🧠 🔖
👑 Premium Topic

বিখ্যাত সাহিত্যিক(মধ্যযুগ)- শেখ ফয়জুল্লাহ, সৈয়দ সুলতান, দৌলত কাজী, আলাওল, আব্দুল হাকীম ও ভারত চন্দ্র রায় গুনাকর

◉ বাংলা সাহিত্য›বিখ্যাত সাহিত্যিক(মধ্যযুগ)- শেখ ফয়জুল্লাহ, সৈয়দ সুলতান, দৌলত কাজী, আলাওল, আব্দুল হাকীম ও ভারত চন্দ্র রায় গুনাকর

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚71মোট প্রশ্ন
🎯4মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

২. মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি কে? (৬ষ্ঠ সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষা: ১১)

ক

জাফর হামিদ

খ

শেখ ফয়জুল্লাহ

গ

মুহম্মদ খান

ঘ

মামুদ

✅ সঠিক উত্তর:খ. শেখ ফয়জুল্লাহ

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: শেখ ফয়জুল্লাহ (Sheikh Faizullah)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হিসেবে শেখ ফয়জুল্লাহকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তিনি ষোড়শ শতকের মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ মুসলমান কবি। তাঁর বিখ্যাত মর্সিয়া কাব্য ‘জয়নবের চৌতিশা’, যা কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনার একটি অংশ অবলম্বনে রচিত।
❖ মর্সিয়া (Marsiya) শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে। এর অর্থ শোক প্রকাশ, বিলাপ বা মৃত ব্যক্তির স্মরণে রচিত শোকগাথা। সাহিত্যে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু, বিয়োগান্ত ঘটনা অথবা শোকাবহ পরিস্থিতি কেন্দ্র করে রচিত কাব্যকে মর্সিয়া সাহিত্য বলা হয়।
❖ ইসলামী সাহিত্যে মর্সিয়া কাব্যের বিকাশে ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার যুদ্ধ ও ইমাম হোসেনের শাহাদত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই যুদ্ধের শোক ও আত্মত্যাগের কাহিনি আরবি, ফারসি, উর্দু এবং পরবর্তী সময়ে বাংলা ভাষার সাহিত্যে বিশেষ স্থান লাভ করে।
❖ শেখ ফয়জুল্লাহর ‘জয়নবের চৌতিশা’ কারবালার শোকসংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত কাব্য। এর প্রধান বিষয় বিবি জয়নবের শোক ও বিলাপ। ঐতিহাসিক জয়নব বিনতে আলী ছিলেন ইমাম আলী ও ফাতিমার কন্যা এবং ইমাম হোসেনের বোন।
❖ কাব্যটিতে কারবালার যুদ্ধের বিস্তৃত সামরিক বিবরণের পরিবর্তে শোক, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং মানবিক অনুভূতি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
❖ শেখ ফয়জুল্লাহর রচনাটিকে বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শনগুলোর একটি মনে করা হয়। যদিও মর্সিয়া সাহিত্যের একেবারে প্রথম কবি নির্ধারণে প্রামাণ্য উপাদানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, প্রচলিত সাহিত্য-ইতিহাস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শেখ ফয়জুল্লাহই আদি কবি।
◉ ১. মর্সিয়া সাহিত্যের উৎপত্তি ও পরিচয়
❖ মর্সিয়া আরবি শব্দ।
❖ এর আভিধানিক অর্থ শোক প্রকাশ, বিলাপ বা মৃত ব্যক্তির গুণাবলি স্মরণ করে শোকগাথা রচনা।
❖ আরবি সাহিত্যে প্রাচীনকাল থেকেই মৃত ব্যক্তিকে স্মরণ করে শোককাব্য রচনার প্রচলন ছিল।
❖ ইসলামের ইতিহাসে বিভিন্ন শোকাবহ ঘটনা মর্সিয়া সাহিত্যের বিষয় হয়ে ওঠে।
❖ কারবালার যুদ্ধ ও ইমাম হোসেনের শাহাদত এই সাহিত্যধারার বিকাশে গভীর প্রভাব বিস্তার করে।
❖ আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়ার প্রভাব ফারসি ও উর্দু সাহিত্যে বিস্তার লাভ করে।
❖ পরবর্তী সময়ে বাংলা ভাষায় মুসলমান কবিরা এই ধারার কাব্য রচনা শুরু করেন।
❖ বাংলার মর্সিয়া সাহিত্যে ধর্মীয় অনুভূতি, শোক, আত্মত্যাগ, বীরত্ব এবং মানবিক বেদনার সমন্বয় দেখা যায়।
◉ ২. কারবালার যুদ্ধের ঐতিহাসিক পটভূমি
❖ কারবালার যুদ্ধ (Battle of Karbala) সংঘটিত হয় ১০ মহররম ৬১ হিজরি, যা সাধারণভাবে ১০ অক্টোবর ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ হিসেবে উল্লেখিত।
❖ যুদ্ধের স্থান ছিল কারবালা, বর্তমান ইরাকে।
❖ সে সময় উমাইয়া শাসক ছিলেন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া।
❖ ইমাম হোসেন ছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র।
❖ তাঁর পিতা ছিলেন ইমাম আলী এবং মাতা ফাতিমা।
❖ ইয়াজিদের শাসনের বৈধতা ও আনুগত্যের প্রশ্নে রাজনৈতিক বিরোধ সৃষ্টি হয়।
❖ ইমাম হোসেন তাঁর পরিবার ও অনুসারীদের সঙ্গে কুফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
❖ কারবালার প্রান্তরে উমাইয়া শাসকের অনুগত বাহিনী তাঁর যাত্রা প্রতিরোধ করে।
❖ সংঘর্ষে ইমাম হোসেন এবং তাঁর বহু অনুসারী নিহত হন।
❖ কারবালার এই ঘটনা মুসলিম ইতিহাসে গভীর ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও মানবিক তাৎপর্য বহন করে।
◉ ৩. কারবালার শোক ও মর্সিয়া সাহিত্যের সম্পর্ক
❖ কারবালার ঘটনায় ইমাম হোসেন ও তাঁর অনুসারীদের মৃত্যুর কারণে গভীর শোক সৃষ্টি হয়।
❖ এই শোক ও স্মৃতিকে কেন্দ্র করে আরবি ভাষায় কাব্য রচিত হয়।
❖ পরবর্তী সময়ে ফারসি ও উর্দু ভাষার মর্সিয়া সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।
❖ দক্ষিণ এশিয়ায় মর্সিয়া ধর্মীয় স্মরণ, সংগীত ও শোকানুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়।
❖ বাংলা ভাষার কবিরাও কারবালার কাহিনিকে স্থানীয় সাহিত্যিক ভাষায় প্রকাশ করেন।
❖ মর্সিয়ার পাশাপাশি জঙ্গনামা বা যুদ্ধকাব্যের বিকাশ ঘটে।
❖ মর্সিয়া সাহিত্যে শোক ও করুণ রস প্রধান হলেও অনেক রচনায় যুদ্ধ, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের বর্ণনাও পাওয়া যায়।
◉ ৪. শেখ ফয়জুল্লাহর জীবন ও সাহিত্যিক পরিচয়
❖ নাম: শেখ ফয়জুল্লাহ।
❖ ইংরেজি নাম: Sheikh Faizullah।
❖ সাহিত্যিক যুগ: মধ্যযুগ।
❖ সময়কাল: ষোড়শ শতক।
❖ সম্ভাব্য সাহিত্যিক কার্যকাল: ষোড়শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ।
❖ জন্মস্থান: নিশ্চিত নয়; বারাসত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখিত।
❖ প্রধান পরিচয়: মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মুসলমান কবি।
❖ মর্সিয়া সাহিত্যিক পরিচয়: বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হিসেবে পরিচিত।
❖ প্রধান মর্সিয়া কাব্য: জয়নবের চৌতিশা।
❖ নাথসাহিত্যবিষয়ক কাব্য: গোরক্ষবিজয়।
❖ পীরকাহিনিভিত্তিক রচনা: সত্যপীরবিজয়।
❖ ইতিহাস-লোককাহিনিভিত্তিক রচনা: গাজীবিজয়।
❖ নীতিকথাভিত্তিক রচনা: সুলতান জমজমা।
❖ সংগীতবিষয়ক রচনা: রাগমালা।
❖ শেখ ফয়জুল্লাহর সুনির্দিষ্ট জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ নির্ভরযোগ্যভাবে জানা যায় না। তাই তাঁকে ষোড়শ শতকের কবি হিসেবে চিহ্নিত করাই অধিক নির্ভুল।
◉ ৫. ‘জয়নবের চৌতিশা’ কাব্যের পরিচয়
❖ গ্রন্থের নাম: জয়নবের চৌতিশা।
❖ রচয়িতা: শেখ ফয়জুল্লাহ।
❖ সাহিত্যিক ধারা: মর্সিয়া সাহিত্য।
❖ প্রধান বিষয়: কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনা এবং বিবি জয়নবের শোক।
❖ প্রধান আবেগ: করুণ রস ও বিলাপ।
❖ কাব্যের ধরন: সংক্ষিপ্ত শোককাব্য।
❖ প্রধান চরিত্র: বিবি জয়নব।
❖ ঐতিহাসিক পটভূমি: কারবালার যুদ্ধ, ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ।
❖ প্রচলিত রচনাকাল: ষোড়শ শতক। কোনো কোনো পরীক্ষার গ্রন্থে ১৫৭০ সাল, অন্য গবেষণায় ১৫৪৫ সাল উল্লেখিত হয়েছে; নির্দিষ্ট সালটি নিশ্চিত নয়।
❖ কাব্যটির নামে ‘জয়নবের চৌতিশা’, ‘জয়নাবের চৌতিশা’ এবং কিছু পরীক্ষার গ্রন্থে ‘জয়নালের চৌতিশা’ পাঠভেদ পাওয়া যায়।
◉ ৬. ‘চৌতিশা’ কী?
❖ চৌতিশা বা চৌত্রিশা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ রচনারীতি।
❖ বাংলা বর্ণমালার চৌত্রিশটি ব্যঞ্জনবর্ণকে ক্রমানুসারে পঙ্‌ক্তি বা স্তবকের আদ্যক্ষর হিসেবে ব্যবহার করে রচনা করার পদ্ধতিকে চৌতিশা বলা হয়।
❖ মধ্যযুগীয় ধর্মীয় কাব্য ও মঙ্গলকাব্যে এই রীতির ব্যবহার পাওয়া যায়।
❖ চৌতিশা একটি রচনাগত কাঠামো; এটি এককভাবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা সাহিত্যবিষয় নির্দেশ করে না।
❖ শেখ ফয়জুল্লাহর ‘জয়নবের চৌতিশা’য় কারবালার শোকাবহ বিষয়কে এই বিশেষ রচনারীতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
❖ মধ্যযুগীয় কবিদের ভাষাদক্ষতা, বর্ণবিন্যাস এবং ছন্দের ব্যবহার বোঝার জন্য চৌতিশা গুরুত্বপূর্ণ।
◉ ৭. কারবালার জয়নব চরিত্রের পরিচয়
❖ পূর্ণ পরিচয়: জয়নব বিনতে আলী।
❖ পিতা: ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব।
❖ মাতা: ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ।
❖ ভাই: ইমাম হাসান ও ইমাম হোসেন।
❖ স্বামী: আবদুল্লাহ ইবনে জাফর।
❖ তিনি কারবালার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নারী।
❖ কারবালার যুদ্ধে ইমাম হোসেনের মৃত্যুর পর জয়নব শোকাহত পরিবার ও জীবিত সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ ঐতিহাসিক বিবরণে তাঁকে সাহস, দৃঢ়তা, শোক সহ্য করার ক্ষমতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বক্তব্যের জন্য স্মরণ করা হয়।
❖ বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যে তাঁর চরিত্র কারবালার শোক ও আত্মত্যাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
◉ ৮. বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কবি
❖ দৌলত উজির বাহরাম খান: জঙ্গনামা বা ইমামবিজয় কাব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ মুহম্মদ খান: মকতুল হোসেন বা মক্তুল হোসেন কাব্যের রচয়িতা।
❖ শেরবাজ: কাশিমের লড়াই কাব্যের রচয়িতা হিসেবে পরিচিত।
❖ ফকির গরীবুল্লাহ: জঙ্গনামা, আমীর হামজা প্রভৃতি পুঁথিসাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ রাধাচরণ গোপ: ইমামগণের কেচ্ছা ও আফৎনামা রচনার জন্য পরিচিত।
❖ মীর মশাররফ হোসেন: বিষাদ-সিন্ধু রচনার মাধ্যমে কারবালার কাহিনিকে আধুনিক বাংলা গদ্যসাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করেন।
❖ কায়কোবাদ: মহাশ্মশান মহাকাব্যের মাধ্যমে যুদ্ধ ও বিয়োগান্ত ইতিহাসের বিষয় সাহিত্যিকভাবে তুলে ধরেন।
◉ ৯. মর্সিয়া, জঙ্গনামা ও বিষাদ-সিন্ধুর পার্থক্য
❖ মর্সিয়া: মৃত ব্যক্তি বা বিয়োগান্ত ঘটনার স্মরণে রচিত শোককাব্য।
❖ জঙ্গনামা: যুদ্ধ ও সংঘর্ষের ঘটনাবিষয়ক কাহিনি বা কাব্য।
❖ জয়নবের চৌতিশা: কারবালার শোককে কেন্দ্র করে রচিত প্রাচীন বাংলা মর্সিয়া।
❖ জঙ্গনামা: কারবালাসহ যুদ্ধসংক্রান্ত ঘটনার সাহিত্যিক বিবরণ।
❖ মকতুল হোসেন: কারবালার ঘটনাবিষয়ক মধ্যযুগীয় মুসলিম আখ্যানকাব্য।
❖ বিষাদ-সিন্ধু: মীর মশাররফ হোসেনের আধুনিক বাংলা গদ্যে রচিত ঐতিহাসিক উপাখ্যানধর্মী সাহিত্যকর্ম।
❖ বিষাদ-সিন্ধুর তিন পর্ব: মহররম পর্ব, উদ্ধার পর্ব ও এজিদ-বধ পর্ব।
◉ ১০. বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া ধারার গুরুত্ব
❖ আরবি ও ফারসি সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
❖ কারবালার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে বাংলাভাষী মানুষের কাছে পরিচিত করেছে।
❖ বাংলা ভাষায় করুণ রস ও শোককাব্যের বিকাশে ভূমিকা রেখেছে।
❖ ধর্মীয় ইতিহাসকে লোকজ ভাষা ও আখ্যানের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে।
❖ মধ্যযুগীয় মুসলমান কবিদের সাহিত্যিক অবদানকে সমৃদ্ধ করেছে।
❖ পরবর্তী বাংলা পুঁথিসাহিত্য, জারি গান এবং আধুনিক ঐতিহাসিক উপাখ্যান রচনায় প্রভাব বিস্তার করেছে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি — শেখ ফয়জুল্লাহ।
➤ শেখ ফয়জুল্লাহর সাহিত্যিক যুগ — মধ্যযুগ।
➤ শেখ ফয়জুল্লাহর সময়কাল — ষোড়শ শতক।
➤ শেখ ফয়জুল্লাহর মর্সিয়া কাব্য — জয়নবের চৌতিশা।
➤ মর্সিয়া শব্দের উৎস — আরবি।
➤ মর্সিয়া শব্দের অর্থ — শোক বা বিলাপ।
➤ মর্সিয়া সাহিত্যের প্রধান রস — করুণ রস।
➤ জয়নবের চৌতিশার প্রধান বিষয় — কারবালার শোকাবহ ঘটনা।
➤ জয়নবের চৌতিশার প্রধান চরিত্র — বিবি জয়নব।
➤ ঐতিহাসিক জয়নব — ইমাম হোসেনের বোন।
➤ জয়নবের পিতা — ইমাম আলী।
➤ জয়নবের মাতা — ফাতিমা।
➤ জয়নবের স্বামী — আবদুল্লাহ ইবনে জাফর।
➤ কারবালার যুদ্ধ — ১০ মহররম ৬১ হিজরি।
➤ কারবালার যুদ্ধের খ্রিস্টীয় সাল — ৬৮০।
➤ কারবালার যুদ্ধক্ষেত্র — বর্তমান ইরাক।
➤ কারবালায় শহীদ — ইমাম হোসেন।
➤ কারবালার সময় উমাইয়া শাসক — ইয়াজিদ।
➤ চৌতিশা — চৌত্রিশ বর্ণভিত্তিক বিশেষ কাব্যরীতি।
➤ চৌতিশার বৈশিষ্ট্য — বর্ণের ক্রমানুসারে পঙ্‌ক্তি বা স্তবকের আদ্যক্ষর ব্যবহার।
➤ মর্সিয়া সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত যুদ্ধকাব্যধারা — জঙ্গনামা।
➤ জঙ্গ শব্দের অর্থ — যুদ্ধ।
➤ জঙ্গনামার গুরুত্বপূর্ণ কবি — দৌলত উজির বাহরাম খান।
➤ মকতুল হোসেনের রচয়িতা — মুহম্মদ খান।
➤ মকতুল হোসেন রচনার প্রচলিত সাল — আনুমানিক ১৬৪৫।
➤ কাশিমের লড়াইয়ের রচয়িতা — শেরবাজ।
➤ মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি — রাধাচরণ গোপ।
➤ রাধাচরণ গোপের রচনা — ইমামগণের কেচ্ছা ও আফৎনামা।
➤ বিষাদ-সিন্ধুর লেখক — মীর মশাররফ হোসেন।
➤ বিষাদ-সিন্ধুর পর্বসংখ্যা — তিনটি।
➤ মহাশ্মশানের কবি — কায়কোবাদ।"
02
🎯 Level 1

৫. শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষ বিজয়’ গ্রন্থটি আবিষ্কার করেন কে? (থানা সহকারী শিক্ষা অফিসার: ০৪)

ক

আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ

খ

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

গ

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

ঘ

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

✅ সঠিক উত্তর:ক. আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (Abdul Karim Sahitya Bisharad)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষ বিজয়’ কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার ও সংগ্রহের কৃতিত্ব আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের। তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুঁথি-গবেষক, সংগ্রাহক, সম্পাদক এবং সাহিত্য-ইতিহাসের অনুসন্ধানী ব্যক্তিত্ব।
❖ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১৮৭১–১৯৫৩) দীর্ঘকাল বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাচীন হাতে লেখা পুঁথি সংগ্রহ ও গবেষণা করেন। তাঁর প্রধান আগ্রহ ছিল মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য, বিশেষত মুসলমান কবিদের প্রাচীন সাহিত্যিক অবদান অনুসন্ধান ও সংরক্ষণ।
❖ তিনি শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষ বিজয়’ পুঁথি সংগ্রহ, পাঠোদ্ধার ও সম্পাদনা করেন। তাঁর সম্পাদনায় ১৯১৭ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, কলকাতা থেকে ‘গোরক্ষ বিজয়’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
❖ কাব্যটি বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাথধর্মবিষয়ক আখ্যানকাব্য। এর প্রধান বিষয় গোরক্ষনাথ কর্তৃক তাঁর গুরু মীননাথকে কদলী রাজ্যের ভোগবিলাসের বন্ধন থেকে উদ্ধার করা।
❖ ‘গোরক্ষ বিজয়’ কাব্যের রচয়িতা নিয়ে একসময় মতভেদ ছিল। বিভিন্ন পুঁথিতে শেখ ফয়জুল্লাহ, কবীন্দ্র দাস, ভীমসেন ও শ্যামদাসের নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কাব্যটির পাণ্ডুলিপি, ভাষা ও ভণিতা বিশ্লেষণ করে শেখ ফয়জুল্লাহকে আদি রচয়িতা হিসেবে চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থের ভূমিকা পরবর্তী বাংলা সাহিত্য-ইতিহাস গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
❖ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কেবল একটি পুঁথি আবিষ্কার করেননি; তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের বহু বিস্মৃত কবি ও সাহিত্যকর্মের পরিচয় উদ্ধার করেন। তাঁর গবেষণায় বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসে মুসলমান কবিদের অবদান নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
◉ ১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের জীবন ও পরিচয়
❖ পূর্ণ নাম: মুন্সী আবদুল করিম।
❖ প্রচলিত পরিচয়: আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ।
❖ ইংরেজি নাম: Abdul Karim Sahitya Bisharad।
❖ জন্ম: ১১ অক্টোবর ১৮৭১।
❖ জন্মস্থান: সুচক্রদণ্ডী গ্রাম, পটিয়া, চট্টগ্রাম।
❖ মৃত্যু: ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩।
❖ পিতা: মুন্সী নূরউদ্দীন।
❖ মাতা: মিস্রীজান।
❖ প্রধান পরিচয়: সাহিত্য-ইতিহাসবিদ, পুঁথি-গবেষক, সংগ্রাহক ও সম্পাদক।
❖ বিশেষ উপাধি: সাহিত্যবিশারদ।
❖ আরেকটি সম্মানসূচক উপাধি: সাহিত্যসাগর।
❖ প্রধান গবেষণাক্ষেত্র: মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য এবং মুসলমান কবিদের সাহিত্যিক ঐতিহ্য।
◉ ২. আবদুল করিমের শিক্ষাজীবন
❖ আবদুল করিম চট্টগ্রামের পটিয়া অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
❖ পরবর্তী সময়ে পটিয়া হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন।
❖ ১৮৯৩ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
❖ এরপর চট্টগ্রাম কলেজে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন।
❖ অসুস্থতার কারণে তিনি নিয়মিত উচ্চশিক্ষা শেষ করতে পারেননি।
❖ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন অসম্পূর্ণ থাকলেও নিজের প্রচেষ্টায় সাহিত্য, ইতিহাস ও প্রাচীন পুঁথি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন।
❖ তাঁর গবেষণাজীবনের প্রধান শক্তি ছিল স্বশিক্ষা, অধ্যবসায় এবং প্রাচীন সাহিত্য সংগ্রহের প্রতি গভীর আগ্রহ।
◉ ৩. কর্মজীবন ও সাহিত্যচর্চার সূচনা
❖ আবদুল করিম জীবনের বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক চাকরি করেন।
❖ কিছু সময় বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।
❖ পরে চট্টগ্রামের সরকারি প্রশাসনিক দপ্তরে চাকরি করেন।
❖ ১৯০৬ সালে বিদ্যালয় পরিদর্শন বিভাগের কার্যালয়ে চাকরিতে যোগ দেন।
❖ তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর এই দপ্তরে কাজ করেন।
❖ ১৯৩৪ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
❖ চাকরির পাশাপাশি প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ, পাঠোদ্ধার ও সাহিত্য-গবেষণার কাজ অব্যাহত রাখেন।
❖ বিভিন্ন গ্রাম ও ব্যক্তিগত সংগ্রহে সংরক্ষিত পুরোনো পাণ্ডুলিপির সন্ধান করেন।
❖ এই দীর্ঘ গবেষণার ফলে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ রচনা উদ্ধার হয়।
◉ ৪. মধ্যযুগীয় বাংলা পুঁথি সংগ্রহে তাঁর অবদান
❖ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ প্রাচীন হাতে লেখা পুঁথি সংগ্রহে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
❖ মধ্যযুগের বহু কবির সাহিত্যকর্ম তখন সাধারণ পাঠক ও গবেষকদের কাছে পরিচিত ছিল না।
❖ তিনি ব্যক্তিগত বাড়ি, পুরোনো সংগ্রহ এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সংরক্ষিত পুঁথি অনুসন্ধান করেন।
❖ বিশেষভাবে মধ্যযুগীয় মুসলমান কবিদের বাংলা সাহিত্যিক অবদান অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেন।
❖ তাঁর সংগ্রহের ফলে বহু অজ্ঞাত কবির নাম ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে জানা যায়।
❖ তিনি সংগৃহীত পুঁথির ভাষা, লিপি, রচনাকাল ও সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেন।
❖ পুঁথির পাঠ সংশোধন ও সম্পাদনার মাধ্যমে পাঠযোগ্য সংস্করণ প্রস্তুত করেন।
❖ তাঁর গবেষণা বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসের প্রচলিত ধারণাকে সমৃদ্ধ করে।
◉ ৫. গোরক্ষ বিজয় পুঁথির আবিষ্কার ও সম্পাদনা
❖ গোরক্ষ বিজয় একটি নাথধর্মবিষয়ক আখ্যানকাব্য।
❖ এর আদি রচয়িতা হিসেবে শেখ ফয়জুল্লাহ পরিচিত।
❖ কাব্যটির একাধিক হাতে লেখা পুঁথির অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
❖ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কাব্যটির পুঁথি সংগ্রহ ও সম্পাদনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ তিনি কাব্যের প্রাচীন পাঠ ও কবির পরিচয় নিয়ে গবেষণা করেন।
❖ ১৯১৭ সালে তাঁর সম্পাদিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
❖ প্রকাশক প্রতিষ্ঠান: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ।
❖ প্রকাশের স্থান: কলকাতা।
❖ গ্রন্থটির সঙ্গে সংযুক্ত গবেষণামূলক ভূমিকা বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
❖ তাঁর গবেষণা ও সম্পাদনার ফলে গোরক্ষ বিজয় এবং শেখ ফয়জুল্লাহর সাহিত্যিক পরিচয় আরও সুস্পষ্ট হয়।
◉ ৬. গোরক্ষ বিজয়ের কবিত্বসংক্রান্ত সমস্যা
❖ গোরক্ষনাথের গুরু উদ্ধারের কাহিনি বাংলা সাহিত্যে একাধিক কবির রচনায় পাওয়া যায়।
❖ বিভিন্ন পুঁথিতে শেখ ফয়জুল্লাহর নাম পাওয়া যায়।
❖ কবীন্দ্র দাস নামেও একই ধারার রচনা প্রচলিত।
❖ ভীমসেন বা ভীমদাস-এর নামও কিছু গবেষণায় পাওয়া যায়।
❖ শ্যামদাস নামেও নাথধর্মের আখ্যানসংক্রান্ত পুঁথি পরিচিত।
❖ ফলে কাব্যটির মূল রচয়িতা ও পরবর্তী অনুকরণকারীদের পরিচয় নির্ধারণে গবেষণার প্রয়োজন হয়।
❖ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ শেখ ফয়জুল্লাহকে গোরক্ষ বিজয়ের আদি রচয়িতা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ পরবর্তী সাহিত্য-ইতিহাসে শেখ ফয়জুল্লাহর নাম এই কাব্যের রচয়িতা হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে।
◉ ৭. গোরক্ষ বিজয়ের প্রধান কাহিনি
❖ গোরক্ষনাথ নাথধর্মের একজন সিদ্ধ যোগী।
❖ তাঁর গুরু মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ।
❖ মীননাথ কদলী রাজ্যে গিয়ে ভোগবিলাসে আবদ্ধ হন।
❖ তিনি নিজের যোগসাধনা ও আধ্যাত্মিক দায়িত্ব ভুলে যান।
❖ গুরুর এই পরিস্থিতি জানতে পেরে গোরক্ষনাথ তাঁকে উদ্ধার করতে যান।
❖ গোরক্ষনাথ নর্তকীর ছদ্মবেশে কদলী রাজ্যে প্রবেশ করেন।
❖ মৃদঙ্গের বোল ও সাংকেতিক উপদেশের মাধ্যমে তিনি মীননাথকে অতীতের সাধনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
❖ মীননাথের আধ্যাত্মিক চেতনা ফিরে আসে।
❖ তিনি পার্থিব ভোগবিলাসের মোহ ত্যাগ করেন।
❖ এই গুরু উদ্ধারের ঘটনাই গোরক্ষনাথের প্রকৃত আধ্যাত্মিক বিজয়।
◉ ৮. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদিত গ্রন্থ
❖ গোরক্ষ বিজয়: শেখ ফয়জুল্লাহর নাথধর্মবিষয়ক কাব্য; সম্পাদিত প্রকাশ ১৯১৭।
❖ জ্ঞানসাগর: আলী রাজার কাব্য।
❖ গঙ্গামঙ্গল: দ্বিজ মাধবের রচনা।
❖ মৃগলুব্ধ: দ্বিজ রতিদেবের কাব্য।
❖ সারদামঙ্গল: মুক্তারাম সেনের কাব্য।
❖ শ্রীগৌরাঙ্গ সন্ন্যাস: বাসুদেব ঘোষের রচনা।
❖ সত্যনারায়ণের পুঁথি: কবি বল্লভের রচনা।
❖ এসব রচনার সম্পাদনা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে।
◉ ৯. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের গবেষণাগ্রন্থ
❖ বাঙ্গালা প্রাচীন পুঁথির বিবরণ: প্রাচীন বাংলা পাণ্ডুলিপির পরিচয় ও বিবরণসংবলিত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
❖ আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য: ড. মুহম্মদ এনামুল হকের সঙ্গে যৌথভাবে রচিত।
❖ ভারতে মুসলমান রাজ্য: ইতিহাস ও সাহিত্যবিষয়ক রচনা।
❖ তাঁর গবেষণাপত্রগুলোতে মধ্যযুগের কবি, কাব্য, ভাষা এবং বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
❖ প্রাচীন বাংলা পুঁথির তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ তাঁর গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
◉ ১০. আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য ও মুসলমান কবিদের অবদান
❖ মধ্যযুগে আরাকানের রাজসভায় বাংলা সাহিত্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ ঘটে।
❖ এই সাহিত্যধারার দুই বিখ্যাত কবি দৌলত কাজী ও আলাওল।
❖ দৌলত কাজীর বিখ্যাত কাব্য সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী।
❖ আলাওলের বিখ্যাত কাব্য পদ্মাবতী।
❖ আলাওলের পদ্মাবতী রচিত হয় ১৬৫২ সালে।
❖ আলাওল ফারসি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর পদুমাবৎ অবলম্বনে পদ্মাবতী রচনা করেন।
❖ আরাকান রাজসভার সাহিত্য মধ্যযুগীয় বাংলা মুসলিম কাব্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
❖ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও ড. মুহম্মদ এনামুল হকের গবেষণা এই সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে নতুনভাবে আলোচনায় নিয়ে আসে।
◉ ১১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর পার্থক্য
❖ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ: মধ্যযুগীয় বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও গবেষক।
❖ গোরক্ষ বিজয় পুঁথি সংগ্রহ ও সম্পাদনা: আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ।
❖ গোরক্ষ বিজয়ের সম্পাদিত প্রকাশ: ১৯১৭।
❖ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী: প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের পুঁথি আবিষ্কারক ও গবেষক।
❖ চর্যাপদ আবিষ্কার: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
❖ চর্যাপদ আবিষ্কারের সাল: ১৯০৭।
❖ চর্যাপদ আবিষ্কারের স্থান: নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার।
❖ চর্যাপদ প্রকাশ: ১৯১৬।
❖ অর্থাৎ গোরক্ষ বিজয় — আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ এবং চর্যাপদ — হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
◉ ১২. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও বসন্তরঞ্জন রায়ের পার্থক্য
❖ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ: গোরক্ষ বিজয়ের পুঁথি সংগ্রাহক ও সম্পাদক।
❖ বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ: শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কারক।
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কার: ১৯০৯।
❖ আবিষ্কারের স্থান: বাঁকুড়ার কাঁকিল্যা গ্রাম।
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন প্রকাশ: ১৯১৬।
❖ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা: বড়ু চণ্ডীদাস।
❖ গোরক্ষ বিজয়ের রচয়িতা: শেখ ফয়জুল্লাহ।
❖ গোরক্ষ বিজয় প্রকাশ: ১৯১৭।
❖ এই দুটি গ্রন্থই বাংলা মধ্যযুগীয় সাহিত্যের মূল্যবান নিদর্শন হলেও সাহিত্যিক বিষয় ও ধর্মীয় পটভূমি পৃথক।
◉ ১৩. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের সাহিত্যিক গুরুত্ব
❖ বাংলা সাহিত্যের বহু বিস্মৃত কবি ও গ্রন্থের পরিচয় উদ্ধার করেছেন।
❖ প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
❖ মধ্যযুগীয় বাংলা মুসলমান কবিদের অবদান প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছেন।
❖ পুঁথির পাঠোদ্ধার, সম্পাদনা ও প্রকাশের মাধ্যমে গবেষণার নতুন উপাদান সরবরাহ করেছেন।
❖ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছেন।
❖ হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের কবিদের সাহিত্যকর্ম সংগ্রহ ও সম্পাদনা করেছেন।
❖ তাঁর কাজ বাংলা সাহিত্যের বহুমাত্রিক ও সমন্বয়ধর্মী ঐতিহ্য বোঝার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ গোরক্ষ বিজয় পুঁথির আবিষ্কারক ও সংগ্রাহক — আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ।
➤ গোরক্ষ বিজয়ের সম্পাদক — আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ।
➤ গোরক্ষ বিজয়ের আদি রচয়িতা — শেখ ফয়জুল্লাহ।
➤ গোরক্ষ বিজয়ের সম্পাদিত সংস্করণ প্রকাশ — ১৯১৭।
➤ প্রকাশক — বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ।
➤ গোরক্ষ বিজয় প্রকাশের স্থান — কলকাতা।
➤ গোরক্ষ বিজয়ের সাহিত্যিক ধারা — নাথসাহিত্য।
➤ গোরক্ষ বিজয়ের প্রধান চরিত্র — গোরক্ষনাথ ও মীননাথ।
➤ গোরক্ষনাথের গুরু — মীননাথ।
➤ মীননাথ মোহাবিষ্ট হন — কদলী রাজ্যে।
➤ গোরক্ষনাথের গুরু উদ্ধারের ছদ্মবেশ — নর্তকী।
➤ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের জন্ম — ১১ অক্টোবর ১৮৭১।
➤ জন্মস্থান — সুচক্রদণ্ডী, পটিয়া, চট্টগ্রাম।
➤ পিতা — মুন্সী নূরউদ্দীন।
➤ মাতা — মিস্রীজান।
➤ মৃত্যু — ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩।
➤ আবদুল করিমের প্রধান পরিচয় — পুঁথি সংগ্রাহক, সম্পাদক ও সাহিত্য-গবেষক।
➤ প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ — ১৮৯৩।
➤ সরকারি চাকরি থেকে অবসর — ১৯৩৪।
➤ আবদুল করিমের প্রধান গবেষণাক্ষেত্র — মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য।
➤ আবদুল করিমের সম্মানসূচক উপাধি — সাহিত্যবিশারদ।
➤ অন্য সম্মানসূচক উপাধি — সাহিত্যসাগর।
➤ তাঁর সম্পাদিত কাব্য — গোরক্ষ বিজয়।
➤ তাঁর সম্পাদিত আরেক কাব্য — জ্ঞানসাগর।
➤ জ্ঞানসাগরের রচয়িতা — আলী রাজা।
➤ তাঁর সম্পাদিত গঙ্গামঙ্গলের রচয়িতা — দ্বিজ মাধব।
➤ তাঁর সম্পাদিত মৃগলুব্ধের রচয়িতা — দ্বিজ রতিদেব।
➤ আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য — আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও ড. মুহম্মদ এনামুল হকের যৌথ গবেষণাগ্রন্থ।
➤ আরাকানের বিখ্যাত কবি — দৌলত কাজী।
➤ আরাকানের আরেক বিখ্যাত কবি — আলাওল।
➤ দৌলত কাজীর কাব্য — সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী।
➤ আলাওলের কাব্য — পদ্মাবতী।
➤ আলাওলের পদ্মাবতী — ১৬৫২।
➤ চর্যাপদ আবিষ্কারক — হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
➤ চর্যাপদ আবিষ্কার — ১৯০৭।
➤ চর্যাপদ প্রকাশ — ১৯১৬।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারক — বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কার — ১৯০৯।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন প্রকাশ — ১৯১৬।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা — বড়ু চণ্ডীদাস।
➤ গোরক্ষ বিজয় ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের পৃথক আখ্যানকাব্য।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০২. ‘কাসাসুল আম্বিয়া’ অনুসরণ করে সৈয়দ সুলতান রচনা করেন— (সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের অফিসার: ২৫)

ক

ইউসুফ-জোলেখা

খ

নুরনামা

গ

নবীবংশ

ঘ

জ্ঞানচৌতিশা

✅ সঠিক উত্তর:গ. নবীবংশ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: নবীবংশ — সৈয়দ সুলতান।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘নবীবংশ’ সৈয়দ সুলতান রচিত মধ্যযুগের একটি বিখ্যাত ইসলামি ধর্মীয় আখ্যানকাব্য। এটি ‘কাসাসুল আম্বিয়া’-র কাহিনির অনুসরণে রচিত। ‘কাসাসুল আম্বিয়া’ অর্থ নবীদের কাহিনি বা নবী-রাসুলদের জীবনবৃত্তান্ত।
❖ রচয়িতা: সৈয়দ সুলতান (আনুমানিক ১৫৫০–১৬৪৮)।
❖ রচনাকাল: প্রচলিত সাহিত্য-ইতিহাসে ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দ নবীবংশ-এর রচনাসাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
❖ গ্রন্থের উৎস: ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া। একই নাম ও বিষয়বস্তুর আরবি ধর্মীয় আখ্যানের ঐতিহ্যও রয়েছে।
❖ ‘কাসাস’ শব্দের অর্থ: কাহিনি, ঘটনা বা বিবরণ।
❖ ‘আম্বিয়া’ শব্দের অর্থ: নবীগণ; এটি আরবি ‘নবী’ শব্দের বহুবচন।
❖ কাব্যের প্রধান বিষয়: সৃষ্টিতত্ত্ব, নবী-রাসুলদের জীবন, তাঁদের ধর্মপ্রচার, নৈতিক শিক্ষা এবং ইসলামি ধর্মীয় ইতিহাস।
❖ কাব্যের দুই প্রধান অংশ: প্রথম অংশ নবীবংশ নামে পরিচিত; দ্বিতীয় অংশ রসুলচরিত নামে পরিচিত।
❖ প্রথম অংশের বিষয়বস্তু: সৃষ্টির সূচনা, আদম (আ.) এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন নবী-রাসুলের জীবনসংক্রান্ত কাহিনি।
❖ দ্বিতীয় অংশের বিষয়বস্তু: হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম, বংশপরিচয়, পারিবারিক জীবন, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ।
❖ আদম (আ.): ইসলামি বিশ্বাসে প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী। নবীবংশ-এর কাহিনিতে সৃষ্টিতত্ত্ব এবং আদম (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ।
❖ ইব্রাহিম (আ.): একত্ববাদী ধর্মীয় বিশ্বাসের অন্যতম প্রধান নবী। তাঁর জীবন ও আত্মত্যাগ ইসলামি ধর্মীয় আখ্যানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
❖ মূসা (আ.): বনি ইসরাইলের নবী। ফেরাউনের অত্যাচার ও মূসা (আ.)-এর ঘটনাবলি ধর্মীয় ইতিহাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ ঈসা (আ.): ইসলামি ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান নবী। তাঁর জন্ম ও জীবনসংক্রান্ত ঘটনাবলি নবী-রাসুলদের ধারাবাহিক ইতিহাসের অংশ।
❖ হজরত মুহাম্মদ (সা.): ইসলামের সর্বশেষ নবী। রসুলচরিত অংশে তাঁর জীবনের কাহিনি বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
❖ ধর্মীয় আখ্যানের স্থানীয় রূপান্তর: সৈয়দ সুলতান ইসলামি আখ্যানকে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের উপযোগী করে রচনা করেন। এতে স্থানীয় সমাজের পরিচিত শব্দ, কল্পনা ও সাংস্কৃতিক উপাদান যুক্ত হয়েছে।
❖ হিন্দু পুরাণের উল্লেখ: কাব্যে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, হরি, রাম ও কৃষ্ণ প্রভৃতি নাম পাওয়া যায়। কবি স্থানীয় পাঠকের পরিচিত ধর্মীয় ধারণা ব্যবহার করে নিজের ধর্মীয় বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।
❖ কাব্যের ধর্মীয় উদ্দেশ্য: ইসলামি ধর্মীয় ইতিহাস, একত্ববাদ, নবী-রাসুলদের মর্যাদা এবং নৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা।
❖ কাব্যের শেষাংশ: রসুলচরিত-এর সঙ্গে শব-ই-মিরাজ ও ওফাত-ই-রসুল কাব্যাংশ সম্পর্কিত।
❖ সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য: দীর্ঘ আখ্যান, পয়ারধর্মী বর্ণনা, ধর্মীয় ইতিহাস, অলৌকিক ঘটনাবলি, নৈতিক শিক্ষা এবং স্থানীয় লোকবিশ্বাসের উপাদান।
❖ বাংলা মুসলিম সাহিত্যধারায় গুরুত্ব: নবীবংশ মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় নবী-রাসুলদের জীবনকাহিনি বিস্তৃতভাবে রচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
❖ সৈয়দ সুলতানের অন্যান্য গ্রন্থ: জ্ঞানপ্রদীপ, জ্ঞানচৌতিশা ও জয়কুম রাজার লড়াই।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে রচিত কাব্য — নবীবংশ।
➤ রচয়িতা — সৈয়দ সুলতান।
➤ প্রচলিত রচনাসাল — ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ ‘কাসাস’ অর্থ — কাহিনি।
➤ ‘আম্বিয়া’ অর্থ — নবীগণ।
➤ নবীবংশ — নবী-রাসুলদের জীবনকাহিনিভিত্তিক কাব্য।
➤ প্রধান দুই অংশ — নবীবংশ ও রসুলচরিত।
➤ দ্বিতীয় অংশ — রসুলচরিত।
➤ প্রথম আলোচিত নবী — আদম (আ.)।
➤ শেষ নবী — হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
➤ রসুলচরিত — মহানবীর জীবনকাহিনি।
➤ কাব্যে হিন্দু পুরাণচরিত্রের উল্লেখ — ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, হরি প্রমুখ।
➤ কাব্যের শেষাংশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা — শব-ই-মিরাজ।
➤ শেষাংশের অন্য বিষয় — ওফাত-ই-রসুল।
➤ সৈয়দ সুলতানের সুফিবিষয়ক রচনা — জ্ঞানপ্রদীপ।
➤ জ্ঞানপ্রদীপ-এর সংক্ষিপ্ত রূপ — জ্ঞানচৌতিশা।
➤ কাসাসুল আম্বিয়া—নবীদের কাহিনি; নবীবংশ—সৈয়দ সুলতান; রসুলচরিত—নবীবংশের দ্বিতীয় অংশ।
04
🎯 Level 1

০৫. সৈয়দ সুলতানের জন্মস্থান কোথায়? (আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের প্রো. অফিসার: ১৫)

ক

ফরিদপুর

খ

হবিগঞ্জ

গ

নরসিংদী

ঘ

মাদারীপুর

✅ সঠিক উত্তর:খ. হবিগঞ্জ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: হবিগঞ্জ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ প্রদত্ত প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর হবিগঞ্জ। সৈয়দ সুলতানের জন্মস্থান হিসেবে হবিগঞ্জ জেলার লস্করপুর গ্রাম বিশেষভাবে পরিচিত। এটি ঐতিহাসিক তরফ রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত অঞ্চল।
❖ কবির পূর্ণ পরিচয়: সৈয়দ সুলতান, মধ্যযুগের বিশিষ্ট মুসলিম কবি, সুফি সাধক এবং ইসলামি ধর্মীয় আখ্যানকার।
❖ জন্মকাল: আনুমানিক ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ মৃত্যুকাল: আনুমানিক ১৬৪৮ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন্মস্থানসংক্রান্ত মতভেদ: স্থানীয় গবেষণা ও প্রচলিত জীবনীতে লস্করপুর, হবিগঞ্জ উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে বাংলাপিডিয়ায় চট্টগ্রামের পটিয়া অঞ্চলের চক্রশালাকে তাঁর বসবাসের স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে জন্মস্থানের প্রশ্নে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
❖ লস্করপুরের ঐতিহাসিক পরিচয়: লস্করপুর বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রাচীন তরফ রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। মুসলিম শাসন, সুফি সাধনা ও ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে এ অঞ্চলের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ তরফ রাজ্যের ইতিহাস: মধ্যযুগে তরফ অঞ্চল সুফি সাধকদের ধর্মপ্রচার ও স্থানীয় মুসলিম সংস্কৃতির বিকাশের একটি উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র ছিল।
❖ সৈয়দ সুলতানের পারিবারিক ঐতিহ্য: হবিগঞ্জের সুলতানসী অঞ্চলে তাঁর বংশধারা ও সাহিত্যিক স্মৃতির পরিচয় পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক সুলতানসী হাবেলীর সঙ্গে তাঁর বংশপরিচয়ের সম্পর্ক রয়েছে।
❖ চট্টগ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক: গবেষকদের মতে, তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া ও চক্রশালা অঞ্চলে বসবাস এবং সাহিত্যচর্চা করেছেন। মধ্যযুগে চট্টগ্রাম আরবি-ফারসি সাহিত্য, সুফি সংস্কৃতি ও বাংলাভাষী মুসলিম সাহিত্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
❖ আধ্যাত্মিক জীবন: তাঁর পীরের নাম সৈয়দ হাসান। সৈয়দ সুলতান পরবর্তী সময়ে নিজেও পীর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
❖ শিষ্যপরম্পরা: মুহম্মদ খান তাঁর শিষ্য ছিলেন। মুহম্মদ খান মক্তুল হোসেন কাব্যের রচয়িতা।
❖ সাহিত্যিক পরিবেশ: ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে বাংলায় ইসলামি ধর্মীয় কাহিনি, সুফি সাধনাবিষয়ক রচনা এবং আরবি-ফারসি আখ্যানের বাংলা রূপান্তর জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
❖ প্রধান কাব্য ‘নবীবংশ’: নবী-রাসুলদের জীবনকাহিনি নিয়ে রচিত। কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে কাব্যটি রচিত হয়েছে।
❖ ‘জ্ঞানপ্রদীপ’: আধ্যাত্মিক জ্ঞান, সুফি সাধনা, দেহতত্ত্ব ও যোগতত্ত্বের সমন্বয়ে রচিত কাব্য।
❖ ‘জ্ঞানচৌতিশা’: জ্ঞানপ্রদীপ-এর সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে পরিচিত সুফি ও যোগতত্ত্ববিষয়ক রচনা।
❖ ‘জয়কুম রাজার লড়াই’: রাজা জয়কুমের যুদ্ধকাহিনিভিত্তিক সাহিত্যকর্ম।
❖ ভাষা ও সাহিত্যরীতি: তিনি জটিল ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিষয় বাংলা ভাষায় সহজভাবে প্রকাশ করেছেন। তাঁর রচনায় আরবি-ফারসি পরিভাষার পাশাপাশি স্থানীয় ভাষা ও সাংস্কৃতিক উপাদান পাওয়া যায়।
❖ সাহিত্যিক গুরুত্ব: সৈয়দ সুলতান বাংলার মুসলিম ধর্মীয় সাহিত্যকে সুফিবাদ, ইতিহাস ও আখ্যানকাব্যের মাধ্যমে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সৈয়দ সুলতানের প্রচলিত জন্মস্থান — হবিগঞ্জ।
➤ গ্রাম — লস্করপুর।
➤ ঐতিহাসিক অঞ্চল — তরফ।
➤ সাহিত্যিক জীবন সম্পর্কিত অন্য অঞ্চল — চট্টগ্রামের পটিয়া।
➤ জন্ম — আনুমানিক ১৫৫০।
➤ মৃত্যু — আনুমানিক ১৬৪৮।
➤ সাহিত্যিক যুগ — মধ্যযুগ।
➤ পরিচয় — সুফি কবি, শাস্ত্রবিদ ও পীর।
➤ পীর — সৈয়দ হাসান।
➤ শিষ্য — মুহম্মদ খান।
➤ শিষ্যের রচনা — মক্তুল হোসেন।
➤ প্রধান কাব্য — নবীবংশ।
➤ প্রচলিত রচনাসাল — ১৫৮৪।
➤ উৎস — কাসাসুল আম্বিয়া।
➤ জ্ঞানপ্রদীপ — সুফি ও যোগতত্ত্ব।
➤ জ্ঞানচৌতিশা — জ্ঞানপ্রদীপ-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
➤ জয়কুম রাজার লড়াই — যুদ্ধকাহিনিভিত্তিক কাব্য।
➤ রচনাবলির সম্পাদক — ড. আহমদ শরীফ।
➤ রচনাবলি প্রকাশ — বাংলা একাডেমি, ১৯৭৮।
05
🎯 Level 1

০২. আরাকান রাজসভায় প্রথম বাঙালি কবি— (খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক: ২২; সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার: ০৫)

ক

কোরেশী মাগন ঠাকুর

খ

দৌলত কাজী

গ

আলাওল

ঘ

মরদন

✅ সঠিক উত্তর:খ. দৌলত কাজী

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: দৌলত কাজী (Daulat Qazi)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ দৌলত কাজী আরাকান রাজসভার প্রথম পরিচিত বাঙালি কবি হিসেবে স্বীকৃত। তিনি সপ্তদশ শতাব্দীতে আরাকানের রাজা শ্রীসুধর্মার শাসনামলে সাহিত্যচর্চা করেন এবং সমরসচিব আশরফ খানের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য রচনা করেন।
❖ জন্ম: আনুমানিক ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন্মস্থান: সুলতানপুর গ্রামের কাজীপাড়া, রাউজান, চট্টগ্রাম।
❖ মৃত্যু: ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ সাহিত্যিক পরিচয়: আরাকান রাজসভার আদি বাঙালি কবি এবং বাংলা লৌকিক প্রেমকাহিনির অন্যতম পথিকৃৎ।
❖ আরাকানের অবস্থান: বর্তমান মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন রাখাইন অঞ্চলে ঐতিহাসিক আরাকান রাজ্য অবস্থিত ছিল।
❖ আরাকানের বাংলা নাম: মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে আরাকানকে রোসাঙ্গ বা রোসাং নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
❖ রাজধানী: ম্রাউক-উ (Mrauk-U)।
❖ বাংলার সঙ্গে সম্পর্ক: আরাকান ও বাংলার মধ্যে সমুদ্রপথে বাণিজ্য, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান ছিল। ফলে সেখানে বাংলা ভাষার ব্যবহার ও সাহিত্যচর্চা বিস্তার লাভ করে।
❖ রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতা: আরাকানের কিছু শাসক এবং মুসলিম অমাত্য বাংলা ভাষার কবি ও সাহিত্যিকদের আশ্রয় দিতেন।
❖ আরাকানের তৎকালীন রাজা: শ্রীসুধর্মা (Thiri Thudhamma)।
❖ শ্রীসুধর্মার রাজত্বকাল: ১৬২২–১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ দৌলত কাজীর পৃষ্ঠপোষক: আশরফ খান।
❖ আশরফ খানের পরিচয়: আরাকান রাজসভার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা বা সমরসচিব। তাঁর উপাধি ছিল লস্কর উজির।
❖ কাব্য রচনার নির্দেশ: আশরফ খান উত্তর ভারতীয় প্রেমাখ্যানের কাহিনি বাংলা ভাষায় শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর অনুরোধে দৌলত কাজী বাংলা কাব্য রচনা শুরু করেন।
❖ প্রধান রচনা: সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী।
❖ কাব্যের উৎস: মিঁয়া সাধনের মৈনাসত এবং মোল্লা দাউদের চান্দাইন কাব্যের প্রভাব রয়েছে।
❖ কাব্যের মূল কাহিনি: গোহরীর সামন্তশাসক লোর ও চন্দ্রানীর প্রেম এবং লোরের স্ত্রী সতীময়নার ভালোবাসা, বিচ্ছেদ ও বিশ্বস্ততার কাহিনি।
❖ লোর: সামন্তশাসক, যার ব্যক্তিগত প্রেম ও দাম্পত্যসম্পর্ক কাহিনির কেন্দ্রীয় বিষয়।
❖ সতীময়না: লোরের প্রথম স্ত্রী। তাঁর চরিত্রে সতীত্ব, ধৈর্য, প্রেম ও আত্মত্যাগ প্রকাশ পেয়েছে।
❖ চন্দ্রানী: লোরের প্রেমিকা। তাঁর সঙ্গে লোরের সম্পর্ক কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে।
❖ সামাজিক ও মানবিক বিষয়: ধর্মীয় মাহাত্ম্যের পরিবর্তে মানুষ, প্রেম, সামাজিক সম্পর্ক, মানসিক আকাঙ্ক্ষা ও নৈতিক সংকট কাব্যের মূল বিষয়।
❖ কাব্যের অসমাপ্ততা: দৌলত কাজী সম্পূর্ণ কাব্য রচনা করতে পারেননি। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রচনার পর মৃত্যুবরণ করেন।
❖ পরবর্তী কবি আলাওল: ১৬৫৯ সালে মহাকবি আলাওল কাব্যের অবশিষ্ট অংশ সম্পূর্ণ করেন।
❖ আলাওলের সাহিত্যিক পরিচয়: আলাওল আরাকান রাজসভার অন্যতম প্রধান কবি। তাঁর রচনায় ফারসি, হিন্দি, সংস্কৃত ও বাংলা সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সমন্বয় পাওয়া যায়।
❖ আলাওলের সাহিত্যকর্ম: পদ্মাবতী, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, সপ্তপয়কর, তোহফা, সেকান্দরনামা ও রাগতালনামা।
❖ আলাওলের পৃষ্ঠপোষক: কোরেশী মাগন ঠাকুর, আরাকান রাজসভার একজন প্রধান অমাত্য। তাঁর অনুরোধে আলাওল পদ্মাবতী রচনা করেন।
❖ কোরেশী মাগন ঠাকুর: আরাকান রাজসভার অমাত্য, পৃষ্ঠপোষক এবং নিজেও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর নামে চন্দ্রাবতী কাব্যের পরিচয় পাওয়া যায়।
❖ মরদন: আরাকান রাজসভার সঙ্গে সম্পর্কিত মধ্যযুগীয় বাঙালি কবি। তাঁর রচনা নসীরানামা নামে পরিচিত।
❖ আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্যের বিশেষত্ব: এখানে প্রধানত রোমান্টিক আখ্যান, মানবপ্রেম, নীতিশিক্ষা এবং আরবি-ফারসি ও ভারতীয় আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যিক কাহিনির বাংলা রূপান্তর বিকশিত হয়।
❖ দৌলত কাজীর ভাষাগত বৈশিষ্ট্য: বাংলা শব্দভাণ্ডারের সঙ্গে আরবি-ফারসি, সংস্কৃত, মগ ও আঞ্চলিক ভাষার শব্দের সংমিশ্রণ পাওয়া যায়।
❖ কাব্যে সাহিত্যিক অনুষঙ্গ: রামায়ণ, মহাভারত, কালিদাস, জয়দেব, বৈষ্ণব পদাবলি ও লোককাহিনির উপাদান ব্যবহার করেছেন।
❖ বাংলা সাহিত্যে অবদান: দৌলত কাজী আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্যচর্চার প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপনে এবং মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যে মানবপ্রেমকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
❖ ঐতিহাসিক গুরুত্ব: সপ্তদশ শতকের আরাকান রাজসভা বাংলা সাহিত্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। দৌলত কাজী ও আলাওলের সাহিত্য এই ঐতিহ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ আরাকান রাজসভার প্রথম পরিচিত বাঙালি কবি — দৌলত কাজী।
➤ আরেক নাম — কাজী দৌলত।
➤ জন্ম — আনুমানিক ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ জন্মস্থান — সুলতানপুর, রাউজান, চট্টগ্রাম।
➤ মৃত্যু — ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ সাহিত্যিক যুগ — সপ্তদশ শতক।
➤ আরাকানের অপর নাম — রোসাঙ্গ বা রোসাং।
➤ বর্তমান অবস্থান — রাখাইন, মিয়ানমার।
➤ আরাকানের ঐতিহাসিক রাজধানী — ম্রাউক-উ।
➤ রাজা — শ্রীসুধর্মা।
➤ রাজার শাসনকাল — ১৬২২–১৬৩৮।
➤ দৌলত কাজীর পৃষ্ঠপোষক — আশরফ খান।
➤ আশরফ খানের পদ — লস্কর উজির বা সমরসচিব।
➤ বিখ্যাত কাব্য — সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী।
➤ কাব্যের প্রধান বিষয় — মানবীয় প্রেম ও বিচ্ছেদ।
➤ প্রধান চরিত্র — লোর, চন্দ্রানী ও ময়না।
➤ কাব্যের উৎস — মৈনাসত ও চান্দাইন।
➤ মৈনাসত-এর কবি — মিঁয়া সাধন।
➤ চান্দাইন-এর কবি — মোল্লা দাউদ।
➤ দৌলত কাজী রচনা করেন — প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।
➤ অবশিষ্ট অংশ রচনা করেন — মহাকবি আলাওল।
➤ কাব্য সমাপ্তির সাল — ১৬৫৯।
➤ আলাওলের বিখ্যাত গ্রন্থ — পদ্মাবতী।
➤ পদ্মাবতী রচনার পৃষ্ঠপোষক — কোরেশী মাগন ঠাকুর।
➤ পদ্মাবতী-র মূল কাব্য — পদুমাবৎ।
➤ পদুমাবৎ-এর রচয়িতা — মালিক মুহাম্মদ জায়সী।
➤ আরাকান রাজসভার আরেক কবি — মরদন।
➤ মরদনের গ্রন্থ — নসীরানামা।
➤ আরাকান রাজসভার প্রধান রোমান্টিক কবিদের অন্যতম — আলাওল।
➤ আরাকান রাজসভার প্রথম পরিচিত বাঙালি কবি — দৌলত কাজী।
➤ বাংলা লৌকিক প্রণয়কাহিনির অন্যতম পথিকৃৎ — দৌলত কাজী।
➤ দৌলত কাজী—সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী; আলাওল—পদ্মাবতী; কোরেশী মাগন ঠাকুর—চন্দ্রাবতী; মরদন—নসীরানামা।
Advertisement
06
🎯 Level 1

০৫. ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কার লেখা? (পিজিসিবি-এর সহকারী ব্যবস্থাপক: ১৪; জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা: ১৫)

ক

আলাওল

খ

দৌলত কাজী

গ

মাগন ঠাকুর

ঘ

মরদন

✅ সঠিক উত্তর:খ. দৌলত কাজী

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: দৌলত কাজী; অসমাপ্ত অংশ সমাপ্ত করেন আলাওল।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী দৌলত কাজীর একমাত্র নিশ্চিতভাবে পরিচিত প্রধান কাব্য। এটি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগীয় লৌকিক রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
❖ মূল কাহিনির উৎস: হিন্দি কবি সাধনের ‘মৈনাসত’ কাব্য। দৌলত কাজী এই কাহিনিকে বাংলা ভাষায় রূপান্তর করেন।
❖ কাব্যের প্রধান চরিত্র: লোর, চন্দ্রানী ও ময়না। এ তিন চরিত্রের পারস্পরিক প্রেম, বিবাহ, বিচ্ছেদ ও সম্পর্কের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে কাহিনি গড়ে উঠেছে।
❖ প্রথম পর্ব: লোর ও চন্দ্রানীর প্রেম
❖ লোর: কাব্যের প্রধান পুরুষ চরিত্র। তিনি একজন রাজা বা রাজবংশীয় বীরপুরুষ হিসেবে চিত্রিত।
❖ চন্দ্রানী: রূপসী নারী চরিত্র। তাঁর সৌন্দর্যের বর্ণনা ও লোরের সঙ্গে প্রেম কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
❖ প্রেমের সূচনা: লোর চন্দ্রানীর সৌন্দর্য ও রূপের কথা জেনে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হন। প্রেমের আকর্ষণ তাঁকে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে উদ্বুদ্ধ করে।
❖ প্রেমের বাধা: সামাজিক সম্পর্ক, পূর্ববর্তী বিবাহ এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি লোর ও চন্দ্রানীর প্রেমে জটিলতা সৃষ্টি করে।
❖ বীরত্বপূর্ণ ঘটনা: কাব্যে প্রেমের পাশাপাশি যুদ্ধ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সাহস ও অভিযানের ঘটনা রয়েছে। ফলে এটি শুধু আবেগনির্ভর প্রেমকাহিনি নয়; রোমান্স ও বীরত্বের সমন্বিত আখ্যান।
❖ দ্বিতীয় পর্ব: সতী ময়নার বিরহ
❖ ময়না: লোরের প্রথম স্ত্রী। তিনি স্বামীর প্রতি গভীর অনুরাগ, সহিষ্ণুতা ও দাম্পত্যনিষ্ঠার প্রতীক।
❖ ময়নার দুঃখ: লোরের চন্দ্রানীর প্রতি আকর্ষণ ও বিচ্ছেদের কারণে ময়না গভীর বেদনায় আক্রান্ত হন।
❖ বিরহের চিত্রায়ণ: ময়নার অপেক্ষা, শোক, আশঙ্কা ও দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসা কাব্যে আবেগঘনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
❖ সতীত্বের আদর্শ: ময়না স্বামীর অনুপস্থিতিতে তাঁর প্রতি আনুগত্য বজায় রাখেন। মধ্যযুগীয় সমাজে দাম্পত্যনিষ্ঠার প্রচলিত আদর্শ এই চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।
❖ তৃতীয় পর্ব: কাহিনির সমাপ্তি
❖ দৌলত কাজী কাব্যটি সম্পূর্ণ করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। ফলে এর শেষাংশ অসমাপ্ত থেকে যায়।
❖ আলাওল প্রায় দুই দশক পরে অসমাপ্ত কাহিনির অবশিষ্ট অংশ রচনা করে কাব্যটি সম্পূর্ণ করেন।
❖ এই কারণে কাব্যটির মূল রচয়িতা দৌলত কাজী হলেও এর পূর্ণাঙ্গ রূপ নির্মাণে আলাওলের সাহিত্যিক অবদান রয়েছে।
❖ কাব্যের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য
❖ ধর্মনিরপেক্ষ প্রেমকাহিনি: কাব্যের কেন্দ্রে দেবদেবীর মাহাত্ম্য বা ধর্মীয় প্রচারের পরিবর্তে মানুষের প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, বিরহ ও সম্পর্কের দ্বন্দ্ব রয়েছে।
❖ তিন খণ্ডের বিন্যাস: কাব্যটি মোট তিন খণ্ডে বিভক্ত। এটি মধ্যযুগীয় বাংলার দীর্ঘ আখ্যানকাব্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিকতা: লোরের প্রেম ও আকর্ষণ, চন্দ্রানীর সৌন্দর্য এবং ময়নার বিরহের মধ্যে মানুষের আবেগের বহুমাত্রিক প্রকাশ দেখা যায়।
❖ রূপকথা ও রোমান্টিকতার সমন্বয়: পৌরাণিক ও লোককাহিনির উপাদানকে কবি মানবপ্রেমের কাহিনিতে রূপ দিয়েছেন।
❖ ছন্দ ও অলংকার: কাব্যে পাঁচালি, উপমা, রূপক এবং মধ্যযুগীয় বাংলা আখ্যানরীতির ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. আলাওল: মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি। তিনি সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্যের শেষাংশ সম্পূর্ণ করেন। তাঁর নিজস্ব বিখ্যাত রচনা পদ্মাবতী। অন্যান্য কাব্য সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, তোহফা, সপ্তপয়কর, সিকান্দরনামা।
❖ গ. মাগন ঠাকুর: আরাকান রাজসভার কবি ও মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বিখ্যাত কাব্য চন্দ্রাবতী। তিনি আলাওলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
❖ ঘ. মরদন: শেখ মরদন মধ্যযুগের আরাকান রাজসভাসংশ্লিষ্ট কবি। তাঁর নাম বাংলা মুসলমান সাহিত্যধারার ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্যের রচয়িতা তিনি নন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী — দৌলত কাজী।
➤ অসমাপ্ত অংশ সম্পন্ন করেন — আলাওল।
➤ কাব্যের উৎস — সাধনের ‘মৈনাসত’।
➤ সাহিত্যিক ধারা — লৌকিক রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
➤ প্রধান চরিত্র — লোর, চন্দ্রানী ও ময়না।
➤ লোরের প্রথম স্ত্রী — ময়না।
➤ লোরের প্রেমিকা — চন্দ্রানী।
➤ ময়নার প্রধান বৈশিষ্ট্য — দাম্পত্যনিষ্ঠা ও বিরহ।
➤ কাব্যের খণ্ডসংখ্যা — ৩টি।
➤ দৌলত কাজীর মৃত্যুর প্রচলিত সাল — ১৬৩৮।
➤ কাব্যের সমাপ্তির সঙ্গে সম্পর্কিত — আলাওল।
➤ দৌলত কাজীর পৃষ্ঠপোষক — আশরাফ খান।
➤ আলাওলের পৃষ্ঠপোষক — মাগন ঠাকুরসহ আরাকানের কয়েকজন অভিজাত ব্যক্তি।
➤ পদ্মাবতী — আলাওল।
➤ চন্দ্রাবতী — কোরেশী মাগন ঠাকুর।
➤ মূল রচয়িতা ও সমাপ্তিকারীর পার্থক্য: দৌলত কাজী মূল কাব্য রচনা করেন; আলাওল অবশিষ্ট অংশ সম্পূর্ণ করেন।
07
🎯 Level 1

০২. কোরেশী মাগন ঠাকুর কোন শতকের কবি? (খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক: ১৪)

ক

পনেরো শতক

খ

ষোল শতক

গ

সতের শতক

ঘ

আঠার শতক

✅ সঠিক উত্তর:গ. সতের শতক

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: সতেরো শতক বা সপ্তদশ শতাব্দী।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ কোরেশী মাগন ঠাকুর সপ্তদশ শতাব্দীর একজন বাঙালি মুসলমান কবি। তাঁর প্রচলিত জীবনকাল আনুমানিক ১৬০০–১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ সপ্তদশ শতাব্দীর সময়সীমা: ১৬০১ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে সপ্তদশ শতাব্দী বলা হয়। মাগন ঠাকুরের সাহিত্যিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড প্রধানত এই সময়ের মধ্যেই সংঘটিত হয়েছিল।
❖ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: সপ্তদশ শতাব্দীতে আরাকান রাজ্য বঙ্গোপসাগরের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল। এর রাজধানী ম্রাউক-উ (Mrauk-U) বাংলা সাহিত্যে রোসাঙ্গ নামে পরিচিত।
❖ বাংলা ভাষার গুরুত্ব: আরাকান রাজদরবারে বাঙালি মুসলমান কর্মকর্তা, সৈনিক, বণিক ও কবিদের উপস্থিতি ছিল। ফলে বাংলা ভাষায় কাব্যরচনা সেখানে বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে।
❖ আরাকান রাজসভায় মাগন ঠাকুর: তিনি রাজপরিবারের বিশ্বস্ত কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদমর্যাদা লাভ করেন।
❖ সাহিত্যিক কৃতিত্ব: তাঁর প্রধান কাব্য চন্দ্রাবতী। এটি লোককাহিনিনির্ভর রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
❖ সাহিত্যিক পৃষ্ঠপোষকতা: মাগন ঠাকুর নিজে কবি হওয়ার পাশাপাশি অন্য কবিদের সাহিত্যচর্চায় উৎসাহ দিতেন। বিশেষ করে আলাওলের সাহিত্যসৃষ্টিতে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।
❖ সপ্তদশ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি কবিরা
❖ দৌলত কাজী (আনুমানিক ১৬০০–১৬৩৮): সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্যের রচয়িতা। আরাকান রাজসভার প্রথম পরিচিত বাঙালি কবি।
❖ আলাওল (আনুমানিক ১৬০৭–১৬৮০): মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। প্রধান গ্রন্থ পদ্মাবতী, সপ্তপয়কর, সিকান্দরনামা, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল।
❖ আবদুল হাকিম (আনুমানিক ১৬২০–১৬৯০): নূরনামা, লালমতী-সয়ফুলমুলুক ও অন্যান্য কাব্যের রচয়িতা।
❖ সৈয়দ সুলতান: ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণের বিখ্যাত কবি। প্রধান গ্রন্থ নবীবংশ।
❖ কোরেশী মাগন ঠাকুর: রাজকর্মচারী, কবি ও আলাওলের পৃষ্ঠপোষক। প্রধান গ্রন্থ চন্দ্রাবতী।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. পনেরো শতক: পঞ্চদশ শতাব্দী হলো ১৪০১–১৫০০। এ সময় মুসলমান কবিদের প্রাথমিক সাহিত্যচর্চায় শাহ মুহম্মদ সগীর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বিখ্যাত কাব্য ইউসুফ-জোলেখা।
❖ খ. ষোল শতক: ষোড়শ শতাব্দী হলো ১৫০১–১৬০০। এ যুগে দৌলত উজির বাহরাম খান, চন্দ্রাবতী, সৈয়দ সুলতান প্রমুখের সাহিত্যিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ।
❖ ঘ. আঠার শতক: অষ্টাদশ শতাব্দী হলো ১৭০১–১৮০০। এ যুগের বিখ্যাত কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (আনুমানিক ১৭১২–১৭৬০)। তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গল।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ কোরেশী মাগন ঠাকুর — সপ্তদশ শতাব্দীর কবি।
➤ সপ্তদশ শতাব্দী — ১৬০১–১৭০০।
➤ প্রচলিত জীবনকাল — ১৬০০–১৬৬০।
➤ প্রধান কাব্য — চন্দ্রাবতী।
➤ আরাকান রাজসভায় পদ — মুখ্যমন্ত্রী।
➤ আরাকানের সাহিত্যিক নাম — রোসাঙ্গ।
➤ সপ্তদশ শতাব্দীর আরাকান রাজসভার বিখ্যাত কবি — দৌলত কাজী, আলাওল ও মাগন ঠাকুর।
➤ পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রাচীন মুসলমান কবি — শাহ মুহম্মদ সগীর।
➤ ষোড়শ শতাব্দীর নারী কবি — চন্দ্রাবতী।
➤ অষ্টাদশ শতাব্দীর বিখ্যাত মঙ্গলকাব্যকার — ভারতচন্দ্র।
➤ অন্নদামঙ্গল — ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
➤ মনে রাখার ক্রম: শাহ মুহম্মদ সগীর — ১৪–১৫শ শতক; চন্দ্রাবতী — ১৬শ শতক; দৌলত কাজী, মাগন ঠাকুর ও আলাওল — ১৭শ শতক; ভারতচন্দ্র — ১৮শ শতক।
08
🎯 Level 1

০৫. মাগন ঠাকুরের পিতার নাম কী? (মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা: ০৮)

ক

বড় চণ্ডীদাস

খ

আল কোরেশী

গ

বড়াই ঠাকুর

ঘ

কোনটি নয়

✅ সঠিক উত্তর:গ. বড়াই ঠাকুর

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: বড়াই ঠাকুর বা শ্রীবড় ঠাকুর।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ কোরেশী মাগন ঠাকুরের পিতার নাম বড়াই ঠাকুর (শ্রীবড় ঠাকুর)। তিনি আরাকান রাজসভার একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন।
❖ পিতার প্রশাসনিক পরিচয়: বড়াই ঠাকুর আরাকানের শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। রাজসভার উচ্চপদে দায়িত্ব পালনের কারণে তাঁর পরিবার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।
❖ পিতা-পুত্রের রাজনৈতিক সম্পর্ক: বড়াই ঠাকুরের রাজদরবারে প্রতিষ্ঠিত অবস্থান মাগন ঠাকুরের প্রশাসনিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে মাগন ঠাকুর নিজস্ব দক্ষতা ও রাজপরিবারের আস্থার মাধ্যমে উচ্চপদ লাভ করেন।
❖ ‘ঠাকুর’ উপাধি: আরাকান রাজসভায় সম্মানিত ব্যক্তিদের জন্য ‘ঠাকুর’ উপাধি ব্যবহৃত হতো। এটি এখানে কেবল হিন্দু ধর্মীয় পরিচয়ের নির্দেশক নয়; রাজদরবারের সম্মানসূচক সামাজিক উপাধি হিসেবেও বিবেচিত।
❖ কোরেশী বংশপরিচয়: মাগন ঠাকুরকে সিদ্দিক বংশজাত বলা হয়। প্রচলিত বংশবিবরণে তাঁর পূর্বপুরুষদের আরবীয় কোরেশী বংশের সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে।
❖ নাম ও পরিচয়ের বৈচিত্র্য: ‘কোরেশী’ তাঁর বংশপরিচয় নির্দেশ করে, ‘মাগন’ ব্যক্তিনাম এবং ‘ঠাকুর’ সম্মানসূচক উপাধি।
❖ রাজা নরপতিগির সঙ্গে সম্পর্ক: আরাকানের রাজা নরপতিগি মাগন ঠাকুরকে নিজের কন্যার অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ দেন। এটি মাগন ঠাকুরের প্রতি রাজপরিবারের বিশেষ আস্থা প্রকাশ করে।
❖ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ঘটনাপ্রবাহ: নরপতিগির মৃত্যুর পর রাজকন্যা মুখ্য পাটেশ্বরীর মর্যাদা লাভ করলে মাগন ঠাকুরও মুখ্যপাত্র বা মুখ্যমন্ত্রীর পদে উন্নীত হন।
❖ সাহিত্যিক পারিবারিক পরিবেশ: বড়াই ঠাকুর ছিলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আর তাঁর পুত্র মাগন ঠাকুর প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি সাহিত্য, সংগীত ও ভাষাচর্চার পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠেন।
❖ আলাওলের সঙ্গে সম্পর্ক: মাগন ঠাকুর বিখ্যাত কবি আলাওলকে আরাকান রাজসভায় সাহিত্যচর্চার সুযোগ করে দেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় আলাওল রোমান্টিক ও নীতিমূলক কাব্য রচনা করেন।
◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ ক. বড় চণ্ডীদাস: বাংলা বৈষ্ণব সাহিত্যের প্রাচীন কবি বড়ু চণ্ডীদাস-এর নামের সঙ্গে এই বিকল্পের সাদৃশ্য আছে।
বড়ু চণ্ডীদাস রচিত বিখ্যাত কাব্য শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। এটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রাচীন গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই চরিত্রের কাহিনি এতে উপস্থাপিত হয়েছে।
এখানে বড়ু চণ্ডীদাস এবং বড়াই ঠাকুর দুজন সম্পূর্ণ পৃথক ব্যক্তি।
❖ খ. আল কোরেশী: ‘কোরেশী’ আরবীয় বংশপরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু কোরেশী মাগন ঠাকুরের পিতার ঐতিহাসিক পরিচয় বড়াই ঠাকুর; ‘আল কোরেশী’ তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত নাম নয়।
❖ ঘ. কোনটি নয়: প্রদত্ত বিকল্পে গ. বড়াই ঠাকুর সঠিকভাবে রয়েছে। তাই ‘কোনটি নয়’ গ্রহণযোগ্য নয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ মাগন ঠাকুরের পিতা — বড়াই ঠাকুর।
➤ পিতার অন্য নাম — শ্রীবড় ঠাকুর।
➤ বড়াই ঠাকুরের পেশা — আরাকান রাজসভার মন্ত্রী।
➤ মাগন ঠাকুরের বংশপরিচয় — সিদ্দিক বা কোরেশী বংশজাত।
➤ ব্যক্তিনাম — মাগন।
➤ সম্মানসূচক উপাধি — ঠাকুর।
➤ রোসাঙ্গের রাজা — নরপতিগি।
➤ রাজকন্যার অভিভাবক — মাগন ঠাকুর।
➤ মাগন ঠাকুরের উচ্চ প্রশাসনিক পদ — মুখ্যমন্ত্রী।
➤ তাঁর প্রধান কাব্য — চন্দ্রাবতী।
➤ তাঁর পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত কবি — আলাওল।
➤ বড়ু চণ্ডীদাসের রচনা — শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
➤ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর প্রধান চরিত্র — রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই।
➤ পার্থক্য: বড়াই ঠাকুর — মাগন ঠাকুরের পিতা; বড়ু চণ্ডীদাস — শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর রচয়িতা।
Advertisement
09
🎯 Level 1

০৯. ‘পদ্মাবতী’ কি ধরনের গ্রন্থ? (রেলওয়ের ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস: ২৬)

ক

ধর্মীয়

খ

প্রেমাখ্যান

গ

রূপকথা

ঘ

পালা

✅ সঠিক উত্তর:খ. প্রেমাখ্যান

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: প্রেমাখ্যান — রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানমূলক কাব্য।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ একটি প্রেমাখ্যান বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানমূলক কাব্য। এতে মূলত রত্নসেন ও পদ্মাবতীর প্রেম, নাগমতীর বিরহ, মানবিক আকাঙ্ক্ষা, সৌন্দর্য এবং রাজনৈতিক সংঘাত বর্ণিত হয়েছে।
❖ প্রেমাখ্যানের সংজ্ঞা: যে সাহিত্যিক আখ্যানের কেন্দ্রীয় বিষয় নায়ক-নায়িকার প্রেম, মিলন, বিরহ, প্রতিবন্ধকতা ও পরিণতি, তাকে প্রেমাখ্যান বা প্রণয়োপাখ্যান বলা হয়।
❖ কাব্যের রচয়িতা: মহাকবি সৈয়দ আলাওল, সপ্তদশ শতাব্দীর আরাকান রাজসভার পণ্ডিতকবি।
❖ মূল কাব্য: মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’, রচনাকাল ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দ। এর বাংলা রূপান্তর ‘পদ্মাবতী’, রচনাকাল ১৬৪৮ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ কাহিনির প্রথম পর্যায়: চিতোরের রাজা রত্নসেন হীরামন শুকপাখির মুখে সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতীর রূপবর্ণনা শোনেন। পদ্মাবতীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি তাঁকে লাভের উদ্দেশ্যে সিংহলে যাত্রা করেন।
❖ প্রেম ও মিলন: রত্নসেন বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে পদ্মাবতীর সান্নিধ্য লাভ করেন। কাহিনির এই অংশে প্রেমের আকাঙ্ক্ষা, সাধনা, সাহস ও মিলনের আনন্দ প্রকাশিত হয়।
❖ নাগমতীর বিরহ: রত্নসেনের প্রথম স্ত্রী নাগমতী স্বামীর অনুপস্থিতিতে গভীর কষ্ট অনুভব করেন। তাঁর বিরহকাতরতা কাব্যের মানবিক আবেদনকে আরও শক্তিশালী করে।
❖ কাহিনির দ্বিতীয় পর্যায়: দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খলজি পদ্মাবতীর সৌন্দর্যের কথা জানতে পেরে তাঁকে লাভের আকাঙ্ক্ষা করেন। এতে প্রেমকেন্দ্রিক কাহিনির সঙ্গে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধের উপাদান যুক্ত হয়।
❖ প্রেম ও আত্মত্যাগ: কাব্যের ঘটনাপ্রবাহে ব্যক্তিগত ভালোবাসা, দাম্পত্য সম্পর্ক, মর্যাদাবোধ, বিরহ ও আত্মত্যাগের বিষয় গুরুত্ব লাভ করে।
❖ সুফি প্রভাব: মূল ‘পদুমাবৎ’ কাব্যে মানবিক প্রেমের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক প্রেম ও পরম সত্যের সন্ধান রূপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
❖ বাংলা রূপান্তরের স্বাতন্ত্র্য: আলাওল মূল কাব্যকে বাংলা ভাষায় রূপান্তরের সময় মানবিক সম্পর্ক, রূপসৌন্দর্য, অনুভূতি ও কাব্যিক অলংকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
❖ রূপকথা ও প্রেমাখ্যানের পার্থক্য: রূপকথায় অতিপ্রাকৃত ঘটনা, অলৌকিক চরিত্র ও কল্পলোকের প্রাধান্য থাকতে পারে; কিন্তু ‘পদ্মাবতী’র প্রধান সাহিত্যিক পরিচয় প্রেম ও মানবিক সম্পর্ককেন্দ্রিক আখ্যান।
❖ বাংলা সাহিত্যে অবস্থান: মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ এই ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ পদ্মাবতী — প্রেমাখ্যান।
➤ পদ্মাবতী — রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
➤ পদ্মাবতীর রচয়িতা — আলাওল।
➤ পদ্মাবতীর মূল গ্রন্থ — পদুমাবৎ।
➤ পদুমাবতের রচয়িতা — মালিক মুহম্মদ জায়সী।
➤ মূল কাব্যের রচনাকাল — ১৫৪০।
➤ বাংলা কাব্যের রচনাকাল — ১৬৪৮।
➤ পৃষ্ঠপোষক — মাগন ঠাকুর।
➤ প্রধান চরিত্র — পদ্মাবতী ও রত্নসেন।
➤ রত্নসেনের প্রথম স্ত্রী — নাগমতী।
➤ হীরামন — গুরুত্বপূর্ণ শুকপাখি।
➤ কাব্যের অন্যতম স্থান — সিংহল।
➤ চিতোরের রাজা — রত্নসেন।
➤ দিল্লির সুলতান — আলাউদ্দিন খলজি।
➤ প্রেমাখ্যানের প্রধান বিষয় — প্রেম, বিরহ, মিলন ও প্রতিবন্ধকতা।
➤ মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যধারা — প্রণয়োপাখ্যান।
➤ মূল কাব্যে সুফি রূপক রয়েছে।
10
🎯 Level 1

১২. কবি আলাওল এর ‘পদ্মাবতী’ কোন গ্রন্থ থেকে অনুদিত? (বিরাট সংস্থানের সুপারিনটেনডেন্ট: ২৪)

ক

মধুমালতী

খ

মৈনাসত

গ

পদুমাবৎ

ঘ

হপ্তপয়কর

✅ সঠিক উত্তর:গ. পদুমাবৎ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: পদুমাবৎ — মালিক মুহম্মদ জায়সীর কাব্য।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ কাব্য থেকে অনুদিত। এটি মধ্যযুগের বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
❖ মূল কবি: মালিক মুহম্মদ জায়সী ছিলেন ষোড়শ শতাব্দীর অবধি ভাষার সুফি কবি। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম ‘পদুমাবৎ’।
❖ মূল গ্রন্থের ভাষা: অবধি, যা উত্তর ভারতের হিন্দি ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসের পরীক্ষায় একে সাধারণভাবে হিন্দি কাব্য বলা হয়।
❖ মূল রচনার সময়: জায়সী ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দে ‘পদুমাবৎ’ রচনা করেন। এর রচনাকাল মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ও শের শাহ সুরির সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ বাংলা অনুবাদের সময়: মহাকবি আলাওল ১৬৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে ‘পদ্মাবতী’ রচনা করেন।
❖ পৃষ্ঠপোষক: আরাকান রাজসভার অমাত্য মাগন ঠাকুর। তাঁর উৎসাহ ও নির্দেশনায় কাব্যটি বাংলা ভাষায় রচিত হয়।
❖ মূল কাব্যের সাহিত্যিক প্রকৃতি: ‘পদুমাবৎ’ একটি সুফি রোমান্টিক আখ্যানকাব্য। এতে মানবিক প্রেমের কাহিনির মধ্যে আধ্যাত্মিক সাধনা ও পরম সৌন্দর্য লাভের আকাঙ্ক্ষা রূপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
❖ প্রধান চরিত্র: পদ্মাবতী, রত্নসেন, নাগমতী, হীরামন, রাঘব চেতন ও আলাউদ্দিন খলজি।
❖ প্রথম পর্যায়ের কাহিনি: চিতোরের রাজা রত্নসেন হীরামন শুকপাখির মাধ্যমে পদ্মাবতীর সৌন্দর্যের কথা জানতে পারেন। পদ্মাবতীকে লাভের জন্য তিনি সিংহলে যাত্রা করেন।
❖ দ্বিতীয় পর্যায়ের কাহিনি: পদ্মাবতী চিতোরে আসার পর রত্নসেনের পারিবারিক জীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে আলাউদ্দিন খলজির চিতোরকেন্দ্রিক সংঘাত কাহিনিকে নতুন দিকে নিয়ে যায়।
❖ সুফি রূপকের তাৎপর্য: জায়সীর কাব্যে পদ্মাবতীর সৌন্দর্যকে পরম সৌন্দর্যের প্রতীক এবং তাঁকে লাভের প্রচেষ্টাকে আধ্যাত্মিক সাধনার রূপক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
❖ বাংলা অনুবাদের বৈশিষ্ট্য: আলাওল মূল কাহিনি অনুসরণ করলেও শব্দে শব্দে অনুবাদ করেননি। প্রয়োজন অনুসারে কাহিনিতে সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন ও ব্যাখ্যা করেছেন।
❖ মানবিক প্রেমের গুরুত্ব: মূল কাব্যের সুফি দর্শনের তুলনায় আলাওল তাঁর রচনায় প্রেমের মানবিক অনুভূতি, নায়িকার রূপবর্ণনা, বিরহ ও সম্পর্কের মনস্তত্ত্বকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।
❖ অনুবাদ সাহিত্যে অবদান: ‘পদ্মাবতী’র মাধ্যমে আলাওল অবধি-হিন্দি সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে বাংলা ভাষার সঙ্গে যুক্ত করেছেন এবং বাংলা আখ্যানকাব্যের ভাষা ও শিল্পরীতিকে সমৃদ্ধ করেছেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ পদ্মাবতীর মূল গ্রন্থ — পদুমাবৎ।
➤ পদুমাবতের রচয়িতা — মালিক মুহম্মদ জায়সী।
➤ জায়সী — সুফি কবি।
➤ মূল কাব্যের ভাষা — অবধি বা হিন্দি।
➤ পদুমাবতের রচনাকাল — ১৫৪০।
➤ বাংলা পদ্মাবতীর রচনাকাল — ১৬৪৮।
➤ বাংলা অনুবাদক — আলাওল।
➤ অনুবাদের পৃষ্ঠপোষক — মাগন ঠাকুর।
➤ বাংলা অনুবাদকের রাজসভা — আরাকান।
➤ মূল কাব্যের সাহিত্যিক ধারা — সুফি প্রণয়োপাখ্যান।
➤ বাংলা কাব্যের সাহিত্যিক ধারা — রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
➤ নায়ক — রত্নসেন।
➤ নায়িকা — পদ্মাবতী।
➤ রত্নসেনের প্রথম স্ত্রী — নাগমতী।
➤ গুরুত্বপূর্ণ পাখি — হীরামন শুক।
➤ কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ স্থান — চিতোর ও সিংহল।
➤ মূল রচনায় আধ্যাত্মিক প্রেমের রূপক রয়েছে।
➤ আলাওলের অনুবাদে মানবিক প্রেম ও সৌন্দর্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রশ্ন ১৩–১৮
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন