🧠 🔖
👑 Premium Topic

মধ্যযুগের সাহিত্য- অনুবাদ সাহিত্য ও রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান

◉ বাংলা সাহিত্য›মধ্যযুগের সাহিত্য- অনুবাদ সাহিত্য ও রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚58মোট প্রশ্ন
🎯4মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

০৬. ‘বিদ্যাসুন্দর’ গ্রন্থের অনুবাদক কে? (পোস্টমাস্টার জেনারেল পূর্বাঞ্চলের পোস্টমাস্টার: ২৬)

ক

সাবিরিদ খান

খ

আলাওল

গ

মালাধর বসু

ঘ

নরোত্তম দাস

✅ সঠিক উত্তর:ক. সাবিরিদ খান

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: ক
◈ সঠিক পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর: সাবিরিদ খান।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ সাবিরিদ খান মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্যাসুন্দর’ কাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ রচনা করেন। তিনি শাহ বারিদ খান নামেও পরিচিত।
❖ ‘বিদ্যাসুন্দর’ একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। এতে বিদ্যা ও সুন্দরের প্রেম, তাঁদের পারস্পরিক আকর্ষণ, বিরহ এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার বর্ণনা রয়েছে।
❖ বাংলাপিডিয়ার শাহ বারিদ খান নিবন্ধ অনুযায়ী, তাঁর বিদ্যাসুন্দর কাব্যের একটি সাহিত্যিক উৎস সংস্কৃত চৌরপঞ্চাশিকা বা বিদ্যাসুন্দরম্‌-সংক্রান্ত কাহিনি।
❖ তাই তাঁকে পুরোনো প্রশ্নব্যাংকে অনুবাদক বলা হলেও রচয়িতা বা রূপান্তরকারী বলা অধিক যথাযথ।
❖ কারণ তিনি কেবল সংস্কৃত কাহিনি হুবহু অন্য ভাষায় অনুবাদ করেননি; কাহিনির উপাদানকে বাংলা সাহিত্যিক আখ্যানের রূপ দিয়েছেন।
❖ সাবিরিদ খানের তিনটি পরিচিত রচনা হলো বিদ্যাসুন্দর, রসুল বিজয় এবং হানিফা-কয়রা পরী।
❖ তাঁর রচনাগুলোর মধ্যে প্রণয়, যুদ্ধ ও ধর্মীয় আখ্যান—বিভিন্ন ধরনের বিষয় পাওয়া যায়।
❖ বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রা পরী প্রেমকাহিনিনির্ভর, অন্যদিকে রসুল বিজয়ে ধর্মীয় যুদ্ধ ও বিজয়ের বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
✦ সাবিরিদ খানের পরিচয়
❖ অপর নাম — শাহ বারিদ খান।
❖ সাহিত্যিক যুগ — মধ্যযুগ।
❖ সম্ভাব্য সময়কাল — ষোড়শ শতক।
❖ বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় তাঁর নিবাস চট্টগ্রামের নানুপুর বলে উল্লেখ রয়েছে।
❖ তাঁর পিতা নানুজান মল্লিক এবং পিতামহ জি ঠাকুরের নাম পাণ্ডুলিপিভিত্তিক পরিচয়ে পাওয়া যায়।
❖ তিনি সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।
❖ তাঁর রচনাগুলোর পূর্ণ পাণ্ডুলিপি সব ক্ষেত্রে সংরক্ষিত হয়নি।
✦ বিদ্যাসুন্দর কাব্যের বিষয়বস্তু
❖ প্রধান চরিত্র — বিদ্যা ও সুন্দর।
❖ বিদ্যা কাঞ্চীপুরের রাজকন্যা।
❖ সুন্দর রত্নাবতীর রাজপুত্র।
❖ তাঁদের প্রেম ও সম্পর্কের বিকাশ কাব্যের প্রধান বিষয়।
❖ প্রেমের পথে বিভিন্ন বাধা, আকাঙ্ক্ষা ও কাহিনির নাটকীয়তা রয়েছে।
❖ কাব্যের পাণ্ডুলিপি খণ্ডিত হওয়ায় সাবিরিদ খানের সংস্করণের সম্পূর্ণ কাহিনি জানা যায় না।
✦ বিদ্যাসুন্দর নামে একাধিক কাব্য
❖ বিদ্যাসুন্দর কোনো একজন কবির একমাত্র স্বতন্ত্র কাব্যনাম নয়।
❖ মধ্যযুগে একাধিক কবি বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি অবলম্বনে রচনা করেছেন।
❖ দ্বিজ শ্রীধর কবিরাজের বিদ্যাসুন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন সংস্করণ।
❖ সাবিরিদ খানের বিদ্যাসুন্দরও পৃথকভাবে পরিচিত।
❖ পরবর্তী সময়ে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশ বিশেষ খ্যাতি লাভ করে।
❖ ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য পত্রিকা-য় ড. আহমদ শরীফের ‘বিদ্যাসুন্দরের কবি: দ্বিজ শ্রীধর কবিরাজ ও সাবিরিদ খান’ শীর্ষক গবেষণা প্রকাশিত হয়।
❖ ফলে একই শিরোনামে ভিন্ন কবির রচনার বিষয়টি গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত।
✦ সাবিরিদ খানের অন্যান্য রচনা
রসুল বিজয়
❖ ইসলামি ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধ ও বিজয়ের আখ্যান।
❖ জঙ্গনামা সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
হানিফা-কয়রা পরী
❖ যুদ্ধ, প্রেম ও অলৌকিক ঘটনার সমন্বিত আখ্যান।
❖ যুদ্ধ উপজীব্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান হিসেবে পরিচিত।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. সাবিরিদ খান — সঠিক।
সাবিরিদ খান বিদ্যাসুন্দর কাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা রূপ রচনা করেন।
❖ খ. আলাওল — ভুল।
আলাওলের উল্লেখযোগ্য কাব্য পদ্মাবতী, হপ্তপয়কর, তোহফা ও সিকান্দরনামা। তিনি প্রদত্ত বিদ্যাসুন্দর সংস্করণের রচয়িতা নন।
❖ গ. মালাধর বসু — ভুল।
মালাধর বসুর বিখ্যাত রচনা শ্রীকৃষ্ণবিজয়। তিনি সুলতান রুকনুদ্দিন বারবক শাহের কাছ থেকে গুণরাজ খান উপাধি লাভ করেন বলে প্রচলিত।
❖ ঘ. নরোত্তম দাস — ভুল।
নরোত্তম দাস মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাধক ও পদকর্তা। তিনি বিদ্যাসুন্দরের আলোচ্য রূপের রচয়িতা নন।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বিদ্যাসুন্দরের প্রদত্ত সংস্করণের কবি — সাবিরিদ খান।
➤ সাবিরিদ খানের অপর নাম — শাহ বারিদ খান।
➤ সাবিরিদ খানের নিবাস — চট্টগ্রামের নানুপুর।
➤ সাবিরিদ খানের রচনা — বিদ্যাসুন্দর।
➤ সাবিরিদ খানের আরেকটি রচনা — রসুল বিজয়।
➤ সাবিরিদ খানের যুদ্ধভিত্তিক প্রণয়োপাখ্যান — হানিফা-কয়রা পরী।
➤ বিদ্যাসুন্দরের প্রধান চরিত্র — বিদ্যা ও সুন্দর।
➤ বিদ্যাসুন্দরের সংস্কৃত সাহিত্যিক উৎসের সঙ্গে সম্পর্কিত — চৌরপঞ্চাশিকা।
➤ বিদ্যাসুন্দরের আরেকজন প্রাচীন কবি — দ্বিজ শ্রীধর কবিরাজ।
➤ অন্নদামঙ্গলের বিখ্যাত বিদ্যাসুন্দর অংশের কবি — ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
➤ মালাধর বসুর গ্রন্থ — শ্রীকৃষ্ণবিজয়।
➤ মালাধর বসুর উপাধি — গুণরাজ খান।
➤ মনে রাখার সূত্র — সাবিরিদ খান ⇒ বিদ্যাসুন্দর, রসুল বিজয়, হানিফা-কয়রা পরী।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ক. সাবিরিদ খান।"
02
🎯 Level 1

০৬. ‘বিদ্যাসুন্দর’ গ্রন্থের অনুবাদক কে? (পোস্টমাস্টার জেনারেল পূর্বাঞ্চলের পোস্টমাস্টার: ২৬)

ক

সাবিরিদ খান

খ

আলাওল

গ

মালাধর বসু

ঘ

নরোত্তম দাস

✅ সঠিক উত্তর:ক. সাবিরিদ খান

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর: সাবিরিদ খান।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ সাবিরিদ খান মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্যাসুন্দর’ কাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ রচনা করেন। তিনি শাহ বারিদ খান নামেও পরিচিত।
❖ ‘বিদ্যাসুন্দর’ একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। এতে বিদ্যা ও সুন্দরের প্রেম, তাঁদের পারস্পরিক আকর্ষণ, বিরহ এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার বর্ণনা রয়েছে।
❖ বাংলাপিডিয়ার শাহ বারিদ খান নিবন্ধ অনুযায়ী, তাঁর বিদ্যাসুন্দর কাব্যের একটি সাহিত্যিক উৎস সংস্কৃত চৌরপঞ্চাশিকা বা বিদ্যাসুন্দরম্‌-সংক্রান্ত কাহিনি।
❖ তাই তাঁকে পুরোনো প্রশ্নব্যাংকে অনুবাদক বলা হলেও রচয়িতা বা রূপান্তরকারী বলা অধিক যথাযথ।
❖ কারণ তিনি কেবল সংস্কৃত কাহিনি হুবহু অন্য ভাষায় অনুবাদ করেননি; কাহিনির উপাদানকে বাংলা সাহিত্যিক আখ্যানের রূপ দিয়েছেন।
❖ সাবিরিদ খানের তিনটি পরিচিত রচনা হলো বিদ্যাসুন্দর, রসুল বিজয় এবং হানিফা-কয়রা পরী।
❖ তাঁর রচনাগুলোর মধ্যে প্রণয়, যুদ্ধ ও ধর্মীয় আখ্যান—বিভিন্ন ধরনের বিষয় পাওয়া যায়।
❖ বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রা পরী প্রেমকাহিনিনির্ভর, অন্যদিকে রসুল বিজয়ে ধর্মীয় যুদ্ধ ও বিজয়ের বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
✦ সাবিরিদ খানের পরিচয়
❖ অপর নাম — শাহ বারিদ খান।
❖ সাহিত্যিক যুগ — মধ্যযুগ।
❖ সম্ভাব্য সময়কাল — ষোড়শ শতক।
❖ বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় তাঁর নিবাস চট্টগ্রামের নানুপুর বলে উল্লেখ রয়েছে।
❖ তাঁর পিতা নানুজান মল্লিক এবং পিতামহ জি ঠাকুরের নাম পাণ্ডুলিপিভিত্তিক পরিচয়ে পাওয়া যায়।
❖ তিনি সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।
❖ তাঁর রচনাগুলোর পূর্ণ পাণ্ডুলিপি সব ক্ষেত্রে সংরক্ষিত হয়নি।
✦ বিদ্যাসুন্দর কাব্যের বিষয়বস্তু
❖ প্রধান চরিত্র — বিদ্যা ও সুন্দর।
❖ বিদ্যা কাঞ্চীপুরের রাজকন্যা।
❖ সুন্দর রত্নাবতীর রাজপুত্র।
❖ তাঁদের প্রেম ও সম্পর্কের বিকাশ কাব্যের প্রধান বিষয়।
❖ প্রেমের পথে বিভিন্ন বাধা, আকাঙ্ক্ষা ও কাহিনির নাটকীয়তা রয়েছে।
❖ কাব্যের পাণ্ডুলিপি খণ্ডিত হওয়ায় সাবিরিদ খানের সংস্করণের সম্পূর্ণ কাহিনি জানা যায় না।
✦ বিদ্যাসুন্দর নামে একাধিক কাব্য
❖ বিদ্যাসুন্দর কোনো একজন কবির একমাত্র স্বতন্ত্র কাব্যনাম নয়।
❖ মধ্যযুগে একাধিক কবি বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি অবলম্বনে রচনা করেছেন।
❖ দ্বিজ শ্রীধর কবিরাজের বিদ্যাসুন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন সংস্করণ।
❖ সাবিরিদ খানের বিদ্যাসুন্দরও পৃথকভাবে পরিচিত।
❖ পরবর্তী সময়ে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশ বিশেষ খ্যাতি লাভ করে।
❖ ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য পত্রিকা-য় ড. আহমদ শরীফের ‘বিদ্যাসুন্দরের কবি: দ্বিজ শ্রীধর কবিরাজ ও সাবিরিদ খান’ শীর্ষক গবেষণা প্রকাশিত হয়।
❖ ফলে একই শিরোনামে ভিন্ন কবির রচনার বিষয়টি গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত।
✦ সাবিরিদ খানের অন্যান্য রচনা
রসুল বিজয়
❖ ইসলামি ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধ ও বিজয়ের আখ্যান।
❖ জঙ্গনামা সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
হানিফা-কয়রা পরী
❖ যুদ্ধ, প্রেম ও অলৌকিক ঘটনার সমন্বিত আখ্যান।
❖ যুদ্ধ উপজীব্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান হিসেবে পরিচিত।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. সাবিরিদ খান — সঠিক।
সাবিরিদ খান বিদ্যাসুন্দর কাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা রূপ রচনা করেন।
❖ খ. আলাওল — ভুল।
আলাওলের উল্লেখযোগ্য কাব্য পদ্মাবতী, হপ্তপয়কর, তোহফা ও সিকান্দরনামা। তিনি প্রদত্ত বিদ্যাসুন্দর সংস্করণের রচয়িতা নন।
❖ গ. মালাধর বসু — ভুল।
মালাধর বসুর বিখ্যাত রচনা শ্রীকৃষ্ণবিজয়। তিনি সুলতান রুকনুদ্দিন বারবক শাহের কাছ থেকে গুণরাজ খান উপাধি লাভ করেন বলে প্রচলিত।
❖ ঘ. নরোত্তম দাস — ভুল।
নরোত্তম দাস মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাধক ও পদকর্তা। তিনি বিদ্যাসুন্দরের আলোচ্য রূপের রচয়িতা নন।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বিদ্যাসুন্দরের প্রদত্ত সংস্করণের কবি — সাবিরিদ খান।
➤ সাবিরিদ খানের অপর নাম — শাহ বারিদ খান।
➤ সাবিরিদ খানের নিবাস — চট্টগ্রামের নানুপুর।
➤ সাবিরিদ খানের রচনা — বিদ্যাসুন্দর।
➤ সাবিরিদ খানের আরেকটি রচনা — রসুল বিজয়।
➤ সাবিরিদ খানের যুদ্ধভিত্তিক প্রণয়োপাখ্যান — হানিফা-কয়রা পরী।
➤ বিদ্যাসুন্দরের প্রধান চরিত্র — বিদ্যা ও সুন্দর।
➤ বিদ্যাসুন্দরের সংস্কৃত সাহিত্যিক উৎসের সঙ্গে সম্পর্কিত — চৌরপঞ্চাশিকা।
➤ বিদ্যাসুন্দরের আরেকজন প্রাচীন কবি — দ্বিজ শ্রীধর কবিরাজ।
➤ অন্নদামঙ্গলের বিখ্যাত বিদ্যাসুন্দর অংশের কবি — ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
➤ মালাধর বসুর গ্রন্থ — শ্রীকৃষ্ণবিজয়।
➤ মালাধর বসুর উপাধি — গুণরাজ খান।
➤ মনে রাখার সূত্র — সাবিরিদ খান ⇒ বিদ্যাসুন্দর, রসুল বিজয়, হানিফা-কয়রা পরী।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ক. সাবিরিদ খান।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৯. মধ্যযুগের কাব্য কোনটি? (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা: ২৪)

ক

খোয়াবনামা

খ

পদ্মাবতী

গ

গৃহদাহ

ঘ

মহাশ্মশান

✅ সঠিক উত্তর:খ. পদ্মাবতী

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: পদ্মাবতী।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ ‘পদ্মাবতী’ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি আলাওল রচিত একটি রোমান্টিক প্রণয়কাব্য।
❖ আলাওল সপ্তদশ শতকের কবি। তিনি আরাকান রাজসভার সাহিত্যিক পরিবেশে কাব্যটি রচনা করেন।
❖ পদ্মাবতী ১৬৪৮ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
❖ কাব্যটি মালিক মুহম্মদ জয়সীর অওধি ভাষায় রচিত ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে বাংলা ভাষায় রূপান্তরিত।
❖ জয়সীর পদুমাবৎ রচিত হয়েছিল ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দে।
❖ আলাওল আরাকান রাজসভার গুরুত্বপূর্ণ অমাত্য মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় পদ্মাবতী রচনা করেন।
❖ কাব্যের প্রধান চরিত্র পদ্মাবতী ও রত্নসেন।
❖ পদ্মাবতীকে সিংহলের রাজকন্যা এবং রত্নসেনকে চিতোরের রাজা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
❖ আলাউদ্দিন খলজি কাহিনির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, যদিও কাব্যের পদ্মাবতী-সংক্রান্ত ঘটনাগুলোকে সম্পূর্ণ যাচাইকৃত ঐতিহাসিক ঘটনা বলা যায় না।
❖ এতে ইতিহাস, কল্পনা, রোমান্টিক প্রেম ও সাহিত্যিক রূপকের সমন্বয় রয়েছে।
❖ আলাওলের পদ্মাবতী মধ্যযুগীয় বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
✦ পদ্মাবতীর সাহিত্যিক পরিচয়
❖ রচয়িতা — আলাওল।
❖ সাহিত্যিক যুগ — মধ্যযুগ।
❖ শতাব্দী — সপ্তদশ।
❖ রচনাকাল — ১৬৪৮।
❖ সাহিত্যিক ধরন — রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
❖ মূল অবলম্বন — জয়সীর পদুমাবৎ।
❖ পৃষ্ঠপোষক — মাগন ঠাকুর।
❖ রচনাস্থল — আরাকান রাজসভা।
✦ পদ্মাবতীর প্রধান চরিত্র
পদ্মাবতী
❖ সিংহলের রাজকন্যা।
❖ কাব্যের প্রধান নারীচরিত্র।
রত্নসেন
❖ চিতোরের রাজা।
❖ পদ্মাবতীর প্রেমিক ও স্বামী।
আলাউদ্দিন খলজি
❖ দিল্লির ঐতিহাসিক সুলতানের নাম কাব্যে ব্যবহৃত হয়েছে।
❖ তাঁর উপস্থিতি কাহিনির সংঘাত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গড়ে তোলে।
✦ ইতিহাস ও সাহিত্যিক কল্পনার পার্থক্য
❖ আলাউদ্দিন খলজি একজন ঐতিহাসিক শাসক ছিলেন।
❖ চিতোরের অভিযানও ঐতিহাসিক ঘটনা।
❖ তবে পদ্মাবতী ও রত্নসেনের প্রেমকাহিনির সব বর্ণনাকে প্রামাণ্য ইতিহাস হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।
❖ জয়সীর কাব্যে সুফি রূপক ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যার গুরুত্ব রয়েছে।
❖ আলাওলের বাংলা রূপান্তরে মানবিক প্রেম ও কাব্যিক সৌন্দর্য বিশেষভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. খোয়াবনামা — ভুল।
খোয়াবনামা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাশিল্পী আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস। এটি ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
❖ খ. পদ্মাবতী — সঠিক।
আলাওলের পদ্মাবতী ১৬৪৮ সালের মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্য।
❖ গ. গৃহদাহ — ভুল।
গৃহদাহ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আধুনিক বাংলা উপন্যাস।
❖ ঘ. মহাশ্মশান — ভুল।
মহাশ্মশান আধুনিক যুগের কবি কায়কোবাদের কাব্য। এটি ১৯০৪ সালে প্রকাশিত এবং তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ এর ঐতিহাসিক পটভূমি।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মধ্যযুগের কাব্য — পদ্মাবতী।
➤ পদ্মাবতীর রচয়িতা — আলাওল।
➤ পদ্মাবতীর রচনাকাল — ১৬৪৮।
➤ মূল কাব্য — পদুমাবৎ।
➤ পদুমাবতের রচয়িতা — মালিক মুহম্মদ জয়সী।
➤ পদুমাবতের ভাষা — অওধি।
➤ জয়সীর পদুমাবৎ রচনা — ১৫৪০।
➤ পদ্মাবতীর পৃষ্ঠপোষক — মাগন ঠাকুর।
➤ পদ্মাবতীর প্রধান চরিত্র — পদ্মাবতী ও রত্নসেন।
➤ আলাওলের উপাধি — পণ্ডিতকবি।
➤ খোয়াবনামার রচয়িতা — আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
➤ গৃহদাহের রচয়িতা — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
➤ মহাশ্মশানের রচয়িতা — কায়কোবাদ।
➤ মনে রাখার সূত্র — জয়সীর পদুমাবৎ ⇒ আলাওলের পদ্মাবতী ⇒ ১৬৪৮ ⇒ মধ্যযুগ।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. পদ্মাবতী।
04
🎯 Level 1

১২. হিন্দি ও ফারসি কাব্য থেকে কোন কাব্যধারার প্রচলন হয়েছে? (আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব: ০৫)

ক

নাথ সাহিত্য

খ

প্রণয়োপাখ্যান

গ

পদাবলি

ঘ

মঙ্গলকাব্য

✅ সঠিক উত্তর:খ. প্রণয়োপাখ্যান

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: প্রণয়োপাখ্যান।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে হিন্দি ও ফারসি সাহিত্যিক ঐতিহ্যের প্রভাবে রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বিকশিত হয়।
❖ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন ভাষায় প্রেম, বিরহ, অভিযাত্রা ও অলৌকিক ঘটনা অবলম্বনে আখ্যানকাব্য রচিত হয়েছিল।
❖ ফারসি কবিরা প্রেমকাহিনিকে সুফি ধর্মীয় ভাবনা, আধ্যাত্মিক প্রতীক ও সাহিত্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত করে সমৃদ্ধ করেন।
❖ অন্যদিকে হিন্দি ও অওধি ভাষার কবিরাও প্রেমকাহিনি অবলম্বনে গুরুত্বপূর্ণ আখ্যান রচনা করেন।
❖ বাংলার মুসলমান কবিরা এসব রচনা থেকে কাহিনির উপাদান গ্রহণ করেন।
❖ তাঁরা কেবল বিদেশি কাহিনি অনুবাদ করেননি; বাংলা ভাষা, কাব্যিক ছন্দ, স্থানীয় ভাব ও নিজস্ব কল্পনা যোগ করে নতুন সাহিত্যিক রূপ দিয়েছেন।
❖ এর ফলে বাংলা সাহিত্যে ইউসুফ-জোলেখা, লায়লী-মজনু, পদ্মাবতী এবং মধুমালতীর মতো রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের বিকাশ ঘটে।
✦ ফারসি সাহিত্যধারার প্রভাব
১. ইউসুফ-জোলেখা
❖ মূল ধর্মীয় আখ্যান সুরা ইউসুফ।
❖ পরবর্তী ফারসি সাহিত্যে এর বিস্তৃত রোমান্টিক রূপ গড়ে ওঠে।
২. লায়লী-মজনু
❖ মূল কাহিনি আরবীয়।
❖ নিজামী গঞ্জভীর ফারসি কাব্য এই প্রেমকাহিনিকে আন্তর্জাতিক সাহিত্যিক মর্যাদা দেয়।
৩. হপ্তপয়কর
❖ নিজামী গঞ্জভীর ফারসি কাব্য।
❖ আলাওল বাংলায় রূপান্তর করেন।
৪. সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল
❖ ফারসি আখ্যান অবলম্বনে আলাওলের বাংলা কাব্য।
✦ হিন্দি ও অওধি সাহিত্যের প্রভাব
১. পদুমাবৎ
❖ রচয়িতা — মালিক মুহম্মদ জয়সী।
❖ ভাষা — অওধি।
❖ রচনাকাল — ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ আলাওল এই কাহিনি অবলম্বনে পদ্মাবতী রচনা করেন।
২. মধুমালতী
❖ হিন্দি কবি মনঝনের গুরুত্বপূর্ণ রোমান্টিক কাব্য।
❖ বাংলা কবি মুহম্মদ কবীরের মধুমালতীর সঙ্গে এর সাহিত্যিক সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে।
✦ প্রণয়োপাখ্যানের প্রধান বৈশিষ্ট্য
❖ প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক প্রধান বিষয়।
❖ বিরহ, আকাঙ্ক্ষা ও সামাজিক বাধার বর্ণনা।
❖ কোনো কোনো কাব্যে অলৌকিকতা ও অভিযান।
❖ মানবিক আবেগের গুরুত্ব।
❖ কল্পনা ও নৈতিক ভাবনার সমন্বয়।
❖ হিন্দি-ফারসি কাহিনির বাংলা রূপান্তর।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. নাথ সাহিত্য — ভুল।
নাথসাহিত্য মূলত ভারতীয় যোগসাধনা, গোরক্ষনাথ ও গোপীচন্দ্রসংক্রান্ত লোকধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ খ. প্রণয়োপাখ্যান — সঠিক।
হিন্দি ও ফারসি প্রেমকাব্যের প্রভাবে বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান বিশেষভাবে বিকশিত হয়েছে।
❖ গ. পদাবলি — ভুল।
বাংলা বৈষ্ণব পদাবলি মূলত রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তিকেন্দ্রিক গীতিকবিতার ধারা। এর বিকাশে বিদ্যাপতি ও জয়দেবের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।
❖ ঘ. মঙ্গলকাব্য — ভুল।
মঙ্গলকাব্য বাংলার লোকদেবতা ও পৌরাণিক বিশ্বাসকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ হিন্দি ও ফারসি কাব্যপ্রভাবিত বাংলা সাহিত্যধারা — প্রণয়োপাখ্যান।
➤ বাংলা প্রণয়োপাখ্যানের প্রধান বিষয় — মানবিক প্রেম।
➤ পদ্মাবতীর মূল উৎস — পদুমাবৎ।
➤ পদুমাবতের রচয়িতা — মালিক মুহম্মদ জয়সী।
➤ পদুমাবতের ভাষা — অওধি।
➤ পদ্মাবতীর রচয়িতা — আলাওল।
➤ লায়লী-মজনুর বাংলা কবি — দৌলত উজির বাহরাম খাঁ।
➤ ফারসি লায়লী-মজনুর বিখ্যাত কবি — নিজামী গঞ্জভী।
➤ হপ্তপয়করের বাংলা কবি — আলাওল।
➤ মধুমালতীর হিন্দি কবি — মনঝন।
➤ নাথসাহিত্য — যোগসাধনাকেন্দ্রিক সাহিত্য।
➤ বৈষ্ণব পদাবলি — রাধাকৃষ্ণভক্তিমূলক সাহিত্য।
➤ মঙ্গলকাব্য — দেবদেবীর মাহাত্ম্যকেন্দ্রিক কাব্য।
➤ মনে রাখার সূত্র — হিন্দি-ফারসি প্রেমকাহিনি ⇒ বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. প্রণয়োপাখ্যান।
05
🎯 Level 1

১৫. ‘লায়লী-মজনু’ কাব্যের উপাখ্যান কোন দেশের? (জীবন বীমা কর্পোরেশনের অফিস সহকারী: ২১ / সোনালী ব্যাংক লিমিটেড অফিসার: ১৮)

ক

সৌদি আরব

খ

ইরাক

গ

ইরান

ঘ

মিশর

✅ সঠিক উত্তর:ক. সৌদি আরব

ব্যাখ্যা:

মূল উৎস বিবেচনায় সংশোধিত উত্তর: ক
◈ মূল প্রেমকিংবদন্তির ভৌগোলিক উৎস অনুযায়ী অধিক সঠিক উত্তর: ক. সৌদি আরব।
✧ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী: প্রদত্ত ফাইলে গ. ইরান উত্তর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লায়লী-মজনুর মূল কাহিনি সপ্তম শতকের আরবীয় উপাখ্যান, পরবর্তী ফারসি সাহিত্যিক রূপ নয়। আধুনিক দেশের বিকল্প হিসেবে ক. সৌদি আরব অধিক যথার্থ। তবে পুরোনো প্রশ্নব্যাংকে ফারসি সাহিত্যিক উৎস ধরে গ. ইরান দেওয়া হতে পারে।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ লায়লী-মজনু মূলত আরবীয় উৎসের একটি বিখ্যাত বিরহমূলক প্রেমকাহিনি।
❖ কাহিনির কেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্র কয়েস ইবনে আল-মুলাওয়াহ।
❖ তিনি বনু আমির গোত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রেমিক-কবি হিসেবে আরবি সাহিত্যিক ঐতিহ্যে পরিচিত।
❖ লায়লীর প্রতি গভীর প্রেমের কারণে তিনি মজনু, অর্থাৎ প্রেমোন্মাদ নামে পরিচিত হন।
❖ মূল কাহিনির ঐতিহাসিক ও লোককাহিনিগত পটভূমি সপ্তম শতকের আরব।
❖ Encyclopaedia Iranica-র গবেষণা অনুযায়ী, লায়লী-মজনুর কিংবদন্তির উৎপত্তি সপ্তম শতকের আরবে।
❖ আরবি সাহিত্যিক উৎসে এই প্রেমকাহিনি প্রথমে বিচ্ছিন্ন ঘটনা, কবিতা ও লোককাহিনির আকারে প্রচলিত ছিল।
❖ পরে ফারসি কবি নিজামী গঞ্জভী ১১৮৮ সালে লায়লী-মজনু কাহিনিকে পূর্ণাঙ্গ আখ্যানকাব্যে রূপ দেন।
❖ তাঁর কাব্যটি ফারসি সাহিত্যকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ করে এবং পরবর্তী বিভিন্ন ভাষার কাব্যরচনাকে প্রভাবিত করে।
❖ বাংলা লায়লী-মজনু কাব্যের রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খাঁ।
❖ তিনি আরবীয় উৎসের এই কাহিনি পূর্ববর্তী ফারসি সাহিত্যিক ঐতিহ্যের প্রভাবে বাংলায় রূপান্তর করেন।
✦ মূল কাহিনির ভৌগোলিক উৎস
❖ মূল কাহিনি — আরবীয় কিংবদন্তি।
❖ ঐতিহাসিক সময় — সপ্তম শতক।
❖ প্রধান অঞ্চল — আরবের নজদ অঞ্চল।
❖ নজদ বর্তমানে সৌদি আরবের অন্তর্গত।
❖ তবে সপ্তম শতকে বর্তমান সৌদি আরব রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিল না।
❖ তাই ঐতিহাসিকভাবে ‘আরবের নজদ অঞ্চল’ এবং বর্তমান ভূগোল অনুযায়ী ‘সৌদি আরব’ বলা যথাযথ।
✦ ফারসি সাহিত্যিক বিকাশ
❖ নিজামী গঞ্জভী ফারসি ভাষায় লায়লী-মজনু রচনা করেন।
❖ তাঁর কাব্য রচিত হয় ১১৮৮ খ্রিষ্টাব্দে।
❖ এটি তাঁর বিখ্যাত খামসা বা পাঁচটি দীর্ঘ আখ্যানকাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
❖ ফারসি সাহিত্যে প্রেমকাহিনিটি নতুন শিল্পরূপ লাভ করে।
❖ পরবর্তী সময়ে আমির খসরু ও অন্যান্য কবিও এই কাহিনি নিয়ে সাহিত্য রচনা করেন।
❖ এই ফারসি সাহিত্যিক বিকাশের কারণে অনেক সময় লায়লী-মজনুকে ভুলভাবে ইরানের আদি কাহিনি বলা হয়।
✦ আরবীয় উৎস ও ফারসি রূপান্তরের পার্থক্য
মূল প্রেমকিংবদন্তি:
❖ অঞ্চল — আরব।
❖ সময় — সপ্তম শতক।
❖ প্রধান চরিত্র — কয়েস ও লায়লী।
ফারসি কাব্যিক রূপ:
❖ বিখ্যাত কবি — নিজামী গঞ্জভী।
❖ রচনাকাল — ১১৮৮।
❖ ভাষা — ফারসি।
বাংলা কাব্যিক রূপ:
❖ কবি — দৌলত উজির বাহরাম খাঁ।
❖ সাহিত্যিক সময় — ষোড়শ শতক।
❖ ভাষা — বাংলা।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. সৌদি আরব — আদি কাহিনির ভৌগোলিক উৎস অনুযায়ী সঠিক।
প্রাচীন আরবের নজদ অঞ্চল বর্তমানে সৌদি আরবের অন্তর্গত। তাই প্রদত্ত আধুনিক দেশগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে যথাযথ উত্তর।
❖ খ. ইরাক — ভুল।
আরবি সাহিত্যচর্চায় ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও লায়লী-মজনুর মূল কিংবদন্তির পরিচিত উৎপত্তিস্থল ইরাক নয়।
❖ গ. ইরান — পুরোনো পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর, কিন্তু মূল উৎপত্তিস্থল নয়।
ফারসি সাহিত্যে লায়লী-মজনু ব্যাপক বিকাশ লাভ করেছে। তবে মূল কাহিনি ইরানে উৎপন্ন হয়নি।
❖ ঘ. মিশর — ভুল।
মিসর ইউসুফের কোরআনিক কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রেক্ষাপট। লায়লী-মজনুর মূল কিংবদন্তির উৎস নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ লায়লী-মজনুর মূল কিংবদন্তি — আরবীয়।
➤ আদি কাহিনির অঞ্চল — নজদ।
➤ নজদ বর্তমানে — সৌদি আরবের অন্তর্গত।
➤ মূল কাহিনির ঐতিহাসিক সময় — সপ্তম শতক।
➤ লায়লী-মজনুর নায়ক — কয়েস।
➤ কয়েসের অপর নাম — মজনু।
➤ মজনু অর্থ — প্রেমোন্মাদ।
➤ ফারসি লায়লী-মজনুর বিখ্যাত কবি — নিজামী গঞ্জভী।
➤ নিজামীর কাব্যের রচনাকাল — ১১৮৮।
➤ বাংলা লায়লী-মজনুর কবি — দৌলত উজির বাহরাম খাঁ।
➤ পুরোনো পরীক্ষার বইয়ে দেওয়া উত্তর — ইরান।
➤ মূল ভৌগোলিক উৎসের অধিক নির্ভুল উত্তর — সৌদি আরবের অন্তর্গত প্রাচীন আরব অঞ্চল।
➤ মনে রাখার সূত্র — আরবীয় কাহিনি ⇒ নিজামীর ফারসি কাব্য ⇒ বাহরাম খাঁর বাংলা রূপ।
◈ চূড়ান্ত সংশোধিত উত্তর: ক. সৌদি আরব।
Advertisement
06
🎯 Level 1

১৮. বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রণয়োপাখ্যান কোনটি? (কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান সহকারী: ২১)

ক

লায়লী-মজনু

খ

ইউসুফ-জোলেখা

গ

চন্দ্রাবতী

ঘ

পদ্মাবতী

✅ সঠিক উত্তর:খ. ইউসুফ-জোলেখা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক পরীক্ষাভিত্তিক উত্তর: ইউসুফ-জোলেখা।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান হিসেবে শাহ মুহম্মদ সগীরের ‘ইউসুফ-জোলেখা’ স্বীকৃত।
❖ এটি মুসলমান কবিদের বাংলা সাহিত্যচর্চার প্রাচীনতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
❖ শাহ মুহম্মদ সগীর চতুর্দশ শতকের শেষভাগ বা পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগে কাব্যটি রচনা করেন।
❖ তাঁর কাব্যে গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের প্রশস্তি রয়েছে।
❖ এই তথ্যের ভিত্তিতে রচনাকাল সুলতানের শাসনামলে নির্ধারণ করা হয়েছে।
❖ ইউসুফ-জোলেখার মূল বিষয় প্রেম, সৌন্দর্য, বিরহ, আকর্ষণ, নৈতিকতা এবং ধর্মীয় বিশ্বাস।
❖ মূল আখ্যানের ধর্মীয় ভিত্তি কোরআনের সুরা ইউসুফ।
❖ কিন্তু সগীর তাঁর কাব্যে মানুষের প্রেম ও আবেগকে বিস্তৃত সাহিত্যিক রূপ দিয়েছেন।
❖ বাংলা সাহিত্যে মুসলমান কবিদের স্বতন্ত্র রোমান্টিক আখ্যানধারার বিকাশে এই কাব্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ পরবর্তী সময়ে বাহরাম খাঁ, মুহম্মদ কবীর, সাবিরিদ খান, মাগন ঠাকুর এবং আলাওলের মতো কবিরা এই ধারাকে সমৃদ্ধ করেন।
✦ ইউসুফ-জোলেখাকে প্রথম প্রণয়োপাখ্যান বলা হয় কেন?
১. প্রাচীন রচনাকাল
❖ প্রদত্ত অন্যান্য কাব্যের তুলনায় ইউসুফ-জোলেখা আগে রচিত।
২. মানবিক প্রেমের গুরুত্ব
❖ ইউসুফ ও জোলেখার প্রেমকাহিনি প্রধান সাহিত্যিক বিষয়।
৩. পূর্ববর্তী সাহিত্যিক ঐতিহ্যের বাংলা রূপ
❖ ধর্মীয় ও পারসিক সাহিত্যিক কাহিনির উপাদান বাংলায় নতুন কাব্যিক রূপ পেয়েছে।
৪. পরবর্তী সাহিত্যধারায় প্রভাব
❖ মুসলমান কবিদের বাংলা প্রণয়োপাখ্যান রচনার ধারায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পথিকৃৎ।
✦ ‘প্রথম প্রণয়োপাখ্যান’ সম্পর্কে গবেষণাগত সতর্কতা
❖ বাংলা সাহিত্যে ইউসুফ-জোলেখার আগে প্রেমবিষয়ক কোনো সাহিত্য ছিল না—এ কথা সঠিক নয়।
❖ বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তনসহ পূর্ববর্তী সাহিত্যেও প্রেমের বর্ণনা রয়েছে।
❖ কিন্তু মুসলমান কবিদের মানবিক প্রেমকেন্দ্রিক রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান একটি স্বতন্ত্র সাহিত্য-ইতিহাসগত শ্রেণি।
❖ এই নির্দিষ্ট ধারার প্রাচীনতম পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ কাব্য হিসেবে ইউসুফ-জোলেখাকে চিহ্নিত করা হয়।
❖ তাই প্রশ্নের ‘প্রথম’ শব্দটি এই বিশেষ সাহিত্যিক ধারা অনুযায়ী বুঝতে হবে।
✦ পরবর্তী রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের বিকাশ
লায়লী-মজনু
❖ কবি — দৌলত উজির বাহরাম খাঁ।
❖ শতাব্দী — ষোড়শ।
মধুমালতী
❖ কবি — মুহম্মদ কবীর।
❖ মধ্যযুগীয় বাংলা প্রেমকাব্যধারার গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
বিদ্যাসুন্দর
❖ কবি — সাবিরিদ খানসহ একাধিক কবি।
❖ বিদ্যা ও সুন্দরের প্রেমকাহিনি প্রধান বিষয়।
চন্দ্রাবতী
❖ কবি — মাগন ঠাকুর।
❖ আরাকানকেন্দ্রিক সাহিত্যধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।
পদ্মাবতী
❖ কবি — আলাওল।
❖ রচনাকাল — ১৬৪৮।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. লায়লী-মজনু — ভুল।
দৌলত উজির বাহরাম খাঁর ষোড়শ শতকের কাব্য। ইউসুফ-জোলেখার পরবর্তী।
❖ খ. ইউসুফ-জোলেখা — সঠিক।
শাহ মুহম্মদ সগীরের ইউসুফ-জোলেখা বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের প্রাচীনতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচিত কাব্য।
❖ গ. চন্দ্রাবতী — ভুল।
মাগন ঠাকুরের রোমান্টিক কাব্য। এটি পরবর্তী সময়ের সাহিত্যধারার অন্তর্গত।
❖ ঘ. পদ্মাবতী — ভুল।
আলাওলের পদ্মাবতী ১৬৪৮ সালে রচিত। এটি ইউসুফ-জোলেখার প্রায় আড়াই শতক পরবর্তী রচনা।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রণয়োপাখ্যান — ইউসুফ-জোলেখা।
➤ ইউসুফ-জোলেখার রচয়িতা — শাহ মুহম্মদ সগীর।
➤ সগীরের সাহিত্যিক যুগ — চতুর্দশ শতকের শেষভাগ ও পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ।
➤ সগীরের সঙ্গে সম্পর্কিত সুলতান — গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ।
➤ ইউসুফ-জোলেখার মূল ধর্মীয় কাহিনি — সুরা ইউসুফ।
➤ বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের প্রধান বিষয় — মানবিক প্রেম।
➤ লায়লী-মজনু — দৌলত উজির বাহরাম খাঁ।
➤ মধুমালতী — মুহম্মদ কবীর।
➤ বিদ্যাসুন্দর — সাবিরিদ খানসহ একাধিক কবি।
➤ চন্দ্রাবতী — মাগন ঠাকুর।
➤ পদ্মাবতী — আলাওল।
➤ পদ্মাবতীর রচনাকাল — ১৬৪৮।
➤ প্রণয়োপাখ্যানের প্রধান সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য — প্রেম, বিরহ ও কাহিনিনির্ভরতা।
➤ মনে রাখার সূত্র — প্রথম পরিচিত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ⇒ সগীরের ইউসুফ-জোলেখা।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. ইউসুফ-জোলেখা।
07
🎯 Level 1

৪৪. ‘নসীরানামা’ কাব্যগ্রন্থ কার রচনা? (জীবন বীমা কর্পোরেশনের উচ্চমান সহকারী: ২১; সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক: ০৬)

ক

দৌলত কাজী

খ

কবি মরদন

গ

কোরেশী মাগন ঠাকুর

ঘ

আলাওল

✅ সঠিক উত্তর:খ. কবি মরদন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
• ◈ সঠিক উত্তর: কবি মরদন
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘নসীরানামা’ কবি মরদনের রচনা। বিভিন্ন গ্রন্থ ও উৎসে কাব্যটির নাম ‘নসীরানামা’, ‘নসীরনামা’ বা ‘নসীরা নামা’—এই ধরনের বানানভেদে পাওয়া যায়; কিন্তু রচয়িতা নিয়ে গ্রহণযোগ্য সাহিত্যের ইতিহাসে মূলত দ্বিমত নেই—তিনি মরদন। সরকারি শিক্ষক বাতায়নের মধ্যযুগীয় সাহিত্যবিষয়ক উপকরণেও মরদনের কাব্য হিসেবে ‘নসীরনামা’-র উল্লেখ রয়েছে।
❖ কবি মরদনের পরিচয়
➤ মরদন ছিলেন সপ্তদশ শতকের আরাকান/রোসাঙ্গকেন্দ্রিক কবি।
➤ তাঁর জীবন ও বংশপরিচয় সম্পর্কে দৌলত কাজী বা আলাওলের মতো বিস্তৃত ও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না। তাই তাঁর পিতা-মাতা বা বংশের বিষয়ে অনুমানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে লেখা ঠিক হবে না।
➤ তাঁর নিজের কাব্যে রোসাঙ্গ রাজ্যের ‘কাঞ্চি’ নামে একটি স্থানের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানকার সামাজিক ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর বর্ণনাও তিনি দিয়েছেন। সাহিত্য-ইতিহাসভিত্তিক গবেষণায় তাঁকে রাজা শ্রীসুধর্মার সময়কার কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
❖ ‘নসীরানামা’-র প্রকৃতি
❖ কাব্যটির কাহিনির কেন্দ্রে নসীরা বিবি ও নুরুদ্দিন-সম্পর্কিত একটি দেশীয় লোকপ্রচলিত প্রেমকাহিনি রয়েছে বলে সাহিত্য-ইতিহাসের আলোচনায় পাওয়া যায়।
➤ এতে প্রেম, ভাগ্য বা নিয়তির প্রভাব, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং শেষ পর্যন্ত মিলনের কাহিনি ফুটে ওঠে।
➤ তাই একে কেবল ‘ধর্মীয় নসিহতনামা’ বলা যথার্থ নয়। কিছু পরীক্ষামুখী ওয়েবসাইটে এমন বর্ণনা পাওয়া গেলেও সাহিত্য-ইতিহাসের বিস্তৃত আলোচনায় এটি দেশীয় উপাদাননির্ভর কাহিনীকাব্য/প্রণয়োপাখ্যান হিসেবেই বেশি গ্রহণযোগ্য।
❖ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
◉ মরদন — নসীরানামা
◉ দৌলত কাজী — সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
◉ মাগন ঠাকুর — চন্দ্রাবতী
◉ আলাওল — পদ্মাবতীসহ একাধিক কাব্য
অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক. দৌলত কাজী — ভুল।
✧ তাঁর প্রধান এবং একমাত্র সুপরিচিত কাব্য ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’। তিনি শেষ করতে পারেননি; আলাওল তা সম্পূর্ণ করেন।
গ. কোরেশী মাগন ঠাকুর — ভুল।
✧ মাগন ঠাকুর একই সঙ্গে আরাকান রাজ্যের একজন প্রভাবশালী অমাত্য, সাহিত্যপৃষ্ঠপোষক এবং কবি। তাঁর রচনা ‘চন্দ্রাবতী’। তিনি আলাওলের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষকও ছিলেন।
ঘ. আলাওল — ভুল।
✧ আলাওলের সবচেয়ে পরিচিত কাব্য ‘পদ্মাবতী’। এছাড়া ‘তোহফা’, ‘সপ্তপয়কর’, ‘সিকান্দরনামা’, ‘সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল’ প্রভৃতি তাঁর রচনা।
➤ সহজ সূত্র:
মরদন → নসীরানামা
মাগন → চন্দ্রাবতী
দৌলত → লোরচন্দ্রানী
আলাওল → পদ্মাবতী
08
🎯 Level 1

৫৬. কোন গ্রন্থটি মালাধর বসু অনূদিত? (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিনটেনডেন্ট: ২৪)

ক

হংসদূত

খ

বিদ্যাসুন্দর

গ

নূরনামা

ঘ

ভাগবত

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ভাগবত

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
• ◈ সঠিক উত্তর: ভাগবত
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মালাধর বসু সংস্কৃত ‘শ্রীমদ্ভাগবত’ বা ‘ভাগবত পুরাণ’ অবলম্বনে বাংলা কাব্য রচনা করেন। তাঁর এই বিখ্যাত কাব্যের নাম ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’।
❖ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ব বর্ধমান জেলার সরকারি ইতিহাসে বলা হয়েছে, মালাধর বসু পঞ্চদশ শতকের কবি এবং তাঁর ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ শ্রীমদ্ভাগবত অবলম্বনে রচিত।
❖ IGNOU-র মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যবিষয়ক পাঠ্যেও বলা হয়েছে, পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে মালাধর বসু Bhagavata Purana-কে বাংলায় অভিযোজিত করে ‘Srikrishnavijaya’ রচনা করেন।
❖ মালাধর বসুর পরিচয়:
➤ জন্মস্থান—বর্ধমানের কুলীনগ্রাম।
➤ তিনি পঞ্চদশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈষ্ণব কবি।
➤ গৌড়ের সুলতান রুকনুদ্দিন বরবক শাহ তাঁকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
➤ বরবক শাহ তাঁকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি প্রদান করেন।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
➤ হংসদূত: মালাধর বসুর রচনা নয়।
➤ বিদ্যাসুন্দর: বাংলা সাহিত্যে বিদ্যাসুন্দর আখ্যান বিভিন্ন কবি রচনা করেছেন; ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’-এর বিদ্যাসুন্দর পালা বিশেষ বিখ্যাত।
➤ নূরনামা: মধ্যযুগীয় মুসলিম বাংলা সাহিত্যের ধর্মীয় আখ্যানধারার অন্তর্ভুক্ত; মালাধর বসুর রচনা নয়।
◉ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
মালাধর বসু → শ্রীকৃষ্ণবিজয় → ভাগবত পুরাণ → গুণরাজ খান।
Advertisement
09
🎯 Level 1

৫৯. ‘রামায়ণ’ রচয়িতার নাম কী? (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা: ২২ / সিজিএ-এর অডিটর: ২২)

ক

বাল্মীকি

খ

ব্যাস

গ

চণ্ডীদাস

ঘ

এদের কেউ নন

✅ সঠিক উত্তর:ক. বাল্মীকি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
• ◈ সঠিক উত্তর: বাল্মীকি
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ মূল সংস্কৃত ‘রামায়ণ’-এর রচয়িতা মহর্ষি বাল্মীকি। তাঁকে ভারতীয় সংস্কৃত সাহিত্যে ‘আদিকবি’ এবং রামায়ণকে ‘আদিকাব্য’ বলা হয়।
❖ Central Sanskrit University-এর তথ্য অনুযায়ী, বাল্মীকির রামায়ণ সংস্কৃত ভাষায় রচিত এবং বর্তমান প্রচলিত পাঠে এতে প্রায় ২৪,০০০ শ্লোক ও ৭টি কাণ্ড রয়েছে।
❖ সাতটি কাণ্ড হলো—
➤ বালকাণ্ড
➤ অযোধ্যাকাণ্ড
➤ অরণ্যকাণ্ড
➤ কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ড
➤ সুন্দরকাণ্ড
➤ যুদ্ধকাণ্ড
➤ উত্তরকাণ্ড
❖ বাল্মীকির বংশপরিচয় সম্পর্কে সতর্কতা: তাঁর ঐতিহাসিক জীবন ও পারিবারিক পরিচয় নিশ্চিতভাবে পুনর্গঠন করা যায় না। বিভিন্ন পুরাণ ও লোককাহিনিতে তাঁর জন্ম ও পূর্বজীবন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কাহিনি রয়েছে। তাই কোনো একটি লোককথাকে নিশ্চিত ইতিহাস হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
❖ পরবর্তী সময়ে রামায়ণের বহু আঞ্চলিক রূপ সৃষ্টি হয়—
➤ বাংলা—কৃত্তিবাস ওঝা
➤ অবধি—তুলসীদাসের ‘রামচরিতমানস’
➤ তামিল—কম্বনের ‘রামাবতারম’ ইত্যাদি। Central Sanskrit University-ও কৃত্তিবাসের বাংলা সংস্করণসহ বিভিন্ন ভাষার রূপের কথা উল্লেখ
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
➤ খ. ব্যাস: মহাভারতের ঐতিহ্যগত রচয়িতা।
➤ গ. চণ্ডীদাস: বৈষ্ণব পদাবলি এবং বিশেষত বড়ু চণ্ডীদাস ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-এর সঙ্গে যুক্ত।
➤ ঘ. এদের কেউ নন: ভুল, কারণ বাল্মীকি অপশনে রয়েছেন।
10
🎯 Level 1

৪৮. ‘মহাভারত’-এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে? (ভূমি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা: ১৩)

ক

কবীন্দ্র পরমেশ্বর

খ

কাশীরাম দাস

গ

শ্রীকর নন্দী

ঘ

সঞ্জয়

✅ সঠিক উত্তর:খ. কাশীরাম দাস

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
• ◈ সঠিক উত্তর: কাশীরাম দাস
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত ইতিহাস ও চাকরির পরীক্ষার পরিভাষায় কাশীরাম দাসকে ‘মহাভারতের শ্রেষ্ঠ/সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুবাদক’ বলা হয়।
❖ এখানে ‘শ্রেষ্ঠ’ একটি সাহিত্য-মূল্যায়নমূলক শব্দ, কোনো গাণিতিক বা সম্পূর্ণ অবজেক্টিভ উপাধি নয়। অধিক নিরপেক্ষভাবে বলা যায়—কাশীরাম দাসের বাংলা মহাভারত সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী বাংলা সংস্করণগুলোর একটি।
❖ IGNOU-র ইতিহাস পাঠ্যেও কাশীরামের রূপান্তরকে “the most popular Bengali rendering of the Mahabharata” বলা হয়েছে।
❖ তাঁর মহাভারত ‘কাশীদাসী মহাভারত’ নামে জনপ্রিয় এবং কাব্যটির নাম ‘ভারত পাঁচালী’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
❖ বংশপরিচয়: কাশীরাম দাস বৈষ্ণব কায়স্থ পরিবারের সন্তান; পিতা কমলাকান্ত দাস। তাঁর দুই ভাইও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
❖ গবেষকেরা সাধারণভাবে মনে করেন কাশীরামের নিজের রচনা প্রধানত প্রথম চার পর্ব—আদি, সভা, বন ও বিরাট; পরবর্তী সম্পূর্ণ পাঠের গঠন দীর্ঘতর সাহিত্যিক প্রক্রিয়ার ফল।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
➤ কবীন্দ্র পরমেশ্বর: ‘পরাগলী মহাভারত’ বা ‘কবীন্দ্র মহাভারত’-এর রচয়িতা; বাংলা মহাভারতের প্রাচীন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কবি।
➤ শ্রীকর নন্দী: মহাভারত-অনুবাদের আরেক মধ্যযুগীয় কবি; অশ্বমেধপর্বের রূপান্তরের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
➤ সঞ্জয়: প্রাচীন বাংলা মহাভারত অনুবাদের ধারার সঙ্গে যুক্ত কবি; কিন্তু ‘শ্রেষ্ঠ/সর্বাধিক জনপ্রিয়’ হিসেবে পরীক্ষায় কাশীরামকেই ধরা হয়।
◉ পরীক্ষার পার্থক্যটি খুব গুরুত্বপূর্ণ:
পরাগলী মহাভারত → কবীন্দ্র পরমেশ্বর
সবচেয়ে জনপ্রিয়/শ্রেষ্ঠ বাংলা মহাভারত → কাশীরাম দাস।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন