🧠 🔖
Free Topic

প্রাচীন যুগের সাহিত্যঃ চর্যাপদ

◉ বাংলা সাহিত্য›প্রাচীন যুগের সাহিত্যঃ চর্যাপদ

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚84মোট প্রশ্ন
🎯5মোট লেভেল
⭐5.03 Ratings
💬3Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

২৩. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের রচনাকাল— (রেলওয়ের ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস: ২৬)

ক

৭৫০ খ্রিস্টাব্দ

খ

৮৫০ খ্রিস্টাব্দ

গ

৬৫০ খ্রিস্টাব্দ

ঘ

৭৭০ খ্রিস্টাব্দ

✅ সঠিক উত্তর:গ. ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের রচনাকালের সূচনা আনুমানিক ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে।
❖ তাঁর প্রস্তাবিত সময়সীমা সাধারণত ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ হিসেবে প্রচলিত।
❖ এখানে ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ বলতে চর্যাপদের রচনার সূচনাকাল বোঝানো হয়েছে। এটি সব চর্যাপদ একই বছরে রচিত হয়েছিল—এমন কোনো দাবি নয়।
❖ চর্যাপদ বিভিন্ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যের রচিত গানের সংকলন।
❖ বিভিন্ন কবি ভিন্ন সময়ে এই পদগুলো রচনা করেছেন বলে গবেষকেরা মনে করেন।
❖ ফলে চর্যাপদের একটি নির্দিষ্ট একক রচনাবর্ষ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
✦ বিভিন্ন ভাষাবিদের মতে চর্যাপদের রচনাকাল
❖ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে — আনুমানিক ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
❖ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে — প্রচলিত পাঠ্যক্রমে আনুমানিক ৯৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
❖ বাংলাপিডিয়ার আলোচনায় চর্যাপদের পাণ্ডুলিপির কবিদের সাধারণত নবম থেকে একাদশ শতকের সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে। শহীদুল্লাহর প্রস্তাবিত সময়কাল আরও প্রাচীন।
❖ চর্যার রচনাকাল নির্ধারণে ভাষাগত বৈশিষ্ট্য, কবিদের ঐতিহাসিক পরিচয়, বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনার বিকাশ এবং পাণ্ডুলিপির সাক্ষ্য বিবেচনা করা হয়।
❖ রচনাকাল নিয়ে গবেষকদের মতভেদ থাকায় নির্দিষ্ট সালকে সর্বসম্মত ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ — ভুল।
এটি শহীদুল্লাহর প্রচলিত নির্ধারিত সূচনাকাল নয়। তাঁর মতে সূচনা আনুমানিক ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ।
❖ খ. ৮৫০ খ্রিস্টাব্দ — ভুল।
৮৫০ খ্রিস্টাব্দ চর্যাপদের সম্ভাব্য রচনাকালের মধ্যে পড়তে পারে। তবে প্রশ্নে শহীদুল্লাহর নির্ধারিত সূচনাকাল জানতে চাওয়া হয়েছে।
❖ গ. ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ — সঠিক।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের রচনার সূচনা আনুমানিক ৬৫০ খ্রিস্টাব্দে।
❖ ঘ. ৭৭০ খ্রিস্টাব্দ — ভুল।
এটি প্রদত্ত প্রশ্নে শহীদুল্লাহর নির্ধারিত রচনাকালের সূচনার স্বীকৃত উত্তর নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের রচনার সূচনাকাল — ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ।
❖ শহীদুল্লাহর মতে প্রচলিত রচনাকাল — ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
❖ সুনীতিকুমারের মতে প্রচলিত সময়সীমা — ৯৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
❖ চর্যাপদ একক কোনো কবির রচিত গ্রন্থ নয়।
❖ চর্যাপদ বিভিন্ন সিদ্ধাচার্যের রচিত সাধনসংগীতের সংকলন।
❖ চর্যাপদের রচনাকাল সম্পর্কে গবেষকদের মতভেদ রয়েছে।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: গ. ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ।
◈ প্রশ্নব্যাংকের জন্য সংশোধনী: শুধু ‘চর্যাপদ ৬৫০ খ্রিস্টাব্দে রচিত’ না লিখে ‘ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের রচনার সূচনা আনুমানিক ৬৫০ খ্রিস্টাব্দে’ লিখতে হবে।
02
🎯 Level 1

২৭. কোন রাজবংশের আমলে ‘চর্যাপদ’ রচনা শুরু হয়? (আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব: ২৬)

ক

পাল

খ

সেন

গ

মুঘল

ঘ

তুর্কী

✅ সঠিক উত্তর:ক. পাল

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: পাল রাজবংশ।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম প্রাপ্ত কাব্যসংকলন চর্যাপদের রচনা ও বিকাশ বাংলার পাল রাজবংশের শাসনামলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
❖ পাল রাজবংশ আনুমানিক অষ্টম শতকের মধ্যভাগে বাংলায় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
❖ পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গোপাল।
❖ পাল শাসকদের অনেকেই বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
❖ তাঁদের শাসনামলে বৌদ্ধধর্ম, দর্শন, শিক্ষা ও ধর্মীয় সাধনার বিভিন্ন ধারা বিকশিত হয়।
❖ বিশেষ করে মহাযান বৌদ্ধধর্ম ও তান্ত্রিক বৌদ্ধ সাধনার বিকাশে পালযুগ গুরুত্বপূর্ণ।
❖ চর্যাপদের কবিরা বৌদ্ধ সহজিয়া বা সিদ্ধাচার্য সাধনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন।
❖ এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ চর্যাপদের রচনা ও বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।
✦ পাল রাজবংশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
❖ প্রতিষ্ঠাতা — গোপাল।
❖ প্রতিষ্ঠাকাল — আনুমানিক অষ্টম শতকের মধ্যভাগ।
❖ উল্লেখযোগ্য শাসক — গোপাল, ধর্মপাল ও দেবপাল।
❖ প্রধান ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকতা — বৌদ্ধধর্ম, বিশেষত মহাযান ধারার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
❖ পালযুগের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র ও মহাবিহার—
1. সোমপুর মহাবিহার।
2. বিক্রমশীলা মহাবিহার।
3. ওদন্তপুরী মহাবিহার।
4. নালন্দা মহাবিহার।
❖ সোমপুর মহাবিহার বর্তমান বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত।
❖ সোমপুর মহাবিহার সাধারণভাবে পাল সম্রাট ধর্মপালের প্রতিষ্ঠিত বলে স্বীকৃত।
❖ পালযুগে বৌদ্ধ শিক্ষা ও পাণ্ডিত্য ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে তিব্বতসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তার লাভ করে।
✦ চর্যাপদের সঙ্গে পালযুগের সম্পর্ক
❖ চর্যাপদের অধিকাংশ কবির সময়কাল পালযুগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় বিবেচিত।
❖ চর্যাপদের ধর্মীয় ভিত্তি বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনা।
❖ পালযুগে বৌদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধনধারার প্রসার চর্যার বিকাশের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।
❖ তবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের সম্ভাব্য সূচনা পাল শাসনের আগেও স্থাপন করেছেন। তাই সমস্ত পদ যে পালযুগেই রচিত হয়েছিল—এমন দাবি নিশ্চিত নয়।
❖ প্রদত্ত পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর পাল রাজবংশ।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. পাল — সঠিক।
পালযুগে বৌদ্ধ সাধনা, শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চার অনুকূল পরিবেশ ছিল। চর্যাপদের রচনা ও বিকাশের প্রধান ঐতিহাসিক পর্যায় হিসেবে পালযুগকে চিহ্নিত করা হয়।
❖ খ. সেন — ভুল।
সেন রাজবংশ বাংলায় পাল শাসনের পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেনযুগে সংস্কৃত সাহিত্য ও ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। কিন্তু চর্যাপদের রচনাশুরুর প্রচলিত যুগ হিসেবে সেনযুগ স্বীকৃত নয়।
❖ গ. মুঘল — ভুল।
বাংলায় মুঘল শাসন চর্যাপদের রচনার বহু শতাব্দী পরে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই মুঘল যুগ সঠিক নয়।
❖ ঘ. তুর্কী — ভুল।
বাংলায় তুর্কি শাসনের সূচনা ত্রয়োদশ শতকের প্রথম ভাগে। চর্যাপদের প্রধান রচনাকাল এর আগের।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ চর্যাপদের রচনার সঙ্গে সম্পর্কিত রাজবংশ — পাল।
❖ পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা — গোপাল।
❖ পালযুগের উল্লেখযোগ্য রাজা — ধর্মপাল ও দেবপাল।
❖ সোমপুর মহাবিহারের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত শাসক — ধর্মপাল।
❖ সোমপুর মহাবিহারের অবস্থান — পাহাড়পুর, নওগাঁ।
❖ চর্যাপদের ধর্মীয় পটভূমি — বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনা।
❖ পালযুগের পরবর্তী বাংলার গুরুত্বপূর্ণ রাজবংশ — সেন।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ক. পাল।
Advertisement
03
🎯 Level 1

৩১. ‘চর্যাপদ’ মূলত কোন ভাষার আদলে রচিত? (সমন্বিত ৯টি ব্যাংক ও ২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র অফিসার: ২৫)

ক

প্রাকৃত

খ

পালি

গ

অপভ্রংশ

ঘ

সংস্কৃত

✅ সঠিক উত্তর:গ. অপভ্রংশ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: অপভ্রংশ।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের ভাষার ঐতিহাসিক ভিত্তি মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার পরবর্তী অপভ্রংশ ও অবহট্ট পর্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
❖ প্রদত্ত পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী চর্যাপদ অপভ্রংশ ভাষার আদলে রচিত।
❖ অপভ্রংশ (Apabhramsha) হলো মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার পরবর্তী পর্যায়ের ভাষারূপ।
❖ প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার প্রাকৃত স্তর এবং পরবর্তী অপভ্রংশ-অবহট্ট ধারার মাধ্যমে বাংলা ভাষার প্রাচীন রূপ বিকশিত হয়েছে।
❖ চর্যাপদের ভাষায় অপভ্রংশ-অবহট্টীয় ভাষাগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে প্রাচীন বাংলার ধ্বনি, ক্রিয়ারূপ ও শব্দভান্ডারের লক্ষণ পাওয়া যায়।
❖ তবে চর্যাপদকে কেবল অপভ্রংশ ভাষায় রচিত একটি গ্রন্থ বলা সম্পূর্ণ নির্ভুল নয়।
❖ চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম প্রাপ্ত সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
❖ চর্যাপদের ভাষায় বাংলা ছাড়াও অসমিয়া, ওড়িয়া ও অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় ইন্দো-আর্য ভাষার প্রাচীন বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
✦ অপভ্রংশ কী?
❖ ‘অপভ্রংশ’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ পরিবর্তিত বা বিচ্যুত রূপ।
❖ ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞানে এটি মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার পরবর্তী ভাষাগত পর্যায় বোঝায়।
❖ অপভ্রংশ ভাষার বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপ ছিল।
❖ পূর্বাঞ্চলীয় অপভ্রংশের সঙ্গে বাংলা, অসমিয়া ও ওড়িয়া ভাষার ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
❖ অপভ্রংশের পরবর্তী বা অন্তিম পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষারূপ হলো অবহট্ট।
❖ চর্যাপদের ভাষাগত অবস্থান বুঝতে প্রাকৃত, অপভ্রংশ ও অবহট্টের পার্থক্য জানা প্রয়োজন।
✦ বাংলা ভাষার বিবর্তনের সরলীকৃত ধারা
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা
↓
মধ্য ভারতীয় আর্যভাষা
↓
পূর্বাঞ্চলীয় প্রাকৃত ভাষারূপ
↓
পূর্বাঞ্চলীয় অপভ্রংশ
↓
অবহট্টের পূর্বাঞ্চলীয় রূপ
↓
প্রাচীন বাংলা
↓
মধ্য বাংলা
↓
আধুনিক বাংলা
❖ চর্যাপদ এই ভাষাবিবর্তনের প্রাচীন বাংলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক নিদর্শন।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. প্রাকৃত — ভুল।
প্রাকৃত মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্তর। বাংলা ভাষার বিকাশে প্রাকৃতের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু প্রদত্ত প্রশ্নে চর্যাপদের ভাষার আদল হিসেবে আরও পরবর্তী অপভ্রংশ পর্যায়কে চিহ্নিত করা হয়েছে।
❖ খ. পালি — ভুল।
পালি বৌদ্ধ ধর্মীয় সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ ভাষা। থেরবাদী বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের ভাষা হিসেবে পালি বিশেষভাবে পরিচিত। তবে চর্যাপদের প্রত্যাশিত ভাষাগত ভিত্তি পালি নয়।
❖ গ. অপভ্রংশ — সঠিক।
অপভ্রংশের পূর্বাঞ্চলীয় ভাষাধারার সঙ্গে চর্যাপদের ভাষার ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রদত্ত প্রশ্নের স্বীকৃত উত্তর অপভ্রংশ।
❖ ঘ. সংস্কৃত — ভুল।
চর্যাপদের পাণ্ডুলিপিতে মুনিদত্তের সংস্কৃত টীকা রয়েছে। কিন্তু চর্যার মূল পদগুলো ধ্রুপদি সংস্কৃত ভাষায় রচিত নয়। তাই সংস্কৃত সঠিক উত্তর নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ চর্যাপদ কোন ভাষার আদলে রচিত? — অপভ্রংশ।
❖ চর্যাপদের ভাষার গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূরি — পূর্বাঞ্চলীয় অপভ্রংশ ও অবহট্ট।
❖ অপভ্রংশ কোন ভাষাগত পর্যায়? — মধ্য ভারতীয় আর্যভাষার পরবর্তী পর্যায়।
❖ অবহট্ট কী? — অপভ্রংশের পরবর্তী বা অন্তিম ভাষারূপ।
❖ চর্যাপদের মূল পদগুলোর ভাষাগত পরিচয় — প্রাচীন বাংলা ও পূর্বাঞ্চলীয় ইন্দো-আর্য ভাষারূপ।
❖ চর্যাপদের সংস্কৃত টীকাকার — মুনিদত্ত।
❖ চর্যাপদের ভাষা — সন্ধ্যা বা আলো-আঁধারি ভাষা নামেও পরিচিত।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: গ. অপভ্রংশ।
◈ প্রশ্নব্যাংকের জন্য বিশেষ নির্দেশনা: উত্তর গ. অপভ্রংশ রাখবে। তবে ব্যাখ্যায় উল্লেখ করবে, চর্যাপদকে বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়; ‘অপভ্রংশের আদলে রচিত’ ও ‘কেবল অপভ্রংশ ভাষায় রচিত’ এক কথা নয়।
04
🎯 Level 1

৩৫. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন কোনটি? (খাদ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী: ২৫ / নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের গাড়িচালক: ২৫)

ক

মহাভারত

খ

চর্যাপদ

গ

রামায়ণ

ঘ

জঙ্গনামা

✅ সঠিক উত্তর:খ. চর্যাপদ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: চর্যাপদ।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম প্রাপ্ত সাহিত্যিক নিদর্শন হলো চর্যাপদ।
❖ চর্যাপদ প্রাচীন বাংলা ভাষার কাব্যিক ও সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
❖ এটি বিভিন্ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যের রচিত সাধনসংগীতের সংকলন।
❖ চর্যাপদে বাংলা ভাষার প্রাথমিক ধ্বনি, রূপতত্ত্ব, ক্রিয়াপদ এবং শব্দভান্ডারের বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।
❖ এতে ধর্মীয় সাধনার পাশাপাশি প্রাচীন সমাজের বিভিন্ন পেশা, জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির উল্লেখ রয়েছে।
❖ চর্যাপদ ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত এবং ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
❖ এর আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
✦ চর্যাপদের ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক গুরুত্ব
❖ ভাষাগত গুরুত্ব: বাংলা ভাষার প্রাচীন পর্যায়ের লিখিত নমুনা সংরক্ষিত রয়েছে।
❖ সাহিত্যিক গুরুত্ব: বাংলা গীতিকবিতার প্রাচীন ধারার পরিচয় পাওয়া যায়।
❖ ধর্মীয় গুরুত্ব: বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনার তত্ত্ব ও প্রতীকী প্রকাশরীতি পাওয়া যায়।
❖ সামাজিক গুরুত্ব: প্রাচীন জনজীবন, পেশা ও সামাজিক বাস্তবতার চিত্র পাওয়া যায়।
❖ সাংস্কৃতিক গুরুত্ব: প্রাচীন সাধনসংগীত, রাগ ও সংগীতচর্চার পরিচয় পাওয়া যায়।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. মহাভারত — ভুল।
মহাভারত মূলত সংস্কৃত ভাষায় রচিত প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য। পরবর্তী সময়ে কাশীরাম দাসসহ বিভিন্ন কবি এর বাংলা অনুবাদ ও রূপান্তর করেছেন। কিন্তু মূল মহাভারত বাংলা ভাষার প্রাচীনতম সাহিত্যিক নিদর্শন নয়।
❖ খ. চর্যাপদ — সঠিক।
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম প্রাপ্ত সাহিত্যিক নিদর্শন।
❖ গ. রামায়ণ — ভুল।
রামায়ণ মূলত সংস্কৃত মহাকাব্য। বাংলায় কৃত্তিবাস ওঝার রামায়ণ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর। তবে এটি চর্যাপদের পরবর্তী সময়ের সাহিত্য।
❖ ঘ. জঙ্গনামা — ভুল।
জঙ্গনামা বাংলা মুসলিম সাহিত্যধারায় যুদ্ধ, সংঘর্ষ ও ধর্মীয় ইতিহাসভিত্তিক আখ্যানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সাহিত্যিক ধারা। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম প্রাপ্ত নিদর্শন নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম প্রাপ্ত নিদর্শন — চর্যাপদ।
❖ চর্যাপদের সাহিত্যিক যুগ — প্রাচীন যুগ।
❖ মূল মহাভারতের ভাষা — সংস্কৃত।
❖ বাংলা মহাভারতের গুরুত্বপূর্ণ কবি — কাশীরাম দাস।
❖ মূল রামায়ণের রচয়িতা হিসেবে প্রচলিত — বাল্মীকি।
❖ বাংলা রামায়ণের গুরুত্বপূর্ণ কবি — কৃত্তিবাস ওঝা।
❖ চর্যাপদ আবিষ্কার — ১৯০৭।
❖ চর্যাপদ প্রকাশ — ১৯১৬।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. চর্যাপদ।
05
🎯 Level 1

৩৯. চর্যাপদের ভাষাকে কে বাংলায় প্রতিষ্ঠা করেছেন? (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের স্টোরকিপার: ২৫ / বেজার উচ্চমান সহকারী: ২৪)

ক

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

খ

বিধুশেখর শাস্ত্রী

গ

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

ঘ

প্রবোধকুমার বাগচী

✅ সঠিক উত্তর:ক. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ক
◈ সঠিক উত্তর: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের ভাষাকে বাংলা ভাষার প্রাচীন রূপ হিসেবে সুসংবদ্ধ ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছেন ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
❖ তিনি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত The Origin and Development of the Bengali Language গ্রন্থে চর্যাপদের ভাষার বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেন।
❖ চর্যাপদের ভাষায় প্রাচীন বাংলার ধ্বনি, শব্দরূপ, ক্রিয়াপদ ও ব্যাকরণগত বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি তিনি গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরেন।
❖ তাঁর গবেষণার আগে চর্যার ভাষাগত পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন মত ছিল।
❖ বাংলা, অসমিয়া, ওড়িয়া এবং অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় ইন্দো-আর্য ভাষার সঙ্গে চর্যার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।
❖ সুনীতিকুমারের গবেষণা চর্যাপদকে বাংলা ভাষার প্রাচীন সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
✦ আবিষ্কারক ও ভাষাতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠাকারীর পার্থক্য
❖ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী: চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন এবং প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
❖ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতাত্ত্বিক ও ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাচীন বাংলা পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ: চর্যার রচনাকাল, ধর্মীয় বিষয় এবং প্রাচীন ভাষাগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন।
❖ প্রবোধকুমার বাগচী: চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ ও প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যসংক্রান্ত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় — সঠিক।
১৯২৬ সালের গবেষণাগ্রন্থে চর্যাপদের ভাষার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি বাংলার আদি ভাষারূপ হিসেবে চর্যার অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেন।
❖ খ. বিধুশেখর শাস্ত্রী — ভুল।
বিধুশেখর শাস্ত্রী বৌদ্ধ সাহিত্য, প্রাচীন পুঁথি ও চর্যাপদের নামকরণ এবং ভাষাবিষয়ক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ গবেষক। তবে প্রশ্নে চাওয়া ভাষাতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব তাঁর নয়।
❖ গ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী — ভুল।
তিনি চর্যাপদের আবিষ্কারক এবং প্রথম সম্পাদক। তাঁর গবেষণা বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রদত্ত প্রশ্নে ভাষাতাত্ত্বিকভাবে বাংলা পরিচয় প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে সুনীতিকুমারকে চাওয়া হয়েছে।
❖ ঘ. প্রবোধকুমার বাগচী — ভুল।
প্রবোধকুমার বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ ও বৌদ্ধ সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। তবে চর্যাপদের ভাষাকে বাংলায় প্রতিষ্ঠার প্রচলিত কৃতিত্ব সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ চর্যাপদের আবিষ্কারক — হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
❖ চর্যাপদের ভাষাকে বাংলায় প্রতিষ্ঠা করেন — সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
❖ গবেষণাগ্রন্থ — The Origin and Development of the Bengali Language।
❖ গ্রন্থটির প্রকাশকাল — ১৯২৬।
❖ চর্যাপদের ভাষাকে ‘সন্ধ্যা ভাষা’ বলেছেন — হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
❖ চর্যাপদের সংস্কৃত টীকাকার — মুনিদত্ত।
❖ চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষক — প্রবোধকুমার বাগচী।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ক. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
Advertisement
06
🎯 Level 1

৪৩. ‘চর্যাপদ’ রচনার উদ্দেশ্য ছিল— (উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা: ২৫)

ক

নীতিচর্চা

খ

ধর্মচর্চা

গ

সাহিত্য চর্চা

ঘ

গানচর্চা

✅ সঠিক উত্তর:খ. ধর্মচর্চা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: ধর্মচর্চা।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ রচনার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তত্ত্ব প্রকাশ করা।
❖ চর্যাপদের রচয়িতারা ছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্য।
❖ তাঁরা সাধনপদ্ধতি, আধ্যাত্মিক উপলব্ধি এবং মুক্তির সাধনার বিষয়কে প্রতীকী গানের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
❖ সাধারণ ভাষায় এসব গানের বাহ্যিক অর্থ বোঝা গেলেও অন্তর্নিহিত সাধনাগত অর্থ অনেক ক্ষেত্রে গূঢ়।
❖ এই কারণে চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যা ভাষা বা আলো-আঁধারি ভাষা বলা হয়।
❖ চর্যাপদের মূল রচনাগত উদ্দেশ্য ধর্মচর্চা হলেও এর পদগুলো সাহিত্যিক ও সংগীতগত উৎকর্ষেরও পরিচয় বহন করে।
❖ অর্থাৎ চর্যাপদ একাধারে ধর্মীয় সাধনার দলিল এবং সাহিত্যিক কাব্যসংকলন।
✦ চর্যাপদের ধর্মীয় ভিত্তি
❖ ধর্মীয় ধারা — বৌদ্ধ সহজযান।
❖ সাধকের পরিচয় — সিদ্ধাচার্য।
❖ প্রধান বিষয় — গূঢ় সাধনতত্ত্ব, আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ও মুক্তির সাধনা।
❖ প্রকাশের মাধ্যম — প্রতীকী গীতিকবিতা।
❖ ধর্মীয় ধারণা — সহজসাধনা ও মহাসুখ উপলব্ধির ধারণা।
❖ সাহিত্যিক পদ্ধতি — রূপক, উপমা ও সাংকেতিক প্রকাশ।
✦ ধর্মচর্চা ও সাধনসংগীতের পার্থক্য
❖ ধর্মচর্চা: চর্যাপদ রচনার প্রধান উদ্দেশ্য।
❖ সাধনসংগীত: চর্যাপদের সাহিত্যিক ও সংগীতগত রূপ।
❖ গীতিকবিতা: চর্যাপদের কাব্যিক শ্রেণি।
❖ সন্ধ্যা ভাষা: চর্যাপদের প্রতীকী প্রকাশভঙ্গির পরিচিত নাম।
❖ পরীক্ষায় উদ্দেশ্য, সাহিত্যিক রূপ ও ভাষার নাম আলাদাভাবে জিজ্ঞাসা করা হতে পারে।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. নীতিচর্চা — ভুল।
চর্যাপদে নীতিবোধের বিভিন্ন দিক থাকতে পারে। তবে এর প্রধান উদ্দেশ্য সাধারণ নৈতিক উপদেশ দেওয়া নয়।
❖ খ. ধর্মচর্চা — সঠিক।
চর্যাপদ বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনার ধর্মীয় তত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধি প্রকাশের জন্য রচিত হয়েছে।
❖ গ. সাহিত্য চর্চা — ভুল।
চর্যাপদ নিঃসন্দেহে সাহিত্যিক উৎকর্ষের পরিচয় বহন করে। কিন্তু প্রদত্ত প্রশ্নে রচনার প্রধান উদ্দেশ্য জানতে চাওয়া হয়েছে, যা ধর্মচর্চা।
❖ ঘ. গানচর্চা — ভুল।
চর্যাপদের পদগুলো গানের জন্য রচিত হলেও গানচর্চা ছিল এর প্রকাশমাধ্যম, প্রধান ধর্মীয় উদ্দেশ্য নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ চর্যাপদ রচনার প্রধান উদ্দেশ্য — ধর্মচর্চা।
❖ চর্যাপদের সাহিত্যিক রূপ — গীতিকবিতা।
❖ চর্যাপদের নির্দিষ্ট পরিচয় — সাধনসংগীত।
❖ চর্যাপদের ধর্মীয় ভিত্তি — বৌদ্ধ সহজযান।
❖ চর্যাপদের কবিরা — সিদ্ধাচার্য।
❖ চর্যাপদের গূঢ় ভাষা — সন্ধ্যা ভাষা।
❖ চর্যাপদের সংগীতধর্মিতার প্রমাণ — রাগ ও তালের উল্লেখ।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. ধর্মচর্চা।
07
🎯 Level 1

৪৭. বৌদ্ধদের কোন সম্প্রদায়ের সাধকগণ চর্যাপদ রচনা করেন? (সাধারণ বীমার সহকারী ব্যবস্থাপক: ২৪)

ক

মহাযানী

খ

সহজযানী

গ

হীনযানী

ঘ

বজ্রযানী

✅ সঠিক উত্তর:খ. সহজযানী

ব্যাখ্যা:

উত্তর: খ
◈ সঠিক উত্তর: সহজযানী।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের রচয়িতারা ছিলেন বৌদ্ধ সহজযানী সাধক বা সিদ্ধাচার্য।
❖ সহজযান বৌদ্ধধর্মের একটি বিশেষ সাধনধারা, যা তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের ঐতিহাসিক পরিমণ্ডলে বিকশিত হয়েছিল।
❖ চর্যাপদে সহজযানী সাধনার গূঢ় তত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধি প্রকাশিত হয়েছে।
❖ সহজযানের সাধনার গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো অন্তর্নিহিত সহজ স্বভাব বা স্বরূপ উপলব্ধি।
❖ চর্যাপদে ‘মহাসুখ’, ‘সহজ’, ‘শূন্যতা’ ও দেহতত্ত্বের মতো ধারণা বিভিন্ন প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
❖ এসব সাধনাতত্ত্ব সাধারণ পাঠকের কাছে সরাসরি প্রকাশ না করে সাংকেতিক গানের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হতো।
❖ তাই চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যা ভাষা বা আলো-আঁধারি ভাষা বলা হয়।
✦ সহজযান কী?
❖ সহজযান বৌদ্ধধর্মের একটি আধ্যাত্মিক সাধনধারা।
❖ এই ধারায় অন্তর্নিহিত সত্য উপলব্ধি ও বিশেষ যোগসাধনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
❖ সহজযানের সাধকরা দেহ ও চিত্তের অভিজ্ঞতাকে সাধনার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করতেন।
❖ চর্যার কবিরা দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত উপকরণ দিয়ে সাধনার গূঢ় ধারণা প্রকাশ করেছেন।
❖ সহজযান ঐতিহাসিকভাবে বজ্রযান ও অন্যান্য তান্ত্রিক বৌদ্ধধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।
✦ সহজযান ও বজ্রযানের পার্থক্য
❖ বজ্রযান তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের একটি বিস্তৃত ঐতিহ্য।
❖ সহজযান বা সহজিয়া সাধনা এই বৃহত্তর ঐতিহ্যের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত বিশেষ সাধনপদ্ধতি।
❖ তাই চর্যাপদের সঙ্গে বজ্রযানের সম্পর্ক থাকলেও চর্যাকারদের নির্দিষ্ট সম্প্রদায় হিসেবে সহজযানী উত্তরটি পরীক্ষায় অধিক যথাযথ।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. মহাযানী — ভুল।
মহাযান বৌদ্ধধর্মের একটি বৃহৎ ঐতিহাসিক ধারা। তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের বিকাশের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। তবে চর্যাপদের রচয়িতাদের নির্দিষ্ট পরিচয় হিসেবে সহজযানী অধিক নির্ভুল।
❖ খ. সহজযানী — সঠিক।
চর্যাপদের কবিরা বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনধারার সিদ্ধাচার্য ছিলেন।
❖ গ. হীনযানী — ভুল।
‘হীনযান’ একটি পুরোনো, মূল্যায়নধর্মী ঐতিহাসিক পরিভাষা। আধুনিক বৌদ্ধধর্মের আলোচনায় বিভিন্ন ধারার নিজস্ব নাম ব্যবহার করা অধিক যথাযথ। চর্যাপদের সাধকদের এই নামে চিহ্নিত করা হয় না।
❖ ঘ. বজ্রযানী — প্রদত্ত প্রশ্নের প্রত্যাশিত উত্তর নয়।
চর্যাপদের সাধকরা বৃহত্তর তান্ত্রিক বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন। তবে পরীক্ষায় তাঁদের বিশেষ সাধনধারা হিসেবে সহজযানকে বোঝানো হয়েছে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ চর্যাপদের রচয়িতারা — সহজযানী বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য।
❖ চর্যাপদের প্রধান ধর্মীয় মত — বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনা।
❖ সহজযানের গুরুত্বপূর্ণ ধারণা — সহজস্বরূপ উপলব্ধি।
❖ চর্যাপদে ‘মহাসুখ’ — সাধনাগত ধারণা।
❖ চর্যাপদের ভাষা — সন্ধ্যা ভাষা।
❖ সহজযানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক — তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্ম ও বজ্রযানের সঙ্গে।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: খ. সহজযানী।
08
🎯 Level 1

৫১. চর্যাপদের কোন কবি বাঙালি ছিলেন? (পূবালী ব্যাংকের প্রবেশনারী অফিসার: ২৩)

ক

আর্যদেব

খ

লুইপা

গ

কাহ্নপা

ঘ

ভুসুকুপা

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ভুসুকুপা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ভুসুকুপা।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের কবিদের মধ্যে ভুসুকুপাকে বাঙালি কবি হিসেবে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়।
❖ তাঁর রচিত ৪৯ নম্বর পদে একটি বিখ্যাত আত্মপরিচয়মূলক পঙ্‌ক্তি রয়েছে—
‘আজি ভুসু বঙ্গালী ভইলী’।
❖ এই উক্তির সাধারণ অর্থ হলো, আজ ভুসুকু বাঙালি হলেন।
❖ পঙ্‌ক্তিটিতে ‘বঙ্গালী’ শব্দের ব্যবহার বাংলা ভাষা ও বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
❖ তবে এটি একটি সাধনসংগীতের পঙ্‌ক্তি। তাই এর আক্ষরিক অর্থের পাশাপাশি গূঢ় ধর্মীয় অর্থও থাকতে পারে।
❖ এই কারণে পঙ্‌ক্তিটি থেকে ভুসুকুপার জন্মস্থান বা আধুনিক অর্থে জাতীয় পরিচয় সম্পূর্ণ নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না।
❖ তবু প্রচলিত বাংলা সাহিত্য-ইতিহাস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই পঙ্‌ক্তির ভিত্তিতে ভুসুকুপাকে বাঙালি কবি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
✦ ‘আজি ভুসু বঙ্গালী ভইলী’ পঙ্‌ক্তির গুরুত্ব
❖ পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা — ভুসুকুপা।
❖ পদসংখ্যা — ৪৯।
❖ শব্দটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব — ‘বঙ্গালী’ পরিচয়ের প্রাচীন সাহিত্যিক ব্যবহার।
❖ চর্যার ভাষায় ‘বঙ্গালী’ শব্দটি বাংলা ও বঙ্গ অঞ্চলের পরিচয় সম্পর্কে গবেষণায় আলোচিত।
❖ তবে প্রাচীন সাহিত্যিক আত্মউক্তি ও আধুনিক জাতিগত পরিচয় একই বিষয় নয়।
✦ ভুসুকুপা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
❖ সাহিত্যিক যুগ — প্রাচীন যুগ।
❖ ধর্মীয় পরিচয় — বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য।
❖ প্রচলিত রচিত পদসংখ্যা — ৮টি।
❖ খণ্ডিত পদ — ২৩ নম্বর।
❖ ‘অপণা মাংসে হরিণা বৈরী’ — ৬ নম্বর পদ।
❖ ‘আজি ভুসু বঙ্গালী ভইলী’ — ৪৯ নম্বর পদ।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. আর্যদেব — ভুল।
আর্যদেব চর্যাপদের একজন সিদ্ধাচার্য কবি। তাঁর নামে ৩১ নম্বর পদ পরিচিত। তবে প্রদত্ত আত্মপরিচয়মূলক ‘বঙ্গালী’ উক্তিটি তাঁর নয়।
❖ খ. লুইপা — প্রদত্ত প্রশ্নের উত্তর নয়।
লুইপাকে বাংলা সাহিত্যের আদি কবি বলা হয় এবং বাংলা সাহিত্য-ইতিহাসে বঙ্গ অঞ্চলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে ‘আজি ভুসু বঙ্গালী ভইলী’ সরাসরি আত্মউক্তিটি ভুসুকুপার।
❖ গ. কাহ্নপা — ভুল।
কাহ্নপা চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা এবং কৃষ্ণাচার্য নামে পরিচিত। কিন্তু প্রদত্ত প্রশ্নের প্রত্যাশিত বাঙালি আত্মপরিচয়ের উক্তিটি তাঁর নয়।
❖ ঘ. ভুসুকুপা — সঠিক।
ভুসুকুপার ৪৯ নম্বর পদে ‘আজি ভুসু বঙ্গালী ভইলী’ পঙ্‌ক্তিটি পাওয়া যায়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন — ভুসুকুপা।
❖ ‘আজি ভুসু বঙ্গালী ভইলী’ — ভুসুকুপা।
❖ পঙ্‌ক্তিটির পদসংখ্যা — ৪৯।
❖ ভুসুকুপার মোট পদ — ৮টি।
❖ ভুসুকুপার খণ্ডিত পদ — ২৩ নম্বর।
❖ ‘অপণা মাংসে হরিণা বৈরী’ — ভুসুকুপা।
❖ চর্যাপদের আদি কবি — লুইপা।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ঘ. ভুসুকুপা।
◈ প্রশ্নব্যাংকের জন্য বিশেষ নির্দেশনা: ভুসুকুপাকে বাঙালি কবি হিসেবে চিহ্নিত করার পরীক্ষাভিত্তিক কারণ হলো তাঁর ৪৯ নম্বর পদের আত্মউক্তি। এটি তাঁর জন্মপরিচয়ের চূড়ান্ত ঐতিহাসিক প্রমাণ—এমন দাবি করা উচিত নয়।
Advertisement
09
🎯 Level 1

৫৫. চর্যাপদের কোন পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়? (সমন্বিত ৭ ব্যাংকের অফিসার: ২৩ / স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক: ২৩)

ক

১০ নং পদ

খ

১৬ নং পদ

গ

১৮ নং পদ

ঘ

২৩ নং পদ

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ২৩ নং পদ

ব্যাখ্যা:

উত্তর: ঘ
◈ সঠিক উত্তর: ২৩ নং পদ।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত বা অসম্পূর্ণ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
❖ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন।
❖ আবিষ্কৃত পাণ্ডুলিপির কয়েকটি পাতা হারিয়ে যাওয়ায় কিছু পদ সম্পূর্ণভাবে পাওয়া যায়নি।
❖ এর মধ্যে ২৩ নম্বর পদটি আংশিক অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল।
❖ ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নম্বর পদ মূল পাণ্ডুলিপিতে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল।
❖ ২৩ নম্বর পদের রচয়িতা ভুসুকুপা।
❖ এই খণ্ডিত পদের কারণেই চর্যাপদের উদ্ধারকৃত পাঠের প্রচলিত হিসাব সাড়ে ৪৬টি বলা হয়।
✦ উদ্ধারকৃত পদসংখ্যার হিসাব
❖ মূল সংকলনের প্রচলিত পদসংখ্যা — ৫০টি।
❖ সম্পূর্ণ প্রাপ্ত পদ — ৪৬টি।
❖ খণ্ডিত পদ — ১টি।
❖ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত পদ — ৩টি।
❖ উদ্ধারকৃত পাঠের প্রচলিত মোট পরিমাণ — সাড়ে ৪৬টি।
❖ বাংলাপিডিয়ায় পূর্ণ ও খণ্ডিত মিলিয়ে ৪৭টি পদের উল্লেখ রয়েছে।
✦ খণ্ডিত ও অনুপস্থিত পদ
পদসংখ্যা | অবস্থা | রচয়িতা
২৩ | খণ্ডিত | ভুসুকুপা
২৪ | অনুপস্থিত | কাহ্নপা
২৫ | অনুপস্থিত | তান্তীপা
৪৮ | অনুপস্থিত | কুক্কুরীপা
❖ পরবর্তী তিব্বতি পাঠ ও অনুবাদসংক্রান্ত গবেষণার মাধ্যমে অনুপস্থিত কিছু পদের তথ্য জানা সম্ভব হয়েছে।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. ১০ নং পদ — ভুল।
১০ নম্বর পদটি মূল পাণ্ডুলিপিতে খণ্ডিত পদ হিসেবে গণ্য নয়।
❖ খ. ১৬ নং পদ — ভুল।
১৬ নম্বর পদটি চর্যাপদের প্রচলিত খণ্ডিত পদ নয়।
❖ গ. ১৮ নং পদ — ভুল।
১৮ নম্বর পদ খণ্ডিত পদ হিসেবে পরিচিত নয়।
❖ ঘ. ২৩ নং পদ — সঠিক।
২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ চর্যাপদের খণ্ডিত পদ — ২৩ নম্বর।
❖ খণ্ডিত পদের রচয়িতা — ভুসুকুপা।
❖ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত পদ — ২৪, ২৫ ও ৪৮।
❖ ২৪ নম্বর পদ — কাহ্নপা।
❖ ২৫ নম্বর পদ — তান্তীপা।
❖ ৪৮ নম্বর পদ — কুক্কুরীপা।
❖ উদ্ধারকৃত পাঠ — সাড়ে ৪৬টি।
❖ প্রাপ্ত পূর্ণ পদ — ৪৬টি।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: ঘ. ২৩ নং পদ।
10
🎯 Level 1

৫৯. ‘চর্যাপদ’-এর আদি পদ রচয়িতা— (দুদকের কোর্ট পরিদর্শক: ২২)

ক

শবরপা

খ

ভুসুকুপা

গ

লুইপা

ঘ

কাহ্নপা

✅ সঠিক উত্তর:গ. লুইপা

ব্যাখ্যা:

উত্তর: গ
◈ সঠিক উত্তর: লুইপা।
❖ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের আদি পদ অর্থাৎ সংকলনের প্রথম পদের রচয়িতা লুইপা।
❖ লুইপা বা লুইপাদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সিদ্ধাচার্য কবি।
❖ চর্যাপদের ১ নম্বর পদ তাঁর নামে সংরক্ষিত রয়েছে।
❖ পদটির সূচনা—
‘কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল’।
❖ এই পঙ্‌ক্তিতে মানবদেহকে বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
❖ চর্যাপদের মূল উদ্দেশ্য ধর্মীয় সাধনতত্ত্ব প্রকাশ করা। তাই দেহ, বৃক্ষ ও শাখার সাধারণ অর্থের পাশাপাশি গূঢ় সাধনাগত অর্থ রয়েছে।
❖ প্রথম পদটির রাগ পটমঞ্জরী।
❖ লুইপার নামে মোট দুটি পদ পরিচিত।
❖ এগুলো হলো ১ ও ২৯ নম্বর পদ।
✦ আদি পদ ও আদি কবির পার্থক্য
❖ আদি পদ: চর্যাপদ সংকলনের প্রথম পদ।
❖ আদি পদকর্তা: প্রথম পদের রচয়িতা লুইপা।
❖ বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত আদি কবি: লুইপা।
❖ সংকলনের প্রথম পদকর্তা হওয়ায় তাঁকে আদি কবি বলা হয়; তবে প্রাচীনতম ঐতিহাসিক কবি নির্ধারণ নিয়ে গবেষকদের মতভেদ রয়েছে।
◉ অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ
❖ ক. শবরপা — ভুল।
শবরপা চর্যাপদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধাচার্য। তাঁর নামে ২৮ ও ৫০ নম্বর পদ পরিচিত। প্রথম পদ তাঁর নয়।
❖ খ. ভুসুকুপা — ভুল।
ভুসুকুপা চর্যাপদের আটটি পদের রচয়িতা হিসেবে পরিচিত। তবে প্রথম পদের রচয়িতা তিনি নন।
❖ গ. লুইপা — সঠিক।
চর্যাপদের ১ নম্বর পদটি লুইপার রচনা।
❖ ঘ. কাহ্নপা — ভুল।
কাহ্নপা চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা। কিন্তু প্রথম পদ তাঁর নয়।
✦ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
❖ চর্যাপদের আদি পদ রচয়িতা — লুইপা।
❖ চর্যাপদের প্রথম পদ — ১ নম্বর পদ।
❖ প্রথম পদের সূচনা — ‘কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল’।
❖ প্রথম পদের রাগ — পটমঞ্জরী।
❖ লুইপার রচিত পদ — ১ ও ২৯ নম্বর।
❖ লুইপার রচিত পদসংখ্যা — ২টি।
❖ চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা — কাহ্নপা।
◈ চূড়ান্ত উত্তর: গ. লুইপা।
Advertisement
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন