01
🎯 Level 1
০৬. ‘বিদ্যাসুন্দর’ গ্রন্থের অনুবাদক কে? (পোস্টমাস্টার জেনারেল পূর্বাঞ্চলের পোস্টমাস্টার: ২৬)
✅ সঠিক উত্তর:ক. সাবিরিদ খান
ব্যাখ্যা:
"উত্তর: ক
◈ সঠিক পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর: সাবিরিদ খান।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ সাবিরিদ খান মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্যাসুন্দর’ কাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ রচনা করেন। তিনি শাহ বারিদ খান নামেও পরিচিত।
❖ ‘বিদ্যাসুন্দর’ একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। এতে বিদ্যা ও সুন্দরের প্রেম, তাঁদের পারস্পরিক আকর্ষণ, বিরহ এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার বর্ণনা রয়েছে।
❖ বাংলাপিডিয়ার শাহ বারিদ খান নিবন্ধ অনুযায়ী, তাঁর বিদ্যাসুন্দর কাব্যের একটি সাহিত্যিক উৎস সংস্কৃত চৌরপঞ্চাশিকা বা বিদ্যাসুন্দরম্-সংক্রান্ত কাহিনি।
❖ তাই তাঁকে পুরোনো প্রশ্নব্যাংকে অনুবাদক বলা হলেও রচয়িতা বা রূপান্তরকারী বলা অধিক যথাযথ।
❖ কারণ তিনি কেবল সংস্কৃত কাহিনি হুবহু অন্য ভাষায় অনুবাদ করেননি; কাহিনির উপাদানকে বাংলা সাহিত্যিক আখ্যানের রূপ দিয়েছেন।
❖ সাবিরিদ খানের তিনটি পরিচিত রচনা হলো বিদ্যাসুন্দর, রসুল বিজয় এবং হানিফা-কয়রা পরী।
❖ তাঁর রচনাগুলোর মধ্যে প্রণয়, যুদ্ধ ও ধর্মীয় আখ্যান—বিভিন্ন ধরনের বিষয় পাওয়া যায়।
❖ বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রা পরী প্রেমকাহিনিনির্ভর, অন্যদিকে রসুল বিজয়ে ধর্মীয় যুদ্ধ ও বিজয়ের বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
✦ সাবিরিদ খানের পরিচয়
❖ অপর নাম — শাহ বারিদ খান।
❖ সাহিত্যিক যুগ — মধ্যযুগ।
❖ সম্ভাব্য সময়কাল — ষোড়শ শতক।
❖ বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় তাঁর নিবাস চট্টগ্রামের নানুপুর বলে উল্লেখ রয়েছে।
❖ তাঁর পিতা নানুজান মল্লিক এবং পিতামহ জি ঠাকুরের নাম পাণ্ডুলিপিভিত্তিক পরিচয়ে পাওয়া যায়।
❖ তিনি সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।
❖ তাঁর রচনাগুলোর পূর্ণ পাণ্ডুলিপি সব ক্ষেত্রে সংরক্ষিত হয়নি।
✦ বিদ্যাসুন্দর কাব্যের বিষয়বস্তু
❖ প্রধান চরিত্র — বিদ্যা ও সুন্দর।
❖ বিদ্যা কাঞ্চীপুরের রাজকন্যা।
❖ সুন্দর রত্নাবতীর রাজপুত্র।
❖ তাঁদের প্রেম ও সম্পর্কের বিকাশ কাব্যের প্রধান বিষয়।
❖ প্রেমের পথে বিভিন্ন বাধা, আকাঙ্ক্ষা ও কাহিনির নাটকীয়তা রয়েছে।
❖ কাব্যের পাণ্ডুলিপি খণ্ডিত হওয়ায় সাবিরিদ খানের সংস্করণের সম্পূর্ণ কাহিনি জানা যায় না।
✦ বিদ্যাসুন্দর নামে একাধিক কাব্য
❖ বিদ্যাসুন্দর কোনো একজন কবির একমাত্র স্বতন্ত্র কাব্যনাম নয়।
❖ মধ্যযুগে একাধিক কবি বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি অবলম্বনে রচনা করেছেন।
❖ দ্বিজ শ্রীধর কবিরাজের বিদ্যাসুন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন সংস্করণ।
❖ সাবিরিদ খানের বিদ্যাসুন্দরও পৃথকভাবে পরিচিত।
❖ পরবর্তী সময়ে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশ বিশেষ খ্যাতি লাভ করে।
❖ ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য পত্রিকা-য় ড. আহমদ শরীফের ‘বিদ্যাসুন্দরের কবি: দ্বিজ শ্রীধর কবিরাজ ও সাবিরিদ খান’ শীর্ষক গবেষণা প্রকাশিত হয়।
❖ ফলে একই শিরোনামে ভিন্ন কবির রচনার বিষয়টি গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত।
✦ সাবিরিদ খানের অন্যান্য রচনা
রসুল বিজয়
❖ ইসলামি ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধ ও বিজয়ের আখ্যান।
❖ জঙ্গনামা সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
হানিফা-কয়রা পরী
❖ যুদ্ধ, প্রেম ও অলৌকিক ঘটনার সমন্বিত আখ্যান।
❖ যুদ্ধ উপজীব্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান হিসেবে পরিচিত।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. সাবিরিদ খান — সঠিক।
সাবিরিদ খান বিদ্যাসুন্দর কাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা রূপ রচনা করেন।
❖ খ. আলাওল — ভুল।
আলাওলের উল্লেখযোগ্য কাব্য পদ্মাবতী, হপ্তপয়কর, তোহফা ও সিকান্দরনামা। তিনি প্রদত্ত বিদ্যাসুন্দর সংস্করণের রচয়িতা নন।
❖ গ. মালাধর বসু — ভুল।
মালাধর বসুর বিখ্যাত রচনা শ্রীকৃষ্ণবিজয়। তিনি সুলতান রুকনুদ্দিন বারবক শাহের কাছ থেকে গুণরাজ খান উপাধি লাভ করেন বলে প্রচলিত।
❖ ঘ. নরোত্তম দাস — ভুল।
নরোত্তম দাস মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাধক ও পদকর্তা। তিনি বিদ্যাসুন্দরের আলোচ্য রূপের রচয়িতা নন।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বিদ্যাসুন্দরের প্রদত্ত সংস্করণের কবি — সাবিরিদ খান।
➤ সাবিরিদ খানের অপর নাম — শাহ বারিদ খান।
➤ সাবিরিদ খানের নিবাস — চট্টগ্রামের নানুপুর।
➤ সাবিরিদ খানের রচনা — বিদ্যাসুন্দর।
➤ সাবিরিদ খানের আরেকটি রচনা — রসুল বিজয়।
➤ সাবিরিদ খানের যুদ্ধভিত্তিক প্রণয়োপাখ্যান — হানিফা-কয়রা পরী।
➤ বিদ্যাসুন্দরের প্রধান চরিত্র — বিদ্যা ও সুন্দর।
➤ বিদ্যাসুন্দরের সংস্কৃত সাহিত্যিক উৎসের সঙ্গে সম্পর্কিত — চৌরপঞ্চাশিকা।
➤ বিদ্যাসুন্দরের আরেকজন প্রাচীন কবি — দ্বিজ শ্রীধর কবিরাজ।
➤ অন্নদামঙ্গলের বিখ্যাত বিদ্যাসুন্দর অংশের কবি — ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
➤ মালাধর বসুর গ্রন্থ — শ্রীকৃষ্ণবিজয়।
➤ মালাধর বসুর উপাধি — গুণরাজ খান।
➤ মনে রাখার সূত্র — সাবিরিদ খান ⇒ বিদ্যাসুন্দর, রসুল বিজয়, হানিফা-কয়রা পরী।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ক. সাবিরিদ খান।"
◈ সঠিক পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর: সাবিরিদ খান।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ সাবিরিদ খান মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্যাসুন্দর’ কাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ রচনা করেন। তিনি শাহ বারিদ খান নামেও পরিচিত।
❖ ‘বিদ্যাসুন্দর’ একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। এতে বিদ্যা ও সুন্দরের প্রেম, তাঁদের পারস্পরিক আকর্ষণ, বিরহ এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার বর্ণনা রয়েছে।
❖ বাংলাপিডিয়ার শাহ বারিদ খান নিবন্ধ অনুযায়ী, তাঁর বিদ্যাসুন্দর কাব্যের একটি সাহিত্যিক উৎস সংস্কৃত চৌরপঞ্চাশিকা বা বিদ্যাসুন্দরম্-সংক্রান্ত কাহিনি।
❖ তাই তাঁকে পুরোনো প্রশ্নব্যাংকে অনুবাদক বলা হলেও রচয়িতা বা রূপান্তরকারী বলা অধিক যথাযথ।
❖ কারণ তিনি কেবল সংস্কৃত কাহিনি হুবহু অন্য ভাষায় অনুবাদ করেননি; কাহিনির উপাদানকে বাংলা সাহিত্যিক আখ্যানের রূপ দিয়েছেন।
❖ সাবিরিদ খানের তিনটি পরিচিত রচনা হলো বিদ্যাসুন্দর, রসুল বিজয় এবং হানিফা-কয়রা পরী।
❖ তাঁর রচনাগুলোর মধ্যে প্রণয়, যুদ্ধ ও ধর্মীয় আখ্যান—বিভিন্ন ধরনের বিষয় পাওয়া যায়।
❖ বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রা পরী প্রেমকাহিনিনির্ভর, অন্যদিকে রসুল বিজয়ে ধর্মীয় যুদ্ধ ও বিজয়ের বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
✦ সাবিরিদ খানের পরিচয়
❖ অপর নাম — শাহ বারিদ খান।
❖ সাহিত্যিক যুগ — মধ্যযুগ।
❖ সম্ভাব্য সময়কাল — ষোড়শ শতক।
❖ বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় তাঁর নিবাস চট্টগ্রামের নানুপুর বলে উল্লেখ রয়েছে।
❖ তাঁর পিতা নানুজান মল্লিক এবং পিতামহ জি ঠাকুরের নাম পাণ্ডুলিপিভিত্তিক পরিচয়ে পাওয়া যায়।
❖ তিনি সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।
❖ তাঁর রচনাগুলোর পূর্ণ পাণ্ডুলিপি সব ক্ষেত্রে সংরক্ষিত হয়নি।
✦ বিদ্যাসুন্দর কাব্যের বিষয়বস্তু
❖ প্রধান চরিত্র — বিদ্যা ও সুন্দর।
❖ বিদ্যা কাঞ্চীপুরের রাজকন্যা।
❖ সুন্দর রত্নাবতীর রাজপুত্র।
❖ তাঁদের প্রেম ও সম্পর্কের বিকাশ কাব্যের প্রধান বিষয়।
❖ প্রেমের পথে বিভিন্ন বাধা, আকাঙ্ক্ষা ও কাহিনির নাটকীয়তা রয়েছে।
❖ কাব্যের পাণ্ডুলিপি খণ্ডিত হওয়ায় সাবিরিদ খানের সংস্করণের সম্পূর্ণ কাহিনি জানা যায় না।
✦ বিদ্যাসুন্দর নামে একাধিক কাব্য
❖ বিদ্যাসুন্দর কোনো একজন কবির একমাত্র স্বতন্ত্র কাব্যনাম নয়।
❖ মধ্যযুগে একাধিক কবি বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি অবলম্বনে রচনা করেছেন।
❖ দ্বিজ শ্রীধর কবিরাজের বিদ্যাসুন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন সংস্করণ।
❖ সাবিরিদ খানের বিদ্যাসুন্দরও পৃথকভাবে পরিচিত।
❖ পরবর্তী সময়ে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশ বিশেষ খ্যাতি লাভ করে।
❖ ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য পত্রিকা-য় ড. আহমদ শরীফের ‘বিদ্যাসুন্দরের কবি: দ্বিজ শ্রীধর কবিরাজ ও সাবিরিদ খান’ শীর্ষক গবেষণা প্রকাশিত হয়।
❖ ফলে একই শিরোনামে ভিন্ন কবির রচনার বিষয়টি গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত।
✦ সাবিরিদ খানের অন্যান্য রচনা
রসুল বিজয়
❖ ইসলামি ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধ ও বিজয়ের আখ্যান।
❖ জঙ্গনামা সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
হানিফা-কয়রা পরী
❖ যুদ্ধ, প্রেম ও অলৌকিক ঘটনার সমন্বিত আখ্যান।
❖ যুদ্ধ উপজীব্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান হিসেবে পরিচিত।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. সাবিরিদ খান — সঠিক।
সাবিরিদ খান বিদ্যাসুন্দর কাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা রূপ রচনা করেন।
❖ খ. আলাওল — ভুল।
আলাওলের উল্লেখযোগ্য কাব্য পদ্মাবতী, হপ্তপয়কর, তোহফা ও সিকান্দরনামা। তিনি প্রদত্ত বিদ্যাসুন্দর সংস্করণের রচয়িতা নন।
❖ গ. মালাধর বসু — ভুল।
মালাধর বসুর বিখ্যাত রচনা শ্রীকৃষ্ণবিজয়। তিনি সুলতান রুকনুদ্দিন বারবক শাহের কাছ থেকে গুণরাজ খান উপাধি লাভ করেন বলে প্রচলিত।
❖ ঘ. নরোত্তম দাস — ভুল।
নরোত্তম দাস মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাধক ও পদকর্তা। তিনি বিদ্যাসুন্দরের আলোচ্য রূপের রচয়িতা নন।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বিদ্যাসুন্দরের প্রদত্ত সংস্করণের কবি — সাবিরিদ খান।
➤ সাবিরিদ খানের অপর নাম — শাহ বারিদ খান।
➤ সাবিরিদ খানের নিবাস — চট্টগ্রামের নানুপুর।
➤ সাবিরিদ খানের রচনা — বিদ্যাসুন্দর।
➤ সাবিরিদ খানের আরেকটি রচনা — রসুল বিজয়।
➤ সাবিরিদ খানের যুদ্ধভিত্তিক প্রণয়োপাখ্যান — হানিফা-কয়রা পরী।
➤ বিদ্যাসুন্দরের প্রধান চরিত্র — বিদ্যা ও সুন্দর।
➤ বিদ্যাসুন্দরের সংস্কৃত সাহিত্যিক উৎসের সঙ্গে সম্পর্কিত — চৌরপঞ্চাশিকা।
➤ বিদ্যাসুন্দরের আরেকজন প্রাচীন কবি — দ্বিজ শ্রীধর কবিরাজ।
➤ অন্নদামঙ্গলের বিখ্যাত বিদ্যাসুন্দর অংশের কবি — ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
➤ মালাধর বসুর গ্রন্থ — শ্রীকৃষ্ণবিজয়।
➤ মালাধর বসুর উপাধি — গুণরাজ খান।
➤ মনে রাখার সূত্র — সাবিরিদ খান ⇒ বিদ্যাসুন্দর, রসুল বিজয়, হানিফা-কয়রা পরী।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ক. সাবিরিদ খান।"