📝Regular Exam
📝 Regular Exam Previous

বাংলাদেশ বিষয়াবলি-বাঙালি জাতির ইতিহাস

◉ Exam ZoneRegular Exam

এই Exam-এর তথ্য, syllabus এবং নির্বাচিত Sample MCQ এখানে পড়ুন। পূর্ণ Exam attempt, timer, result, score ও progress App-এর existing system অনুযায়ী চলবে।

25মোট প্রশ্ন
⏱️10মিনিট
🎯25পূর্ণমান
🪙5Entry Coins
📝

নির্বাচিত Sample MCQ

এই Exam থেকে বাছাই করা সর্বোচ্চ ১০টি Sample MCQ, সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা

01
🎯 1 Mark

বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বর্ণনা কোনটি?

একক আর্য জাতি

একক দ্রাবিড় জাতি

বহু জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে গঠিত সংকর জাতিসত্তা

একক মঙ্গোলীয় জাতি

✅ সঠিক উত্তর:গ. বহু জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে গঠিত সংকর জাতিসত্তা

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক উত্তর:
বহু জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে গঠিত সংকর জাতিসত্তা

✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
বাঙালি জাতি কোনো একক নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সরাসরি উত্তরসূরি নয়। দীর্ঘ সময় ধরে এ অঞ্চলে অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, আর্য ও মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণ ঘটেছে। এ পারস্পরিক মিশ্রণ, ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাবে বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ ঘটে। তাই বাঙালিকে সংকর বা মিশ্র জাতিসত্তা বলা হয়।

◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ একক আর্য জাতি ⇒ আর্য উপাদান বাঙালি জাতিসত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও বাঙালি কেবল আর্য জনগোষ্ঠী থেকে গঠিত নয়।
❖ একক দ্রাবিড় জাতি ⇒ দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর প্রভাব থাকলেও বাঙালি জাতির গঠনে আরও বহু জনগোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে।
❖ একক মঙ্গোলীয় জাতি ⇒ মঙ্গোলীয় প্রভাব বিশেষত পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে লক্ষণীয় হলেও সমগ্র বাঙালি জাতির একক পরিচয় মঙ্গোলীয় নয়।

✦ মনে রাখার কৌশল / শর্টকাট:
মনে রাখুন: বাঙালি = অস্ট্রিক + দ্রাবিড় + আর্য + মঙ্গোলীয় প্রভাব; তাই পরিচয় হলো ‘সংকর জাতিসত্তা’।
02
🎯 1 Mark

বাঙালি জাতির গঠনপ্রক্রিয়ায় বাংলার প্রাচীনতম অধিবাসী হিসেবে সাধারণভাবে কোন জনগোষ্ঠীকে উল্লেখ করা হয়?

অস্ট্রিক জনগোষ্ঠী

আর্য জনগোষ্ঠী

গ্রিক জনগোষ্ঠী

আরব জনগোষ্ঠী

✅ সঠিক উত্তর:ক. অস্ট্রিক জনগোষ্ঠী

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক জনগোষ্ঠী

✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
বাংলার প্রাচীন অধিবাসীদের মধ্যে অস্ট্রিক জনগোষ্ঠীকে সাধারণভাবে অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসেবে ধরা হয়। এ জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন শাখা, বিশেষ করে মুন্ডাভাষী গোষ্ঠীগুলো, প্রাচীন বাংলার জনবিন্যাস ও সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রেখেছে। পরবর্তীকালে দ্রাবিড়, আর্য ও মঙ্গোলীয় উপাদানের সঙ্গে সংমিশ্রণের মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তা আরও বিকশিত হয়।

◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ আর্য জনগোষ্ঠী ⇒ আর্যদের আগমন অস্ট্রিক জনগোষ্ঠীর বসতির পরবর্তী পর্যায়ের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
❖ গ্রিক জনগোষ্ঠী ⇒ গ্রিকদের সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের যোগাযোগ থাকলেও তারা বাংলার প্রাচীনতম জনবসতির ভিত্তি নয়।
❖ আরব জনগোষ্ঠী ⇒ আরবদের সঙ্গে বাংলার যোগাযোগ অনেক পরের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ধারায় গড়ে ওঠে; তারা প্রাচীনতম অধিবাসী নয়।

✦ মনে রাখার কৌশল / শর্টকাট:
‘অস্ট্রিক আগে, আর্য পরে’—এই ধারনাটি মনে রাখলে প্রাচীন জনবসতি-সংক্রান্ত প্রশ্ন সহজ হয়।
03
🎯 1 Mark

সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ভাষাগত সম্পর্ক প্রধানত কোন প্রাচীন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত?

অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়

আর্য

সেমিটিক

তুর্কি

✅ সঠিক উত্তর:ক. অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়

✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ভাষা সাঁওতালি, যা মুন্ডা ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত। মুন্ডা ভাষাগোষ্ঠী অস্ট্রো-এশীয় ভাষাপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক গঠনের আলোচনায় অস্ট্রিক উপাদানের উপস্থিতি বোঝাতে সাঁওতালসহ বিভিন্ন মুন্ডাভাষী জনগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করা হয়।

◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ আর্য ⇒ বাংলা ভাষা ইন্দো-আর্য ভাষাশাখার অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু সাঁওতালি ভাষা ইন্দো-আর্য নয়।
❖ সেমিটিক ⇒ আরবি ও হিব্রুর মতো ভাষা সেমিটিক ভাষাপরিবারভুক্ত; সাঁওতালি এ পরিবারের ভাষা নয়।
❖ তুর্কি ⇒ তুর্কি ভাষাগুলো তুর্কিক ভাষাপরিবারভুক্ত; সাঁওতালি ভাষার সঙ্গে এদের ভাষাগত শ্রেণিবিন্যাস এক নয়।

✦ মনে রাখার কৌশল / শর্টকাট:
‘সাঁওতাল–মুন্ডা–অস্ট্রিক’—এই তিনটি শব্দ একসঙ্গে মনে রাখুন।
04
🎯 1 Mark

বাঙালি জাতির গঠনে দ্রাবিড় জনগোষ্ঠী সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?

তারা আর্যদের পরে বাংলায় আসে

তারা প্রাক্-আর্য জনগোষ্ঠীগুলোর অন্যতম

তারা কেবল ইউরোপীয় জনগোষ্ঠী

তাদের কোনো প্রভাব বাঙালি জাতিসত্তায় নেই

✅ সঠিক উত্তর:খ. তারা প্রাক্-আর্য জনগোষ্ঠীগুলোর অন্যতম

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক উত্তর:
তারা প্রাক্-আর্য জনগোষ্ঠীগুলোর অন্যতম

✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীকে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন প্রাক্-আর্য জনগোষ্ঠীগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলার জনবিন্যাসে দ্রাবিড় উপাদানও বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত হয়েছে। অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, আর্য ও মঙ্গোলীয় উপাদানের দীর্ঘ সংমিশ্রণই বাঙালি জাতির মিশ্র নৃতাত্ত্বিক রূপ গঠনে ভূমিকা রাখে।

◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ তারা আর্যদের পরে বাংলায় আসে ⇒ দ্রাবিড় উপাদানকে সাধারণত প্রাক্-আর্য জনউপাদান হিসেবে ধরা হয়; তাই বক্তব্যটি সঠিক নয়।
❖ তারা কেবল ইউরোপীয় জনগোষ্ঠী ⇒ দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক অবস্থান মূলত ভারতীয় উপমহাদেশকেন্দ্রিক; একে কেবল ইউরোপীয় বলা ভুল।
❖ তাদের কোনো প্রভাব বাঙালি জাতিসত্তায় নেই ⇒ বাঙালি জাতিসত্তার মিশ্র গঠনে দ্রাবিড় উপাদানের প্রভাব স্বীকৃত।

✦ মনে রাখার কৌশল / শর্টকাট:
‘প্রাক্-আর্য’ শুনলে অস্ট্রিক ও দ্রাবিড়—এই দুই প্রাচীন উপাদানের কথা আগে ভাবুন।
05
🎯 1 Mark

বাংলা ভাষা মূলত কোন ভাষাশাখার অন্তর্গত হওয়ায় বাঙালি জাতিসত্তায় আর্য প্রভাবের পরিচয় পাওয়া যায়?

ইন্দো-আর্য

দ্রাবিড়

চীনা-তিব্বতি

সেমিটিক

✅ সঠিক উত্তর:ক. ইন্দো-আর্য

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক উত্তর:
ইন্দো-আর্য

✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের ইন্দো-আর্য শাখার একটি ভাষা। বাংলা ভাষার বিকাশে প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার ধারাবাহিক প্রভাব রয়েছে। তবে ভাষা ইন্দো-আর্য হওয়া মানেই বাঙালি জাতি নৃতাত্ত্বিকভাবে একক আর্য—এমন নয়। বাঙালি জাতিসত্তা গঠিত হয়েছে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মিশ্রণে।

◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ দ্রাবিড় ⇒ তামিল, তেলুগু, কন্নড় ও মালয়ালম দ্রাবিড় ভাষাপরিবারের উল্লেখযোগ্য ভাষা; বাংলা এ পরিবারের নয়।
❖ চীনা-তিব্বতি ⇒ তিব্বতি, বর্মীসহ বিভিন্ন ভাষা এ পরিবারের অন্তর্গত; বাংলা চীনা-তিব্বতি ভাষা নয়।
❖ সেমিটিক ⇒ আরবি ও হিব্রু সেমিটিক ভাষার উদাহরণ; বাংলা সেমিটিক ভাষাপরিবারভুক্ত নয়।

✦ মনে রাখার কৌশল / শর্টকাট:
বাংলা ভাষা = ইন্দো-আর্য; কিন্তু বাঙালি জাতি = সংকর। ভাষা ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়কে এক করে ফেলবেন না।
06
🎯 1 Mark

বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্যের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কোন অঞ্চলে বেশি লক্ষ করা যায়?

পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে

শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে

শুধু মধ্যাঞ্চলে

সমগ্র অঞ্চলে সমানভাবে

✅ সঠিক উত্তর:ক. পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক উত্তর:
পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে

✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
বাংলার পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্পর্শ ও প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এই প্রভাব বাঙালি জাতির সামগ্রিক মিশ্র নৃতাত্ত্বিক গঠনের একটি উপাদান। তবে কোনো অঞ্চলের সব মানুষের ক্ষেত্রে একই বৈশিষ্ট্য থাকবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ⇒ মঙ্গোলীয় প্রভাবের তুলনামূলক ঘনত্ব ব্যাখ্যায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল প্রধান অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত নয়।
❖ শুধু মধ্যাঞ্চলে ⇒ মধ্যাঞ্চলে জনসংমিশ্রণ থাকলেও মঙ্গোলীয় প্রভাবের প্রধান ভৌগোলিক সম্পর্ক পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বেশি।
❖ সমগ্র অঞ্চলে সমানভাবে ⇒ জনগোষ্ঠীগত প্রভাব অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে; তাই সমানভাবে বলা যথাযথ নয়।

✦ মনে রাখার কৌশল / শর্টকাট:
‘মঙ্গোলীয় প্রভাব = পাহাড় ও পূর্বের নৈকট্য’—এই ভৌগোলিক যোগসূত্রটি মনে রাখুন।
07
🎯 1 Mark

নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশকে সবচেয়ে ভালোভাবে কোন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে?

বিচ্ছিন্নতা ও সম্পূর্ণ বিশুদ্ধতা

একটি জনগোষ্ঠীর আকস্মিক প্রতিস্থাপন

দীর্ঘকালীন জনসংমিশ্রণ ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়

শুধু রাজনৈতিক শাসনপরিবর্তন

✅ সঠিক উত্তর:গ. দীর্ঘকালীন জনসংমিশ্রণ ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক উত্তর:
দীর্ঘকালীন জনসংমিশ্রণ ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়

✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও সামাজিক প্রক্রিয়া। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সংযোগ, বিবাহ ও জনসংমিশ্রণ, ভাষার বিকাশ, আঞ্চলিক জীবনযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই জাতিসত্তা গড়ে ওঠে। তাই এটিকে কোনো একবারের ঘটনা বা কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ বিচ্ছিন্নতা ও সম্পূর্ণ বিশুদ্ধতা ⇒ বাঙালি জাতিসত্তার প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো বহুমাত্রিক সংমিশ্রণ; বিশুদ্ধতার ধারণা এখানে প্রযোজ্য নয়।
❖ একটি জনগোষ্ঠীর আকস্মিক প্রতিস্থাপন ⇒ বাঙালি জাতির গঠন কোনো একটি জনগোষ্ঠীকে হঠাৎ সরিয়ে অন্য জনগোষ্ঠী বসানোর ফল নয়।
❖ শুধু রাজনৈতিক শাসনপরিবর্তন ⇒ রাজনৈতিক পরিবর্তন সামাজিক ইতিহাসে প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্তা গঠনের একমাত্র ব্যাখ্যা নয়।

✦ মনে রাখার কৌশল / শর্টকাট:
জাতিসত্তা গড়ে ওঠে ‘জন + ভাষা + সংস্কৃতি’—এই তিনের দীর্ঘ সমন্বয়ে।
08
🎯 1 Mark

নিচের কোনটি বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যায় সবচেয়ে যুক্তিসংগত?

সব বাঙালির শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ অভিন্ন

বাঙালির মধ্যে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যের বৈচিত্র্য দেখা যায়

বাঙালি জাতির কোনো নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নেই

বাঙালির বৈশিষ্ট্য শুধু আর্য উপাদান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়

✅ সঠিক উত্তর:খ. বাঙালির মধ্যে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যের বৈচিত্র্য দেখা যায়

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক উত্তর:
বাঙালির মধ্যে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যের বৈচিত্র্য দেখা যায়

✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
বাঙালি জাতি বহু জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে গঠিত হওয়ায় তাদের মধ্যে শারীরিক গঠন, গাত্রবর্ণ, মুখাবয়ব ও অন্যান্য বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যে বৈচিত্র্য দেখা স্বাভাবিক। নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য কোনো ব্যক্তির মর্যাদা বা সক্ষমতার মাপকাঠি নয়; বরং তা দীর্ঘকালীন জনসংমিশ্রণ ও পরিবেশগত অভিযোজনের পরিচায়ক।

◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ সব বাঙালির শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ অভিন্ন ⇒ মিশ্র জাতিসত্তার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অভিন্নতা প্রত্যাশিত নয়; বাস্তবে বৈচিত্র্যই বেশি দেখা যায়।
❖ বাঙালি জাতির কোনো নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নেই ⇒ প্রতিটি জনগোষ্ঠীরই জনবিন্যাস ও নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য থাকে; তাই এ বক্তব্য ভুল।
❖ বাঙালির বৈশিষ্ট্য শুধু আর্য উপাদান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় ⇒ আর্য উপাদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও মঙ্গোলীয় উপাদানও বিবেচ্য।

✦ মনে রাখার কৌশল / শর্টকাট:
‘সংকর জাতি মানেই বৈচিত্র্য’—এটি বাঙালির নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বোঝার সহজ সূত্র।
09
🎯 1 Mark

বাঙালি জাতিসত্তা নির্ধারণে কোন উপাদানটি নৃতাত্ত্বিক উৎসের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ?

অভিন্ন ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

একই শারীরিক গঠন বাধ্যতামূলক হওয়া

একটি মাত্র পূর্বপুরুষ থাকা

একই ধরনের গাত্রবর্ণ থাকা

✅ সঠিক উত্তর:ক. অভিন্ন ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক উত্তর:
অভিন্ন ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
জাতিসত্তা শুধু জৈবিক বা নৃতাত্ত্বিক উৎস দিয়ে নির্ধারিত হয় না। একটি জনগোষ্ঠীর ভাষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক অভিজ্ঞতা, জীবনাচার ও ঐতিহাসিক সংযোগ জাতিসত্তা গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঙালির ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা এবং বাংলাভিত্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জাতিসত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ একই শারীরিক গঠন বাধ্যতামূলক হওয়া ⇒ একটি জাতিসত্তার সব সদস্যের শারীরিক গঠন এক হওয়া প্রয়োজন নেই, বিশেষত মিশ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে।
❖ একটি মাত্র পূর্বপুরুষ থাকা ⇒ বাঙালি জাতিসত্তা বহু জনগোষ্ঠীর দীর্ঘকালীন সংমিশ্রণে গঠিত; একক পূর্বপুরুষের ধারণা যথাযথ নয়।
❖ একই ধরনের গাত্রবর্ণ থাকা ⇒ গাত্রবর্ণের ভিন্নতা জাতিসত্তার অন্তরায় নয়; এটি জাতিগত পরিচয়ের একমাত্র বা প্রধান মানদণ্ডও নয়।

✦ মনে রাখার কৌশল / শর্টকাট:
জাতিসত্তার মূল চাবিকাঠি: ‘ভাষা + সংস্কৃতি + অভিন্ন সামাজিক অভিজ্ঞতা’; শুধু চেহারা নয়।
10
🎯 1 Mark

নিচের কোন জনগোষ্ঠীগুলোর সম্মিলিত প্রভাব বাঙালি জাতির সংকর গঠন ব্যাখ্যায় সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়?

অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, আর্য ও মঙ্গোলীয়

শুধু আর্য ও গ্রিক

শুধু দ্রাবিড় ও রোমান

শুধু মঙ্গোলীয় ও আরব

✅ সঠিক উত্তর:ক. অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, আর্য ও মঙ্গোলীয়

ব্যাখ্যা:

◈ সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, আর্য ও মঙ্গোলীয়

✦ বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক গঠন ব্যাখ্যায় সাধারণভাবে চারটি প্রধান উপাদানের কথা বলা হয়—অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, আর্য ও মঙ্গোলীয়। এসব উপাদান ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এবং ভিন্ন মাত্রায় বাংলার জনবিন্যাসে যুক্ত হয়েছে। তাদের দীর্ঘকালীন সংমিশ্রণ ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের ফলেই বাঙালি জাতি একটি সংকর জাতিসত্তা হিসেবে বিকশিত হয়েছে।

◉ অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
❖ শুধু আর্য ও গ্রিক ⇒ আর্য উপাদান থাকলেও গ্রিক উপাদান বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক গঠনের প্রচলিত প্রধান উপাদান নয়; অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও মঙ্গোলীয় উপাদান বাদ পড়েছে।
❖ শুধু দ্রাবিড় ও রোমান ⇒ দ্রাবিড় উপাদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও রোমান উপাদান বাঙালি জাতিসত্তার গঠনের স্বীকৃত প্রধান উপাদান নয়।
❖ শুধু মঙ্গোলীয় ও আরব ⇒ মঙ্গোলীয় প্রভাব থাকলেও আরব উপাদানকে বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক গঠনের প্রচলিত প্রধান ভিত্তি বলা হয় না; অন্য প্রধান উপাদানগুলোও বাদ পড়েছে।

✦ মনে রাখার কৌশল / শর্টকাট:
‘অ-দ্রা-আ-ম’—অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, আর্য, মঙ্গোলীয়। এই চার উপাদান মনে রাখলেই বাঙালির সংকর গঠন মনে থাকবে।