HomeLecture Zoneবাংলা সাহিত্য
📖 WEBSITE LECTURE CONTENT

অধ্যায় ০২ (পার্ট–২) : বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ-শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

Special BCS Lectures বাংলা সাহিত্য

বাংলা সাহিত্যঅধ্যায় ০২ (পার্ট–২) : বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ-শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
✦ FREE LECTURE

অধ্যায় ০২ (পার্ট–২) : বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ-শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

Special BCS Lectures বাংলা সাহিত্য

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটি যুগান্তকারী কাব্য। চর্যাপদের পরে বাংলা ভাষা সাহিত্যের বিকাশের ধারাবাহিকতা বোঝার ক্ষেত্রে কাব্যের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি বড়ু চণ্ডীদাস রচিত রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনিনির্ভর আখ্যানকাব্য। গবেষকদের সাধারণ অভিমত অনুযায়ী এটি প্রাক্‌-চৈতন্য যুগের, সম্ভবত চতুর্দশ শতকের রচনা। বাংলাপিডিয়াও মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই এর স্থান নির্দেশ করেছে।

BCS Preliminary-এর জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন থেকে ২৮তম, ২৯তম, ৩৮তম, ৪৪তম ৪৬তম BCS-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্ন এসেছে; আর চণ্ডীদাস থেকে ২১তম ২২তম BCS- সরাসরি প্রশ্ন এসেছে।


🪷 শ্রীকৃষ্ণকীর্তন : পরিচয় সাহিত্যিক গুরুত্ব

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের আদি পর্যায়ের অন্যতম প্রধান নিদর্শন। চর্যাপদ একাধিক কবির পদসংকলন; বিপরীতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একজন কবির রচিত সুসংবদ্ধ কাহিনিকাব্য। এই বিবেচনায় এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

কাব্যের কেন্দ্রীয় বিষয় রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা তবে পরবর্তী বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণপ্রেম যে গভীর আধ্যাত্মিক ভক্তিমূলক রূপ লাভ করে, শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে তার পাশাপাশি মানবিক প্রেম, আকর্ষণ-বিকর্ষণ, কামনা, মান-অভিমান, বিরহ এবং গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতাও প্রবলভাবে উপস্থিত।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের গুরুত্ব

মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের আদি পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
চর্যাপদের পর বাংলা ভাষার প্রাচীনতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক নিদর্শনগুলোর একটি।
একজন কবির রচিত প্রাচীন বাংলা কাহিনিকাব্যের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
রাধা-কৃষ্ণ প্রেমকাহিনিকে কেন্দ্র করে রচিত।
কাব্য, সংগীত নাট্যধর্মিতার সমন্বয় ঘটেছে।
মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার রূপ বিবর্তন বোঝার মূল্যবান উপাদান।
পরবর্তী বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যের বিকাশের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ভিত্তি।

মূল নোটে একে মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন এবং খাঁটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।


📜 কাব্যের নাম : ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তননাশ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাযোগ্য বিষয় রয়েছে।

আবিষ্কৃত পুথিটির প্রথম শেষাংশের কিছু পাতা অনুপস্থিত ছিল। ফলে কবির দেওয়া মূল নাম নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। পুথির মধ্যে পাওয়া একটি চিরকুটে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামটির উল্লেখ পাওয়া যায়। এই কারণে কোনো কোনো গবেষক মনে করেন, কাব্যটির মূল নাম সম্ভবত শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ

অন্যদিকে আবিষ্কারক সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ গ্রন্থটির নাম দেন

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

নামেই পরবর্তীকালে কাব্যটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত হয়।

🔥 BCS Confusion

পুথিতে পাওয়া নামশ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
প্রচলিত/সম্পাদকের দেওয়া নামশ্রীকৃষ্ণকীর্তন


🔍 শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার

শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম

👤 বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ

তিনি ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে পুথিটি আবিষ্কার করেন।

পুথিটি পাওয়া যায় দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘরের মাচায় সংরক্ষিত অবস্থায়। বাংলাপিডিয়াও ১৯০৯ সালে কাঁকিল্যা গ্রামে দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের পুথিটি আবিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করে।

🧠 মনে রাখার সূত্র

১৯০৯বসন্তরঞ্জন রায়বাঁকুড়াকাঁকিল্যাদেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়গোয়ালঘর

এই একটি লাইন থেকেই একাধিক MCQ তৈরি হয়।

🔥 পূর্ববর্তী BCS

৪৬তম BCS: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাঁকিল্যা গ্রাম কেন উল্লেখযোগ্য?
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান।

৪৪তম BCS: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল?
গোয়ালঘর থেকে।


📚 সম্পাদনা প্রকাশ

পুথি আবিষ্কারের কয়েক বছর পর বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভের সম্পাদনায় এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

প্রকাশকাল

১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ = ১৩২৩ বঙ্গাব্দ

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান

বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, কলকাতা

অর্থাৎ

আবিষ্কার১৯০৯
প্রকাশ১৯১৬

এই দুটি সাল একসঙ্গে মনে রাখা জরুরি। মূল নোটেও ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

🧠 Memory Trick

০৯- পাওয়া, ১৬-তে ছাপা।


শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচনাকাল

শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের সুনির্দিষ্ট রচনাকাল নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে তাই পরীক্ষায় কোনো একটি মতকে সর্বজনস্বীকৃত রচনাকাল হিসেবে ধরে নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট গবেষকের নামসহ মতটি মনে রাখা ভালো।

মূল নোটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মত দেওয়া হয়েছে

রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়পুথিটি ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে, সম্ভবত চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে লিখিত।

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কাব্যের ভাষা ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্ববর্তী

. মুহম্মদ শহীদুল্লাহরচনাকাল আনুমানিক ১৩৪০১৪৪০ খ্রিস্টাব্দ

আধুনিক রেফারেন্সেও একক নির্দিষ্ট সাল দেওয়ার পরিবর্তে কাব্যটিকে সাধারণত প্রাক্‌-চৈতন্য যুগের, আনুমানিক চতুর্দশ শতকের রচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⚠️ তাই পরীক্ষায়

রচনাকালবিতর্কিত
যুগপ্রাক্‌-চৈতন্য যুগ
সাধারণভাবেচতুর্দশ শতক


🌿 শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচনার উৎস প্রেরণা

কাব্যের মূল কাহিনি রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা। এর পেছনে ভাগবতীয় কৃষ্ণকাহিনি, লোকসমাজে প্রচলিত রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকথা এবং পূর্ববর্তী কৃষ্ণকাব্যের প্রভাব রয়েছে।

বিশেষভাবে জয়দেবেরগীতগোবিন্দ-এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। মূল নোটেও ভাগবতের কাহিনি অনুসরণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে লোকসমাজে প্রচলিত রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে কাব্য রচনার কথা বলা হয়েছে।

🔗 সাহিত্যিক ধারাবাহিকতা

ভাগবতের কৃষ্ণকাহিনি

জয়দেবের গীতগোবিন্দ

লোকসমাজের রাধা-কৃষ্ণ প্রেমকাহিনি

বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

পরবর্তী বৈষ্ণব পদাবলি


📑 শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের ১৩ খণ্ড

প্রাপ্ত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত

ক্রম

খণ্ড

ক্রম

খণ্ড

জন্ম খণ্ড

কালিয়দমন খণ্ড

তাম্বুল খণ্ড

যমুনা খণ্ড

দান খণ্ড

১০

হার খণ্ড

নৌকা খণ্ড

১১

বাণ খণ্ড

ভার খণ্ড

১২

বংশী খণ্ড

ছত্র খণ্ড

১৩

রাধাবিরহ/বিরহ খণ্ড

বৃন্দাবন খণ্ড

   

এই ১৩ খণ্ডের বিন্যাস নোটের খণ্ড-চিত্রেও দেওয়া হয়েছে। অন্য উৎসেও একই ১৩ খণ্ডের তালিকা পাওয়া যায়।

🧠 মনে রাখুন

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন১৩ খণ্ড

⚠️ পরীক্ষার ফাঁদ

কালিদাস খণ্ড নামে কোনো খণ্ড নেই।


🎭 প্রধান চরিত্র

শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের কাহিনি প্রধানত তিনটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত

🟦 কৃষ্ণ

কাহিনির নায়ক। প্রতীকী ব্যাখ্যায়

কৃষ্ণপরমাত্মা/ঈশ্বর

🩷 রাধা

কাহিনির নায়িকা। প্রতীকী ব্যাখ্যায়

রাধাজীবাত্মা/প্রাণিকুল

🟨 বড়াই

রাধা-কৃষ্ণের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনকারী গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র

বড়াইরাধা-কৃষ্ণের প্রেমের দূতী

মূল নোটের চরিত্র-চিত্রেও এই তিনটি সম্পর্ক স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে।


👵 বড়াই চরিত্র

BCS-এর জন্য বড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি রাধা কৃষ্ণের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং তাঁদের প্রেমের ঘটনাপ্রবাহকে এগিয়ে নিয়ে যান। তাই তাঁকে বলা হয়

রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের দূতী

🔥 ২৮তম BCS

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বড়াই কী ধরনের চরিত্র?

রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের দূতী

⚠️ Confusion

বড়াই

রাধার শাশুড়ি নন
কৃষ্ণের আত্মীয় নন
কোনো দেবী নন
রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের দূতী


🎼 কাব্যের প্রকৃতি : পদাবলি, ধামালি, প্রেমগীতি না নাটগীতি?

এখানে BCS-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি classification trap রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত করা যায়।

গঠনরীতির দিক থেকে

নাটগীতি / নাট্যগীতি

প্রকরণের দিক থেকে

পদাবলি

রস সঞ্চরণের দিক থেকে

ধামালি

কাহিনি বর্ণনার দিক থেকে

প্রেমগীতি

অর্থাৎ প্রশ্নে কোন দিক থেকে?” বলা হয়েছে, সেটি না দেখে উত্তর দিলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই শ্রেণিবিন্যাসটি মূল নোটেও স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে।

🔥 ৩৮তম BCS

গঠনরীতিতেশ্রীকৃষ্ণকীর্তনকাব্য মূলত

নাটগীতি/নাট্যগীতি

🧠 Master Formula

গঠননাটগীতি
প্রকরণপদাবলি
রসধামালি
কাহিনিপ্রেমগীতি


🎭 শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের নাট্যগুণ

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পূর্ণাঙ্গ নাটক নয়; কিন্তু এর মধ্যে প্রবল নাট্যধর্মিতা রয়েছে। রাধা, কৃষ্ণ বড়াইয়ের কথোপকথন, উক্তি-প্রত্যুক্তি, দ্বন্দ্ব, পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং কাহিনির গতিশীলতার কারণে কাব্যটি নাটকের কাছাকাছি চলে এসেছে।

এই কারণে একে নাট্যলক্ষণাক্রান্ত আখ্যানকাব্য বলেও ব্যাখ্যা করা হয়। কাব্যগুণের সঙ্গে নাট্যগুণের সমন্বয়ই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।


✍️ বড়ু চণ্ডীদাস

শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। তাঁর জীবন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না। তবে কাব্যের ভণিতা থেকে তাঁর নাম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে তিন ধরনের ভণিতা পাওয়া যায়

বড়ু চণ্ডীদাস
চণ্ডীদাস
অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস

এই ভণিতাগুলো থেকেই রচয়িতার পরিচয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়।

🔥 ২৯তম BCS

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-এর রচয়িতা কে?
বড়ু চণ্ডীদাস


🪷 বড়ু চণ্ডীদাসের পরিচয়

বড়ু চণ্ডীদাসকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের আদি কবিদের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চর্যাপদ একাধিক কবির রচনা হওয়ায় এবং শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একজন কবির সুসংবদ্ধ কাহিনিকাব্য হওয়ায় পরীক্ষামুখী আলোচনায় তাঁকে মধ্যযুগের আদি/প্রথম প্রধান কবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তিনি বাসলী বা বাশুলী দেবীর উপাসক/সেবক ছিলেন। তাঁর পরিচয়ের সঙ্গেঅনন্ত’, ‘বড়ুএবংচণ্ডীদাস’—এই তিনটি অংশের ব্যাখ্যাও বিভিন্ন সাহিত্য-ইতিহাসে আলোচিত হয়েছে। মূল নোটেঅনন্তকে নাম, ‘বড়ু/বড়ুয়াকে পারিবারিক পদবি এবংচণ্ডীদাসকে গুরুপ্রদত্ত নাম বা উপাধি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

হুমায়ুন আজাদের মূল্যায়ন

মূল নোটে হুমায়ুন আজাদের মতে বড়ু চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মহাকবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


⚠️ বড়ু চণ্ডীদাস বনাম চণ্ডীদাস

এখানেই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি হয়।

বড়ু চণ্ডীদাস

রচনাশ্রীকৃষ্ণকীর্তন

অন্যদিকে

চণ্ডীদাস

বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি

সাহিত্য-ইতিহাসেচণ্ডীদাসনামধারী একাধিক কবির অস্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস এবং চণ্ডীদাস ইত্যাদি নাম পাওয়া যায়।

🧠 তাই পরীক্ষায় প্রশ্নের শব্দ লক্ষ্য করুন

শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা?
বড়ু চণ্ডীদাস

বৈষ্ণব পদাবলির আদি/প্রধান কবি?
চণ্ডীদাস


🌼 চণ্ডীদাস : বৈষ্ণব পদাবলির কবি

চণ্ডীদাস বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি এবং রাধা-কৃষ্ণের প্রেম, বিশেষত পূর্বরাগ বিরহের অনুভূতি প্রকাশে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

মূল নোটে তাঁকে

বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি
পদাবলির শ্রেষ্ঠ কবি
দুঃখের কবি
সত্যের কবি
বিরহের কবি
পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ কবি

হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।


💔 চণ্ডীদাসের কাব্যে পূর্বরাগ

পূর্বরাগ হলো নায়ক-নায়িকার প্রত্যক্ষ মিলনের পূর্বেই পরস্পরের রূপ, গুণ বা পরিচয়ের কথা শুনে যে প্রেমানুভূতির সৃষ্টি হয়।

চণ্ডীদাস এই পূর্বরাগের অনুভূতি প্রকাশে বিশেষ দক্ষ। তাঁর পদে প্রেম কোনো শুষ্ক ধর্মতত্ত্ব নয়; প্রেম মানুষের মনের গভীর আকুলতা, দুঃখ, বিরহ আত্মসমর্পণের ভাষা পেয়েছে।

বিখ্যাত পদ

সই, কে শুনাইল শ্যাম নাম...”

শ্যামের নাম শোনার মধ্য দিয়েই রাধার মনে প্রেমের যে আলোড়নতা পূর্বরাগের উৎকৃষ্ট প্রকাশ।


🌺 চণ্ডীদাসের মানবতাবাদ

চণ্ডীদাসের সঙ্গে বহুল প্রচলিত পঙ্‌ক্তি

সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।

বাংলা সাহিত্য সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষায় পঙ্‌ক্তিটি চণ্ডীদাসের নামের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত।

🔥 ২১তম BCS

সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”—কে বলেছেন?
চণ্ডীদাস

🔥 ২২তম BCS

পদাবলি প্রথম কবি কে?
চণ্ডীদাস

দুটি প্রশ্নই নোটে পূর্ববর্তী BCS প্রশ্ন হিসেবে রয়েছে।


💎 শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বনাম বৈষ্ণব পদাবলি

বিষয়

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

বৈষ্ণব পদাবলি

প্রধান কবি

বড়ু চণ্ডীদাস

চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস প্রমুখ

প্রকৃতি

কাহিনিনির্ভর আখ্যান

স্বতন্ত্র গীতিকবিতা/পদ

বিষয়

রাধা-কৃষ্ণ প্রেম

রাধা-কৃষ্ণ প্রেম কৃষ্ণভক্তি

সময়

প্রাক্‌-চৈতন্য

চৈতন্যপূর্ব চৈতন্যোত্তর উভয় পর্যায়

নাট্যধর্মিতা

অত্যন্ত প্রবল

তুলনামূলক কম

প্রধান চরিত্র

কৃষ্ণ, রাধা, বড়াই

মূলত রাধা-কৃষ্ণ

পরীক্ষায় বিশেষ শব্দ

বড়াই, ১৩ খণ্ড, কাঁকিল্যা, নাটগীতি

ব্রজবুলি, পূর্বরাগ, অভিসার, মধুর রস


🔥 BCS CONFUSION ZONE

চর্যাপদ বনাম শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

চর্যাপদপ্রাচীন যুগএকাধিক কবির পদ
শ্রীকৃষ্ণকীর্তনমধ্যযুগবড়ু চণ্ডীদাসকাহিনিকাব্য

আবিষ্কার বনাম প্রকাশ

আবিষ্কার১৯০৯
প্রকাশ১৯১৬

আবিষ্কারক বনাম রচয়িতা

আবিষ্কারকবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
রচয়িতাবড়ু চণ্ডীদাস

স্থান

কাঁকিল্যাপুথির প্রাপ্তিস্থান
গোয়ালঘরের মাচাপুথি যেখানে পাওয়া যায়

নাম

শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভপুথির চিরকুটে পাওয়া নাম
শ্রীকৃষ্ণকীর্তনপ্রচলিত/সম্পাদকের দেওয়া নাম

চরিত্র

কৃষ্ণপরমাত্মা
রাধাজীবাত্মা
বড়াইপ্রেমের দূতী

প্রকৃতি

গঠননাটগীতি
প্রকরণপদাবলি
রসধামালি
কাহিনিপ্রেমগীতি


🎯 BCS Previous Question Focus

BCS

প্রশ্নের বিষয়

উত্তর

৪৬তম

কাঁকিল্যা গ্রামের গুরুত্ব

শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের প্রাপ্তিস্থান

৪৪তম

কোথা থেকে উদ্ধার

গোয়ালঘর

৩৮তম

গঠনরীতিতে কাব্যটি

নাটগীতি/নাট্যগীতি

২৯তম

শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের রচয়িতা

বড়ু চণ্ডীদাস

২৮তম

বড়াই কী ধরনের চরিত্র

রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের দূতী

২২তম

পদাবলির প্রথম কবি

চণ্ডীদাস

২১তম

সবার উপরে মানুষ সত্য...”

চণ্ডীদাস


🧠 এক নজরে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

রচয়িতাবড়ু চণ্ডীদাস
যুগমধ্যযুগের আদি/প্রাক্‌-চৈতন্য পর্যায়
বিষয়রাধা-কৃষ্ণ প্রেমলীলা
প্রধান চরিত্ররাধা + কৃষ্ণ + বড়াই
বড়াইপ্রেমের দূতী
খণ্ড১৩টি
আবিষ্কারকবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
আবিষ্কার১৯০৯
স্থানবাঁকুড়ার কাঁকিল্যা গ্রাম
প্রাপ্তিস্থানদেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘরের মাচা
প্রকাশ১৯১৬
প্রকাশক প্রতিষ্ঠানবঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
সম্পাদকবসন্তরঞ্জন রায়
পুথিতে পাওয়া সম্ভাব্য নামশ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
গঠনরীতিনাটগীতি
প্রকরণপদাবলি
রস সঞ্চরণধামালি
কাহিনি বর্ণনাপ্রেমগীতি


Final Revision Formula

বড়ু চণ্ডীদাস

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

প্রাক্‌-চৈতন্য যুগ

রাধা + কৃষ্ণ + বড়াই

১৩ খণ্ড

১৯০৯বসন্তরঞ্জন রায়কাঁকিল্যাগোয়ালঘর

১৯১৬বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ

গঠনরীতিনাটগীতি

আর

চণ্ডীদাস

বৈষ্ণব পদাবলি

চৈতন্যপূর্ব কবি

পূর্বরাগ বিরহ

সই, কে শুনাইল শ্যাম নাম

সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই

 

⭐ PUBLIC FEEDBACK

এই lecture সম্পর্কে আপনার মতামত

Rating Summary 0.0 0 approved review

Login করার প্রয়োজন নেই। আপনার review আগে admin দেখে approve করলে সবার জন্য প্রকাশিত হবে।

Rating *
এখনও কোনো approved review নেই। আপনার মতামতটি প্রথম হতে পারে।