🧠 🔖
👑 Premium Topic

বিখ্যাত সাহিত্যিক(আধুনিক যুগ)- উইলিয়াম কেরি, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, প্যারীচাদ মিত্র,অক্ষয়কুমার দত্ত

◉ বাংলা সাহিত্য›বিখ্যাত সাহিত্যিক(আধুনিক যুগ)- উইলিয়াম কেরি, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, প্যারীচাদ মিত্র,অক্ষয়কুমার দত্ত

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚61মোট প্রশ্ন
🎯4মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

"০১. ‘ইতিহাসমালা’ গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়? (শিশু একাডেমির জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা: ২৫)"

ক

১৮১০

খ

১৮১১

গ

১৮১২

ঘ

১৮১৩

✅ সঠিক উত্তর:গ. ১৮১২

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ১৮১২ খ্রিষ্টাব্দ — উইলিয়াম কেরির ‘ইতিহাসমালা’।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘ইতিহাসমালা’ বাংলা গদ্যসাহিত্যের প্রাথমিক যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এটি ১৮১২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটির সংকলক ও রচয়িতা হিসেবে উইলিয়াম কেরি (William Carey) পরিচিত।
❖ গ্রন্থের প্রকৃতি: ‘ইতিহাসমালা’ মূলত বিভিন্ন গল্প, আখ্যান ও ঐতিহাসিক-লোককাহিনিমূলক বিবরণের সংকলন। গ্রন্থের নাম ইতিহাসমালা হলেও এটি আধুনিক অর্থে ধারাবাহিক ইতিহাসগ্রন্থ নয়; এতে শিক্ষামূলক ও কাহিনিভিত্তিক গদ্যরচনা স্থান পেয়েছে।
❖ গ্রন্থ প্রকাশের উদ্দেশ্য: ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ইংরেজ শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা শেখানো এবং বাংলা গদ্যচর্চার উপযোগী পাঠ্যসামগ্রী তৈরির প্রয়োজন দেখা দেয়। এ প্রেক্ষাপটে কেরি বিভিন্ন বাংলা গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করেন।
❖ লেখক পরিচিতি: উইলিয়াম কেরি (১৭৬১–১৮৩৪) ছিলেন একজন ইংরেজ ব্যাপটিস্ট খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক, ভাষাবিদ, অনুবাদক, শিক্ষাবিদ ও বাংলা গদ্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
❖ জন্ম: ১৭ আগস্ট ১৭৬১ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন্মস্থান: পলার্সপারি (Paulerspury), নর্দাম্পটনশায়ার, ইংল্যান্ড।
❖ মৃত্যু: ৯ জুন ১৮৩৪ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ মৃত্যুস্থান: শ্রীরামপুর, বাংলা, ব্রিটিশ ভারত।
❖ ভারতে আগমন: উইলিয়াম কেরি ১৭৯৩ সালের নভেম্বরে বাংলায় আসেন। তিনি বাংলা ভাষা শেখার জন্য স্থানীয় পণ্ডিত ও ভাষাবিদদের সহযোগিতা গ্রহণ করেন।
❖ বাংলা ভাষার শিক্ষক: কেরির বাংলা ভাষাশিক্ষায় রামরাম বসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার প্রাথমিক পর্যায়ে কেরির সহযোগী ছিলেন।
❖ শ্রীরামপুর মিশন: ১৮০০ সালে কেরি শ্রীরামপুরে জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ডের সঙ্গে মিশনারি ও মুদ্রণ কার্যক্রমে যুক্ত হন।
❖ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে দায়িত্ব: ৪ মে ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে উইলিয়াম কেরি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন।
❖ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ: কথোপকথন (১৮০১), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (১৮০১), ইতিহাসমালা (১৮১২) এবং বাংলা-ইংরেজি অভিধান।
❖ ‘কথোপকথন’ গ্রন্থ: এতে বিভিন্ন সামাজিক পরিবেশে মানুষের দৈনন্দিন কথাবার্তা ও সংলাপ তুলে ধরা হয়েছে। এটি বাংলা ভাষা শিক্ষার একটি প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যগ্রন্থ।
❖ বাংলা গদ্যসাহিত্যে অবদান: কেরি বাংলা গদ্যের পাঠ্যপুস্তক রচনা, ভাষাগত মান নির্ধারণ, অনুবাদ, অভিধান প্রণয়ন এবং মুদ্রণব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ সহযোগী পণ্ডিত: রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, গোলকনাথ শর্মা এবং রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় প্রমুখের সাহিত্যিক কার্যক্রম ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা গদ্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ সাহিত্যিক গুরুত্ব: ‘ইতিহাসমালা’ ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর বাংলা গদ্যে গল্পবর্ণনা, সহজ ভাষায় বিষয় উপস্থাপন ও শিক্ষামূলক আখ্যানরীতির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ইতিহাসমালার প্রকাশকাল — ১৮১২ খ্রিষ্টাব্দ।
➤ ইতিহাসমালার রচয়িতা ও সংকলক — উইলিয়াম কেরি।
➤ ইতিহাসমালা — আখ্যান ও গল্পসংকলনধর্মী গদ্যগ্রন্থ।
➤ কথোপকথনের রচয়িতা — উইলিয়াম কেরি।
➤ কথোপকথনের প্রকাশকাল — ১৮০১।
➤ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ — ১৮০১।
➤ উইলিয়াম কেরির জন্ম — ১৭ আগস্ট ১৭৬১।
➤ জন্মস্থান — পলার্সপারি, ইংল্যান্ড।
➤ মৃত্যু — ৯ জুন ১৮৩৪।
➤ বাংলায় আগমন — ১৭৯৩।
➤ শ্রীরামপুর মিশনে যোগদান — ১৮০০।
➤ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগের প্রধান হন — ৪ মে ১৮০১।
➤ উইলিয়াম কেরির বাংলা শিক্ষক — রামরাম বসু।
➤ শ্রীরামপুর মিশনের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী — জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড।
➤ ইতিহাসমালা — বাংলা গদ্যের প্রাথমিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।"
02
🎯 Level 1

০৪. যে ইংরেজ ব্যক্তির কাছে বাংলাভাষা চির ঋণী হয়ে আছে তার নাম— (পদ্মাপাড়ের ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক: ০৩)

ক

লর্ড বেন্টিঙ্ক

খ

উইলিয়াম কেরি

গ

লর্ড ক্লাইভ

ঘ

লর্ড ডালহৌসি

✅ সঠিক উত্তর:খ. উইলিয়াম কেরি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: উইলিয়াম কেরি — বাংলা গদ্যসাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজ ভাষাবিদ।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ উইলিয়াম কেরি বাংলা ভাষা ও গদ্যসাহিত্যের বিকাশে অসামান্য অবদান রেখেছেন। বাংলা গদ্যের পাঠ্যপুস্তক রচনা, বাংলা অভিধান প্রণয়ন, মুদ্রণপ্রযুক্তির প্রসার, অনুবাদ এবং ভাষাশিক্ষা—এই কারণে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁর নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়।
❖ জীবনকাল: ১৭৬১–১৮৩৪ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি ইংল্যান্ডের পলার্সপারি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং শ্রীরামপুরে মৃত্যুবরণ করেন।
❖ বাংলায় আগমন: তিনি ১৭৯৩ সালে ভারতে আসেন। বাংলা ভাষা শেখার জন্য স্থানীয় পণ্ডিতদের সহযোগিতা গ্রহণ করেন।
❖ শিক্ষক ও সহযোগী: রামরাম বসু কেরির বাংলা ভাষা শেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেন। পরে কলেজের বাংলা বই রচনায়ও তিনি যুক্ত ছিলেন।
❖ শ্রীরামপুর মিশন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা: ১৮০০ সালে কেরি জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ডের সহযোগিতায় শ্রীরামপুর মিশনের কার্যক্রমে যুক্ত হন।
❖ শ্রীরামপুর মিশন প্রেস: বাংলা ভাষার বই, অনুবাদ, পাঠ্যপুস্তক ও ধর্মীয় গ্রন্থ মুদ্রণ এবং প্রকাশনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়।
❖ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: ১৮০০ সালে লর্ড ওয়েলেসলি কলকাতায় প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেন। এর লক্ষ্য ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নবাগত কর্মকর্তাদের ভারতীয় ভাষা ও প্রশাসনিক জ্ঞান শেখানো।
❖ বাংলা বিভাগের প্রধান: ৪ মে ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
❖ প্রধান রচনা: কথোপকথন (১৮০১), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (১৮০১), ইতিহাসমালা (১৮১২) এবং বাংলা-ইংরেজি অভিধান।
❖ বাংলা বাইবেল অনুবাদ: কেরি বাংলা ভাষায় খ্রিস্টীয় ধর্মগ্রন্থ অনুবাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর উদ্যোগে বাংলা অনুবাদ ও মুদ্রণকাজ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়।
❖ বাংলা গদ্যের বিকাশ: কেরি ও তাঁর সহযোগীরা বাংলা ভাষায় নতুন ধরনের গদ্য পাঠ্যগ্রন্থ, ইতিহাস, নীতিকাহিনি ও শিক্ষামূলক রচনা প্রকাশ করেন।
❖ স্থানীয় পণ্ডিতদের অবদান: রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, গোলকনাথ শর্মা ও রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় প্রমুখের রচনা বাংলা গদ্যের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
❖ অন্যান্য আগ্রহ: উইলিয়াম কেরি উদ্ভিদবিজ্ঞান, কৃষি, উদ্যানবিদ্যা, ভাষাতত্ত্ব ও শিক্ষাবিস্তার নিয়েও কাজ করেন।
❖ বাংলা ভাষার ইতিহাসে মূল্যায়ন: কেরি আধুনিক বাংলা গদ্যের একক স্রষ্টা নন; তাঁর আগেও বাংলা গদ্যের লিখিত ও মুদ্রিত নিদর্শন ছিল। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বাংলা গদ্যশিক্ষা ও প্রকাশনার বিকাশে তাঁর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলা ভাষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজ — উইলিয়াম কেরি।
➤ উইলিয়াম কেরির জন্ম — ১৭ আগস্ট ১৭৬১।
➤ মৃত্যু — ৯ জুন ১৮৩৪।
➤ ভারতে আগমন — ১৭৯৩।
➤ শ্রীরামপুর মিশনে যোগদান — ১৮০০।
➤ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান — উইলিয়াম কেরি।
➤ বাংলা বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ — ৪ মে ১৮০১।
➤ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা — লর্ড ওয়েলেসলি।
➤ কলেজ প্রতিষ্ঠা — ১৮০০।
➤ কথোপকথন — ১৮০১।
➤ ইতিহাসমালা — ১৮১২।
➤ কেরির বাংলা শিক্ষক — রামরাম বসু।
➤ শ্রীরামপুর মিশনের সহযোগী — মার্শম্যান ও ওয়ার্ড।
➤ উইলিয়াম কেরি — ভাষাবিদ, অনুবাদক ও শিক্ষাবিদ।
➤ বাংলা গদ্যের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে কেরির অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
Advertisement
03
🎯 Level 1

০৭. কোনটি উইলিয়াম কেরীর রচনা? (পিডিবি-এর ইন্সট্রাক্টর: ১৯)

ক

বাইবেল

খ

হিতোপদেশ

গ

লিপিমালা

ঘ

কথোপকথন

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. কথোপকথন

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: কথোপকথন — উইলিয়াম কেরি।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘কথোপকথন’ উইলিয়াম কেরি রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা গদ্যগ্রন্থ। এটি ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় এবং বাংলা ভাষার সংলাপধর্মী পাঠ্যগ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।
❖ গ্রন্থের বিষয়: ‘কথোপকথন’-এ বিভিন্ন সামাজিক পরিবেশে মানুষের কথাবার্তা, দৈনন্দিন যোগাযোগ, পেশা, পারিবারিক সম্পর্ক ও ব্যবহারিক ভাষা উপস্থাপন করা হয়েছে।
❖ ভাষাশিক্ষায় গুরুত্ব: ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইংরেজ কর্মকর্তাদের বাংলা শেখানোর জন্য ব্যবহারিক সংলাপের প্রয়োজন ছিল। এই উদ্দেশ্যে ‘কথোপকথন’ গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যসামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
❖ লেখক পরিচিতি: উইলিয়াম কেরি (১৭৬১–১৮৩৪) ছিলেন ইংরেজ মিশনারি, ভাষাবিদ, অনুবাদক ও শিক্ষাবিদ।
❖ জন্ম ও মৃত্যু: ১৭ আগস্ট ১৭৬১ ইংল্যান্ডের পলার্সপারিতে জন্ম এবং ৯ জুন ১৮৩৪ শ্রীরামপুরে মৃত্যু।
❖ বাংলা সাহিত্যচর্চা: কেরি ১৭৯৩ সালে বাংলায় আগমন করেন এবং স্থানীয় ভাষাবিদ রামরাম বসুর সহযোগিতায় বাংলা ভাষা শেখেন।
❖ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: তিনি ১৮০১ সালে কলেজটির বাংলা বিভাগের প্রধান হন এবং পাঠ্যপুস্তক রচনা ও বাংলা গদ্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ অন্যান্য রচনা: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (১৮০১), ইতিহাসমালা (১৮১২) ও বাংলা-ইংরেজি অভিধান।
❖ বাইবেলের পরিচিতি: বাইবেল খ্রিস্টধর্মের ধর্মগ্রন্থ। কেরি এর বাংলা অনুবাদ ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন; কিন্তু বাইবেল তাঁর মৌলিক রচনা নয়।
❖ হিতোপদেশ: সংস্কৃত নীতিকাহিনির একটি বিখ্যাত সাহিত্যিক সংকলন। বাংলা গদ্যের প্রাথমিক যুগে গোলকনাথ শর্মা ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার পৃথকভাবে এই গ্রন্থ অবলম্বনে বাংলা রচনা করেন।
❖ লিপিমালার রচয়িতা: রামরাম বসু। গ্রন্থটি ১৮০২ সালে প্রকাশিত হয়। এটি চিঠিপত্র ও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক গদ্যরচনার সংকলন।
❖ বাংলা সাহিত্যে কেরির গুরুত্ব: বাংলা গদ্যের পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুত, ব্যবহারিক ভাষা শিক্ষা, মুদ্রণ, অভিধান প্রণয়ন ও অনুবাদ সাহিত্যের উন্নয়নে কেরির অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ কথোপকথনের রচয়িতা — উইলিয়াম কেরি।
➤ কথোপকথনের প্রকাশ — ১৮০১।
➤ কথোপকথন — সংলাপধর্মী গ্রন্থ।
➤ ইতিহাসমালার রচয়িতা — উইলিয়াম কেরি।
➤ ইতিহাসমালা — ১৮১২।
➤ লিপিমালার রচয়িতা — রামরাম বসু।
➤ লিপিমালা — ১৮০২।
➤ রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র — রামরাম বসু।
➤ হিতোপদেশের বাংলা রূপকার — গোলকনাথ শর্মা ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
➤ বাইবেল — খ্রিস্টধর্মের ধর্মগ্রন্থ।
➤ উইলিয়াম কেরি — বাইবেলের বাংলা অনুবাদকদের অন্যতম।
➤ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে কেরির দায়িত্ব — বাংলা বিভাগের প্রধান।
➤ দায়িত্ব গ্রহণ — ১৮০১।
➤ উইলিয়াম কেরির জীবনকাল — ১৭৬১–১৮৩৪।
04
🎯 Level 1

০২. কেরী সাহেবের মুন্সি বলা হয় কাকে? (পোস্টমাস্টার জেনারেল পূর্বাঞ্চলের পোস্টমাস্টার: ২৬ / পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক: ০৫)

ক

রামরাম বসু

খ

চণ্ডীচরণ মুন্সি

গ

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার

ঘ

গোলকনাথ শর্মা

✅ সঠিক উত্তর:ক. রামরাম বসু

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: রামরাম বসু — উইলিয়াম কেরির বাংলা ভাষাশিক্ষক।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ রামরাম বসুকে ‘কেরী সাহেবের মুন্সি’ বলা হয়। তিনি ইংরেজ মিশনারি ও ভাষাবিদ উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখাতেন এবং বাংলা পাঠ্যগ্রন্থ রচনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন।
❖ ‘মুন্সি’ শব্দের অর্থ: ঐতিহাসিকভাবে মুন্সি বলতে ভাষাশিক্ষক, লেখক, কেরানি অথবা ফারসি ও স্থানীয় ভাষায় দক্ষ ব্যক্তিকে বোঝানো হতো। ইংরেজ কর্মকর্তাদের ভারতীয় ভাষা শেখানোর ক্ষেত্রে মুন্সিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
❖ রামরাম বসুর জীবনকাল: ১৭৫৭–১৮১৩ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন্মস্থান: বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চুঁচুড়া।
❖ শিক্ষাগত পরিচয়: রামরাম বসু বাংলা ও ফারসি ভাষায় দক্ষ ছিলেন। ভাষাগত যোগ্যতার কারণে তিনি ইংরেজ মিশনারি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান।
❖ উইলিয়াম কেরির পরিচিতি: উইলিয়াম কেরি (১৭৬১–১৮৩৪) ছিলেন একজন ইংরেজ ধর্মপ্রচারক, ভাষাবিদ ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন।
❖ কেরিকে বাংলা শেখানো: কেরি বাংলায় আসার পর স্থানীয় ভাষা শেখার জন্য রামরাম বসুর সহযোগিতা গ্রহণ করেন। এ সম্পর্ক থেকেই রামরাম বসু ‘কেরী সাহেবের মুন্সি’ নামে পরিচিত হন।
❖ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে বাংলা ভাষার পাঠ্যগ্রন্থ প্রস্তুত ও গদ্যরচনার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
❖ রামরাম বসুর সাহিত্যকর্ম: ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) এবং ‘লিপিমালা’ (১৮০২)।
❖ রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র: এটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক যুগের একটি ঐতিহাসিক জীবনীমূলক গ্রন্থ। বাঙালি রচিত বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।
❖ লিপিমালা: এটি চিঠিপত্র ও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক গদ্যরচনার সংকলন। গ্রন্থটি প্রাথমিক বাংলা গদ্যে পত্ররীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ চণ্ডীচরণ মুন্সির পরিচয়: তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর রচনা ‘তোতা ইতিহাস’ (১৮০৫)।
❖ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার: তিনি ‘বত্রিশ সিংহাসন’, ‘হিতোপদেশ’, ‘রাজাবলি’ ও ‘প্রবোধচন্দ্রিকা’ রচনা করেন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা গদ্যচর্চায় তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
❖ গোলকনাথ শর্মা: তাঁর ‘হিতোপদেশ’ (১৮০২) বাংলা গদ্যের প্রাথমিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
❖ বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসে গুরুত্ব: রামরাম বসু বাংলা ভাষার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সহযোগিতা, গদ্যগ্রন্থ রচনা ও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ কেরী সাহেবের মুন্সি — রামরাম বসু।
➤ কেরী সাহেব — উইলিয়াম কেরি।
➤ উইলিয়াম কেরির বাংলা ভাষাশিক্ষক — রামরাম বসু।
➤ মুন্সি — ভাষাশিক্ষক বা ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন লেখক।
➤ রামরাম বসুর জন্ম — ১৭৫৭।
➤ রামরাম বসুর মৃত্যু — ১৮১৩।
➤ জন্মস্থান — চুঁচুড়া, হুগলি।
➤ রামরাম বসুর প্রধান রচনা — রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র।
➤ রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র — ১৮০১।
➤ লিপিমালা — ১৮০২।
➤ চণ্ডীচরণ মুন্সির রচনা — তোতা ইতিহাস।
➤ তোতা ইতিহাস প্রকাশ — ১৮০৫।
➤ গোলকনাথ শর্মার রচনা — হিতোপদেশ।
➤ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচনা — বত্রিশ সিংহাসন।
➤ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা — ১৮০০।
05
🎯 Level 1

০৫. কোনটি রামরাম বসুর লেখা? (সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা: ১৫)

ক

লিপিমালা

খ

মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং

গ

ইতিহাসমালা

ঘ

হিতোপদেশ

✅ সঠিক উত্তর:ক. লিপিমালা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: লিপিমালা — রামরাম বসু (১৮০২)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘লিপিমালা’ বাংলা গদ্যসাহিত্যের প্রাথমিক যুগের লেখক রামরাম বসু রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পত্রসংকলনধর্মী গ্রন্থ। এটি ১৮০২ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়।
❖ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য: ‘লিপিমালা’তে বিভিন্ন বিষয়ের চিঠিপত্র, সামাজিক আলোচনা, বক্তব্যের বিন্যাস ও গদ্যরচনার নমুনা রয়েছে।
❖ ঐতিহাসিক গুরুত্ব: বাংলা ভাষায় চিঠিপত্রের মাধ্যমে বিষয় উপস্থাপনের প্রাথমিক মুদ্রিত নিদর্শন হিসেবে ‘লিপিমালা’ গুরুত্বপূর্ণ।
❖ রচয়িতা পরিচিতি: রামরাম বসু (১৭৫৭–১৮১৩) ছিলেন বাংলা গদ্যসাহিত্যের প্রাথমিক যুগের একজন ভাষাশিক্ষক, লেখক ও অনুবাদক।
❖ জন্মস্থান: চুঁচুড়া, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ।
❖ মৃত্যু: ৭ আগস্ট ১৮১৩, কলকাতা।
❖ উইলিয়াম কেরির সঙ্গে সম্পর্ক: তিনি উইলিয়াম কেরির বাংলা ভাষাশিক্ষক ছিলেন এবং ‘কেরী সাহেবের মুন্সি’ নামে পরিচিত।
❖ রামরাম বসুর প্রধান গ্রন্থ: ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) এবং ‘লিপিমালা’ (১৮০২)।
❖ মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং: এই গ্রন্থের রচয়িতা রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়। এটি ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
❖ গ্রন্থটির বিষয়: নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের জীবন ও শাসনসংক্রান্ত ঐতিহাসিক জীবনীমূলক বর্ণনা।
❖ ইতিহাসমালা: উইলিয়াম কেরি রচিত বা সংকলিত ১৮১২ খ্রিষ্টাব্দের একটি আখ্যানসংকলনধর্মী গ্রন্থ।
❖ হিতোপদেশ: সংস্কৃত নীতিকাহিনির ঐতিহ্য অবলম্বনে গোলকনাথ শর্মা (১৮০২) এবং মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৮০৮) পৃথক বাংলা গ্রন্থ রচনা করেন।
❖ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাহিত্যিক পরিবেশ: বাংলা ভাষায় শিক্ষামূলক গদ্য প্রস্তুতের জন্য কেরি, রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয়, গোলকনাথ এবং রাজীবলোচন প্রমুখ ব্যক্তি কাজ করেন।
❖ বাংলা সাহিত্যে অবদান: রামরাম বসু বাংলা গদ্যে ঐতিহাসিক জীবনী ও পত্রসংকলনধর্মী রচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নিদর্শন সৃষ্টি করেছেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ লিপিমালা — রামরাম বসুর রচনা।
➤ লিপিমালার প্রকাশকাল — ১৮০২।
➤ লিপিমালা — পত্রসংকলনধর্মী গ্রন্থ।
➤ রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র — রামরাম বসু।
➤ রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্রের প্রকাশকাল — ১৮০১।
➤ মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং — রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়।
➤ মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং প্রকাশ — ১৮০৫।
➤ ইতিহাসমালা — উইলিয়াম কেরি।
➤ ইতিহাসমালা প্রকাশ — ১৮১২।
➤ হিতোপদেশ — গোলকনাথ শর্মা (১৮০২)।
➤ হিতোপদেশ — মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৮০৮)।
➤ রামরাম বসুর জীবনকাল — ১৭৫৭–১৮১৩।
➤ জন্মস্থান — চুঁচুড়া, হুগলি।
➤ পরিচিতি — কেরী সাহেবের মুন্সি।
➤ বাংলা গদ্যসাহিত্যের প্রাথমিক যুগে রামরাম বসুর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
Advertisement
06
🎯 Level 1

৩. ‘ব্রাহ্মসমাজ’ প্রতিষ্ঠায় রাজা রামমোহন রায় এর সহযোগী ছিলেন— (বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী স্টেশন মাস্টার: ২৬)

ক

দ্বারকানাথ ঠাকুর

খ

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

গ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ঘ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

✅ সঠিক উত্তর:ক. দ্বারকানাথ ঠাকুর

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: দ্বারকানাথ ঠাকুর (Dwarkanath Tagore)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা ও প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালনায় রাজা রামমোহন রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুর। তিনি ঊনবিংশ শতকের বাংলার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, জমিদার ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তি।
❖ ২০ আগস্ট ১৮২৮ সালে কলকাতায় রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে এই প্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মসমাজ (Brahmo Samaj) নামে পরিচিত ও বিকশিত হয়।
❖ প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য ছিল একেশ্বরবাদ প্রচার, ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরোধিতা, নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনা এবং যুক্তিনির্ভর ধর্মীয় চিন্তার বিকাশ।
❖ দ্বারকানাথ ঠাকুর রামমোহনের সংস্কারমূলক চিন্তার প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং ব্রাহ্মসভার কার্যক্রমে আর্থিক ও সাংগঠনিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
❖ ১৮৩০ সালে ব্রাহ্মসভার উপাসনালয়ের জন্য ট্রাস্ট দলিল সম্পাদিত হয়। এতে দ্বারকানাথ ঠাকুরসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অংশগ্রহণ ছিল।
❖ ১৮৩৩ সালে রামমোহনের মৃত্যুর পর ব্রাহ্মসভার কার্যক্রম টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে দ্বারকানাথ ঠাকুর ও রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
❖ দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ। পরবর্তী সময়ে দেবেন্দ্রনাথ ব্রাহ্মসমাজের নেতৃত্ব গ্রহণ করে সংগঠনটিকে নতুনভাবে শক্তিশালী করেন।
◉ ১. দ্বারকানাথ ঠাকুরের জীবন ও পরিচয়
❖ নাম: দ্বারকানাথ ঠাকুর (Dwarkanath Tagore)।
❖ জন্ম: ১৭৯৪ সালে।
❖ মৃত্যু: ১ আগস্ট ১৮৪৬।
❖ মৃত্যুস্থান: লন্ডন, ইংল্যান্ড।
❖ প্রধান পরিচয়: জমিদার, ব্যবসায়ী, সমাজহিতৈষী ও সংস্কার আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষক।
❖ উপাধি: প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
❖ পুত্র: মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
❖ পৌত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
❖ রামমোহন রায়ের সঙ্গে সম্পর্ক: সমাজ ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সহযোগী।
◉ ২. ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহ
❖ ১৮১৫ সালে রাজা রামমোহন রায় আত্মীয়সভা প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ আত্মীয়সভায় একেশ্বরবাদ, ধর্মীয় সংস্কার ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতো।
❖ ১৮১৫ সালে বেদান্তগ্রন্থ ও বেদান্তসার প্রকাশিত হয়।
❖ ১৮২১ সালে সম্বাদ কৌমুদী পত্রিকার প্রকাশ শুরু হয়।
❖ ১৮২২ সালে মিরাত-উল-আখবার পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
❖ ১৮২৮ সালে ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা রামমোহনের ধর্মীয় সংস্কারচিন্তাকে সাংগঠনিক রূপ দেয়।
❖ ১৮৩০ সালে ব্রাহ্মসভার ট্রাস্ট দলিল সম্পাদিত হয়।
◉ ৩. ব্রাহ্মসমাজের প্রধান আদর্শ
❖ একেশ্বরবাদ: এক সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস।
❖ নিরাকার উপাসনা: প্রতিমাপূজার পরিবর্তে নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনা।
❖ শাস্ত্রপাঠ: উপনিষদ ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থের যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা।
❖ ধর্মীয় সহনশীলতা: বিভিন্ন ধর্মের নৈতিক শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা।
❖ কুসংস্কারবিরোধিতা: অন্ধবিশ্বাস ও অনৈতিক প্রথার সমালোচনা।
❖ মানবিক মূল্যবোধ: মানুষের মর্যাদা, শিক্ষা ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব।
❖ সামাজিক সংস্কার: নারীশিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতি সমর্থন।
◉ ৪. ব্রাহ্মসমাজের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী
❖ রাজা রামমোহন রায়: প্রধান প্রতিষ্ঠাতা ও ধর্মীয় সংস্কারচিন্তার পথিকৃৎ।
❖ দ্বারকানাথ ঠাকুর: আর্থিক ও সাংগঠনিক সহযোগী।
❖ রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ: ব্রাহ্মসভার প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ পুরোহিত, বক্তা ও সংগঠক।
❖ প্রসন্নকুমার ঠাকুর: ব্রাহ্মসভার প্রাথমিক কর্মকাণ্ডে সহযোগী।
❖ দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর: পরবর্তী সময়ে ব্রাহ্মসমাজের গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
❖ কেশবচন্দ্র সেন: পরবর্তী পর্যায়ে ব্রাহ্মসমাজের প্রভাবশালী ধর্ম ও সমাজসংস্কারক।
◉ ৫. ব্রাহ্মসমাজের পরবর্তী বিকাশ
❖ ১৮৩৩ সালে রামমোহন রায় মৃত্যুবরণ করেন।
❖ তাঁর মৃত্যুর পর সংগঠনের কার্যক্রম কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে।
❖ ১৮৩৯ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ ১৮৪৩ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশ শুরু হয়।
❖ অক্ষয়কুমার দত্ত তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
❖ দেবেন্দ্রনাথের নেতৃত্বে ব্রাহ্মসমাজ নতুন সাংগঠনিক শক্তি লাভ করে।
❖ ১৮৬৬ সালে কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ ১৮৭৮ সালে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
◉ ৬. রামমোহন থেকে রবীন্দ্রনাথ: ঠাকুর পরিবারের সম্পর্ক
❖ দ্বারকানাথ ঠাকুর: ব্রাহ্মসভার প্রাথমিক পৃষ্ঠপোষক।
❖ দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর: দ্বারকানাথের পুত্র এবং ব্রাহ্মসমাজের পরবর্তী নেতা।
❖ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: দেবেন্দ্রনাথের পুত্র।
❖ দ্বারকানাথের মৃত্যু — ১৮৪৬।
❖ দেবেন্দ্রনাথের জন্ম — ১৮১৭।
❖ দেবেন্দ্রনাথের মৃত্যু — ১৯০৫।
❖ রবীন্দ্রনাথের জন্ম — ১৮৬১।
❖ রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু — ১৯৪১।
❖ ঠাকুর পরিবারের এই তিন প্রজন্ম বাংলার ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠায় রামমোহনের সহযোগী — দ্বারকানাথ ঠাকুর।
➤ ব্রাহ্মসভার প্রতিষ্ঠাতা — রাজা রামমোহন রায়।
➤ ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা — ২০ আগস্ট ১৮২৮।
➤ ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠার স্থান — কলকাতা।
➤ ব্রাহ্মসভা পরবর্তী সময়ে পরিচিত হয় — ব্রাহ্মসমাজ নামে।
➤ ব্রাহ্মসভার ট্রাস্ট দলিল — ১৮৩০।
➤ ব্রাহ্মসমাজের প্রধান আদর্শ — একেশ্বরবাদ।
➤ ব্রাহ্মসমাজের উপাসনাপদ্ধতি — নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনা।
➤ আত্মীয়সভা প্রতিষ্ঠা — ১৮১৫।
➤ আত্মীয়সভার প্রতিষ্ঠাতা — রাজা রামমোহন রায়।
➤ ব্রাহ্মসভার প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক — রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ।
➤ দ্বারকানাথ ঠাকুরের উপাধি — প্রিন্স।
➤ দ্বারকানাথ ঠাকুরের জন্ম — ১৭৯৪।
➤ দ্বারকানাথ ঠাকুরের মৃত্যু — ১৮৪৬।
➤ দ্বারকানাথ ঠাকুরের পুত্র — দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
➤ দ্বারকানাথ ঠাকুরের পৌত্র — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
➤ দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপাধি — মহর্ষি।
➤ তত্ত্ববোধিনী সভার প্রতিষ্ঠাতা — দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
➤ তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা — ১৮৩৯।
➤ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশ — ১৮৪৩।
➤ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার প্রথম সম্পাদক — অক্ষয়কুমার দত্ত।
➤ ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা — ১৮৬৬।
➤ ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজের প্রধান নেতা — কেশবচন্দ্র সেন।
➤ সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা — ১৮৭৮।
07
🎯 Level 1

৬. সতীদাহ প্রথা রহিতকরণে কোন সমাজ সংস্কারকের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য? (জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক: ০৯)

ক

গোপালকৃষ্ণ গোখলে

খ

রাজা রামমোহন রায়

গ

সরোজিনী নাইডু

ঘ

দাদাভাই নওরোজী

✅ সঠিক উত্তর:খ. রাজা রামমোহন রায়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: রাজা রামমোহন রায়।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ সতীদাহ প্রথা রহিতকরণের আন্দোলনে রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সতীদাহকে মানবিক অধিকার ও নারীর মর্যাদার পরিপন্থী বলে বিবেচনা করতেন।
❖ ঊনবিংশ শতকের প্রথমভাগে বাংলার কিছু অঞ্চলে সতীদাহ প্রথার প্রচলন ছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবাদের চিতায় দাহ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
❖ রামমোহন সতীদাহের বিরোধিতা করতে গিয়ে উপনিষদ, স্মৃতিশাস্ত্র ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার সাহায্যে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে বিধবার জীবন্ত দাহ ধর্মীয়ভাবে অপরিহার্য নয়।
❖ ১৮১৮ সালে তাঁর ‘সহমরণ বিষয় প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ’ প্রকাশিত হয়। তিনি এই লেখায় সতীদাহের পক্ষে ও বিপক্ষে বক্তব্য তুলে ধরে প্রথাটির বিরুদ্ধে যুক্তি প্রদান করেন।
❖ রামমোহনের প্রচার ও সংস্কার আন্দোলন সতীদাহবিরোধী জনমত শক্তিশালী করে। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে সতীদাহ নিষিদ্ধকরণের বিধান জারি করেন।
❖ আইনটি জারির পর কিছু রক্ষণশীল গোষ্ঠী এর বিরোধিতা করে। রামমোহন আইনটি বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং ইংল্যান্ড সফরের সময়ও এ বিষয়ে ভূমিকা রাখেন।
◉ ১. সতীদাহবিরোধী আন্দোলনের প্রধান পর্যায়
❖ প্রাথমিক পর্যায়: সতীদাহের সামাজিক ও ধর্মীয় ভিত্তির সমালোচনা।
❖ ১৮১৮ সাল: সতীদাহবিষয়ক প্রথম সম্বাদ প্রকাশ।
❖ ১৮১৯ সাল: সতীদাহবিষয়ক দ্বিতীয় সম্বাদ প্রকাশ।
❖ ১৮২১ সাল: সম্বাদ কৌমুদীর মাধ্যমে সংস্কারমূলক চিন্তার প্রচার।
❖ ১৮২৮ সাল: রামমোহনের ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা।
❖ ১৮২৯ সাল: সতীদাহ নিষিদ্ধকরণ আইন জারি।
❖ ১৮৩০–১৮৩১ সাল: রামমোহনের ইংল্যান্ড সফর ও আইন বহাল রাখার পক্ষে কার্যক্রম।
◉ ২. রামমোহনের সংস্কার আন্দোলনের প্রধান পদ্ধতি
❖ ধর্মগ্রন্থের পাঠ ও ব্যাখ্যা।
❖ যুক্তিভিত্তিক প্রবন্ধ ও পুস্তিকা রচনা।
❖ সংবাদপত্রের মাধ্যমে সামাজিক প্রচার।
❖ শিক্ষিত সমাজে আলোচনার আয়োজন।
❖ ব্রিটিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন।
❖ নারীর অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা সম্পর্কে জনমত গঠন।
❖ রক্ষণশীলদের ধর্মীয় যুক্তির জবাব দেওয়া।
◉ ৩. সতীদাহবিরোধী আন্দোলনের ফলাফল
❖ বিধবাদের জীবনরক্ষার উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ সতীদাহকে দণ্ডনীয় অপরাধের আওতায় আনা হয়।
❖ নারীর অধিকার ও সামাজিক সংস্কার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
❖ ধর্মীয় প্রথার মানবিক ও নৈতিক ভিত্তি নিয়ে আলোচনা বিস্তৃত হয়।
❖ ঔপনিবেশিক বাংলায় আইন ও সামাজিক সংস্কারের সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়।
❖ পরবর্তী নারীশিক্ষা, বিধবা বিবাহ ও নারীস্বত্বসংক্রান্ত আন্দোলনের জন্য সামাজিক পটভূমি তৈরি হয়।
◉ ৪. অন্যান্য সমাজসংস্কারকদের পরিচয়
❖ গোপালকৃষ্ণ গোখলে (১৮৬৬–১৯১৫): ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যপন্থী নেতা এবং আধুনিক শিক্ষা ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রবক্তা।
❖ সরোজিনী নাইডু (১৮৭৯–১৯৪৯): কবি, স্বাধীনতা আন্দোলনের নেত্রী এবং ‘ভারতের বুলবুল’ নামে পরিচিত।
❖ দাদাভাই নওরোজী (১৮২৫–১৯১৭): ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতা এবং ব্রিটিশ অর্থনৈতিক শোষণের Drain Theory-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রবক্তা।
❖ রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২–১৮৩৩): সতীদাহবিরোধী আন্দোলনের প্রধান সমাজসংস্কারক।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ সতীদাহ প্রথা রহিতকরণের প্রধান সমাজসংস্কারক — রাজা রামমোহন রায়।
➤ সতীদাহ নিষিদ্ধকরণ আইন — ১৮২৯।
➤ আইন জারি করেন — লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।
➤ আইন জারির তারিখ — ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯।
➤ বিধান — Bengal Sati Regulation XVII।
➤ সতীদাহবিরোধী গ্রন্থ — সহমরণ বিষয় প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ।
➤ প্রথম সম্বাদ — ১৮১৮।
➤ দ্বিতীয় সম্বাদ — ১৮১৯।
➤ রাজা রামমোহনের সমাজসংস্কারমূলক পত্রিকা — সম্বাদ কৌমুদী।
➤ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা — ১৮২৮।
➤ বিধবা বিবাহ আইন — ১৮৫৬।
➤ বিধবা বিবাহ আন্দোলনের প্রধান নেতা — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
➤ গোপালকৃষ্ণ গোখলের জন্ম — ১৮৬৬।
➤ গোপালকৃষ্ণ গোখলের মৃত্যু — ১৯১৫।
➤ সরোজিনী নাইডুর উপাধি — ভারতের বুলবুল।
➤ সরোজিনী নাইডু কংগ্রেসের সভাপতি হন — ১৯২৫।
➤ দাদাভাই নওরোজীর অর্থনৈতিক তত্ত্ব — Drain Theory।
➤ দাদাভাই নওরোজীর উপাধি — Grand Old Man of India।
08
🎯 Level 1

৯. কোন গ্রন্থটি রাজা রামমোহন রায়ের রচনা নয়? (বেসিক ব্যাংক লি. অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ): ১৪ / পিএসসি কর্তৃক নির্ধারিত ১২টি প্রশ্ন: ০১)

ক

বেদান্তচন্দ্রিকা

খ

বেদান্তগ্রন্থ

গ

বেদান্তসার

ঘ

পথ্য প্রদান

✅ সঠিক উত্তর:ক. বেদান্তচন্দ্রিকা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: বেদান্তচন্দ্রিকা — মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘বেদান্তচন্দ্রিকা’ (১৮১৭) রাজা রামমোহন রায়ের রচনা নয়; এটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মদর্শনমূলক গদ্যগ্রন্থ।
❖ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের একজন প্রধান পণ্ডিত ও গদ্যলেখক। আধুনিক বাংলা গদ্যের প্রাথমিক বিকাশে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
❖ রাজা রামমোহন রায় ১৮১৫ সালে ‘বেদান্তগ্রন্থ’ ও ‘বেদান্তসার’ প্রকাশ করে বেদান্ত ও উপনিষদের নিরাকার ব্রহ্ম এবং একেশ্বরবাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
❖ তাঁর এই মতের সমালোচনা করে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ১৮১৭ সালে ‘বেদান্তচন্দ্রিকা’ রচনা করেন। এতে প্রচলিত হিন্দু উপাসনাপদ্ধতি ও প্রতিমাপূজার পক্ষে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
❖ বেদান্তচন্দ্রিকার প্রতিবাদে রামমোহন রায় ‘ভট্টাচার্যের সহিত বিচার’ (১৮১৭) রচনা করেন। এই গ্রন্থে তিনি মৃত্যুঞ্জয়ের বক্তব্যের যুক্তিগত ও শাস্ত্রীয় সমালোচনা করেন।
❖ অন্যদিকে ‘পথ্য প্রদান’ (১৮২৩) রাজা রামমোহন রায়েরই রচনা। এটি ধর্মীয় বিতর্ক ও সামাজিক চিন্তাসংক্রান্ত তাঁর গদ্যরচনার অন্তর্ভুক্ত।
❖ তাই চারটি বিকল্পের মধ্যে বেদান্তচন্দ্রিকা একমাত্র গ্রন্থ, যার রচয়িতা রামমোহন রায় নন।
◉ ১. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের জীবন ও পরিচয়
❖ নাম: মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (Mrityunjay Vidyalankar)।
❖ জন্মসাল: আনুমানিক ১৭৬২।
❖ মৃত্যুসাল: ১৮১৯।
❖ প্রধান পরিচয়: পণ্ডিত, গদ্যলেখক ও ধর্মদর্শনবিষয়ক লেখক।
❖ প্রধান কর্মস্থল: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।
❖ বিভাগ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
❖ সাহিত্যিক যুগ: আধুনিক বাংলা গদ্যের প্রাথমিক পর্যায়।
❖ প্রধান রচনা: বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, বেদান্তচন্দ্রিকা ও প্রবোধচন্দ্রিকা।
❖ পরবর্তী সময়ে তিনি কলকাতা সুপ্রিম কোর্টের পণ্ডিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
◉ ২. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ
❖ বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২): রাজা বিক্রমাদিত্যের কিংবদন্তি অবলম্বনে রচিত গদ্যগ্রন্থ।
❖ হিতোপদেশ (১৮০৮): সংস্কৃত নীতিকাহিনির বাংলা রূপান্তর।
❖ রাজাবলি (১৮০৮): ঐতিহাসিক ও রাজবংশসংক্রান্ত বর্ণনামূলক গদ্য।
❖ বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭): ধর্মীয়-দার্শনিক বিতর্কমূলক গ্রন্থ।
❖ প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩): ভাষাশিক্ষা ও নীতিশিক্ষাসংক্রান্ত গদ্যগ্রন্থ।
❖ প্রবোধচন্দ্রিকা তাঁর জীবদ্দশায় রচিত হলেও ১৮৩৩ সালে মরণোত্তর প্রকাশিত হয়।
◉ ৩. বেদান্তচন্দ্রিকার মূল বিষয়
❖ গ্রন্থের নাম: বেদান্তচন্দ্রিকা।
❖ রচয়িতা: মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
❖ প্রকাশকাল: ১৮১৭।
❖ রচনার ধরন: ধর্মীয় ও দার্শনিক আলোচনা।
❖ প্রধান বিষয়: বেদান্তদর্শনের ব্যাখ্যা এবং উপাসনাপদ্ধতি।
❖ গ্রন্থটিতে প্রচলিত হিন্দু ধর্মাচারের সমর্থনে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
❖ রামমোহনের নিরাকার একেশ্বরবাদী ব্যাখ্যার সমালোচনা এর গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল।
❖ রামমোহন রায় এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ভট্টাচার্যের সহিত বিচার রচনা করেন।
◉ ৪. রামমোহনের বেদান্তগ্রন্থ
❖ প্রকাশকাল: ১৮১৫।
❖ প্রধান উদ্দেশ্য: বেদান্তদর্শনের মূল বক্তব্য বাংলায় উপস্থাপন।
❖ ধর্মীয় চিন্তা: একেশ্বরবাদ ও নিরাকার ব্রহ্ম।
❖ রামমোহন উপনিষদ ও বেদান্তের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা ব্যবহার করেন।
❖ ধর্মীয় চিন্তার ক্ষেত্রে যুক্তি ও বিবেকের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
❖ সাধারণ পাঠকের কাছে ধর্মদর্শনের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলা গদ্য ব্যবহার করেন।
◉ ৫. রামমোহনের বেদান্তসার
❖ প্রকাশকাল: ১৮১৫।
❖ রচয়িতা: রাজা রামমোহন রায়।
❖ গ্রন্থের ধরন: ধর্মদর্শনমূলক ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
❖ বেদান্তদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে।
❖ নিরাকার ব্রহ্ম ও একেশ্বরবাদের ধারণা আলোচিত হয়েছে।
❖ এটি আধুনিক বাংলা গদ্যের প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক রচনা।
◉ ৬. রামমোহনের পথ্য প্রদান
❖ গ্রন্থের নাম: পথ্য প্রদান।
❖ রচয়িতা: রাজা রামমোহন রায়।
❖ প্রকাশকাল: ১৮২৩।
❖ রচনার ধরন: ধর্মীয় বিতর্কমূলক ও যুক্তিনির্ভর গদ্য।
❖ গ্রন্থটিতে সমকালীন ধর্মীয় মতবিরোধ ও যুক্তিবিচারের বিষয় রয়েছে।
❖ রামমোহনের অন্যান্য রচনার মতো এখানেও ধর্মীয় চিন্তার যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যার গুরুত্ব দেখা যায়।
◉ ৭. বাংলা গদ্যে রামমোহন ও মৃত্যুঞ্জয়ের অবদান
❖ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার: সংস্কৃতনির্ভর উচ্চাঙ্গ গদ্যের অন্যতম প্রধান প্রাথমিক লেখক।
❖ রামমোহন রায়: যুক্তিনির্ভর, শাস্ত্রব্যাখ্যামূলক ও সংস্কারধর্মী বাংলা গদ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবর্তক।
❖ মৃত্যুঞ্জয়ের গদ্যে সংস্কৃত শব্দ ও দীর্ঘ বাক্যের ব্যবহার বেশি দেখা যায়।
❖ রামমোহন সামাজিক ও ধর্মীয় বিতর্ককে সাধারণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে তুলনামূলক স্পষ্ট যুক্তিবিন্যাস ব্যবহার করেন।
❖ উভয়ের রচনা বাংলা গদ্যের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বেদান্তচন্দ্রিকার রচয়িতা — মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
➤ বেদান্তচন্দ্রিকা প্রকাশ — ১৮১৭।
➤ বেদান্তচন্দ্রিকা রামমোহন রায়ের রচনা নয়।
➤ বেদান্তচন্দ্রিকার প্রতিবাদে রামমোহনের রচনা — ভট্টাচার্যের সহিত বিচার।
➤ ভট্টাচার্যের সহিত বিচার প্রকাশ — ১৮১৭।
➤ বেদান্তগ্রন্থের লেখক — রাজা রামমোহন রায়।
➤ বেদান্তগ্রন্থ প্রকাশ — ১৮১৫।
➤ বেদান্তসারের লেখক — রাজা রামমোহন রায়।
➤ বেদান্তসার প্রকাশ — ১৮১৫।
➤ পথ্য প্রদানের লেখক — রাজা রামমোহন রায়।
➤ পথ্য প্রদান প্রকাশ — ১৮২৩।
➤ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের জন্মসাল — আনুমানিক ১৭৬২।
➤ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের মৃত্যুসাল — ১৮১৯।
➤ মৃত্যুঞ্জয়ের কর্মস্থল — ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।
➤ বত্রিশ সিংহাসন প্রকাশ — ১৮০২।
➤ হিতোপদেশ প্রকাশ — ১৮০৮।
➤ রাজাবলি প্রকাশ — ১৮০৮।
➤ প্রবোধচন্দ্রিকা প্রকাশ — ১৮৩৩।
➤ প্রবোধচন্দ্রিকা মরণোত্তর প্রকাশিত হয় — মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের।
➤ আধুনিক বাংলা গদ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক লেখক — মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ও রামমোহন রায়।
Advertisement
09
🎯 Level 1

৯. ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’ পংক্তিটি কার রচনা? (শ্রম কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রধান পরিদর্শক: ০৯)

ক

লালন ফকির

খ

হাসন রাজা

গ

পাগলা কানাই

ঘ

ফকির আলমগীর

✅ সঠিক উত্তর:ক. লালন ফকির

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: লালন ফকির (লালন শাহ)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’ বাংলা বাউল সাহিত্যের বিখ্যাত সাধক ও গীতিকার ফকির লালন শাহের একটি আধ্যাত্মিক গান।
❖ লালন শাহ বাংলা লোকসংগীতের অন্যতম প্রধান সাধক। তাঁর গানে মানবতাবাদ, আত্মজ্ঞান, দেহতত্ত্ব, মনের মানুষ, জাতিভেদবিরোধিতা এবং আধ্যাত্মিক মুক্তির গভীর প্রকাশ পাওয়া যায়।
❖ আলোচিত গানে ‘খাঁচা’ মানুষের দেহের প্রতীক এবং ‘অচিন পাখি’ দেহে অবস্থানকারী অদৃশ্য প্রাণসত্তা বা আত্মিক রহস্যের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
❖ লালন মানুষের দেহের মধ্যে প্রাণের উপস্থিতি এবং এর আগমন-প্রস্থানের রহস্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। মানুষ নিজের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ সম্পর্কে জানলেও জীবনের গভীর রহস্য সম্পূর্ণ উপলব্ধি করতে পারে না—এই ভাবনা গানটির কেন্দ্রে রয়েছে।
❖ গানটিতে দেহের আট কুঠুরি ও নয় দরজার উল্লেখ রয়েছে। বাউল দেহতত্ত্বে এগুলো মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ, ইন্দ্রিয় ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের প্রতীকী পরিচয়।
❖ ‘অচিন পাখি’কে ধরার আকাঙ্ক্ষা বলতে নিজের অন্তর্গত চেতনা, মনের মানুষ বা আধ্যাত্মিক সত্যকে উপলব্ধি করার আকাঙ্ক্ষা বোঝানো হয়েছে।
❖ লালনের এই গানে দেহতত্ত্বের সঙ্গে আত্মানুসন্ধান ও মানবজীবনের অনিত্যতার দর্শন গভীরভাবে সম্পর্কিত।
◉ ১. লালন শাহের জীবন ও পরিচয়
❖ প্রচলিত নাম: ফকির লালন শাহ।
❖ ইংরেজি নাম: Lalon Shah / Lalon Fakir।
❖ জন্মসাল: প্রচলিত মতে ১৭৭৪।
❖ জন্মস্থান: নির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত নয়; ঝিনাইদহের হরিশপুর এবং কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ভাঁড়রা—উভয় স্থানের কথা বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।
❖ মৃত্যু: ১৭ অক্টোবর ১৮৯০।
❖ মৃত্যুস্থান: ছেঁউড়িয়া, কুষ্টিয়া।
❖ সমাধিস্থল: লালন আখড়া, ছেঁউড়িয়া।
❖ প্রধান পরিচয়: বাউল সাধক, গীতিকার, দার্শনিক ও মানবতাবাদী চিন্তাবিদ।
❖ উপাধি: বাউল সম্রাট।
❖ গুরু: সিরাজ সাঁই।
❖ লালনের জীবনের অনেক তথ্য মৌখিক ঐতিহ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় জন্মস্থান ও প্রথম জীবনের বিবরণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
◉ ২. লালনের সাধনজীবনের সূচনা
❖ প্রচলিত জীবনী অনুযায়ী লালন তরুণ বয়সে ভ্রমণের সময় বসন্তরোগে আক্রান্ত হন।
❖ তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় রেখে চলে যান।
❖ সিরাজ সাঁই নামে একজন মুসলমান ফকির তাঁকে আশ্রয় ও সেবা প্রদান করেন।
❖ সুস্থ হওয়ার পর লালন সিরাজ সাঁইয়ের আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট হন।
❖ পরবর্তী সময়ে তিনি বাউল সাধনার পথে জীবন পরিচালনা করেন।
❖ কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আখড়া প্রতিষ্ঠা করে সাধনা ও সংগীতচর্চা করেন।
❖ তাঁর গান ও দর্শন অনুসরণ করে একটি বৃহৎ বাউল শিষ্যসম্প্রদায় গড়ে ওঠে।
◉ ৩. খাঁচা ও অচিন পাখির প্রতীকী অর্থ
❖ খাঁচা: মানবদেহের প্রতীক।
❖ অচিন পাখি: প্রাণসত্তা, আত্মিক চেতনা অথবা মনের মানুষের রহস্যময় উপস্থিতির প্রতীক।
❖ আসা-যাওয়া: জীবন, প্রাণপ্রবাহ ও দেহে প্রাণসত্তার উপস্থিতি-অনুপস্থিতির রহস্য।
❖ মনবেড়ি: মন বা চেতনার মাধ্যমে আত্মিক সত্যকে ধারণ করার আকাঙ্ক্ষা।
❖ খাঁচার ভঙ্গুরতা: মানবদেহের নশ্বরতা।
❖ পাখির উড়ে যাওয়া: মৃত্যু বা দেহ থেকে প্রাণের বিচ্ছেদের প্রতীকী প্রকাশ।
❖ গানের এসব প্রতীক সরাসরি বস্তুগত অর্থে নয়; আধ্যাত্মিক ও দেহতাত্ত্বিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
◉ ৪. আট কুঠুরি ও নয় দরজার ব্যাখ্যা
❖ বাউল দেহতত্ত্বে মানুষের দেহকে কখনো ঘর, কখনো খাঁচা বা নগর হিসেবে কল্পনা করা হয়।
❖ আট কুঠুরি: মানবদেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো বা সাধনসংক্রান্ত কেন্দ্রের প্রতীকী প্রকাশ।
❖ নয় দরজা: দেহের নয়টি বাহ্যিক দ্বারের ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ প্রচলিত ব্যাখ্যায় দুটি চোখ, দুটি কান, দুটি নাসারন্ধ্র, মুখ এবং দেহের নিম্নাংশের দুটি দ্বার—মোট নয়টি দ্বারের কথা বলা হয়।
❖ বাউল গানে দেহের কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের অন্তর্জগতের রহস্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
❖ আয়নামহল: আত্মদর্শন বা নিজের অন্তরকে দেখার আধ্যাত্মিক প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
❖ এসব দেহতাত্ত্বিক রূপকের ব্যাখ্যায় সাধক ও গবেষকদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
◉ ৫. লালনের মনের মানুষ দর্শন
❖ মনের মানুষ লালনের সাধনদর্শনের একটি প্রধান ধারণা।
❖ মানুষের অন্তরে বিদ্যমান পরম সত্য বা গভীর আত্মিক সত্তার অনুসন্ধান এই ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত।
❖ লালন মনে করতেন, নিজের অন্তরকে না জেনে শুধু বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানে সত্যের সন্ধান সম্পূর্ণ হয় না।
❖ আত্মজ্ঞান, গুরুর শিক্ষা, প্রেম ও সাধনা তাঁর দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
❖ মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও মানবিক মর্যাদাকে তিনি গুরুত্ব দেন।
❖ জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বৈষম্যের সমালোচনা করেন।
◉ ৬. লালনের গুরুত্বপূর্ণ গান
❖ খাঁচার ভিতর অচিন পাখি: দেহতত্ত্ব ও আত্মসন্ধান।
❖ বাড়ির কাছে আরশিনগর: মনের মানুষ ও আত্মিক উপলব্ধি।
❖ সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে: জাতিভেদ ও সামাজিক পরিচয়ের সমালোচনা।
❖ জাত গেল জাত গেল বলে: জাতিভেদসংক্রান্ত কুসংস্কারের সমালোচনা।
❖ মিলন হবে কত দিনে: মনের মানুষের সঙ্গে মিলনের আকাঙ্ক্ষা।
❖ আমার ঘরের চাবি পরের হাতে: আত্মজ্ঞান ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির সংকট।
❖ সময় গেলে সাধন হবে না: জীবনের অনিত্যতা ও সময়ের গুরুত্ব।
❖ তিন পাগলে হলো মেলা: ধর্মীয় সাধনা ও ভাবদর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত গান।
◉ ৭. বাউল সংগীতের প্রধান বৈশিষ্ট্য
❖ দেহতত্ত্ব: মানুষের দেহকে আধ্যাত্মিক সাধনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা।
❖ আত্মতত্ত্ব: নিজের অন্তর্গত সত্তা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন।
❖ গুরুতত্ত্ব: আধ্যাত্মিক সাধনায় গুরুর নির্দেশনার গুরুত্ব।
❖ মানবতাবাদ: মানুষের মর্যাদা ও মানবিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব।
❖ অসাম্প্রদায়িকতা: কঠোর ধর্মীয় ও জাতিগত বিভাজনের সমালোচনা।
❖ সংগীতধর্মিতা: সহজ ভাষা, গভীর ভাব ও সুরের সমন্বয়।
❖ প্রতীক ও রূপক: খাঁচা, পাখি, ঘর, আয়না, নদী ও মানুষ ইত্যাদির আধ্যাত্মিক ব্যবহার।
◉ ৮. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও লালনসংগীত
❖ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লালনের গান ও বাউল দর্শনের প্রতি আগ্রহী ছিলেন।
❖ লালনের আখড়ায় সংরক্ষিত গানের খাতা থেকে রবীন্দ্রনাথ গান সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।
❖ রবীন্দ্রনাথের উদ্যোগে লালনের ২০টি গান ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
❖ লালনের মানবতাবাদী ও আত্মানুসন্ধানমূলক দর্শন রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যচিন্তার সঙ্গে বিভিন্নভাবে সম্পর্কিত।
❖ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর লালনের একটি বিখ্যাত প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন।
❖ বাংলা লোকসংস্কৃতির ইতিহাসে লালন ও ঠাকুর পরিবারের এই সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ গানের রচয়িতা — লালন শাহ।
➤ লালনের আরেক পরিচয় — ফকির লালন।
➤ লালনের উপাধি — বাউল সম্রাট।
➤ লালনের প্রধান সাহিত্যিক পরিচয় — বাউল সাধক ও গীতিকার।
➤ লালনের গানের প্রধান দর্শন — দেহতত্ত্ব ও আত্মতত্ত্ব।
➤ খাঁচা প্রতীক — মানবদেহ।
➤ অচিন পাখি প্রতীক — প্রাণসত্তা বা আত্মিক রহস্য।
➤ নয় দরজা — দেহের নয়টি দ্বারের প্রতীকী ধারণা।
➤ আয়নামহল — আত্মদর্শনের প্রতীক।
➤ লালনের গুরু — সিরাজ সাঁই।
➤ লালনের জন্মসাল — প্রচলিত মতে ১৭৭৪।
➤ লালনের জন্মস্থান — গবেষণায় মতভেদ রয়েছে।
➤ লালনের মৃত্যু — ১৭ অক্টোবর ১৮৯০।
➤ মৃত্যুস্থান — ছেঁউড়িয়া, কুষ্টিয়া।
➤ লালনের আখড়া — ছেঁউড়িয়া।
➤ লালনের বিখ্যাত গান — বাড়ির কাছে আরশিনগর।
➤ আরেক বিখ্যাত গান — মিলন হবে কত দিনে।
➤ লালনের জাতিভেদবিরোধী গান — সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে।
➤ লালনের আত্মানুসন্ধানমূলক গান — আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
➤ লালনের গান সংগ্রহ ও প্রচারে অবদান — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
➤ প্রবাসী পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের উদ্যোগে প্রকাশিত লালনের গান — ২০টি।
➤ লালনের প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন — জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
➤ বাউল দর্শনের প্রধান ধারণা — মনের মানুষ।
➤ বাউল সাধনায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি — গুরু।
10
🎯 Level 1

০৩. বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিক্ষণের কবি কে? (শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম পরিদর্শক: ২৬ / পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা: ২৫)

ক

জীবনানন্দ দাশ

খ

বড়ু চণ্ডীদাস

গ

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

ঘ

কামিনী রায়

✅ সঠিক উত্তর:গ. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত — মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সংযোগকারী কবি।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে বাংলা সাহিত্যের ‘যুগসন্ধিক্ষণের কবি’ বলা হয়। তাঁর কবিতায় মধ্যযুগের কাব্যরীতি ও আধুনিক যুগের জীবনচেতনা পাশাপাশি উপস্থিত। তিনি বাংলা কবিতার পুরোনো ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতার পথে উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের প্রতিনিধি।
❖ যুগসন্ধিক্ষণের অর্থ: দুটি যুগের মিলন, পরিবর্তন বা সংযোগের সময়কে যুগসন্ধিক্ষণ বলা হয়। সাহিত্যিক অর্থে এমন কবিকে বোঝানো হয়, যাঁর রচনায় পুরোনো ও নতুন যুগের বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে প্রকাশিত হয়।
❖ জীবনকাল: ৬ মার্চ ১৮১২ – ২৩ জানুয়ারি ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন্মস্থান: কাঁচড়াপাড়া বা কাঞ্চনপল্লী, বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ।
❖ মধ্যযুগীয় বৈশিষ্ট্য: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের কবিতায় পয়ার, অন্ত্যমিল, কবিগানের ভঙ্গি, শব্দের চাতুর্য, শ্লেষ ও অলংকারের ব্যবহার দেখা যায়।
❖ আধুনিক বৈশিষ্ট্য: তাঁর কবিতার বিষয় হয়ে ওঠে সমকালীন সমাজ, রাজনীতি, নাগরিক জীবন, স্বদেশপ্রেম, সামাজিক অসংগতি এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা।
❖ সামাজিক সমালোচনা: তিনি কবিতার মাধ্যমে অন্ধ অনুকরণ, বিদেশি সংস্কৃতির অযৌক্তিক অনুকরণ, সামাজিক ভণ্ডামি এবং শাসকশ্রেণির আচরণকে ব্যঙ্গ করেন।
❖ দেশপ্রেম: তাঁর ‘স্বদেশ’ কবিতায় মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা এবং নিজের দেশের মানুষ ও সংস্কৃতিকে মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান রয়েছে।
❖ সাংবাদিকতায় অবদান: ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার সম্পাদনা শুরু করেন। এটি ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক সংবাদপত্রে পরিণত হয়।
❖ সাহিত্যিক প্রভাব: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র এবং সমকালীন বহু নবীন লেখক তাঁর সাহিত্যিক পরিবেশ ও পত্রিকার মাধ্যমে উৎসাহিত হন।
❖ প্রাচীন কবিদের পরিচয় উদ্ধার: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলার পুরোনো কবিয়াল, কবি ও সংগীতজ্ঞদের জীবন ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। বাংলা সাহিত্য-ইতিহাস রচনার বিকাশেও তাঁর অবদান রয়েছে।
❖ বিখ্যাত কবিতা: নীলকর, স্বদেশ, তপসে মাছ, আনারস, মানুষ কে? ও বাঙালি মেয়ে।
❖ উল্লেখযোগ্য রচনা: প্রবোধ প্রভাকর, হিত প্রভাকর এবং বোধেন্দু বিকাশ।
❖ রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পার্থক্য: রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮২৭–১৮৮৭) আধুনিক বাংলা দেশাত্মবোধক কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবি। তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ (১৮৫৮)।
❖ মাইকেল মধুসূদন দত্তের সঙ্গে সম্পর্ক: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যে পরিবর্তনশীল সাহিত্যিক পরিবেশে কাজ করেছেন, তার পরবর্তী পর্যায়ে মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কবিতায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ, সনেট ও আধুনিক মহাকাব্যরীতি প্রবর্তন করেন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিক্ষণের কবি — ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
➤ যুগসন্ধিক্ষণ — দুটি যুগের সংযোগকাল।
➤ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত — মধ্যযুগীয় কাব্যরীতি ও আধুনিক ভাবধারার মিলনকারী।
➤ জন্ম — ৬ মার্চ ১৮১২।
➤ মৃত্যু — ২৩ জানুয়ারি ১৮৫৯।
➤ জন্মস্থান — কাঁচড়াপাড়া।
➤ উপাধি — গুপ্ত কবি।
➤ ছদ্মনাম — ভ্রমণকারী বন্ধু।
➤ সম্পাদিত পত্রিকা — সংবাদ প্রভাকর।
➤ সংবাদ প্রভাকরের প্রথম প্রকাশ — ১৮৩১।
➤ দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশ — ১৮৩৯।
➤ প্রধান কবিতার বিষয় — ব্যঙ্গ, সমাজ, স্বদেশপ্রেম ও বাস্তব জীবন।
➤ প্রসিদ্ধ কবিতা — নীলকর।
➤ স্বদেশপ্রেমমূলক কবিতা — স্বদেশ।
➤ সামাজিক ও নৈতিক ভাবনার কবিতা — মানুষ কে?।
➤ ‘খাঁটি বাঙালি কবি’ বলেন — বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
➤ আধুনিক বাংলা মহাকাব্যের প্রধান কবি — মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন