্য — ভুল। এতে কোনো ব্যক্তির জীবনকাহিনি প্রধান বিষয়।
❖ ঘ. চর্যাচর্যবিনিশ্চয় — ভুল। এটি চর্যাপদের প্রাচীন পুঁথির নাম।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মধ্যযুগের ধর্মবিষয়ক আখ্যানকাব্য — মঙ্গলকাব্য।
➤ মঙ্গলকাব্যের প্রধান বিষয় — দেবদেবীর মাহাত্ম্য ও পূজা প্রতিষ্ঠা।
➤ মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিন ধারা — মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল।
➤ মঙ্গলকাব্যের প্রথম অংশ — বন্দনা।
➤ দেবদেবী-সম্পর্কিত কাহিনির অংশ — দেবখণ্ড।
➤ মানবজীবনের প্রধান কাহিনির অংশ — নরখণ্ড।
➤ চর্যাপদের পুঁথিনাম — চর্যাচর্যবিনিশ্চয়।
➤ চর্যাপদ কোন যুগের সাহিত্য? — প্রাচীন যুগ।
➤ জীবনীকাব্যের প্রধান বিষয় — ব্যক্তিজীবন।
➤ মনে রাখার সূত্র — ধর্মীয় কাহিনি + দেবমাহাত্ম্য + পূজা প্রতিষ্ঠা ⇒ মঙ্গলকাব্য।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. মঙ্গলকাব্য।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন