🧠 🔖
👑 Premium Topic

বিখ্যাত সাহিত্যিক(মধ্যযুগ)- চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, কৃত্তিবাস ওঝা, শাহ মুহাম্মদ সগীর, চন্দ্রাবতী, বাহরাম খান, গোবিন্দ ও জ্ঞান দাস

◉ বাংলা সাহিত্য›বিখ্যাত সাহিত্যিক(মধ্যযুগ)- চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, কৃত্তিবাস ওঝা, শাহ মুহাম্মদ সগীর, চন্দ্রাবতী, বাহরাম খান, গোবিন্দ ও জ্ঞান দাস

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚62মোট প্রশ্ন
🎯4মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

৩. মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাসের প্রকৃত নাম কী? (বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক: ২৬)

ক

অনন্ত

খ

চণ্ডীবর

গ

বড়ু দত্ত

ঘ

জয়ন্ত

✅ সঠিক উত্তর:ক. অনন্ত

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: অনন্ত।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বড়ু চণ্ডীদাসের প্রকৃত নাম হিসেবে ‘অনন্ত’ প্রচলিত। সাহিত্য-ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ে বলা হয়, ‘অনন্ত’ তাঁর ব্যক্তিগত নাম, ‘বড়ু’ কৌলিক উপাধি এবং ‘চণ্ডীদাস’ গুরুপ্রদত্ত নাম।
❖ বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’, যা বাংলা সাহিত্যের আদি মধ্যযুগের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। কাব্যটি রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি এবং বড়ায়ির মধ্যস্থতাকে কেন্দ্র করে রচিত।
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথিতে ‘বড়ু চণ্ডীদাস’, ‘চণ্ডীদাস’ এবং ‘অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস’—এই ভণিতারূপগুলোর উল্লেখ পাওয়া যায়। এসব ভণিতা থেকে কবির নাম ও পরিচয় সম্পর্কে ধারণা করা হয়েছে।
❖ তবে গবেষণাগতভাবে ‘অনন্ত’ নামটি সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়। কারণ কবির সমসাময়িক পূর্ণাঙ্গ জীবনী পাওয়া যায়নি এবং পুঁথিতে পাওয়া কিছু নাম ও পাঠের মৌলিকত্ব নিয়েও মতভেদ রয়েছে।
❖ তাই পরীক্ষায় ‘প্রকৃত নাম — অনন্ত’ উত্তরটি ব্যবহৃত হলেও সাহিত্য-ইতিহাসে এটি প্রচলিত পরিচয় হিসেবে বুঝতে হবে।
◉ ১. বড়ু চণ্ডীদাসের নামের ব্যাখ্যা
❖ অনন্ত: কবির প্রকৃত বা ব্যক্তিগত নাম হিসেবে প্রচলিত।
❖ বড়ু: তাঁর কৌলিক উপাধি হিসেবে পরিচিত।
❖ চণ্ডীদাস: প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী গুরুপ্রদত্ত নাম।
❖ বড়ু চণ্ডীদাস: সাহিত্যিক পরিচয়ে বহুল ব্যবহৃত নাম।
❖ অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস: পুঁথির ভণিতার সঙ্গে সম্পর্কিত পরিচয়।
❖ কবির প্রকৃত নাম নির্ধারণে ভণিতার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হলেও একে একমাত্র নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
◉ ২. ভণিতা কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
❖ ভণিতা হলো কবিতা বা গীতিপদের এমন অংশ, যেখানে কবি নিজের নাম বা পরিচয় উল্লেখ করেন।
❖ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য এবং বৈষ্ণব পদাবলিতে ভণিতার বিশেষ ব্যবহার রয়েছে।
❖ সাধারণত পদের শেষের দিকে কবির নামসংবলিত বক্তব্য পাওয়া যায়।
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে বড়ু চণ্ডীদাসের নামসংবলিত ভণিতা থেকে তাঁর রচনাস্বত্ব সম্পর্কে ধারণা করা হয়েছে।
❖ একইভাবে বৈষ্ণব পদাবলিতে বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাসের নামসংবলিত ভণিতা দেখা যায়।
❖ তবে মধ্যযুগে অনুলিপিকারদের সংযোজন ও পাঠভেদের কারণে সব ভণিতার যথার্থতা একই রকম নয়।
◉ ৩. শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথিতে কবির নাম
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের আবিষ্কৃত পুঁথিতে বড়ু চণ্ডীদাস নামটি বহুবার পাওয়া যায়।
❖ চণ্ডীদাস নামটিও বিভিন্ন পদে ব্যবহৃত হয়েছে।
❖ কিছু পাঠে অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস পরিচয় পাওয়া যায়।
❖ এসব নামের ব্যবহার কবির পরিচয় নির্ধারণে গবেষকদের সহায়তা করেছে।
❖ কিন্তু পুঁথির প্রথমাংশ ও শেষাংশ অনুপস্থিত থাকায় কবির নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ আত্মপরিচয় পাওয়া যায়নি।
❖ এজন্য কবির প্রকৃত নাম, জন্মস্থান ও জীবনকাল সম্পর্কে গবেষণায় অনিশ্চয়তা রয়েছে।
◉ ৪. চণ্ডীদাস-সমস্যার সঙ্গে সম্পর্ক
❖ বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসে একাধিক কবির নামে চণ্ডীদাস পরিচয় পাওয়া যায়।
❖ বড়ু চণ্ডীদাস প্রধানত শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা।
❖ দ্বিজ চণ্ডীদাস বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে সম্পর্কিত নাম।
❖ দীন চণ্ডীদাস নামেও বৈষ্ণব পদ পাওয়া যায়।
❖ বিভিন্ন পদের ভাষা, ভণিতা ও কাব্যরীতির পার্থক্যের কারণে একই নামের একাধিক কবির অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণাগত বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
❖ এই বিতর্ককে চণ্ডীদাস-সমস্যা বলা হয়।
◉ ৫. বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান সাহিত্যিক অবদান
❖ তাঁর প্রধান রচনা শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
❖ কাব্যে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের বিভিন্ন পর্যায় চিত্রিত হয়েছে।
❖ বড়ায়ি রাধা ও কৃষ্ণের সম্পর্কের মধ্যস্থতাকারী চরিত্র।
❖ কাব্যে সংলাপ, গীতিপদ এবং নাট্যধর্মী কাহিনির সমন্বয় রয়েছে।
❖ ৪১৮টি সংরক্ষিত পদ কাব্যটির গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক সম্পদ।
❖ মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যরীতির ইতিহাসে গ্রন্থটি বিশেষ মূল্যবান।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বড়ু চণ্ডীদাসের প্রকৃত নাম — অনন্ত (প্রচলিত উত্তর)।
➤ বড়ু — কৌলিক উপাধি।
➤ চণ্ডীদাস — প্রচলিত মতে গুরুপ্রদত্ত নাম।
➤ বড়ু চণ্ডীদাসের পূর্ণ প্রচলিত পরিচয় — অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস।
➤ বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান রচনা — শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের প্রধান চরিত্র — রাধা, কৃষ্ণ ও বড়ায়ি।
➤ কবির নামসংবলিত পঙ্‌ক্তি — ভণিতা।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে পাওয়া ভণিতার নাম — বড়ু চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস।
➤ চণ্ডীদাস নামের কবিদের পরিচয়সংক্রান্ত বিতর্ক — চণ্ডীদাস-সমস্যা।
➤ চণ্ডীদাস নামের গুরুত্বপূর্ণ কবি — বড়ু, দ্বিজ ও দীন চণ্ডীদাস।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কার — ১৯০৯।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন প্রকাশ — ১৯১৬।
➤ পুঁথির আবিষ্কারক — বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের সাহিত্যিক যুগ — মধ্যযুগ।
➤ ড. শহীদুল্লাহর মতানুসারে জীবনকাল — ১৩৭০–১৪৩৩ খ্রি.।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মোট খণ্ড — ১৩টি।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের সংরক্ষিত পদ — ৪১৮টি।"
02
🎯 Level 1

৬. চণ্ডীদাস কোন যুগের কবি? (সোনালী ব্যাংক লি. সিনিয়র অফিসার: ১৪)

ক

প্রাচীন যুগ

খ

মধ্যযুগ

গ

আধুনিক যুগ

ঘ

উত্তর-আধুনিক যুগ

✅ সঠিক উত্তর:খ. মধ্যযুগ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: মধ্যযুগ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ চণ্ডীদাস মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত কবি। তাঁর নামের সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের প্রাক্-চৈতন্য বৈষ্ণব সাহিত্য, রাধা-কৃষ্ণপ্রেমমূলক পদাবলি এবং মানবিক প্রেমের গীতিকবিতা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
❖ বিশেষত বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি পর্যায়ের কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিখ্যাত ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ মধ্যযুগের প্রাচীনতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
❖ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ সাধারণভাবে ১২০১–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ধরা হয়। এর মধ্যে বৈষ্ণব পদাবলি, মঙ্গলকাব্য, রামায়ণ-মহাভারত অনুবাদ, মুসলিম প্রণয়োপাখ্যান এবং ধর্মীয় সাহিত্য বিকশিত হয়।
❖ চণ্ডীদাসের পদাবলিতে রাধার প্রেম, কৃষ্ণের বিরহ, মানবিক অনুভূতি এবং সহজ ভাষায় আবেগের প্রকাশ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
❖ তবে ‘চণ্ডীদাস’ নামে একাধিক কবির পরিচয় পাওয়া যায়। বড়ু চণ্ডীদাসের আখ্যানকাব্য এবং দ্বিজ বা দীন চণ্ডীদাসের নামে প্রচলিত পদাবলি—এই রচনাগুলোর প্রকৃত লেখকত্ব ও সময়কাল নিয়ে গবেষণায় মতভেদ রয়েছে।
◉ ১. মধ্যযুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য
❖ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মীয় ও পৌরাণিক কাহিনির প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
❖ স্থানীয় ভাষায় রামায়ণ, মহাভারত এবং অন্যান্য ধর্মীয় আখ্যান রচিত ও অনূদিত হয়।
❖ বৈষ্ণব ভক্তি আন্দোলনের প্রভাবে রাধা-কৃষ্ণপ্রেম বিষয়ক পদাবলি জনপ্রিয় হয়।
❖ মঙ্গলকাব্যের মাধ্যমে বাংলার লোকজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক জীবন তুলে ধরা হয়।
❖ মুসলিম কবিদের রচনায় ধর্মীয় আখ্যান, সুফি সাহিত্য ও মানবপ্রেমের কাহিনি বিকশিত হয়।
❖ লোকসাহিত্য, পালাগান ও ধর্মীয় সংগীত মধ্যযুগীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
◉ ২. চণ্ডীদাসের কবিতার প্রধান বিষয়
❖ রাধা-কৃষ্ণপ্রেম: চণ্ডীদাসের নামে প্রচলিত পদাবলির প্রধান বিষয়।
❖ পূর্বরাগ: প্রেমিক বা প্রেমিকার পরিচয় বা নাম শোনার পর প্রেমানুভূতির সূচনা।
❖ অনুরাগ: প্রেমের গভীর আকর্ষণ ও মানসিক নিবেদন।
❖ মান: প্রিয়জনের আচরণে অভিমান।
❖ বিরহ: প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে গভীর দুঃখ ও আকুলতা।
❖ মিলন: প্রেমিক-প্রেমিকার সাক্ষাৎ ও আনন্দ।
❖ মানবতা: সামাজিক মর্যাদা ও জাতিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষের গুরুত্বের প্রকাশ।
◉ ৩. চণ্ডীদাসের বিখ্যাত পদ ও বাণী
❖ ‘সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম’ — চণ্ডীদাসের নামে প্রচলিত বিখ্যাত পূর্বরাগ পর্যায়ের পদ।
❖ ‘সই কেমনে ধরিব হিয়া’ — প্রেম ও বিরহের আবেগপূর্ণ পদ।
❖ ‘রাধার কি হৈল অন্তরে ব্যথা’ — রাধার মানসিক অবস্থার প্রকাশ।
❖ ‘এ ঘোর রজনী মেঘের ঘটা’ — প্রেম ও প্রকৃতির আবহে রচিত পদ।
❖ ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’ — চণ্ডীদাসের নামে বহুল প্রচলিত মানবতাবাদী বাণী।
❖ চণ্ডীদাসের পদে সহজ ভাষা, গভীর প্রেমানুভূতি এবং মানবিক ব্যঞ্জনার কারণে বিশেষ সাহিত্যিক আবেদন সৃষ্টি হয়েছে।
◉ ৪. চণ্ডীদাস ও বিদ্যাপতির সম্পর্ক
❖ বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার বিখ্যাত কবি।
❖ তাঁর প্রধান ভাষা ছিল মৈথিলী, যার সাহিত্যিক রূপ পরবর্তী বাংলা বৈষ্ণব পদাবলিতে গভীর প্রভাব বিস্তার করে।
❖ বিদ্যাপতির রচনায় রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও বিরহের বিশেষ স্থান রয়েছে।
❖ চণ্ডীদাসের পদাবলিতেও একই প্রেমধারার প্রকাশ পাওয়া যায়।
❖ বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসকে মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
❖ তবে বিদ্যাপতির মৈথিলী পদ এবং চণ্ডীদাসের বাংলা পদাবলির ভাষাগত পরিচয় পৃথক।
◉ ৫. মধ্যযুগের অন্যান্য বৈষ্ণব কবি
❖ বিদ্যাপতি: মৈথিলী ভাষার বিখ্যাত প্রেম ও ভক্তিমূলক পদকর্তা।
❖ চণ্ডীদাস: বাংলা ভাষায় প্রাচীন বৈষ্ণব পদাবলি রচনার গুরুত্বপূর্ণ কবি।
❖ জ্ঞানদাস: ষোড়শ শতকের বৈষ্ণব পদকর্তা।
❖ গোবিন্দদাস কবিরাজ: ব্রজবুলি পদাবলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
❖ বলরাম দাস: বৈষ্ণব পদাবলি রচয়িতা।
❖ নরহরি সরকার: গৌরাঙ্গবিষয়ক ভক্তিমূলক পদের কবি।
❖ নরোত্তম দাস: বৈষ্ণব ভক্তিসাহিত্য ও কীর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত কবি।
◉ ৬. প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ কবি
❖ প্রাচীন যুগ: লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকুপা।
❖ মধ্যযুগ: বড়ু চণ্ডীদাস, কৃত্তিবাস ওঝা, বিজয় গুপ্ত, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, আলাওল ও ভারতচন্দ্র।
❖ আধুনিক যুগ: মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ প্রমুখ।
❖ যুগবিভাগে ভাষাগত ও সাহিত্যিক ধারার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ চণ্ডীদাস — মধ্যযুগের কবি।
➤ বড়ু চণ্ডীদাস — প্রাক্-চৈতন্য যুগের কবি।
➤ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ — আনুমানিক ১২০১–১৮০০।
➤ চণ্ডীদাসের প্রধান সাহিত্যিক পরিচয় — বৈষ্ণব পদকর্তা।
➤ বড়ু চণ্ডীদাসের রচনা — শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের প্রধান বিষয় — রাধা-কৃষ্ণের প্রেম।
➤ চণ্ডীদাসের বিখ্যাত পদ — সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।
➤ চণ্ডীদাসের আরেক পদ — সই কেমনে ধরিব হিয়া।
➤ চণ্ডীদাসের নামে প্রচলিত মানবতাবাদী বাণী — সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।
➤ রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের সূচনাপর্ব — পূর্বরাগ।
➤ প্রিয়জনের অনুপস্থিতির বেদনা — বিরহ।
➤ প্রেমিক-প্রেমিকার অভিমান — মান।
➤ বৈষ্ণব পদাবলির প্রধান বিষয় — রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তি।
➤ বিদ্যাপতির প্রধান সাহিত্যিক ভাষা — মৈথিলী।
➤ বিদ্যাপতি — মিথিলার কবি।
➤ জ্ঞানদাস — মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদকর্তা।
➤ গোবিন্দদাস কবিরাজ — বৈষ্ণব পদাবলির বিখ্যাত কবি।
➤ শ্রীচৈতন্যদেবের জন্ম — ১৪৮৬।
➤ শ্রীচৈতন্যদেবের মৃত্যু — ১৫৩৩।
➤ বড়ু চণ্ডীদাসের প্রচলিত জীবনকাল — ১৩৭০–১৪৩৩।
Advertisement
03
🎯 Level 1

৪. ‘সই কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আন বাড়ি যায় আমার আঙিনা দিয়া।’ এই উক্তির রচয়িতা কে? (বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট কালেক্টর: ২৪ / সিভিলের সিনিয়র অ্যাডভোকেটস ক্লার্ক: ২২)

ক

ভারতচন্দ্র

খ

লুইপা

গ

রামাই পণ্ডিত

ঘ

চণ্ডীদাস

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. চণ্ডীদাস

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: চণ্ডীদাস।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘সই কেমনে ধরিব হিয়া’ চণ্ডীদাসের নামে প্রচলিত একটি বিখ্যাত বৈষ্ণব পদ। প্রশ্নে উল্লিখিত পঙ্‌ক্তির অধিক পরিচিত পাঠে ‘বঁধুয়া’ শব্দটি পাওয়া যায়, যার অর্থ প্রিয়জন বা প্রেমাস্পদ।
❖ পদটির প্রধান আবেগ রাধার কৃষ্ণপ্রেম ও বিরহ। রাধা দেখছেন, তাঁর প্রিয় কৃষ্ণ অন্যের বাড়িতে যাচ্ছেন; অথচ কৃষ্ণের পথ রাধার নিজের বাড়ির আঙিনা দিয়ে।
❖ প্রিয়জনের নিকট উপস্থিতি সত্ত্বেও তার সঙ্গে মিলন না হওয়ার বেদনা রাধার অন্তরে গভীর মানসিক যন্ত্রণা সৃষ্টি করেছে।
❖ রাধা নিজের হৃদয়ের এই আকুলতা সখীর কাছে প্রকাশ করেন। তিনি প্রেম, অভিমান, বেদনা এবং প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অনুভূতির মধ্যে অবস্থান করছেন।
❖ চণ্ডীদাসের পদটির বিশেষত্ব হলো সহজ ভাষায় প্রেমের গভীর মনস্তত্ত্ব প্রকাশ। এখানে বড় কোনো অলংকারপূর্ণ বর্ণনার পরিবর্তে দৈনন্দিন জীবনের একটি পরিচিত দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
❖ আলোচিত পদটি অনুরাগ বা বিরহভাবসম্পন্ন বৈষ্ণব পদ হিসেবে পরিচিত। পদটিতে মানবিক প্রেমের বেদনার পাশাপাশি ভক্তিমূলক ব্যাখ্যার সম্ভাবনাও রয়েছে।
◉ ১. পদটির প্রধান সাহিত্যিক বিষয়
❖ রাধা: পদটির আবেগের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র।
❖ কৃষ্ণ: রাধার প্রিয়জন বা শ্যাম।
❖ সখী: রাধার অনুভূতি শোনার ব্যক্তি।
❖ প্রেম: প্রিয়জনের প্রতি গভীর আকর্ষণ।
❖ অভিমান: প্রিয়জনের অবহেলায় মানসিক কষ্ট।
❖ বিরহ: মিলনের অভাবে হৃদয়ের বেদনা।
❖ অনুরাগ: প্রিয়জনের প্রতি নিবিড় আকর্ষণ ও আবেগ।
◉ ২. ‘হিয়া’, ‘বঁধুয়া’ ও ‘আঙিনা’ শব্দের তাৎপর্য
❖ হিয়া: হৃদয় বা অন্তর।
❖ বঁধুয়া: প্রিয়জন বা প্রেমাস্পদ।
❖ আঙিনা: বাড়ির উঠান বা প্রাঙ্গণ।
❖ আন বাড়ি: অন্যের বাড়ি।
❖ এসব শব্দ পদটিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভাষার ব্যবহার প্রকাশ করে।
❖ রাধার অন্তরের গভীর অনুভূতি বোঝাতে হিয়া শব্দটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
❖ আঙিনা এবং আন বাড়ি-র মাধ্যমে নৈকট্য ও বিচ্ছেদের বিপরীত অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।
◉ ৩. রাধার প্রেম ও বিরহের মনস্তত্ত্ব
❖ রাধা কৃষ্ণকে গভীরভাবে ভালোবাসেন।
❖ কৃষ্ণের অবহেলা বা অন্যত্র গমন রাধাকে মানসিকভাবে আহত করে।
❖ প্রিয়জনকে কাছে দেখেও তাঁর ভালোবাসা না পাওয়ার অনুভূতি রাধার বেদনাকে বৃদ্ধি করে।
❖ রাধা সখীর কাছে নিজের মনের কথা প্রকাশ করেন।
❖ প্রেমের সঙ্গে অভিমান এবং আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রত্যাখ্যানের অনুভূতি পদটির প্রধান মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য।
❖ পদটি রাধার আবেগকে বাস্তব মানবপ্রেমের অনুভূতির মাধ্যমে তুলে ধরে।
◉ ৪. চণ্ডীদাসের পদে মানবিক প্রেম
❖ চণ্ডীদাসের পদাবলিতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম মানবিক আবেগের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
❖ প্রেমের আনন্দের পাশাপাশি অভিমান, বিচ্ছেদ ও অপেক্ষা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
❖ ভাষায় সহজতা ও সংবেদনশীলতার সমন্বয় রয়েছে।
❖ রাধার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব চণ্ডীদাসের প্রেমপদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
❖ সামাজিক নিয়মের তুলনায় হৃদয়ের অনুভূতিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার প্রবণতা দেখা যায়।
❖ এই মানবিক বৈশিষ্ট্যের কারণে চণ্ডীদাসের পদাবলি বাংলা সাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
◉ ৫. চণ্ডীদাসের অন্যান্য বিখ্যাত পদ
❖ সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম: পূর্বরাগ পর্যায়ের পদ।
❖ সই কেমনে ধরিব হিয়া: প্রেম, অনুরাগ ও বিরহের পদ।
❖ রাধার কি হৈল অন্তরে ব্যথা: রাধার প্রেমজনিত মানসিক পরিবর্তনের প্রকাশ।
❖ এ ঘোর রজনী মেঘের ঘটা: প্রকৃতি ও প্রেমানুভূতির সম্পর্ক।
❖ ঘরে বাহিরে দণ্ডে শতবার: প্রেমের ব্যাকুলতা ও মানসিক অস্থিরতার প্রকাশ।
❖ এসব পদে রাধার প্রেমের বিভিন্ন পর্যায় এবং অন্তর্জগতের পরিবর্তন ফুটে ওঠে।
◉ ৬. চণ্ডীদাস ও অন্যান্য মধ্যযুগীয় কবি
❖ চণ্ডীদাস: বৈষ্ণব পদাবলি ও রাধা-কৃষ্ণের প্রেমমূলক গীতি।
❖ ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা।
❖ লুইপা: চর্যাপদের অন্যতম সিদ্ধাচার্য ও কবি।
❖ রামাই পণ্ডিত: শূন্যপুরাণের প্রচলিত রচয়িতা।
❖ এঁদের সাহিত্যিক যুগ, ভাষারীতি ও রচনার বিষয় পৃথক হলেও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রত্যেকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ‘সই কেমনে ধরিব হিয়া’ — চণ্ডীদাসের পদ।
➤ পদটির সাহিত্যিক ধারা — বৈষ্ণব পদাবলি।
➤ পদটির প্রধান বিষয় — রাধার প্রেম ও বিরহ।
➤ পদটির প্রধান নারী চরিত্র — রাধা।
➤ রাধার প্রিয়জন — কৃষ্ণ।
➤ পদে সম্বোধিত ব্যক্তি — সখী।
➤ হিয়া শব্দের অর্থ — হৃদয়।
➤ বঁধুয়া শব্দের অর্থ — প্রিয়জন।
➤ আন বাড়ি অর্থ — অন্যের বাড়ি।
➤ আঙিনা অর্থ — বাড়ির উঠান।
➤ পদটির প্রধান রসভাব — অনুরাগ ও বিরহ।
➤ প্রেমিক-প্রেমিকার অভিমান — মান।
➤ প্রিয়জনের বিচ্ছেদের বেদনা — বিরহ।
➤ চণ্ডীদাসের আরেক বিখ্যাত পদ — সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।
➤ চণ্ডীদাসের সাহিত্যিক যুগ — মধ্যযুগ।
➤ চণ্ডীদাসের প্রধান সাহিত্যিক ধারা — বৈষ্ণব পদাবলি।
➤ ভারতচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্য — অন্নদামঙ্গল।
➤ ভারতচন্দ্রের উপাধি — রায়গুণাকর।
➤ লুইপা — চর্যাপদের কবি।
➤ রামাই পণ্ডিতের গ্রন্থ — শূন্যপুরাণ।
04
🎯 Level 1

০৬. ‘এ ভরা বাদর মাহ ভাদর/শূন্য মন্দির মোর।’—কে লিখেছেন? (ডিসি-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা: ২৫; বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার: ২৬)

ক

চণ্ডীদাস

খ

বিদ্যাপতি

গ

জ্ঞানদাস

ঘ

বড়ু চণ্ডীদাস

✅ সঠিক উত্তর:খ. বিদ্যাপতি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: বিদ্যাপতি।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘এ ভরা বাদর মাহ ভাদর, শূন্য মন্দির মোর’ বিদ্যাপতি রচিত একটি বিখ্যাত বিরহমূলক পদ। এতে বর্ষাকালের প্রকৃতির সঙ্গে প্রেমিকের অনুপস্থিতিজনিত হৃদয়ের শূন্যতার বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়েছে।
❖ কবি: বিদ্যাপতি, মিথিলার মৈথিল পদকবি।
❖ সাহিত্যিক ধারা: বৈষ্ণব পদাবলি।
❖ পদের প্রধান বিষয়: রাধার কৃষ্ণবিরহ।
❖ পদের প্রকৃতি: বিরহ বা বিপ্রলম্ভ শৃঙ্গাররসের গীতিকবিতা।
❖ ‘বাদর’ শব্দের অর্থ: মেঘ বা বর্ষার পরিবেশ।
❖ ‘মাহ ভাদর’ অর্থ: ভাদ্র মাসের সময়; বর্ষায় আকাশ মেঘে পরিপূর্ণ থাকে।
❖ ‘শূন্য মন্দির মোর’ অর্থ: আমার গৃহ বা হৃদয় শূন্য। এখানে ‘মন্দির’ শব্দটি শুধু পূজার স্থান নয়, প্রিয়জনবিহীন গৃহ ও অন্তরের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
❖ প্রকৃতি ও মানসিক অবস্থার বৈপরীত্য: বাইরে বর্ষার পূর্ণতা, মেঘ, বৃষ্টি ও প্রকৃতির সজীবতা; অন্যদিকে রাধার অন্তরে কৃষ্ণের অনুপস্থিতির শূন্যতা ও বেদনা।
❖ রাধার বিরহ: রাধা কৃষ্ণের অনুপস্থিতিতে গভীরভাবে ব্যথিত। বর্ষার আনন্দঘন পরিবেশও তাঁর কাছে আনন্দের পরিবর্তে আরও গভীর বিরহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
❖ বিরহরস: প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে যে প্রেমবেদনা ও আকুলতার সৃষ্টি হয়, তাকে বিরহ বলা হয়। বৈষ্ণব সাহিত্যে এই বিরহ ঈশ্বরের প্রতি ভক্তির গভীর অনুভূতির প্রতীকও।
❖ মাথুর-বিরহ: কৃষ্ণ মথুরায় চলে যাওয়ার পর রাধার বিচ্ছেদবেদনা বৈষ্ণব পদাবলির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিদ্যাপতির বহু পদে এই বিরহভাব প্রকাশিত হয়েছে।
❖ সাহিত্যিক অলংকার: প্রকৃতির পূর্ণতার বিপরীতে হৃদয়ের শূন্যতা, মেঘ-বৃষ্টি ও প্রেমবেদনার মিলন, প্রতীকধর্মিতা এবং ধ্বনিমাধুর্য পদের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
❖ পদের ভাষারূপ: বাংলায় প্রচলিত পাঠে মৈথিলি ও ব্রজবুলির বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। বিশেষত ‘মাহ’, ‘মোর’ প্রভৃতি শব্দ মধ্যযুগীয় কাব্যভাষার পরিচয় বহন করে।
❖ বিদ্যাপতির কাব্যদক্ষতা: তিনি সংক্ষিপ্ত পঙ্‌ক্তিতে প্রেমিক-প্রেমিকার গভীর আবেগ প্রকাশ করতে সক্ষম ছিলেন। তাঁর পদে ঋতু, প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতি নিবিড়ভাবে যুক্ত।
❖ কবির জীবনকাল: আনুমানিক ১৩৭৪–১৪৬০।
❖ জন্মস্থান: বিসফি, মিথিলা।
❖ উপাধি: মৈথিল কোকিল, কবিকণ্ঠহার ও অভিনব জয়দেব।
❖ অন্যান্য বিখ্যাত পদ: ‘এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর’, ‘তাতল সৈকত বারিবিন্দু সম’, ‘আজু রজনী হাম ভাগে পোহায়লুঁ’ প্রভৃতি।
❖ বাংলা সাহিত্যে গুরুত্ব: বিদ্যাপতির বিরহমূলক পদাবলি পরবর্তী চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস এবং ব্রজবুলি ভাষার বহু কবিকে প্রভাবিত করেছে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ‘এ ভরা বাদর মাহ ভাদর’ — বিদ্যাপতি।
➤ ‘শূন্য মন্দির মোর’ — বিদ্যাপতির পদ।
➤ সাহিত্যিক ধারা — বৈষ্ণব পদাবলি।
➤ প্রধান বিষয় — রাধার কৃষ্ণবিরহ।
➤ রস — বিরহ বা বিপ্রলম্ভ শৃঙ্গার।
➤ ‘মাহ ভাদর’ — ভাদ্র মাস।
➤ ‘মোর’ — আমার।
➤ ‘শূন্য মন্দির’ — প্রিয়জনবিহীন গৃহ ও অন্তরের শূন্যতা।
➤ পদের প্রকৃতি — গীতিকবিতা।
➤ কবির জন্মস্থান — মিথিলা।
➤ মূল ভাষা — মৈথিলি।
➤ প্রচলিত কাব্যভাষার রূপ — ব্রজবুলি।
➤ বিখ্যাত পদ — ‘এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর’।
➤ অন্য পদ — ‘তাতল সৈকত বারিবিন্দু সম’।
➤ অন্য পদ — ‘আজু রজনী হাম ভাগে পোহায়লুঁ’।
➤ বিদ্যাপতির উপাধি — মৈথিল কোকিল।
➤ বিদ্যাপতির রাজপৃষ্ঠপোষক — শিবসিংহ।
➤ বৈষ্ণব পদাবলির প্রধান প্রেমিক-প্রেমিকা — রাধা ও কৃষ্ণ।
➤ বর্ষা ও রাধার বিরহের বিখ্যাত পদ—‘এ ভরা বাদর মাহ ভাদর, শূন্য মন্দির মোর’।
05
🎯 Level 1

০৯. বৈষ্ণব পদাবলির অবাঙালি কবি কে? (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী অফিসার: ০৫)

ক

গোবিন্দদাস

খ

জ্ঞানদাস

গ

চণ্ডীদাস

ঘ

বিদ্যাপতি

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. বিদ্যাপতি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: বিদ্যাপতি।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বিদ্যাপতি মিথিলার অবাঙালি বৈষ্ণব পদকবি, যিনি মূলত মৈথিলি ভাষায় সাহিত্য রচনা করেও বাংলা পদাবলি সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করেন।
❖ কবির পরিচয়: বিদ্যাপতি ঠাকুর; মিথিলার রাজসভার পণ্ডিত ও গীতিকবি।
❖ জন্ম: আনুমানিক ১৩৭৪ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন্মস্থান: বিসফি গ্রাম, মিথিলা।
❖ মৃত্যু: আনুমানিক ১৪৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ পিতা: গণপতি ঠাকুর।
❖ অবাঙালি হওয়ার কারণ: তিনি বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেননি; তাঁর মাতৃভাষা ও প্রধান সাহিত্যিক ভাষা ছিল মৈথিলি।
❖ বাংলায় স্বীকৃতির কারণ: তাঁর রাধাকৃষ্ণবিষয়ক প্রেমের পদাবলি বাঙালি বৈষ্ণব সমাজে গীত হতে থাকে। ফলে ভাষাগত ভিন্নতা সত্ত্বেও তিনি বাংলা সাহিত্য-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কবি হয়ে ওঠেন।
❖ ব্রজবুলি ভাষার বিকাশ: বিদ্যাপতির মৈথিলি পদগুলো বাংলা অঞ্চলে প্রচারের সময় স্থানীয় ভাষার প্রভাব গ্রহণ করে। এর ফলে একটি কৃত্রিম মিশ্র কাব্যভাষা জনপ্রিয় হয়, যা ব্রজবুলি নামে পরিচিত।
❖ রাধাকৃষ্ণের প্রেম: বিদ্যাপতির পদাবলির কেন্দ্রবিন্দু রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা, বিশেষত বিরহ, অভিসার, মান ও অনুরাগ।
❖ উল্লেখযোগ্য উপাধি: মৈথিল কোকিল, কবিকণ্ঠহার, অভিনব জয়দেব।
❖ রাজসভা: মিথিলার রাজা দেবসিংহ ও শিবসিংহের রাজসভায় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন।
❖ বিখ্যাত রচনা: কীর্তিলতা, কীর্তিপতাকা, পুরুষপরীক্ষা, ভূপরিক্রমা, লিখনাবলী এবং রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদাবলি।
❖ বাঙালি বৈষ্ণব পদকবিদের সঙ্গে পার্থক্য: জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস বাংলা অঞ্চলের বৈষ্ণব কবি। চণ্ডীদাস নামের কবিদের সঙ্গে বাংলা ভাষায় রচিত পদাবলি ও কৃষ্ণকাব্যের ঐতিহ্য সম্পর্কিত। কিন্তু বিদ্যাপতির নিজস্ব আঞ্চলিক পরিচয় মৈথিল।
❖ ঐতিহাসিক গুরুত্ব: মধ্যযুগীয় পূর্বভারতে সাহিত্য ও সংগীতের আদানপ্রদানের ফলে বিদ্যাপতির কবিতা ভৌগোলিক ও ভাষাগত সীমানা অতিক্রম করে জনপ্রিয় হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বৈষ্ণব পদাবলির অবাঙালি কবি — বিদ্যাপতি।
➤ জন্মস্থান — মিথিলার বিসফি।
➤ বর্তমান রাজ্য — বিহার।
➤ প্রধান ভাষা — মৈথিলি।
➤ বাংলায় প্রচলিত পদাবলির ভাষারূপ — ব্রজবুলি।
➤ উপাধি — মৈথিল কোকিল।
➤ রাজসভা — মিথিলা।
➤ রাজপৃষ্ঠপোষক — শিবসিংহ।
➤ রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদাবলি — বিদ্যাপতির প্রধান কীর্তি।
➤ গোবিন্দদাস — বাঙালি বৈষ্ণব পদকবি।
➤ জ্ঞানদাস — বাঙালি বৈষ্ণব পদকবি।
➤ চণ্ডীদাস — বাংলা বৈষ্ণব কবিসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নাম।
➤ ব্রজবুলি কবিতা রচনায় বিখ্যাত — গোবিন্দদাস কবিরাজ।
➤ অবাঙালি বৈষ্ণব পদকবি—বিদ্যাপতি; বাংলার বিশিষ্ট ব্রজবুলি পদকবি—গোবিন্দদাস।
Advertisement
06
🎯 Level 1

১২. বিদ্যাপতি কোন ভাষায় পদ রচনা করেন? (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিনটেনডেন্ট: ২৪; ৭ম বিজেএস [সহকারী জজ] প্রাথমিক পরীক্ষা: ১২)

ক

সংস্কৃত

খ

ফারসি

গ

হিন্দি

ঘ

ব্রজবুলি

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ব্রজবুলি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ব্রজবুলি
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বিদ্যাপতির পদরচনার ভাষা হিসেবে এই প্রশ্নে ‘ব্রজবুলি’ উত্তরটি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁর মূল মৈথিলি পদ পরবর্তী সময়ে বাংলায় গীত ও সংকলিত হওয়ার সময় ব্রজবুলি রূপ লাভ করে—এই ঐতিহাসিক পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন।
❖ বিদ্যাপতির সাহিত্যিক পরিচয়: মিথিলার রাজসভার পণ্ডিত ও বৈষ্ণব পদকবি। জন্ম আনুমানিক ১৩৭৪ সালে বিসফি গ্রামে, মৃত্যু আনুমানিক ১৪৬০ সালে।
❖ মূল সাহিত্যভাষা: মৈথিলি। তিনি সংস্কৃত ও অবহট্‌ঠ ভাষাতেও গ্রন্থ রচনা করেছেন।
❖ ব্রজবুলির সাহিত্যিক পরিচয়: এটি বাংলা ও মৈথিলির মিশ্র প্রভাবযুক্ত কাব্যভাষা। প্রধানত মধ্যযুগের বৈষ্ণব গীতিকবিতায় এর ব্যবহার দেখা যায়।
❖ বিদ্যাপতির পদাবলির বিষয়: রাধাকৃষ্ণের প্রেম, পূর্বরাগ, অভিসার, মান, বিরহ, মিলন ও ভক্তি।
❖ পদের গীতিধর্মিতা: বিদ্যাপতির পদগুলো কীর্তন ও সংগীত পরিবেশনের উপযোগী। সংক্ষিপ্ত পঙ্‌ক্তি, পুনরাবৃত্তি, মধুর ধ্বনি ও আবেগপূর্ণ ভাষা এসব রচনার বৈশিষ্ট্য।
❖ ভাষার বিস্তার: তাঁর পদ মিথিলা ছাড়িয়ে বাংলা, অসম ও ওড়িশার বৈষ্ণব সমাজে জনপ্রিয় হয়। অঞ্চলভেদে উচ্চারণ ও ভাষারূপের পরিবর্তন ঘটে।
❖ ‘কীর্তিলতা’ গ্রন্থ: অবহট্‌ঠ ভাষায় রচিত ঐতিহাসিক আখ্যান; এতে রাজা কীর্তিসিংহের ঘটনাবলি বর্ণিত হয়েছে।
❖ ‘কীর্তিপতাকা’: অবহট্‌ঠ ভাষার আরেকটি ঐতিহাসিক সাহিত্যকর্ম।
❖ ‘পুরুষপরীক্ষা’: সংস্কৃত ভাষায় রচিত নীতিশিক্ষামূলক কথাসাহিত্য।
❖ ‘লিখনাবলী’: সংস্কৃত ভাষায় পত্রলেখন ও লেখনপদ্ধতিসংক্রান্ত গ্রন্থ।
❖ ‘ভূপরিক্রমা’: ভূগোল ও তীর্থসম্পর্কিত সংস্কৃত গ্রন্থ।
❖ ‘দানবাক্যাবলী’: দানসংক্রান্ত ধর্মীয় ও শাস্ত্রীয় বিধান নিয়ে রচিত গ্রন্থ।
❖ বৈষ্ণব পদাবলির ঐতিহ্য: বিদ্যাপতির পদাবলি বাংলা সাহিত্যে ভাষা ও সংগীতের প্রভাব রাখলেও তাঁর সব রচনা ব্রজবুলিতে নয়। ইতিহাস, ধর্ম ও নীতিশিক্ষাবিষয়ক গ্রন্থের ভাষা পৃথক।
❖ বাংলা সাহিত্যে প্রভাব: বিদ্যাপতির পদাবলির ভাষারীতি অনুসরণ করে গোবিন্দদাসসহ বহু কবি ব্রজবুলিতে নতুন পদ রচনা করেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বিদ্যাপতির মূল পদাবলির ভাষা — মৈথিলি।
➤ বিদ্যাপতি — মিথিলার কবি।
➤ জন্মস্থান — বিসফি।
➤ পদাবলির বিষয় — রাধাকৃষ্ণের প্রেম।
➤ কীর্তিলতা-র ভাষা — অবহট্‌ঠ।
➤ কীর্তিপতাকা-র ভাষা — অবহট্‌ঠ।
➤ পুরুষপরীক্ষা-র ভাষা — সংস্কৃত।
➤ লিখনাবলী-র ভাষা — সংস্কৃত।
➤ ভূপরিক্রমা-র ভাষা — সংস্কৃত।
➤ পুরুষপরীক্ষা — নীতিশিক্ষামূলক গ্রন্থ।
➤ কীর্তিলতা — ইতিহাসভিত্তিক গ্রন্থ।
➤ ভূপরিক্রমা — ভূগোলবিষয়ক গ্রন্থ।
➤ লিখনাবলী — লেখনপদ্ধতিবিষয়ক গ্রন্থ।
➤ ব্রজবুলি ভাষার প্রধান প্রভাব — মৈথিলি ও বাংলা।
➤ ব্রজবুলি ভাষার বাঙালি কবি — গোবিন্দদাস কবিরাজ।
➤ ব্রজবুলিতে রবীন্দ্রনাথের রচনা — ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী।
➤ বিদ্যাপতির মূল পদ—মৈথিলি; বাংলা অঞ্চলে প্রচলিত পদভাষা—ব্রজবুলি; ঐতিহাসিক গ্রন্থের ভাষা—অবহট্‌ঠ; নীতিগ্রন্থের ভাষা—সংস্কৃত।
উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ব্রজবুলি
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বিদ্যাপতির পদরচনার ভাষা হিসেবে এই প্রশ্নে ‘ব্রজবুলি’ উত্তরটি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁর মূল মৈথিলি পদ পরবর্তী সময়ে বাংলায় গীত ও সংকলিত হওয়ার সময় ব্রজবুলি রূপ লাভ করে—এই ঐতিহাসিক পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন।
❖ বিদ্যাপতির সাহিত্যিক পরিচয়: মিথিলার রাজসভার পণ্ডিত ও বৈষ্ণব পদকবি। জন্ম আনুমানিক ১৩৭৪ সালে বিসফি গ্রামে, মৃত্যু আনুমানিক ১৪৬০ সালে।
❖ মূল সাহিত্যভাষা: মৈথিলি। তিনি সংস্কৃত ও অবহট্‌ঠ ভাষাতেও গ্রন্থ রচনা করেছেন।
❖ ব্রজবুলির সাহিত্যিক পরিচয়: এটি বাংলা ও মৈথিলির মিশ্র প্রভাবযুক্ত কাব্যভাষা। প্রধানত মধ্যযুগের বৈষ্ণব গীতিকবিতায় এর ব্যবহার দেখা যায়।
❖ বিদ্যাপতির পদাবলির বিষয়: রাধাকৃষ্ণের প্রেম, পূর্বরাগ, অভিসার, মান, বিরহ, মিলন ও ভক্তি।
❖ পদের গীতিধর্মিতা: বিদ্যাপতির পদগুলো কীর্তন ও সংগীত পরিবেশনের উপযোগী। সংক্ষিপ্ত পঙ্‌ক্তি, পুনরাবৃত্তি, মধুর ধ্বনি ও আবেগপূর্ণ ভাষা এসব রচনার বৈশিষ্ট্য।
❖ ভাষার বিস্তার: তাঁর পদ মিথিলা ছাড়িয়ে বাংলা, অসম ও ওড়িশার বৈষ্ণব সমাজে জনপ্রিয় হয়। অঞ্চলভেদে উচ্চারণ ও ভাষারূপের পরিবর্তন ঘটে।
❖ ‘কীর্তিলতা’ গ্রন্থ: অবহট্‌ঠ ভাষায় রচিত ঐতিহাসিক আখ্যান; এতে রাজা কীর্তিসিংহের ঘটনাবলি বর্ণিত হয়েছে।
❖ ‘কীর্তিপতাকা’: অবহট্‌ঠ ভাষার আরেকটি ঐতিহাসিক সাহিত্যকর্ম।
❖ ‘পুরুষপরীক্ষা’: সংস্কৃত ভাষায় রচিত নীতিশিক্ষামূলক কথাসাহিত্য।
❖ ‘লিখনাবলী’: সংস্কৃত ভাষায় পত্রলেখন ও লেখনপদ্ধতিসংক্রান্ত গ্রন্থ।
❖ ‘ভূপরিক্রমা’: ভূগোল ও তীর্থসম্পর্কিত সংস্কৃত গ্রন্থ।
❖ ‘দানবাক্যাবলী’: দানসংক্রান্ত ধর্মীয় ও শাস্ত্রীয় বিধান নিয়ে রচিত গ্রন্থ।
❖ বৈষ্ণব পদাবলির ঐতিহ্য: বিদ্যাপতির পদাবলি বাংলা সাহিত্যে ভাষা ও সংগীতের প্রভাব রাখলেও তাঁর সব রচনা ব্রজবুলিতে নয়। ইতিহাস, ধর্ম ও নীতিশিক্ষাবিষয়ক গ্রন্থের ভাষা পৃথক।
❖ বাংলা সাহিত্যে প্রভাব: বিদ্যাপতির পদাবলির ভাষারীতি অনুসরণ করে গোবিন্দদাসসহ বহু কবি ব্রজবুলিতে নতুন পদ রচনা করেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বিদ্যাপতির মূল পদাবলির ভাষা — মৈথিলি।
➤ বিদ্যাপতি — মিথিলার কবি।
➤ জন্মস্থান — বিসফি।
➤ পদাবলির বিষয় — রাধাকৃষ্ণের প্রেম।
➤ কীর্তিলতা-র ভাষা — অবহট্‌ঠ।
➤ কীর্তিপতাকা-র ভাষা — অবহট্‌ঠ।
➤ পুরুষপরীক্ষা-র ভাষা — সংস্কৃত।
➤ লিখনাবলী-র ভাষা — সংস্কৃত।
➤ ভূপরিক্রমা-র ভাষা — সংস্কৃত।
➤ পুরুষপরীক্ষা — নীতিশিক্ষামূলক গ্রন্থ।
➤ কীর্তিলতা — ইতিহাসভিত্তিক গ্রন্থ।
➤ ভূপরিক্রমা — ভূগোলবিষয়ক গ্রন্থ।
➤ লিখনাবলী — লেখনপদ্ধতিবিষয়ক গ্রন্থ।
➤ ব্রজবুলি ভাষার প্রধান প্রভাব — মৈথিলি ও বাংলা।
➤ ব্রজবুলি ভাষার বাঙালি কবি — গোবিন্দদাস কবিরাজ।
➤ ব্রজবুলিতে রবীন্দ্রনাথের রচনা — ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী।
➤ বিদ্যাপতির মূল পদ—মৈথিলি; বাংলা অঞ্চলে প্রচলিত পদভাষা—ব্রজবুলি; ঐতিহাসিক গ্রন্থের ভাষা—অবহট্‌ঠ; নীতিগ্রন্থের ভাষা—সংস্কৃত।
07
🎯 Level 1

০২. কৃত্তিবাস কোন শতকের কবি? (পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক: ১৫)

ক

পনের

খ

ষোল

গ

সতের

ঘ

আঠার

✅ সঠিক উত্তর:ক. পনের

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: পঞ্চদশ শতক (১৫শ শতাব্দী)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ কৃত্তিবাস ওঝা পঞ্চদশ শতকের মধ্যযুগীয় বাংলা কবি হিসেবে পরিচিত। তিনি সংস্কৃত রামায়ণ অবলম্বনে বাংলা ভাষায় শ্রীরাম পাঁচালী রচনা করেন এবং বাংলা অনুবাদসাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
❖ পঞ্চদশ শতকের সময়সীমা: ১৪০১–১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ। তবে কৃত্তিবাসের জীবনকাল চতুর্দশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
❖ জন্মকাল নিয়ে মতভেদ: ঐতিহাসিক গবেষণায় তাঁর জন্মসাল আনুমানিক ১৩৮১, ১৩৯৮–১৩৯৯ অথবা ১৪০২–১৪০৩ বলা হয়েছে। নিশ্চিত জন্মসাল নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
❖ জন্মস্থান: প্রধান প্রচলিত মতে ফুলিয়া গ্রাম, নদীয়া জেলা।
❖ পিতা: বনমালী ওঝা।
❖ মাতা: মালিনী দেবী।
❖ পিতামহ: মুরারি ওঝা।
❖ শিক্ষাজীবন: কৃত্তিবাস সংস্কৃত ও শাস্ত্রীয় সাহিত্যে শিক্ষালাভ করেন। তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বর্ণনায় উত্তরবঙ্গে শিক্ষাগ্রহণ এবং পরে রাজসভায় পাণ্ডিত্য প্রদর্শনের কথা পাওয়া যায়।
❖ রাজসভায় উপস্থিতি: গৌড়ের একজন শাসকের সভায় উপস্থিত হওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে; তবে শাসকের সুনির্দিষ্ট পরিচয় ও সময়কাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
❖ রামায়ণ অনুবাদ: সংস্কৃত রামায়ণের আখ্যানকে বাংলা কাব্যভাষায় রূপান্তর করেন। তাঁর অনুবাদে স্থানীয় সংস্কৃতি, আবেগ, ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকজ জীবনের উপাদান সংযোজিত হয়।
❖ কাব্যের নাম: শ্রীরাম পাঁচালী বা কৃত্তিবাসী রামায়ণ।
❖ প্রধান ছন্দ: পয়ার, সঙ্গে অন্যান্য কাব্যিক ছন্দের প্রয়োগ।
❖ পঞ্চদশ শতকের সাহিত্যিক পরিবেশ: মধ্যযুগীয় বাংলায় অনুবাদসাহিত্য, মঙ্গলকাব্য ও বৈষ্ণব পদাবলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংস্কৃত সাহিত্যের আখ্যান বাংলা ভাষায় রূপান্তরের মাধ্যমে সাধারণ পাঠকের কাছে পৌঁছায়।
❖ একই শতকের গুরুত্বপূর্ণ কবি: মালাধর বসু পঞ্চদশ শতকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কবি। তাঁর বিখ্যাত কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়।
❖ মালাধর বসুর উপাধি: গুণরাজ খান। তিনি ভাগবত পুরাণের কৃষ্ণকাহিনি বাংলায় কাব্যরূপ দেন।
❖ বৈষ্ণব পদাবলির কবি: বিদ্যাপতি চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতকের মৈথিল কবি, যাঁর পদাবলি বাংলা বৈষ্ণব সাহিত্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
❖ সাহিত্যিক গুরুত্ব: কৃত্তিবাসের বাংলা রামায়ণ মধ্যযুগে সাধারণ বাঙালির ধর্মীয় ও সাহিত্যিক চর্চায় রামকাহিনির বিস্তার ঘটায়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ কৃত্তিবাস ওঝা — পঞ্চদশ শতকের কবি।
➤ পঞ্চদশ শতক — ১৪০১–১৫০০।
➤ সাহিত্যিক যুগ — মধ্যযুগ।
➤ জন্মস্থান — ফুলিয়া, নদীয়া।
➤ পিতা — বনমালী ওঝা।
➤ মাতা — মালিনী দেবী।
➤ পিতামহ — মুরারি ওঝা।
➤ প্রধান রচনা — শ্রীরাম পাঁচালী।
➤ প্রচলিত নাম — কৃত্তিবাসী রামায়ণ।
➤ মূল কাহিনির কবি — বাল্মীকি।
➤ রচনার ভাষা — বাংলা।
➤ প্রধান ছন্দ — পয়ার।
➤ প্রথম পাঁচ খণ্ড মুদ্রণ — ১৮০২–১৮০৩।
➤ পঞ্চদশ শতকের অন্য বিখ্যাত কবি — মালাধর বসু।
➤ মালাধর বসুর উপাধি — গুণরাজ খান।
➤ মালাধর বসুর কাব্য — শ্রীকৃষ্ণবিজয়।
➤ বাংলা মহাভারতের অনুবাদক — কাশীরাম দাস।
➤ কৃত্তিবাস—১৫শ শতক; কাশীরাম দাস—১৬শ–১৭শ শতকের সন্ধিক্ষণ; ভারতচন্দ্র—১৮শ শতক।
08
🎯 Level 1

০৫. কৃত্তিবাসী রামায়ণের প্রথম পাঁচ খণ্ড কার প্রচেষ্টায় মুদ্রিত হয়? (প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নিয়োগ [পদ]: ০৯; রাবি [ব্যব.]: ০৮–০৯)

ক

উইলিয়াম কেরি

খ

উইলিয়াম জোনস

গ

কৃত্তিবাস ওঝা

ঘ

কোরেশী মাগন ঠাকুর

✅ সঠিক উত্তর:ক. উইলিয়াম কেরি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: উইলিয়াম কেরি (William Carey)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ উইলিয়াম কেরির প্রচেষ্টায় কৃত্তিবাসী রামায়ণের প্রথম পাঁচ খণ্ড শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়। প্রকাশের সময়কাল ১৮০২–১৮০৩ খ্রিষ্টাব্দ। প্রচলিত পরীক্ষার উত্তরে প্রথম মুদ্রণ ১৮০২ সাল উল্লেখ করা হয়।
❖ উইলিয়াম কেরি (William Carey) ছিলেন একজন ব্রিটিশ ব্যাপটিস্ট ধর্মপ্রচারক, ভাষাবিদ, অনুবাদক, শিক্ষাবিদ ও মুদ্রণশিল্পের সংগঠক।
❖ জন্ম: ১৭ আগস্ট ১৭৬১।
❖ জন্মস্থান: পলার্সপিউরি (Paulerspury), নর্থ্যাম্পটনশায়ার, ইংল্যান্ড।
❖ মৃত্যু: ৯ জুন ১৮৩৪।
❖ মৃত্যুস্থান: শ্রীরামপুর, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
❖ ভারতে আগমন: ১৭৯৩ সালে মিশনারি কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে ভারতে আসেন।
❖ শ্রীরামপুরে অবস্থান: ডেনিশ অধিকৃত শ্রীরামপুরে তিনি ধর্মপ্রচার, শিক্ষা, বাংলা ভাষাচর্চা ও গ্রন্থ প্রকাশের কাজে যুক্ত হন।
❖ শ্রীরামপুর মিশন: উইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যান (Joshua Marshman) ও উইলিয়াম ওয়ার্ড (William Ward) শ্রীরামপুরের মিশনারি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ শ্রীরামপুর মিশন প্রেস: ১৮০০ সালে শ্রীরামপুরে মিশনের মুদ্রণ কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় ধর্মীয়, শিক্ষামূলক ও সাহিত্যিক গ্রন্থ প্রকাশে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ কৃত্তিবাসী রামায়ণ প্রকাশের উদ্যোগ: বাংলা ভাষার গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ সহজলভ্য করার জন্য শ্রীরামপুর মিশন প্রেসে কৃত্তিবাসী রামায়ণের মুদ্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
❖ প্রথম পাঁচ খণ্ড: ১৮০২–১৮০৩ সালে প্রথম পাঁচ খণ্ড প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়। প্রাচীন গ্রন্থের ইংরেজি ও বাংলা শিরোনামপৃষ্ঠার তারিখে কিছু পার্থক্য থাকায় গ্রন্থপঞ্জিগত গবেষণায় ১৮০২ ও ১৮০৩ উভয় সাল উল্লেখিত।
❖ বাংলা মুদ্রণ ইতিহাসে গুরুত্ব: পুঁথির মাধ্যমে প্রচলিত সাহিত্যকে মুদ্রিত গ্রন্থে রূপান্তর বাংলা পাঠকসমাজের বিস্তার এবং সাহিত্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
❖ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: ৪ মে ১৮০০ সালে কলকাতায় লর্ড ওয়েলেসলি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতীয় ভাষা শিক্ষার জন্য এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ কেরির সঙ্গে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সম্পর্ক: তিনি ১৮০১ সালে কলেজে বাংলা ভাষার অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। বাংলা ভাষায় পাঠ্যপুস্তক, ব্যাকরণ ও অন্যান্য গ্রন্থ রচনায় ভূমিকা রাখেন।
❖ বাংলা গদ্যের বিকাশে অবদান: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, অভিধান, অনুবাদ এবং গদ্যশিক্ষার প্রসারে কেরির উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সম্পাদনা ও উৎসাহে বাংলা ভাষায় বহু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
❖ উইলিয়াম কেরির বাংলা ব্যাকরণ: A Grammar of the Bengalee Language, প্রকাশকাল ১৮০১।
❖ ‘কথোপকথন’ গ্রন্থ: ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়। এতে দৈনন্দিন জীবনের কথোপকথনের মাধ্যমে বাংলা ভাষা শেখার উপযোগী গদ্যরীতি ব্যবহার করা হয়।
❖ ‘ইতিহাসমালা’ গ্রন্থ: ১৮১২ সালে প্রকাশিত হয়। এতে বিভিন্ন কাহিনি ও ঐতিহাসিক-লোকজ বিবরণ সংকলিত হয়েছে।
❖ বাংলা বাইবেল অনুবাদ: উইলিয়াম কেরি বাংলা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ ও প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেন। ১৮০১ সালে বাংলা ভাষায় পূর্ণ নতুন নিয়মের প্রকাশ তাঁর ভাষা ও মুদ্রণকর্মের উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
❖ কৃত্তিবাসের পরিচয়: কৃত্তিবাস ওঝা মধ্যযুগের পঞ্চদশ শতকের কবি। তাঁর অনূদিত রামায়ণ শ্রীরাম পাঁচালী নামে পরিচিত।
❖ কৃত্তিবাসের জন্মস্থান: ফুলিয়া গ্রাম, নদীয়া।
❖ কৃত্তিবাসের পিতা: বনমালী ওঝা।
❖ রামায়ণের মূল রচয়িতা: মহর্ষি বাল্মীকি।
❖ পরবর্তী মুদ্রণ ও সম্পাদনা: ১৮৩০–১৮৩৪ সালের মধ্যে জয়গোপাল তর্কালঙ্কারের সম্পাদনায় কৃত্তিবাসী রামায়ণের দুই খণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
❖ উইলিয়াম জোনসের সঙ্গে ঐতিহাসিক পার্থক্য: স্যার উইলিয়াম জোনস কলকাতায় ১৫ জানুয়ারি ১৭৮৪ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু কৃত্তিবাসী রামায়ণের প্রথম পাঁচ খণ্ডের মুদ্রণ উদ্যোগের সঙ্গে উইলিয়াম কেরির নাম সম্পর্কিত।
❖ সাহিত্য ও মুদ্রণ ইতিহাসে গুরুত্ব: উইলিয়াম কেরির উদ্যোগে বাংলা পুঁথিসাহিত্যের মুদ্রণ, আধুনিক বাংলা গদ্যশিক্ষা এবং গ্রন্থপ্রকাশনা বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ কৃত্তিবাসী রামায়ণের প্রথম পাঁচ খণ্ড মুদ্রণের উদ্যোগ — উইলিয়াম কেরি।
➤ ইংরেজি নাম — William Carey।
➤ জন্ম — ১৭ আগস্ট ১৭৬১।
➤ জন্মস্থান — পলার্সপিউরি, ইংল্যান্ড।
➤ মৃত্যু — ৯ জুন ১৮৩৪।
➤ মৃত্যুর স্থান — শ্রীরামপুর।
➤ ভারতে আগমন — ১৭৯৩।
➤ ধর্মীয় পরিচয় — ব্যাপটিস্ট মিশনারি।
➤ শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠাকাল — ১৮০০।
➤ শ্রীরামপুরের অন্য মিশনারি — জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড।
➤ কৃত্তিবাসী রামায়ণের প্রথম পাঁচ খণ্ড প্রকাশ — ১৮০২–১৮০৩।
➤ পরীক্ষার প্রচলিত প্রথম প্রকাশসাল — ১৮০২।
➤ মুদ্রণস্থান — শ্রীরামপুর মিশন প্রেস।
➤ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা — ৪ মে ১৮০০।
➤ প্রতিষ্ঠাতা — লর্ড ওয়েলেসলি।
➤ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে কেরির অধ্যাপনায় যোগদান — ১৮০১।
➤ কেরির বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থ — A Grammar of the Bengalee Language।
➤ বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থের প্রকাশ — ১৮০১।
➤ কথোপকথন — উইলিয়াম কেরি।
➤ কথোপকথন প্রকাশ — ১৮০১।
➤ ইতিহাসমালা — উইলিয়াম কেরি।
➤ ইতিহাসমালা প্রকাশ — ১৮১২।
➤ এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠাতা — স্যার উইলিয়াম জোনস।
➤ এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা — ১৫ জানুয়ারি ১৭৮৪।
➤ কৃত্তিবাসী রামায়ণের পরবর্তী সম্পাদক — জয়গোপাল তর্কালঙ্কার।
➤ পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংস্করণ — ১৮৩০–১৮৩৪।
➤ উইলিয়াম কেরি—শ্রীরামপুর মিশন প্রেস ও বাংলা গ্রন্থমুদ্রণ; উইলিয়াম জোনস—এশিয়াটিক সোসাইটি।
Advertisement
09
🎯 Level 1

০৫. ‘বন্দনা’ কবিতার রচয়িতা— (বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের জারিকারক: ২৬)

ক

শাহ মুহম্মদ সগীর

খ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গ

আলাওল

ঘ

আবদুল হাকিম

✅ সঠিক উত্তর:ক. শাহ মুহম্মদ সগীর

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: শাহ মুহম্মদ সগীর।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘বন্দনা’ কবিতাটি শাহ মুহম্মদ সগীরের ‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্যের বন্দনা পর্ব থেকে পাঠ্যপুস্তকে সংকলিত একটি কবিতাংশ। এতে সৃষ্টিকর্তা, পিতা-মাতা, শিক্ষক ও গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার গুরুত্ব প্রকাশিত হয়েছে।
❖ বন্দনা শব্দের অর্থ: প্রশংসা, স্তুতি, শ্রদ্ধা নিবেদন বা প্রণাম।
❖ মূল কাব্যের বন্দনা পর্ব: ইউসুফ-জোলেখা কাব্যের সূচনায় কবি আল্লাহ ও রাসুলের বন্দনা, পিতা-মাতা ও শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাজপ্রশস্তি উপস্থাপন করেছেন।
❖ পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধা: মানুষের জন্ম ও শৈশবকালীন লালনপালনে পিতা-মাতার অবদান অপরিসীম। কবি সন্তানের জন্য তাঁদের কষ্ট, ত্যাগ, স্নেহ ও ভালোবাসার কথা স্মরণ করেছেন।
❖ মায়ের অবদান: মা সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন, জন্ম দেন এবং শিশুর অসহায় অবস্থায় স্নেহ ও যত্নে বড় করে তোলেন।
❖ পিতার অবদান: পিতা সন্তানের খাদ্য, পোশাক, নিরাপত্তা ও জীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের জন্য পরিশ্রম করেন।
❖ শিক্ষকের মর্যাদা: কবি জন্মদাতা পিতা-মাতার পাশাপাশি জ্ঞানদাতা শিক্ষককে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। শিক্ষক শিশুকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও জীবনচর্চার শিক্ষা প্রদান করেন।
❖ দ্বিতীয় জন্মের ধারণা: পিতা-মাতা সন্তানকে পৃথিবীতে জন্ম দেন; আর শিক্ষক জ্ঞানদানের মাধ্যমে তার বোধ ও মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটান। এই অর্থে শিক্ষককে জ্ঞানজীবনের পথপ্রদর্শক বলা যায়।
❖ কবির বিনয়: কবিতায় শাহ মুহম্মদ সগীর নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে কাব্যরচনায় সফলতার জন্য সভার সদস্য ও শ্রোতাদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
❖ কবিতার মূল শিক্ষা: কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধাবোধ, বিনয় এবং শিক্ষক-পিতামাতার প্রতি কর্তব্যবোধ মানবিক চরিত্র গঠনের অপরিহার্য গুণ।
❖ পাঠ্যপুস্তকসংক্রান্ত তথ্য: ২০২১ সালের নবম–দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য পাঠ্যপুস্তকে কবিতাটি ছিল। ২০২৪ সালের নতুন শিক্ষাক্রমের নবম শ্রেণির বইয়ে এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পাঠ্যক্রম বদলালেও কবিতার রচয়িতা অপরিবর্তিত।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: জন্ম ৭ মে ১৮৬১, মৃত্যু ৭ আগস্ট ১৯৪১। ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালি, গীতাঞ্জলি, বলাকা। আলোচ্য পাঠ্যপুস্তকের ‘বন্দনা’ তাঁর রচনা নয়।
❖ গ. আলাওল: সপ্তদশ শতাব্দীর কবি। প্রধান রচনা পদ্মাবতী, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, সপ্তপয়কর, সিকান্দরনামা। তাঁর পদ্মাবতী কাব্যের শুরুতে বন্দনাধর্মী ‘হামদ’ রয়েছে। তবে এই প্রশ্নের ‘বন্দনা’ শাহ মুহম্মদ সগীরের রচনা।
❖ ঘ. আবদুল হাকিম: সপ্তদশ শতাব্দীর বাংলা কবি। তিনি বাংলা ভাষার প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশের জন্য পরিচিত। তাঁর রচনার মধ্যে নূরনামা ও ইউসুফ-জোলেখা উল্লেখযোগ্য। তবে পাঠ্যপুস্তকের আলোচ্য ‘বন্দনা’ কবিতার রচয়িতা তিনি নন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ‘বন্দনা’ কবিতার রচয়িতা — শাহ মুহম্মদ সগীর।
➤ কবিতার উৎস — ইউসুফ-জোলেখা কাব্যের বন্দনা পর্ব।
➤ বন্দনা শব্দের অর্থ — প্রশংসা, স্তুতি বা শ্রদ্ধা নিবেদন।
➤ কবিতার প্রধান বিষয় — পিতা-মাতা ও শিক্ষকের মর্যাদা।
➤ জন্মদাতা — পিতা-মাতা।
➤ জ্ঞানদাতা — শিক্ষক বা গুরু।
➤ শিশুর প্রতি মায়ের প্রধান অবদান — স্নেহ, যত্ন ও লালনপালন।
➤ পিতার প্রধান অবদান — সন্তানকে বড় করে তুলতে পরিশ্রম ও দায়িত্ব পালন।
➤ শিক্ষককে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার কারণ — জ্ঞান ও মনুষ্যত্বের বিকাশ।
➤ কবি সবার কাছে প্রার্থনা করেছেন — কাব্যরচনার সফলতার জন্য দোয়া।
➤ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ মানবিক মূল্যবোধ — কৃতজ্ঞতা, বিনয় ও শ্রদ্ধাবোধ।
➤ আলাওলের পদ্মাবতী-তে রয়েছে — হামদ বা সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা।
➤ পার্থক্য: ‘বন্দনা’ — শাহ মুহম্মদ সগীর; ‘হামদ’ (পদ্মাবতী-র অংশ) — আলাওল।
10
🎯 Level 1

০৮. চার কবির মধ্যে প্রাচীনতম কে? (বিআরটিএ’র সহকারী মোটরযান কর্মকর্তা: ২৪)

ক

আলাওল

খ

সৈয়দ সুলতান

গ

শাহ মুহম্মদ সগীর

ঘ

মুহম্মদ খান

✅ সঠিক উত্তর:গ. শাহ মুহম্মদ সগীর

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: শাহ মুহম্মদ সগীর।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ প্রদত্ত চার কবির মধ্যে শাহ মুহম্মদ সগীর সর্বপ্রাচীন। তাঁর সাহিত্যিক সময়কাল চতুর্দশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথমভাগ।
❖ শাহ মুহম্মদ সগীর: গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের আমলে ইউসুফ-জোলেখা কাব্য রচনা করেন। রোমান্টিক প্রেমোপাখ্যানের মাধ্যমে মুসলমান কবিদের প্রাচীন বাংলা সাহিত্যচর্চার উল্লেখযোগ্য নিদর্শন সৃষ্টি করেন।
❖ সৈয়দ সুলতান: আনুমানিক ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগের কবি। তিনি নবীবংশ রচনা করেন।
❖ মুহম্মদ খান: সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগের কবি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য মক্তুল হোসেন। কারবালার করুণ ঘটনাপ্রবাহ ও ইসলামের ইতিহাসের উপাদান তাঁর রচনায় স্থান পেয়েছে।
❖ আলাওল: সপ্তদশ শতাব্দীর বিখ্যাত আরাকান রাজসভার কবি। তিনি পদ্মাবতী (১৬৪৮) রচনা করেন এবং সতীময়না-লোরচন্দ্রানী কাব্যের অসমাপ্ত অংশ সম্পন্ন করেন।
❖ সময়কাল তুলনা:
শাহ মুহম্মদ সগীর — চতুর্দশ শতাব্দীর শেষভাগ/পঞ্চদশের প্রথমভাগ।
সৈয়দ সুলতান — ষোড়শ–সপ্তদশ শতাব্দী।
মুহম্মদ খান — সপ্তদশ শতাব্দী।
আলাওল — সপ্তদশ শতাব্দী।
❖ ঐতিহাসিক তাৎপর্য: এসব কবির সাহিত্য থেকে মধ্যযুগের বাংলা মুসলমান সমাজে ধর্মীয় ইতিহাস, রোমান্টিক কাহিনি, বীরত্বগাথা ও নৈতিক শিক্ষামূলক কাব্যের ক্রমবিকাশ বোঝা যায়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ চার কবির মধ্যে প্রাচীনতম — শাহ মুহম্মদ সগীর।
➤ শাহ মুহম্মদ সগীর — ইউসুফ-জোলেখা।
➤ সৈয়দ সুলতান — নবীবংশ।
➤ মুহম্মদ খান — মক্তুল হোসেন।
➤ আলাওল — পদ্মাবতী।
➤ পদ্মাবতী রচনা — ১৬৪৮।
➤ মক্তুল হোসেন-এর বিষয় — কারবালার ঘটনাপ্রবাহ।
➤ নবীবংশ-এর বিষয় — নবীদের জীবন ও ধর্মীয় ইতিহাস।
➤ ইউসুফ-জোলেখা-র বিষয় — মানবিক প্রেম ও ধর্মীয় উপাখ্যান।
➤ মধ্যযুগের আরাকান রাজসভার বিখ্যাত কবি — আলাওল।
➤ আরাকান রাজসভার আরেক কবি — দৌলত কাজী।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন