🧠 🔖
👑 Premium Topic

বাংলা গদ্যের বিকাশ, যুগ সন্ধিক্ষণ, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও বাংলা ছাপাখানা

◉ বাংলা সাহিত্য›বাংলা গদ্যের বিকাশ, যুগ সন্ধিক্ষণ, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও বাংলা ছাপাখানা

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚70মোট প্রশ্ন
🎯4মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

১০. ‘হাতেম তাই’ গ্রন্থের অনুবাদক কে? (পোস্টমাস্টার জেনারেল, পূর্বাঞ্চলের পোস্টমাস্টার: ২৬)

ক

ফকির গরীবুল্লাহ

খ

আলাওল

গ

সৈয়দ হামজা

ঘ

সাবিরিদ খান

✅ সঠিক উত্তর:গ. সৈয়দ হামজা

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: গ
• ◈ সঠিক উত্তর: সৈয়দ হামজা
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলা ‘হাতেম তাই’ পুঁথির অনুবাদক/রূপান্তরকার সৈয়দ হামজা।
❖ তিনি উর্দু ‘আরায়েশ-ই মাহফিল’ (Arayesh-i Mahfil) অবলম্বনে কাহিনিটি বাংলায় রূপান্তর করেন। ডিজিটাইজড পুরোনো হাতেম তাই গ্রন্থের বর্ণনাতেও সৈয়দ হামজাকে উর্দু Arayesh-e Mahfil-এর অনুবাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
❖ কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র হাতেম তাই তাঁর উদারতা ও দানশীলতার জন্য আরব-ফারসি লোকঐতিহ্যে কিংবদন্তিতুল্য।
❖ সৈয়দ হামজার হাতেম তাই দোভাষী ভাষারীতিতে রচিত; অর্থাৎ বাংলা বাক্যের মধ্যে আরবি-ফারসি-উর্দু শব্দের প্রাচুর্য রয়েছে।
❖ বংশ ও পরিচয়
➤ তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার উদনা গ্রামের সৈয়দ পরিবারের সন্তান।
➤ তাঁর জীবনকাল আনুমানিক ১৭৫৫–১৮১৫।"
02
🎯 Level 1

১০. ‘হাতেম তাই’ গ্রন্থের অনুবাদক কে? (পোস্টমাস্টার জেনারেল, পূর্বাঞ্চলের পোস্টমাস্টার: ২৬)

ক

ফকির গরীবুল্লাহ

খ

আলাওল

গ

সৈয়দ হামজা

ঘ

সাবিরিদ খান

✅ সঠিক উত্তর:গ. সৈয়দ হামজা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
• ◈ সঠিক উত্তর: সৈয়দ হামজা
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলা ‘হাতেম তাই’ পুঁথির অনুবাদক/রূপান্তরকার সৈয়দ হামজা।
❖ তিনি উর্দু ‘আরায়েশ-ই মাহফিল’ (Arayesh-i Mahfil) অবলম্বনে কাহিনিটি বাংলায় রূপান্তর করেন। ডিজিটাইজড পুরোনো হাতেম তাই গ্রন্থের বর্ণনাতেও সৈয়দ হামজাকে উর্দু Arayesh-e Mahfil-এর অনুবাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
❖ কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র হাতেম তাই তাঁর উদারতা ও দানশীলতার জন্য আরব-ফারসি লোকঐতিহ্যে কিংবদন্তিতুল্য।
❖ সৈয়দ হামজার হাতেম তাই দোভাষী ভাষারীতিতে রচিত; অর্থাৎ বাংলা বাক্যের মধ্যে আরবি-ফারসি-উর্দু শব্দের প্রাচুর্য রয়েছে।
❖ বংশ ও পরিচয়
➤ তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার উদনা গ্রামের সৈয়দ পরিবারের সন্তান।
➤ তাঁর জীবনকাল আনুমানিক ১৭৫৫–১৮১৫।
Advertisement
03
🎯 Level 1

১৩. বাংলা সাহিত্যের ‘অবক্ষয় যুগ’ কোনটি? (রেলওয়ের ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস: ২৬)

ক

১৭৫০–১৮৫০

খ

১৭৬০–১৮৬০

গ

১৯০০–১৯৫০

ঘ

১৯৫১–২০০০

✅ সঠিক উত্তর:খ. ১৭৬০–১৮৬০

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
• ◈ সঠিক উত্তর: ১৭৬০–১৮৬০
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলাদেশের প্রচলিত সাহিত্য-ইতিহাস ও পরীক্ষামুখী যুগবিভাগে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে ‘অবক্ষয় যুগ’, ‘যুগসন্ধিক্ষণ’ ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়।
❖ ১৭৬০ সাল গুরুত্বপূর্ণ কারণ ওই বছর মধ্যযুগের শেষ বিশিষ্ট কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যু ঘটে।
❖ অন্যদিকে ১৮৬০-এর কাছাকাছি মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রমুখের হাতে আধুনিক বাংলা কাব্যের শক্তিশালী বিকাশ শুরু হয়।
❖ এ যুগের সাহিত্যধারা
➤ কবিগান
➤ পাঁচালি
➤ আখড়াই
➤ টপ্পা
➤ পুঁথিসাহিত্য/শায়েরি সাহিত্য
❖ এ যুগের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
✦ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
❖ ‘অবক্ষয়’ কথাটি একটি প্রচলিত সাহিত্য-ইতিহাসভিত্তিক মূল্যায়ন; আজকের গবেষণায় এই সময়কে একেবারেই সাহিত্যশূন্য মনে করা হয় না। কারণ লোকায়ত ও জনপ্রিয় সাহিত্য—কবিগান, পুঁথি, পাঁচালি, সংগীত ইত্যাদি—তখন সক্রিয় ছিল।
➤ পরীক্ষার উত্তর অবশ্যই: ১৭৬০–১৮৬০।
04
🎯 Level 1

১৬. ‘অবক্ষয়’ যুগের কবি কে? (সমন্বিত ৭ ব্যাংকের অফিসার: ২৩)

ক

শাহ মুহম্মদ সগীর

খ

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

গ

রামনিধি গুপ্ত

ঘ

সৈয়দ হামজা

✅ সঠিক উত্তর:খ. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
• ◈ সঠিক উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২–১৮৫৯) বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিক্ষণ বা অবক্ষয় যুগের প্রধান প্রতিনিধি কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর জীবনের প্রায় পুরো সাহিত্যিক সময়ই ১৭৬০–১৮৬০-এর এই পর্বের অন্তর্ভুক্ত।
❖ তিনি পুরোনো কবিয়াল-পরম্পরার সঙ্গে আধুনিক বাংলা সাহিত্য ও সংবাদপত্রের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন সৃষ্টি করেছিলেন।
❖ ব্যক্তিপরিচয় ও বংশপরিচয়
➤ জন্ম: ৬ মার্চ ১৮১২, কাঁচড়াপাড়া।
➤ পরিবার: বৈদ্য পরিবার।
➤ মৃত্যু: ২৩ জানুয়ারি ১৮৫৯, কলকাতা।
❖ তাঁর অন্যতম বড় অবদান ‘সংবাদ প্রভাকর’। ১৮৩১ সালে এটি প্রকাশ শুরু হয় এবং পরে বাংলা ভাষার প্রথম দিককার গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক সংবাদপত্রে পরিণত হয়।
❖ তিনি প্রাচীন কবিয়ালদের জীবন ও গান সংগ্রহ করেও বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
অন্যান্য অপশন:
✧ শাহ মুহম্মদ সগীর → মধ্যযুগের প্রণয়োপাখ্যান।
✧ রামনিধি গুপ্ত → একই যুগসন্ধিক্ষণের সংগীতব্যক্তিত্ব হলেও তাঁর মূল পরিচয় টপ্পা-রচয়িতা।
✧ সৈয়দ হামজা → দোভাষী পুঁথির কবি।
05
🎯 Level 1

১৯. পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি— (মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অধীন জুনিয়র অডিটর: ১১; কারা অধিদপ্তরের কারা তত্ত্বাবধায়ক: ১৩)

ক

সৈয়দ সুলতান

খ

ফকির গরীবুল্লাহ

গ

হায়াত মাহমুদ

ঘ

শেখ ফয়জুল্লাহ

✅ সঠিক উত্তর:খ. ফকির গরীবুল্লাহ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
• ◈ সঠিক উত্তর: ফকির গরীবুল্লাহ
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলা দোভাষী পুঁথিসাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ। তাঁর সময়কাল সাধারণত আনুমানিক ১৬৮০–১৭৭০ ধরা হয়।
❖ তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ‘আমীর হামজা’। ফকির গরীবুল্লাহ এর প্রথমাংশ রচনা করেন; পরে তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা অবশিষ্ট অংশ সম্পূর্ণ করেন। Banglapedia অনুসারে এ জনপ্রিয় দোভাষী সংস্করণের প্রথম অংশ গরীবুল্লাহ এবং পরবর্তী অংশ সৈয়দ হামজা রচনা করেন।
❖ তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা
◉ আমীর হামজা
◉ সোনাভান
◉ সত্যপীরের পুঁথি
◉ জঙ্গনামা
◉ ইউসুফ-জোলেখা
❖ তাঁর ‘ইউসুফ-জোলেখা’ তুলনামূলক শুদ্ধ বাংলায়, কিন্তু সোনাভান, সত্যপীরের পুঁথি, জঙ্গনামা ও আমীর হামজা মিশ্র বা দোভাষী ভাষায় রচিত বলে সাহিত্য-ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ বংশ ও স্থানপরিচয়
➤ তাঁর সুনির্দিষ্ট পিতা-মাতার নাম নিয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র অপ্রতুল।
➤ তিনি হুগলি-হাওড়া অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন; একাধিক ঐতিহাসিক সূত্রে হাফেজপুর এলাকার সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত পাওয়া যায়।
✦ গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য
ফকির গরীবুল্লাহ → পুঁথিসাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি
সৈয়দ হামজা → পরবর্তী অন্যতম প্রধান পুঁথিকার ও গরীবুল্লাহর শিষ্য
Advertisement
06
🎯 Level 1

২২. আধুনিক বাংলা গীতি কবিতার উৎস কী? (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক: ১৯)

ক

জারিগান

খ

গজল

গ

গম্ভীরা গান

ঘ

টপ্পা গান

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. টপ্পা গান

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
• ◈ সঠিক উত্তর: টপ্পা গান
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ পরীক্ষামুখী বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসে আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে টপ্পা গানকে চিহ্নিত করা হয়।
❖ বাংলা টপ্পায় ব্যক্তিগত প্রেম, বিরহ, অভিমান, আকাঙ্ক্ষা ও হৃদয়ের সূক্ষ্ম অনুভূতি প্রকাশের প্রবণতা শক্তিশালী ছিল। পরবর্তী আধুনিক গীতিকবিতার ব্যক্তিকেন্দ্রিক আবেগপ্রকাশের সঙ্গে এর একটি স্বাভাবিক ঐতিহাসিক যোগ রয়েছে।
❖ বাংলা টপ্পার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ নাম রামনিধি গুপ্ত বা নিধুবাবু (১৭৪১–১৮৩৯)। তিনি উত্তর ভারতীয় টপ্পার বৈশিষ্ট্যকে বাংলার ভাষা ও সুরের উপযোগী করে স্বতন্ত্র বাংলা রূপ দিয়েছিলেন।
❖ টপ্পার বৈশিষ্ট্য
➤ দ্রুত ও আন্দোলিত তান
➤ ছোট পরিসরে আবেগের তীব্রতা
➤ মানবিক প্রেম ও বিরহ
➤ সুর ও কথার ঘনিষ্ঠ সমন্বয়
অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
✧ জারিগান → কারবালার শোককাহিনিকেন্দ্রিক লোকসংগীতধারা।
✧ গজল → আরবি-ফারসি-উর্দু কাব্যসংগীতের বিশেষ রীতি; বাংলা গজলের বিকাশ পরে।
✧ গম্ভীরা → উত্তরবঙ্গ, বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-মালদহ অঞ্চলের লোকসংগীত ও লোকনাট্যধারা।
07
🎯 Level 1

২৪. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা কবে? (পিএসসির ইলেকট্রিক ইন্সপেক্টর: ২৫ / বেবিচকের সিনিয়র অফিসার: ২৪)

ক

উনিশ শতকে

খ

আঠার শতকে

গ

বিশ শতকে

ঘ

সতের শতকে

✅ সঠিক উত্তর:ক. উনিশ শতকে

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
• ◈ সঠিক উত্তর: উনিশ শতকে
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ প্রচলিত বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসের যুগবিভাগে ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ শুরু ধরা হয়। ১৮০১ সাল যেহেতু উনিশ শতকের প্রথম বছর, তাই সঠিক উত্তর ক. উনিশ শতকে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যেও ১৮০১ থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ বলা হয়েছে।
❖ আধুনিক যুগের সূচনাপর্বে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:
➤ ১৮০০ — ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা।
➤ ১৮০০ — শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের সক্রিয়তা ও বাংলা গদ্য মুদ্রণ।
➤ ১৮০১ — বাংলা গদ্যগ্রন্থ রচনায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের তৎপরতা।
➤ পরবর্তী সময়ে সংবাদপত্র, প্রবন্ধ, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প ইত্যাদির বিকাশ।
❖ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য ছিল মূলত পদ্যনির্ভর ও ধর্মকেন্দ্রিক। আধুনিক যুগে সাহিত্য মানুষের ব্যক্তিমানস, সমাজ, রাষ্ট্র, দেশপ্রেম, মানবতাবোধ ও বাস্তবজীবনের দিকে অধিক মনোযোগ দেয়।
✦ আধুনিক যুগের সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
➤ গদ্যের বিকাশ
➤ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য
➤ জাতীয়তাবোধ ও স্বদেশচেতনা
➤ মানবতাবাদ
➤ যুক্তিবাদ ও সমাজসচেতনতা
➤ উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধের বিস্তার।
✦ মনে রাখুন:
⇒ প্রাচীন যুগ → আনুমানিক ৬৫০/৯৫০–১২০০
⇒ মধ্যযুগ → ১২০১–১৮০০
⇒ আধুনিক যুগ → ১৮০১–বর্তমান
এটি চাকরির পরীক্ষার প্রচলিত যুগবিভাগ।
০৫. বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি? (ডাক অধিদপ্তরের উপজেলা পোস্টমাস্টার: ২৪ / সমন্বিত ৭ ব্যাংকের অফিসার: ২৩)
ক. সেক শুভোদয়া
খ. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
গ. মিশন সমাচার
ঘ. মঙ্গল সমাচার
ঘ. মঙ্গল সমাচার
◈ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-সংশোধনী: প্রশ্নটির উত্তর ও গ্রন্থের নামের মধ্যে ঐতিহাসিক অসংগতি রয়েছে। বিভিন্ন চাকরির প্রশ্নব্যাংকে গ. মিশন সমাচার দেওয়া হলেও বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ১৮০০ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত গ্রন্থটির প্রকৃত নাম ‘মঙ্গল সমাচার’, অর্থাৎ ঘ বিকল্পটি। আবার বাংলা ভাষায় রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ ১৭৪৩ সালেই প্রকাশিত হয়েছিল, যা আরও প্রাচীন। তাই প্রশ্নে বাংলা হরফের শর্ত না থাকলে একক নির্ভুল উত্তর নির্ধারণে সমস্যা হয়।
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা
❖ বাংলা গদ্যের ইতিহাসে ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ এবং ‘মঙ্গল সমাচার’ দুটি পৃথক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এদের মুদ্রণকাল, মুদ্রণস্থান ও ব্যবহৃত হরফ আলাদা।
❖ ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ ১৭৪৩ সালে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত হয়। গ্রন্থটির রচয়িতা পর্তুগিজ ধর্মপ্রচারক মানোএল দা আসসুম্পসাঁও।
❖ এটি বাংলা ভাষার প্রাচীন মুদ্রিত গদ্যনিদর্শন। যদিও এর ভাষা বাংলা, মুদ্রণে বাংলা বর্ণমালার পরিবর্তে রোমান অক্ষর ব্যবহৃত হয়েছে।
❖ অন্যদিকে ‘মঙ্গল সমাচার মতীয়ের রচিত’ ১৮০০ সালের আগস্টে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে বাংলা হরফে প্রকাশিত হয়।
❖ গ্রন্থটি খ্রিষ্টধর্মের নিউ টেস্টামেন্ট-এর Gospel According to Matthew, অর্থাৎ মথি লিখিত সুসমাচারের বাংলা অনুবাদ।
❖ মথি মূল ধর্মগ্রন্থের লেখক হিসেবে চিহ্নিত; বাংলা অনুবাদ ও প্রকাশনার উদ্যোগের সঙ্গে উইলিয়াম কেরি এবং শ্রীরামপুর মিশনের সহযোগীরা যুক্ত ছিলেন। তাই মথিকে সরাসরি বাংলা অনুবাদক বলা যথাযথ নয়।
❖ শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের মুদ্রণকাজ পরিচালনায় উইলিয়াম ওয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাংলা হরফ নির্মাণ ও মুদ্রণপ্রযুক্তির বিকাশে পঞ্চানন কর্মকারেরও অবদান রয়েছে।
❖ বাংলাপিডিয়ার ‘শ্রীরামপুর মিশন প্রেস’ নিবন্ধে স্পষ্টভাবে ‘মঙ্গল সমাচার’ নামটি উল্লেখ করা হয়েছে এবং একে বাংলা হরফে মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ বলা হয়েছে।
❖ এ কারণে প্রশ্নব্যাংকে প্রচলিত ‘মিশন সমাচার’ নামটির পরিবর্তে ‘মঙ্গল সমাচার’ ঐতিহাসিকভাবে অধিক নির্ভরযোগ্য নাম।
✦ ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
❖ রচয়িতা — মানোএল দা আসসুম্পসাঁও, একজন পর্তুগিজ খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারক।
❖ গ্রন্থটি আনুমানিক ১৭৩৫ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে প্রকাশিত।
❖ প্রকাশস্থান — পর্তুগালের রাজধানী লিসবন।
❖ মুদ্রণের হরফ — রোমান। অর্থাৎ বাংলা ভাষার বাক্য লেখা হয়েছিল রোমান অক্ষরে।
❖ গ্রন্থটিতে ধর্মীয় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মীয় শিক্ষা ও মতবাদ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
❖ একই সময়ে লিসবন থেকে ‘ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ’ নামে আরেকটি বাংলা গদ্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এর রচয়িতা দোম আন্তোনিও।
❖ এই দুটি গ্রন্থ প্রমাণ করে যে বাংলা গদ্যের মুদ্রণ-ইতিহাস ১৮০০ সালের আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।
✦ ‘মঙ্গল সমাচার’ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
❖ প্রকাশকাল — ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট।
❖ প্রকাশস্থান — শ্রীরামপুর মিশন প্রেস।
❖ গ্রন্থের পরিচিত পূর্ণ শিরোনাম — ‘মঙ্গল সমাচার মতীয়ের রচিত’।
❖ মূল বিষয় — বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টের মথি-লিখিত সুসমাচার।
❖ বাংলা অনুবাদ ও মুদ্রণকাজের সঙ্গে উইলিয়াম কেরি এবং শ্রীরামপুর মিশনের কর্মীরা যুক্ত ছিলেন।
❖ এটি বাংলা হরফে মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ হিসেবে বাংলাপিডিয়ায় চিহ্নিত।
❖ এই গ্রন্থ প্রকাশ বাংলা মুদ্রণশিল্পের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
✦ বাংলা গদ্যের ইতিহাসে তিনটি পৃথক ‘প্রথম’ পরিচয়
❖ ১. বাংলা ভাষার প্রাচীন মুদ্রিত গদ্যগ্রন্থ (রোমান হরফে)
➤ কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ — ১৭৪৩, লিসবন।
❖ ২. বাংলা হরফে মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ
➤ মঙ্গল সমাচার — ১৮০০, শ্রীরামপুর।
❖ ৩. বাংলা হরফে মুদ্রিত প্রথম মৌলিক বাংলা গদ্যগ্রন্থ হিসেবে পরিচিত সাহিত্যিক রচনা
➤ রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র — রামরাম বসু, ১৮০১। এখানে ধর্মগ্রন্থের অনুবাদের পরিবর্তে মৌলিক বাংলা গদ্যরচনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. সেক শুভোদয়া — ভুল।
‘সেখশুভোদয়া’ সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে রচিত একটি চম্পূকাব্য। এতে শেখের মাহাত্ম্যসংক্রান্ত আখ্যান রয়েছে এবং মোট ২৫টি অধ্যায় আছে।
গ্রন্থটির রচয়িতা হিসেবে হলায়ুধ মিশ্রের নাম প্রচলিত হলেও বাংলাপিডিয়ায় লেখকত্ব ও রচনাকাল নিয়ে গবেষকদের সন্দেহের কথা উল্লেখ রয়েছে। এটি আলোচ্য প্রথম মুদ্রিত বাংলা গদ্যগ্রন্থ নয়।
❖ খ. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ — আক্ষরিক প্রশ্ন অনুযায়ী ঐতিহাসিকভাবে গ্রহণযোগ্য।
১৭৪৩ সালে বাংলা ভাষায় রোমান হরফে গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়েছে। ফলে বাংলা হরফের শর্ত ছাড়া শুধু মুদ্রিত বাংলা গদ্যগ্রন্থের প্রাচীনত্ব বিচার করলে এটি ১৮০০ সালের মঙ্গল সমাচারের চেয়ে আগের।
❖ গ. মিশন সমাচার — প্রশ্নব্যাংকের প্রচলিত উত্তর, কিন্তু নামগতভাবে সমস্যাযুক্ত।
একাধিক চাকরির প্রশ্নসমাধানে ‘মিশন সমাচার’ উত্তর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের ঐতিহাসিক বিবরণে গ্রন্থটির নাম ‘মঙ্গল সমাচার’। ‘মিশন সমাচার’ নামে একই গ্রন্থের স্বতন্ত্র প্রামাণ্য শিরোনাম নিশ্চিত করা যায়নি।
❖ ঘ. মঙ্গল সমাচার — বাংলা হরফে প্রথম গ্রন্থ বোঝালে সঠিক।
১৮০০ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত মঙ্গল সমাচার বাংলা হরফে মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ। প্রশ্নটির উদ্দেশ্য যদি বাংলা হরফে প্রথম মুদ্রিত গদ্যগ্রন্থ বোঝানো হয়, তাহলে এটিই ঐতিহাসিকভাবে সঠিক বিকল্প।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ চাকরির প্রশ্নব্যাংকে প্রচলিত উত্তর — গ. মিশন সমাচার।
➤ ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত গ্রন্থের নাম — মঙ্গল সমাচার।
➤ বাংলা হরফে প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ — মঙ্গল সমাচার (১৮০০)।
➤ বাংলা ভাষার প্রাচীন রোমান হরফে মুদ্রিত গদ্যগ্রন্থ — কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ (১৭৪৩)।
➤ কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদের রচয়িতা — মানোএল দা আসসুম্পসাঁও।
➤ কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদের প্রকাশস্থান — লিসবন, পর্তুগাল।
➤ কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদের মুদ্রণলিপি — রোমান।
➤ মঙ্গল সমাচারের প্রকাশস্থান — শ্রীরামপুর মিশন প্রেস।
➤ মঙ্গল সমাচারের প্রকাশকাল — আগস্ট, ১৮০০।
➤ মঙ্গল সমাচারের মূল ধর্মগ্রন্থ — মথি-লিখিত সুসমাচার।
➤ শ্রীরামপুর মিশনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব — উইলিয়াম কেরি ও উইলিয়াম ওয়ার্ড।
➤ বাংলা মুদ্রণহরফের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি — পঞ্চানন কর্মকার।
➤ রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্রের রচয়িতা — রামরাম বসু।
➤ রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র প্রকাশ — ১৮০১।
➤ সেখশুভোদয়া — সংস্কৃত চম্পূকাব্য।
➤ সেখশুভোদয়ার অধ্যায়সংখ্যা — ২৫টি।
➤ মনে রাখার সূত্র — ১৭৪৩ ⇒ কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ (রোমান হরফ); ১৮০০ ⇒ মঙ্গল সমাচার (বাংলা হরফ); ১৮০১ ⇒ রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (মৌলিক গদ্য)।
◈ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
এই প্রশ্নটির বিকল্পগুলো সংশোধন করা প্রয়োজন। পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর গ হলেও তা ইতিহাসসম্মত শিরোনাম নয়।
শুধু বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রাচীন গদ্যগ্রন্থ জানতে চাইলে — খ. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ।
বাংলা হরফে মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ জানতে চাইলে — ঘ. মঙ্গল সমাচার।
প্রদত্ত পরীক্ষার প্রচলিত সমাধান — গ. মিশন সমাচার।
প্রশ্নব্যাংকে নির্ভুলভাবে রাখার জন্য প্রশ্নটি ‘বাংলা হরফে মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?’ করে উত্তর ঘ. মঙ্গল সমাচার নির্ধারণ করা অধিক উপযুক্ত।
08
🎯 Level 1

২৮. বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ ‘ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ’-এর রচয়িতা কে? (সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক (PC): ২৩ / শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন সহকারী শ্রম অফিসার: ০৩)

ক

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার

খ

হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও

গ

দোম আন্তোনিও

ঘ

হেনরি পিটস ফরস্টার

✅ সঠিক উত্তর:গ. দোম আন্তোনিও

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
• ◈ সঠিক উত্তর: দোম আন্তোনিও দো রোজারিও
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ দোম আন্তোনিও দো রোজারিও (Dom António do Rosário) রচিত ‘ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ’ বাংলা গদ্যের অত্যন্ত প্রাচীন নিদর্শন এবং চাকরির পরীক্ষায় বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত। ১৯৩৭ সালের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্করণের শিরোনামেও লেখক হিসেবে Dom Antonio-র নাম রয়েছে।
❖ এটি মূলত একজন ব্রাহ্মণ ও একজন রোমান ক্যাথলিকের ধর্মীয় বাদানুবাদ/সংলাপ। খ্রিষ্টীয় মতবাদ প্রতিষ্ঠা ও তৎকালীন হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক এর বিষয়বস্তু।
◈ দোম আন্তোনিওর বংশপরিচয়:
❖ ১৯৩৭ সালের সুরেন্দ্রনাথ সেন সম্পাদিত সংস্করণের পুরোনো শিরোনামে তাঁকে “Son of the King of Busna”, অর্থাৎ ভূষণার রাজার পুত্র বলা হয়েছে।
❖ সম্পাদক সুরেন্দ্রনাথ সেন অবশ্য সতর্কভাবে উল্লেখ করেছেন যে তাঁর সুনির্দিষ্ট বংশপরিচয় পুরোপুরি নির্ণয় করা কঠিন। তিনি ভূষণার রাজ/জমিদার পরিবারের সন্তান ছিলেন—এমন প্রাচীন তথ্য আছে, কিন্তু কোন শাখার সন্তান তা নিশ্চিত করা যায় না।
❖ তাঁর পিতৃদত্ত নাম জানা যায় না। খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের পর তিনি আন্তোনিও নাম গ্রহণ করেন এবং ‘দোম’ ছিল অভিজাত মর্যাদাসূচক উপাধি।
❖ পরবর্তীকালে মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ গ্রন্থটি পর্তুগিজ ভাষায় অনুবাদ করেন। ১৭৪৩ সালের লিসবন মুদ্রণে বাংলা ও পর্তুগিজ দুই কলামে পাঠ রাখা হয়েছিল বলে পুরোনো উৎসে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
➤ ক. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত; বত্রিশ সিংহাসন, রাজাবলি প্রভৃতি রচনার সঙ্গে যুক্ত।
➤ খ. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও: ঊনবিংশ শতকের কবি-শিক্ষক ও Young Bengal আন্দোলনের প্রেরণা।
➤ ঘ. হেনরি পিটস ফরস্টার: বাংলা ভাষা ও অভিধানচর্চার সঙ্গে যুক্ত ব্রিটিশ কর্মকর্তা; আলোচ্য গ্রন্থের রচয়িতা নন।
✦ মনে রাখুন:
⇒ দোম আন্তোনিও → ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ।
⇒ মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ → কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ।
Advertisement
09
🎯 Level 1

৩১. বাংলা গদ্যের আদি নিদর্শন কোনটি? (সোনালী ব্যাংক লি. সিনিয়র অফিসার: ১৮)

