🧠 🔖
👑 Premium Topic

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও মাইকেল মধুসূদন দত্ত

◉ বাংলা সাহিত্য›ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও মাইকেল মধুসূদন দত্ত

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚136মোট প্রশ্ন
🎯7মোট লেভেল
⭐—0 Ratings
💬0Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

১৩. ‘ভ্রান্তিবিলাস’ গ্রন্থের রচয়িতা— (বিভিন্ন মন্ত্রণালয় (পিএসসি)-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা: ২৫)

ক

প্রমথ চৌধুরী

খ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

গ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ঘ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

✅ সঠিক উত্তর:গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ব্যাখ্যা:

"উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘ভ্রান্তিবিলাস’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হাস্যরসাত্মক গদ্য আখ্যান।
❖ মূল উৎস: ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম শেকসপিয়ারের ‘The Comedy of Errors’ নাটক।
❖ রূপান্তরের প্রকৃতি: বিদ্যাসাগর মূল নাটকের কাহিনি গ্রহণ করে বাংলা নাম, সামাজিক পরিবেশ ও গদ্যবর্ণনা ব্যবহার করে পাঠকের উপযোগী করেন।
❖ প্রধান বিষয়: দুই জোড়া যমজের পরিচয়গত বিভ্রান্তি থেকে সৃষ্ট হাস্যকর ঘটনাবলি।
❖ শেকসপিয়ারের পরিচিতি: ১৫৬৪–১৬১৬, ইংরেজ সাহিত্যের বিখ্যাত নাট্যকার। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক Hamlet, Macbeth, Othello, King Lear ও The Comedy of Errors।
❖ বিদ্যাসাগরের জন্ম: ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০, বীরসিংহ, মেদিনীপুর।
❖ বিদ্যাসাগরের মৃত্যু: ২৯ জুলাই ১৮৯১, কলকাতা।
❖ বিদ্যাসাগরের অন্যান্য সাহিত্যিক রূপান্তর: বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), শকুন্তলা (১৮৫৪), সীতার বনবাস (১৮৬০)।
❖ গদ্যরীতি: তাঁর সাহিত্যিক গদ্যে শ্রুতিমাধুর্য, বাক্যের ভারসাম্য, প্রাঞ্জলতা ও যথাযথ যতিচিহ্নের ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ সাহিত্যিক অবদান: ‘ভ্রান্তিবিলাস’ বাংলা গদ্যে ইংরেজি নাট্যকাহিনির হাস্যরসকে নতুন সাংস্কৃতিক পরিবেশে উপস্থাপনের একটি উৎকৃষ্ট নিদর্শন।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ ভ্রান্তিবিলাস — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
➤ প্রকাশকাল — ১৮৬৯।
➤ মূল নাটক — The Comedy of Errors।
➤ মূল নাট্যকার — উইলিয়াম শেকসপিয়ার।
➤ মূল নাটকের ধরন — কমেডি।
➤ গদ্যরূপান্তরকারী — বিদ্যাসাগর।
➤ প্রধান বিষয় — যমজ চরিত্রের বিভ্রান্তি।
➤ শেকসপিয়ারের জন্ম — ১৫৬৪।
➤ মৃত্যু — ১৬১৬।
➤ বিদ্যাসাগরের শকুন্তলা — ১৮৫৪।
➤ সীতার বনবাস — ১৮৬০।"
02
🎯 Level 1

১৯. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পারিবারিক নাম— (সিনিয়র স্টাফ নার্স: ২৩)

ক

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

খ

ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

গ

ঈশ্বর শর্মা

ঘ

ঈশ্বরচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

✅ সঠিক উত্তর:খ. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পারিবারিক বা প্রকৃত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অসাধারণ শিক্ষাগত কৃতিত্বের জন্য পরবর্তীকালে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি যুক্ত হয়।
❖ ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ পদবি: এটি বাংলার একটি পরিচিত ব্রাহ্মণ পারিবারিক পদবি। ইংরেজি বানানে সাধারণভাবে Bandyopadhyay বা Banerjee ব্যবহৃত হয়।
❖ জন্ম: ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দ।
❖ জন্মস্থান: বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর।
❖ পিতা: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
❖ মাতা: ভগবতী দেবী।
❖ শৈশব: আর্থিক কষ্ট ও সীমিত সুযোগের মধ্যেও তিনি অত্যন্ত অধ্যবসায়ের সঙ্গে শিক্ষা লাভ করেন।
❖ সংস্কৃত কলেজ: ১৮২৯ সালে ভর্তি হয়ে বিভিন্ন শাস্ত্রে অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেন।
❖ বিদ্যাসাগর উপাধি: ১৮৩৯ সালের মধ্যে লাভ করেন। এর অর্থ জ্ঞানের সমুদ্র।
❖ সাহিত্যিক পরিচয়: বাংলা গদ্যের জনক, শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক।
❖ বিখ্যাত গ্রন্থ: বেতাল পঞ্চবিংশতি, বর্ণপরিচয়, শকুন্তলা, সীতার বনবাস ও ভ্রান্তিবিলাস।
❖ মৃত্যু: ২৯ জুলাই ১৮৯১, কলকাতা।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ পারিবারিক নাম — ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
➤ উপাধিসহ পরিচিত নাম — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
➤ ইংরেজি পদবি — Bandyopadhyay / Banerjee।
➤ জন্ম — ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০।
➤ জন্মস্থান — বীরসিংহ।
➤ পিতা — ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
➤ মাতা — ভগবতী দেবী।
➤ উপাধি লাভ — ১৮৩৯ সালের মধ্যে।
➤ উপাধির অর্থ — জ্ঞানের সমুদ্র।
➤ মৃত্যু — ২৯ জুলাই ১৮৯১।
➤ বাংলা গদ্যের জনক — বিদ্যাসাগর।
Advertisement
03
🎯 Level 1

২৫. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পারিবারিক পদবি কোনটি? (বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক: ০৮)

ক

চৌধুরী

খ

ঠাকুর

গ

চক্রবর্তী

ঘ

বন্দ্যোপাধ্যায়

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: বন্দ্যোপাধ্যায় — ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পারিবারিক পদবি ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’। তাঁর প্রকৃত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ‘বিদ্যাসাগর’ তাঁর শিক্ষাগত উপাধি।
❖ পরিবার: তিনি ১৮২০ সালে মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে একটি দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
❖ পিতা: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
❖ মাতা: ভগবতী দেবী।
❖ বন্দ্যোপাধ্যায় পদবি: এটি বাংলার একটি পরিচিত ব্রাহ্মণ পারিবারিক পদবি, যার ইংরেজি রূপ Bandyopadhyay বা Banerjee।
❖ বিদ্যাসাগর উপাধি: সংস্কৃত কলেজ তাঁর অসাধারণ শিক্ষাগত কৃতিত্বের জন্য এই উপাধি প্রদান করে।
❖ পদবির সঙ্গে উপাধির পার্থক্য: বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বংশগত পরিচয়, আর বিদ্যাসাগর অর্জিত সম্মানসূচক উপাধি।
❖ বাংলা গদ্যে অবদান: বেতাল পঞ্চবিংশতি, শকুন্তলা, সীতার বনবাস, ভ্রান্তিবিলাস এবং বর্ণপরিচয় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
❖ সমাজসংস্কারে অবদান: নারীশিক্ষা, বিধবাবিবাহ, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহবিরোধী আন্দোলন।
❖ মৃত্যু: ২৯ জুলাই ১৮৯১, কলকাতা।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ পারিবারিক পদবি — বন্দ্যোপাধ্যায়।
➤ পূর্ণ প্রকৃত নাম — ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
➤ উপাধি — বিদ্যাসাগর।
➤ উপাধিদাতা — সংস্কৃত কলেজ।
➤ বিদ্যাসাগর উপাধির অর্থ — জ্ঞানের সমুদ্র।
➤ জন্ম — ১৮২০।
➤ মৃত্যু — ১৮৯১।
➤ পিতা — ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
➤ মাতা — ভগবতী দেবী।
➤ জন্মস্থান — বীরসিংহ।
04
🎯 Level 1

৩১. ‘শকুন্তলা’ কার লেখা গ্রন্থ? (উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা: ১০)

ক

উইলিয়াম কেরি

খ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

গ

রামরাম বসু

ঘ

চণ্ডীচরণ মুন্সি

✅ সঠিক উত্তর:খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর — বাংলা ‘শকুন্তলা’ (১৮৫৪)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘শকুন্তলা’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত একটি বাংলা গদ্যরূপান্তর গ্রন্থ। এটি ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
❖ মূল রচনা: প্রাচীন ভারতের সংস্কৃত নাট্যকার কালিদাসের ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’।
❖ মূল নাটকের নায়িকা: শকুন্তলা।
❖ নায়ক: রাজা দুষ্মন্ত।
❖ প্রধান ঘটনাপ্রবাহ: রাজা দুষ্মন্ত ঋষি কণ্বর আশ্রমে শকুন্তলার সঙ্গে পরিচিত হন। তাঁদের প্রেম ও বিবাহের পর দুর্বাসার অভিশাপে দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে ভুলে যান।
❖ অঙ্গুরীয়ের ভূমিকা: একটি আংটি দুষ্মন্তের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়।
❖ পুনর্মিলন: পরে দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার পুনর্মিলন ঘটে।
❖ কালিদাস: চতুর্থ-পঞ্চম শতাব্দীর সংস্কৃত কবি হিসেবে প্রচলিত। তাঁর মেঘদূত, রঘুবংশ, কুমারসম্ভব ও অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ বিখ্যাত।
❖ বিদ্যাসাগরের সাহিত্যিক রীতি: তিনি মূল নাটককে বাংলা গদ্যে প্রাঞ্জল ও আবেগময় আখ্যানের রূপ দেন।
❖ অন্যান্য সাহিত্যকর্ম: বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), বর্ণপরিচয় (১৮৫৫), সীতার বনবাস (১৮৬০), ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯)।
❖ বাংলা সাহিত্যে গুরুত্ব: ‘শকুন্তলা’ বাংলা গদ্যে সংস্কৃত নাট্যকাহিনির শিল্পিত রূপান্তর ও করুণ-প্রেমমূলক ভাষার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলা শকুন্তলার রচয়িতা — বিদ্যাসাগর।
➤ প্রকাশকাল — ১৮৫৪।
➤ মূল নাটক — অভিজ্ঞানশকুন্তলম্।
➤ মূল নাট্যকার — কালিদাস।
➤ নায়িকা — শকুন্তলা।
➤ নায়ক — দুষ্মন্ত।
➤ অভিশাপদাতা — দুর্বাসা।
➤ পরিচয় পুনরুদ্ধারের বস্তু — আংটি।
➤ কালিদাসের বিখ্যাত কাব্য — মেঘদূত।
➤ বিদ্যাসাগরের সীতার বনবাস — ১৮৬০।
➤ ভ্রান্তিবিলাস — ১৮৬৯।
05
🎯 Level 1

৩৮. ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’ নাটকের রচয়িতা কে? (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ১০–১১ / মেডিকেল ও সার্ভিস)

ক

কালিদাস

খ

জয়দেব

গ

বিশাখ দত্ত

ঘ

ভট্ট নারায়ণ

✅ সঠিক উত্তর:ক. কালিদাস

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: মহাকবি কালিদাস (Kalidasa)।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’ (Abhijñānaśākuntalam) সংস্কৃত সাহিত্যের মহাকবি কালিদাসের রচিত একটি বিখ্যাত নাটক। এটি সংস্কৃত নাট্যসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে বিশ্বসাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
❖ নাটকটির প্রধান কাহিনি মহাভারতের আদিপর্বে বর্ণিত রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার প্রেমকাহিনি থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
❖ ‘অভিজ্ঞান’ অর্থ পরিচয় শনাক্ত করার চিহ্ন বা স্মারক। নাটকে রাজা দুষ্মন্তের দেওয়া আংটি শকুন্তলার পরিচয় ও তাঁদের বিবাহের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
❖ নাটকের প্রধান চরিত্র রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলা। শকুন্তলা ছিলেন মহর্ষি বিশ্বামিত্র ও অপ্সরা মেনকার কন্যা। জন্মের পর তিনি মহর্ষি কণ্বের আশ্রমে প্রতিপালিত হন।
❖ রাজা দুষ্মন্ত মৃগয়ায় গিয়ে কণ্ব মুনির আশ্রমে শকুন্তলাকে দেখেন। শকুন্তলার রূপ ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁর প্রেমে পড়েন এবং গান্ধর্বমতে শকুন্তলাকে বিবাহ করেন।
❖ পরবর্তী সময়ে দুর্বাসা মুনির অভিশাপের কারণে দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে ভুলে যান। কিন্তু রাজা পূর্বে দেওয়া আংটি ফিরে পাওয়ার পর তাঁর স্মৃতি পুনরুদ্ধার হয়।
❖ ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’ সাত অঙ্কের নাটক। এতে প্রেম, বিচ্ছেদ, অভিশাপ, স্মৃতিভ্রংশ, অনুশোচনা এবং পুনর্মিলনের কাহিনি শিল্পিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
◉ ১. মহাকবি কালিদাসের জীবন ও পরিচয়
❖ নাম: কালিদাস (Kalidasa)।
❖ প্রধান পরিচয়: সংস্কৃত কবি ও নাট্যকার।
❖ সাহিত্যিক ভাষা: সংস্কৃত।
❖ আনুমানিক সাহিত্যিক সময়কাল: খ্রিস্টীয় চতুর্থ-পঞ্চম শতক।
❖ ঐতিহাসিক যুগ: গুপ্তযুগের সঙ্গে সাধারণভাবে সম্পর্কিত।
❖ সম্ভাব্য রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত্যের রাজসভা—এটি প্রচলিত ঐতিহ্য, নিশ্চিত ঐতিহাসিক তথ্য নয়।
❖ জন্মস্থান: নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত নয়।
❖ জন্ম ও মৃত্যুসাল: সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না।
❖ প্রধান রচনা: অভিজ্ঞানশকুন্তলম, বিক্রমোর্বশীয়ম, মালবিকাগ্নিমিত্রম, রঘুবংশ, কুমারসম্ভব, মেঘদূত ও ঋতুসংহার।
◉ ২. অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের পরিচয়
❖ মূল নাম: অভিজ্ঞানশকুন্তলম্।
❖ ইংরেজি নাম: The Recognition of Shakuntala।
❖ রচয়িতা: কালিদাস।
❖ মূল ভাষা: সংস্কৃত।
❖ অঙ্কসংখ্যা: সাতটি।
❖ কাহিনির উৎস: মহাভারতের আদিপর্ব।
❖ প্রধান চরিত্র: দুষ্মন্ত ও শকুন্তলা।
❖ প্রধান স্মারক: রাজকীয় আংটি।
❖ প্রধান বিষয়: প্রেম, অভিশাপ, স্মৃতি ও পুনর্মিলন।
◉ ৩. নাটকের প্রধান চরিত্র
❖ শকুন্তলা: নাটকের নায়িকা।
❖ দুষ্মন্ত: হস্তিনাপুরের রাজা এবং নাটকের নায়ক।
❖ কণ্ব ঋষি: শকুন্তলার পালক পিতা।
❖ বিশ্বামিত্র: শকুন্তলার জন্মদাতা পিতা।
❖ মেনকা: শকুন্তলার জন্মদাত্রী মাতা।
❖ দুর্বাসা: অভিশাপ প্রদানকারী ঋষি।
❖ প্রিয়ংবদা: শকুন্তলার সখী।
❖ অনসূয়া: শকুন্তলার সখী।
❖ মাধব্য: দুষ্মন্তের বন্ধু ও বিদূষক।
❖ সর্বদমন বা ভরত: দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার পুত্র।
◉ ৪. নাটকের সাত অঙ্কের ঘটনাপ্রবাহ
❖ প্রথম অঙ্ক: রাজা দুষ্মন্ত মৃগয়ায় গিয়ে কণ্ব মুনির আশ্রমে শকুন্তলাকে দেখেন।
❖ দ্বিতীয় অঙ্ক: দুষ্মন্তের মনে শকুন্তলার প্রতি গভীর প্রেম জন্মায়।
❖ তৃতীয় অঙ্ক: দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার প্রেম এবং গান্ধর্ব বিবাহ সংঘটিত হয়।
❖ চতুর্থ অঙ্ক: দুর্বাসা মুনির অভিশাপ ও শকুন্তলার পতিগৃহে যাত্রার প্রস্তুতি।
❖ পঞ্চম অঙ্ক: রাজসভায় দুষ্মন্তের শকুন্তলাকে চিনতে না পারা।
❖ ষষ্ঠ অঙ্ক: হারানো আংটি উদ্ধারের মাধ্যমে দুষ্মন্তের স্মৃতি ফিরে আসা।
❖ সপ্তম অঙ্ক: দুষ্মন্ত, শকুন্তলা ও তাঁদের পুত্রের পুনর্মিলন।
◉ ৫. দুর্বাসা মুনির অভিশাপ
❖ শকুন্তলা স্বামী দুষ্মন্তের চিন্তায় নিমগ্ন ছিলেন।
❖ এ সময় দুর্বাসা মুনি আশ্রমে আসেন।
❖ শকুন্তলা তাঁকে যথাযথ অভ্যর্থনা করতে পারেননি।
❖ দুর্বাসা ক্রুদ্ধ হয়ে অভিশাপ দেন।
❖ অভিশাপ অনুযায়ী যাঁর চিন্তায় শকুন্তলা নিমগ্ন, তিনি তাঁকে ভুলে যাবেন।
❖ পরে শকুন্তলার সখীদের অনুরোধে অভিশাপের শর্ত শিথিল হয়।
❖ স্মারক আংটি দেখলে দুষ্মন্তের স্মৃতি ফিরে আসবে—এমন বিধান যুক্ত হয়।
◉ ৬. অভিজ্ঞান বা আংটির গুরুত্ব
❖ দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে একটি রাজকীয় আংটি দেন।
❖ আংটিটি তাঁদের বিবাহের পরিচয়চিহ্ন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
❖ শকুন্তলা নদীতে আংটি হারিয়ে ফেলেন।
❖ একটি মাছের পেট থেকে আংটিটি উদ্ধার হয়।
❖ আংটি রাজদরবারে পৌঁছালে দুষ্মন্তের স্মৃতি ফিরে আসে।
❖ আংটিই নাটকের প্রধান ‘অভিজ্ঞান’ বা পরিচয়-স্মারক।
◉ ৭. কালিদাসের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম
❖ অভিজ্ঞানশকুন্তলম্: দুষ্মন্ত-শকুন্তলার প্রেমকাহিনি।
❖ বিক্রমোর্বশীয়ম্: পুরুরবা ও উর্বশীর প্রেমকাহিনি।
❖ মালবিকাগ্নিমিত্রম্: অগ্নিমিত্র ও মালবিকার প্রেমকাহিনি।
❖ রঘুবংশ: রঘুবংশীয় রাজাদের কাহিনি।
❖ কুমারসম্ভব: শিব-পার্বতীর বিবাহ ও কার্তিকেয়ের জন্মসংক্রান্ত মহাকাব্য।
❖ মেঘদূত: বিরহী যক্ষের বার্তাবাহক মেঘকে কেন্দ্র করে রচিত কাব্য।
❖ ঋতুসংহার: ছয় ঋতুর প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের বর্ণনা।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ অভিজ্ঞান শকুন্তলমের রচয়িতা — কালিদাস।
➤ অভিজ্ঞান শকুন্তলমের ভাষা — সংস্কৃত।
➤ অভিজ্ঞান শকুন্তলমের অঙ্কসংখ্যা — ৭টি।
➤ কাহিনির উৎস — মহাভারতের আদিপর্ব।
➤ অভিজ্ঞান অর্থ — পরিচয়চিহ্ন বা স্মারক।
➤ নাটকের অভিজ্ঞান — দুষ্মন্তের দেওয়া আংটি।
➤ নাটকের নায়ক — দুষ্মন্ত।
➤ নাটকের নায়িকা — শকুন্তলা।
➤ শকুন্তলার জন্মদাতা পিতা — বিশ্বামিত্র।
➤ শকুন্তলার জন্মদাত্রী মাতা — মেনকা।
➤ শকুন্তলার পালক পিতা — কণ্ব ঋষি।
➤ শকুন্তলার স্বামী — রাজা দুষ্মন্ত।
➤ শকুন্তলার পুত্র — সর্বদমন বা ভরত।
➤ শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন — দুর্বাসা মুনি।
➤ শকুন্তলার সখী — প্রিয়ংবদা ও অনসূয়া।
➤ রাজা দুষ্মন্তের বন্ধু — মাধব্য।
➤ কালিদাসের মহাকাব্য — রঘুবংশ।
➤ কালিদাসের আরেক মহাকাব্য — কুমারসম্ভব।
➤ কালিদাসের দূতকাব্য — মেঘদূত।
➤ কালিদাসের নাটক — বিক্রমোর্বশীয়ম্ ও মালবিকাগ্নিমিত্রম্।
Advertisement
06
🎯 Level 1

৮. বাংলা ভাষায় প্রথম মহাকাব্য রচয়িতা কে? (পোস্টমাস্টার জেনারেলের পোস্টাল অপারেটর: ২৬ / পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার: ২৫)

ক

কায়কোবাদ

খ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গ

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

ঘ

আলাওল

✅ সঠিক উত্তর:গ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক আধুনিক মহাকাব্যের রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তাঁর ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১) বাংলা মহাকাব্যের ইতিহাসে যুগান্তকারী সৃষ্টি।
❖ মহাকাব্য (Epic) হলো বৃহৎ পরিসরের আখ্যানকাব্য, যেখানে কোনো মহান বীর, ঐতিহাসিক সংঘাত, যুদ্ধ, জাতিগত আদর্শ অথবা পৌরাণিক ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা থাকে।
❖ মধুসূদনের আগে বাংলা ভাষায় দীর্ঘ আখ্যানকাব্য ও ধর্মীয় মহাকাব্যের অনুবাদ প্রচলিত ছিল। তবে পাশ্চাত্য মহাকাব্যরীতি ও আধুনিক কাব্যশৈলীর সমন্বয়ে প্রথম সার্থক মৌলিক বাংলা মহাকাব্য হিসেবে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।
❖ কাব্যটি রামায়ণের মেঘনাদবধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত হলেও মধুসূদন রাবণ ও মেঘনাদের চরিত্র নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন।
❖ এতে মেঘনাদকে বীর যোদ্ধা এবং রাবণকে দেশপ্রেমিক শাসক ও পুত্রশোকাহত পিতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
❖ অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার কাব্যটির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বাংলা সাহিত্যে দীর্ঘ নাটকীয় সংলাপ, যুদ্ধের বর্ণনা এবং মহাকাব্যিক দৃশ্য নির্মাণের ক্ষেত্রে এই ছন্দ নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।
◉ ১. মহাকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য
❖ বৃহৎ ও বিস্তৃত কাহিনি।
❖ বীরত্বপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
❖ যুদ্ধ, সংঘাত ও সংগ্রামের বর্ণনা।
❖ ঐতিহাসিক বা পৌরাণিক পটভূমি।
❖ চরিত্রের মহান আদর্শ, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যবোধ।
❖ প্রকৃতি, নগর, রাজসভা ও যুদ্ধক্ষেত্রের বর্ণনা।
❖ উন্নত ও গম্ভীর ভাষার ব্যবহার।
❖ একাধিক সর্গ বা পর্বে কাহিনির বিন্যাস।
◉ ২. মেঘনাদবধ কাব্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
❖ এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
❖ এর রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
❖ কাব্যটি নয়টি সর্গে বিভক্ত।
❖ রামায়ণ থেকে কাহিনি নেওয়া হয়েছে।
❖ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
❖ মেঘনাদ ও রাবণকে নতুন বীরত্বপূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
❖ বাংলা কাব্যে পাশ্চাত্য মহাকাব্যরীতির সফল প্রয়োগ ঘটেছে।
◉ ৩. কায়কোবাদ ও তাঁর মহাকাব্য
❖ কায়কোবাদ (১৮৫৭–১৯৫১) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত মুসলমান মহাকবি।
❖ প্রকৃত নাম: মহম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
❖ জন্মস্থান: আগলা গ্রাম, নবাবগঞ্জ, ঢাকা।
❖ বিখ্যাত মহাকাব্য: মহাশ্মশান (১৯০৪)।
❖ মহাশ্মশানের বিষয়: ১৭৬১ সালের তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ।
❖ তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ: মারাঠা ও আহমদ শাহ আবদালির বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হয়।
❖ কায়কোবাদ বাংলা মহাকাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবি হলেও প্রথম সার্থক আধুনিক মহাকাব্য রচনার কৃতিত্ব মধুসূদনের।
◉ ৪. আলাওলের সাহিত্যিক পরিচয়
❖ আলাওল ছিলেন মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি মুসলমান কবি।
❖ তাঁর সাহিত্যচর্চার প্রধান কেন্দ্র ছিল আরাকান রাজসভা।
❖ বিখ্যাত কাব্য: পদ্মাবতী (১৬৫২)।
❖ পদ্মাবতীর মূল উৎস: মালিক মুহম্মদ জায়সীর পদুমাবৎ।
❖ অন্যান্য রচনা সপ্তপয়কর, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, সিকান্দরনামা ও তোহফা।
❖ আলাওল মূলত মধ্যযুগীয় আখ্যান ও প্রণয়কাব্যের জন্য বিখ্যাত।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক আধুনিক মহাকাব্যের রচয়িতা — মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
➤ প্রথম সার্থক আধুনিক বাংলা মহাকাব্য — মেঘনাদবধ কাব্য।
➤ মেঘনাদবধ কাব্য প্রকাশ — ১৮৬১।
➤ মেঘনাদবধ কাব্যের সর্গ — ৯টি।
➤ মেঘনাদবধ কাব্যের ছন্দ — অমিত্রাক্ষর।
➤ কাহিনির উৎস — রামায়ণ।
➤ মেঘনাদের পিতা — রাবণ।
➤ মেঘনাদের স্ত্রী — প্রমীলা।
➤ মেঘনাদের অপর নাম — ইন্দ্রজিৎ।
➤ মেঘনাদকে বধ করেন — লক্ষ্মণ।
➤ বাংলা অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক — মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
➤ মধুসূদনের জন্ম — ২৫ জানুয়ারি ১৮২৪।
➤ মধুসূদনের মৃত্যু — ২৯ জুন ১৮৭৩।
➤ মহাশ্মশানের কবি — কায়কোবাদ।
➤ মহাশ্মশান প্রকাশ — ১৯০৪।
➤ মহাশ্মশানের বিষয় — তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ।
➤ তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ — ১৭৬১।
➤ পদ্মাবতীর রচয়িতা — আলাওল।
➤ পদ্মাবতী প্রকাশ — ১৬৫২।
07
🎯 Level 1

১৪. কোন কবিতাটি চতুর্দশপদী? (ডাক বিভাগের পোস্টাল অপারেটর: ২৬)

ক

সোনার তরী

খ

জীবন বন্দনা

গ

বঙ্গভাষা

ঘ

ধন্যবাদ

✅ সঠিক উত্তর:গ. বঙ্গভাষা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: বঙ্গভাষা — মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
ছবির নিচে গ ও ঘ বিকল্প দুটি কাটা রয়েছে। একই প্রশ্নের প্রকাশিত প্রশ্নব্যাংকের পাঠ মিলিয়ে বিকল্প দুটি পূরণ করা হয়েছে।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘বঙ্গভাষা’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট। এটি তাঁর ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ (১৮৬৬) গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
❖ কবিতায় মধুসূদন মাতৃভাষা বাংলার প্রতি গভীর অনুরাগ এবং অতীতে মাতৃভাষাকে অবহেলা করার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।
❖ প্রথম জীবনে তিনি ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি দীর্ঘদিন ইংরেজি কবিতা রচনায় মনোনিবেশ করেন।
❖ কিন্তু পরবর্তী সময়ে উপলব্ধি করেন, নিজের মাতৃভাষার মধ্যেই তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভা বিকাশের প্রকৃত সম্ভাবনা রয়েছে।
❖ কবিতায় মাতৃভাষাকে নিজের ঘরে থাকা অমূল্য সম্পদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অথচ কবি সেই সম্পদ অবহেলা করে বিদেশি ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।
❖ বাংলা ভাষার প্রতি এই নতুন উপলব্ধি তাঁর সাহিত্যজীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটায়। বাংলা নাটক, মহাকাব্য ও সনেট রচনার মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যকে নতুন মর্যাদা দেন।
◉ ১. বঙ্গভাষা কবিতার পরিচয়
❖ কবিতার নাম: বঙ্গভাষা।
❖ রচয়িতা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
❖ গ্রন্থ: চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
❖ প্রকাশকাল: ১৮৬৬।
❖ সাহিত্যিক ধরন: সনেট।
❖ পঙ্‌ক্তিসংখ্যা: ১৪টি।
❖ প্রধান বিষয়: মাতৃভাষাপ্রীতি ও আত্মোপলব্ধি।
◉ ২. কবিতায় মাতৃভাষার প্রতীক
❖ অমূল্য রতন: মাতৃভাষার সাহিত্যিক সম্ভাবনা।
❖ নিজ গৃহ: নিজের দেশ ও ভাষার জগৎ।
❖ পরধনলোভ: বিদেশি ভাষার প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ।
❖ বঙ্গকুললক্ষ্মী: বাংলা ভাষা ও মাতৃভূমির প্রতীকী রূপ।
❖ আত্মোপলব্ধি: মাতৃভাষার প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারা।
❖ কবিতায় কবির ব্যক্তিগত অনুশোচনা ও সাহিত্যিক আত্মজাগরণ প্রকাশ পেয়েছে।
◉ ৩. চতুর্দশপদী কবিতার বৈশিষ্ট্য
❖ সাধারণত ১৪ পঙ্‌ক্তির কবিতা।
❖ ভাব ও ছন্দের সুসংগঠিত বিন্যাস।
❖ নির্দিষ্ট অন্ত্যমিলের প্রচলন।
❖ ইতালীয় বা পেত্রার্কীয় রীতিতে অষ্টক ও ষটক বিভাজন।
❖ ইংরেজি বা শেক্‌সপিয়রীয় রীতিতে তিনটি চতুষ্পদী স্তবক ও একটি যুগ্মক।
❖ সংক্ষিপ্ত পরিসরে গভীর ভাব প্রকাশ।
◉ ৪. মধুসূদনের অন্যান্য সনেট
❖ কপোতাক্ষ নদ: স্বদেশস্মৃতি ও শৈশবের নদ।
❖ বঙ্গভাষা: মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা।
❖ আশার ছলনে ভুলি: জীবনের আশা ও অনুশোচনা।
❖ কবি-মাতৃভাষা: কবির ভাষাচেতনা ও আত্মোপলব্ধি।
◉ ৫. অন্যান্য কবিতার পরিচয়
❖ সোনার তরী: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা; একই নামের কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৮৯৪ সালে।
❖ জীবন বন্দনা: প্রচলিত প্রশ্নে চতুর্দশপদীর সঠিক বিকল্প নয়।
❖ বঙ্গভাষা: মাইকেল মধুসূদন দত্তের সনেট।
❖ ধন্যবাদ: প্রশ্নটির নির্ধারিত সঠিক উত্তর নয়।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ বঙ্গভাষা — চতুর্দশপদী কবিতা।
➤ বঙ্গভাষার রচয়িতা — মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
➤ বঙ্গভাষা অন্তর্ভুক্ত — চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
➤ চতুর্দশপদী কবিতাবলী প্রকাশ — ১৮৬৬।
➤ বঙ্গভাষার প্রধান বিষয় — মাতৃভাষাপ্রীতি।
➤ বঙ্গভাষায় অমূল্য রতন — মাতৃভাষার সম্পদ।
➤ বাংলা সনেটের প্রবর্তক — মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
➤ সনেটের পঙ্‌ক্তিসংখ্যা — ১৪টি।
➤ চতুর্দশপদী কবিতাবলীর প্রচলিত সনেটসংখ্যা — ১০২টি।
➤ ইতালীয় সনেটের বিখ্যাত কবি — পেত্রার্ক।
➤ ইংরেজি সনেটের বিখ্যাত কবি — শেক্‌সপিয়র।
➤ কপোতাক্ষ নদ — মধুসূদনের সনেট।
➤ কপোতাক্ষ নদ কবিতার প্রধান বিষয় — স্বদেশস্মৃতি।
➤ সোনার তরীর রচয়িতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
➤ সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ — ১৮৯৪।
08
🎯 Level 1

২০. বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক নাটক বলে কোনটিকে বিবেচনা করা হয়? (জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ইমারত পরিদর্শক: ২৫)

ক

ভদ্রার্জুন

খ

কীর্তিবিলাস

গ

শর্মিষ্ঠা

ঘ

কুলীনকুল সর্বস্ব

✅ সঠিক উত্তর:গ. শর্মিষ্ঠা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: শর্মিষ্ঠা — মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৯) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক আধুনিক নাটক হিসেবে বহুল স্বীকৃত। এর রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
❖ কাহিনির উৎস: নাটকটির মূল কাহিনি মহাভারতের আদিপর্বে বর্ণিত যযাতি, দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার উপাখ্যান থেকে নেওয়া হয়েছে।
❖ প্রধান চরিত্র: শর্মিষ্ঠা, দেবযানী ও রাজা যযাতি। শর্মিষ্ঠা ছিলেন অসুররাজ বৃষপর্বার কন্যা এবং দেবযানী ছিলেন গুরু শুক্রাচার্যের কন্যা।
❖ কাহিনির বিষয়: শর্মিষ্ঠা ও দেবযানীর বিরোধ, রাজা যযাতির সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক, প্রেম, ঈর্ষা ও মানসিক সংঘাত নাটকের প্রধান বিষয়।
❖ নাট্যশৈলী: মধুসূদন পাশ্চাত্য নাট্যরীতি, চরিত্রচিত্রণ, সংঘাত, সংলাপ ও নাট্যসংগঠন ব্যবহার করে বাংলা নাটককে নতুন শিল্পমান প্রদান করেন।
❖ রচনার পটভূমি: রামনারায়ণ তর্করত্নের ‘রত্নাবলী’ নাটক ইংরেজিতে অনুবাদ করার সময় বাংলা নাটকের দুর্বলতা তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর তিনি মৌলিক নাটক রচনায় মনোনিবেশ করেন।
❖ মধুসূদনের নাট্যসাহিত্য: শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯), পদ্মাবতী (১৮৬০), কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১)। তাঁর প্রহসন—একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
❖ ‘কুলীনকুল সর্বস্ব’ রচনা করেন রামনারায়ণ তর্করত্ন; এটি ১৮৫৪ সালে প্রকাশিত এবং বাংলা ভাষার প্রাথমিক মৌলিক সামাজিক নাটকগুলোর অন্যতম।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রথম সার্থক আধুনিক বাংলা নাটক — শর্মিষ্ঠা।
➤ রচয়িতা — মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
➤ প্রকাশকাল — ১৮৫৯।
➤ কাহিনির উৎস — মহাভারতের যযাতি-শর্মিষ্ঠা উপাখ্যান।
➤ প্রধান চরিত্র — শর্মিষ্ঠা, দেবযানী ও যযাতি।
➤ শর্মিষ্ঠার পিতা — বৃষপর্বা।
➤ দেবযানীর পিতা — শুক্রাচার্য।
➤ মধুসূদনের প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি — কৃষ্ণকুমারী।
➤ কুলীনকুল সর্বস্বের রচয়িতা — রামনারায়ণ তর্করত্ন।
Advertisement
09
🎯 Level 1

২৬. ‘হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন’— এর পরের লাইন কী? (বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী: ২৫)

ক

পর-ধন লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ

খ

অনিদ্রায় অনাহারে, সঁপি কায়, মন

গ

তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি

ঘ

পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি

✅ সঠিক উত্তর:গ. তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ‘তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি।’
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বঙ্গভাষা’ সনেটের প্রথম পঙ্‌ক্তি। এর পরের পঙ্‌ক্তি হলো ‘তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি’।
❖ ‘ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন’ অর্থ: বাংলা ভাষার সাহিত্যিক ঐতিহ্য, শব্দভাণ্ডার, কাব্যশক্তি ও সাংস্কৃতিক সম্পদকে মূল্যবান রত্নভাণ্ডারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
❖ ‘অবোধ আমি’ অর্থ: কবি নিজেকে অজ্ঞ বা নির্বোধ বলেছেন, কারণ তিনি নিজের মাতৃভাষার ঐশ্বর্য উপলব্ধি না করে বিদেশি ভাষার প্রতি অতিরিক্ত আকৃষ্ট হয়েছিলেন।
❖ ‘অবহেলা করি’ অর্থ: বাংলা ভাষার সাহিত্যিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কবি প্রথম জীবনে মাতৃভাষাকে যথাযথ গুরুত্ব দেননি—এ জন্য তাঁর অনুশোচনা প্রকাশ পেয়েছে।
❖ কবিতার ঘটনাপ্রবাহ: বিদেশি ভাষায় সাহিত্যিক খ্যাতির আকাঙ্ক্ষা, ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা, স্বপ্নে কুললক্ষ্মীর উপদেশ এবং শেষ পর্যন্ত মাতৃভাষার সাহিত্যিক সম্পদের সন্ধান—এই চারটি পর্যায়ে কবির উপলব্ধি প্রকাশিত হয়েছে।
❖ কবিতার রীতি: এটি একটি চতুর্দশপদী সনেট, যার পঙ্‌ক্তিসংখ্যা ১৪টি। এর উৎস ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ (১৮৬৬)।
❖ কবি পরিচিতি: মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যে সনেট, অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও আধুনিক মহাকাব্যের প্রবর্তক।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ প্রথম পঙ্‌ক্তি — হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন।
➤ দ্বিতীয় পঙ্‌ক্তি — তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি।
➤ তৃতীয় পঙ্‌ক্তি — পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ।
➤ চতুর্থ পঙ্‌ক্তি — পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
➤ কবিতার নাম — বঙ্গভাষা।
➤ কবির নাম — মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
➤ কাব্যগ্রন্থ — চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
➤ প্রকাশ — ১৮৬৬।
➤ মূল বিষয় — মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও অনুশোচনা।
10
🎯 Level 1

৩৩. মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ কাব্য একটি— (বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা: ২৪)

ক

পত্রকাব্য

খ

খণ্ড কবিতার সংকলন

গ

মহাকাব্য

ঘ

কাহিনি কাব্য

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. কাহিনি কাব্য

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: কাহিনিকাব্য — তিলোত্তমাসম্ভব।
◈ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
❖ ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি পৌরাণিক কাহিনিকাব্য, যা ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
❖ কাহিনির উৎস: মহাভারতের আদিপর্বে বর্ণিত সুন্দ ও উপসুন্দ নামের দুই অসুরের উপাখ্যান।
❖ মূল ঘটনাপ্রবাহ: অসুরভ্রাতা সুন্দ ও উপসুন্দ তপস্যার মাধ্যমে শক্তি অর্জন করে দেবতাদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে ওঠে। তাঁদের পরস্পরের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করতে দেবশক্তির উদ্যোগে তিলোত্তমা নামের এক অপূর্ব সুন্দরী সৃষ্টি করা হয়।
❖ তিলোত্তমার ভূমিকা: তিলোত্তমার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সুন্দ ও উপসুন্দ উভয়েই তাঁকে লাভ করতে চায়। ফলে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তারা পরস্পরকে হত্যা করে।
❖ নামের তাৎপর্য: ‘তিলোত্তমা’ অর্থ সর্বোত্তম সৌন্দর্যের সমন্বয়ে সৃষ্ট নারী। ‘সম্ভব’ অর্থ উৎপত্তি বা আবির্ভাব।
❖ ছন্দের গুরুত্ব: কাব্যটি বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাব্যিক প্রয়োগ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
❖ সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য: এতে পৌরাণিক কাহিনি, সৌন্দর্যচেতনা, দেব-অসুর সংঘাত, কল্পনা, অলংকার এবং পাশ্চাত্য কাব্যশৈলীর সমন্বয় রয়েছে।
❖ মহাকাব্যের সঙ্গে পার্থক্য: ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ একটি কাহিনিকাব্য, আর ‘মেঘনাদবধ’ মধুসূদনের সার্থক মহাকাব্য।
◈ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
➤ তিলোত্তমাসম্ভব — কাহিনিকাব্য।
➤ রচয়িতা — মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
➤ প্রকাশকাল — ১৮৬০।
➤ ছন্দ — অমিত্রাক্ষর।
➤ কাহিনির উৎস — মহাভারত।
➤ প্রধান অসুর — সুন্দ ও উপসুন্দ।
➤ প্রধান নারীচরিত্র — তিলোত্তমা।
➤ তিলোত্তমার সৌন্দর্যের কারণে সুন্দ-উপসুন্দের সংঘর্ষ হয়।
➤ মধুসূদনের মহাকাব্য — মেঘনাদবধ।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন