অধ্যায় ০১ঃ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ-চর্যাপদ
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ বলতে ৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ সময়কে বোঝায়। প্রাচীন যুগকে অনেকেই আদ্যকাল, গীতি কবিতার যুগ, প্রাক-তুর্কি যুগ, গৌড় যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ।
চর্যাপদের সামসাময়িক এ অঞ্চলের সৃষ্ট সংস্কৃত-প্রাকৃত-অপভ্রংশ সাহিত্যও প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের প্রত্যক্ষ উপকরণ নয়।
প্রাচীন যুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ধর্ম নির্ভরতা হলেও ধর্মীয় আবহের ঊর্ধ্বে এদেশের সমাজব্যবস্থা ও মানুষের জীবনধারার চিত্রও পাওয়া যায়।
📋 বিগত বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্নের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
|
বিষয় |
গুরুত্ব |
বিসিএস প্রশ্ন |
|
বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ |
★ |
৩৫তম বিসিএস |
|
চর্যাপদ পরিচিতি |
★★★ |
৪৫, ৪০, ৪২, ৪১, ৪০, ৩৮, ৩৫, ৩৪, ৩০, ৩৩, ২৮, ১৪, ১৭তম বিসিএস |
|
চর্যাপদের নামকরণ |
★★ |
৪৬, ৩৭তম বিসিএস |
|
চর্যাপদের পদকর্তা |
★★ |
৪০, ৩৫, ৩০, ২৯তম বিসিএস |
|
চর্যাপদের প্রবাদ |
★ |
৪৩তম বিসিএস |
|
চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ |
★ |
৩৭তম বিসিএস |
|
ডাক ও খনার বচন |
★ |
৩৯তম বিসিএস |
📖 সাহিত্য ও বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ
ইংরেজি ‘লিটারেচার’ (Literature)-এর প্রতিশব্দ ‘সাহিত্য’। সাহিত্য বলতে সাধারণত কোনো লিখিত বিষয়বস্তুকে বোঝায়। ইন্দ্রিয় দ্বারা জাগতিক বা মহাজাগতিক চিন্তাচেতনা, অনুভূতি, সৌন্দর্য ও শিল্পের লিখিত বা লেখকের বাহ্য জীবনের অনুভূতি হচ্ছে সাহিত্য।
সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) বলেছেন—
“অন্তরের জিনিসকে বাহিরের, ভাবের জিনিসকে ভাষার, নিজের জিনিসকে বিশ্বমানবের ও ক্ষণকালের জিনিসকে চিরকালের করিয়া তোলাই সাহিত্যের কাজ।”
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস হাজার বছরের অধিক কালেরও পুরানো। এই দীর্ঘ ইতিহাসের পেছনে গভীর ও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আছে সংস্কৃত সাহিত্য, ইসলামী সাহিত্য ও ইংরেজি সাহিত্য।
এই প্রভাবের উদ্ভব হয়েছে বিভিন্ন যুগের রাজনৈতিক ঘটনা ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে। বাংলার মানুষের সামাজিক প্রেক্ষাপটে সাহিত্যকর্ম লিখে বিলুপ্ত হয়েছে। তবুও সময়ের স্রোতে, যেসব সাহিত্য মুছে যায়নি সেগুলোর ভিত্তিতে প্রাচীন ও মধ্যযুগের সীমানা টানা হয়েছে।
আধুনিক সময়ে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা ও প্রেসের ব্যবহার এই যুগের আবহের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছে।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে প্রধানত ৩টি যুগে ভাগ করা হয়েছে—
◈ প্রাচীন যুগ
৬৫০–১২০০
সপ্তম–দ্বাদশ শতক
◈ মধ্যযুগ
১২০১–১৮০০
ত্রয়োদশ–অষ্টাদশ শতক
◈ আধুনিক যুগ
১৮০১–বর্তমান পর্যন্ত
উনিশ শতক–বর্তমান
🏺 প্রাচীন যুগ
চর্যাপদের রচনাকালের উপর ভিত্তি করে প্রাচীন যুগের সময় নির্ধারণ করা হয়। প্রাচীন যুগের স্থায়িত্বকাল ৬৫০–১২০০ খ্রি. পর্যন্ত।
⚔️ মধ্যযুগ
মধ্যযুগের সময়কাল ১২০১–১৮০০ খ্রি.
মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছরকে (১২০১–১৩৫০ খ্রি.) বাংলা সাহিত্যের নির্দেশনহীনতার জন্য ‘The Dark Age’ বা অন্ধকার যুগ বলা হয়েছে।
শ্রীচৈতন্যদেবের (১৪৮৬–১৫৩৩ খ্রি.) আবির্ভাবের ফলে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ সমৃদ্ধ পথে অনেকখানি এগিয়ে যায়। চৈতন্য পরবর্তী যুগকে ‘সুবর্ণ বা স্বর্ণ যুগ’ বলা হয়।
বাংলা সাহিত্যে শ্রীচৈতন্যদেবের প্রভাবের ভিত্তিতে মধ্যযুগকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়—
১. প্রাকচৈতন্য যুগ — ১৩৫১–১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ
২. চৈতন্য যুগ — ১৫০১–১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ
৩. চৈতন্য পরবর্তী যুগ — ১৬০১–১৮০০ খ্রি.; মতান্তরে ১৭০১–১৮০০ খ্রি.
মধ্যযুগের ১৭৬০–১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ এই সময়কে যুগসন্ধিকাল বা অবক্ষয় যুগ বা দ্বিতীয় অন্ধকার যুগ বলা হয়।
🌆 আধুনিক যুগ
বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও, ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতচন্দ্রের মৃত্যুর পর থেকেই বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত বলে নানা সমালোচক মতপ্রকাশ করেছেন।
আধুনিক যুগকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়—
১. প্রথম পর্যায় — ১৮০১–১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
২. দ্বিতীয় পর্যায় — ১৮৬১–বর্তমান।
📜 চর্যাপদ আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট
বঙ্গীয় এশিয়াটিক সোসাইটির পক্ষ থেকে ১৮৮২ সালে রাজেন্দ্রলাল মিত্র Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে নেপালে প্রাপ্ত বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা উল্লেখ করেন।
১৮৯১ সালে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্রের মৃত্যুর পর বঙ্গীয় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রদত্ত দায়িত্ব পেয়ে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৮৯৭ ও ১৮৯৮ সালে দুইবার নেপাল যান।
১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে) তৃতীয় বার নেপালে গিয়ে তিনি নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার (রয়েল লাইব্রেরি) হতে ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ নামক পুঁথিটি আবিষ্কার করেন। এটি চর্যাপদ বলে পরিচিত।
চর্যাপদের সাথে সরহপাদের দোহা, কৃষ্ণপাদের দোহা ও ডাকর্ণব নামে আরও ৩টি বই আবিষ্কৃত হয়।
চর্যাপদ বাদে বাকি তিনটি বই অপভ্রংশ ভাষায় রচিত। দোহা হলো অপভ্রংশ ও হিন্দিতে রচিত দুই চরণবিশিষ্ট পদ।
◈ চর্যাপদ নেপালে পাওয়ার কারণ
১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি বাংলায় আক্রমণ করলে তুর্কিদের ভয়ে বৌদ্ধ পণ্ডিতগণ নেপাল ও তিব্বতে পালিয়ে যায়। ফলে চর্যাপদ নেপালে পাওয়া যায়।
📚 চর্যাপদ পরিচিতি
◈ রচনাকাল
◉ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের রচনাকাল ৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।
◉ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
◈ বিষয়বস্তু
◉ এর বিষয়বস্তু হলো বৌদ্ধ ধর্মমতের সাধন-ভজনের তত্ত্ব প্রকাশ। মহাসুখ নির্বাণ লাভ-চর্যার প্রধান তত্ত্ব।
◉ মহাসুখ পাওয়ার জন্য কোন সাধন পথটি আচরণীয় এবং কোনটি অনাচরণীয় তা নির্ণয় করা চর্যাপদের লক্ষ্য।
◉ পদগুলোতে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যের গোপন তত্ত্বদর্শন ও ধর্মচর্চাকে বাহ্যিক প্রতীকের সাহায্যে গানের/কাব্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
◈ আবিষ্কার
◉ ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে) তৃতীয় বার নেপালে গিয়ে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার (রয়েল লাইব্রেরি) হতে ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ নামক পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
◉ চর্যাপদের সাথে সরহপাদের দোহা, কৃষ্ণপাদের দোহা ও ডাকর্ণব নামে আরও ৩টি বই আবিষ্কৃত হয়।
◈ প্রকাশকাল
◉ হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ থেকে সবগুলো গ্রন্থ একসাথে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়।
◈ ভাষা
◉ চর্যাপদের ভাষায় বাংলা, উড়িয়া, অসমিয়া, হিন্দি ও মৈথিলি—এই ৫টি ভাষার প্রভাব দেখা গেলেও বাংলা ভাষার প্রভাবই বেশি ছিল।
◉ চর্যাপদের ভাষাকে ‘সন্ধ্যা ভাষা’ বা ‘সান্ধ্য ভাষা’ বা ‘আলো-আঁধারি ভাষা’ বলেছেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
◉ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন চর্যাপদের ভাষা বাংলা।
◉ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা বঙ্গ-কামরূপী।
◈ ধর্মমত
◉ ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের ‘ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ’ সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন তাঁর ‘Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে।
◉ মহাসুখ নির্বাণ লাভ চর্যার ধর্মমত বা প্রধান তত্ত্ব।
◈ ছন্দ
◉ চর্যাপদের পদগুলো মূলত পয়ার ও ত্রিপদী পদে রচিত। এতে মাত্রাবৃত্ত ছন্দের ব্যবহারও রয়েছে।
◉ ১৬ মাত্রার পাদাকুলক ছন্দের ব্যবহারই বেশি।
◈ টীকা
◉ মুনিদত্ত সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের টীকা লিখেন। তিনি ১১নং পদের টীকা লিখেননি।
◉ মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
◉ ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ সংগ্রহ/আবিষ্কার করে প্রকাশ করেন ১৯৩৮ সালে।
◈ পদসংখ্যা
◉ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে পদসংখ্যা ৫০টি এবং সুকুমার সেনের মতে ৫১টি।
🆕 নব চর্যাপদ
◉ নব চর্যাপদ হলো চর্যাপদের অনুরূপ সাহিত্য। এর রচনাকাল ১৩–১৫ শতক।
◉ ১৯৬৩ সালে ড. শশীভূষণ দাস নেপাল হতে এটি আবিষ্কার করেন।
◉ ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৮৯ সালে কলকাতা হতে ‘নব চর্যাপদ’ নামে প্রকাশ করেন।
◉ নব চর্যাপদের পদসংখ্যা ২৫০টি, কিন্তু প্রকাশিত হয় ৯৮টি পদ।
🆕 নতুন চর্যাপদ
◉ ঢাবি’র বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মুহাম্মদ শাহেদ ২০০৮ সালে নেপাল হতে নতুন চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
◉ এটি ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়।
◈ অনুবাদ
◉ চর্যাপদের ইংরেজি অনুবাদ করেছেন হাসান জসীম উদ্দীন মওদুদ। বইটির নাম Mystic Poetry of Bangladesh।
✦ Brief
➤ সান্ধ্য ভাষা/আলো আঁধারি ভাষা: এ ভাষা খানিক বোঝা যায়, খানিক বোঝা যায় না। কিছুটা স্পষ্ট, কিছুটা অস্পষ্ট।
➤ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ’ (The Origin and Development of the Bengali Language—ODBL) নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন চর্যাপদের ভাষা বাংলা।
➤ গ্রন্থের কয়েকেক পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়াতে ২৩নং পদের ১০ লাইনের মধ্যে ৬ লাইন পাওয়া গেছে এবং ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদগুলো পাওয়া যায়নি। ফলে চর্যাপদের আবিষ্কৃত পদসংখ্যা সাড়ে ছেচল্লিশটি বা ৪৬.৬।
[নোট: পরীক্ষায় কারো মত উল্লেখ না থাকলে ৫১টি উত্তর করতে হবে।]
◉ প্রতিটি পদে পঙক্তির সংখ্যা ১০টি।
📘 চর্যাপদের নামকরণ
চর্যাপদের প্রকৃত নাম নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। এখানে চর্যাপদের নামকরণ নিয়ে কিছু মত উল্লেখ করা হলো—
|
নাম |
নামকারক |
নাম |
নামকারক |
|
আশ্চর্যচর্যাচয় |
মুনিদত্ত |
চর্যাচর্যবিনিশ্চয় |
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী |
|
চর্যাচর্যবিনিশ্চয় |
নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে নাম |
চর্যাগীতিকোষবৃত্তি |
তিব্বতি অনুবাদের নাম |
|
চর্যাচর্যবিনিশ্চয় |
প্রবোধচন্দ্র বাগচী |
চর্যাগীতিকোষ |
আধুনিক পণ্ডিতদের মতে |
✦ Brief
➤ চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতা লুইপা।
১ম পদটি—
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পইঠো কাল।
অর্থ— শরীরে গাছ তাতে পাঁচখানি ডাল/চঞ্চল মনে তার ঢুকে পড়ে কাল।
➤ ঢেণ্ডণপার ৩৩নং পদের প্রসিদ্ধ পঙক্তি—
টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী।
হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী।
➤ চর্যাপদের পদকর্তাদের ‘সিদ্ধাচার্য’ বলা হয়। এরা ‘চুরাশি সিদ্ধাচার্য’ নামেও পরিচিত। তাদের নামের শেষে সম্মানসূচক ‘পা’ যোগ করা হয়।
➤ তারা ছিলেন সহজযানী বৌদ্ধ।
📚 চর্যাপদের পদকর্তা
◈ লুইপা
◉ ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীসহ অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে লুইপাই হলো চর্যাপদের আদি কবি।
◉ লুইপা বাঙালি কবি ছিলেন এবং তাঁর জন্ম উড়িষ্যায়।
◉ সংস্কৃত ভাষায় লুইপা ৫টি গ্রন্থ রচনা করেন—
১. অভিসময় বিভঙ্গ
২. বজ্রসত্ত্ব সাধন
৩. বুদ্ধোদয়
৪. ভগবদাভার
৫. তত্ত্ব স্বভাব
◈ কাহ্নপা
◉ তাঁর প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য। তাঁর বাড়ি উড়িষ্যা এবং তিনি সোমপুর বিহারে বাস করতেন।
◉ সর্বাধিক পদ রচনা করেছেন কাহ্নপা (১৩টি; ১২টি পাওয়া গিয়েছে)।
◉ চর্যাপদ ছাড়াও অপভ্রংশ ভাষায় তিনি দোহাকোষ রচনা করেন যা চর্যাপদের সাথে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থশালা হতে আবিষ্কার করা হয়।
◉ চর্যাপদে তাঁর কাহ্নু, কাহি, কাহিল, কৃষ্ণাচার্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ এই নামগুলো পাওয়া যায়।
◈ ভুসুকুপা
◉ তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব। তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন, শেষ জীবনে নালন্দা বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন।
◉ তিনি চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বাধিক পদ রচয়িতা (৮টি)।
◉ ৪৯নং পদে তিনি নিজেকে বাঙালি বলেছেন—
“আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী।
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।”
◈ সরহপা
◉ তৃতীয় সর্বাধিক পদ রচয়িতা (৪টি)।
◉ তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষও রচনা করেন যা চর্যাপদের সাথে নেপালের রাজদরবার হতে আবিষ্কৃত হয়।
◉ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, সরহপা আধুনিকতম পদকর্তা। অনেকের মতে, আধুনিকতম কবি ভুসুকুপা।
◈ কুক্কুরীপা
◉ প্রাচীনতম মহিলা কবি বলে ধারণা করা হয়।
◈ বাঙালি কবি
◉ গবেষকগণ ৭ জন কবিকে বাঙালি বলে উল্লেখ করেছেন। তারা হলেন—
লুইপা, কুক্কুরীপা, শবরপা, ভুসুকুপা, বিরূপপা, ধামপা, জয়ানন্দীপা।
✦ Brief
➤ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের প্রাচীন কবি শবরপা এবং লুইপার গুরু।
➤ ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীসহ অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে লুইপাই হলো চর্যাপদের আদি কবি।
➤ ভুসুকুপা নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন এবং পদ্মা (পদ্মাবতী)-এর উল্লেখ করেছেন ৪৯ নং পদে।
➤ চর্যা পদকর্তাদের মধ্যে ডোম্বীপা ত্রিপুরার, আহেন্দ্রপা নোয়ারের এবং কুক্কুরীপা বিক্রমপুরের রাজা ছিলেন।
➤ প্রাপ্ত পুঁথিতে ১০নং পদের পর লাড়ীডোম্বীপা নামে একজন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। তবে তাঁর কোনো পদ পাওয়া যায়নি, মুনিদত্তও তাঁর পদের ব্যাখ্যা দেননি। চর্যাপদে তন্ত্রীপার কোনো পদ পাওয়া যায়নি।
➤ কুক্কুরীপা-এর ভাষার সাথে নারীদের ভাষার মিল থাকায় তাকে চর্যার মহিলা কবি বলা হয়।
📊 উল্লেখযোগ্য কয়েকজন পদকর্তা ও পদসংখ্যা
|
পদকর্তা |
পদসংখ্যা |
প্রাপ্ত পদসংখ্যা |
|
কাহ্নপা |
১৩টি |
১২টি (২৪নং পদ পাওয়া যায়নি) |
|
ভুসুকুপা |
৮টি |
৭.৬টি (২৩নং পদের ৬টি লাইন পাওয়া গিয়েছে) |
|
সরহপা |
৪টি |
৪টি (২২, ৩২, ৩৮, ৩৯নং পদ) |
|
কুক্কুরীপা |
৩টি |
২টি (৪৮নং পদটি পাওয়া যায়নি) |
|
লুইপা |
২টি |
২টি (১, ২৯নং পদ) |
|
শান্তিপা |
২টি |
২টি (১৫, ২৬নং পদ) |
|
শবরপা |
২টি |
২টি (২৮, ৫০নং পদ) |
|
তন্ত্রীপা |
১টি |
২৫নং পদটি পাওয়া যায়নি |
বাকি পদকর্তাদের একটি করে পদ পাওয়া গেছে। তবে লাড়ীডোম্বীপা নামে একজন পদকর্তার নাম পাওয়া গেলেও তাঁর কোনো পদ পাওয়া যায়নি।
📜 চর্যাপদের প্রবাদবাক্য
চর্যাপদে ৬টি প্রবাদ বাক্য পাওয়া গেছে। যথা—
|
ক্র. নং |
পঙক্তি |
পদকর্তা |
পদ নং |
অর্থ |
|
১ |
আপনা মাংসে হরিণা বৈরী |
ভুসুকুপা |
৬ |
হরিণের মাংসই তার জন্য শত্রু। |
|
২ |
হাতের কাঁকন আছে মা লৌড় দাপণ |
সরহপা |
৩২ |
হাতের কাঁকন দেখার জন্য দর্পণের প্রয়োজন হয় না। |
|
৩ |
হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী |
ঢেণ্ডণপা |
৩৩ |
হাঁড়িতে ভাত নেই অথচ প্রতিদিন অতিথি আসেন। |
|
৪ |
দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় |
ঢেণ্ডণপা |
৩৩ |
দোয়ানো দুধ কী বাঁটে প্রবেশ করানো যায়? |
|
৫ |
বর শুন গোয়ালী কিম দুঠ্ঠ বলন্দে |
সরহপা |
৩৯ |
দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। |
|
৬ |
আন চাইতে, আন বিনথা |
কঙ্কণপা |
৪৪ |
অন্য চাইতে, অন্য বিনষ্ট। |
📚 চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ
|
গ্রন্থের নাম |
রচয়িতার নাম |
গ্রন্থের নাম |
রচয়িতার নাম |
|
Buddhist Mystic Songs |
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ |
History of Ancient Bengal |
রমেশচন্দ্র মজুমদার |
|
চর্যাপদ |
মণীন্দ্রমোহন বসু |
চর্যাগীতিকা |
আনোয়ার পাশা ও আবদুল হাই |
|
চর্যাপদ |
অতীন্দ্র মজুমদার |
নতুন চর্যাপদ |
সৈয়দ মুহাম্মদ শাহেদ |
|
বাঙালীর ইতিহাস (আদি পর্ব) |
ড. নীহাররঞ্জন রায় |
✦ Brief
৬৫০ মতান্তরে ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে চর্যাপদ লেখা হলেও ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এটিকে খুঁজে পান এবং ১৯১৬ সালে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে প্রকাশ করেন।
ত্রিপদী পয়ার মাত্রাবৃত্তে ৫১ পদে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ আছে বলে এর ভাষাকে সান্ধ্য নামে ডাকা হয়।
অথচ অনবহেলার ২৪, ২৫, ৪৮ ও ২৩ নং পদের অর্ধেক হারিয়ে গেছে।
🪶 ডাক ও খনার বচন
◉ ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
◉ ড. দীনেশচন্দ্র সেনের মতে, এগুলো ৮ম–১২শ শতকের; ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বৌদ্ধযুগের এবং ড. নীহাররঞ্জন রায়ের মতে এগুলো প্রাক-তুর্কি যুগের।
◉ প্রাচীন যুগের এক শ্রেণির বৌদ্ধতান্ত্রিক সাধককে ডাক বলা হত। ফলে তৎকালীন গূঢ় জীবনাচারগুলো ডাকের বচন নামে প্রসিদ্ধি লাভ করতে থাকে।
◉ ডাকের বচনগুলো আসামের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে এবং বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে রচিত হয়েছিল।
◉ খনার বচনকে খনা নামের মহিলার উক্তি মনে করা হলেও, আধুনিক গবেষণা অনুসারী, খনা কোনো মহিলার নাম নয়; কৃষক জীবনের বিভিন্ন বিচিত্র অভিজ্ঞতাই খনার নামে প্রচারিত হয়েছে।
◈ ডাকের বচন
➤ নিয়ত গোয়াখী দূরে যায়
➤ পথিক দেখিয়া আঁতড়ে চায়।
➤ রাঁধে বাড়ে গায় না লাগে কাতি
➤ অতিথি দেখিয়া মরে লাজে।
➤ পরিহর বিনা কাঁড়িতে হাঁট
➤ পরিহর বিনা লড়িতে বাট।
◈ খনার বচন
➤ খাটে খাটায় লাভের গতি
➤ তার অর্ধেক কাঁধে ছাতি।
➤ দিনে রোদ রাতে জল
➤ তাতে বাড়ে ধানের বল।
➤ খনা ডাক দিয়া বলে
➤ চিটা দিলে লাভ নাহি।
📝 বিগত বছরের BCS প্রিলি পরীক্ষার প্রশ্ন
০১। চর্যাপদের কবিরা ছিলেন—
[৪৬তম বিসিএস]
ক) মহাযানী বৌদ্ধ
খ) বজ্রযানী বৌদ্ধ
গ) বাউল
ঘ) সহজযানী বৌদ্ধ
উত্তর: ঘ
০২। চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশ করেন কে?
[৪৫তম বিসিএস]
ক) প্রবোধচন্দ্র বাগচী
খ) যতীন্দ্র মোহন বাগচী
গ) প্রফুল্ল মোহন বাগচী
ঘ) প্রণয়ভূষণ বাগচী
উত্তর: ক
০৩। ‘চর্যাপদ’-এর প্রাপ্তিস্থান কোথায়?
[৪৩তম বিসিএস]
ক) বাংলাদেশ
খ) নেপাল
গ) উড়িষ্যা
ঘ) ভুটান
উত্তর: খ
০৪। ‘রুখের তেঁতুলি কুমীরে খাই’—এর অর্থ কী?
[৪৩তম বিসিএস]
ক) তেঁতুল কুমিরকে কষ্ট দেয়
খ) বৃক্ষের শাখায় পাকা তেঁতুল
গ) গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
ঘ) ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হয়
উত্তর: গ
০৫। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি কী?
[৪৩তম বিসিএস]
ক) পণ্ডিত
খ) বিদ্যাসাগর
গ) শাস্ত্রজ্ঞ
ঘ) মহামহোপাধ্যায়
উত্তর: ঘ) মহামহোপাধ্যায়
০৬। কোন সাহিত্যকর্মে সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ আছে?
[৪২তম বিসিএস (স্বাস্থ্য)]
ক) পদাবলী
খ) গীতগোবিন্দ
গ) চর্যাপদ
ঘ) চৈতন্যজীবনী
উত্তর: গ
০৭। চর্যাপদের টীকাকারের নাম কী?
[৪১তম বিসিএস]
ক) মীননাথ
খ) প্রবোধচন্দ্র বাগচী
গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ঘ) মুনিদত্ত
উত্তর: ঘ
০৮। চর্যাপদে কোন ধর্মমতের কথা আছে?
[৪০তম বিসিএস]
ক) খ্রিষ্টধর্ম
খ) প্যাগানিজম
গ) জৈনধর্ম
ঘ) বৌদ্ধধর্ম
উত্তর: ঘ
০৯। উল্লেখিতদের মধ্যে কে প্রাচীন যুগের কবি নন?
[৪০তম বিসিএস]
ক) কাহ্নপাদ
খ) লুইপাদ
গ) শান্তিপাদ
ঘ) রমণীপাদ
উত্তর: ঘ
১০। ‘খনার বচন’-এর মূলভাব কী?
[৩৯তম বিসিএস (স্বাস্থ্য)]
ক) লৌকিক প্রথাসঙ্গীত
খ) শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
গ) সামাজিক মঙ্গলবোধ
ঘ) রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি
উত্তর: খ
১১। ‘সন্ধ্যাভাষা’ কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে যুক্ত?
[৩৮তম বিসিএস]
ক) চর্যাপদ
খ) পদাবলি
গ) মঙ্গলকাব্য
ঘ) রোমান্সকাব্য
উত্তর: ক
১২। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?
[৩৭তম বিসিএস]
ক) Buddhist Mystic Songs
খ) চর্যাগীতিকা
গ) চর্যাগীতিকোষ
ঘ) হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
উত্তর: ক
১৩। ‘চর্যাগীতিকোষ’-এর অর্থ কী?
[৩৭তম বিসিএস]
ক) কোনটি চর্যাগান, আর কোনটি নয়
খ) কোনটি আচরণীয়, আর কোনটি নয়
গ) কোনটি চরণযুক্ত, আর কোনটি নয়
ঘ) কোনটি আচারের, আর কোনটি নয়
উত্তর: খ
১৪। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন কোনটি?
[৩৫তম বিসিএস]
ক) নিরঞ্জনের রুষ্মা
খ) দোহাকোষ
গ) গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস
ঘ) ময়নামতির গান
উত্তর: খ
১৫। সবচেয়ে বেশি চর্যাপদ পাওয়া গেছে কোন কবির?
[৩৫তম বিসিএস]
ক) লুইপা
খ) শবরপা
গ) ভুসুকুপা
ঘ) কাহ্নপা
উত্তর: ঘ
১৬। বাংলা সাহিত্যের পঠন-পাঠনের সুবিধার জন্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ—
[৩৪তম বিসিএস]
ক) ৪৫০–৬৫০
খ) ৬৫০–৮৫০
গ) ৬৫০–১২০০
ঘ) ৬৫০–১২৫০
উত্তর: গ
১৭। বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কত সালে?
[৩৪তম ও ৩০তম বিসিএস]
ক) ২০০৭ সালে
খ) ১৯০৭ সালে
গ) ১৯০৯ সালে
ঘ) ১৯১৬ সালে
উত্তর: খ
১৮। চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা?
[৩০তম বিসিএস]
ক) অক্ষরবৃত্ত
খ) মাত্রাবৃত্ত
গ) স্বরবৃত্ত
ঘ) অমিত্রাক্ষর ছন্দ
উত্তর: খ
১৯। কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন?
[৩০তম বিসিএস]
ক) গোবিন্দ দাস
খ) কায়াকোবাদ
গ) কাহ্নপা
ঘ) ভুসুকুপা
উত্তর: ঘ
২০। বাংলা সাহিত্যের আদি কবি কে?
[২৯তম বিসিএস]
ক) কাহ্নপা
খ) লুইপা
গ) সরহপা
ঘ) শবরপা
উত্তর: খ
২১। চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কোথা থেকে?
[২৮তম বিসিএস]
ক) বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে
খ) আরাকান রাজগ্রন্থাগার থেকে
গ) নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে
ঘ) সুদূর চীন দেশ থেকে
উত্তর: গ
২২। বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য সংকলন চর্যাপদ-এর আবিষ্কারক—
[১৭তম বিসিএস]
ক) ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
খ) ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ঘ) ডক্টর সুকুমার সেন
উত্তর: গ
২৩। বাংলা ভাষার আদি স্তরের স্থিতিকাল কোনটি?
[১৪তম বিসিএস]
ক) দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী
খ) একাদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী
গ) দ্বাদশ থেকে ষোড়শ শতাব্দী
ঘ) ত্রয়োদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী
উত্তর: ক
এই lecture সম্পর্কে আপনার মতামত
Login করার প্রয়োজন নেই। আপনার review আগে admin দেখে approve করলে সবার জন্য প্রকাশিত হবে।
@Abir
Thank you so much for your valuable comment and support! ❤️
Please download our **BCS Job Solution** app, where you’ll find **thousands of practice questions with detailed explanations** to help make your BCS preparation easier, smarter, and more effective.
Wishing you all the best for your BCS journey! 📚✨
Nice Presentation but it would be good to get some practice.