🧠 🔖
Free Topic

প্রাচীন যুগের সাহিত্যঃ চর্যাপদ

◉ বাংলা সাহিত্য প্রাচীন যুগের সাহিত্যঃ চর্যাপদ

নির্বাচিত Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে পড়ুন। সম্পূর্ণ Quiz, Level Practice, Result ও Progress App-এ আগের নিয়মেই চলবে।

📚65মোট প্রশ্ন
🎯4মোট লেভেল
5.03 Ratings
💬3Reviews
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Topic থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ ও ব্যাখ্যা

01
🎯 Level 1

প্রশ্ন ০১) বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ – (১৩তম বিসিএস)

ক. ৪৫০ – ৬৫০ সাল

খ. ৬৫০ – ৮৫০ সাল

গ. ৬৫০ – ১২০০ সাল

ঘ. ৬৫০ – ১২৫০ সাল

✅ সঠিক উত্তর:গ. গ. ৬৫০ – ১২০০ সাল

ব্যাখ্যা:

✔ সঠিক উত্তর বিশ্লেষণ:
◉ বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগে প্রাচীন যুগ বলতে সাধারণত ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ সময়কালকে বোঝানো হয়। এই যুগের প্রধান এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সাহিত্যিক নিদর্শন হলো চর্যাপদ। চর্যাপদকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন বলা হয়, কারণ এতে আদি বাংলার ভাষাগত রূপ পাওয়া যায়। Banglapedia-তেও চর্যাপদকে প্রাচীন বাংলা কবিতার প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
◉ এই সময়কে প্রাচীন যুগ বলা হয়, কারণ তখন বাংলা ভাষা সম্পূর্ণ আধুনিক রূপ পায়নি; বরং প্রাকৃত, অপভ্রংশ, অবহট্ট ইত্যাদি ভাষার স্তর অতিক্রম করে আদি বাংলা গঠিত হচ্ছিল। চর্যাপদের ভাষায় বাংলা, অসমিয়া, ওড়িয়া, মৈথিলি প্রভৃতি পূর্বভারতীয় ভাষার প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
➤ ৬৫০ সাল ধরা হয় বাংলা ভাষার প্রাথমিক গঠনপর্বের সূচক হিসেবে।
➤ ১২০০ সাল ধরা হয় কারণ এর পর বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগীয় ধারা—যেমন মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, অনুবাদ সাহিত্য ইত্যাদি—প্রবল হতে থাকে।
⇒ তাই পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর: গ. ৬৫০–১২০০ সাল।
✖ অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক. ৪৫০–৬৫০ সাল
✖ এই সময় বাংলা ভাষার পূর্বপ্রস্তুতির সময় হতে পারে, কিন্তু বাংলা সাহিত্যের নির্দিষ্ট সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে কোনো স্বীকৃত গ্রন্থ পাওয়া যায় না। অর্থাৎ তখন বাংলা ভাষা সাহিত্যরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য দলিল নেই।
খ. ৬৫০–৮৫০ সাল
✖ ৬৫০ সাল থেকে শুরু ঠিক থাকলেও ৮৫০ সাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করলে চর্যাপদের বিস্তৃত রচনাকাল ধরা পড়ে না। চর্যাপদের রচনাকাল নিয়ে গবেষকদের মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও সাধারণভাবে ৮ম থেকে ১২শ শতক বা তার কাছাকাছি সময় ধরা হয়।
ঘ. ৬৫০–১২৫০ সাল
✖ কিছু ক্ষেত্রে ১২৫০ সাল পর্যন্ত টানা হতে পারে, কিন্তু বিসিএস/প্রচলিত পরীক্ষামুখী উত্তর হিসেবে ১২০০ সাল পর্যন্তই বেশি গ্রহণযোগ্য। ১২০০ সালের পর মুসলিম শাসনের সূচনা ও মধ্যযুগীয় সাহিত্যধারার বিকাশ বাংলা সাহিত্যে নতুন পর্ব তৈরি করে।
???? পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
➤ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ = ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ
➤ প্রধান নিদর্শন = চর্যাপদ
➤ চর্যাপদ = বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন
➤ ১২০০ সালের পর = মধ্যযুগের সূচনা ধরা হয়
02
🎯 Level 1

প্রশ্ন ০৪) চর্যাপদ কী? (বিসিএস প্রিলির সহকারী পরিচালক: ২০)

ক. উপন্যাসধর্মী

খ. কাব্যধর্মী

গ. আত্মজীবনী

ঘ. ভ্রমণকাহিনি

✅ সঠিক উত্তর:খ. খ. কাব্যধর্মী

ব্যাখ্যা:

✔ সঠিক উত্তর বিশ্লেষণ:
◉ চর্যাপদ হলো কাব্যধর্মী রচনা। এটি গদ্য নয়, উপন্যাস নয়, আত্মজীবনী নয়; বরং পদ বা গানের আকারে রচিত আধ্যাত্মিক-সাধনামূলক কবিতা। চর্যাপদকে ইংরেজিতে mystical poems বা Buddhist mystical songs হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়।
◉ চর্যাপদের পদগুলো গীতিধর্মী। এগুলো সাধনার সময় গাওয়া হতো বলে এগুলোকে চর্যাগীতি বলা হয়। অর্থাৎ চর্যা + গীতি = সাধনার গান। তাই এটি কাব্যধর্মী হলেও শুধু সাধারণ কবিতা নয়; এটি সাধনসংগীতও।
➤ কাব্যধর্মী বলার কারণ:
◈ পদ্যরূপ আছে
◈ ছন্দ আছে
◈ প্রতীক আছে
◈ রূপক আছে
◈ গূঢ় অর্থ আছে
◈ কাব্যিক ভাষা আছে
◉ চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় সন্ধ্যা ভাষা। অর্থাৎ কথার বাহ্যিক অর্থ একরকম, কিন্তু সাধনাগত ভেতরের অর্থ আরেক রকম। Banglapedia-তেও সন্ধ্যা ভাষাকে চর্যাপদের দুর্বোধ্য প্রাচীন বাংলা ভাষার সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
✖ অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক. উপন্যাসধর্মী
✖ উপন্যাস হলো দীর্ঘ গদ্য আখ্যান। এতে চরিত্র, কাহিনি, ঘটনা, সংলাপ, সমাজজীবন ইত্যাদি থাকে। চর্যাপদে এসব উপন্যাসের কাঠামো নেই। চর্যাপদ ছোট ছোট পদ বা গানের সংকলন।
গ. আত্মজীবনী
✖ আত্মজীবনীতে লেখক নিজের জীবনকাহিনি বলেন। চর্যাপদে কোনো সিদ্ধাচার্য নিজের জীবনের ধারাবাহিক বিবরণ দেননি; বরং সাধনার গূঢ় কথা বলেছেন।
ঘ. ভ্রমণকাহিনি
✖ ভ্রমণকাহিনিতে ভ্রমণস্থল, পথ, অভিজ্ঞতা, স্থানবর্ণনা থাকে। চর্যাপদে ভ্রমণবর্ণনা নেই; আছে বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনার প্রতীকী ভাষা।
???? অতিরিক্ত তথ্য:
◈ চর্যাপদের বাহ্যিক ভাষায় নৌকা, নদী, মাছ, ডোম্বী, শবর, গৃহস্থালি, কৃষিকাজ ইত্যাদি চিত্র দেখা যায়।
◈ কিন্তু এগুলো অনেক সময় সাধন-তত্ত্বের প্রতীক।
◈ এজন্যই চর্যাপদ বোঝার জন্য শুধু ভাষা নয়, বৌদ্ধ সহজিয়া দর্শনও জানা দরকার।
???? পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
➤ চর্যাপদ কী? = কাব্যধর্মী
➤ চর্যাপদ এক কথায় = গানের সংকলন / সাধন সঙ্গীত
➤ চর্যাপদের ভাষা = সন্ধ্যা ভাষা
03
🎯 Level 1

প্রশ্ন ০৬) চর্যাপদ হলো – (বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার: ১৮)

ক. একচ্ছত্র ধর্মোপদেশ

খ. সাধন সঙ্গীত

গ. জীবনাচার পদ্ধতি

ঘ. দেবী বন্দনা

✅ সঠিক উত্তর:খ. খ. সাধন সঙ্গীত

ব্যাখ্যা:

✔ সঠিক উত্তর বিশ্লেষণ:
◉ চর্যাপদ হলো সাধন সঙ্গীত। এখানে “সাধন” বলতে আধ্যাত্মিক অনুশীলন, যোগসাধনা, দেহতত্ত্ব ও মুক্তিলাভের পথকে বোঝানো হয়েছে; আর “সঙ্গীত” বলতে বোঝানো হয়েছে গান বা গীতিধর্মী পদ। অর্থাৎ চর্যাপদ কেবল সাহিত্যিক কবিতা নয়, এটি বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের সাধনার অভিজ্ঞতা ও তত্ত্ব প্রকাশের গীতিকাব্য।
◉ চর্যাপদের রচয়িতারা ছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্য। তাঁরা ধর্মতত্ত্ব সরাসরি ভাষায় বলেননি; কারণ এই সাধনপদ্ধতি ছিল গূঢ়, প্রতীকময় এবং সাধারণ পাঠকের জন্য সরলভাবে প্রকাশযোগ্য নয়। তাই তাঁরা “নদী”, “নৌকা”, “মাছ”, “শিকারি”, “ডোম্বী”, “গৃহস্থালি” ইত্যাদি সাধারণ শব্দের আড়ালে গভীর সাধনাতাত্ত্বিক অর্থ প্রকাশ করেছেন।
➤ এই কারণে চর্যাপদকে শুধু “কবিতা” বললে এর পূর্ণ পরিচয় ধরা পড়ে না।
➤ আবার শুধু “ধর্মোপদেশ” বললেও ভুল হয়, কারণ এখানে সরাসরি উপদেশ নয়, বরং প্রতীকের মাধ্যমে সাধনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
⇒ তাই চর্যাপদের সবচেয়ে যথার্থ পরিচয়: সাধন সঙ্গীত।
✖ অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক. একচ্ছত্র ধর্মোপদেশ
✖ চর্যাপদ ধর্মীয় ভাবসম্পন্ন হলেও এটি সরাসরি ধর্মোপদেশ নয়। ধর্মোপদেশে সাধারণত স্পষ্ট ভাষায় করণীয়-বর্জনীয়, নীতি, বিধান বা আদেশ থাকে। কিন্তু চর্যাপদে এসব সরাসরি নেই। এখানে আছে রূপক, ইঙ্গিত, প্রতীক ও গূঢ় ভাষা। তাই “একচ্ছত্র ধর্মোপদেশ” চর্যাপদের প্রকৃতি বোঝাতে অক্ষম।
গ. জীবনাচার পদ্ধতি
✖ জীবনাচার পদ্ধতি হলে এতে দৈনন্দিন জীবনযাপন, সামাজিক আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, নৈতিক বিধান, পারিবারিক বা সামাজিক নিয়মের আলোচনা থাকত। চর্যাপদের মূল উদ্দেশ্য এসব নয়। এর লক্ষ্য আধ্যাত্মিক সাধনা, দেহতত্ত্ব, চিত্তশুদ্ধি ও মুক্তির পথকে গূঢ়ভাবে প্রকাশ করা।
ঘ. দেবী বন্দনা
✖ দেবী বন্দনা সাধারণত হিন্দু শক্তিসাধনার অংশ, যেখানে দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী, সরস্বতী প্রভৃতি দেবীর প্রশস্তি বা আরাধনা থাকে। চর্যাপদ সেই ধরনের দেবীবন্দনামূলক রচনা নয়। এটি বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত সাধনসংগীত।
???? অতিরিক্ত তথ্য:
◈ চর্যাপদের ভাষা সরাসরি নয়; একে বলা হয় সন্ধ্যা ভাষা।
◈ “সন্ধ্যা ভাষা” এমন ভাষা, যার বাহ্যিক অর্থ একরকম, কিন্তু অন্তর্নিহিত সাধনাতাত্ত্বিক অর্থ অন্যরকম।
◈ চর্যাপদে লোকজ জীবন, পেশা, নদী-নৌকা, নারী-পুরুষ, গ্রামীণ উপাদান ব্যবহার করা হলেও এগুলো অনেক সময় আধ্যাত্মিক প্রতীক।
???? পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
➤ চর্যাপদ = সাধন সঙ্গীত
➤ চর্যাপদের রচয়িতা = বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্য
➤ চর্যাপদের ভাষা = সন্ধ্যা ভাষা
➤ চর্যাপদ সরাসরি ধর্মোপদেশ নয়; এটি গূঢ় সাধনাতত্ত্বের গান।
04
🎯 Level 1

প্রশ্ন ০৯) চর্যাপদ কোন ধর্মাবলম্বীদের সাহিত্য? (বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী: ১৬)

ক. সনাতন হিন্দু

খ. সহজিয়া বৌদ্ধ

গ. জৈন

ঘ. হরিজন

✅ সঠিক উত্তর:খ. খ. সহজিয়া বৌদ্ধ

ব্যাখ্যা:

✔ সঠিক উত্তর বিশ্লেষণ:
◉ চর্যাপদ হলো সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সাহিত্য। চর্যাপদের রচয়িতারা ছিলেন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য। তাঁরা বৌদ্ধ তন্ত্র ও সহজিয়া সাধনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সহজিয়া বৌদ্ধধর্মে মুক্তির পথকে বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে অভ্যন্তরীণ সাধনা, দেহতত্ত্ব, চিত্তশুদ্ধি ও সহজ উপলব্ধির মাধ্যমে বোঝানো হয়।
◉ “সহজিয়া” শব্দের মূল ভাব হলো “সহজ পথ” বা অন্তর্গত উপলব্ধির পথ। এই ধারায় মানবদেহ, মন, চেতনা, কামনা, যোগসাধনা—এসবকে প্রতীকীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। চর্যাপদে যে গূঢ় ভাষা, রূপক, দেহতত্ত্ব ও সাধনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তা সহজিয়া বৌদ্ধ দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
➤ চর্যাপদের কবি = সিদ্ধাচার্য
➤ সিদ্ধাচার্যরা = বৌদ্ধ সহজিয়া সাধক
➤ চর্যাপদের বিষয় = গূঢ় সাধনা, দেহতত্ত্ব, মুক্তির পথ
⇒ তাই চর্যাপদ সহজিয়া বৌদ্ধদের সাহিত্য।
✖ অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক. সনাতন হিন্দু
✖ সনাতন হিন্দু ধর্মে তন্ত্রসাধনা, ভক্তি, পুরাণ, দেবদেবীর উপাসনা ইত্যাদি আছে। কিন্তু চর্যাপদের ঐতিহাসিক উৎস ও রচয়িতারা বৌদ্ধ সহজিয়া ধারার সঙ্গে যুক্ত। তাই সনাতন হিন্দু উত্তরটি গ্রহণযোগ্য নয়।
গ. জৈন
✖ জৈন ধর্মের নিজস্ব সাহিত্যিক ও দার্শনিক ঐতিহ্য আছে। অহিংসা, তীর্থঙ্কর, কঠোর তপস্যা ইত্যাদি জৈনধর্মের মুখ্য বিষয়। চর্যাপদের সিদ্ধাচার্য ঐতিহ্য জৈন নয়; এটি বৌদ্ধ তান্ত্রিক-সহজিয়া ধারার।
ঘ. হরিজন
✖ “হরিজন” কোনো ধর্মীয় সাহিত্যধারা নয়। এটি সামাজিক পরিচয়বাচক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। চর্যাপদকে কোনোভাবেই “হরিজন সাহিত্য” হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। তাই এটি বিভ্রান্তিমূলক অপশন।
???? অতিরিক্ত তথ্য:
◈ চর্যাপদের কবিদের নামের শেষে অনেক সময় “পা” যুক্ত থাকে—যেমন লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকপা।
◈ “পা” বা “পাদ” সম্মানসূচক সাধক-উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত।
◈ চর্যাপদে ধর্মীয় তত্ত্ব থাকলেও ভাষা লোকজ ও প্রতীকময়; এ কারণেই এটি সাহিত্য ও ধর্ম—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।
???? পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
➤ চর্যাপদ কোন ধর্মাবলম্বীদের সাহিত্য? = সহজিয়া বৌদ্ধ
➤ চর্যাপদের রচয়িতা = বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য
➤ চর্যাপদের ধারা = বৌদ্ধ তন্ত্র / সহজিয়া সাধনা
➤ চর্যাপদ সনাতন হিন্দু, জৈন বা হরিজন সাহিত্য নয়।
05
🎯 Level 1

প্রশ্ন ১২) হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি কী? (৪৩তম বিসিএস)

ক. পণ্ডিত

খ. বিদ্যাসাগর

গ. শাস্ত্রী

ঘ. মহামহোপাধ্যায়

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ঘ. মহামহোপাধ্যায়

ব্যাখ্যা:

✔ সঠিক উত্তর বিশ্লেষণ:
◉ হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি হলো মহামহোপাধ্যায়। এটি একটি উচ্চ মর্যাদাসূচক সম্মানসূচক উপাধি, যা সংস্কৃতজ্ঞ, পণ্ডিত, শাস্ত্রবিদ ও গবেষণাধর্মী জ্ঞানচর্চায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্য দেওয়া হতো।
◉ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন সংস্কৃতজ্ঞ, পুঁথি-সংগ্রাহক, গবেষক ও সাহিত্য-ইতিহাসচর্চার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। চর্যাপদ আবিষ্কারের জন্য তাঁর নাম বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে স্থায়ীভাবে স্মরণীয়। তাঁর বিদ্যাবত্তা ও পাণ্ডিত্যকে স্বীকৃতি দিতেই তাঁকে “মহামহোপাধ্যায়” উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
➤ “মহা” + “মহা” + “উপাধ্যায়”—অর্থাৎ অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আচার্য/শিক্ষক/পণ্ডিত।
➤ বাংলা সাহিত্য ইতিহাসে চর্যাপদের সঙ্গে তাঁর নাম সরাসরি যুক্ত।
⇒ তাই সঠিক উত্তর: ঘ. মহামহোপাধ্যায়।
✖ অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক. পণ্ডিত
✖ “পণ্ডিত” শব্দটি জ্ঞানী বা শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তির সাধারণ উপাধি/সম্বোধন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী অবশ্যই পণ্ডিত ছিলেন, কিন্তু পরীক্ষায় তাঁর নির্দিষ্ট সম্মানসূচক উপাধি জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই উপাধি “পণ্ডিত” নয়, “মহামহোপাধ্যায়”।
খ. বিদ্যাসাগর
✖ “বিদ্যাসাগর” উপাধিটি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, যিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নামে পরিচিত। তিনি বাংলা গদ্য, শিক্ষাব্যবস্থা, বিধবা-বিবাহ আন্দোলন ও সমাজসংস্কারে বিখ্যাত। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি “বিদ্যাসাগর” নয়।
গ. শাস্ত্রী
✖ “শাস্ত্রী” তাঁর নামের অংশ হিসেবে পরিচিত হলেও প্রশ্নে যে উপাধি চাওয়া হয়েছে, তা নয়। অনেক সময় “শাস্ত্রী” শিক্ষাগত বা পাণ্ডিত্যসূচক পরিচয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, কিন্তু হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর পরীক্ষামুখী নির্দিষ্ট উপাধি হলো মহামহোপাধ্যায়।
???? অতিরিক্ত তথ্য:
◈ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী জন্মসূত্রে ভট্টাচার্য বংশীয় হলেও “শাস্ত্রী” নামে বেশি পরিচিত।
◈ তিনি বাংলা সাহিত্য ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় চর্যাপদ আবিষ্কারের জন্য।
◈ তাঁর আবিষ্কার ছাড়া বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের দলিলভিত্তিক আলোচনা এত শক্তিশালী হতো না।
◈ বিসিএস পরীক্ষায় “হরপ্রসাদ শাস্ত্রী” দেখলেই মনে রাখতে হবে—চর্যাপদ, নেপাল, ১৯০৭, মহামহোপাধ্যায়।
???? পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
➤ হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি = মহামহোপাধ্যায়
➤ “বিদ্যাসাগর” = ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
➤ “শাস্ত্রী” = নামের অংশ/পরিচিতি, নির্দিষ্ট উপাধি নয়
➤ চর্যাপদের আবিষ্কারক = হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
06
🎯 Level 1

প্রশ্ন ১৫) কোথায় থেকে চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয়? / হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রথম কোথায় থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন? (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক: ২২)

ক. সুদূর চীন দেশ থেকে

খ. আরাকান রাজগ্রন্থাগার থেকে

গ. নেপালের রাজগ্রন্থাগার / নেপালের রাজদরবার থেকে

ঘ. বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে

✅ সঠিক উত্তর:গ. গ. নেপালের রাজগ্রন্থাগার / নেপালের রাজদরবার থেকে

ব্যাখ্যা:

✔ সঠিক উত্তর বিশ্লেষণ:
◉ এই প্রশ্নে শুধু দেশ জানতে চাওয়া হয়নি; বরং নির্দিষ্ট উৎস বা স্থান জানতে চাওয়া হয়েছে। চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় নেপালের রাজগ্রন্থাগার / নেপালের রাজদরবার থেকে। তাই এখানে “নেপাল” বললেই সাধারণভাবে ঠিক হলেও অপশনের মধ্যে সবচেয়ে নির্দিষ্ট ও পূর্ণ উত্তর হলো গ. নেপালের রাজগ্রন্থাগার / নেপালের রাজদরবার থেকে।
◉ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালে পুঁথি অনুসন্ধানের সময় এই পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করেন। বাংলা সাহিত্য ইতিহাসে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, কারণ এর মাধ্যমে বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্যনিদর্শন পাওয়া যায়। চর্যাপদ আবিষ্কারের ফলে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।
➤ প্রশ্ন যদি হয় “চর্যাপদ কোথা থেকে আবিষ্কৃত?” = নেপাল
➤ প্রশ্ন যদি হয় “কোন নির্দিষ্ট স্থান থেকে?” = নেপালের রাজগ্রন্থাগার/রাজদরবার
➤ আবিষ্কারক = হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
⇒ তাই সঠিক উত্তর: গ. নেপালের রাজগ্রন্থাগার / নেপালের রাজদরবার থেকে।
✖ অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক. সুদূর চীন দেশ থেকে
✖ চীনে বহু প্রাচীন বৌদ্ধ পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে—এটি ইতিহাসগতভাবে সত্য হতে পারে। কিন্তু চর্যাপদ আবিষ্কারের উৎস চীন নয়। তাই এই অপশনটি চর্যাপদের প্রসঙ্গে ভুল।
খ. আরাকান রাজগ্রন্থাগার থেকে
✖ আরাকান বা রোসাঙ্গ বাংলা মধ্যযুগীয় সাহিত্য ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা হয়েছিল এবং আলাওলসহ বহু কবির সঙ্গে আরাকান রাজসভার সম্পর্ক আছে। কিন্তু চর্যাপদ আবিষ্কার আরাকান থেকে হয়নি।
ঘ. বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে
✖ এটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিমূলক ও অযৌক্তিক অপশন। চর্যাপদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন পাণ্ডুলিপি কোনো গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে পাওয়া যায়—এমন ঐতিহাসিক তথ্য নেই। চর্যাপদের প্রতিষ্ঠিত আবিষ্কারস্থল নেপালের রাজদরবার/রাজগ্রন্থাগার।
???? অতিরিক্ত তথ্য:
◈ চর্যাপদের আবিষ্কার-সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনটি তথ্য একসঙ্গে মনে রাখতে হবে—
➤ আবিষ্কারক: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
➤ দেশ: নেপাল
➤ নির্দিষ্ট স্থান: নেপালের রাজগ্রন্থাগার/রাজদরবার
◈ “আরাকান” বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য, বিশেষ করে আরাকান রাজসভা ও আলাওলের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।
◈ “চীন” বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হলেও চর্যাপদের আবিষ্কারস্থল নয়।
◈ “নেপালের রাজদরবার” শব্দটি দেখলেই চর্যাপদ মনে রাখতে হবে।
???? পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
➤ চর্যাপদ কোথা থেকে আবিষ্কৃত? = নেপালের রাজগ্রন্থাগার / নেপালের রাজদরবার
➤ দেশ হিসেবে উত্তর = নেপাল
➤ আবিষ্কারক = হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
➤ চর্যাপদ = বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন
07
🎯 Level 1

প্রশ্ন ১৭) কোন রাজবংশের আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়? (ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা: ২০)

ক. পাল

খ. সেন

গ. মোঘল

ঘ. তুর্কি

✅ সঠিক উত্তর:ক. ক. পাল

ব্যাখ্যা:

✔ সঠিক উত্তর বিশ্লেষণ:
◉ চর্যাপদ রচনা শুরু হয় পাল রাজবংশের আমলে। চর্যাপদের রচনাকাল সাধারণভাবে প্রাচীন বাংলার সময়ের সঙ্গে যুক্ত, বিশেষ করে ৭ম/৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর ভেতর। এই সময় বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
◉ পাল রাজারা বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁদের আমলে বৌদ্ধ বিহার, শিক্ষাকেন্দ্র, তান্ত্রিক সাধনা এবং বৌদ্ধ পণ্ডিতদের চর্চা শক্তিশালী হয়। চর্যাপদের রচয়িতারা যেহেতু বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্য, তাই চর্যাপদের রচনাপটভূমি পাল আমলের বৌদ্ধ সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
➤ পাল রাজবংশ = বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক
➤ চর্যাপদ = বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের সাহিত্য
➤ সিদ্ধাচার্যদের সাধনা = পাল যুগের ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক পরিবেশে বিকশিত
⇒ তাই সঠিক উত্তর: ক. পাল।
✖ অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
খ. সেন
✖ সেন রাজবংশ বাংলায় পালদের পরে আসে। সেন যুগে ব্রাহ্মণ্যধর্মের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। যদিও সেন যুগ বাংলা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ, চর্যাপদের মূল রচনাপটভূমি পাল আমলের বৌদ্ধ পরিবেশের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।
গ. মোঘল
✖ মোঘল যুগ অনেক পরের ইতিহাস। বাংলা সাহিত্যে মোঘল আমলে মধ্যযুগীয় ও মুসলিম সাহিত্যধারার বিকাশ দেখা যায়, কিন্তু চর্যাপদ তার বহু আগের রচনা। তাই মোঘল উত্তরটি ভুল।
ঘ. তুর্কি
✖ তুর্কি শাসনের সূচনা বাংলার ইতিহাসে মধ্যযুগীয় পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। চর্যাপদ প্রাচীন যুগের সাহিত্যনিদর্শন। তাই তুর্কি আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়নি।
???? অতিরিক্ত তথ্য:
◈ পাল রাজবংশের সময় বৌদ্ধধর্ম, বিশেষ করে মহাযান ও তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের চর্চা প্রবল ছিল।
◈ চর্যাপদের কবিরা “সিদ্ধাচার্য” নামে পরিচিত।
◈ চর্যাপদের সঙ্গে বৌদ্ধ বিহার, তন্ত্রসাধনা ও সহজিয়া ধারার ঐতিহাসিক সংযোগ আছে।
◈ পাল যুগের ধর্মীয় পরিবেশ চর্যাপদের মতো গূঢ় সাধনসংগীত রচনার জন্য উপযোগী ছিল।
???? পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
➤ চর্যাপদ রচনা শুরু = পাল আমলে
➤ পাল রাজারা = বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক
➤ চর্যাপদ = বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের পদসংকলন
➤ মোঘল/তুর্কি = চর্যাপদের অনেক পরের সময়
08
🎯 Level 1

প্রশ্ন ২০) ‘সন্ধ্যা ভাষা’ কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে যুক্ত? / কোন সাহিত্যকর্মে ‘সন্ধ্যা ভাষা’ এর প্রয়োগ আছে? (৪২তম বিসিএস)

ক. চর্যাপদ

খ. পদাবলী

গ. মঙ্গলকাব্য

ঘ. রোমান্টিককাব্য

✅ সঠিক উত্তর:ক. ক. চর্যাপদ

ব্যাখ্যা:

✔ সঠিক উত্তর বিশ্লেষণ:
◉ সন্ধ্যা ভাষা চর্যাপদের সঙ্গে যুক্ত। চর্যাপদের ভাষা সরল, একমাত্রিক বা সরাসরি অর্থবাহী নয়; বরং এর ভাষা গূঢ়, ইঙ্গিতপূর্ণ ও প্রতীকময়। যে ভাষার বাহ্যিক অর্থ একরকম, কিন্তু ভেতরের সাধনাতাত্ত্বিক অর্থ আরেক রকম—তাকে বলা হয় সন্ধ্যা ভাষা।
◉ চর্যাপদের রচয়িতারা ছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্য। তাঁদের সাধনা ছিল গূঢ় ও তান্ত্রিক। এই সাধনার কথা সাধারণ মানুষের সামনে সরাসরি বলা হতো না। তাই তাঁরা লোকজ শব্দ, গ্রামীণ চিত্র, নদী-নৌকা, মাছ, নারী-পুরুষ, শিকারি, ডোম্বী ইত্যাদির আড়ালে সাধনাতত্ত্ব প্রকাশ করেছেন।
➤ বাহ্যিক অর্থ = লোকজ/সাধারণ দৃশ্য
➤ অন্তর্নিহিত অর্থ = সাধনা, দেহতত্ত্ব, মুক্তির পথ
➤ ভাষার ধরন = গূঢ়, প্রতীকী, ইঙ্গিতময়
⇒ তাই সন্ধ্যা ভাষার প্রধান সাহিত্যিক ক্ষেত্র: চর্যাপদ।
✖ অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
খ. পদাবলী
✖ পদাবলী সাহিত্য সাধারণত বৈষ্ণব ভক্তি, রাধাকৃষ্ণ প্রেম, ভক্তিরস, বিরহ ও মিলনের আবেগকে কেন্দ্র করে রচিত। এতে কাব্যিক ভাষা ও প্রতীক থাকতে পারে, কিন্তু চর্যাপদের মতো বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনার গূঢ় “সন্ধ্যা ভাষা” এর মূল বৈশিষ্ট্য নয়।
গ. মঙ্গলকাব্য
✖ মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগের দেবতা-কেন্দ্রিক আখ্যানধর্মী কাব্য। মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল প্রভৃতি কাব্যে দেবতার মাহাত্ম্য, কাহিনি, লোকজ সমাজ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকাশ আছে। কিন্তু চর্যাপদের মতো গুপ্ত সাধনাতাত্ত্বিক ভাষা মঙ্গলকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য নয়।
ঘ. রোমান্টিককাব্য
✖ রোমান্টিক কাব্য আধুনিক সাহিত্যের ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত; সেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা, প্রকৃতি, প্রেম, কল্পনা, আবেগ ইত্যাদি প্রধান। “সন্ধ্যা ভাষা” চর্যাপদের বিশেষ পরিভাষা; রোমান্টিক কাব্যের নয়।
???? অতিরিক্ত তথ্য:
◈ “সন্ধ্যা ভাষা”কে অনেক সময় “আলো-আঁধারির ভাষা” বলা হয়—অর্থাৎ পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, আবার পুরোপুরি অন্ধকারও নয়।
◈ চর্যাপদের ভাষা বুঝতে শুধু বাংলা ভাষাজ্ঞান যথেষ্ট নয়; বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনার প্রতীকও বোঝা দরকার।
◈ চর্যাপদের অনেক শব্দের দ্বৈত অর্থ আছে—একটি বাহ্যিক, একটি গুপ্ত।
◈ এই ভাষাগত বৈশিষ্ট্য চর্যাপদকে রহস্যময় ও গবেষণাযোগ্য করে তুলেছে।
???? পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
➤ সন্ধ্যা ভাষা = চর্যাপদ
➤ সন্ধ্যা ভাষা = গূঢ়/প্রতীকময়/ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষা
➤ বাহ্যিক অর্থ ও অন্তর্নিহিত অর্থ আলাদা
➤ পদাবলী/মঙ্গলকাব্য/রোমান্টিককাব্য নয়
09
🎯 Level 1

প্রশ্ন ২২) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা – (জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা: ১২)

ক. ব্রজবুলি

খ. সংস্কৃত

গ. সন্ধ্যা ভাষা

ঘ. বঙ্গ-কামরূপী

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ঘ. বঙ্গ-কামরূপী

ব্যাখ্যা:

✔ সঠিক উত্তর বিশ্লেষণ:
◉ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা বঙ্গ-কামরূপী। এখানে “বঙ্গ-কামরূপী” বলতে বাংলার প্রাচীন পূর্বাঞ্চলীয় ভাষারূপ এবং কামরূপ অঞ্চলের ভাষাগত বৈশিষ্ট্যের সমন্বিত প্রাচীন ধারা বোঝানো হয়েছে।
◉ চর্যাপদের ভাষা পুরোপুরি আধুনিক বাংলা নয়। এতে আদি বাংলা, পূর্বভারতীয় অপভ্রংশ-অবহট্ট ধারা এবং কামরূপ অঞ্চলের ভাষাগত প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তাই ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের ভাষাকে শুধু “বাংলা” বলে সরলভাবে সীমাবদ্ধ না রেখে বঙ্গ-কামরূপী ভাষারূপের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
➤ বঙ্গ = প্রাচীন বাংলা অঞ্চলের ভাষাধারা
➤ কামরূপ = বর্তমান আসামসংলগ্ন প্রাচীন অঞ্চল
➤ চর্যাপদ = পূর্বভারতীয় প্রাচীন ভাষার সম্মিলিত নিদর্শন
⇒ তাই সঠিক উত্তর: ঘ. বঙ্গ-কামরূপী।
✖ অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক. ব্রজবুলি
✖ ব্রজবুলি চর্যাপদের ভাষা নয়। ব্রজবুলি মূলত মধ্যযুগে বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে সম্পর্কিত কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা, যেখানে মৈথিলি ও বাংলা ভাষার মিশ্র প্রভাব দেখা যায়। বিদ্যাপতি ও বৈষ্ণব পদাবলি আলোচনায় ব্রজবুলির গুরুত্ব আছে; কিন্তু চর্যাপদ প্রাচীন যুগের নিদর্শন, ব্রজবুলি তার অনেক পরের সাহিত্যিক ভাষাধারা।
গ. সন্ধ্যা ভাষা
✖ “সন্ধ্যা ভাষা” চর্যাপদের ভাষার শৈলী বা প্রকাশরীতি, কিন্তু আঞ্চলিক ভাষার নাম নয়। অর্থাৎ চর্যাপদ কীভাবে বলা হয়েছে—তার উত্তর “সন্ধ্যা ভাষা”; কিন্তু কোন ভাষারূপ বা ভাষাগত অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত—তার উত্তর “বঙ্গ-কামরূপী”। তাই এই প্রশ্নে “সন্ধ্যা ভাষা” নয়।
???? অতিরিক্ত তথ্য:
◈ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন বাংলা ভাষাতত্ত্বের অন্যতম প্রধান গবেষক।
◈ তিনি বাংলা ভাষার উৎপত্তি, প্রাচীন বাংলা, চর্যাপদের ভাষা ও পূর্বভারতীয় ভাষাধারা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।
◈ চর্যাপদের ভাষা নিয়ে বাংলা, অসমিয়া, ওড়িয়া, মৈথিলি প্রভৃতি ভাষার গবেষকদের মধ্যে আলোচনা আছে।
◈ পরীক্ষায় “শহীদুল্লাহর মতে” বলা থাকলে উত্তর মনে রাখতে হবে—বঙ্গ-কামরূপী।
???? পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
➤ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষা = বঙ্গ-কামরূপী
➤ সন্ধ্যা ভাষা = ভাষার গূঢ় প্রকাশরীতি
➤ ব্রজবুলি = বৈষ্ণব পদাবলির সাহিত্যিক ভাষা
➤ চর্যাপদ = আদি বাংলা/পূর্বভারতীয় প্রাচীন ভাষার নিদর্শন
10
🎯 Level 1

প্রশ্ন ২৫) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ যে নামে প্রকাশ করেছিলেন তার নাম? (সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের সমাজসেবা অফিসার: ০৯)

ক. চর্যাপদাবলী

খ. চর্যগীতিকার

গ. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়

ঘ. হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা

✅ সঠিক উত্তর:ঘ. ঘ. হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা

ব্যাখ্যা:

✔ সঠিক উত্তর বিশ্লেষণ:
◉ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ প্রকাশ করেছিলেন “হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা” নামে। এটি চর্যাপদের প্রকাশিত গ্রন্থের বিখ্যাত শিরোনাম। এই নাম থেকেই বোঝা যায়—গ্রন্থটি বাংলা ভাষার বহু প্রাচীন বৌদ্ধ গান ও দোহার সংকলন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল।
◉ এখানে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়—
➤ “হাজার বছরের পুরান” = চর্যাপদের প্রাচীনতা নির্দেশ করে
➤ “বাংলা ভাষায়” = ভাষাগত পরিচয় নির্দেশ করে
➤ “বৌদ্ধ গান ও দোহা” = এর ধর্মীয় ও গীতিধর্মী প্রকৃতি নির্দেশ করে
◉ তাই প্রশ্নে যদি “হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কোন নামে প্রকাশ করেন” বলা হয়, তবে উত্তর হবে এই দীর্ঘ শিরোনাম।
⇒ সঠিক উত্তর: ঘ. হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা।
✖ অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক. চর্যাপদাবলী
✖ “চর্যাপদাবলী” নামটি চর্যাপদ বোঝাতে কল্পিত বা সাধারণীকৃত নাম হিসেবে মনে হতে পারে, কিন্তু হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর প্রকাশিত গ্রন্থের নির্দিষ্ট শিরোনাম এটি নয়।
খ. চর্যগীতিকার
✖ চর্যাপদকে চর্যাগীতি বলা হয়, কারণ এটি গীতিধর্মী পদ। কিন্তু “চর্যগীতিকার” শিরোনামে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ প্রকাশ করেননি। তাই এটি ভুল।
গ. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
✖ “চর্যাচর্যবিনিশ্চয়” চর্যাপদের পুঁথিগত বা প্রাচীন নামধারার সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর প্রকাশিত গ্রন্থের পরীক্ষামুখী শিরোনাম হিসেবে এটি সঠিক নয়। প্রশ্নে “প্রকাশ করেছিলেন যে নামে”—এখানে উত্তর হবে “হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা”।
???? অতিরিক্ত তথ্য:
◈ চর্যাপদ আবিষ্কার: ১৯০৭
◈ চর্যাপদ প্রকাশ: ১৯১৬
◈ প্রকাশিত নাম: হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা
◈ এই নামের মধ্যেই চর্যাপদের তিনটি পরিচয় আছে—প্রাচীন, বাংলা, বৌদ্ধ গান।
???? পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন:
➤ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ প্রকাশ করেন = হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা
➤ চর্যাচর্যবিনিশ্চয় = পুঁথিগত নামধারা
➤ আবিষ্কার সাল = ১৯০৭
➤ প্রকাশ সাল = ১৯১৬
📖 আরও প্রশ্ন Practice করতে App ব্যবহার করুন