ক

চর্যাপদ

খ

কোচবিহার রাজের লেখা চিঠি

গ

সেক শুভোদয়া

ঘ

নরোত্তম দাসের দেহকড়চা

✅ সঠিক উত্তর:খ. কোচবিহার রাজের লেখা চিঠি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
• ◈ সঠিক উত্তর: কোচবিহার রাজের লেখা চিঠি
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলা গদ্যের ইতিহাসে কোচবিহারের মহারাজা নরনারায়ণের ১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দের চিঠি প্রচলিতভাবে বাংলা গদ্যের আদি বা প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। ২০১৮ সালের সোনালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার পরীক্ষার এই প্রশ্নের নির্ধারিত উত্তরও তাই খ. কোচবিহার রাজের লেখা চিঠি। একই পরীক্ষার প্রশ্নসংকলনেও উত্তরটি এভাবেই সংরক্ষিত রয়েছে।
❖ চিঠিটি ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি, আনুমানিক ১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দে, কোচরাজ নরনারায়ণ অহোমরাজের উদ্দেশে পাঠান। ইতিহাসবিদ এস. কে. ভূঁইয়া-পরবর্তী গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি মধ্যযুগীয় আসাম-ইতিহাসে দেখা যায়, ১৫৫৫–১৫৫৬ সালে নরনারায়ণ ও অহোমরাজ সুখাম্ফা (Sukhaamphaa)-র মধ্যে চিঠি ও দূত বিনিময় হয়েছিল। সুখাম্ফা ১৫৫২ সালে অহোম সিংহাসনে আরোহণ করেন।
❖ অর্থাৎ পরীক্ষায় মাঝে মাঝে প্রাপকের নাম নিয়ে বানান বা নামান্তরের ভিন্নতা দেখা গেলেও—১৫৫৫ সালের প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিকভাবে প্রাপক ছিলেন অহোমরাজ সুখাম্ফা; তাঁর রাজত্বকাল ছিল ১৫৫২–১৬০৩।
◈ মহারাজা নরনারায়ণের পরিচয় ও বংশপরিচয়:
❖ নরনারায়ণ ছিলেন ষোড়শ শতকের শক্তিশালী কোচ রাজবংশের শাসক। তাঁর পূর্বনাম বা প্রকৃত নাম মল্লদেব বলে বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়।
➤ পিতা: কোচ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বসিংহ (Biswa Singha)।
➤ ভাই: বিখ্যাত সেনাপতি শুক্লধ্বজ, যিনি ইতিহাসে চিলারায় নামে অধিক পরিচিত।
➤ বিশ্বসিংহের দুই পুত্র নরনারায়ণ ও শুক্লধ্বজের সময়েই কোচ রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।
❖ চিলারায় ছিলেন নরনারায়ণের সেনাবাহিনীর প্রধান শক্তি। কোচ-অহোম সংঘর্ষসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
✦ চিঠিটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব:
❖ চিঠিটি কোনো সাহিত্যিক গল্প, উপন্যাস বা প্রবন্ধ নয়; এটি মূলত রাজনৈতিক-কূটনৈতিক পত্র বা প্রশাসনিক গদ্য। কিন্তু এতে ধারাবাহিক বাক্য, বক্তব্য প্রকাশ এবং গদ্যরীতির ব্যবহার দেখা যায়। এজন্য বাংলা গদ্যের ইতিহাসে এটি বিশেষ মূল্যবান।
❖ উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যিক গদ্য পূর্ণ বিকাশ লাভ করলেও তার বহু আগে চিঠিপত্র ও দলিল-দস্তাবেজে বাংলা গদ্য ব্যবহৃত হতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য পত্রিকা-য় প্রকাশিত অধ্যাপক গোলাম মুরশিদের গবেষণা দেখায় যে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার আগেও চিঠিপত্র, দলিল এবং অন্যান্য ব্যবহারিক ক্ষেত্রে বাংলা গদ্যের বহু নিদর্শন ছিল।
⇒ তাই দুটি বিষয় আলাদা করে মনে রাখতে হবে—
➤ বাংলা গদ্যের প্রাচীন/আদি নিদর্শন → নরনারায়ণের চিঠি।
➤ বাংলা সাহিত্যিক গদ্যের ব্যাপক ও ধারাবাহিক বিকাশ → ঊনবিংশ শতক।
✦ চিঠিটির ভাষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগত সতর্কতা:
❖ ‘নরনারায়ণের চিঠি = নিখাদ আধুনিক বাংলা’—এভাবে বলা ঠিক হবে না। চিঠিটির ভাষা নিয়ে ভাষাতাত্ত্বিক বিতর্ক রয়েছে।
❖ বাংলা ভাষাবিষয়ক আলোচনায় এটিকে বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হলেও চিঠির ভাষায় বাংলা, কামতা/কামতাপুরি, অসমিয়া, সংস্কৃত ও ফারসি উপাদানের মিশ্রণ ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ পাওয়া যায়।
❖ কোচবিহার-সংক্রান্ত সাহিত্য গবেষণাতেও চিঠিটিকে বাংলা গদ্যের আদি নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত বলা হয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে এ স্বীকৃতি নিয়ে কিছু গবেষকের আপত্তি বা সন্দেহ রয়েছে—অর্থাৎ এর ভাষাগত পরিচয় একেবারে বিতর্কমুক্ত নয়।
◈ তাই সবচেয়ে নির্ভুলভাবে বলা উচিত:
“১৫৫৫ সালে কোচরাজ নরনারায়ণের অহোমরাজকে লেখা চিঠিটি প্রচলিত বাংলা সাহিত্য-ইতিহাস ও চাকরির পরীক্ষায় বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত আদি/প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।”
এভাবে বললে পরীক্ষার উত্তরও ঠিক থাকে, আবার আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিক বিতর্কও উপেক্ষিত হয় না।
অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক. চর্যাপদ — সঠিক নয়
❖ চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম প্রাপ্ত সাহিত্যিক নিদর্শন, কিন্তু এটি গদ্য নয়—পদ্য বা গীতিকবিতার সংকলন। বাংলাপিডিয়াও প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শনের মধ্যে চর্যাগীতিগুলিকে প্রধান বলে উল্লেখ করে।
❖ চর্যাপদের রচয়িতারা ছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্য—যেমন:
➤ লুইপা
➤ কাহ্নপা
➤ ভুসুকুপা
➤ শবরপা প্রমুখ।
⇒ তাই মনে রাখুন—
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন → চর্যাপদ।
বাংলা গদ্যের আদি নিদর্শন → কোচবিহারের রাজার চিঠি।
গ. সেক শুভোদয়া — সঠিক নয়
❖ ‘সেক শুভোদয়া’ সাধারণত হলায়ুধ মিশ্রের নামে পরিচিত একটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য। এতে শেখ জালালউদ্দিন তাবরিজির মাহাত্ম্যসংক্রান্ত কাহিনি রয়েছে।
❖ চম্পুকাব্য হলো যে রচনায় গদ্য ও পদ্য উভয় রীতি মিশ্রিত থাকে।
❖ গুরুত্বপূর্ণ হলো—সেক শুভোদয়ার প্রধান ভাষা সংস্কৃত; ফলে এটিকে বাংলা গদ্যের প্রথম নিদর্শন বলা যায় না।
ঘ. নরোত্তম দাসের দেহকড়চা — সঠিক নয়
❖ বৈষ্ণব সহজিয়া ধারার ‘দেহকড়চা’-য় বাংলা গদ্যের প্রাচীন রূপের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন পাওয়া যায়। ষোড়শ-সপ্তদশ শতকে বৈষ্ণব সাধকদের প্রশ্নোত্তরমূলক কড়চায় গদ্য-পদ্য মিশ্র ভাষা ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়।
❖ তবে ‘দেহকড়চা’ নরোত্তম দাসেরই নিশ্চিত রচনা কি না—এ নিয়েও পাণ্ডিত্যপূর্ণ সংশয় আছে। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ভারতকোষ-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে নরোত্তমের নামে প্রচলিত ‘দেহকড়চা’সহ কয়েকটি গ্রন্থ তাঁরই লেখা—এ কথা সকল গবেষক স্বীকার করেন না।
❖ তাই এটি বাংলা গদ্যের ইতিহাসে মূল্যবান হলেও প্রদত্ত প্রশ্নে আদি নিদর্শন হিসেবে গ্রহণযোগ্য উত্তর নয়।
10
🎯 Level 1

৩৪. বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্যগ্রন্থ— (বেসামরিক বিমান চলাচলের সিনিয়র অফিসার: ২১)

ক

কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ

খ

মঙ্গল সমাচার

গ

কথোপকথন

ঘ

রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র

✅ সঠিক উত্তর:ক. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
• ◈ সঠিক উত্তর: কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ প্রচলিত বাংলা সাহিত্য-ইতিহাস ও চাকরির পরীক্ষার শ্রেণিবিভাগে ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’কে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গদ্যগ্রন্থ/আদি গদ্যগ্রন্থ বলা হয়। গ্রন্থটির সঙ্গে পর্তুগিজ ধর্মযাজক মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ-এর নাম যুক্ত। এটি আনুমানিক ১৭৩৪/১৭৩৫ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত।
❖ এর আগে ষোড়শ শতকের নরনারায়ণের চিঠির মতো বাংলা গদ্যের নিদর্শন পাওয়া যায়, কিন্তু তা পূর্ণাঙ্গ গদ্যগ্রন্থ নয়। তাই—
⇒ প্রথম/আদি গদ্যের নিদর্শন ও
⇒ প্রথম গদ্যগ্রন্থ
—দুটি প্রশ্নের উত্তর আলাদা।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন